প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে . . .
সখী সারদা কাহারে বলে
সখী নারদা কাহারে বলে
তোমরা যে বলো দিবসরজনী ঘুষ খাওয়া ঘুষ খাওয়া
সখী ঘুষ খাওয়া কারে কয়?
সে কি কেবলই নারদা-ময়?
সে কি কেবলই চ্যানেলে ফাঁস,
সে কি কেবলই পেছনে বাঁশ?
লোকে তবে করে কি ভুলেরই তরে, এমনও হুলেরও আশ?
আমার চোখে তো সকলই শোভন,
সকলই মির্জা,সকলই হাকিম,
সৌগত রায়-প্রসূন বন্দ্যো
মুকুল কাকলি মদনানন্দ সকলই যে যার মত।
তারা কেবলই পায়,কেবলই খায়,
অনুদান নিয়ে মরিতে চায়।
না জাগে চেতন,না মেলে বেতন, না মেটে সাধের যাতনাযতন।
টাকা সে হাসিতে হাসিতে ঝরে, সিবিআই শেষে মিলায়ে যায়।
কেষ্টদেবতা গুড় ও বাতাসা মানুষের ভোটে বিলায়ে দেয়।
সখী সারদা কাহারে বলে অজ্ঞাত কবি।
ইনটারনেট ও হোয়াটসঅ্যাপের ছড়া। মিলনসাগরের দেয়ালিকা ৫ এ প্রাপ্তি ২১-৪-২০১৬।
আমাদের মত সুখী কে আছে,
আয় ভোটপাখি আমাদের কাছে;
লক্ষ লক্ষ অনুদান,পকেটে ঢুকলে জুড়োবে প্রাণ।
প্রতিদিন যদি অনুদান আসে,
একদিন নয় ফাঁসাবে নারদে;
একদিন নয় সকলে মিলিয়া,মদনের সাথে মিলিব গারদে।
সখী সারদা কাহারে বলে...
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার শহর বাকরুদ্ধ
অনুভবহীন অসাড়
পিষ্ট হল স্বপ্নগুলো
আকাশ ছাওয়া আঁধার
আমার শহর রক্তস্নাত
প্রতিশ্রুতি চুরমার
সেতুর নীচে মৃতস্বজন
শুনছোকি হাহাকার?
আমার শহর রাজনীতি
মৃতদেহ দরদাম
রক্ত নিয়েও দলাদলি
ভাবছো ডান না বাম?
আমার শহর ভাঙা সেতু
রক্তের জাত খোঁজা
আঘাত সয়েও টান করা পিঠ
শিরদাঁড়াটা সোজা।
আমার শহর অজ্ঞাত কবি।
৩১ মার্চ ২০১৬ তারিখে, উত্তর কলকাতার পোস্তার ফ্লাইওভার ব্রীজটি
ধ্বসে পড়ে, ২৭ জনের মৃত্যুর পরে লেথা। রক্তদাতাদের রাজনৈতিক
জাত বিচার করে, বিরোধী দলের রক্তদাতাদের, রক্তদান করতে বাধা
দেওয়া হয়। মিলনসাগরে প্রকাশকাল মার্চ ২০১৭।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(যদি) "দেশপ্রেমিক" নাচে!!!
খবরদার চাইবে না কেউ
চাকরি তাহার কাছে
চাইবে না কেউ ভাত বা রুটি
চাইবে না কেউ খেতে
(থাকো) চার পা তুলে সিনেমা হলে
'জনগণ' তেই মেতে!
(যদি) "দেশপ্রেমিক" কাঁদে-!!!
খবরদার! বাড়িতে যেন মাংস কেউ না রাঁধে
গোরুর খুরে মাথা খুঁড়ে তুমুল অট্টনাদে
ভোজপুরি গান চালিয়ে দিও
বেডরুমে আর ছাদে!!
(যদি) "দেশপ্রেমিক" হাসে!!!
সাবসিডির ঐ চিন্তা যেন
কারও মনে না আসে।
থাকবে খাড়া ব্যাঙ্ক লাইনে
তুলবে মেপে টাকা
জানবে ওসব আম্বানিদের
জন্য আছে রাখা।
দেশপ্রেমের ছড়া অজ্ঞাত কবি। মোদী-বিজেপি-সংঘপরিবারের মেকি দেশপ্রেমের বিরুদ্ধে লেখা
কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশকাল মার্চ ২০১৭।
কবি সুকুমার রায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে...
(যদি) "দেশপ্রেমিক" ছোটে!!!
সবাই যেন সাতসকালে যোগা করতে ওঠে।
ভক্তি ভরে গেলাস ভরে
পান কোরো গো-চোনা
বুঝবে সুফল প্রাতঃকৃত্যে
বেরোবে ভরি সোনা!!
(যদি) "দেশপ্রেমিক" ডাকে!!!
চেঁচিয়ে বলবে "সব বদমাশ
পাশের দেশেই থাকে।"
যুদ্ধ-রসদ-নেতার মাইনে
মন্ত্রী-ট্যুর বিদেশে
নাই বা পেলে কিছুই তবু
ট্যাক্সো দিও হেসে।
তুচ্ছ ভেবে এসব কথা করছ যারা হেলা
তাদের ঘরে পৌঁছে যাবে
চাড্ডি পরা চ্যালা
বাঁদরামি আর গুন্ডামি তে
বিরক্ত যেই হলে
অমনি তোমায় দাগিয়ে দেবে
"দেশদ্রোহী" বলে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুই কি সিপিএম?
- এ কি ব্লেম!
তাহলে তৃণমূল?
- একদম ভুল।
কংগ্রেস করিস নাকি ?
- ওটা এখনও বাকি।
তবে কি মোদী বাবার ভক্ত ?
- না, ভণ্ডামি করাও শক্ত ।
তাহলে কি মার্কসবাদী মাও?
- না, নিশ্চিন্তে ঘুমাও।
তাহলে কি আম আদমীর আপ?
- রক্ষা কর বাপ!
তবে কি ধান্দাবাজ বুদ্ধিজীবি ?
- এ ভাবেও খিস্তি দিবি!
তাহলে নির্ঘাত নিপাট নিরপেক্ষ?
- নারে বাবা, সেটা তর্ক সাপেক্ষ ।
সব বুঝলাম। তাহলে ভোট দিস কাকে?
- খারাপের মধ্যে কম খারাপ বুঝি যাকে।
তুই কি সিপিএম? অজ্ঞাত কবি। ভারতের অনৈতিক ও
ভ্রষ্টাচারী রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের যাতাকলে পড়ে সাধারণ ভারতবাসীর
অবস্থার বিববরণ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় ২০১৭।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেকুলার মানে, হিন্দুরা বাদ, মুসলিমে দিই তোল্লা,
সেকুলার মানে, পুরোহিত বাদ, ভাতা পায় শুধু মোল্লা।
সেকুলার মানে, রাম থেকে রং, আকাশীটা আসমানি,
সেকুলার মানে, মা’টা আম্মা, ফুফা ফুফু আর নানী।
সেকুলার মানে, জালি টুপি পরে ইফতার পার্টি দেওয়া,
সেকুলার মানে, প্রতিবাদী প্লেটে বীফ-বিরিয়ানি খাওয়া।
সেকুলার মানে, ভারত তোমার টুকরো টুকরো হবে,
সেকুলার মানে, কন্ডোমকে ত্রিশূলে নাকি চড়াবে।
সেকুলার মানে, তসলিমা হলে, দূর করে দাও দূর,
সেকুলার মানে, শ্রীজাত লিখলে সমর্থনের সুর।
সেকুলার মানে, হজে মারা গেলে কড়কড়ে দশ লাখ,
সেকুলার মানে, গেল গেল রব, মারা গেলে আখলাখ।
সেকুলার মানে, মাদ্রাসাতে – ইসলাম পরিচয়,
সেকুলার মানে, হিন্দুর স্কুলে গীতা, রামায়ণ নয়।
সেকুলার মানে, মহরম হলে, দুর্গা ভাসান বন্ধ,
সেকুলার মানে, ধূলাগড় হলে, চোখ থাকলেও অন্ধ।
ওহে সেকুলার , অনেক হয়েছে, থামাও ভণ্ডামি,
ইশান কোনে মেঘ জমেছে, দেখতে পাচ্ছি আমি॥
সেকুলার
অজ্ঞাত কবি
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় ২০১৭।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এক লক্ষ চোরকে চিনি, কিন্তু কাউকে ধরব না।
মহান চাষীর ধর্ম এটাই… এই মাটিতে চোর বোনা।
উর্বর খুব এই যে মাটি, বাছাই করা বীজ সারে
খুব করেছি তত্ত্বাবধান, চোরগুলো তাই খুব বাড়ে।
লকলকিয়ে উঠল চারা সিন্ডিকেটের জল খেয়ে
এ'বার বৃক্ষ আমায় খাবে। থামবে কি আর অল্পে এ?
সিভিক ভোলা তুলছে তোলা। অফিস কলেজ বন্দরে
ইস্কুলে আর মেলায় খেলায়… প্রকাশ্যে আর অন্দরে।
হাওয়াই চটি… সংস্কৃত শ্লোক… হিজাববেশের কি দরকার?
ভোট দেবতার আরাধনায়? যাচ্ছি না সে তর্কে আর।
বিপদ বাধায় গান্ধীবুড়োর চশমা এবং চরকাটা
নইলে সবাই মাসতুতো ভাই, শাড়ির ভাঁজে চোরকাঁটা।
সিণ্ডেকেট আর তোলার ভোলা, পাড়ায় পাড়ায় দেশ জুড়ে।
পুকুরচুরির অঢেল টাকা উপচে পড়ে ভাণ্ডারে।
সবাইকে তার ভাগ দিতে হয়। নিক্তি মেপেই যায় ঘুমে।
নইলে বোমা চলবে গুলি… লাশ পড়ে যায় বীরভূমে।
এক লক্ষ চোরকে চিনি অজ্ঞাত কবি।
দেশে বিশেষত এই রাজ্যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার
বিরুদ্ধে লেখা কবিতা। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় ২০১৭।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কাঁচের ভেতর লাল জামাটা
ইচ্ছে করে ছুঁই।
কেন আমায় পথকুড়ানী
করলি মাগো তুই ??
ঐ মেয়েটা প্যান্ডেলে যায়
বাবা মায়ের সাথে।
আমার বাবা জন্ম দিয়েই
পালিয়ে গেছে রাতে।
মা কে সবাই পাগলী বলে
দেয়না সে চুল বেঁধে।
আমায় বুকে জড়ায় না মা
যখন মরি কেঁদে।
ঝুপড়ি আমার দিল ভেঙে
বসবে আলোর সাজ।
রুক্ষ চুলে ছেঁড়া জামায়
আমার পূজো আজ।
ওদের পূজো পাঁচতারা তে
আকাশে নোট ছোঁড়া।
আমার পূজো ডাস্টবিনেতে
খাবার খুঁজে ঘোরা।
দুয়োরানীর মেয়ে আমি
থাকি পথের ঘরে।
দুগ্গা আমার মা নয় গো.
মা কি এমন করে ??
অন্য পূজো অজ্ঞাত কবি। মিলনসাগরের দেয়ালিকায়
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যোগনিদ্রায় যোগেন রয়েছে,
জয় গোস্বামী ভয়ে-
সুবোধের মত মোছার চেয়ার,
পাবে কি না সংশয়ে।
বিভুষণ বাকি, পড়ে যাবে ফাঁকি,
বিভাস চক্র চুপ-
বুড়ো মোসাহেব, বৃদ্ধ দ্বিজেন
তেমনি নিলাজ রূপ।
অপর্ণা সেন গ্ল্যামার কুইন,
পথে নামছো না কেনো?
গোছানো হয়নি সবটা এখনো,
লেনদেন বাকি জেনো।
কোথা অর্পিতা, শাওলী কোথায়?
নেই কেন প্রতিবাদে?
নাটুকে গলার বিপ্লবী বুলি
আজ কেন অবসাদে?
কোথা সে বরাহ? প্রসন্ন কাকা-
বেহায়া বায়সজীবি,
দুয়ার বন্ধ, সাজিস অন্ধ
এখনও রক্ত খাবি?
অন্ধজনে দেহো আলো অজ্ঞাত কবি।
নাম ক’রে ক’রে রাজ্যের আপোসকামী বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
অনুনাসিকের প্রতুল এখনও
বাংলায় গান গাও?
জীবনানন্দ মনে যদি পড়ে,
এসো আজ, ক্ষমা চাও।
সলিল-কন্যা, বাবার লেখা সে
কাকদ্বীপ মনে পড়ে?
অহল্যা আজ পুড়ে ছাই হল-
অন্তর কেঁদে মরে?
কাদের জন্যে স্থবিরতা কবি?
কিসের অন্বেষণে?
রাখোনি শপথ, হয়ে গেছে দেরি
সবিনয় নিবেদনে!
ইতিহাস জানে, আমার উঠোনে
কারা ডেকেছে সর্বনাশ,
হাত ধুয়ে এসো কবীর সুমন-
তুলে নাও প্রাতঃরাশ!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পাড়ার মোড়ে, ট্রেনের ভিড়ে
আমিও চাই যুদ্ধ হোক।
সেনায় যাবে, বললে ছেলে,
নিজের কথাই গিলছি ঢোঁক।
ড্রয়িংরুমে, কমনরুমে,
রক্ত আমার খুব গরম।
দাদা, আপনি যুদ্ধে যাবেন?
কেউ জিগালেই সুর নরম।
পেয়ালা হাতে, বউ এর সাথে,
আমিও ভীষণ যুদ্ধবাজ।
হবু জামাই জওয়ান শুনলে!
বৃথাই কেন যুদ্ধ আজ?
বাজারে গেলে,কেউ শুধালে
না না মশাই যুদ্ধ চাই।
যাবেন নাকি রণাঙ্গনে?
থুড়ি, আমি শান্তি চাই।
ছেলের স্কুলে, সুইমিং পুলে
হোক না একটা যুদ্ধ বেশ।
মা, আমিও সেনানী হব?
এ কি কথা,সব্বনেশ!
যুদ্ধ অজ্ঞাত কবি। চূড়ান্ত স্বার্থপর এক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
আসলে একটা যুদ্ধ হলে,
কার কি গেল, আমার কি?
আমার টিভির বিজ্ঞাপনে,
'নবাব কিনলে আরাম ফ্রি'।
কোল খালি কার? কে বিধবা?
আমার কি আর যায় আসে।
কজনের আর মরলে সেনা,
নিজের ছেলের মুখ ভাসে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যদি ভাবো কিনেছে আমায়
ঠিক ভেবেছো, বিক্রি হলাম।
এখন আমি ধারক বাহক
অনেকের মতোই তার গোলাম।
বেচেই দিলাম গীটার আমার
গানের খাতা গলার স্বর।
ভুল করেছো লালন ভেবে
ভেবে কবিয়াল জাতিস্মর।
আমার বিবেক আমার ধর্ম
বেচেছি তো কবেই জানো।
আমি ও অবাক তোমরা আজো
প্রতিবাদী আমায় মানো।
কবি লেখক বুদ্ধিজীবী
সবই হলো তুরুপের তাস।
আমিও ছিলাম তাদের দলে
আমিই হবো প্রধান দাস।
যদি ভাবো কিনেছে আমায় অজ্ঞাত কবি।
আপোসকামী বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায়
তোলা হয় ২১.৩.২০১৯ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার,
কলকাতার ব্রিজের কাছে যেও না খবরদার!
সর্বনেশে ব্রিজ সে ভাই যেও না তার ধারে —
হঠাৎ ভেঙে পরতে পারে, মাথায় কিম্বা ঘাড়ে,
কে যে সারায়, কেউ জানে না, কোন্ সে দপ্তরে
পরলে ভেঙ্গে জোর ক’রে ভাই গল্প শোনায় প’ড়ে।
বিদ্ঘুটে তার গল্পগুলো না জানি কোন দেশী,
শুনলে পরে হাসির চেয়ে কান্না আসে বেশি।
না আছে তার মুণ্ডু মাথা না আছে তার মানে,
তবুও তোমায় শুনতে হবেই তাকিয়ে তাদের পানে।
কেবল যদি গল্প বলে তাও থাকা যায় সয়ে,
উন্নয়নের সুড়সুড়ি দেয় লম্বা পালক লয়ে।
কেবল বলে- "হোঃ হোঃ হোঃ, কালীঘাটের পিসি
ব্রিজের গায়ে আবোল-তাবোল আঁকত দিবা নিশি।
হোক্ পিঠ তার খন্দে ভরা, হোক্ গার্ডার বাঁকা,
রেলিং ভরে নীল ও সাদা আলপনা তার আঁকা।
অষ্টপ্রহর গাইত পিসি ঢাক পিটিয়ে নিজের,
উদ্ভট সব নাম দিত সে প্রত্যেকটি ব্রিজের!"
না হাসলেই দড়াম্ করে রদ্দা মারে ঘাড়ে,
হঠাৎ করে বার করে নল ঠেকায় পাঁজর-হাড়ে।
ব্রিজ ভেঙেছে ব্রিজের দোষে। কিংবা বামের ত্রুটি।
চটপট তা মানলে পরে তবেই পাবে ছুটি!
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার
অজ্ঞাত কবি। ৭.৯.২০১৮ তারিখে, কলকাতার মাঝেরহাট ব্রীজ ভেঙে পড়ার
পর লেখা কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যদি বেঁচে যাও এবারের মতো
যদি কেটে যায় মৃত্যু ভয়
জেনো বিজ্ঞান লড়েছিল একা
মন্দির বা মসজিদ নয়
যদি বেঁচে যাও এবারের মতো অজ্ঞাত কবি।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১৭.৪.২০২০ তারিখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পার্কে তে শিশু নেই
দোলনায় দোলা নেই
ট্রেন, বাস চলা নেই
মাইকের গান নেই
হোটেলে তে খাওয়া নেই
কারো বাড়ি যাওয়া নেই
আড্ডার রোল নেই
মন্দির খোলা নেই
স্কুলে গিয়ে পড়া নেই
রাস্তায় প্রেম নেই
দেরি করে ফেরা নেই
ভালো শাড়ি পরা নেই
ঘোরাঘুরি করা নেই
মাদলের বোল নেই
ফুটবলে গোল নেই
বিরাটের ছয় নেই
পশুদের ভয় নেই
প্রিয়জনের দেখা নেই
ফোন ছাড়া কথা নেই
নেই নেই নেই নেই অজ্ঞাত কবি।
মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২০.৬.২০২০ তারিখে।
রান্নার ধূম নেই
শান্তি তে ঘুম নেই
লাখো লাখো জান নেই
ইরফান খান নেই
ঋষি কাপুর নেই
শেষ কোথা জানা নেই
চিন্তার শেষ নেই
মুখ খুলে চলা নেই
করোনার মরণ নেই?????
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চাই না তোমার হিন্দুরাষ্ট্র
চাই না নতুন এরোপ্লেন,
পারো যদি শ্বাস নিতে দাও
দাও এনে দাও অক্সিজেন।
মগজ ভরা অন্ধভক্তি
শ্মশান ভরা লাশের ঢেউ,
হারিয়েছো কি কাউকে নিজের
ভুগেছে কি তোমার কেউ ?
চাই না বিলাস হাজার কোটির
তোমার নতুন পার্লামেন্ট,
মন্দির চাও? তুমিই রাখো
তোমারই সে অর্নামেন্ট।
যত খুশি থালা বাজাও
মেতে থাকো কুম্ভমেলায়,
তোমার নামের স্টেডিয়ামে
কর্পোরেটের টাকার খেলায়।
কোথায় তোমার পিএম কেয়ারস
আলাদিনের প্রদীপ জিন ?
হাসপাতালের বেড তো গায়েব
কোথায় তোমার আচ্ছে দিন ?
দাও এনে দাও অজ্ঞাত কবি। মৌলবাদী শাসকের
বিরুদ্ধে করোনাকালে হাজার হাজার মৃত্যুর জন্য প্রতিবাদ।
মানুষ বিনা চিকিৎসাতে
পথে ঘাটেই মরে যদি,
রাজা তুমি ক্ষমা করো
রাজা তুমি ছাড়ো গদি ।
তোমার যতো বাহাদুরি
আমার করের টাকার দেন,
পারো যদি বেড এনে দাও
দাও এনে দাও অক্সিজেন ।
পারো যদি শ্বাস নিতে দাও
দাও এনে দাও অক্সিজেন॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আকাশে উড়ছে কত শকুন বা চিল,
যমুনার জলে মৃতদেহের মিছিল,
পচা গলা হাত পা বিকৃত মুখ,
গেরুয়া শাসন গোটা বিশ্ব দেখুক।
দুনিয়া ফেলছে থুতু এদৃশ্য দেখে,
গেরুয়া বাঁদর তাও গায়ে নেয় মেখে,
নির্লজ্জ উলঙ্গ ধর্মেই বুঁদ,
ওরা গোমূত্রে সোনা খোঁজে কিংবা ওষুধ।
ওদের আছেন নেতা সাদা দাঁড়ি বুড়ো,
অসৎ ভন্ড হিমশৈলের চুড়ো,
এই অতিমারীতেও লালসার ঠোঁট,
চেয়েছে কুম্ভ মেলা ক্ষমতার ভোট।
ডিগ্রি বা পড়াশোনা পুরোটাই ফেক,
দাঁড়ি চুলে ধরেছেন ফকিরের ভেক,
আড়ালে লুকিয়ে এক ড্রাগনের মুখ,
মৃতদেহে পান নৈসর্গিক সুখ।
গেরুয়া নেতার মনে আছে কত সাধ,
হবে হাজার কোটি টাকার বিরাট প্রাসাদ,
প্রাসাদে থাকবে ক্রীতদাস ক্রীতদাসী,
আসলে চাকর হবে গোটা দেশবাসী।
নির্লজ্জ শাসক অজ্ঞাত কবি।মিলনসাগরে তোলা হয়
২৯.৫.২০২১।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমাদের বড় দেশ চলে বাঁকে বাঁকে,
শিক্ষক-ছেলেপুলে বাঁধা ঘরে থাকে।
পার হয়ে যায় বেলা, পার হয় দিন,
কাজ ভুলে গরীবেরা আরো হয় দীন।
বক বক করে ছেলে পারে না তো পড়া,
ইস্কুল-ক্লাসরুম করোনাতে মোড়া।
চকচক করে বই সব ধূলো ঝাড়া,
সব হলো শুধু এক পরীক্ষা ছাড়া।
বার, মল, রেস্তোরা, মুদিখানা চলে
চাকরি নিয়োগ বুঝি গেল রসাতলে।
ঘরে ঘরে ছেলে মেয়ে হতাশার কালে,
মাস্টারি করা ভুলে মাটি ছাটে আলে।
বুদ্ধির বিকাশেতে পিছে রয় শিশু,
অঙ্ক, শব্দ, বলা শেখেনি সে কিসু।
শিক্ষক স্কুল ভুলে গৃহকাজে মন,
সুদখোর লোকেদের আরো বাড়ে ধন।
লকডাইনের প্যাঁচে মরে সারা দেশ,
ভগবান জানে এই কবে হবে শেষ !
একসাথে কোলাহলে স্কুল যাবে ছেলে,
কতদিন রব আর গৃহ কারা জেলে?
লকডাউন অজ্ঞাত কবি।
মিলনসাগরে তোলা হয় ৬.৭.২০২১।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাসে চাপো ক্ষতি নেই
কি বিষম দ্বন্দ্ব,
অসুখের ভয়ে শুধু
ট্রেন চলা বন্ধ!
অফিস কাছারি খোলা
তালা শুধু ট্রেনেতে,
এতো উঁচু ভাবনা
আসে কার ব্রেনেতে!!
বাসে চাপো ক্ষতি নেই অজ্ঞাত কবি।
করোনার লকডাইন তোলার সময়, বাসের গাদাগাদি ভীড়ে
পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিন্তিত নন। কিন্তু লোকাল ট্রেন চললেই
তাঁদের ভয় যে করোনা ছড়াবে!