রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
বন্দনা পালা
|| দিগ্-বন্দনা ||
সবা অগ্রে বন্দিব ঠাকুর নিরঞ্জন |
ধবল খাট বন্দিব ধবল সিংহাসন ||
চারি পন্ডিত বন্দো চারি দুয়ার উপর |
ধর্ম্ম-অধিকারী বন্দো পিতা গর্ভেশ্বর ||
ষোল-সংখ্য বন্দো রাউলের বত্রিশ আমিনী |
জাজপুরের দেহারা বন্দো দিয়া জয়ধ্বনি ||
কৃষ্ণনগরে বন্দো কৃষ্ণরায় যিনি |
নিরবধি শ্রীঅঙ্গেতে পড়ে ঘর্ম্মপানি ||
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম বাম করে বেনু |
নবদলশ্যাম অঙ্গ স্বর্ণকান্তি তনু ||
কাশীপুরে বন্দিব ঠাকুর বিশ্বেশ্বর |
অন্নপূর্ণা মাতা তার বামে শোভা করে ||
এমনি প্রভুর মায়া জনে সর্ব্বলোকে |
কাশীতে মরিলে লোক যায় শিবলোকে ||
গয়াতে বন্দিব আমি দেব গদাধরে |
যাহার প্রাসাদে জীব যায় স্বর্গপুরে ||
শ্রীমুখেতে আজ্ঞা দিল দেব শ্রীনিবাস |
পিন্ড দিলে পিতৃলোকের হয় স্বর্গবাস ||
যেই দিন পিতৃলোক উদ্ধার না হবে |
সেই দিন অসুর গিয়ে মহাযুদ্ধ দিবে ||
ধন্য ধন্য গয়াসুর বর মেগে নিল |
যার বরে সর্ব্বলোক উদ্ধার হইল ||
তবে বন্দো উড়িষ্যের ঠাকুর জগন্নাথ |
অপরূপ বাজারে বিকায় পিঠা ভাত ||
জগন্নাথের মহিমা কহনে নাই যায় |
শূদ্রেতে আনিল অন্ন ব্রাহ্মণেতে খায় ||
মনুষ্যের দায় থাক সদাশিব যিনি |
প্রভুর উচ্ছিষ্ট খেয়ে নাচেন আপুনি ||
প্রসাদ খাইয়া সবে শিরে পোঁচে হাত |
এমন কোথা শুনেছ বাজারে বিকায় ভাত ||
ভাই বলরাম বন্দো সুভদ্রা ভগিনী |
সন্মুখে জাগিয়া রহে দিবস রজনী ||
কাঁজিপোড়া খাইতে বদনে লাগে ঝাল |
ঘুষিব প্রভুর গুণ জীব যতকাল ||
ধন্য প্রভু জগন্নাথ নীলাচলের মাঝে |
পঞ্চ-সংখ্য বাদ্য যার রাত্রি দিন বাজে ||
দেবের প্রধান স্থান জগন্নাথের পুরী |
দক্ষিণ দুয়ারী ঘর পিদিপ সারি সারি ||
উড়ষ্যায় জগন্নাথ পরতেক বড় |
শতেক হাত ধ্বজা উপরে হয় ঠাড় ||
জগন্নাথের কাছে আছে নিধি মহাধন |
সমুদ্রের কুলে বন্দো পবননন্দন ||
পুরী নীলাচল বন্দো মন করি দড় |
পৃথিবীর লোক সব সিঙ-দরজায় জড় ||
সাগরসঙ্গম বন্দো তীর্থ বারাণসী |
স্বর্গের কপিলা বন্দো আদ্যের তুলসী ||
রাম সীতা লক্ষ্মণ বন্দিব অযোধ্যায় |
যার গুণে বনের পশু রাম-গুণ গায় ||
দক্ষিণে লক্ষ্মণ ধন্য সীতালক্ষ্মী বামে |
পুঞ্জ পুঞ্জ পাপ খন্ডে তারকব্রহ্ম নামে ||
রামনাম বলে যেই করে উচ্চারণ |
অবহেলে হয় তার গোলকে গমন ||
রামনামে কত সুধা জানে কোন জনা |
পদেতে পাষাণ মুক্ত কাষ্ঠের তরী সোনা ||
ইন্দ্রজিৎ বন্দো আর পাতালে বাসুকি |
জলাসনে যোদ্ধাপতি লক্ষ্মী সরস্বতী ||
অপদ্মলোচন বন্দো প্রভাতের ভানু |
বাস বৃন্দাবন বন্দো আর রাধা কানু ||
নবদ্বীপ চাঁদ বন্দো শচীর নন্দন |
যার গুণে মোহ গেল এ তিন ভুবন ||
গোরাচান্দের মহিমা কহিব কার সনে |
গোরাচান্দের কহি কথা শুন একমনে |
বৈষ্ণব হয় যদি জাতি অবসান |
অবধৌত সন্ন্যাসী নহে তাহার সমান ||
বৈষ্ণব হয় যদি জাতিয়ে যবন |
যুগে যুগে হই তার দাসীর নন্দন ||
বৈষ্ণব দেখিয়া যেবা করে উপহাস |
গোলকে রাখিয়া তার নরতে নিবাস ||
বৈষ্ণবের কুড়ে ঘর কৃষ্ণের আলয়  |
বৈষ্ণবের শাক-অন্ন শুধু সুধাময় ||
চন্দ্র সূর্য্য বন্দিলাম আর তারাগণ |
ডাকিনী যোগিনীর পায়ে লিলাম শরণ ||
ত্রিভূবনে সার বন্দিব ভগবতী |
জন্ম জন্ম তুয়া পায় রহুক প্রণতি ||
সাগরের জল যদি কলসে প্রমাণি |
তোমার মহিমা মাতা কি বলিতে জানি ||
কোথা আছ মহামায়া ই মেড় মশানে |
এক দন্ড উর গো সেবক-স্মঙরণে ||
বিক্রমপুর বন্দিব তোমার আদ্যস্থান |
মৌলায় বন্দিব মাতা তোমার বিশ্রাম ||
জয় জয় দিয়া বন্দো জয় বিষহরি |
পাতাল ভুবনে বন্দো পাতাল-কুমারী ||
কিয়াপাতে বন্দি গাইব কেতুকাসুন্দরী |
উন কোটি নাগের মাতা জয় বিষহরি ||
তোমার মহিমা মাতা কি বলিতে জানি |
বাপের কোলেতে যেন পুত্রের চালনি ||
বন্দনা বন্দিতে ভাই মন কর স্থির |
পেড়োয় বন্দিয়া গাইব সুভি খাঁ পীর ||
ধবল খাট ধবল পাট ধবল সিংহাসন |
আগু ধর্ম্ম বন্দিব ঠাকুর নিরাঞ্জন ||
মূল তরু কদলী সমুখে এড়ে বালি |
মান্দারণ গড়ে বন্দিব পীরিসমালি ||
পীরিসমালি সঙরিয়া পথে চলে যায় |
মৈষে নাহি মারে তারে বাঘে নাহি খায় ||
চন্দ্রকোণা চাপিয়া বন্দিব মন্ত্রেশ্বর |
বৃষভবাহনে বন্দো ভাই ভোলা মহেশ্বর ||
বন্দনা বন্দিতে ভাই না করিহ হেলা |
বালিডাঙ্গায় বন্দিলাম সর্ব্বমঙ্গলা ||
কোতলপুরে বন্দি গাইব বিশাললোচনী |
আমি মূর্খ অভাজন কি বলিতে জানি ||
বঞিতালের ঝকড়াই বন্দো জোড়হাথ |
শিওড়ের দেবতা বন্দিব শান্তিনাথ ||
খগেন্দ্রবাহনে বন্দো দেব নারায়ণ |
চতুর্মুখ ব্রহ্মা বন্দো মরালবাহন ||
বিষ্ণুর নিকটে বন্দো লক্ষ্মী সরস্বতী |
মকরবাহনে বন্দো গঙ্গা ভাগীরথী ||
সিংহপৃষ্ঠে দুর্গা বন্দো মহিষমর্দ্দিনী |
বিঘ্নরাজ বন্দো মাথা লুটায়ে ধরণী ||
হরিণের পৃষ্ঠে উনপঞ্চাশ পবন |
মহিষের পৃষ্ঠে বন্দিয়া গাইব যম ||
ঐরাবত বাহনে বন্দিব পুরন্দর |
বৃষভবাহনে বন্দো ভোলা মহেশ্বর ||
দেব গুরু দ্বিজ বন্দো হয়ে সাবধান |
ছত্রিশ আখর বন্দো বত্রিশ পুরাণ ||
বর্দ্ধমানে বন্দো দেবী সর্ব্বমঙ্গলা |
অধিষ্ঠান হন দেবী ঠিক দুপুর বেলা ||
মাথায় মল্লিকা চাঁপা সাজানা প্রচুর |
আদ্যের দেহারা মায়ের বন্দো বিক্রমপুর ||
রাজবলহাটে বন্দো শ্রীরাজবল্লভী |
গায়ের বরণ যেন বৈকালের রবি ||
তাহার মহিমা মাতা কি বলিতে পারি |
অম্বুআর ঘাটে বন্দো কালিকা ঈশ্বরী ||
কালীঘাটের কালী বন্দো বেতাতে বেতাই |
একমন হয়ে বন্দো আমতার মেলাই ||
শ্মশানে বন্দিলাম শ্যামা করালবদনী |
সেহাখেলায় বন্দিলাম উত্তরবাহিনী ||
ময়নাপুরে ষষ্ঠীবুড়ীর বন্দিব চরণ |
একে একে বন্দিব যতেক দেবগণ ||
বন্দনা বন্দিতে ভাই না করিহ হেলা |
জুঝাটির ধর্ম্ম বন্দো খাজুরের তলা ||
চারি পিঁড়া বন্দো ধর্ম্ম দেখিতে সুন্দর |
সমুখেতে শোভা করে দিব্য সরোবর ||
আমতার মেলাই বন্দো বিশাললোচনী |
খেপতের খেপাই বন্দো জুড়ি দুই পাণি ||
মাতা পিতা বন্দো [ ভাই ] গুরুর চরণ |
শ্রী ধর্ম্মচরণ বন্দো হয়ে একমন ||
শিক্ষাগুরু বন্দো ভাই কুলের প্রধান |
তাহার চরণ বন্দো করিয়া প্রণাম ||
শিক্ষাগুরু দীক্ষাগুরু চরণ বন্দিয়া |
আমি মূর্খ গীত গাই ধর্ম্ম ধিয়াইয়া ||
জ্ঞান অঙ্ক বিষ জল খাত্তাল আমারে |
সভা মধ্যে বন্দো এই আসর ভিতরে ||
কুলেমালার ধর্ম্ম বন্দো হয়ে সাবধান |
ভাটের বাড়িতে যার সদত বিশ্রাম ||
কাইতি চাপিয়া বন্দো বাণ রাজার পাট |
ঊষা বালিপোতা বন্দো শ্বেতগঙ্গার ঘাট ||
ক্ষীরগ্রামে যোগদ্যা বন্দো মস্তকের পাগে |
সেহাখালার রঙ্কিণী বন্দিয়া গাইব আগে ||
ধারুয়ার দেবী বন্দো লোটায়ে অচলা |
জয়ন্তীপুরেতে বন্দো সর্ব্বমঙ্গলা ||
ষষ্ঠী বুড়ি বন্দিব নিবাস তালপুর |
যার সেবা করেছিল জয়ন্তী অসুর ||
বন্দিব বড়খাঁ গাজী রিসিবাটী গাঁ ||
নিজ বাটি বন্দিব পেঁড়োর শুভি খাঁ |
ত্রিপর্ণীর ঘাটে বন্দো দফর খাঁ গাজী |
তাহার মোকামে বন্দো ষোল শয় কাজী ||
জারগ্রামের কালুরায় বন্দো সাবধান |
গবপুরে বন্দো বাপা স্বরূপনারায়ণ ||
কাঁকড়াবিছে ধর্ম্মরাজ বন্দো সাবধানে |
কার্য্যসিদ্ধি করে যার যেবা থাকে মনে ||
লাউগ্রামে দন্ডেশ্বরী বন্দিনু মাথায় |
মল্লবংশ রাজা হইল যাহার কৃপায় ||
রামনাম সঙরণে উদ্ধার হয় জীব |
জোড়হাথে বন্দ্যা গাইব তাড়েশ্বরের শিব ||
তাহার মহিমা কিছু কহনে না যায় |
রাখালের ছিয়া গাড়ি যাহার মাথায় ||
কোটশিমুলের বন্দি গাইব ঘোড়া সইদ পীর |
যার নাম সঙরনে রণে হয় বীর ||
গোতানের বটেশ্বরীর বন্দিনু চরণ |
অগ্নিমুখা হর বন্দো বাসি পলাশন ||
শ্রীরামপুরে জয়দুর্গা মহিষমর্দ্দিনী |
নেওড়ে নালু বন্দো লোটায়ে ধরণী ||
গ্রামের দেবতা বন্দো মস্তক উপর |
বন্দিব কনকপতি বাজিতপুরে ঘর ||
বনমধ্যে বেতায় বন্দো সর্ব্বমঙ্গলা |
মহিষাসুর মারিয়া গলায় মুন্ডমালা ||
মৌলার রঙ্কিণী বন্দো শুদ্ধ হয়্যা মন |
বালিডাঙ্গার বটেশ্বরীর বন্দিনু চরণ ||
সেনপুরে বন্দিব ঠাকুর বাঁকুড়ারায় |
যাহার সেবনে দুঃখ দারিদ্র পলায় ||
বিন্ধকেতে বন্দি গাইব অভিরাম গোঁসাই |
রাধা কানু সহিত তিলেক ভেদ নাই ||
গোরুটিতে বন্দো রামগোপালের পাট |
তিন সন্ধ্যা কিশোরী তাহাতে করে নাট ||
কমলা ভারতী বন্দো বিজয়া নগরে  |
বরদা বাসলী বন্দো মস্তক উপরে ||
সোনাটিকিরির মধ্যে জয় বিষহরি |
বাসলীর চরণ বন্দো জোড়হাথ করি ||
জোড়ুতে বন্দো ভগবতী ঠাকুরাণী |
ছাগল মুড়ির তরে বয় খুনাখুনি ||
আহিলার রঙ্কিণী বন্দিলাঙ সাবধান |
যার কাছে বিধাতা আপুনি করে গান ||
প্রণাম করিয়া বন্দো পুড়সের ঘাঁটু |
জামা জোড়া পরিধান আরোহণ টাটু ||
পীলখাঞে বন্দি গাইব স্বরূপনারায়ণ |
দেশে দেশে হইতে আইসে যাহার মানন ||
ধাতানাই বন্দিব সারদা ঠাকুরাণী |
যার কাছে তপস্যা করেন সপ্তমুনি ||
মুনিপুরে ধবলী সিঙ্গুরে জয়া |
দন্তীপুরে বন্দি গাইব যার বড় দয়া ||
কামালপুরে বন্দিয়া গাইব চন্দ্রামুখী |
জলের ভিতরে দেবী জলে ধিকি ধিকি ||
শালেপুরে যাত্রাসিদ্ধি বন্দিব সাদরে |
ছাত্তাল কানাই বন্দো ব্রাহ্মণের ঘরে ||
অসুরগড় সিদ্ধিস্থান যত আছে তায় |
ধরণী লোটায়ে বন্দো শতকের পায় ||
কামারহাটীর পঞ্চানন্দ বন্দো জোড়হাতে |
ছেলের তরে কত মেয়ে ওষুধ যায় খেতে ||
পীর পাখাম্বর বন্দো আছে যতগুলি |
মান্দারণ গড়েতে বন্দিব পীরিসমালি ||
পীরিসমালি সঙরিয়া যে পথে চলে যায় |
দস্যুতে না মারে তারে বাঘে নাহি খায় ||
বন্দিব দরিয়ার পীর নাম কালুরায় |
এক শত প্রণাম প্রভুর দুই পায় ||
ধরণী তরণি বন্দো অষ্ট কুলাচল |
প্রয়াগ-মাধব বন্দো সাগরের জল ||
মথুরা গোকুল বন্দো গোর্বদ্ধন গিরি |
বৃন্দাবনে কানু বন্দো রাধিকাসুন্দরী ||
ফল মধ্যে গোত্তা বন্দো পত্র মধ্যে পান |
স্ত্রী মধ্যে রাধিকা বন্দো পুরুষ মধ্যে কান ||
ব্যাস আদি বন্দিব বৈষ্ণব মহাগুরু |
শুকদেব বন্দিব নারদ কল্পতরু ||
তমুলুকে বন্দিয়া গাইব বর্গভীমা |
মাঘ মাসে মকরে আনন্দে নাই সীমা ||
সাক্ষাৎ দেবতা বন্দো কপালে লোচন |
কপালে মাণিক যেন জ্বলে হুতাশন ||
কালীঘাটে বন্দো মাতা কালিকা-চরণ |
ঝলমল করে অঙ্গে অষ্ট অভরণ ||
বিষ্ণুপুরের বাঁকুড়ারায় বন্দো করপুটে |
সর্ব্বকাল এ দাসেরে রাখিবে নিকটে ||
উর ধর্ম্ম আসরে আসিয়া শোন গীত |
আপনার নিজগুণে করিবে মোহিত ||
ছন্দোবদ্ধ তাল মান কিছুই না জানি |
আমি উপলক্ষ্য গীত গাইবে আপনি ||
আপনি সঞ্জাবে সভা গীত আর নাটে |
বার দিয়া আপনি বসিবে ধবল খাটে ||
ধুনার সৌরভে ধর্ম্ম আপনি ধ[বল ]  |
ধর্ম্ম নিন্দা করিলে বসিতে নাহি স্থল ||
নিয়ম করিয়া যে ধর্ম্মের ঘর যায় |
যে থাকে বাসনা মনে সেই ফল পায় ||
দুমন করিলে এতে নাহিক নিস্তার |
সর্ব্বাঙ্গে ধবল হয়ে রক্ষা নাই আর ||
এক মনে বন্দো ভাই ধর্ম্মের চরণ |
ডাকিনী যোগিনীর পায় লইলাঙ শরণ ||
ডাইন যোগিনী বা আর মুখদুষি |
আমার আসরে সবে গান শোন বসি ||
বন্দনা বন্দিতে ভাই হবে অনেকক্ষণ |
স্বল্পাক্ষরে সর্ব্বদেবের কৈলাঙ আবাহন ||
বন্দনা বন্দিতে ভাই যে দেব এড়ায় |
এক শত প্রণাম আমার সেই জনের পায় ||
আদি শিক্ষাগুরু বন্দো দ্বিজ রূপরাম |
পলাসনে সখা যার দেব ভগবান ||
ডাকিনী যোগিনী বন্দো নিরঞ্জনের পা |
মিনি অপরাধে যে গাএনে করে ঘা ||
তুমি মোর ভগিনী আমি তোর ভাই |
তাঁদের চরণ বন্দি আমি গীত গাই ||
ডাকিনী যোগিনীর পদে লইলাম শরণ |
আদ্যগুরু মাতা বন্দো পিতার চরণ ||
শিক্ষাগুরু বন্দো ভাই দীক্ষাগুরু পা |
জোড় হাথে আসরে বন্দিনু বাপ মা ||
আমা পুত্র উদরে ধরিয়া পাইল দুখ |
যাহার প্রসাদে দেখি সয়ালের মুখ ||
বন্দনা বন্দিতে আমার গীত বয়্যা যায় |
কোটি কোটি দন্ডবৎ সর্ব্বদেবীর পায় ||
ধর্ম্মের মায়া কহনে নাই যায় |
হরি হরি বল সভে পালা হৈল সায় ||

.           ******************     
.                                                
পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   আত্মকাহিনী    
৩   স্থাপনা পালা    
৪    আদ্য ঢেকুড় পালা    
৫    রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   লুইচন্দ্র পালা     
৭   শালেভর পালা    
৮   লাউসেনের জন্মপালা      
৯   লাউসেন চুরিপালা    
১০ আখড়া পালা     
১১ ফলানির্মাণ পালা     
১২ মল্লবধ পালা      
১৩ বাঘজন্মপালা     
১৪ বাঘবধ পালা      
১৫ জামতি পালা      
১৬ গোলাহাটপালা      
১৭ হস্তিবধপালা      
১৮ কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯ কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০ লৌহগন্ডারপালা       
২১কানড়াবিভাপালা      
২২অনুমৃতাপালা     
২৩ ইছাইবধপালা     
২৪ অঘোরবাদলপালা     
২৫ জাগরণপালা     
২৬ স্বর্গারোহণপালা