প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কালো আন্ধার ঘনায় যদি দিনের বেলায় এসে,
কোথায় এখন পথ খুঁজি ভাই রাতের বেলার শেষে।
ও বিধি রে . . . . . . . . .
পরিযায়ী পাখি নয় গো পরিযায়ী শ্রমিক,
ঘর ছাড়িলাম স্বপ্ন বুনতে বছর দুই তিনেক।
পরিযায়ী নতুন নামে চমক নাই কিছুই ;
করোনারই কড়াল গ্রাসে, আমি পরিযায়ী শ্রমিক।
ও বিধি রে . . . . . . . . .
বৌ টা আমার পথ চেয়ে ছোট্ট দুই ছেলে,
জানিনা দিনটা ওদের কাটে কোন ছলে।
দ্যাশের মধ্যেই চলে ফরমান যাওয়ার উপায় নাই ঠিক,
কারোনরেই কড়াল গ্রাসে, আমি, পরিযায়ী শ্রমিক।
ও বিধি রে॥
শুনছি স্বাধীন দ্যাশের মানুষ মোরা, স্বাধীন চিন্তা কই।
তোমরা কি হইতে পার, মোর পরিবারের সই?
অন্ন চিন্তা বড় চিন্তা আন্ধার সবই দিক,
করোনারই কড়াল গ্রাসে, আমি, পরিযায়ী শ্রমিক।
কালো আন্ধার ঘনায় যদি দিনের বেলায় এসে
কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি দেবাশিস রায় (জন্ম ২৩.৩.১৯৬৮)। করোনা মহামারীর কালে পরিযায়ী
স্রমিকের দুর্দশা নিয়ে রচিত গান। কবিকণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে . . .। মিলনসাগরে কবির
সঙ্গীতের পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এসো এ দূর্দিনে
গাই জীবনের গান
ওগো মানুষ তুমি আজ
. হও আগুয়ান।
এসো থমকে দাঁড়াই, দুহাত বাড়াই,
মিলি হাতে হাত, চলি এক সাথ॥
পথ চলতি মানুষ, নেই কোন হুঁশ
সামনে আঁধার সবই যে ফানুস,
ধনীকেরা ধনী হয়, গরীবেরা ফুস—
মাঝের জায়গাটা বড় করে উশখুশ।
ওগো শ্রমিক তুমি হও আগুয়ান
ওগো কৃষক তুমি দাও কাস্তেতে সান্
ওগো মাঝেরা ধরো হাতে হাত
সাথে নিয়ে ওই লাল নিশান॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি কি দেখেছ শীতের রাতে
ছেঁড়া কম্বল শুধু সম্বল
বেঁচে থাকে ওরা নিঃস্ব হাতে॥
উত্তরে হাওয়া বয়ে নিয়ে আসে
কলজে কাঁপানো ঝড়॥
ভাঙা মনোবল, তাই সম্বল
হারাতে হয় সে ঘর ;
হয়ত তখন তুমিও ছিলে ব্যস্ত
আলু থালু বেশে চুল অবিন্যস্ত
ভবিষ্যত গড়ার অপেক্ষায়॥
পেটের ক্ষিদে হজম কর
যখন ওদের পথ চলা শুরু,
গভীর প্রেমালাপের বিকার
সামনে তোমার বিশাল এক মরু,
চেয়ে দ্যাখো ওরা নদী হয়ে বেয়ে
চৈতালী চাঁদ সাথে করে নিয়ে
আঙিনায় এসে রয়েছে দাঁড়িয়ে
তোমার প্রতীক্ষায় (৩)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ সংসার বৃথা সংসার
শুধু ঠগবাজদের নৃত্য,
ক্ষণজন্মায় কেউ মালকিন
কেউ বা গৃহভৃত্য॥
কত আয়োজন কত সমাদর
কোথা শুধুই বাজনা ঝমঝম,
কোথা হাহাকার শুধু হাহাকারে
না পাওয়ার বেদনা হরদম॥
কত কান্না দিন রাত ভোর
হীরা পান্না হয়ে ঝরছে,
কোথা আলো ঝলমল ম্যাকডয়েলের
সাথে দিন গুজরাচ্ছে॥
কেউ ঠান্ডা ঘরে বসে
কথা চালাচালি করছে
কেউ রোদে জলে ভিজে ভাগ্যের হাতে
দিন সঁপে আজো যাচ্ছে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবিরা ব্রাহ্মণ হয় এই কথা লেখা আছে মনুসংহিতায়
তুমি তাঁকে অস্বীকার করো কোন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার জোরে
যেহেতু তুমিও কবি, তাই তুমি নিজে নিজে সেজেছ ব্রাহ্মণ
তোমাকে প্রণতি আজ এই পোড়া কার্তিকের বৃহস্পতি-ভোরে।
ঊধ্বর্তন এক কবি নিজেকে প্রচার করে ষাটের ব্রাহ্মণ
অধস্তন কাব্য করে, এই অপরাধে নামে খড়গ কৃপাণ
বঞ্চিতরে ভালোবেসে কিছু লোক এঁনে দেয় তিলকের মাটি
অধস্তন কবি ছাড়ে নিয়মিত জীবিকার মোহন আহ্বান।
ষাট তো বালাই ষাট, নব্বই এনেছে জেনো নতুন সকাল
এক পা কবরে রেখে আর কত ষড়যন্ত্র, ও হে বুড়ো ভাম?
নির্বীর্য নাটের গুরু, একদিন ভণ্ডামির দিন শেষ হবে
শূদ্ররাও কবি হয় এই সত্য এনেছেন সাধু তুকারাম।
সকলেই কবি নয়, কারো চোখে বাস করে সক্রিয় ধূর্ততা।
তুকারাম জয়ী হয়, জয়ী হয় শূদ্র আর কাব্যের ক্ষমতা।
কবিরা ব্রাহ্মণ হয়
কবি তপন বাগচী (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৮)
[ কবি সুবোধ সরকারকে ]
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শাহবাগ আজ ডাক পাঠাল----
. বাংলাজুড়ে খবর দে,
গোষ্ঠে গোষ্ঠে ঘেরাও ক'রে
. মৌলবাদরে কবর দে।
ঘৃণ্য পিশাচ রক্তলোলুপ
. আর যেন না মাথা তোলে,
রক্ত যেন আর না ঝরে
. স্নেহের-ছায়া-মায়ের কোলে।
কর প্রতিরোধ, মগজ শানা
. বাংলা গড়ার আনন্দে
কাঁধ মিলিয়ে পরস্পরে
. মৌলবাদরে কবর দে।
শাহবাগকে শ্রদ্ধা কবি শমীন্দ্র ঘোষ (জন্ম ১৫.৪.১৯৬৯)। রচনাকাল : ২০১৩। শাহবাগ
আন্দোলনকে উত্সর্গকৃত ও প্রকাশিত : ফেসবুকে এবং শাহবাগে ; ফেব্রুয়ারি ২০১৩, পেট্রাপোল
সীমান্তে শাহবাগ সংহতিমঞ্চের মিছিলে পঠিত-গীত, ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
মুক্তি-হাওয়া আজান দিলো
. মুক্তির গান আজন্মের
উড়ছে ধুলো পদধ্বনির
. নতুনতর প্রজন্মের।
বাঁধভাঙা ওই জনস্রোতই
. পথ ক'রে নেয় সানন্দে
ধর্মহীনের সংস্কৃতি
. এক বাংলায় গড়েই নে।
কর প্রতিরোধ মগজ শানা
. বাংলা গড়ার আনন্দে
গোষ্ঠে গোষ্ঠে ঘেরাও ক'রে
. মৌলবাদরে কবর দে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কারাগার কে গড়েছে,
. মন জেনেছে,
. ভরেছে অন্ধকারের দিন---
তাই,
চেতনায় আগুন জ্বালো
চেতনার আগুন জ্বালো
পুরোনো পুড়িয়ে ফেলো
. এগিয়ে চলো,
. আনো নতুন এক দিন।
সকালের বার্তা এল
সকলের বার্তা এল
উল্লাসে এগিয়ে চলো
. আগুন জ্বালো
. একদিন প্রতিদিন।
শুনে গান অট্টহাসে শোষকেরা দৌড়ে আসে
শাসনের অক্টোপাসে আমাদের রক্ত চোষে
বোমা-গুলি সন্ত্রাসে ধূলি হয় রক্তে রঙিন।
নেমে আসে অন্ধকারের দিন।
আমরাও নই তো ভীত চামড়াও নয় কুপিত
মগজও সুশানিত জনস্রোত উচ্ছ্বসিত
প্রতিরোধে উদ্বেলিত ঝেঁটিয়ে সরাই এই দুর্দিন।
. আসে শিকল ভাঙার দিন।
সাম্যপথের গান কবি শমীন্দ্র ঘোষ (জন্ম ১৫.৪.১৯৬৯)। রচনাকাল : ২০১৪। প্রকাশিত : বঙ্গসমাজ পত্রিকা, ২০১৪।
আমাদের ঘাম ঝরানো প্রতিটি রক্ত ফোঁটা
হবে না ব্যর্থ কোনও মগজে অশ্ব ছোটা
ঘরে-ঘর কর্ প্রতিরোধ দোরে-দোর জাজা রে বোধ
মানবতায় লাগা দরদ জাগা প্রাণ গোটাগোটা।
এসো আজ আগুনঝরা আলোয় প্লাবন দিন।
মন-আগুন ঢল লেগেছে কোল ছেড়ে জন জুটেছে
শোষকের ইমারতি আনাজপাতি সব ভেঙেছে,
. ভেঙেছে শাসনের বেয়োনেট-সঙ্গীন।
. এসো আজ আগুনঝরা আলোয় প্লাবন দিন।
শোষণের নাগপাশে শোষক আজ নিজেই ফাঁসে
প্রকৃতিটা উঠছে হেসে আমাদেরই আশেপাশে,
দেখো হাসি ধানের শীষে খুশি ওড়ে শিশির ঘাসে,
পাখিদের মুক্ত ডানা সাদা-নীল ওই আকাশে,
ওই শোনো উত্সব গান বনে বনে প্রতিধ্বনি
মাঠে-ঘাটে অবাধ ছুটি নদীজলে আলোর মণি
. সুরধুনী মুক্ত স্বাধীন,
আয় হেসে, ভালোবেসে গড়ব শুধু সাম্যের সেই দিন।
জীবন আজ ওই যে হাসে
জীবনের মহাকাশে
খোলা গান দেশে দেশে
. ইতিহাসে
. বাজায় নূতন এই বীণ।
এসো-না আলোয় প্লাবন
. উত্সব-মন
. একদিন প্রতিদিন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চল অফিস চালাই
ভুলে প্রাণের বালাই
ঝেড়ে দায়ের বোঝা
করি মগজ ধোলাই।
আজান, পিদিম দিয়ে
করি ধম্মো ঢালাই
শিক্ষে শিকেয় তুলে
থাকি বোবা-কালা-ই।
শ্যামের বাঁশি শুনে
দু-কান ঝালাপালা-ই
দু-কান কাটার মুখে
শুধু যাত্রাপালা-ই।
মোমের বাতি জ্বালাই
বাজাই বাসন থালা-ই
হাতে তালি দিয়ে
সাজাই বরণডালা-ই।
আজকের ব্রতচারী গান
কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)। রচনা - ৩১.৫.২০২০।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৩১.৫.২০২০।
দেশে আগুন জ্বালাই
লেড়ে খুঁজে ক্যালাই
জে এন ইউ-র ঘাসে
ইস্টিমরোলার চালাই।
দেশে চাবি-তালা-ই
জীবন ফালাফালা-ই
শুধু থাকবে বেঁচে
বাবু মুকেশ লালা-ই।
যত মোল্লা শালা-ই
বলবে পালাই পালাই
পেটে ক্ষিদের জ্বালায়
খাবো শ্রীরামলালা-ই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যারা জেগেছিল
তারা মৃত।
যারা জেগে যাবে
তারা ধৃত।
যার চোখ খোলা
সে তো “ওরা"।
যারা আমাদের -
মুখচোরা।
যদি ভেবে মরো,
লেখো পদ্য।
যদি মুখ খোলো -
তুমি বধ্য।
যদি দলে ভেড়ো
হবে সখ্য,
যদি দড়ি ছেঁড়ো -
হবে লক্ষ্য।
যদি আমি বলি,
সেটা সত্যি।
যদি সেনা নামে
সেটা পথ্যি।
যদি চলে গুলি -
রাজধর্ম।
চোখে থাক ঠুলি -
সারমর্ম।
রাষ্ট্র কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)।
রচনা - সেপ্টেম্বর ১৬. ২০১০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হুজুর ব্রিজগোপাল লোয়া -
(আমি) তুলসীপাতা ধোওয়া।
সুপ্রিম কোর্ট আমার কাছে
ছেলের হাতের মোয়া।
(ওরা) মামলা ঠুকে গিলবে গালি,
উঠবে ঢেকুর চোঁয়া।
আমার ন্যাজে লাগলে যাবে
কয়েকটা প্রাণ খোয়া।
ঘেন্না-খুনের বীজ বুনছি
গৌহাটি to গোয়া।
তখতে আছে ব্রাদার মোদী
যায় না আমায় ছোঁয়া।
মোল্লাগুলো করুক যতই
দরগা গিয়ে দোয়া,
ওদের বিবি-বোনকে পাঠাই
শাঁখা-সিঁদুর-নোয়া।
কালবুর্গী, গৌরী-আপা,
দাভোলকার au revoir,
নিন্দুকেরা সিন্দুকে থাক
(আরও) একশ' বছর সওয়া।
কথা অমিত-সমান
কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)। রচনা - ২০ এপ্রিল, ২০১৮।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরে গুপীরে, ওরে বাঘারে,
যত সংবাদ সব ভাগাড়ে।
রোল মাটনের প্রতি কামড়ে
বুকে বাজে বড় দাগা রে।
হয়ে হিন্দু খেনু কি গোরু?
পরি তাবিজ, বাঁধি তাগা রে।
আর যত আছে কণ্ঠী মাদুলি
আংটি এবং ধাগা রে।
যতবার bite, ততবার byte,
সানিধা নিধাপা মাগারে।
আসল কথাটা চুপিচুপি বলি,
যে কথা গোড়া ও আগা রে -
ভাগাড়ের ধুয়ো তুলেছি,
এবার
মোল্লা-ঘেন্না চাগা রে,
হিঁদু-সংহতি জাগা রে,
দাঙ্গা-আগুন লাগা রে,
কাটুয়াকুলকে ভাগা রে।
যত দিন ভোটে না জিতি,
হবে ব্রেকিং নিউজ নাগাড়ে।
ভাগাড়ের গান
কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)। রচনা - মে দিন, ২০১৮।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যখন থাকি জিততে,
পুলক লাগে চিত্তে,
উদ্বাহু হই নৃত্যে,
তখন 'মোদী মোদী'।
যখন চাকা গর্তে,
স্বর্গ থেকে মর্ত্যে,
মুখ বাঁচানোর শর্তে
তখন 'কিন্তু যদি'।
যখন মারি মোল্লা,
হিন্দুরা দেয় তোল্লা,
পূর্ণ ভোটের ঝোল্লা,
তখন 'মোদী মোদী'।
যেই ওরা এককাট্টা,
'আচ্ছে দিন'-এর ঠাট্টা,
মিষ্টি খোয়াব খাট্টা,
তখন 'কিন্তু যদি'।
যখন চেঁচাই মাইকে
পান বনারস খাইকে,
কুপিয়ে মারি ভাইকে,
তখন 'মোদী মোদী'।
মুখপাত্র উবাচ
কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)। রচনা - ৩১ মে, ২০১৮।
যখনই খাই পালটা,
বিরোধীদের চালটা
ছাড়িয়ে নেয় ছালটা,
তখন 'কিন্তু, যদি'।
যখন শুধুই মারছি,
ধর্মের কল নাড়ছি,
আড়-বহরে বাড়ছি,
তখন 'মোদী মোদী'।
যখন প্রদীপ টিমটিম,
ভোট বাঁচাতে হিমসিম,
করছে মাথা ঝিমঝিম,
তখন 'কিন্তু যদি'।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ম্যাডিসনের মোদী
একবার
চুপটি করে যদি
একটুখানি ভাবেন,
তিনি
আর কতদুর যাবেন,
কার
মুখেই বা ঝাল খাবেন,
তবে
নিশ্চয়ই টের পাবেন,
এই
বুড়ি ভারত দেশ
কারও
একার বাপের নয়,
বারো
ভুতের পাপের নয়,
ছোরা
ছুরির খাপের নয়,
হিঁদু
জুতোর মাপের নয়,
‘উন্
নয়ন কাপ’-এর নয়,
বরং, আরেকটু রামধনু
একটু নীরবতার জন্য
কবি পার্থ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৬৮)। রচনা - ৩০.৯.২০২১।
এবং আরেকটু সক্কলের,
যারা
সবাই খেতে পায় না,
কিংবা
আমেরিকায় যায় না,
‘জয়
ভারতমাতা’ গায় না,
তেমন
বিশেষ কিছুই চায় না,
শুধু গাঁয়ের একটি কোনে
বসে দিনের হিসেব গোনে,
কিছু নেতার ভাষণ শোনে,
মিছে স্বপ্নের জাল বোনে
আর মাঝেমধ্যে ভাবে –
দু কান কাটা যারা,
বুঝবে কীসে তারা,
শুকনো পচা মিথ্যে বুলি
বছর বছর ধরে,
কেমন শোনায় তাদের কানে,
দু কান যাদের খাড়া?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কি প্রয়োজন ছিল এমন রাজনীতি,
যেখানে নীতিহীন-স্বার্থনেষী অপদ্রব্যের অবাধ গতিবিধি।
তোমার মতো নিচুতলার একনিষ্ঠ কর্মী যারা,
দেওয়ালে রং-এর খোঁচা, আর তো ঝান্ডা ধরা,
সমস্ত কাজকর্ম ফেলে মিটিং-এ ভীড় বাড়ানো ছাড়া,
আর কিই বা করার ছিল তোমার পার্থ সেন?
ছুতো নাতায় বন্ধ ডাকা, মিছিলে সারিবদ্ধ ভাবে হাঁটা,
তবে ভালই লাগত দেখে----
স্লোগানের গর্জন, আর মুষ্টিবদ্ধ হাতগুলোর বাতাস কাটা,
অনেকটা কেন্নো জাতীয় ম্যাসিনের মতো, কি বল?
তবে কখনো কি ভেবেছো?
তোমার ভালবাসা, ত্যাগের মূল্য
ঠান্ডা ঘরের কানে কালা প্রভুরা দিতে আদৌ প্রস্তুত কিনা?
পার্টি তোমাকে যেভাবে স্তম্ভের মতো ব্যবহার করত
তোমার অবর্তমানে, পার্টি তোমার পরিবারের স্তম্ভ হবে কিনা?
আজোও তোমার সদ্য বিধবা বৌ, খুঁজে ফেরে তোমাকে
মিছিলের ভীড়ে।
তোমার শিশু সন্তান, ডুকরে কেঁদে ওঠে আজও “বাবা-বাবা” বলে
তুমি তো কখন, সকলের অজান্তে ফেলে গেলে চলে।
বৃদ্ধ পিতা মাতার একমাত্র ভরসা,
রেখে কিছু প্রশ্ন চিহ্ন, ফুরিয়ে গেল তাদের সকল আশা।
একটি মৃত্যু, কিছু প্রশ্ন
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)। মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি
তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কেন, কেন তুমি মা আজ
এ সিদ্ধান্ত নিলে?
ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই-----
কেমন করে আমায় গেলে ভুলে?
আমিও তো চেয়ে ছিলাম
সুন্দর এ পৃথিবীতে নিশ্বাস নিতে
তোমাদের পরিবারের সম্মান বাড়াতে।
কিন্তু কেন, কেন?
শুধু মাত্র মেয়ে হওয়ার অপরাধে !
গর্ভাবস্থায় হত্যায় উদ্ধত আজ তোমার ওই দুটি হাত,
কেন? তুমিও তো একজন মেয়ে?
কন্যাভ্রূণ হত্যা
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)
মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তিলে তিলে তিলোত্তমা
এ যে যুগ যুগান্তরের স্বপ্ন-সাধনা,
কর্ম-ভাব আর উর্ব্বর চিন্তাধারার
গৌরবময় প্রতিচ্ছবি, ও আমার ‘সংস্কৃতি’ মা।
কান পেতে তাই শুনি
তোমার কল্লোলিত হৃদস্পন্দন-ধ্বনী,
সৃজনশীলতার উজ্জ্বল প্রতিধ্বনী।
ব্রাহ্মণরা বুঝিয়েছিল, সমাজে মানুষ চারটা,
ইংরেজরা শিখিয়েছিল, হিন্দু-মুসলমানের ভাগটা
হও তবে সাবধান, নইলে
পশ্চিমী-মার্কিনরা করবে ভরাসভায় ন্যাংটা।
সংস্কৃতি - সাবধান
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)। মিলনসাগরে এই
কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিশ্বায়নের মুক্ত হাওয়ায়
কবে যে কোথায় গেছে তলিয়ে----
স্বদেশী পণ্যের পানসি
সমাজতন্ত্রের ফাঁকাবুলি, কেলিয়ে।
পণ্য মূল্যের বৃদ্ধিতে
জীবন যন্ত্রণায় চূর্ণ,
ত্রাহি ত্রাহি---
আমজনতা আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন।
এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাতিনের লুন্ঠিত সম্পদ
ও যে রূপান্তরিত পশ্চিমী পুজি,
হলেই বা আমারা হাঁদা-ভোঁদা
তবুও এটা ভালই বুঝি।
বহুজাতিকদের হাতেই যে
অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের ধ্বজা,
রিটেল থেকে এস. ই. জেড
বিকাশের চাতুরতায় ওরাই করছে কব্জা।
আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের নয়া সংস্করণ
সরকার বদ্ধপরিকর করতেও একে রক্ষণ,
চক্রান্ত, সর্বনাশ পরাধীনতার পথ ও যে
আমজনতাকে করবেই ভক্ষণ।
বিশ্বায়ন (globalisation)
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)
মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি আলো, বাবা মা-র ঘর আলো করে এসেছিলাম বলে
আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘আলো’
কিন্তু আমার সুন্দর আলোকময় এই জীবনে
এমন অন্ধকার নেমে আসবে, স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি।
আমার বিয়ে হয়েছিল বিশু ঘোষের সাথে, ৮ই মার্চ,
ঐ দিনটি আবার নারী দিবস, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন।
কত স্বপ্ন দেখেছিলাম,
আমারা থাকতাম নদীয়া জেলার শিমুরিয়া গ্রামের উত্তর চান্দুরিয়াতে
ঐ যে হরসুন্দরী স্কুল, উপেন্দ্র বিদ্যাভবন আছে না, তার পাশে |
আমার বড় ছেলে বটু, আর বড় মেয়ে বাট্টি।
মেয়ে হওয়ার পরই আমাকে আমার স্বামী বাপের বাড়ী রেখে চলে যান,
আর কখনও নিতে আসেননি,
শুনেছি অন্য এক মহিলাকে নাকি বিয়ে করেছেন।
আচ্ছা আমাকে ডিভোর্স না করে কিভাবে আমার স্বামী অন্য মহিলাকে বিয়ে করেন?
আমার বাবা, মা, ঠাকুমা সকলেই মারা গেছেন।
সেই কারণেই কাকা শঙ্কর ঘোষের কাছে রেখে যান।
শঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত দুঃচরিত্রের বদমেজাজী মানুষ,
১০-১২ বছর ধরে চোলাই দেশী মদের ব্যবসা করেন,
বাড়ীর নিচে মাটি খুঁড়ে মদ রেখে দেন,
প্রতিবেশীরা সকলে জানলেও ভয়ে কেউ টু শব্দ করতে পারে না।
সন্ধ্যে ৭টার পর কাকার আসল রূপ ফুটে,
নানা রকম অসামাজিক কাজকর্মে মেতে ওঠেন।
নারী দিবস কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)। মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
আমার ছেলে বটুকে কাকা মদ খাওয়ায়, ও নানা রকম কুশিক্ষা দেয়,
আমি প্রতিবাদ করে ছিলাম বলে, আমাকে মেরে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার মেয়ে বাট্টিকে কোন অজানা লোকের বাড়ীতে কাজে লাগিয়েছে,
তার সন্ধান আজো আমি পাইনি।
চাকদহ থানায় জানালেও ওসি সাহেব টাকা খেয়ে চুপ করে বসে আছে
আমার মেয়ে ও ছেলের নামে যে সমস্ত এম. আই. এস করা আছে
তা সবই কাকা শংকর ঘোষ নিয়ে নিয়েছে।
এমন কি আমার যে আটকাঠা জমি রোডের পাশে আছে
তাও নেওয়ার জন্য নানারকম অত্যাচার করে চলেছে।
আজ আমি কবিতাদি-র বাড়ীতে কাজ করি এবং ওখানেই রাতে থাকি।
আমার জীবনে শুধুই কালো অন্ধকার, অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি আজ সর্বহারা, পথে পথে রিক্সা চালাই
জীবনের হাল ভেঙেছে, ছিড়েছে যে তার
মাঝে মাঝে মনে হয়, সব ছেড়ে-ছুড়ে পালাই।
বাড়ী ছিল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত কুটিরামপুর গ্রামে
আমার চোদ্দ বছরের ছেলে রাজা, আর ওর মা পিয়ালী
অভাবের সংসারে, কোন ঘাটতি ছিল না প্রেমে।
কিন্তু সাত দিনের জ্বরে, শেষ করে দিল প্রাণ
আমার একমাত্র রাজার চনমনে জান, ওর মা যে হল পাগলি
ডাক্তার বাবুর একটি ভুল ইনজেকশান।
আজ আমি সর্বহারা রিক্সাওয়ালা
এই ভাঙা বাড়ীর বারান্দায় রাতে থাকি, এ্যাঁ খাদ্য !
অ’খাদ্য বলতে এক বোতল বাংলা, আর চা কয়েক পেয়ালা।
কানে একটু কম শুনি, এখন তো মৃত্যুর দিন গুনি,
অভিযোগ? হ্যাঁ সেতো. -- মন্ত্রী আর সরকারী দপ্তরের দরজায় ঘুরে ঘুরে
জমেছে -- এই দেখো কাগজের বস্তা, এখানেতো মৃত্যুই বড় সস্তা।
এই কুড়ি বছরে কম হয়নি হয়রানি, আদালতের চক্করে
দোকান, জমি, বাড়ী, ভিটে-মাটি-হয়েছে যে চাটি
পড়েছে যে মহাজন আর ঐ সব উকিলের খপ্পরে।
সর্বহারা কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)। মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
আর ঐ ব্যাটা ডাক্তার, আমার ছেলেটাকে জলজ্যান্ত
দুঃখে বুক ফেটে যায়, কিন্তু ভাবতো ডাক্তার--“যদি ছেলেটা তোমার হতো?”
ছাড়বো না, কাঠগড়ায় তুলবোই !! যতই হই না কেন সর্বশান্ত।
কবে শোকে শোকে মরে গিয়েছে, পিয়ালী
শূন্যতার হাহাকারে ক্রন্দন বাজে বুকের মাঝে,
নিঃসঙ্গ আজ আমি, মনে হয় যেন এ জগৎ হেয়ালী।
মানুষ হয়েও আজ আমি মানুষ নই,
আদালত, আইন, প্রশাসন সবই বিত্তবানের সাথে,
পশুরও অধম আমি, কষ্ট আর হতাশারই বোঝা বই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমরা যে বড়াই কর,
স্বাধীন ভারতবাসী।
আমি বলি পরাধীন,
শতকরা আশি।
তবে তোমার প্রশ্ন হবে - কেন?
আগে তাহলে স্বাধীনতা কত প্রকার? জান।
শুধু মাত্র ব্রিটিশ মুক্তি, স্বাধীনতা নয়,
একে রক্ষা করতেও জানতে হয়।
যদি তুমি জেলে যাও, হবে পরাধীন,
জীবনে প্রতিষ্ঠিত না হলে--হবে নাকো স্বাধীন।
অসুস্থতা গ্রাস করে - পরাধীনতার শৃঙ্খল,
সত্যি কথা স্পষ্ট করে প্রকাশ্যের বল।
স্বাধীনতার আরেক নাম, পছন্দের নেতা নির্বাচন,
বাদ দিলে হবে নাকো - নিজ ধর্ম আচরণ।
চাহিদা পূরণের সক্ষমতা স্বাধীনতার ফসল,
সামাজিক নিরাপত্তা যদি না হয় অচল।
স্বাধীনতার প্রকার
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)। মিলনসাগরে এই
কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাঁস আর সজারু, হাঁসজারু যদি হয়
বাংলা আর ইংরাজী-- বাংরেজী কেন নয়?
বাঙ্গালীর সন্তান, মিঠাভাষা পারে নাকো শুদ্ধ
যারা খাঁটি, তারা নাকি অজ-গেঁয়ো - হদ্দ।
ফিরে আয় বাঙ্গালী, মধু কবির পথে
পরম সমাদরে, আত্মবিকাশ যাতে ঘটে।
হয় না যেন ব্যর্থ, রফিক-বরকতের প্রাণ
রক্তে রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারী-মাতৃভাষার সম্মান।
বাংরেজী
কবি তারকনাথ সরকার (জন্ম ১৮.৯.১৯৬৯)
মিলনসাগরে এই কবির এই কবিতাটি তোলা হয় ২০১৩ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এক একটা যুগ আসে, এই যেমন পুরুষ শাসিত
. এতকাল
ক্ষমতা নারীর হলে রাবণের নাম পাল্টে
. মন্দোদরী হয়ে যায়
একই লঙ্কা একই রাজ্যপাট থাকে, শাসন প্রণালী
. থাকে সেই পুরাতন
আমরা শুধু ভুল ভাবি, ভাবি বুঝি সুপ্রভাত
শেষ হবে উদ্দামতা
এইবার পুরুষের আধিপত্য ভেঙেচুরে দিয়ে
. বুঝি প্রতিষ্ঠিত হবে নারীর সমতা !
যে যায় লঙ্কায়
কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)
২০০৬ সালে প্রকাশিত কবির “বুয়া ও বাবুই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাটির মানুষ তারা
মাটিতেই মিশে গেছে প্রাণ
মাটির মানুষ তারা
মাটি থেকে উঠেছে স্লোগান
আমাদের অন্নদাতা
গুলিবিদ্ধ কীর্তন আজান
বাংলার দিকে দিকে
ছড়াতেছে বারুদের ঘ্রাণ
মাটির মানুষ কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)।
২০০৮ সালে প্রকাশিত কবির “মাটির মানুষ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বসুন্ধরা বেচে দিচ্ছ, সুজলা সুফলা
বসুন্ধরা বেচে মা’কে নিলামে তুলছো
কত যেন জনস্বার্থ, কত ছলাকলা
ধনধান্যপুষ্পভরা ধরিত্রীকে নিয়ে
মলয়জ শীতলাং ডিল করছো রাতে
ক’জন ধনীকে আরো ধনিক বানাতে
Deal
কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৯ সালে প্রকাশিত
কবির “ভদ্দরলোক” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড়
আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উড়িয়ে দিলাম সব প্রতিবাদী কাব্যগুচ্ছ, ওরা
আকাশে বাতাসে, মাঠে, পতিত জমিতে
ঘাপটি মেরে পড়ে থেকে আলো জল পেয়ে
তোমাদের ইঁটের গাঁথনিতে অশথের
প্রতিবাদী চারাগাছ হয়ে জন্মাবে
যতবার মালি দিয়ে কাটাবে সে গাছ
ততবার জেগে উঠবে, শুধোবে তোমাকে------
বনের সবুজ কেটে আত্মহত্যা করতে চাও কেন ?
উড়িয়ে দিলাম কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)।
২০০৯ সালে প্রকাশিত কবির “ভদ্দরলোক” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হে ভূস্বামী, বিগত দিনের রাজা, রায়সাহেব, রায়বাহাদুর
আপনাদিগের প্রতি জানানো যাইতেছে যে
স্বাধীনতার পরবর্তীকালে জমিনদারী প্রথা
বিলোপ করিয়া আমর যত পাপ করিয়াছিলাম
কৃষকদিগকে ভ্রান্ত অধিকার বুঝাইয়া আমরা যত পাপ করিয়াছিলাম
জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়া আজ
মেহনতী মানুষের বিলম্বিত মিছিলের মধ্য দিয়া আজ
কতিপয় বুদ্ধিজীবীর আজানুলম্বিত নৈঃশব্দ্য অথবা আশ্বাসের মধ্য দিয়া আজ
সেই পাপস্খালনের কর্মসূচী আমরা লইয়াছি।
জমিনদারীরাজ পুনর্বহাল হইতেছে---
জমিনদারী কথাটি পুরানো, আজি হতে ‘সেজ’ নামে তাহাকে ডাকিব।
আপনাদিগের শতসহস্র দেশী বা বিদেশী ঊত্তরসূরীদের প্রতি
সনির্বন্ধ আবেদন, আপনারা আসুন পুনরায়
‘উন্নয়ন’ শব্দটিকে বারে বারে উচ্চারণ করিতে করিতে
শিল্পায়নে পুণ্যস্নান করিয়া প্রত্যেকে ভিত্তি-প্রস্তরের খন্ড সংগ্রহ করুন।
সুরাপাত্র হস্তে লইয়া উল্লাস হউক !
কৃষিকাজ এ প্রথায় আবশ্যিক নহে , আপনার লাভের জন্য
. যেনতেন পন্থা মার্জনীয়
নামমাত্র মূল্যে আমরা, নামমাত্র রাজস্বের প্রতিশ্রুতি পেলে
ভরাগ্রাম ভরাশস্যক্ষেত আজ প্রাণী ও মনুষ্যহীন
. হাতে হাতে প্রদান করিব
সনির্বন্ধ আবেদন কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত
কবির “মাটির মানুষ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ক্ষতি করে দিয়ে আজ পূরণের রাজনীতি করো
চাকরি এক প্রজন্মের, জমি তো সন্তানসন্ততির !
তোমার এই উন্নয়নে ভিক্ষাপাত্র হাতে নেব কেন?
অন্তর্যামী জানে কত কত জন্ম জমতে জমতে জমি
কত রক্ত, কত ঘাম পূর্বপুরুষের কত শ্রমে
আমাদের জমি থেকে অন্ন পেয়ে এসেছো তোমরা
এ জমিতে কত গোর দিয়েছে আব্বার আব্বা তার
আব্বাকে
আমি হিন্দু এখানেই সমাধি দিয়েছি সন্তান
যতই মানাতে চাও, জো হুজুর বলতে পারছি না
একদিন বাম ছিলে---
. পাট্টাফাট্টা বুঝাইলে
আজ তুমি জমি ছিনতাইবাজ ডান !
ক্ষতিপূরণ কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৯
সালে প্রকাশিত কবির “ভদ্দরলোক” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুর
নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওঁরা কেউ পঞ্চাশ দশকের পার্টিমেম্বার
কেউ ষাট দশকের, কেউ কেউ সত্তরের
ট্রাম পোড়ানোর সময়, খাদ্য আন্দোলনে,
উত্তাল শ্রেণীসংগ্রামে ওঁরা ছিলেন |
এতদিন ধরে ওঁরা পার্টিকে দিয়েছেন বেশি, নেননি তেমন
নন্দীগ্রাম গণহত্যার দিন ওঁদের সকলের একযোগে
. বাঁদিকটা পড়ে গেছে----
. পক্ষাঘাত
তবু তারই মধ্যে তাঁরা, অসহায়, নির্বিকল্প
. খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
ড্যামেজ কন্ট্রোল কল্পে মিছিলে হাঁটছেন
মিছিলে হাঁটছেন আর আত্মহননের কথা ভাবছেন
একা একা একা---
ড্যামেজ কন্ট্রোল কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম
২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত কবির “মাটির মানুষ”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার সল্টলেকে ফ্ল্যাট।
আমার রাজারহাটে। আমার টালিগঞ্জে।
আমার গল্ফগ্রিনের পশ এলাকায়----
লটারিতে পেয়েছি।
‘লটারি’ কেমন সে- তো জেনেছি তখনই
আপনার কাছে, পার্টির কাছে অপার কৃতজ্ঞতা
যতদিন প্রাণ আছে আমি আছি আপনার পাশে।
আমার ছেলে জয়েন্ট পেয়েছে
আমার মেয়ের ডিভোর্স কমপ্লিট
আমার মেজোছেলের প্রমোটারি
ছোট ভাই--এর নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান---
উদ্ধোধনে আপনি এসেছিলেন
আপনার কাছে, পার্টির কাছে অপার কৃতজ্ঞতা
যতদিন প্রাণ আছে আমি আছি আপনার পাশে।
আমি টিচার্স কাউন্সিলে নবাগতা
বাবার ঠিকঠাক পেনশনের ব্যবস্থা করেছি
স্কুল-কলেজের-ইউনিভার্সিটিতে আমার প্লেসমেন্ট চাই
কর্মক্ষেত্রে আমি দেরিতে পৌঁছেই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি
আমার প্রোমোশনের গ্রাফ ঈর্ষণীয়
আপনার কাছে, পার্টির কাছে অপার কৃতজ্ঞতা
যতদিন প্রাণ আছে আমি আছি আপনার পাশে।
শপথ কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত কবির “মাটির মানুষ”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমি বুদ্ধিজীবী, সিনেমার হিরো, ভিলেন, নাট্যকার
বড় বড় কাগজে আমি লিখি, গান গাই
আমি সাঁতারু, ফুটবলার, ম্যাজিক দ্যাখাই
আমি পুরস্কৃত, আরো পাবো---
. বছরভর প্রোগ্রাম কলেজে কলেজে
বহু দেশ ভ্রমন করেছি, আরো অনেক রয়েছে সামনে
আপনার কাছে, পার্টির কাছে নানাভাবে অপার কৃতজ্ঞতা
যতদিন প্রাণ আছে আমি আছি আপনার পাশে।
শুধু একটা আর্জি রয়েছে-----
আপনার মিডিয়াকে বলুন আমাদের ইমেজ
ঠিকঠাক তুলে ধরতে
পাড়া-প্রতিবেশী কিছুতেই বুঝতে চাইছে না এখনও !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খাতায় কলমে বামদল
আসলে চলছে ডানদিকে
মেহনতি তথাকথিতের
লালরঙ যায় গৈরিকে
কৃষকের শ্রমিকের পিঠে
কাস্তে হাতুড়ি চিহ্নরা
পতাকার থেকে নেমে আসে
নেতা বলে, দুর্জন ওরা
শুধু চাষি শ্রমিকরানয়
যারা যারা বিদ্রোহী কুজন
প্রত্যেকের জন্য রাখা আছে
ভিন্ন ভিন্ন সর্প-দংশন
ভোটবিশারদ বামদল
আসলে চলেছে ডানদিকে
পুঁজিদাস ক্যাপিটাল হাতে
বজ্রমুষ্টি তোলে দিকে দিকে
এই নব্য মহাভারতের
শেষে তবে কোন পরিণতি?
কবে যাব কন্যার কাছে
পিঠে উঠবে আমার সারথি!
উলোটপুরাণের দিনে কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)।
২০০৮ সালে প্রকাশিত কবির “মাটির মানুষ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিল্প কাকে বলে বন্ধু, শিল্প কারে কয় ?
বিদেশী প্রযুক্তি আর স্বদেশী মজুর----
সামান্য নগদে জমি--- এত সুবিধায়
যন্ত্রাংশ জোড়ার কারখানা---
যাচ্ছি-যাই বলে শিল্পপতিটি না যায়
ইস্ট ইন্ডিয়ায় পূর্বে এমন কোম্পানি
অনেক এসেছে, জমি পরাধীনতায়
দাসখৎ লিখে দিতে হয়েছে অনেক
উন্নয়ন করেছে তারাও--- হাইওয়ে, ব্রিজ, রেল
শহর বন্দর জুড়ে এই দেশ থেকে
বাণিজ্যের অর্থ সব নিয়েছে বিদেশে
আজ ফের দেখতে পাই বঙ্গভূমি জুড়ে
শিল্পের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিমুনাফায়
অধিগ্রহণের ফাঁদে কৃষিশিল্প যায়---
শিল্প কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত
কবির “মাটির মানুষ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড়
আন্দলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ব্যক্তিহত্যা অমার্জনীয়
কিন্তু অস্ত্র যোগাচ্ছে কারা?
খাদ্য না দিয়ে জল কেড়ে নিয়ে
যুগ যুগ ধরে অস্ত্রের মুখে
অগুনতি আদিবাসিন্দাদের
ঘাতক-বাহিনী সাজাচ্ছে কারা?
রেড ইণ্ডিয়ান হটিয়ে যেমন
আমেরিকা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত
সে দেশ আবার দখল চাইছে
মানচিত্রের তৃতীয় বিশ্ব
দখল করতে চাইছে আকাশ
দখল করতে চাইছে মাটিকে
দখল করতে চাইছে মাটির
মর্মে সাজানো খনি-সম্পদ,
স্বদেশকে আজ পণ্য করেছে
তাদেরই মধ্যসত্ত্বভোগীরা---
স্বদেশী অথবা সর্বহারার
দলের নেতা বা মন্ত্রীর বেশে
মারো তবে লালমোহন টুডুকে কবি প্রসূন ভৌমিক (জন্ম ২৩.১০.১৯৬৯)। সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড় আন্দলনের কবিতা। এই কবিতাটি "পরিবর্তন" পত্রিকার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
কিন্তু কী ভাবে এ গণতন্ত্রে
লক্ষ-নিযুত অধিবাসীদের
কৃষিজীবী থেকে মজুর বানাবে?
কোন অজুহাতে টাটা-সালেমের
বিরোধী জনতা থমকে দাঁড়াবে?
কোন অজুহাতে বিরোধীরা চুপ?
শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ
অথবা ভোটের রাজনীতিতেও
সীমিত অস্ত্র প্রয়োগ তো আজ
গ্রাহ্য হয়েছে জনতার কাছে...
এই পথে নয়, এ পথে হবে না
পূর্ণ জঙ্গী চাই রাষ্ট্রের!
এ বড় দীর্ঘ জটিল কর্ম
দু'টো কি দশটা আমলাশোলের
পরেও যদি বন্দুক না তোলে
পেটে সন্ত্রাস নিয়েও যদি না
হাল্লা বোলের পথ না মাড়ায়
তাহলে নতুন পথ প্রয়োজন...
তাহলে নিধন, ঠ্যাঙাও ওদের
ধর্ষণ করো বেহুলা মাহাতো
ছিদামনিদের অন্ধ বানাও
ক্ষমানন্দকে উলঙ্গ করে
পেটাও গর্ভবতী নারীকেও
এবার পাল্টা মার তো আসবে!
এত সত্ত্বেও অভ্যুত্থানে
পথ কাটা | আর পথের কাঁটারা
এত সত্ত্বেও নিরামিষ পথে
শুধু পুলিসকে বয়কট করে!
ক্ষমা চাইলেই শান্তি চুক্তি!
এ সবে হবে না। কীসের শান্তি?
শাসকদলের পোষা ডাকাতকে
মারতে অথবা মরতে পাঠাও
যা-ই হবে---লাভ। রাষ্ট্রের হাতে
আনতেই হবে মেদিনীর ভার
ওই মণিহার সাজে না ওদের
কেন না মাটির তলায় খনিজ
কেন না মাটির উপর বনজ
কেন না মাটির মানুষ মজুর
এখন কেবল ভাগ বাটোয়ারা
কেন না বিশেষ অর্থনীতির
অঞ্চল আজ চাইছে প্রভুরা
অবশেষে ওরা অস্ত্র তুলল
অসংসদীয় অস্ত্র তুলল
পিঠে দেওয়ালরা অস্ত্র তুলল
বহু প্যাঁচ পয়জারের শেষে
নিরন্ন আদিবাসীদের হাতে
অস্ত্র তুলিয়ে ছাড়ল রাষ্ট্র!
এখন যুদ্ধ দেশের স্বার্থে
দশ-বারো-বিশ বণিক স্বার্থে
যৌথবাহিনী, পিছে হার্মাদ
ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যেন
যুদ্ধে নেমেছে মার্কিন সেনা---
যুদ্ধে তোমার মতামত নেই!
মতামত যদি থাকেই, তাহলে
"দেশ-দ্রোহী" দের বিরুদ্ধে যাও।
প্রমাণিত আজ : আদিবাসী মানে
এদেশে জঙ্গি, আদিবাসী মানে
"সভ্যতা"-পরিপন্থী জংলি---
কখনও ওদের পাশে থাকা নয়
আমলারা ভয় দেখাবেন, জুজু---
নিজেকে শান্তিযোগ্য কোরো না
ওরা তো যুদ্ধে অস্ত্র তুলেছে,
রাষ্ট্র এখন ওদের হঠাতে
উন্নয়নের "বেদান্ত" হাতে
নরহত্যার বৈধতা চায়
মানবাধিকার যতই চ্যাঁচাক
ইতিহাসে যত গান্ধী থাকুন,
আলোচনা নয়, আলোচনা নয়
কেবল মাত্র ভোটের স্বার্থে
আলোচনা ছাড়া অন্য বিষয়ে
আলোচনা চাওয়া দেশদ্রোহিতা!
হঠাৎ এসব যুদ্ধের মাঝে
আবার এসেছে শান্তির ডাক
খোঁয়ারে বসেই যত শেয়ালেরা
ফন্দি করেছে যাতে রাষ্ট্রের
পরিকল্পনা চটকিয়ে যায়,
ভন্ডুল হয় ছকের ঘুঁটিরা
একশন-প্ল্যান এতদিন ধরে
এত প্যাঁচ কষে তইয়ার হল---
বনগোষ্ঠিকে ব্যান করে সেই
দলের দোসর জনসাধারণ---
তারা যদি ফের শান্তির পথে
মারো তবে লালমোহন টুডুকে!
কে লালমোহন? জনসাধারণ
কমিটির নেতা? ও তো নিষিদ্ধ!
শান্তির ডাক দিয়ে শেষরাতে
কাঁটাপাহাড়ির পুলিস ক্যাম্পে
ও নাকি জঙ্গি হামলা করতে
এসেছিল সাথী-সঙ্গী জুটিয়ে
রাষ্ট্র শেখায় মিডিয়াকে। আর
মিডিয়া শেখায় আমাদের, তাই
শিক্ষিত হই : অবগত হই---
বয়োবৃদ্ধ আদিবাসী এক
জঙ্গি হামলা করতে গিয়ে সে
মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত।
শান্তির ডাক দিতে গেছিল যে
তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হল
সে তো জঙ্গল, সে তো সাঁওতাল
জনসাধারণ, অতি সাধারণ
সিধু-কানহু-চাঁদ তিলকা মাঝির
একবিংশতি উত্তরসূরি
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাঁ করা মুখ গুলো দেশ জুড়ে কি জানায়
ওদের অস্তিত্ব না বেঁচে থাকার তিতিক্ষা?
জীবন্ত মন কে যদি প্রশ্ন রাখি অজ্ঞতায়,
পাশ কাটিওনা দোহাই চাই যে কিছু জ্ঞান।
এতো আয়োজন সাজ সাজ রব
কাদের জন্য?
বিদেশী তকমা অর্থনৈতিক ডামাডোল
সাতকাহন।
বুদ্ধি দিয়ে আর কিচ্ছু হবেনা
আগে বিচ্ছু চোরগুলো ধরো।
এরা সেই চোর
যারা রাতের ঘুম কেঁড়েছে আমার
ওদের কেঁড়েছে খাবার।
একটা দুটো নেংটি ধরলে কি হবে,
নেংটি কিংবা ধেড়ে গেছে অনেক বেড়ে।
সব ব্যাটা খোসামুদের কালো ব্যাগ সিল করে
মোহর কেড়ে নাও লুকোনো গর্ত থেকে,
রাজকোষ করো পূর্ণ।
হোক কর্ম সংস্থান
বাঁচুক হাঁ করা মুখ গুলো।
এরা সেই চোর
যারা রাতের ঘুম কেঁড়েছে আমার
ওদের কেঁড়েছে খাবার।
এরা সেই চোর কবি প্রদীপ বিশ্বাস (জন্ম ১.১১.১৯৬৯)। এই কবিতাটি
২০১৩ সালে মিলনসাগরে তোলা হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রতিরোধে আজ দুলছে কাশের বন
আশ্বিন খ্যাপা শ্রাবণের ঝোড়ো হাওয়া
পিতৃপক্ষে তারেক আলি-তপণ!
এবার নতুন আগমনী গান গাওয়া
ডিতর-বাহিরে এক হয়ে গেছে সব
বহিরাগতরও ঠিকানা অন্ত:পুরে
লাঠির উত্তরে আগমনী-কলরব :
আমি কি ডরাই ও-ছি ; কি পুলিশাসুরে?
শত-সহর পদাতিক যদু-সেনা
বিনা অস্ত্রেই লড়ছে ন্যায়ের যুদ্ধ
চেনা বাঁশি তবু নতুন সুর অচেনা
আগমনী গানে রাজপথ অবরুদ্ধ
“আগত শরৎ অগোচর প্রতিবেশে
হানে মৃদঙ্গ বাতাসে প্রতিধ্বনি
সব প্রতীক্ষা সমাপ্ত অবশেষে
যাদবপুরেই এবারের আগমনী
অধম কালিকাপ্রসাদের এই সাধ
জোয়ারে হোক অশান্ত সমুদ্দুর
একুশ শতকে মানব-জমিন আবাদ
নাম : আগমনী, ঠিকানা : যাদবপুর
কবি কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য
|
আগমনী ২০১৪ কবি কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য (১১.৯.১৯৭০ - ৭.৩.২০১৭)। ২৮শে অগাস্ট ২০১৪ তারিখে
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়। নিগৃহীতা ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার
নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে, উপাচার্য মহাশয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও কর্তাভজা মনোভাবের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা
প্রতিবাদ-অবস্থানে নামেন, যা “হোক কলরব” আন্দোলন নামে খ্যাতি লাভ করে। সেই আন্দেলনের পরিপ্রেক্ষিতে
রচিত এই কবিতাটি, সেই সময়ে মিলনসাগরের হোক কলরবের দেয়ালিকায় তোলা হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লিখো সেই মানুষের নাম
অশ্রু রক্তে ভেজা ঘাস
তিন দশকের ইতিহাস
শিরোনাম --- রক্ত পলাশ
লিখো সেই নদীটার কথা
বুকে যার স্পর্ধা অগাধ
প্রয়োজনে গড়ে সভ্যতা
প্রয়োজনে ভেঙ্গে দেয় বাঁধ
অরণ্যে জেগে ওঠে গ্রাম
পোষ্টারে শহীদের নাম
লিখে নিও নয়া ইতিহাস
শিরোনাম --- জুলাই আঠাশ॥
শিরোনাম - জুলাই আঠাশ কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। প্রবাদপ্রতিম বিপ্লবী
শহিদ চারু মজুমদারের জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। মূল কবিতাটি কবির “এই সংলাপ ব্যক্তিগত” কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেয়া। গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সময়কে ছিঁড়েখুঁড়ে খুঁজে আনি
শব্দের দ্যোতনায়।
আমি তো এখন আর
মোটেই ছোটো না,
মাঝবয়সের এক মাঝি।
ধরে রেখে জীবনকে বাজি
এখনও ভাসতে পারি মাঝদরিয়ায় ---
দিনবদলের স্বপ্ন হাতছানি দিয়ে
কাছে ডাকে --- আয়… আয়….চলে আয়॥
And miles to go before I sleep.
And miles to go before I sleep.
কৈশোরের বন্ধুরা
আমায় একলা ছেড়ে,
একে একে গেছে ফিরে
নিজের নিজের ঘরে।
আমার হয়নি ফেরা ঘর।
সামনে-পেছনে ওঠে ঝড়,
বৃষ্টি নামে, বিদ্যুৎ চমকায়।
দিনবদলের স্বপ্ন হাতছানি দিয়ে
কাছে ডাকে --- আয়… আয়….চলে আয়॥
And miles to go before I sleep.
And miles to go before I sleep.
চরৈবেতি কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। মূল কবিতাটি কবির “ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে
Rajesh Datta YouTube Channel.
শহিদ সাথীদের মুখ
ফিরে ফিরে আসে
স্মৃতির ক্যানভাসে।
অস্থির করে তোলে মন
দিন-প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।
জীবনকে হাতে নিয়ে হেঁটে চলি
গ্রাম থেকে গ্রামে,
এ পাড়ায় ও পাড়ায়।
দিনবদলের স্বপ্ন হাতছানি দিয়ে
কাছে ডাকে --- আয়… আয়….চলে আয়॥
And miles to go before I sleep.
And miles to go before I sleep.
কঠিন হৃদয়টাকে
বুকের পাঁজরে বয়ে,
তবুও হাঁটতে থাকি
অবসন্ন পায়ে।
রক্ত ঝরে বুকের গভীরে,
হেঁটে চলি ক্লান্ত শরীরে….
থামতে দেয় না অস্থির এই সময়।
দিনবদলের স্বপ্ন হাতছানি দিয়ে
কাছে ডাকে --- আয়… আয়….চলে আয়॥
And miles to go before I sleep.
And miles to go before I sleep.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একে একে নিভিছে দেউটি
একে একে নেভে সব আলো
বেনিয়া লোলুপ চোখ
অশ্লীলতায় জমকালো---
কেরানি বাবুটি বাড়ি ফিরে
সিরিয়ালে মজে
সেনসেক্স ওঠানামা করে
নিজের গরজে।
ব্রেকিং নিউজে তার নেই মন
কে, কোথায়, কীভাবে, মরছে কৰন
কে যোঁজ রাখে তার।
গৃহিণীর হৃদরোগ, তাই
মাহিনার অর্ধেক টাকা
করে গুণে নেয় ডাক্তার।
বাকি যায় কর্জ মেটাতে
কিছু যায় এটিএম কার্ডে লেনদেনে
অর্ধেক দিন শুধু ছুটে মরা
ভিড় বাসে ট্রেনে।
মুক্ত দিনের ইস্তেহার
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। উৎসর্গ - ভারতের জেলে থাকা সমস্ত রাজবন্দীদের। রচনা ৯.৬.২০১৮।
বেচাকেনা শেষ হলে
আবার তো ঘরে ফিরে আসা, পায়ে পায়
আকাশে মেঘের সাজ
গায়ে গায়ে আঁধার ঘনায়।
বিভেদের কীট দংশে মগজে-মননে
রিলিফের টাকা ভাগাভাগি হয় পঞ্জায়েতে
একশ দিনের কাজ, গৃহঋণ
নিয়ন্ত্রণে থাকবে কার
এই নিয়ে লাঠালাঠি
বোমা গুলি বন্দুক চপার
গণতন্ত্র সিদ্ধ কবির
কলম চুঁইয়ে নামে আত্মশ্লাঘা
ডিনারের প্লেটে উকি দেয়
শকুন-শকুনি সহ আস্ত ভাগাড়।
মাঝে মাঝে ফুলকি জ্বলে তবু মর্মে, অন্তরে
নাজিম রোহিতরা এসে উঁকি দিয়ে যায়
আমাদের চেতনার ঘরে
কেরানি বাবুটি তবু
বন্দি থাকে ভোটে সন্ত্রাসে
শাসকের দুঃস্বপ্নে
মুক্তির দশক ফিরে ফিরে আসে।
জেলগুলো ভরে যায়
প্রতিবাদী মুখগুলোয় চিক চিক করে ঘাম
সুধীর, রোনা, বাচ্চা সিং, সোমা সেন
কত শত নাম।
আরো কত অজানা আপনজন
লাশ হয় বিজাপুরে, গডচিরোলিতে,
তুতিকোরিনে সবাই উঠবে
বেঁচে, মুক্ত আাকশ দেখবে
দিগন্তজোড়া এক ঝলমলে রক্তিম দিনে
তারও আগে অশ্রু রক্ত স্বপ্ন দিয়ে
অবরুদ্ধ করা হবে জালিমের গড়
গ্রামণ্ডলো ঘিরে নেবে তামাম শহর
রাজপথ জুড়ে শুধু মিছিলের মানুষের ভিড়
আবার উঠবে বেঁচে সিধু কান্হু, কোটেশ্বর,
অহল্যা মা, তিতুমীর।
ভোরের নরম রোদ
মিশে যাবে নিশানের লালে
খাঁচা ভাঙা পাখি সব
নিশ্চিন্তে খেলা করবে এ ডালে ও ডালে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিছু কবিতা শুধুই তোমার,
কিছু কবিতা সবার জন্য।
কিছু কবিতা কষ্টমাখা
মায়ের চোখের জল মেশানো।
কিছু কবিতা ছোট্ট মেয়ের
দুষ্টুমি আর খুশির হাসির।
কিছু কবিতা প্রতিবেশী
একসাথে বসে পাশাপাশি।
কিছু কবিতা স্মৃতি মন্থন,
কিছু কবিতা সদ্য লেখা।
কিছু কবিতা বার্তা শোনায়
লড়াই করে লড়াই শেখার।
কিছু কবিতা তাঁদের নিয়ে
আত্মত্যাগী শহীদ যাঁরা।
কিছু কবিতা তাঁদের জন্য
দুনিয়াটাকে গড়ছে যাঁরা।
কিছু কবিতা শুধুই তোমার কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। গীতিরূপান্তর,
সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। মূল কবিতা “কিছু কবিতা” কবির “ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিজ্ঞাপন
ভণ্ডামোই তার আভরণ,
অথচ একটা অবিশ্বাসী মন নিয়ে
সে চায় সবাই তাকে বিশ্বাস করুক
যাপনে, মননে...
বলিউড
একটাই ফর্মুলা ক্লিশে হতে হতে ক্লিশে হতে হতে
চলতে থাকবে। বাজতে থাকবে একটাই মিউজিক।
যতক্ষণ অবধি না একটা অমিতাভ বচ্চন এসে জানান দেয়
“রিস্তে মে ম্যায় তুমহারা বাপ হুঁ...”
সরকার
বিজ্ঞাপন আর বলিউডের মিশেলে
চলছে আমাদের বড় সরকার
আছে শুধু ডায়লগ, ফর্মুলা, বিজ্ঞাপন,
আর অবিশ্বাসী মন...
জন চুলোয় যাক,
অর্থনীতি ধ্বসে পড়ুক,
প্রাকৃতিক দুর্যোগে গ্রাম শহর ভেসে যাক,
দাঙ্গায়, হিংসায়, দুর্যোগে মিশে যাক সামাজিক সম্পর্কগুলো,
তবুও “দিস প্রোগ্রাম ইস স্পনসর্ড বাই..."
“মন কি বাত" কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। কবিতাটি অশোক চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাংস্কৃতিক সমসময়” পত্রিকার অক্টোবর ২০১৯
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
কিছু কবিতা রাজদ্রোহী,
কিছু কবিতা ‘হেই মারো টান’--
দু’হাত দিয়ে ভাঙছে শেকল
আঁকড়ে বুকে রক্ত নিশান...
পেটে গামছা বেঁধে থাকলেও
আধার কার্ড বাধ্যতামূলক,
রাস্তার মোড়ে মোড়ে,
স্কুলে, কলেজে, হাসপাতালে,
সম্ভব হলে রাস্তার ধারের সুলভ কমপ্লেক্সগুলোতেও,
সিসিটিভি বাধ্যতামূলক।
কারণ, প্রতিটি নাগরিকের মনের ভিতর
একটা করে জঙ্গি বসবাস করে।
প্লাস্টিক মানি বাধ্যতামূলক
কারণ, প্রতিটি নাগরিকই কালো টাকার কারবারি,
সুযোগ পেলেই সার্জিকাল স্ট্রাইকের গাল্পো, সামরিক মহড়ার
প্রস্তুতি বাধ্যতামূলক
কারণ, প্রতিটি নাগরিকের মধ্যেই একটা দেশদ্রোহী সত্তা
বহমান।
একমাত্র সৎ এবং নির্বিবাদী শুধু আমাদের সরকার
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কালো কাচে ঘেরা
সরকারই কেবল নির্বিরোধী
কারণ, সে নিরামিষাশী
কারণ, সে যোগাসনে উপবিষ্ট হয়ে মনকে বশ করতে জানে
কারণ, সে ভক্তিভাবাপন্ন
কারণ, সে-ই একমাত্র দিতে পারে 'আচ্ছে দিন"... ...
সে শুধুমাত্র এইটুকুই বিশ্বাস করে যে তাকে আমরা সবাই
বিশ্বাস করি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা
মেঘলা রাতেও আমরা পোড়াই আতসবাজি
আমরা আনি দারুণ শীতেও বসন্তকাল
আপোস নিয়ে বাঁচার চেয়ে, মরতে রাজি।
দারুণ ত্রাসেও আমরা বাঁচি কবিতা খাতায়,
মৃত্যুশীতল হাতছানিতেও স্বপ্ন দেখি
হাঁটতে পারি ক্লান্তি নিয়েও অনেকটা পথ
কোনটা আসল, কোনটা মেকী চিনতে শিখি।
আমরা দু’জন, আরো অনেক, অনেক মানুষ
স্বপ্ন ছুঁয়ে হাঁটতে থাকি মাটির টানে
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম মাটির গভীর
হাত মেলেছি, এবার আকাশ ছোঁয়ার পালা...
আমরা দু’জন, আরো অনেক, অনেক মানুষ
(আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুনখেলা)। কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী -
রাজেশ দত্ত। মূল কবিতা “আমরা দু’জন, আরো অনেক, অনেক মানুষ” কবির “ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পায়ে পায়ে ঘোরে
বেপরোয়া দিন,
চলেছে পথিক অন্তবিহীন
দীর্ঘ পথ।
শত বাধা শত প্রতিবন্ধকে,
স্বপ্নের খোঁজে সন্ধানী চোখে
লাল শপথ।
লাল শপথ।
চলেছে পথিক অন্তবিহীন
দীর্ঘ পথ।
স্বপ্নরা জাগে বিনিদ্র রাত,
শত্রু শিবিরে মারণ আঘাতে
গেরিলা দল।
নয়া ইতিহাস মাথা তোলে আজ,
অরণ্যে-গ্রামে যুদ্ধের সাজে
বাজে মাদল।
দ্রিদিম্ দ্রিদিম্ দিম্
বাজে মাদল।
চলেছে পথিক অন্তবিহীন
দীর্ঘ পথ।
পায়ে পায়ে ঘোরে বেপরোয়া দিন কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
কবির মূল কবিতা “এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালার জন্য কয়েক লাইন” এর গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী -
রাজেশ দত্ত। সুরারোপ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Google Drive.
উদাসীন দিন, ক্লান্ত সময়
আইনের ছায়া সুদীর্ঘ হয়ে
বাঁধতে চায়।
বুকের রক্ত স্বপ্নে মেখে,
লাল নিশানে শরীর ঢেকে
তবুও পথিক এগিয়ে যায়,
ক্লান্ত পথিক এগিয়ে যায়
এগিয়ে যায়
এগিয়ে যায়।
চলেছে পথিক অন্তবিহীন
দীর্ঘ পথ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লোহার গারদ চুইয়ে আসা সংবাদে
আমরা শুনতে পাচ্ছি শাসকের জান্তব উল্লাস
আমরা শুনতে পাচ্ছি হৃদয় বিদারক কিছু বিচ্ছেদ গাঁথা
আমরা শুনতে পাচ্ছি কিছু স্পর্ধা আর বীরত্বের শাশ্বত কাহিনী
আমরা শুনতে পাচ্ছি কিছু মানুষের বেঁচে ওঠার ফিনিক্সীয় উপকথা
আমাদের হৃদয়ে অবিরাম রক্তক্ষরণ
আমাদের মননে আগুনের স্রোত
আমাদের শিরায় শিরায় প্রানের স্পন্দন
আমরা শুনতে পাচ্ছি ....।
আমরা শুনতে পাচ্ছি---
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিরায় শিরায় বাজনা বাজে
হৃদয়ে ঝঙ্কার
শাল-পিয়ালের ফাঁকে ফাঁকে
ধনুকে টঙ্কার।
হাতে শেকল, পায়ে শেকল
পিঠে শেকলের জ্বালা
মগজ তবু মুক্ত, সকল
দরজা জানলা খোলা।
পিঠের উপর চাবুক নামে
এক, দুই, তিন...
বিবেক বলে আমায়, তুই
আজন্ম স্বাধীন।
শরীরে ব্যথা, হৃদয়ে ব্যথা
রাত ঘুমে ঘোর জ্বর
বাঁচার মতো বাঁচ, নইলে
লড়াই করে মর!
জঙ্গলমহল কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। মূল কবিতা “জঙ্গলমহল” কবির “ভিজে যাওয়া কবিতা
খাতা” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গড্ডালিকার স্রোতে ভাসতে বলো কেন?
যেইভাবে ভেসে যায়
মৃত লাশ, চোখ, মুখ, হাত, মগজের ঘিলু
. বুড়ি গঙ্গায়।
শোন আমি শম্বুক, শূদ্রের সন্তান
বেদের নিগূঢ় অর্থ আদৌ কি আছে, খুঁজতে
রামায়ণ যুগে, হাসি মুখে বুকে পেতে নিয়েছি
. শব্দভেদী বাণ
চরম ব্রাহ্মণ্যবাদের যুগে চার্বাক আমি
ব্রহ্ম মানিনা, বুঝি জগৎ সত্য
. মিখ্যা অন্তর্যামী
গড্ডালিকা স্রোতে ভাসতে বলো কেন?
যেইভাবে ভেসে যায় ---
প্লাস্টিক, আবর্জনা, বর্জ্য পদার্থ
মজা খাল, পচা নর্দমায়
শোন আমি, সুফির সন্তান
নরমেধ যজ্ঞকালে, ভিওয়ান্দি-গুজরাটে
DARE TO SWIM UP STREAM ...
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
গেয়ে ফিরি লালনের গান
ব্রিটিশ শাসনকালে ইতিহাসে অনুল্লেখ
. বিদ্রোবা সাঁওতাল
কর্পোরেট নগরীর যুগে, পোড় বস্তি
. লাল আরোয়াল
গড্ডালিকা স্রোতে ভাসতে বলো কেন?
যেইভাবে ভেসে যায় ---
খড় কুটো, উঠতি বয়স, উঠোনের ঘাস
. চলতি হাওয়ায়
হে শাসক! জালো ইতিহাস!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হোক না পৃথিবী গদ্যময়
চরাচর নৈঃশব্দময়
ভয়ের দু’চোখ যতই দেখাক
শাসনের সন্ত্রাস
বুকের গহিনে তবুও গোপনে
কবিতার বসবাস।
যতই ভাঙবে হাড়পাঁজর
পিঠে ভাঙো লাঠি, নাকে গাজর
পিছমোড়া করে হাতের শেকলে
বজ্র আঁটুনি টান
বুকের গহিনে তবুও গোপনে
শেকল ভাঙার গান।
বুকে ওঠে জমে দীর্ঘশ্বাস
চোখের কোণেতে মেঘলা বাতাস
আঁধার ঘনিয়ে চারিদিকে ঘোর
অমাবস্যার রাত
বুকের গহিনে তবুও গোপনে
দারুণ বৃষ্টিপাত।
বুকের গহিনে তবুও গোপনে (হোক না পৃথিবী গদ্যময়)।
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। মূল কবিতা “বুকের গহিনে তবুও গোপনে” কবির “ভিজে
যাওয়া কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। সুরারোপ: ২৩ নভেম্বর, ২০১২। রেকর্ডিং: ১৪ ফেব্রুয়ারি,
২০২১। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুই বলেছিলি অনেক দিন ... ঠিকই
বুকের মধ্যে যা আছে সবই তো লিখি
ভোট মোচ্ছব সতর্ক চারপাশ
মগজে শেকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
মরণ ব্যবসা পারমাণবিক বিষ
বিশ্বপ্রভুর পদতলে কুর্ণিশ
মৃত্যুমিছিল, শিরোনামে অনাহার
গণতন্ত্রে হা-ভাতের অধিকার
বলেছিলি তাই এখনো কিছু তো লিখি
কাঙ্খিত দিন স্বপ্নের স্বরলিপি ...
জেলখানার কবিতা
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কত কবিতা তোমার জন্য লিখি।
ছিঁড়ে ফেলি আরো কতশত।
তোমায় নিয়ে ভাবতে বসে, মাগো
চোখে ভাসে বিষণ্ণ মুখ যত।
যা আসে লিখি, লিখে ফেললেই হ’ল।
মনে কী আসে, বুঝি না দু’চ্ছাই!
ভালো লাগলে যত্ন করে রাখি,
না লাগলে তা ছিঁড়েই ফাতরাফাই!
লেখায় খুঁজি বসতি, জনপদ।
গাঁয়ের পুকুর, খাপলা জালের মাছ।
ক্ষেতের আলে লাগে নাগরিক ছোঁয়া,
দু’দিকে দুই তাল-খেজুরের গাছ।
একটু দূরে সোনালী চতুর্ভুজ,
হৃদয় খুঁড়ে উঠছে উড়ালপুল।
জলে পড়েছে শপিং-মলের ছায়া।
রূপনগরীর হাওয়ায় ওড়ে চুল।
বাজারে আগুন, ফুটপাত শুন্শান্।
বানিয়া আসে বিদেশ থেকে উড়ে।
বিজ্ঞাপনী সংস্কৃতির তালে,
লাস্যময়ী নাচে দেয়াল জুড়ে।
মা’কে লেখা চিঠি কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। আবৃত্তি - রাজেশ দত্ত। কবির “ভিজে যাওয়া
কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
দেয়ালের গায়ে রক্তের দাগ লাগে,
সবুজ শিকারী বসে আছে ওৎ পেতে।
তাদের ঠোঁটে ঝরে লোভের লালা,
বিষ লেগেছে হলুদ ধানের ক্ষেতে।
লোভের বিষ প্রোমোটারের চোখেও,
মাথায় ধরা ‘উন্নয়নে’র ছাতা।
মহাকরণের ঠাণ্ডা ঘরে বসে
অংক কষে নাগরিক কোলকাতা।
গাঁয়ে বসেছে মোবাইলের টাওয়ার,
মুঠোর মধ্যে দুনিয়াকে ভরে রেখে
সম্পর্কের সূক্ষ্ম তন্তুজালে
নীল হয়েছে ভোগবাদী বিষ মেখে।
মহাজনের লোভের চোখে ক্ষেত।
গোলার ফসল ঋণের হাতে বাঁধা।
মাটি শুকোয়, কলজে শুকোয় মাঠে,
বেঁচে থাকাই মস্ত গোলকধাঁধা।
দাম ফেলেছে পাটের আড়তদার।
পাটচাষিদের ক্ষিদের জ্বালা পেটে।
বাজল বাঁশী ছুটির জানান দিয়ে,
মিটিং আছে জুটমিলের গেটে।
মিটিংয়ে লোক উপচে পড়ে ভিড়ে,
গেটে ঝুলেছে লক-আউটের তালা।
বক্তিমেতে নেতার ভরে পেট,
মাইক বাজে, কান যে ঝালাপালা।
মিলের গেটের হকার ইয়াস্মিন,
নিত্যগোপাল চায়ের দোকানদার,
কাজ বন্ধ, বিক্রি অনিশ্চিত,
তাঁদের চোখেও ঘনায় অন্ধকার।
শাসক নাচেন আই.পি.এলে’র তালে,
কালো টাকা সুইস ব্যাঙ্কে জমে।
দেদার বিকোয় শচীন- শাহরুখ খান।
আমরা মাতি ক্রিকেট দেশপ্রেমে।
লোভের ছায়া দীর্ঘতর হয়,
দু’দিক দিয়ে বাড়িয়ে দেয় হাত।
আঁকড়ে থাকি জমি, বসত, গ্রাম।
নিকষ কালো অন্ধকার রাত।
রাত গিয়েছে ভোরের পথে বেঁকে।
সূর্য ওঠে পূর্ব দিঘির পার।
স্বপ্ন দিল সূর্যকে হাতছানি,
হাতে হাতে ফেরে গোপন ইস্তাহার।
রক্তচক্ষু নিষেধ করে, তবু
মনের কথা গোপন রাখা দায়।
এমুখ থেকে ওমুখ, হাজার মুখে
বিদ্রোহের বার্তা পৌঁছে যায়।
কত কবিতা নতুন করে লিখি,
কত কবিতা ছিঁড়েই ফাতরাফাই।
কলম-খাতা বুকে আগলে চলো
মা-ছেলেতে বিদ্রোহেতে যাই।
দু’জন মিলে বিদ্রোহেতে যাই!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
Where order is injustice, disorder is the beginning of justice --- রঁমা রঁল্যা
ক্ষিদের বিশ্বে আগুন লাগুক
ভয়ের শিকড়ে টান
প্রলয় আগুন, দ্রোহের আগুন
আগুন অনির্বাণ।
পেটের আগুন, ক্ষেতের আগুন
আগুন ঘরের চালে
তাপসী মালিক শহীদ
. বোন আমার
তোর চিতার আগুন জুলুক
. রাত্তিরে সকালে
সেই আগুন জালিয়ে দিক
ফাটকা পুঁজির “উন্নয়নের” রঙিন মুখোশটাই
“আগুন আমার ভাই আমি তোমারই জয় গাই।"
একটি নৈরাজ্যবাদী কবিতা কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। ২০০৬
সালে শুরু হওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। সিঙ্গুরে, আন্দোলনকারী
তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। বিচারের নামে প্রহসনে, অভিযুক্ত অপরাধীরা সব
বেকসুর খালাস হয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ মিলিত হয়ে
মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে, সিনেমা তৈরী করে,
নাটক লিখে উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মূল কবিতা - ’কমলাদিদি’ - কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - নভেম্বর, ২০১৩
কমলাদিদির ছোট্টো উঠোন, একচিলতে ঘর।
কমলাদিদির তিন সন্তান, একটি মাতাল বর।
কমলাদিদি ইস্টিশনের চায়ের দোকানদার,
এক হাতেতে ব্যবসা চালান, আর হাতে সংসার।
আমাদের কমলাদিদি।
আমাদের কমলাদিদি॥
কমলাদিদির দোকান চলে সকাল, বিকেল, সাঁঝ।
বাড়ি ফিরেও রান্না করা, বাসন মাজার কাজ।
কমলাদিদি হিসেবি মানুষ, সতর্ক চোখ-কান,
হপ্তা নিতে নিত্য আসে পুলিশ ও মস্তান।
আমাদের কমলাদিদি।
আমাদের কমলাদিদি॥
কমলাদিদির জীবন মানে বৃষ্টি কি রোদ্দুর,
ব্যস্ততময় একঘেয়েমি, বিষণ্ণতার সুর।
কমলাদিদির জীবনে নেই টিভির সিরিয়াল,
ক্লান্ত চোখের মাঝরাত্তির, উঠতে হবে কাল।
আমাদের কমলাদিদি।
আমাদের কমলাদিদি॥
কমলাদিদি কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। মূল কবিতা
কবির “ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
একেকটা মাঝ রাত্রে জোটে মাতাল বরের রাগ,
কমলাদিদির চোখের নিচে কালশিটের দাগ।
কমলাদিদি লড়াকু তবু, ভীষণ মনের জোর,
তাঁর জীবনেও আসবে কবে নারী দিবসের ভোর?
আমাদের কমলাদিদি।
আমাদের কমলাদিদি॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি যদি হও ভয়ের শাসন আমি তবে প্রত্যয়
তুমি যদি চাও নির্বাক মুখ আমি তবে বাঙ্ময়
তুমি যদি চাও বিনিদ্র রাত স্বপ্ন চোখে আমার
তুমি যদি চাও স্বেচ্ছাবন্দী আমি তো পগারপার
তুমি যদি চাও বাধ্য মানুষ আমি তবে বেপরোয়া
তুমি তো পথিক চলতি স্রোতের আমি বিপরীত বাওয়া
তুমি যদি চাও অনুগত প্রজা আমি তবে বিদ্রোহ
তুমি যদি ভাবমূর্তির পুজারী আমি ভাঙ্গি বিগ্রহ
তুমি যদি চাও মসৃণ দিন আমি বিক্ষোভ হরতাল
তুমি যদি হও ঘোর অমানিশা আমি রোদ্দুর সক্কাল
তুমি যদি হও কর্তৃপক্ষ আমি প্রান্তিক বর্গ
অত্যাচারের বুকে গড়ে ওঠা প্রতিস্পর্ধী স্বর্গ।
প্রতিস্পর্ধী
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গণ্ডী ভাঙো গণ্ডী ভাঙো
গণ্ডী ভাঙো নিজের
নির্জনতার দেওয়াল ভেঙে
কোলাহলের বৃষ্টিতে যাও ভিজে
ভিজতে ভিজতে
ভিজতে ভিজতে
যেই না ছন্নছাড়া
নিষেধের হাত রক্তচোখে
পায়ের শেকল জড়ায়।
হাতের শেকল
পায়ের শেকল ছিঁড়ে
ন্যায়ের পথে মুক্ত কণ্ঠে
দাঁড়াও উচ্চশিরে
আগল খোলো
আগল খোলো
মনের আগল খোলো
রাতের ঘন আঁধার কেটে
আসুক ভোরের আলো।
গণ্ডী ভাঙো কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
গীতিরূপান্তর, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - রাজেশ দত্ত। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় রাজেশ দত্ত সম্পাদিত
“আবাদভূমি” পত্রিকার কলকাতা বইমেলা, ২০১৪ সংখ্যায়। সুরারোপ - ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪। গানের
কথা এবং ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
আগল খোলো
গণ্ডী ভাঙো
শেকল ফেলো ছুঁড়ে
স্বাধীনতার বাতাস আসুক
ঝলমলে রোদ্দুরে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একদল বুনো কুকুর
ছিড়ে খুঁড়ে রক্তাক্ত করছে আমার মা'কে
যন্ত্রনায় কেঁপে কেঁপে উঠছেন আমার মা
একদল কাপুরুষ
উপর্যপুরি ধর্ষন করছে আমার মা'কে
যন্ত্রনায় কেঁপে কেঁপে উঠছেন আমার মা
একটা রাইফেল গুলি
এক খাবলা মাংস তুলে নিয়ে গেছে আমার মা'র
যন্ত্রনায় কেঁপে কেঁপে উঠছেন আমার মা
এইমাত্র খবর এলো
আমার মাকে কারা তুলে নিয়ে গেছে নদীর দিকে
আতঙ্কে কেঁপে কেঁপে উঠছেন আমার মা
আমার হাতে শেকল পায়ে শেকল
আমার বুকের ভেতর বাষ্পজল ...
দীর্ঘশ্বাস
এইভাবেই বুঝি প্রহসন হয়ে ফিরে আসে ইতিহাস।
নন্দীগ্রাম (১৬ই মার্চ) ২০০৭ (২)
উন্নয়নে হোমের আগুন, হৃদয়পুড়ে ছাই
ঘর পুড়ছে, স্বপ্ন পোড়ে, পুড়ছে মা-বোন-ভাই।
সন্ত্রাস আর মিথ্যা ভাষন, সময় বোজো চোখ
'কিষাণ -কিষাণী ব্যারিকেড গড়ে একগুয়ে একরোখ।
পুঁজির প্রভু -পাহারাদার - ভাড়াটে খুনী সেনা
নন্দীগ্রাম : ১৪ই মার্চ ২০০৭ (১)
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
তোদের জন্য মজুত রইলো, এক ভরা বুক ঘৃণা।
নন্দীগ্রাম ২০০৭ (৩)
একটা চোখে আগুন জ্বলে একটা চোখে শোক
অনেক বুকের বাঁচার স্বপ্ন দীর্ঘজীবি হোক
একটা চোখে দ্বিধা-দ্বন্দ একটা চোখে ভয়
অনেক বুকের বাঁচার স্বপ্ন, প্রতিবাদে প্রত্যয়
একটা দেশ এক গ্রাম, রক্তে ভেজা মাটি
বেঁচে থাকার স্বপ্ন কেমন জীবনের চেয়েও খাঁটি।
একটা বুকে রক্তক্ষরণ --- ক্ষোভ - রাষ্ট্রীয় ভয়
নন্দীগ্রাম --- প্রতিরোধের নতুন পরিচয়।
নন্দীগ্রাম - ২০০৭ (৪)
আমি তোকে বুকে নিয়ে পার হয়ে যাব সন্ত্রাসের দিন
দু'হাতে আঁকড় ধরে, দেব আশ্রয়
তারপর আলোর ঝর্নাতলে ফিরে এসে
গানের কোরাসের সাথে তালে তালে
গানে গানে, 'একদিন সত্যের ভোর ...
আমরা করব জয় ... নিশ্চয় ...।’
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ডাকছে তোকে স্বদেশ, সমকাল
হাতছানি দেয় অশান্ত শালবন
স্বপ্নে ডাকে রাঙামাটির পথ
বিবেক দিল বিদ্রোহে ইন্ধন।
হাত ধরেছে মিছিলের রাজপথ
গ্রাম ডাকছে, শহর ডাকে – ‘আয়’।
লক্ষ মানুষ, বলছে ডেকে – ‘চল্
সেতু বানাই ক্ষেতে কারখানায়’।
স্বপ্নে তোকে ডাকছে দাবানল
ধামসা, মাদল, বাঁশির মূর্ছনায়।
ঘুম ভাঙালো সতর্ক সাইরেন
শৃঙ্খলিত বুকের যন্ত্রণায়।
ডাকছে তোকে বন্ধু, প্রতিবেশী
টুকরো স্মৃতির চেনা মফস্বল
মুক্ত জীবন হাতছানি দেয় তোকে
শেকল ভাঙার প্রতিজ্ঞা সম্বল॥
ডাকছে তোকে স্বদেশ, সমকাল
মূল কবিতা - ‘ডাক’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। কবিতাটি ‘আবাদভূমি’ পত্রিকার
অক্টোবর–ডিসেম্বর, ২০১৩ সংখ্যায় প্রকাশিত। গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত।
সুরারোপ - ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শরীরী ভাষাই বলে
প্রহরীর রক্তচোখে
ভয় নেই তাঁর
হৃদয়ের গভীরে বাজে মেঘমল্লার
আমাদের মেঘাকাশে সহসাই
ঠোঁটের কোণের হাসি
বিদ্যুৎ ঝলকের মতো
আঁধারকে ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলে
কারা যেন সময়কে বাঁধতে চায় দড়িতে-শেকলে
শাসক ভয়ের গল্প শোনায়
অরণ্য সন্তানদের রক্ত
ছিটকে এসে লাগে উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে
“আচ্ছে দিনের” বিজ্ঞাপনে
কবির হাসিতে তবু আগামীর স্বপ্নের ভিড়
তা দেখে সেপাই হারিয়ে ফেলে কয়েদখানার রাস্তা
বিচারকের রায়ের কলম ক্রমশ শিখিল হয়ে আসে
রাজনৈতিক জোকারের দল সার্কাসের মঞ্চে স্থানুবৎ
শুধু কিছু আহাম্মক হাততালি দেয় আর হাসে
কবি চলেছেন নির্বাসনে
কবি চলেছেন নির্বাসনে
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
(উৎসর্গ : ভারভারা রাওকে)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লালকমল নীলকমল পারুল বোন,
সত্যি এক রূপকথার গল্প শোন।
লালকমল নীলকমল পারুল বোন,
অন্য এক রূপকথার গল্প শোন।
এক সে দেশ বাস্তুক্ষেত নদীর চর,
রাক্ষসের সন্ত্রাসের আঁতুরঘর॥
রক্ত খায় বিষ ছড়ায় সর্বনাশী,
দুঃশাসন মায়াবীর অট্টহাসি।
লুটতে চায় চাষজমি প্রাণবাতাস,
নদীর চর বাস্তুঘর দীর্ঘশ্বাস॥
স্পর্ধা বুক জুটল সব জান কবুল,
ডাক পাঠায় তৈরি হও রাম- রসুল।
যন্ত্রণায় কাঁপছে মা, কাঁদছে বোন
প্রতিরোধের শঙখ ডাক জীবন পণ॥
ঝলসে ওঠে টাঙ্গি-কুড়াল, তীরধনুক –
রাক্ষসের নখ দাঁতে মার চাবুক!
জাগছে দলিত আদিবাসী চাষি-মজুর,
লক্ষ কণ্ঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন সুর॥
লালকমল নীলকমল পারুল বোন
মূল কবিতা - কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
গীতিরূপান্তর ও সুর: রাজেশ দত্ত। কণ্ঠ, বাদ্যযন্ত্র আয়োজন ও পরিচালনা - সুমন বিশ্বাস। ভিডিও নির্মাণ
- জুয়াই বিশ্বাস। গানটির কথা ও ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সময় কত ভাবতে গিয়ে
দিন চলে যায়, আঁধার নামে
ভূবনগ্রামে আগুন তখন একলা রাজা,
পুরস্কারে নুইয়ে মাথা
শিল্পী পেলেন নতুন বীক্ষা
ঝোলায় ভিক্ষা, উল্লসিত দাসের বাজার।
আপত্তি নেই আপস-রফায়
দফায় দফায় মুখোশ বদল
আপস, কোঁদল ; আবার আপস-সন্ধি
শিল্পী তোমার পুরস্কারে
কোটেশ্বরের রক্ত লেগে
রক্ত লেগে সমস্ত রাজবন্দীর।
শিল্পী তোমার কলম-কালি
গিটার কিম্বা হারমোনিয়াম
নিয়ম করে সেলাম ঠোকে কাকে?
আগুন তবু একলা রাজা
হাজার বুকের মশাল হয়ে
হাতছানি দেয় পথ পেরোনোর বাঁকে
আগুন যখন একলা রাজা
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
গীতিরূপান্তর ও সুর: রাজেশ দত্ত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাকে খুঁজেছি কবিতার খাতায়, গানে।
তোমাকে খুঁজেছি মানবিক জাগরণে।
তোমাকে খুঁজেছি নিঃসঙ্গতায় একা।
নন্দীগ্রামেও তোমার সঙ্গে দেখা।
হেঁটেছিলে তুমি নাগরিক সে মিছিলে,
বিপন্নতায় তুমিও তো পাশে ছিলে।
আজও আশ্রয় তোমার সকল গানে –
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’!
তোমাকে খুঁজেছি লালপাহাড়ির দেশে,
শাল-মহুলে, মাদলের বোলে মিশে।
রক্তপলাশে, টাঙ্গি- কুড়ালে শানে –
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’!
তোমাকে খুঁজেছি কবিতার খাতায়, গানে।
তোমাকে খুঁজেছি মানবিক জাগরণে।
তোমাকে খুঁজেছি নিঃসঙ্গতায় একা।
লালগড়েও তোমার সঙ্গে দেখা॥
রবীন্দ্রনাথের প্রতি (তোমাকে খুঁজেছি কবিতা খাতায়, গানে)
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ও লালগড়ের ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের
সংহতিতে রচিত। মূল কবিতা ‘২৫শে বৈশাখ’ কবির “এই সংলাপ ব্যক্তিগত” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। পরিবর্ধন,
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। সুরারোপ - ১৭ নভেম্বর, ২০১২। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta
YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১
একটা দিগস্ত বিস্তৃত মাঠের মাঝ বরাবর
চারদিকে ঘিরে সে একটা গণ্ডি এঁকে দিল।
বলল এটাই তোমার দেশ। ঠিক, এতটুকুই...
আর, এর বাইরে বেরুলেই তুমি দেশদ্রোহী
২
তুমি রোজ প্রতীক্ষায় থাকো সেই শববাহী গাড়িটার
যে নিয়ে আসবে তোমার ক্ষত-বিক্ষত লাশ
আর একরাশ বুকভরা অভিমান।
৩
তুমি ঘৃণা করতে পারো না, তাই তুমি দেশদ্রোহী।
তুমি যুদ্ধের সমর্থক নও, তাই তুমি দেশাদ্রোহী।
তুমি নাস্তিক, তাই তুমি দেশদ্রোহী।
তুমি অভিমান করো, তাই তুমি দেশাদ্রোহী।
তুমি ভালোবাসো, তাই তুমি দেশাদ্রোহী।
৪
যে মানুষগুলি স্রেফ নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার দায়ে মারা গেলেন,
যে নারীদের ভিনজাতে বিয়ে করার অপরাধে জ্যান্ত জালিয়ে দেওয়া হলো,
যে সংখ্যালঘু বস্তিগুলি প্রতিদিন ভয়ের সঙ্গে সহবাস করে,
যে ছাত্রীদের শুধুমাত্র লেখা-পড়ার খরচ চালানোর কারণে লোকের বাড়ি বাসন মাজতে হয়,
যে ছিন্নমূল পরিবারগুলি ডিডিয়ে যাচ্ছে একের পর এক কাঁটাতারের সীমানা,
যে কবির মাথায় পরিয়ে দেওয়া হলো কাঁটার মুকুট,
যে অন্ধ ফকিরকে জোর করে বলানো হালো “জয় শ্রীরাম",
যে প্রতিবাদীকে উচ্চস্বরে কথা বলায় বিগত একশ বছর ধরে নিবর্তনমূলক আইনে বন্দি হয়ে
ভারতবর্ষ ভালোবাসার এক নাম
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
জেলের নির্জন কক্ষে একা একা বিড়বিড় করতে দেখা যায়,
যে প্রতিবাদীরা জালিয়ানওয়ালাবাগ থেকে কাশীপুর-বরানগর হয়ে
আরোয়াল-বাথানিটোলা ছুঁয়ে বস্তার-গড়চিরোলিতে লাশের পাহাড় হয়ে যান
তাঁরা কি তোমার আত্মার ঘনিষ্ট? তবে তৃমি নিশ্চিত দেশদ্রোহী।
৫
তুমি দেশদ্রোহী, কারণ তাঁর হাতে আইন আছে।
তুমি দেশদ্রোহী, কারণ তাঁর হাতে মিডিয়া আছে।
হুনি দেশাদ্রোহী, কারণ তাঁর হাতে ক্ষমতা আছে।
তুমি দেশদ্রোহী, কারণ তুমি সেই ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলো
তুমি দেশাদ্রোহী, কারণ তোমার ভিন্নমত, ভিন্নজাত, ভিন্নধর্ম, ভিন্নরুচি এবং তোনার কণ্ঠে
ভিন্নস্বর।
৬
সে যাকে ঘৃণা করে তার নাম ভালোবাসা।
সে যাকে ভয় পায় তার নাম ভালোবাসা।
সে যাকে খুন করে তার নাম ভালোবাসা ।
আমাদের বুকে শুধু ভালবাসা ভালোবাসা...
৭
তবু,
এক নদী কান্নাকে বুকে চেপে
যাবতীয় নিষেধ-বিধি লঙ্ঘন করে
কবন্ধ রাতের অন্ধকারকে উপেক্ষা করে
বিদ্রোহের অমল আগুনে পুড়তে পুড়তে
ভালোবাসার ঝর্ণাধারায় স্নান করতে করতে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই
খুঁড়লে কিন্তু উঠতে পারে আস্ত সূর্যটাই।
এত কোমল, এত কোমল হৃদয় যেন পদ্ম সরোবর,
এরই মাঝে লুকিয়ে আছে কালবোশেখি,
সর্বনাশের ঝড়।
ঈশান কোণে জমেছে মেঘ, স্পর্ধায় বুক টান ---
বলছে হেঁকে --- 'জান কবুল, হেই সামালো ধান!'
ভাঙা গতর, মলিন মুখ, লাঙল ঠেলা কাঁধ,
এই শরীরই অজেয় দুর্গ --- প্রতিরোধের বাঁধ।
ভাঙতে ভাঙতে নিভতে নিভতে আবার ওঠে জ্বলে,
অন্ধকারের মুখোশটা দেয় খুলে।
এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই
খুঁড়লে কিন্তু উঠতে পারে আস্ত সূর্যটাই।
এত কোমল, এত কোমল হৃদয় যেন পদ্ম সরোবর,
এরই মাঝে লুকিয়ে আছে কালবোশেখি,
সর্বনাশের ঝড়।
দিল্লিতে চাষি রাজপথে গায় তেভাগার গান ---
বলছে হেঁকে --- 'জান কবুল, হেই সামালো ধান!'
এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)।
পরিবর্ধন, গীতিরূপান্তর, সুর ও শিল্পী: রাজেশ দত্ত। চলমান কৃষক আন্দোলনের সংহতিতে রচিত গণসংগীত। মূল কবিতা
‘২৫শে বৈশাখ’ কবির “এই সংলাপ ব্যক্তিগত” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। মূল কবিতা - কবি সব্যসাচী গোস্বামীর “প্রতীক্ষায়, প্রসব
যন্ত্রণায়…” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া। গানের কথা ও ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel. গানের কথা . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১.
মাঝ বয়সের প্রেম
বন্দিনী মেয়েটার চোখের লবনাক্ত জলে
আশিরনখ ভিজে ওঠো তুমি
মাঝ বয়সের প্রেম
তাঁর চোখে চোখ রেখে দেখো
শৃঙ্খলিত দিন, বিপন্ন জন্মভূমি ...
২.
কাল সারা রাত ধরে কবিতাটির সাথে
সংগ্রাম চালিয়ে...
কাল সারা রাত ধরে শব্দ নিয়ে
কাটাকুটি খেলার পর দেখি,
ডাইরিতে তোমার জন্য পড়ে আছে
একটিই মাত্র শব্দ
‘ভালোবাসি ...’
বন্দিনী মেয়েটার জন্য দু’টুকরো
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১,
প্রশাসন সংবেদনশীল
সরকার উন্নততর
হেঁ গোঁসাই যত মারো কিল
অনাহার, ভয়ে জড়োসরো
তবু বলি দু'চারটে কথা
দোষ হলে - মার্জনা, হুজুর
সেদিনের শপথ সকাল
দিল্লি তখন বহুদুর ...
২.
কথা দিয়েছিলে দেবে
উজ্জ্বল দিন
কথা দিয়েছিলে হবে
স্বপ্ন রঙিন
আজ শুধু উলটপুরাণ
কেড়ে নিতে স্বপ্নের ধান
জমি গিলে হাজার একর
আহ্লাদে হাততালি তোর
বদলানো ক্ষমতার স্বর
আমাদের ক্ষুধার জঠর
মাঝরাতে খাঁকি সন্ত্রাস
শেয়ার সূচক নামে ... ওঠে
প্রগতি - সাবাস! সাবাস!
তোমার ভাষার উন্নয়নে
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
৩.
আমার জন্য মগজ আছে, মগজ ধোলাই আছে
আমার জন্য পুলিশ আছে, পুলিশ বাজেট আছে
রিক্ত কৃষক আমার জন্য, ঝাড়ুদারের চাকরি বাঁধা আছে
ঝাডুদার আমি, আমার জন্য বর্ণবাদী দাঁত খিচুনি আছে,
আমার জন্য আছে আদালত - জেলখানা-কালা আইন।
৪.
তোমার ভাষার উন্নয়নে সন্তানদের চাকরি হবে কি?
আকাশ ছোঁয়া বহতলের পাহারাদার? কিংবা চাকর-ঝি?
তোমার কলম! এক খোঁচাতে আমার জমি খাস!
ধান নয় আর, এখন থেকে এখানে হবে মোটর গাড়ির চাষ!
আজকে যেটা সোনার জমি, সোনার ফসল ফলবে নাতো কাল
কারখানা আর আবাসন ঘিরে লগ্নিপুঁজির মোচ্ছব হবে
মাটির তলায় চাপা পড়ে যাবে হা-ভাতের কঙ্কাল
আমরা যাব অশোকনগর, কেউবা শিমুরালি
কেউবা হয়ত থেকেই যাব - জমি-জিরে-বসত করে খালি
অনা কোন কাজের আশায়, কিংবা হয়ত মাথার উপর
আকাশ ছাড়া কিছুই থাকবে না
জীবন জুড়ে বর্ষা-রোদ-শীতের সকাল কিছুই থাকবে না
তখন তুমি চিনবে তো ভাই? উন্নয়নের কিলের গোঁসাই!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বহতা সময় বর্ষার মতো অস্থির
কবিতা খাতায় জমে ওঠে নৈঃশব্দ
হৃদয় মুক্ত, দূরের পৃথিবী আবছা
নিষেধাজ্ঞার প্রাচীরেতে অবরুদ্ধ।
জীবন এখালে সরল অপাপবিদ্ধ
আলো থেকে দূরে বিবর্ণ আর প্রান্তিক
ঘড়ির কাঁটার গতিও এগোয় মন্থর
গুমোট বাতাস শৃঙ্খলে বাঁধা শান্তি।
এপারে পৃথিবী কর্মবিমুখ, ক্লান্ত
ওপারে পৃথিবী কোলাহলময়, উত্তাল
বন্দি মেয়ের শেকল ভাঙার স্বপ্নে
সমাজতন্ত্র : নভেম্বরের সকাল...
নভেম্বর বিপ্লব : বন্দিনী মেয়েটির চোখে
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিষেধের পাচিল ছুঁয়ে নেমে আসে
বিষন্ন বিকেল,
আলো নিভে আসে। আকাশটা বিবর্ণ, ফিকে।
এখানে ফিসফিস করে কথা বলে
বাচাল বাতাস ।
দেয়ালের কান ফুড়ে মাথা তোলে
অশ্বত্থের অসহায় পাতা।
বুকের ভিতর ভাঙে
অস্থিরতার চোরা ঢেউ।
সন্দেহ বুকে নিয়ে হৃদয়ের নির্জণে
চুপি চুপি আসে কেউ।
সময়ের বুকে জমে একাকিত্ব
চাপা অভিমান।
এখানে জীবন মানে নির্বাসন,
একাএকা বয়ে চলা অতীত গরিমা।
এলোমেলো বয়ে চলা দিনগুলি
একঘেয়ে। গতানুগতিক।
হিসেবের শেষে পড়ে থাকে লাভ
লোকসান ক্ষয়ক্ষতি॥
ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে খসে পড়ে
একেকটা পুরোনো তারিখ।
ভোরের স্বপ্ন নিয়ে জেগে থাকে সলিটারি সেল,
লোহার গারদ। সারিসারি।
সলিটারি সেল
কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একজন মানুষ
তাঁকে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল
চার দেয়ালের ভিতর।
আর তাই,
লক্ষ হৃদয়ের বন্ধ দুয়ার
তাঁর জন্য খুলে গেল।
একজন মানুষ---
তাঁকে আপনজনদের থেকে
দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল
আর তাই,
লক্ষ লক্ষ মানুষ
তাঁকে ভাবতে শুরু করল আপনজন ।
একজন মানুষ---
শুনিয়েছিলেন চোখে কাপড় বাঁধা দন্ডদাতা
আর তাই,
তা দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখ
নতুন করে দেখতে শিখেছিল।
লক্ষ হৃদয়ের আপনজনকে কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। ২০১১ সালে
প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির
প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
(নারায়ণ সান্যাল, বিনায়ক সেন, পিযূষ গুহ সহ সমস্ত রাজবন্দীদের মনে রেখে)
একজন মানুষ---
তাঁকে সমাজের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে
রাখা হয়েছিল অন্ধকার কুঠুরিতে
আর তাই,
অগণিত মানুষের মনের গভীরে।
সেই সব মানুষ---
যাদের ইচ্ছে ডানাকে
শৃঙ্খলিত রাখা হয়েছিল
আর তাই,
চেয়ে দেখ, তাঁদের স্বপ্নগুলো
জীবন্ত হয়ে উঠেছে ভারতবর্ষের সমস্ত হৃদয় জুড়ে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রথমে একটা খাঁচা আঁকা হল। তার চারধার দিয়ে তুলে দেওয়া হল সু-উচ্চ প্রাচীর।
একটা লোহার ফাটক দিয়ে তাকে নিছিদ্র করে দেওয়া হল। এই খানে বন্দিনী হয়ে
আছে ইচ্ছেরা। হাতে তাদের মরচে ধরা শিকল। রাতদিন তাঁরা ডানা ঝাপটায়...
প্রাচীরের ইট বেয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে যে অশ্বখ গাছের চারা, পাতায় পাতায় তার
শতাব্দী প্রাচীনতার স্পর্শ। তারই ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে নামে রোদ। অন্ধকারে আশার ঝিলিক।
দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আসে বাতাস। চোখের কোনায় কালো মেঘ ইতি-উতি উঁকি
মারে। ইচ্ছে ডানাগুলি উড়ে যেতে চায় গোধুলির আকাশে স্বপ্ন সেখানে মুক্তির রঙ
ছুঁয়েছে। রাতদিন তাঁরা ডানা ঝাপটায়...
বাইরে প্রহরারত অবয়বহীন কিছু মুখের প্রতিচ্ছবি। এরা কারা? কিছু মানুষ? নাকি
রাষ্ট্র? কে, এই রাষ্ট্র? সেকি কোনো নারী? না পুরুষ? তা'ও না। তবে কে সে? সে
পিতৃতন্ত্রের প্রতিনিধি। সে চার দখলদারি। সে চায় আগ্রাসন। সে চায় শাসন করতে।
সে চায় সমস্ত ইচ্ছে ডানাগুলোকে খাঁচায় পুরতে। তাই সে আইনের রক্ত চক্ষু দিয়ে
সবাইকে ভয় দেখায়। আর বন্দিনী ইচ্ছেগুলো? রাতদিন তাঁর ডানা ঝাঁপটায়...
অনেক রক্ত ভেজা পিচ্ছিল সময় অতিক্রম করে একদিন এই পৃথিবী থেকে রাষ্ট্র মুছে
যাবে। মরচে ধরা শেকলশুলো অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। প্রতিটি জেলখানার একটা
একটা করে ইট সেদিন খসে পড়বে। সেগুলো থেকে ঝরে পড়া বুকের রক্ত আর
চোখের জল দিয়ে নতুন করে লেখা হবে, যন্ত্রণা-সংগ্রাম আর ভালোবাসার চাপাপড়া
ইতিহাস। সেদিন সমস্ত ফুসফুস ভরে নিশ্বাসে থাকবে তাজা বাতাস। দু'চোখ ভরে
ঝলমলে দিন। সবুজ প্রান্তর। রাতের নক্ষত্রময় আকাশ।
সেই সব অনাগত দিনের অপেক্ষায়---বন্দিনী ইচ্ছেগুলো, রাতদিন ডানা ঝাপটায়...
বন্দিনী ইচ্ছেগুলোর কথা কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। ২০১১ সালে প্রকাশিত,
সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক
"বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১
কিছু লিখি কিছু কাটি
কিছু ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করি
আমাদের নজর রাখে
রক্তচোখ অতন্দ্র প্রহরী।
এক হাতে হান্টার
কোমরের দড়িটি অন্য হাতে
না নোয়ালে মাথা তার,
আবশ্যিক স্থান হাঁড়িকাঠে।
অথবা কয়েদবাস
যদি বলো মাথা তুলে কথা
আইনের শাসনের নামে
ভাবের ঘরেতে তঞ্চকতা।
বুলেটবিদ্ধ দিন
রক্তপাতে ভিজে ওঠে মাটি
জাত-পাত, ধর্ম-কর্ম
শাসন ব্যবস্থা পরিপাটি।
কিছু লিখি, কিছু কাটি
কিছু ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়
আমাদের ঘিরে থাকে
অসহিষুঃ, অস্থির সময়।
দু'টি কবিতা কবি সব্যসাচী গোস্বামী (জন্ম ২৩.৯.১৯৭০)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি
সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
২
‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’
কে যে কখন দিশাহারা
ভুবনগ্রামে
মাথার ভেতর বটের ঝুড়ি
চরকা কাটা চাঁদের বুড়ি
মধ্যযামে।
এখন সময় কঠিন বড়ো
বুকের ভিতর হচ্ছে জড়ো
যন্ত্রণারা
শাসন এবং দুঃশাসনে
অন্ধকারে বিজ্ঞাপনের
মন্ত্রণারা
চলছে লাঠি, চলছে গুলি
মাথার ভিতর ফাটছে খুলি
বিভেদ বিষের
স্বপ্নে তবু আঁধার কাটে
হাওয়ার দোলা সবুজ মাঠের
ধানের শিসে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শ্রমিকের হাতে কেন হাতুড়ি?
কিষানের হাতে কেন কাস্তে?
আমি কেন গান গেয়ে যাই?
উত্তর একটাই – বাঁচতে!
কুমোরেরা মাখে কেন মাটি?
কামারের ঘা ইস্পাতে?
আমি কেন গান গেয়ে যাই?
উত্তর একটাই – বাঁচতে!
মাঝি কেন বেয়ে চলে দাঁড়?
মুটে কেন বয়ে চলে ভার?
হকারেরা হরেক পসার
বেচে কেন রেলে ফুটপাথে?
আমি কেন গান গেয়ে যাই?
উত্তর একটাই – বাঁচতে!
বাউলের হাতে কেন দোতারা?
কবির হাতে কেন লেখনী?
পটুয়ার হাতে কেন তুলি?
খোদাইকরের হাতে ছেনি?
ধামসা-মাদল কেন বাজে
শাল-মহুলের পথে পথে?
আমি কেন গান গেয়ে যাই?
উত্তর একটাই – বাঁচতে!
বেঁচে থাকার গান কথা, সুর ও শিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪।
গানটি রেকর্ড করা হয়েছে ২০১৯-এর ৮ জানুয়ারি। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
খিদে পায় ভাতের সুবাসে,
খিদে পায় মগজের কোষে
দিনবদলের খিদে এসে
ঝড় তোলে বুকের খাঁচাতে।
আমি কেন গান গেয়ে যাই?
উত্তর একটাই – বাঁচতে!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মেঘলা দিনে মেঘ ওড়াবার
হাওয়ায় ভেসে ভেসে –
একটা মানুষ নাও বেয়ে যায়
নতুন ভোরের দেশে।
পাল তুলেছে পাল্টা স্রোতে
ভরা উজান গাঙে –
সোমত্থ এক মানুষ একটা
মস্ত পাহাড় ভাঙে।
একটা মানুষ, একটা শরীর
রক্ত ঝরায়, একলা লড়াই করে
একটা শরীর ভাঙতে ভাঙতে... ...
ভাঙতে ভাঙতে লক্ষ শরীর গড়ে।
লক্ষ শরীর, লক্ষ মানুষ
সংঘাতে নির্মাণে –
লক্ষ মানুষ পথ চলেছে
আলোর সন্ধানে।
লক্ষ প্রাণে বান ডেকেছে
মানবতার গানে।
মানবতার গানে, রে ভাই
মানবতার গানে
লক্ষ প্রাণে বান ডেকেছে
মানবতার গানে॥
মেঘলা দিনে মেঘ ওড়াবার কথা, সুর ও শিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। ‘বোকা বুড়োর পাহাড়
ভাঙা’র গল্পের প্রেরণায় শিল্পী রাজেশ দত্তের জীবনের প্রথম বাঁধা ‘মানবতার গান’। গানটি এই বছর ২৮ বছর পূর্ণ করল।
১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে (১৪০০ বঙ্গাব্দের প্রাক্কালে) রচিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
মেঘলা দিনে মেঘ ওড়াবার
হাওয়ায় ভেসে ভেসে
লক্ষ মানুষ নাও বেয়ে যায়
নতুন ভোরের দেশে।
একলা মানুষ নেই একা আর,
লক্ষ মানুষ পাশে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার গানের ভাষা বাংলা।
আমার প্রাণের ভাষা বাংলা।
অভিমানের ভাষা বাংলা॥
আমার সাধের ভাষা বাংলা।
আহ্লাদের ভাষা বাংলা।
প্রতিবাদের ভাষা বাংলা॥
মাগো, তোমায় ঠোঁটে ছুঁয়ে প্রথম কথা বলতে শিখি.
তোমার শরীর ছুঁয়ে প্রথম স্লেটে আঁকিবুঁকি।
প্রথম চেনা বর্ণমালা বর্ণপরিচয়ে,
‘ডাকঘর’-এর ‘অমল’ সেজে প্রথম অভিনয়।
তোমায় ঘিরে থাকা আমার শৈশব দিনগুলি,
স্কুলের ব্যাগে লুকিয়ে রাখা ‘ঠাকুরমার ঝুলি’।
ব্যাকরণের বইয়ের ফাঁকে গল্পের টুনটুনি,
সন্ধি-সমাস-বানান ভুলে দিদির বকুনি।
আমার স্মৃতির ভাষা বাংলা।
বিস্মৃতির ভাষা বাংলা।
পীরিতির ভাষা বাংলা॥
আমার গানের ভাষা বাংলা কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
শিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনাকাল : নব্বই দশকের শেষার্ধে উগ্র প্রাদেশিকতার জিগির তুলে মহারাষ্ট্র থেকে বাঙলাভাষীদের বলপূর্বক
বিতাড়নের রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অপচেষ্টার প্রতিবাদে এই গানটি রচিত হয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কণ্ঠে ‘পাল্টা স্রোতের গান’ অডিও সিডি ও ক্যাসেটে গানটি সংকলিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
মাগো, তোমায় ছন্দে বেঁধে আমার প্রথম কবিতা।
প্রথম প্রেমের চিঠি, প্রথম ভালোবাসার কথা।
প্রথম চলা মিছিলেতে, প্রথম বলা স্লোগান।
তোমায় ভালোবেসে লেখা প্রথম বাংলা গান।
প্রথম শোনা হেমাঙ্গের “আমরা করব জয়” --
পিট সিগারের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।
প্রথম শোনা ভাটিয়ালি, প্রথম শোনা বাউল।
প্রথম পড়া রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত, নজরুল।
শৈশবেতে কথা দিলে, কৈশোরেতে ধুন,
যৌবনেতে জ্বালিয়ে দিলে প্রাণের আগুন।
আমার ঘৃণার ভাষা বাংলা।
প্রেরণার ভাষা বাংলা।
চেতনার ভাষা বাংলা॥
তোমার বুকে কান পেতে আজ শুনি --
বিশ্ব জুড়ে মানবতার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি।
তোমার বুকে মিশল এসে দুনিয়ার সব ভাষা,
মানুষের যন্ত্রণা আর মানুষের আশা।
আমার ক্রোধের ভাষা বাংলা।
বোধের ভাষা বাংলা।
প্রতিরোধের ভাষা বাংলা॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আবহাওয়া পাল্টায়।
দাবিদাওয়া পাল্টায়।
পাল্টায় মিছিলের মুখ।
এ যুগটা পাল্টায়।
হজুগটা পাল্টায়।
পাল্টায় ছোটোখাটো সুখ।
বাড়িগাড়ি পাল্টায়।
জুতো শাড়ি পাল্টায়।
পালটায় ফোন নাম্বার।
ফ্যাশনটা পাল্টায়।
পাল্টায় রোজের খবর।
শুধু সমাজটা পাল্টায় না।
তাই জীবনটা পাল্টায় না।
এসো পাল্টাতে পাল্টাতে শিখি,
আর শিখতে শিখতে পাল্টাই।
পাল্টা স্রোতে ভেসে গিয়ে
দিনবদলের গান গাই।
কেউ দল পাল্টায়।
কেউ ভোল পাল্টায়।
পাল্টায় যুক্তি তর্ক
নামধাম পাল্টায়।
আবহাওয়া পাল্টায় কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
শিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৭ সালে প্রকাশিত “পাল্টা স্রোতের গান” সিডির গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাটি আমাদের প্রাণ।
মাটি আমাদের মান।
মাটির মানুষ আমরা গাই
মাটির সুরে গান।
আমরা মাটির সন্তান॥
এই মাটিতে জন্ম মোদের,
মরণ মাটির কোলে।
ঘাম ঝরিয়ে মাটির বুকে
সোনার ফসল ফলে।
মোদের রক্তে মিশে আছে মাটি,
দেহে মাটির ঘ্রাণ॥
ছিনিয়ে জমি লুটবে নাফা
দেখব বুকের পাটা।
ছাড়ব না এই মাটির দখল
আসুক সালিম টাটা।
ছিঁড়বে না এই মাটির বাঁধন,
এমনি নাড়ির টান॥
মাটি আমাদের প্রাণ কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)
শিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর কৃষিজমি বাঁচাও আন্দোলনের গান। ২০০৭ সালে প্রকাশিত “পাল্টা
স্রোতের গান” সিডির গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
উন্নয়নের গল্প ফেঁদে
ভাবছ দেবে ফাঁকি?
তেভাগা আর তেলেঙ্গানা
ভুলে গেলে নাকি?
(তাই) জোট বেঁধে আয়, করব লড়াই
করছি কবুল জান॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নন্দীগ্রামের মা, আমার মাতঙ্গিনী মা
রক্ত দিয়ে জাগিয়ে দিলি মরা বাংলা।
তোর বুকের রক্তে ভাসল স্বদেশ,
ভিজল সোনার মাটি।
রক্তস্রোতে হলদি ভাসে,
ভাসল রে তালপাটি।
ভাঙাবেড়ার মা, আমার সোনাচূড়ার মা
দুই চোখেতে আগুন ঝরে,
অশ্রু ঝরে না।
সাউদখালির মা, গোকুলনগরের মা
স্তব্ধ হৃদয় পাথর শোকে,
কাঁদতে পারি না।
তীব্র দহন জ্বালা প্রাণে,
বুক ভরে দে ঘৃণা,
মাগো, বুক ভরে দে ঘৃণা।
নন্দীগ্রামের মা কথা, সুর ও কণ্ঠ - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
চিত্রগ্রহণ ও ভিডিও নির্মাণ - অদ্রীশ দাস। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চে নন্দীগ্রামের নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে সেই দিনই গানটি
লেখা হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
ভরতের মা, আমার শেখ সেলিমের মা
ছেলের সাথে জীবন দিলি,
জমিন দিলি না।
পুষ্পেন্দুর মা, আমার ইমদাদুলের মা
মাটির গর্ভে কান পেতে শোন
প্রসব যন্ত্রণা ---
জন্ম নিচ্ছে দ্যাখ ভাবীকাল,
মা, তুই কাঁদিস না।
রক্ত ঝরে লাঙল ফালে,
রক্ত ধানের বীজে।
বাংলা মায়ের শ্যামলা আঁচল
রক্তে গেছে ভিজে।
বিয়াল্লিশের মা, আমার তেভাগার মা
নন্দীগ্রামে উঠল জেগে হাজার অহল্যা।
শিশুর লাশ আগলে বুকে
মা-মাটির কান্না॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগুন জ্বলে বুকের মাঝে,
জ্বলছে আগুন প্রাণে।
আগুন জ্বলে চোখের তারায়,
আগুন আমার গানে।
এই আগুনের পরশমণির
একটু ছোঁয়া চাই।
রবি ঠাকুরের সুরে সুরে
তাইতো আমি গাই ---
‘ওরে আগুন আমার ভাই
আমি তোমারই জয় গাই'।
সিঙ্গুরে যে আগুন জ্বলে
ছড়ায় নন্দীগ্রামে।
জ্বলুক স্বদেশ লুটলে জমি
শিল্পায়নের নামে।
চাই না ঝুটা উন্নয়ন
চাষির প্রাণের দামে।
মন্ত্র দিল রবীন্দ্রনাথ
বিদ্রোহে সংগ্রামে -
'ওরে আগুন আমার ভাই
আমি তোমারই জয় গাই'।
আগুন জ্বলে বুকের মাঝে কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
শিল্পী - অসীম গিরি। রচনা ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০০৭। দীপঙ্কর চক্রবর্তী সম্পাদিত “অনীক” পত্রিকার ২০০৮ সালের
এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত। ২০০৭ সালে প্রকাশিত, "নন্দীগ্রাম টু মেগাসিটি" গানের অ্যালবামের গান। ভিডিওটি
সৌজন্যে Srijan Chatterjee Youtube Channel.
জ্বলছে আগুন ধানের শিষে,
আগুন লাঙল ফালে।
কুলপি-ভাঙর-হরিপুরে
ক্রোধের আগুন জ্বলে।
আগুনের আঁচ লাগে আজ
জল-জমি-জঙ্গলে।
প্রাণের মাঝে রবি বাউল
একতারা সুর তোলে -
'ওরে আগুন আমার ভাই
আমি তোমারই জয় গাই'।
শহীদ হল ভরত, সেলিম
বিশ্বজিৎ, তাপসী।
রাজকুমার ভুলের কথা
ভুলবে না দেশবাসী।
শহীদের রক্তে শপথ
নিচ্ছে গাঁয়ের চাষি।
প্রতিশোধের অগ্নিশিখায়
বাজছে বিষের বাঁশি -
‘ওরে আগুন আমার ভাই
আমি তোমারই জয় গাই’।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আর গান নয়, স্লোগান তোলো।
শান্তি মিছিল অনেক হোলো,
এবার ক্রোধের আগুন জ্বালো,
লড়াইয়ের দাও ডাক।
অনেক কান্না, রক্ত ঝরেছে।
কত আশা, কত স্বপ্ন মরেছে।
দাসত্ব বেড়ি দু’পায়ে পড়েছে।
শৃঙ্খল ঘুচে যাক।
খেটে খায় যারা কারখানা-কলে,
চাষের জমিতে, জলে-জঙ্গলে,
লড়াকু কিষাণ-মজুরের দলে
প্রতিবাদ ভাষা পাক।
ভাঙো নীরবতা, ভীরুর জড়তা।
দিকে দিকে জাগো ক্ষুব্ধ জনতা।
লক্ষ কণ্ঠে মুক্তি বারতা –
থেকো নাকো নির্বাক।
দিগন্তে আজ ঝড়ের আভাস,
রক্ত আখরে লেখে ইতিহাস।
ক্ষোভের আগুনে শ্বেত সন্ত্রাস,
জ্বলে পুড়ে হোক খাক।
পথে নামো সাথী, দূর করে ভয়।
হবে মেহনতি মানুষেরই জয়।
দিনবদলের দৃঢ় প্রত্যয়
বুকের গভীরে থাক।
कश्मीर मांगे आज़ादी
गीत और सुर - राजेश दत्ता। रचना - 30 अगस्त 2016।
গানটী বাংলাতে অর্থাৎ বাংলা হরফেও দেওয়া রয়েছে।
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
आज़ादी आज़ादी
ये कश्मीर मांगे आज़ादी।
इंक़लाब की आवाज़ उठी है
गूँज रही है ये वादी।
आज़ादी आज़ादी
हम लड़के लेंगे आज़ादॊ॥
जुल्मों से अब नहीं डरेंगे
मरते दम तक हम लड़ेंगे।
जन्नत को जो दोज़ख़ बनाया
वह शैतानों को नहीं छोड़ेंगे।
कितना ही ज़ूल्म कर ले ज़ालिम
कितना ही कर ले बरबादी---
शहीदों के राह पे चल कर
हम ले आएंगे आज़ादी॥
बरसों से सह रहे हैं सितम
अब क्या दर्द है, अब क्या ग़म?
जो पत्थर रहा था सीने में
वह पत्थर हात में लिए हैं हम।
चलाले जितनी गोली तू, कातिल
देख पत्थर का है कितना दम।
बगावत की तूफान है दिल में,
रोक न सकेगा ये आँधी॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজাদী আজাদী
ইয়ে কশ্মীর মাঙ্গে আজাদী।
ইন্কিলাব কি আওয়াজ উঠি হ্যায়
গুঞ্জ রহি হ্যায় ইয়ে ওয়াদি।
আজাদী আজাদী
হম্ লড়কে লেঙ্গে আজাদী॥
জুলমোঁ সে অব্ নহীঁ ডড়েঙ্গে
মরতে দম্ তক্ হম্ লড়েঙ্গে।
জন্নৎ কো জো দোজখ্ বনায়া
ওয়হ্ শ্যয়তানোঁ কো নহীঁ ছোড়েঙ্গে।
কিত্না হি জুল্ম কর লে, জালিম্
কিতনা হি কর লে বরবাদী —
শহীদোঁ কে রাহ্ পে চল্ কর
হম্ লে আয়েঙ্গে আজাদী॥
বরসো সে সহে রহে হ্যায় সিতম্
অব্ ক্যা দর্দ হ্যায়, অব্ ক্যায়া গম্?
জো পথ্থর রহা থা সীনে মে
ওঅহ্ পথ্থর হাথ্ মে লিয়ে হ্যায় হম্।
চলালে জিৎনি গোলী তু, কাতিল্
দেখ্ পথ্থর কা হ্যায় কিৎনা দম্।
বগওআৎ কী তুফান্ হ্যায় দিল মে,
রোক্ না সকেগা ইয়ে আঁধী॥
কশ্মীর মাঙ্গে আজাদী
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। রচনাকাল - ৩০ অগাস্ট ২০১৬।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খাল কাইট্যা আনলি কুমীর।
কুমীররে বানাইলি আমীর।
খাইতে দিলি, পরতে দিলি
এখন মরিস ডরে।
(হায়) রঙ্গিলা, তোর রঙ্গ কত !
জোটাইলি সঙ্গী যত,
জাতীয়তার কান্দুনি গায়
দিল্লীর দরবারে।
কেউ বা ক'য় স্বদেশী বুলি।
কেউ পরে লাল নামাবলী।
বুশ-ব্লেয়াররে দিয়া গালি,
আড়ালে হাত জোড়ে।
দেনায় দেশ বিকায়ে শেষে
জনগণের রক্ত চোষে।
হত্যা দিয়া পইড়্যা থাকে
আই এম এফের দোরে।
প্রজা কান্দে পেটের লাইগ্যা।
রাজা কান্দে ভোটের লাইগ্যা।
করের টাকা ফাঁকি দিতে
কান্দে বানিয়া।
খাল কাইট্যা আনলি কুমির কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
শিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর কৃষিজমি বাঁচাও আন্দোলনের গান। ২০০৭ সালে প্রকাশিত “পাল্টা স্রোতের গান” সিডির গান।
ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
উন্নয়নের ঢাকে কাঠি।
গরিব হারায় ভিটা মাটি।
কারখানায় ঝুললো তালা,
চাষির গলায় দড়ি।
চলবে না আর মিছিল সভা।
আমজনতা থাকবে বোবা।
চলবে ছাঁটাই, জ্বলবে আগুন।
ভাঙবে রে ঘরবাড়ি।
পুঁজির মালিক নাফা করে।
গরিব মানুষ ভুখায় মরে।
সরকারী দেনার জোয়াল
ঘাড়ে টানিয়া।
কিষাণ-মজুর বলির পাঁঠা,
লাভের ক্ষীর খায় বিড়লা-টাটা।
গোদের উপর বিষফোঁড়া
মার্কিন সওদাগর।
লুইট্যা নিল স্বদেশ ভূমি,
জল-জঙ্গল-খেতের জমি ।
নিজঘরে পরবাসী,
হইলাম রে বেঘর।
চলবে কি তা বলবে ওরাই।
চলবে না আর হকের লড়াই।
সন্ত্রাসবাদী বইল্যা পরায়
হাতে হাতকড়া।
রাজা এখন অস্তর শানায়।
আই এস আই-এর গপ্পো শোনায়।
চলছে ভারত মার্কিন সেনায়
যৌথ মহড়া॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাদের আছে বুলেট-প্যালেট,
আমাদের আছে পাথর।
তোমাদের থাক ফৌজি তাকৎ,
আমরাও নই নিথর।
তোমাদের কাছে ‘কাশ্মীর’ মানে
কাঁটাতারে ঘেরা জমি।
আমাদের কাছে আমার স্বদেশ,
জননী জন্মভূমি।
আমাদের চোখে মুক্ত স্বাধীন
স্বপ্নের হাতছানি --
পাহাড়ে, পাথরে, ঝরনা, ঝোরায়
আজাদির ডাক শুনি॥॥
তোমাদের আছে সাঁজোয়া গাড়ি,
গোলাবারুদের আগুন।
আমাদের আছে ধমনী-শিরায়
লাখো শহিদের খুন।
তোমাদের মেকী “দেশপ্রেমে”র
আস্তিনে আছে ছোরা।
আমাদের বুকে “কাশ্মীরিয়ৎ”
ভাঙা পাঁজরে ঘেরা।
কাশ্মীরনামা তোমাদের আছে বুলেট প্যালেট। কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ২ মার্চ, ২০১৯।
“বিশ্বের ইতিহাসে সেটুকু অংশেরই অস্তিত্ব রয়েছে, যেটুকু অত্যাচারীরা আমাদের জানতে অনুমতি দিয়েছে।” – প্রথিতযশা
ঐতিহাসিক জ্যঁ শ্যেনো (Jaen Chesneaux)। কবিকণ্ঠে এই গণসংগীতটি শুনতে নীচের প্লেয়ারে ক্লিক করে শুনুন…।
মানবো না কোনও জুলুম-শোষণ,
শৃঙ্খল, বন্ধনই --
পাহাড়ে, পাথরে, ঝরনা, ঝোরায়
আজাদির ডাক শুনি॥
তোমরা যতই রক্ত ঝরাও
ব্যাটনের ঘায়ে পিঠে --
আমাদের প্রাণে অকাল ফাগুনে
রক্তকুসুম ফোটে।
ভূস্বর্গ আজ নরক হয়েছে
তোমাদেরই ঢালা বিষে।
আমরা ফেরাবো বসন্ত শোভা
বজ্রের নির্ঘোষে।
সবুজ অরণ্যে, নব তারুণ্যে
দৃপ্ত পদধ্বনি --
পাহাড়ে, পাথরে, ঝরনা, ঝোরায়
আজাদির ডাক শুনি॥
বহু যুগ ধরে অত্যাচারে
যন্ত্রণা সয়ে সয়ে,
চোখের জল জমাট বেঁধেছে
হৃদয়ে পাথর হয়ে।
বুকের পাথর হাতে তুলে নিয়ে
ভুলেছি মরণশঙ্কা।
হৃদস্পন্দনে বাজে দ্রিমি দ্রিমি
চেতনার রণডঙ্কা।
মৃত্যু উপত্যকায় ধ্বনিত
জীবনের জয়ধ্বনি।
পাহাড়ে, পাথরে, ঝরনা, ঝোরায়
আজাদির ডাক শুনি॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই দেশে
সূর্যকে কেড়ে নেয়
বহুতল বাড়ি,
পাশে বস্তির অন্ধকার।
এই দেশে
শাসকেরা কেড়ে নেয়
ভুখাশুখা মেহনতি
মানুষের অধিকার॥
এই দেশে
ধনপতি সদাগর
পিশাচের লালসায়
আজও চুষে খেতে চায়
গরিবের খুন।
এই দেশে
ধর্মের ছাই চাপা
পড়ে নিভে যায় কত
বঞ্চিত শোষিতের
ক্ষোভের আগুন॥
এই দেশে
জল-জমি-জঙ্গল
লুঠ করে কত রাম --
রাজারাম, বাবুরাম।
এই দেশে কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ৯ মার্চ, ২০১৯। কৃতজ্ঞতা - কবি কানাইলাল
কর্মকারের একটি ছোটো কবিতার প্রেরণায় ও অবলম্বনে গানটি রচিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
এই দেশে
দাসত্ব শৃঙ্খল,
রাষ্ট্রের পদতল
‘দেশপ্রেম’-এর হয় নাম॥
এই দেশে
স্পার্টাকাসদের
মনে ‘মনুসংহিতা’,
মিছিলের মুখে
‘মার্কসবাদে’র স্লোগান!
এই দেশে
হীরক রাজার রোষে
কত চরণদাসের
মুখ বেঁধে কেড়ে নেয়
চেতনার গান॥
এই দেশে
তবু কিষাণ-মজুর বেশে
উদয়ন ফিরে আসে,
হাতে তার মুক্তি নিশান।
এই দেশে
দল বেঁধে উদয়ন
দড়ি টানে প্রাণপণ,
রাজা হবে ভেঙে খান খান॥
এই দেশে
সূর্য উঠবে পুবে,
ভোরের ভৈরবে
মুক্ত স্বদেশে আলো মুছবে আঁধার।
এই দেশে
বোকাবুড়ো বেঁচে থাক,
উজ্জ্বল এক ঝাঁক
সূর্যসেনারা ভাঙো পাহাড় বাধার॥
এই দেশে
জমে থাকা গণরোষে
বসন্ত নির্ঘোষে
ফুটে উঠে রক্তপলাশ।
এই দেশে
চেতনার জাগরণে,
ক্রান্তির আবাহনে
ঘুচে যাবে দাসত্ব পাশ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজা যদি কেড়ে খায় গরিবের গ্রাস,
গরিবেরা বাধা দিলে হয় ‘সন্ত্রাস’।
রাজার শোষণ যদি হয় অসহ্য,
উলুখড়ে রুখে গেলে হয় ‘নৈরাজ্য’।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!
(যদি) অধিকার বুঝে নিতে জোট
বেঁধে লড়ো –
রাজার হুকুমে ‘সন্ত্রাসী’ বলে মরো।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!
ঘরে ঘরে হাহাকার, নেই রুটি-রুজি
মজুরকে লুটে বাড়ে মালিকের পুঁজি।
লক-আউট কারখানা, অনাহারে চাষি
জমি-জঙ্গল লুঠে মরে আদিবাসী।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে ২০০১ সালের ১৩ নভেম্বর এই
গণসংগীতটি প্রথম রচিত হয় সেই সময়ে কেন্দ্রে বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ও রাজ্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন
বামফ্রন্ট সরকারের দমন-পীড়নমূলক আইন ‘পোকা’ ও ‘পোটো’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদে। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ‘কলকাতা বইমেলা’য়
র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন প্রকাশনা কর্তৃক প্রকাশিত ‘মানবতার গান’ শীর্ষক রাজেশ দত্তের গানের সংকলন গ্রন্থটিতে গানটি মুদ্রিত হয়েছিল
। সেই পুরোনো গানটিকেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত করা হয়েছে। তারিখ: ২৫ এপ্রিল, ২০১৮। কবিতাটি
দীপঙ্কর চক্রবর্তী সম্পাদিত “অনীক” পত্রিকার ২০০২ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
শোষণের নাগপাশে ধুঁকছে স্বদেশ,
ডিজিটাল ইন্ডিয়া হবে ‘ক্যাশলেস্’!
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!
মুক্ত হাওয়ার ঝোঁকে বাজারে আগুন,
‘জনগণমন’ গানে মেশে রামধুন।
রঘুপতি রাঘব রাজা রাম,
পতিতপাবন সীতারাম।
আম্বানি-আদানি তেরও নাম,
সবকো লুট কর হ্যায় ধনবান॥
‘রামরাজ্য’ জুড়ে ধর্মের ত্রাস,
পড়ে থাকে আসিফা, ভেমুলার লাশ।
ধর্ম-জাতের নামে চলে হানাহানি –
গরিবের খুন চোষে মোদি-আম্বানি।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরে বাবা, দেখো চেয়ে
কত নেতা ভোটের বাজারে!
কত নেতা, কত কেতা --
এ দল, ও দল, শুধু কোন্দল
দলাদলি করে।
দলাদলি, দলাদলি --
বাহা রে, বাহা রে, বাহা রে!
মুখে মারি জগতং,
কত দল, কত রং!
তেড়েফুঁড়ে রেগে টং,
রেগে টং, রেগে টং --
গালাগালি, চুলোচুলি করে মরে,
যত ব্যাটা ভোটের আসরে।
ওরে, জনমদুখী ভোটার,
তোরা বোতাম টিপে করবি কী তা বল?
ইভিএমের কারচুপিতে
কার ভোট যায় কার ঝাঁপিতে?
ওরে, অবাধ রিগিং, বুথ দখলে
গোড়ায় গণ্ডগোল।
গুপী-বাঘার ভোটের গান কথা - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। মূল সুর - শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ রায়। রচনাকাল:
২২ মার্চ, ২০১৯। অবিস্মরণীয় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছায়াছবির ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি রূপে সেই
জনপ্রিয় গুপীর গানের সমকালীন প্রেক্ষিতে প্যারডি। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
দ্যাখ, বছর বছর চলছে দেশে
মিথ্যে ভোটের ছল।
ওরে, জনমদুখী ভোটার,
তোরা বোতাম টিপে করবি কী তা বল?
নেতা করেন তম্বিতম্বা,
ক্যাডারেরা কীসে কম বা?
ওরে, ভোটার পেয়ে অষ্টরম্ভা
দুর্গতি সম্বল।
তোরা ভোটবাজারে করবি কী তা বল?
ওরে, জনমদুখী ভোটার!
আয়, আয়, আয় রে আয়,
আয় রে, আয়
আয় রে, আয়
আয়রে সবাই জোট বেঁধে,
ফাঁসবো না আর ভোট ফাঁদে, আয় --
আয় ভাই দলে দলে
খাটি যারা ঘাম ফেলে,
আছি যারা ভুখ মিছিলে
রোষানলে উঠি জ্বলে,
উঠি জ্বলে, উঠি জ্বলে --
ওরে… … ...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জেগে ওঠো কবর থেকে,
শুনছো সুজেট জর্ডন?
আজ চারপাশে আঁধার দেখে
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
এখনও অশ্রুভেজা
নরম মাটি সমাধির।
এখনও ভাঙছে পাড়,
বাঁধভাঙা কান্না নদীর।
এই প্রলয় ভাঙনকালে
ফিরে এসো, ওগো সাহসিনী –
দেখো, দিকে দিকে ফণা মেলে
বিষাক্ত নাগনাগিণী।
মৃত্যুঞ্জয়ী, আনো
অমৃত চেতনায় গণজাগরণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
অনন্ত ঘুম ভেঙে জেগে
গাও ঘুমভাঙানিয়া গান।
অন্ধ মূঢ়তায় বন্ধ্যা
দেশে দাও মৃতজনে প্রাণ।
জেগে ওঠো কবর থেকে শুনছ সুজেট জর্ডন
কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। সুজেট জর্ডনের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি। রচনাকাল: ১৭ মার্চ, ২০১৯।
ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
ওঠো, ফিনিক্স পাখির মতো
নিভন্ত চেতনায় জ্বলে –
গণরোষে সুপ্ত আগুন
ছড়াও দীপ্ত দাবানলে।
বহ্নিশিখায় পুড়ে খাক
হয়ে যাক সব শাসন-শোষণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
এসো, ঈশাণের কালো মেঘে
কালবৈশাখী ঝঞ্ঝায়।
এসো, বৃষ্টির ধারাপাতে
দহনের দারুণ জ্বালায়।
এসো, হেমন্ত গোধূলিতে
ধানখেতে সোনা রোদ্দুরে।
এসো, হিমেল শীতের রাতে
শুকনো পাতার মর্মরে।
আনো বসন্ত আবাহনে
পলাশের রক্তক্ষরণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও ভাই রে, ভাই
লাগল দেশে বিশ্বায়নের হাওয়া।
গরিবদুখির হরিমটর,
ধনীর হাতে মেওয়া।
‘আচ্ছে দিন’-এর ফাঁকা বুলি,
ব্র্যান্ড-মোদি বাজারে
‘উন্নয়ন’-এর স্বপ্ন ফেরি
দশ-লাখি স্যুট পরে
(আর) মজুর-চাষির অন্ন মেরে
পুঁজির গুণ গাওয়া॥
পেট্রোপণ্য আকাশছোঁয়া,
চাল-ডাল-তেল সোনা।
আনাজপাতির বাজার আগুন,
অসাধ্য হয় কেনা।
(শুধু) ভোট বাজারে ঝান্ডা নেড়ে
মিছেই দাবিদাওয়া॥
বিশ্বায়নের গান ২ কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। প্রচলিত ‘ঝুমুর’-এর সুরে এই গানটি লেখা। এই গানটি প্রথম রচিত হয়
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ (২) সরকারের আমলে ২০১১। সালের ২৪ জানুয়ারি। এরপর বর্তমান বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনকালে এটির
পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ রচিত হয় ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর। গানটি প্রকাশিত হয় ‘আবাদভূমি’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ, সপ্তম সংখ্যায় (নভেম্বর,
২০১৬ - এপ্রিল, ২০১৭)। এখানে দু’একটি শব্দ সামান্য পরিবর্তন করে গানটি টাইপ করা হয়েছে।
দেশের কৃষি ধ্বংস করে
বিলিতি বীজ-সার।
দেনার দায়ে গাঁয়ে গাঁয়ে
চাষির হাহাকার।
(হায়) সোনার ফসল ফলাতে চেয়ে
বিষের জ্বালা পাওয়া॥
বাড়ছে বেকার, ছাঁটাই, লে-অফ
কারখানাতে তালা।
মুক্ত বাজার অর্থনীতির
চৌষট্টি কলা।
(হায়) ঋণের জালে দেউলিয়া দেশ,
ভূতের বোঝা বওয়া॥
সংসদে সং সেজে জমে
রঙ্গ নাট্যশালা।
চলছে মোদির মনমোহিনী
ভানুমতীর খেলা।
(আর) এফডিআই’য়ে খুচরো বাজার
উজাড় করে দেওয়া॥
কালমাদি থেকে নীরব মোদির
জালিয়াতির খেল।
টুজি টেলিকম, কয়লা, ব্যপম —
দুর্নীতি অঢেল।
(তবু) দেশের মাথা মন্ত্রী-নেতা
তুলসীপাতা ধোওয়া॥
মজুর কাঁদে সেজ-এর ফাঁদে,
পুঁজিপতির হাসি।
ভিটেমাটি হারিয়ে বেঘর
গরিব আদিবাসী।
(ওই) কর্পোরেটের ভেট চড়াতে
জমির দখল নেওয়া॥
উন্নয়নে ভাঁড়ার শূন্য,
অস্ত্র আমদানি।
গঞ্জ-গাঁ’য় হামলা চালায়
ফৌজি কোম্পানি।
(দেখ) ‘গ্রিন হান্টে’র নামে পুঁজির
লুটেপুটে খাওয়া॥
কর ফাঁকি দিয়ে কর্পোরেট
লাভের কড়ি গোনে।
বানিয়াদের দেনার জোয়াল
টানছে জনগণে।
(ও ভাই) নোট বাতিলে ধুঁকছে স্বদেশ,
যমযাতনা সওয়া॥
কালাধনের গড়ছে পাহাড়
আম্বানি-আদানি।
দেশের টাকা হচ্ছে গায়েব,
বিদেশে ব্ল্যাকমানি।
(হায়) ‘দেশপ্রেম’-এর আফিম খেয়ে
সর্বহারা হওয়া॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুনেন বন্ধু মন দিয়া,
শুনেন সর্বজনা।
বিশ্বায়নের রামায়ণ
কাহিনি বর্ণনা।
‘সীতা’ মানে লাঙল ফালে
চাষজমির আলপনা –
আবাদভূমির প্রতীক ‘সীতা’
বাল্মিকীর কল্পনা।
লড়াই বাঁধে বন-জমিনে
‘সীতা’র রূপকল্পে,
যুদ্ধ চলে রাম-রাবণে
রামায়ণের গল্পে।
রাবণ মেরে ‘সীতা’ কেড়ে
রামের দখলদারি।
ভূমিহারা ‘রাক্ষসে’রা,
ধ্বংস লঙ্কাপুরী।
অগ্নি গ্রাসে পোড়ে ‘সীতা’
যুদ্ধজয়ের শেষে,
আদিবাসীর জমি পোড়ে
আর্য রামের রোষে।
বিশ্বায়নের রামায়ণ কথা, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। গানটি পাঁচালী গানের সুরে
ও আঙ্গিকে রচিত। রচনাকাল: ৭ এপ্রিল, ২০১৮। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
রাবণেরা আজও মরে,
পুড়ছে কত ‘সীতা’!
দাদরি থেকে দণ্ডকে –
করুণ অশ্রুগাথা।
শিকার উৎসব ‘বেআইনি’
রাষ্ট্রের ফরমান।
কর্পোরেটে অবাধ লোটে,
কাঁদে অরণ্য প্রাণ।
‘বন্যপ্রাণী রক্ষা’ ছলে
ঘৃণ্য অভিসন্ধি
অরণ্যের অধিকার
কেড়ে নেবার ফন্দি।
মৃগরূপী ‘মারীচ’ মারে
রামের ভাই ‘লছমন্’।
কৃষ্ণসার মেরে ‘হিরো’
‘ভাইজান’ সলমন!
বিচার-বাণী আর কাঁদে না,
বিচার পুঁজির দাস।
‘গণতন্ত্র’র হিমঘরে
কৃষ্ণসারের লাশ।
‘বিশ্নই’দের হাহাকার
চৈতি হাওয়ায় ভাসে –
‘লঙ্কাজয়’-এর উল্লাস
‘রামরাজ্য’র দেশে!
কোথা বিরসা, চাঁদ, ভৈরব?
কোথা সিধো-কান্হো?
নয়া ‘রাম-লক্ষণ’দের
শক্তিশেল হানো।
‘উলগুলান’-এ মাদল বাজুক,
নয় ‘ভুয়াং’-এ রোদন।
রাবণরাজার জয়ধ্বজা
ওড়ান মধুসূদন॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সবার ওপর মানুষ সত্য,
ধর্মমোহ মিথ্যে ছল।
পীর-পুরুতে-পোপে মিলে
বানাইল এ মারণ কল।
হিন্দু ডাকে কৃষ্ণ কৃষ্ণ।
মুসলমানে আল্লাকে।
সাহেব ডাকে খ্রিস্ট বলে।
আমি ডাকি মানুষকে।
মন্দিরেতে জ্বালায় পিদিম।
চিরাগ জ্বালায় মসজিদে।
চার্চে জ্বালায় মোমের বাতি।
পেটে আগুন জ্বালায় খিদে।
রাম-রহিমে বাঁধছে লড়াই।
মানুষ মরে দাঙ্গাতে।
রাম-রহিম বাঁচায় না তাই
গান গাই ঘুম ভাঙাতে॥
সবার উপর মানুষ সত্য কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রসংগীত - সুমন বিশ্বাস। রচনাকাল: ১৯৯৭। কৃতজ্ঞতাস্বীকার - প্রতিভাধর অন্ধ
লোকসংগীতশিল্পী বিশ্বনাথ অধিকারীর কণ্ঠে শোনা একটি লোকগানের সুরের অনুসরণে এই গানটি রচিত।
ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজায় বানাইলো ভগবাইন গো।
মহারাজায় বানাইলো ভগবাইন॥
হেই, রাজার খেতে লাঙল টেনে
গোলা ভরাই সোনার ধানে।
ভগবাইনের বিচারে ভাত জুইটলো না।
হেই, রাজার খনির মাটি খুঁড়ে
তুলি লক্ষ টাকার কালো হিরে।
ভগবাইনে কানাকড়িও দিলে না।
হেই, বিজ্ঞজনে বইলেছেন,
রাখে কেষ্ট মারে কে?
মারল রাজায়, কেষ্ট ফিরেও দেইখলে না॥
রাজায় বানাইলো ভগবাইন
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রসংগীত - সুমন বিশ্বাস। ১৯৯৬ সালে
প্রচলিত ‘ঝুমুর’ গানের সুরে ও আঙ্গিকে রচিত ও সুরারোপিত এই গানটির যন্ত্রসংগীত সৃজন ও আয়োজন
করেছেন সুমন বিশ্বাস। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে।
জাতের বেড়া ডিঙিয়ে বলো
মানুষকে দেয় দাম কে?
এক আকাশ, এক বাতাস
এক মাটিতে একসাথে বাস।
তবুও মাঝে যোজন ফারাক।
মেলাবে দুই প্রাণ কে?
তাই রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে॥
রহিম মাতে ঈদ পরবে,
রামের দুর্গাপূজা।
শুধু ভোটের সময় মিটিং-মিছিল,
সম্প্রীতি সুর খোঁজা।
ছোঁয়াছুঁয়ি জাত বিচারে
ধর্ম বাঁচে, মানুষ মরে।
মযহব্ নয়, মানুষ বড়ো
শোনাবে পয়গাম কে?
হায়, রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে।
রহিম জানে না রামকে কথা, সুর ও কণ্ঠ - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ২৫
ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার “অপরাধে” শামিম আসগর আলি নামে এক ছাত্রকে প্রেসিডেন্সি
কলেজের ছাত্রাবাস হিন্দু হস্টেলে থাকার অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে ও কলেজ কর্তৃপক্ষের এই উগ্র সাম্প্রদায়িক
মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি কলেজ স্টুডেন্টস্ অ্যাসোশিয়েসনের সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি
জানিয়ে এই গানটি রচিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
রামের ঘরে সন্ধ্যারতি,
শামিম পড়ে নমাজ।
অষ্টপ্রহর মানুষ ভুলে
ধর্মে মজে সমাজ।
রাম বড়ো না, রহিম বড়ো
মিথ্যে কেন লড়াই করো?
ধর্ম-মযহব্ ছেড়ে ধরো
যুক্তি ও বিজ্ঞানকে।
তবেই রহিম চিনবে রামকে,
আর শামিম চিনবে শ্যামকে।
ধর্মকারা ভেঙে মেলাও
হিন্দু-মুসলমানকে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।
(হায়) তোমরাই ভজো কৃষ্ণ-কালী
নজরুল ইসলামের গানে।
তবু করলে ঘৃণা মুসলমানে!
বিসমিল্লা খানের সানাই
সাজায় তোমার বিয়ের বাসর।
বড়ে গুলাম আলির সুরে
ভরলো তোমার গানের আসর।
রবিশংকর সেতার সাধেন
আমজাদ আলির সরোদ তানে।
তবু করলে ঘৃণা মুসলমানে!
পল্লী-কবি জসিম শোনান
নকশী কাঁথার মাঠের গাথা।
শামসুরের ছন্দে কথায়
তোমার আমার স্বাধীনতা।
বিশ্বে ওড়ান জয়ের নিশান
গুলজার আর রহমানে।
তবু করলে ঘৃণা মুসলমানে!
যবন বলে রাখলে দূরে কথা, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। আন্তঃধর্মীয়
সম্প্রীতিকামী সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকীর শুভক্ষণে আমাদের প্রাণের কবি
নজরুলের অমর, উজ্জ্বল স্মৃতির উদ্দেশে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রচিত এই গানখানি প্রচলিত
লালনগীতির সুরের আঙ্গিকে সৃজিত। লালনগীতি’র আঙ্গিকের সুরে এই গানটি রচিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh
Datta Youtube Channel.
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা
বৃটিশ রাজের বুক কাঁপালো।
কত না বীর আসফাকউল্লা
দেশের জন্য শহীদ হলো।
রোকেয়া দিলেন মুক্তিমন্ত্র
বঙ্গনারীর প্রাণে প্রাণে।
তবু করলে ঘৃণা মুসলমানে!
ভালোবাসার আতিশ জ্বালায়
মির্জা গালিবের শায়েরী।
মেহেদি হাসান শুনতে বসে
কে বলো জাত বিচার করি?
দেখলাম না জাতের কী রূপ,
লালন বলে আপন মনে।
তবু করলে ঘৃণা মুসলমানে!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তাবিজ কবচ মাদুলি বাইন্ধাও
কপাল ফিরল না।
হায় আল্লাহ, হায়রে আল্লাহ!
পীরের দরগায় গিয়া মানত করলাম,
তবু দুঃখ ঘুচল না রে।
জোতদারে লয় জমি ছিনা,
মহাজনের কাছে দেনা।
পঞ্চায়েতে করলাম নালিশ,
বিচার পাইলাম না রে।
ভাসল ভিটা বানভাসিতে,
দাঙ্গা বান্ধে পৌষের শীতে।
বানের জলে ভাসল ছাওয়াল,
দাঙ্গায় মরে কইন্যা রে।
ভোটের আগে নেতা আসেন,
গোঁফের ফাঁকে মুচকি হাসেন।
ভোটে জিতা মন্ত্রী হইলে
দেখা মেলে না রে।
তাবিজ কবচ মাদুলি বাইন্ধাও কপাল ফিরল না
কথা, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। কৃতজ্ঞতা স্বীকার: ১৯৯৬ সালে রচিত এই গানখানি
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফিড্ব্যাক’-এর বিখ্যাত সংগীতশিল্পী মাকসুদুল হকের একটি লোকগানের সুরে
অনুপ্রাণিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
লাল নিশান ওই হাওয়ায় ওড়ে।
মিটিন্-মিছিল হাট-বাজারে।
দিনবদলের কথা ফেরে,
দিন তো বদলায় না রে।
আল্লাহ, এ তোর কেমন বিচার?
ভুখায় মরে গরিব লাচার।
বাবুর গোলায় ফসল ভরে,
মোদের প্যাটে নাই দানা রে।
চক্ষের জল চক্ষেই শুকায়,
বক্ষের আগুন জ্বালা ধরায়।
আল্লাহ-নবী সব ঝুটা হ্যায়,
মিছাই সান্ত্বনা রে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মন্দিরে নয়, মসজিদে নয়
ধর্ম থাকে অন্তরে।
(ওরে) ধর্ম-জাতের বালাই ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥
(ও তোর) পৈতে-টিকি, টুপি-নূরের
বাহার শুধু বাহিরে!
রক্ত-মাস আর হাড়ের খাঁচা
একই দেহের অন্দরে।
(ওরে) ধর্ম-জাতের বালাই ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥
রাম বলো আর রহিম বলো,
মিছেই ডাকাডাকি –
(ওরে) পেটের জ্বালা কেউ মেটায় না,
ধর্ম শুধুই ফাঁকি।
পিষছে মজুর-চাষা-দলিত
শাসন-শোষণ যন্তরে।
ধর্মকারার আগল ভাঙুক
মানবতার মন্তরে॥
মন্দিরে নয় মসজিদে নয়
কথা, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ১৪ নভেম্বর, ২০১৮। ভিডিওটি সৌজন্যে
Rajesh Datta Youtube Channel.
পুরাণ-কোরান, বেদ শরিয়ত
মনগড়া রূপকথা –
মন্ত্রতন্ত্র, কলমা-আয়াত
জপতপ সব বৃথা।
(ওরে মন) ধর্মমোহের গোলকধাঁধায়
হোস্ না দিগ্ভ্রান্ত রে।
অজ্ঞানতার আঁধার ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥
(ওই) ঝান্ডাধারী ভোট-ব্যাপারী
দাঙ্গা বাঁধায় দেশে।
আগুন ছড়ায়, রক্ত ঝরায়
ধর্ম সর্বনেশে!
(ও ভাই) বিভেদ ভুলে জোট বাঁধি আয়
শহর-গাঁয়ে, গ্রামান্তরে।
প্রাণে প্রাণে মিলন গড়ুক
মানবতার মন্তরে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মিথ্যে তোদের ধর্ম মোহের ভেদ বিভেদের হাল্লা
মিথ্যে তোদের ধর্ম মোহের ভেদ বিভেদের হাল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
মিথ্যে তোদের ধর্ম মোহের ভেদ বিভেদের হাল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
মিথ্যে তোদের ধর্ম মোহের ভেদ বিভেদে . . .
সুরের কি জাত ধর্ম বা কি
ওরে সুরের কি জাত ধর্ম বা কি
মিলন তারে বাঁধলো রাখী
সুরের কি জাত ধর্ম বা কি . . .
ওরে মিলন তারে বাঁধলো রাখী
খুললো শানাই অন্ধ মনের
খুললো শানাই অন্ধ মনের
বন্ধ দোরের পাল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
মিথ্যে তোদের ধর্ম মোহের ভেদ বিভেদে
যে শানাইয়ে মাতলো সুরে ঈদ পরবের আসর
ওরে যে শানাইয়ে মাতলো সুরে ঈদ পরবের আসর
সে শানাইয়ে উঠছে বেজে হিন্দু বিয়ের আসর
যে শানাইয়ে মাতলো সুরে ঈদ পরবের আসর
সে শানাইয়ে উঠছে বেজে হিন্দু বিয়ের আসর
সব ধর্মের সুরেই বাজেন উস্তাদ বিসমিল্লা কথা, সুর ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত
(জন্ম ৫.২.১৯৭১)। উস্তাদ বিসমিল্লাহ্ খানের (জন্ম: ২১ মার্চ, ১৯১৬ – মৃত্যু: ২১ অগাস্ট, ২০০৬) স্মরণে বাংলা
সমকালীন গান। রচনাকাল: ১৪ নভেম্বর, ২০১৮। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta Youtube Channel.
কেই বা কাফের কেই বা যবন
ওরে সব মানুষই অরূপ রতন
কেই বা কাফের কেই বা যবন
ওরে সব মানুষই অরূপ রতন
সবার উপর সত্য মানুষ নয় ঈশ্বর আল্লাহ
এক হয়ে যায় যবন কাফের পুরুত কিম্বা মোল্লা
এক হয়ে যায় যবন কাফের পুরুত কিম্বা মোল্লা
সুরে সুরে প্রাণ মিলিয়ে দিলেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
সুরে সুরে প্রাণ মিলিয়ে দিলেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
মিথ্যে তোদের ভেগ বিভেদে
মিথ্যে তোদের ভেদ বিভেদের ধর্ম মোহের হাল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
সব ধর্মের সুরেই বাজেন ওস্তাদ বিসমিল্লা
মিথ্যে তোদের ভেগ বিভেদে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লোকে বলে, বলুক রে ---
যুক্তি ছাড়া কোনো কথাই মানব না।
ধর্ম-কথন, পাঁজিপুঁথি,
শাস্ত্রবচন শুনব না॥
বেদ, বাইবেল, কোরান-পুরাণ
মনগড়া রূপকথা।
ভাই রে, মনগড়া রূপকথা।
পীর, পুরুত আর পাদ্রি বানায়
যমযাতনার যাঁতা।
লোকে বলে, বলুক রে ---
যুক্তি ছাড়া কোনো কথাই মানব না॥
শাস্ত্র-শরিয়তের বিধান
মানলে বাঁচাই দায়।
হায় রে, মানলে বাঁচাই দায়।
অন্ধ সংস্কারের মোহে
জীবন বৃথাই যায়।
লোকে বলে, বলুক রে ---
যুক্তি ছাড়া কোনো কথাই মানব না॥
লোকে বলে বলুক রে যুক্তিবাদের গান
কথা, সুরারোপ ও কণ্ঠশিল্পী - কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ৭ মে, ২০১৯ (২৩ বৈশাখ, ১৪২৬
বঙ্গাব্দ)। এই গানটি প্রবাদপ্রতিম মরমী লোককবি ও বাউল সংগীতের স্রষ্টা হাছন রাজার জনপ্রিয় গান ‘লোকে বলে
বলে রে ঘরবাড়ি ভালা নয় আমার’-এর সুরের অনুসরণে ও আঙ্গিকে রচিত ও সুরারোপিত। ভিডিওটি সৌজন্যে
Rajesh Datta Youtube Channel.
সন্ত-সাধু, পীর-ফকিরের
ভণ্ডামি, বুজরুকি –
যত ভণ্ডামি, বুজরুকি
যুক্তি দিয়ে ফাঁস করে
সব দেখিয়ে দেব ফাঁকি।
লোকে বলে, বলুক রে ---
যুক্তি ছাড়া কোনো কথাই মানব না॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কখনো ভাঙব লেলিনের স্ট্যাচু,
কখনো সরাব জিন্না।
ভেঙে পেরিয়ার, ভীমের মূর্তি
ছড়াব বিভেদ, ঘেন্না।
কখনো বানাব মন্দির-থান,
আমাদের ‘গড’ গডসের।
গড়ে পেল্লাই স্ট্যাচু ‘প্যাটেলে’র
নজর কাড়ব গিনেসের!
সাভারকার, হেডগেওয়ারকে
বানাব দেশের ’আইকন্’!
গোলওয়ালকররা ‘দেশপ্রেমী’,
যত নিন্দুক যাই কন্।
শ্যামাপ্রসাদের শিষ্য আমরা,
‘হিন্দুত্বে’র পূজারী।
“হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানে”র
জিগির হুংকার জারি।
মুসলিমদের করব নিকেশ,
গড়ব ‘হিন্দুরাষ্ট্র’।
আমাদের আছে জঙ্গি সংঘী
পুলিশ-সেপাই-অস্ত্র।
অথ ‘সংঘ’ কথা
কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল - মে, ২০১৮।
বিরানব্বইয়ে ভেঙেছি বাবরি,
দু’হাজার দু’য়ে গুজরাট।
গণহত্যার রক্তে রাঙানো
আমাদের রাম-রাজপাট।
‘এনকাউন্টার’ সাজিয়ে করব
আদিবাসীদের ধ্বংস।
ব্রাহ্মণ্যবাদী রোষে দলিতের
ঘুচে যাবে জাত-বংশ।
বুলেটে-প্যালেটে তছনছ করে
‘কাশ্মীর’ নেব ছিনিয়ে।
খতম করব কাশ্মীরিদের
উগ্রপন্থী বানিয়ে।
মনগড়া সব গল্পকথায়
ভুলিয়ে দেব ইতিহাস।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন সব --
আর যা কিছু ‘ছাইপাঁশ’!
আমাদের আছে ‘গোয়েবল্’ গুরু,
মিথ্যেকে করি ‘সত্য’।
মগজ ধোলাইয়ে পেটোয়া মিডিয়া
মোতায়েন আছে নিত্য।
ভাত ছড়ালেই ঝাঁকের কাকেরা
দলে দলে এসে জুটছে।
গণতন্ত্রের লাশের ভাগাড়ে
চিল-শকুনেরা লুটছে।
কন্ঠ যাদের রুদ্ধ হয় না,
তোলে বিরুদ্ধতার স্বর --
ওরা হবে কালবুর্গি, গৌরী
গোবিন্দ, দাভোলকর!
ভোট বৈতরণী পার করে দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখতে গদি
আছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর
অমিত, আদিত্য, মোদি।
ভাঙাগড়া সব ‘ত্রিদেব’-এর হাতে
শোনো সুধীজন মন দিয়া,
আম্বানিদের দাসখতে গড়ে
“ইনক্রেডিবল্ ইন্ডিয়া”!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মন্দির ভাসে আসিফার খুনে,
আদালতে ‘মৃত’ লোয়া!
সবার ঊর্ধ্বে নয়া হিটলার –
পদতলে মাথা নোয়া!
তেরঙা পতাকা গৈরিক হল,
‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’!
চুপ করো যত ‘দেশদ্রোহী’,
গোয়েবলরা সাচ্চা!
রাষ্ট্র বলছে, প্রশ্ন কোরো না
মেনে নাও নতশিরে।
‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’
জয় বলো সোচ্চারে!
প্রশ্ন কোরো না, কেন আফজল
ফাঁসির দড়িতে ঝোলে।
প্রশ্ন কোরো না, অসীমানন্দ,
কোদনানি ছাড়া পেলে।
প্রশ্ন কোরো না, বুরহান কেন
‘জঙ্গি’ দমনে মরে।
প্রশ্ন কোরো না, মোদি-অমিতেরা
মসনদে কেন চড়ে।
নব্য হিটলারনামা
কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। ২০ এপ্রিল, ২০১৮ কুখ্যাত স্বৈরাচারী খুনি একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের
১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে তীব্র ক্রোধে, ঘৃণায় ও ধিক্কারে আমাদের দেশ জুড়ে “হিটলারের নবজন্মে”র বিরুদ্ধে,
ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রামের সংকল্পে, আহ্বানে, সংহতিতে রচিত একটি কবিতা।
প্রশ্ন করলে জবাব পাবে না,
‘জঙ্গি’ তকমা জুটবে।
দেশ জুড়ে দেখো মানুষের খুনে
রাঙা ‘শতদল’ ফুটবে।
‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্নপূরণে
‘রামরাজ্য’ গড়তে
কত আসিফারা বলি হয়ে যাবে,
লোয়াদের হবে মরতে!
কত ইশরাত, সোহরাব, ভেমুলা
বারবার হবে খুন।
চিরে ফেলে ভাবীকালের গর্ভ
ত্রিশূলে বিঁধবে ভ্রূণ।
কাশ্মীর থেকে দণ্ডকবনে
খাণ্ডবদাহ চলবে।
চাষি-মজুর-দলিত-আদিবাসী
রাষ্ট্ররোষে জ্বলবে।
কুনান পোশপোরার কান্না
উন্নানে কাঠুয়ায়।
কামদুনি, কুশমুণ্ডিও বলে,
মুখ ঢাকো লজ্জ্বায়।
ভুলিয়ে দিচ্ছে বাবরি ধ্বংস,
গুজরাট গণহত্যা।
হীরক রাজার বচনই সত্য,
সব ইতিহাস ‘মিথ্যা’!
ধর্ম জিগিরে মেরে আখলাক,
পেহেলু, আফরাজুল –
গৈরিক গোয়েবল দল সব
মুছে দেবে বিলকুল।
রক্তের হোলি খেলার মাতন,
মৃত্যু মিছিল দেশে।
গৌরী, দাভোলকরেরা মরেন
গৈরিকী সন্ত্রাসে।
লোয়া নয়, আজ আদালতে পড়ে
গণতন্ত্রের লাশ।
বিচারের বাণী কাঁদে না নিভৃতে,
বিচার মোদির দাস!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘর ভেঙেছ, দেশ ভেঙেছ
ভেঙেছ মসজিদ।
আস্থা ভেঙে ভোট লুটতে
ইভিএম-এ সিঁদ!
গ্রাম ভাসিয়ে কূল ভেঙেছ
নদীর বড়ো বাঁধে।
মাটির লক্ষ্মী-ভাঁড় ভাঙো
নোটবন্দির ফাঁদে।
ঝুপড়ি ভাঙো, বস্তি ভাঙো
ভাঙো হকার-স্টল।
সাবেককালের বাড়ি ভেঙে
গড়ো শপিংমল।
বনের নৈঃশব্দ্য ভাঙো
সেনার ভারী বুটে –
আরণ্যক বসত ভেঙে
মাতো হরির লুঠে।
খুচরো বেসাত ভাঙে বড়ো
পুঁজির সদাগর।
জিএসটি-র জাঁতায় ভাঙে
ছোটো দোকানঘর।
ভাঙনের গান কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল - ৩১ মার্চ, ২০১৮।
ভাঙার খেলা শহর জুড়ে
উজাড় গাছপালা,
সর্বনেশে ‘উন্নয়নে’
হারিয়ে যায় জলা।
প্রকৃতির বুক ভাঙা দুখ
ছড়ায় দেশে-গাঁয়ে।
ধর্ম-জাতির ভাঙাভাঙি
ভাঙন নীতি ন্যায়ে।
ভাঙনে কেউ স্বজনহারা,
কেউ হারাল জান।
কেউ হারাল বসতভিটে,
শেকড়-মাটির টান।
কিষানের স্বপ্ন ভাঙায়
ধানের ছড়া কাঁদে,
অশ্রু হয়ে শিশির ঝরে
ভোরের সোনা রোদে।
ঘরগেরস্থি ভাঙো কত
বন্ধ চা বাগানে।
‘অসুর’দের কান্না বাজে
‘দাঁশাই’-এর গানে।
এত কিছু ভেঙেও রাজার
মিটল না তো আশ।
লেনিন মূর্তি ভেঙেচুরে
গেরুয়া সন্ত্রাস।
রাজার মনে ভয়ের বাসা,
বুকে কাঁপন ধরে –
লেনিন যদি ওঠেন জেগে
দেশের ঘরে ঘরে!
রক্তরাঙা লাল নিশানে
গেরুয়া হলে ফিকে,
প্রতিরোধের আগুন জ্বলে
উঠবে দিকে দিকে।
দণ্ডক থেকে কাশ্মীরে
অশনি সংকেতে
জাগছে কারা বন-পাহাড়ে
খনি-খামারখেতে?
কালবোশেখির ঝোড়ো মেঘ
জমে ঈশান কোণে –
টলছে মাটি মসনদের,
রাজা প্রমাদ গণে।
গাঁইতি শাবল ভোঁতা হবে,
ত্রিশূল যাবে খসে।
মূক জনতা মুখর হয়ে
উঠবে জ্বলে রোষে।
ঝিলিক দেবে কাস্তে ফলা
চাষির হাতে হাতে,
বন্ধ মিলে ভাঙবে তালা
হাতুড়ির আঘাতে।
লক্ষ তারা উঠবে জ্বলে
আঁধার হলে নিশি –
জাগবে ভুখা মজুর চাষি
দলিত-আদিবাসী।
ভাঙবে যত মূর্তি তত
লেনিন পথে মিশে
ভেঙে দেবেন সব জড়তা,
ঘুম ভাঙবে দেশে।
ভাঙা মূর্তি মূর্ত হয়ে
বজ্র মুঠি বেঁধে,
লক্ষ লেনিন ডাক দেবে
লড়াই-প্রতিরোধে।
ধামসা-মাদল দ্রিমি দ্রিমি
শাল-মহুল বনে
উঠবে বেজে দীপ্ত তেজে
প্রাণের স্পন্দনে।
লক্ষ কণ্ঠে শোনা যাবে
শেকল ভাঙা গান –
কমরেড লেনিনের সেই
যুদ্ধ আহ্বান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আসিফা বেটির জন্য কেঁদেছি
হাতে মোমবাতি জ্বেলে।
উন্নাও থেকে কুশমুণ্ডিতে
ভেসেছি চোখের জলে।
ভাবাদীঘি ঘিরে ভেবেছি আমরা
পরিবেশ চেতনায়।
রোগে-অনাহারে চা-মজুর মরে
কাঁদি শোকে, যাতনায়।
রাষ্ট্রের ত্রাসে ভাঙরের পাশে
থাকি প্রতিবাদী স্বরে।
ধর্মজাতের বিদ্বেষ বিষে
রুখে উঠি সোচ্চারে।
আমরা ‘সুশীল’ ‘বিদ্বজ্জনে’রা
হাতে হাত বেঁধে রেখে
সংহতি গড়ে গেছি সিঙ্গুর,
নন্দীগাঁয়ের ডাকে।
টালিনালা থেকে বেলেঘাটা হয়ে
নোনাডাঙা উচ্ছেদে
বস্তিবাসীর হকের দাবিতে
লড়েছি কোমর বেঁধে।
প্যালেস্তাইনে বোমার আঘাতে
ক্ষতবিক্ষত হই।
সিরিয়ায় স্যাম চাচার হানায়
রাজপথে হইচই।
বিভূতিভূষণ, ক্ষমা করো... কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল - ২৮ এপ্রিল ২০১৮।
‘শাহবাগ’ তোলে মিটিং-মিছিলে
সভায় ‘হাল্লা বোল’ –
এপার বাংলা ওপার বাংলা
মিলে ওঠে শোরগোল!
বাংলাদেশের ব্লগার হত্যা
আমাদের ঘুম কাড়ে।
গৌরী, দাভোলকরের খুনে
ফেটে পড়ি ধিক্কারে।
‘রাজনীতি’ রঙে রাঙিনি আমরা,
‘মানবাধিকারে’ লড়ি।
তবু কেউ কেউ মেপে হাঁটি পথ,
‘মাও’ জুজু ভয়ে মরি!
গণহত্যায় মেতেছে রাষ্ট্র
খেলে রক্তের হোলি।
কাঁদে বিজাপুর, মালকানগিরি
কাঁদে গাড়চিরোলি।
স্বজন-হারার আর্তি শুনেও
নীরব মহানগর!
পাছে ‘মাও’ বলে পুরে দিয়ে জেলে
বানায় ‘ছত্রধর’!
সেন্সর করি ‘সেন্সিটিভিটি’
কণ্ঠ রুদ্ধ করে।
বলা তো যায় না, রাজার সেপাই
যদি হানা দেয় ঘরে!
ছাপোষা আমরা, ডালভাত খাই
ঘুরি ট্রেনে-বাসে চড়ে,
কী হবে বেঘোরে ঢুকে কারাগারে
‘সুখী গৃহকোণ’ ছেড়ে?
বেশ আছি সুখে, লিখে মেপেজুকে
ফেসবুক দেওয়ালে –
‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ গুণতি করে
দিন কাটে ফাঁকতালে।
সশঙ্কিত ‘বিদ্বজ্জনে’রা
ভয় পান রাজরোষে।
কত ‘বিপ্লবী’ সেজে ‘অহিংস’
‘মাওবাদী’দের দোষে!
‘স্যান্ডউইচ থিয়োরি’ সাজায়
কথার যুক্তিজালে।
রাষ্ট্রের ‘উইচ্ হান্ট’-এর কথা
বেমালুম যায় ভুলে!
আদিবাসী গাঁয়ে হানা দেয় সেনা,
রাজার মৃগয়া চলে।
লুঠ হয়ে যায় বনজঙ্গল,
‘উন্নয়ন’-এর ছলে।
শাল-মহুলের শাখায় কাঁপন
ফৌজির ভারী বুটে,
রুখাশুখা ভুখা আদিবাসীদের
বাসভূমি নেয় লুটে।
জল্লাদদের আদিম উল্লাসে
খাণ্ডবদাহ চলে –
শ্মশানের চিতা জ্বলে দিকে দিকে
সবুজ বনাঞ্চলে।
তবু সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব
আজও প্রতিরোধ গড়ে।
বিরসার ‘উলগুলান’-এর ডাকে
গেরিলা সেনারা লড়ে।
রাষ্ট্র যখন স্বৈরাচারী
চলে না কোনও আইনে,
শাসকের হানাদারির জবাব
দেবে না ল্যান্ডমাইনে?
ওদের দু’বেলা অন্ন জোটে না
ওরা ভুখা বনবাসী,
রাষ্ট্র ওদের অধিকার কেড়ে
বানিয়েছে ‘সন্ত্রাসী’।
রক্তক্ষয়ী এ সংগ্রামের
নেই কেতাবি তত্ত্ব।
অনুভব করো বিবেক থেকে
জাগিয়ে মনুষ্যত্ব।
বিভূতিভূষণ, ক্ষমা করে দাও,
ভুলে আরণ্য-গাথা
ভাবি না তোমার দোবরু পান্না,
ভানুমতীদের কথা।
ভুলে গেছি ধন্ঝরি পাহাড়ের
অরণ্য প্রান্তর।
ভানুমতীদের জন্য কাঁদে না
নাগরিক অন্তর।
লবটুলিয়ার বনপথে পড়ে
ভানুমতীদের লাশ...
‘সুশীল’ সমাজ দেখেও দেখে না
রাষ্ট্রের সন্ত্রাস।
মফঃস্বলের কবিয়াল আমি
নগর-চরণদাস
শব্দ-ছন্দে বেঁধে যাই শুধু
হৃদয়ের হা-হুতাশ।
কবিতার খাতা অশ্রু সিক্ত,
কলমের নিবে খুন –
ছিঁড়েখুঁড়ে গেছে হৃদ্শতদল
পাঁজরে জ্বলে আগুন।
হে অরণ্যানীর আদি মানবতা,
আমায় করো গো ক্ষমা।
আখরে আখরে পুঁততে পারি না
প্রতিরোধী ল্যান্ড-বোমা!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এখনো যদি চুপ করে থাকি
মনে পুষে রেখে ভয়,
নতমস্তকে সোল্লাসে বলি --
'হীরক রাজার জয়'!
এখনো যদি জাত-ধর্মের
বিভেদের বিষ ঢালি,
'যবন' বলে ঘৃণা বিদ্বেষে
পড়শিকে দিই গালি।
এখনো যদি 'হিন্দুয়ানি'র
ধর্মমোহের বশে
অন্ধ হয়ে বন্ধ করি
বিবেক দুয়ার কষে।
এখনো যদি জঙ্গি যত
সংঘীর দলে ভিড়ি,
দাঙ্গা বাঁধিয়ে সারা দেশটাকে
অগ্নিদগ্ধ করি।
সেই আগুনে সকলেই পুড়ে
হয়ে যাব ছারখার,
মুসলমানের জানাজার সাথে
হিন্দুর সৎকার!
দহনকাল কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
রচনা ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯, চন্দননগর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ কেমন রঙ্গ জাদু, এ কেমন রঙ্গ?
বালাকোটে সার্জিক্যালের মেলে না তো অঙ্ক!
বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, "জঙ্গি" নিধন কত?
রাজামশাই ঢোক গিলছেন, বেজায় থতমত।
পাক মুলুকে বোমাবাজি নিপাট ধাপ্পাবাজি।
দেশ-বিদেশে ফাঁস হয়েছে রাজার কারসাজি।
মন্ত্রী, নেতা, আমলা যত এমন বেআক্কেলে,
পাঁচজনেতে পাঁচ কথা কয়ে ড্রপসিনটা ফেলে
ভেস্তে দিলে রাজার নাটক, করল বেয়াকুবি!
মাঝদরিয়ায় রাজার ডিঙার হল ভরাডুবি।
বুক ফুলিয়ে যোগীর দাবি, "চারশো জঙ্গি শেষ!"
অমিত শাহের হিসেব বলে, "আড়াইশো নিকেশ"।
মেপেজুকে যৎকিঞ্চিৎ বলে বায়ুসেনা,
বেশি কথা বলতে আছে সরকারের মানা।
সেনাপ্রধান সাফাই দেন, "সফল বিমান হানা।
বোমার ঘায়ে মরল ক'জন যায় না হাতে গোনা।"
যার যা খুশি বলেই চলে, তিনশো, সাড়ে তিনশো ---
যোগ-বিয়োগের অঙ্কে জমে মিডিয়ার টকশো।
একুশ দলের বিরোধী জোট চেঁচায় সমস্বরে,
"রাজামশাই পুকুর চুরি করছে দিনদুপুরে।"
মুখে কুলুপ এঁটে রাখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী!
ক্ষেপে উঠে রাজা চেঁচান, "সবাই ষড়যন্ত্রী!"
"বিরোধীরা 'দেশদ্রোহী', পাকিস্তানের দালাল।"
এ কেমন রঙ্গ জাদু কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। বালাকোট সার্জিকাল স্ট্রাইক, জঙ্গী বলে আফজলের ফাঁসী, কান্দাহার বিমান অপহরণের, নোটবন্দী
প্রভৃতির প্রতিবাদ। কবিতাটি মিলনসাগরের কবিতার দেয়ালিকা ৭-এ তোলা হয় ২৬.৩.২০১৯ তারিখে।
তেলেবেগুনে জ্বলে রাজা, যত ওঠে সওয়াল।
বাগিয়ে শিং ভি কে সিং শাঁসায় তেড়েফুঁড়ে,
"প্রশ্ন করলে, পাক মুলুকে ফেলে দেবো ছুঁড়ে!"
ত্রস্ত হয়ে ভুলিয়ে দিতে সবাই ব্যতিব্যস্ত।
কেমন করে ভুলতে পারি ইতিহাস সমস্ত?
ভুলিনি কেউ হীরক রাজার হাজার অধর্ম,
মিথ্যে বলে জিততে ভোটে অতীত কুকর্ম।
কে ভুলেছে বিরানব্বইয়ে বাবরি ভেঙে ফেলা?
"রামজন্মভূমি" নিয়ে ধর্ম ধর্ম খেলা?
কেমন করে ভুলতে পারি গোধরা, গুজরাত?
ঠান্ডা মাথায় খুন হয় সোহরাব, ইশরাত।
ভুলিনি কেউ মালেগাঁও, সমঝোতা এক্সপ্রেস।
বোম্বে থেকে আজমীর -- সন্ত্রাসে আরএসএস।
"মাও" তকমা লাগিয়ে কারা মারছে আদিবাসী?
কীসের ছলে, "জঙ্গি" বলে আফজলের ফাঁসি?
সবরমতীর কামরাতে ধরায় কারা আগুন?
পুলিশকর্তা কারকারের কারা করে খুন?
কী কাণ্ড কান্দাহারে বিমান অপহরণে?
কী চুক্তিতে মাসুদ খালাস হল সংগোপনে?
মক্কা মসজিদে কারা ঘটায় বিস্ফোরণ?
কাদের ষড়যন্ত্রে কাশ্মীরিদের মরণ?
কাদের রোষে স্তব্ধ রোহিত ভেমুলার স্বর?
কেন জ্বলে ভীমকোরেগাঁও, মুজাফ্ফরনগর?
কালবুর্গি, দাভোলকরের প্রাণ কেড়েছে কারা?
পানসারে ও লঙ্কেশ যান কাদের হাতে মারা?
কাদের হিংস্র মুখ ঢাকা ঝুটা গৈরিক বেশে?
ছড়িয়ে গুজব মারছে কারা দলিত সারা দেশে?
কেন ভোগে আমজনতা যাতনার নোটবন্দি?
দেশবাসীকে লুটে কাদের পকেট ভরার ফন্দি?
কাদের হাতে ধ্বংস হল দেশের অর্থনীতি?
"উন্নয়ন"-এর ছলে কাদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?
"অচ্ছে দিনে"র স্বপ্নে কারা বানাল রূপকথা?
পিষছে স্বদেশ অহরহ ভুখ-বেকারির যাঁতা।
কারা গড়ে ধর্মমোহের মগজ ধোলাই কল?
বিভেদ বিষ ঢালছে দেশে কোন নাগিণীর দল?
এসব প্রশ্ন মাথার ভেতর খেলে ঘুরপাক,
বলবে রাজা -- "দেশদ্রোহী, বেইমান সব 'পাক'!"
প্রশ্ন তবু বেঁচে থাকে, জমছে বারুদ হয়ে --
সশব্দে পড়বে ফেটে বিক্ষোভে, বিদ্রোহে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভোটের ঢাকেতে পড়ে গেল কাঠি,
হইচই দেশ জুড়ে।
কত নেতা, কত রঙের পার্টি
পথে নামে জোরেশোরে।
মিটিং-মিছিল ফেস্টুন কত —
কত বাহারি জেল্লা!
সবাই কষছে ভোটের অঙ্ক
করতে ফতে কেল্লা!
কত দর কষা, রঙ্গতামাশা
দলাদলি, গলাগলি।
জিততে আসনে, বচনে-ভাষণে
প্রতিশ্রুতির বুলি।
কেউ পরে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি,
তেরঙা উত্তরীয়।
কারো পরিধানে খাদির বস্ত্র,
গান্ধী টুপিই প্রিয়।
বৈরাগী ভেক ধরে কত নেতা
গেরুয়া বেশ-বসনে।
নেক্সট জেনের মন কেড়ে কেউ
সাজে হালের ফ্যাশনে।
আমজনতার ভোটের ইশতেহার কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল: ২৮ মার্চ, ২০১৯।
মিডিয়ার ফ্ল্যাশলাইট ঝলকে
মিঠে হাসি ঝোলে ঠোঁটে।
মেপে কথা কয়, ছেড়ে কনভয়
অলিগলি পথে হাঁটে।
কেউ ছাড়ে দল পাল্টিয়ে ভোল,
বিকোয় ভোটের হাটে।
দলবদলের ট্র্যাপিজের খেল
ভোট-সার্কাস মাঠে!
কত জোট গড়ে, কত জোট ভাঙে
কত ঘেঁটে ‘ঘ’ কে জানে?
আসন রফার দরাদরি চলে
বারো ভূতের গাজনে।
নেতারা গাজন সন্ন্যেসী হয়ে
ঘুরে ফেরে দোরে দোরে,
বাবা ভোটনাথের চরণ সেবায়
ভিখ মাগে করজোড়ে।
‘'তাসের দেশে’র রাজার মেজাজে
মোদি রোড শো-এ নামে।
ইসকাপনের রানিবিবি হয়ে
দিদির প্রচার জমে।
রানি বিলি করে দু’টাকার চাল,
রাজা “জনধন যোজনা”।
দস্যুভোগ্য ভিখারি স্বদেশ
এ অপমান বোঝো না?
কৃষক দরদি সেজেছে সবাই —
মমতা, নরেন মোদি।
স্কিমের নামের আহা কী বাহার!
“সাথী”, “সম্মান নিধি”!
মাথাপিছু টাকা হিসেব কষলে
মাথা হেঁট লজ্জায়।
হায়, পোড়া দেশ অন্নদাতাকে
মুষ্টিভিক্ষা দেয়!
গরিব কিষাণ চায় সম্মান,
চায় না ভিক্ষা নিতে।
আবাদভূমির অধিকার চায়,
হকের লড়াই জিতে।
অনুদান দেবে? বেইমান যত
লুঠেরাদের দল —
গরিবের শ্রম চুরি করে গড়ো
ধনীর রাজমহল।
টাকা লুঠ করে চম্পট দেয়
মাল্য, নীরব, মেহুল —
লুণ্ঠিত দেশে নিরন্ন পেটে
নোটবন্দির শূল!
আম্বানিদের প্রাসাদের ইট
গরিবের খুন মাখা।
মজুর, চাষি, গরিবের ধন
লুটে জমে কালো টাকা।
সারদা কাণ্ড, নারদার ঘুষ,
রাফাল কেলেঙ্কারি —
বুঝে ওঠা দায় দুর্নীতি ভারে
কার পাল্লাটা ভারী?
মোদি, মমতা একই আধুলির
এই পিঠ, ওই পিঠ।
কোরাপশনের কম্পিটিশনে
দু’জনে সুপার হিট!
দিদি ভুলে গেছে “মা-মাটি-মানুষ’’,
‘পরিবর্তন’ বাণী।
মোদি ভুলিয়েছে “আচ্ছে দিনে”র
স্বপ্নের হাতছানি।
মোদির “উজালা যোজনা”য় শুধু
গ্যাস চুল্লিই মেলে।
গ্যাসের অর্থ যুগিয়ে কে দেবে
গরিবের চুলো জ্বেলে?
“আয়ুষ্মান্ বিমা” প্রকল্পে
কাদের পকেটে ভরে?
বেসরকারি কোম্পানিদের
লাভের অঙ্ক বাড়ে।
শিক্ষা-স্বাস্থ্য সব পরিষেবা
কর্পোরেটের হাতে।
গরিব ক্রমশ হচ্ছে নিঃস্ব,
ধনপতি মৌতাতে।
কৃষকের বীজ সারে উঠে যায়
সরকারি ভর্তুকি।
ফসলের দাম কমছে, চাষের
খরচ ঊর্ধ্বমুখী।
কিষাণের ঘরে ভাতে পড়ে টান,
দেউলিয়া হয় ঋণে।
গরিব চাষির শেষ সম্বল
লুটে নেয় মহাজনে।
অভুক্ত চাষি বিষ খেয়ে মরে,
পরছে গলায় দড়ি।
অন্নদাতারা হা-অন্ন হয়ে
পথের ধূলায় ভিখারি।
তালা ঝোলে কত কারখানা-কলে,
দুঃসহ দুর্দিন।
লক আউট ছাঁটাই যাঁতায় পিষে
শ্রমিক কর্মহীন।
তাজা রক্তের দাগ লেগে আছে
হাতুড়ি, লাঙল ফালে।
“স্বচ্ছ ভারত” গড়তে কে পারে
এই দাগ মুছে ফেলে?
কত “কন্যাশ্রী” হয় ধর্ষিতা
“বেটি বাঁচাও”-এর দেশে!
নারীর ইজ্জত, অধিকার কাড়ে
বর্বর পৌরুষে।
কত ফুল ঝরে কামদুনি গাঁয়ে,
উন্নাও, কাঠুয়ায় —
নিপীড়িতা নারী পায় না বিচার
পার্ক স্ট্রিটে, কাটোয়ায়।
ধর্মের রাজনীতির ফিকিরে
সাপলুডো খেলা চলে।
দিদির ‘লৌহবাসর’ ছিদ্রে
মোদির ‘সর্প’ গলে!
মোদি দংশায় ‘কাল সাপ’ হয়ে,
দিদি ‘ওঝা’ হয়ে ঝাড়ে!
ধর্ম বিভেদ বিষের জ্বালায়
রাম-রহিমেরা মরে।
দিদি আওড়ায় ‘রবি-নজরুল’
‘সহিষ্ণুতা’র বাণী!
রানিগঞ্জ থেকে বসিরহাটে —
ধর্মের হানাহানি।
‘যবন’’, ‘কাফের’ উঠছে জিগির,
দাঙ্গা বাঁধছে দেশে।
রামনবমী, ঈদ-ইফতার
ভোটের অঙ্ক কষে।
রাজনীতি দুর্বৃত্তকরণে
পটু রাজা-রানি সব।
মোদির বাহিনী জঙ্গি ‘সঙ্ঘী’,
মমতার ‘ভৈরব’।
‘হার্মাদ’’ থেকে ‘ভৈরব’ হল,
‘ভৈরব’ থেকে ‘হনু’,
মৌলবীদের ‘শরিয়ত’ থাকে,
টিকিধারীদের ‘মনু’।
বেকসুর হয় অসীমানন্দ,
অমিত শা, কোদনানি।
শাস্তি পায় না অনুব্রতেরা,
আরাবুলের বাহিনী।
মঠ-মন্দিরে দান-খয়রাত,
ইমামেরা পান ভাতা।
কৃষকের ঘরে চড়ে না তো হাঁড়ি,
উপোসী অন্নদাতা।
কত ‘রহিমে’রা ভুখা পেটে কাঁদে,
মৌলালি, মালদায় —
কত অভুক্ত ‘রাম’ পথে পড়ে
শিয়ালদা, শিলদায়।
কত ‘সীতা’ পোড়ে অগ্নিশিখায়
বাংলায়, গুজরাটে।
শোকের দাহনে জ্বলে ‘কারবালা’
গোধরা, বসিরহাটে।
কত ‘আলি’ খুন হয়ে যায় দেশে
বিষমাখা তলোয়ারে।
নয়া ‘রামরাজে’ কত ‘শম্বুক’
ভেমুলার মতো মরে।
ক্ষুধার্ত দেশ, রুজিরুটি নেই,
ঘরে ঘরে হাহাকার।
সীমান্তে রণবাদ্য বাজায়
ভারতের হিটলার।
বনবাসীদের উচ্ছেদ করে
“সবুজ শিকারী” সেনা।
জল-জঙ্গল-জমিন লুটতে
কর্পোরেটের হানা।
হায়রে ভারত, আমার স্বদেশ
এ কোন সহিষ্ণুতায়?
সন্তানহারা হয়েও কাঁদো না
জননী যন্ত্রণায়!
তোমার মাটির বুক চিরে লুঠ
তোমার ঐশ্বর্য।
তবুও তোমার বুক ফাটে না,
অসহ্য এই ধৈর্য!
নব ‘পাণ্ডব’ খান্ডবদাহে
পোড়ায় অরণ্যানী।
তবুও ধরণী থাকো নির্বাক,
হায়, আদিম জননী!
জল্লাদের এই বধ্যভূমি
আমার স্বদেশ নয়।
বুকের যাতনা আখরে গাঁথতে
কলমের নিব ক্ষয়।
বছর বছর ভোট আসে যায়
নির্দয় প্রহসনে।
মুমূর্ষু দেশ ধুঁকতে ধুঁকতে
দাঁড়ায় ভোট-লাইনে!
পাগল ‘মেহের আলি’’ তবুও
কন্ঠ ছেড়ে চেঁচায় —
রঙবদলের ‘গণতন্ত্রে’র
সব কুছ ঝুট হ্যায়!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নববর্ষের পুণ্য লগনে
বাঙালিরা আজ ‘বকরওয়াল’ –
আসিফা বেটির খুনে রাঙা হল
ফেসবুকে দেখো সব দেওয়াল।
রক্তক্ষরণ ফেসবুকে নয়,
রক্ত ঝরছে বুকের গভীরে –
হারিয়ে ফেলছি মানুষের মুখ
জল্লাদ আর শ্বাপদের ভিড়ে।
হারিয়ে ফেলছি ‘বাংলার মুখ’
অদ্ভুত এক আঁধার গ্রাসে!
বিপন্ন এই স্বদেশ, সময়
মৌলবাদের হুংকার ত্রাসে।
ধর্মদ্বেষের বিষের জ্বালায়
জ্বলছে বাংলা, জ্বলছে সমাজ।
ঘাতকেরা হাতে ত্রিশূল শানায়,
বাংলার বুকে হিংসার রাজ!
সম্প্রীতি সুরে বলি সোচ্চারে,
বাংলা তো নয় ‘হিন্দুস্তান’।
‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’
দূর হঠো গৈরিক শয়তান!
আসিফা কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনাকাল - ১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৫ এপ্রিল, ২০১৮।
‘রাম’ নয়, গাই রাবণের গাথা –
মধুসূদনের অমর কাব্য।
শহিদ হুদূড় দুর্গা স্মরণে
দাঁশাইয়ের গানে আমরা কাঁদব।
দেবালয়ে যদি নির্দয়ে দলে
ছোটো তাজা এক ফুল-কুঁড়ি প্রাণ,
রক্তে ভাসানো সেই পূজাবেদি
পদাঘাতে ভেঙে করি খানখান।
চেতনা মননে কাজী নজরুল
অন্তর জুড়ে রবীন্দ্রনাথ।
লালনের সুরে বেঁধে একতারা
আনব নতুন দিনের প্রভাত।
বৈশাখী প্রাতে শুধু এ কামনা,
জ্বালো মানবিক চেতনার আলো।
আমাদের ঘরে ফুলের মতন
আসিফা বেটিরা থাকে যেন ভালো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শেষ পউষের শীতের বাতাস
বনের পাতা ঝরায়।
রক্তে রাঙা কন্যার লাশ
কাঁটাতারের বেড়ায়।
কোথায় কন্যার ঘর ঠিকানা?
কোন্ গায়ে বাস কেউ জানে না।
পেটের খিদে বাঁধ মানে না
দেশের সীমা ঘেরায়।
রক্তে রাঙা কন্যার লাশ
কাঁটাতারের বেড়ায়।
ফেলানির কথা কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। প্রতি বছর অন্তত শতাধিক গরিব প্রান্তিক মানুষ ভারত-বাংলাদেশ
সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের গুলিতে নির্বিচারে মারা যায়। গত দশ বছরে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রায় সাড়ে ন’শো বাংলাদেশীকে খুন করেছে।
এছাড়া চলে নির্যাতন, ধর্ষণ ও দমন-পীড়ন।
১৬ জানুয়ারি ২০১১-এ আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে প্রকাশ, কোচবিহার দিনহাটা সীমান্তের লাগোয়া গ্রাম খিতাবেরকুঠি এলাকায় “মই-পুল” দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হতে গিয়ে
বিএসএফের গুলিতে নিহত ১৫ বছরের এক কিশোরীর রক্তাক্ত মৃতদেহ তারের বেড়ায় ঝুলতে থাকে। পরে বাংলাদেশের খবরের কাগজ থেকে জানতে পারি ওই কিশোরীর নাম -‘ফেলানি’।
অভাবের তাড়নায় বাবা নুরুল ইসলাম নূরের সাথে ফেলানি এসেছিল সীমান্ত পেরিয়ে। ৭ জানুয়ারি ২০১১-র কাকভোরে বাবার সাথেই বেড়া টপকে দেশে ফিরছিল। কিন্তু
কাঁটাতারে কাপড় আটকে গেলে ভয়ে কেঁদে ফেলে অবুঝ ফেলানি। আর যায় কোথায়, ছুটে আসে বীরপুঙ্গব সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। গর্জে ওঠে বন্দুক। বাবা মই থেকে ছিটকে পড়েন
বাংলাদেশ প্রান্তে। আর মেয়ের ডানবুকে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও সে আধ ঘণ্টা ‘পানি, পানি’ বলে আর্তনাদ করেছিল। তারপর একসময় ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। অসহায়
জন্মদাতার চোখের সামনেই ঝুলে থাকে সন্তানের রক্তাক্ত মৃতদেহ।
পঞ্চদশী ফেলানির বিয়ের কথা ছিল। বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। দিনক্ষণও চূড়ান্ত ছিল। ঘরে ফেরার দিন দুয়েক বাদেই হয়তো মেয়ের হাতে মেহেন্দির রং লাগত। মেহেন্দি নয়,
ডান বুকে বিঁধে যাওয়া বুলেটের ক্ষতের রক্তে রাঙানো ফেলানির নিথর নিষ্প্রাণ দেহ পাঁচ ঘন্টা ধরে ঝুলে ছিল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায়। কুড়িগ্রাম জেলার অনন্তপুর সীমান্ত
থেকে ফিরে বাংলাদেশের সাংবাদিক তারেক মোরতাজা লিখেছিলেন,“লাশ হয়ে ঝুলে থাকল কিশোরী ফেলানি। হবু স্বামীর জন্য ভালোবাসার কথা লিখেছিল সে। সুঁই-সুতোয় সেটা ফুটিয়ে
তোলার চেষ্টাও চলছিল। সাথে একটি ফুল। হাতরুমালে নকশা করে নিজের মনে লুকিয়ে রাখা আবেগটা জানাতে চেয়েছে ফেলানি। সেটি আর হলো না। জানুয়ারির সাত তারিখে ঘন
কুয়াশায় কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে গেল স্বপ্ন।
গানটি গ্রামবাংলার প্রচলিত বিয়ের গান আমের তলায় ঝামুর ঝুমুর-এর সুরে রচিত।
রাজপাটের হয় ভাগাভাগি,
খিদের রাজ্যে কে হয় ভাগী?
জানতো না মেয়ে, হায় অভাগী
বুলেটে প্রাণ হারায়।
রক্তে রাঙা কন্যার লাশ
কাঁটাতারের বেড়ায়।
ফিরবে না মেয়ে মায়ের কোলে।
মায়ের বুকে আগুন জ্বলে।
ভাতের থালা চোখের জলে
ভাসে অঝোর ধারায়।
রক্তে রাঙা কন্যার লাশ
কাঁটাতারের বেড়ায়।
পদ্মানদীর অশ্রু এসে
ভাগীরতীর ঢেউয়ে মেশে।
দুই বাংলার এক আকাশে
শোকের আঁধার ছড়ায়।
রক্তে রাঙা কন্যার লাশ
কাঁটাতারের বেড়ায়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেশজুড়ে চলে রাজসন্ত্রাস,
রাজ্যের ত্রাসে রানি –
যাদের রক্তে সিক্ত জমি
তাদের খুন কি পানি?
কীসের লড়াই? কাদের লড়াই?
কারা আজ যুযুধান?
সবার পেটেই জ্বলছে আগুন,
সবার ভাতের টান!
বুঝবো কবে জাতের নয়,
লড়াইটা তো ভাতের ----
ঘুচবে কবে ধর্মমোহের
আঁধার কালো রাতের?
বুঝবো কবে ভোটের নয়,
নোটের জন্য খাটি।
দীন দুনিয়ার দিনরাত্তির
ঘামে ভেজা নোনা মাটি।
লালকমল-নীলকমল কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
রচনাকাল: ১০ এপ্রিল, ২০১৮।
বিদ্বেষ বিষে মারছে যারা,
বেঘোরেতে যারা মরে,
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
তাদের সবারই ঘরে।
সাদাকালো শতরঞ্জি খোপে
খেলছে শতেক রঙে।
ভুলছে সবাই হরেক টোপে,
উঠছে কে ঘুম ভেঙে?
ওরে লালকমল-নীলকমল
তোরা কে জাগিস, ভাই?
খোক্কসেরা ভাঙছে দুয়ার,
চল্ লড়াইয়ে যাই!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
‘স্বাধীনতা’ মানে যুদ্ধের হুংকার?
‘স্বাধীনতা’ মানে সীমান্তে কাঁটাতার?
‘স্বাধীনতা’ মানে পাক-ভারতের লড়াই?
‘স্বাধীনতা’ মানে সমরাস্ত্রের বড়াই?
‘স্বাধীনতা’ মানে কার্গিল-বালাকোট?
‘স্বাধীনতা’ মানে খাদির জহর কোট?
‘স্বাধীনতা’ মানে মাথায় গান্ধি টুপি?
‘স্বাধীনতা’ মানে সেন্সেক্স, জিডিপি?
‘স্বাধীনতা’ মানে আঙুলে ভোটের ফোঁটা?
‘স্বাধীনতা’ মানে একটা বোতাম – ‘নোটা’?
‘স্বাধীনতা’ মানে দিল্লির গোলবাড়ি?
‘স্বাধীনতা’ মানে রাজার নজরদারি?
‘স্বাধীনতা’ মানে তেরঙা বস্ত্রখণ্ড?
‘স্বাধীনতা’ মানে পোখরান বোমা কাণ্ড?
‘স্বাধীনতা’ মানে গুলি-বারুদের ভাণ্ডার?
‘স্বাধীনতা’ মানে ইজ্জৎ শুধু ঝাণ্ডার?
‘স্বাধীনতা’ মানে মাতোয়ারা লাল কেল্লা?
‘স্বাধীনতা’ মানে রঙবেরঙের জেল্লা?
‘স্বাধীনতা’ মানে কুচকাওয়াজের রাজপথ?
‘স্বাধীনতা’ মানে আকাশে পতাকা পতপত?
স্বাধীনতা মানে কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনা ১৫ অগাস্ট, ২০১৯।
‘স্বাধীনতা’ মানে ‘জনগণমন’ গীতি?
‘স্বাধীনতা’ মানে শাসকের স্তবস্তুতি?
‘স্বাধীনতা’ মানে ‘দেশপ্রেমে’র স্লোগান?
‘স্বাধীনতা’ মানে রাষ্ট্রের জয়গান?
‘স্বাধীনতা’ মানে কর্পোরেটের রাজ?
‘স্বাধীনতা’ মানে অবাধ লুঠতরাজ?
‘স্বাধীনতা’ মানে ফৌজি দখলদারি?
‘স্বাধীনতা’ মানে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী?
‘স্বাধীনতা’ মানে জংলা সবুজ উর্দি?
‘স্বাধীনতা’ মানে কাশ্মীরে শব গোর দিই?
‘স্বাধীনতা’ মানে জঙ্গলে ‘গ্রিন হান্ট’?
‘স্বাধীনতা’ মানে ‘সাদা শার্ট, খাকি প্যান্ট’?
‘স্বাধীনতা’ মানে নিজ ভূমে পরবাস?
‘স্বাধীনতা’ মানে বিনা দোষে কারাবাস?
‘স্বাধীনতা’ মানে ‘হিন্দুস্তান-হিন্দি’?
‘স্বাধীনতা’ মানে ত্রিশূল ফলায় শান দিই?
‘স্বাধীনতা’ মানে রাম নাম, গো-ভক্তি?
‘স্বাধীনতা’ মানে ধর্মের পেশীশক্তি?
‘স্বাধীনতা’ মানে জাতিসত্তার নাশ?
‘স্বাধীনতা’ মানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস?
‘স্বাধীনতা’ মানে বিদ্বেষ, হানাহানি?
‘স্বাধীনতা’ মানে অগণিত প্রাণহানি?
‘স্বাধীনতা’ মানে বিস্মৃত ইতিহাস?
‘স্বাধীনতা’ মানে গণতন্ত্রের লাশ?
তোমাদের এই ঝুটা ‘স্বাধীনতা’ চাই না।
শাসকের সুরে স্বদেশের গান গাই না।
পরাধীন দেশে শৃঙ্খলে বাঁধা আছি,
বুকের পাঁজরে আগুন জ্বালিয়ে বাঁচি।
দিনবদলের স্বপ্নের দিন গুনি –
অনাগত সেই ‘আজাদি’র ডাক শুনি॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বন্দিশালার শেকলে পড়েছে টান।
ভাঙবে কপাট, ছুঁড়বে বাঁধন
নজরুলেরই গান।
ছত্তিশগড় থেকে লালগড়
বন্দিমুক্তি দাবিতে মুখর।
হাতে হাত রেখে প্রতিরোধ গড়,
মরা গাঙে তোল্ বান।
জল - জঙ্গল - চাষের জমি।
সরকার করে পুঁজির গোলামি,
গরিবের যায় জান।
বন্দিশালার শেকলে পড়েছে টান।
চিদাস্বরম - রমন - বুদ্ধ
দেশজুড়ে জারি করেছে যুদ্ধ।
প্রতিবাদী স্বর কারায় রুদ্ধ,
শাসকের ফরমান।
রাজার বানানো আইনের ফাঁদে
ছত্রধরেরা বিনা অপরাধে
বন্দি আছেন লোহার গারদে,
বিনায়ক সাজা পান।
বন্দিশালার শেকলে পড়েছে টান।
বন্দিমুক্তির গান কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)। রচনা ৪ জানুয়ারি ২০১১, চন্দননপর।
রাষ্ট্রের পোষা খুনী জল্লাদ
ফৌজি সেনা, পুলিশ-হার্মাদ।
খুন হয় লালমোহন, আজাদ
কত শত তাজা প্রাণ।
যৌথবাহিনীর আদিম উল্লাস,
খুন-ধর্ষণ-লুঠ-সন্ত্রাস।
গ্রামে গ্রামে ভূখা মানুষের লাশ---
গ্রীন হান্ট অভিযান।
বন্দিশালার শেকলে পড়েছে টান।
বিচারের বাণী কাঁদে না নিভৃতে।
আইন-কানুন ঘাতকের হাতে।
শোষণের বেড়ি ভাঙ প্রতিঘাতে,
শাসকেরা সাবধান।
জাগো বিদ্রোহে মজুর-কিষাণ,
হাতে তুলে নাও মুক্তি নিশান।
উঠুক তুফান, বাজাও বিষাণ---
যুদ্ধের আহ্বান।
বন্দিশালার শেকলে পড়েছে টান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জল-জমি-জঙ্গল চেটেপুটে খাও।
গরিবের সম্বল লুটেপুটে নাও।
প্রতিরোধ গড়লেই জেলে পুরে দাও।
‘মাওবাদী’ বলে আগে তকমা লাগাও।
বলো, এরা ‘মাও’, ওরা ‘মাও’!
সব বিরোধীরা ‘মাও’!
পুলিশে-ক্যাডারে রাখো কড়া নজরে।
প্রতিবাদ রুখে দাও ট্রিগারের জোরে॥
চৌত্রিশ বছরের ‘লাল সন্ত্রাস’
ঘুচে গেছে বলে যারা ফেলেছিল শ্বাস,
ঝুটা ‘পরিবর্তনে’ বড়ই হতাশ।
‘বিষাক্ত ফুলে’ দেখে ভরে গেছে ‘ঘাস’।
ভৈরবী তাণ্ডব চলে ঘরে ঘরে।
শাসকের নাশকতা ট্রিগারের জোরে॥
স্বৈরাচারীর মুখে ‘শান্তির বাণী’!
‘আইনের শাসনে’র নামে খুনোখুনি।
লাল-নীল জামা গায়ে আসে রাজা-রানি,
বদলায় না তো চেনা রাজ-কাহিনী।
মিডিয়া মেলায় গলা রাষ্ট্রের সুরে।
গণবিক্ষোভ রোধ ট্রিগারের জোরে॥
কণ্ঠ স্তব্ধ করো ট্রিগারের জোরে কবি রাজেশ দত্ত (জন্ম ৫.২.১৯৭১)।
এই গানটির রচনাকাল-২৪ নভেম্বর ২০১১।
কর্পোরেটের সেবা করে সরকার।
লোভী পুঁজিপতি গড়ে লাভের পাহাড়।
মেকী ‘উন্নয়নে’র মিথ্যা প্রচার।
বঞ্চিত-শোষিতের বৃথা হাহাকার।
‘মা-মাটি-মানুষ’ আজও ভুখা পেটে মরে।
অধিকার কেড়ে নাও ট্রিগারের জোরে॥
ভোটের ‘প্রতিশ্রুতি’ বেনোজলে ভাসে।
‘মানবিক’ মুখোশটা পড়ে গেছে খসে।
দানবের হুংকার মসনদে বসে।
বিষাক্ত কালসাপ ফণা তুলে ফোঁসে।
শ্মশাণের শান্তিতে শকুনেরা ওড়ে।
ভয়ের শাসন জারি ট্রিগারের জোরে॥
মুখোশটা বদলায়, মুখগুলো নয়।
কাল ‘হার্মাদ’, আজ ‘ভৈরব’ হয়।
মৃত গণতন্ত্রের লাশ পড়ে রয়।
তবু করজোড়ে বলো ‘শাসকের জয়’!
রাজবন্দীরা মাথা কোটে কারাগারে।
কণ্ঠ স্তব্ধ করো ট্রিগারের জোরে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নোনাডাঙার চোখের জল
নয়তো শুধুই নোনা।
চোখের জলেও আগুন জ্বলে,
তোমরা তো জানো না।
দিদি, তোমরা তো জানো না॥
যতই মারো, হামলা করো
গায়ের জোরে বসত কাড়ো।
নির্বিচারে জেলে পোরো
ভিটেমাটি ছাড়বো না।
চোখের জলেও আগুন জ্বলে,
তোমরা তো জানো না॥
চোখের জলেও আগুন জ্বলে কথা ও সুর - রাজেশ দত্ত। প্রচলিত বাউল গানের আঙ্গিকে
সুরারোপিত গান। রচনা - ১০.৪.২০১২, চন্দননগর। গানটি সাউণ্ডক্লাউডে শুনুন . . .।
মুখোশ তোমার গেছে খসে।
ভয় দেখিয়ে রাখবে বশে?
জ্বলবে আগুন গণরোষে,
সইবো না আর বঞ্চনা।
চোখের জলেও আগুন জ্বলে,
তোমরা তো জানো না॥
তোমার পুলিশ, তোমার আইন।
পুঁজির সেবাই পার্টি লাইন।
মা--মাটি--মানুষের সাথে
উন্নয়নের ছলনা।
চোখের জলেও আগুন জ্বলে,
তোমরা তো জানো না॥
হার্মাদেরা গেছে ঘুচে,
ভৈরবেরাও যাবে মুছে।
সিঙ্গুরের ডাক গিয়েছে
নোনাডাঙায় শোনা।
নন্দীগ্রামের ডাক গিয়েছে
নোনাডাঙায় শোনা।
লালগড়ের ডাক গিয়েছে
নোনাডাঙায় শোনা।
চোখের জলেও আগুন জ্বলে
তোমরা তো জানো না॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কুডানকুলাম, কুডানকুলাম!
আমাদের জীবনের মিছিলের নাম।
কুডানকুলাম, কুডানকুলাম!
রক্তআখরে লেখা শহীদের নাম।
এ লড়াই আনবিক দানবের সাথে।
আয়, জোট বেঁধে লড়ি হাত রেখে হাতে।
মেহনতী মানুষের গণসংগ্রাম -- কুডানকুলাম॥
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আর না ডরাই।
জল-জমি বাঁচানোর চলবে লড়াই।
বাঁচাবো সাগরতীরে সবুজ এই গ্রাম -- কুডানকুলাম॥
আওয়াজ ওঠাও গ্রাম -শহর -পল্লী
দেবো না, দেবো না হতে পরমাণু চুল্লী।
প্রাণে প্রাণে জাগে এণ্টনি, সহায়াম -- কুডানকুলাম॥
কুডানকুলাম, কুডানকুলাম! কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত।
শিল্পী - বন্দনা মণ্ডল। কুডানকুলামের পরমাণু বিদ্যুৎ বিরোধী গণআন্দোলনের গান। রচনা - ১৪.৯.২০১২, চন্দননগর।
ভিডিওটি সৌজন্যে Kaushik Mukherjee YouTube Channel.
শহীদ এণ্টনিসামী ও সহায়াম-এর অমর স্মৃতির উদ্দেশে . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চিরদিন রাজা, তোমার শাসন রইবে না।
যতই মারো, হামলা করো
মুখ বুজে আর কেউ সইবে না।
গ্রামবাংলা শ্মশান করে
ভাবছো গদি রাখবে ধরে।
ছাড়লে দাঁড়ি ডুববে তরী,
পালের হাওয়া আর বইবে না।
রাজার পোষা সেপাই-সেনা,
গাঁ-গেরামে দিচ্ছে হানা।
অত্যাচারে মানুষ মরে,
বিষাক্ত সাপ তুলছে ফণা।
রক্তে ভাসে কংসাবতী।
ফুলকুমারী, সরস্বতী
গুলির মুখে দাঁড়িয়ে রুখে
লালগড়ে প্রাণ দেয় নয় জনা।
রাজা, তোমার দিন ফুরালো,
সাধের আসন টলোমলো।
ঘাতক রাজা, মিলবে সাজা
পাপের বোঝা কেউ বইবে না।
নেতাইগ্রামের গণহত্যার প্রতিবাদে
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। নেতাইগ্রামের গণহত্যার প্রতিবাদে রচিত গান। প্রচলিত
লালনগীতি “চিরদিন কাঁচা বাঁশের খাঁচা”র সুরে। রচনা - ৮.১.২০১১, চন্দননগর।
বিদ্বজ্জনের শাস্তি মিছিল।
'আমরা-ওরা' ভেদের পাঁচিল।
ভোটের কৌঁদল, এদল ওদল---
রঙের বদল দিন বদলায় না।
জাগো মজুর, জাগো কিষাণ,
মরা গাঙে এসেছে বান।
ক্রোধের আগুন জ্বলুক দ্বিগুন
মুছে ফেলে শোক-যাতনা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাকড়সাতে জাল বিছাল,
লুটতে স্বদেশ বর্গি এল।
মাথার ভেতর ঘুরঘুর ঘুরঘুর
ঘুণপোকার বাস রে।
খোকা তুই ঘুমোস না
পাড়াটা জুরোস না।
তোর ঘুমের ঘোরে বর্গি এসে
লুটবে সোনার দেশটা।
ওরে খোকা জাসনে ভুলে
মাছ ধরতে নদীর কুলে,
চিল শকুনে জাল পেতেছে
পড়বি ধরা শেষটা।
খোকন খোকন করে মায়,
খোকন গেছে বিলিতি নায়।
চড়িয়েছে গায়ে পরবেশটা।
তোর ঘুমের ঘোরে বর্গি এসে
লুটবে সোনার দেশটা।
খোকা তুই ঘুমোস না কবি রাজেশ দত্ত।
কণ্ঠশিল্পী - সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘পাল্টা স্রোতের গান’ অডিও সিডির এই গানটির ভিডিও সৌজন্যে Rajesh Datta
YouTube Channel.
খোকা যাবে আমেরিকা,
সঙ্গে যাবে কে?
ঘরে আছে গ্যাট কাকা
কোমর বেঁধেছে!
ওরে খোকা জাসনে ভুলে
মাছ ধরতে নদীর কূলে,
চিল শকুনে জ্বাল পেতেছে
পড়বি ধরা শেষটা।
খোকা গেছে কোনখানে?
যেথা বিল সাহেব জাল বোনে।
সেথায় খোকন কী করে?
মুখ ঢেকে যায় ডলারে।
ওরে খোকা যাস নে ভুলে
সাত সাগরের খালে বিলে,
ডলার পাউণ্ড যতই কামাস
মিটবে না এ তেষ্টা।
তোর ঘুমের ঘোরে বর্গি এসে
লুটবে সোনার দেশটা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজারহাটে ভাঙলো রাজার
উন্নয়নের হাঁড়ি।
সিঙ্গুরেতে উল্টে গোলো
টাটার ন্যানো গাড়ি।
কৃষকের ভিটেমাটি
কেড়েকুড়ে মেগাসিটি।
গরিব মেরে, গায়ের জোরে
জমির দখলদারি।
শিল্পায়নের ফাটলো ফানুস,
তবুও রাজার নেই কোনও হুঁশ।
ক্যাডার-পুলিশ মারছে মানুষ,
ভয়ের শাসন জারি।
পুঁজির ভজন, পুঁজির পূজন
মজুর শোষণ, মালিক তোষণ।
ভোটের সময় মিথ্যে ভাষণ,
মুখোশ রংবাহারি।
লাল বানরের চলছে হামলা,
জ্বালায় পোড়ায় সোনার বাংলা।
লেজের আগুন এবার সামলা,
পুড়লো যে মুখ তোরই।
রাজারহাটের গান কবি রাজেশ দত্ত।
রচনা - ১৬.১.২০১0, চন্দননগর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুন্দরবন থেকে হরিপুর --
দূর নয়, দূর নয়, নয় দূর।
প্রতিবাদে প্রতিরোধে এক সুর --
ধ্বংসের কারবারি হও দূর॥
চাইছি না পরমাণু বিদ্যুৎ,
মৃত্যুর বিভীষিকা যমদূত।
মরণের সাথে আজ লড়াইয়ে
মেহনতি মানুষেরা প্রস্তুত॥
চেরনোবিলের দুর্ঘটনা
বিশ বছরের বিষ যাতনা।
পারবে কি সেই স্মৃতি ভোলাতে
ঝুটা নিরাপত্তার রটনা?
নয়া বর্গির বেশে সরকার
লুটে নিয়ে জমি করে ছারখার।
ছাড়ব না ভিটেমাটি কিছুতেই,
বুঝে নেব আমাদের অধিকার॥
হরিপুরের পরমাণু চুল্লি বিরোধী গান কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। রচনাকাল: ২০.১১.২০০৬। এই রাজ্যে
২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় পূর্ব মেদিনীপুরের হরিপুরে কৃষিজমি ও বাস্তুভূমি থেকে
গ্রামবাসীদের উৎখাত করে, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে পরমাণু চুল্লি স্থাপনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে
সংগঠিত গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের সংহতিতে এই গণসংগীতটি রচিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে একুশ শতকের গোড়াতে
সুন্দরবন অঞ্চলে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর চেষ্টা হলে স্থানীয় গ্রামবাসী-সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রবল প্রতিরোধে ২০০২ সালে
বাম-সরকার পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল।
গরিব মজুর-চাষি জাগছে,
আকাশে আগুন রঙ লাগছে।
চাষজমি বাঁচানোর লড়াইয়ে
সংগ্রামী সিঙ্গুর ডাকছে॥
সিঙ্গুর থেকে আজ হরিপুর --
দূর নয়, দূর নয়, নয় দূর।
প্রতিবাদে প্রতিরোধে এক সুর --
ধ্বংসের কারবারি হও দূর॥
জোট বেঁধে প্রতিরোধ গড়বই।
পরমাণু বিদ্যুৎ রুখবই।
মিছিলেতে ঢেউ তুলে সাগরের
দু’হাজার ফিরিয়ে আনবই॥
আমাদের বুকে আছে প্রত্যয়।
পার করে যত সংকট ভয়
মানবিক শক্তির কাছে আজ
হবে আণবিক দানবের পরাজয়॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভোটের বাদ্যি উঠলো বেজে,
পড়ে গেল কাড়াকাড়ি।
কে বা কোন্ দল করবে বদল,
কার দল হবে ভারী?
লাল পাহাড়িয়া দেশে জঙ্গলে
ওরা ঘরছাড়া ফেরারী।
রাতের আঁধারে সূর্যসেনারা
আজও অতন্দ্র প্রহরী।
ভোটের খেলায় বুঝে ওঠা দায়
কার কোন্ অভিসন্ধি?
গৌর-প্রসূন-ছত্রধরেরা
আজও কারাগারে বন্দি।
রাজা আসে যায়, রং বদলায়
লাল.নীল রকমারি।
লাল পাহাড়িয়া দেশে জঙ্গলে
তাই আজও ওরা ফেরারী।
'বিপ্লবী'রা প্রজাপতি হয়ে
ঘাসফুলে দেখো উড়ছে।
সিধু-শশধর-উমাকান্তরা
সীসের বুলেটে মরছে।
ডান-বাম মিলেমিশে একাকার,
ভোটের দখলদারি।
পরিবর্তনের গান কবি রাজেশ দত্ত। রচনা - ১৮.৩.২০১১, চন্দননগর।।
লাল পাহাড়িয়া দেশে জঙ্গলে
তাই আজও ওরা ফেরারী।
শশধূর ভাসে জলছবি হয়ে
মায়ের চোখের জলে।
বাপের চিতার আগুনে পুড়ছে
লালমোহনের ছেলে।
ছিতামণির চোখের আঁধারে
কে হবে আলোর দিশারী?
লাল পাহাড়িয়া দেশে জঙ্গলে
তাই আজও ওরা ফেরারী।
বেছে নাও সাথী কোন্ পথে যাবে?
আমাদের কোন্ পক্ষ?
লালবাড়ি? নাকি শহীদের পথে
লালগড় হবে লক্ষ্য?
ভুখা জনতার সংগ্রামী ডাকে
এসো বিদ্রোহ করি।
লাল পাহাড়িয়া দেশে জঙ্গলে
তাই আজও ওরা ফেরারী।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রক্ত যত ঝরবে, তত শক্ত হবে মাটি।
থাক না যতই উতোর চড়াই,
একসাথে পথ হাঁটি।
হামলা তোদের আর কি ডরাই?
সামলা এবার পাল্টা লড়াই।
জোট বেঁধে আজ লড়ব সবাই,
গড়ব কঠিন ঘাঁটি॥
বুলেটে-ব্যালটে, দশ-লাখি স্যুটে রাজার অট্টহাসি।
আসে ডট-কম্, ঘরে ভাত কম, ভুখা মরে দেশবাসী।
শান্তির বাণী শোনায় রাজা,
গরিবের খুনে দু’হাত ভেজা।
লুটছে স্বদেশ, মরছে দলিত, মরছে মজুর-চাষি॥
ধনীর ভাঁড়ার উপচে পড়ছে, ঘরে ঘরে ভুখমারি –
শিক্ষা-স্বাস্থ্য রাজার হুকুমে হচ্ছে বেসরকারি।
মরলে গরিব কী-ই বা ক্ষতি?
আসুক বাজার অর্থনীতি।
কেড়ে নেয় জল জমি জঙ্গল, আদিবাসী ঘরবাড়ি॥
প্রতিরোধের গান ২ কথা ও সুর - রাজেশ দত্ত। আজ থেকে প্রায় ১৭বছর আগে ২০০১সালের
নভেম্বরে এই গণসংগীতটি প্রথম রচিত হয়। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ‘কলকাতা বইমেলা’য় র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন
প্রকাশনা কর্তৃক প্রকাশিত ‘মানবতার গান’ শীর্ষক রাজেশ দত্তের গানের সংকলন গ্রন্থটিতে গানটি প্রথম মুদ্রিত হয়েছিল।
সেই পুরোনো গানটিকেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত করা হল। রচনা - ৩.৩.২০১৮।
পাকস্থলীর জ্বালায় জ্বললে রাজা বলে ‘পাক-চর’।
গরিবের দাবি দাবিয়ে রাখে রাজার খুনে লশকর।
বেয়নেট যত হোক না ধারালো,
ক্রোধের আগুন ভয়কে হারালো –
মৃত্যুকে আজ তুচ্ছ করে আসুক একটা ঝড়॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বলছে সবাই, শুনছে কে?
শোনার জন্যে কান চাই।
কান নিয়ে গেছে চিলে,
সব কাজ রেখে ফেলে
চিলের পেছনে দেখো ছুটছে সবাই।
গুজব -- গুজব -- গুজবের দুনিয়াটা আজব!
গুজব -- শুধু গুজব -- দেখো, গুজবের দুনিয়াটা আজব!
চাইছে সবাই, দেখছে কে?
দেখার জন্যে চোখ চাই।
চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপনে
কে দেবে আলো অন্ধজনে?
অন্ধের মতো তাই হাতড়ে বেড়াই।
গুজব -- তাই গুজব -- দেখো, গুজবের দুনিয়াটা আজব!
এপাড়ার রুবি, কি ওপাড়ার বাবলি
রোজ মেখে ল্যাক্মে, কি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি,
পারল না রঙ-রূপে জেল্লাটা ফেরাতে,
‘কালো’ বলে ‘বদনাম’ ঘোচাতে পাড়াতে।
‘কৃষ্ণকলি’ কেউ বলেনি তো কখনো,
ফেয়ারনেস ক্রিম মেখে মিছে দেখে স্বপ্ন।
তাই গুজব -- শুধু গুজব -- দেখো গুজবের দুনিয়াটা আজব!
গুজব কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। রচনা - ২৫,১২.২০০২। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত
সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘পাল্টা স্রোতের গান’ অডিও সিডির এই গানটির ভিডিও সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
ছোট্টো খোকা বলে, এ বি সি --
চাই তার কোকাকোলা, চাই পেপ্সি।
ছোট্টো খুকি বলে, ওয়ান টু থ্রি --
তিনটে লাক্স সাবানে একটা ফ্রি।
খোকা বলে, “আই অ্যাম এ কমপ্ল্যান বয়!”
তেরোয় পা দিয়ে খুকি ‘সুস্মিতা’ হয়।
খোকার বাবা খোঁজেন মাস্টার প্ল্যান,
চান রেমন্ডস্ স্যুটিং-এ হতে ‘কমপ্লিট ম্যান’।
খুকির মা করেন ‘অ্যামওয়ে’-র ফিরি,
হতে চান মলাটের ‘সানন্দা’ নারী।
তাই গুজব -- শুধু গুজব -- দেখো, গুজবের দুনিয়াটা আজব!
চলছে সবাই, পায়ে হাঁটছে কে?
হাঁটার জন্যে পথ চাই।
গোলকধাঁধার পথে
ঘুরে মরি দিনে-রাতে।
চোরাপথের বাঁকে পথ যে হারাই।
বিজ্ঞাপনেই আজ শুধু পথ হাঁটা,
পায়ে দিয়ে শ্রীলেদার্স কিংবা বাটা।
ভালোবাসা মানে আজ মারুতিতে লিফট্,
ভ্যালেন্টাইনস্ ডে-তে আর্চির গিফট্।
এশিয়ান স্কাই শপ দেয় হাতছানি --
হাত বাড়ালেই নামিদামি কোম্পানি।
মাল্টিন্যাশনাল অন্নপূর্ণা!
ঈশ্বরী পাটনী করে প্রার্থনা,
মন ভরে না তো মা, ভাতে আর দুধে,
আমার সন্তান যেন থাকে ফাস্ট ফুড-এ।
তাই গুজব -- শুধু গুজব -- দেখো, গুজবের দুনিয়াটা আজব!
ভালোবাসা খুঁজি, ভালোবাসছে কে?
বাসার জন্যে মন চাই।
হাটের সওদা মন
খোঁজে ‘সুখী গৃহকোণ’।
মনের মানুষ বলো কোথায় যে পাই?
তাই গুজব -- আজ গুজব -- গুজবের দুনিয়াটা আজব!
গুজব -- শুধু গুজব -- দেখো, গুজবের দুনিয়াটা আজব!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যদি পাথরকেই পুজো করতে চাও
তবে শালগ্রাম শিলা নয়,
পাহাড়কে প্রণতি জানাও।
তুলসীতলায় সাঁঝেরবেলায়
পিদিম তো জ্বালাও,
বিপন্ন অরণ্য ডাকে ওই –
সবুজের সৃজনে সাজাও।
যদি পাথরকেই পুজো করতে চাও,
তবে শালগ্রাম শিলা নয়,
পাহাড়কে প্রণতি জানাও।
যদি গঙ্গাজলেই ধুয়ে মুছে যায় সব পাপ!
গঙ্গা দূষণ দেখে হয় না কেন মনে অনুতাপ?
ধন-সুখ কামনায় লক্ষ্মীঘটে ধানছড়া দাও,
লুঠ হয়ে যায় ধান-জমি, প্রাণ দিয়ে মাটিকে বাঁচাও।
মাটির পুতুল গড়ে দেবতার আসনে রাখো!
মাটির মানুষ মরে অনাহারে, কেন চুপ করে থাকো?
মানুষকে ভালোবেসে মনের জানালা খুলে দাও
মানবধর্ম সার, মানুষকে বুকে টেনে নাও।
যদি পাথরকেই পুজো করতে চাও,
তবে শালগ্রাম শিলা নয়,
পাহাড়কে প্রণতি জানাও।
যদি পাথরকেই পুজো করতে চাও কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত। প্রখ্যাত কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত-
র একটি অণু-কবিতার প্রেরণায় এই গানটি রচিত। রচনা - ৫.৮.২০০৯। গানটির ভিডিও সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পৃথিবী পড়েছে নুয়ে অস্ত্রের ভারে।
রক্ত ঝরেছে কত হাজার বছরে।
তাই তো হ না ফেরা অসময়ে ঘরে।
ললিত শান্তি বাণী শোনাতে কে পারে?
ওই শোন যুদ্ধের বাজে সাইরেন ...
আমাকে ডেকো না তুমি, বনলতা সেন।
* * * * *
চারপাশে আজো গাঢ় বিদিশার নিশা।
দরিয়ার নাবিকেরা খুঁজে ফেরে দিশা।
পশ্চিম থেকে নাও ঘুরিয়েছি পুবে।
স্বপ্ন দেখছি, রাত ভোর হবে কবে?
পার হতে হবে এই সাগর সফেন ---
আমাকে ডেকো না তুমি, বনলতা সেন।
* * * * *
গাঙচিল নিয়ে আসে রোদের খবর।
পাখি নেই নীড়ে, নদী ভাঙছে পাথর।
রক্তে ঘামেতে লেখা হবে ইতিহাস।
মুখোমুখি বসিবার নেই অবকাশ।
অধিকার বুঝে নিতে বাকি লেনদেন ---
আমাকে ডেকো না তুমি, বনলতা সেন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঘর ছেড়ে এসো বন্ধু আমার,
চলো হয়ে যাই 'বহিরাগত'।
সুন্দর এক পৃথিবী খুঁজব
মায়ের কোমল আঁচলের মতো।
যেখানে বাতাস করবে না ভারী
ক্ষুধার্ত কোনও শিশুর কান্না।
সুখে ঘর করে যৌথ খামারে
আবাদ ভূমির পুত্রকন্যা।
শোষণের জ্বালা ইতিহাস হবে,
হিংসার হবে অভিধানে ঠাঁই।
এমন একটা দুনিয়া গড়ার
স্বপ্ন দেখব আমরা সবাই।
গাজা স্ট্রীপে রত ঝরলে
গাজোলে উঠবে কান্নার রোল।
বসরায় শিশু মৃত্যু ঘটলে
বসিরহাটে খালি মায়ের কোল।
বাগদাদে সেনা বুটের দাপটে
বাগদার গ্রামে ঘুম নেই চোখে।
কাবুলেতে বোমা বিস্ফোরণে
বিষাদের মেঘে কলকাতা ঢাকে।
আবু ঘ্রাইবের বেয়নেট ফলা
আমার বুকের পাঁজরে বিঁধবে।
সোমালিয়ার অভুক্ত শিশু
তোমার ঘরের উঠোনে কাঁদবে।
প্যালেস্তাইনে-ইরাকৃ-আফগানে
আকাশে উড়লে জঙ্গি বিমান,
রাঢ় বাংলার মাটিতে উঠবে
গণসংখামে দৃপ্ত স্লোগান!
মনের লাগে না পাসপোর্ট-ভিসা,
মুছে দাও সব দেশের সীমানা।
ভেঙে ফেলো যত কাঁটাতারের বেড়া---
এসো খুঁজি মানবতার ঠিকানা।
যে যেখানে আছো নেমে এসো পথে,
তোমার লড়াই আমার লড়াই।
হাতে হাত রেখে মিলে একসাথে
পার হয়ে যাব উতোর চড়াই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গোরস্থানের পাশেই জ্বলবে
শ্মশানের চিতাকাঠ --
থাকবে পড়ে শূন্য বসত,
নির্জন হাট-বাট।
বধ্যভূমিতে গড়বে বলো
কোন সে 'রামরাজ্য'?
ঘৃণার আগুনে রাম-রহিমের
সব লাশই হয় দাহ্য!
দরদাম পাল্টায়।
পাল্টায় কত সম্পর্ক।
রাজনীতি পাল্টায়।
দুর্নীতি পাল্টায়।
পাল্টায় মুখ আর মুখোশের রঙ।
দিন পাল্টিয়ে রাত।
পাল্টায় জাতপাত।
পাল্টায় ধর্মের অং বং চং।
শুধু সমাজটা পাল্টায় লা।
তাই জীবনটা পাল্টায় না।
প্রসাধনী পাল্টায়।
বিকিকিনি পাল্টায়।
পাল্টায় শেয়ারের দর।
সকালটা পাল্টায়।
বিকালটা পাল্টায়।
পাল্টায় রাতের শহর।
দিনক্ষণ পাল্টায়।
মাস সন পাল্টায়।
পাল্টায় ক্যালেণ্ডার।
রাজা আসে রাজা যায়।
লাল-নীল জামা গায়।
পাল্টায় রঙ ঝাণ্ডার।
শুধু সমাজটা পাল্টায় না।
তাই জীবনটা পাল্টায় না।
শতকটা পাল্টায়।
চটকও তো পাল্টায়।
পাল্টায় মিলেনিয়েম।
কত গান পাল্টায়।
স্লোগানও পাল্টায়।
পাল্টায় পার্টির নাম।
শুধু সমাজটা পাল্টায় না।
তাই জীবনটা পাল্টায় না।
এসো পাল্টাতে পাল্টাতে শিখি,
আর শিখতে শিখতে পাল্টাই।
পাল্টা স্রোতে ভেসে গিয়ে
দিনবদলের গান গাই।