গানওয়ালা
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
বারমাস্যা

আমার বাড়ীর কাছে
আধবুড়ো এক
পাগলাটে লোক আছে।
তার পেশা যে কি
তা জানিনা। তবে
হাবে ভাবে বুঝতে যেটা পারি
তাতে নেশায় পেশায় মিলেঝুলে
ঝাড়ুদারই হবে। কারণ---
এটা আমার নিজের চোখে দেখা।
একদিন এক জনসভার শেষে
যখন---চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিলাম একা
তখন---ঝাড়ু হাতে সেই লোকটা এসে
শুরু করে ঝাঁট দেওয়া খুব কষে।

বললাম--“কি করছো তুমি?
ভাঙ্গাহাটে ঝাঁট দেয়ার কি আছে?”
বলেছিলো---“মঞ্চ এবং ভূমি
মিথ্যা কথায় ভীষণ ভরে গেছে
সেইগুলিকে টুকরিটাতে ভরে
বুড়ীগাঙ্গে দেবো বিদায় করে।”
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে

দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে
তুলতে হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন।
আমাদের ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন
সাপেক্ষে আমরা তা তুলে দেবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর
ক্লিক করুন
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
প্রণববাবুর পোঁ ধরেছেন
কবীর সুমন দাদা
দিদির যাত্রা চটকে দিতে
তাঁকেই ভোটটা বাঁধা!

জঙ্গল মহলে যাদের
ছিলো অভিযান
তিনি তাদের নেতা এবং
মুশকিল আসান

তিনিই তিরিশ বছর ধরে
গড়াপেটা খেলে
রাজ করেছেন কেন্দ্রে গিয়ে
বাম কে রাজ্য ঠেলে

যাঁদের ছায়া ছুঁতেই নারাজ
সেকুলারি জোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে
মিষ্টি তাদের ভোট
দুষ্ট কবি
বাল থ্যাকারে শিবসেনাধীশ!
তাঁকেও করেন ফোন!
---ভোটটি দয়া করে দেবেন
ভেবে আপনজন

দেশের গরীব কৃষক শ্রমিক
মরলে যারা মূক
আমীর দেশের কষ্টে তাদের
উপচে পড়ে দুখ!

মনমোহনের সনমোহনের
তিনিই মন্ত্র-দাতা
রাজ্য ডুবুক ঋণের খাদে
ইউরোপে যায় ভাতা!

দুষ্টকবি ধন্দে বলে
কবীর সুমন দাদা,
বলছে যখন, হবেই তখন
প্রণব মহান ত্রাতা
.                 ২১.০৬.২০১২
দিন গিয়েছে অনেক কেটে, জামায় এখন সাততালি
আগের মত দেন না এখন গরম কথায় হাততালি
দুঃখ কী তা বোঝেন ভালো
তফাৎ বোঝেন সাদা-কালো
বোঝে তাদের দুঃখ কতো যাদের রোজই পাত খালি।
দীপঙ্কর চক্রবর্তী
দেশ ভ্রমণ
ডুমাডুম টাক ডুমাডুম
বাড়ী এল বুদ্ধুভূতুম।
ওরে তোরা নামলি কোথা,
মুড়িঘাট, হুমনিপোতা।
সে আবার কোনখানেরে,
গেলে আর কেউ কি ফেরে?
এই তো আমরা গেলাম
কত ভালোমন্দ খেলাম।
খেয়ে খেয়ে পেট ফুললো
চলে আসি বাদকুল্লো।
সেখানে পাড়ায় পাড়ায়,
ইঁদুরে বেড়াল তাড়ায়।
তাই দেখে ভয়েই মরি,
তাড়াতাড়ি বিমান ধরি।
বেলা যেই তিনটে হলো
বিমানের তেল ফুরালো।
নামলাম সান্তাক্রুজে
তারপর অনেক খুঁজে
এই সবে পৌঁছেছি ভাই,
এবারে বিশ্রাম চাই।
ডুমাডুম টাক ডুমাডুম
শুতে যাও বুদ্ধুভূতুম
য় গোস্বামী
রশীদ সিনহা
চাকর এসে বল্লে, রাজন,
কি খাবেন আজ, বিরানী?
কটমটিয়ে চাইলে রাজা,
বল্লে, তবে ক্ষীর আনি?

ওতেও রাজার অরুচি তাই
তখন সে-না করলো কি ভাই,

রাজার কানে ফিসফিসিয়ে---
বল্লে, প্রজার শির আনি?
মুচকি হেসে রাজা এবার
জিরান কেবল জিরান-ই!
সফিকুন নবী
কারণ
দিল্লী থেকে বিল্লী এলেন
দুধের মত সাদা,
কোলকাতার এক কালো-বেড়াল
বললে তাকে, দাদা---

আসুন-বসুন, কেমন আছেন?
বাড়ির খবর ভালো?
সাদা-বেড়াল বললে, তোমার
রঙটা কেন কালো?

কালো-বেড়াল বললে, শুনুন্
রাখুন আগে “বেডিং”!
আমি যখন জন্মেছিলাম
চলছিল “লোডশেডিং”!!
কারণ
কোচবিহারের রাজার ছিল
একটা কালো হাতি,
যখন-তখন সেই হাতিটাই
করতো মাতামাতি।

একদিন তার কাণ্ড দেখেই
চমকে গেল পিলে,
পাঁচটা কাপড়-কাচা সাবান
ফেললো হাতি গিলে!

পরদিন কী ঘটলো ব্যাপার
বলছি শোনো দাদা,
সাবান খেয়েই কালো-হাতির
বাচ্চা হলো সাদা!
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
হাড় কিপ্পন
হাড় কিপ্পন হামিদ মিয়াঁর
দেশটা হলো ঢাকাতে
টিকিট ছাড়া চাপেন গাড়ী
জিনিষ বেচেন ঝাঁকাতে।

টি, টি, এসে চাইলে টিকিট
হাত ঠেকিয়ে টাকাতে
বলেন হেঁকে, “হুজুর আমার
সব নিয়েছে ডাকাতে।”
থ দেখতে গিয়েই দেখেন, এবার কোন রথ নেই
চতুর্দিকে মানুষ শুধু, পালাবার আর পথ নেই
পথের যে সব বন্ধু তারা
পিটিয়ে তাকে করলে সারা
হাসপাতালেও পৌঁছে দিল বিশেষ রকম যত্নেই।
দীপঙ্কর চক্রবর্তী
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
আবু কায়সার
হাড়মাংসের ফানুস
সেলাম হুজুর সেলাম
গোঁ ধরতে নয়---এবার
পোঁ ধরতে এলাম |
ডাইনে বললে ডাইনে যাবো
বাঁয়ে বলুন বামে,---
থামো যদি বলেন তবেই
লম্ফঝম্প থামে ;
কী বললেন!
বলদ, না-কি হুদ্দোমদ্দো ষাঁড়
এযে, আমরা তোতাপুরের
মানুষ চমত্কার!
কীরকমের মানুষ?
মানুষ নয় মানুষ নয়
হাড়মাংসের ফানুস ||

কী বললেন!
চোর ধরেছি কিনা
লজ্জা পেলাম জী, না ;
চোদ্দো পুরুষ যাবৎ কেবল
ধামাধরাই জানি
“যখন যেমন তখন তেমন”
সত্য বলে মানি |
রফিকুন নবী
ঝাড়ু
চার্দাদা
এক দাদা গান গায় সিনেমা ও নাটকে!
টপ্পা ও ঠুংরির তালে তালে পা ঠোকে!
মন তিনি সঁপেছেন কালীপদ পাঠকে!

এক দাদা খেলোয়াড়, নাম চারিদিকেতে!
সম্প্রতি গিয়েছেন তাই মেকসিকোতে!
মন তিনি সঁপেছেন মারাদোনা-জিকোতে!

এক দাদা ঘরে বসে লেখে সে যে যা কুঁড়ে!
খ্যাতিমান দৈনিন কাগজের চাকুরে!
মন তিনি সঁপেছেন শুধু রবি ঠাকুরে!

এক দাদা---নেই কাজ তাই ভাজে খই যে!
গান নয়, খেলা নয়, না পড়েন বই যে!
দেন বটে সকলের পাকা ধানে মই যে!
প্রমোদ বসু
আজ নয় কাল
ও পাড়ায় বাস করে হারাধন পাল,
কথায় কথায় বলে, “আজ নয় কাল।”
চায় যদি বাড়ীঅলা তার কাছে ভাড়া---
“আজ নয় কাল দেবো, এত কোন তাড়া?”
বউ যদি মার্কেটে যেতে বলে তাকে---
“আজ নয় কাল যাবো কোনো এক ফাঁকে।”
ছেলে ধরে আবদার---“চায়নিজ খাবো”
“ধুত্তুরি, আজ নয় কাল নিয়ে যাবো।”

একদিন জ্বরে পড়ে কাবু হলো হারা,
“ডাক্তার ডাকো”---বলে মাতালো সে পাড়া।
সবাই জবাব দিল ঝেড়ে খুব ঝাল
“ডাক্তার ডেকে দেবো আজ নয় কাল।”
হারার মাথায় পড়ে বিনা মেঘে বাজ
সেই থেকে বলে হারা “কাল নয় আজ।”
টিপু কিবরিয়া
লিমেরিক
একটুখানি জায়গা ছিল মানুষ-জনের দঙ্গলে
সেই ফাঁকাটাও ভরলো এবার পার্থেনিয়াম জঙ্গলে
দে এখানে বাস উঠিয়ে
পাততাড়িটা নে গুটিয়ে
লাঙ্গল কাঁধে চল হুটিয়ে চাষ করি গে মঙ্গলে ||
শুভাশিষ হালদার
আতাচোরা
আতাচোরা পাখিরে
কোন তুলিতে আঁকি রে
---হলুদ ?
বাঁশ বাগানে যইনে
ফুল তুলিতে পাইনে
কলুদ
হলুদ বনের কলুদ ফুল
বটের শিরা জবার মূল
পাইতে
দুধের পাহাড় কুলের বন
পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন
নাইতে
ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে
যে নদিটি থমকে আছে
তাইতে
আতাচোরা পাখিরে
কোন তুলিতে আঁকি রে
---হলুদ ?
ক্তি চট্টোপাধ্যায়
জাতিসংঘ
আকাশে বাতাসে ঝগড়া বিবাদ
অগ্নিদগ্ধ ফাইটার
কাগজে কলমে খবর যুদ্ধ
হাঁপান ব্যস্ত রাইটার।
জলে আর জলে তুমুল যুদ্ধ
জলের প্রতিটি কণাই ক্রুদ্ধ
দলের ভেতরে কোন্দল ভারী
মন্ত্রে মন্ত্রে দ্বন্দ্ব
যুদ্ধে বিশ্ব রক্তারক্তি
হাওয়ায় বিষের গন্ধ।
বড়োরা যুদ্ধে সিদ্ধ হস্ত
ছোটোরা কেবল বিপদগ্রস্ত
মাটির সঙ্গে মাটির যুদ্ধ
পৃথিবী যুদ্ধে বন্দী
তারাই ব্যর্থ যারা চায় হোক
দু’দেশের মিলন সন্ধি।
এলোমেলো আজ মিথ্যে সত্যি
মানুষ মেলে না সবাই দত্যি
যুদ্ধে যুদ্ধে মলিন বিশ্ব
ভাঙচুর সারা অঙ্গ
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটান
নিরুপায় জাতিসংঘ।
ফারুক হোসেন
সস্তার মজা
পোস্তায় পাওয়া যায় পোস্তর দানা
সস্তাতে মিলবে যে আছে তাই জানা
.        হাঁদুরাম তাড়াতাড়ি
.        চড়ে তাই ট্রাম গাড়ি
চলে গেল খুশিতে সে হয়ে আটখানা
.        দর কষে শস্তার
.        মণ আছে বস্তার
অবশেষে পোস্ত সে কেনে এক আনা
রবিদাস সাহারায়
ন্ধমাদন পর্বতে
ফলতো নাকি বরবটি।
এই না ভেবে জাম্বুবান
কিষ্কিন্ধ্যায় গম বানান।
সীতাও ছিলেন দুঃখিনী
কেন না কী কুক্ষণে
সমস্ত বরবাদ হল
হিঞ্চে খাবার সাধ হল!
লঙ্কাতে কি হিঞ্চে নেই
ওসব ওজর শুনছি নে---
বলতে বলতে লঙ্কারাজ
দেখতে গেল কুচকাওয়াজ
খেপলে কিন্তু সত্যি সে
মারবে ছুঁড়ে শক্তি শেল
ফুটিয়ে দেবে জোর সে হুল
দেখবি চোখে সর্ষে ফুল।
সর্ষে হলে ধান গাছে
করবে না আর দাঙ্গা সে।
খান না চিনি-গুড় সীতা
শাকের শোকে মুর্চ্ছিতা
কাজেই তখন সবাই ধায়
চাষ করতে অযোধ্যায়।
শঙ্খ ঘোষ
বাঙ্গালী না ফরেন
আপনি মশাই
যা খুশি তাই
করেন।
নড়েন চড়েন
ভাঙেন গড়েন
সামনে আসেন
পিছু সরেন।
আপনি মশাই
যা খুশি তাই
করেন।
মারেন ধরেন
কাব্য করেন
জেলখানাতে
যাকেই খুশি
ভরেন।
বাংলাতে না
উর্দ্দু মে
কোন ভাগে যে
পড়েন?
প্রশ্ন করি
আপনি মশাই
বাঙ্গালী না ফরেন।
আসলাম সানী
লুত্ফর রহমান রিটন
হোটেলের বয়
হোটেলে ঢুকেই চ্যাঁচালেন তিনি
আন দেখি ব্যাটা বিরিয়ানি!
হোটেলের বয় সবিনয়ে কয়---
দ্যান, ট্যাহা দ্যান, বিড়ি আনি।

রেগে কন তিনি, আন দারুচিনি
সাথে ওয়াটার ঠাণ্ডা।
মাথা চুলকিয়ে বয়ে বলে, ইয়ে...
কই পামু সাব আণ্ডা?

মেজাজটা তার সপ্তমে ওঠে
রেগে কন ব্যাটা বেয়াকুব?
তবু সেই বয় বিচলিত নয়
বলে স্যার, আমি এয়াকুব!
এখলাসউদ্দিন আহমদ
বৈঠকী ছড়া
অষ্ট প্রহর জাহির করেন প্রাণটা দেশের, দশের
ঠ্যাকনা দিতে একাই তিনি সুনাম কিম্বা যশের
কিন্তু কচিৎ মওকা পেলেই
তেলের পিপে বেবাক ঢেলেই
গোছান আখের ভিজিয়ে দু’পা ইমিডিয়েট বসের।

কথায় কথায় হুট বলতি তাগেন তিনি হাতিয়ার,
গাল গপ্পে বাঘ ভাল্লুক মারেন এবং হাতি, আর
পাশ ফিরতে উজির নাজির
প্যায়দা পাইক করেন হাজির
কিন্তু হেঁ-হেঁ রাতের বেলা আমসি বুকের ছাতি তার।
পাপড়ির ফুল

চাকমা মেয়ে রাকমা
ফুল গুঁজেনা কেশে
কাপ্তায়ের হ্রদের জলে
জুম গিয়েছে ভেসে |
জুম গিয়েছে, ঘুম গিয়েছে
ডুবলো হাড়িকুড়ি  ;
পাহাড় ডুবে পাথর ডুবে
উঠেনা ভুরভুরি !

ঝালের পিঠা, ঝালের পিঠা
কে রেঁধেছে, কে ?
এক কামুড়ে একটুখানি
আমায় এনে দে |
কোথায় পাবো লঙ্কাবাটা,
কোথায় আতপ চাল ?
কর্ণফুলীর ব্যাঙ দেখেছি
পোগোনটাতে কাল !
৩  
লিয়ানা লো লিয়ানা
সোনার মেয়ে তুই,
কোন পাহাড়ে তুলতে গেলি
গন্ধভরা যুঁই ?
বনবাদাড়ে যাইনি মাগো
ফুলের বনেও না,
রাঙা খাদির অভাবে মা
পাতায় ঢাকি গা |
চিবিদ গাছের ছায়ার পিনন্
অঙ্গে জড়িয়ে,
পাঁচ পাহাড়ের খাদের নীচে
যাচ্ছি গড়িয়ে |
আল মাহমুদ
তন টাটা বঙ্গে এলেন নির্বাচনের শেষে
বুদ্ধ-রাজার হাতে পাতা লাল-গালিচায় বসে!

অটোয়ে-চাপা বাঙ্গালীকে দিলেন গাড়ীর টোপ্
ছয় ফসলা জমির উপর দিলেন বুঝে কোপ্

লালরাজার লেঠেল ঘেরে চাষের জমি সিঙ্গুর গাঁ-এ
আন্দোলনের আগুন ’জ্বলে দাবানলে বাংলা ছায়

মধ্যবিত্ত আয়েসী বাঙালী, গাছে কাঠাল গোঁফে তেল
আসছে জামাই-ষষ্ঠী যাবে হাঁকিয়ে গাড়ী পুড়িয়ে তেল

সে সব আশার পাকা ধানে চাষীভাইরা দিল মই
জমি গেল, গাড়ি গেল, টাটা বলে বাই বাই

মধ্যবিত্ত বাংলা কাঁদে, কাঁদে পুঁজির বিশ্ব
টাটার শোকে ফুপিয়ে কাঁদে মার্ক্সবাদের শিষ্য  

বাংলা হাসে, মমতা হাসে, হাসে সিঙ্গুর গ্রাম
হাসতে হাসতে কাব্য করে - দুষ্ট কবি নাম
.                                  ১৯.১০.২০০৮
দুষ্ট কবি
বাংগালি ছেলেদের ভারি বিপদ!
তাঁরা অনেকেই তো দু-পদ!
তাই দু নৌকায় পা দিয়ে তারা
এড়াতে চায় আপদ!
মা ও বৌ এর কাজিয়া তো ভাই
চির কালের ধ্রুপদ!

.                      ২৭/৫/২০১১
দুষ্ট কবি
কালীঘাটে কলিকালে এ কেমন ঝক্কি!
পাণ্ডারা রাঁধে শুধু ঘাসফুল ছেঁচকি!
মন্দিরে মাছি মেরে মেরে ভরে ডেচকি!
মা কে ভুলে দিদি-দিদি বলে তোলে হেঁচকি!  
.                                     ২৩/৫/২০১১
দুষ্ট কবি
কালীঘাটে মা কালী আর যেতে চান না!
তিনি নাকি ভক্তের পূজা আর পান না!
ভক্তরা ভীড় করে তারি পাশে অদূরে
সেথা এক দিদি মোছে মানুষের কান্না!
.                                 ২৪/৫/২০১১
দুষ্ট কবি
স্তা নিয়ে বাজার যেতাম, পয়সা ট্যাঁকে নিয়ে!
বস্তা ভরে বাজার সেরেও বাঁচতো কিছু গিয়ে!
এখন আমি বস্তা ভ'রে পয়সা নিয়ে যাই!
ট্যাঁকে ক’রে বাজার আসে, কী পড়ি ? কী খাই ?
.                                                ১৪/৩/২০১২
দুষ্ট কবি
খাপছাড়া
হাতে কোনো কাজ নেই
নওগাঁর তিনকড়ি,
সময় কাটিয়ে দেয়
ঘরে ঘরে ঋণ করি।

ভাঙা খাট কিনেছিল
ছ’পয়সা খরচা
শোয় না সে হয় পাছে
কুঁড়েমির চর্চা।

বলে ঘরে এত ঠাসা
কিঙ্কর কিঙ্করী
তাই কম খেয়ে খেয়ে
দেহটাকে ক্ষীণ করি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাজিটা
নিরেনব্বুইটা জাম খেতে
লাগল একটু কষা,
তাই কিছুটা নুন লাগিয়ে
বাহান্নটা শশা
খেতে গিয়েই গালটা ওর
গেল যেন বুজে,
সেই ভাবটা কাটাতে হল
ছাব্বিশ তরমুজে ;
তার পরেই তো গলা ফুলে
ঠেকলো গিয়ে গালে,
তাই পাজিটা শুয়ে এখন
পি.জি. হাসপাতালে।
তুষার রায়
পরিরা
পরিরা
মস্কো
দিল্লি  
কত না
কোথাও
পরিরা  
ভরে দেয়

পরিদের
জানে না
অথচ   
আকাশে
পরিরা  
জানি না
পরিদের
পরিদের
শিবশম্ভু পাল
ঘুরে বেড়ায় রাত্তিরে
উড়ে বেড়ায় সত্যি রে
প্যারিস কিংবা ইউ.এস.এ.
বেজিং ঢাকা সব দেশেই
রঙের বাহার দুই ডানায়
হারিয়ে যাবার নেই মানা।
ছড়িয়ে বেড়ায় স্বপ্ন গো।
ঘুমের ভেতর রূপনগর।

হয় না যেতে ইস্কুলে
পড়তে ভুগোল হাই তুলে
হাতের লেখার জবাব নেই
তারায় তারায় দেখবে যেই
থাকেন কোথায়, কোন বাসায়
চাইবাসা না মোম্বাসা
পাই না অনুসন্ধানে
ঠাঁই নয়নের মাঝখানে।
পরি-কল্পনা
রাজা আর সেপাই
সেপাই এসে যে দাঁড়ালো
রাজা বললেন, সেলাম!
সেপাই বললো, হঠাৎ যেন
বিড়ির গন্ধ পেলাম ?
রাজা বললেন রামো রামো
বিড়ি তো নয় মুলো।
সেপাই বললো, গোঁফের ডগায়
জমছে কেন ধুলো ?
রাজা বললেন, কমলা-আপেল
আনবো কয়েক ঝুড়ি ?
সেপাই বললো, কোথায় আমার
পেঁয়াজ-লঙ্কা-মুড়ি ?
রাজা বললেন, বসুন আগে
এই যে সিংহাসন।
সেপাই বললো, নোংরা ওটা
মাছিতে ভনভন।
রাজা বললেন, মাছি কোথায়
ওগুলো সব পাখি,
সেপাই বললো, কাজে কম্মে
দিচ্ছখুবই ফাঁকি!
রাজা বললেন, নাচার হুজুর
দেখাচ্ছি পা তুলে,
কত বড় ফোস্কা, আমার
জুতো দিন না খুলে!
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাংগালিদের পোঁন্দে আছে
একটা ছোট্ট বোতাম!
অফিস ঘরে, কুর্সী প’রে
বসলে পরে, খোঁচ্চা মারে
.                             মস্তিষ্কে সটান!
তখন, গজায় দুটো শিং!
ভাবেন --- তিনিই বুঝি কিং!
সামনে তখন যাঁরেই পাবেন,
চিবিয়ে তাঁদের মুণ্ডু খাবেন,
.                 তিনি মর্তে নরক দেখান!
বাক্যবাণে মারেন |
কাঁদিয়ে তাঁদের ছাড়েন |
চোদ্দো গুষ্টির করে তুষ্টি,
কনক-বিনে না-খুলে মুষ্টি,
.                    আইনের ভূত ছাড়ান!
কাজের পরে অফিস ঘরে,
দাঁড়ান যখন চেয়ার ছেড়ে,
পশ্চাতে সেই বোতাম, তথায়,
কুটুস্ করে অফ্ হয়ে যায়!
.               আবার, মর্তে নেমে দাঁড়ান!
চলতি পথে সেই বাঙালীই,
ভীড়ের মাঝে পকেট খালি,
কারো কোনো বিপদ হ’লে
আগ বাড়িয়ে বিপদ ভুলে
.                    ঝাঁপিয়ে পাশে দাঁড়ান |
ফেলে নিজের সব আর্জেনসি---
করে থানা-পুলিশ-এমারজেন্সি---
এক বাক্যে প্রাণ পেতে দেন!
দুষ্ট কবি তাই তো কয়েন---
.                  “তিনি বিপদে মধুসুদান!
কিন্তু! তাঁর পোঁন্দে একটা বোতাম!”
.                               ০৩/০৭/২০১০
দুষ্ট কবি
<<<এই দেয়ালিকা
<<<এর শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
রাতে মশা দিনে মাছি
এই নিয়েই কলকাতায় আছি
ঈশ্বর গুপ্ত
সোনার হরিণের ছড়া
সোনার হরিণ হারালে হারাবো
.                          কী আর করা |
বৃষ্টি ঝরে না কতকাল, শুধু
.                           শুক্ নো খরা |
সুতনুকা নদী শুকিয়ে হ’লো কি
.                           বালির চড়া  |
সোনার হরিণ সোনার হরিণ
.                           হীরের চোখ |
ঝরাক বৃষ্টি সোনালি ধানের
.                           ফসল হোক |
হীরের বৃষ্টি সোনার ফসলে
.                           ঝড়ের নখ  |


সোনার হরিণ হারালে কি চলে----
.                           ক্লান্ত মাটি
বৃষ্টির মুখ চেয়ে বসে আছে
.                           ধানচারাটি ||
বনীতা দেব সেন
তুমি না, আমি
এই তো সেদিন
কবিতা জুড়ে
ছিলে শুধুই ‘তুমি’

এবার না হয়
পাতা মুড়ে
থাকব শুধুই ‘আমি’।
সঞ্জীব চ্যাটার্জী
‘বেড়াল ডেঙানো পাত’
ঘরের ভেতরটা ঠাণ্ডা হয়েছে বেশ
বাইরেটা গুমোট, লোহার চাকার রেশ!

ফিনিক্স পাখিটা ঘর বেঁধেছে মধ্যমায়
ডলার আঙটি বাঁকা, খাসা কল্পনায়!

ইউরিয়া পটাসে মালীর ফল এখন ভারী
‘আগে দর্শন ধারী তারপর জ্ঞানবিচারী’!

স্লাম আর ডগ মিলেমিশে একসাথ
অরুচি কিসের ,‘ বেড়াল ডেঙানো পাত’!

‘এখন ফুলে ফুলে শুধু মধু খাওয়া’
উঁই ধরা পাণ্ডুলিপিতে চাওয়া পাওয়া!
সঞ্জীব চ্যাটার্জী
স্বপ্ন রঙিন
আমি যখন ঘুমের দেশে
ধুঁয়ার রাতে চাঁদের সাথে
অবাধ মেলামেশা,
পাগল পাখি ঝিকিমিকি
উড়িয়ে ডানা বিংশখানা
আকাশকুসুম চষা।

আমি যখন শালুক ফুলে
বাজাই বাঁশি ছিন্ন মুলে
চাপা অভিমান,
হংস শাবক সাতার কাটে
ঢেউ ছাড়িয়ে লিপ্তপদে
দুধসাগরে স্নান।

আমি যখন যোদ্ধা বেশে
হুমকার ছাড়ি অগ্নিকেশে
পক্ষিরাজে বসি,
ইন্দ্র অরুণ পালিয়ে ভয়ে
কাঁপে বরুণ হাতে নিয়ে
কালপুরুষের অসি।

আমি যখন নরক কুলে
কড়াই শুদ্ধ গরম তেলে
যমরাজকে জ্যান্ত,
অমনি যেন ডাক দেয়
কিরে উঠবি নচেৎ, অ্যায়
লাঠিটা আনত!
সঞ্জীব চ্যাটার্জী
মিতউপা কোথায় যায় ?
মামাবাড়ী আর কোথায় ?
মামা বাড়ী আছেন কি ?
আছেন দাদা আর দিদি---
মামাবাড়ী কোথায় রে ?
বরানগর বাজারে---
বাজার থেকে কি আনবে ? ---
আচ্ছা দাঁড়াও নিই ভেবে।
“লালজুতুয়া, নীল শাড়ী,
দম দেওয়া লাল রেল গাড়ী”
চলবে না চলবে না,
ওতে পাথর গলবে না---
তবে কি চাই যন্ত্রগণক,
আলোক-জ্বলা শতেক চমক---
ঠিক ধরেছ, চালাক ভারী,
জলদি লে আও তাড়াতাড়ি---
একবিংশ এই শতকে
এছাড়া কি মানায় ওকে।
দীপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
সে-ই তো ভারত দেশে                  মহামানবের বেশে
মহান আসনখানি নেবে!
শৈশবে টাকা পুঁতে                   জল দিত যে মাটিতে
টাকার গাছ হবে ভেবে!
ছলা কলা চলা বলা              গাছের খেয়ে কুড়ায় তলা
গায় সাম দণ্ড ভেদ ও ভয়!
মাথায় বুলিয়ে হাত                         সব্বাই কুপোকাৎ
যেন মর্কট ও মার্জারদ্বয়!
আজীবন কূট-নীতি                    ও যার শুধু নিজ-প্রীতি
আজ নাকি হবে নিরপেক্ষ!
দুষ্ট কবির কথা                          পাগলামি ছাতামাথা
তার তো যে নেই কোনো পক্ষ!
.                                                  ১৮/৭/২০১২
দুষ্ট কবি
য়স কত ? সাতটি মাস
আচ্ছা বল কোথায় বাস ?
নাটাগড় না পানাগড় ---
দুই গাঁয়েতেই আমার ঘর।
দেখতে কেমন  ? খুব রূপুসী
মেজাজ কেমন ? দিব্বি খুশী
নাকের উপর রেলগাড়ী ---
এটা একটু বাড়াবাড়ি
উঁচু নাকের কি মহিমা
সব কিছুরই থাকুক সীমা---
আচ্ছা কেমন চোখদুখানি
আলোর খেল নীল আসমানি
লাবণ্যটি অঙ্গে কেমন
যেথায় যেটি মানায় যেমন।
চিকন গাছের চিকন পাতা
আলোর দিকে তুলছে মাথা
আচ্ছা কেমন লেখাপড়ি ?
বই ছেঁড়া তে হাতেখড়ি।
শুনলে ত’ খুব গুণ ও রূপ
এইটুকুতেই সবাই চুপ
আরও চাও ত’ বলতে পারি ---
এতই কি আর তাড়াতাড়ি।
দীপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
লণ্ডন অলিম্পিক্স! সন্ দু হাজার বারো
আজকে হবে শুরু, তাই তো সবার পোয়া বারো!
বিশ্ব জুড়ে খেলাধুলার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
প্রাচীন গ্রীসের অলিম্পিয়া-র একাল-সংস্করণ!
খেলাধুলা হচ্ছে, তা হোক, সে তো ভালই কথা!
কিন্তু এবার লাগছে মনে খটকা এবং ব্যথা!
“দাও কেমিকাল” এবার অলিম্পিকের পালক-পিতা!
বিজ্ঞাপনের বন্যা দিয়ে কিনলো সবার মাথা!
ভূপাল! গ্যাস্! এসব ভুলে লণ্ডনেতে গিয়ে,
দেশের সেলেব্রিটি চলে মশাল হাতে নিয়ে!
.                               ২৭.৭.২০১২
দুষ্ট কবি
বৈশাখ /
.    
জ্যৈষ্ঠ /
.
আষাঢ় /
.
শ্রাবণ /
.
ভাদ্র /
.
আশ্বিন /
.
কার্তিক /
.
অঘ্রান /
.
পৌষ /
.
মাঘ /
.
ফাল্গুন /
.
চৈত্র /
.  
কৃষ্ণা বসু
হাত জ্বলে যায়
তুই কি আমার
নির্জলা দিন
রাত্রি জাগায়
আষাঢ় আমার
তোর পীরিতির
প্রেমের মতন
এই অঝোরের
মন পুড়ে যায়,
পোড়া হৃদয়
জলের দিকে
বিসর্জনেই
বাড়ির মাথায়
সন্ততিরা
মাঠে মাঠে
শস্য পাকার
অতিথি এই
মহার্ঘ শাল
নিজের সময়
মধ্যে মাঝে
শীত শেষে হয়ে
কচি আমের
মুগ্ধ হতেই
ডুবিয়ে দিক
ও বোশেখ তুই কি |
নষ্ট ঠাকুর ঝি ?
মারণমন্ত্রে কে
সহ্য হয় না রে |
ছেলেবেলার সই
দেখা পেলাম কই ?
কাঁপায় দেশান্তর,
কোন্ খানে তোর ঘর ?
সারা ভাদর মাসে,
শিশিরভেজা ঘাসে |
বিসর্জনের ঢাকি
কিসের ডাকাডাকি ?
জ্বলছে সারা রাতে,
দুধ আর মাছ ভাতে |
পাকা ধানের ঘ্রাণ ;
টেনে নিচ্ছে কান |
সারা বছর পর
আলো করেন ঘর |
অল্প চুরি করে
শীতান্ত রোদ্দুরে |
খুব বিরহের তাপে
থরথরিয়ে কাঁপে |
দুঃস্থ হৃদয় শেষে
চৈত্র বাতাস এসে |
পা জ্বলে যায়
গত জন্মের
মন উচাটন
দিন পোড়ায়
আষাঢ় ওরে
তীব্র ধারার
পাগল বৃষ্টি
মধ্যিখানে
মন উড়ে যায়
হারিয়ে খুঁজি
এগিয়ে যায়
দিবি তবে
আকাশ প্রদীপ
থাকে যেন
খবর রটায়
নিহিত গান
রঙ্গিলা দিন
গায়ে দিয়ে
নিজেই আমি
হারিয়ে যাই
এলে আহা
পাতাটিও
ভালোবাসে
ভাসিয়ে নিক
দেয়ালিকা - সুকান্ত ভট্টাচার্য
আতাচোরা - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
গন্ধমাদন পর্বতে - শঙ্খ ঘোষ
প্রণববাবুর পোঁ ধরেছেন - দুষ্ট কবি
রথ দেখতে গিয়েই - দীপঙ্কর চক্রবর্তী
দিন গিয়েছে অনেক কেটে - দীপঙ্কর চক্রবর্তী
দেশ ভ্রমণ - জয় গোস্বামী
রতন টাটা বঙ্গে এলেন - দুষ্ট কবি
হাড় কিপ্পন - রশীদ সিনহা
চাকর এসে বল্লে - সফিকুন নবী
কারণ ১ - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
কারণ ২ - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
হাড়মাংসের ফানুস - আবু কায়সার
বাংগালি ছেলেদের - দুষ্ট কবি
ঝাড়ু - রফিকুন নবী
চার্দাদা - প্রমোদ বসু
আজ নয় কাল - টিপু কিবরিয়া
লিমেরিক - শুভাশিষ হালদার
সস্তার মজা - রবিদাস সাহারায়
জাতিসংঘ - ফারুক হোসেন
কালীঘাটে কলিকালে - দুষ্ট কবি
কালীঘাটে মা কালী - দুষ্ট কবি
বাঙ্গালী না ফরেন - আসলাম লানী
হোটেলের বয় - লুত্ফর রহমান রিটন
বৈঠকী ছড়া - এখলাসউদ্দিন আহমদ
পাপড়ির ফুল - আল মাহমুদ
বস্তা নিয়ে বাজার - দুষ্ট কবি
খাপছাড়া - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাজিটা - তুষার রায়
পরি-কল্পনা - শিভশম্ভু পাল
রাজা আর সেপাই - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাংগালিদের পোঁন্দে আছে - দুষ্ট কবি
রাতে মশা দিনে মাছি - ঈশ্বর গুপ্ত
সোনার হরিণের ছড়া - নবনীতা দেব সেন
তুমি, না আমি - সঞ্জীব চ্যাটার্জী
বেড়াল ডেঙানো পাত - সঞ্জীব চ্যাটার্জী
অমিতউপার বায়না - দীপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
স্বপ্ন রঙীন - সঞ্জীব চ্যাটার্জী
সে-ই তো ভারত দেশে - দুষ্ট কবি
বয়স কত? - দীপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
লণ্ডন অলিম্পিক্স! - দুষ্ট কবি
বারমাস্যা - কৃষ্ণা বসু
মানবতাকামী - মুহম্মদ মুহিদ
শুন কবি গণ - মুহম্মদ মুহিদ
মশা-ই - অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
খুদে পাখি - লীলা মজুমদার
পাগলা গারদের ছড়া - অজিতকৃষ্ণ বসু
বাংগালির আজকাল গদগদ চিত - দুষ্ট কবি
রোদ্দুরের কান্না - বেলা পাল
খুকী ও বৃষ্টি - বেলা পাল
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
মানবতাকামী
মায়ানমারে মারছে মানুষ
করছে কত অত্যাচার,
মানবতা এগিয়ে এসো
হয়না যেন হত্যা আর।

অবিচারে মরছে যেজন
প্রশ্ন নয় কি ধর্ম তার,
এগিয়ে এসো সর্বজন
মানবতার কর্মকার।
...
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
করবে জুলুম কত আর,
প্রতিবাদে সব গর্জে উঠো
মানবতাকামী শত বার।
মুহম্মদ মুহিদ
শুন কবি গণ
শুন প্রিয় কবি গণ
এসো মিলে করি পণ
সত্য ও সুন্দরে ভরে দেই ধরা,
দূর করি দুরাশার যত গ্লানি জরা।
রচি সবে মিলে শুধু মানবতার গান,
মানুষে মানুষে ভেদ যত ব্যবধান।
দূর হোক ধরা থেকে তা চিরতরে,
সাম্য শান্তি সুখে যাক ধরা ভরে।
সুন্দরের বাণী লিখে সাজাই ঘর,
মানুষ মানুষের জন্যে নয়ত পর।
আশাবাদী হয়ে দেখাই স্বপ্ন ভবে,
পৃথিবীতে মানবতার জয়ই হবে।
শুন সব আশাবাদী যত কবি গণ,
পৃথিবী সাজাতে করি মুক্তির রণ।
মুহম্মদ মুহিদ
.
মশা-ই

মশা রে মশা
করেছিস কি দশা ?
কামান দেগেও নেই কি রে তোর ধ্বংস,
বংশ পরম্পরায় মোরা খাচ্ছিরে তোর দংশ।
এখন শুধু এটম বোমাই ভরসা,
ছাগল ছাড়া এক্কেবারে সবাই হব ফরসা।
চিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
.
খুদে পাখি
খুদে পাখি মাথায় তুলি,
উড়িয়ে দিলাম আকাশ পথে।
অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি,
যাচ্ছে চড়ে সোনার রথে,
মাঝগগনের সূর্যপানে,
ভরিয়ে ধরা গন্ধে গানে।
লীলা মজুমদার
.
পাগলা গারদের ছড়া
কাক ডাকে কা-কা বলে কাকা তবু চুপচাপ,
আকাশের মেঘ থেকে জল করে ঝুপঝাপ।
দেয়ালের ঘড়ি বাজে আনমনে ডিংডং,
জল ঝরা থেমে আসে রামধনু তিন রং।
ভিজে গেছে পথঘাট, ভিজে গেছে গাছেরা,
হাসে তাই ফিকফিক পুকুরের মাছেরা।
দাঁড়ে বসে গান গায় ও বাড়ীর ময়না,
বড় বৌ পান সাজে, গায়ে তার গয়না।
সা নি ধা পা মা গা রে সা গান গায় দাদারা,
তাই শুনে গেয়ে ওঠে ধোপাদের গাধারা।
নদী জলে ভেসে চলে মাল ভরা নৌকো,
হাল ধরে বসে মাঝি পালখানা চৌখো।
শেয়ালেরা শুরু করে হুয়া হুয়া গাইতে
বলে, “মোরা কিসে কম মানুষের চাইতে ?
বনে বনে আছে ঢের বাঘ, হাতি, হায়না,
আমাদের মত ভালো গান কেউ গায় না।”
জিতকৃষ্ণ বসু
.
বাংগালির আজকাল গদগদ চিত,
অবিরাম শুনে শুনে রবীন্দ্র সংগীত!
সূর্যের ওঠা থেকে সূর্য ডোবা,
এমনকি অন্ধকার রাতে, মনোলোভা,
ছাড়িলেই গৃহস্থের রেডিও বা টিভি,
দেখিবে শুনিবে শুধু রবি রবি রবি!
সার্ধ-শতবরষের উদ্ যাপন চলে
শুরু যার সেই শতবরষের কালে!
মিলনসাগরও এতে প’ড়ে নেই পিছে,
পুরো “গীতাঞ্জলি”-টাই সাইটে তুলেছে!
একদা যে রবি, পাতি-বুর্জুয়া কবি,
তাঁরই পদধূলি মাথে, চলিতেছে সবই!
হালের বিপ্লবীদের আরও ভাল মাথা!
বুঝেছে “রবি-তে ভোট” এই সার কথা!

কি আনন্দ বাঙালীর জনপথে নামি,
রাস্তা পেরোনো বা সিগনালে থামি,
রবীন্দ্র সংগীত তার বিঁধিবেই প্রাণে!
দুষ্ট কবি ভণে এ গীত বাইশে শ্রাবণে!

.৭ আগস্ট ২০১২, ২২শে শ্রাবণ ১৪১৯
দুষ্ট কবি
.
রদ্দুরের কান্না
শীতকালে সাতটায়
ঢাকা সব কুয়াশায় |
তার মাঝে দেখা যায়
দলে দলে শিশু ধায়---
সোয়েটার দিয়ে গায়,
জুতো আর মোজা পায়,
তবু কেঁপে ঠান্ ডায়
স্কুলে তারা পঁউছায় |
স্কুল ঘরে ঢুকে যায়
ফিরে ফিরে পিছু চায় |
বাড়ী ফেরে বারটায়,
চোখ দুটো বসে যায় |
খেয়ে দেয়ে ঘুম পায়,
শুয়ে পড়ে বিছানায় |
ওঠে ঠিক তিনটায়---
বই খাতা উল্ টায় ,
হোমটাস্ক করে যায় |
খেলাধূলো ঘুচে যায় |
এদিকে যে নিরাশায়
দিনমনি ডুবে যায় |
শিশুদের কচি গায়
রোদ টুকু দিতে চায় |
হোয়ে তাতে নিরুপায়
করে শুধু হায় হায় ||
বেলা পাল
.
খুকী ও বৃষ্টি
তির তির তির বইছে  হাওয়া
.      শির শির শির কোরছে গা,

ঝির ঝির ঝির ঝরতে পারে
.      ও খুকী তুই ঘরে যা |

টুপ টুপ টুপ পোরছে ঝোরে
.     গাছের তলে বকুল ফুল,

ফুল তুলে তুই পরবি নাকি
.     ও খুকী তুই কানের দুল ?

গুড় গুড় গুড় ডাকছে আকাশ
.     পোড়বে এবার জোরসে জল,

ও খুকী তুই দৌড়ে পালা
.     আসছে ছুটে বাছুর দল  |
বেলা পাল
.
দার্জ্জিলিং-এর পাহাড়ে আজ ফুটলো সুখের ফুল্!
উন্নয়ণের ঘুরবে চাকা, উড়বে পথের ধূল্!

গোরখারা সব বেজায় খুশী, দিদির মুখে জয়ের হাসি!
আন্দোলনের ইতিতে তাই, উত্সবেতে পাহাড়বাসী!

দুষ্ট কবির দুষ্ট কথা---সত্যি কি সব সুখের সেথা ?
কালের ফেরে কালনাগিনী, তুলবে না তো আবার মাথা ?

উন্নয়ণের নামের টাকা, বইবে না তো ভোগের খাতে ?
ক্ষোভের আগুন ফুঁকে আবার, জ্বলবে না তো নতুন হাতে ?

যাদের সেথায় গেছে জীবন, সরল মানুষ, ছোট্ট স্বপন,
বিচার কভু পাবে কি কেউ ? অশ্রু ঝরা থামবে কখন ?

ভাবছে যারা---শেষ হোলো সব, ফলুক তাদের কল্পনাটাই।
দেখছি আমি বঙ্গ-ভালে, “আবার ভঙ্গ” নোটিস সাঁটা-ই।

যদি কভু আসে সে দিন, রবির কথাই যেন রাজে---
“. . . ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে।”
.                               কলকাতা, ৪ আগস্ট ২০১২
দুষ্ট কবি
.
নুন-সাহেবের ছেলে তিনি
সত্যজিতের নায়ক,
অভিনয়ে ছাড়েন তিনি
ফাস্টোকেলাস শায়ক।
কখন তিনি অপুবাবু
কখন তিনি ফেলুদা,
মাঝে মাঝে পদ্য লেখেন
যেন পাবলো নেরুদা।

কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কে
নিয়ে লেখা ছড়া!
অমিতাভ চৌধুরী
.
টঙ্কা দেবী কর যদি কৃপা
না রহে কোন জ্বালা |
বিদ্যাবুদ্ধি কিছুই কিছু না
খালি ভস্মে ঘি ঢালা ||
ইচ্ছা সম্মক তব দরশনে
কিন্তু পাথেয় নাস্তি |
পায়ে শিকলি মন উড়ু উড়ু
একি দৈবের শাস্তি ||
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
.
জমজ শহরের ছড়া
কারা যেন বলেছিল “কলকাতা” শহরটা  
“ওডেসা”-র জমজ হবে!
সমাজবাদের সেথা নাম ও গন্ধ ছিল,
এখন ওসব গেছে উবে!
সেইকথা ব’লে যারা টু-পাইস করেছিল
গেয়েছিল গীত বেড়ে, “রুশ্ কী”,
রসের সাগর এই কলকাতাবাসীরা,
শুনে শুধু হেসেছিল মুচকি!

ফের শুনি সে জমজ শহরের কাহিনী
এবার সে কথা বলে আর এক বাহিণী!
এবার ওডেসা নয়, নিছক জমজও নয়,
এবে খাস লণ্ডন হবে কল্লোলিনী!
এক ধাপ উঠে বলে, একালের হোতারা--
সুইটজারল্যাণ্ড হবে দার্জ্জিলিং!
গ্রাম "হাতলাড়া" জেলা পুরুলিয়া থেকে পুছে--
তাদের কি আছে এতে? কেউ কি টেলিং?

দার্জ্জিলিং থাক্ পাহাড়ের রাণী আর
কলকাতা থাক্ তার নিজের "শান্"-এ।
দুষ্ট কবি কয় উন্নয়ণটা হোক
একসাথে রাজ্যের সকল কোণে।
.                            ১১/৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
আকুড় বাকুড় চালতা বাকুড়
কোথায় গেলেন রবি ঠাকুর?
কোথায় গেল পদক সোনার
নোবেল প্রাইজ ঘরে আনার?
শান্তিকেতন বিরস বদন
খালি এখন রবির সদন।
মিথ্যে খোঁজা, ঘোরাঘুরি
তিনি গেছেন নিজেই চুরি।
কিছু আদর, কিছু শো,
এখন সেথায় আদর্শ।
বৈশাখের এই পঁচিশে
রইলো না অছি সে।
অমিতাভ চৌধুরী
.
মেনিমুখো হুলো বলে
ম্যায়াও! ম্যায়াও! ম্যায়াও!
তাই শুনের খুকী বলে
হাও? হাও? হাও?
মেনিমুখো হুলো ডাকে
ও দিদিভাই,
তুমিই বলো আমি আজ
কি দিয়ে খাই।
দিদিভাই শুনে বলে
কেন ম্যায়াও! ম্যায়াও!?
ওটা তো শুনিতে ঠিক
মাও! মাও! মাও!
আমি জানি আস্তিনে
লুকিয়েছো তাও!
শশুরবাড়ীতে যাও!
সরকারী খাও!
.            ১৭/৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
ত্রিশূল বাতি
দেখে এলেম কোলকাতায়
হাজার হাজার ত্রিশূল বাতি!
গজিয়ে পথে রাতারাতি,
জ্বলছে নাকি ত্রিলোক মাতি!

পথের ধারে ত্রিশূল খুঁটি!
তিনটি ফলায় তিনটি বাতি!
আলোর চেয়ে বাহার খাঁটি,
সেই সে কালের বড়লাটী!

রস নেই, ভাই দুষ্ট কবির
প্রশ্ন তোলে তাই তো সব-ইর---

যদি, ত্রিশূল বাতিই দিলে পথে,
কেন জ্বলছে সোডিয়ামও সাথে?
মিডিয়াতেও প্রশ্ন দোলে---
হিসেব নাকি গণ্ডগোলে!?

আহা! ওসব বললে চলে!?
ওসব বিরোধীরাই বলে!
বলছি মোরা কলকাতাকে---
বিলেত করে তুলবো ঠেলে!

তাইতো ত্রিশূল বাতির কাতার
তিলোত্তমার সাজের বাহার!
ত্রিশূলবাতি সুন্দরায়ণ!
সোডিয়ামে আলোকায়ণ!
.                         ২০/৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
এমনও হয়
গু-গা-বা-বা চপ্পল
.           দুটি পায়ে পরিয়া
একদিন মিঠুবাবু
.           হয়ে গিয়ে মরীয়া
.           যেতে গিয়ে ‘গড়িয়া’
.           চলে গেল ‘ঝরিয়া’!
মানুকাকী ছিল তার
.           দূর সেই ‘ঝরিয়া’
ভিন্ টেজ গাড়ি যার
.           যেতো ঝর্ ঝরিয়া!
ছুটে এলো মনুকাকী
.            সেই গাড়ি চড়িয়া!
দুজনাতে চলে গেলো
.            সেই গাড়ী করিয়া |
যেতে গিয়ে ‘গড়িয়া’
চলে গেলো ‘কোরিয়া’!!
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
.
আজকালকার ছড়া
আজকে যে ভাইপো
আজকে যে ছোক্ রা
আজ খায় চুষি, কাল
আজ খ্যাঁদা নাকে কাল
আজ যে পালক পেলো
আজকের ভিদ গাঁথা
আজ যে বেসুরো-তান
আজ ধীর স্বস্তি
আজ যেটা শুরু হয়
আজ মুখে মধুদান
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
কালকে সে খুড়ো
কালকে সে বুড়ো |
কাত্লার মুড়ো
নস্যির গুঁড়ো!
কালকে সে উড়ো
কালকের চুড়ো |
কালকে সে সুরো
কাল তাড়াহুড়ো!
কাল সেটা পুরো
কাল জ্বলে নুড়ো!!
দার্জ্জিলিং এর পাহাড়ে - দুষ্ট কবি
নুন-সাহেবের ছেলে তিনি - অমিতাভ চৌধুরী
টঙ্কা দেবী - দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
জমজ শহরের ছড়া - দুষ্ট কবি
আকুড় বাকুড় - অমিতাভ চৌধুরী
মেনিমুখো হুলো বলে - দুষ্ট কবি
পরাধীন ছিল দেশ - দুষ্ট কবি
এমনও হয় - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়     
জকালকার ছড়া - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
ত্রিশূল বাতি - দুষ্ট কবি
১লা বসে একা একা - অমিতাভ চৌধুরী
এপদ্য ছাপবে না - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
দম আছে তাই দময়ন্তী - দুষ্ট কবি
ময়নার মা ময়নামতী - অন্নদাশঙ্কর রায়
মনমোহনের অর্থনীতি - দুষ্ট কবি
কাকতালীয় - অন্নদাশঙ্কর রায়
স্ক্যামের টাকা রাখবো কোথায় - দুষ্ট কবি
সিঙ্গুর ৫ - সাধন বারিক
চাষার পকেট কেটে - তপন চিত্রকর
সভ্য - ইভা চক্রবর্তী
তাক দুমা দুম তাক দুমা দুম - অরুণ ভট্টাচার্য
ডঃ ধুরন্ধর বৃদ্ধতাত - সুদীপ বাগ
বুদ্ধ এখন - সুদীপ বাগ
প্রবাদ-বাক্য - প্রণবকুমার ভৌমিক
ভোটের নামতা ১ - প্রণবকুমার ভৌমিক
.
রাধীন ছিল দেশ
জনগণ ছিল বেশ!?
শহীদেরা দিলো প্রাণ
তাইতো এলো
Freedom !
এতটা বছর ধ’রে
কাঁপে স্বাধীনতা জ্বরে---
কাঁপে দেশ, ভাব
-less !
Public হলো শেষ!
কাঁপি আমি! কাঁপো তুমি!
কাঁপে অন্তর্যামী!
হরিদাস বাংগালি
কাঁপে মিছে, হাত-খালি!
ধনী মানী রাজনেতা
কাঁপে এই ব’লে  ভাই---
“এলো মেলো ক’রে দে মা
শুধু লুটে পুটে খাই”!
.                ১৭/৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
১লা বসে একা একা ভাবছ তুমি কী,
২-যে ২-য়ে কার কত দুধ বানায় খাঁটি ঘি?
৩ ভূবনের পারে তবে যাবার হেতু নেই,
৪ দিয়ে মাছ ধরার জন্যে নাচের ধেই ধেই।
৫ মুখে প্রশংসার বাণী সুপ্রচুর,
৬ লাপ হয়ে আছে কাছে আর দূর।
৭ তাড়াতাড়ি চলো নয়তো দেব ধিক্।
৮ ঘাট বেঁধে কাজ করা চাই ঠিক ঠিক।
৯ নয় করে যদি পৌঁছতে ঠিক পারো
১০ কুশি তালে তালে নাচো আর ছাড়ো।
অমিতাভ চৌধুরী
.
এ পদ্য ছাপবে না
একি গাজোয়ারি নাকি?

সব কটা দাঁত আছে ?
.        এর নাম মাড়ি নাকি ?
কুট্ কুট্ করে না যে
.        সে আবার দাড়ি নাকি ?
এক্ কোপে কাটে বাঁশ
.        এ-যেমন কাটারী
লোকে পায় পয়সা
.        সে-তেমন লটারী
কুকুর-ই পড়েছে চাপা
.        সে কি ড্রাইভার নাকি
একদানে স্টার্ট হয়
.        সে আবার গাড়ি নাকি?
ডুবে জল খায় না
.         সে-যেমন সাঁতারী
মশামাছি কেউ নেই
.         সে তেমন মশারী
চাঁদার জুলুম নেই
.         সে কি বারোয়ারী নাকি
খৈনীর নেশা নেই
.         সে-পুলিশ ফাঁড়ি নাকি ?
টিপ্ লেই পাওয়া যায়
.         সে আবার কী নাড়ি,
উইল লেখেনি যে গো
.         সে আবার বেমারী  ?
বৃষ্টি পড়ে না ঘরে
.          সে নতুন বাড়ী নাকি
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়


দুটো ছেঁড়া সুতো নেই
.          সে নতুন শাড়ী নাকি ?
এখনো হয়নি ভাগ
.         সে আবার কী হাঁড়ি
মিনিটে হয় না ভাব
.         সে আবার কী আড়ি
ধরে আছে মুন্ডুটা
.          সে কি মারামারি নাকি
ফুটপাতে হাঁটছে যে
.         সে কি পথচারী নাকি ?
কাছা ধরে টানা নেই
.            সে যেমন কাছারী
কোনো ছুঁচি-বাই নেই
.            সে তেমন আচারী
যার দুটো খাতা নেই
.            সে-কি কারবারী নাকি
যে-পায়ে পড়ে না তেল
.         সে কি পায়াভারী নাকি?
দল্ টল্ মানে না যে
.              সে আবার রেফারী
“দম্ ভরে” বাজায় না
.               সে আবার সেতারী
গোঁজামিল যাতে নেই
.            সে কি সরকারী নাকি?
মিল দেওয়া কবিতাও
.          লেখা ঝকমারী নাকি??
ম আছে তাই দময়ন্তী
কাটালেন তিনি এই ভ্রান্তি
যে “পার্কস্ট্রীটে ছিলো সব সাজানো
বিরোধী দলের চক্রান্তী”

থামালেন মেয়েটির কান্না
তিন দিনে ধরলেন আসামী
দেশজুড়ে বাহবার মধ্যেই
পেলেন মুখ্যমন্ত্রীর বকুনি

হরিদাস বাংগালি হতবাক্
দুষ্ট কবির তো লাগে তাক্
দেখে পুলিশের এই বীর প্রমীলার
মেডেলের বদলে ট্রান্সফার
.                    ১৯.২.১০১২
দুষ্ট কবি
.
ময়নার মা ময়নামতী
.        ময়না তোমার কই?
ময়না গেছে কুটুমবাড়ী
.        গাছের ডালে ওই।

কুটুম কুটুম কুটুম
নামটি তার ভুতুম
আঁধার রাতের চৌকিদার
.        দিনে বলে শুতুম।

ময়না গেছে কুটুমবাড়ী
.        আনতে গেছে কী?
চোখগুলো তার ছানাবড়া
.        চৌকিদারের ঝি।

ভুতুম কিন্তু লোক ভালো
মা লক্ষ্মীর বাহন কিনা
লক্ষ টাকার ঘর আলো।

গয়না দেবে শাড়ী দেবে
সাত মহলা বাড়ী দেবে
মস্ত মোটর গাড়ী দেবে
সোনা কাহন কাহন।
ভুতুম মলে ময়না হবে
মা লক্ষ্মীর বাহন।
ন্নদাশঙ্কর রায়
.
নমোহনের অর্থনীতি
চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে!
সাঙ্গ-পাঙ্গ, দুইয়ে দুইয়ে
স্ক্যামের সাগর গড়ছে!
এ জি ও জি এ গেট ও গেট
স্ক্যামের নামের গুচ্ছ!
শেয়ার-বাজার-ইনডেক্স ছাড়া
তাঁর কাছে সব তুচ্ছ!
এমন ঠুঁটো মহাজ্ঞানী
জগন্নাথও নয়!
দুষ্ট কবি এই না দেখে
ফ্যালফ্যালিয়ে চায়---
মনমোহনের জন্য উতল
বামেদের হৃদয়!
মনমোহনের মোহন-নীতির
জয়! বলো জয়!
.                 ২৬/৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
কাকতালীয়
গাছ ছিল ডাল ছিল
কাক ছিল তাল ছিল
কাক বলে, কা কা
পড়ে যা! পড়ে যা!
ঢিপ করে তাল গেল পড়ে।

কাকের কী কেরামতি
সবাই অবাক অতি
ডাক ছেড়ে কাকটাই
তালটাকে ধরাশায়ী
করল কী মন্ত্রের জোরে!

তাল ছিল লাল ছিল
ফোলা ফোলা গাল ছিল
তাল বলে, হা হা
উড়ে যা! উড়ে যা!
ফস্ করে কাক গেল উড়ে!

তালের কী কুদরতি
সবাই অবাক অতি
তাক করে তালটাই
ডালপানে তোলে হাই
তূক করে তাড়ায় শত্তুরে!
ন্নদাশঙ্কর রায়
.
স্ক্যামের টাকা রাখবো কোথায়?
পাঠাই দেশের বাইরে!
সুইজ ব্যাঙ্কের নাম বেরোলে,
আমরা কোথায় যাই রে!?
মোদের দুঃখ সবাই বোঝে,
পি.এম, এম.পি --- সবাই রে!
কেবল আন্না বোঝে না যে,  
ক্ষেপিয়ে তোলে হাজারে!
.                   ২৭/০৮/২০১২
দুষ্ট কবি
.
সিঙ্গুর ৫
প্রজা হবে শান্ত শিষ্ট
সাত চড়ে রা কাড়বে না
মারলে লাথি বলবে হুজুর
উল্টে লাথি মারবে না |

প্রজা হবে মৃদু ভাষি
বোবা হলে আরও ভালো
অল্প খেয়ে তুলবে ঢেঁকুর
অন্ধকারকেবলবে আলো

প্রজা হবে গরু গাধা
হাঁস মুরগি ছাগ
প্রয়োজনে দেবো বলী
করবে নাকো রাগ

কিন্তু প্রজা দেখায় যদি
বুক খুলে তার দৈন্যকে
তখন আমি লেলিয়ে দেবো
আমার পোষা সৈন্য কে |
সাধন বারিক
.
চাষার পকেট কেটে  
এক-লাখে চার-চাকা টাটাদের গাড়ি,
সরকারী বাবু যাবে হাসিমুখে বাড়ি |
সরকারী বাবু উনি দশ-হাজার মাসে,
টেবিলের নিচ দিয়ে আরো কিছু আসে |
চাষা-লোক লেখাপড়া কিইবা আর জানে?
অফিসার মহাচোর যায় না তা কানে |
জোর করে কেড়ে নিয়ে জোত-জমি-বাড়ি,
টাটাদের দিয়ে দিল হবে সেথা গাড়ি |
কম দামে গাড়ি পাবে তাই কিছু ছাড়,
চোর-বাবু কিনবে যে সস্তার কার |
গরীবের ভাত মারে সরকার টাটা,
দোসর বাবুদের মারো মুখে ঝাঁটা |
পন চিত্রকর
.
সভ্য
সবকিছুরই দাম দিতে হয়
জল বলো বা মাটি
ভেজাল ভিড়ে হারিয়ে গেছে
টাটকা কিবা খাঁটি |
ভালোবাসার মূল্যে বিকোয়
আব্রু শরম পণ্য
আষ্টেপৃষ্টে সভ্য মানুষ
জীবনযাপন বন্য |
ভা চক্রবর্তী
.
তাক দুমা দুম তাক দুমা দুম
তাক দুমা দুম তাক,
মখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবু
বাজাচ্ছে জয়-ঢাক |
চাষিরা কেউ করবে না চাষ
খরচা বাড়ে চাষে,
খাবারদাবার পণ্য যে সব
বিদেশ থেকে আসে |
দেশের ভিতর গড়বো বিদেশ
অভাব যাবে উড়ে,
টাটা মোটর চড়ে এবার
আসবি বিদেশ ঘুরে |
উদয়-অস্ত থাকবি মজায়
সুদের টাকায় খাবি,
বিনোদনে বৌ পাঠালে
মোটা টাকা পাবি |
এসব কথা না শুনলে তো
কাটবো মাথা হাতে,
নন্দীগ্রামের দায় নিয়েছি
সবার সাক্ষাতে |
কেন্দ্র আমার হাতের পুতুল
রাষ্ট্রপতি ঠুঁটো,
আমার মতো ধোপদুরস্ত
বিশ্বে নেইকো দুটো |
কি মজা কি কি মজা কি
অন্ধ কানুন চুপ,
মরা চাষির ঢাকতে দেহ
তাই খুঁড়েছি কূপ |
তাক দুমা দুম তাক দুমা দুম
তাক দুমা দুম তাক,
সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বাজায়
উন্নয়নের ঢাক |
রুণ ভট্টাচার্য
.
ডঃ ধুরন্ধর বৃদ্ধতাত     

পুত্র হলেন শিল্পগুরু
দলের ইনি কল্পতরু              ডক্ টর!

কাজ নেই আর নিশিদিন
বিলাত ফেরত ব্রিফহীন         মোক্ তার!

যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন
সারাজীবন ভোগ করেছেন      বিন্দাস!

ঐতিহাসিক ভুলের জেরে
প্রধানমন্ত্রী কপাল ফেরে         ফুস্ ফাস্!

সেজ বিরোধী ভেক ধরা
দলের ভাঙন রুখতে সারা      নিলেন ঠিকা,

গরীব প্রেমের কথা দেখে
মরীচঝাঁপি ভুলবে লোকে       মরীচিকা!

এবার পাবেন ভারতরত্ন
কেন্দ্রকে করলে যত্ন             নিশ্চয়!

ইনি হলেন জন্মনেতা
বাবুগিরির কতই কেতা         বিস্ময়!
সুদীপ বাগ
.
বুদ্ধ এখন
শুদ্ধ বসন
রুদ্ধদ্বার কক্ষে

ভগ্ন বুকে
মগ্ন শোকে
শুকনো জল চক্ষে

হস্ত জোড়ে
ত্রস্ত ভরে
ব্যস্ত ভুল স্বীকারে

জয় মা তারা
আয় বাছারা
দায় দে রে আমারে |
সুদীপ বাগ
.
প্রবাদ-বাক্য
জলে তেলে মিশ খায়
কখনো কি শুনেছো ?
বাঘে গরু জল খায়
এক ঘাটে দেখেছো ?
আদা আর কাঁচকলায়
এত কেন বৈরী ?
সাপে আর নেউলেতে
দেখ, যুদ্ধতে তৈরী |
শৃগালের যম কে
বলতে কি পার কেউ ?
কুকুর যদি দেখে তায়
কেন করে ঘেউ ঘেউ |
বুনো ওল আহারেতে
যদি কোন ক্ষতি হয়,
বাঘা তেঁতুল সাথে রেখো,
থাকবে না কোন ভয় ||
শাক দিয়ে মাছ ঢাকো
এ তো ভালো কাজ নয়
শাঁখের করাতে কেন
দুপাশেই ধার হয় ?
বোলতার চাকে কেন
হয়নাকো মধুরস ?
ভাগ্যের পরিহাসে
জোটে শুধু অপযশ |
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
ভোটের নামতা ১
ভোট এলো দোর খোলো
জনগণ জাগরে,
কান দিয়ে শোন সব
মনে ধরে রাখরে,
মিটিং এর কথাগুলো
ছাকনিতে ছাকরে,
চালনি সূঁচকে বলে
তোর পিছে ফুটোরে,
নিজের হাজার ফুটো
কেমনে সে ঢাকে রে,
জনগণ শুনে সব
হাঁ করে থাকেরে
ভোট এলো দোর খোল
জনগণ জাগরে ||
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
ভোটের নামতা ২
আজ নয় কাল ভোট,
এইখানে ভোট দিন,
গণনা হতে বাকি
আরো আছে তিন দিন,
পাহারায় আছে যারা
খেটে মরে রাত দিন,
হেরে চুপ না থেকে
রিগিং এর দোষ দিন |
ভোট পর্ব মিটে গেলে
কমার্শিয়াল ব্রেক দিন,
সেই ফাঁকে ঘন ঘন
বুদ্ধিতে ধুঁয়ো দিন,
যাই হোক তাই হোক
জনগণ ভোট দিন ||
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
ভোটের নামতা ৩
তিন দিন বাদে ভোট
শুরু হল গণনা,
নির্বাচন কমিশন
করে পরিচালনা,
প্রহসনে প্রশাসন
করে শুধু ছলনা,
হাসি খুশি ডগমগ
প্রার্থীর ললনা,
বেল পাকলে কাকের কি
জনগণ বোঝে না,
গণনার শেষ ফল
জনরায় বলে না ||
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
ভোটের নামতা ৪
গণনার ফলে ছিঁকা
কার ভাগে ছিঁড়ল,
রাম, শ্যাম, যদু, মধু
কেবা ভোটে জিতল,
প্রার্থীর কালো টাকা
সাদা হয়ে ফিরল,
পাবলিক বোকা সব
ধোঁকা সব গিলল,
বিজয়ের মিছিলেতে
কত রং উড়ল,
মরীচিকার পিছু পিছু
জনগণ ছুটল ||
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
ভোটের নামতা ৫
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
জনসভার ভাষণে,
সস্তায় চাল, গম
তেল দেবে রেশনে,
ভোটে জিতে নেতা এলো
মন্ত্রীর আসনে
ওষ্ঠাগত হল প্রাণ
মজুতদারের শোষণে,
মাথা ঠুকে মরে ঐ
জনগণ পাষাণে,
হরিবোলে কাঁধে উঠে
চলে যায় শ্মশানে ||
প্রণবকুমার ভৌমিক
.
গান্ধী টুপি মাথায় দিয়ে আন্না হাজারে,
ঘুম কেড়েছেন দেশের রাজনীতির বাজারে!
তাই রাজধানীতে সাংসদেরা অধিবেশন ডেকে,
দলমত নির্বিশেষে গলা চিরে হেঁকে,
লোকপাল বিল পাঠিয়ে দিলেন সোজা ঠাণ্ডাঘরে!
.                                       ১৪/৩/২০১২
দুষ্ট কবি
.
ভোটের নামতা ২ - প্রণবকুমার ভৌমিক
ভোটের নামতা ৩ - প্রণবকুমার ভৌমিক
ভোটের নামতা ৪ - প্রণবকুমার ভৌমিক
ভোটের নামতা ৫ - প্রণবকুমার ভৌমিক
গান্ধী টুপি মাথায় দিয়ে আন্না হাজারে - দুষ্ট কবি
উলটো পুরাণ - চন্দন ভট্টাচার্য
মৃত্যুঞ্জয় - চন্দন ভট্টাচার্য
কালো টাকার নামটি কালো - দুষ্ট কবি
ভট্টাচার্য বুদ্ধদেব - অমিতাভ দাশগুপ্ত
সুনীল চলে গেলেন - দুষ্ট কবি
হাজী হলেন মোল্লা সাহেব - দুষ্ট কবি
দুই বিবি - সরল দে
অবাক হয়ে - কাজী লতিফা হক
হজ থেকে ফিরে এসে - দুষ্ট কবি
যাচ্ছো কোথায় সিংহ মামা - অমর ভট্টাচার্য
সাম্প্রতিক ছড়া ১ - অজয় দাশগুপ্ত
সাম্প্রতিক ছড়া ২ - অজয় দাশগুপ্ত
ঠাকুর থাকবি কতক্ষণ? - চন্দন ভট্টাচার্য
সুনীল হারা - চন্দন ভট্টাচার্য
শীতের ছড়া ১ ও ২ - রাজেশ দত্ত
লাগে রহো আন্না ভাই - রাজেশ দত্ত
দারুণ বাবা - সুদেব বক্সী
গানওয়ালা - আজু গোঁসাই
এই পোড়া দেশে কোনো - দুষ্ট কবি
তোমার ভিতর আগুন আছে - দুষ্ট কবি
গান্ধী টুপি মাথায় দিয়ে আন্না হাজারে
প্রায় দিয়েছিলেন চটকে, চুরি রাজনীতির বাজারে
কিন্তু দেখে তাঁর অনুচর কিরণ এবং কেজরিওয়াল
নিজের হাতেই দিলেন ভেঙে আন্দোলনের শক্ত ঢাল
কী আনন্দে রাজনেতাদের --- হাঁপ ছেড়ে বাঁচা রে!
.                                       ১১/৯/২০১২
দুষ্ট কবি
উলটো পুরাণ
শহিদ কিশোর    নবীন দোসর
ভারত মায়ের ছেলে -
তোমার আমার   সুখের তরে
মরল অবহেলে।
আজ বড়রা      দেশের যারা
সেবক হবার ছলে -
তাঁদের মালা     পরিয়ে গলায়
উল্টো পথে চলে।
চন্দন ভট্টাচার্য্য
.
শ্রী ক্ষুদিরাম বোস ও শ্রী প্রফুল্ল চাকীর মুক্তিবেদিতলে প্রাণের
অর্ঘদানের শতবর্ষ স্মরণে লেখা।
শ্রী প্রফুল্ল চাকী, জন্ম – ১০ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮। ধরা না দিয়ে
নিজের গুলিতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ – ১লা মে ১৯০৮।
শ্রী ক্ষুদিরাম বোস, জন্ম – ৩রা ডিসেম্বর, ১৮৮৯। ফাঁসির
মঞ্চে মৃত্যুবরণ – ১১ই অগাষ্ট ১৯০৮।
মৃত্যুঞ্জয়
ছোট্ট ক্ষুদি       খুদের কুঁড়ায়
বিকোয় যাহার প্রাণ -
সেই প্রাণই যে     অবহেলায়
দেশকে করে দান।
ছিলো মহান     নির্ভীক তাঁর
সফল সতেজ মন -
দারুণ রাতে     রক্তে পিছল
পথকে আলিঙ্গন।
দেশকে যারা     ভালোবাসে
রাখতে দেশের মান -
হাসিমুখে       ফাঁসির কাঠে
প্রাণকে করে দান।
চন্দন ভট্টাচার্য্য
.
শ্রী ক্ষুদিরাম বোস ও শ্রী প্রফুল্ল চাকীর মুক্তিবেদিতলে প্রাণের
অর্ঘদানের শতবর্ষ স্মরণে লেখা।
শ্রী প্রফুল্ল চাকী, জন্ম – ১০ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮। ধরা না দিয়ে
নিজের গুলিতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ – ১লা মে ১৯০৮।
শ্রী ক্ষুদিরাম বোস, জন্ম – ৩রা ডিসেম্বর, ১৮৮৯। ফাঁসির
মঞ্চে মৃত্যুবরণ – ১১ই অগাষ্ট ১৯০৮।
কালো টাকার নামটি কালো
রঙটি কিন্তু এক!
তাই কোরো না টাকার বিভেদ,
ভরো নিজের ট্যাঁক!
এখন, দেশের নেতা মানী গুণী
সবারই এক মত---
কামাক যে কেউ যেমন ইচ্ছে
টাকা সৎ-অসৎ!
তাই দুষ্ট কবি রঙ্গে লেখে
এই নতুন শ্রীমত্ভাগবৎ!
.                    ১৯/১০/২০১২
দুষ্ট কবি
.
ট্টাচার্য বুদ্ধদেব
রাজনীতিতে শুদ্ধদেব
অন্য লোকে যাহাই বলুক
হন না যেন ক্রুদ্ধদেব।
অমিতাভ দাশগুপ্ত
.
সুনীল চলে গেলেন তাঁর দিকশূন্যপুরে        
সবারই চলে যেতে হবে সেথা এক এক ক’রে
কিন্তু তফাৎটা এখানেই রবে
যে, যখন আমাদেরও চলে যাওয়া হবে
কারো কি পড়বে ঠেকা লেখার দুলাইন, ব'সে তার কলমটি ধরে!
.                                                       ২৫.১০.১০১২
.
দুষ্ট কবি
হাজী হলেন মোল্লা সাহেব
মক্কা ঘুরে এসে!
মার্ক্সবাদী রেজ্জাক মোল্লা
বলেন মৃদু হেসে!

তাই না শুনে বিমানবাবুর
ছুটে গেল ঘুম!
কি করিবেন এমন নেতার
যার ধর্ম-আফিম-গুণ!

“ধর্ম আফিম” ব’লে যাঁদের
চেঁচিয়ে জীবন সারা,
বুড়ো কালে পড়লো কি ভাই
ভীমরতিতে ধরা ?

দুষ্ট কবি বলে --- বাছুন
হাজী সাহেব মোল্লা,
আল্লাহতালার ধর্ম,
না হয় মার্ক্সবাদের তোল্লা!

.       কলকাতা, ২৮.১০.১০১২
.
দুষ্ট কবি
দুই বিবি
পটের বিবি পটেই ছিল
বললে আমায় পটুয়া,
রং দিয়েছি ঢং দিয়েছি
দিই নি হাতে বটুয়া।

তাসের বিবি তাসেই ছিল
হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসে,
ধাঁ করে সে উড়েই গেল
চৈত্র মাসের সাতাশে।

বিবিরা সব কোথায় আছে
পাণ্ডুরাজার ঢিবিতে
দুই বিবিতে ভাবছে এখন
নাচ দেখাবে টি.ভি.-তে।
.
সরল দে
অবাক হয়ে
যত্ত দোষ
নন্দ ঘোষ
.        হাসলে জোরে
.        কাশলে জোরে
.        রাগলে জোরে
.        ঘুমের ঘোরে
.        গাইলে খেয়াল
.                রাত দুপুর।
নন্দকে তাই মন্দ বলে
সবাই যে তার কানটি মলে
.        ভয়ের চোটে
.        তাই সে ছোটে
.        পথ বিপথে
.        মধ্য রাতে
.        কখনো বা
.        বিমান পথে
.        যায় বহুদূর
.                পার্বতীপুর
.আবার হঠাৎ থমকে গিয়ে
অবাক হয়ে রয় তাকিয়ে।
.
কাজী লতিফা হক
জ থেকে ফিরে এসে                    তাল ঠুকে মৃদু কেশে
.                কহিলেন রেজ্জাক মোল্লা---
“এলাম মক্কা থেকে                        কাবা-এ মাথাটি টেকে
.                তাই হনু আমি - হাজী মোল্লা”।
তা শুনে দুষ্ট কবি                         কহিলো “বুঝি সবই
.               কিন্তু, পীর কার্ল মার্ক্স যাবে কোথা?
সারাটি জীবন যিনি                       প্রচারিলো মার্ক্স-বাণী
.                তাঁর মুখে এ কেমন কথা!”
পলিটব্যুরোর বুড়ো                       যত কমিউনিস্ট খুড়ো
.                কুলুপ আঁটিলো সব মুখে!
এ হাজীরে কিছু ব’লে                     যদি ভোট যায় চ’লে
.                চুপ থাকা ভালো এই দুখে!!
.                                                     ২৮.১০.১০১২
.
যাচ্ছো কোথায় সিংহ মামা
দেখা হয়নি অনেক দিন
বাজখাঁই সেই গলা কোথায়
করছো কেন মিন মিন।
আলুথালু কেশর নেইকো
তার বদলে পনিটেল
এ সব আবার শিখলে কোথায়
মাথায় দেখছি গন্ধ তেল ?
বলবো কি আর দুঃখ কথা
চারিদিকে কাটছে বন
খাবার দাবার নেইকো কোথাও
পেটে এখন ছুঁচোর ডন।
তাই চলেছি শহরে আজ
চাকরি বাকরি খুঁজতে ভাই
ভাবছি মনে চিড়িয়াখানায়
এবার একটা চাকরি চাই।
আজকে তবে চলি রে ভাই
দেখা হবে আগষ্টে
সে দিন হবে অনেক গল্প
করবো সেদিন নাইট স্টে।
.
মর ভট্টাচার্য
সাম্প্রতিক ছড়া ১
এ কেমন কাল, পাল্টেছে হাল
হাওয়া বদলের দুনিয়ায়
ভালো যত সব কালো দিয়ে ঢাকা
উল্টো’র গান শুনি হায়!

যারা করে চাষ, হৃদয়ের ঘাস
ফোটালো গোলাপ গালিচায়
সে বাগান জুড়ে কোথা থেকে উড়ে
উটকো লোকেরা তালি চায়?

যারা স্বাধীনতা সঙ্গীত আর
দেশ মাতৃকা ভূমি খায়
আজকে নাটকে বেহায়াপনায়
তারাই প্রধান ভূমিকায়।
.
অজয় দাশগুপ্ত
সাম্প্রতিক ছড়া ২
স্বাধীনতা পতাকায়, স্বাধীনতা রক্তে
কারা আনে স্বাধীনতা কারা থাকে তখ্ তে
যারা ছিল সহচর হানাদার সৈন্যের
তারা আজ দেশপ্রেমী দোষ ধরে অন্যের
ইতিহাস নির্ভুল যায় না যে ভোলা তাই
মুক্তির পথ আছে চিরদিন খোলা তাই
মুক্তির পথ জানা পথ নয় রুদ্ধ
স্বাধীনতা হীনতায় প্রয়োজনে যুদ্ধ ||
.
অজয় দাশগুপ্ত
ঠাকুর থাকবি কতক্ষণ?
ঠাকুর ছিল জম্‌কালো,
.        দেখে সবাই চম্‌কালো -
.                হাল ফ্যাসানের প্রবল চাপে
.                        টি আর পি তাঁর খুব ভালো ;
দেড়শো বছর পার হল,
.        অমিত যতই ধমকালো -
.                নিবারণ তাঁর লেখা পড়েই
.                        বৈতরণী পার হল।
এখন কথায় ভাবগুলো
.        লেপ্‌তোষকে ঠাস্‌তুলো -
.                সুখের ভরে  গদির প’রে
.                        ব্যবসা ফাঁদায় মন দিলো।
ব্যক্তি পূজা খুব হল,
.        ভক্তি ভানের জাঁক জোলো -
.                একলা কেবল বিষ্ণু পূজে
.                        বলির দশার হাল হল।
তাই এ কথা প্রাঞ্জল -
.        ঠাকুর ঠিকই দেয় আলো,
.                রবির কিরণ ছুঁইয়ে কেবল
.                        অবুঝ মনে প্রাণ ঢালো।
চন্দন ভট্টাচার্য্য
.
সুনীল হারা
মায়ের মনটা বড্ড কঠিন
ভাসিয়ে সবে নয়ন জলে
বিসর্জনের আর্তি দোলে
দশমিতে গেলেন চলে –
ভাসিয়ে গেলেন সুনীল আকাশ
মন মাতানো সুনীল নদী,
সইত এসব দুঃখ তবু –
কবি সুনীল রইত যদি।
চন্দন ভট্টাচার্য্য
.
শীতের ছড়া- ১
ভোরের কুয়াশা, হিমেল হাওয়া।
উড়কি ধানের মুড়কি মোয়া।
গরম কফির পেয়ালায় ধোঁয়া,
পশমি চাদরে আদরের ছোঁয়া।
মিঠে রোদ্দুরে চড়ুইভাতি।
ডাকে শৈশব, খেলার সাথী।
এলো শীতকাল, পাতাঝরা দিন।
তবুও জীবন স্বপ্ন রঙিন।

শীতের ছড়া- ২
আঁধার রাতে শীতের কামড়।
খোলা আকাশ, ফুটপাথে ঘর।
হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাস,
পথের ধারে জীবন্ত লাশ।
কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালে
ছেঁড়া কাঁথায় ন্যাংটো ছেলে।
ফুটো ছাদের ঝুপড়ি বাসায়
রাত জাগছে ভোরের আশায়।
রাজেশ দত্ত
.
.
কমিটি গঠন হোলো,
সরকারি আশ্বাস ---
হাজারের দাবি মেনে
দ্রুত হবে বিল পাশ।
দুর্নীতি দূর করে
ভারত হবে ‘শুদ্ধ’!
গান্ধীগিরির জয়ে
মাতে দেশশুদ্ধ।
কালো টাকা, টেলিকম
দুর্নীতি রকমারি।
বিরোধীর হইচই,
ঝঞ্ঝাট, ঝকমারি --
সবকিছু ধামাচাপা
দিয়ে দেবে লোকপাল।
ইউ পি এ সরকার
আবার তুলবে পাল।
কর্পোরেটের পুঁজি
থাক খোলা বাজারে।
ঝুলিতে বেড়াল ফের
ঢোকালেন হাজারে।
দেশ জুড়ে লুট হয়
জল-জমি-জঙ্গল,
বিক্ষোভের আগুনে
আন্নারা ঢালে জল।
জনতার ঘাড় থেকে
‘মাও’ ভূত ঝাড়াতে,
‘অহিংস’ ওঝা চাই
বিপ্লব তাড়াতে।
গান্ধীগিরির পথে
লাগে রহো আন্না।
সশস্ত্র সংগ্রামী
প্রতিরোধ আর না।
মাথায় গান্ধীটুপি,
মুখেতে গান্ধীবাদী।
আন্নাভাইয়ের সখা
ঘাতক নরেন মোদী।
নাট্যরঙ্গ জমে,
মিডিয়ার ভরে জেব।
মুন্না-সার্কিট জুড়ি
আন্না ও রামদেব।
রামবাবা-আন্নার
ভূভারত গুণ গায়।
মণিপুরে শর্মিলা
অনশনে থাকে হায়।
সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের
অনাচার ভণ্ডামি।
অনশনে প্রাণ দেন
নিগমানন্দ স্বামী।
নিগমের মৃত্যুতে
মেকী শোকে, কান্নায়
নেতাদের সাথে কাঁদে
রামদেব-আন্নায়।
ইউপিএ-বিজেপির
ক্ষমতার বড়াইয়ে
দিশেহারা জনগণ
মুরগীর লড়াইয়ে।
কংগ্রেস কোণঠাসা
গেরুয়ার উত্থানে,
আন্নাকে চাপে রেখে
বিরোধের রাশ টানে।
‘অহিংসা’ তুরুপের
তাস নিয়ে দলাদলি,
রামলীলা ময়দানে
ভক্তেরা হয় বলি।
জঙ্গল মহলেতে
চলে সেনা তাণ্ডব।
মহাভারতের বুকে
রচে নয়া খাণ্ডব।
‘সহিংস’ রাষ্ট্র
‘অহিংসা’ ভক্ত!
ধনপতি আজো খায়
গরিবের রক্ত।
লাগে রহো আন্নাভাই  ১৫ জুন, ২০১১
চারদিন অনশনে
টলোমলো সংসদ।
অহিংস আন্নার
সবাই বশংবদ।
সত্যাগ্রহের ডাক
দিল ‘নয়া বুদ্ধ’।
জনতার সাড়া পেয়ে
আন্না উদ্বুদ্ধ।
হাজারের অনশনে
যন্তর মন্তরে
‘একালের গান্ধী’কে
দেখে লোকে ভীড় করে।
রামধুন গায় শোনো
হাজারের দলবল।
মাথা নত প্রণবের,
গদগদ সিব্বল।
লোকপাল বিল নিয়ে
সারা দেশে শোরগোল।
নেতারা কি রাতারাতি
পাল্টালো সব ভোল?
আন্নার সাথে করে
তড়িঘড়ি সন্ধি।
তস্কর শিরোমণি
রাষ্ট্রের ফন্দি।
রাজেশ দত্ত
দারুণ বাবা   
বাবা        হাত ঘোরালেই নাড়ু
বাবা        পা ফেললেই সুধা
.        এমন বাবা যুগাবতার
.                ধন্য এ বসুধা!
বাবা        গা ঝাড়লেই হীরে
বাবা        মুঠ্ খুলেই সোনা
.        এমন বাবা মিথ্যে বাবা
.              কক্ষণো বলবো না।
বাবা        মুখ খুললেই মধু
বাবা        শ্বাস টানলেই আলো
.        এমন বাবা দারুণ বাবা
.            ভীষণ ভালো, ভালো।
বাবা        দেন, এনে দেন চাঁদ
বাবা        আনেন, যা চাই---সব,
.        শিষ্যকুলে ছাড়েন বাণী
.                “সব কিছু সম্ভব!”
বাবা        জ্যান্ত করেন মড়া
বাবা        মড়ায় আনেন প্রাণ
.        অলৌকিকে লোপাট করেন
.                সমস্ত বিজ্ঞান!
বাবার একটা শুধু গোঁ---
“বিজ্ঞানীদের সামনে আমি
করবো না ট্যাঁ-ফোঁ!”
সুদেব বক্সী
.
কবীর সুমন,
থাকেন কেমন?
যখন যেমন,
তখন তেমন।
থাকেন ঝালে,
থাকেন ঝোলে।
কখনো সবুজ,
কখনো লালে।
ভেসে বেড়ান
একূলে, ওকূলে।
কখনো কাস্তে,
কখনো বা ফুলে।
কখনো এম. পি,
কখনো ‘জঙ্গী’!
ছিলেন দিদির
সফর সঙ্গী।
‘পরিবর্তন’-এ
না পেয়ে কল্কে,
কুলোর বাতাস
দিদির দলকে।
থাকেন খবরে,
থাকেন গিমিকে।
মিডিয়া ক্যামেরা
ফ্ল্যাশের চমকে।
আজু গোঁসাই
.
কখনো ডাইনে,
কখনো বামে।
যখন যেখানে
পসার জমে।
সংসদে গদি,
গানে ‘মাওবাদী’!
সরকারি ভাতা
নিয়ে ফরিয়াদি।
প্রণবের স্তুতি,
মমতাকে গাল।
তেরঙ্গা ছেড়ে
ধরেছেন ‘লাল’।
‘বামাচারী’ দলে
খুঁজছেন ঠাঁই।
‘হার্মাদ’ যত
হল আজ ‘ভাই’!
কবীর সুমন,
আছেন কেমন?
যখন যেমন,
তখন তেমন।
ই পোড়া দেশে কোনো
পয়সা রাখি না!
রাখি সুইজ ব্যঙ্কের একাউন্টে!
টাকাও তো দেশী নয়!
ডলার-ইয়ুরো-পাউণ্ড
তৈরী বিদেশের কোনো মিন্ট-এ!

কি করে বোঝাই সবে---
দেশী সম্পদ নয়!
হাতিয়েছি বিদেশেরই ধন!
দেশের জন্য নানা
ডিল-টিল ক’রে পাই,
বিনিময়ে সামান্য কমিশন!

ভারতবাসীর আজ
গর্বের দিন! সেথা আমাদেরই
জমানত শ্রেষ্ঠ!
বুক ফুলিয়ে সবে
বলো হে বলো এবে
আমরাই দুনিয়ায় বেষ্টো
(Best)!

দুষ্ট কবি বলে---
দিবসকে রাত বলে,
এ দেশের মাথারা সু-বলিয়ে!
সংস্কারের নামে
দেশের দুয়ার খুলে
নেকড়ে-হায়না দেয় লেলিয়ে!
.                 ২৬.০৮.২০১২
.
দুষ্ট কবি
তোমার ভিতর আগুন আছে!
তোমায় নিয়ে মিডিয়া নাচে!
গান শুনিয়ে বাঙালীকে,
আসন পেতেছিলে বুকে।
অন্ধ ভক্ত বহু তোমার।
গণমাধ্যমে বহুল প্রচার।

অহংকারের বড় ঠ্যালা---
তাতেই তোমার জীবন চলা।
আসেপাশে যাকেই দ্যাখো,
তাকেই ছোটো করে লেখো!
ব্যাবসা করছো মস্তি কচ্চো!
অন্যেরে কেন গাল পাড়ছো?

প্রথম যখন গাইতে এলে
তখন থেকেই গাইছো বোলে...
“সুনীল গাঙ্গুলীর দিস্তে দিস্তে লেখা
কত কবি মরে গেলো চুপি
.               চুপি একা একা”
নাই বা পড়লে তাঁহার লেখা
তাই বলে এ কেমন লেখা!?

সহ-গায়ক-শিল্পী-গুণী---
তাদেরও ছাড়োনিকো তুমি।
---গাইতে কেন পড়ছে লেখা!
তাই নিয়ে গান শ্লেষ্মা মাখা!
ভাবলে না --- এ স্মৃতির খেলা।
সবার কি তা থাকে ম্যালা!?
.
দুষ্ট কবি
জর্জ বিশ্বাস রবির গানে---
সকল বাঙালীর সে প্রাণে।
সে গ’লে নাকি “কোমলতা” নেই!
অসুস্থ মন তোমার কি ভাই?
শ্রেষ্ঠ তুমি ফোড়ন কাটায়!
মিডিয়া নাচে চাপিয়ে মাথায়!

তাদের টি.আর.পি! সে বাড়ে!
তোমারো গানের কাটতি বাড়ে।
ভাবমূরতি --- বামের বাবা!
গানের কথায় মাতাও সভা!
কিন্তু সকল কাজই তোমার
দাঁড়িপাল্লায় বাজার ধরার।

কী কী করলে বেওসা বাড়ে!
কোন দলে ভালো সিড়িটা চড়ে!
কখন দলটি ছাড়লে ভালো!
মিডিয়ার ঘরে কেচ্ছা ঢালো!
“দল ছেড়ো না কণ্ঠ ছাড়ো জোরে”,
যদি পাওয়া যায় আরও কিছু,
.            তেমন কাজটি করে!

দুষ্ট কবির স্বভাব দুষ্ট!
একথা লিখতে তার
.              মনে বড় কষ্ট।
এসব পড়ে হোক গে রুষ্ট
গুরু ও তার চেলারা, পুষ্ট!
সুমন, তুমিই ধর্মে থাকো!
আবার তুমিই জিরাফে হাঁকো!
তোমার ভিতর আগুন ছিলো
তা আখের গুছায়, দেয় না আলো।
.              কলকাতা ৭.১১.২০১২
.
.
দেয়ালিকা ২

দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right !