প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যে ছেলেটা চা-দোকানে খেটে চলে ফাইফরমাস,
স্বাধীনতা তার কাছে পাড়ার ক্লাবের দেওয়া ভালো প্রাতরাশ।
গুনগুন তার গানে ফুটে ওঠে শীলা কি জওয়ানি,
মাইকে তারস্বরে আঁখ মে ভরলো পানি’র মানে
তার কাছে কিছু বেশি খদ্দের আর বাড়া খাটনিও,
কাপডিশ ভেঙে গেলে পনেরো আগস্ট বলে ক্ষমা পাবে কি ও?
ইঁটভাটা জুড়ে কাজ, চলছে ও চলবেই, আগস্ট পনেরো তো কি?
মাথায় ইঁটের বোঝা, সিঁড়ি বায় কিশোরী, ওর কথা কেউ বলছো কি?
চুলে জট, চামড়ার তামাটে বরণে অপুষ্টি প্রবল,
কিছু দূরে রাজপথ জুড়ে যাওয়া সুবেশ তেরঙাধারী পড়ুয়ার দল
কোনো প্রভাব ফেলেনা তার রুটিনে,
কেউ জানো ওর ঘরে স্বাধীনতা কবে যাবে ঝুপড়িকে চিনে?
ওদিকে বসে যে লোক, পাঁইটের লোভে সে বেচেছিলো ভোট,
ভাতহীন সংসারে আজ বউ মুখ করে দিলো খুব একচোট।
একশো দিনের কাজ ভাঁটিখানা শুঁষে নিলো কবে,
যতটা সহজ মদ, পেটভরে ডালভাত তত অনায়াসে
ঠিক পাওয়া যাবে কবে, সেটা যদি তেরঙা না জানে,
আগস্ট পনেরো তবে তার সংসারে কোন মানে বয়ে আনে?
নাগরিক কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
আর সেই গৃহবধূ, মেয়ে হয়েছে বলে একবিংশতে যে অচ্ছুতসমা,
স্বাধীনতা , বলে দাও আরো কত লাঞ্ছনা তার ভাগে জমা।
শুক্রের দায়িত্ব আজীবন বহন করে চলেছে জরায়ু,
কবে সেই সংস্কারী বদনামে শেষ হবে আয়ু,
সেটা আগে বলে তারপর বলো ছেলে মেয়ের সমান,
সাতটা দশক গেলো, কন্যা বাঁচাতে তবু ভরসা স্লোগান।
ঘুমিয়েছে স্বাধীনতা, স্বপ্ন চলেছে দেখে অনাবিল আগামীকে ভেবে,
আগস্ট পনেরো এলে এইসব নাগরিক যেদিন মিছিল খুঁজে নেবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই যে স্বাধীন তাক ধিনা ধিন দেশাত্মবোধ তুড়ুক নাচন,
নিমের পাচন মুখ করে সব ফেরত যাওয়া অতীত গানে,
পতাকাটা উঠিয়ে দিয়েই লাইন লাগাই কষাইখানায়,
এই যে সে দিন যেদিন ঘরে ভালো রাংয়ের মাংস আনে,
ক্যালেন্ডারের লাল তারিখে দেশের পুজো সকালবেলায়,
এই যে সেদিন নেতাজি আর ক্ষুদিরামের ফটোয় মালা
আজকাল তো সিডিও না, গান পাওয়া যায় ইউটিউবে,
এই যে সেদিন স্বদেশ জুড়ে ভালো আছি’র নাট্যশালা,
এসব থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করাই খুব বোকামি,
ভালো আছির মানে কানার মুখে তালা কানেও কালা।
এই যে সেদিন ঘুষ নেবো না বললো না তো একটি লোকও,
জমির জবরদখল নিতে সবল সফল অনায়াসে,
ধর্ষিতা মেয়ে ফিরলো ঘরে, এফ আই আরও যায়নি করা,
এই যে সেদিন, ওই পুকুরে সে ধর্ষিতার শরীর ভাসে।
এই তো স্বাধীন, ধর্মভেদে মানুষ ঘিরে মারছে মানুষ ,
ভীষণরকম দাঙ্গা হলো দলিত ছেলের গোঁফ রাখাতে,
ওই কোণে দেয় গলায় দড়ি বেকার যুবক উচ্চজাতের,
এই যে সেদিন, জাতের ভ্রমে খুন হলো মেয়ে বাপের হাতে.
এসব থেকে ফেরাও আলো, আঁধার জুড়ে আতশ দেখো
মাংসটা হোক জমিয়ে রাঁধা, রাত্রে খাবো মদের সাথে।
দেশদ্রোহীর তকমা তাকে, নাচছে না যে এ ধিন তা’তে।
নাচ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৪ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যাজ্ঞসেনীর খুলছে শাড়ি, টানছে ধরে দুঃশাসন,
দায় ছিলো যার গর্জে ওঠার! নিচু মাথায় সে পাঁচজন।
দুর্যোধনের নগ্ন ঊরু, ইঙ্গিতে তার ধর্ষকাম,
হস্তিনাপুর দেখছে বসে, ধ্বস্ত হতে তার সুনাম।
অন্ধরাজা সিংহাসনে, আর্ত চেঁচান বৌমা তার,
নিজের দলের নির্যাতনে, সব রাজা হন নির্বিকার।
কর্ণ বসে হাসছে হা হা, রাজার দলের লোক তো সে
শর্তবিহীন সমর্থনেই, তাবত আরামসুখ বসে।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ নীরব, সরকারী লোক হাজার হোক
রাজার কথাই তোমার কথা, তুমি যখন রাজার লোক।
খল শকুনি দেখছে সবই, বস্তুত সে ধ্বংস চায়,
ঘরের মাটি লাল হয়ে যাক, দেশবিভাগের যন্ত্রণায়।
সুশীল সভায় ঘটছে যখন, রাজঅপরাধ জঘন্য,
ঠিক তখনই তার বিরোধে, চেঁচিয়ে ওঠেন বিকর্ণ।
বিকর্ণ নন কেউকেটা লোক, একশো ভাইয়ের একজনা
তেমন করে এর আগে কেউ, তার কথাটাই জানতো না।
জতুগৃহে কাড়েননি রা, অন্তত তা নেই লেখা,
ভীমকে যখন বিষ খাওয়ালো, তখনও তাঁর নেই দেখা।
কিন্তু যখন প্রকাশ্যতেই কাড়ছে নারীর আব্রু কেউ,
স্তব্ধ জিভের চুপসাগরে, বিকর্ণ হন একলা ঢেউ।
চেঁচিয়ে ওঠেন রাজার কুমার, যুবরাজের বিরুদ্ধেই,
মহাবলী পান্ডবেরও, তখন গলায় সে সুর নেই।
রাজাও যখন নীরব থেকে, সায় দিয়ে যায় ধর্ষণে,
ঠিক তখনই সমস্ত যুগ, বিকর্ণদের স্বর শোনে।
আমরা যারা কিচ্ছুটি নই, একটি মোটে ভোট কেবল,
অত্যাচারের সামনে এলে, সঙ্গী শুধু চোখের জল
পোষ্যভাবে জাবনা চেবাই, অন্ধ এবং নি-কর্ণ,
প্রার্থনা থাক আমরা যেন, একবার হই বিকর্ণ।
মরার আগে হতেই হবে, রাজার সভায় বিকর্ণ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একলা ভেজা গাছের মতন চুপ দাঁড়িয়ে বৃষ্টি মেখে
ছোট্ট খুশির মুহূর্তদের চাইবো ফেরত জীবন থেকে।
হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁলে বুকের ভেতর শাঁওন ভাদোঁ,
শহুরে মন, মোবাইল ভুলে কারণবিহীন একটু কাঁদো...
আমার সাথে বাইরে যাবে, এবার বখন বৃষ্টি হবে?
লাগুক পায়ে কাদার ছিটে, নাহয় অনাসৃষ্টি হবে।
মুষলধারে বৃষ্টিপাতের মধ্যে ছাতা বন্ধ করে,
ঠোঁটেতে ঠোট রাখতে পারি আচমকা ঠিক মাঝ-শহরে।
স্কুল কলেজে ভেজার রীতি ট্রেন্ডিং কি আধুনিকেও?
ও মাঝবয়েস, মেঘলা হলে স্মৃতির পিছু হাঁটতে যেও।
হাঁটুর ব্যথা বেভুল হয়ে পশলা মেখো পদব্রজে,
ভার্চুয়ালের হ্যাশট্যাগদের মধ্যে কারা বৃষ্টি খোঁজে?
মুঠোফোনের সব ক্রীতদাস বৃষ্টিবাদল সমঝে চলে,
সুখের এবং খুব অসুখের চাবিকাঠি তার দখলে।
সেলফি তোলে শুকনো যে লোক বৃষ্টি রেখে প্রেক্ষাপটে,
হাতের ছাতা যাক উড়ে তার পাগলা হাওয়ার জোর ঝাপটে।
বৃষ্টিতে আর লোক ভেজেনা, ত্রস্তে এড়ায় জলের ছোঁয়া,
খুঁজছি কিছু আজগুবি দোস্ত ভিজবে যারা বিন-পরোয়া।
মেঘকে যারা বলবে ডেকে নামুক অঝোর আদর তোদের,
সবাই মিলে আনবো খুঁজে ছোট্ট খুশির মুহূর্তদের।
সোঁদা মাটি জানবে আবার গল্প সরল জীবনবোধের . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আদানির বন্দরে টাটার বিমান,
শুনে কেন নাগরিক করো অভিমান।
বণিকের মানদণ্ড ইত্যাদি ইত্যাদি
পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে হয়নি তামাদি,
একুশ শতকে তার নতুন ভিশন,
ইস্ট ইন্ডিয়া কোং নয়া এডিশন,
তফাৎ একটু আছে আগেকার সাথে,
এইবারে কোং থিতু দিশিদের হাতে।
দিশি বলে ভেবো না হে তুচ্ছ নেটিভ
দুনিয়া বেড়ায় চষে সে গ্লোবাল জীব,
তার ওপর জুটে গেছে নয়া বোম্বেটে
বিদেশে সেটল করে দেশে সিঁদ কেটে
যত খায় আরো চায়, হলো ঢাঁই পেট
তবু সে নয়নমণি কোং প্রাইভেট।
বেচে দাও তাকে যত সরকারি দায়,
সরকারি কর্মীরা নাকি বসে খায়
রটিয়ে সেটাই দেওয়া নানা ভাষ্যতে
যেন সবই সুখ লেখা কোং-দাস্যতে।
বন্দর চলে গেলো , যাবে টেলিফোন,
বীমা যাবে, রেল যাবে বিনা আলোড়ন,
বিনা বেছে বেচে বেচে দায় থেকে বেঁচে
রাষ্ট্র সাজাতে যারা উঠেছেন নেচে,
কোং কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১০.৯.২০২১।
তাঁদের পড়েনা চোখে জন-হাহাকার,
বেকার কজন বাড়ে খোঁজ নেই তার।
সরকার লসে চলে চালু গল্পটি,
খরচ তবুও হয় আট হাজার কোটি,
দেশের প্রধান চাপা পুষ্পক রথে
কনভয়ে গাড়ি নয় কম কোনোমতে।
দেশ বেচে করা দেশসেবার ভড়ং
মরে যায় দেশ এতে, বাঁচে শুধু কোং।
অকেজো খরুচে কোনো ধনীর দুলাল
আজ-কে খরচ করে কালো করে কাল
সেরকমই আজ যেন মাথারা দেশের
আবাহনী গান গান সর্বনেশের।
উন্নতি বলে হাঁকে চারদিকে চোঙ,
ইন্ডিয়া মালিকানা যত পায় কোং।
তবু যাও নাগরিক , ঘুমাও বরং..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একদিন, সব প্রতিবাদ জলে ফেলে দিয়ে,
তিল ও তুলসি হাতে নিঃশর্ত বশ্যতা মেনে নেবো।
গাছ আর আগাছার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
মাথা নিচু করা ঘাস হবো তোমাদের পায়ের তলায়।
একদিন, বিচার করার ঘিলু মাথা থেকে মুছে ফেলে,
তোমাদের চক্ষুদানশিবিরে গিয়ে বশংবদ অন্ধ হবো।
তোমাদের বেঁধে দেওয়া কথাদের সুরে গেঁথে
স্তাবকের বন্দনা সবাই শুনতে পাবে আমার গলায়।
একদিন, তোমাদের রূপকথা ইতিহাস বলে মেনে
তর্ক জুড়বো আমি তখনো সন্দিহান লোকেদের সাথে।
তোমাদের দেওয়া ম্যাপে পথ খুঁজে চলে যাবো সেই সব
স্থানে, যেখানে দাঙ্গার নামই শোনেনি কোনো লোকে।
একদিন, তোমাদেরই দেওয়া রঙে ছুপিয়ে নেবো অন্তর্বাস,
মাথার চুল, পায়ের নখ; আর কিছু ভাববো না অগ্রে পশ্চাতে।
তোমরা বলাবে যেটা, সেটাই বাক্য হবে, তোমরা দেখাবে যেটা,
তার বেশী কোনো আলো আর এসে পড়বে না পোষ্য দুচোখে।
তবে আজ সেইদিন নয় ; সুতরাং তুমি অত নিশ্চিন্ত নিরাপদ নও।
এখনো সটান খাড়া প্রতিবাদ জড়ো করে, পারো যদি যুদ্ধক্ষেত্রে এসে আমাকে হারাও।
বিদ্রোহী কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ শোক বড়ই ব্যক্তিগত, বিষণ্ণ ঋণ স্মৃতির কাঁধে,
শব্দরা আজ একলা ভীষণ, সে হারানোয় ফুঁপিয়ে কাঁদে।
কে হারালো, কে হারালো? কার বসেছে রথের চাকা?
কিশোরবেলা আর যুবাকাল অর্ধ নামায় মন-পতাকা,
মাঝবয়েসও চোখ মুছে নেয়, চশমা খুলে উদাস বসে,
মনখারাপের এ গিঁটখানা খুলতে পারে কোন প্রদোষে?
প্রদোষ এখন মিত্র না আর, সময় জ্বলে বিশের জ্বালায়,
শেষ সংলাপ সাঙ্গ করে ঝুললো তালা নাট্যশালায়,
কিন্তু এমন যবনিকায় নাটকখোরের মন ওঠে কই,
ছড়িয়ে এত স্মৃতির কুটো, কয়টা বলো আর ঠোঁটে বই,
নায়ক গেলেও স্বপ্ন বাড়ে বীজের মতন সব কাহনে,
মগজধোলাই কল চালু যেই, মন ফিরে যায় উদয়নে।
পরিযায়ীর ময়লা ছেলের বাপের কাঁধে ফেরার ছবি,
চমকে দেখি, কাজল না তো? তেমনি হাসে বাপ-গরবী..
রোজের লড়াই ফিরছি হেরে, মন যেতে চায় অবসাদে,
সেই তো পারে পরাজিত’র আগে হেসে ‘অ’ বসাতে,
কোথায় গেলো হঠাৎ সে লোক, আমবাঙালীর পরশপাথর?
নিভলো প্রদীপ জলের ধারায় নয়ন জুড়ে শাওন ভাঁদো’র।
স্মৃতির ভেতর সুঠাম গলা, খামোখা গোল করিস তোরা,
শরীর যাওয়ায় কার কি ক্ষতি, ওম তো দেবে চরিত্ররা..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নকীব চেঁচালো একদিন ভোরে, ‘জড়ো হও সব জনগণ,
যে যেখানে আছো কাজ ছেড়ে আজ এইদিকে ঢালো তনুমন।
সুখবর আছে মস্ত সে এক, সকলের কানে যাক তা
প্রগতির দিকে চলেছে যে দেশ, আগামী এনেছে বার্তা।
অলিন্দে রাখো চোখ সব্বাই, হবে মহারাজ দর্শন,
হতে পারে আজ স্বর্গের থেকে পারিজাত ফুল বর্ষণ।
নিজের মুখেই বলবেন রাজা, কত এ মহান কীর্তি,
বিরোধীর যত প্রশ্নের ঢিলে এটা পাটকেল ফিরতি।
শুনে চাষী ভাবে এতদিনে তবে সুরাহা হয়েছে শস্যের
এতদিন এক সের দাম দিয়ে ফড়েরা নিয়েছে দশ সের।
নির্ঘাত রাজা করেছেন কিছু , প্রগতির তুলি বুলিয়ে
মহাজন দেবে ন্যায্য মূল্য ভান্ডারে ধান তুলিয়ে।
খিদের শেকল আজীবন পরে দাদনের ক্রীতদাস,
রাজার ঘোষণা শুনে সে আশায়, খেতে পাবে বারোমাস।
শ্রমজীবী ভাবে এবারে খুলবে কারখানাদের তালা,
চাকরী হারিয়ে কঠিন জোটানো দুবেলা ভাতের থালা।
আজকে ঘোষণা নির্ঘাত বান-জোয়ার আনবে শিল্পে
ঘাম দিয়ে গড়া কামের ইনাম এতদিনে ঠিক মিলবে।
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে বেকারি যাদের গ্লানি,
( অনশনে কেউ কত সাড়া দেয় সকলেই সেটা জানি)
তারা বুক বাঁধে নতুন আশায়, হয়তো চাকরি জুটবে
ম্লান হয়ে থাকা শিক্ষিত মুখে অবশেষে হাসি ফুটবে।
চাঁদমারি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা - ২৭.৩.২০১৯ তারিখে করা অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল
পরীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে রচিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১.৪.২০১৯।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রোগীরা ভাবছে হয়তো এবারে বাজেট বাড়বে স্বাস্থ্যে,
উড়িয়ে দেবে না ব্যাঙের আধুলি কর্পোরেটের কাস্তে।
সরকারি যত হাসপাতালের যন্ত্র এবং যন্ত্রী,
এত ঠিক হবে, শরীর খারাপে ভর্তি হবেন মন্ত্রী।
চিটে ঠকা লোক ভাবে অবশেষে আসছে বিশেষ ঘোষণা,
( এতদিন বলা হয়েছে ঘুরিয়ে বুড়ো আঙুলটি চোষো না)
ধরা পড়ে যাবে সবকটা ঠগ, পর্দা আড়ালে কালো হাত,
এই আশা বুকে শুরু করে তারা ‘জয় জয়’ বলে কালোয়াত।
অবশেষে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ, সামনে এলেন নৃপতি
( বীরবাহু তিনি, টক্করে তার পিছু হটে সব বিপদই)।
জলদমন্দ্র কন্ঠতে রাজা বেছে বেছে কন শব্দ,
বরাবরই তার তীক্ষ্ণ ভাষণে বিরোধী হয়েছে জব্দ।
রাজা হাঁকলেন, মহাশূন্যতে দেশ দিলো আজ পাড়ি,
ইচ্ছে করলে গোলাগুলি আজ চাঁদেও চালাতে পারি।
আগামীতে যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কখনো যুদ্ধ লাগে,
জেনে রাখো তবে, সেই চাঁদমারি আমাদের জয়ভাগে।
জনতার মাঝে কে যেন চেঁচালো, ‘পেটে বড় খিদে জাগে . . .’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজকাল, তর্ক করি না আর।
মুখভঙ্গী রেখে নির্বিকার,
মেনে নিই সব।
চিন্তারা মেনে গেছে পোষ, মুখটাকে করেছি মুখোশ,
'যা হচ্ছে ভালোই হচ্ছে' ,
বশংবদ এই ধারণায় করেছি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ,
অন্যের চিতা দেখে হয় না দহন।
বরঞ্চ সে আগুনে নিশ্চিন্তে ধরাই সিগারেট,
সশব্দে সগর্বে ফেসবুকে লিখি ,
কতটা আকাশ ছুঁলো দেশের রকেট।
আজকাল, বেশ হিলহিলে হয়ে গেছি।
শিরদাঁড়া সমান্তরাল করে ভূমিতে রেখেছি,
বিবিধ সমস্যা থেকে এঁকেবেঁকে দূরে চলে যেতে পারি অনায়াসগতি,
যাবতীয় ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে পলায়ন সহজতম সর্পিলরূপে।
যদিও তুলনাটানা ওখানেই শেষ যাবতীয়,
ফোঁসকরনীয় কোনো কাজ আমার নামের পাশে নেই একটিও।
বরঞ্চ ক্রমশ দৃশ্যমান মেরুদণ্ডহীনতায়,
নিজেকেই কেঁচো বলে ভুল হয়ে যায়।
আজকাল ঘাড় নাড়ি প্রতিবর্ত ক্রিয়াতে।
বেশী কিছু ঢোকাইনা ফাঁকা মাথাতে।
ঘোলাজলে মাছ ধরে লোক চারপাশে,
টুপটাপ ফাৎনারা ডোবে আর ভাসে,
আমি খালি ভয়ে মরি ভুল করে বড়শি না বিঁধে যায় আমার গলায়,
কে জানে কোন শলা পড়শি করেছে বসে তলায় তলায়।
তাই যে যাই বলে,
মুখেতে কুলুপ এঁটে ঘাড় নেড়ে যাই,
অনুশাসনের যুগে কথারা বালাই।
আজকাল, বেঁচে আছি এটাই খবর।
বহু নামাবলি পরা প্রগতি লহর,
আমার ঘরের দ্বারে আসেনি এখনো,
এখানে বিপদে ফেলে মাংসের ঘ্রাণও।
বিপদ আসতে পারে রাজনীতি রঙে,
শালীনতাচশমায় পোশাকের ঢঙে,
এমনকি দেশপ্রেমও সিলেবাস অনুযায়ী না হলে বিপদ,
এসময় গলা তুলে কথা বলি,
অন্তত আমি নই এত নির্বোধ।
আজকাল বুঝে গেছি আমি কত বোকা,
নিজেকেই নানাভাবে দিয়ে যাই ধোঁকা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্বাধীনতা। বাতাসের মতো অদৃশ্য, অক্সিজেনের মতো দরকারি।
স্বাধীনতা। নিজের বাড়িতে নিজের রোজগারে ভরপেট ভাত রুটি তরকারি।
স্বাধীনতা। বন্দেমাতরম না বলে জয় হিন্দ বললে যার তফাত হয়না।
স্বাধীনতা। শুধু গেরুয়া নয়, সাদা আর সবুজও যে পতাকার গয়না।
স্বাধীনতা। এল ও সি'র ওপারের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া সৈনিকের শেষ নিঃশ্বাস।
স্বাধীনতা। পালটাবে একদিন , সোনার স্বপ্ন দেখা কিছু মনে আজও বেঁচে থাকা বিশ্বাস।
স্বাধীনতা। জন গণ মন শুনে বাড়িতে সোফার থেকে সটান দাঁড়ানো।
স্বাধীনতা। কোহলি ,বিজেন্দর, মেরি কম ,দীপাতে আবেগের উচ্ছাসে তেরঙ্গা ওড়ানো।
নাগরিক কি খাবে শাসকের বেঁধে দেওয়া মাংস আইনে। স্বাধীনতা নয়।
বাড়িতে আনাজ নেই, পাঁচশো হাজার নিয়ে আবালবৃদ্ধ সব দাঁড়ানো লাইনে। স্বাধীনতা নয়।
প্রশাসনী বেনজরে কোথাও পুজোতে বাধা , কোথাও নমাজে।
স্বাধীনতা নয়।
সত্তর সাল গেলো, তবু জাতপাত লেগে সমাজের ভাঁজে।
স্বাধীনতা নয়।
ফেসবুকে ওগড়ানো আনাপসানাপ যত বিদ্বেষবমি। স্বাধীনতা নয়।
ফিসফিস গুজবের বিষ কানে ঢেলে দিয়ে যত্নে তৈরী করা দাঙ্গার জমি। স্বাধীনতা নয়।
ঋণদুখী কৃষকের জীবন ফুরিয়ে যাওয়া আজও ফলিডলে।
স্বাধীনতা নয়।
ধর্ষিতা রমণীর চরিতমানস ঘাঁটা জেরা করা ছলে। স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতা। কিছুটা এসেছো পথ , আরো যে হাঁটতে হবে, জানো নিশ্চয়।
সকালে পতাকা তুলে বিকেলে মাতাল হওয়া দস্তুর হতে পারে। স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতা কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই তো কেমন পেয়েই গেলেন
সত্যি কথা বলার ফল
সবার মুখে কুলুপ আঁটা
বলেন শুধু অরুণাচল
সবাই জানে হচ্ছে যেটা সত্যি
কিন্তু বলতে নেই
প্রদীপগুলোর তেলের অভাব
জ্বলার মত পলতে নেই
যুগটা এখন অন্ধ সাজার
জিভের লালায় বশ্যতা
এমন সময় ও বেয়াদপ
এত সাহস পাস কোথায়?
উপচে পড়ুক জ্বরের রোগী
তাই বলে লিখবে ছাই?
আপ্তবাক্য পড়েননি কি?
সদংবদ লিখতে নাই
অরুণাচল কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। ডেঙ্গু কে ডেঙ্গু বলার পর ডাঃ অরুণাচল দত্ত চৌধুরীর
বিরুদ্ধে প্রশাসনের দেওয়া শাস্তি, অপমান ও লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ডাঃ কৌশিক লাহিড়ীর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিও
সৌজন্যে Doctors' Dialogue YouTube Channel. শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নীরব বিজয় মেহুল সবাই
যে যার মতো পগারপার,
তোমার আমার জমায় জমে,
চক্রবৃদ্ধি অন্ধকার।
ব্যাঙ্কে রোজই সুদ কমে যায়
এফ ডি রিটার্ন ছুচ্ছে ভুঁই,
বাজার গেলেই লাগছে ছ্যাঁকা
হাতের নাগাল নেই কিছুই।
মিউচুয়ালে রাখতে জমা
বিজ্ঞাপণে খুব বলে,
সাবজেক্ট টু মার্কেট রিস্ক
মানে টাকা ডুবজলে।
শেয়ারবাজার ডগমগে বেশ
সেনসেক্স তো মগডালে
আমরা জাহাজ খবর দেখি
আদা বেচার ফাঁকতালে।
রোজগারে রোজ লাগছে রাহু
তুঙ্গে ওঠে বাজারদর,
ফি বাজেটে লাগছে দেখি
করের ওপর আবার কর।
ক্যাশলেস কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাজেই এখন জমায় ঢুঁঢুঁ,
ব্যাঙ্কে টাকা শূন্যতে,
পাচ্ছি খেতে দুইবেলা কোন
বাপ পিতেমো’র পূণ্যতে।
ভর্তুকি তো কবেই গেছে
নেই কো সুযোগ করছাড়ের,
সামলাবো যে কি করে আর
লাগামছাড়া খরচাদের!
দেখতে হবে সুদিন কেমন
আগামীতে আসলে সে,
মানিব্যাগটি পাল্টেছে আজ
সত্যিকারের ক্যাশলেসে।
এই রাজ্যে জ্বর জ্বালা তো
বলতে পারো গুপ্ত রোগ
চোরের মত চুপি চুপি
সইতে হবে সে দুর্ভোগ
সাহস কে যাই বলিহারি
রাজার ঘরে রাজার গায়
আপোস নামক পাপোষ ছিঁড়ে
কলম তবু বলছে যাই?
শব্দেরা গায়ে ফুলকি হয়ে
আগুন ছড়ায় সব বুকে
রাজার চড়ে আঁটবে কুলুপ
খুঁজে খুঁজে কয় মুখে
উঠছে বাতাস বইছে বাতাস
নড়বে এবার ধর্মকল
ভালো করে দেখুন রাজা
তৈরী হাজার অরুণাচল।
গর্দানটি আস্ত আছে
এটাই জেনো পূণ্য ফল
সত্যিকথার দাম দিতে হয়
জানেন সেটা অরুণাচল
ভাবছি বসে সমস্যাটা
এতেই কি আর মিটবে সব?
অতই সহজ করা কলম
যুবুথুবু জরদ্গব?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গান্ধারী :
তোর তো তবু পাঁচই আছে, একশো আমার শেষ
হিংসা দিলো শ্মশান করে একটা গোটা দেশ।
যেদিক তাকাই চোখে পড়ে চেনা চিতার খাক,
কৃষ্ণ শুধু বাজান বসে ধর্মজয়ের ঢাক।
তোর তো এখন পাঁচই আছে, রাজার মা তুই আজ,
তবে কেন তুলিস গায়ে বাণপ্রস্থের সাজ?
কুন্তী :
যুদ্ধ আনে ধ্বংস ভয়াল , কে না জানে দিদি
মানুষ কেন লড়াই করে, কারণ জানেন বিধি।
এ যুদ্ধে সব যোদ্ধা ছিলেন এই বিষয়ে জ্ঞাত,
তবুও কই, লড়াইটা কেউ থামিয়ে দিলোনা তো!
বেঁচে আছে পাঁচটি ছেলে, নাতিরা যমঘরে,
সিংহাসন কি স্বজনহারার দুঃখকে কম করে?
গান্ধারী :
তাই বলে তুই ছাড়বি প্রাসাদ, এমন ভাবিস কেন,
জীবন জুড়ে কষ্ট তোকে আঁকড়ে আছে যেন।
স্বামীর সোহাগ বঞ্চিত তুই মুনির অভিশাপে,
বাকি জীবন ঝলসে গেলি বিবাদী উত্তাপে
পুত্র যুধিষ্ঠিরের মাথায় এখন মুকুট রাজার,
সুখের থেকে পালিয়ে বেড়াস তবে কেন আজ আর?
গান্ধারী কুন্তী সংবাদ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কুন্তী :
কক্ষগুলোয় কান্না কেবল, অলিন্দ্য আজ ফাঁকা
গবাক্ষে নেই রঙের ছোঁয়া, শোকের সাদায় ঢাকা।
জীবিতরাও মৃত’র মতন ঘুরছে আশেপাশে,
যেখানে যাই, কান্নারা ঠিক পিছু পিছু আসে।
এতটা শোক বইতে দিদি আর যে পারি না,
মর্মে বেঁধে , বললে শুধু পাঁচটা ছেলের মা।
গান্ধারী :
কর্ণ ছিলো জ্যেষ্ঠ যে তোর, বলিসনি তা আগে,
সবটা খুলে বলতি যদি, যুদ্ধ কি আর লাগে?
যুধিষ্ঠির তো সরেই যেতো, ধর্মতে তার মন,
মেনে নিতো রাজা তাকে আমার দুর্যোধন।
এ রক্তপাত, ধ্বংস এবং স্বজনক্ষয়ের মূল,
তোরই জিভের আড়ষ্টতা, লজ্জা করার ভুল।
কুন্তী :
মানছি আমি ভুল করেছি , জিভ বেঁধেছে লাজে,
শুধু তাকেই করলে দায়ী, ঠিক তা হবে না যে।
অন্ধরাজার পত্নী তুমি, একশো ছেলের দায়,
দিদি,তোমার চোখ বাঁধবার বিলাস শোভা পায়?
দৃষ্টি হলে দেখতে পেতে যায় বিপথে দুর্যোধন,
মায়ের শাসন অনেক আগে করতো তাকে সংশোধন।
গান্ধারী :
ঠিক বলেছিস হয়তো ছোটো, আমরা দুজন দায়ী,
অতীত ভুলের মাসুল নিলো যুদ্ধ রক্তপায়ী।
মা’রা যদি করেন তাদের দায়-কে অস্বীকার,
যুগে যুগে নামবে দেশে এমন হাহাকার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অন্ধকারের বিষাদ মেখে রংহীনতায় সমর্পণে,
দুনিয়া থেকে বন্ধ দুচোখ, দেখছে আঁধার মনে মনে
চোখের পাতা থাকলে বোজা, কালো দেখায় দশটা দিকই
বন্ধ চোখে অন্ধ হয়ে, হাতড়ে খোঁজে ভাগ্যলিপি।
আঁধারভিতু মানুষ কিছু, চোখ চাওয়াতেও ভয়
আলো খোঁজার সাহসই নেই, বিপন্ন আশ্রয়।
হোঁচট খেয়ে ক্রমশ যায় আলোর থেকে দূরে
আবছা হয়ে যায় মিলিয়ে আঁধার সমুদ্দুরে।
প্রদীপশিখা খোঁজে কি আর কোথায় কত অন্ধকার,
খটখটাবে কে আর বলো ভেতর থেকে বন্ধ দ্বার?
কেউ ডাকে না বাইরে এসো, এখনো হয় রোজ সকাল
একলা থাকা ছিন্ন মনে বিষাদমাকড় ছড়ায় জাল।
জীবন তখন জমাট আঁধার, আকাশ তখন সূর্যহীন
সহজ সরল দিনযাপনও বিষাদ লেপে খুব মলিন
আঁধার পথিক যুক্তি দেখে জীবন টানার ব্যর্থতায়
শেষের পথে পা বাড়িয়ে আলোবিহীন মুক্তি চায়
তোমরা, যারা আলোর মাঝে করছো সুখে দিনযাপন
হয়তো এমন আঁধার রোগে ভুগছে তোমার কেউ আপন
মশাল না হোক, মোমবাতিতেই তাদের আলোর পথ দেখাও
আলোর দিকে মুখ ফিরিয়ে আঁধারশেষের ভরসা দাও।
বিষাদ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। (এরই দেশে ডিপ্রেশনের রোগী পৃথিবীতে সর্বাধিক)। মধুমিতা দের কণ্ঠে আবৃত্তি
শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে ITS MADHUMITA YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বুড়ো আঙুলটা সামলিয়ে রেখো, একালের কথা শোনো,
অঙ্গুষ্ঠটি তাঁর হাতে যাবে, সেটা চাইবেন দ্রোণ।
হয়তো তোমাকে বলবেন উনি, ওনাকেই মানো গুরু,
তবু যদি সেটা মুখে বলে দাও, সেটাই শেষের শুরু।
আসলে কি জানো, প্রতিভা যখন নিজে খুঁড়ে নেয় পথ
দ্রোণ'রা দেখেন এগোতে দিলেই আঁধার ভবিষ্যৎ।
ওনার কোচিংয়ে যারা সেরা হয়, তারা তো বিজ্ঞাপিত,
গুরুহীন কেউ অতটা এগোলে কে আর শিক্ষা নিতো!
আজকাল কেউ একাকী শেখে না, যুগ বড় অগ্রণী,
সফল হলেই কোচিংয়ের নাম, অথবা কি প্রকাশনী
তুমি তো নিজেই পড়ে সেরা হও, সরল গ্রাম্য ছেলে,
দ্রোণের কোচিং লাটে উঠে যাবে খবর বাইরে এলে।
সেরার খবরে দৌড়িয়ে আসে তাবত ছাত্রশালা,
“বলে দাও তুমি আমাদেরই লোক” অনুরোধে ঝালাপালা।
যদিও তোমার স্বাভাবিক মেধা, নিজেই চুড়োয় ওঠো,
শোভা পাবে ঠিক কোচিংয়ের অ্যাডে ছাত্র হিসেবে ফটো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অমুক কোচিংয়ে ভাক্তার হয়, তমুকে ইঞ্জিনিয়ার,
দ্রোণ খুলেছেন নানাবিধ নামে শিক্ষাবিপণী তাঁর।
অঙ্গুষ্ঠটি তাঁর কাছে দিলে, সে খবরে বাজে ঢাক,
তোমার ছবিতে পরের ব্যাচের কোর্স ফি’স বেড়ে যাক।
হয়াতো তোমাকে উৎসাহ দেন শিক্ষক গ্রামস্কুলে
বিজ্ঞাপণের চটক আড়ালে সে নামটি গেছো ভুলে
শিক্ষা এখন আলু পটলের মতন পণ্য দ্রব্য,
তোমার মগজ ওরা কিনে নেয়, বুঝেছো কি একলব্য?
আঙুল কেটো না, লেখা শুরু হোক তোমার নতুন কাব্য।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নতজানু হয়ে বসবো বলে একজন ঈশ্বর খুঁজছি।
যিনি সোনাদানা বা প্রাণীর রক্তের উৎকোচ ঘেন্না করেন,
যাঁর প্রার্থনার কোনো তিথি , ক্ষণ, প্রকার বা দিক নেই।
বস্তুত প্রার্থনা শুনলেই যিনি ঈষৎ পাগলাটে গলায় বিরক্তিতে বলে ওঠেন,
‘মাথার ওপরে আকাশ দিয়েছি, পায়ের নিচে মাটি দিয়েছি,
বুক ভরে টানার জন্য বাতাস দিয়েছি, নদী দিয়েছি, পাহাড় সমুদ্র অরণ্য দিয়েছি,
আর দিয়েছি তোকে স্বাধীন কল্পনা, স্বপ্ন এবং ইচ্ছে।
আর কি চাই রে তোর হতভাগা?’
অথচ যেখানেই যাই, ঈশ্বর সেনানায়কের মতো ব্যুহ সাজিয়ে নিয়মের যুদ্ধে ব্যস্ত।
অমুক দিনে অমুক সময়ে জমায়েত হয়ে ডাকতে হবে,
তমুক বইয়ের শব্দগুলো তোতাপাখির মতো আওড়াতে হবে,
একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই কর্নেল ক্যাপ্টেনরা রে রে করে তেড়ে আসবেন!
যিনি নিজেই নিয়মের নাগপাশে বাঁধা,
তেমন প্রতিবন্ধী ইষ্টদেবতা আমায় মুক্তির স্বাদ দেবেন কেমন করে?
আমি এক সীমাহীন ঈশ্বরকে খুঁজছি, যিনি মানুষের নিয়মের হাতে বন্দী নন,
যিনি বনসৃজনকে উপাসনা বলেন,
হঠাৎ মনে গুনগুনানো গানের কলিকে মন্ত্র বলে স্বীকার করেন,
এবং নিজের প্রতি সৎ থাকা সকলকেই পৌরোহিত্যের অধিকার দিয়েছেন।
যাঁর কোনো দেবালয় নেই অথচ অযুত উপসনাস্থল আছে,
যাঁর কোনো উপঢৌকন নেই,
কিন্তু নিত্য অকুন্ঠ ভালোবাসার অঞ্জলি আছে অজস্র ভালো কাজে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেই ঈশ্বরের সন্ধানে আছি, যিনি প্রেমের অপরাধে শাস্তি দেননা,
কিন্তু নারীর অসম্মানে যাঁর তৃতীয় নয়ন জ্বলে ওঠে।
যিনি ব্যাংকব্যালেন্স এবং রাজনৈতিক পতাকার ক্ষমতাকে
তাঁর চেয়েও বেশি শক্তিমান মনে করেননা,
যিনি শ্রান্ত মনের আশ্রয়, কারো বিচারক বা সংশোধনাগার নন।
সারা দুনিয়া চষে ফেলেও তাঁকে আমি খুঁজে পাচ্ছি না,
তবে কি মানুষ তাঁকে পৃথিবীর বাইরে কোথাও নির্বাসন দিলো?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমার মতো হতে চেয়ে
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো
সময় আমায় ঝামটে বলে
ওই, কিছু তোর কাজ এগোলো?
খুব হতে চাস বাবার মতন
ভক্তিমে যে এত ঝাড়িস
একখানা তোর কাজ দেখা তো
বাবার মতোই যেটা পারিস
তোমার মতন হইনি বাবা
আমার মতন কেই বা জানে
ফাঁকা সময় নেটফ্লিক্সে
মন ছোটে না বইয়ের টানে
তোমার মতো করবো বলেই
বই কিনেছি বোঝাই করে
মনকে বোঝাই ব্যাস্ত এখন
পড়বো ওসব অবসরে
ছেয়াশী ছুঁই পূর্ণ মানুষ
বইয়ের পাতায় আজো ডোবো
আমি তখন পাতার লোকে
শেষ এপিসড দেখেই শোবো
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দিনের শেষে ফিরে দেখি
তোমার দিশাই সঠিক ছিলো
ভুলের শেষে ফিরলে কুলে
ভুল বুঝিয়ে আবার বলো
তোমার মতো হতে চেয়ে
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো
তোমার মতো হতে চেয়ে
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো
আয়না আজও ভেংচে বলে
একটুও কি কাজ এগোলো?
টিভির থেকে দূরে থেকো
যাপটে নেবে নেশার মতো
স্মৃতি ছেঁকে ধমকটাকে
কিশোর বেলার শাসন কতো
বেতন থেকে জমাও আগে
বিপদ এলে দেখবে সেটাই
আজো বল, আমিও শুনে
আলতো করে ঘাড় নেড়ে যাই
তারপরে যেই অ্যামাজনে
ছাড় দিয়ে দেয় ব্যাপক হারে
প্রয়োজনের ছদ্মবেশে
সব কিনে নিই কার্ডে, ধারে
গুছিয়ে রাখা ডায়েরি পাতায়
কোন মাসে ঠিক কার প্রিনিয়াম
আজও আমার হয়নি শেখা
থাক না যতই ফোনের অ্যালার্ম
কর্য থাকা খারাপ স্বভাব
সাইলক-ই হয় ব্যাঙ্করা সবাই
শুনেও বাবা মানছি কোথায়
প্রতি মাসেই দিই ইএমআই
এখনও রোজ দিক খুঁজে দাও
লাগবে কোথায় কম ঝাঁকুনি
তবুও চলায় ভুল হয়ে যায়
উলটো শেখান নানান মুনি
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাঝরাতে কেন শুরু বোঝোনি এখনো?
ভোর হয়ে গেছে কেউ না ভাবে যেন,
কালিমা রয়েছে ছেয়ে তখনো যে গাঢ়,
আলো হতে আছে দেরি বহুকাল আরো,
পনেরো আগস্ট হওয়া মাঝরাত্তিরে,
স্বাধীন তেরঙা এক মাথা তোলে ধীরে,
বুক চিরে কাঁটাতার চলে গেছে তার,
ব্রিটিশ গিয়েছে ছেড়ে নিকষ আঁধার।
তাহলে কি এতদিনে হয়ে গেছে ভোর?
আরে ধুর, রাত এখন আড়াই প্রহর,
মশালের আলো দেখে বুঝতে পারো না?
স্বাধীন ভাবতে পারে দুই চার জনা,
বাকি সব নেতাদের প্রভু বলে ভাবে,
ভক্তিবহর দেখে ব্রিটিশ পিছাবে,
ধনী আজও আইনকে রেখেছে পকেটে,
গরীবের চলে দিন চক্কর কেটে,
জাতপাত আজও দেশে কাটছে মানুষ,
ধিকিধিকি পুড়ে চলে ধর্মের তুষ,
স্বাধীনতা নেই আজও ভালোবাসবার,
মাঝরাত নয় বটে, তবুও আঁধার।
মাঝরাত থেকে শুরু স্বাধীনতা তাই
এখনো অনেক বাকি আসা রোশনাই।
কেন মাঝরাতে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭) । রচনা ১৪ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।
স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত মানে আমরা কেউ আত্মস্থ করিনি।
চাঁদের আলোকে যদি ভোর বলে ভাবো,
নিশাচর প্রাণীদের তাতে বেশ লাভও,
আঁধারে ভয়াল লাগে শেয়ালের দল,
দাবিয়ে রাখতে শুধু ভয় সম্বল,
একটু একটু করে ফুরাবেই রাত,
একদিন পাবো ঠিক নতুন প্রভাত।
সে সকালে সকলেই স্রেফ ভারতীয়,
যেমন গজব আলি, তেমন আমিও ।
সেখানে দলিত নেই, নেই উঁচু জাত,
ভালোবাসা হলে কেউ বলে না জেহাদ,
সেইখানে নেই কোনো শ্রেণী সংগ্রাম,
দাম পায় ঠিক ঠিক সকলের ঘাম,
খোয়ারি নয় এ জেনো কোনো নেশা করে,
একদিন এইদেশ পৌঁছাবে ভোরে,
কে জানে তুমি আমি যাবো কি তা দেখে,
স্বপ্ন জ্বালাই মনে যেন প্রত্যেকে।
শুরু যার সেই কবে মাঝরাত থেকে..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মায়ের শ্বাসকষ্টটা আবার বেড়েছে
অসীম কি করবে ভেবে পাচ্ছে না আর
লকডাউনের জন্য রিক্সা টানা বন্ধ
বৌ বাসন্তীর কাজে যাওয়াও
বাসন্তীর চাকরিদাতারা ভদ্রলোক
এমাসের টাকা দিয়েছিলেন সব্বাই
সেটা দিয়েই পেট চলছে
তবে সেটা এখন তলানীতে
এখন এই সময়ই
এই সময় মায়ের অষুধই বা আনে কি করে
মাকে দেখে অসীম বুঝতে পারে
ক্রমেই ঝিমিয়ে পড়ছে বুড়ি
চিকিৎসা না পেলে এযাত্রায় ফিরবে বলে মনে হয় না
উপায় না দেখে বৌকে বলে
রিক্সায় তোলো মাকে
হাসপাতালে যেতে হবে
ধুকতে থাকা মা আর বকতে থাকা বৌকে পিছনে নিয়ে
অসীম যখন সরকারী হাসপাতালের আউটডোরে পৌঁছয়
তখন সকাল দশটা
এই লকডাউনে হাসপাতালে ভিড় কম নয়
অসীম কোনোক্রমে একটা ট্রলি দখল করে
মাকে নিয়ে ঠেলে ঢোকে এমারজেনসিতে
শ্রাসকষ্ট শুনেই পিপিই পড়া এক জুনিয়ার ডাক্তার
ছুটে আসে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জিজ্ঞেস করেন জ্বর আছে?
একটু ইতস্তত করে অসীম
তারপর বলে
তিনদিন আগে ছিলো, তার পরে কাশি আর শ্বাস কষ্ট
ঝড়তে থাকায় বাসক দি
মায়ের তো কখনও জ্বর হয়নি
এ সব অসীম কি বলছে?
ঝট্ করে সিনিয়ারকে ডেকে আনেন জুনিয়ার
আলোচনা হয় দুজনের
স্টোথোস্কোপ একটা গ্লভসের মধ্যে ঢুকিয়ে
বুক পরীক্ষা করা হয়
তারপর দুজন অসীমকে বলেন
করোনা জ্বর হতে পারে
আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে
আর আপনারা দুজন, আপনারা দুজন কোথাও যাবেন না
বাইরে গাড়ী আছে
দু সপ্তাহ আলাদা থাকতে হবে
ফোন নম্বর দিয়ে দিচ্ছি
ওখান থেকে খবর নেবেন
মা ভর্তি হয়ে যায়
আগে যখনই ভর্তি হয়েছে
এক বেডে দুজন গাদাগাদি
একবার তো ট্রলিতে
এবার মায়ের জন্য গোটা একটা বেড
নার্স দিদিও অনেক বেশী
এক ঝলকই দেখে অসীম
ওদের ঢুকতে দেওয়া হয়না
এবারে ওদের যেতে হবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে
গাড়ীতে ওঠার সময় অসীম ফিস্ ফিস্ করে বলে বাসন্তীকে
দুটো সপ্তাহ পেটপুরে খেতে পাবো
মাতাও ভালো হয়ে যাবে, মাতাও ভালো হয়ে যাবে
বুঝলে
মা তো ভালো হয়ে যাবে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধর্মের হাতে বন্দুক দিলে ধার্মিকতার চরম বিকারে,
ভাগ হয়ে যায় মানুষ তখন কেবল শিকারী এবং শিকারে।
সাত খুন মাফ আর খুন ঘটা লাশময় কোনো ঘরের ভেতর
তফাৎ কেবল কার পরিবার কিভাবে ডেকেছে কোন ঈশ্বর।
নরমেধ হতে ইজমই জরুরি, ভগবান স্রেফ চেনা অজুহাত,
আমার প্রিজমে তুমি কালো হলে তোমার ওপরে নামবে আঘাত।
ঈশ্বরহীন চীন ও রাশিয়া দায়েশের থেকে আগে হত্যাতে
ধর্ম ভাষা বা জাতির দোহাই বারবার ঘটে একই ঘটনাতে।
ধ্বংস করাটা ভীষণ সহজ, শতাব্দী ভাঙে কয়েক প্রহরে,
পরিচয় মোছে মানুষের দল বেদখল হওয়া গ্রাম ও শহরে।
ফুজিয়ান লাসা কাবুলে কী ছিলো, অথবা অতীতে বাংলার বুকে,
দয়াহীন পথ সব ঢেকে দিয়ে ধুলোতে নামায় উদ্বাস্তুকে।
প্রতি প্রজন্মে লাশের পাহাড় অলঙ্ঘ্য হয় ঠিক কোনো দেশে,
বিজয়ী অস্ত্র ইতিহাস লেখে হত্যাকে ঢেকে ভারী অক্লেশে।
বাকি পৃথিবীর দিন কেটে যায় কোত্থাও কিছু হয়নি’র ভানে,
কাঁটাতার আছে প্রহরায় খাড়া, ঝামেলা ঢোকে না তাদের ওখানে।
তারের এপাশে আসবে না কেউ, দেশধর্ষক তালিবান জানে।
কাঁটাতার কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৭ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।
আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার পলায়ন ও তালিবানীদের ফিরে আসার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগামীতে খুব শিগগিরই একদিন,
সভ্যতার কপালে থার্মোমিটার বসিয়ে ডাক্তার ঘোষণা করলেন,
জ্বর নেই। ফুসফুস স্বাভাবিক, নাড়ির গতি দেখে মনে হচ্ছে
এ যাত্রা রক্ষা পেলে’
সভ্যতা তড়িঘড়ি উঠে বসে জিজ্ঞেস করলো,
তবে কি খেলতে যেতে পারি?
ছিটকিনি খুলে ছুট্টে বাইরে গিয়ে গায়ে মেখে নিতে পারি সকালের রোদ,
তবে কি ঘাসের গায়ে চুপচাপ শুয়ে
আকাশের দিকে চেয়ে নিতে পারি সময়ের ঘ্রাণ,
সত্যি কি সেরে গেছি আমি?’
ডাক্তার হাসলেন।
তারপরে ইঙ্গিতে দেখালেন ঘরের কোণায় থাকা খেলার সরঞ্জামগুলো।
কিঞ্চিৎ ধুলো পড়ে আছে বটে,
তবু স্মৃতি এতটাও পুরনো হয়নি যে চেনা যাবেনা।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,
মিনিটে হাজার গুলি করা বন্দুক,
কার্পেট বম্বিংয়ে তৈরী বিমান,
নিপুণ লক্ষ্যভেদী আততায়ী ড্রোন,
এক কোণে ডাঁই করে রাখা একশো পৃথিবীঘাতী পরমাণু বোমা।
আজ বাদে কাল, বড়জোর পরশু,
রোদ্দুর মেঘ ঘাস ভুলে যাবে ফের,
যেমন ভুলেছে মাঠ সোফাসেটে গেমস খেলা কৈশোরকাল।
তুমি বড় ভুলে যাও,
এক শুধু অসুখেই মনে পড়ে বহুকাল আগে পাওয়া বিবর্ণ সুখ।
আগামী কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। বিপ্লব ঘোষের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে Abritti Biplab YouTube Channel. আমরা তাঁদের কাছে আরও কৃতজ্ঞ কারণ আমরা এই
কবিতার কথাও সেখান থেকেই পেয়েছি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাইরে গেলেই ফের পৃথিবীকে
ভুলে গিয়ে যুদ্ধের দিকে যাবে ভাবনার মুখ।’
সেরে ওঠা সভ্যতা ধড়মড় করে উঠে বসে বললো,
কক্ষনো না, ডাক্তারবাবু!
এইবারে দেখবেন, ওইসব পাগলামি ছেড়ে
বৃষ্টিতে ভিজে গান গাইবো,
শরতের আকাশে সাদা মেঘে রবীন্দ্রনাথ বানাবো,
হেমন্তে ঝরা পাতাদের জন্য মন খারাপ করবো,
বসন্ত এলে সন্তানকে পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া চেনাবো।
আপনি অশোকফুল চেনেন ডাক্তার?’
স্টেথোস্কোপটা ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে ডাক্তার বললেন,
চিনতাম।
কোনো এক দামাল কৈশোরে মাঠে
বল পেটাপেটি করে ফিরবার পথে,
কত গাছের সাথে কথা বলেছি।
পাতা দেখে বলতে পারতাম বকুল জারুল,
ফুল না হতেই তফাত করতে পারতাম
কাঁঠালি চাঁপা আর সোনা চাঁপার।
তারপর, রোগী আর রোগ সারানো,
তালি আর গালি’র জীবন।
হয়তো চিনবো, কি জানি! সাবধানে থেকো।’
যেতে যেতে থমকিয়ে ডাক্তার ঘুরলেন।
কাছেই হুক থেকে ঝুলছে পৈতে, রুদ্রাক্ষ,
তসবি, ক্রস আরও কত কি,
এতদিন খোলা ছিলো যারা দেহ থেকে।
সেদিকে দেখিয়ে ডাক্তার বললেন,
এই সব মালাগুলো ওই সব খেলনাদের মতোই
পুনরায় নিয়ে যাবে অসুখের পথে।
জানি শুনবে না, তবু সাবধান।’
ডাক্তার চলে গেলে সভ্যতা উঠে গিয়ে জানলা খুলে দেয়।
বাইরে অজানা পাখি শিষ দিয়ে খেলে যায় সবুজ পাতাতে।
জ্বর নেই।
সভ্যতা পরে নেয় রুদ্রাক্ষ, তসবি ক্রস, আরও যা যা আছে।
তারপর, বাইরে বেরিয়ে আসে বন্দুক হাতে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গন্ধ পাচ্ছো? পাচ্ছো না?
তোমার তেমন নাক তো না,
জানি কিছুই নেই ঘ্রাণে, তাই তো শোকে কাঁদছো না।
দুদিন আগের জ্যান্ত লোকে,
লাশ হয়ে যেই জ্বলতে ঢোকে,
মাংসপোড়ার গন্ধ ভাসে,
রুমাল নাকে আপনি আসে, তোমার ছবি চওড়া হাসে
দিব্যি যাবে দাঁত গোনা,
তার মানে ওই জ্বরের চিতার কুবাস কিছুই পাচ্ছোনা।
গন্ধ আছে? গন্ধ নেই,
বিবেক নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই,
গন্ধরোধক পাঁচিল তোলা, কোথাও কোনো রন্ধ্র নেই।
ছুটছে মানুষ শ্বাসের খোঁজে,
রোজের শিকার জ্বরের ভোজে,
গল্প এখন দেশের রোজ এ, সমাপ্তি যার ক্রন্দনেই,
চব্বিশ সাত চুল্লী জ্বলে,
একটা মিনিট বন্ধ নেই,
তামাম দেশে মৃত’র ধোঁয়া, তোমার নাকে গন্ধ নেই।
গন্ধহীন কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। কবির স্বনির্বাচিত। কোভিডের
অসংখ্য চিতা দেখেও রাজামশাই নির্বিকার।
গন্ধ আছে? গন্ধ কই?
অনেক উঁচু তোমার মই,
নিচের স্তবে তুষ্ট হলে, দাও ছড়িয়ে কথার খই ,
নিচের মানুষ কাঁপলে ভয়ে,
তোমার কি দায় সেই প্রলয়ে,
রক্ষা করার অনুনয়ে
দাওনা কিছুই হাস্য বই,
আমরা তবু মঞ্চ জুড়ে তোমায় দেখে অন্ধ হই,
যতই চিতার সংখ্যা বাড়ুক,
বলবে তুমি গন্ধ কই!
গন্ধ পাচ্ছো? পাচ্ছো না..
শুনছো না তাই আর্তনাদ,
গন্ধ পেলে হয়তো কোভিড এমনভাবে বাড়তো না।
দুদিন আগেও জ্যান্ত যারা,
বেড না পেয়ে মরলো তারা,
প্রশ্ন করে আজ চিতারা, কেন এমন লাঞ্ছনা?
দ্রোহের মশাল জ্বলছে ধিকি, গন্ধ কিন্তু পাচ্ছো না..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বেশ কেটেছে আজকে তোমার ঋণ চোকাও
বাইরে বিপদ সব নাগরিক ভেতর যাও
বাঘ বেরোলে নিশুতি রাতে যেমন মানা
এ কটা দিন তেমন ভেবেই বেরিও না
রাস্তা থেকে সব জমায়েত দূর হটাও
দেশকে যদি ভালোবাসো ভেতর যাও
তত্ত্বকথার বকম বকম অনেক হলো
দোহাই ভাই বাস্তবিকে চোখটা খোলো
ভাবছো যদি থাকলে ঘরে চলবে কি আর
মরলে তুমি বিশ্ব থেকে চলবে যে আর
ঘরের বাকি লোকদের কি সেই দশা চাও
আগে বাঁচো তারপরে কাজ, ভেতর যাও
শাহীনবাগের এবার ওঠার সময় হলো
মারী থামুক, ফের আওয়াজ তোলো
করোনা ঠিক বুঝতে চায় না NRC কি
তার কাছে এক সব রকমের দাঁড়ি টিকি
খুব বোকামো বাইরে বসে বিরোধিতাও
লড়াই টড়াই পরে হবে ভেতর যাও
ধার্মিকেরা হপ্তা দুয়েক একলা থাকুন
বন্ধ ঘরে একলা নিজের ইষ্ট ডাকুন
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধর্মস্থলে ঝুলুক কদিন মস্ত তালা
ঘরে থাকুন পড়ুন ফুলের ঝুটো মালা
নিজে কেন নিজের বাকি আয়ু কাটাও
আর কবছর থাকতে নীচে ভিতর যাও
বাইরে ঘোরে মহামারী ওষুধবিহীন
দোহাই তোমার ঘরে থাকো একটা দিন
লাশের পরে লাশ হয়েছে কত দেশে
কেউ জানে না সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায় শেষে
যেচে কেন এই দেশে সে শঙ্কা বাড়াও
চাইছে ভারত সব নাগরিক ভেতর যাও
আজকে সবাই দেশপ্রেমের প্রমাণ দাও
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তেত্রিশটা ঘুমের বড়ি জোগাড় করেছিলো মেয়েটা।
গুনে গুনে , আঁধারের দিকে ঠেলা প্রতি ধাক্কার কথা মনে
করে রেখে।
পাঁচখানা সেই মেসোর জন্য,
যার ছোঁকছোঁকে আঙুল সাত বছরে বুঝিয়েছিলো
গুরুজনদের দেখেও গা ঘিনঘিন করতে পারে।
মা’র কাছে বলে এক সপাটে চড় জোটা মনে আছে তার,
স্মৃতি আরও ভারাতুর ঠিক তার পরপর আঁচল আড়াল
দেওয়া চাপাকান্নায়।
সাতটা ট্যাবলেট সেই ছেলেটার জন্য,
স্কুল থেকে বেরিয়ে যার চোখে চোখ রাখলেই,
অটোর চিৎকার, বাসের হর্ন ,গিজগিজে ভিড়ের ব্যস্ততা
পেরিয়ে শহর হয়ে যেতো কুলুকুলু প্রবাহিনী শান্ত নির্জন
যমুনার তীর, সদ্য সিগারেট খাওয়া চোয়াড়ে মুখটার
দিকে তাকালেই সে পরিষ্কার দেখতে পেতো মাথায় শিখীর
পালক, হাতে আড়বাঁশি , চোখে সর্বনাশের হাতছানি।
গর্ভিণী প্রেমিকাকে ফেলে রেখে নি-খোঁজে মিলিয়ে যেতে
সেই কালো মানিকের সময় লাগেনি।
পরের দশটা বড়ি দশ দশ খানা না হওয়া সম্বন্ধের জন্য।
ঘুমের বড়ি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। প্রত্যূষা চক্রবর্তীর কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে Indrani
Halder [Kobitay dinjapan] YouTube Channel. কবিতাটি শুনে লেখা।
-----এ কবিতাটার জন্য দায়ী সুজাতা মানে সুজান মিঠি। এমন একটা মনখারাপ করা কবিতা লিখালো বেটি!----
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেজেগুজে নিজেকে মেলে ধরতে হতো ছ সাত জোড়া
চোখের সামনে,
এসব পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন আসেনা।
কেউ রঙ, কেউ চুল দেখে নামঞ্জুর করেছিলো,
কারো তীক্ষ্ণ স্ক্রুটিনি ধরে ফেলেছিলো জাতিকার রাহু কেতু
শুক্রের খুঁত,
এসব পেরিয়ে গিয়ে বাপ মোটরসাইকেল আর ফ্রীজ দিতে
পারবেনা বলে ফিরে গিয়েছিলো বাকি কয়জন।
প্রতিবার ফেল হলে বাবার শুকনো মুখ, মায়ের দীর্ঘশ্বাস
আর পড়শির ভুয়ো সান্ত্বনা দেখে,
আয়নাটা নিভৃতে ভেঙচি কেটে বলতো ‘ মরতে পারিস না
হতভাগী?’
এগারো নম্বর পরীক্ষায় সফল হয়েছিলো সে।
ফলস্বরূপ প্রাপ্তি প্রবল প্রতাপময়ী শাশুড়ির নিঃশর্ত দাসীত্ব,
সাথে গঞ্জনা আর না খেয়ে থাকা ফাউ।
রাত্তিরে বন্ধ দরজার আড়ালে বৈধ ধর্ষণে কখনো আপত্তি
জানালে সোহাগের কালসিটে পড়ে যেতো গাল আর পিঠে।
মেয়ে হওয়ার পরে, বেকার জরায়ু নিয়ে হতাশা গোপন
রাখেনি কেউ,
কানাঘুষো শুনেছে সে, বিকল্প সন্ধান শুরু হয়ে গেছে।
এগারোটা ট্যাবলেট সাজিয়ে ফেলেছে সেই সিঁদুরের নামে।
তেত্রিশটা ঘুমের বড়ি জোগাড় করে ফেলেছে মেয়েটা।
একটা একটা করে হাতে নিয়েছে সে, টলটলে জলের
গেলাসও তৈরি।
এইবার?
হঠাৎ পড়লো মনে সেই মেসোটাকে আর কোনোদিন ঘরে
আসতে দেয়নি মা,
চোর চোর মুখ করে পালিয়েছে বারবার বাধ্যবাধক কোনো
সামাজিক সাক্ষাতে।
পাঁচখানা ট্যাবলেট ফেলে দিলো সে।
প্রাণের বন্ধু আর তার দিদি মিলে,
ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে গিয়েছিলো ভুল ভরসা করা
থরথর কুমারীকে।
আজ অবধি সেখবর জানে দুইজনই।
বন্ধুতা অমলিন রয়ে গেছে এতগুলো বছর পেরিয়ে।
প্রেমিকের মুখ আর মনেও পড়েনা।
সাত খানা ট্যাবলেট গেলো ডাস্টবিনে।
যারা তাকে মানুষ ভাবেনি,
নারীর বদলে শুধু চুল রঙ কোষ্ঠী বা বাইকের চাবি ভেবেছে,
তাদের জিতিয়ে দেবে খামোখা ঘুমিয়ে?
অতএব ফেলা গেলো আরো দশখানা ।
হপ্তাখানেক আগে এন জি ও দিদিমনি কাজের খবর
বলেছিলো।
কোন এক অরফ্যানেজে কেয়ারটেকার, নিচু ক্লাসে পড়াবেও
নাকি।
বরকে বলেনি সে, মার কেউ যেচে খেতে চায়?
নম্বর সেভ করা আছে, আশা করি দিদি ধরবেন কাল
সকালবেলায়।
‘মা, খিদে পেয়েছে!’
কচি মুখে ডাক শুনে সম্বিত ফেরে।
এখনো হয়নি শেষ, মেয়েকে সঙ্গে করে গল্প আমূল দেবে
পাল্টিয়ে গোটা।
জঞ্জালে ঠাঁই পেলো বড়ি এগারোটা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই তালিবান সেই তালিবান নয়।
ও আফগানি, আর পেয়ো না ভয়,
এমন করেই কান মুলেছে আঙ্কল স্যাম নাকি,
শুনবে না আর এদেশ জুড়ে কোতল করার হাঁকই,
এখন ওরা লক্ষ্মী ছেলে,
দিন কাটাবে হেসে খেলে ,
সুশীল ,সুবোধ আর যা যা সু হয়,
সব তালিবান এখন সেটা, আর পেয়ো না ভয়।
শর্ত আছে একটা শুধু , বাধ্য হয়ে থেকো,
মেয়েরা যাতে ভেতর থাকে, সবাই সেটা দেখো।
দরকার কী পড়াশোনার, চাকরি করা নারীর?
বাচ্চা দেবে, দায়িত্ব তার চুলোর ওপর হাঁড়ির,
তার বেশি আর কিছু করা ধর্মে অসঙ্গত,
আরে বাবা, বাঁচতে তাদের দিচ্ছে তো অন্তত।
দাড়ি, বাড়ি, নারী, হাঁড়ি সব নিয়মে গাঁথা,
এদিক থেকে ওদিক হলেই ধুলোয় গড়ায় মাথা,
বেচাল যেন না হয় কোথাও, সেটা খেয়াল রেখো,
বাঁচতে গেলে শর্ত শুধু, বাধ্য হয়ে থেকো।
আশেপাশের দেশকে দেখো, কেমন বাঁচায় গা,
ও আফগানি, আজকে তোমার নেই কোনো জায়গা।
ইউ এন-এর আজ মুখে কুলুপ,
ন্যাটোর ঘেটো বিলকুল চুপ,
তোমার লড়াই লড়বে না কেউ,খরচখাতায় তুমি,
ও আফগানি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৮ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।
পদে পদে মৃত্যু সাজায় জন্ম দেওয়া ভূমি।
এখন তুমি মেনে নিয়ে বলতে পারো যাক গে,
তালিবানই আছে যখন পোড়া দেশের ভাগ্যে,
তালি দিয়ে বরং বলি ওরাই ভীষণ ভালো,
দেশটা গেলে রসাতলে আমার কি আর বলো!
এমনভাবেই অত্যাচারের গায়ে লাগে গত্তি,
দেশের মানুষ যখন ভাবে, অন্ধকারই সত্যি।
দেশটা কিন্তু তোমার এবং তোমারই জায়গা,
বাইরে থেকে বন্ধু এসে কাউকে বাঁচায় না ।
এই তালিবান সেই তালিবান নয়।
নিজের ওপর আনবে না আর টেনে বিপর্যয়,
আমেরিকা ইউরোপে আর জঙ্গী পাঠাবে না,
কাজেই তোমার সাহায্যে আর নেই সে ন্যাটোর সেনা।
দেশের ভেতর হোক না নরক,
ব্রীজ ফ্লাই ওভার পাকা সড়ক,
বানায় যারা বানিয়ে যাবে ঝুটঝামেলা ছাড়া,
আফগানিরা কেমন আছে ভাববে কেন তারা?
আগের ভুলের থেকে শিখে ব্যাপক বুদ্ধিমান,
আফগানিস্তান না হয় যাতে উগ্রবাদীর স্থান,
তেমন খেয়াল রাখবে এবার তালিবানি শাসন,
দেশের ভেতর কোতল করে বাইরে মিঠে ভাষণ,
সেটাই এবার তালিবানের নতুন পরিচয়,
এই তালিবান সেই তালিবান নয়।
ও আফগানি, ভয়ে থাকো, ভীষণ ভীষণ ভয়…
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মেয়েটাকে অজ্ঞান অবস্থায় রংপুরে যখন পাওয়া যায়,
তখন ওর বয়েস বারো।
এই বয়েসে একা মেয়ে ধর্ষিত ছিন্নভিন্ন লাশ হয়ে পচে পড়ে থাকে মর্গে,
অথবা পাচার হয় রাতদিন ভাড়া খাটা দেহ হবে বলে।
অন্তত এই দেশে এখন সেটাই নিয়ম।
কিন্তু এই মেয়েটা কিভাবে যেন সে সব এড়িয়ে,
ঠাঁই পেলো সরকারি হোমে।
এখন সে চোদ্দর ঝকঝকে কিশোরী।
এতক্ষণ অবধি দুধসাদা এই কাহিনীতে এবার একটু চোনা ফেলবো গো মশাইরা।
মেয়েটা মুসলিম। ওই দেখো ভুরু কুঁচকালো ।
মেয়েটা বিদেশি মুসলিম।কোঁচকানো ভুরুর সাথে দাঁত কিড়মিড়।
মেয়েটা রোহিঙ্গিয়া । দাঁতের ফাঁকে উথলে উঠছে গালাগাল।
মেয়েটার বাবা মা পালিয়ে বাংলাদেশে।
সশব্দে অশ্রাব্যর সাথে ঝপ করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিডিং উইনডো..
এখনো যে গুটিকয়েক চোখ গল্পের শেষ খুঁজছে, তাদের বলি,
এটা ওই মেয়েটির গল্পই নয়, এটা স্রেফ রাষ্ট্রের প্রোটোকলের গল্প।
প্রোটোকল কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। ভরা কোভিড আর মায়ানমারে সামরিক শাসনের মধ্যে আসামে বড় হওয়া রোহিঙ্গিয়া মেয়েটিকে
মায়ানমারে হস্তান্তর করার ভারতীয় সিদ্ধান্ত!
হয়েছে কি, মায়ানমারে এখন সেনার শাসন, এমনি নাগরিকেরই দেখন-গুলি.. তাতে কি, প্রোটোকল!
তার ওপরে রোহিঙ্গিয়া পেলে নাকি বিনা বিচারে ধর্ষণ আর খুন.. আরে ছাড়ুন তো, প্রোটোকল!
মেয়েটার বাবা মা বাংলাদেশে , সেদিকটা যদি একবার... আরে বাবা সম্ভব নয়, প্রোটোকল।
কোভিড মহামারী দুটো দেশেই দ্বিতীয় কার্ভ, অন্তত সে কথা ভেবে যদি.. ধ্যাত্তেরিকা, কানে শোনেন না? প্রোটোকল!
প্রোটোকল মেনে মেয়েটিকে তুলে দেওয়া হবে মায়ানমারের কর্তৃপক্ষের হাতে।
মজার ব্যাপারটা কি জানেন,
এই অস্থির বাতাবরণে মহামারীর প্রেক্ষাপটে তাঁরা ওই কিশোরীকে নিতে অস্বীকার করেছেন।
তাতে কি? আজ বাদে কাল.. রাষ্ট্র তো আর প্রোটোকল অমান্য করতে পারেনা!
এই মেয়েটা মেক্সিকো আমেরিকার সীমান্তে আটকে থাকতে পারে,
ভূমধ্যসাগরে সিরিয়া আর ইউরোপের মধ্যে দুলতে থাকা নৌকায় ভাসতে পারে,
জমে যাওয়া তুমেন নদীর ওপর দিয়ে নর্থ কোরিয়া আর চীনের মাঝে হাঁটতে পারে,
মোট কথা, এক অন্ধকারময় বর্তমানের থেকে সামান্য আলোকিত আগামীর দিকে যাওযার জন্য ও কোথাও কোনো সীমান্তে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু ফিরতে ওকে হবেই। প্রোটোকল যে!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘুরছো কোথায় প্রদোষ মিটার? সঙ্গে আছে তোপসে কি?
লালমোহনের উপন্যাসও নতুন কোনো নেই দেখি।
তোমায় কেন খুঁজছি জানো? সই শিকারী নই আমি,
ফ্যান যদিও, আদ্যোপান্ত পড়েছি সব বই আমি।
আজকে আমার সওয়াল যাবে তোমায় ছেড়ে অন্য দিক
তোমার দেশে রাজা যিনি, কেমন আছেন সেই মানিক?
ও প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর, নতুন দেশের ল্যাব কেমন?
অবিনাশ আর নকুড় কি দেন আগের মতোই সাথ তেমন?
ক্রোল সন্ডার্স সামারভিলের সাথে কি খুব আড্ডা দেন?
আপনাকে খুব মিস করি স্যার, কল্পনাতে রোজ আসেন।
তবুও আজকে আপনাকে না, ভক্তি খোঁজে অন্য ভিত,
করতে সেলাম বাছছি যে নাম, জানেনই তো, সত্যজিৎ।
আরে আরে বঙ্কুবাবু, আ্যাংয়ের সাথে কোন গ্রহে?
সেপ্টোপাসের হাতে নাকি প্রায় গেছিলেন খুন হয়ে?
বালকিষেন-এর শাপের পরে সাপ হলো কি অন্য কেউ?
ডজন ডজন গল্প তোলে স্মৃতির পাতায় বন্য ঢেউ।
গঙ্গাজলেই গঙ্গাপুজোর ব্যবস্থা সে আবার হোক,
আমার কাহে শ্রীসত্যজিৎ, ছেলেবেলা গড়ার লোক।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, দুগগা অপু ছুটছে ওই,
ওটাই সেরা বলেন যারা, আমি তাদের দলের নই।
যাই বলো না, গুগা-বাবা’র দুটো ছবিই শেষ কথা
আর কিছু কি লাগবে প্রমাণ করতে রায়'এর শ্রেষ্ঠতা?
শব্দ দিয়ে চরণ ছুলাম, প্রণাম নেবেন সত্যজিৎ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নদী বেয়ে ওরা ভেসে যায় কারা?
আধপোড়া লাশ, পচে গলে যাওয়া,
নাক চাপা দাও, পূতিময় হাওয়া,
কারা ওরা কারা, কারা যায় ভেসে,
আমাদের নদী, আমাদের দেশে?
গ্রাম ছিলো কোনো, ছিলো প্রিয়জনও,
হয়তো বা চাষী, মুটে বা হাটুরে,
সেই প্রিয়জনই জলে দিলো ছুঁড়ে,
যাও ভেসে যাও রোগ নিয়ে সাথে,
উপায়ান্তর নেই কারো হাতে,
প্রান্তর ভরে সার সার চিতা,
ওখানে মেলেনি শবের গ্রহীতা,
পিতা বা পুত্র, কন্যা বা মাতা,
যাও ভেসে যাও নামহীন হয়ে,
আমাদের দেশে, দেশের নদীতে,
দেখো নাগরিক শব যায় বয়ে।
কাগজ কি ছিলো? আধার ভোটার..
তবুও নদীতে ঠাঁই হলো তার।
চল্লিশ মন কাঠ দরকার,
চল্লিশ মন , লাশ জ্বালাবার।
ওরা কারা কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। গঙ্গা বেয়ে লাশের সারি..
কাদের সে লাশ? শুনশান ঘরে,
একা কান্নারা গুমরিয়ে মরে,
ও শব কাদের, ভেসে যায় যারা,
আধার ভোটারে চেনা সে চেহারা,
জ্বরে মরে যাওয়া হদ্দ গরীব,
মৃত্যুই যার শুধু পজিটিভ,
চল্লিশ মন পাবে কোথা থেকে?
ফুটোকড়ি নেই সঞ্চয় ছেঁকে,
যাও দূরে যাও অচ্ছ্যুৎ তুমি,
তোমাকে নেবেনা যাপনের ভূমি,
যাও যাও যাও, জলে ভাসো গিয়ে,
ভেসে চলে যাও নদীপথ দিয়ে..
শোক সামলিয়ে , নদীতে ভাসিয়ে,
পরিজন ফেরে নিজের রুজিতে,
ওরা নয় মৃত, তারা তো জীবিত,
অতএব হবে পেটে কিছু দিতে।
ভেসে যায় শব, শত বাসি মড়া,
প্রশ্ন কোরোনা, কারা ছিলো ওরা।
জীবিততে ছিলো আড়ালে ধুলোতে,
নামহীন ভাসে আজ নদীস্রোতে,
ওরা নাগরিক, ভোট দেওয়া লোক,
ওদের বাসাতে খিদে মোছে শোক,
দুর্যোগ দেশে যখনই এসেছে ,
ওরা চিরকাল অমনই ভেসেছে,
এইবারে ভাসে জ্বরের মড়কে,
জীবন ও মৃত্যু সমান নরকে।
কারা ভেসে যায়? ও কাদের লাশ?
ওরা ধর্মের তুরুপের তাস,
ওরা রাজনীতি ভরায় মিছিলে,
চিনবেনা কেউ নাম বলে দিলে,
আজন্মকাল ওরা যায় ভেসে,
আমাদের নদী, আমাদের দেশে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভোটের বিলাস সাঙ্গ হলো, এবার শ্রমের ড্যাশ মারি,
শ্রমের দিনের মান্যতাতে এলো নোটিশ সরকারি।
ভোটের ভিড়ের নিংড়িয়ে ঘাম রাজনীতি খায় লাভের গুড়,
ভোটের শেষে মে দিবসে ভেতর যাওয়ার উল্টো সুর।
আটটা দফায় কার্ভ উঠিয়ে রাজ্য জুড়ে মই বেয়ে,
নেপোরা সব বন্ধ করেন ঢেঁকুর তুলে দই খেয়ে ।
পজিটিভও ভোট দিতে আয়, চাঁদকপালে টি যেন,
কমিশনের সে বায়নাতে থমকে দাঁড়ায় বিজ্ঞানও।
ভেতর থাকার হুকুম তবে শুধুই বোধহয় মুদ্রাদোষ,
বুথের ভেতর ডজন শিকার ভেট পেয়ে যায় সে রাক্ষস।
পোলিং এজেন্ট, অফিসার আর ছাপোষা সব কর্মীকে,
কপাল ঘষে হুজুররা সব দিলেন ভাগ্যে জ্বর লিখে।
খোঁজ কি তাঁদের কেউ করেছে, ভোটের পরে সুস্থ কে,
কেউ করেনি, আমটা খেয়ে আঁটি আবার চুষতো কে।
ড্যাশ
কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। নির্বাচনে অবাধ ভিড়ে অনুমতি দিয়ে ফল ঘোষণার পরেই
লকডাউন ঘোষণা।
( দুঃখিত। খারাপ কথা পারতপক্ষে বলি না, কিন্তু ভোট শেষ হতেই এই ফতোয়া আর যাই হোক, জনস্বার্থে নয়)
ও দিদি আর শালা’র যুদ্ধে স্বাস্থ্য শহীদ মাঝখানে,
ঠিক কতটা ভুল ছিলো তা, জ্বরের রোগী আজ জানে।
কে কতটা করলো খারাপ, জিভের ডগায় মুখস্থই,
চেঁচায়নি কেউ ভিড়ের থেকে, অ্যাই রাজা তোর মুখোশ কই।
দোষের ভাগী অন্যদলের নেত্রী নেতা কমরেডও,
প্যান্ডেমিকের মাঝদরিয়ায় তাই তো অমিল আজ বেডও।
যুক্তি শোনান বুদ্ধিমানে, শানিয়ে নিয়ে তাঁর বাচন,
‘গণতন্ত্রের খুব প্রয়োজন সঠিক সময় নির্বাচন।’
আজকে যখন গণচিতায় চতুর্দিকে পুড়ছে শব,
লাগছে কেমন হে জ্ঞানীরা ডেমোক্রেসির এ উৎসব?
আজ বাদে কাল ভোটের রেজাল্ট, দুপক্ষেরই আসুক যেই,
হাসপাতালের রোগীর ভিড়ে আগামীতে কমতি নেই।
ভোটের বিলাস সাঙ্গ করে, পুড়িয়ে দিয়ে বঙ্গদেশ,
স্বাস্থ্যবিধি দেড়খানা মাস ছিঁড়লো বিশেষ অঙ্গকেশ।
আজকে হঠাৎ শ্রমদিবসে ভেঙেছে ঘুম সরকারি,
হুকুম এলো আয় জনতা, তোর পকেটের ড্যাশ মারি।
আছোলা বাঁশ আসছে আরো, আমরা বসে ল্যাজ নাড়ি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পাগলটা চিৎকার করছে
শুনতে পারছো না?
তোমরা যে সোল্লাসিক ঘরবন্দী খেলবে বলে
মদের দোকানে লাইন দিচ্ছো
তোমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল আলখাল্লা পড়ে
চুলদাড়ির জঙ্গল থেকে হেঁকে উঠছে সে
সব সাচ্ হ্যায়! সব সাচ্ হ্যায়!
তফাৎ যাও! তফাৎ যাও!
কিংফিশার আর বাকারের হিসাবে মগ্ন তোমরা
আধানগ্ন লোকটাকে তবু দেখতেই পারছো না
পাগলটা পাঁই পাঁই করে ঘুরছে চারিদিকে
সবজীর ঠ্যালাঠেলি নিলামে হামলে পড়ছে
নমাজের জমায়েতে গিয়ে ঠোক্কোর খাচ্ছে
মা কালীর ধানে পাঁচশো লোকের ভোগের অঙ্ক দিতে
হঠাৎ তিরিং বিরিং নৃত্য করছে
আর সাথে ওই বিকট চিৎকার
তফাৎ যাও! তফাৎ যাও!
সব সাচ্ হ্যায়! সব সাচ্ হ্যায়!
বদ্ধ উন্মাদটা এত চেঁচিয়ে যাচ্ছে যে
ফুসফুসটাও গলা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে
অথচ কোথাও তার আওয়াজ পৌঁছাচ্ছে না!
কেউ ছিটকে সরে যাচেছে না একটুও
বরঞ্চ আরও গা ঘেঁশাঘেঁশি করে বসছে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সবাই কি একসাথে কানা আর কালা হয়ে গেল নাকি
পাগলটা ঘুমোয় না, খায় না, অন্য কিছু গায় না
শতাব্দী মলিন পোশাকে জনতার ভিড়ে ঘুড়ে বেড়ায়
নেতার স্তাবক জনতার মাঝে কোচিং ক্লাসে
অবুঝ জয়েন্ট পিকাসো-রোবোটের মেলায়
অতকিছু হবে না বলে হো হো আড্ডার পাড়ার ক্লাবে
ও বিবেকের ভুতের মতো ভেসে বেড়ায়
অনেক হত্যা দেখা চোখে আরও দেখার আতঙ্ক নিয়ে
দুই হাতে ও সবাইকে আলাদা করার চেষ্টা করছে
গত পাঁচ মাস ধরে, শুনতে পারছো
তফাৎ যাও! তফাৎ যাও!
সব সাচ্ হ্যায়! সব সাচ্ হ্যায়!
বলে আর্তনাদ কেউ শুনতে পারছো
শুনছে না কেউ মেহের আলি
তুমি খালি চিৎকারই করে যাচ্ছো,
চিৎকারই করে যাচ্ছো
তোমার কথা কেউ শুনছে না
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খবর তেমন নয় খাস.. ম্যানহোলে চারখানা লাশ,
কাদের ভোটার ছিলো, ইসসস.. আরে ধুর, কি যে বলিস,
গু মাখা চারটে ধাঙড়, ওদের আর ভোটের কি জোর,
দাবীটাবি করেনি প্রতীকে, আঙুল ওঠেনি কারো দিকে,
এত বড় ব্যস্ত শহরে, রোজ ওরকম কত মরে...
ম্যনহোলে চারখানা লাশ, শোনা যায় পায়নি বাতাস,
পায়নি তো কার তাতে কী, দিন ভানে রাজনীতি ঢেঁকি,
ভোটের পাঁচালি আসে কানে, উন্নয়নের নানা মানে,
রাম বাম হাত মা মাটি, খেলে যায় ভোটের কাবাডি,
কেন ম্যানহোলে লোক মরে, কেউ নেই সে সওয়াল করে
ক্ষমতার এ মহান রণে, ওদের রাখেনি কেউ মনে।
গ্যাসমাস্ক ছিলোই না মুখে, ওরকমই ঘাঁটে ওরা গু কে,
রোজ বেঁচে ফিরে আসে তাই, তুমি আমি ঘুম দিতে যাই,
আজকেও নিদ্রাতে যাবো, স্বপ্ন দেখায় আছে লাভও,
কেউ রাম রাজ্যকে দেখে, কেউ চলে ঘাসফুল এঁকে,
কারো মন লালের নিশানে, কেউ হাত আনবে এখানে,
মিটিংয়ের চলছে মহড়া, কার ভাগে কত শতকরা,
হিসেবের বুলিরা চ্যানেলে, জনগণ হাঁ করে গেলে,
প্রতীকেরা যেতে থাকে লড়ে, কে মন দেবে রে ধাঙড়ে?
ধাঙড় কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। চারজন শ্রমিক ম্যানহোলে দমবন্ধ
হয়ে মারা যাওয়ার পরে।
মরার প্রাইজ পাঁচ লাখ, কবে পাবে তর্কটা থাক,
যেটা নিয়ে তর্ক চলেনা, পরিবার না বলবেনা।
জীবনে দেখেনি টাকা এত, বাঁচলেও থোড়াই তা পেতো।
প্রশ্ন কে করে অতশত, পাঁচলাখে কটা মাস্ক হতো?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গুপ্ত রোগে ভুগছে শহর, গঞ্জ গাঁ ও পরগনা,
হাসপাতালে বেড়েছে ভিড় নাহোক ধরো চারগুনা।
টেস্ট করালেই ডাক্তারেরা চমকে বলেন ‘পজিটিভ!’
কোন সে রোগের প্রশ্ন হলেই মাথা নাড়েন, কাটেন জিভ।
চেপে ধরলে চাপা গলায় বলেন ‘সওয়াল নোকরি কা,
নাম বলাতে বারণ আছে, দোহাই অনুচক্রিকার’
বরঞ্চ নিন রিকুইজিশান, ব্লাড ব্যাঙ্কে যান ছুটে,
রোগ গিয়েছে অনেক গভীর, টান পড়েছে প্লেটলেটে।
চমকে বলি ওমা সেকি, তার মানে তো এটাই ডে...
অমনি শুনি ধমক আসে, ‘অ্যাই ব্যাটা তুই বলার কে?’
ঘুরেই দেখি দাঁড়িয়ে আছেন পাড়ার কিছু বোম্বেটে
( তফাত এঁরা করতে নারেন প্লেটলেটে আর কাটলেটে)
আমার কাছে এসে বলেন ‘ ‘ডে’ বলেছিস ওটাই ব্যাস,
আগ বাড়িয়ে ধরে নেওয়া , বড্ড তোদের বদভ্যাস!
পজিটিভ তো কি হয়েছে, ওটা হলেই সব নাকি?
এসব শুধু ল্যাবরটারির মিথ্যে কথা আর ফাঁকি।
‘ডে’ দিয়ে শুরু কোনো অসুখ নিষিদ্ধ এই রাজ্যতে,
এত করে বোঝাই তোদের, আনিস না তা গ্রাহ্যতে!’
আমি বলি করজোরে, ‘এসব জটিল ডাক্তারি,
আপনারা কোন কেতাব পড়ে পেলেন এত খোঁজ তারই?’
বোম্বেটেরা ধমকে বলেন ‘ডাক্তারি আর জটিল কই?
সাতখানা দিন সময় দিলে ইচ্ছে যেটা তা শিখবোই।
ডে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি হলেও যখন লিখতে
হতো অজানা জ্বর।
প্লেটলেট তোর যতই লাগুক , পজিটিভ হোক আই জি এম
নামটি বলার করবে সাহস নেই রে কারো সে এলেম।’
আমি বলি ‘শিক্ষে পেলেম, এবার করুন অনুমতি,
প্রিয়জনের হালত খারাপ, ব্যাঙ্কে ছুটি দ্রুতগতি।’
ওরা বলেন, ‘যা ছোট গিয়ে, একটা কথাই মাথায় রেখে,
জ্বরজ্বালাতে এ রাজ্যতে ভুলেও যেন বলিস না ‘ডে’ !’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রোজনামচায় বিষাদ করায়
ভাল্লাগে না কিচ্ছুটি
শমন পাঠায়, জ্বরের শমন
মুখোশ হলে বিচ্যুতি
চিনছি না আর কাউকে এখন
সবারই মুখ আবৃত
স্কার্ফ চেপেছে ঘাড়ের উপর
দম বেরিয়ে প্রায় মৃত
কালোর পরত সরিয়ে
মনের হাল ফেরাবে খানিক কে?
আলোর দিকে চোখ ফেরাতে
ভরসা এখন মানিককে
দেশের বুকে ঢুকিয়ে শিকড়
ফেক নিউজের সব্দভেদ
সত্যি খুঁজে গভীর জালার
দেন প্রেরণা সত্যজিৎ
ঈশ্বরই আজ বোধ হয় নেতা
যখন মনে বোধ ঢোকে
তার ক্যামেরা ফোকাস করে
সত্যি বল শত্রুকে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হীরক রাজার রাজত্বকে
বলবে কে আর কাল্পনিক
উদয়ণকে বাদ দিলে
আজ সব চরিত্র বাস্তবিক
অবশ্য নেই গুপি বাঘাও
নির্বিবাদী লোক যারা
কিন্তু হাজার চাপেও পিঠে
অটুট ঋজু শিরদাঁড়া
সিংহাসন আজ চাইছে যখন
মগজ ধু-তে তার ইচ্ছায়
রাজার মন্ত্রে দিন ফেরাতে
ভরসা তো সেই মানিক রায়
সমাজ আঁকেন দড়ির টানে
ছায়াছবির ছন্দতে
পিছল সোপান আজও ওঠায়
যেমন সীমাবদ্ধতে
আমরা ওরার কাঁটাতারের
রাষ্ট্র শেখায় যে ভুলচুক
সটান তাকে নাকচ করে
মানুষ চেনায় আগন্তুক
স্বপ্ন দেখো অপুর মতন
হোক না সবাই নিষ্ফলা
সত্যজিতের সামনে ভোঁতা
ডিপ্রেশনের বিষফলা
ভুতের রাজার বর পেয়ে যে
যায় না করা স্বেচ্ছাচার
রাজনীতি খোঁজ পায়নি আজও
সত্যজিতের সে বার্তার
শিক্ষা আমার কম পরে যায়
যতই শতবার শিখি
হাজার বছর মানিক জ্বলার
মাত্র শতবার্ষিকী
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিচারের প্রতি রেখো আস্থা!
আইনকে বোঝা অত সস্তা?
কোনটা শ্লীলতাহানি, তুমি আমি কিবা জানি,
কত দুধে কত পানি বলে দেন জজ তা!
তিনি মহামান্য, ঘটনা সামান্য,
বুকে হাত দিলো কাকু, বলেছিলো দ্বাদশী,
ওপরে কামিজ ছিলো, তবে তো ‘तमीज़’ ছিলো,
সুতরাং সে পুরুষ কদ্যপি না দোষী।
দেখো ভাই, চাই বোঝা, ব্যাখ্যা অতীব সোজা,
মধ্যে কাপড় গোঁজা, ‘টাচ’ হবে কি করে,
টাচ মানে স্পর্শ, কে না জানে বৎস,
মানে জেনে পৌঁছাতে হবে তার শিকড়ে।
নেই কোনো ভুলচুক, শুধুই টিপেছে বুক,
যায়নি মোটেই হাত কামিজের ভিতরে।
সুতরাং প্রমাণিত, স্পর্শই হয়নি তো,
যতই ঘুরুক হাত কচিটার শরীরে,
চর্ম তো ছিলো ঢাকা, নগ্ন করে নি কাকা,
নিপীড়ণ বলে তবে কেন তাকে ধরি রে!
টাচ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। হাইকোর্টের জজ, বাচ্চা মেয়েকে জামার ওপর
দিয়ে ছোঁয়াকে অযৌন বলায়।
লাঞ্ছিত কৈশোর, তাই নিয়ে কই शोर,
শৈশব চুরি যাওয়া রোজকার গল্প,
POCSO যে ফর শো, জোকারের হর্ষ,
‘স্পর্শ’ রাখছে তাতে সন্দেহ অল্প।
যার গেছে যাক গে, বালিকার ভাগ্যে,
এরকম ঘটেছে ও ঘটবেও কতবার,
ওই দেখো হলো রায় ,কামিজ থাকলে গা’য়
হেনস্থা না করে ছুঁতে পারে শতবার।
দেখিয়েছে হাইকোর্ট রাস্তা!
পোশাকে হয়না হেনস্থা!
বাসে ট্রামে ছোঁকছোঁকে, যত পার ছোঁ ওকে,
অপরাধ নয় আর খাস তা।
বিচারের প্রতি রেখো আস্থা!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গ্রেপ্তার করে নিতে পারে পুলিশে। ইচ্ছে হলেই।
ওয়ারেন্ট, এফ আই আর ইত্যাদি প্রভৃতির দরকার নেই।
কারাবাস হতে পারে দুই বছর তক বিনা বিচারে..
এন এস এ বা জরুরি অবস্থা ভাবো? অতীতের হাত ধরে আরো পিছা রে..
উনিশশো উনিশ। রাওলাট আইন.. শাসকের রঙ সব এক,
তাই এ স্বাধীন দেশে ওই সব ভেবে আজও ভুল হয় দ্যাখ।
সে যাকগে যাক, ফেরা যাক ইতিহাসে, কি হলো তখন,
কাউন্সিল ছেড়ে দেন প্রতিবাদে জিন্নাহ ও মদনমোহন।
উনিশশো উনিশ। সেই ভয়ানক সাল। মেলায়নি আজও ক্ষতদাগ,
আর কিছুদিন বাদে রক্তে পিছল মাটি, ঘটে যাবে জালিয়ানওলাবাগ।
আর কিছুদিন বাদে রবীন্দ্রনাথ নাইটহুড ছাড়বেন প্রতিবাদে,
আর ভারতের স্বাধীনতার চিরগ্রহণ লাগা চাঁদে,
রাহুমু্ক্তির বার্তা নিয়ে আসবেন একজন অনামী মোহনদাস ।
বিশ্ব জানবে সত্যাগ্রহের কথা।দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ প্রথম দেখবে ইতিহাস।
উনিশশো কুড়ি।পাঁচই সেপ্টেম্বর, শুরু হলো রাওলাটের জবাবে অসহযোগ।
দেশের শরীর থেকে সরাতেই হবে থিতু ইংরেজ রোগ,
হরতাল বয়কট বিদেশী বর্জনে দেশ জুড়ে মেতে ওঠে লোকে,
অথচ হিংসা নেই, কিভাবে ব্রিটিশ তবে এদেরকে রোখে?
প্রথম মানুষ জানে অস্ত্রবিহীন এক রয়েছে উপায়,
কোটি মানুষ যদি শান্তি বজায় রেখে হুকুম না মানে, রাষ্ট্রও থতমত খায়।
প্রথম বললো দেশ মানছিনা ,মানবোনা ও কালা কানুন,
এই পাতলাম বুক, গুলি চালানোর হলে বাহিনী আনুন।
পুনরাবৃত্তি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। এন এস এ’র বিরুদ্ধে (N.S.A. or National Security Act, 1980)
গাঁয়ে গঞ্জে শহরে প্রাসাদে ফিসফিসে চিৎকারে তখন সত্যাগ্রহ,
শাসকের মুশকিল ভারী, কিভাবে দমন করে নিরস্ত্র নয়া বিদ্রোহ,
‘একটা বছর দাও’ গর্জান গান্ধী, ‘এনে দেবো এবারে স্বরাজ!’
আহ্বান ঢুকে পড়ে তামাম দেশীয় ঘরে, ইউনিয়ন জ্যাক কাঁপে শুনে সে আওয়াজ।
হঠাৎই সব্বোনাশ। চৌঠা ফেব্রুয়ারি উনিশশো বাইশ।
চৌরিচৌরাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জনতা পুলিশ।
পুলিশের গুলি চলে তিনটে এমনি লোক একদিনে হয়ে গেলো খুন,
জনতাও গেলো খেপে। পুলিশের চৌকিতে লাগালো আগুন।
পুডলো বাইশজন, ইংরেজ নয় তারা, দেশীয় বেতনভূক লোক,
অহিংসা ভুলে গিয়ে সেদিন চৌরি হলো জিঘাংসু হিংস্র নরক।
অসহযোগের পূত ধবল শরীরে হিংসার কলঙ্ককালি লাগলো সেদিন।
গান্ধী নিলেন তুলে আন্দোলন। অগত্যা দেশ ফের হলো দিশাহীন।
ইতিহাস নিতে চায় বিশ্রাম। আমরা খুঁচিয়ে দিয়ে ঘুম থেকে বারবার তুলে দিই তাকে।
‘শান্তিপূর্ণ’ বলে প্রতিরোধ শুরু করে, নানা অবতারে ডাকি চৌরিচৌরাকে।
ফাঁকতালে শাসকেরা পার পেতে থাকে..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভেবে দেখলে, নারীকে ভালোবাসে না, এমন একটিও পুরুষ নেই।
ভিড় বাসে কিশোরীর এধারে ওধারে কনুই ছোঁয়ানো লোকটা,
বাড়ি ফেরবার আগে আত্মজার জন্য কেনে ক্ষীরকদম্ব,
ফেসবুকে যুবতীর উত্তর না পেয়ে ‘খ’ শব্দ সশব্দে আছড়ানো যুবকটি
বোনকে চোখের আড়াল করেনা,
পড়শির তেরো বছরের মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করা বৃদ্ধটি গ্রীষ্মের
ছুটি হলে ছুটে যায় নাতনির কাছে,
এমনকি গ্যাং বেঁধে গাড়িতে ছিবড়ে করে নিয়মিত নারী ছুঁড়ে
ফেলে যে যুবক,
সেও তার মা’র কাছে বসে ভাত খেতে ভারী ভালোবাসে।
মুশকিল এখানেই,
বন্ধন ব্যতিরেকে মান দিতে পারে, এমন পুরুষ এক বিরল প্রজাতি।
ভালোবাসা এসে গেলে নারী আর মানুষ থাকে না, সম্পত্তি হয়ে দাঁড়ায়
তাই সুতো ছিঁড়ে গেলে, প্রাক্তন প্রেমিকার বিস্রস্ত ভিডিও ভাইরাল
হতে বেশি সময় লাগে না,
মেয়ে বিয়োনো বউ দাউ দাউ জ্বলে ওঠে পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আধুনিক
সমিধের মতো,
অন্যজাতের হাত ধরা মেয়েটির মাথা কেটে ফেলে দেয় অনুতাপহীন
পিতা ভারী অনায়াসে,
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্নেহশীল দাদা এসে সবিনয়ে ফুঁড়ে দেয় স্বয়ংবরা মেয়েটির খুঁজে
নেওয়া সাথীটির বুক।
আসলে দখল করা সাম্রাজ্যের মতো, ‘অধিকার’ নাম দিয়ে যা ইচ্ছে
তাই করা যায় নারীদের সাথে।
এই সব পাল্টিয়ে অভিধানে যেই দিন ভালোবাসা অর্থতে মর্যাদা হবে,
সেদিন দিবস নয়,
হেঁটমাথা ক্ষমা চেয়ে সময়ের চাবিখানা তুলে দিও মেয়েদের হাতে।
যুগান্ত পেরোলেও, পুরুষ পারেনি আজও যাকে সামলাতে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মরলে যদি শহীদ না হই, যোদ্ধা বোলো না।
সৈনিকে তো গানস্যালুটের শ্রদ্ধা ভোলো না।
মৃত্যু চেনা শত্রু আমার
মারীর অনেক আগে থেকে,
নতুন শুধু রোজের খবর
আজকে ফটোর ভাগে কে কে
দুঃখ এটাই শহীদ-খাতায় সে নাম তোলো না,
স্টেথোস্কোপের ভাগ্যে স্যালুট আজও হলো না।
আটশো খানা স্টেথোর মালিক হারিয়ে গেছে জ্বরে
আটশো ফটোয় ফুলের মালা মলিন হলো ঘরে।
যাদের হয়ে লড়তে গিয়ে
ছোবল মারে স্পাইক প্রোটিন,
তাদের যদি না যায় আসে
যুদ্ধ করা দারুণ কঠিন,
তবুও যারা আছে বেঁচে রোজ পি পি ই পরে,
যমের সাথে লড়ার শপথ, সে অভ্যাসেই লড়ে।
ফালতু কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। ডাক্তারদের করোনা শহীদ বলতে
সরকারি টালবাহানার প্রতিবাদে লেখা।
রাষ্ট্র ভাবেন এই খেয়েছে, এত্ত শহীদ হলে
না জানি যায় কত কোটি আঙুল দিয়ে গলে।
ক্ষতির জন্য হতেই পারে
পরিজনকে সহায় দিতে,
জমাট বাঁধে যোদ্ধাগুলো
হঠাৎ যদি সেই দাবীতে
সামাল দেওয়া কঠিন হবে তখন হট্টগোলে।
যোদ্ধা নাহয় এমনি বলি, শহীদও তাই বলে?
পয়লা জুলাই ডাক্তারি দিন নেহাত ছলনা,
মার খেয়ে যাই আমরা যখন, রাগে জ্বলো না।
জ্বরের সাথে লড়াইটা স্রেফ
স্বভাববশেই জারি রাখি
পিপিই তে ঘাম শুকিয়ে
প্রচার থেকে দূরে থাকি
মারলে মারী আমার শোকে কেউ তো গলো না,
আমার হয়ে বলবে কথা একটি দলও না।
যোদ্ধা বলে মানলে কেন শহীদ বলো না?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কত দুধে কত ছানা , রোজ আরো যায় জানা, বোলো না কাউকে ভুলে মাথা ভরা গোবরে, গো নিয়ে এষণাতে, ঘাম ব্যয় দিনে রাতে, ফলাফল যাই হোক তাতে নেই লোভও রে। এ সেই গীতার কথা, ফল নিয়ে আকুলতা না দেখিয়ে শুধু জেনো কাজ করা দরকার, কর্মের সেই যোগে, দেশ গেলে যাক ভোগে, কিছুই হয়না তাতে বেঁচে গেলে সরকার। খোঁজে শিং খোঁজে বাঁট, ভাবনারা ঘেঁটে লাট, মানুষের যাই হোক, গোরু চাই বাঁচানো চুরি ধর্ষণ খুন, বেড়ে হলো শত গুণ, তবু নেই তাই নিয়ে এতটুকু চেঁচানো। গোবরে পদ্ম ফোটে প্রবাদ তা নয় মোটে বরঞ্চ সাথে সাথে দেখা যায় অধুনা বর্জ্য মূত্র ময়, দর পায় অতিশয়, অত দামী আজকাল দেশে মেয়ে বধূ না।
|
গো এষণ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। গরু নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনার চেষ্টা প্রসঙ্গে।
গল্পের গোরুগুলো মগজ করেছে নুলো গাছে উঠে গেছে কবে জানেইনি জনগণ আত্মের নির্ভরে আজ নিয়ে ভয় করে চলে তবু আগামীর আজগুবি স্বমেহন। কাউকে বোলোনা যেন, Cow এখন বিজ্ঞানও গোবর ঠেকায় নাকি বিকিরণ আণবিক কাজ নেই কোনো হাতে, তবু গরু ভাবনাতে, যুব যায় কোনদিকে কেউ সেটা জানো ঠিক? গোরু কত উপকারে, ধারণাটা ভুল না রে ভোট নোট একজোট করে দেয় শিং খুর, নেপো মারে দুধ দই, তবু দেশ নড়ে কই লড়াই চলতে থাকে ইসলামী হিন্দুর। বিজ্ঞান ভানে আজ, দেশ দরিয়ার মাঝ, মানুষের কথা ভুলে গোরু শুধু খবরে, নতুন থিওরি শুনে, যুক্তির গুমখুনে, নিউটন কাতরান শুয়ে তাঁর কবরে।
|
পোষ্য মাথায় তুলে, দেশ গেছে পথ ভুলে, সবখানে ময়মাখা, কোনখানে ছোঁবো রে!
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাস্টারমশাই , আপনি কিছু দেখেননি।
এই যে দেবতার আসন থেকে টেনে নামিয়ে আপনাকে সামান্য বেতনভূক কর্মচারী করে দিয়েছি,
যার কাজ বন্ধ স্কুল থেকে মিড ডে মিলের কাঁচামাল বিতরণ করা,
আমরা নিশ্চিত, এটা আপনি দেখতে পাননি।
কিচ্ছু দেখেননি আপনি , মাস্টারমশাই।
আজকে সিলেবাস থেকে কোথাও বাদ পড়ছেন রবীন্দ্রনাথ, কোথাও মহাশ্বেতা,
ঢুকে যাচ্ছে ক্ষমতায় থাকা অশিক্ষিতের ব্যক্তিগত প্রলাপ,
এইসব আপনার দেখার ক্ষমতার বাইরে
শরৎচন্দ্রের মহেশ পড়ালে আজকে আপনার নামে সমন বেরোবে মাস্টারমশাই,
আজকাল কোনো দলিত মুসলিমের সাহস হবেনা তার ষাঁড়ের ওই নাম রাখার!
রাষ্ট্রের কোপে দুফাঁক হওয়া দেশের মাঝখানে বওয়া রক্তের নদীটা
আপনি দেখেননি মাস্টারমশাই।
এই মহামারীতে একটা জিনিস আমরা দেশ থেকে তুলে দিয়েছি মাস্টারমশাই।
সবার জন্য শিক্ষা।
যাদের ঘরে স্মার্টফোন , তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস চলছে,
যাদের ঘরে ল্যাপটপ,
টপাটপ তারা শিখে নিচ্ছে কোডিংয়ের দুনিয়াতে সিঁড়ি বাইবার কসরতগুলো,
বহুদূরের নিস্পৃহ কোনো অ্যালগরিদম জায়গা কেড়ে নিচ্ছে মানবিক আবেগের,
এখানে কেউ বকে না, কেউ বলে না ভুল হয়েছে দশবার লেখো,
কেউ বলেনা রাজুর রচনাটা আজ সব্বাই পড়ে দেখ, কি ভালো লিখেছে!
দেখছেন কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। লেখা দাসের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে Lekha Das YouTube Channel। আমরা তাঁর কাছে আরও কৃতজ্ঞ কারণ কবিতাটির
কথাও আমরা সেখান থেকেই পেয়েছি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ডিজিটাল ইন্ডিয়া হু হু করে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে রতন বাউড়ি আর রহিম শেখের বাচ্চাদের,
বীনা মুর্মু আর লতা হালদারের দিনান্তে পেটভরা ভাতই জোটে না,
তো বাচ্চাদের জন্যে স্মার্টফোন!
মাস্টারমশাই, আপনি দেখেননি ক্রমশ আপনাকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বিলুপ্তির পথে,
অ্যালগরিদম আর কোচিং কারখানাগুলোয় ছাত্রদের নাম জানার কোনো দরকার নেই,
ব্যক্তি সেখানে সমষ্টির কাছে পর্যুদস্ত।
তবুও আজও কেউ
স্টেশনের আলোতে পথশিশুদের পড়াচ্ছেন,
শবর বা ভিলদের গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছেন কোনো খ্যাপা স্বপ্নপথিক,
নদীর জল ঠেলে,
পাথুরিলা পাহাড়ি পথ ডিঙিয়ে,
ঘিঞ্জি বস্তির অনামী বাড়ি খুঁজে,
ইটভাঁটা আর ক্ষেত থেকে কৈশোর ছিনিয়ে এনে
দেশের নানা কোণায় কেউ না কেউ সাক্ষর
আর স্বাক্ষরের তফাৎ চেনাচ্ছেন।
রাষ্ট্র না চাইলেও দেশ ঠিক গড়ে চলেছেন
কিছু মানুষ গড়ার কারিগর।
মাস্টারমশাই , আপনি দেখেছেন , সব দেখছেন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ব্যবসায়ী খেলবে কি? আহা বাবা বেশ তো
গুছিয়ে খেলতে বোসো থাকে যদি রেস্তো,
দান চালো ভালো করে, তাক করে সম্পদ
অনেক চয়েস পাবে, মোটে নয় কম পদ।
একটা বা দুটো নাও, নাও তিন চারখানা
রেল পাবে, স্টেডিয়ামও, বন্দর কারখানা
ফেলো কড়ি মাখো তেল, নাও যেটা দরকার
ভালো দর কার দেখে বেচবেন সরকার।
বলে ফেলো মুখ খুলে কারো যদি চাই রেট
এই তো কদিন বাদে দেশ হবে প্রাইভেট।
নিতে পারো ট্রেন ,বাস , গুদাম বা রাস্তা
পাবলিক কথা স্রেফ নাম কি ওয়াস্তা,
এসো হে নিলাম ডাকো বিপণন মেলাতে
সব কিছু কেনা যায় ব্যবসায়ী খেলাতে।
অবশ্য ক্রেতা শুধু হাতে গোনা কজনই
ল্যাজে যেন ছাপ থাকে আম্বানি আদানি
অনেকটা আগে গিলে ওনাদের ঢাঁই পেট,
বাকিটুকু কিনে নিলে গোটা দেশই প্রাইভেট।
প্রাইভেট কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির স্বনির্বাচিত কবিতা। ভারত সরকার দ্বারা,
৭০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়া, দেশের সমস্ত সম্পদ কার্যত নিজেদের দলের যজমানদের বেচে
দেওয়ার পরিকল্পনা ও তার রূপায়ণের উপরে লেখা।
দেশ ভরা প্রাইভেট স্কুল আর কলেজে
ফি’জ আগে ভরে তবে হাত দাও নলেজে,
লাভ নেই জারি রেখে সরকারি শিক্ষা
ওই তো পাচ্ছে লোকে অনুদান ভিক্ষা।
সরকারি চাকরিরও মেয়াদটি ফুরালো
শিক্ষিত বেকারের আশা সব গুঁড়ালো,
আরে ধুর, কাজটা কী সরকারি সংস্থার
ওটা স্রেফ অতীতের ছাতা ধরা সংস্কার,
আধুনিক দুনিয়ায় মাথা আজ তাই হেঁট
চকচকে হবে দেশ হলে সব প্রাইভেট।
অবশ্য চারপাশে যত হোক ডিক্রি
একটা জিনিস জেনো হচ্ছে না বিক্রি,
এইসব নিয়ে যদি ক্যাঁওম্যাঁও করেছো
গণতন্ত্রের নামে প্রতিরোধ গড়েছো
যদি বলো এই লাভ নেতাদেরই চাই ভেট,
যেতে পারো যে ঘরের বেরোবার নাই গেট।
জেলখানা ও পুলিশ হচ্ছে না প্রাইভেট।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যাকে ভোট দেবো ভালোবেসে, সে মানুষ দাঁড়াবে কি ভোটে,
অটোতে যে বসে পাশ ঘেঁষে , বাস এলে পা মিলিয়ে ছোটে,
সবজিতে ঘোর দরাদরি, মিছিলে আটকে ফেরে রাতে,
তাকে যদি প্রতিনিধি ধরি, কোনো দল দেবে কি দাঁড়াতে?
যেই চাষী মাটি-ঘ্রাণে বাঁচে, ঘাম যার রোজকার ব্রত,
প্রাসাদের আনাচে কানাচে, তারা গেলে বড় ভালো হতো।
ডিগ্রীকে তাকে তুলে রেখে, যে যুবক হকারি ধরেছে,
কখনো কি যাবে দেশ দেখে, কেউ তাকে প্রার্থী করেছে?
ভোট এলে দেখি চারপাশে , তারকারা আশা ফেরি করে
যে কখনো দেয়নি পা ঘাসে, একহাঁটু মাটি মেখে ঘোরে।
সিন্দুকে টাকা যার কোটি, সে-ও করে গরীবীর শোক
এরই নাম হয়তো প্রগতি , নেতা নয় সাধারণ লোক।
অবশ্য ইতিহাস বলে , আমাদেরও দোষ আছে বহু,
যা চলতো বাদশা আমলে, কপি পেস্ট করছি হুবহু।
রাজা কেউ রুটি ছুঁড়ে দিলে, সাবড়াই প্রসাদের জ্ঞানে
হাঁটছে যে রোজের মিছিলে, কে তাকে নেতা বলে মানে?
এক রাজা গিয়ে আর রাজা, আমাদের ভোট বয়ে আনে . . .
রাজতন্ত্র কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। ভারতের তথাকথিত
গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলির তঞ্চকতা ও জনগণের জো-হুজুরী
মনোভাব, দুইয়ের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ছেলেটা রোজই দেখে মা কত নিচু,
খোঁচা দেয় তার বাবা প্রতি কাজ পিছু।
অবশ্য মারধোর ইত্যাদি নেই,
মানহরণের পালা স্রেফ কথাতেই।
ছেলেটা দেখছে রোজ মা হাত পাতে,
হিসেব মেলায় বাবা ফিরে এসে রাতে।
কত যে পয়সা রোজ যাচ্ছে চুলোতে,
ব্যথা আর জ্বালা বাড়ে আঁচড়গুলোতে।
নিরিবিলি প্রসাধন, সেলে কেনা শাড়ি,
সবেতেই বাবা দেখে ভারী বাড়াবাড়ি।
তা বলে ভেবো না যেন বাড়িতে অভাব
খোঁটা আর খোঁচা দেওয়া মূলত স্বভাব।
ছেলেটা বাড়তে থাকে এই ধারা দেখে
নারীর কোথায় স্থান হয়তো বা শেখে।
কলেজ পেরিয়ে কাজ পেয়ে অবশেষে
একটা কাগজ নিয়ে বাড়ি ফেরে হেসে।
বাবা নিয়ে দেখে সেটা লিগ্যাল পেপার
ভেতরের লেখা পড়ে মাথা ঘোরে তার।
এফিডেবিটের সাথে ছেলেটার ছবি,
রেখেছে সে স্রেফ তার মায়ের পদবী।
গল্প উল্টে দেয় মাতৃগরবী..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কারা নাগরিক আর কারা মোটে নয়,
সেটার ভিত্তি লেখা তুলোট কাগজে,
যাদের ওপরে নয় সময় সদয়,
জীবন হাতড়ে তারা পরিচয় খোঁজে।
শিকড় মাটিতে ছিলো কতটা গভীরে,
জন্মপঞ্জী তার মানে বোঝে একা
মানুষী সীমানা দেয় পরিচয় ছিঁড়ে,
বিদেশীর সাথে হয় আয়নায় দেখা।
কতটা সুবোধ হলে নাগরিক হবে,
ব্যাখ্যাটি ধরা থাকে রাষ্ট্রের কাছে,
কোন গর্তের থেকে কেউটে বেরোবে
সে গুজব সেঁকে লোকে জাতীয়তা আঁচে
দেশী বিদেশী কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন
NRC-র জন্য মানুষের, মূলত বাঙালীর চরম দুর্ভোগ ও বিপদের প্রতিবাদ।
কোনখানে ঘর তার কোথায় স্বদেশ
মানুষ ভাবেনা সেটা যাপনের ফাঁকে
যেখানে রয়েছে সে শুরু থেকে শেষ
নথিরা বানাতে পারে আনভূমি তাকে।
আজ আমি দুধেভাতে, অ-বাস্তু তুমি,
কাল উল্টাবে কিনা বলা দুষ্কর,
ভিটে বলে কিছু নেই, শুধু বাসভূমি,
হয়তো এ ভাবীকালে অন্যের ঘর।
আজকে যে নাগরিক, কাল যাযাবর..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পিঁড়ে পেতে চিঁড়ে খাওয়া, তাও এই ভারতে,
কিভাবে পারলো ওরা বর্ডার পার হতে!
সাবধানে দোর এঁটে থাকো ঘরে জনতা,
এদেশীয় নয় ওরা, বলছি যা শোনো তা।
চিঁড়ে কত ভয়ানক, জানোনা তা তোমরা
টেররিস্ট বিদেশীর এ যে প্রাণভোমরা।
যে যত চিঁড়ে খায়, সে তত ফরেনার,
এ নতুন থিওরিটা শিখবে যে কবে আর!
সামলাতে দেশ জুড়ে কাগজের গোঁসাকে
বড় নেতা বলেছেন চেনা যায় পোশাকে।
এগোই আরেক ধাপ, স্বদেশীর ভিড়েতে
কোনটা বাংলাদেশী মাপা যায় চিঁড়েতে।
এই যে এন এর সি, এ কিসের জন্যে?
চিঁড়েখেকো খুঁজি জেনো , ভারী হয়ে হন্যে।
বাধ্যবাধক এক সওয়াল তো থাকবেই,
খাবারে যে খাবে চিঁড়ে,দেশে তার স্থান নেই।
চিঁড়ে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন NRC-র জন্য মানুষের, চরম দুর্ভোগ ও
বিপদের প্রতিবাদ। বিশেষত খ্যাদ্যভ্যস দেখেই যখন দেশের নেতারা বুঝে যান কারা বাংলাদেশী
অনুপ্রবেষকারী! ২৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে, মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের
(সিএএ) সমর্থনে একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করে বিজেপির নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির
দায়িত্বপ্রাপ্ত কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছিলেন যে তার বাড়িতে কাজ করতে আসা রাজমিস্ত্রিরা পোহা
(চিঁড়ে দিয়ে তৈরি) খাচ্ছিলেন, তা দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তারা বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারী।
চিঁড়ে দিয়ে মাপা যায়, আস্তিনে সাপটা
কারা দেশ দিতে চায় করে চিঁড়েচ্যাপ্টা।
যেইখানে বোম ফেটে শোরগোল হয় জোর
জেনো তার পিছে আছে দু দশটা চিঁড়েখোর।
এত করি সাবধান, তবুও ভেজাচ্ছো,
শুনেছি ভারতে কিছু লোক চিঁড়ে খাচ্ছো,
নজরে পড়ছে সবই, করে দিই সাবধান,
চিঁড়ে খেলে স্থান তার অচিরে ডিটেনশান।
চিঁড়ে চেনা সদুপায়ে বিদেশীরা বিদ্ধ,
এইবারে বিল এনে করবো নিষিদ্ধ।
তবুও এখনও যারা চিঁড়ে খেতে হ্যাংলা
তোমাদের দেশ জানি ওপারের বাংলা।
কাগজ দেবোনা যা, নে ঠেলা সামলা...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মনে হয় ওরা সব বলে দিয়েছে
সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ঠিক আগে
সিরিয়ান শিশুটি বলেছিল
স্কুলের মধ্যে উগ্রপন্থীর বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়ার আগে
পারিস্তানী কিশোরী বলেছিল
আঠারো নম্বর আই.এস.আই.এস. ধর্ষণ করার আগে
ইয়েজদি বালিকা বলেছিলো
স্কুল ব্যাগে মাদক নেবো না বলে
কোতোল হবার আগে কলম্বিয়ান কিশোর বলেছিলো
ভারতে চার পাঁচ জন খুবলে খাওয়ার পরে
স্বাসরোধ হয়ে আসা পাঁচ বছরের মেয়েটি বলেছিলো
তোমরা বড়রা শৈশবের সঙ্গে ঠিক করছো না
তোমরা আমাদের আগামীকে খুন করছো নির্মমভাবে
দাঁড়াও সীমানা পেরোই,
ওপারে গিয়ে তোমাদের নামে নালিশ করবো
তোমাদের সবার নামে
যেসব বড়রা আমাদের মারলে
আর যারা আমাদের বাঁচালে না
যে সব ধর্মযাজক এখনো প্রার্থনা করছেন পরম নিশ্চিন্তে
যে সব রাষ্ট্রপ্রধান এখনো মারাত্মক অস্ত্রের বিলিবন্টনে ব্যস্ত
যেসব লোকে এখনো শেয়ারবাজারের পতনকে
দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে
দেখুন আমরা ওই পারে গিয়ে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাদের সবার নামে নালিশ করবো
কী ভাবে শিশুদের প্রতিটা দিন
তোমরা বিষ দিয়ে ভরে দিয়েছো
আজ প্রতি ঘরে বড়রা দরজা বন্ধ করে বসে আছে
দরজার ঠিক বাইরে অদৃশ্য মৃত্যু অপেক্ষা করছে একটা ভুলের
সকলের মুঠোফোন স্ক্রীন জানান দিচ্ছে
আজ পর্যন্ত সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা
সংখ্যাটা বাড়ছে, বাড়বে, বাড়বেই
মনে হয় ওই পারে গিয়ে ওরা সব বলে দিয়েছে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একটা বিশাল মিছিল পথে নেমেছে
নানা ভাষা নানান বেশে স্লোগান দিচ্ছেন যাঁরা
তাঁদের দিব্যি চেনা যায়
কারোর মূর্তি আছে যত্নে সাজানো
কারোর দেখেছি ছবি হিস্ট্রি বইতে
আর আরও অনেককে সেলুলার লাহোর ও আলিপুর জেলে
ভারাক্রান্ত নামের তালিকায়
আজ তিয়াত্তর বছর স্বাধীনতা অতিক্রান্ত করে
কেন যেন ওঁরা নেমে এসেছেন অকস্মাৎ জীবিত পৃথিবীতে
আর কি অদ্ভূত অলৌকিক মিছিল চলেছে
এক আশ্চর্য স্লোগান দিতে দিতে
অগণিত অশরীরী সমস্বরে বাতাস কাঁপিয়ে বলে চলেছেন
ছাই চাই, চাই না ঠাঁই, ছাই চাই
কি প্রচণ্ড ক্রোধ সেই স্বরে
কি ভীষণ বিষণ্ণতা লেগে আছে মুখে
চোখ থেকে মুছে গেছে সব রোশনাই
মিছিলের পুরোভাগে মোহনদাস করমচন্দ গান্ধী
পাশেই সুভাসচন্দ্র বোস হাঁটছেন
কী আশ্চর্য!
তাঁদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্ষুদিরাম, তিন যতীন,
মাস্টারদা সূর্য সেন
আমি কি ভুল দেখছি?
চোখ কচলে আবার দেখি
হেঁটে যাচ্ছেন নেহেরু, প্যাটেল, খান আব্দুল গফ্ফর খান
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তাঁদেরই পাশে ভগত সিং, আশফাকউল্লা খান,
চন্দ্রশেখর আজাদ
সংগ্রামে কখনও ছিলো না যাঁদের সহাবস্থান
তাঁরাই আজকে মিছিলে এক
চিত্তরঞ্জন দাশের পাশাপাশি মানবেন্দ্র রায়
বালগঙ্গাধর তিলক হাঁটছেন কানাইলালের সাথে
সকলে ক্ষিপ্ত স্বরে তোলেন সেই একই স্লোগান
মুখগুলো বেঁকে যাচ্ছে অবর্ণনীয় কোনো যন্ত্রণাতে
ছাই চাই, চাই না ঠাঁই, ছাই চাই
আরও ভাল করে দেখার জন্য ভাবলাম একটু সামনে যাই
আমাকে দেখেই স্লোগান থামিয়ে ঘিরে ধরলেন ওঁরা
পাওয়া গেছে, উত্তর স্বাধীনতা ভারতের এক নাগরিক
দু-চারজন সংগ্রামী তখনও সন্দিহান
প্রফুল্ল চাকী বলে উঠলেন ---
কাগজপত্র দেখে নিয়েছেন তো ঠিক
শুনেছি, পঞ্চাশ বছরের তামাদী নথিতে
অতীত না দেখা গেলে নয়-নাগরিক বলে ডাক আজকাল
মাতঙ্গিনী হাজরা আর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
একসাথে বিলাপের সুরে বলে উঠলেন ---
কপাল! কপাল! সেই সব পরে হবে
আগে জিজ্ঞেস করি ওকে, দাঁড়াও,
আমার সামনে বাঘা যতীন, সীমান্ত গান্ধী আর সূর্য সেন
রুষ্ট মুখগুলো হতাশা ও বিষাদে মাখামাখি
আমাদের চোখে চোখ রেখে বলো
যে ভূমি স্বাধীন করতে আমরা লড়েছি, তার খণ্ডরা
পরস্পরের সঙ্গে লড়ছে এখন।
তাহলে আমরা কাকে দেশ বলে ডাকি?
ও সব এখন থাক
তীব্র গলার স্বরে, ঘুরে দেখি, বলছেন নাকামুরার বসু
ওরফে রাসবিহারী---
ত্রিবর্ণ উড়িয়ে এই এতগুলো বছরে কী স্বাধীনতা পেলে,
ব্যাখ্যা শোনাবো তারি
আগে ইংরেজ, আর এখন উপরে ওঠা কিছু
নেতা ও ব্যাবসায়ীর গোলাম রয়ে গেল দেশটা
এটা সেই স্বাধীনতা নয়
এই অগণিত লোক, প্রাণ বাঁচিয়ে রেখে
যার করেছে প্রচেষ্টা
এই ভুয়ো স্বাধীনতা পুড়ে যাওয়া ভালো
আজাদীর নামে এই ভণ্ডামী এখন
সহ্যের ছাড়িয়েছে সীমা
দেশ মানে চেতনা, সকলের ভালো থাকা
সমানে সমানে
তোমরা ভেবেছো কিছু অক্ষ-দ্রাঘিমা
অমনি সকলে মিলে আবার স্লোগান ---
এ ব্যর্থ স্বাধীন, মোরা ছাই চাই
এই ধর্ষণ, খুন,
জাতির দাঙ্গায় পিছনের দিকে যাওয়া ভূমি
আমাদের নয়
আমি সপক্ষে কিছু বলবার আগেই
স্বপ্ন ভেঙে যায়
অতীতের অগণিত সংগ্রামীর মুখের স্বপ্নজ্যোতির স্লোগান
পাখার ঘড় ঘড় আওয়াজ মেলায়
শুধু কুয়াশার মতো ঘন হয়ে রয়ে গেল
ভয়
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার কাছে কাগজ আছে, এই ।
কিন্তু আমার অন্য কিছু নেই ।
ভাতের পাতে শূন্য থালা
কারখানাময় ঝুললো তালা,
ভবিষ্যতের ভাবনাতে আজ হারিয়ে ফেলি খেই ,
কাগজ আছে, কারণ তা নয় নাচ লাগাতে ধেই ।
এই তো কাগজ, এটাই আমার মাটি,
অতীত থেকে অদ্যকালে এপথ ধরে হাঁটি,
সন্দেহ নেই , প্রমাণ কাছেই রাখি,
বাদবাকিটুক প্রকাণ্ড এক ফাঁকি,
অভাব তাড়ায় সারা জীবন, আর চলে না পা’টি
কাগজ থাকলে সুবিধা কি , কেউ কাড়ে না রা’টি।
কাগজ দেবো, তার বদলে থাকতে দিলেই হবে?
ডিগ্রী কাগজ দেখলে বেতন পেট ভরাবে কবে?
কাগজ থাকা কৃষক মজুর যত,
খেতে পরতে পাবে কি অন্তত?
তা না পেলে কাগজ কাগজ লাফাও কেন তবে?
কাগজ পেলেই প্রগতি কি লম্ফতে দৌড়োবে?
কাগজ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন NRC-র জন্য মানুষের, চরম দুর্ভোগ ও
বিপদের প্রতিবাদ।
কয় কোটি আর কাগজ ছাড়া বলো?
এক দুই তিন ছেড়ে দিয়ে দশই ধরি চলো।
বাকি কোটি একশো বিশ,
যাদের কাগজ নয় হাপিস,
আলুপেয়াঁজ কিনতে তাদের জীবন টলোমলো,
নেই কাগজের সাথে তবে কি বা তফাত হলো?
কাগজ দিলে তুমি আমায় কি দেবে তা বলো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেখবে যেদিন রাজার লোকে ,
কার বাড়িতে খায়নি কে কে ভোটের বালাই ছাড়াই,
বলবে হেঁকে ও ভুখা রে, মানুষ ছেড়ে চল খিদেকে তাড়াই,
খিদে সূচক উঠবে কিসে হিসেব কেবল হবে..
সব নাগরিক লাইন দিয়ে কাগজ দেবো তবে।
দেখি যদি পথে এবং ঘাটে,
হাঁকছে পাইক কে আছে তল্লাটে, যার হাতে কাজ নেই,
কে কোন পেশায় কেমন দড় বলবে তা আজকেই,
ঠিক হয়েছে বেকার বলে থাকবে না কেউ দেশে...
কাগজ নিয়ে লাইনে তবে দাঁড়াবো নিজে এসে।
হঠাৎ শুনলে পেয়াদার হুংকার,
স্কুল যেতে বাকি কোন কোন বাচ্চার, লিস্টি হচ্ছে করা,
একশো শতাংশ বালক ও বালিকার হবে লেখাপড়া,
সর্বসম্মতভাবে সংসদে পাশ হলো সেরকম আইন..
সাতদিন সাতরাত কাগজ দেখাতে দেবো লাইন।
কাগজ দেবো কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন NRC-র জন্য মানুষের, চরম দুর্ভোগ ও বিপদের
প্রতিবাদ।
ধর্ম ও জাত দিয়ে কলুষিত অতি
এত দিন যত পাওয়া পরিচয় নথি,তাই হলে রাষ্ট্রের কথা,
নতুন এক নথি যদি মুছে দেয় নাগরিক বিভাজন প্রথা,
যদি দাবী ওঠে শুধু দেশ ছাড়া কোনো পরিচয় রাখবোনা,
তাহলে কাগজ দেবো, লাইনে দাঁড়াতে পারি বিনা আলোচনা।
অন্যরকম হলে কাগজ দেবোনা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভাবনা কেন গান না হয়ে হচ্ছে শ্লোগান, ভাবুন রাজা
প্রায় প্রতিদিন জ্বলছে কেন আগুন তাজা, ভাবুন রাজা।
মেশিনগানের বুলেটগুলো ফুঁড়ছে কাদের একটু দেখুন ,
ভেজায় যারা দেশের মাটি ,কাদের সে খুন, ভাবুন রাজা,
মঞ্চ থেকে একমুখী তোপ দাগার থেকে নামুন রাজা।
এদেশ বড় রামধনু দেশ, ভিবজিওরের বর্ণরা সব পাশাপাশি
ডান বাম আর মধ্যপথের মত সব আর সব উৎসব পাশাপাশি,
মৌলভাষের সর্বনাশের মধ্যে থেকেও মিলনকামী চারিত্রিকে,
খুব বিপরীত মানুষজনও চলছে তাদের জীবন লিখে পাশাপাশি,
জানুন রাজা, আর কিছু নয়, সুতোয় এদেশ গাঁথে ভালোবাসাবাসি।
দেশ বলে যা বইছে সবার শিরায় শিরায় রক্ত বলে, রাজামশাই
পাল্টায়না ধর্মটা তার, বিরোধী বা ভক্ত হলে , রাজামশাই।
এদেশ আমার, আমার মাটি, সবাই দেশের জন্য খাটি,
ভারত মা আর হিন্দ-এ জয়ে নেই তো কোনো ঝগড়াঝাঁটি রাজামশাই,
সন্দেহতে যায় আসে না, দেশ আমাদের, চলুক নথির যেই তামাশাই।
মেশিনগানের বিরুদ্ধে তাই দেশের হয়ে শ্লোগান তুলি, রাজামশাই।
শুনুন রাজা কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন
NRC-র জন্য মানুষের, চরম দুর্ভোগ ও বিপদের প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগে নাগরিক বুঝি, তারপরে দেবো রুটি রুজি।
ভালো করে খুঁজি গলিঘুঁজি ,
কোথায় বিদেশি আছে আনাচে কানাচে,
একজনও না বাঁচে নজরের থেকে,
এদেশ ওদেশ থেকে এভূমিতে লুকিয়েছে কে কে,
বেছে বেছে উপড়াবো আগাছার ঝাড়! ..
এই বলে মহারাজ দেন হুংকার!
ব্যাপারটা খুলে বলি, ভালো হবে তাতে।
শিক্ষা সবার চাই, কাজ চাই হাতে,
প্রজা উত্তাল ভারী এমন দাবীতে।
চাইলেই হাতে মোয়া দিতে হবে ফ্রী-তে,
এমন আজব কথা কোত্থাও নেই লেখা,
দিচ্ছি এবং দেবো, পরে যাবে দেখা,
সেসব বুলিতে ঠাসা সব মসনদই,
যদি আর কিন্তুতে টিঁকে থাকে গদি।
যাকগে সে কথা,
আবিলতা যত ঘাঁটো গন্ধ বেরোবে,
অতটা সাবান নেই সে নোংরা ধোবে,
ভারী বিচ্ছিরি! তার চেয়ে গল্পতে ফিরি..
হয়েছে কি জানো,
কোষাগারে আছে বড় তালা আটকানো।
ফাইন কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। হঠকারী আইন NRC-র জন্য মানুষের, চরম দুর্ভোগ ও বিপদের প্রতিবাদ।
ভেবোনা তা বলে আছে রত্ন মানিক,
চোরে নিয়ে ভেগেছে বিদেশে খানিক,
আর বাকি লুটেপুটে খেয়ে গেছে কারা,
সকলে যদিও জানে তাদের চেহারা, বলাটা নিষেধ।
কার বুক করে যায় ভেদ কখন বুলেট,
মুখ খুলে বুঝলেও তখন too late,
ক্ষমা চেয়ে লাভ নেই কিছু।
দাঁড়াও একটু দেখি, আসে কোনো লোক নাকি পিছু,
যুগ ভালো নয়।
চারদিকে কুয়াশার মতো জমে ভয়।
ওই দেখো, শিবগীতি গাই ধান না ভেনে।
জানা জিনিস লাভ হবে কি জেনে,
গল্পে ফিরুক চোখ।
হয়েছে কি, খিদের মুখে বেরোজগারে পাগল হলো লোক।
সবার দাবী ভাত আর রুটি,
রাজামশাই কাটান ছুটি হরেক দেশে,
মাঝে মাঝে যেই স্বদেশে পড়েন এসে,
দুকান ঝালাপালা করে প্রজার দাবীদাওয়া,
সমর্থনের প্রবল হাওয়া থিতিয়ে আসে যেন,
যাচ্ছে বেকার ধর্ম নিয়ে একঘেয়ে ঘ্যানঘ্যানও,
সীমান্ততে হুজ্জতিটাও খাচ্ছে না লোক ঠিক,
কি দিয়ে দেন ঠেকা?
হঠাৎ মনে ভাবনা আসে, ‘ ইউরেকা , ইউরেকা!’
হুংকার দেন রাজামশাই,
সামনে এসো, দেখি কি চাই,
সব দাবীকে মান্যতা দিই, আমি সরলমতি
যা কিছু চাও দেবো সবই,
দাবীর আগে দেখাও ছবি,
দেশটা তোমার সেই প্রমাণে দেখাও দেখি নথি।
যে নাগরিক , সে সব পাবে,
বিনা নথি বাইরে যাবে, এই করলাম আইন!
রুটি রুজির কথা ভুলে,
যে যার নিজের নথি খুলে দিচ্ছে এখন লাইন।
রাজামশাই গবাক্ষতে,
হাস্যমুখে কথার স্রোতে,
বিদেশী চ্যানেলে বলেন ‘Kingdom is fine!’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লাইনটা বেশ লম্বা ছিলো, নাহোক ধরো কিলোমিটার,
মাস্কে সবাই দূরে দূরে, স্তম্ভিত এক মিছিল যেন,
দাঁড়িয়ে আছে মুখে কুলুপ, বাক্যে ছেটায় থুতু দেদার,
সেসব থেকেই জ্বরের পোকা, বোকার মতো কথা কেন?
মাস্কে কিছু যায়না বোঝা, জিভ দিয়ে কি ঝরছে লালা,
হাজার চোখে তৃষ্ণা লেখা, খুলবে কখন সাধের দোকান,
কারবাসের দিন পেরিয়ে, আজ খুলেছে বন্দীশালা,
ইচ্ছা সবার গুচ্ছ বোতল, আজই কিনে ফ্রিজে ঢোকান।
উল্টোদিকের ফুটপাতটায়, আরেক রকম মানুষ সারি
গোল চক্রের মধ্যে বসে, দৃষ্টি উদাস সমুখপানে,
জীর্ণ শরীর ছিন্ন বসন, তারাও কিন্তু মুখোশধারী,
এঁরাও কথা বলেন না কেউ, শুকায় লালা খিদের টানে।
এন জি ও রা খাবার বাঁটে, তারই আশায় এঁদের আসা
রুজি গেছে লকডাউনে, রোগের ভয়ে রুটিও হাওয়া,
বাসস্থানের নেই ঠিকানা, পেটের ভেতর খিদের বাসা,
কোনোক্রমে দয়ার দানে, এক দুবেলা জোটে খাওয়া।
খুললো দুয়ার মদ দিতে আজ ,ওই ফুটপাত উঠলো জেগে,
দু চার বোতল কিংবা পেটি, যার যেরকম হপ্তা খোরাক,
সবার হাতেই কড়কড়ে নোট, দোকান খালি হচ্ছে বেগে,
লোক ভাবে আজ আবশ্যকই, মিডিয়া যতই কথা ঘোরাক।
দুই ফুটপাত কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। করোনা কালে লকডাউনের মধ্যে এক শ্রেণী মদের দোকানে লাইন
দিচ্ছে, অন্য এক শ্রেণী খাবার জন্য লাইন দিচ্ছে। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২২.৬.২০২০।
এই ফুটপাত হচ্ছে সজাগ, ওই যে আসে ভাত দেওয়া ভ্যান
সকাল থেকে ছুঁচোর ডনে, আজের জন্য পড়বে ইতি,
হাত ধোওয়া নেই এদের কারো, সাবান কি আর এন জিও দেন
রাতের খিদেয় সান্ত্বনা দেয়, দুপুরবেলার খাওয়র স্মৃতি।
ঘন্টা দুই বা তিনের পরে, সব শুনশান দু ফুটপাতেই,
যে যার মতো খাঁই মিটিয়ে, গেছে ফিরে নিজের ডেরায়
একলা পুলিশ দিচ্ছে টহল, তা ছাড়া আর মনিষ্যি নেই
ব্যস্ত কুকুর খাবার খোঁজে, এদিক ওদিক ঘোরাফেরায়।
মদ-ফুটপাত বললো ডেকে, ওরে ও ভাই যমজ সাথী
মানুষগুলোর রকমসকম , আজও ঠাহর হয়না বিশেষ,
একদিকে এই নেশার গুঁতো, অন্য দিকে খিদের লাথি,
নেতারা যে মাইক বাজান, এদের মাঝে কোনটা সে দেশ?
ভাত- ফুটপাত বললো হেসে, খুঁজিসনা ভাই তার ঠিকানা,
আমিও ভারত, তুইও ভারত, মধ্যে পথের লাইন টানা।
হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও, ঘুচবে না ওই তফাৎখানা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দু হাজার বিশ। সবাই বলছো জানি এ বছর কাটলেই বাঁচি,
মাস্ক পরে, হাত ধুয়ে জীবাণুর সাথে রোজ খেলা কানামাছি
সহ্য হয়না। খুনে এ বছর খেলো বয়েসের গোটা এক সাল খুবলিয়ে ,
সোয়াস্তি নেই আজ ঘর বার কাজ ও ছুটিতে।অবশেষে আসছে এগিয়ে,
বছরের শেষ, এইবারে বাঁচা যাবে। সে আশার বীজ মনে পুষে,
পারলে দৌড়ে যাই আমরা একুশে, কিন্তু যাচ্ছি যাকে দিনরাত দুষে,
সত্যি কি তার অপরাধ? এ বিশ্বযুদ্ধতে যত হলো অকারণ লাশ,
প্রতিটি চাকরি খোয়া সদ্যবেকার, খালিপেট খিদেদের ত্রাস সন্ত্রাস,
তাদের কারণ কি কেবল করোনা? জামলো মকদম, নাম মনে পড়ে?
চটকানো মৃতদেহ চোদ্দটা শ্রান্ত মানুষের, ক্যামেরা ফোকাস করে রুটির ওপরে,
রক্তের ছিটে যেন রাষ্ট্রের স্নেহ মাখা জেলি। মনে পড়ে কত লোক হাঁটলো অযুত ক্রোশ?
রোজকার রোজগার গাঢ় অনিশ্চিতে, সে ভবিতব্য ছিলো জীবাণুর দোষ,
নাকি সেটা রাষ্ট্রের পরিকল্পনাহীন হুকুমের ফল? ফুলেফেঁপে লাল হলো কিছু ব্যবসায়ী,
আম্বানি পাঁচনংয়ে এই কোভিডেই। ব্যাঙের আধুলি সব হলো উদ্বায়ী,
অথচ ধনীতম হলো ধনীতর, সেও কি বলবে ওই কোভিডের রোগে?
জীবন ও জীবিকার এই তছনছে, সেনসেক্স গগনে চড়ে কার উদ্যোগে?
কিছু ডাক্তার শুধু ফাঁকতালে গেছে মারা। কিছু পুলিশের গেছে জান,
আকাশে ছেটানো ফুল, ভুয়ো হাততালিসহ দেওয়া শহীদের সম্মান,
আড়াল করেছে সব। এখনও স্বাস্থ্যে ব্যয় নয়খানা রাফায়েল থেকে কমদামী,
যার পরিবর্তন নেই। খুলে গেছে সব শুধু ইস্কুল বাদে। কোথায় চলেছে আগামী,
নির্দোষ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। কবির প্রশ্ন - করোনা-কালে মানুষের চরম দুর্দাশা কি করোনার দোষ না কি পরিকল্পনাহীন হুকুমের ফল!
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২২.৬.২০২০।
সেটা নিয়ে কেউ নয় ভাবিত তেমন। শুধু ভিড় করে নেতাদের হচ্ছে ভাষণ,
সকলের জন্য স্বাস্থ্য যার উপজীব্য নয়। সেখানে মুখ্য আজও ধর্মতোষণ,
যেন মন্দির মসজিদই জোগাবে পেটের ভাত, শিশুমৃত্যুর হার কমবে তাতেই,
যেন নেতা জিতে গেলে পালাবে কোভিড।আজও ধর্ষণে দেশে কোনো হ্রাস নেই।
এই সব বিষ ছিলো কোভিডের আগে থেকে, কত আর করে যোগ জীবাণু বেচারা,
মুখোশ পরিয়ে দিয়ে আদতে উলঙ্গ করে দিয়েছে সে শাসনের হিংস্র চেহারা,
যেখানে নাগরিক শুধু ভোটদাতা, অধিকারের পাওনাদার সে বনেনা কখনো,
বড়জোর কৃপাভিক্ষা পেতে পারে কিছু, খামোখা ডেমোক্রেসির মায়াজাল বোনো।
প্রথমে হাঁটলো পরিযায়ী, এখন হাঁটছে কৃষক। আগামীতে হয়তো তুমিও।
সে হাঁটায় কোভিডের দোষ নেই কোনো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এতটা অসাড় তুমি কবে হলে দেশ?
মহামারী আজ যেন ব্যবসা বিশেষ,
প্রাণবায়ু বেচে কেউ দশগুণ দামে,
আরো কত নিচে বলো সম্মান নামে?
কি করো ওপরে বসে, হে সিংহাসন?
চিরনিমিলিত আঁখি খুলবে কখন?
রাম দেশী বীর পান কোটি দুহাজার,
Ramdesivir নিয়ে কৃষ্ণ-বাজার,
এসব দেখেও থাকো এমন নীরব,
শব নয়, পোড়া দেশে ভোট বুঝি সব?
এতটা অসাড় কেন তুমি নাগরিক?
মাস্ক ছাড়া বেরিয়েছো, মাথা আছে ঠিক ?
হাবিজাবি খেয়ে যাও করোনা তাড়াতে,
অথচ করছো ভিড় দোকানে পাড়াতে,
মারীর আগুনে ঢালো দুই হাতে ঘি ও,
ঘরে বুঝি কেউ নেই সেরকম প্রিয়?
ম’দি মোদী কাস্তে’র হিসেবটা পরে,
আপাতত ঢোকো গিয়ে ঘরের ভেতরে,
প্রথম সুযোগ এলে নিয়ে নাও টিকা,
মাস্ক পরো, দেশে জুড়ে আজ বিভীষিকা।
অসাড় কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। সাধারণ মানুষ এবং সরকার সবার বিরুদ্ধে
সর্তবাণী।
জানি এই সব বলা বধিরের কানে,
অসাড় কতটা তুমি, সমকাল জানে।
তুমিও অসাড় আজ, প্রভাবী মিডিয়া
ভূমিকা তোমারও বড় দুখজাগানিয়া।
মঞ্চে মিছিলে দেখে বড় বড় নাম,
তুমি সব ভুলে যাও চতুর্থ থাম,
ক্যামেরা প্যানিং করে ভিড়ে ও শ্লোগানে,
করোনাবিধির কথা গেছে কোনখানে,
সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে পা নড়বড়ে,
নেতা কাছে এলে বুঝি ভারী ভয় করে?
অবশ্য তোমারই বা কতটুকু দোষ,
মালিকেরা হাতজোড় আপোষ-পাপোষ,
ট্যাঁ ফোঁ একটু হলে চাকরিটি নট,
অথবা মধ্যরাতে দরজায় খট।
যে স্বপ্ন দেখেছিলে কিছু মেলেনি তো,
ফ্রীডম অফ প্রেস সে তো বহুকালই মৃত।
কিছু বোকা লোক মানে করোনার বিধি
মঞ্চের থেকে হাসে জী , দাদা, দিদি।
বেনিয়মই যেই দেশে চলে লাগাতার,
অসহায় বিজ্ঞান সেখানে অসার।
কুষ্ঠরোগীর মতো এ দেশ অসাড়........
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মারুক না লোক জ্বরের কষাই,
আমরা তো স্রেফ মাছি মশাই,
কোষ্ঠী জুড়ে শনির দশাই,
করেন কী আর রাজামশাই,
দোষ কেন দাও তাঁকে?
যতই উনি প্রাসাদ বানান,
বিদেশ থেকে বিমান আনান,
লোকের ভিড়ে তারিফ জানান,
মগজ ধোওয়ার অস্ত্র শানান,
খেয়াল কি কেউ রাখে?
রাখেও যদি , বলেন না কেউ,
বাঘের পেছন ডাকেন না ফেউ,
মারছে মানুষ করোনা ঢেউ,
যায় আসে কি তাদের আদৌ
ওপর যারা থাকে?
পাঁচ বছরের একটি ভোটে,
পুচ্ছ নড়ে গুচ্ছ নোটে,
একটু যদি ভিক্ষে জোটে,
বেশির ভাগই সেদিক ছোটে,
ভাত খুঁটে খায় কাকে।
সেটাই যখন নিয়ম দেশে ,
সহ্য করো তখন হেসে,
অনড় কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১০ই মে ২০২১।
আমজনতার নানান ক্লেশে,
ওপরমহল বেশ আয়েশে,
খেলেন কোটি লাখে,
কাজেই রাজার প্রাসাদ হলে,
লাভ কি রে ভাই চেঁচিয়ে বলে,
দেশটা যখন যার দখলে,
তার ইচ্ছেতেই শাসন চলে
আমরা পিষি ফাঁকে।
এই যে কোভিড বাড়লো ভিড়ে,
শুধুই রাজার দোষ সে কি রে,
শরীর রাখে রক্ষী ঘিরে,
স্টেজ থেকে যান প্লেনে ফিরে,
মানেন নিয়মটাকে।
তাই দেখে সব কোভিড-বোকার,
ইচ্ছে হলো ভিড়ে ঢোকার,
উপায় তো নেই তাদের রোখার,
খুব সুবিধা জ্বরের পোকার,
শিকার ঝাঁকে ঝাঁকে।
গণতন্ত্রতে গণ-ই বিষ্ঠা,
ভাগে জোটে শুধু বর্জ্য বিষটা,
ঈশ্বর বলে চাই প্রতিষ্ঠা ,
তাই তো রাজার বনছে ভিস্টা,
পচা ঘ্রাণ নেই নাকে।
আমাদের কাজ হাত ধুয়ে যাওয়া,
শ্বাসের কষ্টে জুটবে না হাওয়া,
ভোট এলে মেলে ভিক্ষার খাওয়া,
আধাপেট খেয়ে গুনগান গাওয়া,
মাছ ঢাকা থাকে শাকে।
প্রিয়জন গিয়ে খালি হলে দাওয়া,
অসহায় শুধু শূন্যতে চাওয়া,
‘দেশের জন্য’ রাজার ‘বুলাওয়া’,
এলে দুইহাতে চোখ মুছে নেওয়া,
ঘা দিতে জয়ঢাকে।
ফুসফুসে যত হাওয়া হোক হাওয়া,
ভিস্টা উঠতে থাকে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জি এস টি তুলে দিলে দর যাবে বেড়ে,
অর্থনীতির প্যাঁচ বোঝে হায় কে রে,
রাজকর বেশি হলে কমে যদি দাম,
নিয়মের খুরে তবে রইলো প্রণাম।
বিক্রেতা দুইজন, ক্রেতা হলো তিন
এভাবেই বন্টন দেশে ভ্যাক্সিন।
কেন্দ্রের দর থেকে রাজ্য ডবলে
তারও দ্বিগুন দেবে প্রাইভেট হলে।
তুমি যদি বিক্রেতা হতে হে সুজন
ভালো করে ভাবো যেতো কার দিকে মন।
ব্যবসায়ী চাইবেই লাভ হোক বেশি,
সস্তায় মাল দেবে আশা কোনদেশি?
সুতরাং প্রাইভেটে যত অর্ডার,
দিয়েথুয়ে তারপর পাবে সরকার।
ভ্যাক্সিন না পাওয়ার এই হাহাকারে,
আড়াইশো পৌঁছাবে এক দুহাজারে।
রাজ্য বরাত দিক যত না কোটিতে,
দু চার লাখ পাবে টিকার ঘটিতে।
ওটুকু শান্তিজল কোন কাজে লাগে,
কতটুকু আসে দেখো গরীবের ভাগে।
যারা বড় ধনী তারা পাবে ফাইজার
হয়তো বা দাম হবে পাঁচ ছহাজার।
টিকা-ধরণ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১০ই মে ২০২১। করোনার টীকার ক্রয়
ও বন্টন নিয়েও মোদী সরকারের হঠকারীতার বিরুদ্ধে লেখা।
ওটাকা নস্যি ভাবা লোক কত আছে,
সেঁকে নেয় রুটি যারা এ মারীর আঁচে।
সবাই সমান মোটে নয় এইদেশে,
ভারত আর ইন্ডিয়া কবে আর মেশে।
অথচ এ ভ্যাক্সিন সবার না হলে,
যাবেনা কোভিডজ্বর দেশ থেকে চলে।
রাজনীতি শুনছে না, লাভ নেই বলে..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোভিড কাদের মারছে এবং কাদের ধরেও মারছে না,
চেষ্টা করেও তাদের কোনো প্যাটার্ন চেনা যাচ্ছে না।
ছক মেলে না কোমর্বিডে , কার কী কখন নেই জানা
এ বাঁশবনে বিজ্ঞানীরা হাতড়ে খোঁজা ডোমকানা।
ওষুধ কতই এলো গেলো , এই আছে এই নেই বলে,
ডাক্তারেরাও হাত তুলে দেন হারিয়ে গেছে খেই বলে।
ভরসা ছিলো কাল ক্লোরোকুইন, আজ আইভারমেকটিনে
কেউ বা হাঁকেন এসব বেকার, সব সমাধান ভ্যাক্সিনে।
একটা ব্যাপার দেখছি বটে, বলছে ওষুধ যখন যা,
ঠিক সে সময় বাজার ঘুরে সেটাই পাওয়া যাচ্ছে না।
হোক না সেটা সি ভিটামিন, কিংবা অ্যান্টিভাইরালই,
হোয়াটসঅ্যাপে রটলে পরেই সব দোকানে স্টক খালি।
অক্সিজেনের এই বাজারে দাম চড়েছে পাঁচ ছ’গুন,
চাইলে রসিদ বলবে দোকান মশাই নিজের পথ দেখুন।
তিনটাকা মাস্ক বেচছে বারো’য়, হুড়মুড়িয়ে কিনছে লোক,
হুজুররা সব সুখেই আছেন, এসব দিকে নেই কো চোখ।
ভুলেও কোনো কোভিড পেলে জিভ চেটে নেয় কর্পোরেট,
জীবিত বা মৃতই বেরোক, লাখ দশেকের তেনার ভেট।
উপরি দাবী হাজার পাঁচেক মৃতদেহের শেষ কাজে
যে যাই বলুক লাগছে মারী কিছু লোকের বেশ কাজে।
কাউকে জানে মারছে কোভিড, বাকির পকেট করছে শেষ
প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে কই, আমরা ভীষণ বাধ্য মেষ।
মহামারীর বেওসাদারি দেখতে এসো আমার দেশ।
বেওসা কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ২৯.৫.২০২১।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেই যদি ধান ভানলে মনা, লাভ কি শিবের গীতে,
কাল বারোশো দাম ছিলো যার, আজ তাকে দাও ফ্রিতে।
দেশের মানুষ চিল্লে যেটা চাইছিলো খুব এদ্দিন,
হাত ঘুরিয়ে ধরলে সে নাক, নিখরচাতেই ভ্যাক্সিন।’
চলবে ওসব চাপানউতোর ভোট কুড়ানোর ধান্দাতেই,
রাজনীতিতে লাভ দেখে না, এমন কোনো বান্দা নেই।
নির্বাচনের সিঁড়িভাঙায় যিনিই হাসুন শেষ হাসি,
যায় আসেনা, চাইছে জ্বরের নিকেশ এবার দেশবাসী।
সামলিয়ে ঝড় চললে জাহাজ বিনা জ্বরের কুল পানে,
অভিধানে মুছবে তখন পজিটিভের ভুল মানে।
চারখানা মাস নষ্ট হলো তাই ভেবে আর কষ্ট কি,
সেই অতীতে এই আগামী কেউ দেখেছেন স্পষ্ট কি?
সময় এবার কোমর বাঁধার, হাতে সময় নেই আর,
তিন নম্বর এমন হলে সইবে না দেশ সেই মার।
একজনও বাদ গেলে টিকায় বাকির বিপদ রইবে
আর কতদিন ব্রেকিং নিউজ শবের খবর বইবে?
অতীত ঘেঁটে লাভ কিছু নেই, সামনে অনেক কাজ যে,
শেষের লড়াই এবার শুরু, দুন্দুভি ওই বাজছে।
গোলাবারুদ খরচা না হয় কেন্দ্র বনাম রাজ্যে।
শেষের লড়াই কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ৯.৬.২০২১।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর চিরাচরিত নাটুকেপনা ও নৌটঙ্কীতে তাঁর ইচ্ছাকৃত ভুল
পথনির্দেশিকার ফলে, শত সহস্র দেশবাসীর মৃত্যুর পরে, সুপ্রীম কোর্ট এবং বিরোধী
দলনেতৃবৃন্দের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে, কোনো রকম ক্ষমা না
চেয়ে, বিনামূল্যে সকলের জন্য টিকার ঘোষণা করার পরে রচিত কবিতা . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাষ্ট্র যতই ভাবুক আমায় সমকালের গলগ্রহ,
আগামীতে দেশ বাঁচাতে কথায় আমার এ বিদ্রোহ।
দেশ ভালো নেই, এই কথাটা বললে জানি পুলিশ আসে,
তার মানে নয় পিঠ বাঁচিয়ে মন ভোলাবো মোহনভাষে।
বলতে পারো ভারী তো ওই পদ্য লেখো আঞ্চলিকে,
পাঠ করবার লোক পেয়েছো সাকুল্যে ওই পাঁচ ছ’টিকে,
ঢাল তরোয়াল কিচ্ছুটি নেই, নিধিরামও লজ্জা পাবে,
কোন সাধনার মহান বলে প্রতিবাদের শব জাগাবে?
প্রথম কথা , শিরদাঁড়ারা সবাই যদি গেছেই মরে,
ব্যস্ত কেন পুলিশ তবে এফ আই আর আর ধরপাকড়ে?
হঠাৎ করেই ভরলো কি দেশ মীরজাফর আর বিভীষণে?
রোজ এডিশন নতুন বেরোয় কেনই বা আজ সেডিশনে?
দ্বিতীয়ত, আমিও জানি লেখার মূল্য নেইকো কিছুই,
হুজুররা আজ উচ্চে এত , একটা চুলও সাধ্য কি ছুঁই।
তবুও জেনো, এটাই ভেবে প্রদীপ জ্বালায় ছোট্ট শিখা,
কারো মশাল জ্বলবে তাতে, কাটবে রাতের বিভীষিকা।
শেষ কথাতে এটাও ভাবার, সবার আয়ুর শেষ রয়েছে
অন্তিমে চাই দেখতে এটাই , সবার আগে দেশ রয়েছে।
দেশের ভেতর কোথায় কালি, না কয় যদি দেশোয়ালি,
তবে তো তার দেশের প্রেমেই ভণ্ডামি আর বিষম জালি।
কেউকেটা কেউ ভাবুন যতই এই কবি তাঁর গলগ্রহ,
লিখবে কলম রাস্তা দেশের কোথায় পেছল অহরহ।
দেশকে ভালোবাসার মানে অনেক সময় রাষ্ট্রদ্রোহ।
গলগ্রহ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ২৪.৬.২০২১।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি ভাবছো তোমার কিছু নয়?
ওই যে কিছু কালো মানুষ মারলো পুলিশ মার্কিনে,
জাতি ধরে সাফ করে দেয় মায়ানমারে আর চীনে
তোমার এতে কী আর এমন ভয়!
ঘরের ভেতর ভাবছো তুমি তোমার কিছু নয়।
সত্যিকথাই, তোমার কী যায় আসে?
আফগানে আজ ধ্বস্ত নারী তালিবানের গুলির বানে
বেলারুসে বিরোধী স্বর নামিয়ে আনে মাঝউড়ানে,
তোমার তো মুখ শুদ্ধ দেশি ঘাসে!
কোন বিদেশে কাকে পেষে, তোমার কি যায় আসে?
খবর ছড়ায় এখন সবার কানে।
কাঁটাতার আর পাসপোর্টে মানুষ যতই আটকাক না,
মেরুর থেকে বিষুবরেখায় খবর মেলে তার পাখনা,
সবার কথা সবাই এখন জানে।
ছাপোষাদের মতোই আসে সব শাসকের কানে।
শাসক মানেই ক্ষমতা তার নেশা।
ভোট চাওয়া আর চাবুক মারার মধ্যে ফারাক স্রেফ মানসিক
সুযোগ পেলেই জোড়হাতেরা জোর করাতে বদলাবে দিক,
বিরোধীদের কণ্ঠ হবেই পেষা।
শাসক মানেই চব্বিশ সাত ক্ষমতা যার পেশা।
তোমার কিছু নয় কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১১.৯.২০২১।
তাদের কাছে দুনিয়াটা অত্যাচারের স্কুল।
কোন উপায়ে করলে দমন ব্যাপকহারে শত্রু কমে,
নানান দেশের শাসক শেখেন খবর থেকে পাঠক্রমে
জনতারই সব ক্ষমতা, এখন সেটা গুল।
মায়ানামারে বা আফগানে শাসকরা যান স্কুল।
তুমি ভাবছো তোমার কিছু নয়?
ওসব শুধু অন্য কারোর হয়?
ঘুমাও তবে,
প্রজন্ম ভোগ করবে তোমার এড়িয়ে যাওয়ার ভুল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সাবধান! বিগ ডেটা রাখছে নজর!
মনুষ্য নও তুমি, ডেটা প্রসেসর।
কোনটা লাইক দাও কাকে করো ফলো,
তার সাথে ক’মিনিট চ্যাটে কথা বলো,
রাজনীতি ধর্মতে আছো কার টিমে
সব কিছু ধরা পড়ে অ্যালগরিদমে।
হরিদাস পাল তুমি না রহিম শেখ,
কখানা আই ডি আছে রিয়াল বা ফেক,
কী খাও, কী পরো, কী মাখো চুলে,
ক্লাসে পাশে বসতো কে ক্লাস ফোরে স্কুলে,
কাকে গালাগালি দাও, কার পায়ে তেল,
প্রেম নিবেদন করে কতবার ফেল,
মনোযোগ কতখানি অতীত রিফুতে,
মগজ কতটা মাতে আদিম রিপুতে,
অবসরে তা দাও কী ঘোড়ার ডিমে
চুপচাপ সব ওঠে অ্যালগরিদমে।
নিজেই দিচ্ছো তুমি, করছে না চুরি,
তবুও খেয়াল রাখা ভীষণ জরুরি।
তোমাকে পড়ছে ওরা খোলা বই করে,
কি সুতোয় নাচো সেটা ফেলেওছে ধরে
তোমার আবেগ কোডে হয়ে গেছে লেখা
কি হলে পটবে তুমি জলবৎ শেখা,
প্রসেসর কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১১.৯.২০২১।
এইবারে সেই কোড উঠবে নিলামে,
কিনে নেবে কোনো ধনী পোষালে তা দামে,
তারপর ফোন জুড়ে আর ল্যাপটপে,
ফাঁদটা সাজাবে তারা নানাবিধ টোপে,
আগে থেকে জানা আছে যেটা তুমি খাবে,
বঁড়শি রয়েছে গাঁথা নজর এড়াবে,
ছিপওলা হতে পারে ব্যবসায়ী কোনো,
( নতুন বা হতে পারে চেনা অ্যামাজনও),
অথবা ভোটের খোঁজে রাজনীতি নেতা,
জেনে গেছে কী পড়ালে নিশ্চিত জেতা,
তুমি দাস জ্বিন হয়ে আটকে পিদিমে,
তাই করো যা হুকুম অ্যালগরিদমে।
ফ্রি অ্যাপে সুখ খোঁজো যে সব আনাড়ি,
কেন তারা ফ্রি সেটা বোঝো তাড়াতাড়ি।
সে তোমার ডেটা নিয়ে স্টোর করে রাখে
যার লাগে টাকা নিয়ে বেচে দেবে তাকে।
বিনিপয়সায় পাওয়া হয়না যে কিছু,
কারো কোনো লাভ থাকে সব ফ্রি’র পিছু,
সেই কথা জেনে রেখো অ্যাপেতেও খাটে
নিজেরই আগামী কাল না তুলে লাটে,
ডেটা শেয়ারে স্পিড করে দাও ঢিমে,
নিজেকে দিও না সঁপে অ্যালগরিদমে।
তুমি শুধু প্রসেসর এই গ্র্যান্ড স্কিমে..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অক্সিজেনের অফ সিজনে মরলো কিছু মানুষজন,
রাজামশাই দিলেন বলে , মোটেই সেটা নয় কারণ।
গ্যারান্টি কই বাঁচতো ওরা লাগিয়ে দিলে অক্সিজেন?
ভাগ্যে ওদের মরাই ছিলো, অক্সি তো স্রেফ প্রক্সি দেন।
সবাই জানে , বাতাস জুড়ে অক্সিজেনের রমরমা,
শ্বাস টানলেই হুস করে তা ফুসফুসময় হয় জমা।
সামান্য এই সহজ কাজই পারলো না যেই বোকার দল
মরাই তাদের ঠিক হয়েছে, যেমন কর্ম তেমনি ফল।
কিছু লোকে ঠ্যাঁটার মতো সহজ ব্যাখ্যা বুঝছে না,
দেশদ্রোহের কায়দা এসব রাজার লোকের খুব চেনা।
যা কিছু হয় সবকিছুতেই দেখবে ওরা রাজার দোষ,
এমন ব্যাপক হ্যাটা করে , নাম যেন তাঁর নন্দ ঘোষ।
বিশ্ব মাঝে এ দেশ সেরা পিটছে ঢেঁড়া সবদিকে,
দেশপ্রেমের কোরাস ধুয়োয় বাকি সবার রব ফিকে
সব বরাহ বলছে তবু সরবরাহ কম নাকি,
অক্সিজেনের অভাব হয়েই বেরিয়ে গেছে দম বাকি।
পোস্টমর্টেম বললো কোথাও অক্সিবিহীন মরলো কেউ?
শবের সাথে প্রমাণগুলোও সব নিয়েছে নদীর ঢেউ।
প্রমাণ যদি না থাকে তো দোষটা কেন দাও শুনি?
পেয়াদা ওই তৈরি আছে, ডাকবো নাকি এক্ষুণি?
অ-কারণ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ২৪.৭.২০২১।
তোমরা যারা ভাবছো কেন হুড়োতাড়ায় অক্সি প্ল্যান্ট,
তলিয়ে তারা ভাবছো না কেউ, ভীষণ বোকা ইগনোরান্ট।
ওসব ছিলো আগে থেকেই নিখুঁত পরিকল্পনায়,
হিংসুটে আর দুষ্টুরা ঝাল মশলা ঢালে গল্পটায়।
পাঁচ হাজারের সিলিন্ডারের উঠলো যে দাম চল্লিশে,
সবই গুজব, মন্দলোকের গুলের যত জল মিশে।
অক্সিজেনের অভাব হওয়ার গল্পগুলো সব ঝুটো
শুনলে দিও কানে আঙুল, পড়লে বোজো চোখদুটো।
গঙ্গা বেয়ে শবের সারি? ধ্যাত্তেরি, ও খড়কুটো…
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধাঁই ধপাধপ ধাপড় ধাঁই,
চলছে প্রচার হাপর ভাই,
পড়বে চাপা কেউ চেঁচালে
ও রাজা তোর কাপড় নাই।
শুনবে গলা কোন বোকার
খুলবে এখন কণ্ঠ যার
কাপড় বিহীন উলঙ্গতায়
মাসুল নেবে অন্ধকার।
যেই বলে তোর কাপড় কই
তৈরি আছে চাপড় ওই,
রাজার মুখে বললে কথা
তার চে’ বেশি ফাঁপড় কই?
বিশ্ব জুড়ে ন্যাংটোরা,
শূন্যে তুলে ঠ্যাং জোড়া,
বলছে এটাই রাজার পোশাক
নেহাত কুয়োর ব্যাঙ তোরা।
দেখিস না ঠিক, চশমা নে,
মিথ্যে ছেটাস দশ কানে
পোশাক বলে দেখবে তারাই
রাজার যারা বশ মানে।
বস্ত্রহীন কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
রচনা ১২.৯.২০২১।
আর যারা তাঁর বশ্য নয়
তাদের জীবন কষ্টময়,
ফোঁস শুনলেই তৈরি আছে
দেশদ্রোহের পোষ্য ভয়।
পোশাক থাকা ফ্যাশন নয়
বদলে গেছে দেশ অন্য’য়
ন্যাংটো থাকাই কেমন ভালো
প্রচার ছড়ায় নেশনময়।
ধাঁই ধপাধপ ধাপড় ধাঁই
এ ঘোর কলি , দ্বাপর নাই
ন্যাংটো রাজায় চোখ যাবে না
যখন কারোর কাপড় নাই।
ন্যাংটো ডেকে ফালতু কেন
ন্যাংটো রাজার চাপড় খাই!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সবকিছু ধর্মতে বাঁধা,
ধর্মহীন শুধু পয়সা এবং পুরুষাঙ্গ।
তালিবান বা বোকো হারাম আমেরিকাকে যতই করুক ব্যঙ্গ,
ডলার পেলে তাদের বলার কিছু নেই,
নারী যে ধর্মেরই হোক
স্বচ্ছন্দে পুরুষাঙ্গের ব্যবহারে মাতে
পৃথিবীর যে প্রান্তে যত ধর্ষক,
জাতি ধর্ম বর্ণ কিচ্ছুতে তফাৎ করে না তারা।
সম্পদ ও সঙ্গম ছাড়া,
পৃথিবীর সব কিছু অপবিত্র অচ্ছ্যুৎ না-পাক হতে পারে ধর্মবিশেষে,
যোনি পেলে সব মাফ, সব টাকা ভারী সাফ,
দখল করতে পারো ভারী ভালোবেসে।
বিয়ে সাদি ইত্যাদি করে এলে
তখন অবশ্য সেটা অন্য কাহিনী,
প্রেম ভারী অপরাধ ,
পাপের শোধনে নামে আবিশ্ব ধর্মবাহিনী,
কখনো মেয়েটা মরে, কখনো পুরুষ ঝোলে ধর্মের ক্রুশে,
রেপ করে খেপ খাটো,
সে বেলা রাখেনি কেউ নরকে রিজার্ভ সিট পুষে।
ধর্মহীন ও ধার্মিক কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১২.৯.২০২১।
অথচ যোনির বেলা উল্টো ব্যাপার,
তার থেকে ধার্মিক বেশি কেউ নেই,
ভিনজাত জোর করে ছুঁয়ে দিলে মালকিন অচ্ছ্যুৎ বনবে তাতেই,
আর যদি জরায়ুতে বেড়ে ওঠে না-পসন্দ জিনভরা ভ্রুণ,
সে নারী চাক না চাক, সন্তানসহ তাকে হতে হবে খুন,
ধর্মের দাবী তার গ্রহণযোগ্য হতে
নিয়মের কাঁটাতারে ঘিরে দেওয়া চাই সব নারীঅঙ্গকে,
সতীত্ব মাপকাঠি মরলে স্বর্গ কার,
কে জ্বলবে চিরকাল ভয়াল নরকে,
নিষ্কলঙ্ক পুরুষাঙ্গ যোনির ওপরে দেয় পাপের কালিমা লেপে অম্লানবদনে,
ধর্ম দেখে না দোষ, শিশ্নটি পাপহীন,
যোনিরই তাবত দায় তার উত্থানে।
অবশ্য ধনী হলে পাপ নেই কোনো লিঙ্গেরই,
পয়সা ধর্মহীন ধর্মও জানে।
নির্ধন ধর্ষিতা জীবনের মূল্যতে শিখে নেয় পাপের কী মানে..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাত তখন কটা? ঘড়ি নেই, চাঁদও নেই আকাশে।
ওরা দাঁড়িয়েছে ভাঙাচোরা বাড়িটার সামনে এসে।
ভেতরে নিরীহ প্রবীণ দার্শনিক, তাঁকে ধরতে এত পদাতিক?
সৌম্য বৃদ্ধ এলেন বেরিয়ে। রক্ষীপ্রধানকে বললেন,
যেখানে ইচ্ছে চলো নিয়ে।
প্রধান শোনালেন, গ্রেপ্তারের হুকুম আছে আপনাকে।
পক্ককেশ বললেন, বলে দাও তোমার রাজাকে,
আমার বাণী শাশ্বত সত্য, বদলানোর
সম্ভাবনাই নেই কোনো।
অকথ্য গাল দিয়ে উঠলো সৈনিকদের মধ্যে কেউ,
ঘুম ভালো করে ছাড়েনি এখনো।
ঘুম? সারা শহরে বাকি বুদ্ধিজীবিরা
তখন নিঃসাড়ে চোখ বুজে আছেন,
দেখতে তো হবে, যাতে তারা বেশিদিন বাঁচেন!
তাছাড়া বৃদ্ধের কথাবার্তা বড় বেয়াড়া, সিংহাসনের ভয়ডরহীন,
বিচার ও যুক্তি হলে এহেন স্বাধীন, তাঁকে দাবাতেই হয়।
নিষিদ্ধ করতে হয় বই, কেড়ে নিতে হয় তাঁর বিষয়আশয়,
ভুল বিচারে সাজানো সাক্ষী ডেকে প্রমাণ করতেই হয়,
তিনি অপরাধী, দোষ রাজদ্রোহিতা,
রাজানুগামীরা অতি উৎসাহে জ্বালিয়ে দেয়
তাবত বাণী ও কবিতা,
আর বাকি মগজোপজীবিরা হাত সেঁকতে সেঁকতে
জলহাওয়ার নিরাপদ আলোচনা সারে।
তারা জানে, রাজকোপ বেশি পড়ে উঁচু হওয়া ঘাড়ে।
শিরদাঁড়া হারানোর পালা কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
ইতিহাস দেখেছে
‘শিরদাঁড়া কেড়ে নেওয়া পালা’টার অভিনয় লক্ষ রজনী
যুগ আর স্থান দেখে নাম পাল্টেছে শুধু,
বাদবাকি কিছু আর বদল হয়নি।
সক্রেটিস ব্রুনো হয়ে পুড়ে যান হিংসুটে আগুনে ধর্মের হাতে,
ব্রুনো লোরকা নাম নিয়ে দাঁড়ান ফায়ারিং স্কোয়াডে,
নাৎসি জার্মানিতে লোরকাই দেস্তোভনিক কাজু’তে অবয়ব পান,
রাশিয়ার আখমাতোভা
মীরপুরের মেহেরুন্নিসা হয়ে ফের শাসকের সামনে দাঁড়ান।
যুগে যুগে কলমকে ভয় পায় বন্দুক,
তাই মাঝরাত্রে একাকী লেখককে ঘিরতে
পল্টনের পর পল্টন পুলিশ আসে,
কি জানি, কখন বিদ্রোহ বারুদ প্রবল বিস্ফোরণে
ছড়িয়ে যায় বশংবদ বাতাসে!
শুনেছি এই দেশেও নাকি ‘শিরদাঁড়া হারানোর পালা’
মঞ্চস্থ হতে পারে আজ,
নামভূমিকায় রাও, ফেরেরা, গনসালভেজ,
গৌতম নওলাখা, সুধা ভরদ্বাজ।
এখনো ঘুমাবে নাকি নাকে তেল দিয়ে,
রোজ বুলি কপচানো সুশীল সমাজ??
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বয়েস বয়েস করে মরিস,
বয়েস আবার কি?
সময়টা তোর বয়েস বলে
মারছে ইয়ারকি।
ইচ্ছে হলে খোকা হব
ইচ্ছে হলে বুড়ো
সময়টা কোন লাটের বেটা,
বলবে আমায় ফুরো?
ইচ্ছে মত যাচ্ছি বেঁচে
ইচ্ছে হলে উঠব নেচে,
ইচ্ছে হলে একশো হব
ইচ্ছে হলে জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
শরীরে নয় বাত ধরেছে
রক্তে বাড়ে চিনি
লাভের গুড়ে পিঁপড়ে ঘোরে
চলছে বিকিকিনি।
তবু মাঝে লুকিয়ে মা কে
চাটবো দুধের গুঁড়ো,
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
চুলে আমার পাক ধরেছে
মন পাকল কই?
বয়েস কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এখনো তো চাঁদ দেখিলে
অবাক হয়ে রই।
এখনো তো ফুচকা চাখি
কামড়াই কামরাঙ্গা
রাতের ছাতে নিজের সাথে
খেলি কুমীরডাঙা।
কি যায় আসে পাড়ার ছেলে
বললে জেঠু খুড়ো?
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
এমনভাবেই থাকবো আমি
এমনি কেঁদে হেসে
জীবনটাকে জাপটে ধরে
দারুন ভালোবেসে।
থামবো তখন মরন যখন
বলবে আমায় জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দাদা একটু শুনবেন? পেছন থেকে কে চেঁচায়?
দোহারা ময়লা ছেলে, হাতের মোবাইলটা আমারই
'এটা ফেলে এসছিলেন বাসে তাড়াহুড়ায়,
নেমে পড়লাম, যদি পৌঁছে দিতে পারি'
মোবাইলটা দিয়েই একছুট্টে পরের বাস ধরে নিল
কাজে যেতে তারও দেরী হচ্ছিল বোধহয়,
বিনা কারণে অচেনা লোকের জন্য নেমেছিল
যুগটা তাহলে ঠিক ততটা খারাপ নয়।
ফেরত পাওয়া মোবাইলটাকে নিয়ে বুকের কাছে
ফিসফিসিয়ে আস্তে বলি 'এখনো তবে আশা আছে'!
মেয়েটা গেছে টিউশনে, আজ আর ওর মা যায়নি সাথে
হঠাৎ কোনো প্রতিবাদে বন্ধ হল বাস অটো ইত্যাদি
আমারও উপায় নেই, জনতা পুলিশ খন্ডযুদ্ধ পথে
মেয়েটা আমার চিনবে কি পথ, বাপের সে যে বড্ড আহ্লাদী।
হঠাৎ পুলিশের গাড়ির সাইরেন একদম বাড়ির সামনেই
একটু বাদেই ঢুকলো ঘরে মেয়ে একগাল হেসে
ভালো কাজ করার জন্য পুলিশের নাকি নাম নেই
এই তো কেমন পৌঁছে দিলো পুলিশ বাড়িতে এসে।
মিডিয়া এখন মুড়কি খোঁজে না, গতে বাঁধা সব মুড়ির ছাঁচে
মেয়েকে আমার বুকে ধরে ভাবি এখনো তবে আশা আছে।
এখনো আশা আছে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
বুড়িমায়ের হাঁপের ব্যামো, সেদিন তো প্রায় মরো মরো
চটজলদি নিয়ে গেলাম কাছের সরকারী হাসপাতালে।
এমনিতে তো তোমরা সবাই হাসপাতালের নিন্দে করো
আমিও তো চাইনি নিতে ওসব জায়গায় কোনোকালে।
সেদিন উপায় ছিল না। কি আশ্চর্য, মাঝরাত্তিরে ডাক্তার এলেন
অথচ আমার কোনো মুরুব্বি নেই চেনা
মা একটু ঠিক না হওয়া অবধি থেকেও গেলেন,
দামী কোনো ওষুধও তো সেদিন হয় নি কেনা।
মা ভালো হবার পর একবার গিয়েছিলাম ডাক্তারবাবুর কাছে
ক্লান্ত হাসিতে বুঝে নিলাম এখনো তবে আশা আছে।
‘রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা', খারাপগুলোই বলছে কাগজগুলো
পড়েই ভাবি গোল্লায় দেশ, মানুষ এবার কেমন করে বাঁচে
রোজনামচার পাতা উল্টিও স্মৃতি থেকে ঝেড়ে ধুলো
প্রতিদিন কত ছোটো ঘটনায় আশা আজও বেঁচে আছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার ভাষাতে শহুরে পালিশ, তোমার ভাষায় ঘাসের গন্ধ
তোমার মননে লালন ফকির, আমার পঠনে জীবনানন্দ,
আসলে আমরা দুই সৈনিক, পরণে বাংলা ভাষার উর্দি,
গান লিখে যাই মায়ের ভাষাতে, যতই ভিন্ন ভিন্ন সুর দি।
আজন্মকাল বিদেশে থেকেও, কারোর বাংলা এখনও শুদ্ধ,
কারোর বাংলা কথাদের মাঝে ভিনভাষাদের প্রবল যুদ্ধ,
গ্রাম থেকে আসা উড়োখই লোক, মুখে অন্ত্যজ শব্দ অচেনা
বইছে সবাই একটা পতাকা, সক্কলে এরা বাংলার সেনা।
শেকড় গেড়েছে বুকের ভেতর, ভাষার হয়না জাত বা ধর্ম,
ভাষার সেনারা ঘরে ঘরে আছে, বাংলার নামে পরেছে বর্ম,
অতীতে ছিলাম, এখনো রয়েছি, আমরা থাকবো ভবিষ্যতে
প্রয়োজন হলে কোটি কোটি হাতে মশাল জ্বলবে একুশের পথে।
একুশে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রোগ জমেছে। শরীরে নয়, মনের ভেতর।
জীবাণুটি বহু প্রাচীন। প্রবেশ অবাধ।
রোগপ্রকোপে খুন হয়েছে। ভেঙেছে ঘর।
ডাক্তার আর রোগীর মাঝে তুলেছে বাঁধ।
খাচ্ছে ঘিলু। ঘুণের মতো। বিষের শ্বাস।
ভুগছে সমাজ। ভুগছে রোগী, চিকিৎসক।
মারণরোগের নামটি চেনা। অবিশ্বাস।
গঞ্জে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। খুব ব্যাপক।
হিংসা বাড়ে। হাসপাতালে। ধুন্ধুমার।
কিছু হলেই লাঠিসোঁটা। দে ধোলাই।
রোজের খবর। কেউ মরলেই সব চুরমার।
পানের থেকে চুন খসলেই বিচার চাই।
চিকিৎসকের দুইখানা হাত।এক মগজ।
মানুষ যে সে। চেষ্টা শুধু করতে পারে।
সব রোগ সে ফেলবে ধরে? এত সহজ?
ব্যর্থ হলেই ব্রেকিং নিউজ। হিংসা বাড়ে।
সবাই কি সৎ? এমন বলে কোন বোকা?
কিছু লোকের বাঁ হাত চলে। ব্যবসাদার।
দালাল ধরা। সাধু সেজে দেয় ধোঁকা।
লোক ঠকানো। সেটাই জেনো ব্যবসা তার।
ডাক্তার দিবস কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
ভুল করছো। বেশীর ভাগই অমন নয়।
হাসপাতালে আজও কজন রাত জাগে।
পাঞ্জা লড়ে যমের সাথে। আজও হয়।
ভেবে দেখো। হারতে কারো ভাল্লাগে?
পয়লা জুলাই। দিনটা নাকি ডাক্তারের।
এস এম এসে শুভেচ্ছারা পরের পর।
চিন্তা যদি থাকে কোনো উপহারের,
ভরসা, শুধু ভরসা রেখো তার ওপর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আদম ইভের কোনো অলিখিত পূণ্যে
সন্ততি মেতে আছে একে আর শূন্যে।
কবিতা ছবি বা গান, মন থাক যেটাতে
সব কিছু তোলা যায় বাইনারি ডেটাতে।
এক আর শূন্যেই আধুনিক পৃথিবী,
দরকারে তুলে নে এর থেকে যা নিবি।
প্রিয় হিরো সমাচার, হিরোইন ভঙ্গী
বিশদে ভাঙলে সব বুলিয়ান ঢঙ্গী।
টরে টরে টক্কারা ঠাঁই পেলো অতীতে
লাইভ ভিডিও যায় তড়িতের গতিতে।
ওয়াই ফাই ব্লুটুথে হুসহুস তথ্য,
শূন্য ও এক নিয়ে খেলাধুলা সব তো।
এত যে শক্তি ধরে বাইনারি নাম্বার
চীনের প্রাচীর আছে তারও কিছু থামবার।
মায়ের আদর নয় বাইনারি লিখিত,
( রোবটের স্নেহ নেই, জানে লোক ঠিকই তো।)
প্রেয়সীর ভালোবাসা বিরহ বা অভিমান
সেইখানে ফেল মারে যাবতীয় বুলিয়ান।
কবির মগজে ঢুকে বাইনারি বন্ধ
শূন্য বা একে নেই মনছোঁয়া ছন্দ।
বাইনারি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
জীবনকে বাইনারি করে ফেলা হুজুগে
অযন্ত্র আবেগরা নিপাত্তা এযুগে।
এক চোখ আনচোখে যে ভরসা খুঁজবে
কোনোদিন তার ভাষা বাইনারি বুঝবে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নতজানু হবো বলে চরণ চলেছি খুঁজে বহুকাল ধরে।
এমন মানুষ কোনো, যার ছোঁয়া আলো দেয় ভিতরে বাহিরে।
মেঘহীন আকাশে অসংখ্য তারার মতো যত উপাসনাস্থল,
কম্পাসকাঁটার মতো দ্ব্যর্থহীন লক্ষ্য নিয়ে অনড়, নিশ্চল,
সেখানে খুঁজেছি আমি; পুরোহিত মৌলবী পাদ্রী বা ভিক্ষু শ্রমণ,
আলোর দিশারী হয়ে যে পথে বলেন তাঁরা করতে ভ্রমণ,
সেপথে ল্যাম্পপোস্টরা জ্বালে শর্তসাপেক্ষে বড় একরঙা আলো
ভিবজিওরের মাঝে সকলের দাবী নাকি তাঁর রঙই ভালো।
খুঁজেছি নিরীশ্বর জ্ঞানীদের ভিড়ে, যেখানে যুক্তিই প্রভু।
কোথায় কুসংস্কারী কুয়াশায় ঢেকে গিয়ে আলো নিভু নিভু,
সেকথা বোঝান তাঁরা অতীব বিশদে। কোন পথে সভ্যতা গেলে,
অবারিত আলো এসে পাহাড়ী ঝোরার মতো ঝংকার তোলে,
সমবন্টন আর সমদর্শীতা নিয়ে সারগর্ভ বক্তৃতা শেষ হলে পরে,
দামী গাড়ি চেপে দেখেছি ফেরত যেতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সজ্জিত ঘরে,
সুতরাং ওই পথ মাড়াইনি আর। কোন পথে দেবো এই মন অঞ্জলি,
ধার্মিক ও জ্ঞানীদের মাঝে খুঁজে মেলে কিছু তত্ত্ব কেবলই,
মানুষ মেলে না। হঠাৎই খেয়ালী এক ঝোড়ো হাওয়া এসে,
ফিসফিস করে বলে, আহম্মকের মতো গিয়েছো হে ফেঁসে
ভুল পথে। আলো যারা দেয় তারা কেউ ওদিকে হাঁটতে যায় নাকি?
সূর্য খুঁজছো কেন, জীবন তো আলো করে একঝাঁক নামহীন নীরব জোনাকি!
যে চাষী বছর ধরে তোমার টেবিলে দেয় ভাত রুটি ডাল,
তাঁতি, মুচি, মেথর আর কাজ করা মাসী, সকলেই জেনো সেই আলোর রাখাল।
জ্ঞানীগুণীর কাছে আলো পেতে কেন আর যাই অকারণে,
রোজ নতজানু হই এ জীবন আলো করা অখ্যাত অনামী চরণে।
আলোর খোঁজে কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধর্ম যখন সর্বনাশা, লকলকানো বিষফলা
কর্ম যখন তাঁবেদারি, সময় যখন নিষ্ফলা,
আপোষ যখন ঢুকে গেছে নিত্যদিনের অভ্যাসে
এমনতর আঁধারকালে সুভাষ বোসের মুখ ভাসে।
বেদীর ওপর মূর্তি গড়ে গদগদ ভাষণে
আমরা বাঁধি নেতাজীকে পুজোর অনুশাসনে
ওটাই সহজ, প্রতিবাদে বড্ড জেনো দম লাগে
গড্ডলিকা ভেসে যেতে শ্রমও অনেক কম লাগে।
থামাবে কোন শত্রু বলো বাঁধনভাঙা বন্যাকে
নিজের পথে যাওয়ার যদি ধনুর্ভাঙা পণ থাকে
সুভাষ তোমার জন্মদিনে বিধির কাছে ভিক্ষে চাই,
আর কিছুনা, যেন অমন স্বপ্ন দেখার সাহস পাই
তেইশে জানুয়ারী কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ২৩.০১.২০১৮
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্তব্ধ আজকে আজবনগরে রাজার সভাকক্ষ
চাবিটি গছিয়ে খানিক আগেই গিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।
দোষের মধ্যে রাজা চেয়েছেন কোষাগার থেকে টাকা
তুচ্ছ ও ব্যাটা বলে কিনা ওতে জনগণধন রাখা!
রেগে টং হয়ে রাজা বলেছেন ‘নতুন জিনিষ জানছি
কোথায় খরচ করবে মালিক বলে দেবে খাজাঞ্চি!
আমারই তো ধন, প্রজারা আমাকে খাজনা দিয়েছে যত
খরচ করবো স্বাভাবিকভাবে নিজের খেয়ালমতো,
সে ব্যাপারে তুই ব্যাগড়া বাঁধালি, কোথাকার হরিদাস,
রাজার নমক খেয়ে আজ তার দাড়ি ওপড়াতে চাস!
কোষাধ্যক্ষ, ভালো চাস তো তোর সিন্দুক খুলে রাখ,
আমি বলে দেবো কোন মাছটাকে ভালো ঢাকে কোন শাক।’
কোষা ব্যাটা তবু ছাড়েনি তো জমি, নড়েনি সে একচুল,
বারবার বলে ‘ভাঁড়ারে এখন মুদ্রা অপ্রতুল।
খেয়ালখুশীতে খরচা বাড়ালে ধসবে অর্থনীতি’
রাজা বলে ‘ওরে, তোর নেই তো রে গদি হারাবার ভীতি।
আগুন বাজার, প্রজাদের আজ কুলায় না খরচাতে,
কিছুটা প্রলেপ দিতে হবে বাপ, ভোট আসে দরজাতে।’
শুনে কোষাপতি বলে ‘হে নৃপতি, খুরেতে দন্ডবৎ,
আমি কোনোকালে বাজাতে পারিনি ভোট ঢোল সহরত।
এই নাও চাবি, তোমার দাবিটি শুনুক পরের লোকে,
আমি পারবো না প্রজাদের ক্ষতি দেখতে নিজের চোখে।’
এসব অতীত, আপাতত চলো দেখি গে বর্তমান,
আজবনগরে মহারাজ আজ কোষাগার সামলান।
কোষাধ্যক্ষ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
কোষাধ্যক্ষ লাগবে যে এক, তেমনই আইনে বলে,
কাকে দেন ভার, ভেবে একাকার, রাজা ভারী দোলাচলে।
মন্ত্রীকে ডেকে বললেন রাজা, ভার নেবে নাকি তুমি হে?
মন্ত্রী তখন পাগড়ি আড়ালে ছিলেন হাল্কা ঘুমিয়ে।
ধড়মড় করে উঠে বললেন হুজুর রাজ্য সামলাই,
অষ্টপ্রহর ভাবনা বাড়ায় কত বিচিত্র মামলাই।
তার ওপরে যদি কোষাগার দেখি রুটিনটি যাবে ভড়কে,
এত দিকে যদি চোখ দিতে হয় দেখবো কি করে চোরকে?
রাজা বললেন , সেনাপতি তবে তুমি নেবে এর দায়টা?
সেনাপতি কন, দেখি বাহিনীর কুচকাওয়াজের কায়দা।
অস্ত্রশস্ত্র কিছু বুঝি বটে, টাকা খরচের কি জানি,
হয়তো কিনবো সব খালি করে ফরাসী যুদ্ধবিমানই।
রাজা বললেন , কোষাগারে তবে তুমি ভার নাও পাত্র,
কাচুমাচু মুখে পাত্র বলেন ‘ডাহা ফেল করা ছাত্র!
অঙ্কে আমার লাল কালি ছিলো ওয়ানের থেকে ক্লাস টেন,
রাজা বললেন গুরু মহারাজ, আপনিই যদি ভার নেন।
গুরু বলে দেন, মন্দির হলে তবে ভাবতাম অন্য,
আমি তো দেখছি তুমি লোক খোঁজো ভোটে জেতাবার জন্য।
আমার দাবীকে দাবিয়ে রেখেছো দাওনি পাদ্য অর্ঘ্য,
এখন আবার এই ভার নিলে মিডিয়া ট্রায়ালে মরবো!
রাজা হাঁকলেন ওহে বৈদ্য, তুমি তবে নাও কোষাগার,
বৈদ্য বলেন হাত জোড় করে, রোজ পাবলিক দেয় মার।
কোষাগার নিলে হাড়গুলো যাবে, প্লাস্টার হবে সারা গা-য়
বরং হুজুর ট্রান্সফার দিন, চলে যাই দূর পাড়াগাঁয়।
রাজা বললেন অমাত্য ওহে, তুমি কোষাগারে বসবে,
অমাত্য কন তাই যদি হবে, ভোটের ছক কে কষবে?
রাজা চুলকান বসে মাথা তার, কে ধরবে আজ তাঁর হাল,
হঠাৎ নজর যায় দরজাতে, দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বারপাল।
মুষকো জোয়ান, অমিত শক্তি, বিশ্বাসী লোক মস্ত,
রাজা হেঁকে কন, কাল থেকে তুই কোষাগারে গিয়ে বস তো।
দ্বারপাল বলে হে আমার প্রভু, আজ্ঞা নিলাম মাথাতে,
যেমন বলেন কোষাগারে বসে সেটাই লিখবো খাতাতে।
চারদিক থেকে ফুলের বৃষ্টি, সভায় ধন্য ধন্য,
আজবনগরে অবশেষে আজ খাজাঞ্চি পেলো অন্য।
মন্দ লোকেরা ভাবতেই পারে সন্দেহ জাগে গন্ধে,
কাহিনী এসব পুরো মনগড়া, বলে দিই মুখবন্ধে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
এদিকের পাঁচ আর ওদিকের তিন,
মোটে আটখানা লাশ,
বারোটা দোকান ঘর,
একটা গুদাম আর গোটা দুই অস্থায়ী বসতি পুড়ে গেছে,
তাও পুরো নয়,
সরকারি তহবিলে ক্ষত আর কত হবে ক্ষতিপূরণে!
মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী নেতা এবং পুলিশের বড়কর্তারা একযোগে
ঘোষণা করেছেন,
দাঙ্গাটা বাড়েনি তেমন।
ওই দোকানগুলোর একটা ছিলো বৃন্দাবনের।
ওর সস্তা ফার্নিচার আশেপাশে বেশ বিক্রি হতো,
আর যৎকিঞ্চিৎ লাভের টাকা চারটে প্রদেশ পেরিয়ে চলে
যেতো বহুদূর এক ছোটো গাঁয়ে,
যেখানে ওর আরো দুই ভাই ,
একটু একটু করে তাদের মাটির ভিটে পাকা করছে।
সে কাজ আপাতত স্থগিত, হয়তো বা অনন্তকালের জন্য।
বৈধ কাগজহীন ওই পোড়াদোকানের জন্য বৃন্দাবন একটি
পয়সাও পাবে না।
ওর সম্তান ভাঙা খাটিয়ায় ঘরের আকাশে তারা দেখতে
দেখতে হয়তো ভাববে,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
আরেকটা দোকান ফারুকের।
তেমন বাড়েনি কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ৪.৭.২০২১॥
ওই ধ্বংসাবশেষ থেকে তার কাঁচের চুড়ির সম্ভারের কিছুটা
বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ খুঁজে
চলেছে , খুঁজেই চলেছে।
কিন্তু কাঁচ যে, ভেঙে গেলে কোনো কাজেই আসেনা।
ওর বাড়ি যেতে পাক্কা আড়াইদিন লাগে, সেখানে ওর আম্মির
দিল’এর অসুখ, বড় হাসপাতালে অপারেশনের জন্য টাকা
জমছিলো তিল তিল করে, সব শেষ।
আম্মিটা এবার মরে যাবে।
মোবাইলের ওইপাশে আব্বুর ফোঁপানো আওয়াজ শুনতে শুনতে
ফারুক হয়তো ভাবছিলো, দাঙ্গাটা বাড়েনি তেমন।
লাশ হয়ে শুয়ে আছে যে মালতী,
ওর নিবাস পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ঘেঁষা কোনো গ্রামে।
ওখানে ওর মেধাবী মেয়ে দুটো প্রাণপণ পড়ে চলে, বাপ ছেড়ে
যাওয়া সংসারে মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিলো, ঠিকে কাজে যেন
মেয়েদের নামতে না হয়।
লাশ শনাক্ত করতে অনাথ কিশোরীদুটো আসতে পারবে কিনা
জানিনা, তবে ভাগ্য যে পড়াশোনায় ছিটকিনি দিয়ে দিয়েছে
সেটা নিশ্চিত।
কে জানে, গতর খাটানো আগামীর ঘাম মুছে মেয়েদুটো বুঝতে
পারবে কিনা, দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
ওই মৃতদেহটা আরিফের।
কেরালার ছেলে, ওর ওখানে থাকবারই কথা না।
মধ্যবিত্তের ব্যাটা ডাক্তারি পড়তে এসেছিলো শহরে, এ মহল্লায়
আসা স্রেফ সিগারেট কিনতে।
একটা গোটা পরিবারের ওপরে ওঠার সিঁড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে
পড়ে গেছে।
খবর পেয়ে এখনো বিশ্বাস না করা মা আর বাবার অনেক
চিন্তার মধ্যে
কোত্থাও দাঙ্গা তেমন না বাড়ার নিশ্চিন্ত আশ্রয় নেই।
গুদামটার মালিক হরবিন্দর সিং।
মফস্বলের বাড়ি বন্ধক রেখে কেনা ওই স্টোরহাউজে যা মাল
ছিলো, স্বাভাবিক ভারতীয়তায় তার কোনোটাই বীমা করা নেই।
এখানে মুখের কথা বেশি চলে, অতীত বর্তমান পেরিয়ে অনাগত
আগামীতেও এর পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
সে হিসেবে ধারদেনা শোধ করতে সঞ্চয় যাবে, অদূর ভবিষ্যতে
হরবিন্দরের গুদাম আর বাড়ির মালিকানা বদল প্রায় নিশ্চিত।
ওর নিচুমুখ চেহারার কাঁধে হাত রেখে কেউ বলবার সাহস
পাচ্ছে না, দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
এই ভাবে, দাঙ্গায় বিধ্বস্ত বিন্দুগুলো জুড়তে জুড়তে তৈরি করে
নেয় আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের ম্যাপ।
ভঙ্গুর মাটির সেই মানচিত্র জুড়ে ছড়িয়ে আছে হতাশার
চোরাবালি, ভাঙা স্বপ্নের পাহাড় আর যাবতীয় সুখ থেকে দূরে
রাখার মতো দিগন্তবিস্তৃত কান্নার সমুদ্র।
ক্ষতি ও ক্ষত ছড়িয়ে যায়
কাশ্মীর থেকে মণিপুর,
কেরালা থেকে পশ্চিম বঙ্গ
গুজরাট থেকে উড়িষ্যা।
অথচ , ওই দেখুন,
গর্বিত স্বরে দেশের ধারক ও বাহকরা
ঘোষণা করছেন,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
আর কত বাড়বে বলুন তো?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রেটিং দেখে সেটিং করি , কোথায় ইটিং, মিটিং কই,
চারএর কমে রাখবো মাথায়, আমরা তেমন বান্দা নই।
দিচ্ছে রেটিং গুগলবাবা, জোমাটো আর জাস্ট ডায়াল,
ফেললে কড়ি কোথায় কী তেল, রেটিং রাখে তার খেয়াল।
রেটিং এখন ডাক্তারেরও, পাঁচের মাঝে কার কত,
রোগী কেমন বাঁচে মরে ঠিক করে লোক তার মতো।
মাগনা কেন পয়সা দেবো, উচ্চতে বেশ রেটিং চাই
দেহের কাটিং কোথায় গেটিং, রেটিং দেখে তবেই যাই।
কিন্তু এসব রেটিং যে সব পয়সা দিয়েই যায় কেনা,
ব্যবসা ওটা বিজ্ঞাপনের , সেই কথা কেউ ভাবছে না।
গুগল তো নয় সমাজসেবক, জাস্টডায়ালও ব্যবসায়ী,
আমাদেরই ক্লিকের জোরে লক্ষ্মী ঘরে হন স্থায়ী।
যার পকেটে যেমন চাঁদা, রিভিউ হয় সেই মাপেই,
পয়সা যদি না ঢালে কেউ, সেরার খেলায় আর সে নেই।
গুগল কিংবা জোমাটোতে কান ফাটালো যে শিঙে
আওয়াজটা তার মূল্য ধরে কেনা যে পাঁচ রেটিংয়ে।
রেটিং দেখে সেটিং করো, কম রেটিংয়ে ভীষণ ভয়,
ভরসা তুমি করছো কাকে, রেটিং যদি চিটিং হয়?
গুগল চালায় তোমায় আমায়, এটাও বুঝি সেটিং নয়?
রেটিং কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৩.৭.২০২১॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পৃথিবী সরিয়ে নিচ্ছে নিজেকে তোমার থেকে,
তুমি কি তা বুঝছো মানুষ? মহাদেশ জুড়ে পুঁতে অগণিত ক্রুশ,
কাঁটার মুকুট দিয়ে সাজিয়েছো যাকে,
নিমীলিত দুচোখ সে মেলছে আবার, এবারে করুণা নয়, নিদারুণ রাগে,
বুঝছো মানুষ তুমি প্রলয় দাঁড়িয়ে আছে আগামীর আগে?
তুমি বেশ খুশি আছো, মাটিতে জ্বালিয়ে রেখে লোভাতুর খিদে,
কর্ষিত ধর্ষণে লুন্ঠন করে নাও যেমন সুবিধে,
বিগত বনানীস্মৃতি উদগত ফসলের ঘ্রাণে লেগে থাকে,
তোমার প্রচারকেন্দ্র সে শ্মশান-কুবাসকে উন্নতি ডাকে,
যেন এই পৃথিবীর তাবত বৃক্ষকুল, পাখী আর প্রাণীদের দল,
দাসখত লিখে দিয়ে তোমাকেই প্রভু বলে মেনেছে কেবল,
যেন ওই অরণ্য, সাগর আর সুউচ্চ পর্বতমালা, তোমারই চারণভূমি,
সুবিশাল এক শুধু মনুষ্যশালা,
যেখানে তাবত সম্পদ শুধু একটিই প্রজাতির লাগে প্রয়োজনে,
বাকিদের থাকা খাওয়া বাঁচা মরা আর প্রজননে
গুরুত্ব আছে যদি মানুষের সেটা লাগে কাজে।
মানুষই শ্রেষ্ঠ বলে পৃথিবীর সব কোণে জয়ঢাক বাজে।
দেখো আজ সবদিকে এই গ্রহ কুঁচকেছে ভুরু।
কোথাও আচম্বিতে ভূমি জুড়ে সচকিত কম্পন শুরু,
সাগরে ভাসছে ওই মহাদেশব্যাপী এক বরফ চাঙর,
শহর ভাসিয়ে নিলো হঠাৎই কোথাও এসে বন্যার তোড়,
দেখো দেখো, নানা দেশে বন জুড়ে দপ করে জ্বলে ওঠে মহা-দাবানল,
বর্ষা বর্ষব্যপী হয়েছে কোথাও, খেয়ালী আকাশ ঢালে অবিরাম জল,
অবুঝ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৫.৭.২০২১॥
কোথাও আবার চাষী আকাশের দিকে চেয়ে মেঘ ভিক্ষে করে,
দেখো হে শ্রেষ্ঠ জীব , সসাগরা ধরিত্রী প্রতিরোধ গড়ে।
মহাকাশ ভাড়া দেবে , সেরকম স্বপ্ন দেখেছো।
যন্ত্রের ভরসায় আগামী এঁকেছো, অথচ এখনো ক্ষুধা,
জীবাণু সংক্রমণে মারা যায় রোজ লাখো লোকে,
এখনো ধর্ষণ জারি, ধর্মের অন্ধতা পোড়ায় মানুষ আজও ঘৃণার নরকে,
এইটুকু গ্রহ জুড়ে যুদ্ধের দুন্দুভি কখনো থামে না,
শোধ দেওয়া নেই কিছু, প্রকৃতির কাছে শুধু বাড়িয়েছো দেনা,
পৃথিবীরও সহ্যের সীমা আছে, এবারে চাইতে পারে গ্রহটা ফেরৎ,
তুমি কি তা বুঝছো মানুষ? ক্রমেই বন্ধ হয় ফেরবার পথ...
বুঝছো না অতিমারী বলে ভাবো যাকে, আসলে সে যুদ্ধের শুভ মহরত...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এবারে নামাও ফেসবুক ভূত, বাস্তবে ফেরো বাঙালীর পুত,
জুকার তোমায় জোকার বানিয়ে সময়ে ভরছে ভুষি,
তোমার খবর বাইরেতে বেচে, কামালো ডলার ফ্রি ডেটা চেঁছে,
সকলেই ফোনে সব জেনে নেওয়া ফেস-কালসাপ পুষি।
করো কি করো কি বাঙালীর ঝি, ভস্মতে আর কত ঢালো ঘি,
ফেসবুকে কটা কাঁচকলা গুনে ডগমগ হও সুখে,
ওরা চায় থাকো ব্যস্ত ও সবে, বৃহৎ ঘোড়ার অণ্ড প্রসবে
বাকি সব ভুলে মুঠোফোনে শুধু আঙুল চলুক ঝুঁকে।
মানছি এখন ছাড়াটা কঠিন, ফেসবুক করা হয়েছে রুটিন,
কবিতা গান ও নানান শিল্পে সহজে প্রাপ্তি ঘটে,
স্রষ্টার সাথে কথা সরাসরি, সাবাসি দেওয়ার এত ছড়াছড়ি,
এত কিছু কেটে বেরিয়ে আসাটা দুষ্কর কাজ বটে।
শুনে রাখো ওটা টোপ দেওয়া চার, অপেক্ষা শুধু ফাৎনা নড়ার,
অ্যালগরিদম নজর রাখছে কেমন বঁড়শি গেলো,
দিনশেষে ওরা জেনে গেছে ঠিক, প্রিয় ও ঘৃণিত কাদের প্রতীক,
কিসের খবর মানসিক ঝড়ে করে দেয় এলোমেলো।
যতটা সময় দাও ফেসবুকে, ওরা তত রাখে বেশি করে টুকে,
চিনে গেছে আজ এমন তোমাকে আয়না লজ্জা পাবে,
বিনোদনে কিছু চমক মেশাতে, ঢুকে গিয়ে আছো চরম নেশাতে,
সাধু সাবধান, এরা হেসে চুষে মগজ মজ্জা খাবে।
অ-বাস্তব কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৬.৭.২০২১॥
নাই পারো যদি ছেড়ে দিতে তাকে, তখরচ যেন কম হতে থাকে
হ্যাজানো গ্যাঁজানো ছেড়ে শুধু দাও কাজের জিনিসে মন,
ফেক নিউজ আর ফেক ইউজারে, সহজে বিপথে নিয়ে যেতে পারে
যেন এক ফেক রিয়ালিটি শো’তে তুমি আছো সারাখন।
বাঙালীর পুত, বাঙালীর ঝি, বাস্তবে ফের ফিরে এসো দেখি
জীবনে কমাও ভারচুয়ালের নিশিদিন জ্বালাতন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজা চাইছেন প্রতিভা বিকাশ। রাজা চাইছেন নবীন কলম।
সুতরাং বাজে কাড়া ও নাকাড়া, প্রদেশে প্রদেশে ঢম ঢম ঢম!
রাজা চাইছেন দক্ষ লেখক, নানান ভাষাতে দড় হবে তারা,
রাজা চাইছেন সাহিত্য হোক, কোষাগার থেকে যাবে মাসোহারা।
কে কোথায় আছো ক্ষণজন্মারা, সৃষ্টিকে আনো রাজদরবারে,
রাজার বিচারে সেরা হলে দেখো তরতর করে কত দর বাড়ে।
প্রবন্ধ লেখো, ভ্রমণ কাহিনী, কল্প গল্প চলবে সবই তা,
শুধু দেখো বাপু ওসবের মাঝে স্বরচিত কোনো না থাকে কবিতা।
নির্দেশে আছে স্পষ্টই লেখা, যা খুশি পাঠাক আগামী লিখিয়ে,
কবিতা লিখলে প্রতিভার দলে যাবেইনা রাখা সে নাম টিকিয়ে।
কেন এরকম রাজার ইচ্ছা, প্রতিভাতে কেন কবিতা ব্রাত্য
তলিয়ে ভাবলে খুঁজে পেতে পারো ইতিহাস থেকে যুক্তি তার তো।
রাজা খুঁজছেন নতুন কলম, মালির হাতে যে সার জল পাবে,
রাজার প্রিয় যে পুষ্প বা ফল, জোড়হাতে তারা সেটাই ফলাবে।
মধুর কথাতে নানান ভাষাতে বন্দিত হবে সে পাদপদ্ম
তেল দিতে পারে গদ্য যেভাবে , সেপথে কখনো হাঁটে না পদ্য।
সে চিরকালই মানুষের সাথে, কথা দিয়ে আঁকে আসল ছবিকে,
মানুষের কাছে যতটা যে প্রিয়, রাষ্ট্রের তত ভয় সে কবিকে।
ব্রাত্য কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৭.৭.২০২১॥
রাজা চাইছেন সাহিত্য হোক, রাজা চাইছেন কলম দক্ষ,
নিহিত রয়েছে শর্ত সেখানে, লেখা সব নেবে রাজার পক্ষ।
কবিতারা চির বাউন্ডুলে যে, কোটেশনে বলা কঠিন ভাষণে,
লগ্নী করাটা বেনোজলে যাবে, শেষ অবধি যদি আদেশ না শোনে।
রাজা চাইছেন প্রতিভা বিকাশ। রাজা চাইছেন নবীন কলম।
রাজা চাইছেন রাজধ্বজাধারী। কবিতা চাননা তিনি একদম।
ইতিহাস জানে, আহত সময়ে কবিতা প্রজার ব্যথার মলম।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পাশের কোনো দেশে জনতা উগ্র হিংস্রতাতে একটা মন্দির ভেঙে ফেললো।
আমরা এখন দুটো কাজ করতে পারি।
সংখ্যাগুরুর ঔদ্ধত্যে পাঁচটা মসজিদ ভেঙে গর্জন করে উঠতে পারি ‘দেখ কেমন লাগে!’
অথবা কোনো উপাসনালয় আঁচড় না লাগে যেন,
সেটার ব্যবস্থা করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলতে পারি,
‘আমরা ওরকম নয়।’
প্রথমটার ইচ্ছে স্বাভাবিক,
দ্বিতীয়টা করতে বড় ধৈর্য আর সংযম লাগে,
প্রথমটা করাও সহজ,
সারা দুনিয়ার মিডিয়া কভারেজে দেখা যাবে গরিলার মতো বুক বাজানো ধ্বংসাত্মক উন্মাদনা,
দ্বিতীয়টাতে প্রচার পাওয়া কঠিন,
কারণ শান্তি ও সহাবস্থানের গলার স্বর কখনো উঁচু হয় না,
চারদিকে অজস্র যুদ্ধ ও ছায়াযুদ্ধের মধ্যে বসে থাকা সভ্যতা
কেন জানিনা শান্তিকেই স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা ভাবে।
আর স্থিতাবস্থা কখনো ব্রেকিং নিউজ হয়না, সংবাদে সেটা কেউ কেন বা দেখাবে।
ইতিহাস নিস্পৃহ চোখে দেখছে এখন, স্বদেশ আজ কোন পথে যাবে।
পথ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ৭.৮.২০২১॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একদিন যদি হঠাৎ করে পৃথিবীর থেকে মিথ্যে মুছে যায়,
মুহূর্তে ধ্বজভঙ্গ ঘটবে সমস্ত বিজ্ঞাপনের।
রাজনৈতিক বক্তা এবং ধর্মপ্রচারকদের
বাকি আয়ু মুখে কুলুপ এঁটে কাটাতে হবে,
অন্তত তিন চতুর্থাংশ প্রেমের মৃত্যু ঘটবে তৎক্ষণাৎ।
দুম করে অমন একটা সব্বোনাশ ঘটে গেলে,
বিশ্বের সবকটা রাষ্ট্রযন্ত্রের জ্বালানি খতম হয়ে যাবে।
শাসকের স্বার্থহীন দেশপ্রেম যে একটা কুৎসিৎ অক্সিমোরন,
সেই সত্যিটা বেআব্রু হয়ে গেলে, গণ, সমাজ রাজ বা ধর্ম,
সমস্ত তন্ত্রের বাজনদারেরা সুরের খেই হারিয়ে ফেলবেন,
নাগরিকের স্বপ্নের বেলুনে হাইড্রোজেন হিলিয়াম কিছুই ঢুকবে
না, প্রচারের দোকানগুলো ঝাঁপ বন্ধ করে স্থায়ী লকআউটে
যাবে।
মিথ্যে মুছে গেলে
শেয়ার বাজারের ওঠাপড়া জলের মতো বোধগম্য হবে,
নব্বই শতাংশ উকিল এবং একশো শতাংশ জ্যোতিষীরা
বেকার হয়ে যাবেন।
কূটনৈতিক বলে পেশাটার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে,
বস্তুত, কূটনীতি কথাটাই হয়তো অভিধান থেকে উধাও করে
দিতে হবে।
মিথ্যের মিথ কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)।
রচনা ২৪.৭.২০২১॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(ভাবনার ঋণ স্বীকার: Yuval Noah Harari)
ঈশ্বর আসলে দুইজন।
একজন, যার সম্বন্ধে আমরা কিছুই জানি না।
মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব ,
পারমাণবিক কণাদের আপাত-উচ্ছৃঙ্খল আচরণ
বা বিবর্তনের নানা প্রহেলিকার ব্যাখ্যা দিতে
বিজ্ঞান যখন ল্যাজে গোবরে হয়,
সেই তথ্যহীন তত্ত্ব ও তত্ত্ববিহীন তথ্যের সামনে দাঁড়িয়ে
আমরা উপলব্ধি করি,
এই ব্রহ্মাণ্ডব্যাপী কর্মকাণ্ডের কণামাত্র জ্ঞান আমাদের নেই, সভ্যতার
শেষবিন্দুতে পৌঁছেও তা একই রকম অনায়ত্ত থাকবে,
অথচ কি অনায়াস আর অমোঘ তার গতিবিধি!
নিজেদের সীমাবদ্ধতা মেনে জ্ঞানের সীমানার বাইরে
যে প্রমাণবিহীন সর্বব্যাপী শক্তি,
তাঁকে আমরা ঈশ্বর নাম দিই।
স্বভাবত, কিছুই জানিনা আমরা তাঁর সম্বন্ধে।
দ্বিতীয় ঈশ্বরের ঠিক বিপরীতে স্থিতি।
আমরা তাঁর সম্পর্কে সব জানি।
আমরা জানি তিনি কাদের ভালোবাসেন,
কোনদিক ফিরে প্রার্থনা করলে খুশি হন,
কোন ধর্মগ্রন্থের কোন অংশটি তার সবচেয়ে প্রিয় শ্রাব্য।
দুই ঈশ্বর কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১০.১০.২০২১॥
আমরা এটাও জানি,
তিনি কী খেলে পাপ দেন,
কোন মানুষকে মারলে কিছুই বলেননা ,
বরং ভীষণ খুশি হন
এবং কে কে তাঁর উপাসনালয়ে ঢোকার যোগ্য নয়।
তাঁর সমস্তটুকুক পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ
আমরা হিন্দুরা জানি,
মুসলমানরা জানি,
খ্রীস্টানরা জানি,
ইহুদীরা জানি।
আমাদের গোষ্ঠী ছাড়া বাকিরা যে কিচ্ছু জানেনা
এটাও আমরা জানি,
তাই নির্দ্বিধায় তাদের সংখ্যা কমানোতে
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে হাত লাগাই।
সমস্যা হচ্ছে নাম এক হওয়ায়
আমরা দুজন ঈশ্বরকে গুলিয়ে ফেলি।
লক্ষ কোটি গ্যালাক্সির মধ্যে একটা ছায়াপথে
হাজার কোটি নক্ষত্রের একটা ক্ষুদ্র নক্ষত্রের
নটা গ্রহের মধ্যে তিননম্বরটায়
মোটে এক লাখ বছর আগে
একটু বুদ্ধি বিকশিত হওয়া বানররা
কী খাবে আর কী খাবে না,
তাদের মেয়েদের পোশাকের দৈর্ঘ্য কতটা হবে
কিংবা পূর্ব পশ্চিমের জায়গায়
উত্তর পূর্ব বা দক্ষিণ পশ্চিমে প্রার্থনার দিক হলে কি তফাৎ হবে,
সেই তুচ্ছ ব্যাপারগুলোতে
যে প্রথম জনের আগ্রহ থাকার কথা নয় ,
সেটা আমরা মনেও রাখি না।
হয়তো বা তাই,
ভক্তির রক্তারক্তি আমাদের গোষ্ঠির স্বপক্ষে হলে
আমরা আর গায়ে মাখি না।
আসলে , প্রথম ঈশ্বরকে আমরা ভাবি, কিন্তু কখনো ডাকি না।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পুজোর পরে দুটোর মধ্যে একটা হবেই,
হয়তো কোভিড বাড়বে কিংবা বাড়বে না,
হতেই পারে, দেখলে কোথাও করোনা নেই,
কিংবা হলো জ্বর সারাতে ধারদেনা।
কিন্তু ভেবো, হোক না যেটাই পুজোর পর,
তুমি সেটায় খেলছো এখন কোন দিকে
ঘুরছো ভিড়ে ভাব করে আর নেই তো জ্বর,
নাকি ঘরেই, হোক না যতই দুই টিকে।
অনেক লোকেই ভিড় করেছো মণ্ডপে,
থুড়ি থুড়ি, ঢোকার নাকি নেই নিয়ম,
ধরি মাছ আর না ছুঁই পানির এই ঢপে,
কোভিডাসুর নতুন করে নিচ্ছে দম।
সে দম পেয়ে নতুন করে জাগবে সে,
জানিনা তার সম্ভাবনা আজ কত,
রাজ্য জুড়ে নাচলে সে ফের রায়বেঁশে,
তোমরা যে তার বাজনদারই বাধ্যত।
কোনো শিশুর ভ্যাক্সিনেশন হয়নি আজ,
তাদের নিয়েই বেড়াও ঘুরে প্যান্ডেলে,
এই তো হলো কেমন বাবা মায়ের কাজ,
প্রজন্মকে জ্বরের দিকে দাও ঠেলে।
পুজোর পর কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। রচনা ১৪.১০.২০২১
তারিখে, মহানবমীর প্রভাতে লেখা, শিশুসহ, করোনার কথা ভুলে, পূজো দেখতে মানুষের ভীড়
দেখে।
সে যাকগে যাক, হয়তো কিছুই ঘটবে না,
হয়তো আগেই শেষ হয়েছে মারীর জ্বর,
কি বলবে যে তখন সেটার প্লট চেনা,
বোকারা সব পুজোয় ছিলো নিজের ঘর।
তাই বলে তো সত্যি যাবে পাল্টে না,
ভিড়ের মানুষ বিভীষণ আর মীরজাফর।
জিতলে কিনা যাবে বোঝা পুজোর পর..
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খাল কেটেছি ধর্ম খুঁড়ে, যা কেউ গিয়ে কুমীর লা,
এদিক গেলে লাহোর পাবি, ওদিক গেলে কুমিল্লা।
সংখ্যালঘু ধর তো কটা, দুবলা এবং একলা লোক,
খুন করে দে থেঁতলে দেহ, ধর্ম আমার শীর্ষে হোক।
জানবি এসব ঘুঘুর বাসা, সব্বোনাশা লঘুর জাত,
ব্যাঙের ছাতার মতন গজায়, সব দোষেতেই ওদের হাত।
ভারত হলে নমাজ বারণ, গুরুগ্রামে ধুন্ধুমার,
বাংলাদেশে দুর্গাপুজো বন্ধ করুক হিন্দু তার।
এদেশ ছেড়ে ওদেশ যা না , জিভের ডগায় এক বুলি,
বদলালে দেশ হয়না বদল অত্যাচারের ছলগুলি।
জন্মভিটে ওই মাটিতেই ,সাতপুরুষের গোর চিতা
বিচার তবু চায়না ভয়ে ধর্মবাজের ধর্ষিতা।
সংখ্যালঘু হলেই শিকার, হয়তো নিয়ম সভ্যতার,
জীবন নারী এবং বাড়ি ভীষণ সহজলভ্য তার।
রাষ্ট্র থাকেন আব্বুলিশে, দূর থেকে কন দাঙ্গা নয়,
রাষ্ট্র যদি মদত না দেন, কোথাও কি আর দাঙ্গা হয়?
খাল কেটেছে সভ্য মানুষ, ধর্ম যা তুই কুমীর লা,
এদিক গেলে সাহরানপুর, ওদিক গেলে কুমিল্লা।
তিনখানা দেশ, লঘুর তবু ভাগ্যে দেখো কি মিল না?
খাল কবি আর্যতীর্থ (জন্ম ১১.১২.১৯৬৭)। বাংলাদেশের কুমিল্লার দুর্গাপূজা মণ্ডপে ভাঙচূর ও সে দেশে দাঙ্গার পরে লেখা।
রচনা ১৭.১০.২০২১। গুরুদাস সাহার কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে Gurudas Saha YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|