প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভেজাল জিনিসে বাজার ভর্তি
খাঁটিটুকু মেলা দায়!
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
ভাগাড় কান্ড ভুলে গেলো লোকে
বিশুরা জামিন পায় ,
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
সমাজবিরোধী দিচ্ছে হুমকি
তাতে কার কিবা এসে যায় ,
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
উন্নয়ন এর ঠেলায় হচ্ছে
রাজকোষ নয়ছয়,
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
সাত দশকেও ওঠেনা দলিত
সংরক্ষণ এর জয় !
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
স্বাধীনতা? বিদঘুটে ছড়াবাজ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। রচনা - ১৫ অগাস্ট ২০১৮।
সোস্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অত্যাচারিত মা বোনেরা
কেউ সে কথা না কয় ,
তবে কি আমরা এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
অন্যায় দেখে প্রতিবাদী হতে
লাগে যে বড্ডো ভয়
তবে কি আমরা এখন গোলাম
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
কত বলিদান কত দেশপ্রেম
বৃথা হলো কি তায়?
মনে হয় মোরা এখনো গোলাম
মোরা তো স্বাধীন নয় !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাতাল বলে সবাই মোদের
কু নজরে দেখেছে,
ভদ্রলোকে নাক সিঁটকে
ব্রাত্য করে রখেছে।
যে যেমন পেরেছে রোজ
দিয়ে গেছে ব্যথা,
কেউ ভাবেনি কোনোদিনই
আমাদের কথা।
তুমিই কেবল বুঝেছ গো
আমরা কী চাই,
গ্রামে গ্রামে মোদের লাগি
খুলছো দোকান তাই।
মদ খাও সব ভুলে যাও
কী সুন্দর যুক্তি!
বুকের পাষাণ নামিয়ে তুমি
দিলে মোদের মুক্তি।
চুপি চুপি আর খাবো না
এবার খাব নেচে,
প্রয়োজনে খোকার মায়ের
গয়না শাড়ি বেচে।
তুমি আছ সঙ্গে মোদের
খুশির সীমা নাই,
পরের পূজোয় আমরা কিন্তু
মদ্যশ্রী চাই।
মদ্যশ্রী চাই কবি বিষ্ণুপদ বিশ্বাস (জন্মকাল অজ্ঞাত)
। মিলনসাগরের দেয়ালিকার কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুকুমার রায়েক কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে . . .
মন্ত্রী দেখি পাচার করে বন্তা ভরে টাকা
করেন চুরি ব্যালট পেপার সব কাজেতে পাকা
হুক্কা হুয়া চেঁচায় শুধু শুনছে গ্রামের লোক,
দুঃখের সময় পায় যে হাসি, আনন্দে পায় শোক,
এ-সব দেখে তবলা বাজাই বলুক পাকা বেড়ে
দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দেড়ে দেড়ে দেড়ে।
মেসোর গোঁফ লাগিয়ে মাসি সেজেছে আজ সঙ,
মেসো চুড়ি শাড়ি পরেছে লাগছে জবর জঙ।
করুক না সে রূপের বদল করুক যত রঙ্গ
বদলে দিতে পারবে কি সে? বিশাল সোনার বঙ্গ,
আমরা যে দিন খেপে যাব গাইব হারে রে-রে-রে-রে-
দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দেড়ে, দোড়ে, দেড়ে।
ভাবছে সবাই মূর্খ এরা বলছে চুপি চুপি
সেই সুযোগে পরায় নেতা বুদ্ধি করে টুপি,
টুপির তলায় লেনদেন সব পাল্টে যাবে রঙ
দিনের বেলায় "গান্ধী” “সুভাষ” রাত্রে “মাও জে দঙ",
গান শোনাব সবাই কে আজ মুরগী গুলো ছেড়ে
দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দেড়ে, দেড়ে, দেড়ে।
দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম কবি বকুল বৈরাগী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে
লেখা কবিতা।
জঙ্গী বেশে বর্গী হানা হচ্ছে যখন দেশে
নেতা তখন দিচ্ছে ভাষণ নতুন নতুন বেশে,
রাজনীতির ফুলঝুরিতে ভরে সবার মন
ভাবছে নেতা বড়ই বোকা দেশের জনগণ,
দড়ি বেঁধে গান শোনাব যাব না কেউ তেড়ে
দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম,দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম, দেড়ে, দেড়ে, দেড়ে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সত্যি কথা শুনে তোমার, খুব হয়েছে গোঁসা?
ব্যর্থতার সাক্ষী তোমার, ছোট একটা মশা!
সত্যি কথায়, আতঙ্কিত, খুব পেয়েছে ভয়!
সত্যিটা কে চাপা দিতে, আর কি করা যায়??
যতই ডাকো অজানা জ্বর, জানতে নেইকো বাকি!
জ্বরের ঘোরে মরছে মানুষ, কত দেবে ফাঁকি?
মশার কাছে নাকাল হয়ে, ডাক্তার কে কোপ!
রাজনীতিটা বুঝিনা তো, আমরা বুঝি রোগ!
ডেঙ্গু সে তো ভীষণ জানা, 'অজানা' কে বল্লে?
চিকিৎসাটাই উঠে যাবে, তোমার কথায় চল্লে!
ডেঙ্গু কে ডেঙ্গু বলায়, সাসপেন্ড ডাক্তারবাবু!
মিথ্যে তোমার চোখ রাঙানো, হচ্ছে না কেউ কাবু!
ডেঙ্গু, নাকি ডেঙ্গু নয়, তা চিকিৎসাশাস্ত্র বলবে,
ডাক্তারী টা খেলনা নাকি? তোমার কথায় চলবে??
কতজন কে শাস্তি দেবে? রাজ্য হবে অচল!
ডেঙ্গু কারোর "অজানা" নয়, সবাই অরুণাচল!
সত্যি কথা শুনে তোমার, খুব হয়েছে গোঁসা
কবি ডঃ অরুণিমা বিশ্বাস (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা
কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অপদার্থতা ঢাকতে করেছ ফতোয়া জারি
আমি ডাক্তার, তাই সত্য কি চাপতে পারি?
নির্বোধ আস্ফোলনে, আমাকে সরিয়েছ তুমি
তোমার অকর্মণ্যতায় রাজ্য আজ ডেঙ্গির জন্মভূমি।
অপদার্থতা ঢাকতে করেছ ফতোয়া জারি
কবি সৌমেন্দু সাউ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কবিতায় কশাঘাত ডেঙ্গি লুকানো
অপদার্থদের। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল
দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমার জন্যে আমরা হন্যে হয়ে খুঁজি
একখানি যান, যার চালে নেই কারসাজি!
যাহার টায়ারে মায়ার বাহারে 'সততা' ছুট-
করেনি শহরে কাহারও প্রেমের শব্দ লুঠ!
মজা আর গানে চেয়ে দূরপানে ছুটবে যান-
তদ্দিনে তার বুদ্ধি'র গোড়া মহাশ্মশান!!
তোমার জন্যে আমরা হন্যে হয়ে খুঁজি
কবি প্রদীপ কুমার সাহা (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘুরছে সূর্য আকাশে দেখো
হাতে হাত ধরে মুখচেপে রাখো,
সমাধান সব একদিকে রেখে পৃথিবী আজকে স্থির,
থামিয়ে সময় রুদ্ধ দুয়ার অচলায়তন নীড়।
খণার বচনে এসেছে আজকে পরিবর্তনের পাল!
নিজের তরে লুকিয়ে গেলে ধরবে কে তার হাল?
অলোকসজ্জা ফোয়ারা চলে নড়কের সব কীট,
বগাড়ম্বর বাড়ছে,কমছে শয্যাশায়ীর সীট।
বলতে গিয়ে ভুল করোনা আসবে হাজার তীর,
বাতুল হয়ে ফিরবে শেষে অন্ধ লিও বীর।
আজকে যারা অমোঘ শীর্ষে কালকে মাথানত,
থার্মপলীতে উঠছে প্রাচীর, রসদ মনুষ্যত্বের ক্ষত।
অরুণাচলে লিওনাইডাস, খায় রঙবেরঙের গুঁতো--
চেষ্টা করে গড়তে মালা, হাতে মানবপ্রেমের সুতো।
গোপন নক্সা ফাঁস করে কেউ, বুদ্ধিমানের কাজ?
ঠেকাও দেখি বুকের জোরে হার্মাদেদের রাজ!
মেঘ উঠবে শহড় জুড়ে বৃষ্টি নামার ঢল্
ভিজবে তুমি, ভিজব আমি, আসমুদ্র হিমাচল॥
নিবেদন
কবি সুশোভন সেন (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা
কবি ডঃ অরুণাচল দত্তচৌধুরীর হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেতু ভেঙে গেছে, আরও ভেঙে যাক, তোমার-আমার কী!
আমি তো সময়ে দুই হাত পেতে কমিশন নিয়েছি।
সেতু ভেঙে গেছে, আরও ভেঙে যাক, ফের টেণ্ডার দেব
প্রিয় বন্ধুকে বরাত পাইয়ে কমিশন বুঝে নেব...
মানুষ মরেছে, মানুষ মরুক, আবার তো জন্মাবে
আঠারো পেরোলে আমার লোকেরা পুনরায় ভোট পাবে।
সুতরাং জেনো, চিন্তার আর কোনও কিছু বাকি নেই
ইভিএম ভরে উপচাবে ভোট বুথে গিয়ে দাঁড়ালেই!
যারা মারা গেছে, তারা চলে যাক, জীবিতরা ভোট দিও
আমিই দেবতা, ঈশ্বর আমি চরণামৃত নিও...
জনগণ বোঝে --- এ সময়কালে তাদের রক্ত --- জল
এটাও জেনেছে আমার রক্ত বিদেশী অ্যালকোহল।
সেতু ভাঙে, সেতু গড়ে
কবি রেহান কৌশিক (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পোস্তার উড়াল পুল ধ্বসে ২৭ জন মানুষের মৃত্যুর পরে লেখা।
জনগণ কাঁদে জনগণ হাসে, কী যায় আসে আমার?
আমি ও ক্ষমতা, ক্ষমতা ও আমি মিলেমিশে একাকার...
হাঁক-ডাক সার এত মিডিয়ার, মূর্খ তো জনগণ
এভাবেই চলে দেশ ও দুনিয়া, রাজ্যের সুশাসন!
একটু পরেই চ্যানেল ভাসাব কুমিরের কান্নায়
শোক আসে আর শোক নিভে যায় শহর কলকাতাট!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাস্তায় পড়ে। ধুপ হি ধুপ। ছাদ নেই মাথায়।
রাস্তায় পড়ে। কামা-ধান্ধা নেই। কামাই নেই।
রাস্তায় পড়ে। শেল্টার বলে যো ভি
দিলেন, জানোয়ারের নাতজামাইরা আগ লাগিয়ে
রাখ বানিয়ে গেছে।
রাস্তায়। ভিক্ষের খিচুড়ি যেদিন কেউ দিল, মহাপ্রাণ
থোড়া দেড় শান্ত। তারপরই ভুখ।
ভুখ কা চীজ আপকো মালুম নেহি। খেতে পাননি এমন
দিন আপনার জিন্দেগীতে আসেনি।
এখানে আমার এইরকম হাল। দেশগাঁয়ে, বিহার ইউপি
উড়িষ্যা বাঙ্গাল, গাঁও-গাঁওমে বাপমা
বউবাচ্চা একইরকম ভুখ নিয়ে পড়ে। হাদ হয়ে গেল।
হিন্দুস্তান কী সার্কাস বোলা যায়।
রাস্তায় পড়ে কবি ব্রতী মুখোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পরিযায়ী শ্রমিকের চরম দুর্দশার বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৫.৪.২০২০।
একা নই। হাজার। হাজার হাজার। গিনতি করুন, মালুম
হবে।
বান্দ্রা রেল স্টেশন। সাবনে বোলে চালো। গেলম। তখন
আপ পুলিশ ভেজিয়ে দিলেন।
তাগড়া তাগড়া লাঠি নিয়ে দৌড়কে আয়ী পুলিশ। হায়
রাম, বেধড়ক পিটল। বলল আমি হিন্দুস্তান কী দুষমন।
বলল আমি দেশদ্রোহী।
আব তো আমার হাত টুটা, পায়ের ভি টুটা। হিলনা-
দুলনা বান্ধ।
ফির দেখো টিভি টিভিমে শুয়ার কা বাচ্চোঁ চিল্লা রাহে
আমি বুদ্ধু আছি, উজবুক আছি, কারোনা ভাইরাস পুরা
ইন্ডিয়ামে ইস্প্রেড করে দুবো...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অমুক নেতা নাচেন ভালো
ফোলান ভালো বাইসেপ
আর এক নেতা ফরসা এমন
ভোটের বাজার তাই সেফ
রাজনীতি কি সহজ কথা?
এমপি হবেন বার্বি
তোদের মাথায় খুশকি, তোরা
দেশ চালাতে পারবি?
সব নেতা বা নেতার পিসি
কিংবা নেতার ভাগনে
সবার চামড়া চকচকে, দ্যাখ
কোথাও কোনও দাগ নেই
মুখ যেন হয় লাভলি নেতার
লুক যেন চোখ ঝলসায়
তফাত যেন কেউ না বোঝে
লোকসভা - স্টার জলসায়
ভোট : ২০১৯
কবি মুক্তিপ্রসাদ রায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। বিশেষ করে সিনেমার
নায়ক নায়িকাদের, তাঁদের ইতিহাস কদর্য থাকলেও, রাজনৈতিক
দলের এম.পি.-এম.এল.এ. টিকি দেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একটা ভারত ফুটপাথে শোয়
ভিক্ষে করে খায় ,
অন্য ভারত সুইস ব্যাংকে
কালো টাকা জমায় l
একটা ভারত নুন আনতে
পান্তা ফুরিয়ে ফেলে,
অন্য ভারত রাত্রি জাগে
স্যাটেলাইট চ্যানেলে।
একটা ভারত ভাষণ দিচ্ছে
ময়দানে লোক সভায়,
অন্য ভারত পথ হাতড়ায়
খানা খণ্ড ডোবায়।
একটা ভারত কব্জা বাজার
বিশ্বায়নের ছন্দ,
অন্য ভারত ছাঁটাই লে-ওফ
কারখানা সব বন্ধ।
একটা ভারত তাগা তাবিজ
সতিদাহে পোড়ে,
অন্য ভারত মোবাইল ফোন
ইন্টারনেট এ ঘোরে।
অন্য ভারত কবি জয় ভাদুড়ী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ভারতবর্ষে, ধনী-দরিদ্রের জমিন-আসমান তফাত
নিয়ে প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৫.৩.২০১৯ তারিখে।
একটা ভারত মাথা কূটছে
মন্দিরে মসজিদে,
অন্য ভারত শুকিয়ে মরছে
পেট জুড়ে তার খিদে।
একটা ভারত গান্ধী সুভাষ
ক্ষুদিরামের কষ্ট,
অন্য ভারত ডন মাফিয়া
কাটমানি তে নষ্ট।
একটা ভারত দাঁত নড়লেই
চিকিৎসা বিদেশে,
অন্য ভারত বন্যা খরায়
যাচ্ছে দিব্বি তেসে ।
একটা ভারত বোমা ফাটায়
হেসে ওঠেন বুদ্ধ,
অন্য ভারত ভেবেই পায়না
কিসের জন্য যুদ্ধ ।
একটা ভারত ভোটে দাঁড়ায়
নোট কমাবার ফন্দি,
অন্য ভারত নিত্য নতুন
ভাষণ ফাঁদে বন্দি ।
একটা ভারত পাঁচটা দশক
রক্ত চুষে খাচ্ছে,
অন্য ভারত ভেতর ভেতর
এবার হয়তো জাগছে ।
একটা ভারত চেষ্টা চালায়
গুলিয়ে দিতে অঙ্ক,
অন্য ভারত সেই সুযোগে
হচ্ছে যে নিঃশঙ্ক।
একটা ভারত থাক বা নাথাক
কি যায় আসে তাতে,
অন্য ভারত জাগবে ভোরে
চেষ্টা করছে রাতে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যে দেশ আমার বাবাকে বিদেশি বানায়
যে দেশ আমার ভাইকে গুলি করে মারে
যে দেশে আমার বোন মরে গণধর্ষণে
যে দেশে আমার মা বুকে আগুন চেপে রাখে
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশে লুঙ্গি পরার অধিকার নাই
যে দেশে কান্না শুনার মানুষ নাই
যে দেশে সত্য বললে ভূত কিলায়
যে দেশ আমার আজীবন দাসত্ব চায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশে টুপী মানেই মৌলবাদী
যে দেশে মিঞা মানে নীচজাতি
যে দেশে ‘চরুয়ারা’ সব বাংলাদেশি
যে দেশ টাটা বিড়লা আম্বানীর হাতে বিক্রি হয়ে যায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশ আমার বাবাকে বিদেশি বানায়
কবি কাজী নীল। মূল কবিতা থেকে বাংলায় অনুবাদ - সুমনা রহমান চৌধুরী। NRC বিরোধী কবিতা।...
“আসামের ১০ জন কবির বিরুদ্ধে এফআইআর জারি করা হয়েছে। কবি কাজী নীল তাঁদের মধ্যে। এঁদের প্রায় সকলেই বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম কবি এবং সমাজকর্মী। এঁরা লেখালিখি করেন
যে ভাষায়, তা স্থানীয় ভাবে 'মিঞা ভাষা' বলে পরিচিত। রাজ্যে নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যে সংকট একাংশের বহুসংখ্যক মানুষ ভোগ করছেন, তা নিয়ে একটি কবিতা লেখা হয়েছে বলে পুলিশের
কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের এই দমনমূলক ব্যবস্থা। এইসব কবি ও অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি, ১৫৩এ, ২৯৫এ এবং ১৮৮
ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ আনা হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ নং ধারাতেও। "এই দশজন কবি-সহ সমগ্র মিঞা কবিদের, মিঞা ভাষার প্রতিবাদকে আমাদের
সবার ঐক্যবদ্ধভাবে বুঝতে হবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অসমীয়া উগ্র জাতীয়বাদ তথা এনআরসি নামের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে প্রতিহত করতে হবে। ডিটেনশন ক্যাম্পগুলো
নির্মূল করার স্বার্থে সর্বোপরি মানুষের অধিকারকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে সমস্ত ভাষাভাষির মানুষকে জাত-ধর্মের উর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” --- সুমনা রহমান চৌধুরী
যে দেশে আমাদের লাশের পর লাশ কুপিয়ে কেটে
নদীতে ভাসিয়ে দেয়
যে দেশে ৮৩ তে মানুষ মেরে শালার বেটারা জল্লাদের
মতো উল্লাস নৃত্য নাচে
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশে আমার ভিটা বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়
যে দেশে আমার অস্তিত্বকে বাতিল করা হয়
যে দেশ আমাকে অন্ধকারে রাখার ষড়যন্ত্র চালায়
যে দেশ আমার থালাতে পান্তার বদলে পাথর ঢালতে চায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশে আমি গলা ছিঁড়ে চিৎকার করলেও কেউ শুনেনা
যে দেশে আমার খুনের জন্য কেউ দায়ী না
যে দেশে আমার ছেলের কফিন নিয়ে রাজনীতি চলে
যে দেশ আমার বোনের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলায়
যে দেশে আমি জানোয়ারের মতো বেঁচে থাকি
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গেয়েছিল তারা ‘জনগণ মন’
জাতীয়তার গান,
পতাকা নিয়ে ছুটেছিল কাঁধে
স্বাধীনতার সম্মান॥
পূর্ব পুরুষ লড়েছিল কারো
স্বাধীনতা সংগ্রামে,
ম্লান হয়েছে সেই ইতিহাস
প্রতিহিংসার জ্যামে॥
কিছুদিন আগেও আগলে ছিল
সোলজার হয়ে দেশ,
এনআরসিতে আজকে তাদের
ভীটে মাটি সব শেষ॥
চল্লিশ লক্ষ জনতা আসামী
আসামের বুকে আজ,
তাদের ভোটেই নেতাগিরি করে
শয়তান ধোকাবাজ॥
বিদেশীকে কত দিতেছি এখনো
নাগরিকের অধিকার,
নাগরিক যারা তাদের বিদেশী
সাজিয়েছি বার বার॥
আসামীরা আসামী কবি নাসির হোসেন হালদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
আসামে বাঙালীদের দুর্দশা ও NRC বিরোধী কবিতা।
চল্লিশ লক্ষ জনতার প্রতি
নির্যাতন সামনে আরো
সব যালিমের এটাই নীতি
ফেরাউন কিংবা জারও॥
আগে গুজরাট আজকে আসাম
কালকে বাংলা হয়তো,
এ সরকার যদি না সরাও
আগামীতে চরম ভয় তো॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাঁকছে মোদী তারস্বরে - সেল, সেল, সেল।
কে কিনবি বি.এস.এন.এল? কে কিনবি রেল?
নিলাম হবে কয়লা থেকে LIC, ব্যাংক তাও!
সস্তা দামে বেচাবো এ দেশ, কিনাতে যদি চাও।
হাড়-হাভাতে গরীব-গুলো, এবার এ দেশ ছাড়!
NRC তেই করবো এবার ভিখিরি সংহার
আমার কাজে বাগড়া দিলে, তোদের হবে জেল।
কে কিনবি বি.এস.এন.এল? কে কিনবি রেল?
সেল-সেল-সেল
কবি শঙ্ঘজিৎ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। নরেন্দ্র মোদীর দেশ বেচার প্রতিবাদে কবিতা
। এখন আমরা জানি কেবল তাঁদের যজমান করপোরেটদের কাছেই তাঁরা
দেশটাকে জলের দরে বিক্রী করছে। আটকাবার কেউ নেই! মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.১১.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী হলেই বুঝবে অনুপ্রবেশ
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী দেখলেই জানবে অনুপ্রবেশ
এখন রবীন্দ্রনাথ নেই, আজও নিখোঁজ সুভাষ বোস
তাই বাঙালীর নেতা হয়ে আসবে দিলীপ ঘোষ
এখন রবীন্দ্রনাথ নেই, আজও নিখোঁজ সুভাষ বোস
তাই বাঙালীর নেতা হয়ে আসবে দিলীপ ঘোষ
তার গাড়ি টানে ষাঁঢ়, তার বিরাট আবিষ্কার
সে গরু দুয়ে সোনা ফলায়, জ্যান্ত স্যান্টাক্লজ
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে দিলীপ ঘোষ
তার গোয়াল ভরা গরু আছে খাটাল ভরা মোষ
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে দিলীপ ঘোষ
তার গোয়াল ভরা গরু আর খাটাল ভরা মোষ
তার বড়দা চৌকিদার, সে আরেক অবতার
দিনের বেলায় টাকা মারে রাত্রে ভাঙে ঘাড়
তার বড়দা চৌকিদার, সে আরেক অবতার
দিনের বেলায় টাকা মারে রাত্রে ভাঙে ঘাড়
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
কবি সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NRC বিরোধী ও বাঙালীদের সর্বনাশের বিরুদ্ধে গান। ভিডিও পরিকল্পনা
এবং পরিচালনা - অনমিত্র রায়। রচনা ১১.১২.২০১৯। মিলনসাগরে তোলা হয়েছে ১২.১২.২০১৯। ভিডিওটি সৌজন্যে
Late 66Z YouTube Channel.
সে গুজরাটি এক ভাঁড়, তার ল্যাজটি চমত্কার
সে দেশের লোককে মিত্রোঁ বলে, আম্বানি কে স্যার
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে চৌকিদার
বাঙালীকে পুরে দেবে প্রীতি উপহার
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে চৌকিদার
বাঙালীকে পুরে দেবে প্রীতি উপহার
ভিলেন কিম্বা ভ্যাম্প, আগুন কিম্বা ড্যাম্প
বড়দিনে সবার হাতে হ্যারিকেনের ল্যাম্প
গরীব বড়লোক, সবার ভালো হোক
লাইন দিয়ে যাবে সবাই ডিটেনশন ক্যাম্প
বাঙালী কাঙালী পাবে প্রীতি উপহার
NRC CAA এর সঙ্গে আনবে NPR
বাঙালী কাঙালী পাবে প্রীতি উপহার
NRC CAA এর সঙ্গে আনবে NPR
কার ধড়ে কটা প্রাণ, তাকে আটকাতে চান
একই সাথে লাথি খাবে হিন্দু মুসলমান
তিনি ইণ্ডিয়ান জ্যাকি চ্যান, আর তাকেই করে ধ্যান
এমপি এমএলে রা ভোট দিতেই ভুলে যান
যখন তখন মারবে লাথি করবে টাকা ব্যান
ডিসেম্বরে স্লেজে চড়ে আসছে সুপারম্যান
যখন তখন মারবে লাথি করবে টাকা ব্যান
ডিসেম্বরে স্লেজে চড়ে আসছে সুপারম্যান
পা গা রে সা পা, এবার গরু হবে মা
জাতির নতুন জনক হবেন ক্যানাডা কুমার
নিরামিশ খেলে খা, আরে নইলে ভোগে যা
পালক পনির হইবে মোদের জাতীয় খাবার
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী হলেই বুঝবে অনুপ্রবেশ
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী দেখলেই জানবে অনুপ্রবেশ . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওদের আছে লাঠি রাইফেল
মারবেই ওরা তোকে
মেয়েছেলে হয়ে রুখে দাঁড়াবি
বলবে না কিছু লোকে
রাতের আঁধারে মুখ ঢাকা দিয়ে
তোদের শরীর মেপে
ছাত্রী আবাসে ঢুকলো কারা
এ গণতন্ত্রে চেপে
হিন্দু তারা, শাসক তারা
ব্যালট পেপার বলে
ঐশী ঘোষের কন্ঠে নাকি
মনুসংহিতা টলে
দে মাগীটার মাথা ফাটিয়ে
হাড় গুলো সব গুঁড়িয়ে
ঠিক যেভাবে দিয়েছিল তারা
গ্রাহাম স্টেইন্সকে পুড়িয়ে
ওদের আছে লাঠি রাইফেল
কবি রৌণক (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ভণ্ড হিন্দুত্ববাদীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
ঐশী ঘোষের লড়াকু স্পৃহাকে সেলাম করে লেখা কবিতা। রচনা ৭.১.২০২০।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয়েছিল ৭.১.২০২০ তারিখে।
ঠিক যেভাবে মালালাকে গুলি
করেছিল তালিবান
জেএনইউ তে লাফাবে সেভাবে
বিজেপির হনুমান
এ গণতন্ত্রে সংখ্যাই সব
শাসকদেরই দেশ
বাবরি ভেঙে পাড় পাওয়া যায়
বিচার হলে শেষ
তবুও ঐশী ভীষণ জেদি
নোয়াবে না মাথা মেয়ে
তার দিকে তাই অপলক চোখে
সোনি সোরি আছে চেয়ে
আসুক আঘাত, তবুও শ্লোগানে
চিৎকার করে হাস
ঐশী তোকে পাহাড়া দিচ্ছে
সাফদারদের লাশ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন
আগুন জ্বলছে গ্রামে বন্দরে
আগুন জ্বলছে প্রতি ঘরে ঘরে
আগুনে পুড়ছে জীবন-উচ্ছ্বাস
আগুনে পুড়ছে ল্যাব, ক্যাম্পাস
আগুনে পুড়ছে আধো আধো বোল
আগুনে পুড়ছে মায়ের আঁচল
আগুনে পুড়ছে রবি নজরুল
আগুনে পুড়ছে রামধুন
আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন !
আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে নাও
সুর লয় তান, ফুলের বাগান যারা পোড়াচ্ছে, তাদেরও
পোড়াও আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো
শিখে নাও।
আগুন যখন জ্বলছে
কবি শংকর কুশারী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। রচনা - ৭.১.২০২০। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয়েছে
৮.১.২০২০। দেশে দুঃসহ নাগরিক জীবনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
আগুনে পুড়ছে পথ প্রান্তর
আগুনে পুড়ছে আশার প্রহর
আগুনে পুড়ছে তোমাদের স্বর
আগুনে পুড়ছে আমার শিকড়
আগুনে পুড়ছে ইতিহাস খাতা
আগুনে পুড়ছে ভূগোলের পাতা
আগুনে পুড়ছে পাহাড় সাগর
আগুনে পুড়ছে রান্নার ঘর
আগুনে পুড়ছে রবি নজরুল
আগুনে পুড়ছে রামধুন
আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন !
আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে
নাও প্রেম ভালোবাসা, ছন্দের ভাষা যারা পোড়াচ্ছে,
তাদেরও পোড়াও আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন
জ্বালানো শিখে নাও॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উজ্জ্বল নাগরিক ফেরাতে
উড়ে গেল দেশ, এগারো বিমান
বন্দরে তৎপর মন্ত্রী---
যত্ন সম্ভাষণ
তাদেরই রক্ষায়
ঘুম ভেঙে জেগে উঠে
হঠাৎ লকডাউন।
যার শ্রমে শ্বাস নেয় দেশ
বেচে থাকে বিলাস ও খুনসুটি
সে শ্রমিত কাতারে কাতারে
এক লহমায় পথের।
সামান্য সম্বলে
মৃত্যু অনিবার্য জেনে
মাইল মাইল মৃত্যুর পখে
নেমে পড়া
যতদূর যাওয়া যায় . . .
জন্মভূমির দিকে।
উজ্জ্বল নাগরিক ফেরাতে
কবি গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। একটি সম্পূর্ণ নির্লজ্জ
সরকারের কেবল বড়লোকের কথা ভেবে কাজ করা আর গরীবের
বেলায় হাত গুটিয়ে থাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিশ্বজোড়া বিবর্ণতা ফুরিয়ে গেছে হাসি।
মক্কা খালি মদিনা খালি খালি গয়া-কাশি।
মুখ থুবড়ে ধর্মধ্বজা এই পৃথিবীর বুকে।
আতঙ্কিত দেবতা ও মাস্ক লাগায় মুখে।
মাস্ক খুলে ভারতবাসী বলতো একটি কেশে,
রাম মন্দির বাবরি মসজিদ নাকি হাসপাতাল চাই দেশে?
মন্দির আর মসজিদ যদি এরপরেও চাই,
সন্দেহ নেই তোরাই আসল করোনার সত্ভাই।
করোনা
কবি সুরজিৎ সী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। মিলনসাগরের দেয়ালিকায়
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০২০। ধর্মের অসহায়তা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটি
আজ সবচেয়ে বড় পরিহাসের পাত্র।
একবার ভারতকে চমকায়,
ওষুধ দাও।
একবার হু কে ধমকায়,
টাকা দেব না , যাও ।
গতকাল আমেরিকায়
করোনায় মৃত্যুসংখ্যা 20000 এর কাছাকাছি।
আর-একজন শক্তিমান
নিজেই ভর্তি হাসপাতালে।
তাঁর উপদেষ্টাদের দেওয়া
হার্ড ইমিউনিটির তত্ত্ব
বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে।
ক্ষমতাকে বড় অসহায় দেখায়।
যাদের একটি সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়ায়
উড়ে যেত ঝাঁকে ঝাঁকে বোমারু বিমান,
কিংবা দূরপাল্লার মিসাইল
অথবা বিধ্বংসী পরমাণু অস্ত্র।
অসামরিক আবালবৃদ্ধবনিতার
অথচ. . . . কবি অমিতাভ ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনা কালের প্রতিবাদ।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় প্রকাশিত হয় ১৮.৪.২০২০।
মৃতদেহর স্তূপ প্রমাণ দিত
যাদের শক্তির।
তারা আজ মৃত্যুভয়ে ভীত।
করোনা মোকাবিলা ছাড়া
রাষ্ট্রগুলোর আর কোনো কাজ নেই।
শক্তিশালী বাহিনীর দুর্ভেদ্য সাঁজোয়া গাড়ি
আর সমীহ জাগায় না।
জেনারেল ব্রিগেডিয়ার নয়
ডাক্তারবাবু আর নার্সরা।
মেশিনগান নয় ভেন্টিলেটর।
বুলেটপ্রুফ নয় পিপিই।
কন্ট্রোলরুমের সমরবিশারদ নয়
ওষুধ সন্ধানী গবেষক।
আর ওদিকে মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে
মাঠে মাঠে কৃষক শুরু করেছেন
চাষের প্রস্তুতি।
বেকারি শ্রমিকরা অক্লান্ত হাতে
বানিয়ে চলেছেন রুটি।
স্তব্ধ পৃথিবীতে
কাজ করে চলেছেন ওরা।
খাবার ওষুধ তৈরি,
জায়গায় জায়গায় পৌঁছনো।
বহু বহু মেহনতী জেগে আছেন
লকডাউনের মধ্যে ।
আর চোখে আঙুল দিয়ে
দেখিয়ে দিচ্ছেন,
বেঁচে থাকতে হলে
ঐ হিংস্র রাষ্ট্রনেতাদের
কোনো প্রযোজন নেই ।
সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর
কোনো প্রযোজন নেই।
নীরবে কাজ করে চলা
সাধারণ মানুষরাই
সভ্যতার জিওনকাঠি।
অথচ. . . ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভাইরাসটা ঠিক
ঈশ্বরের সিলেবাসে ছিল না।
ওনার কারবার মাক্রো লেভেলে,
দানব বা অসুর হলে
উনি একবার চেষ্টা করে দেখতেন,
কিন্তু ভাইরাস . . .
ঝড়ঝাপটা অবশ্য তিনি বোঝেন
সমীরণ থেকে কালবৈশাখী
এসব দেখাশোনার জন্যে
অমৃতর ভাগ পাওয়া দেবতারা আছেন।
কিন্তু সাইক্লোন সুপার সাইক্লোন?
ঐ যে বললাম
আউট অফ সিলেবাস।
দোষটা অবশ্য ঈশ্বরের পুরোটা নয়,
তাঁর অথরাইজড এজেন্টরাও দোষী।
ঈশ্বরকে তাঁরা
সংস্কৃত হিব্রু আর আরবির বাইরে
কিছুই শেখালেন না।
আপটুডেট হতে হলে
এখন তো একটু
আউট অফ সিলেবাস
কবি অমিতাভ ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনা কালে ধর্মের অসহায়তার প্রতিবাদ।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় প্রকাশিত হয় ৩১.৫.২০২০।
ইংরিজি জর্মন বাঙলা জাপানি
শিখতেই হবে।
সেই চেষ্টা কেউ কেউ করেছিলেন বটে,
কিন্তু ঈশ্বরের যা নাক-উঁচু
জনগণের ভাষায় তাঁর জিভ সরে না।
তাই তো পৃথিবীর এই দুর্যোগে
তিনি মানুষের পাশে
দাঁড়াতে পারলেন না।
তবে লকডাউন
ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে।
এইবার খাটের তলা থেকে
তিনি বেরোবেন,
আবার সিংহাসনে বসবেন।
মদের দোকান যখন খুলেছে
ঈশ্বরের দোকানও তখন
নিশ্চয়ই খুলবে।
কিন্তু সিলেবাস সেই একই থাকবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আনেক পা নিথর হলে ; অনেক হাটার শেষ!
অনেক হাত রক্ত মেখে, তবে না রাজ-বেশ!
গর্ভবতীর মা হওয়া কি সহজ কোন কাজ?
লাজের বালাই, রাজপথে তাই-মা জননীর সাজ!
রোজ পর্দায় কত বুলি, কত কুমির কাঁদছে...
সবাই নাকি এগিয়ে আসছে...!!
তবুও ওরা হাঁটিছে.......
গৃহপালিত আমরা সবাই ; ইমিউনিটি বাড়াই-
টিভি-পর্দা খবর শোনায় ; কতজনকে হারাই!
চোখের পর্দা আছে তাদের?
সন্দেহ তা খুব।
ছিঃ বললে ঘেন্না আসে, আর কিছুতো হয় না!
তবু, চেলা চামুন্ডা কমেন্টস লিখবে-
ছিঃ, এসব কথা কয়'না (!)
কবি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়
|
হচ্ছেটা কি (?!) ছিঃ . .
কবি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনাকালে পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্দশার
প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৯.৫.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মা গো তুমি রাগ করোনা,
পাইনি আমার খিদে।
দেখলে কেমন কাটিয়ে দিলাম
এই বৎসর ঈদে॥
ওই দেখ মা ট্রেন এসেছে,
বলছে যেতে বাড়ি।
এবার তো মা উঠেই পড়ো
আর করো না আড়ি॥
বলবো না আর পারছি না গো,
হাঁটতে ব্যাথা পা।
তেষ্টা পেলেও দুধের বোতল
চাইবো না আর মা।
মা উঠেনা কবি গিরিধারী চন্দ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পরিযায়ী শ্রমিকের চূড়ান্ত দুর্দশার বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ। কবিতাটি মিলনসাগরের "করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকা"-য় তোলা হয়েছিল
৩১.৫.২০২০ তারিখে।
প্রসঙ্গত -২৭.৫.২০২০ তারিখের “দ্য হিন্দু” সংবাদপত্রের, পাটনা সংস্করণ থেকে জানা যায় যে বিহারের কাঠিহার-এর মহিলা
আরভিনা খাতুন, গুজরাটের আমেদাবাদ থেকে বিহারের মুজফ্ফরপুর স্টেশনে, দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠার পরে শুরু করা
“শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে”, ২ থেকে ৪ দিনের যাত্রাকালে, সম্ভবত অনাহার ও অসহ্য গরমের কারণে মারা যান। তাঁর দুই
পুত্রকে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়। অবোধ শিশু পুত্রকে দেখা গেছে মৃত মায়ের গায়ের চাদর নিয়ে টানাটানি করে মাকে
জাগানোর চেষ্টা করতে। এই হৃদয়-বিদারক দৃশ্য, আণবিক শক্তিধর দেশ স্বাধীন ভারতবর্ষে দেখতে হলো নরেন্দ্র মোদীর হঠকারী
শাসন ব্যবস্থায়।
মা গো তোমায় কত্তো ডাকি,
দাও না কেন সাড়া।
কখন থেকে দিচ্ছি মা গো
তোমার হাতে নাড়া।
আমার চোখে গঙ্গা বয়ে,
বুকের ভিতর ক্ষত !
তুমি কি আর উঠবে না মা
ভারতমাতার মতো !!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাস্ক পরিল। হাত ধুইল। থালাও বাজাইল। তবু, ঔষধ আসিল না।
তালা ঝুলিল। ইকনমি পড়িল। মজুরও মরিল। তবু, করোনা মরিল না।
দাম চড়িল। ভাড়া বাড়িল। কর্মী ছাঁটিল। তবু, মাইনে ঢুকিল না।
আখড়া খুলিল। লাইন পড়িল। পয়সা উঠিল। তবু, রেশন আসিল না।
নেতা চ্যাঁচাইল। পুলিশ ঠ্যাঙাইল। ঝড়ে ভ্যাঙাইল। অনুদান আসিল না।
ব্যাংক খুলিল। ইএমআই কাটিল। পেছন ফাটিল। তবু, অফিস খুলিল না।
কিউবা ডাক্তার পাঠাইল। আম্রিকা হুমকি পাঠাইল। চিন সেনা পাঠাইল।
নেপাল চিঠি পাঠাইল। পাকিরা পঙ্গপাল পাঠাইল। বাকিরা রাজ্যপাল পাঠাইল।
তবু, মাল্যকে দেশে পাঠাইল না।
আম্বানি টাকা পাঠাইল। ট্রাম্পকে ক্লোরোকুইন পাঠাইল। নবান্নে লোক পাঠাইল।
বিদেশে প্লেন পাঠাইল। জুতিয়া পাকিস্তান পাঠাইল। তবু, গরীবকে বাড়ি পাঠাইল না।
ভাণ্ডে কেস জমিল। ফাণ্ডে টাকা জমিল। স্বর্গে ভিড় জমিল।
মর্গে লাশ জমিল। ঘিলুতে ক্রোধ জমিল। তবু, বোধ জমিল না।
সকালে অ্যাপ নামিল। বিকালে র্যাফ নামিল। স্পেশাল টিম নামিল।
ঘোড়ার ডিম নামিল। সস্তায় শ্লোক নামিল। রাস্তায় লোক নামিল না।
কেহ বাড়িতে থাকিল। কেহ মরিতে থাকিল। দেশ চলিতে থাকিল।
দ্বেষ দলিতে থাকিল। মানুষ হাঁটিতে থাকিল। মান-হুঁশ, ফাটিতে থাকিল না।
মাস্ক পরিল। হাত ধুইল। থালাও বাজাইল
কবি রোহন ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। মোদী সরকারের হঠকারী শাসনের বিশেষ করে করোনা-কালের দুর্দশার বিরুদ্ধে। কবিতাটি মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা
হয়েছিল ৮.৬.২০২০ তারিখে।
মন্দির খুলিতেছে। মসজিদ খুলিতেছে। ইস্কুল খুলিতেছে না।
মামলা ঝুলিতেছে। কোভিড ঝুলিতেছে। চক্ষু খুলিতেছে না।
পাজি ভাটাইতে থাকিল। বাজি ফাটাইতে থাকিল। কাজি বিচার লিখিল না।
নামাজ শিখিল। মন্ত্র শিখিল। অঙ্ক শিখিল না।
প্লেন চলিতেছে। বাস চলিতেছে। ট্রেন চলিতেছে। পেট চলিতেছে না।
ক্ষুধা বাড়িতেছে। জ্ঞান ঝাড়িতেছে। গালি পাড়িতেছে। গুলি মারিতেছে।
তবু, রা কাড়িতেছে না।
ম্যানিফেস্টো পোড়াইবে। হরেকেষ্ট শোনাইবে। বেশি ট্যাঁ-ফোঁ চলিবে না।
মোমবাতি জ্বলিয়াছে। চিতাও জ্বলিবে। তবু, বরফ গলিবে না।
শ্রমিক দধীচি হইবে। পাঁজরে রেলপথ হইবে। কেহ কথা বলিবে না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাতৃভূমি পারেনি দিতে রুটি কাপড় আর বাসস্থান
তাই তো আজ পরিযায়ী শ্রমিক ছেড়েছি জন্মস্থান
জীবিকার খোঁজে ছুটি আমরা রাজ্য থেকে রাজ্যে
ভিটা ছেড়ে কিছু পারিশ্রমিকে মেতেছি নানা কার্যে
নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এটাই রোজকার নামচা
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হেথা,কোনমতে যায় বাঁচা
মরণ বাঁচন যুদ্ধে ,সুখের চেয়ে ,দুঃখের পাল্লা ভারি
জানিনা কখন থামবে কোথায় এই জীবনের গাড়ি
রক্ত জল করে আধপেটা খেতাম ডাল-ভাত-রুটি
গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে করোনা টিপল টুঁটি
৪ ঘন্টার নোটিশে লকডাউনে স্তব্ধহল জীবন যাত্রা
যেখানে আছো সেখানেই থাকো প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অপরিকল্পিত দীর্ঘলকডাউনে রুজি রোজগার বন্ধ
অনাহারে মৃতপ্রায় মজদুর সরকার বাহাদুর অন্ধ
দুর্বিসহ নরক যন্ত্রনা ছেড়ে,পায়ে হেঁটেই করি যাত্রা
বোঁচকাবুচকি,বাচ্চাগাচ্চা নিয়ে ১০০০ কি.মি রাস্তা
রাজপথ ট্রেনপথে হাঁটা,মৃত্যুর হিসাব,রাখেনা কেহ
শুকনো রুটি গুড়ের পাশে দ্বিখন্ডিত শ্রমিকের দেহ
রাজ্য সীমান্তে দাঁড়াল এসে লক্ষাধিক অভুক্ত প্রাণ
সোডিয়াম হাইপো ক্লোরাইড দিয়ে করান হল স্নান
পরিযায়ী শ্রমিক কবি আতাউর রহমান (জন্মকাল অজ্ঞাত)। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয়
১৩.৬.২০২০।
শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার স্বপ্ন তবুও হলো না পূরণ
কেন্দ্র রাজ্যের তর্জায় মানব অধিকার হল লঙ্ঘন
পরিযায়ী শ্রমিক আমরা করি নাকি করোনার চাষ
তাইতো অচ্ছুত আমরা হারিয়েছি নিজেদেরই বাস
রাজনৈতিক চাপে স্পেশালট্রেনে ফেরান হল বাড়ি
থার্মালস্ক্রিনিং ,ক্লোরকুইনে ,কোয়রান্টিং হল জারি
ভিটেমাটিতে দেখি ফিরে,বিক্ষোভ হচ্ছে সদলবলে
সমাজ আজ বর্জন করেছে করোনার বাহক বলে
পৃথিবী পাল্টে গেল সোশ্যাল ডিস্টেনসিংএর নামে
দুঃখেকষ্টে জর্জরিত পরিযায়ী মরছে আপন ধামে
সমাজের চোঁখে হয়েছি আমরা অন্য গ্রহের প্রাণী
হে ভগবান ! বাঁচাও আমাদের থামাও জীবন হানি
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও বাড়িতে বাঁশ বাঁধছে, এ বাড়িতে পড়ছে খিল
প্রশাসনের বড্ড নজর, খুঁজে খুঁজে করছে সিল।
ওই ছেলেটার কেস পজিটিভ, শ্বাসকষ্ট, ভীষণ জ্বর
হাসপাতালে জায়গা কোথায়, তুই সাধারণ, ঘুরেই মর।
ওই ছেলেটা মরে মরুক, অমন শত মরছে রোজ
চুপ!! সকলে ব্যস্ত ভীষণ, সময় মতো নেবে খোঁজ।
ওই ছেলেটা মরেই গেল, ছড়িয়ে গেল কোভিড ঠিক
গায়ের ওপর চাপিয়ে দিল কালো রঙের পেলাস্টিক।
মায়ের আবার কিসের চাওয়া, ও তো এখন দেশের লোক
বডিখানা হাপিস হবে, ঘরেই বসে কর না শোক।
মরবি নাকি আওয়াজ তুলিস, জায়গা যদি না মেলে
হাসপাতালে জায়গা কোথায়? একটাই কি তোর ছেলে?
পরের জম্মে হইবি সেলেব, দিব্যি পাবি আরাম ঘর
এখন তুই খুব সাধারণ, এধার ওধার ঘুরেই মর।
কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
|
ওই ছেলেটা কবি সুচন্দ্রা মুখোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনা-কালে প্রশাসনিক গোলোকধাঁধায়
মানুষের জীবনের দুর্শার বিরুদ্ধে কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১২.৭.২০২০।
তুই তো দেখি বড্ড বোকা, খবরটা কি তোর হবে?
বিকিয়ে যাওয়া মিডিয়া.. সেলেবেরই খবর দেবে।
তাই তো বলি, লড়াই চলুক, সাধারণের থাকুক মিল
নইলে আবার প্রশাসনের, বড্ড নজর, করবে সিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সরকার বলে বেড আছে তবু
জায়াগা পায়না ছেলে,
খবর হয়েছে মায়ের কান্না
অবশেষে মারা গেলে।
শুভ্রজিতের আঠেরো হয়নি
সেই ছেলে আজ লাশ,
এরপরে যদি চুপ করে থাকো
তবে তুমি দলদাস।
বলিউডি হিরো পজিটিভ হলে
নবান্ন থেকে ফোন,
একবারও তবু তদন্ত হবে
বলল না প্রশাসন।
কিচ্ছু পারি না কলমে কালিতে
লিখি তাই ধিক্কার,
মিথ্যে তোমার এগিয়ে বাংলা
মাননীয় সরকার।
বিদায় শুভ্রজিৎ কবি দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায় (জন্মাকাল অজ্ঞাত)।
করোনা-কালে প্রশাসনিক মিথ্যাভাষণ ও গোলোকধাঁধায় মানুষের জীবনের
দুর্শার বিরুদ্ধে ধিক্কার। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৩.৭.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কেউই আমরা স্বীকার করি না
দোষ ছিল কার কার
ছিদ্র করেছি অক্সিজেনের
মস্ত সিলিণ্ডার।
স্বীকার করি না যুগ যুগ ধরে
কারা ফুটো করেছেন
বিনি পয়সার সিলিণ্ডারে
তলানি অক্সিজেন।
হয়তো সেদিন খুব দূরে নয়
এই বুঝি কড়া নাড়ে
প্রাণ বন্ধক রাখতেই হবে
ল্যাবের সিলিণ্ডারে।
সিলিণ্ডার
কবি দেবাশিস দণ্ড (জন্মকাল অজ্ঞাত)। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৯.৪.২০২১।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে
অনেক চিঠি, কতই ফাইল,
ওরা শুধু হেঁটেই মরছে,
হাঁটছে হাজার হাজার মাইল!
কোন তারিখে হাঁটার শুরু?
লেখা আছে জামার ঘামে,
তোমার আমার নতুন খাবার
ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে।
হাইওয়েতে হাঁটতে মানা
টহল দিচ্ছে রাজার পাইক,
তোর ছবিতে ক’টা কমেন্ট?
আমার ফোটোয় এত্ত লাইক!
রাষ্ট্র যদি রাস্তা রোকে,
ভরসা তখন রেলের লাইন,
আমি তুমি দিব্যি মানছি
মাংস ভাতের কোয়ারেন্টাইন!
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে,
রেললাইনে ক’খান রুটি
ছিটকে পড়ে অন্ধকারে,
ঘুমের মধ্যেই হাঁটার ছুটি!
হাঁটছে আরও, হাঁটবে আরও
মরল নেহাত ক'জন মোটে,
রাষ্ট্র তখন হিসেব কষে,
কী আর ফারাক পড়বে ভোটে?
রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে
শ্রীমন্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনাকালের প্রতিবাদী কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিছু শবদেহ ছিল
কিছু চিতার কাঠের ওপর কিছু কবরস্থানে
আর কিছু শবদেহ ছিল
কিছু শ্বশানের বাইরে অপেক্ষমাণ
কিছু নদীতে ভাসমান
আরো কিছু শবদেহ ছিল
যাঁরা এই শাসকের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিল
যাঁরা এই প্রত্যেকটি মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল।
কিছু শবদেহ ছিল
সুমন সেনগুপ্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনাকালের কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৪.৫.২০২১।
করোনাকালে দেশের সরকারের হঠকারী কর্মপদ্ধতির জন্য উদ্ভূত মর্মান্তিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শেখায় বিপ্লবের ভাষা মূক জনতা কে,
চিহ্নিত করে শ্রেণী শত্রু, বলে শ্রেণী বৈষম্যের কথা।
উত্তাপ ছড়ায় - কিন্তু বাস করে
বিক্ষোভের আঁচ থেকে নিরাপদ দূরত্বে,
এক সঙ্কীর্ণ, গণ্ডিবদ্ধ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুর্গে।
উত্তপ্ত জনতার থেকে বহু দূরে।
হয়তো বা, জনতার মাঝে থেকেও
এরা জনতার কেউ নয়।
--- নীল রক্ত অভিজাত অথবা দূর্ত নীল শেয়াল।
এরা বিদ্রোহের গান গায়,
বন্দুকের কথা বলে।
ব্যবহার করে না নিজেরা কখনও,
সমাজশুদ্ধি, শোষণমুক্তির অজুহাতে
প্রয়োজন মত বন্দুক তুলে দেয় এর-তার হাতে।
এরা কারা কবি তপন চক্রবর্তী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০০৬-২০০৮ সময়কালে, সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলাকালীন, বিভিন্ন পত্র-
পত্রিকা, বিভিন্ন মিটিং-মিছিল-পদযাত্রায় সংঘবদ্ধ বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিলি করা লিফলেট, পোস্টার, দেয়ালে সাঁটা কাগজে হাতে
লেখা, বিভিন্ন রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের জানালার পাশে সাঁটানো কাগজে লেখা প্রতিবাদী কবিতা সংকলিত করেছিলাম
আমাদের “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা” সংকলনে। এই কবিতা তারই একটি। কবিতার উত্সটি এখন আর জানাতে পারছি না বলে
আমরা দুঃখিত। সেই আন্দোলনের কালে রচিত আরও বহু কবির কবিতা পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এরা বিদ্রোহের গান গায়।
নিদেনপক্ষে বলে জনগণতান্ত্রিক ব্যালট বিপ্লব।
করে ঘেরাও, বন্ধ, হরতাল।
দায়বদ্ধ এরাই আবার ---
অশুভ, কায়েমী, স্বার্থপর, অন্ধকার আঁতাতের।
এরা বিদ্রোহের গান গায়।
তৈরী করে ক্যাডার আর ভুতুরে ভোটার।
এদের গল্প - মার্ক্স, লেনিন, হোচিমিন।
গর্ব - নানুর, চেসেস্কু আর ওয়াল বার্লিন।
এদের সমাজতন্ত্র - এদের হাতে ধরা গ্রাসে
চিল্ ড বিয়ারের বুদবুদের মত অলীক।
এদের বিপ্লব - কাগুজে জনগণতান্ত্রিক,
সীমাবদ্ধ স্লোগানে আর দেওয়াল লিখনে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংলা জ্বলছে, তাই জ্বলুক
আরও জ্বলুক, জ্বলুক।
নির্ঝঞ্ঝাটে ভাল বাবুরা
এখনও সুখ নিদ্রায়
ভীত, পথে নেমে হাঁটতে
বা শঙ্কিত নানা দ্বিধায়---
তাই জ্বলুক, বাংলা জ্বলুক
আরও জ্বলুক, আরও জ্বলুক।
বাঁচন মরণ লড়াই যখন
কড়া নাড়ে এসে দরজায়
অতি শিক্ষিত বাবুরা তখনও
শান্তির পথ হাতরায়---
তাই জ্বলুক, বাংলা জ্বলুক
আরও জ্বলুক, আরও জ্বলুক।
বাংলা জ্বলছে কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭), সুর - দেবাশিস রায়, শিল্পী - অমিত রায় ও প্রবীর বল।
সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল, ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির রচনা
২.৫.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান।
ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta.
শাসক যখন শান্তিকে করে
পরিহাসে পরিনত
অশান্তিকেই মন্ত্র মেনে
শোষণেরে কও দূর হটো---
তাই জ্বলুক, বাংলা জ্বলুক
আরও জ্বলুক, আরও জ্বলুক।
দুষ্ট কবির লেখনির খোঁচে
মনের গহন জ্বলে উঠুক
সুখ-শান্তির ভ্রমে আছে যারা
কালের ডাকে পথে নামুক---
তাই জ্বলুক, বাংলা জ্বলুক
আরও জ্বলুক, আরও জ্বলুক॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নদীতে কার শব ভেসে যায়?
“স্বেচ্ছাচারী” কি না কে জানে?
এদেশে জন্মে কি ভুল ছিল?
সৎকারটুকু পেলো না জীবনে।
দুর্দিন এত দেখেছি কি, হায়?
বেঁচে ছিল ধর্মের ধ্বজা ধ’রে।
প্রাণ যবে কেড়ে নিলো মহামারী
জ্বালানীর কাঠটুকু ছিল না ঘরে।
রথে রথে বেড়িয়েছে যারা
গড়ে দিতে দেবতার ঠাঁই।
শবের মিছিল দেখে জলে
তাদের আজ মুখে কথা নাই!
নদীতে কার শব ভেসে যায়? দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ১৪.৫.২০২১।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কালে উত্তর ভারতে মৃতদের মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিতে
বাধ্য হয় হাজার হাজার মানুষ। সেখানে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীদের শাসনে হাজার হাজার হিন্দুকে, নদীর
তীরে মৃত আত্মীয়-পরিজনদের যেমন তেমন করে কবর দিতে হয়েছিল বা সেই যায়গাটুকুও না পেয়ে
নদীতে শব ভাসিয়ে দিতে হয়েছিল। কবির প্রশ্ন - এই সময়ে হিন্দু ধর্ম "খতরে মে" পড়েনি?
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে . . .
মানুষের শব দেখে চুপ!
শব যদি হতো গোমাতার---
এতক্ষণে দেশ জুড়ে জেনো
পড়ে যেত লাশ জনতার॥
দুষ্টকবি বলে --- হে দেশ মাতা!
প্রসবিলে অমানুষ যত?---
ছিল শ্রেষ্ঠ আসন জগতের---
করে দিল ভিখিরির অধঃ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংগালি রে বাংগালি!
নামেই তোরা বাঙ্গালী!
যে দেশ তোরা করলি স্বাধীন,
বলছে --- সে দেশ কর খালি।
ব্রিটিশ খেদালো যে বাঙ্গালী,
তারাই এখন ভেড়া-শ্রী।
যুগল ঠগীর ঢপে নিজের
পশ্চাতে দেয় এনারসি।
বাংলা ভাষা বললে পরেই
বলে অনুপ্রবেশকারী।
বলছে “দীমক্” - উই পোকা,
বাংলাদেশী ঘুসপেঠি।
তবুও শালা বাংগালি,
এত্তো শুনেও গালাগালি,
বলছে যারা ও সব কথা,
করছে তাদেরই দল ভারি!
সত্যি কথা বললে পরেই
লাগছে আঁতে চুলকানি!?
বুঝবে হয়ে বে-নাগরিক,
ঠেলবে ডিটেনশান-ঘানি!
বাংগালি রে বাংগালি দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ১৬.২.২০২০। কেন্দ্রীয় সরকারের, হঠকারী
NPR-NRC-CAA প্রয়োগ করে বাঙালীদের যে কোনো ছুতোয় দেশ থেকে বিতাড়ণ এর কারসাজীর প্রতিবাদ।
ফাঁদটি পাতা আজ সারা---
ক্যা-এনারসি-এনপিআর।
বাংলা যাদের মাতৃভাষা---
বরাত ডিটেনশান সবার।
“হিন্দু” “হিন্দু” “হিন্দু” - ঢপে,
ভাবছে যারা নেই কো ভয়!
আসামে কেন্ মুসলমানের
বেশী হিন্দু বাতিল হয়?
বাতিল হওয়া হিন্দুগুলো
ফিরিয়ে আনতে ক্যা-নিদান?
বাতিল কেন করতে হলো?
আগে সেটার জবাব দ্যান!
বাঙ্গালী কি শুধুই হিন্দু?
মুসলমানও বাঙ্গালী।
মুসলমানের একটি গেলেও
একটি যাবে বাঙ্গালী!
বিকিয়ে দিয়ে বাঙ্গালীদের
আসাম যারা করলো জয়,
তাদের যারা ভরসা করে---
“আস্ত পাঁঠা” তাদেরি কয়?
কালীর থানে বলির পাঁঠা
বাংগালি হে বাংগালি!
হাঁড়িকাঠের জন কে দেখে
অন্যে হাসে দাঁতকেলি’!
নামছে পথে বিরোধ করে
সিংহ-হৃদয় বাঙ্গালী।
কিন্তু তাদের নেত্রী-নেতা
লেঙ্গি মেরে দেয় ফেলি!
এই বেলা সব বিরোধ ছেড়ে
একসাথে সব মেলাও হাত।
বাঙ্গালীরা বাঁচলে পরে
অনেক পাবে খেলার মাঠ!
যুগে যুগে বাঙ্গালীদের
নিধন এবং বিতাড়ণ।
কখনও ধর্ম-কলের গানে
কখনও বাংলা ভাষার নাম।
হে বাঙালী শোন রে তোরা
দুষ্টকবি বলছে আজ।
এনারসি-ক্যা দূর হটিয়ে
আবার তোরা কর রে রাজ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বুকের আগুন বাংলা মায়ের---
আমরা নন্দীগ্রাম ।
হাতের মশাল বাংলা মায়ের---
আমরা নন্দীগ্রাম ।
মোরা জ্বলি, শুধু জ্বলি,
মোরা দাউ দাউ করে জ্বলি ।
মোদের আগুনে আলোকিত সারা
বাংলার অলি গলি ।
যে মাতঙ্গিনীর বলিদানে পাওয়া
দেশের স্বাধীনতা,
তারই মোরা উত্তরসূরী,
গাহি সেই জয়গাথা ।
দেখে স্বাধীন মায়ের গলায় আবার
শৃঙ্খল আভরণ,
গর্জ্জে উঠে বজ্রসম,
লড়ছি মহারণ ।
আমরা নন্দীগ্রাম কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। সুর - দেবাশিস রায়,
শিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল। ভিডিও
সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির রচনা ২৫.১১.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.
ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
শত্রু একদা এসেছিল গৃহে
হাতে ত্রাতার লাল নিশান,
কৃষকের ত্রাণ, শ্রমিকের প্রাণ,
গেয়ে তেভাগার জয়গান ।
আজ উন্নয়নের বিনিময়ে শুনি
অচেনা বার্তালাপ ।
শ্রমিক পচবে "সেজ" নামী জেলে,
ধান ক্ষেতে হবে "হাব" ।
দেবো না জমি, দেবো না ভিটা,
দেবো না মুফতে প্রাণ।
দুষ্ট কবির ছন্দ-মণি,
আমরা নন্দীগ্রাম।
বুকের আগুন বাংলা মায়ের---
আমরা নন্দীগ্রাম।
হাতের মশাল বাংলা মায়ের---
আমরা নন্দীগ্রাম।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অসীম যাতনা শেষ হয়ে তবে নিস্তার পেল যারা
অজানা কোন ভূতলে চির নিদ্রায় শুয়ে তারা
তারাও মাটির গন্ধে মিশে সুবাসিত করে যায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর ভোলা যায়॥
যে ফুটফুটে শিশুরা সেদিন খেলাছলে ছিল পাশে
তারা কোনো পানা পুকুরের পাঁকে শায়িত আছে
হয়তো তাঁরা শাপলা হয়ে চেয়ে দেখে তোমাকে
হয়তো কচুরিপানা হয়ে ভেসে খুঁজে ফেরে মাকে
তারাই চড়ুই শালিক হয়ে ফিরে খেলে তব আঙ্গিনায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর ভোলা যায়॥
যারা লাশের পাহাড় হয়ে গিয়ে মিশেছে মোহানায়
তাদের অশ্রু সাগরের জলে নুনের স্বাদ বাড়ায়
তারাও তোমার চরণ জোয়ারে জোয়ারে ছুঁয়ে যায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর কখনও ভোলা যায়॥
তোমাকে বাঁচাতে যে মায়েদের সব কিছু গেল সেথায়
এখন তাঁরা নীরবে শায়িত কে জানে কোথায়
দক্ষিণা বাতাসে বয়ে এসে তারা সোনাদের চুমু খায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর ভোলা যায় ॥
নন্দীগ্রাম তোমাকে... কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। সুর - দেবাশিস রায়,
শিল্পী - প্রবীর বল। সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল। ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির
রচনা ২৫.৪.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান।
কবিতাটি পুরোপুরিভাবে এখানে দেওয়া হলো। ইট্যালিকস-এ লেখা অংশ দুটি গানে নেই। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta.
নদী খাল বীলে ভেসে গেছে যারা ঘুমিয়ে অতল জলে
গাঙচিল হয়ে ফিরে বসে তার নিঝুম ঘরের চালে
তৃষিত চোখে পাখিরা তোমাকে শুধু ফিরে ফিরে চায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর কখনও ভোলা যায়॥
তোমার শ্যামলা আঁচল মুখর যাদের শ্বাসে বাসে
তারা যে শুধু তোমাকেই প্রাণ দিয়ে ভালবাসে
সে কথা তারা জীবন দিয়ে ইতিহাসে লিখে যায়
তাইতো তারা নানারূপে তোমাকেই দেখে যায়
দুষ্টকবি সাশ্রুনয়নে তোমাদের গান গায়
নন্দীগ্রাম, তোমাকে কি আর ভোলা যায়॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ছিলি গভীর ঘুমের ঘোরে
রজনি-দিবস-বিকেল-ভোরে।
সুযোগে ছিন্ন মায়ের আঁচল
দেখি তাঁর চক্ষু ছল্ ছল্।
বাংলা সহায়-হারা কাঁদে
রাজা তাঁর ডুবছে পুঁজির ফাঁদে।
দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভুলে
মাকে টেনে নিলাম মঞ্চে তোলে।
সহসা উঠলো বাংলা জেগে!
দেবে না চাষের জমি ভাগের।
হাজারো প্রশ্ন প'ড়ে কেন?
জানে না, কেউ জানে না, কেন---
---শিল্প শালি জমিকেই বাছে?
---মার্ক্সবাদ পুঁজির বাদ্যে নাচে?
---চাষী কে প্রহার কেন করা?
---কেন তাঁর ভিটা মাটি কাড়া?
---তাঁরা কোন দোষে জমিহারা?
---তাপসীর কেনই জ্বলে মরা?
ক্ষতবিক্ষত বাংলার মুখ কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
আবৃত্তি শুনুন শীলা চক্রবর্তীর কণ্ঠে। সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল, ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। কবিতাটির রচনা
৩০.৩.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta.
বুকে যে আগুন ধিকি জ্বলে
ফাটে বোমা 'সিঙ্গুর' 'সিঙ্গুর' ব'লে।
ঝাড়া দিয়ে বাংলা দাঁড়ায় রুখে
তার আগুন ঝরে চোখে।
ধরা শক্ত মুঠোয়ে মশাল
কণ্ঠে স্বয়ং মহাকাল।
সেই মশাল-দাবানলে
বাংলা দাউ দাউ করে জ্বলে।
সিঙ্গুর জোর করে কেড়ে
রাজার সাহস গেল বেড়ে।
তাই নানান ছলে নামে
লুঠতে জমি নন্দীগ্রামে।
মুসলিম আজান দেবার পাশে
হিন্দু পুজোয় যেথা বসে।
সেথা একতার আঁচ দেখে
তুচ্ছ বিবেক তুলে রেখে।
নৃশংস হত্যালীলা চলে
নারীর ইজ্জত যায় দলে।
অসংখ্য নর-নারী-শিশু হত
বাংলা হিসাব জানবে না তো।
হলো রক্তে রাঙা ভূমি
তবুও ছাড়ে নি তিলেক জমি।
দুষ্ট কবির বুক জুড়ে ব্যথা
ধন্য লিখে সে এ বীরগাথা।
ছায় ধিক্কার ভরা মেঘে আকাশ
গর্জে দামিনী জানায় হুতাশ
বাতাস ফেলিছে দীর্ঘশ্বাস
ভূমি বলে এ যে নরকের বাস
নদী বলে আমি করি হাস্-ফাস্
বয়ে বয়ে ছিন্ন দেহ অথবা পূর্ণ লাশ।
ক্ষতবিক্ষত আজ “বাংলার মুখ”---
এই কাজ করে রাজা পেল কোন সুখ?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জমছে, গণরোষ জমছে....
লুণ্ঠিত মানুষের
এই শুধু জমাপুঁজি
শাসকের দংশনে
চলে গেছে রুটি রুজি
যতদূর চোখ যায়
দ্যাখে শুধু খালি পেট--
আর ওই সামনেই
ঘেরা তার ধান ক্ষেত !
শাসকের নামধারী
চতুর মাকড়সা।
সেও বসে কষে জাল বুনছে---
মামলার নাগপাশে
শিশুরাও বাঁধা প'ড়ে,
লাঞ্ছিতা নারী মাঠে পুড়ছে।
এদের তো সবই গেছে।
হারাবার কী আর আছে?
তাই, মুক্তির দিন শুধু গুনছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে....
জমছে গণরোষ ১ দুষ্টকবির (জন্ম ২.৭.১৯৫৭) এই গানটি তিনবার, তিনটি রূপে, তিনজন
শিল্পীর দ্বারা গাওয়া হয়েছে। প্রথমবার দেবাশিস রায়ের সুরে শিল্পী - অনুরূপ গেয়েছিলেন।
সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল, ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির
রচনা ২৭.৮.২০০৬। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম
আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
এই গণরোষ-কালোমেঘ
আরও ঘনিভূত হয়ে
ওই দেওয়ালেই আছড়ে পড়বে।
যতখুশি ইট গাঁথো
পারবে না, পারবে না,
ভেঙে খান্ খান্ হয়ে পড়বে।
নিবেশের পুঁজি যত,
শাসকের জোর, শত
চেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়বে।
দুষ্ট কবি বলে
গণরোষ-কালোমেঘ
তিলে তিলে হলো সীমাহীন---
উঠবে যে ঝড় দেশে
দেখি তারি পূবাভাসে
এই দুঃসময় নাহি বেশী দিন !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জমছে, গণরোষ জমছে....
লুণ্ঠিত মানুষের
এই শুধু জমাপুঁজি
শাসকের দংশনে
চলে গেছে রুটি রুজি
যতদূর চোখ যায়
দ্যাখে শুধু খালি পেট--
আর ওই সামনেই
ঘেরা তার ধান ক্ষেত !
শাসকের নামধারী
চতুর মাকড়সা।
সেও বসে কষে জাল বুনছে---
মামলার নাগপাশে
শিশুরাও বাঁধা প'ড়ে,
লাঞ্ছিতা নারী মাঠে পুড়ছে।
জমছে গণরোষ ২ দুষ্টকবির (জন্ম ২.৭.১৯৫৭) এই গানটি তিনবার, তিনটি রূপে, তিনজন
শিল্পীর দ্বারা গাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার দেবাশিস রায় নিজের সুরে ও কণ্ঠে গেয়েছিলেন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম
আন্দোলনের "ভাঙো বাস্তিল" সিডির জন্য, ২০০৯ সালে। সঙ্গীতায়োজনে - তাপস পাল-শঙ্খ-সবুজ।
গানটির রচনা ২৭.৮.২০০৬। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। গানটির অডিও শুনুন, মিলনসাগর থেকে,
প্লেয়ারে কেলিক করে . . .
এদের তো সবই গেছে।
হারাবার কী আর আছে?
তাই, মুক্তির দিন শুধু গুনছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে....
এই গণরোষ-কালোমেঘ
আরও ঘনিভূত হয়ে
ওই দেওয়ালেই আছড়ে পড়বে।
যতখুশি ইট গাঁথো
পারবে না, পারবে না,
ভেঙে খান্ খান্ হয়ে পড়বে।
নিবেশের পুঁজি যত,
শাসকের জোর, শত
চেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়বে।
দুষ্ট কবি বলে
গণরোষ-কালোমেঘ
তিলে তিলে হলো সীমাহীন---
উঠবে যে ঝড় দেশে
দেখি তারি পূবাভাসে
এই দুঃসময় নাহি বেশী দিন !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জমছে, গণরোষ জমছে...
লুণ্ঠিত মানুষের
এই শুধু জমা পুঁজি
শাসকের দংশনে
চলে গেছে রুটি রুজি
যতদূর চোখ যায়
দ্যাখে শুধু খালি পেট –
লুঠ হয় জল-জমি
জঙ্গল-ধানক্ষেত।
চাষিরা দেনার দায়ে মরছে॥
জমছে, গণরোষ জমছে...
শাসকের নামধারী
চতুর মাকড়সা
শোষণের জাল সেও বুনছে –
মামলার নাগপাশে
কারার আঁধারে বসে,
মুক্তির দিন যারা গুনছে
ওদের তো সবই গেছে,
হারাবার কী আর আছে?
শেকল ভাঙার গান শুনছে।
জমছে, গণরোষ জমছে...
জমছে গণরোষ ৩ দুষ্টকবির (জন্ম ২.৭.১৯৫৭) এই গানটি তিনবার, তিনটি রূপে, তিনজন শিল্পীর
দ্বারা গাওয়া হয়েছে। তৃতীয়বার কবি-গণসঙ্গীতকার রাজেশ দত্ত, গানটিকে অন্যান্য জমি-আন্দোলনের জন্য,
গীতিরূপান্তর করে নিজের সুরে গেয়েছেন ২০১২ সালে। জমি-আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh
Datta YouTube Channel.
এই গণরোষ-কালোমেঘ
আরও ঘন হয়ে ওই
দেওয়ালেই আছড়ে পড়বে।
যত খুশি ইট গাঁথো
পারবে না, পারবে না
ভেঙে খান্ খান্ হয়ে পড়বে।
নিবেশের পুঁজি যত,
শাসকের জোর শত
চেষ্টায় পরাজয় মানছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে...
দুষ্ট কবি বলে,
গণরোষ – কালোমেঘ
তিলে তিলে হল সীমাহীন –
উঠবে যে ঝড় দেশে
দেখি তারই পূবাভাসে,
দুঃসময়ের নেই বেশি দিন।
জনতার প্রতিরোধে,
বিক্ষোভে প্রতিবাদে
দিকে দিকে ক্রোধানল জ্বলছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজও যদি অন্তর তব বিদ্রোহ নাহি করে !
অশ্রুকণা দুই নয়নে, ঝর ঝর নাহি ঝরে !
উত্তাপহীন শীতল মননে, ক্রোধ নাহি ফেটে পরে !
ক্ষোভানল জ্বেলে, ছারখার ক'রে দিতে মন তব ডরে !
জেনো হে মানব, তুমি নিশ্চিত, পাষাণ হয়েছো ম'রে !
বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহী নাহি মরে !
স্বাধীন দেশ আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে বাঁধা প'ড়ে !
নিজ দেশবাসী নিজেদেরই দ্যাখো কেমন দখল করে !
জাতীয় কেতন দেখি না, শুধু দলের নিশান ওড়ে !
আজও যদি অন্তর তব বিদ্রোহ নাহি করে !
জেনো হে মানব, তুমি নিশ্চিত, পাষাণ হয়েছো ম’রে !
বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহী নাহি মরে !
দুষ্ট কবির বাংলায় ফের "বিদ্রোহ" গান করে !
দেশবাসী আজ নেমে এসো পথে, নব বিদ্রোহ সুরে !
তুমি ঘুরে আজ রুখে দাঁড়ালেই, আঁধার যাবে যে স’রে !
আজও যদি অন্তর তব বিদ্রোহ নাহি করে !
জেনো হে মানব, তুমি নিশ্চিত, পাষাণ হয়েছো ম’রে !
বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহ কর, বিদ্রোহী নাহি মরে !
বিদ্রোহ কর কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
সুর ও কণ্ঠ - দেবাশিস রায়। সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল। ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ।
গানটির রচনা ২৯.১১.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অধীনতার আঁধার শেষে স্বাধীনতার আলো দেখেছি।
স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে ঋদ্ধ হয়েছি॥
দেখেছি স্বাধীন ভারত মাতার কোলে অবহেলা, ঘৃণা।
দেখেছি অধিকার কেড়ে নেওয়া বিষধর শত ফণা॥
দেখেছি কত বিদ্রোহ দেশে বহে আনে নব আশা।
তারপর সেই বিদ্রোহীদের পাঁকে ডুবে যাওয়া দশা॥
সদাই চেয়েছি পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা বলার।
চেতনা-আলোয় তাদের নিয়ে এক সাথে পথ চলার॥
আজকে সাঁঝের শঙ্খ ধ্বনিতে শুনি বিদ্রোহ ডাক।
আহ্বান করি, সুখ নীঢ় ছাড়ি ছড়াও দ্রোহের আগ॥
দুষ্ট কবির ধন্য জীবন লিখে এই আহ্বাণ।
বাংলা জ্ব'লে, অত্যাচারের হোক আজ অবসান॥
অধীনতার আঁধার শেষে স্বাধীনতার আলো দেখেছি॥ আহ্বান
কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। সুর - দেবাশিস রায়। কণ্ঠ ও সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল।
ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির রচনা ২৭.১১.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নন্দীগ্রামে এখন নাকি
নতুন সূর্যোদয়!
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ ভেঙে
আবার বুদ্ধময়!
যা ঘোষণা - তাই!
"দম দম দাওয়াই"!
শ্মশানরূপী নন্দীগ্রামের
"দখল করা" শান্ত ছায়ায়,
বাইক বাহিনী দাপিয়ে ব্যাড়ায়
চোখের জল চোখেই শুকায়!
কুচলে দেওয়া মানুষগুলোর
নিঃশ্বাস ফেলা দায়!
এটাই কি "নতুন সূর্যোদয়"?
লাল পতাকায় মোড়া,
গ্রাম কে গ্রাম পোড়া!
জ্যান্ত মানুষ, হিসাব-বিহীন,
চিতায় ভষ্ম করা!
এখনও যাদের জীবন আছে,
ত্রাণ শিবিরে সিঁটিয়ে বাঁচে,
নানা ছলে শিবির তুলে
নতুন সূর্যোদয় কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা -
মানিক মণ্ডল, ভিডিও সম্পাদনা - সোমনাথ। গানটির রচনা ২২.১১.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র
আবৃত্তি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
১৪ই মার্চ ২০০৭ তারিখে নন্দীগ্রাম পুনর্দখল করার সরকারী অভিযানের নাম ছিল “Operation Sunshine”! তারপরে লেখা . . .
তাদের "চরম ভয়"-এর বলে
ঘরে ফেরাতে চায়!
এটাই নাকি "নতুন সূর্যোদয়"?
হার্মাদ বাহিনী!
তার অবাক কাহিনী!
এমন জীবও বাংলার ঘরে,
কোক্ষে ধ'রে প্রসব করে,
জন্মেও শুনি নি!
তার মগজ ধুয়ে সাফ!
বুদ্ধের এই মরুদ্যানে
তার সাত খুন মাফ!
দৈনিক মজুরি,
তার ঠিকানা --- খেজুরি!
খুন করলে বোনাস পাবে,
ধর্ষণ উপরি!
পাশের বাড়ির মা বোনেরাও
ঝালমুড়ি হন তার রসনায়!
তাদের কৃপায় "নতুন সূর্যোদয়"?
এ হেন মহান বাম!
যার মাথায় বুদ্ধ-বিমান!
“নতুন সূর্যোদয়”-এর ত্বরায়
ভাইয়ের-বোনের রক্ত ঝরায়!
হার্মাদদের তপ্ত লালসা
মা-বোনেদের জঠরে ছড়ায়!
এটাও কি "নতুন সূর্যোদয়"?
এমন সূর্যোদয়-এর কথা
লিখতে গিয়ে দুষ্ট কবির
রক্ত ফোটে শিরায়, শিরায়!
গণতন্ত্রের ভাঙ্গা হাটে
মানুষ অসহায়!
এটাই তবে "নতুন সূর্যোদয়"!
এটাই এখন "নতুন সূর্যোদয়"!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরে বাংলার লক্ষ্মী ছেলে মেয়ে
এখন, ভালমানুষী ছুঁড়ে দিয়ে
নামরে পথে মশাল নিয়ে,
তোর, স্বাধীন দেশে জন্ম কেন বল ?
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল ।
কেন রাজার কথায় উঠিস বসিস ?
তার কথাতেই মিছিল ভরিস ?
এই গোলামীর শিকল ভেঙে
আয় নেমে না ভেবে, কি তার ফল ।
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল ।
পা বাড়ালে কী যে হবে ?
রইবি কি না আর এ ভবে ?
এ সব ভাবার সময় গেছে
এই বাঁচা কি বাঁচা, তুই বল ?
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল ।
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
সুর - দেবাশিস রায়। কণ্ঠ ও সঙ্গীতায়োজন - অমিত রায়। ভিডিও নির্দেশনা - মানিক মণ্ডল। ভিডিও সম্পাদনা -
সোমনাথ। গানটির রচনা ২৬.১১.২০০৭। সেই বছরের শেষে প্রকাশিত “বাংলা জ্বলছে” নামক সি.ডি.র গান। সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta.
পিশাচ রাজার খামখেয়ালী
উন্নয়নের ধূম হেঁয়ালী ।
এই লুঠ-দখলের বিরোধ করে
গর্জ্জে উঠে তর্জ্জনি তুই তোল ।
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল ।
আগুন বুকে বাংলা জ্বলে ।
দুষ্ট কবির কলম বলে ---
সেই আগুনের আঁচেই আবার
মনকে তোরা শোধন করে তোল ।
এখন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে চল ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মোরা গড়বো, বলে চাইছি, কিছু গড়বার অধিকার
এই ধ্বংসের, যুগ-মধ্যে, কিছু করবার অধিকার।
মোরা শ্রমিক, মজদুর, মোরা সাধারণ শ্রমজীবী
মোরা বাঁচবো, বলে চাইছি, তাই বাঁচবার অধিকার।
কেউ শুষে নিয়ে সব রস, যায় সবুজের সন্ধানে
মোরা রয়ে গেছি, মোট বয়ে গেছি, সয়ে ঝঞ্ঝা অনাহার।
চারিদিকে, শুধু ভাঙছে, আর ভাঙছে, রোজ দিন
এরই মাঝ, মোরা লড়ছি, এ লড়াই গড়বার।
মোরা লড়বো, মোরা করবো, মোদের স্বপ্নকে বাস্তব
শত ঝঞ্ঝায়, লড়ে পাঞ্জা, হবে লঙ্ঘন পারাবার।
কত হতাশা, কত কুত্সা, কত নেপথ্যে কালো হাত
সব ছাড়িয়ে, সব গুঁড়িয়ে, এ লড়াই বার বার।
কানোরিয়ার জন্য
কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ১৪.১.২০১০। ধর্মতালায় কানোরিয়া
আন্দোলনের একটি মঞ্চ থেকে দেবাশিস রায় তাঁর সুরে ও কণ্ঠে এই গানটি
গেয়েছিলেন। গানটি শুনুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে বাঙ্গালী!
তোমার তুলনা হয়না!
তুমি না খেতে পেয়ে মরলে সরকার যখন বলে---
যে তুমি অনাহারে নয় অখাদ্য খেয়েই মরেছ!
তা শুনেই তোমার আত্মার মুক্তি হয়!
তোমার স্ত্রী, তোমার সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে
যখন হাস্পাতালের বেড না পেয়ে মাটিতে শুয়ে থাকে!
স্বাস্থ্ব্য মন্ত্রকের মহিলা আমলা তখন বলে---
মাত্র তো দু এক দিনের ব্যাপার! তেমন কোনো প্রবলেম তো হবার কথা নয়!
শুনে তোমার মন গভীর প্রশান্তিতে ভরে ওঠে!
হাস্পাতালে তোমাদের শিশুরা যখন মুরগীর মড়কের মত মরতে থাকে!
ডাক্তার মন্ত্রীর পরিসংখানে ব্যাপারটা নর্মাল---
শুনেই তুমি আশ্বস্ত হও!
প্রকাশ্য দিবালোকে মহিলার কাপড় টেনে ছিঁড়লেও,
যখন প্রশাসন বলেন---
এরকম তো কতই হয়!
তোমার বিক্ষুব্ধ মন শান্ত হয়ে যায়!
হে নারী! বাঙ্গালী পুরুষকে খানিকটা পৌরুষ ধার দাও
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ৩০.১.২০০৭। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন নীচের প্লেয়ারে ক্লিক করে।
শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবার অপরাধে
হাত কেটে নেওয়া মানুষের ছবি দেখেও---
'শান্তিতে থাকার' জন্য বিপুল বহুমতে তাদেরই ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনো!
শিল্পায়নের নামে সিঙ্গুরের আবালবৃদ্ধবনিতাকে নির্মম প্রহার করে
তাঁদের জমি জোর করে কেড়ে নেবার চলন্ত ছবি দেখেও
সংস্কৃতিবান মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হও
বিস্মিত এই দুষ্ট কবির প্রশ্ন---
যারা এই পোড়া দেশে প্রতিবাদ করতে পথে নেমেছে
তাঁদের মধ্যে এত নারী কেন?
মহাশ্বেতা, মমতা, মেধা, অনুরাধা, শাঁওলী, মল্লিকা
রাজ-কল্কের দমে বুঁদ সেই সংস্কৃতির ধামাধরা পুরুষরা কোথায়?
ওহো! তাঁরা তো সব সংস্কৃতিতে মশগুল!
তাঁদেরও গর্জে উঠতে দেখা যায়---
বিদেশে বা কোনো দূর প্রান্তে যখন অন্যায় করা হয়!
কিন্তু, এখন তাঁরা ব্যস্ত মেলার মেলায় ---
অগত্য নারীদেরই এগিয়ে এসে সবার লাজ রক্ষা করতে হচ্ছে!
জানিনা এত পৌরুষ এই নারীরা পেলেন কোথায়?
হে নারী!
এই ক্লীব, মানবেতর, বাঙ্গালী পুরুষকে খানিকটা পৌরুষ ধার দাও!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি বিদ্রোহ, ফিরেছি আবার এই বংলার বুকে,
আমি বিদ্রোহ, ঘুম ভাঙ্গা ডাক, নিদ্রিত বাঙ্গালীকে।
আমি বিদ্রোহ, এসেছি আবার বাংলাকে নাড়া দিতে
আপাত-শান্তি-স্বপন ভেঙ্গে সত্যের দোরে নিতে।
আমি বিদ্রোহ তার মনে, যার সন্ত্রাসে দিন কাটে,
এই বুঝি কারা কেড়ে নেবে এসে জীবন-জমি-ভিটে।
আমি বিদ্রোহ, শোষকের চষা পাকা ধানে মই চালি,
অপরের কেড়ে আখের-গোছানো-গরম-ভাতের বালি।
আমি বিদ্রোহ, স্মরণ করাই পশু-পাখী-কীট নও,
এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজাতি, আরও সংযত হও।
আমি বিদ্রোহ, দর্পণ তার, বিদ্রোহী ছিল যারা,
বিস্মৃত সবই, শাসকের বেশে শোষণে ব্যস্ত তারা।
আমি বিদ্রোহ, পদাঘাতে করি সবার দর্পচূর্ণ,
পরিসংখানে রাঙা চশমার স্বপ্ন করি বিদীর্ণ।
বিদ্রোহ দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
রচনা ১.২.২০০৭। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন নীচের প্লেয়ারে ক্লিক করে।
আমি বিদ্রোহ, সিঙ্গুরে তাপসী, সেলীম নন্দীগ্রামের,
আগ্রাসী হাত থামিয়ে দিতে, বলি দিতে পারি প্রাণের।
আমি বিদ্রোহ, কবিদের বলি প্রতিবাদ করে চল,
হেঁয়ালী-কথার আড়াল ছেড়ে, সোজাসুজি কথা বল।
আমি বিদ্রোহ, বলি জ্ঞানী তুমি সমাজে বিবেক-বিভু ,
রাজার প্রসাদে চোক্ষু মুদিলে কাল কি ক্ষমিবে কভু?
আমি বিদ্রোহ, করি বাধ্য রাজাকে মানতে প্রজার দাবী,
আমি ছন্দহীনেরে কবি করে ছাড়ি, যেমন এ দুষ্টকবি।
আমি বিদ্রোহ, আসবো আবার যবে তুমি হবে ভ্রষ্ট,
আমি বিদ্রোহ, তোমারে সুমতি ফিরিয়েই হব তুষ্ট॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আবার জেগেছে সাঁওতাল আজ বঙ্গাল দেশ ছেয়ে।
দ্রিমি দ্রিমি বোলে, মাদলের তালে কী গান যায় গেয়ে ?
সরলতা আর ভালোমানুষীর করুণ প্রতিদানে,
ঘুরে দাঁড়িয়েছি সাঁওতাল মোরা, অধিকার পরমাণে।
অত্যাচারীর তরবারী রুখে দাঁড়ায়ে, জান-কবুল।
বিদ্রোহ বাজে মাদলে মাদলে - হুল বলো হুল !
বাংলায় জ্বলে দিগন্ত থেকে দিগন্তে দ্রোহানল।
তারি শিখা থেকে জ্বলেছে সারা জঙ্গলে দাবানল।
স্বাধীন দেশের বুকে আজও কেন চরম অপমান ?
উত্তর আজ দিতে হবে তারই, লাগে দেব বলিদান।
যদি মনে কর বেয়াদপী তবে শোনো ওই নির্ভুল ---
বিদ্রোহ বাজে মাদলে মাদলে - হুল বলো হুল !
অনাহার আর কুশাসনে ডরা, যত-অধিকার হারা,
ভেঙে চুরমার ক’রে চাই মোরা, মুক্ত জীবন ধারা।
অবরোধে-প্রতিরোধে পথ বাঁধা, বর্জিত প্রশাসন।
বনভূমি বাসী সমাজের কাছে মাঁগে সমান আসন।
নিস্তার নাই, ছাড়বো না দাবী, সাঁওতাল-শার্দুল।
বিদ্রোহ বাজে মাদলে মাদলে - হুল বলো হুল !
দুষ্টকবি কয় আবার ফুটেছে অগ্নিযুগের ফুল !
বিদ্রোহ বাজে মাদলে মাদলে - হুল বলো হুল !
আবার জেগেছে সাঁওতাল কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে
প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন ভিডিওটিতে। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। রচনা ৭.১২.২০০৮।
লালগড় আন্দোলনের গান। ভিডিও নির্দেশনা মিলটন। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel. ইটালিকস-এ লেখা অংশ গানে নেই।
পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র সাঁওতাল অধ্যুসিত জঙ্গল মহলে যে বিদ্রোহ আমরা দেখেছি, তারই
প্রতিচ্ছবি এই কবিতায়। অভিযোগ উঠেছিল যে এলাকার পুলিশ নাকি মেয়েদের কাপড় তুলে
দেখতে চেয়েছে তারা মেয়ে কিনা। মেরে বৃদ্ধার চোখ উপড়ে দিতে পিছপা হয় নি। মাননীয়
মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুলিশের অত্যাচার চরমে উঠেছিল। গণ্ডোগোলটি শুরু হয় তাঁর
কনভয় কে লক্ষ্য করে বোমা ফাটার পর। সেই সূত্রে পুলিশ গিয়ে, মাওবাদী সন্দেহে বহু দূরের
গ্রামের মেয়েদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কলকাতা মুখ ঢাকো লজ্জায়
তিলোত্তমা কলকাতা!
কৃষ্টির কলকাতা!
তুমি আজ মুখ ঢাকো লজ্জায়
তোমারই গৃহ হতে
মৌলবাদের ঘাতে
জোর ক'রে টেনে নেয়-
আশ্রিতা নারী। তাই
শুধু মাথা-গোঁজা ঠাঁই
পেতে ঘোরে অন্যের দরজায়
বাড়ী বাড়ী।
কৃষ্টির কলকাতা!
সৃষ্টির কলকাতা!
তুমি আজ মুখ ঢাকো লজ্জায়।
কলকাতা মুখ ঢাকো লজ্জায় কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে ২০০৯ সালে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই
গানটি শুনুন অডিও প্লেয়ারে। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। রচনা ২৪.১১.২০০৭।
কলকাতার পক্ষে একটি অতি লজ্জাজনক ঘটনা ছিলো, লেখিকা তসলিমা নাসরিন কে এ রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা,
সংখ্যালঘু মৌলবাদীদের কাছে নতিস্বীকার করে। সেই কলকাতা, যে “ওয়াটার” ছবির শুটিং কলকাতায় শেষ করার
কথা বলেছিল! সেই কলকাতা, যে গুজরাট দাঙ্গা-পীড়িতদের তার কোলে আশ্রয় দিয়েছিল . . .
কারা সুচতুর হেঁকে
মৌলবাদের ঠেকে
চায় তোমাকে টেনে তুলতে ?
আর কেউ পারবে কি
এই শহরের বুকে
নিজ কথা প্রাণ খুলে বলতে ?
তাই বলি কলকাতা
তুমি শুধু ভুলে থাকো
সেক্টর ফাইভের সজ্জায়।
তাই গো নন্দিনী!
নীরবেতে বসে কাঁদো
আর
দুই হাতে মুখ ঢাকো লজ্জায়।
আইন আছে, ফাইন আছে,
শাস্তি বিধান আছে,
ভারতের বাইশ-ভাগা
সংবিধান আছে।
কালের কবির শলা---
যদি এটা খেলা-খেলা,
কলকাতা ডুবে মরো লজ্জায়।
ছিলে কল্লোলিনী!
হলে কলঙ্কিনী!
তাই তুমি মুখ ঢাকো লজ্জায়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে
মশালের আগুন কথা বলে
তার দামাল শিখার তালে
নাচে যত বাংলা মায়ের ছেলে॥
ওঠে তোর বেবাক কণ্ঠ গেয়ে
শুনে তা, লুণ্ঠিত যায় ধেয়ে
বাংলা মায়ের যত মেয়ের
ধরাতলে রক্ত যায় বয়ে॥
ঘুম ভাঙলো বিষাণ শুনে
কালো হাত তখনও জাল বোনে
জমে মেঘ মায়ের ঈশান কোণে
নির্ভিক, বলির প্রহর গোনে॥
মশালের আগুন কথা বলে
তার দামাল শিখার তালে
আগুনে ঝাঁপায় সবাই মিলে
লেখা, জয় হবেই, তাঁদের ভালে॥
মশাল জ্বলে ১ দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ২৭.৩.২০০৭। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে আন্দোলনের কবিতা।
২০০৭ সালে প্রকাশিত "বাংলা জ্বলছে" অ্যালবাম থেকে এই গানটি দেবাশিস রায়ের সুরে ও কণ্ঠে শুনুন। ভিডিওটি
সৌজন্যে srimilansengupta YouTube Channel.
হাতে তার মশাল জ্বলে দেখে
চমকে দাঁড়ায় দিকে দিকে
বাংলার এ-রূপ ছটা দেখে
ধন্য, দুষ্টকবি লিখে॥
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে
মশালের আগুন কথা বলে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে।
মশালের আগুন কথা বলে।
তার দামাল শিখার তালে তালে
নাচে যত বাংলা মায়ের ছেলে॥
ওঠে তোর বেবাক কণ্ঠ গেয়ে,
শুনে তা লুণ্ঠিত যায় ধেয়ে।
বাংলা মায়ের যত মেয়ের
বয়ে যায় রক্ত ধরাতলে॥
ঘুম ভাঙল বিষাণ শুনে।
জমে মেঘ ঈশান কোণে।
কালো হাত তখনও জাল বোনে।
নির্ভীক কালের প্রহর গোনে॥
মশালের আগুন কথা বলে।
আগুনে ঝাঁপায় সবাই মিলে।
তার দামাল শিখার তালে
লেখা জয় হবেই তাদের ভালে॥
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে (মশাল জ্বলে ২ )
মূল কবিতা - দুষ্ট কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। কবিতার গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠ - রাজেশ দত্ত
গানটি দুষ্টকবির ‘বলো সিঙ্গুর বলো নন্দীগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থের ‘মশাল জ্বলে’ কবিতার গীতিরূপান্তর। রচনাকাল ২৭ মার্চ
২০০৭। ভাঙরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠ - রাজেশ দত্ত।
সুরারোপ: ১২ জানুয়ারি, ২০১২। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
বাংলার মশাল জ্বলে দেখে,
চমকে দাঁড়ায় দিকে দিকে।
বাংলার এ-রূপ ছটা দেখে
ধন্য, দুষ্ট কবি লিখে॥
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে।
মশালের আগুন কথা বলে।
তার দামাল শিখার তালে তালে
নাচে যত বাংলা মায়ের ছেলে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংলা মায়ের আঁচল ছিঁড়ে,
শষ্য-শ্যামলা বসুমতী কেড়ে,
গড়ছে যেন বাংলার বাস্তিল!
তাই সমাবেত আজ লাখে লাখে,
সংঘবদ্ধ হুংকারে হাঁকে---
“ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল!
ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল!”
এতকাল-ভয়ে স্তব্ধ জনতা,
সঞ্চিত করে যত ক্ষোভ-ব্যথা,
ফিরে পাওয়া নব কণ্ঠ-স্বরে
আকাশ বাতাস নিনাদিত ক’রে,
কয় রাজারে “ভাঙো তোমার পাঁচিল!”
“ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল!
ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল”
ভাঙো বাস্তিল! কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা
মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন অডিও প্লেয়ারে। গানটির সঙ্গীতায়োজন
করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। রচনা ৩১.৮.২০০৮, এস. এস. রিভার এম্বলে, অস্ট্রেলিয়া। ..
সিঙ্গুরে টাটার কারখানাটাকে যে ভাবে দুর্গের মতো গড়ে তোলা হয়েছিল, বিরোধীদের দ্বারা সেই কারখানার
অবরোধকে দুষ্টকবি ফরাসী বিপ্লবের সময়কার রাজ-কারাগার বাস্তিল এর অবোরোধের সাথে তুলনা করেছেন।
ভাঙো শোষণের বজ্র আঁটুনি,
ভাঙো সন্ত্রাস, রোখো হানাহানি,
ভাঙো সবগ্রাসী কায়েমী স্বার্থ,
ভাঙো অসত্য, ভাঙো অনর্থ,
রাজার আদেশ ধুলায় করে বাতিল!
“ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল!
ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল”
কত তাজা প্রাণ ঝরে গেছে হেথা,
ধানক্ষেত ঘিরে দেওয়ালেতে গাঁথা!
সেই দেওয়াকে ভেঙে দিতে চায়,
ঘেরা জমি আজ ছিনে নিতে চায়,
কালেরকবিও কণ্ঠ মেলায়---
“গুঁড়িয়ে দাও! গুঁড়িয়ে দাও!
ভাঙো এই বাংলার বাস্তিল!”
“ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল!
ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল! ভাঙো বাস্তিল”
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মোরা, করছি বড়াই, খবর ছড়াই,
তোমার আদেশ ছাড়াই ।
তুমি, মারছো মারো, ধরছো ধরো,
কেয়ার করি থোড়াই!
যুগের, দীপ্ত-মশাল আলোর তলে
আঁধার যতই সরাই!
সুপ্ত খবর লুপ্ত করার
চেষ্টা রুখে দাঁড়াই ।
সবার, ধোপ-দুরস্ত বসন তলে
হিয়ার কেমন লড়াই!
আসল মুখটা দেখতে কেমন,
মুখোশ যখন সরাই!
তুমি, করলে ভালো, বলবো ভালো,
মন্ত্র “সত্য” বলাই,
মোদের, কণ্ঠ রুদ্ধ করলে হবে--
তোমার মুখোশ খোলাই!
মোরা করছি বড়াই খবর ছড়াই কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)।
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন
প্লেয়ারে . . .। রচনা ২৬.১২.২০০৮। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। ইটালিকসে লেখা
অংশ গানে নেই।
.......একের পর এক সাংবাদিকদের উপর প্রশাসন দ্বারা আক্রমণের ঘটনার বিরুদ্ধে কবির প্রতিবাদ . . . .
ক্যামেরা ভেঙে, চোখ রাঙিয়ে,
ঠ্যাঙারে দিয়ে ধোলাই,
মারছো মারো, ধরছো ধরো,
কেয়ার করি থোড়াই!
খবর তুলে আনতে যাদের
দিবস নিশি লড়াই
দুষ্টকবির লেখার কারণ
তাদের সেলাম করাই ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ক্ষ্যাপা ষাঁড় ঘোরে তেড়ে ফুঁড়ে,
জনপথ অলি গলি কাঁপিয়ে।
সরাসরি দাঁড়া সিং ধরে,
এই বেলা পথে নাম ঝাঁপিয়ে।
চুপ ক'রে ঘরে বসে থেকে
লাভ নেই, তুই পার পাবি না।
যদি ঘরে এসে ঢোকে,
তুই পালাবার পথ পাবি না।
যাঁরা পথে নেমে রোখে এই ষাঁড়,
যাঁর, আগুন ঠেকাতে পোড়ে ছাতি,
তাঁদের গায়ের আঁচে কতকাল আর
তুই রাঁধবি চড়ুইভাতি?
তোর ঘর-সংসার, পরিবার?
তোর দেশ, পরিবেশ, পারাবার?
কে নেবে ভার, তাকে বাঁচাবার?
তোর নেই কি কোনোই দায়ভার?
ক্ষ্যাপা ষাঁড় ঘোরে তেড়ে ফুঁড়ে কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ৯.৩.২০০৯।
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন ভিডিওটিতে।
গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। ভিডিও নির্দেশনা - মিলটন। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta
YouTube Channel.
কালের কবি ব'লে যায় ---
যদি চাস্ এই দিন বদলায়,
তবে, দ্বার খুলে পথে নেমে আয়!
তবে, মুখ ফুটে বল --- "আর নয়"!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শরতের মেঘ যাবার বেলায়
বলে গেলো --- হাওয়া ঘুরছে!
ঝরা পাতা ঝ’রে কানে কানে কয়
ওই দ্যাখো --- হাওয়া ঘুরছে!
সকাল সাঁঝের কুহেলিকা জ’মে
ফিস্ ফিসে বলে --- ঘুরছে!
ঘুরছে! হাওয়া ঘুরছে!
হাওয়া ঘুরছে! ঠিক ঘুরছে!
ঘাসে ঘাসে জমা শিশিরে শিশিরে
একই কথা --- হাওয়া ঘুরছে!
তুলসী তলায়, আকাশ প্রদীপে
টিম টিমে বলে --- ঘুরছে ।
মিটি মিটি তারা, ছায়াপথ ধারা,
সকলেই বলে --- ঘুরছে !
ঘুরছে! হাওয়া ঘুরছে!
হাওয়া ঘুরছে! ঠিক ঘুরছে!
হাওয়া ঘুরছে কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন ভিডিওটিতে।
গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। ভিডিও নির্দেশনা মিলটন। রচনা জলপাইগুড়ি, ১৬.১.২০০৯।
ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
যখন বোঝা যাচ্ছিল যে পরিবর্তন হতে চলেছে . . .
যার জমি ঘেরা, রুজি-রুটি কাড়া,
সে তো জানে --- হাওয়া ঘুরছে!
যার কারখানা গেটে তালা মারা
চোখে মুখে --- হাওয়া ঘুরছে!
যার পেটে নেই শুকনো রুটিও
তারও মনে --- হাওয়া ঘুরছে!
ঘুরছে! হাওয়া ঘুরছে!
হাওয়া ঘুরছে! ঠিক ঘুরছে!
স্লোগানের ঢং, পতাকার রং
সবই বলে --- হাওয়া ঘুরছে!
মশালে মশালে আগুনের শিখা
জ্ব’লে বলে --- হাওয়া ঘুরছে!
কালের কবিও দেয়াল লিখনে
দ্যাখে, লেখা --- হাওয়া ঘুরছে!
ঘুরছে! হাওয়া ঘুরছে!
হাওয়া ঘুরছে! ঠিক ঘুরছে!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চলতে যখন হবেই পথে
বাঁধরে সম্বল ।
যে ঠিকানায় ছিলি তোরা
সে সব রাজার লুঠে সারা
নতুন ঠিকানায় যেতে
বাঁধরে সম্বল।
তোর দু-হাত দু-পায়
শেকল পরায়
জমি জিরেত ছিনিয়ে ঘেরায়
তোকে করেছে হীন বল।
তাই বাঁধবি কী সম্বল?
এই হতাশার আঁধার ঘেরায়
কালের কবি তোর কানে কয়
তোর বাহির লুঠে নিলেও তো রয়
অন্তরে মনোবল!
সে অন্তরে ভিড়বে না রে
জাত লুটেরার দল।
ওরে তোর সেটাই সম্বল।
চলতে যখন হবেই পথে কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন
ভিডিওটিতে। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ। ভিডিও নির্দেশনা মিলটন। রচনা
২৯.৩.২০০৮। ভিডিওটি সৌজন্যে Milan Sengupta YouTube Channel.
তোর মনের হাপর চালিয়ে জ্বালা
অন্তরের অনল।
তার আলোতেই দেখবি রে পথ
তার আগুনেই পুড়বে সতত
লুঠ দখলের ছল।
চলতে জখন হবেই পথে
বাঁধরে সম্বল ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই বাঙালী শোন!
তোকে গুণ করেছে কোন্
অল্প কিছু পাইয়ে দেবার
নামে কপট-ছল?
তোর চিত্ত আজ বিকল।
হ'রেছে তোর মান ইজ্জৎ,
মগজ ধুয়ে সাফ ক'রে তোর
বঙ্গজ আত্মাটিকে
করেছে দখল!
তবুও তোরা দেখেই চলিস
ফ্লাই ওভার, শপিং মল!
ন্যায়, নীতি আর বিবেকটাকে
পাঠিয়ে সোজা মায়ের ভোগে,
গণহত্যার মিছিল করে
ঢালে হলাহল!
তোরা শুধু দেখেই চলিস
ফ্লাই ওভার, শপিং মল!
চোখের উপর দিন দুপুরে,
এই বাঙালী শোন কথা - দুষ্টকবি / কালের কবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)
দেবাশিস রায়-এর সুরে ও কণ্ঠে রাগা মিউজিক থেকে প্রকাশিত, "ভাঙো বাস্তিল" অ্যালবামের এই গানটি শুনুন
ভিডিওটিতে। রচনা ৩০.১২.২০০৭। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছিলেন তাপস পাল, শঙ্খ-সবুজ।
গ্রাম কে গ্রাম উজাড় ক'রে,
নির্বিচারে গণধর্ষণ,
চালায় এখন, যখন তখন,
দুঃশাসনের নবীন আদল
আর সইবি কত বল!
তবুও তোরা দেখেই চলিস
ফ্লাই ওভার, শপিং মল!
ওরে, গা ঝাড়া দিয়ে জাগ্!
জ্বালা বুকের আগ!
আর কতকাল থাকবি ভুলে,
মান ইজ্জৎ শিকেয় তুলে,
এই বেলা তুই বল!
মিথ্যা শান্তি-স্বপ্ন কাটিয়ে,
বাঙালী, তুই ঘুড়ে দাঁড়িয়ে
আবার মাথা তোল।
আর কত কাল দেখেই যাবি
ফ্লাই ওভার, শপিং মল!
পচন ধরা দেউল ধরে
দে সজোরে দোল!
বহুকাল পর আবার তুই
মনের দরজা খোল!
চেয়ে দেখ, তোর মায়ের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুণপোকার ছল!
পরের মাটি জীবন কেড়ে,
তাতে নতুন ভূবন গ'ড়ে,
নিজের সুখের দুধে-ভাতেই
থাকলে হবে বল ?
তোরা কি সব দেখেই যাবি
ফ্লাই ওভার, শপিং মল ?
কালের কবি নিত্য বলছে---
মাকে দেখে নিলাম মঞ্চে,
প্রতিরোধ গড়ে তোল।
বরফের যুগ কাটিয়ে বুকে
আগুন জ্বালিয়ে তোল!
আর কত কাল দেখেই যাবি
ফ্লাই ওভার, শপিং মল?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই তো সেদিন পরিবর্তন আনলো জোয়ার মনে,
ভাবলো সবে “নিলাজ প্রদর্শন”-টা যাবে থেমে!
কী যে ব’লে দু কান ম’লে ডুব দিলো বাংগালি,
আড়ালে যা চলতো, এখন চলছে খোলাখুলি!
ভুলিয়ে সারদাকে, নারদাকে গুলিয়ে দিয়ে
গন্ধ ঢাকে উন্নয়ণের ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে।
থীমের পূজোর পোয়াবারো, টাকার খেলায় মেতে।
প্রজার উপরী পাওনা --- মুখ্যমন্ত্রী কাটলে ফিতে।
নেয় না নালিশ থানায় গেলে, দলের মত্ না পেলে,
ব্যস্ত পুলিশ উন্নয়ন-উত্সবের জাঁতাকলে!
ক’টা বছর সুযোগ পেয়ে ফুর্তি করার তালে
দেশ ডুবেছে সিণ্ডিকেট আর তোলাবাজির চালে!
পেটোয়া ক্লাবের ঠাকুর-মিছিল, লাল-সরণী পরে
ভিক্ষে পাওয়া দু-লাখ ফেরত দিচ্ছে ধামা ধ’রে!
এ শরতেও দুগ্গা মায়ে দুষ্টকবি কয়---
লজ্জা দে মা, শরম দে মা, একটু দে মা ভয়॥
এই তো সেদিন পরিবর্তন আনলো জোয়ার মনে
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা - ১০.২০১৬।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পরিবর্তন! বাংলায় শেষে হয়ে গেল দেখ পূর্ণ।
লাল দুর্গের নড়বরে ভীত মাটিতে মিশে চূর্ণ॥
লালের যাকিছু ছিল এককালে, এখন মেলা ভার।
লালের যাকিছু, সবই এখন ঘাসফুলে একাকার॥
এই ফাঁকে যত হারমাদ যারা হাড়-মাস খেতো মানবের।
লাল জামা ছেড়ে জোড়াফুলে ভিড়ে অতি প্রিয় জ্যোতিপ্রিয়দের॥
নায়ক ব্যাপক সিনেমার, যেন ইতিহাস থেকে দিনেমার।
প্রকাশ্যে বলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মার মার আর মার মার॥
বীরভূমে বীর অনুব্রতের “স্লিপ-অফ-টাং”-এ জ্বলে ঘর।
দিদির হস্ত মস্তকে তার! তাকে কে দেখাবে শ্রী-ঘর॥
লালের নেতারা কেঁদে বলে--- যারা আমাদেরই ছিল সভাসদ!
নির্বাচনের জয়ে যারা ছিল ভোটে জেতাবার সম্পদ॥---
ঐ দেখ আজ লাল জামা ছেড়ে বুকে এঁকে চলে ঘাসফুল।
ঘাসফুলী যত নির্দলীদের দাওয়াইয়েতে সাকসেসফুল॥
মহাকরণে বন্ধ কি, লাল কালী দিয়ে নোট লিখবার ?
খতম কি সেথা বাবুদিগদের লালফিতে-দেওয়া কারোবার ?
সেই লাল যদি বিদায় করতে পারে নব প্রতিনিধিরা।
মেনে নিতে হবে--- পরিবর্তন থাকবে না আর অধরা॥
কবি বীরেন্দ্র শেষ হাসি হাসে “রাজা আসে যায়” কবিতায়।
দুষ্ট কবি লালে-লাল-রঙা সিঁদুরে-মেঘ দেখে যায়!
পরিবর্তন পূর্ণ হলো দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা - ৩১.৭.২০১৩।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মহামারী চাপা দিতে মিথ্যের গান
মিথ্যের ঝুলি ভরা পরিসংখ্যান!
ক্ষমতার খই চাটা কবিদের ঝাঁক
ডিলিটে বিঙূষণে তাঁরা সুখে থাক
মুখ চেপে ধরলেও খোলা চোখ কান
বুকের ভিতরে জ্বলে আগুনের গান
অরুণাচলেরা বাগে আসে না কেন?
দুষ্টকবিরা সদা অবোধই জেনো
মহামারী চাপা দিতে মিথ্যের গান
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা - ১১.২০১৭। ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুকে অজানা জ্বরে মৃত্যু
বলে লেখার হুকুম অমান্য করার ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা কবি ডঃ অরুণাচল
দত্তচৌধুরীকে হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজপথেতে চলতি গাড়ি তার ভেতরে ধর্ষকাম।
বললে রাণী, মিথ্যা সবই, বিরোধীদের চক্র-দান॥
প্রকাশ্যেতে যখন নারী বলছে তিনি ধর্ষিতা।
রাষ্ট্র তাকে “মিথ্যে” বললে ধর্ষে তাহার মর্যাদা॥
আরেক নারী বল্লে ওটা ব্যবসা-খাতে মতবিরোধ!
ওসব কথা তুলছে কেবল উস্কে দিতে আবেগবোধ॥
রাজ্যবাসী চমকে দ্যাখে, শাসক সহায় ধর্ষকের!
শাসক-ঘেঁষা ধর্ষক, তো সংজ্ঞা বদল ধর্ষণের॥
“বাঙ্গালীদের শিরদাঁড়া নেই”, মানছি যখন বাক্যটা।
এক, পুলিশ বঙ্গ নারীই তখন দেখিয়ে দিল অন্যথা॥
তিন দিনেতে ধরলো দোষী প্রমাণ হলো সত্যতার।
এ সৎ কাজের পুরস্কারে বদলী, পেলো তিরস্কার॥
শাসক-ঘেঁষা পালের গোদা গা ঢাকা দিয়ে পগারপার।
তার প্রেমিকা, প্রেমের বশে, যান তবুও সঙ্গে তার॥
তারপরেতে সোহাগ ভরে শয্যা পেতে পশ্চিমে।
রাত্রি যাপন, মানভঞ্জন, সাঙ্গ লীলা রমরমে॥
“পুরুষতন্ত্র” এর চেয়ে আর মন্দ কী?
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা - ২৭.৩.২০১৯। নারী শাসিত রাজ্যে, পার্কস্ট্রীটে চলতি গাড়ির ভীতরে ধর্ষণ ও তার
নক্কারজনক ও করুণ পরিণতির প্রতিবাদ।
তদন্তে তা সামনে আসে, নাম চেপে দেয় শাসক তার।
মামলা চলার সময়ে দেখি তার নামে নেই এফআইআর॥
সংখ্যালঘু বলেই কি সে ধর্ষণেতেও পাচ্ছে পার?
ধর্ষিতাও তো সংখ্যালঘু, তার বেলা কেন এই প্রহার?
সংখ্যালঘু ভোটটা বেশী, ধর্ষিতার চেয়ে ধর্ষকের।
বস্তা-পচা নৈতিকতার প্রয়োজন নেই শাসকের॥
অভাগীর এক সমাজ-দাদা দিল্লী কাঁপায় গর্জনে।
এইবেলা সাজে মূক ও বধির, মৌনব্রতী ধর্ষণে॥
ভোটের হিসাব পাক্কা আছে রাজনেতা ও নেত্রীদের॥
ভোটের জন্য করতে রাজি বস্ত্রহরণ দ্রৌপদীর॥
ভোটটা এলেই নামটি ওঠে ধর্ষকের ওই প্রেমিকার।
দিল্লী গিয়ে করবে নাকি “উন্নয়ণ” আর দেশোদ্ধার॥
নারীর রাজ্যে নারীই যখন অবিচারে কর্ষিতা।
উপরওয়ালার অশেষ কৃপা, মরেই বাঁচে ধর্ষিতা॥
নারীও এমন লঙ্কা গিয়ে রাবণ হলে ধন্ধ কি?
দুষ্টকবির “পুরুষতন্ত্র” এর চেয়ে আর মন্দ কী?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত!
তুই শান্তি ফিরিয়ে বাঁচতে, যা লড়ে
গণতন্ত্রের শান্তির ভীত হল আজ নড়বড়ে।
তুই শান্তির পথ ছেড়ে এখন ক্রান্তি জড়িয়ে ধরে
কর মনকে শিকল মুক্ত।
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত।
তোর দায়বদ্ধতা পিছু টান গেছে ছেড়ে
এখন ঝাঁপিয়ে পরে শত্রুর প'রে
হুংকার ছেড়ে হা রে রে রে রে
কর নিজেকে দখল মুক্ত।
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত।
যুদ্ধ যখন লেগেছেই খোলাখুলি
তুই ছুড়ে ফেলে মুখে শান্তির বুলি
শান দেওয়া তোর কাস্তে তুলে
রুখে দাঁড়া তোর খেতের আলে
কর মাটিকে শাপদ মুক্ত।
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত।
তুই মুক্ত
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ২৮.৪.২০০৭ । কবিকণ্ঠে কবিতার আবৃত্তি শুনুন নীচের
প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .।
শত্রু যখন বার বার এসে
ঘরের আব্রু দিয়ে যায় পিষে
নে দুই হাতে তোর বন্দুক তুলি
শান্তি কৃষ্টি সভ্যতা ভুলি
কর গ্রামকে পিশাচ মুক্ত।
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত।
দুষ্ট কবি অস্থির মতি
নিত্য দেখে তোদের ক্ষতি
ধিক্কার দিয়ে আকাশ বাতাস ভরায়
শান্তির এই পরিহাস দেখে লেখনী থমকে দাঁড়ায়
কর শান্তিকে ছল মুক্ত।
তুই মুক্ত রে তুই মুক্ত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই বাংলায় নতুন হিড়িক - থীমের খেলাঘর!
পুড়ছে টাকা, উড়ছে টাকা, দুই হাতে তুই ধর!
সাপ-ব্যাঙ পোড়ামাটি বাদাম-খোলা যত,
পাখা ঝিনুক কলস বেলুন ডোকরা কত শত!
সেই চাঁদে যাবার রকেট থেকে পুরুলিয়া ছৌ-নাচ---
থীমের মোড়কে উদ্ধার হবে, বাবুরা রাখবে লাজ!
দেবতার চেয়ে দেবালয় বড় এই কথা যারা ভাবেন,
প্রতিমাখানি নাম-কা-ওয়াস্তে, মণ্ডপ নিয়ে পড়েন!
ভাঙা দেউলের আদল থেকে তাজমহলের ঘাই
অক্ষরধাম, মীনাক্ষী, বল কোন মন্দির চাই?
ঘরে টিম টিম লোড-শেডিং এ জ্যোতির যাওয়া আসা!
মণ্ডপে দ্যাখো মহারাজাদের ঝাড়বাতি ঝোলে খাসা!
আধুনিকতার নব পরিনতি- জীবন হয়েছে দ্রুত!
ছাপোষা বাঙালী সেই যাতাকলে পিষে যায় অবিরত!
তাইতো ক'দিন ভীড় করে ঘোরে, থীম থেকে যায় থীমে!
অন্তবিহীন কাতারে দাঁড়াতে মানুষের ঢল নামে!
তাতেই বাঙালী ডগমগ হয় আনন্দে উল্লাসে!
থীমওয়ালারাও পকেট গোছায়, পুরস্কারে ভাসে!
থীমের পূজা দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ২০.১০.২০০৭ । ইট্যালিকস এ লেখা লাইন দুটি কবি সুকান্তের
বিখ্যাত কবিতা "হে মহাজীবন" থেকে নেওয়া হয়েছে।
মা চলে গেলে যখন থীমের শুধুই ভাঙা হাট,
নির্দয়ভাবে খুলে ফেলে সব মুছে ফেলার পাট!
শুভ বিজয়ায় বিনিময় চলে শুভেচ্ছা আর প্রীতি,
শিল্পী তখন কাঁদে, দেখে তার শিল্পের পরিনতি!
মায়ের বোধন করে নি সিঙ্গুরে জমিহারা চাষি যত!
আধেক বাংলা বানভাসি দ্যাখো, অনাহারে মরে শত!
নতুন যুগের বাবুরা তখন ফুটানিতে থাকে রত!
বিজ্ঞাপনের ঢেউয়ে ঢেকে যায় পূজা-মণ্ডপ যত!
চাঁদার জুলুমে বাঙালীর প্রাণ হয় যে ওষ্ঠাগত!
নমো নমো করে সারে আবাহন, আসল চমক - উদ্বোধন!
বাম-শাসকের ইশারায় চলে পুঁজিপতিদের ফিতা-কাটন!
সমাজবাদের ছায়ার তলায় এই অশ্লিল প্রদর্শন!
দুষ্ট কবি জিঘায় - বাবুরা! কেন আজ এই অধোপতন?
হয়তো বলবে - আসছে টাকা, তুমি কে হে বাপু বলার?
এই দুনিয়ায় যার যত আছে, তার তত উঁচু কলার!
এই কথা গিয়ে বল তাদের, যাদের "পৃথিবী গদ্যময়"!
"পূর্ণিমা চাঁদ ঝলসানো-রুটি" যাদের মনে হয়!
আরে!
সেকেলে বাবুরা ওড়াতো যত নিজেদের টাকাকড়ি!
এখন বাবুরা ঝাঁক বেঁধে করে পরের ধনে পোদ্দারী!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যে বাঙালী স্বাধীনতা আনলো সবার দোর, মৃত্যু বরণ সবার আগে, মূল্য দিয়ে বাংলা ভাগে, তারাই নাকি আজ ভারতে “ঘুসপৈঠী” চোর? ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
ছাই-চাপা যে আগুন আছে, বুকের ভিতর তোর, দাবানলে উস্ কে দে তা, তুই ক্ষেপেছিস, বুঝিয়ে দে তা, ভাল মানুষ হলেও আছে বিরুদ্ধতার জোর। ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
গা ঝাড়া দিয়ে লাফিয়ে উঠে কণ্ঠ ছাড়্ রে জোর। ভীড় করে সব নাম্ রে পথে, ঘুমিয়ে যে জন ডাক্ রে সাথে, বিদ্বেষীরা বলছে এবার কাড়বে এ দেশ তোর। ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
|
“ঘুসপৈঠী” বাঙালী?
দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ২৮.১১.২০১৯। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের, বাঙালী জাতি কে “ঘুসপৈঠী” বা
অনুপ্রবেশকারী বলার প্রতিবাদ। হঠকারী NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
বৌদ্ধ খৃষ্ট মুসলমানী হিন্দু ঘোর-অঘোর বাংলা ভাষাই জুড়ছে তোদের, সেই কারণেই কাড়ছে রে ফের, জমি-জমা-ভিটে-মাটি-স্বদেশ-জীবন তোর। ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
বাংলা মায়ের দুর্দিনে আজ, এই অপমান ঘোর। কে ঘোচাবে মায়ের এ হাল? কে ঠেকাবে দেশ-কাড়া চাল? দুষ্টকবি সুধায় --- কই রে তেমন নেতা তোর? ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধিকি ধিকি ধিকি ধিকি জ্বলছে
খড়ের গাদার অবশেষ।
ধিকি ধিকি জ্বলছে মনের
গহনতম কোণে পরমেশ।
ধূমায়িত বাতাসের কুহেলী
আধপোড়া গ্রাম-বাংলায় ,
অঝোরের অশ্রুধারায়
এ আগুন নিভিতে না চায়।
আশ্রয়হীনা জননীর
শিশু-মুখে দুধ নিঃশেষ!
বল্লভ কোথা কে বা জানে ?
সিঁদুরের প্রয়োজন হয়েছে কি শেষ ?
বয়ঃভারে শীর্ণার মুখ
তরাসে বিধুর পাণ্ডুর,
জীবন সায়াহ্নের কালে---
তাঁর কানে কোন নরকের সুর ?
ধিকি ধিকি ধিকি ধিকি জ্বলছে কথা - দুষ্টকবি (জন্ম ২.৭.১৯৫৭)। রচনা ২০.৭.২০০৯। কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন বিড়লা সভাঘরে
অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের, ভিডিওটিতে। ভিডিওটি সৌজন্যে srimilansengupta YouTube Channel.
মঙ্গলকোটে একজন শাসকদলের নেতা খুন হবার প্রতিশোধে, বিরোধী দলের সমর্থকদের ঘর বাড়ী পুড়িয়ে দেবার ঘটনার পর লেখা।
পোড়া-গৃহে অবীরার বাস,
অভিবাস যুবকের কিশোরের,
শিশুদের কল-কেলি স্তব্ধ,
যেন চকিতে বেড়েছে ভার বয়সের।
মদন ভস্মে পরিনত
শিব নয় মানবেরই রোষে।
ক্ষুধাতুর পিশাচের নৃত্যে
প্রেম! গেছে আঁখি-জলে ভেসে।
রক্ষক মেতেছে অভিসারে!
অবলারে গ্রাসে যে যা পারে
রুখিতে যে যায় তারে ধ’রে
ক্ষমতার ফাঁদে বেঁধে মারে।
রাজে-যমরাজে নাই ভেদ,
এই অরাজকে নাই তার খেদ।
বিভেদের নীতি বিতরণে,
আজ বাংলা জুড়ে নরমেধ।
দুষ্ট কবি অনুযোগে ---
হে বাণী! এ কেমন দিলে বর ?
দিলে ছন্দ যদি লেখনিতে
কেন দেখালে কালের এ বিবর!?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে স্বৈরাতন্ত্রে দে মুখে আগুন,
গণতন্ত্র মানে জনগণের আস্থাকে বিকিয়ে কিনুন।
তাই গণতন্ত্র মানে মিছিল মুখে মিছে স্লোগানের ভাষা,
আর জয় বাংলা ধর্ষণ দেখে মাজা দুলিয়ে নাচা, নাচা, নাচা, নাচা।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গনতন্ত্র মানে কিছু বোকাদের মিছে শহীদ হওয়া,
আজ কাকের হাগায় তাদের স্মৃতিসৌধ ছাওয়া।
চুরি করা ফুল নিয়ে যাই সেখানে আমরা বছরে একদিন,
আর বাজিয়ে বগল বলি, “দেখ শালা মোরা সব হয়েছি স্বাধীন”।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গনতন্ত্র মানে বিশ্বব্যাংক চালায় ভাগ্যের চাকা,
হায়রে বিধাতা দেয়নি ভিখারী জাতিকে বাছাইয়ের কোনো ক্ষমতা।
তাই ঋণখেলাপি আর চোর বাটপাড়িতে ছেয়ে যাওয়া দেশ,
আর পাছার পাচরা চুলকিয়ে বলা “এই তো আছি বেশ”।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে গুলি চালায়,
আর পাশে দাড়ানো পুলিশ আনন্দে দেখি নাকে আঙ্গুল চালায়।
তাই গণতন্ত্র মানে সাংবিধানিক এক মাস্তানতন্ত্র,
আর গায়ের জোরে আর পেশির জোরে চলে জীবিকার মন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে মুক্ত বাজারের তপ্ত আগুন,
আর শেয়ার বাজার লুটেরা কোটিপতি বেড়েছে কত শতগুন।
তাই গণতন্ত্র মানে মধ্যবিত্তের হয়ে যাওয়া অন্ধ,
আর ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখা আজ আপাতত বন্ধ।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে বিশ্ব বেহায়া মুক্ত বাতাসে কবিতা লেখে,
আর দেশপ্রেমী জনতা নব্বইয়ের ইতিহাস ভুলেই গেছে।
তাই গণতন্ত্র মানে পুরোনো বোতলে ঢালো নতুন সুধা,
আরে নির্বীর্য পুরনো পাপীদের ক্ষমতার নতুন ক্ষুধা।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
. গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে দেশপ্রেমী আরে দেশদ্রোহীদের এক মহামিলন,
আর আমাদের ভোটে পাস সাংসদের অশ্লীল আচরণ।
তাই গণতন্ত্র মানে জাতীয় সংসদে জাতীয় কুস্তির প্রদর্শনী,
সরাসরি সম্প্রচার অসুস্থ চিন্তার দেখুক সবাই তার নিদর্শনী।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে জাতীয় আপা আর জাতীয় ম্যাডামের চুলাচুলি
শেষ নাই,
আর জাতির জনক আর জাতির ঘোষক নিয়ে চলছে
দিন রাত লড়াই লড়াই।
তাই গণতন্ত্র মানে গ্রহনযোগ্য কোনো ইতিহাসের বই নাই,
তাই কে রাজাকার কে মুক্তিযোদ্ধা নিশ্চিত করা কঠিন উপায়।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র মানে জাতীয় কপালে আছে শুধুই দুঃখ,
আরে দেশ জুড়ে চাপাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে কত গন্ডমুর্খ।
তাই গণতন্ত্র মানে স্বদেশী আকাশে উড়ে বিদেশী শকুন,
তাই গণতন্ত্র মানে সবকিছু বিকিয়ে গোলাম কিনুন।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
গণতন্ত্র, গণতন্ত্র।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোন পথে ওরা চলছে হায় পরওয়ারদেগার
যে হাতে তাদের কোরান-শরীফ সেই হাতে কেন তলোয়ার
নারায়ে-তাকবীর আল্লাহু-আকবার বলে দিচ্ছে জেহাদের ডাক
হত্যা করছে ওরা মানবজাতি তোমার আশরাফুল মাকলুকাত।
কোন পথে আমরা চলছি হায় পরওয়ারদেগার
বাড়িতে বাড়িতে আছে কোরান শরীফ তবে নেই তার কোন তেলাওয়াত
আল্লাহর আইন কায়েম হোক ওরা তুলছে দাবী প্রতিদিন
লাকুমদিনুকুম অল-ইয়াদিন আমার লাকুমদিনুকুম অল-ইয়াদিন।
প্রতিদিন বৈষম্য আর বিদ্বেষ দেশ জুড়ে
প্রতিওয়াক্ত প্রতিবাদ উঠুক আজানের সুরে সুরে
ওরা জয়তুনের ডাল মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে অস্ত্র তাক করেছে
ওরা শান্তির পায়রাকে হত্যা করে শকুন পুষতে শিখেছে॥
কোন পথে আমরা চলছি হায় পরওয়ারদেগার
তোমার অস্তিত্ব শিকার করি আমরা যে গুনাগার
ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের নাম দিলাম মৌলবাদ
পালটে জবাব ওরা দিল আমাদের তোরা নাস্তিক-মুরতাদ।
একি আমরা দেখছি হায় পরওয়ারদেগার
হত্যাকারি আর যেনাকারিরা সেজেছে নব্য পয়গাম্বার।
একাত্তরের কাফের সরদারকে ক্ষমা করেছে আদালত
রোজ-হাশরে তুমি ক্ষমা করবেনা এই আমাদের এবাদত।
দেশ কাল আর শান্তির কথা ভেবে রয়েছি আমরা নিরব
যখন নিরবতা ওরা দুর্বলতা ভাবে রক্ত করে টগবগ।
ওদের প্রতিটি হুমকি প্রতিটি আঘাত লড়তে আমরা শিখেছি
ওদের স্বাধীন বাংলার পতাকাতলে আশ্রয় করে দিয়েছি॥
কোন পথে আমরা চলব হায় পরওয়ারদেগার
বাংলাদেশের সব ধর্মে আছে সম-অধিকার
অনেককাল তোমার কেটে গেছে মাবূদ মন্দিরে মসজিদে
এখন সময় এসেছে মাবূদ তুমি ফিরে এসো অন্তরে।
কোন পথে আমরা চলছি হায় পরওয়ারদেগার
পৃথিবীর তামাম কালাম কিতাবে তুমি ফিরে এসেছো বারেবার
তাই তেহজ্বীব-তামদ্দুন নিয়ে যাদের অধিক মাথাব্যাথা
তারা ভুলে গেছে তোমার ভালোবাসা আর প্রাচীন পরম্পরা
প্রতিদিন বৈষম্য আর বিদ্বেষ দেশ জুড়ে
শঙ্খ আর আযানের ধ্বনি উঠুক মন্দিরে মসজিদে।
ওরা উৎকৃষ্ট মানবজাতির দাবীতে অস্ত্র তাক করেছে
ওরা তোমার বিধান লঙ্ঘন করে জল্লাদ হতে শিখেছে॥
ওরা জয়তুনের ডাল মাটিতে ছুড়ে ফেলে অস্ত্র তাক করেছে
ওরা শান্তির পায়রাকে হত্যা করে শকুন পুষতে শিখেছে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিজের দেশ.. হতে পারে এই গরিবের দেশ..
হতে পারে অবহেলিতের দেশ…
তবু যে আমার বাংলাদেশ…
সবুজ দেশে.. লাল টকটকে.. সূর্য উঠে…
দোয়েল কোয়েলের গানের সুরে…
ভোরে আমার ঘুম ভাঙ্গে
বাংলাদেশ.. মা’গো যখন আমি তোমার কোলে..
মনে পড়ে কানে বলেছিলে
এদেশ তোমার দেশ ভালবাসার বাংলাদেশ
ধরে রেখো বুকের রক্ত ঢেলে সোনার দেশ
শত্রুর প্রলোভনে বিকীওনা ধরণীকে
“কত উল্লাস কত আশা
শত মানুষের শত ভালবাসা
কত উল্লাস কত আশা
শত মানুষের শত ভালবাসা
কত উল্লাস কত আশা…….”
নিজের দেশ… এ আমার দুঃখিনী মায়ের দেশ
এ আমার নিপীড়িতের দেশ
তবু যে আমার বাংলাদেশ…
পুকুর পাড়ে.. পদ্ম ফুল আমি ফুটতে দেখে
বীণার তারে শুনি বাউল সুরে ওই
ধন্য আমার জন্মকে
বাংলাদেশ মাগো আমি তোমার সোনার ছেলে
আগুনে পুড়েছি দু-যুগ ধরে
এ দেশ রক্তে ভেজা অশ্রু ভেজা বাংলাদেশ
আগলে রেখেছি মাগো শত লোভে প্রলোভনে
আমি শত্রু চিনি মাগো তুমি ঘুমাও নির্ভয়ে
“কত উল্লাস কত আশা
শত মানুষের শত ভালবাসা
কত উল্লাস কত আশা
শত মানুষের শত ভালবাসা
কত উল্লাস কত আশা…….”
বাংলাদেশ মাগো আমি তোমার সোনার ছেলে
আগুনে পুড়েছি দু-যুগ ধরে
এ দেশ রক্তে ভেজা অশ্রু ভেজা এ বাংলাদেশ
আগলে রেখেছি মাগো শত লোভে প্রলোভনে
আমি শত্রু চিনী মাগো তুমি ঘুমাও নির্ভয়ে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পৃথিবীতে বেড়াতে আসিনি এসেছি অনেক কাজ নিয়ে
শঙ্কাহীন মনের হোঁৎকার দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা নিজে
ক্ষমতা লোভী আর ক্ষমতা ভোগীদের যুক্তিতে লড়তে হবে
লক্ষ লক্ষ লোক শহীদ হয়নি এই ঠকবাজি মেনে নিতে
এই ইন্টারনেটের যুগে মরণ মানুষিকতা এখনি রুখতে হবে
বাক স্বাধীনতা মুক্ত চিন্তা সংস্কৃতি গড়তে হবে।
আয় তোরা আয়, নির্ভয়ে তোরা আয়
মানবো না কোনও নেতা নেত্রী কিংবা
রাজনীতিক দলের সুবিধাবাদী অঙ্গীকার
আয় তোরা আয়, নির্ভয়ে তোরা আয়
নিরপেক্ষের পক্ষ নিয়ে লড়ে যাবো আমরা লড়াকু জনতা।
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
মোদের আবারও যুদ্ধে যেতে হবে।
পালাবদল করে ক্ষমতা দখল আজ ব্যবসা বাংলাদেশে
দলীয়করণ আর মানুষের মরণ চলেছে হাতে হাত রেখে
পঁচিশ বছর পরে করুণার দৃষ্টিতে বিশ্ব তাকিয়ে আছে
দু’শটি বছর পিছিয়েছি মাগো তাতে বিশ্বের কি যায় আসে
আজ ধর্ষণ ধর্ষণ অ্যাসিড নিক্ষেপণ অস্ত্রধারী চারিদিকে
বিশেষ ক্ষমতা আইন বিশেষ ঘটনাকেই ক্ষমতায় অটুট রেখেছে
শান্তি দে, দে বাঁচতে দে
নইলে মোদের খুনি সন্ত্রাসীদের সম্মুখে লড়বার অস্ত্র হাতে তুলে দে
চাকরি দে, দে চাকরি দে
নইলে মোদের অসৎ পথে বেঁচে থাকবার অধিকারটুকু দে।
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
মোদের আবারও যুদ্ধে যেতে হবে।
আয় তোরা আয়, নির্ভয়ে তোরা আয়
মানবো না কোনও নেতা নেত্রী কিংবা
রাজনীতিক দলের সুবিধাবাদী অঙ্গীকার
আয় তোরা আয়, নির্ভয়ে তোরা আয়
নিরপেক্ষের পক্ষ নিয়ে লড়ে যাবো
আমরা লড়াকু জনতা।
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
মোদের আবারও যুদ্ধে যেতে হবে।
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা সারা বাংলায় খবর দিয়ে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
তোরা দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দে
মোদের আবারও যুদ্ধে যেতে হবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি কিছু বাঙালির মৃত্যুদন্ডের দাবি তুলতে চাই
আমি কিছু বাঙালির মৃত্যুদন্ডের দাবি তুলতে চাই
আবার ভাবি মৃত্যুদন্ড বড্ড হালকা শাস্তি হয়ে যায়।
না না না না না না রাজাও না
জানামতে কোনো নীতিও নাই
তাই রাজনীতির জমজমাট ব্যবসা চলে নির্দ্বিধায়
না না না না না না আপত্তি নাই
উপরে বসে ঈশ্বর আল্লাহ্ দেখছে তামাশা
নিচে তোরাই মোদের হর্তাকর্তা আর ভাগ্যবিধাতা
রক্তপিপাসু দানবের দল
রক্ত ফিনকি আর মায়ের অশ্রুজল
আদিকাল হতে বাংলায় বসতি
ইতিহাসে ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর করে ঘুরে
এসেছে
শুধু এক পুনরাবৃত্তি।
আর তাই
আর তাই
আমি কিছু বাঙালির মৃত্যুদন্ডের দাবি তুলতে চাই
আবার ভাবি মৃত্যুদন্ড বড্ড হালকা শাস্তি হয়ে যায়।
শেখাবে অনেক কিছু
পায়ের রগ কাটা, হুমকি দেয়া, বোমা ছোড়া
আর ভচাত করে পেটের ভুড়ি সব নামিয়ে ফেলতে
সব কিছু দেওয়ার আশ্বাস দেবে,
দেবে না শুধু শিক্ষা, চাকরি আর শান্তিতে বসবাস করতে।
ক্ষমতা নামের শিল্প কারখানায় তৈরী হচ্ছে এক বিশাল ইন্দ্রজাল
আর তুই তাতে শিক্ষিত মূর্খ বিনে পয়সায় কেনা টাটকা কাঁচামাল
(হাহ্ হা)
আর জানতে পারবো তোর মৃত্যুর খবর পত্রিকাতে পরদিন
আর জানতে পারবো তোর মৃত্যুর খবর পত্রিকাতে পরদিন
হরতাল, ছুট্টি, লাগাও ফুর্তি কেবল টিভিতে শ্রীদেবী নাচবে
ধিনাক নাতিন তিন, ধিনাক নাতিন তিন, ধিনাক নাতিন তিন।
তোর নেতা নেত্রী এসে চুক চুক চুক চুক চুক চুক চুক চুক চুক করে
চুম্বন দেবে
তোর এতীম সন্তানকে,
ওদের “বীর শহীদ একনিষ্ঠ কর্মী” বলে
দশটি হাজার টাকা সঁপে দেবে
তোর ষোড়শী বিধবাকে
পচবি তুই কোন কবরস্থানে
নতুবা গলবি চিতার আগুনে
আর বছর ঘুরতে না ঘুরতে
তুই হারিয়ে যাবি
ইতিহাসের কোনো ডাস্টবিনে।
খুব ভাগ্যবান হলে অবশ্য
একটি স্মৃতিসৌধও হতে পারে তোর নামে
সেথায় কুকুর পা তুলে পেচ্ছাবের পিচকারী
ছুড়বে পথ হারানোর ভয়ে
আর তোর নেতা নেত্রী বাহ্ বাহ্ বাহ্
আর সালাম কুড়াবেন তোর কঙ্কালের উপরে দাঁড়িয়ে।
ইতিহাসের একটা সময় ছিল যখন বাঙালি ছিল জাতি
আজ বাঙালি নেহায়েতই এক রাজনৈতিক উপাধি
আর বাঙালির আনন্দ উৎসবের মাস ‘ফেব্রুয়ারি’।
ঘৃণ্য রাজাকারের পোস্টার, স্টিকার আর ধিক্কার
সবই শোভা পায় এই ‘একুশের আনন্দ মেলায়’
পাশাপাশি ইমরান খান আর পিয়ারা পাকিস্তানের ক্রিকেটারের
পোস্টারও ঝোলে দোকানে দোকানে
‘প্রগতিশীল বাঙালি’ দু’রাত ঘুমাতে পারেনি
পাকিস্তানের ক্রিকেটারের ব্যর্থতা চিন্তা করতে করতে
অথচ খবর রাখেনা তার দু’লক্ষ মা বোন
আজও আটক আছে
পাকিস্তানেরই কত পতিতালয়ে
সেথায় একাত্তরের ঘাতকের সন্তানাদি
আজও নির্মম ধর্ষণ চালায়
পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসাবে
আর তুই শালা আঙুল চোষা বাংলাদেশি
দে হাত তালি ‘বাউন্ডারি বাউন্ডারি’ আর ‘ছক্কা ছক্কা’ বলে।
কোথায় তোমরা নারীবাদী পক্ষ কোথায় তুমি তসলিমা?
কোথায় আমার দুই দেশনেত্রী খালেদা আর হাসিনা?
আপনারা কি খোঁজ নেবেন এসব গুরুতর অভিযোগের
নাকি শুধু রাজনীতি করবেন নিজেদেরই আত্মপ্রচার আর আত্মপ্রসাদের
নাকি আখ্যা দেবেন কেবল আমায়
‘উন্মাদ’, অবাঞ্চিত, নতুবা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে
শুধু বলি “আমার দু’লক্ষ মা বোনের মুক্তির দাবিতে
আমি যে প্রস্তুত, আমি প্রস্তুত, আমি প্রস্তুত, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে”।
আর যদি নীরব থাকেন জেনে নেবো এই মৌনতা
আপনাদেরই সম্মতির লক্ষণ আর বলবো,
শুধু উপহাস করে বলবো,
আমি আমার নিজের মৃত্যুদন্ডের দাবি তুলতে চাই . . .
আমি আমার নিজের মৃত্যুদন্ডের দাবি তুলতে চাই . . .
আবার ভাবি নিজের বেলাও এ বড্ড হালকা শাস্তি হয়ে যায়।