গিরীন চক্রবর্তীর মাত্র একটি গানের কথা আমরা আমাদের সংগ্রহের কাব্য  বা  গীত  সংকলনগুলির  মধ্যে
পেয়েছি। সব  গানই  আমাদের  শুনে  শুনে  লিখতে  হয়েছে। আমরা সেখানে কোনও বিরাম চিহ্ন দেই নি।
এছাড়া ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তা দেখলে আমাদের জানাবেন। আমরা  লেখকের  প্রতি,  সেই  পাতায়
কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, তা শুধরে দেবো।

আমরা  কৃতজ্ঞ
গণসঙ্গীতকার ও কবি রাজেশ দত্তর  কাছে   যিনি   তাঁর  লেখা  "চিরনূতনেরে দাও ডাক
‘বাইশে বৈশাখ’ : জন্মশতবর্ষের  আলোকে  শ্রদ্ধায়,  স্মরণে   বিশ  শতকের  বাংলা  গানের  গুরু গিরীন
চক্রবর্তী" আলেখ্য   এবং কবির এই ছবিটি এখানে তুলে দেবার অনুমতি দিয়েছেন। এই  আলেখ্যটি  
ফেসবুকে ২০ এপ্রিল ২০১৯  তারিখে প্রকাশিত হয়। সেই পাতায় যেতে  
এখানে ক্লিক করুন . . .। এছাড়া
বেশিরভাগ গানই তিনিই আমাদের শুনে শুনে লিখে পাঠিয়েছেন। মিলনসাগরে
গণসঙ্গীতকার ও কবি রাজেশ
দত্তর  কবিতা ও গানের পাতায় যেতে এথানে ক্লিক করুন . . .

আমরা  
মিলনসাগরে  কবি গীতিকার গিরীন চক্রবর্তীর  কবিতা  তুলে  আগামী  প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা কবি গিরীন চক্রবর্তীর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



উত্স -   
  • কবি রাজেশ দত্ত, “চিরনূতনেরে দাও ডাক ‘বাইশে বৈশাখ’: জন্মশতবর্ষের আলোকে শ্রদ্ধায়, স্মরণে
    বিশ শতকের বাংলা গানের গুরু গিরীন চক্রবর্তী”, ফেসবুক
  • অনুভব বেরা, “জন্মশতবর্ষেও বিস্মৃত রইলেন নজরুল স্নেহধন্য 'আল্লা ম্যাঘ দে পানি দে'-র সুরস্রষ্টা
    গিরীন চক্রবর্তী”।
  • ডঃ তপনকুমার রায়, রমেশচন্দ্র সেন : জীবন ও সাহিত্য নামক গবেষণা পত্র, শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট
  • সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান ১ম খণ্ড, ২০১০।
  • আর্কাইভ.অর্গ থেকে “বঙ্গশ্রী” পত্রিকা বিভিন্ন সংখ্যা, বিভিন্ন গ্রন্থ এবং গিরীন চক্রবর্তীর লেখা একটি
    গান পাওয়া গিয়েছে
  • কবি রাজেশ দত্তর ব্যক্তিগত সংগ্রহের ৮টি গান গুগল ড্রাইভ থেকে।   
  • গানা.কম থেকে গিরীন চক্রবর্তীর লেখা ৭টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • ইউটিউবের pikeyenL7 চ্যানেল থেকে গিরীন চক্রবর্তীর লেখা ৬টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • ইউটিউবের pujan kumar daripa চ্যানেল থেকে গিরীন চক্রবর্তীর লেখা টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • ইউটিউবের sounak93 চ্যানেল থেকে গিরীন চক্রবর্তীর “গান্ধীজীর অমর কাহিনী” পাওয়া গিয়েছে
  • ইউটিউবের Siraj ShNai চ্যানেল থেকে গিরীন চক্রবর্তীর ১টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • জনাব লিয়াকত হোসেন খোকন  এর ফেসবুক পাতা থেকে গিরীন চক্রবর্তীর লেখা,  “রক্তের টান”
    “মাকড়সার জাল” নামক ছায়াছবি দুটির টি গানের কথা পাওয়া গিয়েছে।
  • ইউটিউবের SRIKanailal চ্যানেল থেকে গিরীন চক্রবর্তীর ১টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • ইউটিউবের mh music archive Indian Legend চ্যানেলের গিরীন চক্রবর্তীর ১টি গান পাওয়া গিয়েছে।
  • বিকন্যা চন্দা চট্টোপাধ্যায় শিল্পী সত্য চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র পরমানন্দ চৌধুরী এবং ন্যান্যর
    সম্মিলিত উদ্যোগে প্রকাশিত হলো "সারেগামা ক্যারাভান ক্লাসিক রেডিও শো" তে গিরীন
    চক্রবর্তীর গানের সংকলন ও স্মৃতিচারণঅনুষ্ঠানটির দেখতে . . .  https://youtu.be/24nWA3Zhjh8



কবি গিরীন চক্রবর্তীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৪.৭.২০২০                                                            ^^ উপরে ফেরত   
...
*
কবি গিরীন চক্রবর্তী   -    তিনি ‘সুজন মাঝি’,
‘রতন মাঝি’,  ‘দ্বিজ মহেন্দ্র’,   ‘সোনা মিঞা’  প্রভৃতি
ছদ্মনামেও রচনা করেছেন বা গান গেয়েছেন। তিনি
জন্মগ্রহণ করেন  অবিভক্ত  বাংলার কুমিল্লা জেলার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া  গ্রামে।  কবির  বাবার  নাম গৌরাঙ্গসুন্দর চক্রবর্তী এবং মায়ের নাম ব্রজসুন্দরী দেবী। তাঁর
কন্যা চন্দা চট্টোপাধ্যায়।

তাঁর সংগীত গুরু ছিলেন উস্তাদ আলাউদ্দিল খান ও উস্তাদ আফতাবউদ্দিন।

কবিকন্যা চন্দা চট্টোপাধ্যায় ও শিল্পী সত্য চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র পরমানন্দ চৌধুরী এবং অন্যান্যর সম্মিলিত
উদ্যোগে প্রকাশিত হলো "
সারেগামা ক্যারাভান ক্লাসিক রেডিও শো" তে গিরীন চক্রবর্তীর গানের
সংকলন ও স্মৃতিচারণ। অনুষ্ঠানটির দেখতে . . .
 https://youtu.be/24nWA3Zhjh8
কবি গিরীন চক্রবর্তী ও আকাশবাণী -                                                পাতার উপরে . . .    
ঢাকা বেতার কেন্দ্রে কাজ করার সময়
কাজী নজরুলের  সান্নিধ্যে  আসেন।  নজরুলের মতো সুরকার, তাঁর
গানে গিরীন চক্রবর্তীকে দিয়ে সুর করাতেন। কমপক্ষে
নজরুলের ৩০টি গানে তিনি সুর দিয়েছেন।

তাঁরই উদ্যোগে কলকাতার আকাশবাণীতে পল্লীগীতির অনুষ্ঠান শুরু হয়। আকাশবাণীর  ‘পল্লীগীতি’র ভাগটি
তাঁরই  উদ্যোগে  খোলা হয়, পরে  নামকরণ  হয় ‘লোকগীতি’।  কবি  আকাশবাণীর  কলকাতা কেন্দ্র থেকে  
পল্লীগীতি, নজরুলগীতি, আধুনিক গান, শ্যামাসংগীত, ভজন, গীত ও গজল নিয়মিতভাবে পরিবেশন করেছেন।
*
স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলিতে -                                                      পাতার উপরে . . .    
দেশ তখন স্বাধীনতা সংগ্রামে উত্তাল,
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনকে কারাগারে রাখা হল। নজরুল লিখলেন "কারার ঐ
লৌহকপাট,  ভোঙে ফেল কর রে লোপাট"  গানটি।  সেই  গানে  কণ্ঠ  দিয়েছিলেন  গিরীন চক্রবর্তী।  গিরীন
চক্রবর্তীর কণ্ঠে
কাজী নজরুলের এই যুগান্তকারী গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .
*
গিরীন চক্রবর্তীর কর্মজীবন অধ্যাপনা ও সিনেমা -                                 পাতার উপরে . . .    
আকাশবাণী ও গান রেকডিং এর জগত ছাড়াও, ‘বেঙ্গল মিউজিক কলেজ’, ‘বাসন্তী বিদ্যাবীথি’ ও ‘কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়’-তেও তিনি অধ্যাপনা করেছেন। সেই সূত্রে তিনি ছিলেন প্রশ্নকর্তা ও সিলেবাস কমিটির সদস্য।
১৯৫২ সালে মাত্র ছত্রিশ বছর বয়স  থেকেই তিনি  দিল্লিতে  ‘জাতীয় সংগীত সম্মেলনে’  নিয়মিত আমন্ত্রিত
হতেন। ‘সংগীত নাটক আকাদেমি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন   থেকেই  তিনি  আজীবন আকাদেমির সদস্য ছিলেন। তাঁর
সংগীতমুখর জীবনের কাজের পরিধি ছিল বহুবিস্তৃত।  তিনি যুক্ত ছিলেন ঢাকা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। পরে
যুক্ত হন  কলকাতার  আকাশবাণীর  সঙ্গে।  ১৯৬৫  সালের ২২ ডিসেম্বর,  কলকাতায় মাত্র ঊনপঞ্চাশ বছর
বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়।

কবি ‘রক্তের টানে’, ‘বন্দী’ ইত্যাদি ছবিতে  সংগীত  পরিচালনা  করেন।  চলচ্চিত্রে  সংগীত নির্দেশনা ছাড়া
অভিনয়ও করেছিলেন তিনি।  ‘বৈকুণ্ঠের উইল’,  ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’,  ‘স্বামী’,  ‘ঠিকাদার’ প্রভৃতি ছায়াছবিতে
তিনি অভিনয় করেছিলেন।
*
গিরীন চক্রবর্তী নামে কি একাধিক ব্যক্তি ছিলেন? -                               পাতার উপরে . . .    
সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, “বঙ্গশ্রী” পত্রিকার মাঘ ১৩৪৩ (ফেব্রুয়ারী ১৯৩৭) ও বৈশাখ ১৩৪৪ (এপ্রিল ১৯৩৭)
সংখ্যায় প্রকাশিত গিরীন চক্রবর্তী নামের এক কবির “মাটি” ও “ফুলের ফসল” নামের দুটি কবিতা প্রকাশিত
পেয়েছি। দুটি কবিতাতেই চাষী বা  কৃষকের  কথা বলা হয়েছে। এই দুটি কবিতা পড়ে
কবি রাজেশ দত্তর
মনে  হয়েছে  যে  কবিতার  ভাষা  ও  ভাব  গানের  গুরু  গিরীন চক্রবর্তীর লেখা হতেই পারে। আমাদের
বিবেচনাতেও সেরকমই মনে হয়।

গিরীন চক্রবর্তীকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা আর একজন গিরীন চক্রবর্তীর সন্ধান পেয়েছি যিনি
কবি
রমেশচন্দ্র সেনের
১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, শ্রীঅরবিন্দকে উত্সর্গ করা উপন্যাস “শতাব্দী”-র প্রকাশক ছিলেন।
বইটির প্রকাশনা  সংস্থা  পূরবী  পাবলিশার্সের  ঠিকানা  ছিল ৩৭/৭ বেনেটোলা লেন, কলকাতা। এই গ্রন্থটি
প্রকাশিত হয়
রমেশচন্দ্র সেন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত “সাহিত্য সেবক সমিতি”-র তত্কালীন সম্পাদক ডাঃ ভবেশচন্দ্র
সেনের উদ্যোগে। এছাড়া পেয়েছি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্রের
Maxim Gorky-র
আত্মচরিত
In the World গ্রন্থের অনুবাদ “পৃথিবীর পথে”। এই বইটিরও প্রকাশক ছিলেন গিরীন চক্রবর্তী,
পূরবী পাবলিশার্স, ১৩ শিবনারায়ণ  দাস  লেন,  কলিকাতা-৬।  এই  খগেন্দ্রনাথ মিত্র,  বৈষ্ণব  পদাবলীর  
দিশারী,   অধ্যাপক
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র কি না সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তিনি
শিশুসাহিত্যিক, "ভোম্বল সর্দার" খ্যাত খগেন্দ্রনাথ মিত্রও হতে পারেন।

১৯৪৩-৪৬ সালের  মধ্যে  কলকাতার পূরবী পাবলিশার্স থেকেই
Mikhaile Ilin এর How Man became a Giant
এর অনুবাদ “মানুষ কি করে বড় হল”,
“Fedor Ivanovich Panferov” এর  “And Then The Harvest” এর অনুবাদ
“সফল স্বপ্ন”, “সোনার দেশ সোভিয়েট”, “আমার  ভারত  গড়ল  যারা”,  ২খণ্ডে “ইতিহাসের গল্প” ,  গ্রন্থগুলিও  
প্রকাশিত হয়েছিল যার অনুবাদক ও রচয়িতার নাম গিরীন চক্রবর্তী। এর মধ্যে শেষ দুটি বইটি ছাড়া আর
সবই কমিউনিস্ট আদর্শে বা ভাবধারার লেখা।

পূরবী প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত এই গিরীন চক্রবর্তী, ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন, না কি ইনি গীতিকার গীরিন চক্রবর্তীই
ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি নি। এ বিষয়ে কেউ সঠিক তথ্য জানালে
পাঠকসহ আমরা এবং সারা বাঙালী জাতি উপকৃত হবে।
*
গিরীন চক্রবর্তী কি শুধুই গীতিকার, কবি নন? -                                     পাতার উপরে . . .    
খুব বিচিত্র এই বাঙালী জাতি! এমন লেখাপড়া জানা বাঙালী হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যাঁর জীবনের কোনো
না কোনো সময়ে  দু এক  লাইন  কবিতা  লেখেন নি!  বাংলা ভাষায়  যে পরিমান কবিতার আন্দোলন ঘটে
গেছে, যে পরিমান কাব্যচর্চা চলেছে, তেমনটি বোধহয় ভারবর্ষের আর কোনো ভাষায় দেখা যাবে না। অথচ
আধুনিক যুগে  লক্ষ্য  করি  যে, গীতিকারদের  কবি  হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাঙালী ভীষণ কুণ্ঠা বোধ করেন!
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বড় আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন ... "আমি কি কবি নই?"

ব্যাপারটা  যেন  এমন  যে,  কবিতায়  সুর দিলেই সেই কবি আর কবি থাকেন না!
রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল,
রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ, দিলীপ রায়, নজরুল, প্রেমেন্দ্র মিত্র-রা কপাল গুণে এই আধুনিক(?) যুগের এই বিচিত্র
ভেদাভেদের মানসিকতা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর  মাঝামাঝি  থেকে  বাংলা গানের জগতকে যাঁরা মাতিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে গিরীন
চক্রবর্তী অন্যতম।  কথা  ছাড়া  তো  গান হয় না। তাই তাঁর মত কবি কে যদি আমাদের কবিদের সভায়
আসন  দিয়ে ধন্য না হতে পারি, তাহলে এই সভাই পরিপূর্ণতা লাভ করবে না।
== একটি বিনীত আবেদন ==
কবির ছাত্রছাত্রী, বন্ধু-স্বজন, তাঁদের উত্তরসূরী, গবেষক ও পুরোনো রেকর্ড
সংগ্রাহকদের কাছে কবির রচিত আরো গান ছড়িয়ে থাকতে পারে।  
সকলকে একান্ত অনুরোধ একত্রে তা সংকলন করুন। আমাদের
অনুমান কবির শতাধিক গান পাওয়া যাবে। আমাদেরও পাঠাতে পারেন।