.
.
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
.            প্রতিবাদী
.        কবিতার
.    আগের
পাতায় যেতে
.    এখানে
.         ক্লিক
.               করুন
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
আগের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
অতুলপ্রসাদ সেন (১৭)
সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
অরবিন্দ ঘোষ (১)
সরলা দেবীচৌধুরাণী (২)
শচীন্দ্রচন্দ্র মজুমদার (১)
ময়মনসিংহ সুহৃদ সমিতি (১)
জাতীয় শিল্পী পরিষদ (৩)
মোমিনদের গান (৩)
হেমলতা দেবী (১)
সুরমাসুন্দরী ঘোষ (১)
বিধুভূষণ বসু (১)   
বিধুমুখী রায় (১)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)  
বিপ্লবী পুলিন দাস (১)
রমণীমোহন ঘোষ (১)
পীতাম্বর দাস - এবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি (১x৪)
রমেশ শীল (১০)
যতীন্দ্রমোহন বাগচী (৪)  
চারণকবি মুকুন্দদাস (৮)
বিপ্লবী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
মৃণালিনী সেন (১)
বিপ্লবী ঋষিকেশ কাঞ্জিলাল (১)
.        পরের শিকল ভাঙিস পরে,
.                নিজের নিগড় ভাঙ রে ভাই।
.        আপন কারায় বন্ধ তোরা,
.                পরের কারায় বন্দী তাই।
.        হা রে মূর্খ, হা রে অন্ধ,,
.        ভাইয়ে ভাইয়ে করিস দ্বন্দ্ব !
.        দেশের শক্তি করিস মন্দ---
তোদের        তুচ্ছ করে তাই সবাই।

.        সার ত্যজিয়ে খোসার বড়াই !
তাই     মন্দিরে মসজিদে লড়াই।
.        প্রবেশ ক'রে দেখ, রে দু ভাই---
.                অন্দরে যে একজনাই।
.        দেশ-মাতার আর বিশ্ব-মাতার
.        ম্লেচ্ছ কাফের এক পরিবার।
.        নয় তুরস্ক, নয়কো তাতার---
.                জন্ম-মৃত্যু এই যে ঠাঁই।

.        ভিন্ন জাত আর ভিন্ন বংশ---
.        এক জাতি তাই এক শো অংশ।
.        হিন্দু রে, তুই হবি ধ্বংস
.                না ঘুচালে এই বালাই।
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
.              ভাইকে ছুঁলে পদতলে
.              শুদ্ধ হোস তুই গঙ্গাজলে ;
ওরে সেই    অছুঁৎ ছেলেই তুলে কোলে
.                   তুষ্ট হন যে গঙ্গা-মাঈ।
.        খাবি নে জল ভাইয়ের দেওয়া?
.        খাস নে অন্ন তাদের ছোঁওয়া?
ওরে,         শবরীর আধ-খাওয়া মেওয়া
.                রঘুনাথ তো খেলেন তাই।

.        তোরাই আবার সভাস্থলে
.        হাঁকিস সাম্য উচ্চরোলে,
.        সম-তন্ত্র চাস সকলে---
.                বিশ্বপ্রেমের দিস দোহাই !
.        জাতির গলায় জাতের ফাঁস,
.                ধর্ম করছে ধর্মনাশ,
.        নিজের পায়ে পরলি পাশ,
.                দাসত্ব ঘোচে না তাই।

.        ছাড়্ দেখি রে রেষারেষি,
কর্‌         প্রাণে প্রাণে মেশামেশি।
.        তখন তোদের সব বিদেশী
.                দাস না ব'লে বলবে ভাই।
কঠিন শাসনে করো মা, শাসিত
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)   

কঠিন শাসনে করো মা, শাসিত।
আমরা দয়ার তব নহি অধিকারী।

.        ছিলে মা, অতুল-বিভব-শালিনী,
.        মোদের লাগিয়ে হলে কাঙালিনী ;
.        দীনবেশ তব হেরিয়া জননী,
.                নয়নে নাহি অনুতাপ-বারি।

স্বার্থ-মোহে মোরা সদাই হতজ্ঞান,
আপন দোষে মোরা হারাই নিজ মান।
ভায়েরে ঘৃণা করি, করিয়া অপমান,
.        পরের কাছে মোরা কৃপা-ভিখারি।

আপন ধন পদ যশের আশায়
মিথ্যা প্রীতি-পূজা জানাই তোমায় ;
প্রাণের অঞ্জলি দিতে নারি পায়
.        যে পদ ধৌত করে জাহ্নবী-বারি।
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আপনার হিত ভেবে ভেবে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)   

আপনার হিত ভেবে ভেবে
.        দিন কাটালি, মূঢ়মতি !
তোর নিয়মে বাঁধা কি রে
.        জগবন্ধু জগপতি?

নিজের ভাবনা ভাবলি যত,
ভাবনার ভার বাড়ল তত ;
ভাঙল আশা শত শত,
.        তবু আশার নাই বিরতি।

সাগর সাজায় শৈলের শির,
শৈল দেয় নিজ বুকের নীর ;
শিষ্য হয়ে প্রকৃতির
.        শেখ্ রে পরের অনুগতি।

বসে আপন বন্ধ ঘরে
কাঁদলি কত নিজের তরে ;
দু ফোঁটা জল দে রে পরে
.        যারা দীন দুঃখী অতি।

থাকবি যদি নিজের কাজে
কেন এলি সবার মাঝে?
আয় রে সেজে দাসের সাজে,
.        সবার পায়ে কর্‌ প্রণতি॥
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পরের শিকল ভাঙিস পরে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)   
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
॥ বাউল॥

নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন,
তুই সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।
মূঢ় মন, সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।
লাগে নি যার পায়ে ধুলি, কি নিবি তার চরণ ধুলি,
নয়রে সোনায়, বনের কাঠেই হয় রে চন্দন।
মূঢ় মন, হয় রে চন্দন।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।
এ মোধন মায়ের মতন, দুঃখীটুতেই অধিক যতন,
এ ধনেতে ধনি যে জন, সেই তো মহাজন।
মূঢ় মন, সেই তো মহাজন।
বৃথা তোর কৃচ্ছসাধন, সেবাই নরের শ্রেষ্ঠ সাধন,
মানবের পরম তীর্থ দীনের শ্রীচরণ।
মূঢ় মন, দীনের শ্রীচরণ।
মতামতের তর্কে মত্ত, আছিস ভুলে পরম সত্য,
সকল ঘরে সকল নরে আছেন নারায়ণ।
মূঢ় মন, আছেন নারায়ণ।
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নিচুর কাছে নিচু হতে শিখলি না রে মন
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
গানটি শুনুন সন্তোষ সেনগুপ্তর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Santosh Sengupta - Topic YouTube Channel.
.
উঠ গো, ভারত লক্ষ্মী! উঠ আদি জগত-জন-পূজ্যা!
দুঃখ দৈন সব নাশি', কর দূরিত ভারত লজ্জা।
ছাড়গো, ছাড় শোক-শয্যা, কর সজ্জা
পুনঃ কমল-কনক-ধন-ধান্যে!
জননি গো, লহ তুলে বক্ষে, সান্ত্বন-বাস দেহ তুলে চক্ষে ;
কাঁদিছে তব চরণ তলে, ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।
কাণ্ডারি! নাহিক কমলা, দুখ লাঞ্ছিত ভারতবর্ষে,
শঙ্কিত মোরা সব যাত্রী, কাল-সাগর-কম্পন-দর্শে,
তোমার অভয়-পদ-স্পর্শে, নব হর্ষে,
পুনঃ চলিবে তরণী শুভ লক্ষ্যে।
জননি গো, লহ তুলে বক্ষে, সান্ত্বন-বাস দেহ তুলে চক্ষে ;
কাঁদিছে তব চরণ তলে, ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।
ভারত-শ্মশান কর পূর্ণ পুনঃ কোকিল-কূজিত কুঞ্জে,
দ্বেষ হিংশা করি চূর্ণ, কর পূরিত প্রেম-অলি-গুঞ্জে
দূরিত করি পাপ-পুঞ্জে, তপঃ-পুঞ্জে,
পুনঃ বিমল কর ভারত-পূণ্যে।
জননি গো, লহ তুলে বক্ষে, সান্ত্বন-বাস দেহ তুলে চক্ষে ;
কাঁদিছে তব চরণ তলে, ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভারতলক্ষ্মী
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
১৯৬২ সালের রেকর্ড করা এই গানটি সমবেত কণ্ঠে গেয়েছেন উৎপলা সেন, ইলা বসু, নির্মলা মিশ্র,
আরতি মুখোপাধ্যায়, অসীমা মুখোপাধ্যায়,  শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়,
শৈলেন মুখোপাধ্যায়, তরুণ বন্দোপাধ্যায়, মৃণাল মুখোপাধ্যায়, মৃণাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ শিল্পীগণ।
ভিডিওটি সৌজন্যে
সপ্তর্ষি ঘটক YouTube Channel.
.
হও ধরমেতে ধীর                        হও করমেতে বীর,
    হও উন্নত শির, নাহি ভয়।
ভুলি ভেদাভেদ জ্ঞান,                    হও সবে আগুয়ান,
    সাথে আছে ভগবান,---হবে জয়।
    নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান,
    বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান্ ;
দেখিয়া ভারেতে মহা-জাতির উত্থান---জগজন মানিবে বিস্ময়!
    তেত্রিশ কোটি মোরা নহি কভু ক্ষীণ,
    হতে পারি দীন, তবু নহি মোরা হীন!
ভারতে জনম, পুনঃ আসিবে সুদিন---ঐ দেখ প্রভাত-উদয়!
ন্যায় বিরাজিত যাদের করে, বিঘ্ন পরাজিত তাদের শরে ;
সাম্য কভু নাহি স্বার্থে ডরে---সত্যের নাহি পরাজয়॥
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হও ধরমেতে ধীর  কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তরুণ মজুমদার পরিচালিত 'পথভোলা' চলচ্চিত্রে গানটি গেয়েছিলেন প্রখ্যাত
নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা উৎপল দত্ত এবং সংগীতশিল্পী অরুন্ধতী হোমচৌধুরী দ্বৈতকন্ঠে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
not applicable - Topic YouTube Channel.
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বল, বল, বল সবে, শত বীণা-বেণু-রবে,
ভারত আবার জগত-সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।
ধর্মে মহান্ হবে, কর্মে মহান্ হবে,
নব দিনমণি উদিবে আবার পুরাতন এ পুরবে!
আজও গিরিরাজ রয়েছে প্রহরী,
ঘিরি তিনদিক নাচিছে লহরী,
যায়নি শুকায়ে গঙ্গা গোদাবরী, এখনও অমৃতবাহিনী।
প্রতি প্রান্তর, প্রতি গুহা বন,
প্রতি জনপদ, তীর্থ অগণন, কহিছে গৌরব-কাহিনী।
বিদুষী মৈত্রেয়ী খনা লীলাবতী,
সতি সাবিত্রী সীতা অরুন্ধতী,
বহু বীরবালা বীরেন্দ্র-প্রসূতি, আমরা তাঁদেরই সন্ততি॥
ভোলেনি ভারত, ভোলেনি সে কথা,
অহিংসার বাণী উঠেছিল হেথা,
নানক, নিমাই করেছিল ভাই, সকল ভারত-নন্দনে।
ভুলি ধর্ম-দ্বেষ জাতি-অভিমান,
ত্রিশকোটি দেহ হবে এক প্রাণ, একজাতি প্রেম-বন্ধনে॥
মোদের এ দেশ নাহি রবে পিছে,
ঋষি-রাজকুল জন্মেনি মিছে,
দুদিনের তরে হীনতা সহিছে, জাগিবে আবার জাগিবে।
বল বল বল সবে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)। রুমা গুহঠাকুরতার পরিচালনায় 'ক্যালকাটা ইয়ুথ
কয়্যার'-এর বৃন্দগান শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে
Calcutta Youth Choir - Topic YouTube Channel.
.
আসিবে শিল্প-ধন-বাণিজ্য,
আসিবে বিদ্যা-বিনয়-বীর্য, আসিবে আবার আসিবে॥
এস হে কৃষক কুটির-নিবাসী,
এস অনার্য গিরি-বনবাসী,
এস হে সংসারী, এস হে সন্ন্যাসী, ---মিল হে মায়ের চরণে।
এস অবনত, এস হে শিক্ষিত,
পরহিত-ব্রতে হইয়া দীক্ষিত, ---মিল হে মায়ের চরণে।
এস হে হিন্দু, এস মুসলমান,
এস হে পারসী, বৌদ্ধ, খৃষ্টিয়ান্, ---মিল হে মায়ের চরণে॥

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা!
কি যাদু বাংলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
( এমন কোথা আর আছে গো! )
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা॥
ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
    ( মরি হায়, হায়রে! )
আছে কৈ এমন ভাষা এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা॥
বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন, হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন :
  ( আরও কত মধুপ গো! )
ঐ ফুলেরই মধুর রসে বাঁধলো সুখে মধুর বাসা॥
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আনলো মালা জগত্ জিনে!
 ( গরব কোথায় রাখি গো! )
তোমার চরণ-তীর্থে আজি জগত্ করে যাওয়া-আসা॥
ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে, ডাকনু মায়ে 'মা, মা' ব'লে ;
ঐ ভাষাতেই বলবো হরি, সাঙ্গ হ'লে কাঁদা হাসা॥

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
বাংলাভাষা
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
গানটি শুনুন শিল্পী মিতা হক এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Golden Song Lyrics YouTube Channel.
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ রামপ্রসাদী মালসী॥

দেখ, মা, এবার ছুয়ার খুলে।
গলে গলে এনু মা, তোর,
হিন্দু মুসলমান দু ছেলে।

এসেছি মা, শপথ করে,
ঘরের বিবাদ মিটবে ঘরে ;
যাব না আর পরের কাছে
ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ হলে।

অনুগ্রহে নাই মুকতি,
মিলন বিনা নাই শকতি,
এ কথা বুঝেছি দোঁহে---
থাকব না আর স্বার্থে ভুলে।

থাকবে না আর রেষারেষি---
কাহার অল্প, কাহার বেশি ;
দু ভাইয়ের যা আছে জমা
সঁপিব তোর চরণ-তলে।
দেখ মা, এবার দুয়ার খুলে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান। গানটি শুনুন শিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন এর কণ্ঠে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Nilufar Yasmin - Topic YouTube Channel.
.
দু-জনেই বুঝেছি এবার---
তোর মতো কেউ নেই আপনার ;
তোরই কোলে জন্ম মোদের,
মুদব আঁখি তোরই কোলে।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ বেহাগ॥

আপন কাজে অচল হলে
চলবে না রে চলবে না।
অলস স্তুতি-গানে তাঁর আসন
টলবে না রে টলবে না।

হল্‌ যদি তোর না হয় না সচল,
বিফল হবে জলদ-জল ;
ঊষর ভূমে সোনার ফসল
ফলবে না রে ফলবে না।

সবাই আগে যায় রে চলে ;
বসে আছিস তুই কি বলে?
নোঙর বেঁধে স্রোতের জলে
তরী তোর চলবে না রে চলবে না।

তীরের বাঁধন দে রে খুলি,
চলে যা তুই পালটি তুলি ;
দিক যদি তুই না যাস ভুলি
তরী তোর তলবে না রে তলবে না।
বিধি তোরে ছলবে না রে ছলবে না।
আপন কাজে অচল হলে চলবে না
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান। ১৯৫১ সালে রেকর্ড করা এই গানটি শুনুন শিল্পী মঞ্জু গুপ্ত এর কণ্ঠে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Surajit Sen YouTube Channel.
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ কীর্তন॥

কত কাল রবে নিজ যশ-বিভব-অন্বেষণে?
দু দিনের ধনের লাগি ভুলিলে পরম ধনে !

ঘরেতে ধন কর পুঁজি, সঙ্গে নেবে ভাব বুঝি?
দীনের দুঃখ করো হে মোচন, দীনের অভাব নাই এ দেশে॥
দীনের ধনেই ধনী তোমরা--- দীনবন্ধু হবেন সুখী।
দীনের দুঃখ করো হে মোচন, পুণ্য হবে ধন-অরজনে।

দুটি ঘরে জ্ঞানের আলো, কোটি ঘরে আঁধার কালো ;
এ আঁধার ঘুচাতে হবে--- নইলে এ দেশ এমনি রবে।
দানেই এ জ্ঞান দ্বিগুণ হবে--- এরাও তোমার মায়ের ছেলে।
এ আঁধার ঘুচাতে হবে যতনে, অতি যতনে।

পুরানো সে ত্যাগের কথা হৃদয়ে কি দেয় না ব্যথা?
সেই দেশের মানুষ তোমরা---
যেথা রাজার ছেলে হ'ত ফকির, যেথা পরের তরে ঝরত আঁখি ;
যেথা ধন হতে প্রেম ছিল বড়ো, যেথা ধনী ছিল দীনের অধীন।
সেই দেশের মানুষ তোমরা--- সে কথা কি আছে মনে?
কত কাল রবে নিজ যশ-বিভব-অন্বেষণে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান।
.
কেন এলে তবে মানবের ভবে রবে যদি নিজ কাজে?
সবাকার মান হোক তব মান, অপমান পর-লাজে।---
সে দিন কবে বা হবে?
জাতিকুল-অভিমান, দ্বেষ-নিন্দা-ভেদজ্ঞান,
ভারতে আনিল মরণ--- ভাই হে।
কবে হবে এ সুমতি, সবার উন্নতি হইবে সবারই সাধন---
হেন সাধন আর নাই হে।

এ-হেন সাধনে জীবনে মরণে পূজিব হে প্রেমসিন্ধু।
মোরা পুজিব তোমায়
সেবার কুসুম কুড়াইয়া, নিজের পূজা ঘুচাইয়া,
পরের দুঃখ ঘুচাইয়া, ভারতের আশা পুরাইয়া।
তব পদে ঠাঁই যেন সবে পাই--- দয়া করো দীনবন্ধু। .
ওহে দীনবন্ধু, তুমি দীনজনের লও প্রণতি, নমো দীনবন্ধু।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ মিশ্র খাম্বাজ॥

ভারত-ভানু কোথা লুকালে?
পুনঃ উদিবে কবে পূরব-ভালে?
হা রে বিধাতা, সে দেবকান্তি
কালের গর্ভে কেন ডুবালে?

আছে অযোধ্যা, কোথা সে রাঘব?
আছে কুরুক্ষেত্র কোথা সে পাণ্ডব?
আছে নৈরঞ্জনা, কোথা সে মুক্তি?
আছে নবদ্বীপ, কোথা সে ভক্তি?
আছে তপোবন, কোথা সে তপোধন?
কোথা সে কালা কালিন্দী-কুলে?

পুরুষ অবরুদ্ধ আপন দেশে ;
নারী অবরুদ্ধ নিজ নিবাসে।
কোথা সে বীরেন্দ্র সুর দানবারি?
কোথা সে বিদুষী তাপসী নারী?
সিংহের দেশে বিচরিছে শিবা,
বীর্য বিড়ম্বিত খল কোলাহলে।
ভারত-ভানু কোথা লুকালে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান।
.
নানক গৌরাঙ্গ শাক্যের জাতি---
নাহিক সাম্য, ভেদে আত্মঘাতী।
ধর্মের বেশে বিহরে অধর্মী।
কোথা সে ত্যাগী, প্রেমী ও কর্মী?
কোথা সে জাতি যাহারে বিশ্ব
পূজিত কালের প্রভাতকালে?

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ ভৈরবী॥

খাঁচার গান গাইব না আর খাঁচায় ব’সে।
কণ্ঠ আমার র'বে না আর পরের বশে।

সোনার শিকল দে রে খুলি,
দুয়ারখানি দে রে তুলি।
বুকের জ্বালা যাব ভুলি
মেঘ-পরশে--- শীতল মেঘের পরশে।

থাকবে নীচে ধরার ধুলি ;
ভুলব পরের বচনগুলি।
বলব আবার আপন বুলি
মন-হরষে--- আপন মনের হরষে।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
খাঁচার গান গাইবো না আর খাঁচায় বসে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান।
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.                     ॥ কীর্তন॥

ওহে পুরজন                  দাও কিছু ধন
.            প্লাবনপীড়িত জনে,
তব দেশবাসী                করে হাহাকার
.            অন্ন-গেহ-বিহনে।
শিল্পী ও চাষী               কত গেছে ভাসি
.            দারুণ এ শ্রাবণে,
আশ্রয়হীন                         বস্ত্রবিহীন
.            মৃত্যু মাগিছে মনে।
আর সইতে নারে,         বলে হা বিধাতা।

কাদিছে জননী                কোলের বাছনি
.            যায় বুঝি অনশনে।
কে আছ মা, ঘরে,           দাও স্মেহভরে,
.           বাঁচাও শিশুরে প্রাণে।
ওগো স্নেহময়ী,           ওগো শিশুর মাতা।

তব ভাইবোনে                হরিবে শ্রমনে,
.            সহিবে বলো কেমনে?
দাও কিছু দাও,                বিপন্নে বাঁচাও---
.            সুখী করো নারায়ণে।
ওহে পুরবাসী,                করো দুঃখীর সেবা।
ওহে পুরজন দাও কিছু ধন
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান।
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ ভৈঁরো॥

জাগো জাগো, জাগো এবে।
হেরো পূরব-প্রান্তে ভানু-রেখা হে ভারতবাসী।
মঙ্গল-সংগীত শোনো বিহগ-কণ্ঠে।
পুষ্পে নব সৌরভ, গগনে নব হাসি।

দূর অতীত শোনো ডাকে--- বৎস জাগো---
মোদের সম্মান গৌরব রাখো।
ভবিষ্যতে শোনো ডাকে কর্মভেরী,
সুপ্তি পরিহরো, মুক্তি-অভিলাষী।

দক্ষিণে বামে দেখো জাগে কত জাতি---
নবীন উৎসাহে, নয়নে নব ভাতি।
জাগো, জাগাও সবে নব দেশপ্রেমে ;
শঙ্কা কোরো না হেরি' বিপদদুঃখরাশি।
জাগো জাগো, জাগো এবে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
কবি “গীতিগুঞ্জ” কাব্যগ্রন্থের গান।
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জননী বঙ্গ, তোমার সঙ্গ লভিয়া যদি গো
অঙ্গ আমার হয় লা মা, ক্ষয় ;
তথাপি রঙ্গে ভ্রূকুটি-ভঙ্গে তুচ্ছ করিয়া
গাহিব জননী, তোমারি জয়।
লাঞ্ছিত আমরা যদিও জননী,
শোণিত-রঞ্জিত মোদের শির ;
বক্ষ ভেদিয়া বয়ে যায় গুলি,
তথাপি ফেলি না অশ্রু-নীর।
মৃত্যু সতত করিছে নৃত্য শিয়রে মোদের,
তবু তে করি না কাহারে ভয়।
অভয়ার বরপুত্র আমরা।
হাসিয়া করি মা, গরল পান ;
অনল-দাহন যদিও মা বুকে,
কণ্ঠ গাহিছে তোমারি গান।
সপ্ত কোটি সন্তান আমরা
তোমার লাগিয়া এনেছি অর্ঘ্য ;
তুমি গো জননী, দেবতা মোদের,
ধরায় তুমি মা, মোদের স্বর্গ!
যে পূজার মা গো, এত আয়োজন প্রাণ-বিনিময়ে
যেন সে যজ্ঞ পুর্ণ হয়!
জননী বঙ্গ, তোমার সঙ্গ লভিয়া
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
জানুয়ারী ২০০২ সালে ভারবি থেকে প্রকাশিত, শোভন
সোম সম্পাদিত “অতুলপ্রসাদ সেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা” কাব্য
সংকলনের কবিতা।
.
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
খোল মা, খোল মা দ্বার বহুদিন পরে
আজি এ তামসরাতে উল্কার আলোকে
পথ চিনি পুরাতন মাতৃগৃহে পুন
ফিরিয়া এসেছি ; মোরা কোটি পুত্র তোর,
নহি মা অতিথি ; স্নেহে ডেকে নে গো ঘরে।
নাহি সুখশয্যা পর্ণগৃহে তোর?---তাহে
ক্ষতি কি মা? আজি ধর্মদ্বেষ-জাতিগর্ব
ভুলি, কণ্ঠে-কণ্ঠে মিলি সহোদর সবে
তোর ক্রোড়ে সব ব্যথা জুড়াতে এসেছি, ...
মুষ্টিঅন্ন যাহা আছে তাই দেগো আজ
কোটি হস্তে বাটি লব মায়ের প্রসাদ
মিটাইব পূর্ণ করি প্রবল এ ক্ষুধা।
কোটি হস্তে ভরা শস্যে করিব শ্যামল
অচিরে প্রান্তর তোর কোটি পুত্র মিলি।
স্বেচ্ছায় ফেলিয়া দূরে মহার্ঘ বসন
ভিক্ষুকের বেশে মা গো এসেছি আমরা ;
খুলে দে খুলে দে দ্বার, অয়ি স্নেহময়ী।...
ঐ যে খুলিল দ্বার, মার মৌনমুখে
ঈষৎ হাসির রেখা ; হস্ত প্রসারিত
স্নেহে ; দে মা পদধূলি অধম সন্তানে।
প্রত্যাবর্তন
কবি অতুলপ্রসাদ সেন (২০.১০.১৮৭১ - ২৬.৮.১৯৩৪)
জানুয়ারী ২০০২ সালে ভারবি থেকে প্রকাশিত, শোভন সোম সম্পাদিত “অতুলপ্রসাদ
সেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা” কাব্য সংকলনের কবিতা।
.
আয় ভাই ত্যাগমন্ত্রে হইয়া দীক্ষিত
স্বার্থ করি বলিদান মার পদাম্বুজে,
তুলিয়া বঙ্গের পুষ্প বঙ্গ জননীরে
অর্ঘ্য করি দান ; ঘুচাই দুর্গাতি ;
গগন ভরিয়া বলি, ‘বন্দে মাতরম্’,
‘বন্দে মাতরম্’ ---পুনঃ ‘বন্দে মাতরম্’।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি সতীশচন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
উঠ্ রে উঠ্ রে উঠ্ রে তোরা
.                হিন্দু-মুসলমান সকলে, ভাই!
বাজিছে বিষাণ উড়িছে নিশান,
.                আয়রে সকলে ছুটিয়া যাই।
হিন্দু মুসলমান, ব্রাহ্ম খৃষ্টিয়ান,
.                কে আছ কোথায় বঙ্গের সন্তান!
আট কোটি প্রাণ, হ’রে আগুয়ান,
.                জননী তোদের ডাকিছে ভাই!
দেখ্ রে দেখ্ রে যায় রসাতল,
.                জাতীয় উন্নতি বাঙ্গালীর বল,
রাজদ্বারে আর নাহি প্রতিকার,
.                আপনার পায়ে দাঁড়ারে ভাই।
নগরে নগরে জাল্ রে আগুন,
.                হৃদয়ে হৃদয়ে প্রতিজ্ঞা দারুণ,
বিদেশী বাণিজ্যে কর পদাঘাত---
.                মায়ের দুর্দশা ঘুচারে ভাই।
আপনি বিধাতা সেনাপতি আজ,
.                অই ডাকিছেন সাজ্ রে সাজ,
স্বদেশী সংগ্রামে চাহে আত্মদান---
.                বন্দেমাতরম গাও রে ভাই!
উঠ্ রে উঠ্ রে উঠ্ রে তোরা
সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭২ - ১৯৬৩ পরবর্তী কোন সময়ে)। সুহৃদ সমিতি ময়মনসিংহ দ্বারা
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শুরুর দিকে প্রকাশিত “গান” নামক স্বদেশী-গানের সঙ্ককলনের,
কবি দিলীপ
কুমার বসু দ্বারা আষাঢ় ১৪২৬-এ (জুন ২০১৯) সম্পাদিত ৩য় সঙ্কলনের গান। মিলনসাগরে কবি দিলীপ
কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
কবি অরবিন্দ ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.            রাত্রী দ্বিপ্রহরে যবে       সুপ্ত জগৎ নীরবে
.               ঘুমায়ে পড়েছে ধরা অন্ধকার কোলে,
.            প্রসুপ্ত গগন, ক্রুদ্ধ         বায়ুর নিঃশ্বাস রুদ্ধ,
.               নিবিড় মেঘতিমিরে তারা নাহি জ্বলে,
.                      ডানা দিয়ে চোখ ঢাকি
.                      বাসায় নিমগ্ন পাখী,
.               নাই পশু-বিচরণ, নাই পদধ্বনি।
তখন                             জাগিল জননী।
তখন         হুঙ্কার ছাড়িয়া উঠি জাগিল জননী
.               ভীম চক্ষু উন্মীলিয়া জাগিল জননী।
.                                       যেন সূর্য্য দুটী।

.                 জাগিল যখন মাতা     নড়ে না একটী পাতা
.                নিষ্কম্প দীপের আলো ঘরে ম্রিয়মাণ
.           জনহীন পুরপথে        ক্ষেত্রে অরণ্যে পর্ব্বতে
.                গভীর সুষুপ্তিমগ্ন জগতের প্রাণ।
.                       সমুদ্রের জলরাশি
.                       বেলায় টুটে না হাসি’ ,
.                       প্রকান্ড নিশ্চল স্তব্ধ জলধি নিঃশব্দ।
তবে কেন                           জাগিল জননী?
.               কে বলিবে কিবা শুনে জাগিল জননী?
রাত্রে         কাহার নীরব স্তবে জাগিল জননী
.                                      হুঙ্কারিয়া।
জাগিল জননী  কবি অরবিন্দ ঘোষ (১৫.৮.১৮৭২ - ৫.১২.১৯৫০)। শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম, পণ্ডিচেরী থেকে ১৯৬৯ সালে
প্রকাশিত “শ্রীঅরবিন্দের বাংলা রচনা” সংকলন থেকে।
.
.             ঘুমাল জননী যবে     কার আশা ছিল হবে
.                 সেই অন্ধ তিমিরেও মার জাগরণ?
.             নিরাশ রাত্রীতে মগ্ন    দুঃখে প্রাণ চিরভগ্ন
.                 ঘুমেও চকিত শুনে পাতার পতন।
.                          সুচতুর পরাক্রান্ত
.                          গর্ব্বিত মহাদুর্দ্দান্ত
.                 অসুরের রাজলক্ষ্মী ঘেরেছে ধরণী।
হঠাৎ                                   হুঙ্কারিল জননী ।
হঠাৎ           শত শত সিন্ধুসম হুঙ্কারিল জননী ।
.                 জাগাইতে পুত্রজনে হুঙ্কারিল জননী।
.                                       বজ্রসম
.                 ব্যথিত হৃদয়াবেগ        ছিল না কি কেহ জেগে
.                       সেই ঘোর রাত্রীকালে জননীর তরে?
.                 দুই চারিজন মাত্র        ক্ষৌমেয় আবৃত গাত্র
.                       দেবালয়ে ছিল বসে নগ্ন অসি করে।
.                               করালীর মহাভক্ত
.                               মাখাইতে নিজ রক্ত
.                 জননীর পায়ে তারা জাগিল রজনী
তাই                                        উঠিল জননী
তাই            ভীম পিপাসায় ক্রোধে জাগিল জননী ।
.                সিংহনাদ ছাড়ি বিশ্বে জাগিল জননী ।
.                                        ভুবনপ্রবোধে
.          অট্টহাসি মুখে ছুটে         বিদ্যুৎ নয়নে ফুটে
.                 মার রুধিরাক্ত ক্রোধকুসুম ভীষণ
.           দৈত্যমুন্ডদ্বয় করে          দুলাইয়া ক্রোধভরে
.                করিছে জননী উঠি ভীম আবাহন।

.           কে তুমি গভীর রাতে      দৈত্যমুন্ড ঝুলে হাতে
.                দুলাইয়া কর দেশে রক্তবরিষণ
.            অগ্নিকুন্ড নেত্রদ্বয়           জননী করিছে ভয়
.                ধরাতল কাঁপাইয়া কর বিচরণ
.                       “উঠ উঠ” উগ্রনাদে
.                       মধুময় অবসাদে
.             তাড়াইতে কর কন্ঠধ্বনি।
এই যে                      মোদের জননী
.           যমনেত্র জ্বলে ভালে আইল জননী
.           নৃমুন্ড ঝন্ ঝনে নাচি তালে তালে, আসিছে জননী।
.                        উঠ উঠ উগ্র রবে
.                        দেব দৈত্য নর সবে
.             উঠিছে গরজি কেহ কারও হর্ষধ্বনি।
এই যে                                আমার জননী
.          যমনেত্র জ্বলে ভালে আসিছে জননী
.            নৃমুন্ড নাচে তালে তালে আসিছে জননী ।
.           যুদ্ধ ঝটিকার মাঝে      অসি অসি কায়ে বাজে
.           অগ্নিবৃষ্টি ছুটে রণে আকাশ বধির
.           [--- ]  উগ্ররোলে           ফাটে কাম পৃথ্বী দোলে
.               বহে বহে যেন স্রোতস্বতী নীর।
কবে                     চিনিব চিনিব মাকে
.                          সিন্ধু যবে ডাকে
.           উড়াইয়া ভীমশ্বাসে        দৈত্যরাজ্য চন্ডী হাসে
তখন                                          চিনিব জননী
যখন        রক্তনদীস্রোতে নাহি নাচিছে জননী
.               জানিব নিশ্চয় তবে জেগেছে জননী।

  ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি সরলা
দেবীচৌধুরাণী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মন্ত্রস্তব্ধ জড় কণ্ঠরুদ্ধ,
তেত্রিশকোটী আজ হও প্রবুদ্ধ!
পুণ্যস্মৃতি সেই আর্য্যাবর্ত্ত,
গ্রামে গহন ভীম কাল আবর্ত্ত!
বেদঘোষ ওঙ্কার ধ্বনিতে
বীর হস্ত টঙ্কার স্বনিতে,
.        করহে কর পুনঃ দশদিশি ক্ষুব্ধ!
তেত্রিশকোটী আজি হও প্রবুদ্ধ!
তেজধাম এই ভারতবর্ষ
নাশে মুঢ়তা বৃথা সংঘর্ষ!
ক্ষত্রিয়ে বৈশ্যে ব্রাহ্মণে শূদ্রে
ধনী নির্ধনে মিলো বৃহতে ক্ষুদ্রে
.        মানবী প্রেমে উজ্জ্বল শুদ্ধ!
তেত্রিশকোটী আজি হও প্রবুদ্ধ!
কারুভূমি সেই হিনদুস্থান!
উপবাসে করে মৃত্যু প্রয়াণ!
বহুমত, শরণ, বিশাল, ক্রোড়!
হতমান, নিপতিত দাস্যে ঘোর!
.        মুক্ত করহ, ছাড় ভাই ভাই যুদ্ধ!
.        তেত্রিশকোটী আজি হও প্রবুদ্ধ!
জাতীয় সঙ্গীত
সরলা দেবীচৌধুরাণী (৯.৯.১৮৭২ - ১৮.৮.১৯৪৫)
সরলা দেবীচৌধুরাণী সম্পাদিত, ভারতী পত্রিকার বৈশাখ ১৩৩০
(এপ্রিল ১৯২৩) সংখ্যায় প্রকাশিত।
.
কবি সরলা
দেবীচৌধুরাণী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
॥ বাউল॥

বালাই নিয়ে মরি তোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
বুকের আসন পেতে করি তোদের বসার ঠাঁই।
আন্‌ ধরমের ভাইরে মোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
তোদের ঠেলে দূরে মোদের ধরম্‌ করম্‌ নাই
মোর ঠাকুরটি তোর তোষে তুষ্ট রোষে পুড়ে ছাই।
আন্‌ ধরমের ভাইরে মোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
ডাকিস তারে পৃথক নামে তাতেই ক'রে অভিমান
মান যদি না দিলাম তোরে তাঁরি হল অপমান
আন্‌ ধরমের ভাইরে মোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
আচার প্রথায় বলায় কওয়ায় কিছুটা নয় ভেদ
নাই বা হল একলা তাতে কেন তোদের খেদ?
আন্‌ ধরমের ভাইরে মোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
জগৎখানা বিশাল হেন বিচিত্রতায় ভরা
অপরুপ সে কারিগরের আপন হাতে গড়া।
আন্‌ ধরমের ভাইরে মোদের আন্‌ ধরমের ভাই।
বালাই নিয়ে মরি তোদের আন্‌ ধরমের ভাই
সরলা দেবীচৌধুরাণী (৯.৯.১৮৭২ - ১৮.৮.১৯৪৫)
আমরা গানটি পেয়েছি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, গীতা
চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “বাংলা স্বদেশী গান” সংকলন থেকে।
.
কবি শচীন্দ্রচন্দ্র
মজুমদার
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমরা রাজরাণীর ছেলে ভিখারী আজ হয়েছি।
আমরা ঘরের বেসাত পরকে দিয়ে কাঙ্গাল সেজেছি।
মোদের না ছিল কি ভাই,---
শিল্প, বিজ্ঞান, নীতি, দর্শন তুলনা যা'র নাই ;
(ওদুঃখ বলবো কারে) দেশের সে সব ভুলেছি।
মোদের ক্ষেতের সোণার ধান,
বিদেশে ভাই বছর বছর হতেছে চালান ;
আমরা অনাহারে অর্দ্ধাহারে, (ওদুঃখ বলবো কারে)
.                                জীবনে মরে আছি।
নিয়ে ছাতি, জুতা, কাচ, কাপড় আর লোহার বাসন,
বিদেশে দেই যত মোদের অগণিত ধন ;
মায়ের হীরে, জহর বদল দিয়ে, (ওদুঃখ বল্‌বো কারে)
মায়ের গলায় পুঁতির মালা দিয়েছি।
আমরা রাজরাণীর ছেলে ভিখারী আজ হয়েছি
কবি শচীন্দ্রচন্দ্র মজুমদার (জন্ম আনুমানিক উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্দ্ধে)
সুহৃদ সমিতি ময়মনসিংহ দ্বারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শুরুর দিকে প্রকাশিত “গান”
নামক স্বদেশী-গানের সঙ্ককলনের,
কবি দিলীপ কুমার বসু  দ্বারা আষাঢ় ১৪২৬-এ (জুন
২০১৯) সম্পাদিত ৩য় সঙ্কলনের গান। মিলনসাগরে
কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার
পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
ময়মনসিংহ সুহৃদ
সমিতি
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গেল রে সোনার বাংলা রসাতলে পাপের ফেরে।
কি দিয়া কি কৈরা নিল দেখলি না রে হিসাব কৈরে।
দেশের জোলা তাঁতী কামার ফেইল্‌ পইড়া করে হাহাকার,
.                                        এ অত্যাচারে
এখন বিদেশ যদি না দেয় কাপড় বাকল্‌ পৈরে থাকবে রে
দেশের মঙ্গল চাহ যদি, ভাই হও রে ভাইয়ের সাথী সকল কাজে
দেশী জিনিস ব্যবহার কর, তবে বাংলা যাবে রে তইরে॥
গেল রে সোনার বাংলা রসাতলে পাপের ফেরে
ময়মনসিংহ সুহৃদ সমিতি
বঙ্গবঙ্গ বিরোধ আন্দোলনের কালের গান। আমরা গানটি পেয়েছি দিল্লী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, গীতা চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“বাংলা স্বদেশী গান” সংকলন থেকে।
.
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
চরণে চরণে কণ্টক যারা গেল দলি'---
আহা তারা কি দেবতা সকল দুঃখাতীত,
মরণের পথে হাসিমুখে যারা গেল চলি'---
আহা তারা কি দেবতা শঙ্কারহিত চিত !

দুর্যোগ ঘন সঙ্কটময় দিনে---
তিমির আদারে পথ নিল তারা চিনে,
দুঃখের মাঝে জ্বালিল আশার শিখা---
আহা তারা কি দেবতা যুগ যুগ নন্দিত!

সংশয়-ভয় তুচ্ছ তাদের কাছে,
মুক্তির লাগি’ বন্ধন যারা যাচে,
যাদের পরশে পূণ্য পাষাণ-কারা---
আহা তারা কি দেবতা চির-মহিমান্থিত॥
সহীদ তর্পণ
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
বঙ্গবঙ্গ বিরোধ আন্দোলনের কালের গান। আমরা গানটি পেয়েছি দিল্লী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, গীতা চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“বাংলা স্বদেশী গান” সংকলন থেকে।
.
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তাহাদের রেখো স্মরণে---
যারা নিঃশেষে, প্রাণ দিল হেসে,
অমর যাহারা মরণে।
এ মাটির প্রতি ধূলি কণিকায়---
লিখে রেখে গেল শোণিত লিখায়---
মুক্তির বাণী যারা ;
হে ভারতবাসী ভুল না তাদের
অমৃত পুত্র তারা।
তাহাদের স্মৃতি, মনে রেখ নিতি
প্রণাম যানয়ো চরণে॥
তোমাদের লাগি' আপনি তাহারা
নিয়েছে দুঃখব্রত
হে ভারতবাসী কৃতজ্ঞতায়
কর আজ মাথা নত।
জীবনে তাদের কর নাই দান---
কোন ফুলমালা, কোন সম্মান,
মরণের পারে শান্তি তাদের
মাগিও অভয় স্মরণে॥
তাহাদের রেখো স্মরণে
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
বঙ্গবঙ্গ বিরোধ আন্দোলনের কালের গান। আমরা গানটি পেয়েছি দিল্লী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, গীতা চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“বাংলা স্বদেশী গান” সংকলন থেকে।
.
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নিশান রাখ উঁচু, তাতে যায় যদি যাক প্রাণ ;
পেতেই হবে মুক্তি দেশের, রাখতে হবে মান।
সুবর্ণভূমি আঁধার আজিকে শ্মশান বহ্নি ধূমে---
চল্লিশকোটি প্রাণ কি রহিবে অচেতন মোহ ঘুমে?
ছুটে আয়, ওরে কে আছ কোথায়, এসেছে সে আহ্বান---
দিতে হবে প্রাণ, দিতে হবে প্রাণ, দিতে হবে আজ প্রাণ।
ভয় কিরে তোর, ভাবনা কেন, শঙ্কা কিসের ওরে?
বাজাও জয়শঙ্খ ওরে বাজাও আজি জোরে ;
.                        উচ্চে গাহ গান
যায় যদি যাক্‌ প্রাণ, যাক্‌ প্রাণ, যাক্‌ প্রাণ।
পথ জানা নাই, নাই থাক্‌ তবু চলতে হবে আগে,
ছেড়ে যাবে যারা, ছেড়ে যাক্‌, তবু থাক তোরা পুরোভাগে
সামনের বাধা ভেঙে ফেল, কর তারে খান্‌ খান্‌,
যায় যদি যাক্‌ প্রাণ, ষায় যদি যাক্‌ প্রাণ, যায় যদি যাক্‌ প্রাণ॥
নিশান রাখ উঁচু, তাতে যায় যদি যাক প্রাণ
জাতীয় শিল্পী পরিষদ
বঙ্গবঙ্গ বিরোধ আন্দোলনের কালের গান। আমরা গানটি পেয়েছি দিল্লী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত, গীতা চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“বাংলা স্বদেশী গান” সংকলন থেকে।
.
মোমিনদের গান
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কি বা হইল ওগো নানি।
বড় আশা দিছিল্‌ লাট্‌ বাহাদুর,
কৈরা মেহেরবানী।
দারগগিরি [মু] চাকরী দিবে সাথে বইসা থানা খাইবে,
ওরে বিলাতি মেম্‌ সাদি দিবে, আমি দেহামু কেরদানী।
হুজুরেতে আর্ত দিলাম, দারগগিরি না পাইলাম,
ওরে এত আশা কইরা শেষে,
নসিবে সান্কী ধোয়া পানি।
মোমিন বলে শোন মিঠা ভাই,
হিন্দুর সাথে মিলরে সবাই,
ওরে ঘর-ভাঙ্গাইনা দুদ্মন [মু] ওরা রে,
ভাইরে রাইখো ওদের চিনি।
ওদের খালি কথারই ফাকি,
ওদের চিনাও ভাইরে চিন্লা নাক
ওরা বৈরা দিয়া বৈরা মারে, কৈরা চালাকী”---
ওরে মিঞা মশয় আমরা দুই ভাই,
দেলে খাঁটি রাইখো জানি।
কি বা হইল ওগো নানি
মোমিনদের গান
সুহৃদ সমিতি ময়মনসিংহ দ্বারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শুরুর দিকে প্রকাশিত “গান” নামক
স্বদেশী-গানের সঙ্ককলনের,
কবি দিলীপ কুমার বসু  দ্বারা আষাঢ় ১৪২৬-এ (জুন ২০১৯) সম্পাদিত ৩য়
সঙ্কলনের গান। মিলনসাগরে
কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
“মোমিন” শব্দের অর্থ আমরা গ্রন্থের সম্পাদককে অনুসরণ করেই লিখছি - বিশ্বাসী, ইমানদার ইত্যাদি যা নানা
অভিধানে পাওয়া যায়। সংসদ বাংলা অভিধান-এ দেওয়া অর্থ ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান, মুসলমান তন্তুবায় সম্প্রদায়,
আরবী “মুমিন” শব্দ থেকে উত্পত্তি। কয়েকটি গানের ভণিতাও “মোমিন” দেওয়া রয়েছে। ময়মনসিংহেই
রয়েছে টাঙ্গাইল। তাই সম্পাদক মনে করেন যে এই গানগুলি তাঁতিদের লেখা বলে বোধ হয় মনে করা যায়।
মোমিনদের গান
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দেশের কি দশা হইল, দেশের কি দশা হইল।
(ওরে) সোনার দেশে সয়তান আইসারে,
.                দেশে আগুণ [মু] জ্বালাইল।
দুনিয়াতে যত দেশ আছে,
ধনে জনে লাগে না ভাই এই দেশের কাছে,
(ভাইরে) দেশের টাকা লুইটা নিয়ারে
.                মোদের ফকির বানাইল,
.                মোদের লেংটি পরাইল।
দেশের তাঁতি আর দেশের জোলা,
পায়না পেটে দুই মুইঠা ভাত খাইতে দুই বেলা,
পেটের খিদায় মাক্কু ছাইড়ারে, তারা ফেরোয়ার হইল।
দেশের ছোলা, মটর, দেশের গম আর ধান,
দেশেতে ভাই রয়না কিছুই, হয় বিদেশে চালান,
আমরা জানে প্রাণে খাইটা মইলাম রে, তবু দুষ্কু না গেল।
মোমিন বলে শোন মিঞা ভাই,
মোদের দেশে দুঃখ ছিলনা, দুষ্কু আইনাছি আমরাই,
ভাইরে বিলাতী চিজ্‌ কিনবোনা আর
.                সবাই কসম কইরা বল।
দেশের কি দশা হইল
মোমিনদের গান
সুহৃদ সমিতি ময়মনসিংহ দ্বারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শুরুর দিকে প্রকাশিত “গান” নামক
স্বদেশী-গানের সঙ্ককলনের,
কবি দিলীপ কুমার বসু  দ্বারা আষাঢ় ১৪২৬-এ (জুন ২০১৯) সম্পাদিত ৩য়
সঙ্কলনের গান। মিলনসাগরে
কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
“মোমিন” শব্দের অর্থ আমরা গ্রন্থের সম্পাদককে অনুসরণ করেই লিখছি - বিশ্বাসী, ইমানদার ইত্যাদি যা নানা
অভিধানে পাওয়া যায়। সংসদ বাংলা অভিধান-এ দেওয়া অর্থ ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান, মুসলমান তন্তুবায় সম্প্রদায়,
আরবী “মুমিন” শব্দ থেকে উত্পত্তি। কয়েকটি গানের ভণিতাও “মোমিন” দেওয়া রয়েছে। ময়মনসিংহেই
রয়েছে টাঙ্গাইল। তাই সম্পাদক মনে করেন যে এই গানগুলি তাঁতিদের লেখা বলে বোধ হয় মনে করা যায়।
মোমিনদের গান
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পেটের খিদায় জইলেগো মইলাম, উপায় কি করি।
ওরে কি দারুণ আকাল পইড়াছেরে
.                ধান টাকায় হইল দুই পসুরী।
আড়াই কুড়ি টাকাগো দেনা,
কর্জ্জ হাওলাত পাওয়া যায় না,
মহাজনে কুরুক দিচ্ছে জমি আর বাড়ী,
আবার চৌকিদারী টেক্সগো নিল, থালি লোটা নিলামকরি
পাটের টাকায় দিলাম কিনা বিবিরে জার্ম্মানির গয়না,
বিলাতী ফুকা মোতির দানা আর হাওয়ার চুড়ি,
ওরে জার্ম্মানির হয়না [মু] কেহই বন্দক নেয়নারে,---
ভাইপে ভাইঙ্গা গেছে ঠুইনকা চুড়ি।
মনের দুষ্কু কইবোরে কারে,
ছাইলা মাইয়া কাইন্দা গো মরে,
পরিবার হায় ভাত বেগরে হইছে পাট খড়ি ;
হায়রে ছাতি ফাইটা যায়রে দেইখা,
ওরে আমি কেন না মরি।
মোমিন বলে, করিগো মানা, ভাতের দুষ্কু আর রবেনা,
বিলাতী চিজ্ কিনবোনা আর কও কসম করি,
তবে দেশের টাকা রইবোরে দেশে,
লক্ষ্মী ঘরে আসবোয়ে [মু] ফিরি।
পেটের খিদায় জইলেগো মইলাম
মোমিনদের গান
সুহৃদ সমিতি ময়মনসিংহ দ্বারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শুরুর দিকে প্রকাশিত “গান” নামক
স্বদেশী-গানের সঙ্ককলনের,
কবি দিলীপ কুমার বসু  দ্বারা আষাঢ় ১৪২৬-এ (জুন ২০১৯) সম্পাদিত ৩য়
সঙ্কলনের গান। মিলনসাগরে
কবি দিলীপ কুমার বসুর কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
“মোমিন” শব্দের অর্থ আমরা গ্রন্থের
সম্পাদককে অনুসরণ করেই লিখছি
- বিশ্বাসী, ইমানদার ইত্যাদি
যা নানা অভিধানে পাওয়া যায়।
সংসদ বাংলা অভিধান-এ দেওয়া
অর্থ ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান, মুসলমান
তন্তুবায় সম্প্রদায়, আরবী “মুমিন”
শব্দ থেকে উত্পত্তি। কয়েকটি
গানের ভণিতাও “মোমিন” দেওয়া
রয়েছে। ময়মনসিংহেই রয়েছে
টাঙ্গাইল। তাই সম্পাদক মনে
করেন যে এই গানগুলি তাঁতিদের
লেখা বলে বোধ হয় মনে করা যায়।
কবি হেমলতা দেবী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নারীর জীবনে নাই প্রয়োজন
স্বাধীনতা, হেন সুখের কথা
বলেছিল সে গো কোন্ জন ?
বুঝছিল সে কি নারীর ব্যথা ?

জেনেছিল সে কি নারীর জীবনে
মরেছে গুমরি বেদনা কত ;
কত দিবসের কত কল্যাণ
দিনে দিনে সেথা হয়েছে হত ?

হেরেছে কি সে নারীর ললাট
কুঞ্চিত কত করেছে কালে ;
কত জনমের বঞ্চনা-রেখা
সঞ্চিত তার হয়েছে ভালে ?

বিধাতার বল, নাহি যাহে ছল,
নাহি যাহে হেলা কাহার তরে,
যার মহাদান সবারে সমান,
কহে নারী আজি তাহারি ভরে---

নারী কি মায়ার ছলনা-মূর্ত্তি ?
নারী কি কেবলি নরের ভোগ্যা ?
নহে কি জননী, নহে কি ভগিনী,
নহে কি বিশ্বহিতের যোগ্যা ?
নারীর জীবন  কবি হেমলতা দেবী  (১৮৭৩ - ১৯৬৭)। ২০১৩ সালে প্রকাশিত, নমিতা চৌধুরী
ও অনিন্দিতা বসু সান্যাল সম্পাদিত “মহিলা কবিদের কবিতা সংকলন ১৪০০-২০০০ দামিনী”।
.
নারীর জীবনে নাই কি সাধনা ?
পশে নাকি সেথা জ্ঞানের রশ্মি ?
জানেনা কি নারী জ্ঞানের আলোকে
ফেলিতে আপন কামনা ভস্মি ?

নারী কি তাহার বাসনা-বিকার
জানে না ঊর্দ্ধে করিতে লয় ?
সে কি গো জানেনা আগন চেতনা
করিতে ব্যপ্ত বিশ্বময় ?

নারীর জীবনে প্রেমের বসতি,
একথা জানেনা আছে কি কেহ ?
ক্ষণকাল ধরা পারে না রহিতে
না থাকিলে হেথা নারীর স্নেহ।

নারীর হৃদয়ে প্রেমের জনম ;
সেথা আসি, প্রেম, প্রকাশ তুমি।
প্রেম কহে আমি ফুটিতে পারি না
না পেলে মুক্ত স্বাধীন ভূমি।
কবি সুরমাসুন্দরী
ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.        আমার জন্মভূমি, অভাগিনী মাগো!
.        আর ঘুমায়ো না তুমি, জাগো স্নেহে জাগো!
শত কবি গান গায়                অর্ঘ দেয় তব পায়
.        আজন্ম দিতেছি ভরি অঞ্জলি অঞ্জলি
.        সেই স্তব-স্তুতি বিফল সকলি?
.        দুঃখিনী জননী, ওগো বিষাদ-প্রতিমা,
.        ভাসাবে কি অশ্রুজলে তোমার মহিমা?
চারি দিকে শুন সব                আনন্দ উত্সাহ-রব,
.        তুমি একা বসে আছ, ধূলি বিমলিনা,
.        হে আমার জন্মভূমি, অভাগিনী দীনা।
.        হে আমার জন্মভূমি পতিতা, তাপিতা
.        মুখে তব অন্ন নাই, বুকে জ্বলে চিতা
ঘরে ঘরে, মা তোমার,                উঠে শুধু হাহাকার
.        তুমি হাসিতেছ বসি, চির উদাসিনা।
.        তাই মা, তোমার লাগি বাজে না এ বীণা!
.        তাই ত ধিক্কার উঠে হৃদয় মাঝার,
.        মা যাহারে ছেড়ে আছে মিছে গর্ব্ব তার!
তাই ছিন্ন হীন বল                তোমার সন্তান দল
.        নাই শক্তি ভক্তি, নাই মান-অপমান,
.        আছে শুধু সভ্যতার লক্ষ কোটি ভাণ!
বঙ্গজননী
কবি সুরমাসুন্দরী ঘোষ (৯.৮.১৮৭৪ - ১৯৪৩)
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য দ্বারা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত “মাতৃবন্দনা
দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন ১৭৪১ -১৯৪৭” থেকে নেওয়া।
.
কবি বিধুভূষণ বসু
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রঙ্গের দুনিয়ায় মানুষ চেনা দায়।
মুরত খানি মান্ ষের বটে, মানুষ সবাই নয়॥
কেউ এসেছে ফুলে ঢাকা মুখটী হাসি ভরা,
জিবটী মিষ্টি মধু মাখা বুকে ঢাকা ছোরা।
ও যে সাপের জ্ঞাতি ভাই, ছুঁলে রক্ষা নাই।
সাপের মাথার মণি দেখে প্রেমিক তাতে হয়॥
চুপটি করে বসেরে ভাই কেউ পেতেছে আড়ি,
লোকে বলে মহা জ্ঞানী বিদ্যা বুদ্ধি ভারি।
একবার শিকার পেলে মুখে, ঝাপটী দেবে রুখে
ও যে বাঘের দাদা সিংহের জ্যাঠা কেবল রুধির চাই॥
সাপের বাঘের কাট্‌তে মায়া মন্ত্র শেখা চাই,
মন্ত্র শিখতে গুরুর পদে মনটী বাঁধ ভাই।
সে যে ওঝার রাজা, কালকে ও দেয় সাজা।
পাগল বলে আমার কেবল মায়ের নামে জয়া।
রঙ্গের দুনিয়ায় মানুষ চেনা দায়
কবি বিধুভূষণ বসু (১৮৭৫ - ৩১.১.১৯৭২)
এই গানটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, কবির রচিত, পল্লী-সংস্কারমূলক সামাজিক গীতি-
নাট্য “দাদা”-র ১ম অঙ্ক ৩য় দৃশ্যে খ্যাপার গীত।
.
বিপ্লবী
কবি পুলিন দাস
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ইন্দভূষণ নিতান্ত বিক্ষুব্ধ হইয়াছিল এবং প্রায়ই বলিত,
যাহারা দোষী তাহারাই সম্মানিত আর আমরা দেহ মন-প্রাণ আহুতি
দিয়া লাঞ্ছিত, তিরস্কৃত ও অপমানিত হইলাম। তবে এই দেশের আর
কিইবা হইবে এবং এই জীবন রাখিয়াই বা কি হইবে!

তৎপর যে কয়েকদিন সে বাঁচিয়াছিল সর্বদাই বিমর্ষভাবে থাকিত
এবং এক রাত্রিতে ফাঁসী লাগাইয়া আত্মহত্যা করিল।

শুনিলাম উল্লাসকর দত্ত প্রায়ই বলিত, স্বদেশকে পরাধীনতার
হাত হইতে মুক্ত করিবার পূর্ণ অধিকার আমাদের আছে। আমাদের
সেই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করিবার অধিকার বৃটিশ গভর্ণমেন্টের নাই
---তাহারা আমাদিগকে জেলে পুরিয়া নিতান্তই অন্যায় করিতেছে,
সেই অন্যায় মানিয়া লইয়া আমরা জেল খাটিতেছি, ইহাও আমরা
অন্যায় করিতেছি। এখন হইতে আর এই পাপ করিব না, জেলের
কোন কাজ আর করিব না। উল্লাসকর কাজ বন্ধ করিল। শাস্তি
স্বরূপ জেল-কতৃপক্ষ হাতকড়ি লাগাইয়া তাহাকে দণ্ডায়মান অবস্থায়
দেয়ালের পাশে রাখিয়া দিল। এই অবস্থায়ই একদিন সে চীৎকার
করিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়িল। জেল-কতৃপক্ষ বলিল, ঢং করিতেছে।
পরে যখন হাসপাতালে লইয়া যাওয়া হইল তখন দেখা গেল যে, সে
পাগল হইয়া গিয়াছে।
ইন্দুভূষণ ও উল্লাসকর
বিপ্লবী কবি পুলিন দাস (২৪.১.১৮৭৭ - ১৭.৮.১৯৪৯)। গ্রন্থে তাঁর নাম পুলিন দাস এবং সেলুলার জেলের স্মৃতিফলকে তাঁর নাম পুলিন বিহারী দাস লেখা রয়েছে।
তিনি ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলায় আন্দামানের সেলুলার জেলে দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত হন। ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, ভবতোষ রায় সম্পাদিত, “বিপ্লবী পুলিন দাস”
গ্রন্থের “আন্দামান জেলে” পরিচ্ছেদের ২৪৫-পৃষ্ঠার, পুলিন দাসের ভাষ্যে দেওয়া কিছুটা অংশ আমরা এই বিপ্লবীর কবিতা হিসেবে তুলে ধন্য হলাম। সর্বোপরি
এই পাতার ব্যাকগ্রাউণ্ড চিত্রটিতে যে অলিন্দের ছবি দেখা যাচ্ছে, পুলিন দাস সেই অলিন্দ-সংলগ্ন কোনো কালকুঠরীতে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছিলেন,
যাতে আমরা স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করতে পারি। তাই তাঁদের মতো মানুষের কলমের ছোঁয়া বা মুখনিঃসৃত বাণী আমাদের কাছে কবিতাই!
.
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওই শোন্‌ 'ওই শোন্‌ সকরুণ মায়ের আহ্বান ;
আয় ছুটে আয়, আছিস্‌ কোথায় অযুত সন্তান!
কে এখনো বসি' করে ছেলেখেলা,
আলসে বিলাসে কে কাটায় বেলা,
বিবাদে বিষাদে লাজে অপমানে কে বা ম্রিয়মাণ
ওই শোন্‌ ওই শোন্‌ মায়ের আহ্বান!
জননীর দুখে কাঁদে নাকি আজ কাহারো পরাণ?
কে মুছাবে মা'র নয়নের জল,
কে মায়ের মুখ করিবে উজ্জ্বল,
কে সাধিতে চাহে প্রাপপণ করি মায়ের কল্যাণ !
ওই শোন্‌ ওই শোন্‌ মায়ের আহ্বান।
আহ্বান
কবি রমণীমোহন ঘোষ
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, হেমেন্দ্র ভট্টাচার্য্য সংকলিত ও সম্পাদিত
“মাতৃবন্দনা” দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন থেকে নেওয়া।
.
কবি পীতাম্বর দাস
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
এবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে জগতবাসী
আমি, হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে জগতবাসী
বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
এবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি (১)  কথা - কবি পীতাম্বর দাস (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - কালোবরণ দাশ। শিল্পী - তারা
ভট্টাচার্য। রেকর্ড # কলম্বিয়া জি.ই. ৭১৪৮। রেকর্ড তথ্য : শ্রী স্বাগত গুপ্ত। ১৯৪৭ সালে রেকর্ড করা গান। গানটি, রেকর্ড সংগ্রাহক ও ভিডিও
চ্যানেলের সিরাজ সাঁই-এর কাকীমা, শ্রীমতী সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যের সৌজন্যে প্রাপ্ত। তিনি ছিলেন নজরুল সঙ্গীতের আদি রেকর্ডের শিল্পী শ্রী ভবতোষ
ভট্টাচার্যের পুত্রবধূ এবং বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ও চিত্রকর শ্রী নির্মল ভট্টাচার্যের সহধর্মিণী। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Siraj ShNai YouTube Channel.
.
হাতে যদি থাকতো ছোরা
তোর ক্ষুদি কি পড়তো ধরা, মাগো
হাতে যদি থাকতো ছোরা
তোর ক্ষুদি কি পড়তো ধরা, মাগো
রক্ত-মাংস এক করিতাম
দেখতো ইংলন্ড-বাসী
আমি রক্ত-মাংস এক করিতাম
দেখতো ইংলন্ড-বাসী
বিদায় দাও মা ঘুরে আসি

শনিবার দিন বেলা দু'টোতে
লোক ধরে না হাইকোর্টেতে
শনিবার দিন বেলা দু'টোতে
লোক ধরে না হাইকোর্টেতে
অভিরামের দ্বীপান্তর মা
ক্ষুদিরামের ফাঁসী
মা অভিরামের দ্বীপান্তর মা
ক্ষুদিরামের ফাঁসী
দশ মাস দশ দিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে, মাগো  
দশ মাস দশ দিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে, মাগো
চিনতে যদি না পার মা
দেখবে গলায় ফাঁসী
আমায় চিনতে যদি না পার মা
দেখবে গলায় ফাঁসী
বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
বিদায় দাও মা
এই গানে উল্লিখিত "অভিরাম" আর কেউ নন স্বয়ং অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো !
কলের বোমা তৈরি করে
বসে ছিলাম লাইনের ধারে, মাগো
লাট ম'লো না বিফল হল
ম'লো ভারতবাসী
ওমা লাট ম'লো না বিফল হল
ম'লো ভারতবাসী
বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
কবি পীতাম্বর দাস
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।
.        শনিবার দিন দশটা বেলা
হাইকোর্টেতে গেল জানা
.        ---ওমা অভিরামের দ্বীপ চালনা -
.                        ক্ষুদিরামের ফাঁসী।
ওমা, কলের বোমা তৈয়ার ক'রে
.        দাঁড়িয়ে ছিলাম লাইনের ধারে।
ওমা, বড়লাটকে মারতে গিয়ে
.        মারলাম ভারতবাসী।
হাতে যদি থাকত ছোরা।
.        তোর ক্ষুদি কি পড়ত ধরা?
ওমা, রক্ত-মাংস এক করিতাম
.        দেখত ইংলণ্ডবাসী।
খাকত যদি টাটু ঘোড়া
.        ক্ষুদিরাম কি পড়ত ধরা?
ওমা, এক চাবুকে চ’লে যেতাম
.        গয়া গঙ্গা কাশী।
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি (২) লোককবি পীতাম্বর দাস । ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত
বিনয়কুমার গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত স্বাধীনতার অঞ্জলী গ্রন্থে, ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসীকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধ “ফাঁসীর
গান-এর শেষে গানটি এভাবে দেওয়া রয়েছে। সেখানে রচয়িতার উল্লেখ নেই। বাঁকুড়ার মানুষ মনে করেন যে
এই গানটির রচয়িতা লোককবি পীতাম্বর দাস। অনেকের মতে গানটির রচয়িতা চারণকবি মুকুন্দদাস। গানটি
অবশ্য চারণকবির কোনো গীত-সংকলনে পাওয়া যায় না।
.
এই গানে উল্লিখিত "অভিরাম" আর কেউ নন স্বয়ং অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো !
বেলা দশটা বেজে গেল
.        ফাঁসীর হুকুম জারী হল।
ওমা, আমি হাসি হাসি পরব ফাঁসী
.        দেখুক ভারতবাসী।
দশ মাস দশ দিন পরে
.        জন্ম নিব মাসীর ঘরে ;
চিনতে যদি না পারিস্‌ মা,
.        গলায় দেখিস্‌ ফাঁসী।
ওমা, মনের দুঃখ মনে রইল
.        আমার হ’ল না স্বদেশী।
কাঁচের বাসন কাঁচের চুড়ী
.        পরো না মা বিলাতী শাড়ী ;
এ মিনতি করি মাগো,
.        ভুলো না স্বদেশী।
কবি পীতাম্বর দাস
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
ওমা, আমি হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে জগৎবাসী
ওমা, আমি হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে জগৎবাসী
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি

ওমা, একটি বোমা হাতে ক'রে
.        বসে ছিলাম পথের ধারে মাগো
ওমা, জজসাহেবকে মারতে গিয়ে
.        মারলাম নির্দোষী।
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি (৩) ১৯৫১ সালে এই গানটি “প্রচলিত কথা”-য়, “বিপ্লবী
ক্ষুদিরাম” ছায়াছবির জন্য গেয়েছিলেন ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য।  ভিডিওটি সৌজন্যে
alamsafiqul1 YouTube Channel.
.
হাতে আমার হাতে থাকলে ছোরা
.        তোর ক্ষুদি কি পড়ত ধরা মাগো
ওমা, রক্ত-মাংস এক করিতাম
.        দেখত ইংলণ্ডবাসী
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি

ওমা, শনিবারে দিন দুপুরে
.        আদালতে লোক না ধরে মাগো
জজ ব্যারেটা (ব্যারিস্টার) হুকুম দিলেন
.        ক্ষুদিরামের ফাঁসী
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি

ওমা দশ মাস দশ দিন পরে
.        জন্ম নেব মাসীর ঘরে মাগো
ওমা দশ মাস দশ দিন পরে
.        জন্ম নেব মাসীর ঘরে মাগো
তখন চিনতে যদি না পারিস্‌ তুই,
.        দেখবি গলায় ফাঁসী
তখন চিনতে যদি না পারিস্‌ তুই,
.        দেখবি গলায় ফাঁসী
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দাও মা ঘুরে আসি
এই গানে উল্লিখিত "অভিরাম" আর কেউ নন স্বয়ং অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো !
কবি পীতাম্বর দাস
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে ভারতবাসী
আমি হাসি হাসি পরব ফাঁসী
দেখবে ভারতবাসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি (৪) ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত পীযূষ বসু নির্দেশিত সুভাষচন্দ্র ছায়াছবির গান। অপরেশ
লাহিড়ীর সঙ্গীতে গানটি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সুভাষচন্দ্রের নামভূমিকায় শৈশবের চরিত্রে অভিনয় করেন মাস্টার আশিস ঘোষ।
ছায়াছবিতে গীতিকারদের নাম প্রদর্শনের সময় পর্দায় কবি পীতাম্বর দাসের নামের উল্লেখ করা হয়নি। গীতিকারদের নাম এইভাবে দেখানো হয়েছিল
--- “গান বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ ও একবার বিদায় দে মা - [ সংগ্রহ ]”। ছায়াছবিতে গানটি শুনুন ভিডিওটিতে।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Angel Bengali Songs YouTube Channel.
.
হাতে যদি থাকত ছোরা
তোর ক্ষুদি কি পড়ত ধরা মাগো
রক্ত-মাংস এক করিতাম
দেখত জগৎবাসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি

শনিবার বেলা দশটার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো
হোলো অভিরামের দ্বীপ চালান মা
ক্ষুদিরামের ফাঁসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি

বারো লক্ষ তেত্রিশ কোটি
রইলো মা তোর ব্যাটা বেটি মাগো
তাদের নিয়ে ঘর করিস মা
বৌদের করিস দাসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
দশ মাস দশ দিন পরে
জন্ম নিব মাসীর ঘরে মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস্‌
দেখবি গলায় ফাঁসী
ওমা তখন যদি না চিনতে পারিস্‌
দেখবি গলায় ফাঁসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
এই গানে উল্লিখিত "অভিরাম" আর কেউ নন স্বয়ং অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো !
কলের বোমা তৈরী করে
দাঁড়িয়ে ছিলাম রাস্তার ধারে মাগো
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আরেক ইংলণ্ডবাসী
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওঠ জাগো ক-ষক ভাই থেকো না ঘুমে
বীর সন্তান যত আছ তোমরা ভারত ভূমে॥
পরাধীনা পরাশ্রিতা জননী আমার।
তোল রক্ত পতাকা সকলে করিয়া হুঙ্কার।
শৃঙ্খল টুক্ রো টুক্ রো করো সিংহ বিক্রমে॥
দেশে , কৃষক মজুর আজি সকলে মিলো।
ছাই-চাপা আগুন আবার জ্বালো জ্বালো,
ধ্বংস কর যত শোষণ জুলুমে॥
কারাবরণ করেছ কত কত অনশন
ভাঙ্গব, চল্লিশ কোটির পদাঘাতে বিদেশীর শাসন,
ভ্রাতৃ প্রেমেতে মিলে হিন্দু মুসলিমে॥
ওঠ জাগো কৃষক ভাই থেকো না ঘুমে
কবি রমেশচন্দ্র শীল (১৮৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ”
সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভাষার জন্য জীবন হারালি
বাঙালী ভাইরে রমনার মাটি রক্তে ভাসালি।
(বাঙালী ভাইরে) বাঙালীদের বাংলা ভাষা জীবনে মরণে।
মুখের ভাষা না থাকিলে জীবন রাখি কেনে।।
( ও বাঙালী ভাইরে ) কীট পতঙ্গ পশু পাখীর স্বীয় ভাষার বুলি।
তা হইতে কি অধম হলাম অভাগা বাঙালী॥
( ও ) সূর্য উঠে লাল হয়ে ভাই পূরব গগনে।
তোমাদের লাল খুনের কথা উঠে মোদের মনে॥
সারে চার কোটি বাঙালী পূর্ববঙ্গে আছে।
তোরা বুকে গুলি নিলি তারা কেমনে বাঁচে॥
ধমনীতে রক্তবিন্দু থাকে যতক্ষণ
রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য জীবন মরণ পণ
একজনও বাঙালী যদি থাকিব বাঁচিয়া
যদ্দিন বাঁচি তদ্দিন আছি ভাষার দাবি নিয়া॥
বঙ্গবীর শফি, বরকত, জব্বার সালাম।
কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে তোমাদের সুনাম॥
ঐতিহাসিক দিবস এই একুশে ফেব্রুয়ারী।
দিবে শহীদ স্তম্ভে পুষ্পমাল্য বাংলার নরনারী॥
ভাষার জন্য জীবন হারালি
কবি রমেশ শীল (১৮৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ”
সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শ্রমিক দরদী ভাই জগতে নাই, ও দেশের ভাই,
পেটের ক্ষুধায় শ্রমিক মরে কে শুনে তার ডাক দোহাই॥
শ্রমিকের মাহিনা দিয়া খরচ না পোষায়,
হা হুতাশে দিন কাটায়, ভাতা চাইলে উল্টা বলে
.                        বার ঘন্টাতে ছাঁটাই।
উত্পাদন বাড়াতে আদেশ করে মালিকে, শ্রমিকের দুঃখ বুঝিবে কে
.                        স্ত্রীর  পরণে কাপড় নাই।
পাঠ্য পুস্তক কাগজ কালি স্কুলের বেতন দিতে নারে শ্রমিকগণ,
.                        রুটির দাবী হয় না পূরণ কি দিয়ে ছেলে পড়াই।
চা বাগানে রেলে মিলে শ্রমিক ভাইয়েরা যেমন প্রাণ থাকতে মরা
মড়ার ঘাড়ে পড়ে খাঁড়া ভাতা বোনাস যদি চাই
আবেদন নিবেদন কত করি প্রাণপণে, মালিক কানে না শুনে,
এবার জানাইব জনগণে ধর্মঘটের ঢোল বাজাই।
শ্রমিক দরদী ভাই জগতে নাই
কবি রমেশ শীল (১৮৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ”
সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাংলার কৃষক  ভাইগণ, হও রে চেতন
জমিদারের হাতের মুঠায় কৃষকের জীবন॥
মাথার ঘাম পায়েতে ফেলি জলে ভিজি রোদে জ্বলি,
আটমাস থাকে গোলা খালি, নিত্য অনটন
বন্যায় মারে, পোকায় কাটে, জমিদারের ভাগা লুটে,
রেহাই চাইলে জ্বলি উঠে, আগুনের মতন॥
শোষণকারী জমিদার, জমিদার নয় “যম-দুয়ার”,
লাঙল যার জমি তার, কৃষকের এই পণ॥
হিন্দু মুসলমানে মিলি, একসঙ্গে আওয়াজ তুলি,
জমিদারী যাক চলি, বাঁচিবে জীবন॥
বাংলার কৃষক ভাইগণ
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ”
সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হিন্দু মুসলিম দেশবাসী শুন বন্ধুগণ,
বারে বারে দেশে কেন ঘটে অঘটন॥
জাতির পিতার বাণী ২ নিলে মানি হিন্দু মুসলমানে।
ভ্রাতৃত্ব মিলনে আছি স্বাধীন পাকিস্থানে॥
তবে কেন বিশৃঙ্খল ২ ভাইসকল দেখ বিচরিয়া।
সমস্যা সমাধান হয় কি লাঠি ছুরি দিয়া।
জাতিসংঘের সনদ আছে ২ সবার কাছে বলি বন্ধুগণ।
এত হানাহানি দেখি কেন অকারণ॥
হিন্দুগরিষ্ঠ অঞ্চল ২ ভাইসকল হিন্দুস্থান হবে।
মুসলিমগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্থানে যাবে॥
রাষ্ট্রসংঘের রায় মতে ২ বিচারেতে হয়ে যাবে ধার্য।
ভাইয়ে ধরে ভাই সংহারে কি জঘন্য কার্য॥
স্বাধীন হলাম ষোল বছর তার খবর জানি বন্ধুগণ।
তবু কেন নিরীহের উপর এক নির্যাতন॥
দেখুন হিন্দুস্থানে ২ মুসলিমগণে আছে হতাশায়।
নিশ্চয়তা নাই কিছু কবে কি ঘটায়॥
তেমনি পাকিস্থানে ২ হিন্দুগণে দুশ্চিন্তায় মনভরা।
কখনি কি দশা ঘটে নাই কূল কিনিরা॥
বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ে অনেক ঘরে ছাউনি আজও নাই
দুইবেলা পেট ভরে খায় না ভেবে কিবা চাই॥
পশ্চিম বাংলার মুসলিমগণ ২ অনশন অনেক জনে করে।
হত্যা লুট গৃহদাহ গরীবের উপরে॥
গরীব হিন্দু মুসলিম মোরা ২আধা মরা উদর পোষণে।
হিন্দু মুসলিম দেশবাসী শুন বন্ধুগণ
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
তাদের উপর অত্যাচার কোন্ বিধির বিধানে॥
আইন কানুন কোর্ট কাছারি২ নিত্য হেরি উভয় দেশে আছে।
দোষী লোক শাস্তি পাবে আইনেতে রয়েছে।
নিরপরাধ সাজা পেতে ২ জীবনেতে  দেখি নাই কখন।
যার দেশে তার বিচার হবে আছে নির্ধারণ।
দেশের সম্পদ নষ্ট করি ২ বুঝতে নারি কিবা শান্তি পায়।
রামের দোষে শ্যামের দন্ড দেখেছেন কোথায়॥
এই সব দেশনাশা কার্য অন্যায্য বন্ধ নাহি হলে।
শান্তিকামী লোকের সুখ নাই কোন কালে॥
দুর্ঘটনা ঘটায় যারা ২ মূলে তারা গুন্ডা দলের লোক।
টাকা পয়সা সোনা রূপার উপর আছে তাদের ঝোঁক।
সাত পুরুষের ভিটা ছাড়ি ২ দেশান্তরী হিন্দু মুসলিম হয়।
সেই দৃশ্য দেখিলে ভাই প্রাণে সহ্য নয়॥
দারুণ শীতে কাপড় নাই ২ দেখ ভাই শিশু কোলে নিয়া।
প্রাণের আশায় যায় দেশের মমতা ছাড়িয়া॥
জননী জন্মভূমি ২ নিত্য নমি জাহ্নবী জনক।
জনার্দন পঞ্চ জ কার শান্তির বাহক॥
দেশের দশা দেখে ২ দুই চোখে আসে ভাই জল।
কে আনিল এই উত্পাত অমৃত গরল॥
স্বাধীন নাগরিক হই কারে কই বাক্য নাহি সরে।
ভাই বলে আলিঙ্গিয়া জড়ায়ে ধরি কারে॥
এই সম্পর্ক চিরদিন অমলিন যাবৎ জীবন।
জন্ম হতে ধর্ম বড় বলে জ্ঞানীগণ॥
শান্তিকামী মানুষ যারা সদা তারা পরহিতে রত।
পর-জীবন রক্ষায় নিজ প্রাণ দিতে উদ্যত॥
আমীর হোসেন কিসমত আলী গেলা চলি নিজ জীবন দিয়া।
পূর্ব পাকিস্থানে এক ইতিহাস রচিয়া॥
আরও অনেক জনে জীবন দানে পর-প্রাণ রক্ষিতে।
প্রমাণ পেয়েছি দেশে এইবার দুর্যোগেতে।
মানুষকে যে ভালবাসে কয় হাদিসে হজরতের ( দঃ ) বাণী।
খোদায় তাকে ভালবাসে হাদিসেতে শুনি॥
গীতায় জীবে শিবে এক বলে কয়।
জীবে সেবা মহাপুণ্য করেছে নির্ণয়॥
পবিত্র খোদার কালাম আছে সুনাম জগত মাঝার।
সেই কথা কে রাখিল কে মানিল আর।।
অহিংসা পরম ধর্ম তার মর্ম যদি মানিত।
তবে কি মানুষকে মানুষ আঘাত করিত॥
কি হিন্দু-মুসলিম ২ নাই ব্যবধান কায়েদে আজমের বাণী।
হিন্দু মুসলিম নাইরে  ভাই সবাই পাকিস্তানী॥
চট্টগ্রামে এক ঘরে ২ বাস করে হিন্দু মুসলমানে।
এক পুকুরে স্নান করে আনন্দিত মনে॥
সুরেন্দ্র ব্যানার্জি বিপিন পালে গেল ব’লে শুনিয়াছি কানে।
এমন মিলন বাংলাদেশে নাই কোনখানে॥
সেই ঐতিহ্য কোথায় গেল ২ বল বল বন্ধুগণ।
কোথায় গেল হিন্দু মুসলিম অপূর্ব মিলন॥
বার আউলিয়ার চট্টগ্রাম ২ এই সুনাম কেমনে রাখিবে।
আলাউল নবীন সেনে স্থান কোথায় দিবে॥
দেশপ্রিয় সবার প্রিয় মাস্টার কাজিমালি।
সূর্য সেন প্রীতিলতার সুনাম যাবে চলি॥
ভাইয়ে ভাইয়ে ২ এক হয়ে ছিলাম সব সময়।
আজ কেন তোমায় দেখে আমার মনে ভয়॥
তোমার আশ্বাসে আমার বুকে আসে বল।
আমি যথা বৃক্ষ হই তুমি তথায় জল॥
কেহ ছাড়া কেহ নাই দেখ ভাই দেখ বিচারিয়া।
বাগানের সৌন্দর্য বাড়ে নানা ফুল দিয়া॥
পাকিস্তানে হিন্দুগণে ভাবে মনে হিন্দুস্থানে যাব।
জানমালের নিরাপত্তায় সুখে দিন কাটাব॥
নিশ্চিন্ত সুখ ছাড়ি দেশান্তরীহয়ে পাবে তাপ।
অনিশ্চিত সুখের জন্য কোথায় দিবে ঝাঁপ॥
ছত্রিশ জাতে এক দেশেতে মাখামাখি রই।
অন্য দেশে চলে গেলে সেই পরিবেশ কই॥
সেই দেশের মানুষজনে আমার মনে মিলন যদি হয়।
বিশ বছর সময় লাগিবে তার আগে নয়॥
জীবনের সন্ধ্যায় এসে আপনাদের পাশে আর কি বলতে পারি।
শান্তির পতাকা তুলুন হাতে হাতে ধরি॥
বিরহে প্রেম বলিষ্ঠ সাধুগণ বলে।
ভ্রাতৃপ্রেম অক্ষুণ্ণ রবে আবার মিলন হলে॥

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি আর কয়দিন চলিবে বল
সাম্রাজ্যবাদীর ফাঁদেতে পা দিয়ে সর্বনাশ হল
আর কয়দিন চলবে বল॥
ক্ষুদিরাম, কানাইলাল, সূর্য সেন, টেগরা বল।
দুই ভাইয়ে আন্দোলন করে, বৃটিশকে খেদাল জোরে,
স্বাধীনতা কাহার তরে, মানুষ যদি না রহিল।
বার বার দাংগা দাপটে, গরীব মরে হাটে মাঠে।
যার বুদ্ধিতে দাংগা ঘটে তার গায়ে কি আঁচড় পৈল॥
দাংগার বীজ ছিল কোন্ দেশে, তারে উড়াই আনে কোন্ বাতাসে।
হিন্দু মুসলিম বিনাদোষে, কি কারণে প্রাণ হারাল
লৌ মাফেজ হতে শুনি, মানুষ পাঠায় কাদের গণি
মানুষের মানুষের প্রাণহানি, এ মানুষ কে পাঠাইল॥
আরও একটা আবেদন ২ বন্ধুগণ করি সবাইর কাছে।
দুর্বৃত্ত গুন্ডা দেশে বহু গজায়েছে॥
হত্যা লুট রাহাজানি ২ দিন যামিনী যেই সেইখানে হয়।
স্বাধীন দেশে এই সব দুষ্টে দেবেন না প্রশ্রয়॥
বিষবৃক্ষ অল্পকালে ২ ধ্বংস হলে দেশের লোক সন্তুষ্ট।
গোড়া মোটা হলে তারে নোয়াইতে কষ্ট॥
ম্যালেরিয়া কালাজ্বরে ২ নাহি করে জাতের বিচার।
যারে পারে তারে ধরে প্রকৃতি তাহার॥
আজকে আমাকে যারা করে অত্যাচার।
কাল তোমারেও না করিবে কি গ্রান্টি তার॥
তাই বলি বন্ধুগণ ২ সচেতন হও জানি শুনি।
চোরের নাই শ্বশুরবাড়ি প্রাচীন লোকের বাণী॥
ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি আর কয়দিন চলিবে বল রমেশ শীল (১৯৭৭
- ৬.৪.১৯৬৭)। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলে মিশে এক সাথে সব চল, ওরে চাষীর দল।
সোনার মাঠে ঝলমল করে নূতন মেঘের জল।
মোদের ঘামে পয়দা করি সোনার ফসল রে॥
হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ
আমার খুনে আজকে যারা দেশে বড় লোক,
বাঁচি মরি চায় না, তারা সদাই শোষণ জোঁক রে
.                            যারা বড় লোক-----
ছুটে এস দরদী ভাই যত চাষীর দল,
বহু দিনের সখ স্বপ্ন করিব সফল রে॥
হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ-----
মোদের রক্তে ফসল ফলাই ;  পরের গোলা ভরে
মোরা খাই কি মা খাই আছি কি নাই, জিজ্ঞাসা কে করে রে
আদ পেটা খাই লাঙল চালাই, শরীরে নাই বল,
মাথা তোল, ছিঁড়ে ফেল পুরানো শৃঙ্খল রে ॥
হিন্দু মুসলিম চাষী মোরা একযোগ যদি হই,
পর্বত উপাড়ি ফেলতে বেশী দেরি কই রে।
মোদের অনৈক্য দেখে তাদের বাড়ে বল
শোষক দলে খর্ব কর, মিলি চাষীর দল রে॥
মিলে মিশে এক সাথে সব চল
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এগিয়ে চল, এগিয়ে চল, এগিয়ে চল,
মুক্তি যুদ্ধের বীর সেনা মোরা, মুছাব মায়ের নয়ন জল।
এগিয়ে চল, এগিয়ে চল, এগিয়ে চল।
বাজে বিজয় ভেরী গগণ বিদারি কিসের শঙ্কা কিসের ভয়,
মুক্ত কন্ঠে গাহিব মোরা পাকিস্থানের জয়,
আমরা আনিব বিশ্বশান্তি, আমরা ঘুচাব বিভেদ ভ্রান্তি
আমরা গড়িব নতুন দুনিয়া মিলে যত তরুন দল॥
প্রগতির তালে চলিব পা ফেলে, প্রতিক্রিয়ার হবে রুদ্ধশ্বাস
বিভেদের মূল সমূলে উত্পাটি, দৈন্য আরাতি করিব নাশ
পূর্ব আকাশে নবারুণ, গণ সিংহনাদ ছাড়িছে শুন,
অরুণ বেগে আয়রে তরুণ, সঞ্চারিয়া দেহে নবীন বল।
প্রতিঘরে দীপালি জ্বালিব, পুলকে পূর্ণিত সবার প্রাণ।
সর্বহারা দল মিলিয়া গাহিবে সুমধুর সুরে শান্তির গান
বীর পদভরে কাঁপিবে মেদিনী, দিগন্ত ব্যাপিয়া উঠুক জয়ধ্বনি
আয় ছুটে আয় তরুণ তরুণী, ভীরুতা ক্লান্তি চরণে দল॥
এগিয়ে চল
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমি বাংলা ভালবাসি,
আমি বাংলার বাংলা আমার ওতপ্রোত মেশামেশি।
বাংলা দেশের রাস্তায় চলি, মুখে ছুটে বাংলা বুলি,
বাংলা বলি হৃদয় খুলি মুখে ফুটে হাসি।
বাংলা ভাষায় হাসি কান্দি স্বপন দেখি দিবা নিশি,
চিরদিন বাংলার আশা, বাংলা দেশে করি বাসা,
বাংলা আমার মতৃভাষা বাংলার প্রত্যাশী।
বাংলা ভাষায় মাকে ডাকি, বাংলা আমার মিঠা বেশী।
গেলে বাংলা নদীর তটে, আনন্দে প্রাণ ভরে উঠে,
সোনালী ধান বাংলার মাঠে দোলে রাশি রাশি।
বাংলার দোয়েল শ্যামার ডাকে মন প্রাণ করে উদাসী,
বাংলা দেশে ফলে ফুলে, কিবা শোভা শ্যামল দোলে,
বাংলা দেশে সুধা ঢালে শারদীয়া শশী,
বাংলা আমার গয়া গঙ্গা বৃন্দাবন মথুরা কাশী।
বাংলা আমার জন্মভূমি, বাংলা মায়ের চরণ চুমি,
দৈনন্দিন বাংলাকে নমি বাংলা দেশে বসি
বাংলা দেশের ধুলিকণা স্বর্গাদপি গরিয়সী।
সোনার বাংলায় সোনা ফলে, তার তুলনা কোথায় মিলে,
বাংলার জন্য জীবন গেলে হব স্বর্গবাসী।
আমার ঠিক থাকিবে বাংলার দাবী যদিও হয় জেয়েল ফাঁসি॥
আমি বাংলা ভালবাসি
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সর্বহারার দল, ছুটে আয় সকল
দুশমন হটাতে হবে ডাক পড়েছে।

আমাদের খুনেতে যারা তুলেছে বাড়ি মিনার
রক্ত মাংস চুষে খেয়ে করেছে কঙ্কাল সার
আর যে সময় নাই, ত্বরায় ছুটে এস ভাই,
বেদনার প্রতিকারের সময় এসেছে

ক্ষত বিক্ষত হিংস্র জন্তুর আঁচড়ে
আঘাতে দারুণ ব্যথা হয়েছে ভাই পাঁজরে,
দিকে দিকে ডেকে কও আর নয় আর নয়
সহ্য-সীমা অতিক্রম হয়েছে।

যা হবার হয়ে গেছে, আর কারে কর ডর
আগ্নেয়গিরিসম দিকে দিকে ফেটে পড়
শুন সর্বহারা ভাই, এবার মোদের শেষ লড়াই
দুনিয়াময় গণডঙ্কা বেজে উঠেছে॥
সর্বহারার দল
রমেশ শীল (১৯৭৭ - ৬.৪.১৯৬৭)
১৯৯০ সালে প্রকাশিত, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
.
কবি যতীন্দ্রমোহন
বাগচী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA

ওরা ভাই, কারা---প্রকাণ্ড মুখ
গলা থেকে শুরু---নীচে নাই বুক---
.        তুবড়ির মত ফোটে ?
---এরা দেশনেতা, যে সব জনের
পয়সা লাগে না বিজ্ঞাপনের,
.        ফাঁকা আওয়াজের চোটে!


ওরা ভাই, কারা---শুধু দুটো হাত,
ডানে-বাঁয়ে খেলে, দেখি দিনরাত,
.        বাঁধা যেন কার সাথে ?
---একখানা খেলে নিজের উপায়ে,
আর একখানা সাদার দু পায়ে
.        বাঁধা কল-কব্জাতে!


আর ওরা কারা---আইনের নামে
দরবার জুড়ে ব’সে ডানে-বামে,---
.        রাজ-কারবার করে ?
---ওরা সরকার, দরকার মত
শাসনের জুয়া চালায় সতত,
.        স্বায়ত্ত নাম ধরে!
বে-নামা কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী (২৭.১১.১৮৭৮ - ০১.০২.১৯৪৮)
সজনীতান্ত দাস সম্পাদিত শনিবারের চিঠি, ফাল্গুন ১৩৫১ (ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫) সংখ্যা থেকে নেওয়া।
.

লোকটি কে ইনি ?---যেন চিনি-চিনি,
কি এক দলের স্বামী হন ইনি,
.        জানাও ছিল যে নাম।
---ভোল বদলিয়ে নানা কৌশলে
শিং ভেঙে উনি দামড়ার দলে
.        রহিম হলেন রাম!


ওই কোণে কারা---বিশ্বম্ভর---
ধামা-চাপা-দেওয়া বিশাল উদর,
.        আইনে লাগে না ফাঁস ?
---ওরা বিলকুল ঘুস্ তুতো ভাই,
তুমি লও এত, আমি এত চাই,---
.        চোরাই বাজারে বাস।


আর এরা কারা---কঙ্কালসার,---
প্রতি হাড়খানা গোণা যায় যার,
.        জুড়ি সারা দিকদেশ ?
---এরাই যে ভাই, ভারতবর্ষ,
নাই যাহাদের বিষাদ-হর্ষ,
.        ম’রেও হয় না শেষ।
চোখে নাই দিঠি, মুখে নাই বাণী
.        হাত দুটো পাতা আছে ;
কারো বহে শ্বাস, কারো বা বয় না
উড়িছে শকুনি, সবুর সয় না,
.        শেয়ালে লয় বা পাছে!

ভিক্ষায় গেছে যাদের জীবন,
.        মরণে কি করে তার ?
সেই হাত-পাতা---ললাট-লিখন,
.        দারা-সুত---কে-বা কার!

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কবি যতীন্দ্রমোহন
বাগচী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শক্তিমায়ের ভৃত্য মোরা --- নিত্য খাটি নিত্য খাই,
শক্ত বাহু শক্ত চরণ, চিত্তে সাহস সর্ব্বদাই ;
ক্ষুদ্র হউক তুচ্ছ হউক, সর্ব্বসরমশঙ্কাহীন---
কর্ম্ম মোদের ধর্ম্ম বলি' কর্ম্ম করি রাত্রিদিন।

চৌদ্দ পুরুষ নিঃস্ব মোদের --- বিন্দু তাহে লজ্জা নাই,
কর্ম্ম মোদের রক্ষা করে, অর্ঘ্য সঁপি কর্ম্মে তাই ;
সাধ্য যেমন শক্তি যেমন-- তেমনি অটল চেষ্টাতে
দুঃখে-সুখে হাস্যমুখে কর্ম্ম করি নিষ্ঠাতে।

কর্মে ক্ষুধায় অন্ন যোগায়, কর্ম্মে দেহে স্বাস্থ পাই,
দুর্ভাবনায় শান্তি আনে---নির্ভাবনায় নিদ্রা যাই ;
তুচ্ছ পরচর্চ্চাগ্লানি --- মন্দ ভালো কোনটা কে---
নিন্দা হ'তে মুক্তি দিয়ে হাল্কা রাখে মনটাকে।

পৃথ্বিমাতার পুত্র মোরা, মৃত্তিকা তাঁর শয্যা তাই,
শষ্পে তৃণে বাসটি ছাওয়া, দীপ্তি হাওয়া ভগ্মী ভাই ;
তৃপ্ত তাঁরি শস্যে-জলে ক্ষুৎপিপাসা দুঃসহ,
মুক্ত মাঠে যুক্তকরে বন্দি তাঁরেই প্রত্যহ।

পক্ষীপ্রাণী, নিত্য জানি, শ্রম বিনা কার খাদ্য হয়,
সুদ্ধ মানুষ ভিন্ন---সে কি বিশ্ববিধির বাধ্য নয়!
চেষ্টা ছাড়া অন্ন যে খায়---অন্যে তারে বলবে কি,
ভিক্ষুকেরও ঘৃণ্য তারে গণ্য করা চলবে কি?
কর্ম্ম
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী (২৭.১১.১৮৭৮ - ০১.০২.১৯৪৮)। ১৯২২ সালে প্রকাশিত কবির “জাগরণী” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
ক্ষুদ্র নহি তুচ্ছ নহি---ব্যর্থ মোরা নই কভু---
অর্থ মোদের দাস্য করে, অর্থ মোদের নয় প্রভু ;
স্বর্ণ বল' রৌপ্য বল' বিত্তে করি জন্মাদান,
চিত্ত তবু রিক্ত মোদের নিত্য রহে শক্তিমান।

কীর্ত্তি মোদের মৃত্তিকাতে প্রত্যহ রয় মুদ্রিত,
শূন্য ’পরে নিত্য হের’ স্তোত্র মোদের উদগীত :
সিন্ধুবারি পণ্য বহি’ ধন্য করে তৃপ্তিতে
বহ্নি মোদের রুদ্র প্রতাপ ব্যক্ত করে দীপ্তিতে।

বিশ্ব যুড়ি’ সৃষ্টি মোদের, হস্ত মোদের বিশ্বময়.
কাণ্ড মোদের সর্ব্ব ঘটে কোনখানে তা দৃশ্য নয়?
বিশ্বনাথের যজ্ঞশালে কর্ম্মযোগের অন্ত নাই,
কর্ম্ম সে যে ধর্ম্ম মোদের---কর্ম্ম চাহি---কর্ম্ম চাই।

ঠাট্টা করুক ব্যঙ্গ করুক লক্ষ্মী-পেঁচার বাচ্ছারা।
পার্ব্বেনাক করতে মোদের কর্ম্মদেবীর কাছ-ছাড়া ;
শান্তিভরা দৃষ্টি যে তার জ্বলছে মোদের অন্তরে,
শঙ্কা-সরম ডঙ্কা মেরে তুচ্ছ করি মন্তরে।

মাতৃভূমি ! পিতৃপুরুষ ! কর্ম্মে যেন দীক্ষা হয় ;
রুদ্রস্বরে গর্জ্জি' বল’---ভিক্ষা নহে, ভিক্ষা নয় !
হস্ত যখন অঙ্গে আছে, সঙ্গে আছেন শক্তিময়,
কর্ম্ম-ছাড়া অন্য কা’রে করব মোরা ভক্তিভয়?
কবি যতীন্দ্রমোহন
বাগচী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সন্ধ্যা-আকাশ নীরবে তখন আঁধার আসিছে ছেয়ে ;
দাওয়ার উপরে ছায়ার মতন বসে আছে কালো মেয়ে।
বিরল বসতি ছোট গৃহখানি, গোটা দুই কোঠা-ঘর ;
অদূরে তাহারি বহিছে 'তুফানী', সম্মুখে বালুচর।

পল্লীর গৃহ---শান্ত রজনী, সাঙ্গ যা-কিছু কাজ,
ডাকিল জননী---উঠে আয় ননী, চুল বাঁধবিনে আজ?
চোরের মতন মেয়ে উঠে এসে বসিল মায়ের ডাকে ;---
কথা যাহা কিছু---চিরুনি ও কেশে, দোঁহে চুপ করে থাকে।

বেড়ে উঠে রাত---দ্বিতীয় প্রহর ; চৌকিদারের সাড়া ;
গরিবের বাড়ি----বিধবার ঘর---দিয়ে যায় কড়া-নাড়া ;
শেয়ালের ডাক মিলাইয়া আসে ঝাউ-ভাঙা বালুচরে
দুইটি শয্যা পড়ে পাশা-পাশি নিশীথ-নীরব ঘরে।

জানালার পাশে সন্‌ সন্‌ করি সাড়া দেয় শালবনী,
মা শুধায় শেষে---যেন সে গুমরি---ঘুম এল নাকি ননী?
উত্তর আশে চাপা নিঃশ্বাসে কণ্ঠ যে আসে ছেয়ে---
চেয়ে রহে তাই অন্ধ আকাশে---আইবুড়ো কালো মেয়ে।
আইবুড়ো কালো মেয়ে
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী (২৭.১১.১৮৭৮ - ০১.০২.১৯৪৮)। ১৯৪১ সালে প্রকাশিত কবির “পাঞ্চজন্য” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
থম্‌ থম্‌ করে গভীর রাত্রি প্রদীপ-নেবানো ঘরে,
আঁধার পথের যুগল-যাত্রী তুফানীর বালুচরে।
একের যাত্রা শেষ হয়ে আসে, অন্যের যবে শুরু,
কালের কপালে কোন্‌ পরিহাসে কাঁপে দুটি কালো ভুরু!

একে কালো মেয়ে, দরিদ্র তায়, বয়স---সে বিশ-পার ;
জগতের চোখে কে-বা তারে চায়? নিরুপায় চারিধার!
তবু এ রজনী শেষ হয়ে যাবে---যতই ফাটুক বুক!
কাল প্রাতে কোথা নিস্তার পাবে? দেখাতে হবে না মুখ।
কবি যতীন্দ্রমোহন
বাগচী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শ্রমিকের ফাটছে পিলে ধনিকের বুটের ঘায়ে,
বণিকের বংশ বাড়ে তেতলা প্রাসাদ-ছায়ে ;
কে খাটে, কেই বা খাটায়?            কে বা কাল খেলায় কাটায়
যে বোনে গায়ের কাপড়, সে মরে আদুল গায়ে!

বাহবা বিধির বিধান, বাজা ভাই বাজ্না বাজা,
ঢেকে দে ভাবনা যত,---দুনিয়ার এমনি রাজা।
চোরেরা বাড়ছে খাসা,                      সাধুরা কোনায় ঠাসা,
রেখে দে ধর্মকথা, নিয়ে আয় কাঁকড়া-ভাজা।

ওরে ভাই---বড্ড ক্ষিদে, কী করি বল্‌ তো উপায়,
লাগা না ফন্দি-ফিকির, যা করে মিলবে দু-পাই!
পশুরাও খাচ্ছে চরে,                        মানুষ ক্ষিদেয় মরে---
ধনীদের ঘর ভরে যায় গরিবের শ্রমের কৃপায়।

কত আর সহ্য হবে, বেটারা মোটর চড়ে ;
দু-বেলা পোলাও খেয়ে বসে বেশ আরাম করে!
দেখা হয় পথের ধারে---                     গুমরে চিনতে নারে,
দু-টাকা চাইতে গেলেই মাথাতে টনক নড়ে।

চুরিটা মন্দ কিসে---সমাজের ফক্কিকারি,
গরিবে রাখতে চেপে বড়দের খবরদারি!
এদিকে পেট জ্বলে যায়,                     কী হবে পুঁথির কথায়?
পরকাল পচুক চুলায়---বাঁচাটাই কেলেংকারি।
নিরুপায়
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী (২৭.১১.১৮৭৮ - ০১.০২.১৯৪৮)> ১৯৪১ সালে প্রকাশিত কবির “পাঞ্চজন্য” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
যদি বা ধরাই পড়ি, তাতে আর ভয় কী আছে?
---ছেলেটা ধুঁকছে জ্বরে, রেখে যাই কার কাছে!
সে মাগী গর্ভে ধরে                              বেচেছে পূর্বে মরে,
একা তাই ভাবছি বসে, কী করে দু-দিক্‌ বাঁচে!

জমিটার খাজনা দেবার এসেছে জোর তাগাদা,
মোটে যে হয়নি ফসল, জমিদার বুঝবে না তা!
ভিটে মোর সাত-পুরুষে                   তবু নেয় পয়সা ঠুসে,---
কোথাকার কেমন বিধান, বুঝি না তাও তো দাদা!

মাটি তো সঙ্গে করে আনেনি ধনীর ছেলে,
সে বেটা জন্মে শুধু কী করে দখল পেলে?
চিরদিন লাঙল ধরে                        এসেছি আবাদ করে---
তার আবার পাওনা কিসের, দিব যে চাইতে এলে!

মাটি তো মার্টিই বেটি, মুখে তার রা না কাড়ে,
নইলে ছিদাম দুলে কারুকে এমনি ছাড়ে!
থাক্‌ তোর আইন কানুন,                ঘরে যার জুটছে না নুন,
সে দেবে পয়সা গুনে,---কে বা তা চাইতে পারে।

পেটে যে পায় না খেতে, সে দেবে দেনার কড়ি---
কাকে---যে সোনার খাটে শুয়ে রয় পেট-টা ভরি!
অথচ কুপিয়ে মাটি                        না খেয়ে মোরাই খাটি---
টাকা তো তৈরি মোদের, তারা পায় কেমন করি?
সাধে কি রাগছি রে ভাই---ছেলেটা কদিন ধরে
বাদলে আমন রুয়ে পড়েছে এমনি জ্বরে!
দেখাব বদ্দি যে ভাই,                      তারো যে পয়সাটি নাই,
খাওয়াব মিছরি সাবু---তাই বা পাই কী করে।

যাক্‌ গে---মোড়ল দাদা, ঠিলি কি খালিই নাকি!
দ্যাখ না উপুড় করে---দু-ফোঁটা নাই কি বাকি?
ভেবো না ছিদাম দুলে                      নেশাতে পড়বে ঢুলে,---
নসিবে ঘটবে না তা---তাতে যে ভালোই থাকি।

ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
আমি দশ হাজার প্রাণ যদি পেতাম  চারণকবি মুকুন্দদাস
(১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)। শিল্পী - সবিতাব্রত দত্ত।
VDOটি সৌজন্যে Sabitabrata Dutta -
Topic YouTube Channel.
ছেড়ে দেও রেশমী চুড়ী বঙ্গনারী,
কভু হাতে আর প'রো না |
জাগ গো জননী ও ভগিনী,
মোহের ঘুমে আর থেকো না ||
কাঁচের মায়াতে ভুলে শঙ্খ ফেলে,
কলঙ্ক হাতে আর প'রো না |
তোমরা যে গৃহলক্ষ্মী ধর্মসাক্ষী,
জগত্ ভ'রে আছে জানা |
চটকদার কাঁচের বালা ফুলের মালা,
তোমাদের অঙ্গে শোভে না ||
বলিতে লজ্জা করে প্রাণ বিদরে,
কোটি টাকার কম হবে না |
পুঁতি কাঁচ ঝুটো মুক্তায় এই বাংলায়,
নেয় বিদেশী কেউ জানে না ||
ঐ শোন বঙ্গমাতা শুধান কথা,
জাগ আমার যত কন্যা |
তোরা সব করিলে পণ মায়ের এ ধন,
বিদেশে উড়ে যাবে না ||
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফুলার আর কি দেখাও ভয় চারণকবি মুকুন্দদাস।
(১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)
পূর্ববঙ্গ-আসামের ছোটলাট স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। স্বদেশী আন্দোলনের
সময় তিনি বিদেশী কাপড় চালাবার চেষ্টা করেন। তিনি বস্ত্রব্যবসায়ীদের
ভয় দেখিয়ে এবং প্রশাসনিক নাগপাশে তাদের বাঁধার চেষ্টা করেন। কিন্তু
তার চেষ্টা ও অভিযান ব্যর্থ হয়। মুকুন্দদাস এই দাম্ভিক ও স্বেচ্ছাচারী
ছোটলাটকে উদ্দেশ্য করে বজ্রকন্ঠে সেদিন এই গান গেয়েছিলেন, ১৯০৫।


ফুলার আর কি দেখাও ভয়?
দেহ তোমার অধীনে বটে!
.              মন তো তোমার নয়।
হাত বাঁধিবে পা বাঁধিবে,
.              ধরে না হয় জেলেই দিবে—
মন কি ফিরাতে পারবে,
.               সে তো পূর্ণ স্বাধীন রয়॥
বন্দে মাতরম্ মন্ত্র কানে,
.               বর্ম এঁটে দেহে মনে।
রোধিতে কি পারবে রণে---
.               তুমি কত শক্তিময়॥
ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে,
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে॥
তাথৈ তাথৈ থৈ দ্রিমী দ্রিমী দং দং,
ভূত পিশাচ নাচে যোগিনী সঙ্গে।
দানব দলনী হয়ে উন্মাদিনী,
আর কি দানব থাকিবে বঙ্গে॥
সাজ রে সন্তান হিন্দু মুসলমান,
থাকে থাকিবে প্রাণ না হয় যাইবে প্রাণ।
লইয়ে কৃপাণ হও রে আগুয়ান,
নিতে হয় মুকুন্দে-রে নিও রে সঙ্গে॥
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অগ্নিময়ী মায়ের ছেলে আগুন নিয়েই খেলবে তারা
চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)

অগ্নিময়ী মায়ের ছেলে আগুন নিয়েই খেলবে তারা।
মরেনি বীর সেনাদল আবার আগুন জ্বালবে তারা॥
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা তাদের জ্বালবে না রে হোমানল,
তাদের ত্যাগ বৈরাগ্যের পূর্ণাহুতি বজ্রানলের কালানল।
স্বর্গ নরক করি মানে, চায় না তারা মোক্ষপানে ;
বীরাচারী নেংটা মায়ের বীর পূজার এমনি ধারা॥
বেসুরেই বাজবে তাদের রণোন্মাদের যন্ত্রগুলি,
গগন ছেয়ে উঠবে তাদের, নৃত্য পায়ের মুক্ত ধূলি।
অত্যাচারীর কন্ঠ রুধির, পানীয় তাদের বড়ই তৃপ্তির ;
ক্লীবত্ব যায়নি যাদের বলবে তাদের পাগল পারা॥
মায়ের বুকে পাষাণ চাপা দেখেও যারা খেতাব চান,
তারাই তো দেশের দুশমন্, তারাই দেশের শয়তান।
যদি দেশের মুক্তি চাও, ওদের দূরে সরিয়ে দেও---
লাল ফাগুয়ায় খেল্ রে হোলি, ছুটুক লালে লাল ফোয়ারা॥
ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে  চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ -
১৮.৫.১৯৩৪)। অজ্ঞাত শিল্পীগণ।
VDOটি সৌজন্যে বাংলাদেশের কামরান নাহার পলি-র
YouTube Channel.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ছেড়ে দেও রেশমী চুড়ী বঙ্গনারী  চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)। শিল্পী - সবিতাব্রত দত্ত।
VDO
টি সৌজন্যে Sabitabrata Dutta - Topic YouTube Channel. গানটির আসল রচয়িতা মনোমোহন চক্রবর্তী (জন্ম মৃত্যু অজ্ঞাত)।
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, সৌমেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত ও সংকলিত “স্বদেশী আন্দোলন ও বাংলা সাহিত্য” গ্রন্থে এই গানটিই,
প্রায় একই কথায় দেওয়া রয়েছে মনোমোহন চক্রবর্তীর রচনা হিসেবে। এই সব গান চারণকবি নিজেই মঞ্চে গাইতেন। ফলে
অনেক গানই তাঁর রচনা বলে প্রচলিত হয়ে গিয়েছে।
মনোমোহন চক্রবর্তীর রচনায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আমি দশ হাজার প্রাণ যদি পেতাম |
তবে ফিরিঙ্গী বণিকের গৌরব-রবি
.             অতল জলে ডুবিয়ে দিতাম ||
শোন সব ভাই স্বদেশী,
.              হিন্দু মোছলেম্ ভারতবাসী |
পারি কিনা ধরতে অসি,
.              জগতকে তা দেখাইতাম ||
কথা শুনে প্রাণ যদি মজে,
.               সেজে আয় বীর সাজে |
দাস মুকুন্দ আছে সেজে,
.              দাঁড়ি পেলে তরী ভাসাইতাম ||
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বান এসেছে মরা গাঙে খুলতে হবে নাও
কবি চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)।
শিল্পী -
Calcutta Youth Choir এর শিল্পীবৃন্দ। ডঃ জয়গুরু গোস্বামী সম্পাদিত “চারণকবি
মুকুন্দদাস”, ১৯৭২ থেকে নেওয়া। ভিডিওটি সৌজন্যে
Music India Entertainment YouTube
Channel.
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বান এসেছে মরা গাঙে খুলতে হবে নাও।
.                তোমরা এখন ঘুমাও!
কত যুগ গেছে কেটে দেখেছ কত স্বপন
এবার বদর বলে ধর বৈঠা জীবন-মরণ পণ।
দমকা হাওয়ার কাল গিয়েছে---
.                ফাগুন বইছে পাল খাটাও॥
অবহেলে থাকলে বসে কাঁদতে হবে সারা জীবন ;
যুগ-যুগান্তরের তপস্যাতে, মিলছে এমন লগন।
.                পারের মাঝি হাল ধরেছে---
.                মিছে পরের মুখ তাকাও॥
বন্দে মাতরম্ বলে নাচ রে সকলে
কবি চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)। সুর - পবিত্র চট্টোপাধ্যায়, শিল্পী - সবিতাব্রত দত্ত ও অন্যান্যরা। ডঃ
জয়গুরু গোস্বামী সম্পাদিত “চারণকবি মুকুন্দদাস” (১৯৭২) গ্রন্থ থেকে গানটি নেওয়া হয়েছে। ১৯০৫-০৬ সাল, বঙ্গভঙ্গ নিয়ে
তখন স্বদেশী আন্দোলনের বান ডেকেছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত শক্তিকে এক করার জন্য বুকের সমস্ত সাহস নিয়ে গর্জে
উঠলেন মুকুন্দদাস --- “বন্দেমাতরম্ বলে নাচ রে সকলে কৃপাণ লইয়া হাতে”, ইত্যাদি। মুকুন্দের সেই মূর্তি দেখলেন মহাত্মা
অশ্বিনীকুমার দত্ত। তিনি মুকুন্দকে বললেন--- “স্বদেশী যাত্রার  দল তোমাকে করতেই হবে।” অল্প দিনের মধ্যেই বন্ধু-বান্ধবদের
নিয়ে “স্বদেশী যাত্রার”  দল গঠন করলেন এবং মহাত্মার নির্দেশিত পথেই জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেন।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Saroj Sanyal YouTube Channel.
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
বন্দে মাতরম্ বলে নাচ রে সকলে,
.        কৃপাণ লইয়া হাতে।
দেখুক বিদেশী হাসুক অট্টহাসি,
.        কাঁপুক মেদিনী ভীম পদাঘাতে॥
বাজাও দামামা কাড়া ঘন্টা ঢোল,
.        শঙ্খ করতাল জয়ডঙ্কা খোল ;
নাচুক ধমনি শুনিয়ে সে রোল,
.        হউক নূতন খেলা শুরু এ ভারতে॥
এখনো কি তোদের আছে ঘুমঘোর,
.        গেছে কুল মান, মোছ্ আঁখি লোর।
হও আগুয়ান ভয় কি রে তোর –
.        বিজয় পতাকা তুলে নিয়ে হাতে॥
কবে যে ভারতে আসিবে সেদিন,
.        ভেবে তা মুকুন্দ দিন দিন ক্ষীণ।
আজ কাল বলে কেটে গেল দিন,
.        দিন পেলে লীন হতেম চরণেতে॥
আমি গান করিতাম গাইতে দিলে গান
চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৮.৫.১৯৩৪)
১৯০৮-১৯০৯ সালে ইংরেজ সরকার রাজদ্রোহের অপরাধে কবিকে সুদূর দিল্লী সেন্ট্রাল
জেলে তিন বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডের সময়ে রচিত। ডঃ জয়গুরু গোস্বামী সম্পাদিত
“চারণকবি মুকুন্দদাস”, ১৯৭২ থেকে নেওয়া।
চারণকবি মুকুন্দদাস
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
.
আমি গান করিতাম গাইতে দিলে গান।
সে গানে মাতিয়ে দিতাম প্রাণ॥
গলাটা বেশ করে সেধে,
সুরটা নিতাম পঞ্চমে বেঁধে।
তানে প্রাণ উঠত রে মেতে,
সবার দিল-দরিয়ায় বইত রে উজান॥
দিতাম একটা এমন অট্টহাস,
জগত্টার কেটে যেত পাশ।
ঝড়ের মত বইত রে বাতাস,
উড়িয়ে নিত কাল মেঘখান॥
সুখ-রবি কিরণ ছড়াত,
সব ঘুমের মানুষ চমকে উঠত ;
এ মুকুন্দ একাই পারত,
জগত্ ধরে দিতে একটা টান॥
আমি অভাগিনী কাঙ্গালিনী,
দু'বেলা অন্ন জোটে না |
কি ছিলেম, কি হইলেম, কোথায় এলেম,
মা যে তোরা চিনলি না ||
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জাহাজে চড়িবার আর দুই দিন বাকী। রাত্রে চোখে নিদ্রা নাই।
আহারে প্রবৃত্তি নাই। কল্পনার শত চিত্র চোখের সামনে ভাসিয়া
উঠিতেছে। বহুদিন বিস্মৃত  সুপরিচিত মুখগুলি আবার মনের
মধ্যে ফুটিতেছে। যাহাদের সহিত ইহকালের সব বন্ধন কাটিয়া
গিয়াছিল তাহারা আবার স্নেহের শতডোরে বাঁধিতে আরম্ভ
করিয়াছে।

দুই দিন কাটিয়া গেল। দল বাঁধিয়া ছাব্বিশ জন জেল হইতে
বাহির হইলাম। তখনও কাহারও কাহারও পায়ে বেড়ী
বাজিতেছে। জেলের বাহির হইয়াই শিখেরা আকাশ পাতাল
কাঁপাইয়া চীৎকার করিয়া উঠিল ---
“ওয়া গুরুজী কি ফতে।”
তাহার পর গান আরম্ভ হইল !---
“ধন্য ধন্য পিতা দশমেস গুরু
যিনি চিড়িয়াঁসে বাজ তোড়ায়ে---”
(হে পিতঃ, হে দশম গুরু! চটক দিয়া তুমি বাজ শিকার
করাইয়াছিলে ; তুমি ধন্য!)

আজ আবার চটক দিয়া বাজ শিকার করিবার দিন আসিয়াছে
তাই ঐ সঙ্গীতের তালে তালে আমাদের প্রাণও নাচিয়া উঠিল!
মনে মনে বলিলাম---“হে ভারতের ভাবী গুরু, হে ভগবানের মূর্ত
বিপ্লবী কবি উপেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘরে ফেরা  বিপ্লবী কবি উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (৬.৬.১৮৭৯ - ৪.৪.১৯৫০)। আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি ১২ বছর পোর্টব্লেয়ারের সোলুলার জেলে, দীপান্তরের
শাস্তি ভোগ করেন। আমরা এখানে ১৯২১ সালে প্রকাশিত, তাঁর আত্মজীবনীমূলক “নির্বাসিতের আত্মকথা” গ্রন্থটির শেষ পরিচ্ছেদ থেকে এই অংশটি তুলে “ঘরে ফেরা” নাম দিয়ে
এখানে একটি কবিতা হিসেবে তুলে ধন্য হয়েছি। সর্বোপরি এই পাতার ব্যাকগ্রাউণ্ড চিত্রটিতে যে অলিন্দের ছবি দেখা যাচ্ছে, উপেন্দ্রনাথ সেই অলিন্দ-সংলগ্ন কোনো কালকুঠরীতে
জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছিলেন, যাতে আমরা স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করতে পারি। তাই তাঁদের মতো মানুষের কলমের ছোঁয়াই আমাদের কাছে কবিতা!
.
প্রকাশ, সমুদ্র পার হইতে তোমার দীন ভক্তের প্রণাম গ্রহণ কর।
তাহার পর জাহাজে চড়িয়া একবার পোর্টব্লেয়ারের দিকে শেষ
দেখা দেখিয়া লইলাম।
Wordsworthএর কবিতা মনে পড়িল---
“What man has made of man”.

জাহাজ তিন দিন ধরিয়া ছুটিয়াছে ; মনটা তাহার আগে
ছুটিয়াছে। এ সাগর দ্বীপে বাতি জ্বলিতেছে, এ রূপনারায়ণের
মোহানা ! আজই খিদিরপুরের ঘাটে জাহাজ গিয়া পৌঁছিবে!

নাঃ---জাহাজ ত কৈ ডুবিল না। এ যে সত্য সত্যই ঘাটে আসিয়া
লাগিল। পুলিস প্রহরী আমাদের সঙ্গে লইয়া আলীপুরের জেলের
দিকে চলিল।

আবার আলীপুরের জেল---কিন্তু সে চেহারা আর নাই।
আমাদের শুভাগমন বার্তা সুপারিন্টেন্ডেন্ট সাহেবের কাছে গেল
। আমাদের কাছে যা কিছু জিনিস-পত্র ছিল প্রহরীরা আসিয়া
তাহা বুঝিয়া লইল। বড বিশেষ কিছু ছিলও না। পোর্টর্রেয়ার
হইতে আসিবার সময় বইটই সমস্ত নূতন নূতন ছেলেদের মধ্যে
বিলাইয়া দিয়া আসিযাছিলাম! স্থির করিয়া ছিলাম দেশে
ফিরিয়া আর মা সরস্বতীর সহিত কোন সম্বন্ধ রাখা হইবে না।
চুপ করিয়া শুধু দুটি ভাত খাইব আর পড়িয়া থাকিব।
ঘণ্টা খানেক জেলে থাকিবার পর সুপারিন্টেন্ডেন্ট আসিয়া উপস্থিত
হইলেন। সেদিন শনিবার। আমরা ভাবিয়াছিলাম সেদিন ও
তাহার পরদিন বুঝি আমাদের জেলেই থাকিতে হইবে। কিন্তু কিছুক্ষণ
পরেই সুপারিন্টেন্ডেন্ট ঘর হইতে বাহির হইয়াআসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন---
“তোমরা বোধ হয় আজই বাহিরে যাইতে চাও? কলিকাতায় তোমাদের
থাকিবার জায়গা আছে?” বাহিরে যাইবার নাম শুনিয়া আমরা লাফাইয়া
উঠিলাম। মুখে বলিলাম---“জায়গা যথেষ্ট আছে,” আর মনে মনে বলিলাম---
“জায়গা না পাই রাস্তায় শুয়ে থাকবো ; একবার ছেড়ে ত দাও।”

সে রাত্রে হেমচন্দ্র, বারীন্দ্র ও আমি ছাড়া পাইলাম। কিন্তু যাই কোথায়?
শ্রীযুক্ত সি, আর দাসের বাড়ী গিয়া দেখিলাম তিনি বাড়ীতে নাই ; তখন
সেখান হইতে ফিরিয়া হেমচন্দ্রের বন্ধু হাইকোর্টের উকিল শ্রীষুক্ত
সাতকড়িপতি রায়ের বাড়ীতে গিয়া আতিথ্য গ্রহণ করিলাম। হেমচন্দ্র সে
রাত্রে সেইখানেই রহিয়া গেল। আর আমি চন্দননগরের বাড়ী
যাওয়াই স্থির করিলাম। ভাবিলাম রাত ১০ টার সময় হাওড়া ষ্টেশনে
গিয়া ট্রেণ ধরিব।

কিন্তু বাড়ীর বাহির হইয়া দেখিলাম যে কলিকাতার রাস্তাঘাট সব ভুলিয়া
গিয়াছি। ঘুরিতে ঘুরিতে যখন হাওড়া ষ্টেশনে আসিয়া হাজির হইলাম,
তখন ট্রেণ ছাড়িয়া গিয়াছে॥
ভবানীপুরে ফিরিয়া যাইবার আর প্রবৃত্তি হইল না। শ্যামবাজারে
শ্ব্বশুরবাড়ী---ভাবিলাম সেইখানে গিয়া রাতটা কাটাইয়া দিব।
শ্যামবাজারে যখন পৌঁছিলাম, তখন রাত বারোটা বাজিয়া গিয়াছে।
বাড়ীর দরজা বন্ধ। দুই চারিবার কড়া নাড়িয়া যখন কোন সাড়া
পাইলাম না, তখন ভাবিলাম “কুচ পরোয়া নেহি ! আজ রাতটা
কলিকাতার রাস্তায় না হয় ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইব।” প্রাণে একটা
নূতন রকম আনন্দ দেখা দিল। আজ বারো বৎসর পরে খোলা
রাস্তায় ছাড়া পাইয়াছি। সঙ্গে জেলার নাই, পেটি অফিসার নাই,
একটা ওয়ার্ডার পর্যস্ত নাই! অতীতের বন্ধন কাটিয়া গিয়াছে, নূতন
বন্ধন এখনও দেখা দেয় নাই। আজ সংসারে বাস্তবিকই আমি একা।
কিন্তু এই একাকিত্ববোধের সঙ্গে কোন বিষাদের কালিমা জড়িত নাই,
বরং একটা শান্ত আনন্দ উহার তালে তালে ফুটিয়া উঠিতেছে।

শ্যামবাজার হইতে সার্কুলার রোড ধরিয়া শিয়ালদহ ষ্টেশনের দিকে
রওনা হইলাম। বারো বৎসর জুতা পরা অভ্যাস নাই, সুতরাং আজ
নূতন জুতায় পা একেবারে ক্ষত বিক্ষত হইয়া গেল। জুতা খুলিয়া
বগলে পুরিয়া চলিতে লাগিলাম। বগলে পুঁটলি দেখিয়া রাস্তায় এক
পাহারাওয়ালা ধরিয়া বসিল--- কোথা হইতে আসিতেছি, কোথায়
যাইব ইত্যাদি ইত্যাদি। একবার মনে হইল সত্য কথা বলিয়াই দিই
যে আমি কালাপানির ফেরত আসামী ; তাহা হইলে আর কিছু না
হোক, থানায় একটু মাথা গুঁজিবার জায়গা পাওয়া যাইবে। তাহার
পর ভাবিলাম আর সত্যনিষ্ঠার বাড়াবাড়ি করিয়া কাজ নাই।
একবার সত্য কথা বলিতে গিয়া ত বারো বৎসর কালাপানি ঘুরিয়া
আসিলাম। শেষে বলিলাম---“আমি কালীঘাট হইতে আসিতেছি,
শিয়ালদহ ষ্টেশনে যাইব।” কনষ্টেবল সাহেব আমার বগলের পুঁটুলি
পরীক্ষা করিয়া অনেকক্ষণ আমার মুখের দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা
করিলেন---“তুই কি উড়ে?” বহু কষ্টে, হাস্য সম্বরণ করিয়া বলিলাম---“হাঁ”
। তখন তাঁহার নিকট হইতে যাইবার অনুমতি পাইয়া তাঁহাকে একটা
দীর্ঘ সেলাম দিয়া আবার রওনা হইলাম। সেই রাত্রে রাত একটার সময়
গাড়ী চড়িয়া যখন শ্যামনগরের স্টেশনে আসিয়া পৌঁছিলাম, তখন রাত
দুইটা বাজিয়া গিয়াছে। নৌকায় গঙ্গাপার হইয়া যখন নিজেদের পাড়ার
ঘাটে আসিয়া নামিলাম, তখন রাত প্রায় তিনটা ; রাস্তা-ঘাট একেবারে
জনশূন্য ; টিম টিম করিয়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে এক একটা কেরোসিনের
বাতি জ্বলিতেছে। বাড়ীর সম্মুখে গিয়া দেখিলাম, বাড়ীর চেহারা সম্পূর্ণ
পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে। জানালায় ধাক্কা মারিয়া ভায়াদের নাম ধরিয়া
ডাকিতে ডাকিতে একটা জানালা খুলিয়া গেল আর ভিতর হইতে
হর্ষোদ্বেগ-চঞ্চল একটী সুপরিচিত বামা-কণ্ঠে প্রশ্ন হইল--- “তুমি কে?”
সঙ্গে সঙ্গে আর একটা জানালা খুলিয়া মা ঐ একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন
। যাহার আশা সকলেই ছাড়িয়া দিয়াছে, দে যে আবার ফিরিয়া
আসিয়াছে এ কথা বিশ্বাস করিতে যেন কাহারও সাহসে কুলাইতেছে না।

বাড়ীর ভিতর চারিদিকে ছুটাছুটি পড়িয়া গেল। এক পাল ছেলে আসিয়া
চোখ মুছিতে মুছিতে আমার চারিদিকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। কারা এরা?
ইহাদের কাহাকেও যে চিনি না। একটি ছোট ছেলে একটু দূরে দাঁড়াইয়া
হাঁ করিয়া আমার মুখের দিকে চাহিয়া ছিল। আমার ভ্রাতুষ্পুত্র তাহার
সহিত আমার পরিচয় করাইয়া দিয়া বলিল---“এই আপনার ছেলে।”
যাহাকে দেড় বৎসরের রাখিয়া গিয়াছিলাম, সে আজ তেরো বতসরের
হইয়াছে!

আবার নূতন করিয়া সংসারের খেলা-ঘর পাতিয়া বসিলাম।
ওগো খেয়াপারের কর্ণধার ! এবার কোন্‌ কুলে পাড়ি দিবে?
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার কি যেন ছিল, এখন নাহিক আর ;
তাহারি অভাবে শুধু যেন এই হাহাকার।
থেকে থেকে তারি তরে ওঠে যেন দীর্ঘ শ্বাস,
অশ্রু দেখা দেয় চখে, অধরে মিলায়ে হাস।
হয় ত রয়েছি আমি প্রিয় সখীদের সাথে,
কথোপকথনো মগ্ন বিমল চাঁদিনী রাতে ;
মধুর জ্যোছনা রাশি পড়েছে কোলের পরে,
অবিন্যস্ত চুল লয়ে সমীরণ খেলা করে।
ভেসে আসে ফুল গন্ধ কুসুম কানন হতে,
কে জানে আপন মনে গাহিয়া কে চলে পথে ;
সে আকুল তান তার মরম পরশে মোর,
সহসা হৃদয় উঠে হইয়া আকুল ঘোর।
না ফুরাতে মাঝখানে বাক্যস্রোত থেমে যায়,
ধীরে ধীরে ঘন ঘোর আঁধার পরাণ ছায়!
কি জানি কি মনে পড়ে কিছু ভাল নাহি লাগে,
বুঝিতে পারি না মোর মরমে কি ব্যথা জাগে।

হয় ত কখন আমি দুপুরে নিজন বাসে---
গাহিতেছি আনমনে, বসি জানালার পাশে ;
গাহিতে গাহিতে গান হয়েছি আপনহারা,
ভাবেতে ডুবিয়ে গেছি যেন পাগলিনী পারা।
সহসা ভাঙ্গিল ঘোর একটি পাখীর ডাকে,
কি বলে করুণ সুরে বসি বকুলের শাখে ?
কবি মৃণালিনী সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিধবা কিশোরী
কবি মৃণালিনী সেন (৩.৮.১৮৭৯ ~ ৮.৩.১৯৭২)। ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত কবির “নির্ঝরিণী” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
বাতাসের কোলে ধীরে গান মোর মিলে যায়,
পাখীর বিষাদ তানে প্রাণ কেন ব্যাকুলায়!
হাসিরাশি কেন হয় পরিণত অশ্রু ধারে,
মর্ম্মভেদী কেন ওঠে দীর্ঘশ্বাস বারে বারে!
কি যেন গো মনে পড়ে কিছু ভাল নাহি লাগে,
বুঝুতে পারি না মোর প্রাণে কি বেদনা জাগে।

বসন্তের সুপ্রভাতে কখনো কুসুম বনে,
চয়ন করিয়া ফুল গাঁথি বসে শিলাসনে ;
বিহগ বিহগী কত বসিয়া তরুর পরি,---
গাহিছে প্রভাত গাথা সুমধুর তান ধরি’।
প্রভাত কিরণ মাখি কত শত পাখী খেলে---
মেঘহীন সমুজ্জ্বল সুনীল গগনকোলে।

কাঁপাইয়া তরুলতা প্রভাত বসন্ত বায়---
বহিছে, কি যেন ধীরে মোর কাণে কহে যায়।
বুঝিতে পারি না তার সে মৃদু নীরব কথা,
শুধু জেগে ওঠে মোর প্রাণের ঘুমন্ত ব্যাথা।
কি যেন গো মনে পড়ে নাম ত জানি না তার,
কাঁদিয়া আকুল হই বহে চখে শত ধার।
ছড়ায়ে ফেলিয়া দিই কুড়াইনু যত ফুল,
জানি না কুড়ানু কেন---এমনি মনের ভুল।
চিনিতে নারিনু আমি আপনার প্রাণ মন,
কিসের অভাব মোর বলে দেবে কোন জন!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাল্মীকির যুগের কথা বলি শোন্‌। দণ্ডকারণ্যে ঋষি মাতঙ্গের
আশ্রমের অদূরেই থাকত ব্যাধকন্যা শবরী। অতি দীনা হীনা।
স্বামী মারা গিয়েছিল অকালে। সন্তানাদি তার কিছুই ছিল না।
একা একা থাকত কায়ক্লেশে। গাছের ফল-মূল খেয়েই তার
জীবন চলত। ঋষির আশ্রমের কাছাকাছি যাবার তার সাহস
ছিল না---পাছে আশ্রমবাসীদের কেউ তার ছায়া মাড়ায়। যদি
তার গায়ের বাতাস কারও গায়ে লাগে কিংবা তার ছায়া কেউ
মাড়িয়ে ফেলে তবে দর্শকের পবিত্রতা অমনি উবে যাবে
কর্পূরের মত। শবরী তাই সৰ সময় সশঙ্ক, সন্ত্রস্ত।

একদিন শবরী দেখল মাতঙ্গ ঋষি প্রাতঃস্নান সেরে এসে গভীর
ধ্যানে মগ্ন। তাঁকে ধ্যানস্থ অবস্থায় দেখে শবরী মুগ্ধ হল ; কিন্তু
অস্পৃশ্য নারী তো, তাই সেখান থেকে সে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে
বেশ একটু দূরে থেকেই ঋষিকে দেখতে লাগল আর আপন মনে
ভাবতে লাগল---কি করে সেবা করব আমি এই ঋষিকে, যাঁকে
চোখে দেখা নিষেধ যাঁর কাছে যাবার উপায় নেই
আমার, তাঁকে সেবা করা যে আমার পক্ষে দুঃসাধ্য।

ভাবতে ভাবতে শবরীর যাথায় খেলে গেল একটা মতলব।
অবিশ্যি বিপদ আছে, কিন্তু কী সুন্দর, ভাবতেও মিষ্টি লাগে।
সে এমনতাবে ঋষির সেবা করবে যাতে সে তাঁর নজরে না
বিপ্লবী কবি ঋষিকেশ
কাঞ্জিলাল
শবরীর উপাখ্যান  বিপ্লবী কবি ঋষিকেশ কাঞ্জিলাল (১৮৭৯ - তিরোধান অজ্ঞাত)। তিনি আলিপুর বোমা যড়যন্ত্র মামলায় আন্দামানের সেলুলার জেলে দ্বীপান্তরের সাজাপ্রাপ্ত
হন। আন্দামান থেকে ফিরে এসে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী বিশুদ্ধানন্দ গিরি নাম ধারণ করেন। দীর্ঘ হলেও, ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শশাঙ্কমোহন চৌধুরীর “বারবেলার বৈঠক” গ্রন্থের
৪৫-পৃষ্ঠায় শুরু হওয়া, স্বামী বিশুদ্ধানন্দ গিরির ভাষ্যে দেওয়া “শবরীর উপাখ্যান”-টি আমরা এই বিপ্লবীর কবিতা হিসেবে তুলে ধন্য হলাম। সর্বোপরি এই পাতার ব্যাকগ্রাউণ্ড চিত্রটিতে যে
অলিন্দের ছবি দেখা যাচ্ছে, ঋষিকেশ কাঞ্জিলাল সেই অলিন্দ-সংলগ্ন কোনো কালকুঠরীতে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছিলেন, যাতে আমরা স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করতে পারি। তাই
তাঁদের মতো মানুষের কলমের ছোঁয়া বা মুখনিঃসৃত বাণী আমাদের কাছে কবিতাই!
.
পড়ে এবং তিনি কিছুই টের না পান।

আশ্রমের দরজা থেকে ঋষির নদীতে স্নান করতে যাবার পথটা
গভীর নিশীথে শবরী ঝাট দিয়ে পরিষ্কার করে তাতে জল
ছিটিয়ে দিত আর ঋষির যজ্ঞের জন্য সংগ্রহ করা কাঠ ঠিক
আশ্রমের দরজার সামনে রেখে দিত। একদিন নয়, দুদিন নয়,
দিনের পর দিন ; এমনি করে চলতে লাগল শবরীর কাজ।

পরিচ্ছন্ন রাস্তা আর দরজার সামনে রাখা যজ্ঞের কাঠ কিছুদিন
মাতঙ্গ ঋষি লক্ষ্য করছিলেন। বিস্মিত হলেন তিনি। একদিন
এক শিষ্যকে ডেকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন---জান তোমরা কেউ
এমন সুন্দর করে রাস্তা পরিষ্কার করে কে এই যজ্ঞের কাঠ
দরজার সামনে রেখে যায়?

শিষ্য বললে---না ত, আমরা কেউ জানি না। তবে শুনেছি ফোন
বনবাসী রাত্রে এ-কাজ করে যায়।
মাতঙ্গ আদেশ দিলেন---যে এ-কাজ করে তাকে জেনে যেন তাঁর
কাছে হাজির করা হয়।

শিষ্যটি যথা আজ্ঞা বলে সেইদিনই রাত্রে একটা
ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে লক্ষ্য করতে লাগল। শবরী যথাসময়ে
এসে
তার কাজ শুরু করতেই শিষ্যটি তার সামনে হাজির হয়ে
জিজ্ঞেস করলে, কে তুমি? কেন এই আশ্রমের পরিবেশ রাতের
পর রাত পরিষ্কার করে যজ্ঞের কাঠ দরজার সামনে ফেলে
যাও? গুরুদেব আদেশ করেছেন তাঁর কাছে তোমাকে নিয়ে
যেতে, চল তৃমি।

শবরী ভয়ে কাঁপতে লাগল। বুঝি তার অপরাধ ধরা পড়ে গেছে
। তবু সে চলল মহর্ষির কাছে।

মহর্ষি এই নারীকে দেখে তার সামনে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস
করলেন---মা কি উদ্দেশ্যে তুমি এই আশ্রমের চারিদিক এমন
সুন্দর করে পরিষ্কার করে আমার জন্যে যজ্ঞের কাঠ রেখে যাও
দিনের পর দিন?

ঋষির সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণতা হয়ে শবরী বললে---হে মহাত্মা,
আমি এই আশ্রমের একটু দূরেই বনে বাস করি। আমি অস্পৃশ্যা
। কোন সহায়-সন্বল নেই আমার। একদিন আপনাকে ধ্যানস্থ
অবস্থায় দেখে আমি উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম। সেইদিনই আমার
মনে বাসনা জাগল আপনাকে সেবা করবার। কিন্তু কিভাবে
আপনার সেবা করব? আমি যে আপনার কাছে যেতে পারি না
। তাই সন্দেহ-সঙ্কোচ হতে লাগল। কিছুক্ষণ বাদেই আমার মনে
হুল--- কেন, আহি তো এভাবেও আপনার সেবা করতে পারি, যা
আমি করে আসছি এ-যাবৎ। অপরাধ হয়ে থাকে আমায় ক্ষমা
করুন দেবতা!

মাতঙ্গ ঋষি শবরীর কখায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর শিষ্যকে আদেশ
দিলেন---বৎস, আশ্রমের বাইরে শবরীর থাকবার সথ ব্যবস্থা
করে দাও। আর, প্রতিদিনের আহার্য সে পাবে এই আশ্রম থেকে।
এটাই হবে তার আমাকে সেবা করবার পুরস্কার।

শবরী আর একবার ঋষিবরকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে উঠে দাঁড়িয়ে
কৃতাঞ্জলি হয়ে নিবেদন করলে---হে মহানুভব ! ক্ষমা করবেন,
আপনার এ পুরস্কার আমি গ্রহণ করতে অপারক। বন থেকে
আমি যথেষ্ট ফলমূল পাই। পেটের জন্যে আমার কোন ভাবনা নেই
। আপনার কৃপা একটু-আধটু পেলেই আমি ধন্য হব, সেই হবে
আমার সত্যিকার পুরস্কার। আমি ঐশ্বর্যের কাঙালিনি নই---
কারণ, আমার পরিবার বলতে কিছু নেই। আমার জন্যে শোক
করবারও কেউ নেই। শুধু এই আশীর্বাদ করুন যাতে মরণকালে
আমি ভগবানের চকণে আশ্রয় পাই।

নিরক্ষরা বনবাদিনী এই অস্পৃশ্যা নারীর কথা শুনে মাতঙ্গ ঋষি
বিস্মিত হলেন। কিছুক্ষণের জন্যে তিনি সমাধিস্থ হলেন। সমাধি
ভঙ্গের পর তিনি শবরীকে সম্বোধন করে বললেন ধন্য নারী, তুমি
নির্ভয়েই এই আশ্রমেই থাকবে।

এই আদেশ দিয়ে মাতঙ্গ ঋষি আশ্রমের ভিতরে নিষ্ক্রান্ত হলেন।  
শবরীও সেইদিন থেকে আশ্রমেরই একজন হয়ে গেল।ঋষির প্রতি
শবরীর যে মনোভাব তার তিলমাত্র অন্যথা হল না। বরং
তাঁর প্রতি তার শ্রদ্ধা দিন দিন বাড়তে লাগল, তার নিত্যকার
কর্তব্যও তেমনি রইল।

এমনি করে বছরের পর বছর গড়িয়ে যেতে লাগল। দণ্ডকারণ্যে
কত লোক মাতঙ্গ ঋষিকে অনুর়োধ করতে লাগল শবরীকে
আশ্রম থেকে সরিয়ে দিতে, কারণ তা না হলে নাকি ঋষির
তপস্যার ব্যাঘাত হুবে। আশ্রমবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ
শবরীর সঙ্গে বাক্যালাপ করত না, কেউ বা তার সামনে আহার্য
গ্রহণ করত না। মহর্ষি এ সব জেনে সকলকে তিরস্কার করলেন
। এর পরেও শবরীকে আরও লাঞ্ছনা ভোগ করতে হল।

এমনি করে আবার কত বছর গড়িয়ে গেল। মাতঙ্গ ঋষি তার
দিন ঘনিয়ে আসছে জানতে পেরে একদিন কুশাসনে বসে
দেহত্যাগের জন্যে প্রস্তুত হলেন। শিষ্যকুল তাঁকে ঘিরে চোখের
জলে তার পূজো করতে লাগল। শবরীরও চোখের জল আর
রোধ মানে না। সস্নেহ সম্বোধনে শবরীকে কাছে ডেকে ঋষি
বললেন--- “বৎস, তুমি শোক কর না। স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার
শ্রীরামচন্দ্র অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র হয়ে জন্মেছেন।
তিনি শীঘ্রই এখানে এসে তোমার আতিথ্য গ্রহণ করবেন।
তারপর হবে তোষার স্বর্গলাভ। সে পর্যন্ত তুমি শুধু রাম রাম
করে যাও, এ নামের মধ্যেই ডুবে থাক। সেইটাই হবে তোমার
আমাকে সেবা করবার পুরস্কার।” অন্যান্য শিষ্যকেও যথাযোগ্য
উপদেশ দিয়ে মাতঙ্গ ঋষি দেবলোকে চলে গেলেন।

মাতঙ্গ ঋষির আশীর্বাদে শবরী রামভক্ত হয়ে উঠল। দিবারাত্রি
রামনাম তার মুখে। বনের ফলমূল খায় আর রামের আগমনের
প্রতীক্ষায় থাকে। পাতার মর্মর শোনে আর ভাবে ঐ বুঝি এল
রাম! ছুটে যায় বাইরে, ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। কখন আসবে
কে জানে! ফলগুলি খেয়ে খেয়ে দেখে যেগুলি বেশ মিষ্টি সেগুলি
দেয় রামের জন্যে রেখে। চোখের পাতায় তার ঘুম নামে না।
গভীর রাত্রে আশ্রমের চারিদিকে চেয়ে দেখে যদি রামের পায়ের
শব্দ কানে পৌঁছায়। রামের চিন্তায় সে এমনি আত্মহারা হয়ে
যায় যে, তার বাহ্যজ্ঞান বলে কিছুই থাকে না।

জীবনের প্রান্তে একদিন দণ্ডকে রামের আগমনবার্তা তার কানে
এল। তার সমস্ত শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল অকস্মাৎ!
তাড়াতাড়ি সেরা সেরা ফলগুলি রামের জন্যে সাজিয়ে ঢাকা
দিয়ে ছুটে চলল নদীতে জল আনতে। যেতেই পথে পড়ল এক
মুনি। তিনি স্নান সেরে তার আশ্রমে ফিরছিলেন। পাছে মুনি
অপবিত্র হয়ে যান এই ভয়ে শবরী এক পাশে ছুটে যেতেই তার
ছায়া মুনিবরের পদস্পর্শ করল। মুনিবর অমনি ক্ষিপ্ত হয়ে
শবরীর উপর অজস্র গালিবর্ষণ করে আবার চললেন নদীতে
স্নান করে শুদ্ধাচারী হতে। ও হরি! মুহূর্তের মধ্যে এ কি হল!
নদীর জল সাদা ফেনায় আচ্ছন্ন---রোগের বীজাণু বোধ হয়।
হাত দিয়ে ফেনা দূরে সরিয়ে মূনিবর কোন রকমে স্নান সেরে
আবার শুদ্ধাচারী হয়ে ঘরে ফিরলেন।

ইতিমধ্যে শবরী নদী থেকে পরিষ্কার জল তুলে এনেছে রামের
জন্যে। বিস্মিত হয়ে দেখে তার কুটিরে রাম ও লক্ষণ হাজির।
শ্রীরাম জিজেস করলেন--- কোথায় আমার শবরী? সত্যি,
সত্যিই রাম এলেন শেষে তার পর্ণকুটিরে ! আনন্দে আত্মহারা
হয়ে শবরী লুটিয়ে পড়ল রামের পায়ের তলায়। সেই
ধনুর্বাণধারী, পদ্মপলাশলোচনকে দেখে শবরী বিহ্বল---করতালি
দিয়ে ধেই ধেই করে নেচে সারা উঠান কাঁপিয়ে তুলল। সে নাচ
আর থামে না, কাপড়-চোপড় সব খসে পড়ছে, সেদিকে
তার হুঁস নেই আদৌ। পতিতং চোত্তরীয়ং তু পরিধানীয়মব্যহো
। তথাপি ন নিবৃত্তা সা নিমগ্নানন্দসাগরে॥

কি কর, কি কর শবরী? তোমার রাম যে তোমার সামনেই
অতিথি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। লক্ষ্মণ শবরীর চেতনা ফিরিয়ে
আনলেন।

শবরী সম্বিত ফিরে পেয়ে তাড়াতাড়ি রাম-লক্ষ্মণের কাছে এসে
অতি ভক্তিভরে উভয়ের পা ধুয়ে দিয়ে অতিথি সৎকারের
ব্যবস্থা করল। সবচেয়ে সেরা ফলগুলি আনল, আনল নির্মল জল
। লোভাতুরের মত রাম-লক্ষ্মণ উভয়েই শবরীর হাতের আহার্য
গ্রহণ করলেন। শবরীর আজ বাসনার শেষ---জীবন তার সার্থক।

শ্রীরাম বললেন---শবরী, তোমার ভক্তিতে আমি অত্যন্ত প্রীত
হয়েছি। কি বর চাও বল তুমি, আমি তা-ই দেব।
উত্তরে শবরী বলল---প্রভুকে চাক্ষুষ দেখার পর আর কি তার
চাইবার থাকতে পারে! সে শুধু এই চায় যে, প্রভুর প্রতি ভক্তি
যেন তার আরও বৃদ্ধি পায়।
রাম বললেন---তথাস্তু !

আনন্দে শবরীর বাক্শক্তি রুদ্ধ হয়ে গেছে। নিষ্পলক তার
চোখের দৃষ্টি রামের মুখের পানে এবং কিছুক্ষণ বাদেই
সে দৃষ্টিও হারিয়ে গেল চোখের পাতার নিচে। শবরীর আত্মা
তখন আনন্দলোকে।
.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
. . . . পরের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবাদী            .
কবিতার        .
পরের    .
পাতায় যেতে
এখানে    .
ক্লিক         .
করুন              .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
অতুলপ্রসাদ সেন (১৭)
সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
অরবিন্দ ঘোষ (১)
সরলা দেবীচৌধুরাণী (২)
শচীন্দ্রচন্দ্র মজুমদার (১)
ময়মনসিংহ সুহৃদ সমিতি (১)
জাতীয় শিল্পী পরিষদ (৩)
মোমিনদের গান (৩)
হেমলতা দেবী (১)
সুরমাসুন্দরী ঘোষ (১)
বিধুভূষণ বসু (১)   
বিধুমুখী রায় (১)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)  
বিপ্লবী পুলিন দাস (১)
রমণীমোহন ঘোষ (১)
পীতাম্বর দাস (১x৪)
রমেশ শীল (১০)
যতীন্দ্রমোহন বাগচী (৪)  
চারণকবি মুকুন্দদাস (৮)
বিপ্লবী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১)
মৃণালিনী সেন (১)
বিপ্লবী ঋষিকেশ কাঞ্জিলাল (১)
কবি শরৎচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রামদাস ফিরিয়া দাঁড়াইল, এবং তাহার দক্ষিণে বামে ও সম্মুখের
বিক্ষুব্ধ, ভীত, চঞ্চল জনসমষ্টিকে সম্বোধন করিয়া উচ্চকণ্ঠে বলিতে
লাগিল, ভাইসব! আমার অনেক কথা বলবার ছিল, কিন্তু এরা
গায়ের জোরে আমাদের মুখ বন্ধ করচে। এই বলিয়া সে আঙ্গুল
দিয়া সুমখের পুলিশ-সওয়ারগণকে দেখাইয়া বলিল, এই
ডালকুত্তাদের যারা আমাদের বিরুদ্ধে, তোমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে
দিয়েছে, তারা তোমাদেরই কারখানার মালিকেরা! তারা কিছুতেই
চায় না যে কেউ তোমাদের দুঃখ-দুৰ্দ্দশার কথা তোমাদের জানায়
। তোমরা তাদের কল চালাবার, বোঝা বইবার জানোয়ার! অথচ
তোমরাও ত তাদেরি মত মানুষ, তেমনি পেট ভরে খাবার, তেমনি
প্রাণ খুলে আনন্দ করবার জন্মগত অধিকার তোমরাও যে
ভগবানের কাছ থেকে পেয়েচ এই সত্যটাই এরা সকল শক্তি, সকল
শঠতা দিয়ে তোমাদের কাছ থেকে গোপন রাখতে চায়। শুধু
একবার যদি তোমাদের ঘুম ভাঙ্গে, কেবল একটিবার মাত্র যদি এই
সত্য কথাটা বুঝতে পার যে, তোমরাও মানুষ, তোমরা যত দুঃখী,
যত দরিদ্র, যত অশিক্ষিতই হও তবুও মানুষ, তোমাদের মানুষের
দাবী কোন ওজুহাতে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না, তা হলে, এই
গোটা-কতক কারখানার মালিক তোমাদের কাছে কতটুকু?
এই সত্য তোমরা কি বুঝবে না?  এ যে কেবল ধনীর বিরুদ্ধে
দরিদ্রের আত্মরক্ষার লড়াই! এতে দেশ নেই, জাত নেই, ধৰ্ম্ম নেই,
মতবাদ
রামদাস ফিরিয়া দাঁড়াইল
কবি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫.৯.১৮৭৬ ~ ১৬.১.১৯৩৮)
কবির সালে প্রকাশিত “পথের দাবী” উপন্যাসের অধ্যায় সতোরোর অংশ বিশেষকে আমরা তাঁর একটি প্রতিবাদী কবিতা হিসেবে
তুলে দিতে পেরে ধন্য হলাম।
.
নেই — হিন্দু নেই, মুসলমান নেই, — জৈন, শিখ, কোন কিছুই নেই,
— আছে শুধু ধনোন্মত্ত মালিক, আর তার অশেষ প্রবঞ্চিত অভুক্ত
শ্রমিক। তোমাদের গায়ের জোরকে তারা ভয় করে, তোমাদের
শিক্ষার শক্তিকে তারা অত্যন্ত সংশয়ের চোখে দেখে, তোমাদের
জ্ঞানের আকাঙ্খায় তাদের রক্ত শুকিয়ে যায়। অক্ষম, দুর্ব্বল, মূর্খ
দুর্নীতিপরায়ণ তোমরাই যে তাদের বিলাস-ব্যসনের একমাত্র
পাদপীঠ! তাই, মাত্র তোমাদের জীবনধারণটুকুর বেশি তিলার্ধ যে
তারা স্বেচ্ছায় কোনদিন দেবে না, এই সত্য হৃদয়ঙ্গম করা কি
তোমাদের এতই কঠিন! আর সেই কথা মুক্তকণ্ঠে ব্যক্ত করার
অপরাধেই কি আজ এই গোরাগুলোর কাছে আমাদের
লাঞ্ছনাই সার হবে! দরিত্রের এই বাঁচবার লড়াইয়ে তোমরা কি
সকল শক্তি দিয়ে যোগ দিতে পারবে না?
কবি বিধুমুখী রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কলিকালে বলিহারি কি বলিব হায়,
কালে কালে কত হবে কে রলিবে তায়।
যে ভারত সত্যযুগে সভ্যতা আলোকে,
প্রধান প্রতিষ্ঠা প্রাপ্ত হয়েছিল লোকে।
সে ভারতে জ্ঞানসূর্য অস্মিত এবে,
মোহ অন্ধকারে অন্ধ হইয়াছে সবে।
ন্যায় পথ ভ্রান্ত হয়ে বিপথেতে যায়
সর্বদা পতিত হয় চক্ষুহীন প্রায়।
বিদ্যাহীন, বলহীন, ধনহীন সবে,
পেয়েছে দরিদ্র, মুর্খ,, ভীরু নাম এবে।
ম্লেচ্ছ বলি অতি তুচ্ছ করিত যাদের,
এখন দাসের দাস হয়েছে তাদের।
শারীরিক মানসিক শক্তিতে উন্নত,
হয়েছিল এক দিন শ্যামলা ভারত।
এবে তার বিপরীত হল সমুদয়,
সুপথ ছাড়িয়া নর কুপথেতে যায়।
ক্ষণিক সুখের হ’ল প্রয়াসী সবাই,
বিষম বিলাসে মগ্ন কি বলিব ভাই।
আতর গোলাপ মাখা সুসজ্জিত বেশ,
কুন্তলেতে “কুন্তলীন” সুগন্ধী সরেশ।
কলি কাল কবি বিধুমুখী রায় (জন্ম-মৃত্যু অজ্ঞাত)। রচনাকাল ১৮৯৬। এই কবি সম্বন্ধে, ১৯৬২ সালে প্রকাশিত বারিদবরণ ঘোষ সম্পাদিত, "কুন্তলীন
গল্প-শতক" গ্রন্থের ৬৮১ পৃষ্ঠায় দেওয়া "কুন্তলীন পুরস্কার সম্পূর্ণ সূচী" থেকে জানতে পারছি যে ১৩০৩ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬খৃষ্টাব্দ), কুন্তলীন পুরস্কার প্রদানের
প্রথম বছরে, এই কবি তাঁর এই কবিতাটির জন্যই, ৫টাকার বিশেষ পুরস্কার লাভ করেছিলেন। আমরা আরও জানি যে
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৩০৯
বঙ্গাব্দে (১৯০২-০৩ খৃষ্টাব্দে) রেঙ্গুন যাবার একদিন আগে তাঁর "মন্দির" গল্পটিকে, তাঁর ভাগ্নে সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে, কুন্তলীন পুরস্কারের জন্য
জমা দিয়েছিলেন। সেবার সেই গল্পটি ১ম পুরস্কার পায়। তাই আমরা এই কবিকে, কালানুক্রমিকভাবে,
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঠিক আগে রাখলাম!
.
কেব আলবর্ট তোলে বিবিয়ানা সাজ,
কারো ঝোলে পৃষ্ঠে বেণী ফণী পায় লাজ।
কি পুরুষ কিবা নারী সবাই সমান,
হিতাহিত বিবেচনা কিছু নাহি জ্ঞান।
গুরুজনে নাহি মানে নাহি করে সেবা,
শ্বশুর শ্বাশুড়ী পিতা মাতা তারা কেবা!
যে দেশেতে পিতৃভক্ত রাম জনমিল,
পিতৃ আজ্ঞা পালনার্থে অরণ্যে যাইল।
এখন তেমন পিতৃ ভক্ত ছেলে কোথা,
পুত্রের আদেশ পালে বৃদ্ধ পিতা মাতা।
আদর্শ লক্ষ্মণ ভাই জন্মিল যথায়,
ভাই ভাই ঠাঁই ঠাঁই সদাই তথায়।
কি বলিব কলিকালে সব বিপরীত,
নীচ পেল উচ্চ মান, উচ্চ হ’ল নত।
পূর্বকালে শাশুড়ীরা বৌকে দিত জ্বালা,
শাশুড়ী জ্বালায় এবে কলিকালের বালা।
ননদী---বাঘিনী আখ্যা পূর্বে ছিল যার,
(এবে) বিড়ালরূপে খাচ্ছে ছেঁচা দেখ দশা তার।
শাশুড়ী রন্ধন করে ননদিনী দাসী,
কাজেতে কসুর হলে গলে দিবে ফাঁসি।
শ্বশুর সরকার, স্বামী যেন পোষা মেষ,
নম্র ভাবে পালেন সদা পত্নীর আদেশ।
পত্নীসেবা কলিকালে পতি সেবায় ছাই,
বৃদ্ধ পিতামাতা হ’ল আপদ বালাই।
পতি সেবা পূর্বে ছিল নারীর করম,
পতিপদ পূজা ছিল পরম ধরম।
. . . . .
পতিব্রতা আখ্যা এবে হ’ল পুরুষের।
রমণী হলেন রানী কলির সিংহাসনে
কোটালী করেন কৃষ্ণ কলির বৃন্দাবনে।
ধন্য ধন্য কলিকাল মহিমা তোমার,
রত্নগর্ভে কাঁচ ফলে কত কব আর।
রত্ন গর্ভা ভারত তুমি রত্ন প্রসবিনী,
কোথায় সে সব রত্ন তোমার জননী।