প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মন রে… …
সব মানুষের এক মোহনা
সব মানুষের এক মোহনা
দেশ নয়, গোটা বিশ্ব ---
জাতিভেদ ভুলে, সকলে আমরা
কবে পাবো এ দৃশ্য?
জাতিভেদ ভুলে, সকলে আমরা
কবে পাবো এ দৃশ্য?
সব মানুষের এক মোহনা
(মন রে) সব মানুষের এক মোহনা
দেশ নয়, গোটা বিশ্ব ---
জাতিভেদ ভুলে, সকলে আমরা
কবে পাবো এ দৃশ্য?
জাতিভেদ ভুলে, সকলে আমরা
কবে পাবো এ দৃশ্য?
সকলেই যদি এগিয়ে আসি
এটাই চিরন্তন
এই তো চিরন্তন
(মন আমার) এই তো চিরন্তন
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন॥
সব মানুষের এক মোহনা
কবি প্রবীর সর্দার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। গীতিরূপান্তর সুর ও কণ্ঠ - রাজেশ দত্ত। এই গানটির ভিডিও সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন॥
সব মানুষের এক মোহনা…..
মানুষ পারে না কিছু নেই আজ,
সবই তো করেছে জয় ----
সবই তো করেছে জয়।
মানুষ পারে না কিছু নেই আজ,
সবই তো করেছে জয়।
একটু আমিত্বের কাছে
আমাদের পরাজয়।
কিছুটা লাগে ভয়
একটা জীবন দু'দিনের তরে
চলে যাবো একদিন ----
চলে যাবো একদিন।
একটা জীবন দু'দিনের তরে
চলে যাবো একদিন,
আগামীটা আরো সুন্দর হোক
পরিশোধ করে ঋণ।
(ওরে) কীসের চিন্তা?
(ওরে) কীসের চিন্তা, দ্বিধা দ্বন্দ্ব?
হোক সমুদ্র মন্থন॥
এই তো চিরন্তন
(মন আমার) এই তো চিরন্তন
কিছুটা লাগে ভয়।
(ওরে) তবু একদিন
(ওরে) তবু একদিন ভাঙবে প্রাচীর,
দৃঢ় হবে বন্ধন।।
এই তো চিরন্তন
(মন আমার) এই তো চিরন্তন
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন
(ওরে মন) এই তো চিরন্তন॥
সব মানুষের এক মোহনা…
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মেরুদন্ড ভাঙতে চাও
মারের ওপর মারতে চাও
রাজা, মারবে তুমি কত ?
ভয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে
ঢলযৌবন মিছিল নিয়ে
স্রোতের তোড়ে ভাসাবে তোমার
ক্ষমতায়নের ক্ষত...
মারছ রাজা আজকে তুমি
চাইছ প্রজা বনুক মমি
তোমার ত্রিশূল, তোমার লাঠি
ওদের শ্লোগান, ওদের মাটি
কবর ফুঁড়ে জাগবে সময়,
চুকিয়ে হিসেব যত !
পন্থা কিম্বা রাজনীতি নয়
মন্দির নয়, মসজিদও নয়
যতই তুমি ওড়াও ফানুস
দেশের দশা মাপছে মানুষ
চাইছ তুমি ছিঁড়তে পাতা ইতিহাসের পাল্লাতে
যদিও প্রহর নিষ্ঠ ভীষণ পৃষ্ঠা তোমার ওলটাতে।
রাজা, মারবে তুমি কত?
কবি প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। জেএনইউ ছাত্র সংসদের
সভাপতি ঐশী ও তার সংগ্রামী সাথীদের উপর হামলার প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এখানে কোনো ভৌতিক আসবাব নেই
অথচ চারিদিকে ছমছম করছে ঘন ছায়া
মানুষের মতো কিছু প্রাণি জিভ দিয়ে চেটে নিচ্ছে পাথরেরও রক্ত
গাছের পাতার রসও বাষ্প করে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে বক রাক্ষসের দল
এমুড়ো ওমুড়ো ভয়ের নিশান
বীভৎস মুখোশ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নামছে ভেদরক্ত
নদীতে ভেসে যাচ্ছে বমি ও লাশ
পোড়া কাঠ নিয়ে প্রেতচারীর লড়াই ফিকে করে দিচ্ছে ভারতীয় গ্রন্থের আলো
হারিয়ে যাওয়া আগুনের খোঁজে কারা সব চলেছে এ পথে সে পথে
তাঁদের বাঁধা হাত-পা থেকে রক্তের মতো ঝরছে বৃষ্টি
বৃষ্টির ছাট থেকে কেউ বাঁচাচ্ছে না মাথা
শব্দহীন চরাচরে ন্যূনতম হার্জেও ভেসে আসছে গর্জন
কোথাকার নামহীন সব মেয়েরা কোলে ফুলের কুঁড়ির মতো বাচ্চা নিয়ে
বুক চিতিয়ে আগলাচ্ছে মাটি মানুষ ও ভারতীয় ফসলের ঘ্রাণ
এই ফসল এবার ঘরে উঠবে বলে সকলেই
মেরামত করে নিচ্ছে ঘরদোর জলের ভাঙা কল
বাতাসে আর জলে এখন বড়ো বাঙময় ঢেউ
বিশ্বাসের বুকে গেঁথে দিচ্ছে কবিতার মতো বিশুদ্ধ বিশ্বাস
--- প্রেতলোক থেকে উঠে আসবেই কালো হয়ে যাওয়া সূর্যের ধবল আলো
এই অবসরে চলো ঐ মেয়েদের ঘিরে ঘিরে সবাই আগুন পুহিয়ে আসি
চলো আগুন পুহিয়ে আসি
কবি শিবশংকর পাল (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা।
শাহিনবাগ ও পার্কসার্কাস স্মরণে লেখা কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এন. আর. সি. আর এন. পি. আর.-এ ছাঁটাই করার ফন্দি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে রাখবে বেনাগরিক বন্দি।
নাগরিক তো এদেশেরই, আবার কাগজ কেন?
মজুর-কিষাণ রক্তে ঘামে দেশ গড়েছে জেনো।
দাস-মজুর আর হিন্দুরাষ্ট্র বানানোর এই ছক
গুঁড়িয়ে দেবেই,কাড়বে মানুষ সব অধিকার হক?
গুলির ঘায়ে ঘোষ নাকি এক, মারবে সবার জান
দেশপ্রেমিক বিদ্রোহীদের, নকশাল আরবান?
দেশপ্রেমটা শিখবো নাকি, শিখবো খুনীর কাছে?
বিশ্বাসঘাত ,দালাল কখনো না হই যেন পাছে!
ফ্যাসিস্ট দস্যু শুনে নাও তুমি কান খুলে আরবার
গ্রামের পর গ্রাম জেগেছে ঢেউয়ে ঢেউয়ে তলোয়ার।
এন.আর.সি. আর এন.পি.আর.- এ ছাঁটাই করার ফন্দি
কবি উত্তম মজুমদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের
দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৯.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চলতে চলতে পথ চিনে নেব ঠিক ---
হ্যাঁ, আমাদের যেতে হবে বহু দূর
নদী অরণ্য সাহারা সমুদ্দুর
পেরবো, কখনো হব না ভ্রষ্ট দিক I
রক্ত দিয়েই অর্জিত এই মাটি
দস্যুরা চায় সেই মাটি কেড়ে নিতে
আমাদের নেই কুণ্ঠা রক্ত দিতে ----
গ্রাম শহরে গড়বো শক্ত ঘাঁটি।
শাহীনবাগের উৎসার দিকে দিকে
দ্বিধা সংশয় সব হয়ে যায় ফিকে ----
ভরসা সাহস জোগায় বৃদ্ধা চাচি;
ভাবি না কী হবে, মৃত্যু কিম্বা বাঁচি
কলজের ওমে আগলাবো এই ভুমি।
চাই আজাদী সবাই, আমি ও তুমি॥
স্বদেশের জন্য
কবি উত্তম মজুমদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী
কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৭.১.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শাহীনবাগের এলো রে ডাক
রণপায়ে চল ধেয়ে
নূপুর কাঁকন রাখিস তুলে
যতেক সোনার মেয়ে।
তোদের দিদি খালা চাচি
রাত জাগে পাহারায়
কোমর ক'ষে ওড়না বাঁধে
আপদ-বালাই তাড়ায়।
করছে কারা গুণ্ডাগর্দি
কারা চালায় গুলি
জানে না কি রাষ্ট্র এসব?
পরুক চোখে ঠুলি।
আজন্মের এই ভিটের উপর
বুকের হাপর পড়ে
সেই মাটিখান ছিনবে নাকি !
চোক্ষে আগুন ঝরে।
শাহীনবাগের ডাক
কবি উত্তম মজুমদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA বিরোধী
কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৭.১.২০২০।
শোন্, তবে শোন্, গল্প বলি---
লড়াই ছিল জারি
সপ্ত কন্যা শহিদ হল
সেলাম নকশালবাড়ি।
অর্ধেক আকাশ, লড়াই লড়িস
পাল্টা হামলা যদি
তরাই জাগবে শাহীনবাগে
মুষ্টিতে আজাদি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা যারা এই শহরে
দিব্যি আছি বন্দী ঘরে
খাচ্ছি-দাচ্ছি শুনছি রবি
রক সঙ্গীত, দেখছি ছবি
ভাবছি নাকি একটি বার
খিদেয় নিল জীবন কার?
জবাবটা তাই দেব কী
ভুখা পেটে আত্মঘাতী
সেই যে মানুষটি ।
আবার দেখুন হাঁটছে মানুষ
আকাশটাকে উল্টে ধরে,
ঘামের স্রোতে পথ থেমে যায়
তিনশো কি মি-র চাপেই মরে ।
কোথায় গেল মনের বুলি
পি.এম.-কেয়ার্স টাকার ঝুলি?
চোখের তারায় জ্বলছে ক্রোধ
বলেই ফেলে কেউ অবোধ
---- খুন করেছে সরকার
বন্ধু, তবু বলেই যাবেন
------ রাজনীতিটা কেন আনেন
খুব কি এখন দরকার?
প্রশ্ন কত কবি উত্তম মজুমদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। করোনা কালে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশায়
প্রধান মন্ত্রীর, মন কি বাতে বাতেলা দেওয়া কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকা, পিএম কেয়ারস ফাণ্ডের টাকা
এঁদের বাটচাতে খরচ না করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৩.৪.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চিরুনি তল্লাশি করে, লাই-ডিটেক্টরের সামনে বসিয়ে,
কিংবা আমার পোশাক দেখে খুঁজে রাজা আমাকে,
করেছে আমাকে নগ্ন, চিনতে কে আমি?
আঁধারে খুঁজি আমার সোনার দেশ, সোনার ফসল
যেখানে ফাগুন নেচে বেড়ায় বারোটা মাস
ফুল ফোটে সব যে যার মত আপন মনের আনন্দে
এক জমিতে সবাই সবার, একই মালার বন্ধনে।
কবন্ধরাজ বিভেদ টানেন আমরা ওরার সীমান্তে
পাশে থাকার আশ্বাসে ও বিরোধিতার হুঙ্কারে
আসন ছড়ায় শক্ত শেকড় দেশপ্রেমের উল্লাসে
প্রশ্নে ক্ষিপ্ত বেরোয় দাঁত-নখ, রাজার নিদান --
'তারকাঁটা ঘেরা পায়ের তলার মাটিটাই তোর দেশ'
উন্নয়ের রথের চাকা ছোটে বিদ্যুৎ ঝলকানিতে
লাগায় ধাঁধা, তবু চোখে তোলা যায়না কাপড়!
মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ধুলো সহ্য করে দম যায় যায়
তবু প্রকাশ্যে নাকে না-চাপা কাপড়, কড়া নির্দেশ!
ক্ষুধার আগুনে চোখে ঝরে কত না নোনতা জল
কত না মাটির মায়ের পরনে ছিন্ন, নোংরা, মলিন বেশ!
রাজা পুজো করে সুবেশা ভারতমাতার ছবিকে --
'মাভৈ বলে তোল পতাকা সব দেশপ্রেমীরা'!
আমার দেশ কবি দিগন্ত রায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। NPR-NRC-CAA , ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মেকি
দেশপ্রেম বিরোধী কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৯.১.২০২০।
রাজার ঝুলিতে লুকানো হিংস্র ধর্মের সাপ যত
ভোটের পাশায় বের করে সব দরকারে কৌশলে
কে আর খোঁজে ধর্ম রক্তদানে, রক্ত গ্রহণে
কোথায় ধর্ম আলাদা অঙ্গদানে, প্রতিস্থাপনে
তৃষ্ণার জল কোথায় আলাদা ধর্ম প্রভেদে
বিপদে বাড়ানো হাতটায় কে বলো খোঁজে ধর্ম!
ক্ষমতার যত প্রভুরা দেয়াল তোলে মানুষে
আসনের রঙ পাল্টায় একই কথার ফানুসে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধর্মের আলখাল্লা ছড়ায় স্বপ্ন এলডোরাডোর
প্রাণহীন সেই দেশেতে ছোটাবে অশ্বমেধের ঘোড়া ;
প্রশ্নেরা সব বধ্যভূমিতে, ধর্ম পেরোয় লাশেদের ;
মিথ্যের ঝুড়ি বইতে বইতে "রাম" অবশেষে "মরা"!! . . .
দাঙ্গা
কবি দিগন্ত রায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৫.৩.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নায়িকা কবে ভর্তি হবেন
হাসপাতালে গিয়ে
কোন সাজেতে যাবেন তিনি
সঙ্গে কাকে নিয়ে
কোন স্যুইটে রাখা হবে
কবে হবে "বেবি"
ছাড়া তিনি পাবেন কবে
শনি, কিম্বা রবি
এসবই তো "টপ টেন" আর
"ব্রেকিং নিউজ" আজ
মিডিয়া গুলোর এমন সবই
খবর করা কাজ
এমন খবর করতো যদি
কার জোটেনি খাবার
কাজ হারিয়ে করছে কজন
বিনিদ্র রাত কাবার
কোন ছেলেটা পড়া ছেড়ে
সব্জি বেচে আজ
কোন মেয়েটা বাড়ি বাড়ি
খুঁজছে ঘুরে কাজ
ব্রেকিং নিউজ
কবি উজ্জ্বল দত্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। বিকে যাওয়া সংবাদ-মাধ্যম নিয়ে কবিতা।
ক্লাস রুমেতে ধূলোর প্রলেপ
ধ্বংসস্তূপ প্রায়
লোকাল ট্রেনের হকার ভায়ের
নেই কোনো আজ আয়
তবেকি আর খবর হতো
দেখতো লোকে ভুলে
আয় কমছে, ব্যায় বাড়ছে
পাক ধরছে চুলে
ব্রেকিং নিউজ আফগানিস্তান
রাজনৈতিক খুন
দেখেও ওরা বলতে নারাজ
দ্রব্যমূল্যে আগুন
ধন্য তুমি মিডিয়াবাবু
টিকি তোমার বাধা
তোমার আনুকূল্যে সবাই
কালোকে দেখি সাদা
বাড়ুক তোমার টিআরপি আর
সর্বজনপ্রিতা
“ব্রেকিং নিউজ” চলুক, যতই
জ্বলুক হাজার চিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“নগ্ন রাজা"
শব গুলো সব একসাথে হাসে,
বলে সবকিছু চাঙ্গা,
রাজা, দেখ তোর রামরাজত্বে
শববাহিনী গঙ্গা,
শেষ যতো আছে শ্মশান-কবর,
শেষ যে কাঠের বোঝা।
শুন্য হলো যে মায়ের আঁচল,
শেষ হলো শেষ সম্বল।
ক্লান্ত মোদের শরীর ও মন,
চোখে তলায় কালি।
দুয়ারে দুয়ারে যমদূত নাচে.
আমারা বাজাই থালি।
রাজা, দেখ তোর রামরাজত্বে
শববাহিনী গঙ্গা,
শ্মশানে-কবরে শবের স্তূপ,
ক্ষণিক স্বস্তি মাঁগে,
বুক ফাটা রবে প্রতি মুহূর্তে
বিধবার চুরি ভাঙে।
কবি পারুল খখর অনুবাদ কবি সন্দীপ মালাকার
|
শব-বাহিনী গঙ্গে গুজরাটের কবি "পারুল খখর" এর মূল কবিতাটির
বঙ্গানুবাদ - কবি সন্দীপ মালাকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কবি "পারুল খখর" এর
মূল গুজরাটি ভাষায় লেখা কবিতাটি তার ইংরেজী, হিন্দী এবং বাংলা ভাষায়
অনুবাদ পড়তে মিসনসাগরের করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের দেয়ালিকায়
যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
তাকিয়ে দেখরে ওরে উলঙ্গ
ওই লেলীহান শিখা,
রামরাজত্বে কিভাবে হয়
শবেদের শোভাযাত্রা?
রাজা তোর দিব্য পোষাক,
দিব্য তোমার জ্যোতি।
বাস্তব কথা জানে যে সবাই,
তুমি পুরোটাই মেকি।
সবাই মিলে জোরসে বল,
রাজ মোদের নাঙ্গা,
দেখ তোর রামরাজত্বে
শববাহিনী গঙ্গা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মারছো যাদের ইচ্ছেমতো
জলকামানে পায়ের তলায়
ওরাই তোমায় বাঁচিয়ে রাখে
আধপেটা খায়, ফসল ফলায়
তবুও ওরা দেশদ্রোহী
পিটিয়ে মারাই বোধহয় শ্রেয় ;
হল্লা রাজার রাজ্যে এবার
খিদে পেলে ধর্ম খেয়ো।
কবি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য
|
মারছো যাদের ইচ্ছেমতো
কবি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কৃষক আন্দোলনের প্রতিবাদী
কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ৯.১২.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাঃ ভারতবর্ষ, ধন্য তোমার নিত্য নতুন খেল৷
সময়ের সাথে বেলা আর কালবেলার
মধ্য আকাশে দূর নক্ষত্রলোকে, চাঁদের গায়ে
আজ রক্তের দাগ দেখা যায়।
ভ্রান্ত রাষ্ট্র, উদভ্রান্ত সমাজতন্ত্র মানুষকে বোকা বানায়
আমার রক্তে মাংসে গড়া জীবন
রাষ্ট্রের কাছে একটা বুলেটের সমান।
আমি তিন বেলা খেয়ে বেঁচে থাকার আবেদন করলে
হয়ে যাই রাষ্ট্রদ্রোহী।
মহাকাল তোমার প্রলয় বীণার তার ঝংকার তুলুক
সমস্ত আজাদির রক্তে ঢেউ উঠুক
দেখবে সেদিনই ভ্রান্ত রাষ্ট্রের পতন হবে।
হে ভারতবর্ষ, পরাধীন জঙ্গলমহলের
হাজার নিরন্ন জনতার ভুখা আওয়াজ ন্যায্য অধিকার
শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা হোক
বিরাজ করুক নিরন্ন জনতার মুখে অন্নের হাসি।
আহ্বান
কবি কল্যাণ মাহাত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত,
সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন
গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা
ভৌমিক, কলকাতা। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে বসে লেখা কবিতা।
(মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাঁটিয়ে ছিলে ছোট্ট থেকে
চিনিয়েছিলে পথ
বলতে আমায় বলেছিলে
স্বাধীন মতামত।
বলেছিলে বাদ দে তোদের
স্কুলেরই পড়া
তারচে বরং দ্যাখ না পড়ে
সৃজন সেনের ছড়া।
পুরুলিয়ার রুক্ষ জমি
পাথর জলবিহীন
বন্দী আমি ভাবছি তোমায়
কি কর সারাদিন।
আঁকছ কি আর তাঁদের ছবি
রক্ত এবং ঘামে
ফলায় যারা ধান জমিতে
বিকোয় অল্প দামে।
একেকটা দিন একেক বছর
চলছে লড়াই বাইরে
শুনছি আমি ভিজছে দু'চোখ
এ পথ ছাড়া নাইরে।
পুরুলিয়া ওমেন জেল থেকে কবি কনিকা (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ
থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা। পুরুলিয়া ওমেন জেলে বসে লেখা কবিতা।
( পরিবর্তিত পথ প্রদর্শক কাকুকে )
বলছে ওরা দেবই পুঁতে
বলো কি কি জানো
সত্যি করে বলোতো মেয়ে
খতম লাইন মানো?
আমি হলাম রাষ্ট্রদ্রোহী
রাত-বিরেতে পুলিশ এলো
আমার ছোট্ট পাড়ায়।
তোমার তুলি, অসংখ্য রঙ
চলছি নিয়ে আমি
বলেছিলে 'হারাস না রে
স্বপ্নটাকে দামী'।
কাদের হুকুম তামিল করে
আঁকছ এখন ফুল
বলবে জানি ফিরলে ঘরে
“সবই যে তোর ভুল।”
কাদের সেবা করছ এখন
জানো কি ঠিক মতো?
রইল ঘৃণা তোমার প্রতি
ভালবাসতাম যতো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(কৃষ্ণনগর জেল)
তাদের অবহেলা করাই যে তোমার ধর্ম।
জমি থেকে কৃষক উচ্ছেদ ;
শ্রমিককে পথে বসানো ;
বস্তিবাসী উচ্ছেদ ;
অ-স্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ;
কৃষি পণ্যের নিলাম ;
তোমার এই সমস্ত কেরামতির উর্দ্ধে আমি
তাইতো এত ভয় পাও আমাকে,
তোমার হিংস্র নখ দাঁত দিয়ে
আঁচড়ে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত কর আমায়---
তবুও তুমিই কুঁকড়ে থাক অহর্নিশ।
আমি তোমার কাছে দুর্বার
আমি তোমার কাছে কঠিন
আমি তোমার কাছে ভীষণ
আমি তোমার কাছে অভিনব
আমি তোমার চলার পথে বাধা।
তুমি আমায় এড়িয়ে যেতে পারনা,
টপকেও যেতে পার না আমাকে,
প্রতি মুহুর্তে অনিবার্য টক্কর---
তোমার সাথে আমার।
সংঘর্ষ কবি রীনা সরকার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী
সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা"
পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা। কৃষ্ণনগর জেলে বসে লেখা কবিতা।
কেননা,
তুমি যে শুধু তোমাকে নিয়েই ভাবো
তোমার বাড়ি
তোমার গাড়ি
উচ্চপদমর্যাদা
তোমার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স,
তোমার দৃষ্টি ব্যাপৃত হয় ক্ষুদ্র পরিসরে
চাও শুধু নিজেরই প্রতিচ্ছবি।
আর আমি!
আমি মানে আমরা
দেশের আপামর জনতা
তোমার বাড়ির প্রতিটি ইঁটের যাদের রক্ত,
তোমার গাড়িতে যাদের ঘাম,
তোমার ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্সে যাদের অস্থি চর্ম,
তোমার টাই আর জুতোতে যাদের চোখের জল
তোমার কোটটাতে যাদের ক্ষুধা পেটের ক্লান্তি
তোমার আর আমার সংঘর্ষ চিরন্তন...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল)
দৃষ্টিনিবন্ধ দু-নয়ন
মৃণালবাবুর সেরেস্তায়
তুমি সেই জন,
আমার মন,
প্রিয়তমা
দৃষ্টিনিবন্ধ দু-নয়ন
মৃণালবাবুর সেরেস্তা
ঝাপসা থেকে ঝাপসা
মুহূর্তে অবসাদ
তুমি নেই সেই জন
আমার মন,
প্রিয়তমা
শাল মহুলের বাতাসে
ভেসে বেড়ায় মাদলের তাল
দ্রিম্ দ্রিম্ দ্রিদাম্
প্রিয়তমা আমার তোমাকে, প্রতীক্ষা
কবি রাজা সরখেল (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত
"শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার
পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে বসে লেখা কবিতা।
বসন্তের জঙ্গলমহলে
আদিবাসী হুল
শ্রুতিনন্দন
তুমি আমি সেই জন
তোমার আমার মন
আমাদের জীবন
তাই,
তোমার প্রতীক্ষা
মৃণালবাবুর সেরেস্তা
আমার প্রতীক্ষা
বন্দীশালা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যখন চারপাশে হাজারো ছেলেমেয়ে রক্ত দেয় আর রক্তে ভাসে
যখন জেলখানা কমলে কামিনীর মতন গেলে আর উগরে দেয়
যখন সারাখন হাউ মাউ জিহ্বা লকলক পার্লামেন্টে
অজিত কুসুমের মাথা ও নাড়িভুঁড়ি দিনে ও রাস্তিরে মুড়িয়ে খায়
যখন আমাদের গায়ের চামড়ায় ক্রমেই মোটা হয়ে পড়েছে স্তর
যখন কিছুতেই হয়না কিছু আর সবই দেখিশুনি ঘুরি ফিরি
ঘুড়ির মতো অই ঠমকে লাটে ঠাটে একদা সুনসান ভো-কাটি
যখন এই দেশ এ-জামা ও-জামায় নানান কায়দায় আছড়ে মারে
যখন অন্ঝের দুঃশাসনে কাটে প্রভুর সার্কাস, আশার ছিয়াশি
যখন রক্তের ভাসানে একা জাগে মশাল হাতে ম্লান গান্ধারী
তখন কবিতার শব্দ কতদূর প্রলয়ে যেতে পারে সংহারে?
কতটা চামড়ার ভেতরে ঢুকে পড়ে কতটা তছনছ হয়ে পারে?
ধ্বনি ও ছন্দে চিত্তে সুষমায় অনড় এই স্থিতি আদৌ নড়ে কি?
বিবেকহীন এই মত্ত আমাদের কবিতা দিতে পারে কিভাবে ত্রাণ?
এখন শুধু জানি একটা ভাষা আছে যে ভাষা ছুটে আসে শিস্ তুলে
সটান ঢুকে পড়ে তখনি চামড়ায়, তখনি নাড়া পড়ে আগাগোড়া
তামাম জেলখানা অই সে ভাষাতেই ভাঙতে হবে আজ এছাড়া আর
অন্য ভাষা নেই অন্য কিছু নেই অন্য গান নেই অন্য কবিতা
অনন্য রাইফেল
কবি অমল চক্রবর্তী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত
"এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার দ্রোণের কথা মনে পড়ে রাস্তায় মিছিল দেখলেই
সে-তো আমাদেরই ছিল, আজ আর নেই কেন তবে
আমি তো জেলের বাইরে বন্দী আছি নিজের ভিতর
আর জেলে যারা ওই তাদেরই নীরব স্বর এদের মিছিলে
“মুক্তি চাই” বলে ওঠে, আমাকে চুরমার করে তুলেছ নিশান
প্রাগ্রসর রাজ্য থেকে কেন বন্দী, মুক্তি চাই তাই
অপমান থেকে আর তরুণ দ্রোণের মুখ হৃদপিণ্ড নাড়ে
অন্ধ-বিহারেও আছে একই দেশ, কেঁপে উঠি, আমার কিছু-না-করা হাত
উঠে যায় মুঠি তুলে তাদের সঙ্গেই যারা আগুনের পাশাপাশি আছে।
আমার কিছু-না-করা হাত তবু মুক্তি চায়
কবি নিশীথ ভড় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব
সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভীত সন্ত্রস্ত শিকল কামড়ে ধরেছে মাথা থেকে পা পর্যন্ত?
সে তো শুধুই শরীর, দৃষ্টির আপাতটুকু!
আর যা অদৃশ্য, ব্যবহারজীর্ণ চোখ যা দেখে না, মৃত্যুময়
ফুলে ফুলে গাঁথা মালার ভিতরে নম্র নাড়ির স্পন্দন,
যেতে যেতে যেতে যেতে পথের নিঃশব্দ বাঁক নেওয়া,
খুঁজে বেড়ানোর অমর্ত পিপাসা! এমনই হয়েছে, এরকমই হয়।
জানি, তবু মাঝে মধ্যে শ্বাস নিতে বড় কষ্ট হয়,
আমাকে আঁকড়ে ধরে
তোমার শিকলবন্দী হাত
তোমার শিকলবন্দী হাত
কবি অনিন্দ্য চাকী (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব
সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ছবিটা প্রায় আগের মতোই আছে,
শুধু মুখগুলো---
লাল মুখের জায়গায় বসেছে কালো মুখ।
সব এক!
সেই আগের মতোই দেশটা লুঠ হয়,
চলে পর্দার আড়ালে যড়যন্ত্র।
এখনও সূর্য সেন, ভগৎ সিং আর তাদের সাথীরা
গরাদের ছায়া গায়ে মেখে
তাকিয়ে থাকে মুক্ত আকাশের দিকে,
আর পাথরে, ঘাসে শহিদের পবিত্র রক্তে
স্বাধীনতার স্বপ্ন আঁকা হয়।
রাতের অশ্বারোহী দুরন্ত গতিতে ছুটে যায়
ভোরের বার্তা ছড়াতে ছড়াতে।
চেয়ে দেখি---
স্বাধীনতা, মুক্তি, স্তব্ধ হয়ে আজ
সাথীদের যন্ত্রণাবিদ্ধ লোহার গরাদের ওপারে।
তাই, এখনও হিংস্র শাসকের মুখোমুখি
শপথ নিতে হয়, স্বাধীনতা, মুক্তি
ছিনিয়ে আনার।
হিংস্র চোখে চোখ রেখে
গর্জে উঠতে হয় এখনও তাই---
সমস্ত রাজবন্দীর মুক্তি চাই।
মুক্তি চাই কবি সুশোভন মুখোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত
কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গোটা গোটা অক্ষরে
ছোট্ট মেয়েটা একটা চিঠি লিখেছিল---
‘বাবা, একটা সুন্দর ছবি এঁকে দেবে...’
তোমার বাবা একটা সুন্দর
ছবি আঁকতে চেয়েছিলেন বলেই
ওরা দুহাতে কড়া পড়িয়ে
ছিনিয়ে নিয়েছে তোমার কাছ থেকে
পিতার স্নেহ।
ওদের হিংস্র থাবা ছিন্নভিন্ন করেছিল সারা দেহ
যাতে আর ছবি আঁকা না-যায়
কিন্তু তোমার বাবার মন
আজও ছিন্নভিন্ন করতে পারেনি ওরা।
আজও একটা সুন্দর ছবি আঁকবার আশায়
নারকীয় যন্ত্রণা সহ্য করে এক বুক স্বপ্নের সাথে বসে আছে
একটা সুন্দর ছবি এঁকে
তোমাদের হাতে তিলে দেবার আশায়
বসে আছে।
একটা সুন্দর ছবি এঁকে দেবে...
কবি নিমাই ঘোষ (জন্মকাল অজ্ঞাত)।২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব
সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সোনালি বিকেলে
পিঞ্জরের গানে রক্তের স্বাদ?
বন্ধনে ফেরা পুরুষোত্তম, পলাতক সৈনিক!
হৃদয়ের সূর্য তৃষ্ণায়
ফাল্গুনের পলাশ-রাঙা সন্ধ্যারাগে
জেগে ওঠে জনতার মিছিল---
বসস্তের আগমনে
শোনা যায়---
পিঞ্জর-মুক্ত বিহঙ্গের
অরণ্য মুখরিত কাকলি।
শুরু হয় নেপ্য যুদ্ধ
স্বেচ্ছা নির্বাসনের দিনে।
মুক্ত বিহঙ্গ
কবি গৌরাঙ্গ মজুমদার (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি
সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জেলখানার ভিতর বাহির
বলে কিছু নেই।
গরাদের এপাশে-ওপাশে দাঁড়ালে
কে কয়েদি বোঝা যায় না।
তফাৎ শুধু
একটা ছোট আর একটা বিশাল।
স্বভাবতই একটাতে গুনতি
কয়েদি মানুষ
অন্যটিতে অগণন
অদৃশ্য শেকলপরা মানুষ
গরাদের এপারে-ওপারে
দাঁড়িয়ে তখন হাসতে থাকে
দুপারের কয়েদি।
দুজনের পিঠেই চাবুকের দাগ!
কে বন্দি?
শনাক্তকরণ অসম্ভব।
আমার স্বদেশ! আমার ভারতবর্ষ।
জেল কুঠুরি
কবি তমাল সাহা (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব
সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা মশাল জ্বালে ওরা ডাক পাঠায়
ফসলের বুক চিরে কাস্তে শানায়
ওরা জবাব চায়, চায় ঘামের দাম
তাই ব্যারিকেড ভেঙে দিয়ে পথ বানায়
সব ক্ষেত-খামারে হোক বাঁচার গান
তাতে সামিল হোক সব হাট-দোকান
এই সংঘাতে, আজ একসাথে
আছে দিন বদলের ডাক রাস্তাতেই
যারা অন্ন যোগায় তার ভুখা পেট
আজ ফসলের দাম দেবে কর্পোরেট
তাতে নাই চলুক তার দিন-যাপন
শাসক থাকবে চুপ, খুব পেয়েছে ভেট
সব ক্ষেত-খামারে হোক বাঁচার গান
দাবী ছিনিয়ে নিতে, আজ কবুল জান
এই সংঘাতে, আজ একসাথে
আছে দিন বদলের ডাক রাস্তাতেই
ওই ফসলের কোলে কত লাশের ভিড়
যে সুদিন আসার তা তো গরহাজির
ওরা দখল নিল আজ রাজধানীর
সব হিসাব-কিতাব হবে এই মাটির
সব ক্ষেত-খামারে হোক বাঁচার গান
আজ ঘুরিয়ে দিয়ে সব জলকামান
এই সংঘাতে, আজ একসাথে
আছে দিন বদলের ডাক রাস্তাতেই
সব ক্ষেত-খামারে হোক বাঁচার গান
আজ ঘুরিয়ে দিয়ে সব জলকামান
এই সংঘাতে, আজ একসাথে
আছে দিন বদলের ডাক রাস্তাতেই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পিণ্ডি গেছে চটকে যাদের ইণ্ডিয়াতে বাড়ী,
মাথার ভেতর করছে প্যারেড সাত শো মিলিটারি।
ইচ্ছে মতো ঘুরছে তারা আমার শরীর জুড়ে,
দেখছে আমি হিন্দু কি না পাকস্থলি খুড়ে।
ফরেন কাঙাল নরেন মোদী দুষ্টু এবং ব্রেণী,
গিলিয়ে দেবে ধর্ম টনিক, ভুলিয়ে দেবে শ্রেণী।
খেলেই তুমি জন্মভূমির নকল নেশার ঘোরে,
মোল্লা বিজয় করতে যাবে মোটর বাইকে চড়ে।
উড়বে ফ্ল্যাগের মাল্টি কালার, ঘুরবে অশোক চাকা,
নাচবে সবাই ত্রিশূল হাতে, ঢালবে মোদী টাকা।
ভয় দেখাবে, বুক বাজাবে, লিগাল লেঠেল পুষে,
আমরা তবু চুপটি ক’রে বুড়ো আঙুল চুষে।
তার চেয়ে চলো
তার চেয়ে চলো প্রোটেস্ট করি হিউমারে আর গানে,
বঞ্চিতরা সঞ্চিত মাল ছিনিয়ে নিতে জানে।
আমরা আজও বাংলা খেয়ে, আড্ডা জমাই রাতে,
কৃষ্ণ যীশু বুদ্ধ এবং মোহম্মদের সাথে।
পিণ্ডি গেছে চটকে যাদের ইণ্ডিয়াতে বাড়ী
কবি দীপাংশু আচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। দাঙ্গা-নির্ভর রাজনৈতিক ধর্মীয় মৌলবাদের বিষ ও মেকি জাতীয়তাবাদের
প্রভাবে জনগণের আসল সমস্যা থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায়
তোলা হয় ২১.১১.২০১৯ তারিখে। ভিডিওটি সৌজন্যে Hoichoi YouTube Channel. কবিতাটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ফুস মন্ত্র গণতন্ত্র
থাকুক লেখা বইতে
কোথায় এমন নিদান আছে
ছাড়তে হবে পৈতে?
খেয়ে গেলি নুন, আমরা বামুন
রাষ্ট্র আমার, বোঝ।
শহর থেকে নিতে গেলি
শবরগুলোর খোঁজ?
যার যেটা পাই আমরা হাতাই
ভাত দেই তো আমরা
আসবে যতো বহিরাগত
গুটিয়ে নেবো চামড়া।
রাজবন্দির মুক্তি
কবি অভিজিৎ সেনগুপ্ত (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি
সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
থাকনা বাবা, বোকা হাবা
শান্ত মোমের মিছিল
সময় খুঁজে বিপদ বুঝে
দরজায় দিস খিল
তা-না করে কী মন্তরে
শিকল ভাঙার ফন্দি
শপথ নিবি মুক্তি দিবি
সমস্ত রাজ বন্দী?
ভাঙছিলো ফ্রেম ফলস দেশপ্রেম
রাষ্ট্রীয় কু-যুক্তি
যুদ্ধের সাজ উঠলো আওয়াজ
রাজবন্দীর মুক্তি॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যেমন ইচ্ছা খাটিয়ে নেবো, যখন খুশি ছঁটাই।
উড়ছ ওড়ো পাখনা মেলে, আমার হাতে লাটাই।
মর্জি মতো কাটবো বেতন, রাখবো বোনাস বাকি।
এঁটোকাঁটার লোভ দেখিয়ে মন্ত্রী পুষে রাখি।
আইন আমার হাতের মুঠোয়, দেশটা আমার বাপের।
লাভের কড়ি গুনবো আমি, রাখবো তোমায় চাপে।
পুলিশ দিয়ে ধোলাই দেবো হল্লা যারা করে।
সাহস থাকলে রুখে দেখাও এতকিছুর পরে।
মালিকের ছড়া
কবি তপোব্রত ভাদুড়ি (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের
প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। কবিতাটি মিলনসাগরের “কৃষক আন্দোলনের
দেয়ালিকায়” ১০.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভেড়ার মাংস খাওয়া হবে, তাই নেকড়েরা আজ হন্যে।
খেটে খাওয়া বুকে গুলি ছুটে যায় উন্নয়নের জন্যে।
বন্দুক হাতে লেঠেল ঘুরছে, গুজরাট হবে বঙ্গ।
জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা, মধুর তোমার রঙ্গ।
যতই লাফাও, জেনে রেখো তবু, কপাল তোমার পোড়া।
একই বৃত্তের দুইটি কুসুমে আমরা বেঁধেছি তোড়া।
তোড়া
কবি তপোব্রত ভাদুড়ি (জন্মকাল অজ্ঞাত)
২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রামচন্দ্রের আপন দেশে
আইন কানুন সর্বনেশে
কেউ যদি যায় প্রেমে পড়ে
জাতটা যেন আঁকড়ে ধরে
করলে বিয়ে ভিন্ন জাতে
দুমদুমাদুম পড়বে পিঠে
হতেও পারে হাজতবাস
জিহাদ পুলিশ দিচ্ছে হাঁক।
ইচ্ছাপূরণ করতে গেলে
রামদুয়োরে আসতে হবে
করজোড়ে ডাকবে তারে
ইচ্ছে হলে সে তাকাবে।
এ তো গেল প্রেমের কথা
আরো আছে শুনবে কি তা?
রামচন্দ্রের আপন দেশে
পরিযায়ী কবি শ্যামপ্রিয়া দে (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০২০ সালের কৃষক
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। কবিতাটি মিলনসাগরের “কৃষক
আন্দোলনের দেয়ালিকায়” ১০.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল।
কেউ, যদি করে বিরোধিতা
রাজদ্রোহী জানবে সেটা
তৎক্ষনাত তার মুন্ডু ধরে
পুড়বে তারে কারাগারে
সকাল সন্ধে তাকে নিয়ে
টিভি চ্যানেলে চলবে নিন্দে।
আর কৃষক যদি জবাব চায়
ওয়াটার ক্যানন তার গায়ে।
যতই থাকুক শীত সেখানে
রাজা ভগবান! রেখো মনে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি জন্মেছি কৃষকের ভাঙ্গা কুটিরে
এক কৃষাণীর ছোট্ট উদরে দিয়ে মই
যন্ত্রনায় কাতর করেছি তারে
হালচাষ করেছি সেথায় বারে বারে।
বাবা টেনেছে হুক্কা আঙ্গিনায় বসে
পায়ের উপর তুলে পা সন্ন্যাসী বেশে
কোন এক প্রভাতি ক্ষণে ঘুরতে এলাম
ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সবুজের দেশে।
গোয়ালের মত সেঁতসেঁত মাটি
রুগ্ন কৃষকের ঘরে আবার শীতল পাটি,
উনুনে শূন্য হাড়ি, ছেঁড়া কাঁথায় গুটিয়ে গা
তাহাতেই কৃষকের সুখ,বলে কৃষাণী মা।
সকালের পান্তাভাতে শুকনা মরিচের ঝাল
তাহাতেই পাই মজা,কৃষকের গর্ব চিরকাল,
আমার শৈশব পাড়ি গরু-ছাগলের পালে
তপ্ত দুপুরে গোসল দিয়াছি তাদের বুচা মিঞার খালে।
গামছা মাথায় বাধিয়া মহিষের পিঠে
ভাবনায় ভেবেছি রাজকীয় মুকুটে,
ঘুরিয়াছি আঁকাবাঁকা মেঠো পথে
শমশের ভাবিয়া, কৃষকের লাঠি হাতে।
আমি জন্মেছি কৃষকের ভাঙ্গা কুটিরে
কবি তারেক হাসান (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। কবিতাটি
মিলনসাগরের “কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায়” ১০.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল। সেই পাতায় যেতে . . .।
আমরা 5 star hotel বা AC ঘরের কৃষক না।আমরা অন্নদাতা কৃষক।
অভুক্ত মাটির বুকে লাঙ্গলের ফলা
তিক্ত রসিকতায় চিরি, হয়ে উতলা,
ছড়াইয়া সোঁনা মুঠিভরা ফসলের মাঠে
পাকিলে সোঁনা কাটিব তাহা,ভরিবে শূন্য গোলা।
কৃষকের ঘরে জন্ম আমার, গর্ব চিরকাল
আমি কৃষক অন্ন যোগাই ধনীদের তরে,
তারা হাসলেই আমি হাসি খুশিতে খুঁজি,
সুখ আমার কৃষকের ঘরে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ফসল ফলায় কৃষক সমাজ
মেহনতটা জোরকদম
খামার ভরা ফসল তুলে
ফুর্তিতে মন হরকদম।
বিকতে গিয়ে দামটা শুনে
মাথায় পড়ে বাজ
নিজের জিনিস ওদের দামেই
ছাড়তে হবে আজ।
কারখানার ঐ জিনিস গুলো
দাম বেঁধে দেয় ওরাই
মালিক যেমন দামটি ফেলে
কিনতে বাধ্য সবাই।
চাষীর বেলায় দামটা কেন
ঠিক করে দেয় ওরা?
জমির মালিক নামেই কেবল
আসল মালিক তারা।
সবকিছুরই বাড়ছেরে দর
চাষির ফসল জলের দাম
চাষের খরচ না পেয়ে তাই
শীতেও চাষীর মাথায় ঘাম।
আসল মালিক তারা
কবি কিংকর অধিকারী (জন্ম ২০.২.১৯৭১)। রচনা ৬.১২.২০২০। ২০২০ সালের কৃষক
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। কবিতাটি মিলনসাগরের “কৃষক আন্দোলনের
দেয়ালিকায়” ৯.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল। সেই পাতায় যেতে . . .।
সস্তা দরে লুটছে ওরা
চাষীর দুঃখ বুঝবে না
শুকনো হাড়ের মজ্জাটাকেও
নিংড়ে নিতে ছাড়বে না।
সুযোগ দিতে শাসক বাবু
চোখটি বুজে নিদ্রাতে
শকুন দৃষ্টি লুটের রাজা
লুটছে ফসল দুই হাতে।
এই আমাদের দেশ রে ভাই
সকল দেশের সেরা!
প্রতিবাদটা করলে বলে
দেশদ্রোহী এরা।
যতই দেখাক চোখ রাঙানি
যতই দেখাক ভয়
বাঁচতে গেলে লড়তে হবে
আসবে তবেই জয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ক্ষমতার শীর্ষে থেকে সব কিছু তুচ্ছ মনে হয়
সামান্য মেঘ দেখে এত কেন মনে জাগে ভয়!
যত না বাস্তবিক,তারও বেশি কল্প দিয়ে গড়া
ভয় তাই আসে দ্রুত, ভরে দেয় শুন্যতার ঘড়া।
ক্ষমতা তোমার হাতে, তাই বুঝি পুড়ে যায় বাড়ি?
জল নয়,পোড়ে যার ঘর, আগুন চোখে ঝরে তারই।
এ কোন শিল্প খেলা,এ কোন রক্তে আঁকা ছবি!
"তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়" লিখে চুপ, প্রিয় জাত কবি?
শিরদাঁড়া বিকিয়ে যায় অলিখিত অনেক নিয়মে
ভরসার মুখ কই? রজ্জুতে সর্প দেখি ভ্রমে!
বিস্তীর্ণ মাঠ দেখো, ঘাসে তার ছোপ ছোপ দাগ
বারুদে দাঁড়িয়ে আছো, বুকে তার চাপা আছে রাগ।
ফেটে যাবে মুহূর্তে, বাকি শুধু আগুন ছোঁয়া
স্বপ্নে ঘুন ধরে,উড়ে যায়, যেমন উড়ে যায় ধোঁয়া।
থম মেরে বসে আছে ওই দেখো আগামী সময়
যদি একে বাঁচা বল, সত্যি বলছি-
তিন সত্যি, এ বাঁচা মানুষের নয়!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিজেকে তুমি ভূমিপুত্র ভাবো,
পায়ের তলায় দাঁড়াবার আছে ভূমি?
ভূমিকা ছেড়ে সত্যটাকে মানো,
আরশিতে দেখো কত অসহায় তুমি!
কেতাদুরস্ত অত্যাধুনিক খোলসে
গুটিয়ে রয়েছো ছাপোষা বাঙালি তুমি,
শিকড়কে ভুলে, অতীতকে অবহেলে,
নিজ ভূমি আজ তোমার বধ্যভূমি!
তবু আজ যদি ভূমিপুত্রই হবে,
‘আপোষ’ করতে ‘পাপোষ’ হয়োনা তুমি,
গর্জে উঠুক তোমার জেহাদি মন,
এ ভূমিই হোক তোমার রণভূমি।
সম্বল শুধু সূচাগ্র মেদিনী,
সেটাও চলে যাবে নাকি অবশেষে?
আমরা সবাই বন্দি প্রমিফিউস,
মানুষের পাশে, ভুমিপুত্রের বেশে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খাদ্যে ভেজাল, বাক্যে ভেজাল
ওষুধে ভেজাল দেশটায়,
মুখোশে অধরা ভেজাল মানুষ
চেনা দায় শত চেষ্টায়
আশাবাদী মন আবেগপ্রবণ
স্বপ্ন জড়ানো রেশটায়,
খুঁজে পায় যেন শয়নে-স্বপনে
সুদিনেরই হাসি শেষটায়।
দেশ ফিরবে নতুন ছন্দে
কুদিন বদলে সুদিন,
দুর্দশা আর কালিমা ঘোচাবে
কোন সে আলাদিন!!!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লক ডাউনে কাজ হারিয়ে
বাড়ির পথ ধরলো,
ঘুমের ঘোরে ট্রেনের চাকায়
অকালেতেই ঝরলো।
এই নিয়ে চাপান উতোর
দিল্লী এবং বঙ্গে,
বুদ্ধিজীবিরা ঘন্টাখানেক
সুমনের সঙ্গে।
ভাবছে বসে সব সেয়ানা
ভষ্মলোচন হায়না,
শ্রমিক-মজুর মরেই বাঁচে,
মারলে পাপ হয়না।
বিদ্রোহী কবি গেয়েছিলেন
কুলি মজুরের গান,
ভগবানের অট্টহাসিতে
কাঁপছিলো শয়তান।
ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন
কবি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৯.৫.২০২১।
আজো কবি গায়
. বদলের গান-
ভগবান আজ নির্বিকার,
প্রতিবাদী হলে?-বদলাটা নেবে
প্রসাদ-পাওয়া চাটুকার ।
শ্রীরামের পাশে কল্পতরু,
মা উমার পাশে গৌরী সেন,
-এসব দেখে ভগবানও আজ
নিদ্রা গিয়েছেন!!!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চাষ করবো গতর খুড়ে
ঝরিয়ে মাথার ঘাম।
তুমি কে হে হরিদাস
ঠিক করবে দাম?
চাষ করবো গতর খুড়ে
কবি রোজিনা (জন্মকাল অজ্ঞাত)
২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা।
কবিতাটি মিলনসাগরের “কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায়”
৯.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়েছিল। সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি কি শুধুই লিখে যাব
মাসকাবারি আবর-জাবরের স্তুপে
ওজন দরে অপঠিত প্রত্যাখ্যাত পংক্তিমালা?
আমি কি শুধুই লিখে যাব
ঝালমুড়ির ঠোঙায় দশ টাকার টক ঝালের সঙ্গে
ফাউ কিছু মসিকতা?
দেখে যাব অসুরদলনীর ছৌ মুখোশ মাড়িয়ে
রক্তবীজেদের অট্টহাসে ছড়িয়ে পড়া?
অগ্নিপরীক্ষায় মৃন্ময়ী সীতার মহাকাব্যিক গৌরব,
আর ডাঁহা ফেল চিন্ময়ীদের ময়না তদন্ত?
যাজ্ঞসেনীর রন্ধন-বিরতির দিন অসহায় সখা স্মরণ?
দেখে যাব রুদ্ধ অভিমানে দ্বিধান্বিত বসুধায়
হা-হা-হা শ্বাসবায়ুর স্তব্ধ হয়ে যাওয়া?
শুনে যাব মায়াবী ভবিষ্যতের রূপকথা
আর যাপন করে যাব
ভাঙাজর্জর অপ্রাপ্তির একঘেয়ে অভ্যাস?
শুধু লিখে যাব রবিবারের টাটকা প্রতিবাদ
সোমবারে বাসি হওয়া অব্দি; আর
হিংস্র বিকৃতির খবরে ক্লেদাক্ত কাগজের
ঠোঙা সেজে জিলিপি বিতরণের অপেক্ষায়?
অনর্থক কথকতা
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও বই বড়দের তোমায় পড়তে নেই;
গুপি বাঘার গান তো আছে, শুনতে পারে সেই।
পাকা পাকা ঐ সিনামা, তোমার জন্য নয়;
অ্যালিস আছে ওন্ডারল্যান্ডে তোমার অপেক্ষায়।
বড়দের ধারাবাহিক, কী দেখছ ধাৎ!
আইস এজ দেখবে না, ডাকছে ম্যামথ?
বড়দের সব কথা কি বুঝতে পারো সোনা?
তোমার জন্য স্টুয়ার্ট লিট্ল, তার সাথে খেলো না।
আজে বাজে বিজ্ঞাপণ চ্যানেল ঘোরাও
পরীক্ষা এল বলে, পড়তে বসবে যাও।
জগৎ ভরা কদর্যতার থেকে পেছন ফিরে,
সুকুমার রায় সুকুমারীকে রেখেছিল ঘিরে।
আত্মজাকে দুধেভাতে ডুবিয়ে আগলে বুকে
অন্তরীক্ষ অভিযানের স্বপ্ন বুনি চোখে।
আড়াল করে রেখেছিলাম শব্দগুলো শুধু
ঘটনা এসে দিল হানা, তপ্ত দুপুর ধূ-ধূ-
থামিয়ে দিল কিচির-মিচির খুশির কলরব
গাড়িকাকু ছিনিয়ে নিল এ জন্মের শৈশব...
অঙ্কুরে
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
কবিতাটি মিলনসাগরে তোলা হয় ২০১৫ সালে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা ছজন ছিল না?
সপ্তমজন ছিল লোহার দণ্ড –
নিম্নাঙ্গ থেকে অন্ত্র ভেদ করে
হৃদপিণ্ড এফোঁড় ওফোঁড় করা।
ওরা চারজন ছিল না?
পঞ্চমজন ছিল আগাপাশতলা,
মুখে জুতোসমেত পদাঘাত।
আর ষষ্ঠজন সর্বভূক অনল।
ওরা দশজন ছিল? বারোজন? একে একে?
এক সাথে তিনজন নয়তো?!
ওরা কতজন, কতজন,...?
রক্তাত্ত, বিকৃত, দগ্ধ নারীদেহের মিছিল,
ওরা কতজন ছিল?
ওরা কে ছিল?
ডাকাত, মস্তান, মন্ত্রী, নেতা, ধর্মগুরু?
স্বামী, শ্বশুর, ভাসুর, প্রতিবেশী, দাদু, কাকা,..বাবা?
বোরখা-অবগুণ্ঠনবতী-শৈশব অনুত্তির্ণা
মর্গবাসী পচনশীল লাশের স্তূপ,
কে ছিল? কে ছিল?
ওরা তোর কোন আপনজন ছিল বলতো?
দাদু, ঠাকুমা, বাবা,..মা?
জনম্মাত্র আবর্জনায় তোর সৎকার করেছে যারা?
অবশ্য কড়ি দিয়ে বেড়ি কিনে
কী আর পেত তোর জন্মদাতা?
সময়ের স্তব্ধতায়
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
তোদের দেখে কী করি বলতো –
পরজন্মের হাপিত্যেশ, না শেষ বিচারের অপেক্ষা?
ওপরওয়ালা আবার সাক্ষী চেয়ে বসবেন না তো?
এখানে প্রমাণাভাবে বেকসুর খালাসের দল
দেখ, কেমন অট্টহাস্য করছে!
.......ভ্রূণহত্যায় তাই পাপ দেখি না।
সে তো এই ‘কে’, ‘কতজন’দের
কবল থেকে আগাম মুক্তি।
আয় অতৃপ্ত আত্মারা,
আমি তোদের গর্ভে ধারণ করি।
কোটি কোটি কন্যা ভ্রূণ নিরাপদে থাক
আমার অপরিসর জঠরে।
-আয় সোনারা। আর হতে হবে না কোনও
রক্তচক্ষূ বাপের কামনায় অসহায় মায়ের গর্ভস্রাব,
যারা সূক্ষ্ম শব্দতরঙ্গে টের পেয়ে যায় তোদের মাতৃত্ববার্তা।
-আয় মায়েরা, মায়ের গর্ভে আয়।
শৈশব থেকে সাপ সিঁড়ি পথে যুবতী করে
তোদের আর পাঠানো হবে না জতুগৃহে।
প্রকৃতির ঋতুচক্র হয়ত যাবে থেমে।
থামুক। থামুক।
বিবমিসা ঠিকই বন্ধ হবে একদিন।
আর আমি তোদের স্পন্দন, সঞ্চালন
অনুভব করে যাব আমার প্রাণভার বাহী দেহে।
অন্তরে গড়ে উঠুক বালখিল্য নয়,
সহোদরার সুকুমার ভূবন।
নৃশংস, দুষিত ধরায় আনব না কোনওদিনও।
জন্মদ্বারে শাবলের পরিবর্তে
পিতৃজাতের চুম্বনের প্রতীক্ষায়
জরায়ুর নিরাপত্তায় রেখে দেব
হাজার, হাজার বছর।
গর্ভধারিণী থেকে যাব, প্রসবিণী এই ক্ষণে নয়।
ঋতুচক্র থেমে থাকে, থাক।
লজ্জা পাক সদাব্যাস্ত সময়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চামেলির দর তুমি ঠিক করে দেবে
এই অধিকার তোমার জন্মগত –
অযথা অর্থব্যয়ে সুখ খুঁজে যাবে?
শিকার ধরো বরং দলগত।
বিনি পয়সার ভোজে সারা বিকৃতি
তোমার জন্য, আমার আছে ক্ষয়।
কার প্ররোচনায় প্রকৃতি আত্মঘাতী,
তোমায় সৃজন করেই ডুবতে হয়।
জানি না বেলা মালতীরা কোথা থেকে
ক্রীতদাসত্বে বাঁচার খিদে জোটায়
দরাদরি করে দামও নিয়ে নেবে তুমি
বিসুখে ডুবে তোমারই সুখ ফোটায়।
স্রষ্টা রয়েছে সৃস্টির হাতে বন্দি
আমি তো জানি সৃজনে কী যন্ত্রণা ..
ফোকটে পৃথিবী কিনবে অভিসন্ধি
আকাশের কানে পাঠাচ্ছ মন্ত্রণা!
স্পর্ধা
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রাগৈতিহাসিকতার নতুন নাম আধুনিকতা
আমার দু চোখে অভিব্যক্তিহীন অবলোকন।
নৃশংসতার ভালো নাম বীরত্ব
তার কাছে আমার নিঃশর্ত সমর্পণ।
কোমলতার আর এক নাম ভীরুতা
আমার বাঁচার নিজস্ব অবলম্বন।
ভালোবাসার নাম তাই দুর্বলতা
বড় লজ্জা, বড় লজ্জার কারণ?
সভ্যতা হয়ত মুখোশ।
ছিঁড়ে ফেলাই কি একমাত্র সমাধান?
সংস্কার ছুঁড়ে ফেলাই যখন প্রগতি
প্রবৃত্তির দাসত্ব করেই যাপিত হোক মুক্তি!
শিকারীর ব্যক্তি-স্বাধীনতায়
শিকারের মর্ষকামী স্তুতি।
আরশোলা
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চেতনা বধির হল না বলেই
কষ্টগুলো শিখল না মূক হতে।
হতাশাগুলো বেহায়া এমন
হাসির আড়ালে চাইল না লুকোতে।
প্রতিবাদ? করার কে হই?
খ্যাতির অভাব মস্ত বড় দোষ।
ভাষা থেকেও ভাষ্যহারা
বুকের ভেতর বৃথাই জমা রোষ।
তার চেয়ে বরং কাগজ পড়ি
নিজের কথা পরের মুখে শুনি।
গেলাস হাতে বিশিষ্টজন,
কলম চালান সমস্যাসন্ধানী।
কিংবা চল রাংতা ধরি,
মাথার নীচে থাক বালিশের ওম্;
ইন্দ্রজালে ডুবে থাকা
ভুলে থাকাই ব্যথার উপশম।
অভিযোজন
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এমনটা রোজ ঘটে চলে
প্রতিক্ষণ অজুতে অজুতে –
মা বসুধা দ্বিধা হয় না তো
কোটাল বসেন খাতা হাতে।
মসি খবরের সন্ধানী –
রোমাঞ্চের ধারা-বিবরণী,
মতামতে নানা গুণীজন।
তাৎক্ষণিকতা মেনে লেখা,
সাময়িকতায় মনে রাখা;
তারপর ভোলা প্রয়োজন।
‘বলাৎকার’এর প্রতিশব্দ বহু –
সেগুলোও ব্যবহারে ক্লীশে।
তবু এর ধারাবাহিকতা
নতুন পুরোন মিলেমিশে!
ধারাবাহিক
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তার কথা জানা নেই কারও
হাবভাব সলকের চেনা
খোঁচালেই গালাগালি আরও
শোনা যাবে -পয়সা লাগে না।
কী যেন পড়ার কথা বলে
কে যেন পড়াবার ছলে
সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল
পাগোল তো – কত কিছু বলে।
বাছা কাঁচা খিস্তির ঢেউ
দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে কেউ।
কেউ বলে মুখ ভেঙে দেবে
শাড়ি খুলে নিতে চায় কেউ।
সে কাঁদে ভেংচায় লোকে
প্রলাপ কিছু তো কানে ঢোকে
যে বাপ সেই নাকি সব !
মাকে মেরে ফেলে গেছে ওকে।
পাগলি স্মরণে
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
মাথার ওপর নেই ছাদ
লজ্জার ভেঙে গেছে বাঁধ
পোড়া পেটে শুধু খিদে পায়
এঁটোকাঁটা? হোক তবু খাবারের স্বাদ।
স্টেশনের ধারে রাস্তায়
পাগলি রাত্রে কাতরায়
কুকুর ও শেয়ালের ভোজে
পাগলির পেট বেড়ে যায়।
জানা নেই কারও, পাপ কার?
একজন নাকি জানা যাবে?
প্রাণ দিতে প্রাণ পরিহার
সদ্যোজাত আর কী হারাবে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চলার পথে মা উটপাখি ফেলে যায় রুগ্ন সন্তানকে।
সময়ও ফেলে যায় কত অকাল পতন।
নিস্পৃহতাই তার দার্শনিকতা।
আমি সময় নই, পদাতিক পক্ষিমাতাও নই।
পিছুটানে দাঁড়িয়ে থাকি -..
আর সবার ছুটে টপকে চলা দেখি।
আধ্যাত্মিক নয় এ মায়া।
মোহমায়া স্নেহ জড়িয়ে মড়িয়ে
নিজেকে বিছিয়ে দিয়েছি আগুয়ানদের পথে।
সবাই মাড়িয়ে গেছে;
আমাকেও, আমার সন্ততিদেরকেও।
বিপদপ্রাজ্ঞের মতো আমারও কি উচিৎ ছিল
অশক্তকে ছুঁড়ে ফেলে সমর্থকটিকে
বাঁচার রাস্তা চিনিয়ে দেওয়া?
মহাকাব্যেও তো দেখি সহমৃতা মাদ্রীর চেয়ে
কুলটা কুন্তীর জয়-জয়াক্কার!
নীতিশিক্ষা দিতে এসো না হে প্রাজ্ঞ –
তোমায় লজ্জায় ফেলে দিতে পারে
তোমারই পরিহার।
প্রাজ্ঞতা
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মুখে রঙের আস্তরণ
দেহে উন্মোচনের ইশারা
আদিম পসারিণী-
নাকি আবহমানের দাসী?
পতিতপাবনী আজ নর্দমার বিকল্প
কোষে কোষে কর্কটের কড়া নাড়া
ফুলের রেণুও আছে চোরা আক্রমণে!
হে উপবীতধারী, গর্ভবাস
কি এর চেয়েও মলিন?
কত উদ্দেশ্যহীন শুক্রকোষ
প্রতিমুহূর্তে উৎক্ষিপ্ত হয়
দাসত্ব, পসার কিংবা একক প্রতিরোধকে
দলবদ্ধ হিংসায় ধ্বস্ত করে ।
সৃজন বেদনাময় নয় বলেই
বীর্যবান, তুমি এত ধ্বংসপ্রিয় !
অনর্থক নির্মাণের খেলা বিশ্বময়-
ঈশ্বরের নামে, কবিতার নামে,
সৌন্দর্যের নামে—নির্মাণের বিপণন ।
সেই নমাস ছিলাম অকৃত্রিম পবিত্রতায়।
গর্ভগৃহ
কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ৫.১২.১৯৭১)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বন্ধু! গিয়েছিলে কি গুজরাটে
দেখেছ কি আমার বহিনের কবরখানা?
আমার বহিন ঘুমিয়ে নীরবে -
ওর ঘুম তোমরা কেউ ভাঙিওনা।
সেদিন মুসলমান মারিল হিন্দু,
হিন্দু মারিল কত মুসলমান।
চারিদিকে শুধু রক্ত, রক্তনদীর বান -
পুড়িল মানুষ আগুন লেলিহান।
থেমে গেল মন্দিরে শ্রীরাম,
থেমে গেল মসজিদে আজান ধ্বনি;
তাকিয়ে দেখি সবার হাতে রক্ত
তুমি, আমি, আমরা সবাই খুনী।
ভাইফোঁটাতে দিতো ভাইফোঁটা,
হাতে আমার বেঁধে দিতো রাখি;
সে আমাকে ডাকেনা-ভাইজান!
এ লজ্জা! কোথায় লুকিয়ে রাখি?
ওর জন্য গড়িয়েছি বালাজোড়া -
সামনের বছর ওর যে ছিল সাদি,
সেই স্মৃতি জড়িয়ে ধরে বুকে -
আমি সারারাত কাঁদি শুধুই কাঁদি।
বহিন-মুসলমান, হিন্দু ভাইজান
কবি সুদীপ মণ্ডল (জন্ম ৭.১২.১৯৭২)
ওরা ভাঙছে মন্দির-মসজিদ,
ওরা করছে ভাঙাভাঙি খেলা;
ওদের পিছনে দাঁড়িয়ে কালপুরুষ -
এই বেলা যে ওদেরই কালবেলা।
ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষতার নাম,
ভারতবর্ষ শাশ্বত এক চাঁদ;
সেই চাঁদকে করতে কলঙ্কিত
নপুংসকেরা পেতেছে মারণফাঁদ।
পৃথিবীতে যদি মসজিদ না থাকে,
থাকে শুধু সাচ্চা মুসলমান;
ফুটপাতে সে গামছা বিছিয়ে নিয়ে -
সেরে নেবে ভোরের আজান।
পৃথিবীতে যদি মন্দির না থাকে,
থাকে শুধু ধর্ম প্রাণ হিন্দু;
রামলালার বিগ্রহ ধুইয়ে দিতে -
চোখের জল ঝরে বিন্দু বিন্দু।
আমার বহিনের কবরের পাশে আমায়
চিতায় তুলে পুড়িয়ে ক’রো ছাই,
সবার কাছে বলে দিও তুমি
বহিন-মুসলমান, হিন্দু ভাইজান ভাই॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
টি.ভি. খুলে দেখি আজকের খবর খাস,
পুকুর জলে ভাসে গৃহবধূর বস্তাবন্দী লাশ।
ধরমপুরীর ধার্মিক যত আগুনে পোড়ায় বাস,
তার-ই ভিতর অগ্নিদগ্ধ তিন ছাত্রীর লাশ।
মাথার উপর মেঘ মুক্ত অনন্ত নীলাকাশ,
মহাশূন্যে ঘোরে পৃথিবী সে তো এক লাশ।
দাম্ভিকেরই পায়ের তলায় দলিত কোমল-ঘাস,
ধনীদেরই শোষণ যন্ত্রে গরিবরা সব লাশ।
কালকে যখন মিছিলে স্লোগানে মুখরিত বাতাস,
পাটি অফিসের সামনে আজ পাটি-কর্মীর লাশ।
নির্বাচনী ইস্তাহার জুড়ে ভাবীমন্ত্রীর আশ্বাস,
কাগজওয়ালা কুড়িয়ে বেড়ায় যত ইস্তাহারী লাশ।
পাইপগান হাতে সমাজবিরোধী দেশ জুড়ে সন্ত্রাস,
প্রকাশ্য রাজপথে গণপিটুনিতে হিমঘরে সব লাশ।
বিদেশী ঋণের দায়ে এ দেশের গলায় ফাঁস,
মানচিত্রে খুঁজি আমার মহান দেশের লাশ।
জীবন্ত এক লাশ
কবি সুদীপ মণ্ডল (জন্ম ৭.১২.১৯৭২)
ভূগোল পড়েছো বন্ধু, পড়েছো অতীত ইতিহাস?
পরমাণু বোমার আঘাতে কাশ্মীর আগামী লাশ।
ফুটপাতের উলঙ্গ-শিশু জোটে নাই অর্ন্তবাস,
শিক্ষা কোন দূর অস্ত অচিন দেশের লাশ।
ত্রিকোণ প্রেমের খেলা অবৈধ গোপন সহবাস,
রেললাইনের ধারে সদ্যোজাতের মুণ্ডুবিহীন লাশ।
গাদাগাদা পড়াশুনা টেস্টে হয়নি পাশ,
বাথরুমে অ্যাসিড খেয়ে স্কুলপড়ুয়ার লাশ।
হারিয়ে গেছে প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা আর বিশ্বাস,
পোষ্টমর্টেমের শেষে ফেরে সারি সারি লাশ।
গ্রামে শ্মশানের স্তব্ধতা বন্যার করাল গ্রাস,
গাছের ডালে ঝোলে আমার প্রিয়ার লাশ।
মাতা কোথা কে জানে; পিতার ঠিকানা বৃদ্ধাবাস,
মুখাগ্নি করবে খোকা-সে তো এখন লাশ।
কখন থেমে গেছে মানব সভ্যতার শ্বাস,
আঁধারে সারারাত ধরে গণধর্ষিতার লাশ।
ওরে দুর্বৃত্ত কবি! সত্যি কি তুই চাস?
চাই হতে আস্ত জীবন্ত এক লাশ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাঠির মুখে বারুদ, আমরা বারুদের মুখে,
ধ্বংস-ধ্বংস-ধ্বংসস্তূপ, স্বপ্ন মরে বুকে।
ওষুধে বিষ, খাদ্যে বিষ, বিষে বিষহরি,
নীলকণ্ঠের মত বিষ-আমার কন্ঠে ধরি।
বেকারের হাহাকার, ভোটে চাকরির প্রতিশ্রুতি -
সাম্প্রদায়িকতায় জ্বলছে দেশ-মুখেতে সম্প্রীতি।
কাঠির মুখে বারুদ-আমরা বারুদের মুখে,
বিস্ফোরক ভরা বিছিনায় ঘুমাই পরম সুখে।
জাত বিস্ফোরক, ধর্ম বিস্ফোরক, বিস্ফোরক দুনিয়া,
বিস্ফোরক ভরা হৃদয়ে-স্বর্গ আনবো ছিনিয়া।
নেপালে মাওবাদী তাণ্ডব-চেচনিয়ায় চেচেন বিদ্রোহ -
আমার বাঁচা, আমার মরা, অপরের অনুগ্রহ।
মানব গড়ে, মানব ভাঙে, বিশ্বমানবের বিগ্রহ -
মানব বোমা বিস্ফোরণে মানব শূন্য গ্রহ॥
বিস্ফোরক
কবি সুদীপ মণ্ডল (জন্ম ৭.১২.১৯৭২)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কঠিন তোমার অনুশাসন শক্ত তোমার মন
আমার ভাবনা আমার দিশা সঠিক নিরীক্ষণ ,
গর্ভ ভাঙার ঘুঙুর ধ্বনি অল্প আলোয় ম্লান
ইচ্ছা প্রবল দুর্বল বোধ মুখ খানা অম্লান!
হিংস্র হচ্ছে সমাজ পাড়া শান্ত চিড়িয়া ঘর
আপন হচ্ছে দূরের মানুষ কাছের বন্ধু পর ,
মিথ্যা আসায় বুক বাঁধা আজ সম্পর্কের ভিত
গ্রীষ্ম ভুলায় এক সূর্যেই আরামদায়ক শীত ,
ছিন্ন ভিন্ন গোপন অঙ্গ কবর দেবালয়ে
অমানুষ হাতে মরছে মানুষ বোম বারুদের ঘায়ে!
এখনও তেমন হয়নি কিছুই আবার হবে বেশি
মানুষ আরও হিংস্র হবে অগণতন্ত্রে খুশি ,
ধ্বংস হবে সাধের সমাজ জ্বলবে পাড়া ক্ষোভে
মানুষ ভুলবে পরিচয় তার পর হবে সব ভবে!
বিশ্বাস হবে ঠুনকো ভাবনা অবিশ্বাসই ঠিক
বিধির বিধান মিথ্যা মেনে নেশাতুর দশদিক।
মিথ্যা মোহে
কবি তপন সৎপথী (১২.৩.১৯৭৩ - ২.১০.২০১৯)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুশীল রেখেছে নাম মা-বাবা যতনে,
স্বপ্নরাশি চোখেমুখে : খোকা বড় হ'য়ে
মহাজন যেন হয় - অন্তরের ধনে।
তৃণের চেয়েও নত হোক সে বিনয়ে ;
সামাজিক যন্ত্রনার তীব্র অবক্ষয়ে
কিছুটা প্রলেপ দিক্ ; -এই ছিলো আশা।
অন্তরে ধরেছি আলো স্নেহ সমুচ্চয়ে,
ঈশ্বরে বুঝেছি সার সত্য-ভালোবাসা।
দিকে দিকে অন্ধকার জাগে সর্বনাশা,
নুয়ে পড়ে মুখোশের মানবিক বোধ।
সুশীল সমাজে জাগে বিপুল প্রত্যাশা ;
-একান্ত গোপনে চলে আমোদ-প্রমোদ।
নামের আড়ালে যদি এতো অনাচার,
তবে সে নামের মোহ করি প্রত্যাহার।
সুশীল! - একটি নাম প্রত্যাহার
কবি সুশীল রায় (জন্ম ৩.৪.১৯৭৩)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা নই গেরুয়া লাল
সবুজ কিংবা সাদা নীল
জেনে বুঝে বৃষ্টি ভিজে
এই মিছিলে হও সামিল
পেটে পেটে কূটবুদ্ধি এঁটে
মিশতে এলে যাও তফাত
আন্দোলনের শেষ থাকে না
থাকে শুধু শুরুয়াত
গানে গানেই রাত্রি দিন
হারমোনিকা আর গীটার
ভীষণ অস্ত্র শিরদাঁড়া
আর মারণ অস্ত্র অহংকার
অধিকার নিজেকে চেনার
বুঝতে শেখা রাইট রং
ভোটের খেলা সাঙ্গ হলে
গীটারটাই শিখো বরং
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
কলরব হোক কথা সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। গানটি ২০১৪ সালের ২৮শে অগাস্ট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা
সংঘটিত, এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও তদানীন্তন কর্তাভজা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উপাচার্যের এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন “হোক করলরব”-এর খোলাখুলি
সমর্থনে লেখা। গানটি সেই সময়েই মিলনসাগরের হোক কলরবের দেয়ালিকায় তোলা হয়েছিল। ভিডিওটি সৌজন্যে dMitraxD YouTube Channel.
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছো নিজের শব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব
একটা মেয়ে নির্যাতিত
মদে ভেজা ওর শরীর
তার জবাবে কদর্য হাত
ছিঁড়লো জামা বান্ধবীর
পুলিশ ছুঁলে কত ঘা
প্রকাশ্যে বলা বারণ
পাওয়ার মানেই কোরাপশন
আর সিংহাসন মানেই রাবণ
জানতে চাইছি ওদের নাম
যাদের নামে এফ.আই.আর.
অপদার্থ কর্তৃপক্ষের
তদন্তে বল কী দরকার
তদন্ত হোক নিজের তালে
ঢিমে তেতাল ধ্রুপদী
গদি ছাড়ো রাজা তুমি
অনাচার করো যদি
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছ নিজের সব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব
ছোট্ট শিশু রেপ হলে কি
স্বভাব পোশাক জানতে চাস
পুরুষতন্ত্র ঝোপ বুঝে কোপ
হচ্ছে কালো তোর আকাশ
ড্রেসের দোহাই মদের দোহাই
দোহাই বলছি বন্ধ কর
শরীর থেকে মুক্তি চাইছে
বন্দী মেয়ের একলা ঘর
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছ নিজের সব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি মানুষের স্বাধীনতা চাই
আজি মানুষের বিপ্লবে তাই
তাই যতদূরে হোক না লড়াই
আমি সংহতি জানাই
ছাত্রেরা বাক্ স্বাধীনতা চায়
ওরা হাঁটে যুক্তির রাস্তায়
সেই সড়কে অগাধ বিশ্বাস
আমার, তাই সংহতি জানাই
তুমি লেঠেল পাঠালে প্রশাসন
তুমি বশ্যতা চাও বিরোধীর
জেনে নাও সবাই নয় স্তাবক
এরা আগুন নতুন পংক্তির
মাঠে দূর প্রদেশের অভিমান
ওরা গেয়েছে বিদ্রোহের গান
এটা সাহসী প্রেমের পরিচয়
এটাই শুদ্ধতা বিপ্লবীর
শোনো কান পেতে বিবেক নিদান
কেউ দিচ্ছে না সাহস যোগান
তাকে স্তব্ধ করলে ফেসবুক
আমি তার মুখ দেখতে চাই
এটা জমায়েত স্বাধীন মনের
এটা ইশারা স্টে/সেই ফ্রী জোনের
যেখানে শেষমেশ আমরা সবাই সবাই
সব যুক্তি ছিঁড়ে যাই
ওহে আমার দেশের যুবদল
হও যুদ্ধে যুদ্ধে সবল
চল রাষ্ট্রের ছোবোল খেয়ে
লড়াই পদ্ধতি বানাই
চল নতুন প্রশ্ন তুলে দিই
অচলায়তনে আবার ঘা দিই
স্বচ্ছ অনন্য রূপ আজাদির লড়াই
আমি সংহতি জানাই
হায় হো হো হো
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ধেয়ে এল ওরা কোথা থেকে
কোন ঘাঁটি থেকে নেমে এল
মানুষ খুনের পরোয়ানা
বলো কোত্থেকে ওরা পেল
এত ঘৃণা রাখা কোন দেশে
ঘুণপোকা চষে কোন দেহ
দেশমাতৃকা ভালবেসে
(চরে) আইটি সেলের সন্দেহ
অবিশ্বাসের খাস্তা স্বাদ
ধর্মরক্তে চুবিয়ে খাও
রক্ত রোমাঞ্চ সংবাদ
যুদ্ধ নোটিসে টাঙিয়ে দাও
যুদ্ধ যাদের হাতের পাঁচ
মানুষে মানুষে হানাহানি
এটাই ওদের খুড়োর কল
এভাবে বেচছে শয়তানি
রুখে দাঁড়াচ্ছে কোথা থেকে
ওরা বাঁচাচ্ছে প্রতিবেশি
এই তো আমার দেশের ধাঁচ
এখানে প্রেমের দামই বেশি
দগদগে ইতিহাসের ঘা কথা ও সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্।
ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
ধর্ম বাওয়াল গুলিয়ে দ্যায়
ভুখা জনতার পেটের টান
কর্মখালির খোঁজ নিও
ঠোঁটে তুলে বেঁচে থাকার গান
তবু কারও দেরি হয়ে গ্যালো
আগুনে পুড়ল বৃদ্ধা মা
আসলে পুড়ল দেশের নাম
আসলে পুড়ল সভ্যতা
তবু বড়ও দেরি হয়ে গ্যালো
বোবা হয়ে গ্যালো মুখরতা
আসলে খুন হ’ল দেশের মান
খুন হয়ে গ্যালো মানবতা
দগদগে ইতিহাসের ঘা
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বোধহয় কেউ ভাবেনি কখনও
ভাবনারও হয়েছে বয়েস
বোধহয় কেউ খেয়াল করেনি
কেটে গেছে চিন্তার রেশ
বিভাজন খবর দিয়েছে
কিছুই থাকেনি অবশেষ
বিভাজিত ভাবনারা ভাবে
কবে এই ভাবনার শেষ
এই মহানগরীও ভাবে
ভাবে এই পরাধীন দেশ
স্বপ্নের শুরু কোনখানে
কোথায় সে স্বপ্নের শেষ
স্বপ্নের মূল্য কি জানে
স্বপ্ন যে দেখতে শেখায়
স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরেও
তাকে যেন খুঁজে পাওয়া যায়
বোধহয় কেউ চেনেনি কখনও
চেনা চেনা মানুষের মন
মুখোশটা আড়াল করেছে
আড়ালেই কেটেছে জীবন
বিভাজন কথা ও সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। ভিডিওটি
সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
বিভাজন হঠাৎ এসেছে
বদলে দিয়েছে পরিবেশ
বিভাজিত ভাবনারা ভাবে
কবে পরিবর্তন হবে শেষ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ফাঁসে ঝোলা দেহটাকে নিয়ে চলে গ্যাছে কারা
পড়ে আছে শেষ চিঠি ভরা বিস্ময়
আপাতত রাজনীতি কনট্রোল নিয়ে নিল
দোষারোপ-তাস নিয়ে বাণিজ্য হয়
ছেলেটার চিরকুটে দোষারোপ নেই কোনও
দাগ দেওয়া নেই কোনও নামের তলায়
সূক্ষ্ম শরীরে অশরীরী এক শ্রেণীহীন
বিশ্বাস রাখে আজও গল্প বলায়
গল্পের কম্পনে নড়ে গ্যাছে ভিত, তাই
মন্ত্রীরা ভীত, ঝক্কির এক শেষ
যে মানুষ মনে মনে শ্রেণীহীন, জাতহীন
এ গল্পে খুঁজে পায় নিজের স্বদেশ
শোক-মোম জমে জমে, হিমালয় হ’ল ক্রমে
শামিয়ানা, শিবির ও মিছিল হাজার
আহা নেট সার্কাসে স্টেটাসের ঝড় ওঠে
পড়ে পাওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার
ভেমুলার চিঠি কথা ও সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils
YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার মৃত্যুতে লেখা।
একটা ভায়ের মুখ, একটা মায়ের মুখ
বিচলিত কীসে, মাথাব্যথা নেই কারও
ছেলেটার মরে যাওয়া জাতীয় খাদ্য হয়ে
যেন বারবার মারে জননীকে আরও
দলিত মুদ্দা চোখে প্লাবনের মত নামে
সে স্রোত কি ধুয়ে দেবে শাসকের ভোট?
ভেমুলা ঘরের ছেলে উড়ে গ্যাছে ডানা মেলে
ফেলে রেখে নিরীহ সুইসাইড নোট
দৈনিক পদদলিতের শেষ যুদ্ধটা
সাদা পতাকা উড়িয়ে বিদ্রুপে হাসে
সবাই মাড়ালো যাকে, দ্যাখো সেই ছেলেটাকে
অনায়াস প্রত্যয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাসে
আকাশের মত মুখ, বাতাস ভর্তি বুক
নবজাতকের ত্বকে স্বাধীন আবেশ
মনে রেখো যে রক্তে রোহিত-কণিকা আছে
সে রক্ত-নুন, খায় আমার স্বদেশ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই ফিসফাস যুগে সব বিশ্বাস নাচার
আর ভাল লাগছে না
আজকে পিঠে ঠেকলো দেওয়াল
তবু ঝড় ঠ্যাকাচ্ছে মানুষ এ ক্রান্তিকাল
আনত চিবুক কঠিন চোয়াল
তীক্ষ্ণ সওয়াল ছুড়ে দিক যত
মনভাঙা দিনকাল
ছাড়ছে না হাল ক্রুদ্ধ খেয়াল
যুদ্ধ শপথে উদ্বুদ্ধ ধার তারোয়াল
অবরুদ্ধ জীবন বেসুর বেতাল
তবু হাসে বিশুদ্ধ ভরসায় ফরসা সকাল
ডাকছে সকাল জীবনের মর্মোদ্ধারে
ঠিক যেভাবে সে পারে
হো হো ....
ডাকছে সকাল জীবনের মর্মোদ্ধারে
ঠিক যেভাবে সে পারে
নিমেষে বাতিল হুকুম তামিল
দেখি সংকল্প আমায়
কতদূর নিয়ে যেতে পারে
এ যাত্রা শেষ হিসেব নিকেশ
যদি মরবার আগে একবার
এই ফিসফাস যুগে করোনা কালে সমস্ত চিকিৎসা জগত ও সাহায্যদাতাদেরকে নিবেদিত এই গান। গানটি শুনে লেখা।
কথা ও সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel.
বাঁচা যেতে পারে
মরণ ডাঙায় জীবন কামড়
দেখি প্রত্যয় আমাদের
কতদূর নিয়ে যেতে পারে
মেনে নেওয়া নিয়ম মানা যাচ্ছে না আর
ভাল লাগছে না ছাড়
মেনে নেওয়া নিয়ম মানা যাচ্ছে না আর
ভাল লাগছে না ছাড় ঘর্ষণ আবার বারুদ শলাকার
আগুন জ্বালাতেই হবে নিকষ অন্ধকারে
স্বাধীন ভাবার খাবার দাবার যোগানের গান গাই
বাঁচবার অধিকারে
এই প্রেরণায় উত্তেজনায়
আগেভাগে ভেবে রাখা সব পথ
হারিয়ে যেতে পারে
তবুও অটল মানুষের দল
পাবে প্রাঞ্জল মুক্তির শতদল শেষ চিৎকারে
আ হা হা . . .
এক অনিমেষ মৃত্যুর দেশ
তবুও মরার আগে শেষবার
বাঁচা যেতে পারে
মরণ ডানায় জীবন নাচন
দেখি সংকল্প আমার কতদূর নিয়ে যেতে পারে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রক্তাভ আকাশ
সূর্য নেয় বিদায়
লক্ষ শহীদের
স্বপ্ন পথ দেখায়
স্বৈরাচারের সেই ইতিহাস
আমার স্মৃতিতে ফেরায় কোন - সর্বনাশ
অত্যাচারী তার
অস্ত্রে দিচ্ছে শান
আমার আত্মবোধ
অসহ্য অপমান
আমায় দিচ্ছে ডাক
বলছে তৈরি থাক
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম পাশে
শুনি আর্তনাদ ভাসে বাতাসে
দেখি ধ্বংস হয়
লক্ষ পরিবার
আর দুখিনী মা’র
কোলে শুন্যতা
তবু চোখে তার
সিক্ত অঙ্গীকার
বাংলাদেশ জোন বয়েজের মূল গীতের ভাবনুবাদ, সুর ও শিল্পী - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। বাংলদেশের
৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষভাবে নিবেদিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের
কাছে গানের কথার জন্যেও।
ইউনিভার্সিটির সে ছাত্রদল
সুখের রাত্রিঘুম বয়ে আনল - অমঙ্গল
সৈন্যরা এল
বুলেট বর্ষালো
মৃত শয্যা আর
দেখবে না ভোরের আলো
ভোরের দখল নিল
নির্মম হিংস্রতা
বাংলাদেশ
রক্তাভ আকাশ
সূর্য নেয় বিদায়
লক্ষ শহীদের
স্বপ্ন পথ দেখায়
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একলা পথে জানি তোমায় চলতে হয়
নকশী কাঁথায় বুনে দিচ্ছ তোমার ছন্দ তোমার লয়
মেঘলা রাতে চুপি চুপি বৃষ্টি ক্ষয়
শুকনো পাতার মতো ভাঙে তোমার লুকনো প্রত্যয়
কারও আসা না আসায় কী এসে যায়
নদীর মতোই সময় নিজেই ভেসে যায়
তুমি একাই তোমার বিশ্ব তোমার ঘর
তুমি শতক সহস্রাব্দের আপন পর
যন্ত্রণাতেও তুমি দিব্যি যন্ত্রবৎ
সামলে নিচ্ছ তোমার সাংসারিক সীমান্ত আর শপথ
আর্দ্র অশ্রু যখন নেপথ্যে গড়ায়
বন্দী দোকান ভেঙে পণ্য মুক্তি চায় ডাক পাঠায়
কেউ শুনতে পাক না পাক বলো তাতে কী?
তুমি ভাঙছ নিথর রেওয়াজ সাবেকি
কারও জন্য এ পথ থমকে যাবে কি?
তবু চোখের ঘরে সন্ধে নাবে কি?
একলা পথে কথা - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। শিল্পী - পরমা ব্যানার্জী। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। বিশ্ব
নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষভাবে নিবেদিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে
কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আশা কোনো উপলক্ষ নয়, সেমিনারে দীর্ঘ ভাষণ
ভাষা থাকে হৃদয়ে আমার, ভাষা বাঁচে লোকের মুখে
ভাষা সীমা ভেঙে দিতে চায়, তাকে আটকায় কোন উজবুকে
ভাষা শুধু ভক্তি শ্রদ্ধা পায়, কে আর তাকে শরীর দিচ্ছে
ভাষা ভাবে বৃদ্ধ হলে কি, ভাষা খোঁজে চিকিৎসে
ভালোবেসে যাবো গো তোমায়, এ সব থাকা সেন্টিমেন্টে
ভাষা দেখে নজরবন্দী সে, ইট কাঠ পানি সিমেন্টে
বন্দিনী রাজকন্যা এক, আমায় হাতছানি দিচ্ছে
নন্দিনী সংস্কৃতি ছেড়ে, তার পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে
অসহায় রাজকন্যা তার অভিলাষ সর্বনাশা
অভিসারে যাবে আমার সাথে, বন্দিনী বাংলা ভাশা
লা লা লা . . .
এটা কি বাংলা গান হচ্ছে না কি?
বাংলায় শুনছি একটা গান, বলছি এটা বাংলা গান নয়
বাংলাকে চিনতে অস্বীকার, এটা কি তার অপমান নয়
আমি যে পাল্টে যাচ্ছি রোজ, পৃথিবীটাও থেমে নেই
জমে থাকা ওই তির্যকগুলো, গোবেচারা ভাষার জন্যেই
প্রহরায় নিবেদিত প্রাণ, কিছু ইনটেলেকচুয়াল
ভাষাকে পূজোর ছলনায়, গড়ে তোলে শক্ত দেওয়াল
ভাষা যেন কখনো না হয়, যোগাযোগে প্রতিবন্ধক
মাঝে মাঝে কথার বদলে, সুরে সুরে বার্তালাপ হোক
বন্দিনী রাজকন্যা তাই, আমায় রাখে সুরের টানে
নন্দন কাননে নয়, অচেনা কোনো অভিযানে
অসহায় রাজকন্যা তাই, অভিলাস জাগায় আশা
পৃথিবীকে চিনতে চাইছে আজ, ব্রাত্য এ বাংলা ভাষা
বন্দিনী রাজকন্যা এক, আমায় হাতছানি দিচ্ছে
নন্দিনী সংস্কৃতি ছেড়ে, তার পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে
অসহায় রাজকন্যা তার অভিলাষ সর্বনাশা
অভিসারে যাবে আমার সাথে, বন্দিনী বাংলা ভাশা
লা লা লা . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর দে একটু রোদ্দুর দে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর দে একটু রোদ্দুর দে
বেসুর ধমনীতে বেসুর রক্তে চলাচলের সুর দে
বেসুর ধমনীতে বেসুর রক্তে চলাচলে সুর দে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
মানুষ কঙ্কাল বেহুঁশ দিনকাল বর্তমানে দেখ
ভুলে যা তিনকাল
মানুষ গাইছে বাঁচতে চাইছে এমন দিনে
আনো নতুন সকাল
প্রাণের সঙ্কটে শীতল পৃথিবীতে নতুন অঙ্কুর দে
একটু রোদ্দুর দে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর
বড়ো অসহ্য, এ প্রাণ দাহ্য, আগুন হৃদয়ে
শীতল বাহ্য
বড়ো অসহ্য
মানুষ প্রতিবাদে লড়াই অবসাদে
পৃথিবীতে চায় সূর্য-রাজ্য
রোদ্দুর দে কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। গানটি বিদ্যাসাগরকে নিবেদিত
। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. গানটি শুনে লেখা।
এ অ-উষ্ণতা করুণ স্তব্ধতা
করে দে তুই দূর দে
একটু রোদ্দুর দে একটু রোদ্দুর দে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর দে
আকাশ ছেয়ে আছে কালো কালো মেঘে
একটু রোদ্দুর দে একটু রোদ্দুর দে
একটু রোদ্দুর দে একটু রোদ্দুর দে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুনেছি ঈশ্বর একাই
তাতে সমস্যা মিটছে না তাই
নিদেনপক্ষে আরও তিন চার জন ঈশ্বর চাই
কোথা পাই
আমরা শান্তির গান গাই
তাতে যুদ্ধ থামছে না তাই
নিদেনপক্ষে আরও দুটো পরমাণু বোমা চাই
কোথা পাই
শুনেছি ঈশ্বর একাই
তাতে সমস্যা মিটছে না তাই
নিদেনপক্ষে আরও তিন চার জন ঈশ্বর চাই
দাঙ্গার আশেপাশে মহামারীও হাসে
যে মানুষের কিছু নেই,
সে অথৈ জলে ভাসে
বন্ধ হয়ে যায় বাজার হাট্
পরিবহন ভিন্ন ডিসিশন্
বন্ধ স্কুল বন্ধ খেলার মাঠ
খোলা শুধুই শ্মশান ঘাট
ঈশ্বর কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। গানটি বিদ্যাসাগরকে নিবেদিত। ভিডিওটি সৌজন্যে
Rupam & Fossils YouTube Channel. ভিডিওটি কেবল YouTube এ দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .। গানটি শুনে লেখা। করোনা কালে আমফান
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যার্থে এই অনবদ্য গানটি লেখা হয় জুন ২০২০ সালে।
কপাট বন্ধ কোম্পানির
কী আজব এই বিমারি
পৌঁছচ্ছে না ত্রাণ সরকারি
অনির্দিষ্ট কারফিউ জারি
এই ঝক্কি সামলাতে
যখন ব্যস্ত দশহাতে
এল ঘূর্ণিঝড় এক রাতে
সেই ধাক্কাতে
কোথায় পালাই
লণ্ডভণ্ড বাসস্থান
পণ্ড জীবিকার সংস্থান
কে করবে এর সমাধান
সেই মহানায়কের
সন্ধান চাই সন্ধান চাই সন্ধান চাই সন্ধান চাই
ঈশ্বর একাই একশো
তবে ইদানিং তিনি ফ্লপ্ শো
নিদেনপক্ষে আরও তিন চারশো ঈশ্বর চাই
কোথায় পাই
ঈশ্বর একাই একশো
তবে ইদানিং তিনি ফ্লপ্ শো
নিদেনপক্ষে আরও তিন চারশো ঈশ্বর চাই
কোথায় পাই
তেত্রিশ কোটি ভগবান বনাম একটা ঝড় তুফান
ফল জানে একশো তিরিশ কোটি গণদেবতাই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওহে পিয়ানো বাজবে কবে
বিমূর্ত থেকে মূর্ত হবে
ওহে লেখনী লিখছ কই
উগ্রবাদের গুপ্ত বই
রুখো অশনি আঙ্গুল ছোঁবে
আগুন অবচেতন ক্ষোভে
তুফান বেগে খুঁজতে হবে
সঞ্জীবনী মৃতের স্তবে
শুদ্ধবাদের দেউলেপনায়
ভাট মারানোর প্রস্তাবনায়
আদ্যপান্ত ভাবের দেনা
হাতুড়ে যত আবর্জনা
জ্বালাবে কবে সাজাবে কবে
কয়লা কালো-কে ধবধবে
ময়লা মনে জ্বালাও বাতি
(আর)
পেছনপাকার পেছনে লাথি
উগ্রবাদের গুপ্তবই কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি রূপম ইসলাম (জন্ম ২৫.১.১৯৭৪)। ব্যাণ্ড - ফসিলস্। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে
বিশেষভাবে নিবেদিত। ভিডিওটি সৌজন্যে Rupam & Fossils YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
ওঠো হে সৈন্য লড়তে হবে
নেতার মনে পড়তে হবে
শাসন শুধু ভাষণ নয়
আসল অস্ত্র সমন্বয়
দালাল যখন দলিল খোঁজে
বিষের মর্ম শহীদ বোঝে
চিবিয়ে কাগজ গিলছি ঢোঁক
রেভলিউশন সফল হোক
ড্রামার তোর দামামা রবে
ড্রামা-র শেষ দৃশ্যে হবে
বিসর্জিতা গ্র্যামার বই
শ্মশান চিতা আগুন খই
পুড়ছে ভাট পুড়ছে ভান
জেড(Z) মিলিয়ন প্রেমের গান
কষিয়ে মারো ঠাসিয়ে চড়
লাগুক গুলি বিঁধুক শর
ওহে গিটারি বাজনা তোলো
বজ্র সুরে গিটার সোলো
স্মৃতির ওমে লেপ তোশক
গরম করো শীতল শোক
হে সেনাপতি অস্ত্রাগারে
গিটারও আলো জ্বালতে পারে
হে সেনাপতি অস্ত্রাগারে
কলমও আলো জ্বালতে পারে
অন্ধ মনে জ্বালিয়ে বাতি
পচনতন্ত্রের পেছনে লাথি
ওহে পিয়ানো বাজবে কবে?
বিমূর্ত থেকে মূর্ত হবে
ওহে লেখনি লিখছ কৈ?
উগ্রবাদ এর গুপ্ত বই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভেবে ভেবে অ্যাসিড হসো দেশের কী হবে?
কমেন্টের গাছ পুঁতেছি ফেসবুকের টবে, দেশের কী হবে?
ভেবে ভেবে অ্যাসিড হসো দেশের কী হবে?
ভোটের দিন বিরিয়ানী, চিকেন নাকি মাটন আনি
ভোটের দিন বিরিয়ানী, চিকেন নাকি মাটন আনি
সঙ্গে আবার রঙিন পানি, কি কোম্পানি,
এমন ফুয়েল ঠাকবো বিপ্লবে, দেশের কী হবে?
রিমোট হাতে শুই সোফাতে, দেশের কী হবে?
আমি ট্যাত্স ফাঁকি দিই এপ্রিল মাসে
আবার জঞ্জাল ছুঁড়ি বাড়ীর পাশে
রাস্তাঘাটে মার্ডার দেখলে চোখ ঘুড়িয়ে রানিং বাসে
কনডাকটার মুচকি হাসে
রাজনীতির হালত বুঝে মাথায় কিন্তু রক্ত আসে
ডামাডোল মাডাডোল লমাডোল শোধরাবে কবে
দেশের কী হবে?
আমি ফ্রিজ কিনেছি, দেশের জন্য
প্লাজমা টিভি, দেশের জন্য
থ্রী বি এইচ কে, দেশের জন্য
বিয়ে করার কারণ অন্য কিন্তু খুদে সিরিজের
দেশের জন্য
এবার ভোট দিয়ে করি দেশকে ধন্য
আমি ভালো নেতা জঘন্য
বন্য বন্য এ অরণ্য, উনি ভালো নেতা জঘন্য
ভিখিরি ডিঙিয়ে নেমন্তন্ন, উনি ভালো নেতা জঘন্য
তবু সি.এম. করছে না কেউ এ বীর পুঙ্গবে
দেশের কী হবে?
ভেবে ভেবে অ্যাসিড হসো দেশের কী হবে?
ভেবে ভেবে অ্যাসিড হসো দেশের কী হবে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দেখো বিপন্ন দেশ রাজ্য
তুমি ইনডিফারেন্ট সাজছ?
কোনও জ্ঞান নেই নাকি. বাহ্য?
আরে ভোট দাও, ভোট দাও
এই গণতন্ত্রের লগ্ন
তুমি লিখিতেছো বসি ব্লগ্? নো!
হো বাঘা-বুলেটিনে মগ্ন
চলো ভোট দাও, ভোট দাও
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
আহা পথে ঘাটে হোক দাঙ্গা
বামে খিস্তি, ডাইনে পাঙ্গা
তোর বুলেট লাগুক সংঘা-
-তিক ভোট দাও, ভোট দাও
কোউ ছররা গুলিতে অন্ধ
কারো ফ্যাক্টরি চির-বন্ধ
তুমি উঁচু স্ট্যাচুদের গন্ধ
শুঁকে ভোট দাও, ভোট দাও
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি নিজেই বেছে নেবো আমার টর্চারার
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি নিজেই বেছে নেবো আমার টর্চারার
ভোট দাও কথা - কবি চন্দ্রিল ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - উপল সেনগুপ্ত ও রুদ্র। সমবেত কণ্ঠে শিল্পী চন্দ্রিল ভট্টাচার্য, উপল
সেনগুপ্ত ও রুদ্র। ভিডিওটি সৌজন্যে DaakBangla YouTube Channel.
তোর জোটে না খাদ্য, পানীয়?
তবো মোবাইলে কিছু আনিও
বা তোলাবাজ হও, স্থানীয়
চলো ভোট দাও, ভোট দাও
ডেলি মেলা-মোচ্ছব মানিও
নেতা টানুক জেলের ঘানিও
জোরে বোলো না, অভিমানী ও
তুমি ভোট দাও, ভোট দাও
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
আহা পুলিশ হোক না দর্শক
আর পার পেয়ে যাক ধর্ষক
বস্ , বিমর্ষ হও ফর্ শো
তেড়ে ভোট দাও, ভোট দাও
কার দুধে কত সোনা হয়?
আর ক্যা-ক্যা-ছি-ছি ক’টা গোনা হয়?
অত হেসো না, গলাটা খোনা হয়
ভোট দাও, ভোট দাও
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি নিজেই বেছে নেবো আমার টর্চার
ভোট দেওয়া নাগরিকের শ্রেষ্ঠ আধিকার
আমি বাছবো আমাকে কে করিবে টর্চার
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভোটের বাবা সিংহাসন
ভোটের মা পার্টি
পার্টির আবার টুকরো আছে
তিনটি কিংবা চারটি
ভোটের বাবা সিংহাসন
ভোটের মা পার্টি
পার্টির আবার টুকরো আছে
তিনটি কিংবা চারটি
একটি টুকরো পয়সা রাঁধেন
একটি টুকরো খান
একটি টুকরোর পকেট ভর্তি
পেটো ও স্টেন গান
পাবলিক এ সব গানের তালে
ভালোই নাচে সাত সকালে
পাবলিক এ সব গানের তালে
ভালোই নাচে সাত সকালে
একটু হাসি একটু পেশি
দারুণ রেশিও
এ কে বলে সার্কাস
আবার ডেমোক্রেসিও
ভোটের ভাই লাউড স্পীকার
ভেটোর ভাইপো তর্কো
চায়ের দোকান এখান ওখান
সবার পেছন বকো
ভোটের ভাই লাউড স্পীকার
ভেটোর ভাইপো তর্কো
চায়ের দোকান এখান ওখান
সবার পেছন বকো
আরে বাথরুমে বসে
বিপ্লব হ্যাশট্যাগ
টুইটারে ফেসবুকে
টিভি টক্ শোয়ে মক্ শো করলে
চুটকি রেখো টুকে
পাবলিক তোমার মুখে স্লাইলি দেখে
বলবো কোথায় পাইলি
পাবলিক তোমার মুখে স্লাইলি দেখে
বলবো কোথায় পাইলি
একটু সেলফি একটু কুলফি
দারুণ রেশিও
এ কে বলে সার্কাস
আবার ডেমোক্রেসিও
ভোটের মামা ম্যানিফেস্টো
ভোটের মেসো ক্যাডার
মনুমেন্টে নীতি তুলে
কেড়ে নিচ্ছে ল্যাডার
ভোটের মামা ম্যানিফেস্টো
ভোটের মেসো ক্যাডার
মনুমেন্টে নীতি তুলে
কেড়ে নিচ্ছে ল্যাডার
কে ফাঁসে অযোধ্যা কাণ্ডে
কে ফাঁসে চিট্ ফাণ্ডে
দ্বন্দ্বমূলক খাল কেটেছে
কারা সানডে মানডে
পাবলিক জানে নেতার
ঢপের মশলা
বাড়ে আলুর চপে
পাবলিক জানে নেতার
ঢপের মশলা
বাড়ে আলুর চপে
একটু কাণ্ড একটু ভণ্ড
দারুণ রেশিও
এ কে বলে সার্কাস
এ কে বলে সার্কাস
আবার ডেমোক্রেসিও
এ কে বলে সার্কাস
আবার ডেমোক্রেসিও
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বহু প্রতীক্ষার অবসান আজ
. দু’টো অন্নের সংস্থান।
যদিও রাজনীতি আমাদের শরীরময়
. ঠিক যেন গুটি বসন্ত
ডুকরে ডুকরে কাঁদি আমরা
. ভয় হয় কারা যেন আড়ি পাতে
. ঘরে ঘরে।
আমাদের চারিপাশে অনেক সমাজসেবী
আমাদের দুঃখ দুর্দশা নিয়েই
. যাদের বানিজ্য বর্তমান।
গ্রাস
কবি মনোরঞ্জন সাঁতরা (জন্ম ৫.২.১৯৭৪)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রক্তে শুধু আজ ভেজে নি নন্দীগ্রাম
ভিজেছিল সেই কবে ব্রিটিশ যুগ হতে।
উনিশ মাস স্বাধীন ছিল।
স্বাধীনতার আগে।
নন্দীগ্রামের আর একাংশ দারগাপুড়ার দেশ।
আর একবার ভিজেছিল সাতের দশকে।
শহিদ হতে বড় ভালোবাসে নন্দীগ্রাম।
বিপ্লবীদের আখড়া। গোপন ডেরা
বিপ্লবীদের মুক্তাঞ্চল।
এখনও কান পাতলে শুনতে পাবে
মাতঙ্গিনী-ক্ষুদিরাম-বীরেন্দ্র শাসমলের পদধ্বনি।
বিপ্লবীদের রক্ত এদের শিরায় ধমনীতে।
যত নারী দেখছেন --- সবাই মাতঙ্গিনী।
যত পুরষ দেখছেন --- সবাই ক্ষুদিরাম।
সরকারি হিসাবে
শহিদ হল আটজন এই সেদিন।
রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা।
এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
আবারও হল চোদ্দোই মার্চে চোদ্দোজন।
আবারও হবে ---
সূর্যোদয়ের আগে, কিংবা সূর্যোদয়ের পরে।
শহিদ হতে বড় ভালোবাসে নন্দীগ্রাম।
ভিজেছিল সেই কবে ব্রিটিশ যুগ হতে।
উনিশ মাস স্বাধীন ছিল, স্বাধীনতার আগে।
অন্যায়ের প্রতিবাদ-মুক্তির সাধ আপন-অধিকারের
স্বাধীনতার মুক্ত বিহঙ্গ।
নন্দীগ্রামের আকাশে ডানা মেলে।
মুক্তির সাধ খোঁজে ক্ষত ডানায় ভর দিয়ে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাঁটাতারের ওপার হতে দেখা যায়
স্বাধীন গণতন্ত্র দেশ ভারত।
কাঁটাতারের মধ্যে
ভগ্ন লাল দর্পণে
বিকৃত মুখ দেখে ভারতবর্ষ।
বিকৃত মুখ
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির
"রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
খালি পেট পিঁপড়ের ডিম ভাজা
শালপাতা। ভাজা কইলাড়ি ঘন্ট
আমের আঁটি সেদ্ধও জোটেনা
অর্ধেক দিন।
নারকেল দড়ির মতো পেঁচানো পেট।
সেই পেট আজ বেশ মোটাসোটা।
দ্যাখায়, তবে খাবার খেয়ে নয়
বারুদে ঢাকা জ্যাকেট পড়েছে বলে।
বোমারু বালক
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা
প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার সামনে পুলিশ লাঠি
আমার পিছনে বনপাটি
আমার ডাইনে নেতা পাটি
আমার বাঁয়ে শূণ্য থালা বাটি
আমার পায়ের তলায় বোমা-চাপা মাটি
আমার মাথার উপর শোষণের ছাতি
ফি ভোটে মিথ্যা প্রতিশ্রতি
ফি বছর অর্ধেক গামছার
তেরঙ্গার পত্পতানি
"উটাই কি স্বাধীনতা ---
উটা যদি না হয়
তবে, কোনটা স্বাধীনতা বটে"।
কোনটা স্বাধীনতা
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির
"রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নতুন শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে বলছি
নন্দীগ্রামের জমি পাহারাদারদের থেকে বলছি
ক্ষেতের আলের আড়ালে শুয়ে শুয়ে বলছি
মায়ের, বোনের, ভায়ের রক্তে-
ভেজা-জামা-গেঞ্জি-কাগড় হাতে
নিয়ে বলছি
কবরের নরম কাদামাটি শক্ত
মুঠোয় ভরে বলছি।
শহীদের খাতায় নাম লিখানো
শহীদ মিছিল থেকে বলছি।
রাত পাহারাদার - মেঠো অন্ধকার -
থেকে বলছি।
ভূমিরক্ষা বাহিনীর গভীর থেকে বলছি
শহীদ হওয়ার আগে যেন -
জ্বালাতে পারি শাসকের চিতা।
শাসকের চিতা
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির
"রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ব্রিটিশ চলে গেছে
রেখে গেছে বিপ্লব শিশুর অন্তরে
স্বদেশী শোষক-শাসকের (ব্রিটিশ) উপর
বোমা মারার জন্য।
ভারত আর কবে হবে ভরতবর্ষ?
সেই ছিয়াত্তররে মন্বন্তর
এই আমলাশোল চা-বাগান
সেই জমিদার-জোতদার-বর্গাদার
এই পার্টির নেতা ক্যাডার
সেই লেঠেল পুলিশ
এই ভৈরব হার্মাদ পুলিশ
চলছে চলবে বংশ পরম্পরা
তখন যা খাজনা
এখন তা জরিমানা মাসোহারা
সেই গ্রামছাড়া এই গ্রামছাড়া
সেই তেভাগা --- এই নন্দীগ্রাম, খাম্মাম।
চলছে চলবে --- বংশ পরম্পরা।
পরম্পরা
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির
"রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উঠানে নেই চড়াইয়ের ফুরুৎ ফুরুৎ ওড়া,
বাঁশ ঝাড়ে ফেরেনা ক্লান্ত পাখি সাঁঝে
মৌচাক ফেলে চলে গেছে মৌমাছির দল
ফসলের সীমানায় ওড়েনাকো নিশাচর পাখি
শেয়ালের ডাক শোনা যায় না আলপথে।
বেগুন গাছের ডালে শূণ্য বাসা টুনা
টুনা-টুনি নিরুদ্দেশ।
খালের তলদেশে জল ছুঁয়ে দাঁড়ায় না মেছো বক।
প্রজাপতি ওড়ে না ফুলে ফুলে।
জোনাকি ভুলে গেছে আলো জ্বালাতে।
ব্ল্যাকবোর্ডে আঁকিবুকি করে না শৈশব
মেয়েবেলা থেকে হারিয়ে গেছে
এক্কা-দোক্কা-স্কিপিং দড়ি।
তুলসীতলায় জ্বলে না দীপ।
গোবর জলে ভেজে না গৃহস্থের উঠোন।
হাট বসে না আর হাট বারে।
ছাদনা তলায় বসে না আর বিয়ের আসর।
কৃষ্ণচূড়ার ডাল থেকে ফিরে যায় বসন্ত
বাতাসে ভাতের গন্ধ অনিয়মিত।
মাচায় বুড়ো হয়ে যায় চালকুমড়ো, পুঁইশাক
বীজধান কুঁড়ে কুঁড়ে খায় চাল পোকা
ঘন পোকার মতো।
ঘুম নেই কৃষাণীর চোখে।
ঘুম নেই কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর
দ্বারা প্রকাশিত কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাঁচা ইট পাকা হয়
লাল মানিকের রূপে
ভ্যানরিক্সা লরির পিঠে গরুরগাড়িতে
চড়ে চলে যেতে বাবুদের স্বপ্ন বুনতে।
সেই লাল মানিক দিয়ে না রচিত হত,
রাজমিস্ত্রির কুড়নীর ছোঁয়ায় অমর স্থপতি
যার পাঁজরে কান পাতলেই শোনা যায়
ইতিহাসের ইতিকথা ---
বাইজির মুজরার কথা, নুপুরের কথা, ঝাড়বাতির কথা।
জমিদারি-বর্গাদারি-বাগানবাড়ি রংমহলের কথা।
কত আশ্রয়ের কথা, কত নিরাশ্রয়ের কথা।
কত রক্ত, কত উত্থান, কত পতনের কথা।
সেই ইটের আঁতুরঘর থেকে --- সেই জননী ইটভাটা।
আজ যেন কমরেডদের বাগানবাড়ি,
কিংবা গোপন বাঙ্কার --- তালিবানি --- কাশ্মিরি
জঙ্গি কিংবা ভৈরব হার্মাদ সুপারি কিলারের
নিরাপদ আশ্রয়।
জননী ইটভাটা
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত কবির "রক্তে ভেজা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
কাঁচা ইট পাকা হয়
পাকা ইট লাল হয়
আরও লাল হয় নারীত্বের রক্ত মেখে।
সবুজ সনাতনী মাঠ থেকে তুলে আনে
কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে নন্দীগ্রামের মেয়ে-বৌদের
তারপর ধর্ষণ-গণধর্ষণ কান্না আর গোঙানির শব্দ
হারিয়ে যায় গুলি-বোমার তীব্র শব্দে।
সংজ্ঞহীন দেহ জীবন্ত আগুনে পুড়ে ছাই হয় পাঁজার
. গনগনে আগুনে ---
জেসিকা লালের মতো তন্দুরি ভাটি
তাপসী মালিকের মতো উনুন গর্তে
নন্দীগ্রামের মৃত ঈথারকন্যার হিম নিঃশ্বাস
দীর্ঘ চিমনির মুখ ছুঁয়ে যায় মেঘ।
পাঁজার প্রতিটি ইট আজ যেন
এক একটি বোমা
সেই বোমায় ঝলসে যায়
সবুজ খেত ... ধানশিষ
বোবা হয়ে যায় রাতজাগা পাখি
শুকিয়ে যায় নয়ানজুলির জল।
ইটভাটার পুকুরে ভাসে ছেঁড়া অন্তর্বাস।
এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়ে থাকে কত
কপালের টিপ, চুল, চুলের কাঁটা, ক্লিপ, নাকছাবি
কানের দুল, গলার চেন, পায়ের নূপুর
. কাঁচের চুড়ির ভাঙা টুকরো
কত লাশ গুমখুনে ছাই হয়ে গেছে পাঁজার
. আগুনে!
ইটভাটার পাঁজা তো নয় যেন
কেওড়াতলা নিমতলার শ্মশান।
জ্বলছে আর্তনাদ --- জ্বলছে লাল যুগ।
পুড়ছে ইট, পুড়ছে মানুষ, কোন ধোঁয়ায় কোন
মেঘ বলতে পারে না আকাশ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শস্য সীমানায় ঝরে পড়ে
. মুঠো মুঠো রক্তমাখা ধান।
দক্ষ হার্মাদ এনেছ তুমি
. শালুক ফুল - কলমি ফুল ঝরাবে বলে।
গুমখুনে মেঠো ইঁদুর শহীদ হয়
বুড়ো নিমপেঁচার পায়ে প্রণামী
. হিসাবে দাও মেছো বকের কাটা মুণ্ডু।
ডানা ঝাপটিয়ে হুকুম করে লাল নিমপেঁচা।
তিন-ফসলি মাঠের মতো ম্যাইয়া-বেটি আছে
. বোনাস হিসাবে, সব তোর।
গণিকালয়ের মতো তোমার ঘরে
. কাঙালির মায়ের আনাগোনা বাড়ে।
শ্মশান গাঁয়ে বাড়ি করে পাঁচ কোটি
. খরচ করে।
ফি ভোটে ভাত ছড়াও
. অনাহারী মূর্খ কাক ধরবে বলে।
রাতারাতি সরকার বনে যাও
. নীল জলে ডুব দেওয়া শিয়ালের মতো
ধামশীষ জাদুঘরে পাঠিয়ে
. চিমনির মুখে জাহাজী ধোঁয়া উড়াও।
শস্য সীমানায় ঝরে পড়ে
. মুঠো মুঠো রক্তমাখা ধান।
কাঁচা গেঁও রাত পিষে মরে ন্যানোর চাকার তলায়।
রক্তমাখা ধান কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম
আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত
কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিল্পের নামে যে কৃষকের বন্ধ্যা হল জমি।
কাজের খোঁজে যে যুবকের ক্ষয়ে গেল চটি।
ঘর পেল না যে যুবতী, পেল না মাতৃত্বের স্বাদ।
বিনা ওষুধে শূণ্য হল যে মায়ের কোল।
কাজ হারিয়ে যে শ্রমিকের হাঁড়িতে নেই ভাত।
ঘুমিয়ে আছে বিপ্লবীরা সব হৃদয়ের অন্তরে।
যদি বোমা মারে ক্ষুদিরামের মতো।
যদি তুলে নেয় হাতে এ-কে-৪৭,
যদি পড়ে ধরা, ফাঁসিতে ঝুলে,
বেঁচে যাবে দেশটা ধ্বংসের আগে।
আমি অবাক হব না।
অবাক হব না কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম
আন্দোলনের কবিতা। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর দ্বারা প্রকাশিত
কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
৭৮৬ নং লাইটপোস্টের নীচে
নেমে এসেছে বেকার জীবন।
একদিকে মৃত্যুকোল।
বেঁচে থাকার ধ্বনিত রোল একদিকে।
মাঝখানে হাত বাড়ায়
মস্তান-পুলিশ-নেতা-নষ্ট রাজনীতি।
ফাঁকা উড়ালপুল। শপিংমল গগনচুম্বি
ইমারতী। বিদেশী প্ল্যাটিনামের
মাঝে ঝুলে।
তিলোত্তমার গলায়
"হকার" নামক সিটি গোল্ড।
ফুটপাথ
কবি আশিস দলপতি (জন্ম ২১.৭.১৯৭৪)। এই কবিতাটি "কলকাতা প্রকাশন" এর
দ্বারা প্রকাশিত কবির "রক্তে ভেজা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মোরা, একই গাছের পাতা সবাই
. একই দেশের ভাই,
তবু মোরা নিজের মাঝে
. কেন করি লড়াই।
একই নদীর ওই সহস্র ঢেউ,
. মোদের মত লড়ে না কেউ,
শান্তি পেলেও কেন মোরা,
. অশান্তিকে চাই---
. একই দেশের ভাই।
দূর গগনের তারার ও দল
জানে না তো লড়ার এ ছল,
তাদের মত আমরা কেন,
. থাকি না এক ঠাঁই---
. একই দেশের ভাই।
একই দেশের ভাই
কবি অনির্বাণ সিনহা (৯.৬.১৯৭৫ - ১৬.২.১৯৯৪)। কবির
প্রয়াণের পরে, ১৯৯৫ সালে আনন্দ পাবলিশার্স দ্বারা
প্রকাশিত, “জাগো জাগো কবি” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হোক কলরব ফুলগুলো সব
লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান
অসম্ভবে কখন কবে
মেঘের সাথে মিল হলো ক্যান
হোক অযথা এসব কথা
তাল না হয়ে তিল হলো ক্যান
কুয়োর তলে ভীষণ জলে
খাল না হয়ে ঝিল হলো ক্যান
ধুত্তরি ছাই মাছগুলো তাই
ফুল না হয়ে চিল হলো ক্যান
হোক কলরব ফুলগুলো সব
লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান
হোক কলরব
কথা - কবি রাজীব আশরাফ (জন্মদিন অজ্ঞাত)। সুর ও কণ্ঠ - শায়ন চৌধুরী অর্ণব।
২০০৬ সালে বাংলাদেশে প্রকাশিত অর্ণবের ২য় অ্যালবাম “হোক কলরব”-এর গান। কবি রাজীব আশরাফের, শিশুমনের
নিষ্পাপ কিছু প্রশ্ন নিয়ে লেখা এই গানটি ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের নাম-ভূমিকায় উঠে আসে!
এই নিরীহ এবং ভারী মিষ্টি কথা ও সুরের গানটি প্রতিবাদের ভাষা ও স্লোগান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমরা এখানে তুলে
দিলাম। ভিডিওটি সৌজন্যে Lyrical Guys YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মরছে মানুষ অবিরত, ভাঙছে যে বিশ্বাস
ওরে করোনার চেয়ে বড় খুনী
ওরে করোনার চেয়ে বড়ে খুনী, আহা করছে সর্বনাশ
ওরে মরছে মানুষ অবিরত, ভাঙছে যে বিশ্বাস
মরছে মানুষ অবিরত, ভাঙছে যে বিশ্বাস
করোনার চেয়ে বড় খুনী
ওরে করোনার চেয়ে বড়ো খুনী, করছে সর্বনাশ
করছে সর্বনাশ, ওরে করছে সর্বনাশ
অনাহারে মরছে শিশু, মরছে চাষি ঋণে
অনাহারে মরছে শিশু, মরছে চাষি ঋণে
ওরে যার আছে সে মাস্ক পড়ে নেয়
বাজার থেকে কিনে
ওরে যার আছে সে মুখোশ আঁটে
বাজার থেকে কিনে
হুঁশিয়ার! সব দেশের মানুষ
ওরে হুঁশিয়ার! সব দেশের মানুষ, সাবধান হয়ে যাস
করোনার চেয়ে বড় খুনী
ওরে করোনার চেয়ে বড় খুনী, ওরে সি.এ.এ. ভাইরাস
ওরে সি.এ.এ. ভাইরাস
ওরে করোনার চেয়ে বড় খুনী, ওরে সি.এ.এ. ভাইরাস।
ওরে সি.এ.এ. ভাইরাস।
জনগণমন Janoganomano গ্রুপ
|
কে নাগরিক কে যে নয়, রোগের মতন ছড়ায় ভয়
কে নাগরিক কে যে নয়, রোগের মতন ছড়ায় ভয়
ধর্ম জাতের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
ধর্ম জাতের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
ওরে করোনার চেয়ে বড় খুনী,
ওরে করোনার চেয়ে বড় খুনী, এন.এর.সি. ভাইরাস
ওরে এন.এর.সি. ভাইরাস
করোনা তো রুখবো মোরা রুখবো যে ভাইরাস
এন.আর.সি আর এন.পি.আর. আক সি.এ,এ. আটকাস
ওরে সি.এ,এ. আটকাস।
যে মানুষের ঘর দোর নেই, পথে যাদের বাস
যে মানুষের ঘর দোর নেই, পথে যাদের বাস
বল কাদের ঘরে ধুকবে তারা
বল কাদের ঘরে ঢুকবে তারা, উপায় টা বাতলাস
তোরা উপায় টা বাতলাস
বল কাদের ঘরে ঢুকবে তারা, উপায় টা বাতলাস
ভুখা মানুষ হাত ধুয়ে নে, খাবার নাই বা পাস
ভুখা মানুষ হাত ধুয়ে নে, খাবার নাই বা পাস
দেশ বাঁচাতে তাড়া রে ভাই সমস্ত ভাইরাস
ওরে দেশ বাঁচাতে তাড়া রে ভাই সমস্ত ভাইরাস
তোরা ভয় দেখাবি, কাঁপবে না বুক, বুকে ভাইয়ের লাশ
তোরা ভয় দেখাবি, কাঁপবে না বুক, বুকে ভাইয়ের লাশ
ওরে করোনা যাবে, তোরাও যাবি
ওরে করোনা যাবে, তোরাও যাবি, লাটসাহেবের দাস
তোরা লাটসাহেবের দাস
ওরে করোনা যাবে, তোরাও যাবি, লাটসাহেবের দাস
তোরা লাটসাহেবের দাস
ওরে লাটসাহেবের দাস
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আবদুল শেখ, আবদুল শেখ
নাম তার ছিল আব্দুল শেখ
যায়নি কখনো ইস্কুল সে
তবুও নিখুঁত প্রায় জড়োয়ার গয়নায়
হীরের সেটিং করে হাত তার
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
এভাবেই দু’বেলা জোটে ভাত তার
গাঁয়ে খেলতো পায়ে বল স্টপারে
গাঁয়ে খেলতো পায়ে বল স্টপারে
সচেতন শরীরের ব্যাপারে
কখনও হাতুড়ি ছুঁলে ট্রাইসেপস ফুলে ওঠে
মস্ত জোয়ান ছিল তাগড়া
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
মস্ত জোয়ান ছিল তাগড়া
পুব দিল্লীর ঘন বস্তিতে
পুব দিল্লীর ঘন বস্তিতে
খেটে খেয়ে ছিলো স্বস্তিতে
অভিজাত গয়নায় আলো ঝলকিয়ে যায়
লোকে বলে যাদু ছিলো হাতে
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
সত্যিই যাদু ছিলো হাতে
জাহানারা আছে লালগোলায়
জাহানারা আছে লালগোলায়
জনগণমন Janoganomano গ্রুপ
|
নাম তার ছিল আব্দুল শেখ জনগণমন Janoganomano গ্রুপ। গানটি ভিডিওতে শুনুন। ভিডিও সৌজন্যে
জনগণমন JANAGANAMANA YouTube Channel. দাঙ্গা ও পরিয়াযী শ্রমিকদের দুর্দশার প্রতিবাদ। গানটি শুনে লেখা।
ছবিতেই সে যে হাত বোলায়
ঈদে দেখা হয় যদি অপেক্ষা নিরবধি
খিদে নাকি প্রেম কাকে বাছবে
বল বল বল বল
খিদে নাকি প্রেম কাকে বাছবে
বুড়ো সর্দার কাজ চায় আরো
বুড়ো সর্দার কাজ চায় আরো
টানাটানি তার সংসারও
মাথা গুঁজে করে কাজ
মুখ তুলে চায় না
মালিকের মন তবু পায় না
হায় হায় হায় হায়
মালিকের মন তবু পায় না
ক’টা বেশী টাকা এইবার দিলে
ক’টা বেশী টাকা এইবার দিলে
জাহানারা বলে মোবাইলে
তলপেটে প্রাণটার পুষ্টিটা দরকার
বলেছেন ডাক্তার দিদি
হুম হুম হুম হুম
বলেছেন ডাক্তার দিদি
শুনে আবদুল হঠাৎ যেন ক্ষেপে যায়
শুনে আবদুল হঠাৎ যেন ক্ষেপে যায়
দিন রাত এক করে খেটে যায়
কোত্থাও যায় না - নামাজ আদা হয় না
আর কিছু জমালেই ছুটি
হৈ হৈ হৈ হৈ
নেচে ওঠে মোরগের ঝুঁটি
কদি আগে লেগেছিলো দাঙ্গা
কদি আগে লেগেছিলো দাঙ্গা
কাছে আসা গোলাগুলি হ্যাঙ্গাম
দোকান বন্দ দেখে ভাবে আবদুল শেখে
আবার তেমনি কিছু ঘটবে
মনে হয় মনে হয়
আবার তেমনি কিছু ঘটবে
টিভিতে খবর দেখে দেখে
টিভিতে খবর দেখে দেখে
ভয় পায় আবদুল শেখে
ভয়ে হতবুদ্ধি দেখে নি যা মুক দিন
রোগ ছড়িয়েছে সারা দেশে
মারকাস মারকাস
রোগ ছড়িয়েছে সারা দেশে
ক’দিন আর এই ভাবে বলো কাটবে?
ক’দিন আর এই ভাবে বলো কাটবে?
শেখ আবদুস স্থির করে হাঁটবে
জাহানারা ফোন করে
ফিরে যেতে ফোন করে
জানে সে দূরত্বটা কম নয়
হয় হয় নিশ্চয়
জানে সে দূরত্বটা কম নয়
হয় তো বোকার মতো চেষ্টা
হয় তো বোকার মতো চেষ্টা
অসময়ের লড়াইয়ের শেষটা
চড়া রোদ্দুর ছিল
দল বেঁধে ফিরেছিলো
পরিযায়ী শ্রমিকের দল
হায় হায় মিলে যায়
ক্ষিদে পেটে খালি পায়
পরিযায়ী শ্রমিকের দল
দু হাজর কিমি এই এই রাস্তা
দু হাজর কিমি এই এই রাস্তা
পেরোবেই খোদা কা ওয়াস্তা
খাবার বা জল নেই - সাথে নেতা - দল নেই
রাষ্ট্র ছড়ায় কীট নাশক
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
রাষ্ট্র ছড়ায় কীট নাশক
রায়বেরিলিতে বুড়ো সেই বট গাছ
শহর এড়িয়ে চলে ছোঁয়াচ
জাহানারা ফোন করে
রিং টোন সুখবরে
আবদুল ফোন তুলছে না
জানে না সে কোনো দিন
স্বামী আর ফোল তুলবে না
জানে না সে কোনো দিন
স্বামী আর ফোল তুলবে না
গল্পের নটে গাছ মুড়োলে
গল্পের নটে গাছ মুড়োলেই
বলার কথাগুলো ফুরোলেই
জীবনের জয় হয় মারী মানে পরাজয়
আবদুল থেকে যায় আড়ালে
হয় তো বা বেঁচে যেতো
কেউ যদি হাত বাড়ালেই
হয় তো বা বেঁচে যেতো
কেউ যদি হাত বাড়ালেই
ইতিহাসও তার হাত ধুয়ে দেয়
ইতিহাসও তার হাত ধুয়ে দেয়
অসময় সময় যে অসহায়
তবু দেখে আয়নায় - জড়োয়ার গয়নায়
রক্তের দাগ লেগে আছে
তবু দেখে আয়নায় - জড়োয়ার গয়নায়
রক্তের দাগ লেগে আছে
তবু দেখে আয়নায় - জড়োয়ার গয়নায়
রক্তের দাগ লেগে আছে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি যখন গাইছি গান
খাচ্ছি গরম ভাত
আমার মতন ছোট্ট শিশু
হাঁটছে দিন রাত
খিদে পেয়েছে খায়নি খুকী
ধূলো খেয়েছে চেটে
আমার মতন ছোট্টো পায়ে
হাঁটছে খালি পেটে
মা গো আমার কষ্ট হচ্ছে
ভয় করছে মা
সরিয়ে রাখো এত খাবার
খেতে পারবো না
বাড়িশুদ্ধ ফিরছে ওরা
কাজ করতো দূরে
বাড়ি ফিরছে কোথায় বাড়ি
হাঁটছে শহর জুড়ে
ওদের দিকে দেখছে না কেউ
ধুচ্ছে নিজের হাত
আমার মতন ছোট্ট শিশু
হাঁটছে দিন রাত
জনগণমন Janoganomano গ্রুপ
|
খিদে পেয়েছে মা জনগণমন Janoganomano গ্রুপ। অজ্ঞাত শিশুশিল্পীর কণ্ঠে গানটি ভিডিওতে শুনুন। ভিডিও
সৌজন্যে জনগণমন JANAGANAMANA YouTube Channel. দাঙ্গা ও পরিয়াযী শ্রমিকদের দুর্দশার প্রতিবাদ। গানটি শুনে লেখা।
মা গো আমার কষ্ট হচ্ছে
ভয় করছে মা
সরিয়ে রাখো এত খাবার
খেতে পারবো না
তোমার ছেলে বেঁচে আছে
ওদের কথা ভাবো
ভাতের থালা নিয়ে মাগো
ওদের কাছে যাবো
মা গো আমার কষ্ট হচ্ছে
ভয় করছে মা
খায়নি ওরা আমিও মা
খেতে পারবো না
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে গণধর্ষিতা নারী,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে মৃত্যু বেসরকারী।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে শিশু শ্রমিকের লাশ,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে শুধুই অগাস্ট মাস।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে উগ্রপন্থী হানা,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে লক্ আউট কারখানা।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে পতাকার ছড়াছড়ি,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে চাষীর গসায় দড়ি।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে টিভি তে রাষ্ট্রপতি,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে সুনামির ক্ষয় ক্ষতি।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে উড়ালপুলের ধারে,
স্বজন হারানো ভিখারী জনতা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে মাইকে মাইকে গান,
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে - মন্ত্রীরা বলে যান।
স্বাধীনতা মানে আমরা জানি না, শব্দটা কত দামী ---
বুঝেছিলো তারা, যারা আজ শুধু - "স্বাধীনতা সংগ্রামী”॥
আমার দেশে তো স্বাধীনতা মানে
কবি ইমন মুখার্জী (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় প্রকাশ - ১৮.৯.২০১৬।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নৈনিতালের খৈনী খেয়ে হোইনি আমি বিধির বাম,
দেখলে গরু আদর করি, আয় দেখে যা ভন্ড রাম।
পশুর প্রেমে, অসুর নেমে আস্ লে আসুক নেই ঝুঁকি,
রাজনীতি টা সবাই বোঝে, শত্রু কে। আর বন্ধু কী !
চাপড়ে তালি, মন্ত্রী খালি, ধর্ম বোড়ের দিচ্ছে চাল,
অর্থনীতির, ও সম্প্রীতির অবস্থা টা টাল্ মাটাল্ !
বন্দী নোটের, ফন্দী ভোটের, স্যুট্ বা কোটের দাম জানি,
জিওর প্রিয়ো আম জনোতা, কিওর মুকেশ অম্বানী !
সেই ফরেনে, যেই নরেন এ, ফিরলো বিবেক দেশ বাসীর,
সেই শিকাগো, আজ ফিকা গো, নরেন মোদী ফ্যান্টাসী।
দিলীপ ঘোষের, তক্তপোষের তলায় থাকুক ধর্ম ঢাল্ ,
আদর্শ টা ভক্তে, থুড়ি, রক্তে রাঙা লাল মশাল ... ।
নৈনিতালের খৈনী খেয়ে
কবি ইমন মুখার্জী (জন্মকাল অজ্ঞাত)
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় প্রকাশ - ২৫.৯.২০১৯।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নাম ছিল তার উন্নয়ন
আকাশ জোড়া বিজ্ঞাপন,
এই শহর আর পোষায় না
লন্ডন হবে কলকাতা ।
উঠছে ব্রীজ, জ্বলছে আলো,
গরীব মায়ের কপাল ভালো।
সংস্কৃতির বেলুন ওড়ে,
শিল্পী আসে, শিল্প গড়ে।
পুঁজির টাকা ভাগের মাসি
শিল্পপতির অট্টহাসি।
সেই হাসিতে আগুন জ্বলে
আজ বাজারে, হাসপাতালে
পুড়ছে কত মরছে কার?
হয়না তখন আবিস্কার।
হঠাৎ করে ভর দুপুরে,
কান ফাটানো শব্দ করে
ব্রীজগুলো সব ঝাপিয়ে পড়ে-
স্কন্ধকাটার নেত্য করে
যাত্রীবোঝাই গাড়ির ওপর -
প্রাণের শিবির রক্তসফর।
শহীদ
কবি শাশ্বতী ভট্টাচার্য (জন্মকাল অজ্ঞাত)। ৩১ মার্চ ২০১৬ তারিখে,
উত্তর কলকাতার পোস্তার ফ্লাইওভার ব্রীজটি ধ্বসে পড়ে, ২৭ জনের
মৃত্যুর পরে লেথা। মিলনসাগরে প্রকাশকাল মার্চ ২০১৭।
ব্রীজের তলায় আটকে থাকা
হাত-পা গুলো রক্তমাখা।
দোমড়ানো সব আস্ফালন
নাম দিয়েছি উন্নয়ন।
চ্যানেল জুড়ে গরম ফাইট -
ফটোয় ভরা সোশাল সাইট,
তারপর সব দয়াল নেতা
ভাষণ জোড়া টাকার কথা,
ক্ষতিপূরণ এর চমৎকার
ভোটটা দিলেই অঙ্গীকার-
'লন্ডন হবেই কলকাতা'
লাশগুলোর আর কি চিন্তা?
উন্নয়নের জন্ম দিলো....
শহীদ হয়ে মানুষগুলো॥