.
.
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
.            প্রতিবাদী
.        কবিতার
.    আগের
পাতায় যেতে
.    এখানে .
.
        ক্লিক
.               করুন
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২০)
মোহিনী চৌধুরী (৭)
সত্যজিৎ রায় (৩)
কনক মুখোপাধ্যায় (১)
কালাচাঁদ দালাল (১)
সজল রায়চৌধুরী (৪)
অতীন্দ্র মজুমদার (১)
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (৩)
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (১২)
নীল সেন (৫)
রাম বসু (২)
চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায় (১)
সলিল চৌধুরী (১৩)
আবদুল লতিফ (১)

রাজা আসে যায়          রাজা বদলায়
নীল জামা গায়            লাল জামা গায়
এই রাজা আসে           ওই রাজা যায়
জামা কাপড়ের            রং বদলায়....
.                        দিন বদলায় না!
গোটা পৃথিবীকে গিলে খেতে চায় সে-ই যে ন্যাংটো ছেলেটা
কুকুরের সাথে ভাত নিয়ে তার লড়াই চলছে, চলবে |
পেটের ভিতর কবে যে আগুন জ্বলেছে এখনো জ্বলবে!

রাজা আসে যায় আসে আর যায়
শুধু পোষাকের             রং বদলায়
শুধু মুখোশের              ঢং বদলায়
.                        পাগলা মেহের আলি
.                        দুই হাতে দিয়ে তালি
এই রাস্তায়, ওই রাস্তায়
.                        এই নাচে ওই গান গায় :
"সব ঝুট হায়! সব ঝুট হায়! সব ঝুট হায়! সব ঝুট হায়!"
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রাজা আসে যায়
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত কবির “বেঁচে থাকার কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কোয়েল সাধুখাঁর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Abhijit Addya YouTube Channel.
.
.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার .
. . . পরের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবাদী            .
কবিতার        .
পরের    .
পাতায় যেতে
এখানে    .
ক্লিক         .
করুন              .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২০)
মোহিনী চৌধুরী (৭)
সত্যজিৎ রায় (৩)
কনক মুখোপাধ্যায় (১)
কালাচাঁদ দালাল (১)
সজল রায়চৌধুরী (৪)
অতীন্দ্র মজুমদার (১)
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (৩)
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (১২)
নীল সেন (৫)
রাম বসু (২)
চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায় (১)
সলিল চৌধুরী (১৩)
আবদুল লতিফ (১)
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
আগের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার ভারতবর্ষ
পঞ্চাশ কোটি নগ্ন মানুষের
যারা সারাদিন রৌদ্রে খাটে, সারারাত ঘুমুতে পারে না
ক্ষুধার জ্বালায়, শীতে ;
কত রাজা আসে যায়, ইতিহাসে ঈর্ষা আর দ্বেষ
আকাশ বিষাক্ত করে
জল কালো করে, বাতাস ধোঁয়ায় কুয়াশায়
ক্রমে অন্ধকার হয়।
চারদিকে ষড়যন্ত্র, চারদিকে লোভীর প্রলাপ
যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ আসে পরস্পরের মুখে চুমু খেতে খেতে
মাটি কাঁপে সাপের ছোবলে, বাঘের থাবায় ;
আমার ভারতবর্ষ চেনে না তাদের
মানে না তাদের পরোয়ানা ;
তার সন্তানেরা ক্ষুধার জ্বালায়
শীতে চারিদিকের প্রচণ্ড মারের মধ্যে
আজও ঈশ্বরের শিশু, পরস্পরের সহোদর।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার ভারতবর্ষ
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)।
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত কবির “মহাদেবের দুয়ার” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা পেয়েছি ২০১০ সালে
প্রকাশিত সব্যসাচী দেব সম্পাদিত “বীরেন্দ্র সমগ্র ২য় খণ্ড” থেকে। রূপক পালের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন।
ভিডিওটি
সৌজন্যে RUPAK PAL YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার সন্তান যাক প্রত্যহ নরকে
ছিঁড়ুক সর্বাঙ্গ তার ভাড়াটে জল্লাদ ;
উপড়ে নিক চক্ষু, জিহ্বা দিবা-দ্বিপ্রহরে
নিশাচর শ্বাপদেরা ; করুক আহ্লাদ
তার শৃঙ্খলিত ছিন্নভিন্ন হাত-পা নিয়ে
শকুনেরা। কতটুকু আসে-যায় তাতে
আমার, যে-আমি করি প্রত্যহ প্রার্থনা,
"তোমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।"

যে-আমি তোমার দাস ; কানাকড়ি দিয়ে
কিনেছ আমাকে রাণী, বেঁধেছ শৃঙ্খলে
আমার বিবেক, লজ্জা ; যে-আমি বাংলার
নেতা, কবি, সাংবাদিক, রাত গভীর হ'লে
গোপনে নিজের সন্তানের ছিন্ন শির
ভেট দিই দিল্লীকে ; গঙ্গাজলে হাত ধুয়ে
ভোরবেলা বুক চাপড়ে কেঁদে উঠি, "হায়,
আত্মঘাতী শিশুগুলি রক্তে আছে শুয়ে!"
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার সন্তান যাক প্রত্যহ নরকে
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)।
১৯৭১ সালে প্রকাশিত কবির “মুণ্ডুহীন ধড়গুলি আহ্লাদে চিৎকার করে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা
পেয়েছি ২০০০ সালে প্রকাশিত পুলক চন্দ সম্পাদিত “নির্বাচিত কবিতা বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” থেকে।
রচনা - ১৯৭০।
.
আমার সর্বাঙ্গ জ্বলে আশ্চর্য চুমায়
তোমারই দাক্ষিণ্য, রাণী দিয়েছ নিভৃতে ;
এবার পাঠিয়ে দাও প্রকাশ্যে ঘাতক,
বাগানে যে-ক'টি ফুল আছে ছিঁড়ে নিতে।
প্রত্যেক কাগজে আমি লিখবো ফুলের
ভেতর পোকার নিন্দা, খুনীর বাহবা
প্রত্যহ বাংলার শিশু-গোলাপ ক'টির
সর্বনাশে সরগরম করবো আমি সভা।

আমার সন্তান যাক প্রত্যহ নরকে
ছিঁড়ুক সর্বাঙ্গ তার ভাড়াটে জল্লাদ ;
উপড়ে নিক চক্ষু, জিহ্বা দিবা-দ্বিপ্রহরে
নিশাচর শ্বাপদেরা ; করুক আহ্লাদ
তার শৃঙ্খলিত ছিন্নভিন্ন হাত-পা নিয়ে
শকুনেরা | কতটুকু আসে-যায় তাতে
আমার, যে-আমি করি প্রত্যহ প্রার্থনা,
"তোমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।"
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কে তুমি হে!  দেবদারু বীথিতেও গন্ধ পাও কালো পুলিশের ?
তোমার অসীম স্পর্ধা ! জাননা কি এখন স্বদেশ
ভিতরে বাহিরে নিস্প্রদীপ, তার বাতাসে বিষের ধোঁয়া
কে তাকে বাঁচাতে পারে যদি না পুলিশ ঢালে বৃক্ষের শিকড়ে গ্যালন
.                        গ্যালন রক্ত?
কার রক্ত-নির্বোধের মতো প্রশ্ন কর তুমি । দুধ-কলা দিয়ে পোষা
সাপ তার । দেবশিশু তোমার চোখের ভ্রম ! ওরা কেউ শিশু নয়,জানে
.                        তা পুলিশ,জানে দিল্লীর ঈশ্বরী।
তুমি অন্ধ! তাই গাছের পাতায় কালো ছায়া দেখ, গোলাপেও পুলিশের
গন্ধ পাও, যে-সুবাস পবিত্র,নিহত পশুর রক্ত। যার চোখ আছে,দ্যাখে
কলকতায় পার্কে ময়দানে রাজভবনে অথবা এঁদো গলির
.                       বস্তির মুখ আলো ক’রে
যেখানে যা বৃক্ষ আছে, ঈশ্বর-প্রতিম তারা,স্বদেশ-প্রেমের দীপ্ত মহিমায়
.                        জ্বলে যেন ত্রিবর্ণ পতাকা!
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বদেশপ্রেমের দীপ্ত মহিমায়
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
১৯৭১ সালে প্রকাশিত কবির “মুণ্ডুহীন ধড়গুলি আহ্লাদে চিৎকার করে” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আমরা পেয়েছি ২০০০ সালে প্রকাশিত পুলক চন্দ সম্পাদিত “নির্বাচিত
কবিতা বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
The proletariat has nothing to loose but his chains.  --- Communist Manifesto.

এক অদ্ভুত মাটির উপর
আমরা দাঁড়িয়ে আছি ;
অর্থাৎ দাঁড়িয়ে থাকার জন্য
প্রাণপণ চেষ্টা করছি

এ মাটির গর্ভে কী আছে
আজও আমাদের জানা নেই
যদিও কান পাতলে শুনতে পাওয়া যায়
এক লক্ষ সাপের গর্জনের চেয়েও
কোন ভয়ঙ্কর পরিণাম, যা ক্রমেই আসন্ন হচ্ছে।

কিন্তু আমরা এক পা-ও এদিক ওদিক
নড়ছি না ; যেন স্থির দাঁড়িয়ে থাকাই
আমাদের নিরাপত্তা, এবং তা সম্ভব। আমরা গির্জার গম্বুজগুলির
এবং স্টক এক্সচেঞ্জের চার দিকের বিরাট স্তম্ভগুলির দিকে
বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থেকে
এক সময় ঈশ্বরের মহিমাকে জানতে পারছি
আর এই কথা ভেবে নিশ্চিন্ত হচ্ছি---
আমাদের স্বদেশ স্বাধীন এবং তার সীমান্তে
বন্দুকধারী প্রহরীরা প্রত্যহ টহল দিচ্ছে।

যদিও পায়ের নিচে মাটি এখন অগ্নিগর্ভ ;
যদিও আমাদের মাথার উপর আকাশ বলতে কিছুই নেই
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উলঙ্গের স্বদেশ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। রচনা - ২২ জুলাই ১৯৬৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এভাবে মানুষ নিয়ে খেলা
মানুষের স্বপ্ন সাধ বিশ্বাস সন্মান নিয়ে
মানুষের মস্তিস্ক হৃদয় নিয়ে
হৃৎপিণ্ড ধমনী রক্ত অস্থি নিয়ে খেলা
চক্ষু জঠর গর্ভ পৌরুষ মাতৃত্ব নিয়ে খেলা    

গর্ভের সন্তান আর তারও পর যারা আসবে
আর যারা ইতিমধ্যে হামাগুড়ি দিচ্ছে,বইখাতা নিয়ে স্কুল
কিংবা কারখানায়
যে-সব শিশু  বালক-বালিকা,
স্বাধীন দেশেই যারা জন্মেছে, স্বাধীন দেশে জন্মাবে,
তাদের স্বাস্হ্য ঘরবাড়ি পড়াশুনা  নিয়ে
তাদের মুখের ভাত নিয়ে এই খেলা
জন্মভূমি নিয়ে, দেশের নগর গ্রাম খামার কারখানা নিয়ে
দেশের সীমান্ত নিয়ে,দেশের ভিতর
পোস্টাপিস রেলগাড়ী রাস্তাঘাট হাসপাতাল স্কুল-কলেজ নিয়ে
দেশের ভূগোল ইতিহাস বিঞ্জান সাহিত্য নিয়ে
গান নিয়ে, ছবি নিয়ে,নুন আর রুটি নিয়ে
দেশের আকাশ জল মাটি আলো অন্ধকার নিয়ে
এই খেলা, এই ভয়ঙ্কর খেলা

এর চেয়ে আর কী নরক,স্বাধীন স্বদেশ।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্রতিবাদ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত কবির “সভা ভেঙে গেলে”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। রচনাকাল - ১৪.১০.১৯৬৩। আবৃত্তি শুনুন অরুণাভ লাহিড়ীর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
সুজয় রায়
চৌধুরী Sujoy Roy Choudhury YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ধর্ম যখন বিজ্ঞানকে বলে ‘রাস্তা ছাড়ো!’ বিজ্ঞান কি রাস্তা ছেড়ে দেয় ?

পোপের ভয়ে দেশান্তরী হয়েছিলেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। সারাদিন
একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে পায়চারি করতেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই ;
তাঁকে পাহাড়া দেবার জন্য বসে থাকতো একজন ধর্মের পেয়াদা, যার
চোখের পাতা বাতাসেও নড়তো না।

বিজ্ঞান কি তখন থেমে ছিল ? তীর্থের পাণ্ডাদের হই হই, তাদের লাল
চোখ কি পেরেছিল পৃথিকে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে, সূর্যকে
তার চারদিকে ওঠবোস করাতে ?

ধর্ম যতদিন দুঃখী মানুষকে বেঁচে থাকার সাহস দেয়, ততদিন
রাস্তা নিয়ে কারও সঙ্গে তার ঝগড়া থাকে না। রাস্তা কারও
একার নয়।

বরং তাকেই একদিন রাস্তা ছাড়তে হয়, যার স্পর্ধা আকাশ
ছুঁয়ে যায়।

বিজ্ঞান যখন প্রেমের গান ভুলে ভাড়াটে জল্লাদের পোশাক গায়ে চাপায়, আর
রাজনীতির বাদশারা পয়সা দিয়ে তার ইজ্জত কিনে নেয়,
আর তার গলা থেকেও ধর্মের ষাঁড়েদের মতোই কর্কশ
আদেশ শোনা যায় : ‘রাস্তা ছাড়ো! নইলে---’
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রাস্তা কারও একার নয়
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। মেঘ বসু সম্পাদিত “আবৃত্তির কবিতা কবিতার আবৃত্তি” কাব্য সংকলন, ২০০৯ থেকে।
ব্রততী হালদারের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Bratati Haldar YouTube Channel
.
পৃথিবীর কালো সাদা হলুদ মানুষের গান, তাদের স্বপ্ন
এক মুহূর্ত সেই চিত্কার শুনে থমকে তাকায়।

তারপর যার যেদিকে রাস্তা, সেদিকে মুখ করেই তারা সামনে,
আরও সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

কেউ কারোকে রাস্তা ছেড়ে দেয় না, যতদিন এই পৃথিবীতে গান থাকে,
গানের মানুষ থাকে, স্বপ্ন থাকে . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এমন একটা পৃথিবী চাই
মায়ের আঁচলের মতো
আর যেন ঐ আঁচল জুড়ে
গান থাকে
যখন শিশুদের ঘুম পায়।
যেন অনেকক্ষণ
শিশুরা শান্তিতে ঘুমোয়
যখন তারা ঘুম থেকে জেগে উঠবে
যেন তাদের জন্য
মায়েদের বুক খোলা থাকে।

এমন একটা পৃথিবী চাই ---
শুকনে কাঠের মতো মায়েদের
শরীরে কান্না নিয়ে নয়
বুকভর্তি অফুরন্ত ভালোবাসার
শস্য নিয়ে।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এমন একটা পৃথিবী চাই
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” কাব্য
সংকলন (অক্টোবর ১৯৯০) থেকে। সুর ও কণ্ঠ - অজিত পাণ্ডে। ভিডিওটি সৌজন্যে
HINDUSTHAN
BHAKTISAGAR  YouTube Channel.
.

জননী জন্মভূমি!
সব দেখে                   সব শুনেও অন্ধ তুমি!
সব জেনে                   সব বুঝেও বধির তুমি!
.                        তোমার ন্যাংটো ছেলেটা
.                                  কবে যে হয়েছে মেহের আলি,
.                        কুকুরের ভাত কেড়ে খায়
.                                  দেয় কুকুরকে হাততালি...
.                             তুমি বদলাও না ;
.                             সে-ও বদলায় না!

শুধু পোষাকের             রং বদলায়
শুধু পোষাকের             ঢং বদলায়...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লাল টুকটুক নিশান ছিল
হঠাৎ দেখি, শ্বেত কবুতর
উড়ছে ঊর্ধ্বে, আরও ঊর্ধ্বে
ভুখ মিছিলের মাথার উপর।

বিপ্লব হোক দীর্ঘজীবী,
কিন্তু এখন "শান্তি, শান্তি!"
প্রেতের মতো ধুঁকছে মিছিল
উড়ছে পায়রা নধরকান্তি।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লাল টুকটুক নিশান ছিল
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” কাব্য সংকলন (অক্টোবর
১৯৯০) থেকে। এই গানটিতে সুর দিয়েছেন অজিত পাণ্ডে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA

সামনে, পিছনে, ডানে, বাঁয়ে
মাত্র কয়েকটি পুরনো মুখ ;
আর যারা, একেবারেই কিশোর
আর যারা, জেলের অন্ধকারে বহুদিন হারিয়ে যাওয়া
.                        শিশুগুলির কেউ মা, কেউ বোন . . .

বৃষ্টির পর আকাশ এখন
রৌদ্রের দিকে মাথা তুলছে। তাদের কণ্ঠের ঐকতান
বিষাদ এবং প্রতিজ্ঞার একটিই অবগাহন।
তারা এখন সেই সব শব্দ আর ধ্বনিকে খুঁজছে
যারা আমাদের ধমনীর ভিতর প্রবাহিত রক্তকেও
গাঢ় এবং অর্থময় ক’রে তুলতে পারে।
অথচ তাদের রং নিংড়ানো ভালোবাসা থেকে
শব্দ আর ধ্বনিগুলি যখন জন্ম নিচ্ছে, হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে
.                ঊর্ধ্বে আকাশের দিকে
তারা বহু শৃঙ্খলিত মানুষের ধিক্কার, ঘৃণা, প্রতিবাদ আর দাবি ছাড়া
.                কিছু না।
আবার অনেক কিছু ; কেননা মানুষের অভিজ্ঞতার শেষ নেই---
দিনের পর দিন রক্তের সমুদ্র সাঁতরিয়ে, মানুষ জেনেছে,
.                ভালবাসার আরেক নাম ঘৃণা ;
রাতের পর রাত স্পর্ধার পাহাড়ে আছাড় খেতে কেতে, সে জেনেছে,
.                ভালবাসার আরেক নাম প্রতিবাদ!
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মিছিলে
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। রচনা ১৮ জুন ১৯৭৪। “বাহবা সময় তোর সার্কাসের খেলা” (১৯৭৪) কাব্যগ্রন্থের কবিতা। পুলক চন্দ
সম্পাদিত “রক্তে ভাসে স্বদেশ সময়” কাব্য সংকলন (১৯৭৭) থেকে।
.

কিছু আগে, আর একেবারে পিছন থেকে
কালো রঙের পুলিশ ভ্যান একটাবিরাট অজগরের মতো তাদের ঘিরে রয়েছে।
তারা সংখ্যায় মাত্র কয়েকজন, কেন না পুরোনো বন্ধুরা
তাদের পরিত্যাগ করেছে। তবু তারা রাস্তায় নেমেছে, এক ভয়াবহ
.                পাশবিক শক্তির প্রহারে জর্জর
হাজার হাজার কিশোরের আর কিশোরীর রক্তেভাসা মুখগুলি মনে রেখে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কিন্তু সে
তার আধ খাওয়া শরীরের ভিতর
আজও সযত্নে বহন করে
আগুনের পরশমণি,
তার বন্দিজীবনের
মনুষ্যত্ব,

আর
প্রতীক্ষা করে,
কয়েদখানার কঠিন শুষ্ক পাথরের ভিতর
একদিন অঙ্কুরিত হবে
তার গান...
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কিন্তু সে
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে হাজার হাজার রাজবন্দি আটক
রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু, বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে
দিয়েছে। এ যেন তারই প্রতিবাদ!
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পশুরা
তার তেজে
দগ্ধ হয়েছে।

তাই তারা
প্রতিশোধ নিয়েছে।

তাদের পাশবিকতা
খুবলে নিয়েছে তার শরীর থেকে
তার রক্ত
তার মাংস।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বন্দি প্রমিথিউস
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে হাজার হাজার রাজবন্দি আটক
রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু, বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে
দিয়েছে। এ যেন তারই প্রতিবাদ!
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একজন কিশোর ছিল একেবারে একা
আরও একজন ক্রমে বন্ধু হ'ল তার।
দু'য়ে মিলে একদিন গেল কারাগারে
গিয়ে দেখে তারাই তো কয়েক হাজার।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জেলখানার কবিতা
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
কবিতার রচনা ১ নভেম্বর, ১৯৬৭। স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে
হাজার হাজার রাজবন্দি আটক রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু,
বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে কবির কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পাথরে পাথরে নাচে আগুন। আগুন হাতে
দ্যাখোরে মানুষ নাচে। নাচে রাত, শীত নাচে
পাথরে পাথরে নাচে : শীতের পাহাড় নাচে
রাতের পাহাড় নাচে। আগুনের মতো লাল

হাজার হাজার লাল পতাকা রাত শেষের
বন্দির চোখে নাচে : নাচে রে, স্বপ্ন নাচে...
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লং মার্চ : বন্দি মানুষের গান
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। গীতিরূপান্তর ও শিল্পী - প্রতুল মুখোপাধ্যায়। কবিতার রচনা ৫ জুলাই, ১৯৭৭।
স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে হাজার হাজার রাজবন্দি আটক রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু, বিচারব্যবস্থার
করুণ দশা প্রকট করে দিয়েছে। এ যেন তারই প্রতিবাদ! ভিডিওটি সৌজন্যে
Pratul Mukhopadhyay YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একলা জেলে বন্দি তিনি
শোনেন, দূরে চিড়িয়াখানায়
বাঘ ডাকছে। আবার কখন
বাঘের ডাককে ছাড়িয়ে যায়

একশো গাধার জয়ধ্বনি,
দিন দুপুরে শোনেন তিনি।
শুনতে শুনতে ভাবেন তিনি
বাঘের তাতে কী আসে যায়?
মানুষের বা কী আসে যায়?
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একলা জেলে বন্দি তিনি
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
রচনা ৩ আশ্বিন, ১৩৮৪ (১৯৮১)। স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে
হাজার হাজার রাজবন্দি আটক রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু,
বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে দিয়েছে। এ যেন তারই প্রতিবাদ।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাইরে এখন হাজার হাজার লাল পতাকা
বাইরে এখন অযুত কণ্ঠে ঐকতান
বাইরে এখন শিকল ভাঙার ভীষণ পণ
বাইরে এখন রাজার মতো মে-দিন আসে!

জেলের ভিতর আমরা খুঁজি একটু আকাশ
খুঁজি কোথাও কৃষ্ণচূড়ার একটি কুঁড়ি
স্বপ্নে যদি পাপড়ি মেলে ; জেলের ভিতর
বড়ো কঠিন হাতের শিকল, পায়ের বেড়ি!

তবু আসে, রাজার মতো মে-দিন আসে
হাজার হাজার কৃষ্ণচূড়ার স্বপ্ন নিয়ে
হাজার হাজার লাল পতাকার শপথ নিয়ে...
ভাঙা হাতেই আমরা লিখি তার কবিতা।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মে দিন : বন্দিজীবনের গান
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
গীতিরূপান্তর ও শিল্পী - প্রতুল মুখোপাধ্যায়। স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন জেলে হাজার হাজার রাজবন্দি
আটক রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু, বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে দিয়েছে। এরই যেন প্রতিবাদ!
ভিডিওটি সৌজন্যে
Dipankar Sinha YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বন্দীমুক্তি আজও কানামাছি খেলা?
অথবা লটারী ?---কপালে জুটলে বাজী
ছাড়বেন তাকে কাজী!

পোড়াকপালের মেঘে মেঘে বাড়ে বেলা---
জেলের গরাদ সমানে ভেংচি কাটে!
বক্তৃতা দেন হুজুর গড়ের মাঠে :

“হবে, সব হবে, একদিন সব হবে”।
কবে? মহাশয়! কবে?
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বন্দীমুক্তি
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
কবিতাটির রচনা ৩ অক্টোবর, ১৯৭৭। স্বাধীনতার পরেও ভারতের বিভিন্ন
জেলে হাজার হাজার রাজবন্দি আটক রয়েছেন। ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু,
বিচারব্যবস্থার করুণ দশা প্রকট করে দিয়েছে। এরই প্রতিবাদে কবির কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যতদিন
বিনা বিচারে
বিচারের নামে
বিচারকে উপহাস ক’রে
এই দেশের জেলখানায়
একটি মানুষকেও
কুকুর-শেয়ালেরা নির্যাতন করবে,
ততদিন
তোমরা স্বীকার করো না
এই দেশে
গণতন্ত্র বলে
ব্যক্তি-স্বাধীনতা বলে
শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সভ্যতা বলে
কিছু আছে
তোমরা
কিছুতেই মেনে নিও না
মানুষ
এবং মনুষ্যত্বের
এত বড় অপমান
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোমরা মেনে নিও না
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)
২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ
থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পিঞ্জরের বাইরে থেকে তাদের হাতগুলি আমি স্পর্শ করেছি
আর অভিভূত হয়েছি তাদের মুখের লাবণ্যে।
যতক্ষণ তাদের সঙ্গে ছিলাম
আমার মনে হচ্ছিল এক আশ্চর্য কবিতার মধ্যে অনধিকার প্রবেশ করেছি।
আমি অনেক যুবককে একত্র হতে দেখেছি
জলসায়, খেলার মাঠে, সভায়, মিছিলে, মনুমেন্টের নিচে---
কিন্তু কখনও জীবনের ঐক্যতানকে এত গভীর প্রেমের মতো অনুভব করিনি
অথচ আমরা মিলিত হয়েছিলাম আলিপুর কোর্টের গম্ভীর বিচারশালায়
সেখানে বাতাসকেও মাথা নিচু ক'রে, সাতবার কূর্ণিশ করে ভিতরে ঢুকতে হয়।
সেখানে তারা আসামী ; বছরের পর বছর চলছে তাদের বিচার!
প্রদীর্ঘ সময় তাদের কেটেছে থানার লক্‌ আপে, পুলিশের অকথ্য নির্যাতনে
এক জেল থেকে আর এক জেলে ; কখনও হাতে শিকল, পায়ে বেড়ি!
বছরের পর বছর তাদের জন্য বেজেছে “পাগলী” ঘন্টা
আর, এই মুহুর্তে, আদালতের ভিতর তাদের এক হাত শিকলে বাঁধা ;
অন্য হাত তারা বাড়িয়ে দিয়েছে আমার দিকে, স্বাধীন মানুষের দুই হাত
স্পর্শ করছে তারা।
বছরের পর বছর ভারতবর্ষের মতো এক সভ্য দেশ তাদের
বিচারের নামে বন্দী ক'রে রেখেছে
কবে যে সেই বিচার শেষ হবে, কেউ জানে না!
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফোর্থ ট্রাইবুনাল : একটি সাক্ষাৎ
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির
প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
.
বছরের পর বছর জেলের বাইরে আমরা সহ্য করেছি স্বাধীনতার নামে,
স্বদেশের নিরাপত্তার নামে,
মানুষের অপমান ; তার পাপে, আত্মগ্লানিতে আমরা বামনের মতো
কুঁকড়ে গেছি ; কুঁজো হয়ে রাস্তা হেঁটেছি।
কিন্তু ঐ পাপ তাদের স্পর্শ করেনি ; তাদের শৃঙ্খলিত হাত আমাকে জানিয়ে
দিচ্ছিলো
জেলের ভিতর তারা গান গায়, তারা হাসে ; তারা প্রতীক্ষা করে, দিন আসবে।
তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় আমার শরীরের রক্ত চলাচল
ক্রমেই দ্রুত থেকে আরও দ্রুত হচ্ছিলো ;
নিজেকে পাখির মতোই হাল্কা মনে হচ্ছিল আমার।
আমি বুঝতে পারছিলাম, পবিত্র হচ্ছি, সুন্দর হচ্ছি,
আমি এক আশ্চর্য কবিতার মতো হয়ে যাচ্ছি
যা আমার চৈতন্যের চেয়ে গভীর, যা মানুষের মনুষ্যত্ব, যা জীবন...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
এই দেশ
যা এতদিন কাঁটাতারে ঘেরা, এক দারুণ ভয়ের
জেলখানা---

এখন মানুষের বাসযোগ্য হোক।

হাওয়া আসুক।
আমরা মানুষ
যেন আমাদের দেশ, আমাদের মাটি, তার বাতাসকে
অতি সহজেই ভালবাসতে পারি।

যেন ভয় আর আমাদের ছেলাকে, আমাদের পাশের বাড়ির মেয়েকে
রাস্তাঘাটে, থানায়, জেলের কাটাতারের মধ্যে
বুট জুতোয় থেঁতলে না দেয়---তাদের শরীরের রক্ত আর মাংস দিয়ে তৈরি
এক বীভৎস, ইতর, স্পর্ধার চোখরাঙানো পাহাড়কে
বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকের ভারতীয় সমাজতন্ত্রের এক আশ্চর্য আবিষ্কার
ব'লে
দেশে-বিদেশে নির্লজ্জের মতো মিথ্যার ঢাক না বাজায়।

শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্রতিটি রাজবন্দীর অবিলম্বে মুক্তি চাই
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২.৯.১৯২০ - ১১.৯.১৯৮৫)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন
গ্রন্থের কবিতা।
.
এই দেশের জেলখানাগুলি
হাজার হাজার নিরক্ষর শিশুর একটিই বিশ্ববিদ্যালয় হোক---
হাসপাতাল---

আমাদের স্বদেশ মানুষের বাসভূমি হোক ;
জয় হোক শৃঙ্খলমুক্ত মানুষের স্বপ্ন, শ্রম আর সভ্যতার।
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কত প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে।

কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা
বন্দীশালায় ঐ শিকল ভাঙা
তারা কি ফিরিবে আর
তারা কি ফিরিবে এই সুপ্রভাতে
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।

যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি
এসো স্বদেশব্রতের সহদীক্ষালোভী
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণভূমি।

যারা জীর্ণজাতির বুকে জাগালো আশা
মৌন মলিন মুখে জাগালো ভাষা
সাজি রক্তকমলে গাঁথা মাল্যখানি
বিজয়লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরি গলে॥
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মুক্তির মন্দির সোপানতলে কবি মোহিনী চৌধুরী (০৫. ০৯. ১৯২০ ~ ২১. ০৫. ১৯৮৭)।
সুর - কৃষ্ণচন্দ্র দে (কানা কেষ্ট)। শিল্পী - অনুপ ঘোষাল।
VDOটি সৌজন্যে mh music archive - Indian, Legend
YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, তুমি যে বহ্নিশিখা।
মরণের ভালে এঁকে যাই মোরা জীবনের জয়টিকা।
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, তুমি যে বহ্নিশিখা।

মোদের প্রেমের দীপ্ত দীপক রাগে,
দিকে দিকে ঐ সুপ্ত জনতা জাগে।
মুক্তি আলোকে ঝলমল করে আঁধারের যবনিকা
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, তুমি যে বহ্নিশিখা।

দু’শো বছরের নিঠুর শাসনে গড়া যে পাষাণ বেদী,
নতুন প্রাণের অঙ্কুর জাগে তারই অন্তর ভেদি।
তোমার আমার পূণ্য মিলনব্রতে
আশার কমল ফোটে অশ্রুর স্রোতে,
নব ইতিহাস রচিব আমরা মুছি কলঙ্ক লিখা।
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, তুমি যে বহ্নিশিখা।
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, তুমি যে বহ্নিশিখা
কবি মোহিনী চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ ~ ২১.৫.১৯৮৭)। সুর - কমল দাশগুপ্ত। কণ্ঠ - জগন্ময় মিত্র। গানটির রচনা ১৯৪৭। VDOটি
সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
পৃথিবী আমারে চায়,
রেখো না বেঁধে আমায়।
খুলে দাও প্রিয়া,
খুলে দাও বাহুডোর।

পৃথিবী আমারে চায়,
রেখো না বেঁধে আমায়।
খুলে দাও প্রিয়া,
খুলে দাও বাহুডোর।

প্রণয় তোমার মিছে নয়, মিছে নয়।
ভালোবাসি তাই মনে জাগে এত ভয়।
প্রণয় তোমার মিছে নয়, মিছে নয়
ভালোবাসি তাই মনে জাগে এত ভয়।
চাঁদ ডুবে যাবে, ফুল ঝরে যাবে,
মধুরাতি হবে ভোর।
খুলে দাও প্রিয়া,
খুলে দাও বাহুডোর।
পৃথিবী আমারে চায়,
রেখো না বেঁধে আমায়॥
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পৃথিবী আমারে চায়
কবি মোহিনী চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ ~ ২১.৫.১৯৮৭)।
সুর - কমল দাশগুপ্ত। কণ্ঠ - সত্য চৌধুরী । গানটির রচনা ১৯৪৭। VDOটি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
পথ ছেড়ে দাও, নয় সাথে চলো,
মুছে নাও আঁখি-লোর।
খুলে দাও প্রিয়া,
খুলে দাও বাহুডোর।
পৃথিবী আমারে চায়,
রেখো না বেঁধে আমায়।
খুলে দাও প্রিয়া,
খুলে দাও বাহুডোর॥
সবার মনের দীপালি জ্বালাতে
যে দীপ আপনি জ্বলে,
কেন আর তারে ঢেকে রাখ বলো
তোমার আঁচল তলে?

শোনো না কি ওই আজ দিকে দিকে হায়,
কত বঁধু কাঁদে, কাঁদে কত অসহায়।
শোনো না কি ওই আজ দিকে দিকে হায়,
কত বঁধু কাঁদে, কাঁদে কত অসহায়।
বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!
সুপ্রভাতের প্রথম মন্ত্র জন্মভূমির নাম
ভারতমাতার সন্তান মোরা জানাই তাঁরে প্রণাম
বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!

এক জাতি মোরা মোরা এক প্রাণ
মানুষের মাঝে দেখি ভগবান
সুজলা সুফলা সবে এসো মোদের ধূলায় স্বর্গধাম
জানাই তারে প্রণাম জানাই তারে প্রণাম
বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!

ভাঙি বন্ধন বাধা পর্বত
আমরা গড়িব মুক্তির পথ
জীবন গঙ্গা আনিবো আমরা ভবিষ্যতের যুগ ভগিরথ
চিরবেদনার সাধনার হবি সার্থক পরিণাম
বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, সুপ্রভাতের প্রথম মন্ত্র
কবি মোহিনী চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ ~ ২১.৫.১৯৮৭)।
সুর - সুকৃতি সেন। কণ্ঠ - সুপ্রীতি ঘোষ।
VDOটি সৌজন্যে pujan kumar daripa YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
জেগে আছি একা, জেগে আছি কারাগারে---
কুয়াশায় ঘেরা নবমীর চাঁদ জাগিছে আকাশ পারে॥
বাতাসে জাগিছে বাতাবি ফুলের গন্ধ
বনে বনে জাগে ঝিল্লি নূপুর ছন্দ------
জোনাকিরা গাঁথে আলোকের মালা বাহিরে অন্ধকারে॥
তুমিও কী প্রিয়া রয়েছ জাগিয়া শূন্য শয়নতলে?
সারা পৃথিবীর বেদনা ঝরিছে তোমার নয়নজলে?
পরাধীন দেশে প্রেম চির অভিশপ্ত
মুক্তির পথে কত বাধা, কত রক্ত !
মহামিলনের স্বপ্ন আমার ভেঙে যায় বারে বারে॥
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জেগে আছি একা, জেগে আছি একা কারাগারে
কবি মোহিনী চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ ~ ২১.৫.১৯৮৭)।
সুর - কমল দাশগুপ্ত। কণ্ঠ - সত্য চৌধুরী। গানটির রচনা ১৯৪৬। VDOটি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আজ কাশ্মীর হ’তে কন্যাকুমারী
ইম্ফল হ’তে সিন্ধু
চঞ্চল হ’ল প্রতিটি প্রাণের
প্রতিটি রক্তবিন্দু॥

আজ মুক্তি পাগল প্রাণ শত শত
মৃত্যু তাদের ভৃত্যের মতো
চরণে চরণে লুটায় তাদের
তপন তারকা ইন্দু॥

আজ পাঞ্জাব জাগে, চট্টল জাগে
অসি বাজে ঝন ঝন —
বিপুল রুদ্র জনসমুদ্র করে মহাগর্জ্জন।

শত বরষের শৃঙ্খলগুলি
একটি আঘাতে যাবে আজ খুলি
যদি ভুলে যাই কে বা মুসলিম
কে বা শিখ, কে বা হিন্দু॥
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আজ কাশ্মীর হ’তে কন্যাকুমারী
কবি মোহিনীমোহন চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ - ২১.৫.১৯৮৭) সুরকার ও শিল্পী: কৃষ্ণচন্দ্র দে। রচনা ১৯৪৮। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Rajesh Datta YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়।
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়।
মানবের তরে মাটির পৃথিবী, দানবের তরে নয়।
মানবের তরে মাটির পৃথিবী, দানবের তরে নয়।
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়॥

জাগো... জাগো...
জাগো চাষীভাই, জাগো রে সবাই
হাতে হাত দিয়ে চাষ করে যাই।
জাগো চাষীভাই, জাগো রে সবাই
হাতে হাত দিয়ে চাষ করে যাই।
তোমাদের হাতে ক্ষুধার অন্ন, তবে কেন মিছে ভয়?
তোমাদের হাতে ক্ষুধার অন্ন, তবে কেন মিছে ভয়?
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়॥

যতদিন দেহে আছে প্রাণ, ততদিন সাথে আছে ভগবান।
আছে ভগবান।
যতদিন দেহে আছে প্রাণ, ততদিন সাথে আছে ভগবান।
আছে ভগবান॥
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই তোর
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই তোর
কবি মোহিনী চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়
কবি মোহিনী চৌধুরী (৫.৯.১৯২০ ~ ২১.৫.১৯৮৭)। সুর - শৈলেশ দত্তগুপ্ত। কণ্ঠ - জগন্ময় মিত্র ও কল্যাণী দাস। ১৯৪৫
সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত “মানে না মানা” চলচিত্রের গান।
VDOটি সৌজন্যে Gaaner Dali YouTube
Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
হবে না তো পরাজয়।
হবে না তো পরাজয়॥

জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়।
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়।
মানবের তরে মাটির পৃথিবী, দানবের তরে নয়।
মানবের তরে মাটির পৃথিবী, দানবের তরে নয়।
জয় হবে, জয় হবে, হবে জয়॥
থেমে থাক, থাম, থাম, থেমে থাক
ও মন্ত্রী মশাই ষড়যন্ত্রী মশাই
থেমে থাক
ও মন্ত্রী মশাই ষড়যন্ত্রী মশাই
থেমে থাক

যত চালাকি তোমার
জানতে নাইকো বাকি আর
যত চালাকি তোমার
জানতে নাইকো বাকি আর
যত কেরদানি শয়তানি সবই ফাঁক
যত কেরদানি শয়তানি সবই ফাঁক
চিচিং ফাঁক, থেমে থাক
ও মন্ত্রী মশাই, ষড়যন্ত্রী মশাই

শুধু দেখেছ ঘুঘুটি তাই এত ভুরু কুটি
শুধু দেখেছ ঘুঘুটি তাই এত ভুরু কুটি
পড়লে ফাঁদেতে চুপসিয়ে যাবে যাক
জয় ঢাক
ও মন্ত্রীমশাই থেমে থাক
কবি সত্যজিৎ রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
থেমে থাক, থাম, থাম, থেমে থাক
কথা ও সুর - কবি সত্যজিৎ রায় (২.৫.১৯২১ - ২৩.৪.১৯৯২), কণ্ঠ - অনুপ ঘোষাল ও রবি ঘোষ। ১৯৬৯ সালে
প্রকাশিত “গুপি গাইন বাঘা বাইন” ছায়াছবির গান। ভিডিওটি সৌজন্য
খেলা হবে unlimited YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ও মন্ত্রী মশাই সাবধানে থেকো ভাই
ও মন্ত্রী মশাই সাবধানে থেকো ভাই
গা গা মাগা রেসা
তেরে কেটে তাক
ওরে বাবা দেখো চেয়ে কত সেনা চলেছে সমরে
ওরে বাবা দেখো চেয়ে কত সেনা চলেছে সমরে
কত সেনা কত সেনা
হাজারে হাজারে হাতি আর বুঝি কাটাকুটি করে
কাটাকুটি কাটাকুটি  
হাজারে হাজারে হাতি আর বুঝি কাটাকুটি করে
আহা রে আহা রে আহা রে
পেটে খেলে পিঠে সয় এ তো কভু মিছে নয়
পেটে খেলে পিঠে সয় এ তো কভু মিছে নয়
সেনা দেখে লাগে ভয়, লাগে ভয় লাগে ভয়
আধপেটা খেয়ে বুঝি মরে, মরে
যত ব্যাটা চলেছে সমরে
যত ব্যাটা চলেছে সমরে

ও রে হাল্লা রাজার সেনা
ও রে হাল্লা রাজার সেনা
তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল
তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল
মিথ্যে অস্ত্র শস্ত্র ধরে প্রাণটা কেন যায় বেঘোরে

মিথ্যে অস্ত্র শস্ত্র ধরে প্রাণটা কেন যায় বেঘোরে
রাজ্যে রাজ্যে পরস্পরে দ্বন্দ্বে অমঙ্গল
কবি সত্যজিৎ রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওরে বাবা দেখো চেয়ে কত সেনা চলেছে সমরে কথা ও সুর - কবি সত্যজিৎ রায়
(২.৫.১৯২১ - ২৩.৪.১৯৯২), কণ্ঠ - অনুপ ঘোষাল। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত “গুপি গাইন বাঘা বাইন” ছায়াছবির গান।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Bengali Cinema Lovers.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ওরে রাজ্যে রাজ্যে পরস্পরে দ্বন্দ্বে অমঙ্গল
তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল?

রাজা করেন তম্বি তম্বা, মন্ত্রি মশাই কিসে কম বা
রাজা করেন তম্বি তম্বা, মন্ত্রি মশাই কিসে কম বা
প্রজা পেয়ে অষ্টরম্ভা হলো হীনবল
ওরে প্রজা পেয়ে অষ্টরম্ভা হলো হীনবল
তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল?

আয় আয় আয় রে আয়, আয় রে আয়, আয় রে আয়,
আয় রে বোঝাই হাঁড়ি হাঁড়ি, মণ্ডা মিঠাই কাড়ি কাড়ি, আয়
মিহিদানা, পুলিপিঠে, জিভেগজা মিঠে মিঠে
আছে যত সেরা মিষ্টি, আছে যত এলো বৃষ্টি, এলো বৃষ্টি, ওরে...
অনাচার করো যদি,
রাজা তবে ছাড়ো গদি।
যারা তার ধামাধারী,
তাদেরও বিপদ ভারী।
গরীবে শোষণ পাপ,
ক্ষমা চেয়ে নাহি মাফ।
নাহি কোনো পরিত্রাণ,
হীরকের রাজা শয়তান।

এবারে সবাই কে ধরে পোরো ওই ঘরের মধ্যে . .
.
এবার চল সবাই মূর্তির মাঠে . . .

দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান॥
দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান॥
দড়ি ধরে মারো টান
রাজা হবে খান খান॥ . . .
কবি সত্যজিৎ রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অনাচার করো যদি
কবি সত্যজিৎ রায় (২.৫.১৯২১ - ২৩.৪.১৯৯২)। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত কবি সত্যজিৎ রায়ের লেখা ও বির্দেশিত “হীরক
রাজার দেশে” ছায়াছবিতে উদয়ন পণ্ডিতের মুখে ছড়া। ভিডিওটি সৌজন্যে
SFI Chakdaha Purbo ফেসবুক গ্রুপ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
সেদিন পদ্মার ঢেউয়ে জ্বলন্ত সূর্য উত্তাল,
লক্ষ কণ্ঠে গর্জে ওঠে দুর্জয় একুশে ফেব্রুয়ারি---
ডেকেছিল মা-মা বলে আপনার স্নেহময়ী মাকে,
মাটির বুকের পরে রেখেছিল রক্তের স্বাক্ষর।

ঘুমিয়েছে রফিক – জব্বর - বরকত – সালাম. . .
কবরের মাটি ছেয়ে ফুটে আছে শত শত ফুল,
উদাস বসন্তে ফোটে মৃত্যুহীন শহীদের মুখে,
এপারে-ওপারে বাঁধা বন্ধুর প্রাণের পরশে।
কবি কনক
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একুশে ফেব্রুয়ারি
কনক মুখোপাধ্যায় (৩০.১২.১৯২১ - ৯.৩.২০০৫)
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
শোন শোন দেশবাসী
.             ভুলে যেও না
বেইমান বলে যেটা কাজে সেটা করে না।
নিপীড়িত আজো যত জন
.                 নিজের সাথে মিলিয়ে দেখ
.                      কে পর কে আপন
আপন জনে মাথায় রেখ নিচে যেন পড়ে না।
নয়া সংশোধনবাদী দিল মন্ত্র
শান্তিপূর্ণ সমাজতন্ত্র
আনতে হবে গণতন্ত্র, অশান্তিতে যাবো না।
----------- শোন শোন দেশবাসী------
কৃষক আন্দোলন বন্ধ রেখে দাও
মজুর আন্দোলন বন্ধ রেখে
.                   উত্পাদন বাড়াও

যুক্তফ্রন্টের আদেশ হলো
.               আর নাই তো ভাবনা
শোন দেশবাসী ভুলে যেও না।
কবি কালাচাঁদ দালাল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোন শোন দেশবাসী কথা ও সুর – কালাচাঁদ দালাল (১৯২১ - ৪.৫.১৯৭২)। ১৯৯৮
সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী”, থেকে নেওয়া। ১২ই
মে ১৯৭২ এর দর্পণ পত্রিকার সংখ্যা থেকে জানা যায় যে ১৯৭২ সালের ৩রা মে তারিখে, নদীয়া
জেলার শান্তিপুর ও ফুলিয়ার মাঝামাঝি একটি আমবাগানে, কবি কালাচাঁদ দালাল,
Anti Naxal
Squad
এর পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মারা যান।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
চলো যাই রাজস্থানের দেওরালা
কিসের আগুন জ্বলছে সেথায় চলো দেখি তাই॥

আগুন ঘিরে তাথৈ নাচে অন্ধ জানোয়ার
কি যন্ত্রণায় কাঁদছে দ্যাখো রূপ কানোয়ার॥

পুরুত মশাই মন্ত্র পড়েন মন্ত্রী শোনান বাণী
সতী হলে মেয়ে হবে স্বর্গের ইন্দ্রাণী
খরায় পোড়ে সোনার ফসল চিতায় পোড়ে কে ?
পুড়ছে দ্যাখো সোনার পুতুল তোমার আমার মেয়ে॥

বলির বাজনা চারিদিকে মধ্যে অসহায়
একটি ছোট প্রাণের ব্যথা কেউ না বোঝে হায়,

প্রথার নামে বলি হলো কত মেয়ের প্রাণ
বিধবা খুন তাকেই বলে নারীর আত্মদান॥
কবি সজল রায়চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চলো যাই রাজস্থানের দেওরালা
কথা - কবি সজল রায়চৌধুরী (১.৫.১৯২২ - ১৩.১২.১৯৯৯), সুর - জলি বাগচী।
২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া। ১৯৮৭ সালে
রাজস্থানের দেওরালা শহরে রূপ কানোয়ার স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিয়ে ‘সতী’ হন। রূপ দরিদ্র চাষি পরিবারের মেয়ে ছিল।
অসুস্থ স্বামীর সাথে তার বিয়ে দিতে বাধ্য হয় রূপের বাব-মা। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির দহেজ (যৌতুক)–এর চাহিদা মেটাতে পারে নি
তারা। স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজন রূপকে বাধ্য করে স্বামীর সাথে সহমরণে যেতে। উদ্দেশ্য তার
প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ থেকে তাকে বঞ্চিত করা। ধর্মের মদে উন্মাদ জনতার কাছে রূপ হয় ‘সতী’। রামমোহনের প্রচেষ্টায় সতীদাহ
প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছেবলে আমরা জানতাম। কিন্তু এখন সরকারী মদতে ধর্মান্ধাতা, সাম্প্রদায়িকতা পুষ্ট হচ্ছে ---অবশ্যই এক শ্রেণীর
মানুষের ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার স্বার্থে। রাজস্থানের প্রচলিত লেকগীতি ‘ঢোল মারু’ অবলম্বনে রচিত হয় এই গানটি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
খরায় পোড়ে সোনার ফসল চিতায় পোড়ে কে ?
পুড়ছে দ্যাখো সোনার পুতুল তোমার আমার মেয়ে।

আঁধার ঘিরে কালো আঁধার হাজার বছর ধরে
অন্ধকারে ভূতের নাচন দেহাতে শহরে
আগুন, তুমি সবই পোড়াও, কেন পোড়াও না---
এই সমাজে যুগে যুগে জমাট লাঞ্ছনা

খরায় পোড়ে সোনার ফসল চিতায় পোড়ে কে ?
পুড়ছে দ্যাখো সোনার পুতুল তোমার আমার মেয়ে॥
বর্ণালী ফুল কেন ঝইব়্যা যায়
হায় ---- হায় রে হায় হায়॥

ফুটেছিল আশা নিয়া
স্বপনে ভরিল হিয়া
প্রাণ সঁপিল আতুড়ের সেবায়
হায় – হায় রে হায় হায়॥

ঘরের মধ্যে থাকবে নারী
চায় যত অত্যাচারী
স্বাধীন নারীর মান রাখা দায়॥

এই দেশেরই ঘরে ঘরে
বর্ণালীরা পুইড়্যা মরে
কত নদী অকালে শুকায়।
হায়--- হায় রে হায় হায়॥

হাজার হাজার বর্ণালী বোন
ছাইড়্যা নিজের ঘরের কোণ
এই কথাটার জবাব তারা চায়
বর্ণালী ফুল কেন ঝইব়্যা যায়?
কবি সজল রায়চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বর্ণালী ফুল কেন ঝইব়্যা যায় কথা - কবি সজল রায়চৌধুরী (১.৫.১৯২২ - ১৩.১২.১৯৯৯), সুর - জলি
বাগচী। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া।
১৯৮৩ সালের শুরুতে কোচবিহার সদর হাসপাতালের ধাত্রী বর্ণালী দত্তকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাতের অন্ধকারে ধর্ষণ ও
হত্যা করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখর হয় রাজ্যের বিভিন্ন গণসংগঠন। এই গান সেই প্রতিবাদের ভাষা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
টইলছে দুপা চখে আন্ধার
প্যাটে খিদের শ্যাল
কামিন মাইয়া কাইট্ ছি মাটি
চলবে পাতাল ব়্যাল॥

সূরয উঠ্যে মাথার উপর
একটু খাওয়ার ছুটি
ঘামের নুনে সিঁইজে লিব
একটা মোটা রুটি॥

ঠিকাদারে হিসাব মারে
সর্দার ল্যায় দস্তুরি
ঝুপ্ ড়ি ঘরে আন্ধার রাইতে
ইজ্জত যায় চুরি॥

খানা ভরাই খন্দ ভরাই
প্যাট তো ভরে না
কামিন মাইয়া বইছি মাটি
পা তো চলে না॥
কবি সজল রায়চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
টইলছে দুপা চখে আন্ধার কথা - কবি সজল রায়চৌধুরী (১.৫.১৯২২ - ১৩.১২.১৯৯৯), সুর - জলি বাগচী।
২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া। কলকাতাকে
গতির ডানায় ভাসানোর জন্য যখন পাতালে লাইন পাতার কাজ চলছে, তখন পাতালের অন্ধকারে চাপা পড়ে যায়
বহু সীতার কান্না।  মেট্রো রেল তৈরির কাজে নিযুক্ত নারী—শ্রমিকদের বুকভাঙা কান্না ও ঘৃণার প্রকাশ এই গানটি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
হাতে হাত রেখে পার হবো এই বিষের বিষাদ সিন্ধু
দুষমনদের ফাঁদে, বলো, কেন ঢুকবো ?
যে নামেই ডাকো--- মুসলীম, শিখ, খৃষ্টান কিবা হিন্দু
সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঢেউ রুখবো।

যে হাত ফসল লুটেছে, যে হাত কারখানা করে বন্ধ
সেই কালো হাত বিভেদের বিষে করে দিতে চায় অন্ধ
সব ভুলে, সাথী, আমরা কি আজ বলো সেই দিকে ঝুঁকবো ?

শহীদ নরুল আনন্দ ভাই আশিষ ও জব্বার
রক্তের রাখী বেঁধে দিয়ে গেছে হাতে হাতে সবাকার
সেই রাখী ছিঁড়ে আমরা কি আজ কেউটের বিষে ধুঁকবো ?

জাগে রাজহারা, মীজোরাম জাগে বেল্ চীর হরিজন
মুক্তি-পাগল মাটি ফুঁড়ে ওঠে লড়াকু চম্পারণ
গেরুয়ার পায়ে ভেড়ুয়ার মতো আমরা কি মাথা ঠুকবো ?

হাতে হাত রেখে পার হবো এই বিষের বিষাদ সিন্ধু
দুষমনদের ফাঁদে, বলো, কেন ঢুকবো ?
যে নামেই ডাকো--- মুসলীম, শিখ, খৃষ্টান কিবা হিন্দু
সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঢেউ রুখবো।
কবি সজল রায়চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
হাতে হাত রেখে পার হবো
কথা - কবি সজল রায়চৌধুরী, সুর - কবি বিপুল চক্রবর্তী। আমরা গানটি পেয়েছি
১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
কে কাকে করবে মুক্ত!
যদি না সে মুক্ত করে নিজেই নিজেকে
লড়াইয়ের ময়দানে
রক্ত দিয়ে, রক্ত বিনিময়ে॥

ভয়ের আঁধারে বন্দি
বন্দি কেউ প্রথার নিগড়ে,
অবিশ্বাসে বন্দি কেউ
কেউ বাঁধা মিথ্যার প্রত্যয়ে . . .
সকলেই বন্দি আজ
দৃশ্য কিংবা অদৃশ্য বলয়ে॥

আমি কোনো প্রার্থনার মন্ত্রে কোনো দিন
বিশ্বাস রাখি না :
কোনো কোনো শৌখিন সোচ্চার দাবিতেও
আমার অনীহা॥

আমার বিশ্বাস শুধু সংগ্রামে---একাগ্র সংগ্রামে।
বন্দিমুক্তি যদি চাও---তবে এসো---লড়ো
রক্তে ও ঘামে
আমার কবিতা গান নিয়ে আমি আছি
আমাদের সকলের
বন্দিমুক্তি রক্তাক্ত সংগ্রামে॥
কবি অতীন্দ্র মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এসো : মুক্ত করো কবি অতীন্দ্র মজুমদার (১.১.১৯২৪ - ৬.৩.১৯৯৩)। কবিতাটি প্রতিভাসের অর্জুন গোস্বামী
সম্পাদিত "জেলখানার কবিতা" তে মুদ্রিত আছে। কবিতাটি আমাদের পাঠিয়েছেন শ্রী অনির্বাণ দাস, যিনি জলপাইগুড়ির
বিবেকানন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক। এ জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁর ইমেল -
anirbanpinku@gmail.com
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
সবাই দেখছে যে, রাজা উলঙ্গ, তবুও
সবাই হাততালি দিচ্ছে।
সবাই চেঁচিয়ে বলছে : সাবাশ, সাবাশ !
কারও মনে সংস্কার, কারও ভয় ;
কেউ-বা নিজের বুদ্ধি অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়েছে ;
কেউ-বা পরান্নভোজী, কেউ
কৃপাপ্রার্থী, উমেদার, প্রবঞ্চক ;
কেউ ভাবছে, রাজবস্ত্র সত্যিই অতীব সূক্ষ্ম, চোখে
পড়ছে না যদিও, তবু আছে,
অন্তত থাকাটা কিছু অসম্ভব নয়।

গল্পটা সবাই জানে।
কিন্তু সেই গল্পের ভিতরে
শুধুই প্রশস্তিবাক্য-উচ্চারক কিছু
আপাদমস্তক ভিতু, ফন্দিবাজ অথবা নির্বোধ
স্তাবক ছিল না।
একটি শিশুও ছিল।
সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশু।

নেমেছে গল্পের রাজা বাস্তবের প্রকাশ্য রাস্তায়।
আবার হাততালি উঠছে মুহুর্মুহু ;
কবি নীরেন্দ্রনাথ
চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উলঙ্গ রাজা কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯.১০.১৯২৪ - ২৫.১২.২০১৮)। কবিতা আবৃত্তি - উত্পল দত্ত। কবিতাটি ৩ জানুয়ারী ১৯৭০, দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটি
সৌজন্যে
Rajesh Datta YouTube Channel. এই ভিডিওটিতেই উত্পল দত্তর আবৃত্তি রয়েছে পর পর ১) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর উলঙ্গ রাজা, ২) প্রেমেন্দ্র মিত্রের ফেরারী ফৌজ এবং ৩)
নাজিম হিকমতের জেলখানার কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
জমে উঠছে
স্তাবকবৃন্দের ভিড়।
কিন্তু সেই শিশুটিকে আমি
ভিড়ের ভিতরে আজ কোথাও দেখছি না।

শিশুটি কোথায় গেল? কেউ কি কোথাও তাকে কোনো
পাহাড়ের গোপন গুহায়
লুকিয়ে রেখেছে?
নাকি সে পাথর-ঘাস-মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে
ঘুমিয়ে পড়েছে
কোনো দূর
নির্জন নদীর ধারে কিংবা কোনো প্রান্তরের গাছের ছায়ায়?
যাও, তাকে যেমন করেই হোক
খুঁজে আনো।
সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে
নির্ভয়ে দাঁড়াক।
সে এসে একবার এই হাততালির ঊর্দ্ধে গলা তুলে
জিজ্ঞাসা করুক :
রাজা তোর কাপড় কোথায়?
তিনি না-জানেন রাম, না-জানেন গঙ্গা।
না-চেনেন মাটি, না-চেনেন মানুষ।
মাটি বলতে তিনি নির্বাচনকেন্দ্র বোঝেন, এবং
মানুষ বলতে ভোটার।
রামপুরের মাটি যে
সাত ফুট জলের তলায় শুয়ে আছে,
এ খবরে তাঁর
সুনিদ্রার কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি,
কেননা
রামপুর তাঁর নির্বাচনকেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কিন্তু
গঙ্গানগরের গুটি-তিন বাচ্চা এবং জনাকয় থুত্থুড়ে বুড়োবুড়ি যে
বানের জলে ভেসে গিয়াছে,
এই খবর পেয়ে তাঁকে ঘুমের বড়ি খেতে হয়েছিল।

কিন্তু ঘুম ভাঙবার পরে
এখন আবার তাঁর শরীরটা বেশ ঝরঝরে লাগছে।
কেননা তিনি জানেন যে,
বাচ্চাদের ভোটাধিকার নেই, বেওং
যে গ্রাম থেকে
নিকটতম পোলিং বুথটিও অন্তত আড়াই মাইল দূরে,
পারতপক্ষে
বুড়োরা সেখানে ভোট দেয় না।
কবি নীরেন্দ্রনাথ
চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
না রাম, না গঙ্গা কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯.১০.১৯২৪ - ২৫.১২.২০১৮)। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত
কবির “পাগলা ঘন্টি” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে, যাঁদের
থেকে এই কবিতাটি আমরা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে এই কবিতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
চতুর্দিকে অন্ধকার, তারই মধ্যে এখানে-ওখানে
কয়েকটি বাড়িতে
আলো জ্বলে,
টিভি চলে,
হাস্যমুখে ভাষ্যকার বলে–
বিদ্যুতের উৎপাদন আজ বিকেলে যথেষ্ঠ ছিল না।

যারা শোনে, তারা ভাবে, বটে?
যেমন সংবাদপত্রে, তেমনি দেখছি টিভিতেও রটে
উল্টাপাল্টা গুজব!–তাদের
ফ্রিজের ভিতরে
ল্যাংড়া আমি, মাখন, সন্দেশ, ডিম, ব্রয়লার চিকেন
টাটকা থেকে যায়।

চতুর্দিকে অন্ধকার, তারই মধ্যে একটি-দুটি শৌখিন পাড়ায়
আলোর বন্যায় ভাসতে থাকে
বাড়িঘর।
ঐগুলি কাদের বাড়ি? সম্ভবত ঈশ্বরের তৃতীয় পক্ষের
পুত্র ও কন্যার।

কে যেন বলতেন, “আগে সম্পদ বাড়াও,
তা নইলে দারিদ্র্য ছাড়া আর
কিচ্ছুই দেখছি না…ইয়ে…
কবি নীরেন্দ্রনাথ
চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চতুর্দিকে অন্ধকার কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯.১০.১৯২৪ - ২৫.১২.২০১৮)। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত কবির “পাগলা ঘন্টি”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কৃতজ্ঞ বাংলারকবিতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে, যাঁদের থেকে এই কবিতাটি আমরা নিয়েছি। সেই
ওয়েবসাইটে এই কবিতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বণ্টন করবার মতো।”

তখন বক্তৃতা শুনে হাততালি দিতুম,
প্রত্যেকে ভাবতুম,
এ-সবই যৎপরোনাস্তি যুক্তিযুক্ত কথা।
সত্যিই তো, দেশে
সম্পদ যদি না বাড়ে, কী হবে দারিদ্র্য বেঁটে দিয়ে।

হিসেবে গরমিল ছিল, সেইটে বুঝে শেষে
ইদানীং আমরা কিন্তু তাতেই সম্মত।
তেত্রিশ বছর ধরে প্রতীক্ষায় থাকতে-থাকতে হাড়ে
দুব্বো গজাবার বেশি বাকি নেই।
সেই কারণে বলছি, আপাতত
যা বণ্টন করা যায়, তা-ই করুন, এই
দারিদ্র্যই বাঁটা হোক, তার সঙ্গে অন্ধকারও হোক।
অবস্থা যা দেখছি, তাতে সর্বাঙ্গীণ সেটাই মানাবে।

চতুর্দিকে অন্ধকার, তারই মধ্যে ইতস্তত আলো
দেখতে-দেখতে ইদানীং
একটাই ভাবনা জাগে; মনে হয়,
এর চেয়ে বরং
সবাই একসঙ্গে অমবস্যার ভিতরে ঢোকা ভাল।
একসঙ্গে আনন্দ করা ভাগ্যে যদি না-ই থাকে তো শোক
সবাই একসঙ্গে করা যাবে।
শোন একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে ওঠে রণি
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।

সেই সবুজের বুকে চেরা মেঠো পথে
আবার যে ফিরে যাব আমার
হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাব
শিল্পে-কাব্যে কোথায় আছে
হায়রে এমন সোনার খনি।
শোন একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে ওঠে রণি
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোন একটি মুজিবরের থেকে কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুর ও শিল্পী - অংশুমান রায়। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথ
অনুষ্ঠানে বাজানো হয় এই গান। এই গানটি পরে “মিলিয়ন মুজিবর সিঙ্গিং” নামে অনুদিত হয় ইংরেজিতে। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
HINDUSTHAN BHAKTISAGAR YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বিশ্ব কবির সোনার বাংলা
নজরুলের বাংলাদেশ
জীবনানন্দের রূপসী বাংলা
রূপের যে তার নেই কো শেষ, বাংলাদেশ।
জয় বাংলা বলতে মন রে আমার
এখনও কেন ভাবো আবার
হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাব
অন্ধকারের পূর্বাকাশে উঠবে আবার
দিনমণি।

শোন একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে ওঠে রণি
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
এই ঐতিহাসিক গানটির ইতিহাস! শুভজিৎ সরকারের ২৭ মার্চ, ২০২১ তারিখে ওয়েবসাইট প্রহর.ইন . . . এর লেখা
প্রবন্ধ থেকে . . .
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনগণের সামনে এক ‘ঐতিহাসিক ভাষণ’ দিলেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ভাষণের শেষে শেখ মুজিব বললেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার
সংগ্রাম'। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে প্রায় হয়ে সমার্থক হয়ে যাওয়া নাম শেখ মুজিবর রহমানের এই ভাষণই মূলতঃ স্বাধীনতা লাভের
আকাঙ্ক্ষায় অধীর করে তুলেছিল বাঙালিদের; স্বাধীনতার মন্ত্রে নতুন করে দীক্ষিত হয়েছিলেন তাঁরা॥ এর ঠিক পরের মাসের ঘটনা। দিনটা
ছিল এপ্রিল মাসের ১৩ বা ১৫। পূর্ব পাকিস্তান ততদিনে হয়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ’। কিন্তু এই ঘটনার স্থান বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ কলকাতার
পদ্মশ্রী সিনেমা হলের পাশের চায়ের দোকানের একটি আড্ডা। সেই সময় ঐ আড্ডায় উপস্থিত থাকতেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, অংশুমান
রায়, দিনেন্দ্র চৌধুরীর মতো মানুষ। যে বিশেষ দিনের কথা বলা হচ্ছে, সেদিন সেই আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন আকাশবাণীর বিশিষ্ট  
প্রযোজক এবং উত্তরকালের আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের অধিকর্তা উপেন তরফদারও। উপেনবাবু তাঁর সঙ্গে করে সেদিন নিয়ে  
এসেছিলেন একটি স্পুল রেকর্ডার, যার মাধ্যমে তিনি আড্ডায় উপস্থিত সকলকে শুনিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ‘ঐতিহাসিক ভাষণ’।
সেদিনকার আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কেন্দ্রীভূত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বান ও তৎকালীন বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মর্মে।
গৌরীপ্রসন্ন সবই শুনছিলেন, আবার মধ্যে মধ্যে যেন একটু অন্যমনষ্কও হয়ে পড়ছিলেন। নানা কথার মধ্যে তিনি তাঁর চারমিনারের  
প্যাকেটের ভেতরের সাদা অংশটায় কিছু একটা লিখছিলেন। লেখা শেষ হতে তিনি সেটা এগিয়ে দেন দিনেন চৌধুরী ও অংশুমান রায়ের
দিকে। লেখাটা পড়ে উচ্ছসিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। কী লিখেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন? একটি গান, একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গও বলা চলে – ‘শোন একটি
মুজিবরের থেকে/লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের/ধ্বনি প্রতিধ্বনি/আকাশে বাতাসে ওঠে রনি/আমার বাংলাদেশ…’॥ পড়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই  
অংশুমান রায় গৌরীপ্রসন্ন-র কাছে দাবি করেন, 'গৌরীদা, এটা আপনি আর কাউকে দিতে পারবেন না, এটা আমি সুর করব, আমি গাইব'।
অনায়াসেই সে দাবি মঞ্জুর হয়, গৌরীপ্রসন্ন অংশুমানের প্রতিভাকে চিনতেন বিলক্ষণ॥ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গানের সুর তৈরি করে
ফেলেন অংশুমান। স্পুল রেকর্ডারেই সে গান তুলে নেন উপেন তরফদার। অংশুমান রায়ের কণ্ঠ আর একটি শক্ত গানের খাতাকে  
তালবাদ্য হিসেবে দিনেন চৌধুরীর ঠেকা – এই দুয়ে মিলেই তৈরি হয় এক ইতিহাস, পৌঁছে যায় আকাশবাণীর অন্দরমহলে। ১৫ এপ্রিল   
আকাশবাণীর বিখ্যাত অনুষ্ঠান ‘সংবাদ পরিক্রমা’য় বাজানো হয় ঘরোয়াভাবে গাওয়া সেই গান ; একটানা নয়, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মাঝে
মাঝে। সেইদিন বেশ কয়েকবার এই ভাষণ ও গানের যুগলবন্দি বাজানো হয়েছিল বেতারে সেদিন রাতে॥
....তুমুল জনপ্রিয়তার দরুন এর হপ্তাখানেক পরই ২২ এপ্রিল হিন্দুস্তান রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটি রেকর্ড করেন অংশুমান রায়।
সেই ৪৫ আরপিএম ছোট রেকর্ডের এক পিঠে ছিল ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে’ আর অন্য পিঠে ছিল এই গানটিরই ইংরেজি রূপান্তর,
লিখেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন নিজেই এবং গেয়েছিলেন অংশুমান রায় ও করবী নাথ। গানটি হল – ‘এ মিলিয়ন মুজিবরস্ সিঙ্গিং’।"
--- সৌজন্যে "মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কলকাতার সঙ্গীতশিল্পীরা, প্রকাশ পেল একের পর এক রেকর্ড" লেখক -
শুভজিৎ সরকার। ২৭ মার্চ,
২০২১॥
ওয়েবসাইট প্রহর.ইন . . .   
The voice of not one
But a million Mujiburs singing
The field and the trees
The sky with the echos ringing
Bangladesh my Bangladesh
Bangladesh my Bangladesh

Bangla is our smile and tears
Our joy and pride
Wide flows the Padma
Our bloods are tide
The field and the trees
The sky with the echos ringing
Bangladesh my Bangladesh
Bangladesh my Bangladesh

The Golden Bangla of Tagore
Poet Nazrul’s dear land
matchless in charming beauty
green and precious gay and grand

The Golden Bangla of Tagore
Poet Nazrul’s dear land
matchless in charming beauty
green and precious gay and grand
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
A million Mujibars singing এ মিলিয়ন মুজিবরস্ সিঙ্গিং
Lyrics - Poet Gauri Prasanna Majumdar (5.12.1924 - 20.8.1986), Tune by Angshuman Roy, Voice -
Karabi Nath. This is the Poet’s own English translation of his Bengali song “Shono ekti Mujiborer
thekey”  which was sung during the Oath taking ceremony of Provisional government of Free
Bangladesh. The VDO, courtesy of  
Shafiul Alam YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
The background
photograph of a
corridor of the
ill-famous Cellular jail
of Andaman Islands is
the ultimate symbol of
reprisal and misery
inflicted by the rulers
upon its citizens and
the same walls and
prison bars also
symbolises the
undaunted spirit of
protest and fight for
freedom and liberty
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
“Joy Bangla” is the holy
Anthem of our soul
We march and march on
Victory is our goal
The field and the trees
The sky with the echos ringing
Bangladesh my Bangladesh
Bangladesh my Bangladesh
Bangladesh my Bangladesh
Bangladesh my Bangladesh
মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি

আমরা হারবো না হারবো না
তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বো না
আমরা হারবো না হারবো না
তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বো না
আমরা পাঁজর দিয়ে দুর্গ ঘাঁটি গড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাগো ভাবনা কেন কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬), সুর ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭২-
এর ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। বাংলাদেশ রেডিয়োর জন্য লিখেছিলেন
এই গানটি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে সে গান বাংলার আকাশ বাতাস মুখরিত করেছিল। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Music India Entertainment YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আমরা পরাজয় মানবো না
দুর্বলতায় বাঁচতে সুধু জানবো না
আমরা পরাজয় মানবো না
দুর্বলতায় বাঁচতে সুধু জানবো না
আমরা চির দিনই হাসি মুখে মরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা অপমান সইবো না
ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইবো না
আমরা অপমান সইবো না
ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইবো না
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে জ্বলতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে,
মুজিব ভাই ডাকে রে ---
কে কোথায় আছো?
মাঠে-ঘাটে, গঞ্জে-হাটে, কোথায় আছো?
গ্রামে-শহরেতে, কলে-কারখানাতে,
কোথায় আছো?
হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
মিলি আয় লাখে লাখে রে।
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে,
মুজিব ভাই ডাকে রে॥

শোনো ভাই মুজিবের কথা,
দেশে আনলো সে যে স্বাধীনতা।
কোন সন্তান করলো সুখী,
কোন সন্তান করলো সুখী
এমন করে বাংলা মাকে?
হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
মিলি আয় লাখে লাখে রে।
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে,
মুজিব ভাই ডাকে রে॥
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬), সুর - নির্মলেন্দু চৌধুরী। শিল্পী - নির্মলেন্দু চৌধুরী ও বনশ্রী
সেনগুপ্ত। ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
pujan kumar daripa YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ফুটলো যে ফুল স্বাধীনতার
বাংলা দেশের ঘরে ঘরে।
হুঁশিয়ার ভাই থাকিস তোরা,
হুঁশিয়ার ভাই থাকিস তোরা,
যেন থাকিস প্রবৃন্ত করি।
হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
মিলি আয় লাখে লাখে রে।
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে,
মুজিব ভাই ডাকে রে॥
মাঠে-ঘাটে, গঞ্জে-হাটে,
কোথায় আছো?
গ্রামে-শহরেতে, কলে-কারখানাতে,
কোথায় আছো?
হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,
মিলি আয় লাখে লাখে রে।
বঙ্গবন্ধু ডাকে রে,
মুজিব ভাই ডাকে রে॥
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ,
এ কি অভিশাপ, নাই প্রতিকার ---
মিথ্যারই জয়, আজ সত্যের নাই অধিকার॥
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ,
এ কি অভিশাপ, নাই প্রতিকার ---
মিথ্যারই জয়, আজ সত্যের নাই অধিকার॥

কোথায় অযোধ্যা, কোথা সেই রাম---
কোথায় হারালো বনধাম।
এ কি হল, এ কি হল, পশু আজ মানুষেরই নাম।
সাবিত্রী সীতার দেশে দাও দেখা তুমি এসে
শেষ করে দাও এই অনাচার॥
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ,
এ কি অভিশাপ, নাই প্রতিকার ---
মিথ্যারই জয়, আজ সত্যের নাই অধিকার॥

তোমার কঠিন হাতে বজ্র কি নাই---
হিংসার কর অবসান ;
তোমার এ পৃথিবীতে যারা অসহায়
তুমি মা তাদের কর ত্রাণ।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬), সুর ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ছায়াছবি- মরুতীর্থ
হিংলাজ। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Anil Mandal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.

চরণতীর্থে তব এবার শরণ লব---
দুর্গম এই পথ হব পার॥
তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ,
এ কি অভিশাপ, নাই প্রতিকার -----
মিথ্যারই জয়, আজ সত্যের নাই অধিকার॥
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি
তবে বামুন বলে মিথ্যে কেন গর্বে শুধু ফাটি
মরলে সবাই মাটি।

জাতের বালাই নেইকো আমার
মানুষ সবাই বামুন, চামার
কেন ছোট বড়র প্রশ্ন তুলে
মিথ্যে কাটাকাটি
মরলে সবাই মাটি

কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি।
চামড়া দিয়ে মোড়া আছে ক'খানা এই হাড়
চোখ বুজলেই সবই তো শেষ
নেই যে কিছু আর
নেই যে কিছু আর।

দু'দিনের এই ভবে এসে
মানুষকে যাও ভালোবেসে
মানুষকে যে ভালোবাসে সেই তো আসল খাঁটি
মরলে সবাই মাটি
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুর, সঙ্গীত ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,
ছায়াছবি: প্রতিমা। গানটি আমরা পেয়েছি ফেসবুকের
জনপ্রিয় গানের লিরিক্স-Popular Songs Lyrics
Groups এর Sudhanya Mandol এর পোস্ট থেকে। সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
কাঙালের অশ্রুতে যে রক্ত ঝরে
ভগবান, ও ভগবান দেখেও তুমি দেখো না।
ওরা যে সেই পাঁজরে প্রাসাদ গড়ে
ভগবান ও ভগবান দেখেও তুমি দেখো না।
মিনতি শুনে হায়
পাষাণও গলে যায়
তুমি তো দেখোনা গো চেয়ে
বেদনা পেয়ে
আমরা কাঁদি ওদের ক্ষেতে
হাসির ফসল ঝরে গো।।
মোদের এ ভাগ্য যেন খেলার পাশা।
ওদেরই চরণছায়ে বাঁধে বাসা।
এ ব্যথা শোধে গো
আঁধাবে বোধে গো
জানি না আমাদেব কী দাম আছে
আলোরই কাছে
আমরা যেন প্রদীপ শিখা।
নিয়তি যে ধবে গো॥
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাঙালের অশ্রুতে যে রক্ত ঝরে
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। শিল্পী : সাবিত্রী ঘোষ, সুর: অনুপম ঘটক। গানের
ভিডিওটি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ
বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার মুসলমান,
আমরা সবাই বাঙালী॥

তিতুমীর, ঈসা খাঁ, সিরাজ
সন্তান এই বাংলাদেশের।
ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, নেতাজী
সন্তান এই বাংলাদেশের।
এই বাংলার কথা বলতে গিয়ে
বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিল কার সে কণ্ঠস্বর,
মুজিবর, সে যে মুজিবর,
"জয় বাংলা" বল রে ভাই॥

ছয়টি ছেলে বাংলা ভাষার চরণে দিল প্রাণ,
তাঁরা বলে গেল ভাষাই ধর্ম,
ভাষাই মোদের মান।

মাইকেল, বিশ্বকবি, নজরুল
সন্তান এই বাংলাদেশের।
কায়কোবাদ, বিবেকানন্দ, অরবিন্দ
সন্তান এই বাংলাদেশের।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। শিল্পী : সাবিত্রী ঘোষ, সুর: অনুপম ঘটক।
আমরা কৃতজ্ঞ গানেরপাতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ গানটি আমরা পেয়েছি সেখান থেকেই। সেই
পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে sumon mahmud YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
এই বাংলার কথা বলতে গিয়ে
বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিল কার সে কণ্ঠস্বর,
মুজিবর, সে যে মুজিবর,
"জয় বাংলা" বল রে ভাই॥
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে
আজ শান্তির মহান পতাকা কেড়ে নিতে চায় শত্রু এসে
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে

আর ঘুমায়ো না শিবাজী প্রতাপ ঝাঁসীর লক্ষ্মী জাগো এবার
অসুর দলনে দুর্গার হাতে এই তো লগ্ন অস্ত্র দেবার

আর ঘুমায়ো না শিবাজী প্রতাপ ঝাঁসীর লক্ষ্মী জাগো এবার
অসুর দলনে দুর্গার হাতে এই তো লগ্ন অস্ত্র দেবার
শান্তির দূত আজ যেন তাই এগিয়ে চলেছে সৈন্য বেশে
নব প্রেরণায় জাগার মন্ত্র আজকে জাতির মর্মে মেশে
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে
আজ শান্তির মহান পতাকা কেড়ে নিতে চায় শত্রু এসে

শুধু ঘরের কোণে প্রদীপেই নয় বিদ্যুতে মোরা জ্বলতে জানি
বুকের রক্ত দিতে হয় দেবো পরাজয় তবু নেব না মানি
শুধু ঘরের কোণে প্রদীপেই নয় বিদ্যুতে মোরা জ্বলতে জানি
বুকের রক্ত দিতে হয় দেবো পরাজয় তবু নেব না মানি

সারাটি বিশ্ব মুক্তি মন্ত্র শিখেছে রে এই দেশের কাছে
সেও জেনে নেবে সেই ভারতেরই মাটির মূলেও মন্ত্র আছে
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে
কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)
শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন। আকাশবাণী কলকাতার 'দেশবন্দনা' অনুষ্ঠানে প্রচারিত গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
eladey1949 YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
সারাটি বিশ্ব মুক্তি মন্ত্র শিখেছে রে এই দেশের কাছে
সেও জেনে নেবে সেই ভারতেরই মাটির মূলেও মন্ত্র আছে
বীরের মতন মৃত্যুকে মোরা বরণ করিব এবার হেসে
একদলা মাটি দেবো না তো নিতে জয় আমাদের হবেই শেষে
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে
আজ শান্তির মহান পতাকা কেড়ে নিতে চায় শত্রু এসে
বুদ্ধ গান্ধী বিবেকানন্দ বিশ্বকবির মহান দেশে
আজ শান্তির মহান পতাকা কেড়ে নিতে চায় শত্রু এসে
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান
মহাভারতের মহাজাতির স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে
প্রত্যয় চিত্ত সাস্বত সুরে শোনায় ঐক্যতান
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান

মণিপুরী ভাঙরা ভারতনাট্যম
কথ্যক নৃত্যে নৃত্যে
ভাটিয়ালী দেহাতী গাজন ভজন আর
ধ্রূপদ গজল সঙ্গীতে
ভারতের চিত্ত নিত্য
নিত্য নিত্য ঐক্য গড়েছে গড়েছে মহান
স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে
স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে প্রত্যয় দৃশ্য শাশ্বত সুরে
শোনায় ঐক্যতান
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান
মহাভারতের মহাজাতির স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে
প্রত্যয় চিত্ত সাস্বত সুরে শোনায় ঐক্যতান
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান

উত্তরে পশ্চিমে পূর্বে দক্ষিণে
বহু রাজ্যে নেই রাষ্ট্র
বহু জাতি বহু ভাষা বহুমত পথ নিয়ে
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুর ও
কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। আকাশবাণী কলকাতার 'দেশবন্দনা' অনুষ্ঠানে প্রচারিত গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
pujan kumar daripa YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
গড়ে উঠেছে এই রাষ্ট্র
এই মহা মন্দ্রে মন্দ্রে
হৃদয়ের যন্ত্রে চিরদিনই বাজবে
বাজবে যে গান
স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে
স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে প্রত্যয় দৃশ্য শাশ্বত সুরে
শোনায় ঐক্যতান
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান
মহাভারতের মহাজাতির স্বপ্ন বৃষ্টি নিয়ে
প্রত্যয় চিত্ত সাস্বত সুরে শোনায় ঐক্যতান
কাশ্মীর পাঞ্জাব সিন্ধু রাজস্থান
এ দেশের মাটির 'পরে
অনেক জাতের অনেক দিনের লোভ আছে
এ দেশের মাটির 'পরে
অনেক জাতের অনেক দিনের লোভ আছে
এ কথা ইতিহাসই বলে
এ মাটি সোনার মাটি, এ মাটি সোনার মাটি
এই মাটিতে সোনাই শুধু ফলে
এ মাটি সোনার মাটি

অনাদিকাল থেকে রে ভাই
কত যুগ গেলো
এই সোনার মাটি লুঠ করিতে
কত টাকা পেলো
তারা সব বুঝে গেছে, তারা সব বুঝে গেছে
এই মাটিতে বজ্র শুধু জ্বলে
এ কথা ইতিহাসই বলে
এ মাটি সোনার মাটি, এ মাটি সোনার মাটি
এই মাটিতে সোনাই শুধু ফলে
এ মাটি সোনার মাটি

এ মাটি ফোটায় রে ফুল
যেমন ফাগুন কালে
বোশেখ মায়ে এই মাটি ভাই
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এ দেশের মাটির 'পরে কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুর ও কণ্ঠ - হেমন্ত
মুখোপাধ্যায়। আকাশবাণী কলকাতার 'দেশবন্দনা' অনুষ্ঠানে প্রচারিত গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Hemanta
Mukherjee & His Contemporaries YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আবার আগুন জ্বালে
এ মাটি যেমন কোমল, এ মাটি যেমন কোমল
তেমনি কঠিন কোন সে মন্ত্র বলে
এ কথা ইতিহাসই বলে
এ মাটি সোনার মাটি, এ মাটি সোনার মাটি
এই মাটিতে সোনাই শুধু ফলে
এ দেশের মাটির 'পরে
অনেক জাতের অনেক দিনের লোভ আছে
এ কথা ইতিহাসই বলে
এ মাটি সোনার মাটি, এ মাটি সোনার মাটি
এই মাটিতে সোনাই শুধু ফলে
এ মাটি সোনার মাটি
মাটির প্রদীপ থেকে,
মাটির প্রদীপ থেকে,
মাটির প্রদীপ থেকে অগ্নি-শপথে যেন
সূর্যকে জ্বেলে দিলে, বন্ধু।
লাঞ্ছিতা রমণীর ক্রুদ্ধ দৃষ্টি থেকে
বুলেট কুড়িয়ে নিলে, বন্ধু।
মাটির প্রদীপ থেকে,
মাটির প্রদীপ থেকে।।

বন্ধুর পথ, বন্ধুর পথ
যাও হয়ে পার ছিঁড়ে কাঁটাতার।
বন্ধুর পথ, বন্ধুর পথ
যাও হয়ে পার ছিঁড়ে কাঁটাতার।
দিগন্তে আলোর ওই যে পাখি,
নির্ভয়ে তাকে নাও যে ডাকি।
দিগন্তে আলোর ওই যে পাখি,
নির্ভয়ে তাকে নাও যে ডাকি।
রক্তেরই বন্যায়
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ---
মুছে দিল অন্যায়।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা --
রক্তেরই বন্যায়
মুছে দিল অন্যায়।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাটির প্রদীপ থেকে কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুর - অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সমবেত অজ্ঞাত শিল্পীদের কণ্ঠে গানটি শুনুন। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
alamsafiqul1 YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
মুক্তিবাহিনী ভাই, রক্তকাহিনী লেখো
তোমরা সকলে মিলে, বন্ধু।
তোমরা সকলে মিলে, বন্ধু।
মাটির প্রদীপ থেকে,
মাটির প্রদীপ থেকে….

বন্দিতা মা, ক্রন্দিতা মা
মুক্ত যে আজ, ফুল হ'ল বাজ।
বন্দিতা মা, ক্রন্দিতা মা
মুক্ত যে আজ, ফুল হ'ল বাজ।
শান্তির উৎসবে নাও গো সেলাম।
জয়ের এই ঊৎসবে নাও গো সেলাম।
চিরকাল বয়ে যাবে
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ---
ইতিহাসে রয়ে যাবে
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ---
চিরকাল বয়ে যাবে,
ইতিহাসে রয়ে যাবে।
মেঘ-ছায়া মুছে দিয়ে
এনেছো নতুন আলো
মুক্ত আকাশ নীলে, বন্ধু।
মুক্ত আকাশ নীলে, বন্ধু।
মুক্তিবাহিনী ভাই, তোমরা সেলাম নাও।
মুক্তিবাহিনী ভাই, তোমরা সেলাম নাও।
এখানে রয়েছে পড়ে পৃথিবীর নগ্ন রূপ যত ;
তারে আমি দেখিয়াছি, ভয়ে লাজে উঠিয়াছি কাঁপি।
বিস্তীর্ণ উদার মেঘে বিদ্যুৎ আরতি করে কত ;
বজ্রের গম্ভীর কণ্ঠে বিদ্রোহের ধ্বনি ওঠে ছাপি।
এখানে আসেনি কেহ ফাগুনের মহা উত্সবে,
এখানে পায়নি কেহ বসন্তের নব সমাচার।
নির্জ্জন অরণ্য মাঝে দেখিয়াছি বিভীষিকা সবে ;
জীবন বীণার মাঝে বাজে নাই নব ঝঙ্কার।

এখানে জীবন পরে দেখিয়াছি মরুভূমি ধূ ধূ,
হেথায় শুনেছি আমি রক্তের মহা কলরব।
ঊষর প্রান্তরে তবু আমি একা ছুটিয়াছি শুধু ;
জীবনের বালুচরে শুনিয়াছি তরঙ্গের স্তব।
মানুষের কামনায় শুনিয়াছি সমুদ্র গর্জ্জন,
দেখিয়াছি জীবনের জীবনেরে পেতে ব্যাকুলতা।
জীবনের শেষপ্রান্তে জীবনেরে দিতে বিসর্জ্জন ;
কারো মুখে শুনি নাই ত্যাগদৃপ্ত এতটুকু কথা।
কবি গৌরীপ্রসন্ন
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দুর্মদ  গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬)। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত “পরিচয়”
পত্রিকার মাঘ ১৩৪৮ সংখ্যায় (জানুয়ারী ১৯৪২) প্রকাশিত কবিতা। কবির তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
এখানে দেখেছি আমি রক্তমাখা ধূসর গোধূলি,
রাঙ্গা চোখে রক্ত স্বপ্ন, দেখিয়াছি জাগে বিস্ময়।
প্রত্যহের রূঢ়তায় ন্যুব্জ দেহ মোর দিনগুলি ;
চলে গেছে ধীরে ধীরে যায় নাই রাখি সঞ্চয়।
এখানে দেখেছি আমি মানুষের ভয়াবহ রূপ,
কঙ্কালের স্তূপ হেরি কাঁপিয়াছে সদা সৃষ্টি প্রাণ।
স্তব্ধীভূত অন্ধকারে তারকারা করে বিদ্রূপ ;
এখানে নয়নে মোর কে করিবে নব দৃষ্টি দান!
হয়তো চিকিৎসা হলে সোয়ামী ওর বেঁচে যেত,
তা’ বলে সবার চিকিত্সা হবে সে কি করে হয়, বল?
বিনা পথ্যে,  ওষুধের অভাবে
নিশ্চয়ই প্রত্যহ হাজার-লক্ষ লোক মরছে ;
---মরবে এটাই তো বিধিলিপি !
ক্ষেন্তির বাপকে ক্ষেন্তির মা-ও বাঁচাতে পারলো না।
ছোট ছোট পাঁচটা মুখে খাবার জোগাতে
ক্ষেন্তির মা উদয়াস্ত খাটে।
পাঁচ বাড়ি ঠিকে কাজ, কুড়িয়ে বাড়িয়ে
চার কুড়ি টাকার সংস্থান।
পাঁচ বাড়ি ঘুরে নিজের খাওয়াটাও কোনোমতে জুটে যায়।
কিন্তু বাঁচাবে কি করে বল?
রোগে ভুগে ভুগে কঙ্কালসার হয়ে
মরল একদিন ক্ষেন্তির বাপ।
আসল রোগটা তো অনাহার।
অনেক কাল ঠিকমতো খাওয়া জোটেনি।
---সে রোগটার কি প্রতিকার ছিল, বল।
এখন ভাবনা, মড়া পোড়ানোর খরচটা জুটবে কোথা থেকে।
কবি নীল সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ক্ষেন্তির মায়ের ভাবনা
কবি নীল সেন (২.১৯২৫ - ৩১.১২.২০০০)। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, কবির “স্বপ্নের সাঁকো পেরিয়ে” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
তা, প্রতিবেশীরা লোক খারাপ নয়।
ঝগড়াঝাটি ভুলে মড়া কাঁধে তুলে নিল।
চাঁদা তুলে ঘাট খরচাও তুলে দিল।
ক্ষেন্তির মা মনিবের বাড়ি বাড়ি ভিখ মেগে
এখন শ্রাদ্ধটা সারবার ভাবনা ভাবছে।
ক্ষেন্তি এই আটে পা দিয়েছে।
ওকেও দু’ একটা ঠিকে কাজে
এবার লাগিয়ে দেবে,---
শোকের মাঝেও সে ভাবনাটা
ভাবছে বইকি সদ্য বিধবা ক্ষেম্তির মা।
তোমারি ঢাক
সবাই মিলে পেটাচ্ছি দিন-রাত ;
তাতেও তোমার ভরে না মন?
তোমার গুণের নামাবলীই
পরেছি গায় ;
তবু
বলছ রেগে,  ঠিক মতো গুণ গাইছি না কো কভু !
আমরা নাকি
তোমার যতো গুণ-ব্যাখ্যায়
পদে পদেই চলেছি ভুল করে।
নিজের ঢাক এবারে তাই
নিচ্ছ তুলে নিজের কাঁধেই।

তা হলে,
আমরা এখন নিচ্ছি বিদায়।
মনে রেখো,
আত্মপ্রচার রয়ে সয়েই জমে ভালো।
কখন কোথায়
ছাইচাপা কোন্ কলঙ্কের দাগ
উঠবে ফুটে,
দেখবে তখন, ঢাকবার আর
পাবে নাকো সুযোগ সেটার।
কবি নীল সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বৃদ্ধ গুরুর প্রতি শিষ্যের আর্জি কবি নীল সেন (২.১৯২৫ - ৩১.১২.২০০০)। ১৯৮৩ সালে
প্রকাশিত, কবির “স্বপ্নের সাঁকো পেরিয়ে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বয়েস হলো।
ধর্মে-কর্মে মন দেওয়াটাই
এখন ভালো ;
ভাবছ  কি গো?
---বেড়াল-তাপস বলবে সবাই?
বলুক  না কো !
তবু জেনো,  না খোঁচালে
সাত-পুরোনো তোমারো সেই
কাসুন্দি কেউ ঘাটবে না কো।

বলছি, শোনো, ভালো মনেই,
সবার কানে তোমার সুনাম
পৌঁছে দেবার দায়িত্বটা, আমাদের, এই
শিষ্যদলের হাতেই এখন
পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে
তুমি, প্রভু , বিশ্রাম নাও।

গুরুগিরির এই তো কর্ম।
ভালোমন্দ আকাম-কুকাম, কত শত
করতে হলে সারা জীবন !
এবার গুরু অবসর নাও।

চলো মন, স্ব-নিকেতন,
শ্রীবৃন্দাবন !
সেই একই বাঁধাগৎ বুলিটা এবারেও
তাহলে বলছেন,—
আপনার কাগজে একটুও
ঠাঁই নেই?
সম্পাদক মশাই,
শুনুন,
এবং জানুন,
কবির স্বীকৃতি না পেলে
অন্তত আমাদের কিছু এসে যায়।
দেখুন,
হবু কবিরা সবাই চায়
একটু নাম-কাম ;
---নইলে আগাম
কি জন্যে এতটা তদ্বির করছি?
---আপনাদের কিঞ্চিৎ নেক্ নজর কাড়তে,
একে ওকে ধরছি?

তবু আপনাদের মন গলছে না,
সিদ্ধান্ত টলছে না,
নিরুত্সাহে আমাদেরও লেখনী চলছে না।
কবি নীল সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সম্পাদক মশাইকে হবু  কবির  নিবেদন কবি নীল সেন (২.১৯২৫ - ৩১.১২.২০০০)।
১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, কবির “স্বপ্নের সাঁকো পেরিয়ে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
কেউ কি নিভৃতে একবারও আপনাদের
খবরটা বলছে না, যে
এক আধটা কবিতা ছাপতে,
ছাপার অক্ষরে নামটা দেখতে,
রোজকার সিগারেট-খরচা বাঁচিয়ে,
মাঝে মধ্যে চাক্ রে দাদাদের পকেট হাতিয়ে,
আমরা  কিছু  চাঁদাও তুলে দিতে রাজি আছি।
শুধু, পরস্পর আর একটু কাছাকাছি
আসতে চাই :
এবারে তাই,
সনির্বন্ধ অনুরোধ,
একটু কাছে ডেকে নিন,
আমাদেরও এক-আধটা চান্স দিন।
দেখুন শুনুন,
চুপটি থাকুন,
চক্কোতি মশাই।
হাসুন কাশুন,
ভালোবাসুন,
বলবেন না কসাই।
খুব সাবধান,
কাউকে কিন্তু
বলবেন না কসাই।

দশটাকাতে ইলিশ খাবেন?
চাল-চিনি-ডাল অঢেল পাবেন?
যত খুশি
যার যা ইচ্ছে বলুক।
হাবাকান্ড গবাকান্ড
যার যা ইচ্ছে বলুক !
আপাতত
ভেজাল তেল আর পচা আলু
তাই খেয়ে দিন চলুক !

নেই কেরোসিন?
চিনির আকাল?
লোড্ শেডিং-এ
হলেন নাকাল?
কবি নীল সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চক্কোতি মশাইকে কবি নীল সেন (২.১৯২৫ - ৩১.১২.২০০০) ।
১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, কবির “স্বপ্নের সাঁকো পেরিয়ে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
কি করবেন আর, বলুন?
নাকমলা আর কানমলা খান ;
নিদেন পক্ষে
মনের দুঃখে
লোটা কম্বল ধরুন।

বাজার আগুন?
যতই রাগুন
কিম্বা নাকে কাঁদুন ;
ফল কিছু নেই
সার বুঝে সেই
নিজেই সম্ ঝে চলুন।
বুঝলেন তো,
চক্কোতি মশাই !
বোকার হাসি হাসুন,
এবং মাঝে মাঝে
বিষম খেয়ে কাশুন।
কিন্তু ভায়া,
কাউকে যেন
ভুলেও কভু
বলবেন না কসাই।
লোটা-কম্বল
শেষ সম্বল,
মাঝ দরিয়ায় ভাসুন।
চক্কোতি মশাই এখন সাবধানী মানুষ।
দামড়া বেকার ছেলেটা
পকেট হাতিয়ে পয়সা নিয়ে সিগারেট খায় ; জেনেও
বকেন না।
মেয়েটা বেপাড়ার এক বখাটে ছেলের সঙ্গে
প্রেম করছে, জেনেও
না বোঝার ভান করেন ;
গিন্নির মুখঝাম্ টায় একটুও
মুখ বেজার করেন না।
এমন কি বাড়ির ঝিটা পালিয়ে গেলে,
ছুটির দিনে তাঁকে উনুন ধরাতে, মাছ কুটতেও
সাহায্য করেন।

অবশ্য মাসকাবারে
মাইনের টাকাটা তাঁর হাতে তুলে দিতে গিয়ে
কয়েকটা টাকা সরিয়ে রাখেন।
ওই টাকাতে সন্ধ্যেবেলা
একটু নেশা করেন।
না, কোনো মারাত্মক নেশা নয়।
গিন্নি কেন, তাসের আড্ডার বন্ধুরাও
ধরতে পারেন না।
মুখে দুটি এলাচদানা  নিয়ে
ঠিক ন’টায় বাড়ি ফেরেন।
কবি নীল সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চক্কোতি মশাই এখন--- কবি নীল সেন (২.১৯২৫ - ৩১.১২.২০০০)। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত,
কবির “স্বপ্নের সাঁকো পেরিয়ে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
তারপর তাহার প্রাত্যহিক পাওনা
কিছু  নালিশ,  বকুনি,  উপদেশ।
শুনতে শুনতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়েন।
সকালে চায়ের কাপ নামিয়ে রেখেই বাজার,
তারপর মাথায় দু’মগ জল ঢেলে,
দুটি নাকে-মুখে গুজে,
আটটা-কুড়ির লোকাল ধরা।
দশটার মধ্যে ডালহৌসি পৌঁছোনো চাই।
সওদাগরী অফিস, যেমন টাকা দেয়
তেমনি খাটিয়ে নেয়।
তবু বেশ নিরাপদ, শান্ত জীবন।
কোনো ঝুট্-ঝামেলায় থাকেন না।
অনেক দেখে, ঠেকে, শিখে,
এখন সাবধান হয়ে গেছেন
চক্কোতি মশাই।
অনেকক্ষণ বৃষ্টি থেমে গেছে
বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষণ
ফুটো চাল দিয়ে আর জল গড়িয়ে পড়বে না
খোকা কে শুইয়ে দাও।

খোকা কে শুইয়ে দাও
তোমার বুকের ওম থেকে নামিয়ে
ঐ শুকনো যায়গাটায়, শুইয়ে দাও,
গায়ের ঐ কাঁথাটা টেনে দাও
অনেকক্ষণ বৃষ্টি থেমে গেছে।

মেঘের পাশ দিয়ে কেমন সরু চাঁদ উঠেছে
তোমার ভুরুর মতো সরু চাঁদ
তোমার চুলের মতো কালো আকাশে,
বর্ষার ঘোলা জল মাঠ ভাসিয়ে নদীতে মিশে গেছে
কুমোর পাড়ার বাঁশের সাঁকোটা ভেঙে গেছে বোধ হয়
বোধ হয় ভেসে গেছে জলের তোড়ে
অভাবের টানে যেমন আমাদের আনন্দ ভেসে যায়।

নলবনের ধার দিয়ে
পানবরোজের পাশ দিয়ে
গঞ্জের স্টীমারের আলো---
আলো পড়েছে ঘোলা জলে
রামধনুর মতো
কবি রাম বসু ২
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পরান মাঝি হাঁক দিয়েছে
কবি রাম বসু (১১.৯.১৯২৫ - ২০০৭)
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
রামধনুর মতো এই রাত্রিরবেলা।
ধানক্ষেত ভাসিয়ে জল গড়ায় নদীতে
স্টীমারের তলায়
আমাদের অভাবের মতো
ঠিক আমাদের কপালের মতো।
আমাদের পেটে তো ভাত নেই
পড়নের কাপড় নেই
খোকার মুখে দুধও তো নেই এক ফোঁটাও
তবু কেন এই গঞ্জ হাসিতে উছলে ওঠে ?
তবু কেন এই স্টীমার শস্যতে ভরে ওঠে ?
আমাদের অভাবের নদীর উপর দিয়ে
কেন ওরা সব পাঁজরকে গুঁড়িয়ে যায় ?

শোনো,
বাইরে এসো,
বাঁকের মুখে পরাণ মাঝি হাঁক দিয়েছে
শোনো, বাইরে এসো,
ধান বোঝাই নৌকা রাতারাতি পেরিয়ে যায় বুঝি
খোকাকে শুইয়ে দাও।
বিন্দার বৌ শাঁখে ফুঁ দিয়েছে।
এবার আমরা ধান তুলে দিয়ে মুখ বুজিয়ে মরবো না
এবার আমরা প্রাণ তুলে দিয়ে অন্ধকারে কাঁদবো না
এবার আমরা তুলসীতলায় মনকে বেঁধে রাখবো না।
বাঁকের মুখে কে যাও, কে ?
লণ্ঠনটা বাড়িয়ে দাও
লণ্ঠনটা বাড়িয়ে দাও!
আমাদের হাঁকে রূপনারায়ণের স্রোত ফিরে যাক
আমাদের সড়কিতে কেউটে আঁধার ফর্সা হয়ে যাক
আমাদের হৃৎপিণ্ডের তাল দামামার মতো
ঝড়ের চেয়ে তীব্র আমাদের গতি।
শাসনের মুগুর মেরে আর কত কাল চুপ করিয়ে রাখবে ?
এসো,
বাইরে এসো---
আমরা হেরে যাবো না
আমরা মরে যাবো না
আমরা ভেসে যাবো না
নিঃস্বতার সমুদ্রে একটা দ্বীপের মতো আমাদের বিদ্রোহ
আমাদের বিদ্রোহ মৃত্যুর বিভীষিকার বিরুদ্ধে---

এসো, বাইরে এসো
আমার হাত ধরো
পরাণ মাঝি হাঁক দিয়েছে।
একদিন যারা জীবনের আহ্বানে
মুঠো মুঠো বীজ বুনেছে মাটির বুকে
বন্ধ্যা শ্রাবণে রক্তের বান এনে
প্রান্তরময় ছড়ালো প্রাণের কণা,

ভৌতিক রাতে জ্যোত্স্নার মূর্ছায়
দধি-পাণ্ডুর স্বল্প খুশির আলো
আকাশের বুকে কান্নার বরিষায়
তারা ছায়াময় শষ্পের প্রতিহারী।

মমতা-কাতর আনত দৃষ্টিপাত
আহা, মাঠ কবে ছেয়ে যাবে অঙ্কুরে,
আশা নিরাশার দুরন্ত প্রতিঘাত
হৃদয়বেলায় ছুটেছে বল্গাহীন।

তাপসের চোখে সূর্যমুখীর ভাষা
হেমন্ত বুঝি কানে কানে কথা কয়
নিরন্ন ঘরে কল্পাতীতের উষা
কবে টিপ দেবে নিঃসীম চূড়া হতে!

তোমরা কোথায় চেয়ে দেখ টলমল
ধানের পাতায় সূর্যের চিকিমিকি,
খর যৌবনা আলোকেতে ঝলমল
মেলে দিল পাখা শৌখিন প্রজাপতি।
কবি রাম বসু ২
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উত্তরাধিকার
কবি রাম বসু (১১.৯.১৯২৫ - ২০০৭)
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
দু’শ বছরের মাঠে-মাঠে বোনা ধান
হে দধীচি দেখো মেখেছে অঙ্গীকার
সুর রক্ষায় তোমার আত্মদান
ব্যর্থ হয়নি---অসুরের কাল গত।

তোমাদের মাঠে উত্তর অধিকারী
এসেছি আমরা হেমন্তে ভারা সুরে
ঝকমক করে জীবনের তরবারি
এই প্রাণবান ঘুমহারা প্রান্তরে।

ডাইনি বুড়িরা যদিও ছড়ায় ঘুম
আমরা সজাগ তোমাদের পথ ধরি
এখন এসেছে ধান কুড়াবার ধুম
সোনা-ফলা মাঠ আমাদের অধিকার।
যা আগে থেকেই ছেঁড়া
আঠা দাও টিসু করো জুড়বে না।
যা আগে থেকেই ছেঁড়া
তা দিয়ে ঘুড়ি উড়বে না।

যে সঙ তার গায়েই তো রঙ
আঁকাবাঁকা লতা কাটা, পাতা পাতা,
কত রঙ বেরঙ ঢেমনা ঢঙ---
সে বলে আজ পরব জামা।

যেখানে শুধুই ধূ ধূ কাশ
বাতাসে শব্দ তিতির তিতির ;
সেখানেই দেখ কত না ফিকির
তোমার জন্যে  আছোলা বাঁশ।

সবই তো বাঁধা শক্ত গেরোয়
তবুও কেন এত ভয়
ঝুলপো, গুঁফো, দামড়া গোঙায়ঃ
লাগে তাক, না লাগে তুক।

অভদ্রা বর্ষাকাল
হরিণী চাটে বাঘের ঘাল।
হে ভারতী, তোরেই কই
সময গুণে সবই সই॥
কবি চঞ্চলকুমার
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অথ সঙ বিধান কবি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৫ - ৬.২০০৪)। ১৯৮০ সালে
প্রকাশিত কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত, “ব্রাত্য পদাবলী” কাব্য সংকলনের কবিতা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা
আজ জেগেছে এই জনতা
তোমার গুলির তোমার ফাঁসির
তোমার কারাগারের পেষণ
শুধবে তারা ওজনে তা --- এই জনতা॥

তোমার সভায় আমীর যারা
ফাঁসির কাঠে ঝুলবে তারা
তোমার রাজা মহারাজ করজোড়ে মাগবে বিচার
ঠিক জেনো তা --- এই জনতা॥

তারা নতুন প্রাতে প্রাণ পেয়েছে
তারা ক্ষুদিরামের রক্তবীজে প্রাণ পেয়েছে
তারা জালিয়ানের রক্তস্নানে প্রাণ পেয়েছে
তারা গুলির ঘায়ে কলজে ছিঁড়ে প্রাণ পেয়েছে
প্রাণ পেয়েছে এই জনতা॥

নিঃস্ব যারা সর্বহারা, তোমার বিচারে
সেই নিপিড়িত জনগণের পায়ের ধারে
ক্ষমা তোমায় চাইতে হবে নামিয়ে মাথা হে বিধাতা
রক্ত দিয়ে শুধতে হবে নামিয়ে মাথা হে বিধাতা।
ঠিক জেনো তা --- এই জনতা॥
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা কথা ও সুর - সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)।
শিল্পী - সলিল চৌধুরী, সবিতা চৌধুরী, অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, অনল চট্টোপাধ্যায়, প্রবীর মজুমদার গেয়েছিলেন কলকাতা দূরদর্শনের
একটি অনুষ্ঠানে। আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দীদের বিচার নিয়ে লেখা তাঁর প্রথম গণ সংগীত।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Hemanta Mukherjee & His Contemporaries YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ঢেউ উঠেছে কারা টুটছে আলো ফুটছে প্রাণ জাগছে
ঢেউ উঠেছে কারা টুটেছে আলো ফুটেছে প্রাণ জাগছে জাগছে জাগছে
গুরু গুরু গুরু গুরু ডম্বর পিনাকী বেজেছে বেজেছে বেজেছে
মরা বন্দরে আজ জোয়ার জাগানো ঢেউ তরণী ভাসানো ঢেউ উঠেছে।

শোষণের চাকা আর ঘুরবে না ঘুরবে না
চিমনীতে কালো ধোয়া উঠবে না উঠবে না।
বয়লারে চিতা আর জ্বলবে না জ্বলবে না
চাকা ঘুরবে না, চিতা জ্বলবে না, ধোঁয়া উঠবে না
লাখে লাখ করতাল হরতাল হেঁকেছে, হরতাল, হরতাল, হরতাল।
আজ হরতাল, আজ চাকা বন্ধ॥

আর পারবে ভোলাতে মধুমাখা ছুরিতে
জনতাকে পারবে না ভোলাতে।
আর পারবে না দোলাতে মরীচিকা মায়াতে
বিভেদের ছলনায় ছলিতে
মিছিলের গর্জন, দুর্জয় শপথে গরজে ঐ গরজে
আজ হরতাল, আজ চাকা বন্ধ॥
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঢেউ উঠেছে কারা টুটেছে কথা ও সুর - সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। শিল্পী - সলিল চৌধুরী, সবিতা চৌধুরী,
এভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, অনল চট্টোপাধ্যায়, প্রবীর মজুমদার গেয়েছিলেন কলকাতা দূরদর্শনের একটি অনুষ্ঠানে। ১৯৪৬ সালের নৌ বিদ্রোহের
সময় রচিত গান। আমরা পেয়েছি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত দীপা মুখোপাধ্যায় ও সুহাস চৌধুরী সম্পাদিত “সলিল চৌধুরীর গান” সংকলন থেকে।
ভিডিও সৌজন্যে
Hemanta Mukherjee & His Contemporaries YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আসুন! আসুন! কার তাজা মাংস চাই
হাতে যেন থাকে খাঁটি খদ্দরের থলি
ভীষণ সস্তা মাংস নিয়ে যান ভাই
অহিংসার হাড়িকাঠে দিয়েছি এ বলি,
পরম সাত্তিক মাংস গঙ্গাজলে ধোয়া
রামধুন গেয়ে গেয়ে তবে বলি দেওয়া।

সর্বভাষী মাংস পাবে সব দেশী পাঁঠা
পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা
তিনরঙ্গা খাঁড়া দিয়ে সব মাংস কাটা।

যৌবনবিলাসী এসো নেবে ত এখন
গর্ভবতী রমণীর রক্তমাখা ভ্রূণ
বাৎসল্য রসিক যদি থাকো কোন জন
কচি শিশু মাংস পাবে সদ্য করা খুন।

ভয় নেই আমাদের মাংস নিরামিষ
সর্বত্রই ব্রাঞ্চ আছে দিল্লী হেডাপিস।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাংসাশীর জন্য বিজ্ঞাপন
কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময়
লেখা। আমরা পেয়েছি ১৯৮৩ সালে মৌসুমী সরকার দ্বারা প্রকাশিত, কবির
“সলিল চৌধুরীর কবিতা” সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
পথে এবার নামো সাথী
.        পথেই হবে এ পথ চেনা
জনস্রোতের নানা মতে
.        মনোরথের ঠিকানা
.        হবে চেনা হবে জানা।

অনেক তো দিন গেল বৃথা এ সংশয়ে
.        এসো এবার দ্বিধার বাধা পার হ’য়ে
.        তোমার আমার সবার স্বপন
.        মেলাই প্রাণের মোহনায়
.        কিসের মানা
.        হবে চেনা হবে জানা।

তখন এ গান তুলে তুফান
.        নবীন প্রাণের প্লাবন আনে দিকে দিকে,
.        কিসের বাধা বিপদ বরণ মরণ-হরণ
.        চরণ ফেলে সে যায় হেঁকে।

তখন তো আর শোষণ বাঁধন মানবো না
সবার এ দেশ সবার ছাড়া তো জানবো না
.        পরোয়া নেই আকাশ বাতাস
.        হবেই আশার পরোয়ানা
.        কিসের মানা
.        হবে চেনা হবে জানা॥
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পথে এবার নামো সাথী কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। আমরা পেয়েছি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত দীপা
মুখোপাধ্যায় ও সুহাস চৌধুরী সম্পাদিত “সলিল চৌধুরীর গান” সংকলন থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
পাষাণী অহল্যা ওগো যত রাজপথ
কান পেতে কি আমার আগমনী শোন!
আমিও তো কান পাতি
আঘাত বিদীর্ণ সিক্ত শত ক্ষতমুখে
কোথায় সমুদ্রে গর্জে তরঙ্গে উত্তাল
কোথায় কোরিয়া আর অন্ধ্র কাকদ্বীপ
রক্তে আঁকা মানচিত্র নব পৃথিবীর,
পায়ে পায়ে সেই পথে চলি
আমার এ অঙ্গরাগ
মিছিলের পায়ে ওড়া ধূলি
আমার এ কর্মকার মন
ক্রমাগত শ্বাস টেনে হাপরের মতো
জ্বেলে রাখে চেতনা আগুন
হৃদয় পিণ্ডের ঘায়
তপ্তলাল ইস্পাতের শপথ শানায় ;
তবু ওগো অহল্যা আমার
কোথায় বসাব বলো তুমি ফিরে এলে
আমার কুটিরে আর জ্বলে নাতো আলো
ভাঙা ছাদ টলোমলো বৃষ্টি এসে পড়ে
স্তূপাকার ভগ্ন আশা আবর্জনা রাশি
পরগাছা সরীসৃপ ভয়ালো কুটিল
বাসা বেঁধে আছে যেখা এক দিন ছিল
প্রিয়ার চোখের মায়া শিশুদের হাসি।
অহল্যা আমার শোন!
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শপথ  কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। ১৯৪৮ সালের তেভাগা আন্দোলনের সময় লেখা। আমরা পেয়েছি ১৯৮৩ সালে মৌসুমী সরকার দ্বারা প্রকাশিত, কবির “সলিল চৌধুরীর কবিতা”
সংকলন থেকে। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sayeed Nasim YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আমারও তো শান্তি নেই
আমার বুকের দুর্গে করে আক্রমণ
ফ্যাসিস্ত দস্যুর মতো যক্ষ্মাবীজ এসে
তবু আমি প্রাণপণে টেনে যাই শ্বাস
আমার বিশ্বাস জানি রক্তকণিকারা
লাল ফৌজের মতো দুর্জয় সুনিশ্চিত
আবার দখল নিয়ে দেবে প্রত্যাঘাত
অমর স্তালিনগ্রাদ
আবার আমারই বুকে
ফিরে পাব আমি।

মিছিলে মিলেছি কেননা বুকের
কলজের সাথে হাড় পাঁজরেরা
মিছিলে গিয়েছে কবে একদিন
.        জীবনের সন্ধানে
কেননা আমার শান্তির নীড়
হাসি আর গান ভালোবাসা দিয়ে
গড়তে চেয়েছি কর্মমুখর জীবনের মাঝখানে।
মিছিলে মিলেছি কেননা আমরা
স্তন্য না পেয়ে মায়েদের কোলে
বোবা শিশুদের আর্তনাদের
বাঙময় ভাষা শুনেছি।
কেননা আমরা ফিরে পেরে চাই
আমাদের যত হৃত যৌবন
স্বপ্নকে নিয়ে চোলাই যন্ত্রে
.        মদ্যের বিলাসিতা
কেননা দেশের যত ঘর বাড়ি
কলকারখানা ধানের খামার
মাঠ ঘাট পথ ফিরে পেতে চায়
.        তাদের জন্মদাতা
কালপুরুষের হাত থেকে তাই
.        জিজ্ঞাসা ছিঁড়ে এনে
প্রত্যেক মুখে জবাব লিখেছি
.        ঘোষণার অক্ষরে
এ দেশ আমার
আমাদের মাটি
এ দেশে যেখানে
যতকিছু খাঁটি
আমাদের কলকারখানা আর
আমাদের নদী খনি ও পাহাড়
আমাদেরই ভরা সোনার খামার
আমাদের ভাই আমাদের বোন
আমরাই যারা খাঁটি
আমাদের বুকে গড়েছি এবার
শেষ যুদ্ধের ঘাঁটি।
এ দেশের প্রতি মায়ের চক্ষে
.        আমারই বেদনা ঝরে
এ দেশের প্রতি শিশুর বক্ষে
.        আমারই স্বপ্ন মরে
আমারই রক্ত ঝরে কাকম্বীপে
.        ডোঙাজোড়া মালদহে
ভরদ্বাজের হৃদয় পিণ্ডে
.        আমারই ধমনি বহে
তাই দেশে দেশে যত প্রতিরোধ
তারি মাঝে তুলি রক্তের শোধ
নানকিং আর প্যারির যুদ্ধে
.        আমরাই সাথে আছি
কাকদ্বীপে মরে আমরা আবার
.        তেলেঙ্গানায় বাঁচি।
হেই সামালো, হেই সামালো
হেই সামালো ধান হো
কাস্তেটা দাও শান গো
জান কবুল আর মান কবুল
আর দেবো না আর দেবো না
রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো

চিনি তোমায় চিনি গো
জানি তোমায় জানি গো
সাদা হাতির কালো মাহুত (তুমিই না)

পঞ্চাশ লাখ প্রাণ দিচ্ছি
মা-বোনেদের মান দিচ্ছি
কালো বাজার কালো কর (তুমিই না)

(মোরা) তুলবো না ধান পরের গোলায়
মরবো না আর ক্ষুধার জ্বালায় মরবো না।
তার জমি যে লাঙল চালায়
ঢের সয়েছি আর তো মোরা সইবো না
লাঙল ধরা কড়া হাতের শপথ ভুলো না॥
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
হেই সামালো হেই সামালো  কথা ও সুর - কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)।
শিল্পী - ভারতীয় গণনাট্য সংঘ, সলিল চৌধুরী ও গীতা মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৬ সালে কাকদ্বীপে তেভাগা আন্দোলনের
পটভূমিতে রচিত গান। প্রথম প্রকাশ - ১৯৪৮। ভিডিওটি সৌজন্যে
Hemanta Mukherjee & His Contemporaries
YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ও মোদের দেশবাসীরে---

আয়রে পরাণ ভাই আয়রে রহিম ভাই
কালো নদী কে হবি পার।
এই দেশের মাঝেরে পিশাচ আনেরে
কালো বিভেদের বান,
সেই বানে ভাসেরে মোদের দেশের মান।
এই ফারাক নদীরে বাঁধবি যদিরে
ধর গাঁইতি আর হাতিয়ার
হেঁইয়া হেঁই হেঁইয়া মার, জোয়ান বাঁধ সেতু এবার।
এই নদী তোমার আমার খুনেরি দরিয়া
এই নদী আছে মোদের আঁখিজলে ভরিয়া
এই নদী বহে মোদের বুকের পাঁজর খুঁড়িয়া
(মোরা) বাহ বাড়াই দুই পারেতে দুজনাতে থাকিয়া
(ওরে) এই নদীর পাকে পাকে কুমীর লুকায়ে থাকে
ভাঙে সুখের ঘর ভাঙে খামার,
হেঁইয়া হেঁই হেঁইয়া মার, জোয়ান বাঁধ সেতু এবার।
বুকেতে বুকেতে সেতু অন্তরের মায়া ঘিরে বাঁধিরে
কুটিলের বাধা যত ঘৃণার নিষ্ঠুরাঘাতে ভাঙ্গিরে
সাম্যের স্বদেশ ভূমি গড়ার শপথ নিয়ে বাঁধিরে
হেঁইয়া হেঁই মারো, জোর বাঁধি সেতু বাঁধিরে

বাঁধি সেতু বাঁধিরে।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও মোদের দেশবাসীরে কথা ও সুরঃ কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। দেশভাগের দাঙ্গার সময়
লেখা গান। আমরা পেয়েছি ১৯৮৩ সালে মৌসুমী সরকার দ্বারা প্রকাশিত, কবির “সলিল চৌধুরীর কবিতা” সংকলন থেকে।
সলিল চৌধুরী, সবিতা চৌধুরী ও সমবেত কণ্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Gaaner Dali YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আয়রে ও আয়রে
ভাইরে ও ভাইরে
ভাইবন্ধু চলো যাই রে
ও রাম রহিমের বাছা
ও বাঁচা আপন বাঁচা
চলো ধান কাটি, আর কাকে ডরি
নিজ খামার নিজে ভরি কাস্তেটা শানাই রে।

চাষী হবে জমির মালিক স্বরাজ হলে শুনি
এখন মালিক যত ঘুঘু শালিক, পেশাদারী খুনি
আর নেতা বড় বড়, সব বক্তৃতাতে দড়
এখন নিজহাতে ভাগ্য গড়ার এসেছে সময় রে।

লাল বাঁদরের পোষা হাতির অত্যাচারে কত
ভেঙেছে ঘর মরেছে ভাই মা বোন লক্ষ শত
এ কমলাপুর বড়া, আর কাকদ্বীপ ডোঙ্গাজোড়া
এসেছে ডাক চল না সবাই সোনা তুলি ঘরে।

ও গাঁয়ের যত জোয়ান মরদ লাঠি নিও হাতে
ঐ খুনে রাঙা ঝাণ্ডা যেন থাকে সবার সাথে
আর দুষমন যদি আসে, যেন চোখের জলে ভাসে
যেন লুটে খাবার ক্ষুধা তাহার মেটে একেবারে।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আয়রে ও আয়রে কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। এই গানটির হেমন্তের কণ্ঠে
থাকলেও সেটি মূল গান নয়। গানটি রেক্ড করার আগে কথা বদল করতে হয়। আমরা মূল গানটি পেয়েছি
১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ও গাঁয়ের যত মা বোন আছ, তোমরা থেক ঘরে
ঐ আঁশবটি আর কাটারিটা রেখো হাতে করে
যেন দালাল বেইমান যত, পায় শিক্ষা উচিৎ মতো
এই বাংলা দেশের মা বোন কত শক্তি হাতে ধরে।
ও ভাইরে ভাই
.        মোর মতন আর দেশপ্রেমিক নাই।
শোনো, বিষুদবারের বারবেলাতে
.        জন্মেছিলাম আমি, ( রে ভাই ) . . .
আর, বলবো কি ভাই
.        ঠিক তখনি সূয্যি গেল থামি
.                                আকাশে . . .
.        আর ডজন খানেক ব্যাঙ
.        ও ভাই ডাকলো গ্যাঙর গ্যাং
.        শুনে, বললে সবাই স্রর্গ থেকে
.                এসেছেন নিমাই!
.        মোর মতন আর দেশপ্রেমিক নাই॥

আমার, দেখতে বটে শরীরখানা
.        ভুঁড়ি জ্বালার মতো, ( রে ভাই ) . . .
কিন্তু দেশের কথা ভেবে ভেবে অন্তরেতে ক্ষত
.                                কত যে---
আমার রাত্তিরে ঘুম নাই
.        ওঠে ঘন ঘন হাই
আর, রাবড়ি মালাই খেতে গিয়ে
.        বড্ড বিষম খাই!
মোর মতন আর দেশপ্রেমিক নাই।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মোর মতন আর দেশপ্রেমিক নাই কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। আমরা পেয়েছি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত দীপা
মুখোপাধ্যায় ও সুহাস চৌধুরী সম্পাদিত “সলিল চৌধুরীর গান” সংকলন থেকে। শিল্পী পঙ্কজ মিত্রর কণ্ঠে গানটি শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Surer Bhuban
YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
.        আমি খাইনি বটে গুলি গোলা
.                যাইনি বটে জেলে, ( রে ভাই ) . . .
ও ভাই কিন্তু সেটা এই ভেবে যে আমি মারা গেলে
.                                কি হবে ?  . . .
দেশে রইবে কে বা আর,
.        কে করবে দেশোদ্ধার ?
তাই মরতে আমি বলি সদাই
.                        নিজে মরি নাই!
মোর মতন আর দেশপ্রেমিক নাই॥
শোনো, দেশপ্রেমিক না হলে ভাই
.        পত্রিকাতে কেন ( রে ভাই ) . . .
ওই, প্রথম পাতায় ছবি আমার প্রত্যহ ছাপানো
থাকে রে . . .
.        আমি কি দিয়ে ভাত খাই
.        আর কোথায় কোথায় যাই
ওরা ছাপে, আমার পাঁচড়া হলে কি মলম লাগাই।
সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর হে বিধাতা, তোমায় নমস্কার ।
সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর হে বিধাতা, তোমায় নমস্কার।
মুজিবর এই নামের পতাকা, মুজিবর এই নামের পতাকা,
উড়াইলাম এবার, তোমায় নমস্কার।
সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর হে বিধাতা, তোমায় নমস্কার॥


তোমার কণ্ঠে চাষী মজুর পাইলো যে তার ভাষা।
তোমার কণ্ঠে চাষী মজুর পাইলো যে তার ভাষা।
তোমার ভাষায় বাঙ্গালী জাত পাইলো নতুন আশা।
তুমি রাম তুমি রহিম,, তুমি রাম তুমি রহিম
করলা একাকার।
তোমায় নমস্কার।
সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর হে বিধাতা, তোমায় নমস্কার॥

নিজভূমে পরবাসী হইয়া রইছি কত দিন।
বুকের খুনে সুরজ রে আজ করছে গরম দিন।
নিজভূমে পরবাসী হইয়া রইছি কত দিন।

তুমি কত না যে অইত্যাচার সইলা মোদের তরে,
মুজিবর…….
তুমি কত না যে অইত্যাচার সইলা মোদের তরে।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির  কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। সুর - কানু ঘোষ। শিল্পী মান্না দের কণ্ঠে
গানটি শুনুন ভিডিওতে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালে, সলিল চৌধুরীর রচিত গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
SEVENTH
WONDERLAND YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
এবার মুক্ত করছি বাঙ্গলা,
এবার মুক্ত করছি বাঙ্গলা, আসন তোমার তরে
বুকে বুকে বাঁধসি গো মোরা,
বুকে বুকে বাঁধসি গো মোরা, লও হে তুলে ভার।
তোমায় নমস্কার॥

সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর হে বিধাতা, তোমায় নমস্কার।
মুজিবর এই নামের পতাকা, উড়াইলাম এবার,
তোমায় নমস্কার।
তোমায় নমস্কার।
তোমায় নমস্কার॥
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই
শুধু শক্ত কইরা মনটা বাইন্ধা সঙ্গে লইয়া যাই
বুঝি আর তো কিছুই নাই
শুধু শক্ত কইরা মনটা বাইন্ধা সঙ্গে লইয়া যাই
বুঝি আর তো কিছুই নাই
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই

ছিল পদ্মাপারে আমার ঘরে এক সোনা বৌ
আমিনা তার নাম
ছিল পদ্মাপারে আমার ঘরে এক সোনা বৌ
আমিনা তার নাম
ওই খানসেনাদের কবলেতে জানি না হায়
কি যে পরিণাম
কেউ বলেছে এসে বিষ খাইয়া সে শ্যাষে
কেউ বলেছে এসে বিষ খাইয়া সে শ্যাষে
মান-ইজ্জতের বদলে সে দিয়া গেছে
প্রাণের ধরা দাম
হায় জানি না, হায় জানি না
শূন্য ঘরে কেমন কৈরে
দিন রজনী থাকবো আবার
ভাবছি শুধুই তাই
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। সুর - কানু ঘোষ। শিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গানটি শুনুন
ভিডিওতে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালে, সলিল চৌধুরীর রচিত গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
SEVENTH WONDERLAND YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
ওরে হায়রে দেশের হাজার হাজার সোনা মানিক
দিয়েছে যে প্রাণ
হায়রে দেশের হাজার হাজার সোনা মানিক
দিয়েছে যে প্রাণ
হায় একটু শুধু বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে
থাকার প্রতিদান
লক্ষ ছেলে মেয়ে মুক্তি সেনা হয়ে
লক্ষ ছেলে মেয়ে মুক্তি সেনা হয়ে
ভারতবাসীর কাঁধে কাঁধে মিলে দমন করে
ইয়াহইয়া খান
হায় ভুলো না আর ভুলো না
দেশের শহীদ মানিক সোনা
যে লক্ষ প্রাণের মূল্যে স্বাধীন হইলাম রে আজ ভাই
লক্ষ প্রাণের মূল্যে স্বাধীন হইলাম রে আজ ভাই
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই
ও ভাইরে ভাই ভাই চল ঘরে ফিরে যাই
চল ঘরে ফিরে যাই
ঘরে ফিরে যাই
চল ঘরে ফিরে যাই
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা

কত অসন কত বসন
কত রঙীন ভাষায় ভাষণ
কত অসন কত বসন
কত রঙীন ভাষায় ভাষণ
তবু আসন একই সবার
তোমার চরণ তলে গো মা
তবু আসন একই সবার
তোমার চরণ তলে গো মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। সুর - কানু ঘোষ। শিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালে, সলিল চৌধুরীর রচিত গান। গানটি আকাশবাণী কলকাতা থেকে রম্যগীতি হিসেবে প্রচারিত হয়। ঠিক হয়েছিল গানদুটি একটি স্ট্যান্ডার্ড
রেকর্ডে প্রকাশিত হবে, কিন্তু কোনো কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে এগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি ছায়াছবি ‘রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২)-তে ব্যবহৃত হয়।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Manna Dey - Topic YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ

নানান ধরম নানান ভরম
আলাদা হোক একই করম
একই সাধনা
নানান ধরম নানান ভরম
আলাদা হোক একই করম
একই সাধনা
হিমালয়ের শীর্ষ যেমন
এদেশ উঁচু রবে তেমন
হিমালয়ের শীর্ষ যেমন
এদেশ উঁচু রবে তেমন
সাধের সাধন স্বাধীনতা
সামনে সফল হবেই তোমার
সাধের সাধন স্বাধীনতা
সামনে সফল হবেই তোমার
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
কত না যুগ ধরি ধরি
ফিরে গেল শীতল পরি
কত না যুগ ধরি ধরি
ফিরে গেল শীতল পরি
তা কি জানি না
কত না যুগ ধরি ধরি
ফিরে গেল শীতল পরি
তা কি জানি না
তোমার লাখো লাখো ছেলে
চিরজীবন অবহেলে
তোমার লাখো লাখো ছেলে
চিরজীবন অবহেলে
তারা রক্ত ফেলি জন্মভূমির
পূণ্যভূমি করেছে মা
রক্ত ফেলি জন্মভূমির
পূণ্যভূমি করেছে মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
তা কি জানি না
কত না যুগ ধরি ধরি
ফিরে গেল শীতল পরি
তা কি জানি না
তোমার লাখো লাখো ছেলে
চিরজীবন অবহেলে
তোমার লাখো লাখো ছেলে
চিরজীবন অবহেলে
তারা রক্ত ফেলি জন্মভূমির
পূণ্যভূমি করেছে মা
রক্ত ফেলি জন্মভূমির
পূণ্যভূমি করেছে মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
এই মাটিতে জন্মেছি মা
জীবন মরণ তোমার চরণ
তোমার চরণধূলি দাও মা
এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ
ফিরে আয়, ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
বাছা আমার, সোনা আমার।
ফিরে আয়, ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়।
বাছা আমার, সোনা আমার।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার॥

জেনো যে তোমারই মত
যুগ যুগ ধরে কত না, কত না শত
মানুষ মুক্তি চেয়ে
দিয়ে গেছে প্রাণ, গান গেয়ে গেয়ে।
জেনো যে তোমারই মত
যুগ যুগ ধরে কত না, কত না শত
মানুষ মুক্তি চেয়ে
দিয়ে গেছে প্রাণ, গান গেয়ে গেয়ে।
কবি সলিল চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফিরে আয় ফিরে আয় কবি সলিল চৌধুরী (১১.১১.১৯২৫ - ৫.৯.১৯৯৫)। সুর - কানু ঘোষ। শিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালে, সলিল চৌধুরীর
রচিত গান। গানটি আকাশবাণী কলকাতা থেকে রম্যগীতি হিসেবে প্রচারিত হয়। ঠিক হয়েছিল গানদুটি একটি স্ট্যান্ডার্ড রেকর্ডে প্রকাশিত হবে, কিন্তু কোনো কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে এগুলি বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি ছায়াছবি ‘রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২)-তে ব্যবহৃত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
mh music archive - Indian, Legend YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
দুনিয়ায়… দুনিয়ায় শোষিত যত
তারা আপন হলো তোমার।
দুনিয়ায়… দুনিয়ায় শোষিত যত
তারা আপন হলো তোমার।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
দুনিয়ায়… দুনিয়ায় শোষিত যত
তারা আপন হলো তোমার।
দুনিয়ায়… দুনিয়ায় শোষিত যত
তারা আপন হলো তোমার।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
ফিরে আয়, ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
বাছা আমার, সোনা আমার॥

হ'ল না তোমারই খুনের
বীজ বুনে বুনে গেছো মাটিতে মাটিতে ----
ফসল তোলার দিনে
আর যেন কেউ পারে না কাড়িতে।
হ'ল না তোমারই খুনের
বীজ বুনে বুনে গেছো মাটিতে মাটিতে ----
ফসল তোলার দিনে
আর যেন কেউ পারে না কাড়িতে।

জীবন-মরণ যাহার শরণ,
বাংলা মায়ের কসম তোমার।
জীবন-মরণ যাহার শরণ,
বাংলা মায়ের কসম তোমার।
কেঁদো না, কেঁদো না, যতই বেদনা
সয়েছো বয়েছো, সে তো সাধনা।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
ফিরে আয়, ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
বাছা আমার, সোনা আমার।
এ শ্যামল শ্যামল মাটিতে নূতন
ভুবন গড়ে তোলো আবার।
ফিরে আয়, ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
বাছা আমার, সোনা আমার॥
ও আমার এই বাংলা ভাষা
এ আমার দুখ ভুলানো বুক জুড়ানো
লক্ষ মনের লক্ষ আশা।

এই ভাষাতেই স্বপ্ন দেখি,
এই ভাষাতেই লিখন লিখি
এই ভাষাতেই মাকে ডাকি
জানাই প্রাণের ভালবাসা।

এই ভাষাতেই দোয়েল কোয়েল
সবুজ বনের পাখি,
হাজার কথার কাকলীতে
নিত্য উঠে ডাকি।

এই ভাষাতেই মায়ের মুখে,
রূপকথা গান শুনি সুখে,
এই ভাষাতেই শিল্পী কবি
সবার কাঁদা সবার হাসা।
কবি আবদুল লতিফ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও আমার এই বাংলা ভাষা
কথা ও সুর - কবি আবদুল লতিফ (১৯২৫ - ২০০৫)। ১৯৫৩ সালে ভাষা-আন্দোলনের
গান লিখে বাংলাদেশের বিখ্যাত হয়েছিলেন। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.