প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘুমিয়ে আছে শহর গঞ্জ গ্রাম
এ ঘুম তাদের ভাঙবে কবে মা?
আমার মতন আরো কতই বিভা
কৈশোরটাই চোখেও দেখবে না?
আটটা বছর খেলাধুলোর পাশে
অনেক কিছুই শিখেছিলাম আমি
নরম পায়ে এক্কা দোক্কা লাফে
কেউ বলেনি আমিও হব নারী।
হজমি কিনে একলা ফেরার পথে
অত্তোবড় লোকটা আমায় ডেকে
অন্ধকারে কী যন্ত্রণা মাগো---
তারপরে দম আটকে মারল শেষে।
তোমরা দেখো, ওর কামিজের নীচে
আমার ব্যাথার রক্ত লেগে আছে
তোমরা দেখো, আরো ছ’জন বিভা
খুন হবে, ওর সাতখুনই মাফ হবে।
পুরুষ মানুষ কিনা।
আমার কান্না মরণ-ব্যথা তুমিই শুনো মা।
এক ধর্ষিতা মৃতা বালিকার চিঠি
কবি শতরূপা সান্যাল (জন্ম ১২.১১.১৯৬২)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যে সকালে আতঙ্ক শুধুই
মৃত্যু-মৃত্যু খেলা পথে ঘাটে
বোমা রক্ত বিস্ফোরণ ধোঁয়া
সেই ভোর বসেছে চৌকাঠে।
এখনই বিদেয় করো ওকে
শূন্যহাতে ফিরাও এখনই
বেলা গেলে ঠিক ভরে নেবে
ঝুলি ভর্তি মৃত্যু-রাগ মণি!
অনাহারী শিশুরা তাকিয়ে
অসহায় সন্ত্রস্ত বাছারা---
যুদ্ধবাজী এবার থামুক---
ঘরে যাক রণক্ষেত্রে যারা।
কারও বাবা-ভাই-ছেলে-স্বামী
পরস্পর ঘৃণার সংঘাতে
যুযুধান প্রতিপক্ষ হয়ে
রক্তের আদিম স্বাদে মাতে।
বন্ধ হোক এই তীব্র ঘৃণা
শেষ হোক আতঙ্ক প্রহর
রক্তস্নান জল-পট ছুঁয়ে
সেরে যাক পৃথিবীর জ্বর।
আতঙ্ক প্রহর
কবি শতরূপা সান্যাল (জন্ম ১২.১১.১৯৬২)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কত হাড় লাগে মন্ত্রীর চেয়ার বানাতে?
কত রক্তরং লাগে সেই চেয়ার করতে পালিশ?
ঈশ --- একী দেখি ইস্তেহার ডোবে, কার রক্তে স্নান!
এমনি দুর্ভাগা আমরা নেই পরিত্রাণ, প্রতি ইলেকশন
যূপকাষ্ঠ যেন গলার নালী কাটে।
যে দীক্ষা প্রাণ নেয়, প্রাণ নিতে বলে মাঠে ঘাটে
সবুজ ডালপালা কাটে, চেয়ার বানাতে
সে তো সারস্বত নয়, কেবল অস্ত্র ঝনঝনায়
হাওয়া খায়, হাওয়া কাড়ে, পোড়ে অযুত হৃদয়।
শকুনি মন্ত্রী হলে যে খেলা চলে রাতদিন
তা কি আহ্বান করে?
মহাভারতের প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ, বুঝে নিন।
অস্ত্র ইস্তেহার
কবি সুনীল মাজি (জন্ম ১.২.১৯৬৩)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজ আবার কত দিন পর
মনটা বড়ই ক্লান্ত লাগে---
আকাশের ঘোলা রং, মনের জানলায় করে ছায়াপাত
বড়ই ব্যথা, বেদনা বাজে, চেতনাহীন
অচেনা লাগে নিজেকে - অকারণ এক অব্যক্ত অনুভূতি
দাপাদাদাপি করে বুকের ভেতর -
কত অশান্তি, অরাজকতা, কষ্ট এই দুনিয়ায়
কিছুই না করতে পারার অপারকতা আমার কষ্ট বাড়ায়
ফুটপাথের ছোট্ট শিশুটাকে কোলে নিতে না পারা
হাড়ভাঙা খাটুনির পর যে মেয়েটি অভুক্ত, ক্লান্ত -
ঝোপড়ায় ফেরে - তার ব্যাথা নিতে না পারা
লজ্জিতা কুমারী মা - যার জরায়ুতে জ্বলছে একটা
অসহায়, লাঞ্ছিত ছোট্ট একটা প্রাণ - তার অসহ্য প্রসব
বেদনায় আমার উপায়হীন নীরব, সাহায্য করতে না পারা ব্যথা -
উপায়হীন আমি - জ্বলে আমার সারা দেহ -
উড়ে যায় সব সুখ-আনন্দ-পাচতারা
হোটেলের "বুফে" লাগে বিষাক্ত। আমিও অপাংত্তেয়
হয়ে যাই আমার কাছে।
নিদারুণ লজ্জায়, ঘৃণায় রি রি করে সারা দেহ
পূতিগন্ধময় নর্দমার ফেনা ওঠা পাঁক জ্বলে যেন
গা ধুয়ে এসেছি এই মাত্র -
এই সভ্যতা - এই আমাদের উন্নত সমাজ
যা ছিল শ, হাজার বছর আগে, তার থেকে
আমরা উঠছি ? নেমেছি, নেমে গেছি আরও পাঁকে
জ্বালা কবি সাগরিকা দাশগুপ্ত (জন্ম ১৬.২.১৯৬৩)। এই কবিতাটি "নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন, মাদ্রাজ শাখা"
থেকে প্রকাশিত পত্রিকা "সাগরী" তে প্রথম প্রকাশিত হয়।
দুর্মূল্য, অবাধ্যতা, মিথ্যচার, নগ্নতা, নিষ্ঠুরতার
আবর্জনার সমাজ পঙ্কিল - হাজার নিয়নবাতির আলো
তবুও পৃথিবী অন্ধকার !
পৌঁছায় না এখানে মসৃণ চাঁদের স্নিগ্ধ আলো
সূর্যের প্রখর রোদ্দুরে ঝলসায় মাটি শুধু
প্রাণ প্রাচুর্য ছড়ায় না তাতে -
সারা জগৎ জুড়ে যেখানে নোংরামি, দুষ্টতা,
পুরুষের হাতে নৃশংস ধর্ষণের কালো ছোরা
নারীদের অবাধ নির্লজ্জতা - গা দেখানো
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা - তাতে দেয় আরও ধুনো।
আমরা বাস করি সেই জগতে, যেখানে আজও
করুণাময়ী পতিতপাবনী "গঙ্গা" তার নির্মল ধারায় বয়ে যায় -
তাকেও করেছে বিষাক্ত, ক্লেদময় এই মানুষ - আবার প্রাণ ফাটানো
চিত্কারে, জ্বালাময়ী ভাষণে করেছে নিজেকে দায়হীন - "গঙ্গা বাঁচাও" -
যেখানে পুরুষের বীর্য - শৌর্য ছিল অহংকার
অন্যায়ের বিরুদ্ধে
ছিল নারীর সলজ্জ অথছ দৃঢ়তাপূর্ণ মমত্ব -
তখনও ছিল নারীত্বের অপমান - এখনও আছে
তখনও ছিল অনীতি - সামাজিক দায়বদ্ধতার উল্লঙ্ঘন - এখনও আছে
তখনও ছিল সামাজিক বৈষম্য - আজও আছে - এখনও
শেষ হয়নি।
কবে ভরবে এ পৃথিবী ভালবাসায়, স্নিগ্ধতায়, সাম্যে
সেদিনই যাবে আমার এই জ্বালা -
এই উগ্র প্রাণ ফাটানো
অপ্রশমিত মনের জ্বালা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিনু গোয়ালার পাশের গলিটাই আমাদের
মুখশ্রীতে বটগাছ, শনি ঠাকুর, রিক্সাস্ট্যান্ড
কানাইদার চায়ের দোকান।
এ গলির জ্যামিতি অদ্ভুত, আবহাওয়া বিভিন্ন,
কোনো ঘরে ঝড়, কোনো ঘরে বৃষ্টি
কোনো ঘরে শুধুই ঠাণ্ডা বারোমাস
আবার কোথাও প্রচণ্ড গ্রীষ্ম, খরা ফুটিফাটা মাঠ।
তবে কোনো ঘরেই পরিচ্ছন্ন আকাশ নেই।
এখানে ছাদের অ্যান্টেনায় লটকে থাকে হাওয়া
ঠিকে ঝি এর মতো রোদ আসে বাড়িতে বাড়িতে
ছিচ্ কে চোরের মতো জ্যোত্স্না
মাঝে মাঝে পুলিশের গাড়ী এসে
মুন্ডুহীন যুবকের লাস কুড়িয়ে নিয়ে যায়
যে মুন্ডু খোওয়া গেছে এক অদৃশ্য গেন্ডুয়া খেলায়
কোনো কোনো রাতে এ গলির যুবতীরা বাড়ি ফেরে
পঞ্চপান্ডবরা সুযোগ বুঝে শকুনির দলে ভিড়ে যায়
বিভীষণের বাড়ীর একতলায়
রাম আর রাবণ পাশাপাশি থাকে
ওদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হয় না
আমাদের গলি
কবি শবর রায় (জন্ম ৫.১২.১৯৬৩)
কারণ সীতা তো শিখেছে এক আশ্চর্য বিদ্যা
কিভাবে একই সাথে হওয়া যায় রামের ঘরণী আর রাবণের রক্ষিতা
এ গলির আনাচে কানাচে কত রাধাকৃষ্ণের লীলাকীর্তন
ডাস্টবিনে অবৈধ সন্তানের শব
বহুদিন আগে একদল যুবক
এক অসম্ভব ক্রোধ নিয়ে এ গলি থেকে বেরিয়েছিলো
আর ফেরেনি। এ ছাড়া এ গলির কোনো ইতিহাস নেই।
তবে একটা ভবিষ্যৎ আছে এ নিশ্চিত, অমোঘ, অনিবার্য ধ্বংসের।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজ কালীপুজো, কাল জলসা, পরশু অমুকের মেয়ের বিয়ে
কিংবা একটা ফ্রি মেডিকেল সেন্টার খুলছি আমরা---এই সব বলে
যদি মাঝে মাঝেই কেউ খুবলে নেয়
আপনার মাস মাইনের একটা বড় অংশ
এবং তারপরেও যদি দিন কে দিন জুলুম বাড়তে থাকে
তবুও, "মরার আগে অন্তত একজনকে নিয়ে মরব” ঠিক করে
হাতে আইন তুলে নেবেন না।
নতুন মেশিন বসিয়ে
কোম্পানি যদি বলে---আপনাদের আর দরকার নেই
জেদাজেদিতে যদি গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়
কারখানার সামনে ঝাণ্ডা-ডাণ্ডা পুঁতে তেরপল খাটিয়ে যদি বসে পড়েন
আর তা দেখে যদি ঝাঁপিয়ে পড়ে সরকারি ও বেসরকারি গুণ্ডা
ভুল করেও রাস্তা থেকে তুলে একটা ইঁটের টুকরোও ছুঁড়বেন না।
রাস্তার ছেলেরা যদি আপনার মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়
যদি পরদিন কাকভোরে লোকমুখে খবর পান
তার খোবলানো শরীর পড়ে আছে নদীর ধারে কিংবা খেলার মাঠে
বারবার নাম ধাম দিয়ে অভিযোগ লেখালেও
থানা যদি একটুও নড়েচড়ে না বসে
কুড়িয়ে-কাঁচিয়ে লক্ষ্মীর ঘট ঘট ভেঙে
আর একটা রণবীর সেনা গড়বেন না
নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না
কবি সিদ্ধার্থ সিংহ (জন্ম ৪.২.১৯৬৪)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও স্বপনকুমার মান্না সম্পাদিত “আবৃত্তির বাছাই ৫০০
ছড়া ও কবিতা” সংকলন থেকে নেওয়া। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৭.২০১৯।
ও সব দেখার জন্য আমরা আছি।
যে যা পারে বলুক বলুক---
আমাদের হাত নেই! চোখ নেই! বুক নেই।
আপনি তো বুঝতে পারছেন, আমরা কী করতে পারি।
কারও কথায় কান দেবেন না।
একটু অপেক্ষা করুন
এক এক করে আমরা সব খতিয়ে দেখছি
কথা দিচ্ছি সাচ্চা বিচার পাবেন
আপনি না পেলেও, আপনার ছেলে বা মেয়ে ঠিক পেয়ে যাবে
কোনও কারনে যদি তারা না পায়
আপনার নাতি বা নাতনি কেউ না কেউ তো থাকবেই
কথা দিলাম।
শুধু আপনি কথা দিন
নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কান্নার পিঠে স্বপ্নকে তুলে
ট্রাক্টর ছুটে চলে,
পদচিহ্ন কে ধোয়া যায় না হে
জলকামানের জলে।
যাদের দুহাতে মাটির গন্ধ
ফসলের আঘ্রাণ,
সেই সুরভিকে মুছে দিতে পারে
কাদের জলকামান!
কাদের রুখতে রাস্তা কাটছো?
কার গায়ে তোলো হাত?
ওরাই তোমাকে ভোট দিয়েছিল
পেটে দিয়েছিল ভাত।
জনসমুদ্রে লেগেছে জোয়ার
বীজ বোনা অনুরাগে,
লাঙ্গলের ফালে কাদা মাটি মেখে
ভারতবর্ষ জাগে।
কান্নার পিঠে স্বপ্নকে তুলে কবি অতনু বর্মন (জন্ম ৮.২.১৯৬৪)।
২০১৯-২০ তে শুরু হওয়া কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা কবিতা।
মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৯.১২.২০২০ তারিখে।
সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চুপটি করে রঙ্গ দেখুন।
অল্প আঁচে জ্বলতে নেই।
ভাতের তরে লড়ছে কৃষক।
সুপ্ত আজও পুলওয়ামার শোক।
জাত বাঁচাতে নিরব আজও....
প্রকাশ্যে তা বলতে নেই?
নিজের পাপে চিত্রনাট্যে,
সব সেয়ানাই অন্ধ।
আজ যে শাসক দমকা হাওয়া
কাল সে নিজেই দগ্ধ।
রোদ ভেবেছে তার তেজেতে
পাপড়ি হবে ক্লান্ত।
আরে কিছু ফুল তো রাতেও ফোটে
সূর্য যদি জানতো।
রব উঠেছে আঁতুর ঘরে,
স্লোগান মূখর রাজপথে রে,
বিকিয়ে গেছে কবিত্ব সেই
শীতঘুমেতেও আন্না।
লাঙল তব মুক্তিপেলেই
চড়বে বাড়ির রান্না।
চুপটি করে রঙ্গ দেখুন কবি ফিরোজ মোল্লা (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
রচনাকাল ৬.১২.২০২০। ২০১৯-২০ তে শুরু হওয়া কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে
লেখা কবিতা। মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায় তোলা হয়
৯.১২.২০২০ তারিখে। সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রেল লাইন ধরে হাঁটছিল কেন ওরা
তিনশো মাইল হাঁটলে ঘুমই তো পাবে
এটুকু জানে না মাথা মোটা মূর্খরা
ট্রেনের লাইনে ট্রেনই কেবল যাবে
রেল লাইন ধরে হাঁটছিল কেন ওরা
তিনশো মাইল হাঁটলে ঘুমই তো পাবে
এটুকু জানে না মাথা মোটা মূর্খরা
ট্রেনের লাইনে ট্রেনই কেবল যাবে
ট্রেনের লাইনে পড়ে আছে পোড়া রুটি
পরিযায়ী চটি চাদরে লুকোনো ক্ষত
স্বাধীন দেশের সামান্য খুনসুটি
এ তো স্বাভাবিক এ তো বিধি সম্মত
ট্রেনের লাইনে পড়ে আছে রোড়া রুটি
থ্যাঁতসানো ঘিলু, রক্ত ইতস্তত
স্বাধীন দেশের সামান্য খুনসুটি
এ তো স্বাভাবিক এ তো বিধি সম্মত
পরিযায়ী গান কবি পল্লব কীর্ত্তনিয়া (জন্ম ১৪.৮.১৯৬৪)। রচনা জুন ২০২০। করোনা মহামারী কালে হঠকারীভাবে লকডাউন করার পরে শ্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের
রেললাইনে কাটা পড়া ও তাঁদের দুর্দশা নিয়ে লেখা গান। ২০২০ সালে ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী ৮৭০০ জনেরও বেশী পরিযায়ী শ্রমিক রেল লাইনে কাটা পড়েছিল।
গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Pallab Kirtania YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা। গানটি মিলনসাগরের “করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়” তোলা হয়েছিল।
রাজপথে কেন হাঁটছিল ঝাঁকে ঝাঁকে
মানুষ না পোকামাকড়ের মতো লোক
স্বাভাবিক গাড়ি পিষে দেবে আঁকে বাঁকে
রাষ্ট্র শরীরে ছড়াবে কীটনাশক
রাজপথে কেন হাঁটছিল ঝাঁকে ঝাঁকে
মানুষ না পোকামাকড়ের মতো লোক
স্বাভাবিক গাড়ি পিষে দেবে আঁকে বাঁকে
রাষ্ট্র শরীরে ছড়াবে কীটনাশক
রাজপথে পথে পড়ে আছে পোড়া রুটি
থ্যাঁতলানো ঘিলু মাংস ইতস্তত
পুলিশের মার সেতো মৃদু খুনসুটি
সেতো স্বাভাবিক সেতো বিধিসম্মত
রাজপথে পথে পড়ে আছে পোড়া রুটি
মজ্জা ঘিলু ও রক্ত অসংযত
পুলিশের মার সেতো মৃদু খুনসুটি
সেতো স্বাভাবিক সেতো বিধিসম্মত
রোজগার নেই খাবার ফুরিয়ে যায়
বাড়ি পৌঁছতে হবে যেভাবেই হোক
মরে গেলে যাবে রাষ্ট্রের নেই দায়
প্রধানমন্ত্রী টুইটে দেবেন শোক
রোজগার নেই খাবার ফুরিয়ে যায়
বাড়ি পৌঁছতে হবে যেভাবেই হোক
মরে গেলে যাবে রাষ্ট্রের নেই দায়
প্রধানমন্ত্রী টুইটে দেবেন শোক
আমাদের ওহো ফেসবুকে বুক ফাটে
কুমীরের কাঁদে টিভিতে ঘন্টাখানেক
হাজার বছর এরা শুধু পথ হাঁটে
খিদে পেটে দেশে দিন খায় দিন আনে
আমাদের আহা ফেসবুকে বুক ফাটে
কুমীরের কাঁদে টিভিতে ঘন্টাখানেক
হাজার বছর এরা শুধু পথ হাঁটে
খিদে পেটে দেশে দিন খায় দিন আনে
হাজার বছর জীবনের সন্ধানে
ওরা ভুখা পথ হাঁটে দিন খায়
দিন আনে দিন আনে দিন আনে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রশ্ন করতে মানা
কেন কাশ্মীর জেলখানা
প্রশ্ন করতে মানা
কেন কাশ্মীর জেলখানা
প্রশ্নের দিবি ছুটি
কেন কাশ্মীরে টেপা টুঁটি
প্রশ্নের দিবি ছুটি
কেন কাশ্মীরে টেপা টুঁটি
প্রশ্ন কোরো না খবরদার
কেন কাশ্মীর কারাগার
প্রশ্ন কোরো না খবরদার
কেন কাশ্মীর কারাগার
প্রশ্ন করিস মানেই তো তোরা
এদেশের বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী॥
কার ঘরে রাখা গরুর মাংস
কারা হে খরিদ্দার
আমরা এখন হিসেব রাখছি
মাংস চৌকিদার
কার ঘরে রাখা গরুর মাংস
কারা হে খরিদ্দার
আমরা এখন হিসেব রাখছি
প্রশ্ন করতে মানা কবি পল্লব কীর্ত্তনিয়া (জন্ম ১৪.৮.১৯৬৪)। স্পর্ধার গান। রচনা জানুয়ারী ২০২০। পড়েছিল। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Pallab Kirtania
YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা। গানটি মিলনসাগরের “NPR-NRC-CAA হিরোধী দেয়ালিকায়” তোলা হয়েছিল।
মাংস চৌকিদার
প্রশ্ন করবি না সাবধান
কেন মারব মুসলমান
প্রশ্ন করবি না সাবধান
কেন মারব মুসলমান
গণপিটুনিতে লাশ ফেলি
রাজা দিয়েছে সম্মতি
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন রাজনীতি জেলখানা॥
নীচু জাতগুলো মল ও মুত্র
এদেশের জঞ্জাল
তাদের জন্য প্রশ্ন করিছ
আরবান নকশাল!
নীচু জাতগুলো মল ও মুত্র
এদেশের জঞ্জাল
তাদের জন্য প্রশ্ন করিছ
আরবান নকশাল!
দলিত ন্যাংটো করে পোড়াও
জেলে পোরো ভারাভারা রাও
দলিত ন্যাংটো করো পোড়াও
জেলে পোরো ভারাভারা রাও
লংকেশদের লাশ ফেলি
ওরা প্রশ্ন-বিদ্রোহী
ওরা দেশদ্রোহী
ওরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন জাতপাত জেলখানা॥
কোটি কোটি টাকা মকুব হয়ে যায়
কর্পোরেটের ঋণ
ফুলে ফেঁপে আম্বানি বা আদানি
এটাই আচ্ছে দিন
কোটি কোটি টাকা মকুব হয়ে যায়
কর্পোরেটের ঋণ
ফুলে ফেঁপে আম্বানি বা আদানি
এটাই আচ্ছে দিন
ওদের হাতে তুলে দেব রেল
হবে কর্পোরেট মডেল
পেট্রোলিয়াম, বিএসএনএল
বেসরকারীকরণের খেল
চাকরি খোয়াবে লক্ষ মানুষ
প্রশ্ন যে বিরোধীর
সে দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
রাজা আহ্লাদে আটখানা॥
বিধর্মীগুলো দেশছাড়া হবে
এনেছি এনআরসি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে পরব
নাত্সির জার্সি
বিধর্মীগুলো দেশছাড়া হবে
এনেছি এনআরসি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে পরব
নাত্সির জার্সি
সংবিধানের ধারি না ধার
আমরা হিন্দুর হিটলার
সংবিধানের ধারি না ধার
বর্ণহিন্দুর হিটলার
প্রশ্ন করলে পিষে মেরে দেব
যত স্বর বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন ধর্ম জেলখানা॥
বেকারত্বের রেকর্ড করেছি
তাতে কী? হবে না কথা
পাকিস্তানকে বোমা টপকেছি
চেটে খাবি জাতীয়তা
বেকারত্বের রেকর্ড করেছি
তাতে কী? হবে না কথা
পাকিস্তানকে বোমা টপকেছি
চেটে খাবি জাতীয়তা
আছে জাতির চন্দ্রযান
সাথে গোমূত্র অনুপান
আছে জাতির চন্দ্রযান
,সাথে গোদুগ্ধে সোনা পান
'জয় শ্রীরাম'-এর আবেগ মেশাব
ফুটে যাবে বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন মগজ জেলখানা॥
স্বশাসিত সংস্থার ওপরেতে
বসাব দলের লোক
শুধু শাসকদলেরই সরকার
গণতন্ত্রের জয় হোক
সব সরকারী সংস্থার 'পরে
বসাব দলের লোক
শুধু শাসকদলেরই সরকার
গণতন্ত্রের ভয় হোক
নোটবন্দী, জিএসটির
ফাঁদে ছোট ব্যবসায়ী কি
নোটবন্দী, জিএসটির
মারে ছোট ব্যবসায়ী কি
কে করে প্রশ্ন দেশের মন্দা
ছিদ্র-অন্বেষী
সে দেশদ্রোহী
তারা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
প্রশ্ন করতে মানা॥
বছরে দুকোটি চাকরি জুটবে
পকেটে পনেরো লাখ
গরিব রাজার দশলাখি স্যুটে
জুমলার জয়ঢাক
বছরে দুকোটি চাকরি জুটবে
পকেটে পনেরো লাখ
গরিব রাজার দশলাখি স্যুটে
জুমলার জয়ঢাক
এদেশ হবে হিন্দিস্থান
মহামন্ত্রীর ফরমান
রাজা একটি ভাষাই চান
এদেশ হবে হিন্দিস্থান
প্রশ্ন করলে পিষে মেরে দেব
যত স্বর বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন মগজটা জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন রাজনীতি জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন ধর্ম জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন জাতপাত জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
রাজা আহ্লাদে আটখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
প্রশ্ন করতে মানা॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গোধূলি, হাইওয়ে চলে গেছে দূর ঠিকানায়
হঠাৎ নেমে পড়ি ভুল রাস্তায়
রাঙা রোদ মাঠে মাঠে ফসলের দুলছে সোনা
হেমন্ত হাওয়ায় বারণ ছিল না
আমি ফসলের ডিম ভেঙে বিকেলের আলোয় রাখি গান
পরান পরান পরান পরান
কারা যেন বিকেলের আলোয় ছায়ায়
ধানজন্মের রূপকথা বলে যায়
কারা যেন বিকেলের আলোয় ছায়ায়
ধানজন্মের রূপকথা বলে যায়
ধানশিষ ধানশিষ
যে কৃষক ধানশিষে পাতছে চিবুক
মাটি জানে কান্নায় ভাঙে তার বুক
মহারাজ, মাটি নাকি আজ মহারাজের কেনা
সে কখনও আর এই ধন ফলাবে না
আমি কিষানের বুক ভাঙা
কান্নাজলেতে রাখি ধান
পরান পরান পরান
ধানপাখিগুলি কত হাজার বছর
ফসলের বেদনায় বেঁধেছে পাঁজর
ধানপাখিগুলি কত হাজার বছর
ফসলের বেদনায় বেঁধেছে পাঁজর
উড়ে যায় ধানপাখিগুলি কবি পল্লব কীর্ত্তনিয়া (জন্ম ১৪.৮.১৯৬৪)। স্পর্ধার গান। রচনা ডিসেম্বর ২০২০।
গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Pallab Kirtania YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমাদের অন্নদাতা কৃষকের
দিল্লী, হরিয়ানার রাজপথে মরণপণ লড়াইয়ের গান।
হঠাৎ আজ, ধানপাখি খুঁটছিল সন্ধ্যাক খুদ
বুটের শব্দ ওঠে হাওয়ায় বারুদ
ঝাপটায়, কী করুণ শেষবার ডানায় ভাসে
উড়ে যায় বাম থেকে দক্ষিণ আকাশে
আমি বারুদের মুখোমুখি
রাখি শেষ ফসলের ঘ্রাণ
পরান
গোধূলি উড়ে যায়
ধানপাখিগুলি অজানায়
গোধূলি উড়ে যায়
ধানপাখিগুলি অজানায়
গোধূলি উড়ে যায়
ধানপাখিগুলি অজানায় . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আলোগুলি গৃহহীন লাগে
শিশুগুলি রক্তের দুধে
রাজনৈতিক অনুরাগে
রাম ও ইমাম বাড়ে সুদে...
কবন্ধ শিশুগুলি বেশ
চাপাতি ত্রিশুলে হেঁটে যায়
আইসিস নাকি আরএসএস
জেগে ওঠে বুকের পাড়ায়
কোন ধর্মকে দেবে ভাতা
সিমি নেতা প্রিয় নেত্রীর
তিন তালাকের কোলে মাথা
রাখলেই ভোট জমে ক্ষীর...
আলোগুলি গৃহহীন লাগে কবি পল্লব কীর্ত্তনিয়া (জন্ম ১৪.৮.১৯৬৪)। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Pallab Kirtania YouTube
Channel. আমরা তাঁদের কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ কারণ এখান থেকেই আমরা গানের কথা পেয়েছি। ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ভণ্ডামির
বিরুদ্ধে লেখা গান।
কালিয়াচক, ধূলাগড়, বসিরহাট . . . রামনবমীতে শিশুদের অস্ত্রমিছিল নাকি মহরমের পাল্টা! ধর্ম শিশুহাতেও অস্ত্র তুলে দেয়?
কানাইয়া কুমার দেশদ্রোহী, তলে তলে পাকি (পাকিস্তানি)। শাহরুখ, আমির, ওদেরও জায়গা পাকিস্তানে। রামজাদা ও হারামজাদা। গো-
রক্ষক সমিতি ও হারামজাদার লাশ। মানবতাবাদী পানিসর খুন ধর্মীয় সংগঠনের হাতে। খুন মুক্তমনা দাভোলকার, কালবুর্গী ও গৌরী
লঙ্কেশ। তিন তালাক প্রথাকে সমর্থন বাংলার শাসকদলের। গোমাংস ফ্রিজে রাখা আছে সন্দেহে মহম্মদ আকলাখকে পিটিয়ে হত্যা
উত্তরপ্রদেশে। ইমামভাতা ও ভোটব্যাংক। নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠন “সিমি”-র নেতা, “কলম”-পত্রিকা সম্পাদক, শাসকদল ঘনিষ্ঠ। “গো-
ভক্ষক” আওয়াজ তুলে চলন্ত ট্রেনে কিশোর হাফিজ জুনেইদকে হত্যা হরিয়ানায়।
গোমাতার সন্তান কারা
রামের জাদাও তারা নাকি
বাকি সব হারামজাদারা
দেশদ্রোহী তলে তলে পাকি /
(মারো পানিসর আকলাখি)..
মারো, কাটো ক্ষমতা দখলে
দাঙ্গা দারুণ দরকারি
প্রকাশ্যে কিংবা আঁচলে
রাজনেতা ধর্ম-ব্যাপারী
ব্যাপারীর অন্ধতা কেনা
তার পুঁজি কবন্ধ-স্রোত
রাজনীতি মানুষ দেখে না
সে তো দেখে এক একটা ভোট
আমি দেখি শিশুটি আমার
শিশুদের রক্ত-মিছিলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার
তুমিও কি তাই দেখছিলে?
হে ধর্মগুরু, রাজনেতা
তোমারও শিশুকে দেখেছিলে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাবা কে জানেনা, মা গিয়েছে কাজে
বাবা কে জানেনা, মা গিয়েছে কাজে
দিদির বয়েস সাত
দেড় বছরের নোংরা শিশুটা চেটে খায় ফুটপাথ
বাবা কে জানেনা, মা গিয়েছে কাজে
বাবা কে জানেনা, মা গিয়েছে কাজে
দিদির বয়েস সাত
দেড় বছরের নোংরা শিশুটা চেটে খায় ফুটপাথ
পাশে মেট্রো রেলের বাইরে সূর্য ঢালছে ক্ষিদে
সরু ফুটপাথে বেয়াড়া আপদ হাঁটা কি যে অসুবিধে
পাশে মেট্রো রেলের বাইরে সূর্য ঢালছে ক্ষিদে
সরু ফুটপাথে বেয়াড়া আপদ হাঁটা কি যে অসুবিধে
তাই চলে যাই যেভাবে সবাই চলেছে স্রোতের মতো
কি হবে তা দেখে গানে লিখে রেখে কথ্য দিনের ক্ষতো
কথ্য দিনের ক্ষতো
শিশুটি কাঁদলে দিদি ছুটে আসে
শিশুটি কাঁদলে দিদি ছুটে আসে বুকে তুলে নেয় তাকে
ধুলোশিশু কবি পল্লব কীর্ত্তনিয়া (জন্ম ১৪.৮.১৯৬৪)। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Pallab Kirtania YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
প্রতি মিনিটে ৩টি শিশু অনাহারে, অপুষ্টিতে মারা যায় ভারতবর্ষে। এদেশে ৪০% শিশু সব সময় উলঙ্গ থাকে (তাদের কোন পোষাক নেই)। সারা পৃথিবীর নিরক্ষর নারীদের ৭০% বাস
করে ভারতে। এদেশে প্রাথমিক ছাত্র-ছাত্রীর ৩ জনের মধ্যে ২ জন দারিদ্রসীমার নীচে। পৃথিবীর প্রতি ৩ জন অভুক্ত, অর্ধভুক্ত মানুষের ১ জন ভারতীয়। পৃথিবীর ৬৫% কুষ্ঠ রোগীর বাস
ভারতে। এদেশে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ৭ কোটি। প্রসূতি মায়ের মৃত্যুতে ভারতবর্ষ পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এদেশে প্রতি মিনিটে একজন টি.বি, রোগে মারা যায়।
আপনাদের মতো আমিএ জানিনা অনাহার কাকে বলে।
খুড়ি ভরে তার ঠোঁটে দেয় জল সান্ত্বনা ক্ষিদে ঢাকে
শিশুটি কাঁদলে দিদি ছুটে আসে বুকে তুলে নেয় তাকে
খুড়ি ভরে তার ঠোঁটে দেয় জল সান্ত্বনা ক্ষিদে ঢাকে
পাশেই সিনেমা হলের বাইরে ভীড় করে থিক্ থিক্
তরুণীর চোখে রোশন জ্বলছে ঋত্বিক ঋত্বিক
পাশেই সিনেমা হলের বাইরে ভীড় করে থিক্ থিক্
তরুণীর চোখে রোশন জ্বলছে ঋত্বিক ঋত্বিক
আমি চলে যাই যেভাবে সবাই চলেছে স্রোতের মতো
কি হবে তা দেখে বুকে লিখে রেখে কথ্য দিনের ক্ষতো
কথ্য দিনের ক্ষতো
আমরা সবাই খুব ভালো আছি। সবকিছু জেনে বুঝে। মেনে নিয়ে।
মানিয়ে নিয়ে। নিজেদের শিরদাড়া খুলে খেয়ে ফেলে দিব্যি আছি আমরা।
যারা ভালো আছো আরো ভালো বাঁচো
যারা ভালো আছো আরো ভালো বাঁচো
ভরে নাও দুই হাত
পাঁচ দশকের স্বাধীন স্বদেশ চেটে খাক ফুটপাথ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার পরিচয় - বেকার যুবক আমি, সম্বল একটাই দৈন্য।
ডিগ্রির ভাঁড়ারেতে তবু কিছু মাল আছে, পকেটের ভাঁড়ারটা শুন্য।
যেদিকেই তাকাই না, দেখি জন-অরণ্য,সে অরণ্যেই দেখি মানুষেরা পণ্য,
বধুকে পোড়ানো হয়, অধর্ম জয়ী হয়, মানুষের রক্তে দিনলিপি সই হয় ।
হাস্পাতালের বেডে টিবি রোগীর সাথে খেলা করে শুয়োরের বাচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে - সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা মাখা অভিযোজনে রপ্ত করেছি নিজেকে,
অসত্ হবার বহু বহু প্রচেষ্টায়, ব্যর্থ করেছি নিজেকে।
চাকরির স্ন্ধানে সুখতলা খয়ে যায়,গঙ্গার জল তবু একই ভাবে বয়ে যায়,
ঘুশ্, ঘুশ্,ঘুশের এক ঘুস-ঘুসে জ্বরে, গোটা দেশ চিত্কার করে ডাকে 'ডাক্তার',
ডাক্তার উড়ে আসে ঋণের অষুধ নিয়ে, গঙ্গার পুজো হয় গঙ্গার জল দিয়ে।
বছরের অন্তে, বাজেটের যন্ত্রে পিশে দেই জীবনটা, গচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে - সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
প্রার্থির যোগ্যতা অথবা অভিজ্ঞতা, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের দীনতা,
কোনো কিছুই কোনো কিছুকেই ঢাকে না। আর,
'লোক' অথবা 'বিধান' যে দিকেই তাকান, রাজনিতিজ্ঞ হতে যোগ্যতা লাগে না।
হাজার প্রতিশ্রুতি বাতাসেই বয়ে যায়, 'চলছে না, চলবে না', তবু তাই হয়ে যায়।
কত শত শয়তান, হতে চায় ভগবান, আল্লা না বড় রাম, এই চলে অবিরাম।
খুনোখুনি লাঠালাঠি, অবিরাম অনুক্ষণ,এদিকে তোমার আমার পেটেতে ছুঁচোর ডন।
সমাজ বিরোধি কিছু, করে বলে মাথা উঁচু, সমাজবাদের পথই সাচ্চা।
তবু রেডিওটা টিভিটার সাথে সুর ধরে - সারে যাঁহা সে আচ্ছা।
সারে যাঁহা সে আচ্ছা কথা সুর ও কণ্ঠ কবি নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম ১.৯.১৯৬৪)। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির গানের অ্যালবাম
“এই বেশ ভাল আছি”-র গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
অমরত্বের লোভ করুক বিক্ষোভ
অমরত্বের লোভ করুক বিক্ষোভ
জীবনকে যদি দাও নীল বিষাক্ত ছোপ
থাকবে না, থাকবে না, থাকবে না ক্ষোভ
আমার মৃতদেহে ঝুলবে notice-board
"কর্তৃপক্ষ দায়ী না"
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
ধ্বংসের ব্যবসায় মগ্ন যে সভ্যতা,
তার অমৃত চাই না
ধ্বংসের ব্যবসায় মগ্ন যে সভ্যতা,
তার অমৃত চাই না
বিভেদ-মন্ত্রে দীক্ষিত যে সভ্যতা,
তার অমৃত চাই না
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না কথা সুর ও কণ্ঠ কবি নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম
১.৯.১৯৬৪)। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির গানের অ্যালবাম “এই বেশ ভাল আছি”-র গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
S M Hassan RAJU YouTube Channel.
সবুজ...
সবুজ পৃথিবীটাকে যন্ত্রের কালো হাতে
সবুজ পৃথিবীটাকে যন্ত্রের কালো হাতে
শ্বাসরোধ করে যে প্রগতি
পরিসংখ্যানে মাপে জীবনের ক্ষয়ক্ষতি
এমন প্রগতি চাই না
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিলামে উঠছে দেশ
কালক্ষণ জীবন বাঁচতে চাওয়া বিলাসিতা
বাজে প্রচারের ঢাকে মগজটা করে থাক
ব-হন্নলাই আজ সীতা
হো হো হো নিলামে উঠছে দেশ
কালক্ষণ জীবন বাঁচতে চাওয়া বিলাসিতা
বাজে প্রচারের ঢাকে মগজটা করে থাক
ব-হন্নলাই আজ সীতা
আমরা অকিঞ্চন জনতা জনার্দন
ধর্মে জিরাফে দুইয়ে আছি
সবাই পণ্য সেজে কাকে কিনবে কে যে
গোটাদেশ জুড়ে সোনাগাছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি . . .
দুর্গা পূজের মতো ফি বছর ভোট
আজর্শ বদলায় ভোটে একজোট
ধর্মের হাত ধরে সাজে অমায়িক
তবু নাকি এরা নয় সাম্প্রদায়িক
সামান্য টেনশন তদন্ত কমিশন
গণতন্ত্রের মুখে মাছি
সবাই পণ্য সেজে কাকে কিনবে কে যে
গোটাদেশ জুড়ে সোনাগাছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি . . .
সংবাদপত্র দৈনিক বা পক্ষ
শকুনিও নাকি শোনা যায় নিরপেক্ষ
মহাভারতের কথা অমৃত সমান
পুনরাবৃত্তি সেই রিমেকের গান
হাওলা ভাওলা সব শ্যাওলার মতো ভেসে গেলে
দুই হাত তুলে নাচি
সবাই পণ্য সেজে কাকে কিনবে কে যে
গোটাদেশ জুড়ে সোনাগাছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি
কেন বেঁচে আছি বলো কেন বেঁচে আছি . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর যে আমাদের দেশ ভারতবর্ষ একটি গরীব দেশ
হলেও কিছু ভারতীয় মোটেই গরীব নয়। কারণ আমাদের দেশের
দুশো আশি লক্ষ কোটি টাকা সুইস ব্যাঙ্কে পড়ে আছে শুধু শুধু। এ
টাকা আমাদের দেশে থাকলে তিরিশ বছর কাউকে কোনো ট্যাক্স
দিতে হতো না। ষাট কোটি মানুষের চাকরি হতে পারতো।
কিসমত কে মুঠোয় রেখে ঝড়ের মুখে হল্লা বোল
জীবনে দেনা পাওয়া হাজার সুখে হল্লা বোল
ভুলে যা যা ভুলে যা দুনিয়াটা কি পাগল
রোজ রোজ মরার থেকে এক দিন বাঁচাই হোক সম্বল
নিপাত যাক রাজনীতিক মন্ত্রী সব গণ্ডোগোল
সব শুয়োরের বাচ্চারাই কোরাপ্টেড দেশটা পিঞ্জরাপোল
হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল . . .
বিশ্বস্ত সূত্রে আরো খবর যে দুশো আশি লক্ষ কোটি টাকা যা সুইস
ব্যাঙ্কে শুধু শুধু পড়ে আছে, এ টাকা যদি আমাদের দেশে থাকতো,
তা হলে পাঁচশোটি সামাজিক প্রকল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে
পারতো। আগামী ষাট বছর প্রতি নাগরিক দুহাজার করে টাকা
মাসিক ভাতা পেতে পারতো।
কয়েক রাজার কোটি টাকা, রাজকোষ থেকে হচ্ছে ফাঁকা
করছে কে চুরি জানার সবার আছে অধিকার
কে করবে চোরের বিচার? কিসে হবে এর প্রতিকার?
সে টাকা ফেরত পাবার সবার আছে অধিকার
রইলে, কিসের সংবিধানের বাতেলা, হল্লা বোল
মিটে যাক মিটে রোজকার ঝামেলা হল্লা বোল
ভুলে যা যা ভুলে যা দুনিয়াটা কি পাগল
রোজ রোজ মরার থেকে এক দিন বাঁচাই হোক সম্বল
নিপাত যাক রাজনীতিক মন্ত্রী সব গণ্ডোগোল
সব শুয়োরের বাচ্চারাই কোরাপ্টেড দেশটা পিঞ্জরাপোল
হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল . . .
বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা গেছে যে দুশো আশি লক্ষ কোটি টাকা যা
সুইস ব্যাঙ্কে পড়ে আছে, এ টাকা যদি আমাদের দেশে থাকতো, তা
হলে আমাদের দেশের যে কোনো প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজধানী দিল্লী
পর্যন্ত ফোর-লেন হাইওয়ে তৈরী হতে পারতো। বিদেশী ঋণের
কোনও প্রয়োজনই হতো না। আমাদের দেশের টাকা আমাদের
দেশের পলিটিশিয়ানরা কিভাবে নয়ছয় করছে তা জেনে নিন। এই
ছদ্মবেশী শয়তানদের চিহ্নিত করন।
গোটা দেশটাই বাঁশের খাঁচা, ফাটছে জনতার পাছা
অখণ্ড মুক্তি খোঁজার সবার আছে অধিকার
খুশ আজ জাতীয় আহার, হাজার কমিটির বাহার
ফলাফলে বিরাট শূন্য, দুচোখে জমাটা ঢাল
কিসের লোকপাল আল বাল ছাল বাতেলা হল্লাবোল
গোটা দেশ জুড়ে ছুটছে মৃত্যুর কাফেলা হল্লাবোল
ভুলে যা যা ভুলে যা দুনিয়াটা কি পাগল
রোজ রোজ মরার থেকে এক দিন বাঁচাই হোক সম্বল
নিপাত যাক রাজনীতিক মন্ত্রী সব গণ্ডোগোল
সব শুয়োরের বাচ্চারাই কোরাপ্টেড দেশটা পিঞ্জরাপোল
হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল . . .
কিসমত কে মুঠোয় রেখে ঝড়ের মুখে হল্লাবোল
জীবনে দেনা পাওয়া হাজার সুখে হল্লা বোল
ভুলে যা যা ভুলে যা দুনিয়াটা কি পাগল
রোজ রোজ মরার থেকে এক দিন বাঁচাই হোক সম্বল
নিপাত যাক রাজনীতিক মন্ত্রী সব গণ্ডোগোল
সব শুয়োরের বাচ্চারাই কোরাপ্টেড দেশটা পিঞ্জরাপোল
হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল, হল্লা হল্লা হল্লাবোল . . .
ভেবে দেখুন দুশো আশি লক্ষ কোটি টাকা অর্থাৎ দুই আট শূন্য
শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, কর্ম কাজ নেই, গাড়ি ঘোড়া কিছু নেই,
অফিস কাছারি নেই, হাজিরা কামাই নেই,
শব্ দ বা পরিবেশ দূশন বালাই নেই,
সময় দেই না বলে তেলে বেগুণ জ্বলে গিন্নীর রাগ নেই,
টেলিফোনে ডাক নেই, শহরেতে কারফিউ, লোকজন কেউ নেই,
এক-চার-চার ধারা, ফুটপাথে থাকে যারা, কেউ কোথ্ থাও নেই,
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই--
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে,
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির মসজিদ,
ভাঙা কাঁচ, ভাঙা মন যায় না,
রাম আছে, শ্যাম আছে, কোরাণী সেলাম আছে,
রক্তলোলুপ কিছু হয় না।
এদেশ টা ফাঁকা আছে, বিদেশের টাকা আছে,
ধর্ম না গ্রাস করে আমাদের পাছে।
তাই, ভয় আছে
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
এই বেশ ভাল আছি কথা সুর ও কণ্ঠ কবি নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম ১.৯.১৯৬৪)। বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পরে লেখা।
১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির গানের অ্যালবাম “এই বেশ ভাল আছি”-র গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Indo-Bangla Music YouTube Channel
এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, ভাবার সময় আছে, তবুও ভাবনা নেই,
পার্কে তে ঘোরা নেই, সিনেমায় যাওয়া নেই,
উঠতি যুবকদের যাতনার সীমা নেই,
শিহরণ আনে প্রেমে এমন বাতাস নেই,
যুবতীর কটাক্ষ, চীরে দেয় এ বক্ষ, হায়রে এমন দিনে
সেই অবকাশ নেই, চাল নেই, ডাল নেই, পয়সার দাম নেই,
তবুও টিভির স্ক্রীনে খেলার বিরাম নেই।
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই--
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ডাইনে বায়ে, গঞ্জে গায়ে
পুরোনো অথবা নতুন অদ্ধায়ে
বিশৃংখলা যতোই বাড়ুক,
গণতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র, দু চোখ বুজে রয়
ভ-হয়, ভ-হয়, ভ-হয়, ভয়, পাছে ভোট নষ্ট হয়
ডাইনে বায়ে, গঞ্জে গায়ে
পুরনো অথবা নতুন অধ্যায়
বিশ্রিংখলা যতই বাড়ুক
গণতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র, দু চোখ বুজে রয়
ভ-হয়, ভ-হয়, ভ-হয়, ভয়, পাছে ভোট নষ্ট হয়
পড়া সুনো আর ভাবনা চিন্তা
নাচছে শিকেয় তাধীন ধীনতা
বিরাশি প্রহর সংকীর্তন মাইকে প্রবল চিৎকার
রাষ্ট্র হেসে বলেন এযে গণতান্ত্রিক অধিকার
শব্দ দূষণ প্রতিকার, সে যে বিঙ্গাপনের কথা
ভবিষ্যতের ভাবনায় নেই, কারো মাথা ব্যাথা
আসলে হাজার টা লোক, ও তাদের ভোট
রয়েছে ধর্ম ময়
ভ-হয়, ভ-হয়, ভ-হয়, ভয়, পাছে ভোট নষ্ট হয়
ভয় কথা সুর ও কণ্ঠ কবি নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম ১.৯.১৯৬৪)। বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পরে লেখা। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির
গানের অ্যালবাম “এই বেশ ভাল আছি”-র গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
শহরের এক কোনে বেড়ে চলে অন্ধ কারের চক্র
সমাজ বিরোধী মাস্তান পোড়ে একতা ওদের অস্ত্র
ওদেরই তো দেখি ভোটের সময়
নানান রঙেতে রাঙ্গানো জামায়
রাষ্ট্র তখন প্রাণ পণে ভোলে ওদের পরিচয়
তাই ভয়, ভয়, ভয়, ভয়, পাছে ভোট নষ্ট হয়
ডাইনে বায়ে, গঞ্জে গায়ে
পুরোনো অথবা নতুন অদ্ধায়ে
বিশৃংখলা যতোই বাড়ুক,
গণতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র, দু চোখ বুজে রয়
ভ-হয়, ভ-হয়, ভ-হয়, ভয়, পাছে ভোট নষ্ট হয়
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই মেয়ে
তোর খ্যাঁদা নাক, কালো রং, সব্বাই বলে সং
আসল অন্তরায় বাবার পকেট ফুটো
ধনবতী না, রূপবতীও না
তুই তো মুক্তো, আসলে ঝুটো
এই মেয়ে
বিয়ে তো হবে না, কথাও কবে না
আইবুড়ি বলে শুধু দূর দূর ছাই ছাই
আসলে দিলে পণ, দেবে রে তনু-মন
তোকেই সুন্দরী বলবে সব শালাই
সোনা চাই, দানা চাই, পুরো মালিকানা চাই
Fridge-TV, গাড়ি-বাড়ি চাই-চাই-চাই
তুই তো উপরি, যেন পণ্যের cash memo
কেউ বলবে না, "শুধু তোমাকে তোমাকে চাই"
রাত জেগে জেগে শুধু আয়নায় মুখ দেখা
হাজার লোকের ভিড়ে, তবুও তবুও একা
লাজে তোর হেঁট মাথা
সমাজের যারা মাথা তাদের তো লজ্জায় নেইকো
বালাই
আসলে দিলে পণ, দেবে রে তনু-মন
তোকেই সুন্দরী বলবে সব শালাই
এই মেয়ে
তোর খ্যাঁদা নাক, কালো রং, সব্বাই বলে সং
আসল অন্তরায় বাবার পকেট ফুটো
ধনবতী না, রূপবতীও না
তুই তো মুক্তো, আসলে ঝুটো
এই মেয়ে
বিয়ে তো হবে না, কথাও কবে না
আইবুড়ি বলে শুধু দূর দূর ছাই ছাই
আসলে দিলে পণ, দেবে রে তনু-মন
তোকেই সুন্দরী বলবে সব শালাই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার,
কেউ হতে চায় ব্যবসায়ী কেউ বা ব্যারিস্টার,
কেউ চায় বেচতে রূপোয় রূপের বাহার চুলের
ফ্যাশান।
আমি ভবঘুরেই হব, এটাই আমার এমবিশান্।
ঠকানোই মূল মন্ত্র, আজকের সব পেশাতে,
পিছপা নয় বিধাতাও, তেলেতে জল মেশাতে।
ডাক্তার ভুলছে শপথ, ঘুশ খায় ইঞ্জিনিয়ার,
আইনের ব্যবচ্ছেদে, ডাক্তার সাজে মোক্তার।
যদি চাও সফলতা, মেনে নাও এই সিস্টেম,
ফেলে দাও শ্রোতের মুখে, আদর্শ বিবেক ও প্রেম।
এ সমাজ মানবে তোমায়, গাইবে তোমারই জয়গান।
আমি কোনে বাউল হব, এটাই আমার এমবিশান্।
বড় যদি চাইবে হতে, সেখানেও লোক ঠকানো।
সতভাবে বাঁচো বাঁচাও, একথা লোক ঠকানো।
সতভাবে যাবে বাঁচা, বড় হওয়া যাবে নাকো।
শুধু কথা না শুনে, বড়দের দেখেই শেখ।
এ সবই থাক তোমাদের, আমি বড় চাই না হতে,
ধুলো মাখা পথই আমার, তুমি চোড়ো জয়োরথে।
এমবিশন্ কথা সুর ও কণ্ঠ কবি নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম ১.৯.১৯৬৪)। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কবির
গানের অ্যালবাম “এই বেশ ভাল আছি”-র গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
শত লাঞ্ছণা দিও, কোরো আমায় অসম্মান।
তবু আমি বোকাই হব, এটাই আমার এমবিশান্।
কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার,
কেউ হতে চায় ব্যবসায়ী, কেউ বা ব্যারিস্টার,
কেউ চায় বেচতে রূপোয়, রূপের বাহার চুলের
ফ্যাশান।
আমি ভবঘুরেই হব, এটাই আমার এমবিশান্।
আমি কোনে বাউল হব, এটাই আমার এমবিশান্।
তবু আমি বোকাই হব, এটাই আমার এমবিশান্।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,
চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।
ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি ক'রে,
গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।
এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস
অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে ---
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
প্রতিদিন চুরি যায় মূল্যবোধের সোনা,
আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চেতনা।
কিছুটা মূল্য পেয়ে ভাবি বুঝি শোধ-বোধ,
ন্যায় নীতি ত্যাগ করে, মানুষ আপোস ক'রে,
চুরি গেছে আমাদের সব প্রতিরোধ।
এর পর কোনো রাতে, চাকরটা অজ্ঞাতে,
সামান্য টাকা নিয়ে ধরা প'ড়ে হাতে নাতে।
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে ---
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
প্রতিদিন চুরি যায় দিন বদলের আশা,
প্রতিদিন চুরি যায় আমাদের ভালবাসা।
জীবনী শক্তি চুরি গিয়ে আসে নিরাশা,
সংঘাত্ প্রতিঘাত্ দেয়ালে দেয়ালে আঁকা,
তবু চুরি যায় প্রতিবাদের ভাষা।
কখনো বাজারে গেলে, দোকানী কিশোর ছেলে,
কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে, ওজনেতে কম দিলে,
সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে
চিত্কার করে বলে ---
চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রোজ ঘুম থেকে ওঠা আর দাঁত মাজা
খবর কাগজে দুঃসংবাদ খোঁজা
দারুণ ব্যস্ততায় স্নান খাওয়া সারা হয়
জীবনে আরেক দিন আবার বাড়তি হয়
আবার রাত্রি হবে তাইতো সকাল হয় আশাকে পণ্য
করে তবুও ব্যবসা হয়
তবুও তো নিশিরাতে শহর বাঈজি সাজে ধর্মতলার
মোড়ে অধর্ম গান গায়
ও ও ও দিয়ানা তা দিয়ানা ও ও ও দিয়ানা তা
দিয়ানা ...
বাসেতে আর ট্রামে গরমে আর ঘামে
বাসেতে আর ট্রামে গরমে আর ঘামে
ঘৃণা অসন্তোষ বেচাকেনা কম দামে
তবুও নন্দনে দৃষ্টি নন্দনে
তবুও নন্দনে দৃষ্টি নন্দনে
প্রয়াসে মাতে শত বরাহনন্দনে
রাজবাড়ি অবরোধে হাজারটা প্রান যায়
নেতারা মন্ত্রী হতে মানুষের বলি চায়
তবুও আকাশ তলে
তবুও আকাশ তলে মানুষ মিছিলে চলে
নেতাদের খ্যাতিটাই সবার কন্যাদায়
ও ও ও দিয়ানা তা দিয়ানা ও ও ও দিয়ানা তা দিয়ানা ...
স্বপ্ন সাদাকালো মন্দ আর ভালো
স্বপ্ন সাদাকালো মন্দ আর ভালো
দ্বন্ধ সন্ধানে মোমবাতি জালো
গৃহিণী পাশে শুয়ে একে একে দুয়ে
গৃহিণী পাশে শুয়ে একে একে দুয়ে
ঘাড়েতে পাউডার হালকাভাবে ছুঁয়ে
বয়ে চলে জীবনের এক সুর একই ধারা
কবিতার বইয়ে শুধু রাত্রির কড়ানাড়া
জীবন অর্থহীন জীবন অর্থহীন শুনো হে অর্বাচীন
বলে দূষণেতে ভরা মন্দ দক্ষিণা বায়
ও ও ও ও দিয়ানা তা দিয়ানা ও ও ও দিয়ানা তা দিয়ানা ...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এক মুঠো স্বপ্নের নাম স্বাধীনতা
প্রত্যাশা পূরণের নাম স্বাধীনতা
আমাদের রক্তের দাম স্বাধীনতা
লড়াই অন্তে পরিণাম স্বাধীনতা
আমাদের পোড়া দেশে স্বাধীনতা মানে হলো
রাশি রাশি ব্যার্থচা আর শূন্যতা
হায় হায় হায় হায় হায় স্বাধীনতা
উর্বর জমি তবু হায় স্বাধীনতা
কৃষকের বাঁচবার নেই স্বাধীনতা
দিগন্ত বিস্তৃত সোনারঙা ধানে
দেশেতে অবাধ মৃত্যুর স্বাধীনতা
লা লা লা লা . . .
কভু স্লোগানের ঢাক ঢাকে মাছ দিয়ে শাক
তবুও দেশেতে শ্মশানের স্তব্ধতা
হায় হায় হায় হায় হায় স্বাধীনতা
পাঁচশালা ব্যবস্থা তবু স্বাধীনতা
লুটে পুটে খায় সব শালা স্বাধীনতা
হাজার প্রাণের দামে এলো স্বাধীনতা
তাঁদের জন্য দু মিনিট নীরবতা
লা লা লা লা . . .
এরপর চুরি ঘুষ আবার আবার চুরি
প্রগতি শৈশবেই দিচ্ছে হামাগুড়ি
একটি ছুটির দিন তুমি স্বাধীনতা
হায় হায় হায় হায় হায় স্বাধীনতা
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ বাবু, কিছুই জানি না
এই এদেশের রঙ তামাশা, কিছুই বুঝিনা।
আমি মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ বাবু, কিছুই জানি না।
আজকে যিনি দক্ষিণেতে, কালকে তিনি বামের
আজকে যিনি তেরঙ্গাতে, কাল ভক্ত রামের।
কে যে কখন কার পেছনে, বুঝিনা কে খাঁটি
কে যে কখন কার পেছনে, বুঝিনা কে খাঁটি।
আসলে সবাই সবার পেছনেতে, সবার হাতেই কাঠি
কথায় কথায় ধর্মঘট, আর সবাই ধর্মঘটি
অধার্মিকের ধর্মজ্ঞানে স্লোগান আর স্লোগানের
গোলক ধাঁধায় ঘুরে আমার হারিয়ে গেছে ঘটি !
মন্ত্রীরা সব হারামজাদা, আস্ত বদের ধাড়ি
তুড়ুক নাচে,মন্ত্রিসভা, এখন বাঈজী বাড়ি।
আজকে যিনি কয়লা মন্ত্রী, কালকে দেখেন শিক্ষা
তাই, কয়লা কালো শিক্ষা নিয়ে, মানুষ করে ভিক্ষা।
আর মানুষ শালাও মাথা মোটা, ভোট দিতে যায় নেচে
দেশের মানুষ তো কোন ছার, মন্ত্রী গুলো কুলাঙ্গার
দেশের মানুষ তো কোন ছার, মন্ত্রী গুলো কুলাঙ্গার
ভালো দাম পেলে এরা বাপকেও দেবে বেঁচে
বসতি আবার উঠবে গড়ে আকাশ আলোয় উঠবে ভরে
জীর্ণ মতবাদ সব ইতিহাস হবে। পৃথিবী আবার শান্ত হবে।
একদিন ঝড় থেমে যাবে। পৃথিবী আবার শান্ত হবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার সোনা চাঁদের কনা
আর কি কি বলবো
আমার সোনা চাঁদের কনা
আর কি কি বলবো
ডাক্তার উকিল তো নয়
তোকে মন্ত্রী বানাবো
মন্ত্রী বানাবোরে তোকে মন্ত্রী বানাবো
তারপরে চার পুরুষ বসে বসে খাবো॥
মন্ত্রীর ছেলে হলে শিল্পপতি হওয়া যায়
মন্ত্রীর বাবা হয়ে গোটা দেশটা চালাবো
গোটা দেশটা চালাবোরে শিল্পপতি কি হবো
একদিন তোর মা ছাড়া সবার পতি হবো॥
মন্ত্রী হওয়া সোজা সবচে′ মন্ত্রী হওয়া সোজা
পড়াশোনার বালাই নেইকো শুধু ফন্দি ফিকির খোজা
মন্ত্রী হলেই আমলারা তোর করে দেবে কাজ
তোর কাজ শুধু ধরা জনদরদীর সাজ
এসব আগে থেকেই রিহার্সেল করে রাখবো
এসব আগে থেকেই রিহার্সেল করে রাখবো
দরকার হলে প্রাইভেট টিউটর “এক্স মন্ত্রী” রাখবো॥
চুরি করনা করনা চুরি করনা অগুনতি
পশু খাদ্য কেলেঙ্কারীর পরও কেউ হয় রেলমন্ত্রী
কি আর হবে বড়জোর বসবে কমিশন
সবাই জানি সে কমিশনের নেই কনক্লুশন
ওরে গালাগালি একটু নাহয় খাবি তাতে কি
ওরে মরা মানুষের চুল ছিড়লে তাতে ওজন কমে কি!!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ডাঁয় বাঁয় রাজনীতি ঘর মেতে চলছে
দলবদলের নীতি ঘরে ঘরে জমছে
দাদা দিদি পিসি মাসি ঘর বদলাচ্ছে
ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
এদেশের নেতারা মনীষীদের ওপরে
তাদেরই ছবি থাকে সকলের ওপরে
কি বুঝছেন ভাই?
ও এদেশের নেতারা মনিষিদের ওপরে
তাদেরই ছবি থাকে সকলের ওপরে
জনগণ আমরা মাথা বিকোচ্ছি
লাইনে দাঁড়িয়ে শুধু ভোট দিয়ে যাচ্ছি
ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
তাই ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
আমরা তো গর্দভ ভোট দিয়ে যাচ্ছি
ফুটবল হয়ে শুধু পায়ে পায়ে ফিরছি
আমরা তো গর্দভ ভোট দিয়ে যাচ্ছি
ফুটবল হয়ে শুধু পায়ে পায়ে ফিরছি
এই স্কীম সেই স্কীম ভ্যাবাচ্যাকা খাচ্ছি
বরফটা গলে শুধু কাঠি হয়ে ঝুলছি
ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
তাই ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
ভোটের গান কথা - কবি রাজা নাগ। সুর ও কণ্ঠ - নচিকেতা চক্রবর্তী (জন্ম ১.৯.১৯৬৪)। গানটি
২০২১ সালে প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Popskopevent YouTube Channel.
সাদা লাল গেরুয়া ফিকে নীল বাহারে
শীতেরই রোদ্দুর ঢেকে গেল ব্যানারে
মনে হয় কি কষ্টে কাটে দিন নেতাদের
ভোট খুঁজে ঘোরে ফেরে সাগরে পাহাড়ে
ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
তাই ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
সেজেগুজে মিডিয়ার সামনে দাঁড়াচ্ছে
প্রলোভন স্বপন আশা দুহাত বাড়াচ্ছে
সংসার চালাতে জেরবার হচ্ছে
ভোটের পরে সেই নেতারাই সরছে
ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
তাই ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট ভোট
শুধু এইটুকু কামনা করি
বাঁচবো বাঁচার জন্য
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মেয়েটা থামিয়ে দিল ওর লড়াই---
মানে ওর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো
বিপুল আক্রোশে ছুটৃতে ছুটতে
অবশেষে
মুখ থুবড়ে পড়ল রাত আড়াইটের সময়
ঝাঁসির রাণীর সেই ঘোড়াটার মত
অতএব পরাজয়
অবধারিত।
তার আগেই অবশ্য
সেরা নিউজ চ্যানেলগুলোর দৌলতে
পথে নেমেছে বোনেরা---ভাইএরা---
বন্ধু আর নিঃসম্পর্কীয়
অজস্র মানুষ
মোমের অসংখ্য হলদে শিখায়
মুখ দেখছে শীতার্ত দিল্লীর
পথঘাট।
রাজ ওরফে ওদিকে
আত্মরক্ষার কোনো কসুর ছিল না
শহরের প্রাণকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে
গোটা পুলিশবাহিনী
নেমে পড়েছিল লাঠিসোটা---
কাঁদানে গ্যাস---জল-কামান
ঊনতিরিশে কবি শর্মিষ্ঠা সেন (জন্ম ২৮.১২.১৯৬৩)। ২৬শে জানুয়ারি ২০১৩ তে, পোর্টব্লেয়ারের
রবীন্দ্র বাংলা বিদ্যালয় প্রাক্তনী সংসদ দ্বারা প্রকাশিত, সাগরিকা দাম হোড় দ্বারা সম্পাদিত, “রবির আলো”
পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা। নির্ভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদ।
আর লোহার ব্যারিকেড নিয়ে
(কে বলে ভারতীয় পুলিশ তৎপর নয়?)
বন্ধ ছিল দশটা মেট্রো স্টেশন
রাস্তাঘাট
আনেক বাসস্ট্যান্ড
“মে হার সোল রেস্ট ইন পীস”
বেশি কথা খরচ না করে
আধুনিক মেসেজিং এর ভাষায় লিখছিল
“আর.আই.পি”---শীর্ষনির্দেশের
---যেমন দস্তুর ইদানীং
রাত্রের খাপে-খোপে থাকা
নেকড়েরা কিন্তু এসময় নড়ে-চড়ে
আরও দ্রুত খুঁজে নিচ্ছে
নরম মাংস---
নারীমাংস।
প্রান্তরের শিশির মুছে আজো
ভেসে যাচ্ছে মৃত-শিশুর গন্ধ---
মধ্যবয়সিনীর গাঢ় রক্ত---
পর্বতের স্বাধীনা যুবতীর
চীৎকারে কেঁপে উঠছে
বাকিটা ভূগোল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পদ্য লেখার অবকাশ নেই মোটে
শহর গাঁয়ের শরীরে জটিল রোগ
দিল্লী হোক কি মুন্বাই-কলকাতা
ভারত ভূগছে অবিরাম দুর্ভোগ
নদী মাতৃক প্রাচীন ভারতভূমি
সবুজ মাঠের কণ্ঠলগ্না সুখ
বিদূষী অপালা, লোপামুদ্রা ও ঘোষা
সুদূর অতীত কবিতায় প্রিয় খুব
হয়তো অতীতে নষ্টালজিয়া টান
হয়তো বা থাকে স্বপ্নের পরিপাটি
হয়তো সে-দিন চলে যেতে যেতে পথে
ফেলে রেখে যায় গল্পের যাদুকাঠি
কালের সে দিন পেরিয়ে এসেও দেখি
এ-পৃথিবীতেও গল্পেরা গড়ে ওঠে
ছিন্নভিন্ন নির্ভয়া কাহিনীতে
না-মানুষের মুখে রক্তের দাগ ফোটে
কবিতা, তোমায় দিলাম আজকে ছুটি
কবি শর্মিষ্ঠা সেন (জন্ম ২৮.১২.১৯৬৩)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তে, পোর্টব্লেয়ারের রবীন্দ্র বাংলা বিদ্যালয় প্রাক্তনী সংসদ
দ্বারা প্রকাশিত, সাগরিকা দাম হোড় দ্বারা সম্পাদিত, “রবির আলো” পত্রিকার সুবর্ণ জয়ন্তী সংকলনে প্রকাশিত কবিতা।
গুগল্-আর্থে নদী-পাহাড়ের কোলে
আঁকাবাঁকা যত রাস্তা ও বাড়ী ঘিরে
খোঁজ খোঁজ... থাকে মানুষের সন্তান
কোন জানালায়, কোন সায়রের তীরে...!
শহর গাঁয়ের নতুন বার্তা রোজ
শাসকেরা খোঁজে আত্মজাতার দোষ
যে-মেয়ে ভাসবে, স্বপ্নের দেশে তার
ঘাতকেরা দেবে প্রাণহানি-নির্ঘোষ
পঙ্কিল পথে ওত পেতে থাকে ভয়
নগরে ও বনে হয়ে যায় দিক ভুল
অর্থনীতির চড়া-উতরাই বেয়ে
যা চলে আসে তা হিংস্র শ্বাপদকুল
ক্ষুধার পৃথিবী গদ্যই হয় জানি
স্বপ্ন হারায় কিশোর কবির চোখে
গাড়ির বাইরে ভিখারীর হাত তবু
আমার দেশের জিডিপি-র রেখা ছোটে
কবিতা বিষম ফ্যাসাদে পড়েছে তাই
অ্যাড্-ম্যাগ্ আর টেলিভিশনের তাড়ি
পিছলিয়ে যায় ক্রমাগত সুনামিতে
কবিতায় ডোবে মানুষের ঘরবাড়ী
তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দাবী
ছিনতাই আর আপোষ কি খণ্ডায়
দেশ, আমার দেশ, ভাল থেকো ঝাড়খণ্ড
তেলেঙ্গানা কি শহর-কলকাতায়
হে কালপুরুষ, সত্যসাক্ষী তুমি,
(সত্য যদিও আমার, এর ,ওর, তার ---)
দময়ন্তীরা যুগে যুগে থেকে যায়
“বিজিত” ও “জিতে” ঋণ থাকে বলো কার?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রতিদিন একটু করে ঠাঁই কমছে
মাথার উপরে সেই একফালি নীল
দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যাচ্ছে এক একটা খবরে
উড়ে বেড়ানোর পাখি আকাশ হারাল
পঞ্চদশীও তো উত্তর-পঞ্চাশ এখন
যে-সমুদ্র হাতছানি দিয়ে ডাকত বুকের গভীরে
সে এখন সমস্ত চৈতন্য জুড়ে স্মৃতিকথা ঢেউ
কেন তুই ছেলেবেলা এমন বিষম
একা করে চলে যাস ঝাঁকড়াচুলো মেয়ে
আমি যে একা-জন্মে বহু হই তাঁদের ছায়ায়
হিজল বকুল বট অশ্বথ তাঁরাই
আকাশ সোনালি রোদ বাদলের আশা
তবে কেন জন্মে দিলি এত ভালবাসা
সে-খবর উড়ে যাক ভাসুক ভেলায়
আর আমি কিছুতেই হারাতে পারিনা
জীবন অচেনা লাগে যত নীল বিগত সময়
ছুঁয়ে যায় বৃক্ষশাখা একা করে দিয়ে যায় আরো
ধ্বংস ভ্রংশ সত্তা নিয়ে আজও আমি একাকী দাঁড়িয়ে
বিগত বৃক্ষ
কবি শর্মিষ্ঠা সেন (জন্ম ২৮.১২.১৯৬৩)। ২৬শে জানুয়ারি ২০১৭ তে, পোর্টব্লেয়ারের রবীন্দ্র বাংলা বিদ্যালয় প্রাক্তনী
সংসদ দ্বারা প্রকাশিত, অঞ্জনা দাস (সরকার) দ্বারা সম্পাদিত, “রবির আলো” পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাগো তুই কাঁদিসনেকো আর,
বর পাবি তুই ঘর পাবি তুই
টোকা ভরা খই
বর্ষাকালে পুঁইয়ের মাচায় বান আসছে ওই
আসুক বান আসুক খরা ধরুক এসে জীর্ণ জরা
তবু যে মা প্রাণের টানে নিজের ভিটেয় রই
মাগো তুই কাঁদিসনেকো আর, বর পাবি তুই, ঘর পাবি তুই
টোকা ভরা খই
পুলিস এসে ছিঁড়ছে মা তোর কাপড়খানি
ভাঙছে বুকের পাঁজর,
তবু তুই মা দুখের জ্বালায় যাসনা ফেলে কালঅবেলায়
আমরা শুধু আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে রই।
মাগো তুই কাঁদিসনেকো আর, বর পাবি তুই, ঘর পাবি তুই
টোকা ভরা খই
আকাশ মানে বজ্রনিনাদ ঝড়ের পূর্বাভাস
সেই ঝড়ে মা নতুন বেশে নতুন রণসাজ।
তাপসীরা রক্ত দিল, সেই আগুনে জ্বলছে মাগো
জ্বলছে মাটি জ্বলছে আকাশ
নন্দীগ্রামে দামাল যুবক আত্মহুতি তোমার তরে, ভাঙ্গর সিঙ্গুর হরিপুরে
যেথায় সেথায় মেঘ করেছে, মেঘ করেছে বাংলা জুড়ে ওই
মাগো তুই কাঁদিসনেকো আর, বর পাবি তুই, ঘর পাবি তুই
টোকা ভরা খই।
মা মাটি মানুষ কবি মানিক মণ্ডল (৫.১২.১৯৬৪)। রচনা ২০০৭। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা।
কবিকণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন নীচে প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বয়েই গেছে আমলাশোলের
ভুখার বেটা মৃত্যুবরণ
রাজার দাপে পালটি খেলে
বয়েই গেছে।
বয়েই গেছে নন্দীগ্রামের মুণ্ডুকাটা শিশুর খুনে
দিল্লী থেকে ধর্ম এনে...
হাভাতেরা পাল্টি খেলে,
বয়েই গেছে।
বয়েই গেছে ডিমের দামে
বুদ্ধিজীবী বিক্রী হলেও
জ্ঞানপাপিরা রাজার ছলে,
পাল্টি খেলে, বয়েই গেছে।
বয়েই গেছে সিঙ্গুর ভাঙ্গর নন্দীগ্রামে
কৃষক বাঁচাও আওয়াজ তুলে
বিদ্রোহী কেউ পাল্টি খেলে,
বয়েই গেছে।
বয়েই গেছে রুকবানুরা
ভাইয়ের খুনে জ্বলতে গিয়ে
রাজার কথায় ভিমরি খেয়ে
পাল্টি খেলে, বয়েই গেছে।
বয়েই গেছে কবি মানিক মণ্ডল (৫.১২.১৯৬৪)। রচনা ২০০৭। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা। কবি কণ্ঠে
আবৃত্তি শুনুন নীচে প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .।
পাল্টি খেলে, পাল্টি খেলে,
রাজার মুখোশ ছিড়লো ঝড়ে,
হাজার চোখের তীক্ষ্ণ বাণে,
চোখ গুলো সব দেখলো এবার
রাজা তুই
ভণ্ডরাজা, খুনি রাজা, মিখ্যা রাজা, শোষক রাজা,
ধনীর রাজা, পুলিশ রাজা, রক্তচোষা হাড়গিলে তুই।
তোর ঘরের মানুষ পাল্টি খেলে?
--- বলিস কিরে?
বয়েই গেছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কে যেন কে যেন বলেছে লিখে
মিথ্যা বলো, মিথ্যা বলো বার বার
বার বার আরও---আরও---
মিথ্যা সত্যি হবে আবার।
আজ প্রতিবাদ প্রতিরোধে যারা-
মাথা তুলে আছে,
যেখানে সত্য চাপা পড়ে থাকে
জোরে আরও বেশি জোরে।
তবু---তবুও আবার, তবুও আবার
তবুও আবার কবি মানিক মণ্ডল (৫.১২.১৯৬৪)। রচনা ২০০৭। সিঙ্গুর
নন্দীগ্রামের কবিতা। কবি কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন নীচে প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“ওই যে দূরে কালচে রঙের, ওইটা যেন কী?”
“ও আমাদের পড়শি গ্রহ, বন্ধ্যা পৃথিবী।”
“বন্ধ্যা কেন? কালচে কেন? সবুজ কেন না?
তুমি তো মা সবই জানো, বুঝিয়ে বল না।”
মা হেসে কন, “ও বোকা মেয়ে, ক্যামনে সবুজ হবে?
গাছ আছে কি? প্রাণ আছে কি? বন্ধ্যা-ও তাই রবে!
একটা সময় নীল ঘন নীল রঙ ছিল যে তার,
যার রূপের কাছে সব গ্রহরাই মানত তখন হার।
তার বাতাস ছিল মিষ্টি-মধুর, ফুলের গন্ধে ভরা,
গাছে গাছে ছিল পাখিদের গান, আকাশ আকুল করা,
স্থলে-জলে ছিল কত প্রাণীদের হরা-ভরা সংসার,
ছিল মায়াভরা দিন আর রাত, ছয় ঋতু রংদার।
বিপদ ঘনাল পৃথিবীর বুকে দু’পেয়ে মানুষ এলে,
পৃথিবীর সব রূপ-রস ওই এক প্রাণী খেয়ে নিলে!
মাত্র কয়েক হাজার বছরে 'মানুষ' নামে সে প্রাণী
'সভ্যতা' বলে কী যে গড়ল! তার কী বা আর জানি!
শুধু জানি কোটি কোটি বছরের বুড়ো ওই পৃথিবীতে
ধ্বংসের বীজ মানুষই বুনেছে, সন্দেহ নেই তাতে।
দস্যুর মতো কিছু মানুষের লোভ-লালসার জেরে,
দূষণে দূষণে পৃথিবীটা ক্রমে ঝামা হল পিঠ পুড়ে।
হাওয়ার অভাবে রইল না সেথা কোনো গাছপালা-প্রাণী,
তাই ‘নীল’ নয়, পৃথিবীকে আজ ‘কালো গ্রহ’ বলে জানি।"
পৃথিবীর কথা
কবি সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৯.১২.১৯৬৪)।
মেয়ে বলে, “মাগো, শুনলাম সব। বুঝলামও কিছু তার।
না-বোঝাও কিছু থেকে গেল তবু, অর্থ বুঝিনি যার।
‘লোভ’ ও ‘লালসা’ কাকে বলে মা? ‘দস্যু’-র মানে কী?
আমাদের গ্রহে এইসব কথা আর কেউ জানে কি?
‘দূষণ’ কথাও ঠেকছে নতুন, কখনও শুনিনি আগে।
বোঝাও তুমি আরো ভালো করে ,জানতে ইচ্ছা জাগে।"
ফাঁপরেতে পড়ে মা বলেন, “মেয়ে, এই যা জেনেছ ঢের।
কিছু কিছু কথা না-জানলেই মঙ্গল গ্রহদের।
থাক বেঁচে থাক আমাদের গ্রহ, থাক বেঁচে তার প্রাণ,
রক্ষে এটাই এই গ্রহে কভু আসেনি মানব-যান।
যদি কোনোভাবে খুঁজে-পেতে এতে মানুষ ফেলত পা,
আমরাও আজ হারিয়ে যেতাম, কিচ্ছু রইত না।”
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এলাটিং বেলাটিং সই লো,
সুখের কথা কই লো।
কয়লাখনির ধাওড়া
ঘরে জন্ম আমার হইল।
দাইয়ের নাম শৈল।
শৈল দাই কইল,
“মেয়ের মা কই লো?
ভাঙা ঘর রাঙা করে
লক্ষী তোর আইল।
একশ’ টাকা চাই লো।”
মা শুনে কয়, “শৈল,
কৃপণ মোরা নই লো।
নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
টাকা কোথায় পাই লো?
কানাকড়িও নাই লো।”
এলাটিং বেলাটিং সই লো... কথা - কবি সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৯.১২.১৯৬৪)। সুর ও
গীতিরূপান্তর - রাজেশ দত্ত। ২২ জুন, ২০১৯ তারিখে, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এই গানটি রচিত হয়। সুর ও
গীতিরূপান্তর: ২৪ জুন ২০১৯। গানটির ভিডিও সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এলাটিং বেলাটিং সই লো
পুড়ল কত খই লো!
ছাদনাতলায় চাঁদনি রাতে,
দোজবরে এক বুড়ার সাথে,
বিয়া আমার হইল।
নটে গাছ মুড়াইল॥
এলাটিং বেলাটিং সই লো,
দুখের কথা কই লো।
ভাই যায় পাঠশালাতে,
আমার ঠাঁই পাকশালাতে,
ভাইয়ের হাতে স্লেট-পেন্সিল,
আমার হাতে ছাই লো।
এইভাবে দিন যায় লো।
পড়শিরা কয় মায়ের কানে,
“মেয়ে ডাগর হইল।
যদি বল ঘটক ডাকি,
ঘরে এনে মেঠাই রাখি,
এই ফাগুনেই দাও গো বিয়া
আর দেরি না সইল।”
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শোনো শোনো শহরবাসী
শোনো দিয়া মন।
সিঙ্গুরের গ্রামের কথা
করি বরণন।
খাসের ভেড়ি, বেড়াবেড়ি
গোপালনগর গ্রামে
দখল হল চাষের জমি
শিল্পায়নের নামে।
মাছির গন্ধে বিড়াল লাফায়,
পুঁজির গন্ধে বুদ্ধ।
তার রকমসকম দেখে মোদের
বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ।
টাটা - সালিম যন্ত্রী আজ,
বুদ্ধ - বিমান যন্ত্র
কমিউনিস্ট নেতার মুখে
(হায় রে) ধনতন্ত্রের মন্ত্র।
সিঙ্গুর পাঁচালি কবি সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৯.১২.১৯৬৪)। জানুয়ারি ২০০৭-তে “এখন বিসংবাদ”
প্রকাশিত, গৌতম সরকার সম্পাদিত, কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জ্ঞাপক সাহিত্য সংকলন “ভূমি
রাক্ষস এবং রাজকুমার” গ্রন্থটি থেকে সংগৃহীত।
গায়ের জোরে সোনার জমি
কেড়ে নিতে চায়।
বুশ-ব্রেয়ারের সাথে তাদের
ফারাক করাই দায়।
বুদ্ধিজীবী আছো যত
আওয়াজ ওঠাও সবে,
বুদ্ধের শরণ নিও না আর
(তাতে) দেশের ভালো হবে।
(তাতে) দশের ভালো হবে ।
মেহনতী মানুষেরা
জোট বেঁধে আয় ভাই।
লড়াই ছাড়া এখন মোদের
কোনও উপায় নাই।
ক্যাডার - পুলিশ দিয়ে যতই
হোক না জমি ঘেরা,
ছিনিয়ে নেব হকের ধন
উপড়ে দিয়ে বেড়া।
সিংহগড়ের মানুষ মোরা,
শাকাহারী নই
কাস্তে হাতে প্রতিবাদে
সবাই সামিল হই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই দেশ ছিল দেশের সেরা।
(ছিল) সকল দেশের রানী এদেশ ধন ধান্যে পুস্পে ভরা
ধন তো নিয়েছে চোরে, ধান নিয়েছে মজুতদারে
রাসায়নিক সারের বিষে মরে যাচ্ছে সবুজ চারা।
অনাহারে প্রথম হয়ে এই বাংলায় পড়ল সাড়া।
দেশের যত স্নিগ্ধ নদী বয় না যে আর নিরবধি
বড় বাঁধ আর পলির ভারে মজে তারা হল সারা।
জমি-জিরেত সব হারিয়ে লাখো মানুষ গৃহহারা।
বানের জলে ডুবলো দেশটা প্রতিকারের নাই প্রচেষ্টা
মন্ত্রী-নেতার প্রতিশ্রুতি শুনে লোকে দিশেহারা।
গান : এই দেশ ছিল দেশের সেরা
কবি সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৯.১২.১৯৬৪)। কলকাতা বইমেলা ২০১৯-এ অরুণ
ভট্টাচার্য সম্পাদিত, 'আকিঞ্চন' পত্রিকা “শততম সংখ্যা: নির্বাচিত কবিতা সংকলন” গ্রন্থে
প্রকাশিত (১৯৮১--২০১৯)। গানটি লোককবি নিবারণ পন্ডিতের গানের অনুসরণে রচিত
। রামপ্রসাদী সুরে গাওয়া হবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জানলা খুলে বসে আছি সেই কখন!
ভোর তাই আজ উছলে পড়েছে ঘরে--
দোয়েল - চড়ুই-কোয়েল সুপুরি গাছে
বিলাবল রাগে কত যে সোহাগ গাঁথে।
খানিক বাদেই হেঁকে যায় ফেরিওলা
রুজি রোজগারে, প্রয়োজনে অন্যরা
তাদের যাপন দ্বন্দ্বে অথবা লঘু রসালাপে
‘তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে।'
খোলা জানলায় স্তব্ধতা হাত ছোঁয়
মৃত্যু মিছিলে ক্লান্ত দু চোখ দেখে
ধর্মের মদে মাতালের পরিণতি - - -
ক্ষমতা-দ্বন্দ্বে দাপুটে সমুন্নতি!
সারি সারি চিতা একা নির্জনে জ্বলে
থেকে থেকে শুনি গর্জে উঠছে চাবুক - - -
‘তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ?
তুমি কি বেসেছ ভালো?’
রৌদ্রস্নানে
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.৪.১৯৬৫)। করোনা মহামারীরর ২য় ঢেউয়ের কাসে
রচিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' সক্কলে
এ যুগের কবি ডেকেছেন ভালোবেসে
কবির চিতার প্রদাহ নিভুক এবার---
দধীচির হাড়ে জ্বলুক শপথ মশাল
যে আছো যেখানে প্রতিবেশী, পরবাসী
সময় হয়েছে ভোলার - - আপন-পর
খুলেছি জানলা---
এবার - - - রোদে ধুয়ে যাক ঘর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নেই সংশয় নেই বিস্ময়,
একই খুনের ধারা সব দেহে বয়
মিষ্টি মধুর হোক ভেদাভেদ দুর
সবার প্রাণেতে বেজে যাক সুর
মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান
কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান ( ২ )
কেউ পড়ে মন্ত্র কেউ আজান ( ২ )
কেই করে মুশকিল আসান
কেউ ধরে যজমান
কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান
একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান ( ২ )
ওরে বলে নজরুল হোক এ জান কবুল
যেন করি নির্ভুল এর অর্থ প্রমাণ
মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান
কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান ( ২ )
কেউ ডাকে আল্লা কেউ ভগবান ( ২ )
সবারই পেটেতে খিদে বুকে প্রাণ ওরে ( ২ )
কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান---
বৌদ্ধ ভিখারি হোক নির্ভিক শিখ ( ২ )
অসমী বন্ধু ---- গোর্খা সৈনিক ( ২ )
মন্দির মসজিদ গুরুদোয়ার
ভক্তি শক্তি রূপের বাহার
কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান
কবি শিলাজিৎ মজুমদার (জন্ম ৯.১০.১৯৬৫)
মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান
জাতের দোহাই দিয়ে যারা নিতে চায় জান ( ২ )
ওরে সেই তো অসুর সেই শয়তান
যায় যদি যাক তবে আগে যাক তার প্রাণ
মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কি হয় বুঝবে কি ছাই ফুরফুরে দিন কেটে যায়
তুমি আর বুঝবে কি ভাই ফুরফুরে দিন কেটে যায়
বোঝাচ্ছো স্বাধীনতার মানে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
সে বুঝেছে স্বাধীনতার মানে
তুমি হায় বুঝবে কি ছাই গান গেয়ে দিন কেটে যায়
তুমি হায় বুঝবে কি ছাই গান গেয়ে দিন কেটে যায়
বোঝাচ্ছো স্বাধীনতার মানে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
সে বুঝেছে স্বাধীনতার মানে
সে বুঝেছে খাঁচায় থেকে গরাদভাঙায় কি দম লাগে
সে বুঝেছে খাঁচায় থেকে গরাদভাঙায় কি দম লাগে
লাগে কত রক্ত কত ঘাম
স্কিনশিটে ফেলে আসি ঘাম, ফরেন চিটস কিনতে দিলাম
স্কিনশিটে ফেলে আসি ঘাম, ফরেন চিটস কিনতে দিলাম
স্বাধীনতার কেন বদনাম
তুমি আর বুঝবে কি ভাই ফুরফুরে দিন কেটে যায়
তুমি আর বুঝবে কি ভাই গান গেয়ে দিন কেটে যায়
বোঝাচ্ছো স্বাধীনতার মানে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
যে অধিনী দিনে রাতে বুলেটে যে বুক পাতে
সে বুঝেছে স্বাধীনতার মানে
পাড়ার নালায় লাশ ভাসলে পারাবারে ভাসাই জাহাজ
পাড়ার নালায় লাশ ভাসলে পারাবারে ভাসাই জাহাজ
বিপ্লব ঘর ছাড়া এক পাখী
বাঁচলে পাখী তাঁরই ঠোঁটে খাবে ধান যেমন জোটে
বাঁচলে পাখী তাঁরই ঠোঁটে খাবে ধান যেমন জোটে
ধান খ্যাত কেন বলে হাঁকি
মন তার যতই না চায় যে পাখীর বাঁচাই খাঁচায়
মন তার যতই না চায় যে পাখীর বাঁচাই খাঁচায়
সেই বোঝে ভাঙা কত কঠিন
তুমি হায় বুঝবে কি ভাই ফুরফুরে দিন কেটে যায়
তুমি হায় বুঝবে কি ছাই শান্তিতে দিন কেটে যায়
স্বাধীন থাকা তোমার রোজের রুটি
স্বাধীন থাকা আমার রোজের রুটি
স্বাধীন থাকা তোমার রোজের রুটি
স্বাধীন থাকা আমার রুটি
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বহুদিন আগে নাকি ছিল ভগবান
ধনুকেতে টান দিয়ে ছুঁড়ে দিত বান
কথা নাকি শুনে তার সব হনুমান
যুদ্ধের ক্ষেত্রে দিয়ে দিত প্রাণ
দাতা ছিল ত্রাতা ছিল করে দিত দান
প্রজারা তাকে কত করে সম্মান
তাই সীতা সতী কিনা করতে প্রমাণ
প্রজাদের অনুরোধে আগুন জ্বালান
এ বেচারা, এ বেচারা ভাবে বসে বসে ভেবে সারা।
স্বর্গে তখন ছিল দেবতার রাজ
মধ্যমনি তিনি গুণী দেবরাজ
যখন তখন তিনি ছুঁড়তেন বাজ
মর্ত্যে শান্তি রাখা ছিল তার কাজ
রূপসী উর্বশী আর সোমরস
স্বর্গটা ছিল নাকি তারই হাতে বশ
দেবগুণে গুণী তুমি কি করিলে কাজ
সারা দেহ লোচনে ভরে কাটে লাজ
এ বেচারা ভাবে, বসে বসে ভেবে সারা।
আগুন আজও জ্বলে ভীষণ জ্বলন
পিতৃ-আজ্ঞা আজও হচ্ছে পালন
বিভীষণ আজও আছে আছেন রাবণ
আজও বীরেরা মরে লড়ে মহারণ
আজও আছে ভগবান তাকত বহুত
উর্বশী সোমরস তাও মজুত
আগুন আজও জ্বলে জ্বলে ধুনোধূপ
বদলায় চেহারা বদলায় রূপ
এ বেচারা, এ বেচারা ভাবে বসে বসে ভেবে সারা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে শোনো খবর আজ কবর খোঁড়া বন্ধ আছে
তাই মরছি ভাই মরব না
লাশ হয়ে আর পচবো না
হে শোনো খবর আজ কবর খোড়া বন্ধ আছে।
হিমঘরে থরে থরে পড়ে থেকে লাভ নেই লোকশান
তার চেয়ে সজীব রোদেতে শানিয়ে ধারালো কর এ জান
সেই ধারে কাটি ধান কাটি পাপ
কাটি জিভ সব বিষধর সর্পদের
সব বিষধর সর্পদের
এ শোনো খবর---
এ শোনো খবর আজ ছন্দপতন বন্ধ আছে
তাই বেসুর গান গাইব না তাই বেতাল বেচাল চাইব না।
এ শোনো খবর-----
সুরহীন সব অসুর বংশ ধ্বংস করে দে আজ
ছন্দে ছন্দে ছলকিয়ে এসো ঝড়ের ঘোরেতে হানি বাজ
সেই বাজে পুড়ে যাক্ জ্বলে যাক্
টলে যাক সব অশুভর খানদান
সব অশুভর খানদান
সব অশুভর খানদান॥
এ শোনো খবর আজ কবর খোড়া বন্ধ আছে
এ শোনো খবর ভোরের বাতাসে আজ ঝড় উঠেছে
এ ঝড় ঝলমলতার চামচে না
তাই থামবে না আর থামছে না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুগন্ধি ধূপ ----চুপ
চুপ কেন ?
রেগে যাবে
মও কা পেলে
শাপ দেবে
বয়ে গেল
গা তবে---
সুগন্ধি ধূপ দিল চাল দিল কলা দিল
প্রসাদের থালা দিল চেটে পুটে খেলে গুরু কিছু পেলো না
তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি
আর কেউ জানে না |
ছুপে ছুপে কত রূপে তুমি এসে ধরা দাও
সে রূপের বাহার আমি জানি কেউ জানে না
তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি
আর কেউ জানে না |
এ শালারা চেল্লাবে কিছু পাবে না
কিছু পাবে না, কিছু পাবে না
চিল্লিয়ে গলা ফেটে যাবে তবু পাবে না
তুমি যা জিনিস গুরু---
দলবল নিয়ে এসে কিছু হবে না
কিছু হবে না, কিছু হবে না
কত মালই এল গেল
বাঁয়া খাতা চলে গেল
তোমার অতল তলে কূল পেল না
তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না
তুমি যা জিনিস গুরু সত্যি বলছি আমিও চিনি না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বেতাল বেচাল এ দিনকাল
ভেবে ভেবে নাজেহাল
তবুও না ছেড়ে হাল
ভাবনা ভুলতে পারছি না
ক্লান্ত বিকেল ব্যস্ত সকাল
নিয়ম করে হচ্ছি নাকাল
সু-সময়টা সত্যি পাঁকাল
পিছল নাগাল পাচ্ছি না
বেতাল বেচাল এ দিনকাল
V . I . P Road যত্নে মোড়া
আমার গলির রাস্তা খোঁড়া
V. I. P Road যত্নে মোড়া
তোমার গলির রাস্তা খোঁড়া
জীবন নামক গোদের ওপর
ধর্মঘটের বিষফোঁড়া
Fashion ব়্যাশন কাঁকড় চাল
রাজনীতিতে নোংরা চাল
ধুলো ধোঁয়া এ জঞ্জাল
তবুও হাল ছাড়ছি না
বেতাল বেচাল এ দিনকাল
স্কুল কলেজ অফিস পাড়ায়
বন্ধু পেলাম হাতে গোনা
কেউ বা শুধুই বন্ধু হলো
কেউ বা আবার খুব সেয়ানা
টুকলু বুবাই প্রবাল বুবুন
গুপী ছেকু দোস্তি দারুণ
দোস্তি দুধের এ পেয়ালায়
ছোট্ট চোনা চোর বরুন
জ্যান্ত ভূতের ক্লান্ত স্লোগান
মানছি না আর মানব না তান
জ্যান্ত ভূতের ক্লান্ত স্লোগান
মিছিল জনগণের যোগান
এই আঁধারে আলোর বান
নিত্য-নতুন টাটকা গান
তাই তো এ হাল ছাড়ছি না
তাই তো এ হাল ছাড়ব না
বেতাল বেচাল এ দিনকাল
ঠিক বেঠিক বেঠিক ঠিক
ডান বাম বিভিন্ন দিক
বড্ড জ্বালায় যত্রতত্র
পান পরাগের নোংরা পিক্
রবিতে ছুটি সনিতে সুখ
শেষ হলেই আবার সোম
পথ অবরোধ ধার শোধবোধ
ইলেক্ শনের দুচারটে বোম্
এমনি করেই কাটবে দিন
নিত্য নতুন নাগপাশে
পুলিশে ধরবে নিরীহ গরু
হঠাৎ কখন মাসের শেষে
বাংলা মদের দোকানগুলোয়
মাসের শেষেও ভীড় বেশি
এদিন বদল করতে গেলে
বদলি হবেন লোকাল O.C
এত কিছু বদলায় আর দিনগুলো কি বদলাবে না
সুদিন আসার আশায় আছি ভাবনা ভুলতে পারছি না
বেতাল বেচাল এ দিনকাল
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে আমার পরম পিতঃ
যদি ভুলেও আবার জন্ম নিই তো
তুমি যেন ভুল কোরো না
আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না |
স্কুলের এ শিক্ষা ভীষণ,
ভুগোল ইতিহাস তারিখ বা সন
ভর, ভার, পরিমিতি বা ত্রিকোন মেপেও কোনো
লাভ হল না
পাঠাবার আর জায়গা পেলে না
গোল কৃমির জনন অঙ্গ
অনিচ্ছাতেও বঙ্গভঙ্গ
কুনো ব্যাঙের নার্ভতন্ত্রে
অঙ্ক শিখেও গণতন্ত্রে
কিছুতেই কোনো হিসাব মেলে না
আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না
হে আমার পরম পিতঃ
যদিও ভুলেও আবার জন্ম নিই তো
তুমি যেন ভুল কোরো না
আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না |
হে আমার পরম পিতঃ কবি শিলাজিৎ মজুমদার (জন্ম ৯.১০.১৯৬৫)
শিক্ষা মানেই এ পরীক্ষা
পরীক্ষা মানেই কত নম্বর
নম্বরের জন্য দুবেলা
শুধুই পড়া বন্ধ খেলা
নম্বরের জন্য অবেলায়
ট্রেনের চাকা পড়ছে গলায়
বুঝছ না কি আজ এ বেলায়
পাশ আর ফেলের ফালতু খেলায়
জিতেও কোনো লাভ হল না
হে আমার পরম পিতঃ
যদিও ভুলে আবার জন্ম নিই তো
তুমি যেন ভুল কোরো না
আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কষ্টিপাথরের মতো, কালো মজবুত শরীর
মরার আগে লিখে, শেষ জবানী --
. অথচ “অক্ষরজ্ঞানহীন”
. হলো সে “আত্মঘাতী”,
পার্টির নামাবলী গায়ে চড়িয়ে,
এক পিঠ, রোদ মেখে
ফাগুনের, আগুন গায়ে লাগিয়ে
আমৃত্যু, সুখের খোঁজে
চলছে সদল-বলে।
জানে না, আবাহন - বিসর্জন।
এক ঝাঁক গাড়ী ছুটছে -- গ্রামের পথে--
গণতন্ত্রের বড়ো উত্সব, ভোটের প্রচারে।
পাল্লা দিয়ে ছুটছে-ধূলো, শুকনো-পাতা-ছেঁড়া কাগজ।
সব শেষে, আদল - গায়ে --কিছু উত্সুক শিশু ;
সবাই কম-বেশী কল্প-তরু
ফুটছে উন্নয়নের ফুলঝুড়ি।
দাতা-কর্ণের ছড়াছড়ি সবখানে ;
অক্ষরজ্ঞানে- আছে সন্দেহ --
ভাষা-জ্ঞানে, নেই সংস্কৃতি --
ভাষণে প্রবাহিত বিষ-ধর-‘বাস্তু-সাপের বিষ’।
অমৃতের শহীদ
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী (জন্ম ১.১০.১৯৬৪)। রচনা ৭ই চৈত্র, ১৪২৭।
হাল্লার-মাঠের বস্তির ‘মরদ’ তুই --
বাড়ীতে ছেলে-পুলে, আছে ঘর-ভরা সংসার।
তোর কথায় পোষ-মানে, শ-পাঁচেক মানুষ।
তুই নুনের পুতুল হয়ে, মাপতে গেছিস নদীর জল ?
মস্তিষ্ক-প্রসূত, বিষের নজর ডেকে আনলো বিপদ ;
. অন্ধ কি দেখতে পায় ?
. কালা কি শুনতে পায় ?
. নিরক্ষর, কি লিখতে-পড়তে পারে ?
. ঠিক-বেঠিক আর জানবি, কোথা থেকে।
তেজপাতা-আমলকি-জামরুল --স্বর্ণচাপার ডালপালা--
. জানে তোর, মৃত্যু বৃত্তান্ত।
আর একান্তই জানে, গোয়ালের “জাবর কাটা” গরু।
কষ্টিপাথরের মতো, কালো মজবুত শরীর।
মরার আগে লিখে, শেষ জবানী --
. অথচ- “অক্ষরজ্ঞানহীন”
. হলো সে “আত্মঘাতী”
. এটা কি সম্ভব ?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি-ছুটে বেড়াবো-
. জানি, হাঁফিয়ে যাবো।
. তাও-ছুটবো !
পাথর-কাঁকড়, মেশানো-রাস্তায়-ছুটছি।
শিশিরে ভেজা-ঘাসের উপর, আছে পায়ের ছাপ।
মাটিতে শুকিয়ে, যাওয়া-বালুর-চর।
জেলেদের বোনা জাল, ভেঙ্গে যাওয়া-ডিঙ্গি।
শুকোতে দেওয়া, বালু মাখা সামুদ্রিক মাছ ।
ঝড়ে-পড়া-শুকনো নারকেল
পড়ে থাকা, লবণে ভরা ঝাউ গাছ।
চিংড়ি-লাল-কাঁকড়ার, ছড়ানো বিছানা।
বাংলার খাঁড়ি-সৈকত-সাগরের-দুধ-ফেনা জল ।
দীঘা-মন্দারমণি-পুরী -চট্টগ্রাম--
. সব পিছনে ফেলে -- --- ---- -- ;
থামিয়ে দেবো-পৃথিবীর গতি ? দিন-রাত, একাকার
. হয়ে যাবে।
“মাধ্যাকর্ষণ”-নেবো কেড়ে -- এবার-সবাই “কার্পাস” তুলো।
বানিয়ে নেবো-বড়ো “এ্যাকো্রিয়াম” ।
বাইরে থেকে -পাঠাবো “প্রাণ-বায়ু”
হবো সবাই, রঙ্গিন মাছ- লেজ দুলে গুঁতো গুঁতি করো।
তেত্রিশ-কোটি-দেব-দেবীর বড় অলৌকিক ভাণ্ডার।
মরে গেলো, ছবি হলো--আবার নাকি “নরক”।
সত্যি--ভাবনা
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী (জন্ম ১.১০.১৯৬৪)। রচনা ৩০.১২.২০২০।
পাপ-অনাচারে, চিত্র গুপ্তের কাছে খাতা হবে বিচার
টগবগ-ফুটছে তেল, সাঁতলানো হবে মাংস --
যদি বাঁচতে চাও ! স্বামীর-চিতায় বসে কাড়ো ।
শাস্ত্রের ষড়যন্ত্র -- একই চিতায় “ডবল” ছাই।
রামমোহন-তুমি পাগল, এদের কে বোঝাবে !
পলেস্তরাবিহীন -পৃথিবীর রংটা, বড়ো ঘোলাটে।
আচ্ছা একটা--অন্য পৃথিবীর কথা ভাবা যায় না ?
পরিস্কার-আকাশ, রোগ-নেই-ব্যাভিচার নেই।
অভাব নেই--- তাহলে আমি থামবো ?
আছে কি ----
“মিরাকিউরলের” -- মতো আশ্চর্য ওষুধ
তাহলে-একটি “বড়িই” যথেষ্ট।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি-মাটি হয়ে যাও-- মনে হলে, গাছ হও--
জল হও--পাহাড় হও-- ধু-ধু ফাঁকা, মাঠ হয়ে যাও।
তোমার, কান আছে প্রাণ-আছে মুখ আছে ;
তুমি, শুনবে-নড়বে-না, চড়বে না- বলবে না।
সকলে, তোমার- আবার-কেউ তোমার নয়।
খড়ি কুড়ানির-মেয়ে ছিলে, ‘তুমি’।
দুধে-আলতায়, মেশানো ছিলো -- গায়ের রং।
ঝর্ণার জল--তরঙ্গের মত ছিল-গলার আওয়াজ।
বড় লোকের-মেয়েরা, হিংসে করে বলতো--
সাত পাড়ার মধ্যে, তুমিই “সুন্দরী”।
ঠিক -- আমি, খড়ি কুড়ানির, মেয়ে বলছি।
দেশ-ঘর-বাড়ি, বাবা-মা হারানো “একা”।
আপনজন-বেঁচে খাকলে কাছের মানুষ
মরে গেলে-গয়ায় “পিণ্ডি”।
ভূত-তাড়াতে-পুরুত ডেকে, “শান্তি-স্বত্যয়ন” }
আচ্ছা -- সেই নদী -গাছ পালা--কোথায় ?
কোথায়-সেই গাভীন-পুরুষ্ট-কালো মেঘ।
যা, ঝেঁপে ঝেঁপে বৃষ্টি নিয়ে আসতো ;
এখানে--পেয়েছি, ধু ধু ফাঁকা চর-মানুষ নেই,
কিন্তু, পেয়েছি মোলায়েম, সরেস-মাটি।
একেবারেই কুমারী-ছোঁয়া পায়নি, লাঙ্গলের ফালের।
খড়ি কুড়ানির মেয়ে
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী (জন্ম ১.১০.১৯৬৪)। রচনা ৩০.১২.২০২০।
শুনতে পেলাম-মাটির ভাষা, চর আমায় ডাকছে।
যেন-নিচু গলায় বলছে ; আমায় ‘বীজ’ দাও ?
গর্ভের-ভেতরটা ছটপট করছে-ফসল ফলাবে বলে।
কিন্তু কি এমন হলো-- শুরু হলো, মারকাট সন্দেহ।
কাটারি--ভোজালি--বল্লম--ত্রিশুল-- এলো হামলা বাজ।
দেশ কোথায় ? ধর্ম - কী ? কোন জাত-তুই বিদেশী ?
না আমি বিদেশী নই -- এই আমার দেশ।
. “এই আমার-মা।”
শুনে রাখ পূর্বে ছিলাম-- ছিলাম- পশ্চিমে--দক্ষিণে।
ঘুরছি-ফিরছি, তাড়া খাচ্ছি-- তাই, ভাবছি- তোরা ভুল।
. আগে--মোরা মানুষ
. পৃথিবীটাই “সবার দেশ”।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একটি মেয়ে কাটা ধানখেতে একা পড়ে আছে। গর্ত, জমা জল।
একটি মেয়ে, আধপোড়া, পড়ে আছএ বেদনা বিহ্বল।
একটি মেয়ে, ধর্ষিতাও। ঘর থেকে বেরিয়েছে ভোরে
একটি মেয়ে, বালিকা বললেই চলে, কিন্তু গ্রামে নারী বলা চলে।
ধর্ষণের এই সংজ্ঞা তবু সয়ে গিয়েছে সবার
নারীত্বের এই সংজ্ঞা তবু সহ্য হয়
বাইরে বেরোবার জন্য আমরা যদি দায়ী করতে পারি
ঘরে ঘরে পায়খানা-না-থাকাকে : তাও উন্নয়ন উপযুক্ত লাগে
ধানখেত, বিহ্বলতা, আমাদের দীর্ঘশ্বাস, খুন---
সবকিছু মিলেমিশে তাও বেশ কবিতা লেখার মত ছিল ...
কিন্তু তারপর যা হল
আমাদের কবিতারা ঝলসে গেল ... পুড়ে গেল নিজেরাই, শুনে
উঠতি নেতার ঘরে পাইপগানের দণ্ড ঢুকে গেল জননীর দ্বারে
স্তুপিকৃত শাড়ী আর ছেঁড়া চুল, রক্তমাখা সালোয়ার, ইস্কুলের জামা
দলা দলা রক্ত আর হাসপাতালে শুয়ে থাকা মেয়েদের বিবর্ণ বর্ণনা ...
আমরা যারা নারীবাদী, থ হলাম, চুপ হলাম, একেবারে চুপ
নিজের নিঃশ্বাস শব্ দে আজ জেগে উঠি ত্রাসে, বিছানায় হাতড়ে চলি কিছু
দলা দলা রক্ত যেন গড়াচ্ছে আমার এই ফুলকাটা গুর্জরী চাদরে
গণধর্ষণের পর কবি যশোধরা রায়চৌধুরী (জন্ম ৩১.১০.১৯৬৫)। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা। এই কবিতাটি মে-আগষ্ট ২০০৭
এর "পর্বান্তর" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
যৌবন খোয়ানো, রোগা, গালবসা, শ্রমজীবী অসংখ্য মেয়ের
শরীরে "ধর্ষণ" কত মোহহীন লাগে বলে
আমরা যারা নারীবাদী, একেবারে স্তব্ ধ হয়ে গেছি
কবিতা লেখার কথা ভুলে ...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেশে যখন বন্যা হয়েছিল
আমার মায়ের তবু তো ছিল ঘর
ঘরের মধ্যে অন্ধকার, ঘরের মধ্যে মেঘ
তবুও মাকে দেখেছি অকাতর
সেলাই করেছিল আমার মা
অন্তহীন কাঁথায় পরিপাটি
ফোঁড়ের পরে ফোঁড়ের পরে ফোঁড়
তৈরি হয়ে উঠেছে বিছানাটি
দেশে যখন বন্যা হয়েছিল
সবাই তখন চেঁচিয়ে পাড়া মাথায়
তুলেছিল আর ফুঁসছিল সব রাগে
আমার মায়ের অত সময় কোথায় ?
মা তো তখন ছিন্ন শাড়িগুলি
জুড়ে জুড়ে নীরব প্রতিরোধে
গড়ে তুলছে শরৎশেষের চাদর
শীতে যাতে ঘুমাই নিরাপদে
দেশে যখন যুদ্ধ হয়েছিল
বৃদ্ধ এক শিল্পী একা একা
পুরনো সব ছড়িয়ে রাখা ছবি
শেষ করেছে, এমনি ফেলে রাখা
দেশে যখন বন্যা হয়েছিল কবি যশোধরা রায়চৌধুরী (জন্ম ৩১.১০.১৯৬৫)।
এই কবিতাটি "লুব্ধক" পত্রিকায় ২৫শে বৈশাখ ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
দেশে যখন যুদ্ধ হয়েছিল
সবাই তখন চেঁচিয়ে পাড়া মাথায়
তুলছিল, আর ফুঁসছিল সব রাগে
শিল্পীর আর অত সময় কোথায়
রাজা যখন মাথাটি কেটে নিয়ে
শিল্পীটির বন্ধুদের লাশ
পাঠিয়ে দেন শিল্পীটির কাছে
শিল্পী শুধু ফেলেন দীর্ঘশ্বাস
এও কি কোন মহৎ প্রতিবাদ ?
ধিক্কারে তো হলই পাড়া মাত
শিল্পী জানে কাজই প্রতিবাদ
শিল্পী জানে, শিল্প চাষ আবাদ
মানুষ মরে মানুষ চলে যায়
কেউ কি জানো কাজের আয়ু কত
শিল্পী জানে কাজের আয়ু ঢের
মায়ের হাতে বোনা কাঁথার মত
মায়ের স্নেহ রোঁয়ায় রোঁয়ার ধরা
নাতিপুতির বিছানাময় ওম
শিল্পী আছে নিজের কাজে মিশে
শান্ত হয়ে, নীরবে, সক্ষম ...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তালাক তালাক তালাক --- তিন তালাকে
খোদার আরশ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে
অথচ আজও মানুষ ভাত দিতে দেরী হলে
তালাক দেয়—বলে তালাক তালাক—
এমনকী ঘুমের ঘোরেও নাকি তালাক দেয় কেউ কেউ
আর সে সব কথা -- ফলাও করে প্রচার হয়
সংবাদ পত্রের পাতায়
স্কুল-কলেজ-অফিস আদালত রাস্তাঘাটে
নাক সিটকায় শিক্ষিত মানুষেরা
বলে—ধর্ম কি রে বাবা, নারীদের জীবন নিয়ে
ছিনিমিনি খেলে এরা
মুখের তিনটি শব্দই চল্লিশবছরের সম্পর্ক
ভেঙে খান খান করে দিল
একবারও ভাবল না --- শব্দ তিনটের গুরুত্ব কত গভীর
নিজের একান্ত আপনজনকে তিনটে শব্দ
কী করে আলাদা করে দিত পারে !
আর ধর্ম কি সত্যই তাই বলে?
তিন তালাক কবি আসরফী খাতুন (জন্ম ১৫.৪.১৯৬৬)। কবির "আকাশ হতে চেয়েছিলাম"
কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
দাম্পত্য প্রেমকে দৃঢ়বন্ধনে বাঁধতে
মানুষ ভয় পায়--- তাই জীবন সমুদ্রে
বৈচিত্রের জন্য আগুন জ্বালায় নিজের হাতে
দোহাই দেয় ধর্মের, আসলে কোনো ধর্মই
মানবতা বিরোধী ছিল না কোনোদিন,
আজও নয়, শুধু মানুষ তাকে খড়্গ হিসাবে
ব্যবহার করে, সর্বনাশ করে মানুষের
মানবতার, নারীত্বের ----
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চাপে চ্যাপটা কচিকাঁচা
ভিড়ে বাবা মা
মেরুদন্ড যাচ্ছে বেঁকে
বইতে পারে না ||
নিশাচরের জীবন এখন
ঘুমের সময় কই
চুরি গেছে ঘুমের মাসী
সকাল সন্ধ্যে বই ||
বইএর পোকা হচ্ছে খোকা
মনটা গেছে মরে
হারিয়ে গেছে লুকোচুরি
সিলেবাসের চরে॥
চাপে চ্যাপ্টা কচিকাঁচা কবি মুকুল পুরকায়স্থ
(জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা- ৭.১.২০১৬।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভোট ফুরালে গরীব হটো
কেউ অত মনে রাখেনা...
কারণ ছাড়া অকারণে অত
ভালোবাসাবাসি থাকেনা॥
পরিযায়ী ভাই ভরসা দুপাই
আকাশেতে প্লেন ওড়ে না...
কোলে কাঁকে বাছা ঘুমিয়ে গেছে
দানাপানি পেটে জোটেনা॥
কদম কদম বাড়িয়েছি পা
নেতাজি তুমি দেখোনা...
স্বাধীনতা আজ ভরপেট্টা
শুধু দুবেলা অন্ন জোটেনা॥
কোষাগারে আজ অর্থ প্রচুর
মহাকাশে পদচারণা...
শ্রমিকের পেট শূন্য আজও
দেখিয়ে দিলো করোনা॥
উঁচু নিচু নয়, জাত পাত নয়
বিভাজন ভেদ ভাঁঙোনা...
এমন দিনে কে বাঁচে মরে
তুমি আমি কেউ জানিনা॥
ভোট ফুরালে গরীব হটো
কবি মুকুল পুরকায়স্থ (জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা - ১৩.৪.২০২০ বুধবার।
সমতায় ফেরো বলছে সময়
অনেক হয়েছে ছলনা...
মহামারী কালে বুকে বুক বাঁধো
হোক নতুন বিশ্ব রচনা॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তবে এ পৃথিবী হয়ত
আর বেশি দিন নয়।
মানুষের ইতি উতি আনাগোনা,
অন্তরীক্ষ থেকে মাটি
সবটাই তো দূষণময়॥
লক ডাউন ভেঙে যাবে
পথে নামবে মানুষ
ফিরে আসবে প্লাস্টিক
বাতাসে ফিরবে ধোঁয়া,
ফিরে যাবে পরিযায়ী পাখির দল,
ফিরবে ডলফিন,
স্বস্তির পদচারণা বন্ধ হবে বন্য পশুদের॥
আবার শব্দ দূষণ,
আবার ধূসর হবে নীল আকাশ।
থামবে পাখির কলরব॥
আমরা মানুষ...
এর চেয়েতো বেশি কিছু করতে পারিনা।
এ পৃথিবীতে কেবল মানুষেরই দখলদারী...
আর কারো কেনো হবে॥
তবে এ পৃথিবী হয়ত
কবি মুকুল পুরকায়স্থ (জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা - ২৬.৪.২০২০।
তবুও, তবুও একবার ভেবো
সমতায় ফিরে একবার কি শান্তির নিশ্বাস
ফেলতে দেবে পৃথিবীকে?
যদি আর কটা দিন....
যদি আর কটা দিন
শুনতে পাই পাখির গান,
নীল আকাশের নীচে এই পৃথিবী,
আর এই পৃথিবীর পরে এই খেলাঘর॥
ভেতর থেকে কে যেনো বলছে,
হ্যাঁ, বারে বারে বলছে...
বেঁচে নাও দুদিন বইতো নয়॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অনেক ছুটেছো ওহে বাছাধন
একটু বসো রও...
যেমন দিয়েছো তেমন পাবে
কেনো দুঃখের কথাটি কও॥
সুতো ছেড়ে আমি দেখতেছিলাম
উড়তে কতো পারো..
আকাশ দূষালে বাতাস দূষালে
কত কিছু বাকি আরো॥
পৃথিবীটাকে তুমি ভেবে নিয়েছিলে
বাপের জমিদারী...
বুমেরাঙে আজ মরছো কেমন
করোনা অধিকারী॥
ছুটতে দিয়েছি দেদার দেদার
পাত্তা দাওনি আমায়...
কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নেবার
এখন হলো যে সময়॥
পৃথিবী বলছি
কবি মুকুল পুরকায়স্থ (জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা - ১০.৪.২০২০।
নীতি বাক্য ভুললে হবে?
কর্ম হিসাবে ফল...
আজ কেনো ভয়ে কাঁপছো তবে
কেনো চোখ দুটো ছলছল॥
নিজেকে এবার নিজেই বাঁধো
নইলে বেশি দিন নেই আর...
জানান দিলাম পৃথিবী আমি
করলাম হুঁশিয়ার॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মন্দির নয়, মসজিদ নয়
দেশে হাসপাতালে ভরো
মহামারী করোনা
সেটাই জানান দিলো॥
একদিন আজান না দিলে,
আল্লাহ অখুশি হবেনা
একদিন পুজো না পেলে,
ভগবান রুষ্ঠ হবেনা
একদিন চিকিৎসা না পেলে,
একটা অমূল্য জীবন থাকবেনা॥
কাবায়, মন্দিরে, গুরুদ্বোয়ারে
ফুল না চড়িয়ে
সে ফুলের মালা গেঁথে
তাদের গলা ভরিয়ে দাও
যারা ছোঁয়াচে শরীরের পাশে
দিনরাত উজাড় করে ঘরে ফেরালো
তোমার প্রিয় মানুষটিকে॥
মন্দির নয় মসজিদ নয়
কবি মুকুল পুরকায়স্থ (জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা - ৩১.৩.২০২০। মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয়েছে ৫.৪.২০২০।
গো মূত্র,গোবর অনেক হলো
ইষ্ট, খ্রীষ্ট, আল্লাহ বুকে রাখ
তাতে আমার আপত্তি নেই
সময় জানান দিলো
বিজ্ঞানের কাছে হাত পাতো
চিকিৎসকের কাছে হাত পাতো।
বাস্তব অবাস্তব সব প্রশ্নের উত্তর
তোমার কাছে,
মৃত্যু ভয় আমাদের ঘরের
কোনায় কোনায় উপস্থিত।
যদি বেঁচে থাকো
কিভাবে সাজাচ্ছো
আগামী পৃথিবী?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চড়াই এখন করছে বড়াই
মানুষ ভয়ে চুপ..
ফুড়ুৎ করে বলে গেলো
বেটা বেওকুফ॥
কিচির মিছির করে শালিক
বলছে মাথা ঠুকে...
মানুষ শালা ভয়ের চোটে
ঘরে গেছে ঢুকে॥
কোকিল এখন উকিল বাবু
কাঠ গড়াতে মানুষ...
এদের প্রভু বিচার করো
হারিয়ে গেছে হুঁশ॥
ক্যাচর ম্যাচর ছাতার গুলো
বলছে ল্যাজটি তুলে...
ঘরে গড়াও ছাদে বেড়াও
কম্ম শিকেয় তুলে॥
ব্যস্ত ডাহুক মজলিশেতে
হাসে অট্ট হাসি...
নিজের ফাঁদে বন্দি মানুষ
চলনা দেখে আসি॥
চড়াই এখন করছে বড়াই
কবি মুকুল পুরকায়স্থ (জন্ম ৩.১২.১৯৬৬)। রচনা - ৩১.৩.২০২০। মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয়েছে ৫.৪.২০২০।
ঘুরে ঘুরে বলছে ঘুঘু
গুলতি কি আর মারবি...
চিলে কোঠায় বাঁধবো বাসা
চুপটি করে থাকবি॥
কা কা করে বলছে কাকে
এখন কেনো এস্ত...
সময় যখন ছিলো হাতে
ক্যা তে ছিলি ব্যস্ত॥
যেমন দিবি তেমন পাবি
এটাই কালের খেলা...
মন্দ শেখায় হতে ভালো
এইতো জীবন বেলা॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গরম কালে খরায় পুড়ি
শ্রাবণে বন্যা,
হে ভগবান গরিব চাষির
শুধুই কি কান্না ?
ঘর ভেঙেছে, বুক ভেসেছে
স্বাধীন না কি দেশ;
ত্রাণের প্রশ্ন উঠলে পরে
দলবাজিটা বেশ।
রকেট ওঠে, কামান ফোটে
বিমান দেখায় খেল,
প্রজাতন্ত্রের নামে আমি
একান্ত উদ্বেল।
বন্যা আসুক, খরা আসুক,
আসুক দুর্বিপাক,
ওই ঝঞ্ঝাট ঠেকাতে তোর
কলমটুকু থাক,
মানুষ যদি ভেসেই গেল
কাদের নিয়ে দেশ?
এই কথাটা জোরের সাথে
ভাবো স্বাধীন দেশ !
কলমটুকু থাক
কবি মৃদুল শ্রীমানী (জন্ম ১০.১.১৯৬৭)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘেউ ঘেউ করো কেন
এসো বসো আহারে,
এঁটো কাঁটা আছে কিছু
খেতে দেব তোমারে।
সকালে খেয়েছি পিজা,
চিংড়ির কাটলেট।
গুঁড়ো পড়ে আছে তারই
খেয়ে নাও ভরপেট।
দুপুরে মটন কারি,
কোর্মা ও কোফতা,
গিন্নি ম্যাজিক জানে,
খেয়েছি যে পুরোটা।
প্লেটটা হয় নি ধোয়া
তুমি যদি চেটে নাও,
মনটা শান্তি পাবে
জেনে যাবে রুচিটাও,
বিকেলে পরোটা দিয়ে
কাবাবটা গোস্ত,
মোড়কে গন্ধ আছে
সেটাই যথেষ্ট।
খাই খাই তন্ত্র
কবি মৃদুল শ্রীমানী (জন্ম ১০.১.১৯৬৭)
কি বলো হে
পেটে তোর কিছুটা সলিড চাই?
বেশি খেলে টেঁসে যাবি
সেটা মনে রাখা চাই।
যা দিচ্ছি চোখ বুজে
খেয়ে নে রে, খেয়ে নে;
ঘেউ করে ডাকো যদি
ফেঁসে যাবে আইনে।
রামা আছে, শ্যামা আছে,
আর কেউ চাই নে,
ভুঁড়িটা ফাঁসিয়ে দেব
যদি বলো খাই নে।
যা দিয়েছি মুখ বুজে
খেয়ে নিবি খুশিতে,
নইলে মারব লাথি
ঠিক তোর পেটেতে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মিছিলে কালও ছিল সে প্রথম সারিতে
প্রতিবাদে দীপ্ত, চোখে তার অষ্টাদশী দ্যুতি
আজ সে কোথায় হারাল
চোখে জ্বেলে গভীর বিশ্বাস
কিশোরী তুলেছে হাত দুটি
ওই হাতে কতকাল বুনেছে সে ধান
গোলায় তুলেছে ভলবেসে
ওই চোখে ওই মুখে বুঝি ব্যাপ্ত ধানের সুষমা
অষ্টাদশী স্বপ্ন দেখে ধান
মাঠভরা ধান আর কাজের আশ্বাস
অষ্টাদশী চোখ জুড়ে ধান
ধানী রং পরনে কি তার?
আজ সে কোথায় হারাল
ভাষাহীন হতমান লাশ
অষ্টাদশী কোথায় হারাল
সূর্য তবু জ্বেলে আছে আলো?
কোথায় হারায় অষ্টাদশী
এমন বিষন্ন ভোর কেন?
কালও ছিল যে মিছিলে প্রথম সারিতে
আজ তার লাশ হওয়া ভাল?
ছিল যে মিছিলে কালও কবি মৃদুল শ্রীমানী (জন্ম ১০.১.১৯৬৭)। রচনা ২০০৭।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। তাপসী মালিকের নৃশংস হত্যার প্রেক্ষিতে লেখা কবিতা।
এই কবিতাটি “কবিসম্মেলন” পত্রিকার জানুয়ারী ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাকে ভালবেসে সমস্ত দিয়েছি
উষ্ণীষে পরিয়েছি রত্নহার
তোমাকে ভালবেসে রাজা আমার
নতজানু হয়েছি বারবার।
তোমার দৃপ্ত পা ফেলা দেখে
মাটিতে বুক পেতে দিয়েছি।
তোমায় মহান জেনে বুক ভরে গেছে।
আজ তুমি কেড়ে নিলে
আমার কুঁড়ে ঘর
আমার পুঁই মাচা, তুলসীতলা
নিকোনো উঠান।
কেড়ে নিলে জিবিকা আমার।
আমাকে ভিক্ষুক করে
কি সুখ পেয়েছ বলো
শাসক আমার।
হাতে তুলে নিয়েছ চাবুক
যে চাবুকে কখনো
তোমায় মহান বলব না কবি মৃদুল শ্রীমানী (জন্ম ১০.১.১৯৬৭)। রচনা ২০০৭। সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি “পশ্চিমবঙ্গ ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক
সমিতির” মুখপত্র “ভূমিবার্তার” কৃষিজমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত, নভেম্বর - ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যা তে
প্রকাশিত হয়েছিল |
কুকুর মেরেছো।
আজ আমায় বলতে দাও
এ আকাশে আমারো
ভাগ আছে
আজ আমায় বলতে দাও
এ নদীতে আমারো
ভাগ আছে।
কথা বলতে চাইলে
ফাঁসিতে ঝুলিয়েছো
ভাইকে আমার।
বেআব্রু করেছো
বোনকে
অনুগত হয়ে থাকা আজ কলঙ্কিত।
নদী ডাকছে
আকাশ কাঁদছে
আজ কোনো ভাবেই
তোমায় মহান বলব না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই লগ্নে ভূরিভোজে ব্যস্ত হোক
শৃগাল শকুন
এই বঙ্গভূমে
গরিব চাষির রক্তে
খেতমজুরের হাড়ে ভূরি ভোজ আজ।
শৃগাল শকুনের কী খুশির দিন !
অথবা শৃগাল নয়
শকুনও নয় যেন।
নয় কোনো রাত্রিচরা চতুষ্পদ বুঝি।
দূষণের জেরে বুঝি লুপ্তপ্রায়
শৃগাল শকুন।
নিরীহের মৃত্যু আজ
চতুরের হাতে।
এই বঙ্গভূমে
গরিবের মৃত্যু আজ দানবের হাতে।
এই বঙ্গভূমে কবি মৃদুল শ্রীমানী (জন্ম ১০.১.১৯৬৭)। রচনা
২০০৭। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি
মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নারীবাদ ছাড়া বিবাহিতা মেয়েরা কিচ্ছু লিখতে পারবে না।
কারণ তখন তারা আর নারী থাকে না ; বাদী ও বিবাদীর মধ্যে
ঘুপাক খায়। বিবাহিতা মেয়েরা আর মেয়েও থাকে না, কারণ
তখন তাদের বউ, স্ত্রী অথবা বঊদি নামে ডাকা হয়। সবচেয়ে
বিপদ হয় বিবাহিতারা কবিতা লিখতে এলে। তাদের কাছে
ভদ্রতা আর সহবৎ আশা করে, তাঁরাও নিখুঁত গার্হস্থ্য
লেখে, সমাজ পরিবর্তন আর পরিবার ব্যবস্থা নিয়ে দু-চার বাক্য
দেয়। কবিতা যে কী বিষম বস্তু অনেকেই জানেন।
বিবাহিতাদের কাছে তাই প্রেমের কবিতা আশা করেন না।
বিবাহিতা মেয়েরা আজকাল পাঁঠা ও কুকুর নিয়ে কবিতা
লিখছে। বিবাহিতা মেয়েরা আজকাল চমত্কার ভুতের গল্পও
লেখে। কেবল মাঝেমধ্যে তাদের লেখায় ঘুরে ফিরে আসে
তাদের বরেরা।
বিবাহিতা মেয়েদের সমস্যা
কবি সেবন্তী ঘোষ (১৯.৩.১৯৬৭)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যত সব ভাত-বাঙালী, পথ হারালি,
দেখনা চেয়ে দিল্লী পানে,
কিভাবে ক্ষুব্ধ চাষী, ঘর-উদাসী
ছুটছে সবে আন্দোলনে।
সাত পুরুষের জমিজমা, মাতৃসমা
খাটছে কৃষক জনমধরে,
আজকে হঠাৎ স্বৈরাচারী, অত্যাচারী
সেই অধিকার নিবে কেড়ে?
হাড়খাটুনি, ঘাম ঝরানি
খাটবে চাষী দিবারাতি,
আম্বানিরা আসবে শুধু, খাবে মধু
ব্যাপার খানা সহজ অতি?
পুঁজিবাদের মস্ত দালাল, সন্ধ্যা সকাল
মিথ্যা করে চৌকিদারী,
ঘর ভাঙিয়ে, দেশ বিকিয়ে
উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি।
যত সব ভাত-বাঙালী, পথ হারালি
কবি আবদুল হালিম বিশ্বাস (জন্ম ২৭.৫.১৯৬৭)। ২০২০ সালের কৃষক
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা কবিতা। মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের
দেয়াসিকায় তোলা হয় ১০.১২.২০২০ তারিখে।
সেই পাতায় যেতে . . .।
আজকে সবাই, ঘর ছেড়ে আয়
চাষীর পাশে পথ মাঝারে,
কৃষি আইন, কালা কানুন
বাধ্য করো প্রত্যাহারে।
জয় হবে জয়, আসবে বিজয়
লড়তে হবে মরণ-পণ,
পুঁজিবাদীর ঘুঘুর বাসা, ভাঙবে চাষা
ধন্য করে সবার জীবন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যে ভাষা পাখির মতো গান গায়
বাদল মেঘের মতো ঝরে রুক্ষ বুকে
অখবা শরত্ মেঘে দেখতে পায় রবীন্দ্রনাথকে
যে ভাষা ঝর্ণার মতো পাথরকে স্নান করায়
আর ভাবে পাথরও গলবে, পরিশুদ্ধ হবে---
আমি সেই ভাষায় জীবিকা যাপন করি
নিজেকে তাই ঈশ্বর মনে হয়
গাছের আড়াল থেকে অসংখ্য ব্যাধ আজ
সেই ভাষার দিকে ছুড়ছে তির আর
ফুটো ফুটো হয়ে যাচ্ছে আমার হৃদয়
আমারই রক্তে পবিত্র হচ্ছে ভাষা
কিন্তু আমি তো সত্যি সত্যি ঈশ্বর নই
আমার ভাষা অবিনশ্বর---এই সত্য জেনে
নিজের জন্য নশ্বরতাই চাই
বাংলাভাষা কবি রাজীব কর (জন্ম ১০.১০.১৯৬৭)।
কবিতাটি মিলনসাগরে তোলা হয় জুন ২০০৭ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জনসভা মানে প্রতিশ্রুতির প্রবল উদ্বমন
হাবাগোবা বিপাক্ষিক-বিষ উদ্গার
সমকাল ও সমস্যার কৌণিক বিচার
মাসোহারা মেষদের মত্ত অবস্থান
রাস্তা বন্ধ শব্ দদূষণ প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন
জমসভা মানে ফুরোয় পান্তা আসে না নুন
জনসভা মানে নয় সর্বদা এরকম
তবু যারা আসলে চাকর ও চাষা
সব মরে গিয়েও তাদের বাঁচে কিছু আশা
সেইটুকুই নিয়ে ফের ঘর ভাগ করে খায় বালবাচ্চারা
বিসর্জনের পর যেরকম বাজনারা
আসছে বছর আবার ...
জনসভা কবি রাজীব কর (জন্ম ১০.১০.১৯৬৭)। কবিতাটি
মিলনসাগরে তোলা হয় জুন ২০০৭ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বলেছিলে শ্মশ্রুভূষণ লিখবে শ্রেণিশত্রু প্রসঙ্গে
তার কি কোনো প্রয়োজন আছে নকশালোত্তর বঙ্গে
রুণু নিয়োগীরা যদিও আছে বহাল তবিয়তে
এখন আর মাছি সুড়সুড়ি দেয় না পুরনো ক্ষতে
সিদ্ধার্থরা গদি ও গর্দান ছেড়ে হয়নি তো বুদ্ধ
ক্ষমতার লিঙ্গে এখনো এ সমাজটা নমঃশূদ্র
পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ নিয়ে আজো বোধিবৃক্ষ-নিচে
দধীচি হবার জন্যে ছাঁটাই শ্রমিক বসে আছে
মৃত মুখ থেকে চোখ তুলে শুধাবে না বাপী সেন
লাথি খাচ্ছিলাম যখন, মশাইরা কি চুষছিলেন
কী লাভ নতুন কলমে পুরোনো কষ্টকে এঁকে
পথগুলো বেঁকে গেছে , লালগুলো এখন তো ফিকে
নিজের জামার বোতামগুলো চেনো শ্মশ্রুভূষণ
ঘরগুলো, ফুটোগুলো, চোখ বুজে কর কি স্মরণ
শ্রেণিশত্রুরা বোতাম হলেও তবু ছিঁড়তে পারো না
ভোগবাদের উপরে লেগেছে মায়াবাদী ধারণা
বলো শ্মশ্রুভূষণ খুঁজে পেয়েছ বাংলা অভিধানে
শ্রেণিমিত্র কোনো শব্দ-ব্যাসবাক্য আর মানে
যদি পাও, লেখো না তবে দু-এক লাইন অন্তত
দেখি আগুন নেভার পরও তুমি কতটা সংযত
শ্রেণিশত্রু শ্রেণিমিত্র কবি রাজীব কর (জন্ম ১০.১০.১৯৬৭)।
কবিতাটি মিলনসাগরে তোলা হয় জুন ২০০৭ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শাসক তুমি লড়িয়ে জওয়ান,
তুলছো নিজের ফয়দা !
জেনে রেখো জওয়ান যত,
হয় কৃষক ঘরেই পয়দা !!
শাসক তুমি লড়িয়ে জওয়ান
কবি মনিরুল আলম (জন্ম ১.১১.১৯৬৭)। ২০২০ সালের কৃষক
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। কবিতাটি মিলনসাগরের “কৃষক
আন্দোলনের দেয়ালিকায়” ৯.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এপারে ফ্রিজে গরুর মাংস,
ওপারে ধূলোয় কোরান !
ফ্যাসিস্ট আছে দুই পারেতেই,
ডরাতে সংখ্যালঘুর পরান !!
এপারে ফ্রিজে গরুর মাংস
কবি মনিরুল আলম (জন্ম ১.১১.১৯৬৭)। ২০২১ এ কুমিল্লায় দুর্গাপূজো র
প্রতিমা ভাঙা ও পরবর্তী দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে রচিত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হিঁদু পাড়ায় গুজব ছড়ায়
হয়েছে মোল্লারা সব এক ।
মোল্লা পাড়ায় ফিসফিসানি,
হল সব হিঁদুরা এক প্যাক॥
তোমার আমার সমস্যারা
পড়ুক সব আজ চাপা ।
কে কতটা ভয়ের কারণ,
সেটাই হোক আজ মাপা॥
সরকারেতে গুজব ঠেকায়,
বন্ধ রেখে ইন্টার নেট ।
গন্ডগোলে হলে কাজ বন্ধ,
গরীব কেমনে চালায় পেট??
ছড়িয়ে গুজব নিচ্ছে মজা,
যত দাঙ্গাবাজের দল ।
ঘুরিয়ে নজর মানুষ মেরে,
যত দেশ লুটবার ছল॥
হিঁদু পাড়ায় গুজব ছড়ায়
কবি মনিরুল আলম (জন্ম ১.১১.১৯৬৭)।
দাঙ্গা-সন্ত্রাস-বিরোধী কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধম্মো ধম্মো করে,
সে করে চিল চিৎকার !
হয় না মুরোদ তার,
করে মৃতদেহ সৎকার !!
কত ধর্মের ধ্বজাধারী,
সেথা কত কত সাগরেদ !
কুকুরে ছিঁড়ছে লাশ,
সেথা নেই কারো মনে খেদ??
ধম্মো ধম্মো করে
কবি মনিরুল আলম (জন্ম ১.১১.১৯৬৭)। ২০২০
সালের করোনা মহামারীর কালে রচিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই কম্পমান গণতন্ত্রের অন্ধকারে
অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারাবিবরণী
আর নির্মম যুদ্ধের সংবাদ
শুনতে শুনতে আমার নিঃসীম শূন্যতা
যেন হাহাকার করে ওঠে
কালো রাত্রির ডানার অসহ্য ঝাপটানির মধ্যে
প্রাত্যহিক জীবনের নির্মম সময়ে
মানুষের পবিত্র আবেগ
অহরহ লুট হতে দেখার পরও
তোমার আসার আশায়
পথ চেয়ে বসে থাকতে ভীষণ ভালো লাগে আমার
এই নির্জন কুঠুরির মধ্যে সমস্ত সম্পর্ক
আর ভালোবাসার উজ্জীবনী গান নিষিদ্ধ হয়েছে
নিষিদ্ধ হয়েছে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে
উঠে আসা শব্দ আর ভাষাও ;
আমার পেছনে দাঁড়ানো এক মানবী জল্লাদ
বারবার আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়,
কাচের বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলার সময়
‘শুধুমাত্র হিন্দি ভাষায় কথা বলবেন’ ;
এই কম্পমান গণতন্ত্রের অন্ধকারে কবি জি এন সাইবাবা (জন্ম ১৯৬৭)। জেলে রচনা জুন ১৩, ২০১৮।
ভাষান্তর - কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যতই তুমি ডিজিটাল হও,
করোনা মাঙ্কি বাত।
ডাউনলোড কি করতে পারবে
গুগল থেকে ভাত?
যতই তুমি ডিজিটাল হও
কবি খন্দকার নাজিম হোসেন
কথা বলতে গিয়ে আমি ভুলে যাই
আমার প্রিয় ভাষার সুমধুর সঙ্গীত
ভালোবাসা আর অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলির মধুর ব্যঞ্জনা।
আর তখন তুমি যেন আমার কাছে
বিদেশিনীর মতো হয়ে ওঠো
যেন একটা বিশাল উঁচু দেওয়াল
আমাদের মাঝখানে নিষিদ্ধ এক সীমান্তরেখা তৈরি করে
দেয়।
তখন প্রহরীর নিষ্ঠুর রক্তাক্ত সতর্ক চোখগুলি
শাণিত ছোরার মতো
আমার পিঠ থেকে মাথা বরাবর
খুনের নেশায় অপলক চেয়ে থাকে
আমি কী করে কথা বলি!
সেইসব দৃষ্টির খোলা তলোয়ার ঠাণ্ডা মাথায়
মনে হর যে কোন সময়
আমার হৃদপিণ্ড ফালাফালা করে দেবে!
আমি জানি কয়েক হাজার মাইল পথ
পার হয়ে তুমি এসেছো
কিছু কথার শান্তিবারিতে আমাকে শীতল করে দিতে,
আমার গীড়িত আত্মার যন্ত্রণায় কিছুটা প্রলেপ দিতে।
কিন্তু আমাদের জন্যে বরাদ্দ কয়েক মিনিট সময়ের বরফ
নিঃশব্দে গলে যেতে থাকে আমাদের চোখের সামনে
তারপর আবার আমাকে ফিরে আসতে হয় অন্ধকার
কুঠুরিতে
তখন আমার সামনে শুধু ভেসে থাকে
তোমার চিরসবুজ হাসি
যা এই পাষাণ কঠিন সময়ে
সব যন্ত্রণার প্রাকার পার হয়ে যেতে
আমাকে সতেজ আর মানবিক করে তোলে।
তোমার আসার আশায় আমি উন্মুখ হয়ে থাকি
আর তোমাকে দেখার পর আমাদের যন্ত্রণার পাহাড়গুলো
একটা অসহ্য বেদনায় নীল হয়ে যায়।
তোমার।
আমার।
তবু তো নাজিম হিকমত বলেছিলেন :
‘বেঁচে থাকা মানেই আশার কুসুম ফুটিয়ে যাওয়া
হে প্রিয়তমা আমার,
বেঁচে থাকা তো তোমাকে ভালোবাসার মতোই
একটা নিবিড় ঘন কাজ।’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যোজন তফাৎ
তবু বাড়িয়েছে হাত
এই সময়।
ভয়ের আগলে
কেটে যাওয়া রাত
দেখিয়েছে ভোর
এই সময়।
তাঁবুতে তাঁবুতে জেগেছে স্লোগান
কেঁপেছে বাতাস
কাঁপেনি তবু আধো আলো ভোর
এই সময়।
বুকে টেনে নিই
যে আছে জেগে প্রহরায় ভাই
এই সময়।
এই সময়
কবি মৌতুলি নাগসরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। শাহিনবাগ থেকে
পার্ক সার্কাসের মা-বোনদের আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৯.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
সকালবেলার আলোয় আছে আমার পরিচয়
কাগজ চাওয়া তাদের সাজে
হোঁৎকা যেসব দাঙ্গাবাজে
দেশের লোকের মাথায় ঢোকায় দেশ হারানোর ভয়
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
দেশের পানি-দেশের হাওয়ায় আমার পরিচয়
কাগজ দেখাক সেসব ছেলে
একলা মুসলমানকে পেলে
কোতল করে বলবে যারা জয় শ্রী রামের জয়
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
মৌলবাদের চোখরাঙানোয় পাচ্ছি না আর ভয়
আমিই আলি আমিই কানাই
কাগজ দিয়ে ঠোঙা বানাই
ক্ষিদের সময় পেটের জ্বালা কেমন করে সয়?
জ্বালা থামে খাবার খেয়ে
দেখিস রে তুই কাগজ চেয়ে
বুঝবি সেদিন ক'মণ ধানে ক'কিলো চাল হয়!
রক্তে আছে, রক্ত দেবে আমার পরিচয়।
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
কবি অনমিত্র রায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয় ২০.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার বাস, ভারত ভূম,
আমার শান্তি, আমার ঘুম।
আমার আশা, কারখানায়,
আমার ভাষা শব্দ খায়।
এখন রাত, খুব কালো,
আমার মা খুব ভালো।
আমার মেয়ে, ছোট্ট সে,
আমার বাবা, বৃদ্ধ যে।
কবে থেকে, কত সে দিন,
ক’বার ভোট, কতটা ঋণ?
আমার পেট, খাবার চায়,
আমার হাত, তাই যোগায়।
আমার বন্ধু, চাষ করে,
কাঁটাতারের দুই পারে।
আমরা সবাই বাঁচতে চাই,
আমরা খুঁজছি, থাকার ঠাঁই।
তোমরা তো লোক আনো,
কাঁটার তার নাই জানো!
আমরা শুধু বাঁচতে চাই,
আমাদের তাই খাবার চাই।
কবি চারুদত্ত নীহারিকা রজত
|
আমার বাস, ভারত ভূম কবি চারুদত্ত নীহারিকা রজত (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২০.১.২০২০।
তোমার ক্ষতি, তোমার লাভ,
আমার ঘরে অন্নাভাব।
তোমরা শুধু তালিকা চাও,
আমার কথা শুনতে পাও?
অসহ্য এই যন্ত্রণা,
পেটের ভিতর নাই দানা।
মাঝে মাঝে মরতে চাই,
মায়ের জঠর দেখতে পাই।
জঠর কালো, অন্ধকার,
সেথায় যাবো আরেকবার।
মায়ের রসে ডুবিয়ে মুখ,
করবো উজাড় আমার দুখ।
অথবা এক রাইফেলে,
বাঁচার আশায় ছাই ফেলে,
তোমার চোখে রাখবো চোখ,
দেখবে সেদিন আমার রোখ।
আমরাও যে বাঁচতে চাই,
সম্মান আর অন্ন চাই।
আমার মাটি, আমার দেশ,
কীসের সীমা, কোন বিদেশ?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার একটা কাগজ চাই।
একটা অলৌকিক কাদজ।
আমার একটা সাদা কালো কাগজ আছে।
সে কাগজটার নাম ভোটার কার্ড।
কিন্তু সেই কাগজে হবে না।
আমার একটা গেরুয়া সাদা সবুজ কাগজ আছে।
সে কাগজটার নাম আধার কার্ড।
কিন্তু সেই কাগজেও হবে না।
আমার একটা হাল্কা বেগুনী রঙের কাগজ আছে।
সেই কাগজটার নাম রেশন কার্ড।
সে কাগজে তো হবেই না।
আমার একটাই কাগজ চাই।
একটা অলৌকিক কাগজ।
আমার বাবার নাম শেখ সুলেমান। বয়স আশি।
আমি বাবাকে বললাম, "বাবা আমাকে কাগজ দাও"।
বাবা বলল, "কাগজ বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে,
কাগজ ঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেছে,
কাগজ অনাহার খেয়ে নিয়েছে,
আমার কোনও কাগজ নেই।
আমার শরীরটাই এখন একটা কাগজ।
আমার হাতে আর পায়ে লেখা রয়েছে আমি যা
করেছি এতকাল, সেই ইতিহাস।
আমার বুকের ভিতর এতদিন গোপনে লুকিয়ে ছিল যে কথা,
সে কথাও আজ আর গোপন নেই।
কাগজ কবি অংশুমান কর (জন্মকাল অজ্ঞাত)। আবৃত্তি - নিবেদিতা। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৩.১.২০২০। ভিডিওটি সৌজন্যে Nivedita Nag Tahabilder Facebook.
লেখা হয়ে গেছে আমার করুণ দুই চোখে।
এই নাও, আমার শরীর আমি তোমাকে দিচ্ছি।
তুমি ওকে বল উনি পড়ে নিন এই কাগজ।"
আমি ওঁকে বললাম, "মাননীয় এই নিন আমার কাগজ।
আমার বাবা। আপনি পড়ে নিন।
ওঁর দুই হাত পায়ে লিখে রাখা এ দেশ গড়ার ইতিহাস।
পড়তে পড়তে শুনতে পাবেন -
কারখানার ভেপু। ব্যাটের ঠিক মাঝখানে লাগা ডিউজ বলের
মিষ্টি শব্দ। শানাইয়ের শুর আর তবলার বোল।
আপনি পড়ে নিন ওর করুণ দুচোখে লেখা কয়েকটা অক্ষর -
আমি চটকলের শ্রমিক।
আমি পঁচাশির বেনসন অ্যাণ্ড হেজেসের আজহারউদ্দীন।
আমি বিসমিল্লাহ খান। জাকির হোসেন। ধর্মে আমি মুসলমান।
কিন্তু তারও আগে - আমি একজন ভারতীয়।"
কাগজে লেখা নির্বোধ অক্ষর পড়তে পড়তে ওঁর চোখ মানুষের
শরীর পড়তে ভুলে গেছে।
উনি বাবার হাত পা পড়তে পারলেন না।
বাবার চোখ পড়তে পারলেন না।
আমি আবার একটা অলৌকিক কাগজের সন্ধানে শুরু করলাম
দৌড়।
আমার চাই একটা অলৌকিক কাগজ।
যে কাগজটা না পেলে সামনের বছর দুর্গা পুজোয় আমি
বাজাতে পারবো না ঢাক। যে কাগজটা না পেলে আমি মাটি
ছেনে বানাতে পারবো না লক্ষ্মীর শরা। যে কাগজটা না পেলে
আমি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া দুপক্ষের মাঝে দাঁড়িয়ে গলা উঁচু
করে বলতে পারবো না "কি করছো কি তোমরা? শান্ত হও।"
আমার একটা কাগজ দরকার। একটা অলৌকিক কাগজ।
আমি ছুটতে শুরু করলাম। কাশমীর থেকে কন্যাকুমারিকা।
দেখলাম কাশমীরের মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
পাঞ্জাবে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
অসমে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
উত্তর প্রদেশে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
এমন কি দিল্লীতেও মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
না মাননীয়, আমি ওদের দলে নই। আপনার কাগজ চাই?
আমি আপনাকে কাগজ দেবো। শেখ সুলেমানের পুত্র আমি।
শেখ সাদ্দাম। আমার কোনও কাজে নেই। সারা দিন কবিতা
নামের এক নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে বনবাদাড় আর মানুষের
মনের গোপন সুড়িপথে আমি ঘুরে বেড়াই।
আমি আপনাকে দেবো আমাদের বিশ্বাস দিয়ে বানানো একটা
সাদা কাগজ। দেবো আমাদের স্বপ্ন দিয়ে বানানো এক ঝর্না
কলম। ওই বিশ্বাসের সাদা কাগজে, স্বপ্নের ঝর্না কলমে, আস্থা
রঙের কালি ভরে, আপনি প্লীজ, নতুন করে লিখে দিন - একটা
কবিতা, যার নাম "সনাতন ভারত"।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেশটা কার বলো? দেশটা কার ?
হিমালয় কার বলো? গঙ্গা কার?
তোমার আমার না কি আম্বানি-টাটার ?
দেশটা কার বলো? দেশটা কার?
শ্রমিক-কৃষক না কি মোদির বাবার?
দেশটা কার বলো? দেশটা কার?
আমার তোমার দেশ আমাদেরই রবে
আমার দেশের মানুষ বিদেশী কেন হবে?
এই মাটি আমাদের, জমি-জঙ্গল
এই বার আমাদের লড়াই সম্বল।
এসো এসো বন্ধু লড়াইয়ের রাস্তায়
আমাদের মেহনত বিকোবেনা সস্তায়।
দেশটা কার? কবি শুভনাথ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। রচনা ১০.১০.১৯। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৪.১.২০২০।
আমাদের ঘরবাড়ি, আমাদের জীবিকা
আমাদের ছেলে-মেয়ে, আমাদের সবটা।
মানবো না NRC, মানবো না ফরমান
এই মাটি আমাদেরই এইটুকু জেনে যান।
রক্তের বন্যায় যদি ভাসি ভাসবো
যুদ্ধের শেষ হাসি আমরাই হাসব।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা কাগজ চাইতে এলে আমি হাতে তুলে দেব
এ দেশের সহস্র ভাষার অক্ষরমালালিপি
যে লিপি চেতনার রুদ্ধ দ্বারগুলি প্রতিটি শিশুর কাছে
একে একে উন্মুক্ত করে দেবে ঘরে ঢোকা প্রথম
সূর্যালোকের মতো
কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
দুমুঠো শস্যদানা তুলে দিয়ে জিগ্যেস করবো
এই ফসলের ধর্ম কি? যারা ফলিয়েছে তাদের?
যার শ্রমে ফিবছর উৎপাদন, তৈরি হয় আয় ব্যয় বৃদ্ধির
রাষ্ট্রীয় হিসেব নিকেষ, যাবতীয় নথি
তার তো মানপত্র পাওয়ার কথা! অথচ,
মাটির বুকে ফুঁড়ে যে রচনা করে সৃষ্টির রহস্যজাল
তাকে জিগ্যেস করো মাটির মালিক সে কিনা!
কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
নক্ষত্রের ধুলো ঝেড়ে রোহিতের সুইসাইড নোটের
ভাঁজ করা পান্ডুলিপি দিয়ে বলবো
এই নাও এই ভগ্ন সময়ের দলিল
চিরআবহমান মহা জগৎ সংসারের যে কোনো মুহুর্তেই
আমার জন্ম একটি অকস্মাৎ দুর্ঘটনামাত্র
এইটুকু কাগজ আছে আমার কাছে
আপাতত পথ ছাড়ো, আমাকে অনেকদূর যেতে হবে
কাগজ চাইতে এলে কবি দেবরাজ কোলে (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA. বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৪.১.২০২০।
কেউ কাগজ চাইতে এলে বলবো, কাগজ সে তো
সিন্দুকে রাখা আছে!
সমস্ত ঘর তছনছ করে
রাষ্ট্র যখন বোকা বনে গিয়ে রেগে এসে
আমার বুকে বন্দুকের নল রাখবে, আমি হেসে বলবো
ওই খানেই, বাঁদিকের পাঁজরের একটু ভিতরেই আছে
সিন্দুকটা! ওর ভিতরে রক্তরাঙা অক্ষরে লেখা আছে
আমার সমস্ত জীবনবৃত্তান্ত
আমার প্রিয় লাইনগুলো
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।"
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি যদি চাও দেখতেই চাও আলোর সমুদ্দুর
গভীর আঁধার পথ জুড়ে আছে ভেঙে ভেঙে যাক রাত
ডাকছে শাহিনবাগ
তুমি যদি চাও দেখতেই চাও রাত্রির চাঁদমুখ
চাঁদের আলোর মায়া ভরা রাত
ডাকছে শাহিনবাগ
তুমি যদি চাও শুনতেই চাও মেয়েদের তেজি সুর
নীরবতা নয়, গোঙানিও নয়, স্পর্ধিত শতবাক্
ডাকছে শাহিনবাগ
তুমি যদি চাও শুনতেই চাও মায়েদের আহ্বান
দুনিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আজ
ডাকছে শাহিনবাগ
তুমি যদি চাও দেখতেই চাও সাহসী শিশুর মুখ
শীত রাত্তিরে রাস্তার পরে প্রতিবাদে উন্মুখ
এসে দেখে যাও আজ
ডাকছে শাহিনবাগ
ডাকছে শাহিনবাগ কবি কাজরী রায়চৌধুরী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৪.১.২০২০। দিল্লি ও কলকাতার শাহিনবাগ আন্দোলনকে সংহতি
জানিয়ে মানস ফিরাক ভট্টাচার্যের ইংরেজি কবিতা 'Come to ShaheenBagh'-এর একটি অংশের ভাবানুবাদ
করে গানের রূপ দিয়েছেন কবি।
তুমি যদি চাও দেখতেই চাও স্বাধীনতা কারে কয়
ভয়ের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে জীবন কাব্যময়
(তাই) এসো সাথী আজ শীত রাত্তিরে
এসো সাথী আজ ভোরের আজানে
এসো সাথী আজ আসবে আজাদ
ডাকছে শাহিনবাগ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা কাগজ বলতে বুঝি কিছু নতুন কবিতা
আমরা কাগজ বলতে বুঝি এই সদ্য আঁকা ছবি
আমাদের গানে থাকে লালন, কবির, ভবপৃতা
আজান ধরেছ বুকে প্রতিদিন, হে সিন্ধুভৈরবী!
শাসক তুমু যদি ছবি আঁকা দেখতে চাও,
গান ও কবিতা শোন রোজ
আমরাও কথা দিচ্ছি, অবশ্যই দেখাবো কাগজ
আমরা কাগজ বলতে বুঝি কিছু নতুন কবিতা
কবি দেবর্ষি সরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৪.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেশে যখন উঠলো সে রব, গেল গেল গেল
মহারাজা গর্জে ওঠেন 'এমন কি বা হ'ল!
সব দেশেরই এমন দশা,শুধু আমার নয়
সবার যত বাড়াবাড়ি, সহ্য নাহি হয়।
অনাবশ্যক চেঁচামেচি চিৎকারে সব মাতে
মহারাজা বলেন হেসে, কি যায় আসে তাতে'?
শিল্পী, মজুর, গায়ক, কবি, একসাথে সব কয়
মহারাজা এমনি করেই কাটবে কি দিন হায়?
রাজা দেখেন বিপদ ভারী,মন্ত্রী কে তার ডেকে
কহেন, 'কিছু কর, নইলে বসবে সবাই বেঁকে।
এমন আমার মৌরসিপাট্টা যাবে ছাড়েখারে
আবার কি সাজিয়ে নিয়ে বসবো কেটলি ভাঁড়ে'?
মন্ত্রী কহেন, দুদিন পরে, ফাঁদ পেতেছি তিনটা
তাতেই সবাই ছটফটিয়ে ভাববে সারা দিনটা
একটা ক্যা, অন্যটার নাম দিয়েছি এন পি আর
একটার নাম কাছাকাছি, সেটা হ'ল, এন সি আর
নাম রেখেছি জব্বর, তবু আমার কাছে নয় ক্লিয়ার।
এতেই সবাই পাগল হবে, ছটফটিয়ে মরবে
বাকি যারা থাকবে বেঁচে, অন্য ওষুধ ধরবে।
অন্য ওষুধ কবি অজাতশত্রু মিত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA
বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৫.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘরের পাশে ডালিম গাছের ডালে
তিনটে পাখীর ছোট্ট বাসা ছিল
আমার সাথে ভাব ছিল বেশ তাদের
সে সুখ কারা হঠাৎ কেড়ে নিল?
একটা পাখী ঘর ছাড়াদের ডালে
তার সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই
আরেকটা তার জন্মভূমি খোঁজে
NRC তে গান হারালো কি?
আরেক জনের প্রমাণপত্র আছে
সে নাকি এক বিশেষ দলের ছানা
চোখের জলে ভেজায় সে তার বাসা
কারণ তারও ওড়ান দেওয়া মানা।
মনের ভেতর ব্যথায় কাতর আমি
একই সাথে দিব্বি ছিলাম সুখে
কই আগে তো হয়নি অসুবিধা
এই গান তাই গাইছি ক্ষোভে দুখে।
ঘরের পাশে ডালিম গাছের ডালে
কথা ও শিশুশিল্পী - কবি রূপকথা দে (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - শিউলি
ভট্টাচার্য্য। হঠকারী NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৭.১.২০২০। গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অসমে কেউ রক্তস্নাত
পুড়ছে কারো বসতবাড়ি
মুখ ঘুরিয়ে বলছ, “জানি...
কিন্ত কী আর করতে পারি।”
কে ত্রিপুরায় বিপন্ন আজ
স্বপ্ন পুড়ে খাক হল কার...
এসব জেনেও বলছ বুঝি,
“কী আসে-যায় তোমার আমার।”
কিন্তু যদি ওই আগুনই
এগিয়ে আসে, ছড়িয়ে পড়ে
খাকতে তখন পারবে তো ঠিক
দরজা এঁটে নিজের ঘরে?
ঠিক তখনও পারবে বুঝি
ছাই ওড়ানো আগুন দেখে
খাতার পাতা ভরিয়ে দিতে
মধুর প্রেমের পদ্য লিখে!
ফুল-পাতা-গাছ, চাঁদ-তারা-মেঘ
দেখবে কোথায়! চতুর্ধারে
উড়বে যে ছাই, আকাশ তখন
মুখ লুকোবে অন্ধকারে।
সেই যে নরক, স্বদেশ বলে
চিনতে তাকে পারবে কি আর!
বরং এসো, মুছতে আঁধার
প্রাচীর গড়ো বিরুদ্ধতার।
প্রাচীর গড়ো কবি চন্দন নাথ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। আসামে বাঙালীদের দুর্দশা ও
হঠকারী NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৬.২.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১
মাথায় ফেজ টুপি, কপালে তিলক
বুকপকেটে হোলি ক্রস আর লোটাস-সূত্র, কোমরে কৃপাণ---
নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণায় এ রকম একটি লোককে দেখা গেল
বয়স ৭০-৭১, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ভারসাম্যহীনও হতে পারে
চোখের দৃষ্টা ঘোলাটে, থুতনির ওপর একটা কাটা দাগ
সাতচল্লিশ সালে কেটেছিল, এখনও শুকোয়নি
হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়ির তলায়
শেষ দেখা গেছে, নাম---
"ভারতবর্ষ" ...
ভারতবর্ষ
কবি সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কেন্দ্রের শাসক দলের বিষাক্ত
ধর্মীয় বিভেদ নীতির প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিষেধের স্রোতে আজ বিরুদ্ধ স্বর।
প্রতিদিন রাত লেখে ধার্মিক চর॥
এখানে দাঁড়িয়ে শুধু খাদ্য খাদক।
মেঘের আড়ালে রোজ চাঁদ ডুবে যায়॥
এ যুদ্ধে জিতবোই আমরা সবাই।
ঘামের গন্ধ মেশে খিদের থালায়॥
পৃথিবীর প্রতি বাঁকে মৃত্যুরা জানে।
ধর্মের মোহে রোজ বেড়ে চলে লাশ॥
তবুও ছাইয়ের নিচে জমা হয় সোনা।
এখানেই ভুখা পেট লেখে ইতিহাস॥
জেনেছি আকাশ মানে পাখিদের গান।
রাষ্ট্রের গায়ে লেখা ভীরুতার নাম॥
নিষেধের রাত
কবি সুপ্রতিম দত্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কেন্দ্রের শাসক
দলের বিষাক্ত বিভেদ নীতির প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মুছে ফেলে তিন সাত শূন্য
ভূস্বর্গে নেমে এলো পুণ্য।
বাকি পাপ জমা ছিল মর্ত্যে,
রায় এলো মন্দির গড়তে।
উঁচু হবে মন্দির, মূর্তি,
ভক্তের মনে জাগে স্ফূর্তি।
জেনে গেছে অমৃত ভাষণে,
দেশ বাঁচে ধর্মের শাসনে।
বিভাজন রেখা খুব স্পষ্ট,
আছে কিছু দেশদ্রোহী নষ্ট,
পাপ মনে পড়ে ম্যানিফেস্টো।
সীমান্ত পারে কত কষ্ট!
কষ্টকে ছেঁকে নিলে ধর্মে,
খুঁত খোঁজে মহামতি শাসকের।
বেশী জেনে ঢোকে না তো মর্মে,
দোষ যদি থাকে সে তো পোষাকের।
শেকড় তো মাপা যায় কাগজেই,
কাগজ না থাকে তবু ক্ষতি নেই,
শুধু যদি ঈশ্বরে গরমিল,
দূর করে দেওয় ছাড়া গতি নেই।
তারপরে পূষ্পের বৃষ্টি,
নাগরিক প্রমাণের পুণ্যে
শাসকের পাবে কৃপা দৃষ্টি,
দেশ ভরে যাবে ধনে ধান্যে।
দেশপ্রেমী ইস্তেহার কবি শুভদীপ ঘোষাল (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কেন্দ্রের শাসক দলের বিষাক্ত ধর্মীয় বিভেদ নীতির ও NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১১.২.২০২০। ভিডিওটি সৌজন্যে Iman Santra Facebook.
আমরা ভক্ত যে তাই
আমরা মুখ্যু যে তাই, ভেবে না পাই, অর্থনীতির কথা।
GST আর NRC-এর হরেক জটিলতা।
এসব বুঝবে কেডা!
এসব বুঝবে কেডা?
এসব বুঝবে কেডা জটিল সেটা ভয়েই গুটিশুটি।
অল্প বুঝি থালায় খুঁজি কোথায় গেল রুটি!
তাই রেগে উঠি!
তাই রেগে উঠি।
তাই রেগে উঠি মিছিল হাঁটি মনের এ গান গেয়ে।
পুলিশ ভ্যানে আটক হলাম এলো UAPA
এবার কঠিন আইন!
এবার কঠিন আইন
এবার কঠিন আইন, পড়বে লাইন, ডিটেনশন সেন্টারে
দেশের ভোটার নাগরিকদের ঘুস্পেটিয়া বলে!
শুনি আজব কথা
শুনি আজব কথা
শুনি আজব কথা এ এক ব্যথা মোদি শাহর দেশে
নাথুরাম আজও গুলি চালায় রামগোপালের বেশে
দেশটা নিলাম হল
দেশটা নিলাম হল
দেশটা নিলাম হল, আম্বানি কিনল নির্মলা বাজেটে
তবু বন্ধু সবহারাদের স্বপ্ন আজও মেশে দিনের রাজপথেতে
দিনের রাজপথেতে
দিনের রাজপথেতে একসাথে স্লোগান ধরি সবে
নতুন ভারত আঁকা হচ্ছে নতুন শাহীনবাগে
সময় দোরগোড়াতে
সময় দোরগোড়াতে
সময় দোরগোড়াতে মুঠো হাতে আবার হুলগুলান
করপোরেট আর পার্লামেন্টে সবাই যে সাবধান
আমরা জেগে আছি
আমরা জেগে আছি
আমরা জেগেই আছি স্বপ্নে বাঁচি স্বপ্ন অফুরান
নতুন দিনের কলরবে অমর গাজীর গান
শোনের বন্ধুগণ শোনেন বন্ধুগণ শোনেন বন্ধুগণ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি আগে তরি পয়গম্বরের চরণ বন্দনা
দেশের কথা শোনাই গানে শোনেন সর্বজনা, শোনেন বন্ধুগণ
শোনেন বন্ধুগণ
শোনেন বন্ধুগণ দিয়া মন জোটে না তো ভাত।
আর ভাত চাইলে রামের নামে গেলায় মন-কি-বাত।
এলো 'আচ্ছে দিন'
এলো 'আচ্ছে দিন'
এলো 'আচ্ছে দিন' স্বচ্ছ সিন পেঁয়াজ ১৬০/- ।
কাশ্মীর কাঁদে বাবরি কাঁদে গরুর সোনার বাঁট।
আমরা শ্রীরাম ধরি জ্জ্যায় শ্রীরাম ধরি
আমরা শ্রীরাম ধরি আখলাক মারি অভাব হয়না শেষ।
টাকা আমার উধাও হল নোটবন্দীর রেশ।
পাথর ছুঁড়বে কে আর
পাথর ছুঁড়বে কে আর
পাথর ছুঁড়বে কে আর, জঙ্গী সাবাড়, শান্তি আসবে দেশে।
পাথর ছুঁড়েই যোগী-পুলিশ ছাত্র মারল শেষে।
গাজীর গান অমর গাজী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কেন্দ্রের শাসক দলের বিষাক্ত ধর্মীয় বিভেদ নীতির ও NPR-NRC-CAA
বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৫.২.২০২০।
ভারত মাতা কি জ্জ্যায়
ভারত মাতা কি জ্জ্যায়
ভারত মাতা কি জ্জ্যায়, কি আসে যায় বেটি মরছে পুড়ে।
সদগুরু সেঙ্গার দেশের নেতা ধর্ষণ দেশটা জুড়ে।
তাতে কপাল ঠুকি
তাতে কপাল ঠুকি
তাতে কপাল ঠুকি, কি উজবুকি, হিটলারি দেশে বাঁচি।
রুটি হবে, ইনসাফ হবে, রাম রাম বলে নাচি।
আমরা ভক্ত যে তাই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাগজের ভয় যতই দেখাও
দেশটা আমি ছাড়ছি না
ফন্দি তোরা যতই আঁটিস
তোদের ফাঁদে পড়ছি না।
যতই তোরা রায়ট করিস
যতই ভাবিস পাচ্ছি ভয়
যতই তোরা নায়ক সাজিস
দেশটা তোদের বাপের নয়।
মুসলমানের রক্ত মেখে
ভাবছ তুমি বিরাট বীর?
চামড়া তোমার গুটিয়ে নেবে
নাম না জানা লোকের ভিড়।
ইতিহাসের সিলেবাসে
যতই ভরিস মিথ্যে গান
মানুষ লিখবে পাতায় পাতায়
তোদের খুনের গল্প-গান।
এই দেশেতে ধর্ম বাঁচে
খেটে খাওয়া লোকের ঘামে
সাধ্য কি তোর ভাঙবি এ দেশ
আল্লা কিংবা রামের নামে?
কাগজের ভয় যতই দেখাও কবি গৌতম সরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
কেন্দ্রের শাসক দলের বিষাক্ত ধর্মীয় বিভেদ নীতির ও NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৩.৩.২০২০।
এতই সহজ দেশটা ভাঙা
দাগিয়ে 'টুকড়ে টুকড়ে' গ্যাং?
দেশের মানুষ জবাব দেবে
টুকরো করে তোদের ঠ্যাং।
ধর্ম-জাতের খেলছো খেলা
ভাবছো কিছুই বুঝছি না?
দিচ্ছো বেচে আমার এ দেশ
তোমায় আমরা ছাড়ছি না।
এক মাঘেতে যায় না যে শীত
আসবে দেশে আবার সে দিন
পুড়বে তোদের হনু-বদন
সঙ্গে তোদের 'আচ্ছে দিন'।
যতই তোরা বদলে ফেলিস
যতই ছেটাস রক্তদাগ
মানুষ বাঁচবে সংবিধান
ভক্ত বানর জলদি ভাগ।
আমার দেশের সংবিধান
ভীমের লেখা প্রেমের গান
আমার সত্য দেশের মানুষ
তাঁরাই আমার ভগবান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাথার ওপর জ্বলছে আগুন
নেইকো পথের শেষ
পেটের ভেতর জ্বলছে আগুন
হাঁটছে সারাদেশ।
সেই আগুনেই প্রদীপ জ্বেলে
মিথ্যায় ভুলবো না,
মন্ত্রী তোমার হুকুম মেনে
প্রদীপ জ্বালবো না।
কিসের অকাল দীপাবলি
মিথ্যা আলো খুঁজি
লকডাউনের বন্দী দেশে
বন্ধ রুটি রুজি,
বাইরে মারী,ঘরে খিদে
জীবন যন্ত্রণা
মন্ত্রী তোমার লোক দেখানো
প্রদীপ জ্বালবো না।
কঠিন সময় একতা চাই
বলছো সবার কাছে
তুমিই জানো দেশের ভেতর
আর একটা দেশ আছে।
প্রদীপ জ্বালবো না
কৌশিক চট্টোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
একটা দেশে এরোপ্লেনে
মারণ-ব্যাধি আনে
আরেকটা দেশ খালি পেটে
কোয়ারেন্টিন মানে।
একটা দেশে ধনীর পাড়ায়
পুলিশে গান গায়
অন্যদেশে মুটে-মজুর
লাঠির বাড়ি খায়।
সুরক্ষা চাই, ধর্মমোহের
চাই না প্রবঞ্চনা
মন্ত্রী তোমার মন ভোলানো
প্রদীপ জ্বালবো না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বারবার রক্তে'র-স্তুপ ঘুরেফিরে জড়সড় পোড়া-বারুদে'র ঘ্রানে---
তারপর অগোছালো হয়ে ছড়ানো প্রত্যাশাগুলো পুড়ে ছাই অবিচল
-অপ্রত্যাশে;
আবার কোনো এক-মাঝরাতে বেহালা'র চার-তারে
...বিরহ-বেদনা'রা ব্যথাতুর বেজে ওঠে সকরুণে---
যেন যান্ত্রিক-দু'চোখ জোড়া মৃতঘুম
যত্নে পলকে আঁকড়াবে উদগ্রীব ভালোবেসে॥
সৃষ্টির বার্তা রুপে টুপ করে অন্তজ -শ্রেনীযোগে...
বসতি'তে ভূঁইফোঁড় নয়তো সে এ ভূখন্ড-কুঁড়ে,
তবু ঠিকানা বাঁচেনা সংখ্যালঘু'র
-সংখ্যাত দলদাসে;
ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা বংশপুরুষ
নাগরিক-তকমা'র অদ্ভুতগেরো বিঁধে অযথা শেষপাতে নড়বড়ে---
অথবা বয়স-ভারে স্বচ্ছমৃত্যু-প্রাপ্তি
-ধনও শ্লথ পঙ্কিল পরিক্লান্ত বেনামি-ত্রাসে॥
এমন তো কথা ছিলোনা কবি অনীশ সরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NRC বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায়
তোলা হয়েছে ৯.১.২০২০।
বেগার-খাটা ঝলসানো-দু'হাত প্রাপ্য নৈরাশ্যে'র ক্ষতচিহ্ন
-বিগ্রহে...
ঝুপড়ি-তলে দুধের-শিশুর শুকনো-মুখে থমকে দাঁড়ায়;
বুঝিবা অপুষ্ট-রক্তনালী বারবার পোড়া-বারুদ ঘ্রানে'র প্রবাহে...
এতোকাল শুধুই খাদ্য-ভাগাড়ের
-মানচিত্র,
শ্রুত-মুখস্থতায় সাঁটায়ে অক্ষরহীন-মগজে...
কাগুজে-সনদবিনে হারাতে বসেছে---
কয়েক-জীবন ধারে পাওয়া দেশজ-পরিচয়॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কালের সিপাহি তুমি
জেগে থাকো অতন্দ্র প্রহরায়।
ওরা শুধু শেকলে শেকলে
বেঁধে রাখে শরীরে তোমায়।
ভালোবাসো কি টলটলে জলে
ভেসে ওঠা শালুকের মতো?
অথবা পুলিশ লক আপে
দগদগে তোমার ক্ষত।
কালসিটে চোখর কোটরে
জ্বলজ্বলে মুক্তি দেখাও,
কালের সিপাহি তুমি
মুক্তির বীজ বুনে যাও।
কালের সিপাহি
কবি মৌতুলি নাগ সরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯
সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত
করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোন পাপের ফল ভোগ করছি??
সাদা কাগজের মত মন নিয়ে এসেছিলাম এই ধরনীতে...
একজন মানব সন্তান হিসাবে আগমন....
এছাড়া অন্য কোন পরিচয় ছিলনা
কেবলই কাদার তাল ছিলাম...
এসে দেখি এক চিত্রকর ও পটুয়া আমার অভিভাবক....
আমার সাদা পরিছন্ন খাতায় নানান বর্ন, রূপ,
গন্ধ ও স্বাদের হরেক ছবি এঁকে দিচ্ছে...
দেখি বিভিন্ন ধরনের মূর্তি গড়ছে-
নাথুরাম, হিটলার, লাদেন আরও কত কি.....
যার যেমন রুচি তেমনই মূর্তি ওঁরা
পছন্দ করে পরম যত্নে নিয়ে গেল!!!
নিমেষে সব হু হু করে চৈত্র মাসের
সেলের মালের মত বিক্রি হয়ে গেল!!
লাদেনের ভক্তরা তাদের রুচি মত আর
নাথুরামের পূজারীরা তাদের পছন্দ মত
মূর্তি ও ছবি গুলি কিনল.....
পরম যত্নে দোঁহা সাধক কবীরের
নিষ্পাপ চিত্রটি কোন ক্রেতা ছুঁয়েও দেখলনা!!
কবীরের মনটা আজ বিষন্ন ও ভারাক্রান্ত,
চোখ দুটি ছল ছল করছে!!
আজকের ধর্মীয় উন্মাদনার ধরাতে
গডসে-ওমর সৈদরা লাভজনক বিপণন..
রাজনৈতিক উত্থানের হাতিয়ার,
কবীরের আর্তনাদ ও আশা কবি মিরাজ আজাদ (জন্ম ২৩.১.১৯৬৫)। রচনা ১৯.১০.২০২১।
ডলার-পেট্রোডলার মজুতের মূল্যবান মাধ্যম!!!
বিশ্বে মানুষের বড় আকাল...
যারা কবীরকে কিনতে চায় তারাই আজ
উন্মাদ পাষন্ডদের হাতে চরম আক্রান্ত...
পেটে খাদ্য নেই, শরীরে বস্ত্র নেই,
মাথার উপর ছাদ নেই..
কেবল নেই নেই আর নেই রাজত্বের মুমুর্ষ সব হারানো
অপুষ্টিতে ভোগা অতৃপ্ত আত্মারা দিশেহারা!!
অমাবশ্যার আঁধার এদের গোটা জীবন জুড়ে...
আশার আলোর পথ যে অবরুদ্ধ...
আকাশে বাতাসে শুধু বারুদের গন্ধ...
স্বাস কষ্টে অগণিত হাড় জিরজিরে শক্তিহীন জীবন যেন
প্রেতাত্মার মত হাতে বাটি নিয়ে খাদ্যের তালাশে..
তাই মানব কবীরের ছবি ও মূর্তি আজ অবিক্রিত!!!
এই স্বার্থপরতার দুনিয়াতে মানুষের বড় আকাল !!
চারপাশে যারা ভিড় করে আছে
প্রায় অধিকাংশ মুখোশ পরা মানুষ..
নর পিশাচ ওদের আত্মাতে ভর করে আছে....
কবে, ঠিক কবে-কখন,
কোন তিথিতে এই গ্রহে মানুষে মানুষে ভরে যাবে??
অপেক্ষায় আছে কবীর,
ও মানুষের ঘরে মানুষের সন্তান হয়ে পালিত হতে চায়...
যেখানে বিভেদ, হিংসা ও হানাহানি থাকবেনা...
থাকবে শুধু প্রেম ভালবাসা আর মনুষত্ব