প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি নিতান্ত গরিব ছিলাম, খুবই গরিব।
আমার ক্ষুধার অন্ন ছিলো না,
আমার লজ্জা নিবারণের কাপড় ছিল না,
আমার মাথার উপরে আচ্ছাদন ছিল না।
অসীম দয়ার শরীর আপনার
আপনি এসে আমাকে বললেন,
“না, গরিব কথাটা খুব খারাপ,
ওতে মানুষের মর্যাদাহানি হয়,
তুমি আসলে দরিদ্র।”
অপরিসীম দারিদ্রের মধ্যে আমার কষ্টের দিন,
আমার কষ্টের দিন, দিনের পর দিন আর শেষ হয় না,
আমি আরো জীর্ণ আরো ক্লিষ্ট হয়ে গেলাম,
হঠাৎ আপনি আবার এলেন, এসে বললেন,
“দ্যাখো, বিবেচনা করে দেখলাম
দরিদ্র শব্দটাও ভালো নয় ; তুমি হলে নিঃস্ব।”
দীর্ঘ নিঃস্বতায় আমার দিন রাত্রি ;
গনগনে গরমে ধুঁকতে ধুঁকতে,
শীতের রাতের ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে
বর্ষার জলে ভিজতে ভিজতে
আমি নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে গেলাম।
আপনার কিন্ত ক্লান্তি নেই,
আপনি আবার এলেন, আপনি বললেন,
দারিদ্র্যরেখা কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত কবির “দারিদ্যরেখা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে প্রকাশিত,
দে’জ পাবলিশিং-এর “তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“তোমার নিঃস্বতার কোনো মানে হয় না।
তুমি নিঃস্ব হবে কেন,
তোমাকে চিরকাল শুধু বঞ্চনা করা হয়েছে,
তুমি বঞ্চিত, তুমি চির বঞ্চিত।”
আমার বঞ্চনার অবসান নেই,
বছরের পর বছর আধপেটা খেয়ে,
উদোম আকাশের নীচে রাস্তায় শুয়ে,
কঙ্কালসার হয়ে আমার বেঁচে থাকা।
কিন্তু আপনি আমাকে ভোলেন নি,
এবার আপনার মুষ্টিবদ্ধ হাত,
আপনি এসে উদাত্ত কণ্ঠে ডাক দিলেন,
“জাগো, জাগো সর্বহারা।”
তখন আর আমার জাগবার ক্ষমতা নেই,
ক্ষুধায় অনাহারে আমি শেষ হয়ে এসেছি,
আমার বুকের পাঁজর হাপরের মতো ওঠা-নামা করছে,
আপনার উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে
আমি তাল মেলাতে পারছি না।
ইতিমধ্যে আরো বহুদিন গিয়েছে,
আপনি এখন আরো বুদ্ধিমান,
আরো চৌকস হয়েছেন।
এবার আপনি একটি ব্ল্যাক-বোর্ড নিয়ে এসেছেন,
সেখানে চকখড়ি দিয়ে যত্ব করে
একটা ঝকঝকে লম্বা লাইন টেনে দিয়েছেন ;
এবার বড় পরিশ্রম হয়েছে আপনার,
কপালের ঘাম মুছে আমাকে বলেছেন,
“এই যে রেখা দেখছ, এর নীচে,
অনেক নীচে তুমি রয়েছো।”
চমৎকার!
আপনাকে ধন্যবাদ, বহু ধন্যবাদ!
আমার গরিবপনার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ,
আমার দারিদ্রের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ,
আমার নিঃস্বতার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ,
আমার বঞ্চনার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ,
আমার সর্বহারাত্বের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ,
'আর সবশেষে ওই ঝকঝকে লম্বা রেখাটি,
ওই উজ্জ্বল উপহারটির জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।
কিন্তু,
ক্রমশ,
আমার ক্ষুধার অন্ন এখন আরো কমে গেছে,
'আমার লজ্জা নিবারণের কাপড় এখন আরো ছিঁড়ে গেছে,
আমার মাথার উপরের আচ্ছাদন আরো সরে গেছে।
কিন্তু ধন্যবাদ,
হে প্রগাঢ় হিতৈষী, আপনাকে বহু ধন্যবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অমর্ত্য সেনের ছবি ক্যালেন্ডারে
গরিব মানুষ,
এবার তোমার হিল্লে হয়ে গেল।
গরিব মানুষ,
তোমার কি খিদে পায়, কত ক্যালরির খিদে পায়,
খিদে পেলে তোমার কি খুব কষ্ট হয়?
তোমার কি ছেলেময়ে আছে,
তারা কি ইস্কুলে যায়?
তারা কি ওষুধ পায় অসুখে-বিসুখে?
তাদের জননী সে.কি তোমার সমান ভাত খায়,
সমান ক্যালরি?
অমর্ত্য সেনের ছবি ক্যালেন্ডারে,
গরিব মানুষ,
এবার তোমার দিন এসে গেছে, ক্যালেন্ডার দ্যাখো,
তোমার ঝুপড়িতে কিংবা কুঁড়েঘরে হয়তো মানাবে না।
তবু,
অমর্ত্য সেনের ছবি ক্যালেন্ডারে,
মদ্রিসভা, সচিব ও সাংসদ
সবাই তোমায় খোঁজে, খুঁজে হয়রান।
তুমি কি রকম আছ, ভালো আছ,
গরিব মানুষ?
ভালো আছ, গরিব মানুষ? কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ -
২৫.৮.২০০৭)। ২০০১ সালে প্রকাশিত কবির “ভালো আছ, গরিব মানুষ?” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে প্রকাশিত, দে’জ পাবলিশিং-এর
“তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেই আকালের বর্ষায় আমাদের চিলেকোঠার ছাদ থেকে
শ্রাবণ মাসের বিকেলে অনাবশ্যক ঝোড়ো হাওয়ায়
কাটা ঘুড়ির মতো উড়ে গেলো তোমার যথা সর্ব,
তোমার সদ্যকেনা হালফ্যাশনের গঙ্গাযমুনা শাড়ি।
আমি দেখলাম শস্যহীন শূন্য জনির উপর দিয়ে
মণ্ডলদের তেলকলের চিমনি নিঃশব্দে অতিক্রম করে,
সাদা কালো কালো সাদা তোমার গঙ্গাযমুনা শাড়ি
কিছুটা খরা, কিছুটা মুদ্রাস্ফীতি ও মহার্ঘভাতার অভাব
আর কিছুটা আলস্য, কিছুটা আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে
ভো-কাট্টা, ভো-কাট্টা, ভো ; উড়ে যাচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে।
এই অসম্ভব এই উদ্ভট স্মৃতিচিত্র সামনে নিয়ে
অনেকদিন পরে আজ আমি কাব্য করতে এসেছি,
এই দ্যাখো রুমাল, আমার পুরনো সাদা রুমাল,
এতে একদিন ময়লা লেগেছিলো, বেদনা লেগেছিলো, রক্ত ;
আজ কিন্তু আমি আমার রুমাল ভরে নিয়ে এসেছি
চৌষট্টি সালের বর্ষণশেষের এক বিকেলের শেষ বকুল।
চৌষট্টি, দ্য ভেরি ওয়ার্ড ইস লাইক এ বেল, চৌষট্টি পয়সা,
দশমিক প্রথা যদি মেনে চলো, চৌষট্টি সালে এক শতাব্দী।
ভেবে দ্যাখো, গত শতাব্দী, জুলাই উনত্রিশ, উনিশশো চৌষট্টি।
সত্যি দিন কি ভাবে কেটে গেলো, পাতাল রেল তখনো পাতালে,
সরষের তেল উঠছে তিন টাকায়, পুলিস গুলি চালালো দমদমে।
দুর্ভিক্ষের কবিতা কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)। ২০০১ সালে প্রকাশিত কবির “ভালো আছ, গরিব মানুষ?”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে প্রকাশিত, দে’জ পাবলিশিং-এর “তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
পরদিন কাগজে কাগজে, “পুলিসের গুলিচালনা, গুলিচালনা”,
প্রফুল্ল সেন বললেন, “এ সবই কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র”,
তোমার বড়কাকা দাঁত চিবিয়ে বললেন, “একদিন দেখে নেবো।”
এরই মধ্যে চিলেকোঠার ছাদ থেকে উড়ে গেলো গঙ্গাযমুনা শাড়ি।
তোমার সেই ভাসনান গঙ্গাযমুনা শাড়ির বিনিময়ে
আজ বহুকাল পরে যৎসামান্য উপহার এনেছি আমি।
আমি ভেবেছিলাম একদিন আরো ভালো সময় আসবে।
কিন্তু দেরি হয়ে যাচ্ছে, কোনো নবযুবকের বিহ্বল অনুরাগ নয়,
আজ আমার ভালোবাসা গ্রহণ করো তুমি, রেখে যাই
আমার ভালোবাসা, দুর্ভিক্ষের সংসারে রুমালে জড়ানো বকুল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভারতবর্ষের মানচিত্র সম্পর্কে আমার
ধারণা টারণা খুব স্পষ্ট নয়।
সমুদ্র মেদিনীপুর থেকে কতদূর
বন্যায় বাখরগঞ্জ ডুবে গেলে পরদিন গৌহাটিও ডোবে,
কেন ডোবে,
হলুদ, বেগুনি পুবে পশ্চিমে সবুজে
সমস্ত রঙের অর্থ, লক্ষ বিন্দু অজত্র রেখায়
আমার ধারণা খুব পরিষ্কার নয়।
নাম জানি, পর্বতের ঠিকানা জানি না,
কোথাও নদীর উৎস আছে,
কোথাও তীর্থের চূড়া, কোথাও হ্রদের সীমা আছে।
কোনোখানে কালোমাটি তুলোর পাহাড় মেলে ধরে,
বর্ষায় দিগন্ত ভাসে, শস্য পোড়ে বৃষ্টির অভাবে ;
গিরের সিংহের ছবি ; সুন্দর বনের রাজা বাঘ
কখনো সংবাদে দেখি, জানি ঠিক কোনখানে আছে
তবুও ভূগোল খুলে মেলাতে পারি না।
ভারতবর্ষের মানচিত্র কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত
কবির “ছিলাম ভালোবাসার নীল পতাকাতলে স্বাধীন” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি
২০০৫ সালে প্রকাশিত, দে’জ পাবলিশিং-এর “তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
শুধু এক মানচিত্র ভাঙাঘরে দেয়ালে নিয়ত
উলঙ্গ রিলিফ ম্যাপ আধাক্ষ্যাপা ড্রইং মাস্টার
উপহার দিয়েছিলো রক্তের স্রোতের মতো নদী
দাঁত বের করা হিংস্র অন্ধকার আদিম পাহাড়।
ভারতবর্ষের মানচিত্র সম্পর্কে আমার
ধারণা টারণা আজও স্পষ্ট নয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আপনারা যাঁরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে
আজ আলোচনা করতে এসেছেন,
মেটাল ডিটেক্টর না আসা পর্যন্ত
তাদের একুট ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
স্নিফার কুকুর দেখে ভয় পাবেন না,
দেখতে একটু বিপজ্জনক হলেও,
এদের ব্যবহার খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ
তবে এই কুকুরগুলো শুঁকবার সময়,
খুব বেশি নড়াচড়া করতে যাবেন না।
তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সমঝোতার
রীতিমতো অসুবিধা হতে পারে,
এমন কি সমস্ত আলোচনা পণ্ড হতে পারে।
সমঝোতা কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)।
২০০১ সালে প্রকাশিত কবির “ভালো আছ, গরিব মানুষ?” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে প্রকাশিত, দে’জ পাবলিশিং-এর
“তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাখাল শিশুর হাতে তুমি তুলে দিয়েছো তলোয়ার,
তুমি আমার সেই স্বপ্ন, তুমি আমার বাংলাদেশ।
মজা নদীর পারে পোড়া ভিটেয় ভরা চৈত্রে
এখন সেখান থেকে তুমি বার বার চীত্কার করে ডাকছো,
. ‘খোকন, খোকন,’
বারবার বুকের মধ্যে গুমগুম করে উঠছে প্রতিধ্বনি, ‘স্বাধীনতা,
. স্বাধীনতা’।
আমার রক্ত, আমার জন্ম, আমার বাংলাদেশ।
মার্চ ১৯৭১ কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত কবির
“তোমার প্রতিমা” ২য় সংস্করণের কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে প্রকাশিত, দে’জ
পাবলিশিং-এর “তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা যারা দিন আনি, দিন খাই,
আমরা যারা হাজার হাজার দিন খেয়ে ফেলেছি,
বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন, কুয়াশা ঘেরা দিন,
স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অধীর প্রতীক্ষারত দিন,
অপমানে মাথা নিচু করে চোরের মত চলে যাওয়া দিন,
খালি পেট, ছেঁড়া চটি, ঘামে ভেজা দিন,
নীল পাহাড়ের ওপারে, সবুজ বনের মাথায় দিন,
নদীর জলের আয়নায়, বড় সাহেবের ফুলের বাগানে দিন,
হৈ হৈ অট্টহাসিতে কলরোল কোলাহল ভরা দিন,
হঠাত্ দক্ষিণের খোলা বারান্দায় আলো ঝলমলে দিন –
এই সব দিন আমরা কেমন করে এনেছিলাম, কিভাবে,
কেউ যদি হঠাত্ জানতে চায়, এরকম একটা প্রশ্ন করে,
আমরা যারা কিছুতেই সদুত্তর দিতে পারবো না,
কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবো না
কি করে আমরা দিন এনেছিলাম,
কেন আমরা দিন আনি, কেন আমরা দিন খাই,
কেমন করে আমরা দিন আনি, দিন খাই।
দিন আনি দিন খাই কবি তারাপদ রায় (১৭.১১.১৯৩৬ - ২৫.৮.২০০৭)। ১৯৯৪ সালে
প্রকাশিত কবির “দিন আনি দিন খাই” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি ২০০৫ সালে
প্রকাশিত, দে’জ পাবলিশিং-এর “তারাপদ রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” ২য় সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঠিক বলছি এবার বাবার বই ছিঁড়বো
খেতে দিচ্ছিস কই
চুপ চুপ চুপ বাঁশবাগানের মাথার উপর
চাঁদ উঠেছে ওই
আঁটুল বাঁটুল আমলা শাঁটুল
আমলা আমূল খায়
চুপ চুপ চুপ দ্যাশ-ঝিয়ারি
উঠছে সোনার নায়
তুই যদি মা যেতে না দিস মাংস খাবো তোর
বলে দিলুম সিধা
ষাট ষাট ষাট তুই যদি খাস
রাজায় খাবে কিডা
খাওয়া কবি সামসুল হক (জন্ম ১৬.১২.১৯৩৫)। ১৯৮০ সালে
প্রকাশিত, কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্য সংকলন “ব্রাত্য
পদাবলী” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কামান আছে মশা নেই
ঘামান মাথা মন্ত্রী
পালিয়ে গেছে শ্মশানেই
সব অগণতন্ত্রী
মশা আছে কামান নেই
মাথা ঘামান মন্ত্রী
কামানরা কাৎ সামান্যেই
ধিক্ অগণতন্ত্রী
মশা আছে কামান আছে
মন্ত্রী ভোলেন মন্ত্র
কোনটা দিয়ে কোনটা মারি
রাবিশ গণতন্ত্র
গণতন্ত্র কবি সামসুল হক (জন্ম ১৬.১২.১৯৩৫)। ১৯৮০ সালে
প্রকাশিত, কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্য সংকলন “ব্রাত্য
পদাবলী” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়?
বরকতের রক্ত।
হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে!
প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।
চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে?
একুশের কবিতা কবি আল মাহমুদ (১১.৭.১৯৩৬ - ১৫.২.২০১৯)। সুর ও শিল্পী - কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায়।
আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ Dhrubo ধ্রুব YouTube Channel এর কাছে কারণ এই গানটি আমরা সেখান থেকেই পেয়েছি।
পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।
প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দ্যাখো আজ পতাকা দেখারই দিন।
কলরব করে ওঠো, উচ্চারণ কর
মুক্তির ভাষা। আমিও তোমাদের সাথে দেখতে থাকি।
তোমাদের সাথে আমার অপরিচ্ছন্ন দৃষ্টির অশ্রুসজল
চোখ দু’টি মেলে দাঁড়িয়ে থাকি। কী লাল, সবুজ
পতাকার মধ্যে গোল হয়ে বসে আছে,
মনে হয় যেন পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের
রক্তের লোহিত কণায় অঙ্কিত হয়েছে এ সূর্য।
আমার ভেতরে কলরব করে ওঠে কত মুখ
কত আকাঙ্ক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টি। যারা আর
ফিরে আসেনি।
একজনের কথা মনে পড়ছে। মনতলা স্টেশনের
পাশ দিয়ে বামটিয়া বাজারের দিকে চলে গেছে যে পথ
সেখানে ছিল তার ক্যাম্প। ট্রেনিং নিতে গিয়ে
তার কুনুই থেকে রক্ত ঝরে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল।
ফেরেনি সে। তার মাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা বা শব্দ
বাংলা ভাষার অবিধানে ছিল না। কিন্তু তার মার
সামনে দাঁড়িয়ে আমি যে ইংগিতে কথা বলেছিলাম
তাতে মহিলা শুধু একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে
ওই গোল সূর্যের মধ্যে তার পূত্রকে দেখেছিল,
অশ্রুসজল চোখে।
এই পতাকার সূর্য সাক্ষী কবি আল মাহমুদ (১১.৭.১৯৩৬ - ১৫.২.২০১৯)। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ সাইফআলি১৫৯০.এমই ওয়েবসাউটের এর কাছে
কারণ এই কবিতাটি আমরা সেখান থেকেই পেয়েছি। এই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
আরো একজনকে জানতাম- সে কুমিল্লা থেকে
বেরিয়ে পড়েছিল যুদ্ধের দিকে। গুলিটা লেগেছিল
তার কোমরে। আগরতলা হাসপাতালে আমি তাকে
দেখতে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররা বিষাক্ত শিশার টুকরো
নিখুঁতভাবে বের করতে পারলেও সে আর হাঁটতে পারেনি।
তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম
মুক্তির উৎসবে। ওই পতাকার লাল অংশে তার খানিকটা
রক্ত আছে। আমি সব সময় দেখি আর তার কথা ভাবি।
কী অবলীলায় তার নাম বাদ দিয়ে লেখা হয়ে যায়
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস! সে ছিল কুমিল্লার একটি
হিন্দু পরিবারের মেয়ে। তার পিতার উপজীব্য ছিল
সংগীত। আমি সাক্ষ্য দেই যে, পতাকার ঐ লাল অংশে
তার রক্তের লোহিত কণিকা মিশ্রিত আছে।
হে ইতিহাস, লেখো তার নাম।
কুষ্টিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ছেলেটি।
কুষ্টিয়ার কাস্টম কলোনির পাশে, সে ঝাঁপিয়ে
পড়েছিল শত্রুদের জিপকে উড়িয়ে দিতে।
খন্ড খন্ড হয়ে উড়ে গিয়েছিল তার বাহু, উরু ও
পিঠের কিছু অংশ। হাসিবুল ইসলাম
আল্লাহু আকবার বলে সে আক্রমণ করেছিল।
তার বুক থেকে কলজে উড়ে গিয়ে ওই
পতাকায় লেগে আছে।
লেখো তার শেষ উচ্চারণ আল্লাহু আকবার।
কলরবমুখর হে ঢাকা মহানগরী
তোমাকে লিখতে হবে ওই রক্ত গোলকে
আসাধারণ বিবরণ। দেখতে হবে ইতিহাস নির্মাণ
করে কারা? আর কারা কেড়ে নেয় বীরত্বের পদকচিহ্ন!
দ্যাখো আজ পতাকা দেখারই দিন
কলরব করে ওঠো, উচ্চারণ কর-
মুক্তির ভাষা। আমিও তোমাদের সাথে দেখতে থাকি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একবার এক শহুরে কাকের দলে
মিশে গিয়েছিলো গানের কোকিল পাখি
মনে ছিলো তার কোন মতে কোনো ছলে
শেখা যায় যদি জীবিকার নানা ফাঁকি।
শুধু গান ছাড়া বুদ্ধির নানা খেলা
শিখবে সে এই চালাক কাকের ভিড়ে,
পার হয়ে মহানগরীর অবহেলা
কন্ঠ সাধবে প্রভাতের বুক চিরে।
কিন্তু বাতাসে ফিরে এলো ওর গান
জন জীবনের কোলাহলে ভয় পেয়ে
ধুলোয় হাওয়ায় কেবলি যে অপমান
কাকের কলহ আকাশের মন্দিরে।
কাকেরা যে বোঝেনা গানের ভাষা
রুক্ষ পালকে তীব্র কন্ঠে হাসে
গানের পাখির নিভে যায় কত আশা
সবুজ পাহাড়ে একদিন ফিরে আসে।
মহুয়ার গাছে দুঃখের নানা শ্লোক
তারপর থেকে শোনা যায় রোজ রোজ
কার সঙ্গীতে কাঁপে অরণ্যলোক
কোন্ পক্ষীর হৃদয়ের নির্যাসে??
কাক ও কোকিল কবি আল মাহমুদ (১১.৭.১৯৩৬ - ১৫.২.২০১৯)। আমরা ভীষণভাবে
কৃতজ্ঞ কবিতাককটেল.কম ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের কাছে আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি।
তাঁদের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ কেমন অন্ধকার বঙ্গদেশ উত্থান রহিত
নৈশব্দের মন্ত্রে যেন ডালে আর পাখিও বসে না।
নদীগুলো দুঃখময়, নির্পতগ মাটিতে জন্মায়
কেবল ব্যাঙের ছাতা, অন্যকোন শ্যামলতা নেই।
বুঝি না, রবীন্দ্রনাথ কী ভেবে যে বাংলাদেশে ফের
বৃক্ষ হয়ে জন্মাবার অসম্ভব বাসনা রাখতেন।
গাছ নেই নদী নেই অপুষ্পক সময় বইছে
পুনর্জন্ম নেই আর, জন্মের বিরুদ্ধে সবাই
শুনুন, রবীন্দ্রনাথ আপনার সমস্ত কবিতা
আমি যদি পুঁতে রেখে দিনরাত পানি ঢালতে থাকি
নিশ্চিত বিশ্বাস এই, একটিও উদ্ভিদ হবে না
আপনার বাংলাদেশ এ রকম নিষ্ফলা, ঠাকুর!
অবিশ্বস্ত হাওয়া আছে, নেই কোন শব্দের দ্যোতনা,
দু’একটা পাখি শুধু অশত্থের ডালে বসে আজও
সঙ্গীতের ধ্বনি নিয়ে ভয়ে ভয়ে বাক্যালাপ করে;
বৃষ্টিহীন বোশেখের নিঃশব্দ পঁচিশ তারিখে।
রবীন্দ্রনাথ কবি আল মাহমুদ (১১.৭.১৯৩৬ - ১৫.২.২০১৯)। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ
প্রিয়কবিতা.ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের কাছে আমরা এই কবিতাটি পেয়েছি।
তাঁদের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য
দিন দিন আমরা কি হচ্ছি অসভ্য?
রাস্তায় নাক ঝাড়ি, থুথু ফেলি, ফেলি পিক্
নোংরা সে থিক্ থিক্
ঢেকে যায় সব দিক
চলে গাড়ী চলে বাস
তবু ফেলি ছাই পাশ
মান্ধাতা আমলের অভ্যেসই ভাবি ঠিক
কলকাতা কবে হবে আমাদের গর্ব?
কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য!
বাইরে সবাই বেশ ভদ্র ও ভব্য
বাসে দেখি বৃদ্ধা সে নড়বড়ে দাঁড়িয়ে
কয় জনা দিই তাঁকে হাতখানা বাড়িয়ে?
সিট যেই খালি হয়, লোকে বলশালী হয়
হামলে দখল করি ছেলে বুড়ো মাড়িয়ে
সকলে যা করে সেটা আমিও কি করবো?
কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য!
এইখানে মিলে যায় পুরানো ও নব্য
ধর্মের ব্যবসাতে জোটে যত ভণ্ড
পূজা করে প্রস্তর, পূজা করে ষণ্ড
গ্রহ নক্ষত্রের জাত আর গোত্রের
কত ধূমধাম চলে যতেক পাষণ্ড
হাত দেখে টাকা গুণে বলে ভবিতব্য
কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য!
জীবনের সম্পদ হয় দুর্লভ্য
তবু খুলে রাখি কল, জলে সব ভেসে যায়
বন্ধ করে না কেউ, মজা দেখে হেসে যায়
দিনে আলো জ্বলে কেন? মিছে পাখা চলে কেন?
কেন গাছ মুড়োবার ইচ্ছেটা এসে যায়?
একা ক’জনের জামা টেনে ধরবো?
কিংকর্তব্য কিংকর্তব্য !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই যে বাবু! এই যে বিবি!
ফ্ল্যাট তো হল, কালার টিভি!
আর কত চাই? আর কী নিবি?
আজ হল ফ্ল্যাট, কালকে দিয়ো
লাল মারুতি আর ভিডিও!
ফ্ল্যাট হয়েছে বাঁশদ্রোণীতে
সল্টলেকে চাই প্লট কিনিতে।
সেলাম বাবু, সেলাম বিবি!
আর কী কী চাস? আর কী নিবি?
স্বপ্ন তোদের দীর্ঘজীবী।
হেই ভগবান আর যেন পাই
আবুধাবির চাকরে জামাই!
চাই তো কতো রোজ নিয়ত
হয় না তো সব ইচ্ছেমতো
নইলে ছেলে স্বর্গে গেছে
ডলার চাষের খেত করেছে ;
স্বর্গ - মানে আমেরিকায়
হোথায় যেতে মন কাঁদে হায়।
বেশ তো যাবি, বেশ তো যাবি।
রইল বাকি আর কী দাবি?
আর যদিও দাও - এই বাসনা
চাইনে দানা চাইনে সোনা।
চাই শুধু শেষ বাদশাগিরি
নোংরা দেশে আর না ফিরি।
হায় রে বাবু! হায়রে বিবি!
জন্মভূমি তালাক দিবি?
আহা! কেমন দেশের ছিরি,
রাস্তা জুড়ে সব ভিখিরি!
জন্মেছি কোন গ্রহের পাকে,
এই দেশে কি মানুষ থাকে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
চন্দনপিড়ির অহল্যা গো
দৈবকিনী মা জননী
মলেন কংসরাজের অত্যাচারে
গর্ভে নিয়ে চক্রপাণি।
আহা বোনকে মেরে কংসারাজা
আপনাকে কি রাখা যায়।
বল কৃষ্ণে কি ঐ কংসকারায়
বেঁধে রাখা যায়।
আহা মাঠে মাঠে লক্ষ কৃষ্ণ
অগ্নি বাঁশের বাঁশী বাজায়॥
গঞ্জে গাঁয়ে পথে মাঠে বিবস্ত্রা দ্রৌপদী কাঁদে গো
ওরে ভাই, দেখো,
ভীম জনগণ হয়ে আগুয়ান দিতে দুঃশাসনে শেষবিদায়
দিকে দিকে জাগছে কারা পাচ্ছে না কি তার ইসারা
ওরে ভাই, দেখো,
লেংটি-পরা সর্বহারার জয়ধ্বনি দিক্ কাঁপায়॥
চন্দনপিড়ির অহল্যা গো কথা ও সুর - কবি অজিত পাণ্ডে (১০.৩.১৯৩৭ -
১০.৬.২০১৩)। তেভাগা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা গান। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাতকে বিত্যায়লাম হো
দিনকে বিত্যায়লাম হো
তেবেও আমার মনের মানুষ আইলো না
এই চাসনালার খনিতে মরদ আমার ডুব্যা গেল গো।
এই পাঞ্চেতের পাহাড়ে
মেঘ জম্যাছে আহা রে
এমন দিনে হায় হায়
মরদ আমার ঘরে নাই
গ্যান্দা ফুলেও রঙ নাই
এই চাসনালার খনিতে মরদ আমার হারাইং গেল গো।
এই টুস পরবে যাবক্ নাই
বাপ নাই ভাই নাই
কর্মা পুজায় যাবক্ নাই
দুইগ্যা পূজায় যাবক নাই
মহরমে যাবক্ নাই
পীরের মেলায় যাবক্ নাই
খোঁপায় ফুল গুঁজব নাই
চুড়ি আলতা পরব নাই
এই চাসনালার খনিতে মনের মতন মানুষ নাই গো।
রাতকে বিত্যালাম হো (চাসনালার খনিতে) কথা ও সুর - কবি অজিত পাণ্ডে (১০.৩.১৯৩৭ - ১০.৬.২০১৩)।
সঙ্গীত পরিচালনা ভি বালসারা, অজিত পাণ্ডে, প্রতাপ রায়, বাপ্পা সেনগুপ্ত। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৭৫ তারিখে ঘটে যাওয়া, তদানীন্তন বিহারস্থ,
অধুনা ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের নিকটে চাষনালা কয়লার খনির দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা গান। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত
সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ভিডিওটি সৌজন্যে amitabhabhattasali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রক্ত ঝরে অবিরাম।
রক্ত
ছড়িয়ে যায়
. পথের ধুলায়।
রাতের জঠর থেকে
. শোনা যায়
. নিহত নারীর কন্ঠ।
শৃগালেরা চেটে খায়
আজো দেখি
অন্ধকারে গলিত শরীর।
কান্নার করুণ শব্দ
শুনি আজো
যতদূর শোনা যায় এই পৃথিবীর।
বিপন্ন বাতাসে শুনি
. বেদনার্ত স্বর
পৃথিবীর সবখানে অশুভ বর্বর
অভুক্ত সিংহের মতো
. অজস্র দানব
খোঁজে আজো অতর্কিতে
রক্তের লবণ স্বাদ
পড়ে আছে চারিদিকে
. মুণ্ডহীন শব।
রক্ত ঝরে কবি আশিস সান্যাল (জন্ম ৭.১.১৯৩৮)। ২০০৩ সালে প্রকাশিত কবির “কাছেই রয়েছে নদী”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
হায় পিতা !
একদিন দিয়েছিলে
. অমৃতের স্বপ্ন যত
. আমাদের বুকে
অথচ এখন দেখি
সঞ্চারিত কৃমি-কীট
. কেবল অসুখে।
রক্তেভেজা ধ্বজা তুলে
মানচিত্র
ছিঁড়ে খায় ঘাতক উন্মাদ,
শুনি না কোথাও তার
সংঘবদ্ধ
. তীব্র প্রতিবাদ।
প্রস্তর যুগের নারী
কাঁদে আজো
রক্ত ঝরে
. অবিরাম পথের ধুলায়।
মেধার মননে রক্ত----
চোখ মেলে
. যতদূর শুধু দেখা যায়।
অমৃতের মন্ত্র দাও
হায় পিতা
উর্বরতা দাও আজ
. নিভৃত মননে
দাও ঝঞ্ঝা বারিপাত
. অন্ধকার বনে।
শোনাও ধূসর শেষে
প্রত্যাশার গান
পৃথিবীতে বেঁচে থাক
. পরিশুদ্ধ মানব সন্তান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা যুদ্ধ চায়
শুধু যুদ্ধ
যুদ্ধ
আর যুদ্ধ।
আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।
ওরা যুদ্ধ চায় অস্ত্রের ব্যবসার জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি অস্ত্রের ব্যবসার বিরুদ্ধে।
ওরা যুদ্ধ চায় কাপড়ের ব্যবসার জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি কাপড়ের ব্যবসার বিরুদ্ধে।
ওরা যুদ্ধ চায় মানুষের ব্যবসার জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি মানুষের ব্যবসার বিরুদ্ধে।
ওরা যুদ্ধ চায় ব্যবসা
ব্যবসা
আর ব্যবসার জন্যে।
যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত,
কবির “ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
আমরা যুদ্ধ করি স্বাধীনতার জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি গণতন্ত্রের জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি সমাজতন্ত্রের জন্যে
আমরা যুদ্ধ করি মানুষ
মানুষ
আর মানুষের জন্যে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যদি কোনো কবির হাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা
তুলে দেয়া হয়।
তাহলে তিনি প্রথমেই শব্দের এক্সপ্রেস ছোটাবেন
যদি কোনো কবির হাতে পুলিশ-বাহিনীর পরিচালনার
ভার দেয়া হয়
তাহলে তিনি প্রথমেই কেড়ে নেবেন
হারামজাদা সব শব্দ।
যদি কোনো কবির হাতে খাদ্য বিতরণের
ভার দেয়া হয়
তাহলে তিনি প্রথমেই কৃষকদের হাতে তুলে দেবেন
সমস্ত ফসলের জমি
আর যদি কোনো কবিকে বিচারকের আসনে
বসিয়ে দেয়া হয়
তাহলে তিনি প্রথমেই রায় দেবেন
. দমনের জন্যে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজন নেই
বলবেন, রবীন্দ্রনাথও চাই ভাতও চাই
ভয়হীন একটা দেশ চাই।
রবীন্দ্রনাথও চাই ভাতও চাই
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)
২০০৮ সালে প্রকাশিত, কবির “ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রাণ দিয়ে মানুষ
যে-মাটিতে ঘন বসতি বানিয়েছিল,
যেখানে রোপন করেছিল
বৃক্ষ
এবং আত্মা
যেখানে নিজের স্বপ্ন দিয়ে
বুকের মধ্যে রেখেছিল ধনুকের রুক্ষ মমতা,
সেই মাটিকে কী এক কথায়
সে ছেড়ে দিতে পারে !
এই মাটির নীচে আছে
তার প্রপিতামহের জীবন
এবং সংগ্রাম,
ক্ষমা
এবং ঘেন্না।
এই মাটি সে একদিনে ভালোবাসেনি।
এই মাটিতে সে একদিনে বসতি গড়ে তোলেনি।
এই মাটি থেকে
বৃক্ষ
আমাদের চোখের এবং বুকের জ্বলন্ত বারুদ
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। কবির মৃত্যুর পর ২০১১ সালে, প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা”
কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া। ভোগরাই এবং বালিয়াপালের উত্খাত গ্রামের লড়াকু মানুষদের জন্যে।
এবং মানুষকে নির্বাসন দিয়ে
যারা এখানে ক্ষেপনাস্ত্র ঘাঁটি গড়তে চায়
তারা কি মানুষের দায়ভার বহন করে,
না দানবের?
আমরা
মাটি
মানুষ
এবং বৃক্ষের দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
আমরা নিজের
বা অন্য কোনো মানুষের নিশ্চিত মৃত্যুর জন্যে
এ-জমি স্বেচ্ছায় কারো হাতে তুলে দিতে পারি না।
কবিতার মতো
আমাদের সমস্ত পরাক্রম নিয়ে
এ-জমির ওপর আমরা দখল রাখতে চাই।
এ-জমির নীচে আমরা পুঁতে রেখেছি
আমাদের চোখের
এবং বুকের জ্বলন্ত বারুদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এমনি ভাবেই সময়ের হাত ধরে
আমি চলে গিয়েছি বুকের ব্যথার ভেতর
যেখানে সহজেই চেনা যায় মানুষকে।
বুকের ভেতর কবে গড়ে উঠেছে
পাথরের এক অদৃশ্য বন্দর
নদীর জলের ওপর ভাসছে চিরপরিচিত এক আকাশ
গর্জনের মধ্যে সুড়ঙ্গ কেটে কেটে তৈরি হচ্ছে
জীবনের প্রভাত।
ফসল তোলার আগে
আজকাল একই ফসলের অনেক ভাগীদার
কে যে পেছন থেকে উসকায়
কেউ জানে না।
গরিব মানুষগুলো
নিজেদের লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরে।
সাত বাও জলের নীচে
মানুষ এভাবেই খুন-জখমে মেতে ওঠে,
ভালোবাসার ওপর পড়ে জখমের পরান্ত ছায়া।
ব্যাপারটা এমন কিছু নয়,
আমি এভাবেই গুছিয়ে নিচ্ছি কথা কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। কবির মৃত্যুর পর ২০১১ সালে, প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন
থেকে নেওয়া।
চাষা-ভুষো মানুষের পাতে
একটু নুন আর ভাত পড়লেই হল।
কাঁধের ওপর লটকে নাও জোয়ান বয়েস
দেখবে, ভেতরে ভেতরে সবাই কেমন মুষড়ে পড়েছে।
দু’কাঁধের মাঝখানে যে-জায়গা
সেখান থেকে পৃথিবীটাকে ঠিক ঠিক দেখা চাই।
দেখবে, নদীর জলের ওপর ঠিক তেমনি ভাসছে
আসমান,
বুকের নীচে পাথরের অদৃশ্য বন্দর
তোমাকে চোখ মেলে দেখছে।
তুমি আমার মতো কন্ঠের মধ্যে অনায়াসে তুলে নাও
ভীষণ কান্না,
সারা দেশ জুড়ে কান্নার বোবা শব্দ।
আমি বুকের পাশে নামিয়ে রেখেছি
আমার চির-কলম,
কিছু লেখার আগে একবার ভেবে নিতে চাই।
আমি এভাবেই গুছিয়ে নিচ্ছি কথা---
আমার বুকের গাছ-গাছালির মধ্যে অবুঝের মতো
উঁকি মারল
ধরিত্রীর রঙ।
মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্যে এই অস্ত্রের কারখানা।
বুকের মধ্যে নিমেষে তৈরি হল
খিদে অনাহারের এক বিরাট মাতৃভূমি।
এভাবে মরার চেয়ে যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা ভালো।
আমার বুকের মধ্যে মানুষ-মারা ভারী সিসের টোটা
হাতে মেশিনগান স্টেনগান।
চোখে নীল ফ্রেমের চশমা
সারা পৃথিবীর রঙ চোখের মধ্যে রাখার
আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
যদি তুমি আমার সবকিছুকে খুন করতে চাও
তবে খুনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আস।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একটা বাক্সের ভেতর নিলাম-করা পেতলের কবিতা।
জল পড়ে কবিতার ওপর ধরেছে
ছিট ছিট সবজে রঙ।
কে যেন আমার ঘাড়ের ওপর সড়াৎ চোখ নামিয়ে
বলল :
কবিতা না ছাই,
দেখি, করো তো একমাঠ ধানের নবীন চাষ।
বাছা, চোখের নীচে জমবে পিতলের মতো
নিম-ঘাম,
পাছার কাপড় ফেটে
বেরিয়ে পড়বে মাঠের হাড়-পাঁজর
পাসিনা।
এক বাক্স নিলাম-করা পেতলের কবিতা
পাঠিয়ে দাও রসুই ঘরের
সবজির ঝুড়িতে,
সবজে পোকার মতো হাঁসফাঁস করে
খাক দেখি
দেশের সব হাহাকার,
খিদে।
কবিতার বুকের ভেতর কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। কবির মৃত্যুর পর ২০১১ সালে,
প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
জং-ধরা সবুজের নীচে ছিটেল মন নিয়ে
কবিতাকে পিটিয়ে দুরন্ত করে তোল।
কবিতার বুকের ভেতর খাঁজকাটা এক অদৃশ্য পৃথিবী
বাঘের দাপটে শূন্যে লাফ দেয়,
ধরতে চায় মানুষের হৃৎপিন্ড।
শব্দের খনিজ-শব্দকোষ যেন একমাঠ ধানের মতো
মাটিকে শক্ত পায়ে আঁকড়ে ধরে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবিতা লিখি না লিখি
ভোর থেকে দাঁড়াই কেরোসিনের লাইনে।
পুড়িয়ে দিই গায়ের ক্লান্ত ভেজা পোশাক,
ডাল চাল চিনি এ-সবের জন্যে
হাতের মধ্যে ঠেসে দিই
রুধির
এবং বারুদ।
মূর্খ,
আমি তুমি সবাই।
প্রতিদিন নেতাদের কথা গপগপ করে খাই,
ধমক খেয়ে
পায়ের নীচে গোপনে লুকোই
খিদের জ্যান্ত বাছাকে।
বাছা পায়ের নীচে মাটিতে
খিদের অম্লান গাছ হয়ে গজায়।
কবিতার রুধির বারুদ এবং রোদ্দুর কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ -
২৪.৬.২০০৬)। কবির মৃত্যুর পর ২০১১ সালে, প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া
।
এক-ঢোক জল খেয়ে
লিখি :
আমাদের কোনো পরওয়া নেই
এ-সব নেতাদের অগ্নিবর্ণ চোখ।
বাছারা কাল থেকে বুকঠুকে বিলি করবে
কবিতাপ রুধির
বারুদ
এবং রোদ্দুর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দু’হাত ছড়িয়ে দিলেই কী পাওয়া যায়
মনের মতো আবাদী জমি !
তোমরা জমির জন্যেই কি
জমির ওপর তরবারি দিয়ে শব্দের লহর তুলেছিলে ?
কারা তোমাদের সাথে বুক বেঁধে ছিল,
কারা তোমাদের পেছন থেকে
চালিয়েছিল গুলি ?
এ দিব্যি ঘুমের দেশে
মানুষ মাঝে মাঝে আকাশ-পাতাল
সব এক করে দেয়।
তখন তোমাদের কথা সবার মনে পড়ে।
জমির জন্যে
তোমরা মুক্ত জমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলে।
জেলের প্রশস্ত প্রাচীরের গায়ে
তোমরা হয়তো এখন ভারতবর্ষের জমির
পরিমাপ করছ।
ভারতবর্ষের এতো জমি কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। কবির মৃত্যুর পর ২০১১
সালে, প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
এক-একজন কৃষক পরিবারের
কতোটুকু জমি হলে চলবে !
ভারতবর্ষের এত জমি,
এ-জমিতে যদি মানুষের হাত না পড়ে
তবে তা কোন কাজে লাগবে !
মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কি
কোনো জমি তেমনভাবে বেঁচে থাকতে পারে ?
জমিরও তো একটা সহ্যের সীমা আছে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কথা ছিল, কোনো প্রকৃতিকে নিয়ে নয়
কামারষালায় তৈরি একটা টাঙ্গিকে নিয়ে
আমি কবিতা লিখব
কবিতা লিখতে গিয়ে
একটা শব্দকে কিছুতেই যুৎ করতে পারছিলাম না
বড্ড ঠেটা ছিল শব্দটা
টাঙ্গি উঠিয়ে শব্দটাকে আঘাত করতে গেলে
সে রেগে চিত্কার করে উঠলো :
শব্দকে নয়,
আমাকেই ধারালো শব্দের নিচে রাখো
দেখবে,
একটা টাঙ্গির গায়ে কতো রক্ত কতো ঘাম আছে
আমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে হলে
প্রতিটি মানুষের হাতে এক-একটা টাঙ্গি তুলে দাও
হাতে শব্দের টাঙ্গি না থাকলে
কবিতা লেখা অত সহজ নয়
এমন মুখরতাই কি... কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত, কবির
“ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
তারপর সে বললো :
শব্দই হচ্ছে টাঙ্গি
টাঙ্গিকে বাগে আনা যত সহজ ভাবছো
ততো সহজ নয়
টাঙ্গির সাথে শব্দের একটা যোগসূত্র খোঁজার জন্যে
আমি একটা প্রাচীন পুঁথি খুলে বসলাম
ভাষার কোন গূঢ় রহস্য টাঙ্গিকে এমন সুন্দর করেছে
এমন মুখরতাই কি ভাষার অন্তরসত্তা !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কোন কথাই তুমি এখন
বলতে পার না
না আগুন
না বুলেট
না ফুল
কোন কথাই না।
কোন কথাই তুমি এখন
বলতে পার না
না মানুষ
না দেশ
না তোমার
কোন কথাই না।
কোন কথাই তুমি এখন
বলতে পার না,
পার না বলেই
তোমার হাতে
আর পায়ে বাজছে
ঝুম ঝুম লোহার
নুপূর।
কোন কথাই বলতে পার না
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)
২০০৮ সালে প্রকাশিত, কবির “ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিয়েছে কেড়ে, নিক না তোমার বজ্রের লেখনী
দাও, তুমি ডুবিয়ে দাও, তোমার আঙ্গুলখানি
দাও, তোমার হৃদয়ের কলকল গভীরে,
লেখ সেই শোণিতে তোমার কবিতা
লেখ, গাঢ় গাঢ় রক্তের অক্ষরে।
নিয়েছে কেড়ে, নিক না তোমার বজ্রের লেখনী
লেখ তুমি লেখ, তোমার হৃদয়ের ক্রোধ
ভালবাসা আর রক্তের গাঢ় অক্ষরে।
নিয়েছে কেড়ে, নিক না তোমার বজ্রের লেখনী।
তুমি লেখ হৃদয়ের রক্তে
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)
২০০৮ সালে প্রকাশিত, কবির “ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হুজুর, কুর্নিশ, বেয়াদপি মাপ করবেন।
আপনার খাস তালুকে
আল্লার ওয়াস্তে ভালই আছি।
হুজুর মা বাপ, জান মাল আপনার জিম্মায়,
আমার গর্দান রাখতেও পারেন --- নিতেও পারেন
সব হুজুরের মেহেরবানি।
মাঝে মাঝে বেয়াদপি করি বলে
হুজুর আমার গুস্তাকি মাফ করবেন,
আপনার প্রতি আমার অসীম ভক্তি
বাপ দাদার নামে কসম খেয়ে বলছি
আমার বাল বাচ্চাদের
আপনার তালুকে মানুষ করবো।
হুজুর, এ সব ইচ্ছা অনিচ্ছা
সব আপনার ওপর,
আমাদের নসিব ভালো, আপনার মতো
হুজুর পেয়েছি ।
হুজুরের কাছে নিবেদন
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত, কবির “ভারতবর্ষ সেই দেশ” কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেওয়া।
হুজুর কয়েকদিন ধরে একটি কথা
দিলের কাছে উসখুস করছে
বিলকুল সত্যি কথা
তোবা তোবা
কী করব হুজুর, দিলটা যে বড় বেইমান
আপনার ইজ্জতের তোয়াক্কাই রাখে না।
বলছিলাম কি হুজুর, জান মাল আপনার
জিম্মায় রেখেই বলছি ---
হুজুর আপনি বহুত ওস্তাদ আছেন।
আপনার খেল দেখতে দেখতে বেমালুম
লোপাট হয়ে যাচ্ছি।
হুজুর মেহেরবান করে আপনার দিল্লাগি বন্ধ করুন
তা না হলে হুজুর, তালুকটা যাবে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা টান টান করে
পেতে দিল বুক
রক্তজবার মতো লাল লাল টকটকে
ভালোবাসার বুক।
ওদের ভালোবাসার গভীর বুকে উঠে এসেছে
গুরু গুরু মেঘের গর্জন।
মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ
চন্দ্র সূর্যের আকাশ।
ওদের চোখের অনন্ত গভীর থেকে জ্বলে উঠেছে
ঘৃণা
দারুণ ঘৃণা।
ওদের বুকের অনন্ত গভীর থেকে উঠে এসেছে
সাহস
অসীম সাহস।
ওরা মৃত্যুকে মৃত্যু দিয়েই
বুঝে নিল
জীবনকে জীবন দিয়েই
বুঝে নিল।
ওরা টান টান করে পেতে দিল বুক
কবি কমলেশ সেন (১৩.২.১৯৩৮ - ২৪.৬.২০০৬)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
জীবনের জন্যেই ওরা জীবনকে টান টান করে
পেতে দিল
জীবনের জন্যই ওরা জীবনকে
গভীর মমতায় ডুবিয়ে দিল।
ওরা ফুল হয়ে ঝরে পড়লো
ওরা ফুল হয়ে ফুটে উঠলো।
ওরা বেঁচে রইলো
ওরা বুক ভরা ভালোবাসা নিয়ে
বেঁচে রইলো
চিরদিন বেঁচে রইলো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সেই মেয়েটির অনেক দুরে বাসা
সেই মেয়েটির তরুণ যুবক স্বামী
হঠাৎ উধাও অফিস যাবার পথে
ঠিক ছিল আজ বিকেলবেলায় ফিরে
বউকে নিয়ে টি ভি কিনতে যাবে
বউ জানে না, যায়নি অফিস স্বামী
জানে না, তাই নাস্তা রেডি করা---
অফিস থেকে ফিরতে দেরি দেখে
মান হয়েছে, ঠোঁট ফুলেছে বউয়ের
আজকেও তার কাজের তাড়া এত?
আজকে ওরা কিনবে রঙিন টি ভি
অফিস থেকে ধার-পাওয়া খুব সোজা
সদ্য ধারে কিনেছে লাল স্কুটার
এই তো সবে ঘর-সংসার শুরু
অল্পে-স্বল্লে হিসেব করে চলা
সকাল সকাল ফিরতে হবে কি না
যাচ্ছিল তাই সকাল সকাল উঠে
অফিস আবার তিরিশ কিলোমিটার
বাসার থেকে অনেকটা পথ দূরে
আসতে যেতেই নষ্ট সময় বহু
নাজমা কবি নবনীতা দেব সেন (১৩.১.১৯৩৮ - ৭.১১.২০১৯)। কবিতাটি গুজরাটের ২০০২ সালের দাঙ্গার প্রেক্ষিতে লেখা। দেশ পত্রিকার ১৮ জুলাই ২০০২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
হুঠাৎ কারা ধরলো পথের মাঝে
হ্যাঁচকা টানে নামিয়ে নিল নীচে
একটা, দুটো, দশটা মানুষ---কারা?
ওদের সঙ্গে নেই তো চেনাশোনা
ওদের সঙ্গে নেই তো রেষারেষি?
কী হল যে, কিছুই হল কি না
বোঝার আগেই পেট্রোল ট্যাঙ্ক থেকে
তেল বেরুলো, যুবক স্বামীর গায়ে
তেল ছড়ালো ফুল ছড়ানোর মতো
কে ছোঁয়ালো দেশলাইটার কাঠি?
জ্বললো শরীর জললো যুবক স্বামী
ছটফটিয়ে ছটফটিয়ে খাক্
অটহাস্যে মাতলো বালক বুড়ো
জয় শ্রীরামের, জয় বজরংবলী
জ্যান্ত মানুষ দ্যাখ্ না কেমন বাজির মতন পোড়ে।
সেই মেয়েটির অনেক দূরে বাসা
জানলা ধরে দাঁড়িয়ে গোটা রাতে
পাশের বাড়ির কেউ বলেনি তাকে
বর ফেরেনি অফিস থেকে কেন---
জানত সবাই---নাজমা একা বাদে
পরের দিনেই কাঁপলো গোটা পাড়া
প্রলিশ এলেন, এন. জি. ও. রাও এলেন
“নাজমা, দ্যাখো, এই ছবিটা কার?”
---“এই ছবিটা? মানুষ নাকি এটা,---”
নাজমা বলে, ---“নাঃ, চিনি না ওকে।”
“নাজমা, তবে এই যে স্কুটারখানা
এই নম্বর, এইটে চেনো নাকি?”
হাহাকারের দুরস্ত ঝড় তুলে
জ্ঞান হারিয়ে আছড়ে পড়ে মেয়ে---
ওই স্কুটারের সওয়ার যে তার চেনা।
এই তো সবে কিনলো আজিজ ওটা
বাচ্চা হবে এই সেপ্টেম্বরে
ছোটাছুটির অনেক আছে কিনা
নরোদা থেকে তিরিশ কিলোমিটার
দূরের অফিস, তাই তো স্কুটার কেনা
দারিয়া খানের শিবিরে নাজমাকে
ইনজেকশান ঘুম পাড়িয়ে রাখে
চোখ মেললেই দপদপিয়ে জ্বলে
রক্ত মাংস চামড়ার এক ডেলা---
“---নাজমা, দ্যাখো, এই কি তোমার স্বামী?”
নাজমা তবু সাবধানে খুব থাকে
খুব চেষ্টায় ভয় তাড়িয়ে বাঁচে
সরম্বতী কেন বলেছেন তাকে
---“হার মেনো না, শক্ত হয়ে থাকো
এই পৃথিবীর বদল হতেই হবে।
নাজমা, ওটাই নয়, নয়, শেষ কথা---
আমরা আছি হাত ধরে তোর পাশে
পাপের ভরা পূর্ণ পৃথিবীতে
এবার বাঁচার একটাই পথ ; ওঠা।
অধঃপাতের ঠাঁই আছে আর কোথা?
আর গতি নেই উর্ধ্বগতি ছাড়া
নাজমা, তোমায় ভাঙলে তো! চলবে না
নাজমা, তোমায় বৃক্ষ হতেই হবে
ভালবাসায় ভর করে তুই দাঁড়া,
আমরা হব পায়ের তলার মাটি---
তোর চোখে আর কী করে চোখ তুলি,
তুই দেখেছিস ত্রিশূল-বেঁধা ভ্রণও
নাজমা, তোমার নির্জলা চোখ, জানি---
কিন্তু এবার বুক ভেসে যাক দুধে
নতুন মানুষ আসছে তোমার কোলে
আমরা ওকে অন্য জগৎ দেব
প্রতিজ্ঞাতে বুক বেঁধে তুই দাঁড়া
অন্য জগৎ এই মাটিতেই আছে
আমরা ওকে আস্ত আকাশ দেব
নাজমা, আকাশ বজ্রেও ভাঙবে না!”
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জননী গো কাঁদো, আরো কাঁদো তুমি
শত শহীদের মা।
হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী
কান্নার সুরে তোলপাড় হোক,
তোলপাড় হোক, তোলপাড় হোক না।
তারপরে মাগো ছেলের স্বপ্নে বিভোর ---
কেটে যাক, কেটে যাবে
কত রাত, কত ভোর।
তারপরে জননীগো, চোখ মেলে দেখো
আমরা তো আছি বেঁচে,
আমাদের মনে রেখো।
রনজয়ী নই, রণে আছি তবু মেতে
ঘর বেঁধে আছি চিমনির পাশে,
সোনালী ধানের ক্ষেতে।
মিথ্যা কথায় আগুন জ্বলে না,
ইঁদুর কখনও স্বপ্ন দেখে না।
জননী গো এসো, পাথরের মতো নিরেট সত্যি বলি,
হিমালয় হয়ে ভোরের আকাশে জ্বল॥
জননী গো কাঁদো, আরো কাঁদো তুমি কথা কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)। গীতিরূপান্তর, সুর ও
শিল্পী: রাজেশ দত্ত। সুরারোপ ৭ জুন, ২০২০। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো বাখরখানি
বেচোনা বেচোনা বন্ধু তোমার চোখের মণি।
কলা বেচো, কয়লা বেচো, বেচো মটরদানা
বুকের জ্বালা বুকেই জ্বলুক, কান্না বেচোনা।
ঝিঙে বেচো পাঁচসিকেতে, হাজার টাকায় সোনা
বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচোনা।
ঘরদোর বেচো ইচ্ছে হলে, করবনাকো মানা
হাতের কলম জনমদুখী, তাকে বেচোনা।
আলু বেচো, ছোলা বেচো কথা কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)। গীতিরূপান্তর,
সুর ও শিল্পী - প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ভিডিও সৌজন্যে Nonfiction YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সাপের গর্ত্তে বুদ্ধ হাত দিয়েছিলো
চৈতন্য ঈশ্বর লালন নজরুল পরপর মনসা হাওয়ায় খেলেছে
সেলুলার জেলে দেখে এসো
পুরী এক্সপ্রেস বা দুনে চেপে নয়
দীর্ঘ নীল পাড়ি দিলে সেলুলার জেল
প্রতিটি ফলকে চৈতন্য ঈশ্বর লালন বুদ্ধ নজরুল!
নীল তার চুল খুলে মুছে দেয় ফলকের ঝুল!
সাপের গর্ত্তে হাত দিয়েছিলো
বাঘের বাচ্চারা বিষ ভেঙ্গেছিল বিষ খেয়েছিলো!
সেলুলার জেলে দেখে এসো
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কমরেড কাকে বলো তুমি? কমরেড!
প্রাণায়াম সেরে দেখেছো কি জলভরা চোখ
ঝড়ের ঢেউয়ের স্তনে
ক্ষুধার বাষ্প নিয়ে চেটে খায় চিমনির তালামারা পেট!
কে তোমার কমরেড?
নবযুগ আনবে বলে যে ছেলেটা গাঁয়ে গাঁয়ে ধানের শেকড় খোঁজে
তুমি তো ঘুমিয়ে আছো, সে কখন চোখ বোজে?
জড়িয়ে ধরেছো কখনো যেমন আকাশ ধরে বাতাস মৌসুমী
কমরেড কাকে বলো তুমি?
কমরেড কাকে বলো তুমি
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বীরেনদা,
ক্ষমার অযোগ্য নই, তাই ক্ষমা করবেন আমাকে।
আপনারা যখন কলকাতা শহর জুড়ে
সাতটা নয়, পাঁচটা নয় -
অন্ততঃ একটা সমুদ্র কাঁপিয়ে
লক্ষ হাতে লাল নিশান উড়িয়ে কবিতা লিখছেন
তখন আমি এইখানে
এই কলকাতার প্রেসিডেন্সী জেলে
চাঁদের লাবন্যকে খুঁজে খুঁজে না পেয়ে
অবশেষে শুধু হাতেই আমার মায়ের মুখে হাত বোলাই;
মা আমার অসুস্থ, রুগ্ন, গায়ে জ্বর।
আমি মে দিবসের কবিতা লিখতে পারিনি বীরেনদা।
রাত্রে আমার ঘুম আসে না
আমি সারা রাত জাগি আর শুনি
আমার ডান পাশে বিশ ছরের কিশোর অসীম
রাতভোর মাকে ডেকে ডেকে হয়রান
জালের এপাশে দাঁড়িয়ে অনেকদিন দেখেনি ও মাকে --
আমার বাঁদিকে রঘুনাথ বীর প্রধান,
বলিষ্ঠ চেহারা
গ্রীসের যুবক যেন পাথর হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
এ জেলে আসার পর ওর বাবা মারা গেছেন
মা সেই থেকে শয্যাশায়ী,
আমি মে দিবসের কবিতা লিখতে পারিনি বীরেনদা
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
একটি মাত্র বোন।
সংসার অচল;
তবু আমি বীরের চোখে জল দেখিনি
পাথরের চোখে জল নেই বুঝি!
কিন্তু এ পাথর হাসে কথা বলে
এ পাথরে লাল সাদা রক্ত আছে
যতটা দরকার
হাসবার জন্য, কথা বলার জন্য --
তবু যখন সেন্সারড এন্ড পাসড --
মায়ের চিঠি আসে
কেমন যেন পাথর, পাথর তবু গলে
আমি বীরের চোখের দিকে তাকালেই
মায়ের চোখের জল দেখতে পাই
আঙ্গুরের ফল বুঝি চোখ থেকে জল হয়ে ঝরে
তাই আমার ঘুম আসে না,
সারারাত সেন্ট্রাল টাওয়ারে ঘন্টার শব্দ শুনি
আর মায়ের চোখের দিকে হাত বাড়াই।
মা আমার ঘুমাও ঘুমাও
আমি তো লক্ষ্মী ছেলের মত তোমার পাশেই বসে আছি।
তবু কি করি বলুন তো
মা আমার ঘুমাবে না
তেষ্টা পেলে জল গড়িয়ে খাবে না।
আমি মে দিবসের কবিতা লিখতে পারিনি বীরেনদা।
আমার বাঁদিকে একটু দূরে
মাথায় গামছা বেঁধে ছটফট করছে অরুণ।
সারা জীবন জেলে থাকার ছাড়পত্র দিয়েছেন ঈশ্বর -
ভুল করবে না বলে ঘর থেকে বেরিয়েছিলো সেই কবে
মা বলেছিলেন, "আশীর্বাদ করি বাছা, জয়ী হয়ে
ফিরে আসিস আমার কোলে।"
অরুণ ফেরেনি মায়ের কাছে।
সেন্ট্রাল বক্সে ঘেরা জেলের ভিতর ছটা বছর কেটে গেছে
ছটা বছর ভুলের তরঙ্গ, ঢেউ সাঁতরে পার হতে হতে
এখন নদীতীরে এসে ক্লান্ত, বেশ ক্লান্ত অরুণ।
ছোট ভাইটি মারা গেছে
বাবা এসে খবর দেন, "মা তোকে দেখতে চায়।
বিছানা ছাড়েনি এখনো।"
প্যারোল পিটিশন, বাবার টেলিগ্রাম, সব
শরৎবাবুর অভাগীর স্বর্গযাত্রা
ধোঁয়ার কুন্ডলী যেন কোথায় মিলিয়ে যায়।
মাকে আর দেখা হলো না অরুণের।
মাথায় গামছা বেঁধে ছটফট করছে অরুণ।
একটু পরে উঠে বসে একটা বিড়ি ধরিয়ে গান গাইবে
না হলে লেনিনের বই টেনে নেবে।
চোখ দুটো গ্রীষ্মে
গ্রীষ্মকে লজ্জা দিয়ে জ্বলে।
আমার আর মে দিবসের কবিতা লেখা হলো না বীরেনদা।
আমার ডান পাশে পঞ্চাশ গজ দূরে ইয়াসিন মোল্লা
মা ওর হারিয়ে গেছে অনেক, অনেক দিন, সেই শৈশবে
সেই থেকে ঘর ছাড়া
কেমন যেন পাঁজা পাঁজা মেঘের গড়ন --
মেশিনের সবগুলো পার্টস ওর চেনা
তবু যেন মেশিন পার্টসের ছন্দে আর জীবনের গানে
বেণী বাঁধা হলো না --
বার বার সংঘর্ষে ছিন্নভিন্ন ইয়াসিন
মেশিনে মাকে পায় নি, জীবনে মাকে পায় নি
তাই উদভ্রান্ত যুবক ইয়াসিন সারা জীবন ঘুরেছে রোদ্দুরে -
সেই ইয়াসিনের মায়ের চিঠি এলো কুড়ি বছর বাদে।
ইয়াসিনকে আমি দেখেছি স্রেফ কাঁপতে
অন্য কোন উপমা-টুপমা এখানে খাটবে না
ইয়াসিন স্রেফ কাঁপছে, মায়ের চিঠি হাতে নিয়ে
এই আমারই সামনে --
ইয়াসিনের মা রোববার আসবেন
এসেছিলেনও।
কিন্তু দীর্ঘ কুড়ি বছর বাদে কুন্তীর প্রবেশপত্র মেলেনি বীরেনদা
চ্যালেঞ্জ গেট পার হয়ে ছেলেকে দেখে যেতে পারেনি
ইয়াসিনের মা -
আমার চোখের সামনে এখন ইয়াসিনের মা
চ্যালেঞ্জ গেটের কাছ থেকে ফিরে যাচ্ছেন ইয়াসিনের মা,
আমার মা।
আমি মে দিবসের কবিতা লিখতে পারিনি বীরেনদা।
পাশাপাশি চারটে ওয়ার্ড
তারই একটাতে কাত হয়ে শুয়ে রবি কবিতা লিখছে
ছন্দকে ছাপিয়ে যায় বুকের জ্বালা
বর্ষার মাতলা নদী;
ঢেউয়ে ছন্দের লাবণ্যকে খুঁজো না --
মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে সে যেন এগিয়ে আসছে
নিজের ভয়ংকর জ্বালা বুকে নিয়ে --
কলম কাগজকে বিদ্ধ করে, সব রক্ত হাতে।
রবি উঠে বসে।
মনে পড়ে আকাশবানীর জল পড়ে পাতা নড়ে --
এমনই সহজ সরল সংবাদ।
"পুলিশের সাথে সংঘর্ষে যুবক নিহত"" --
অজয় নদীর জলে ভেসে গেলো ভাইয়ের লাশ।
সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা নিয়ে যখন দিল্লীর পার্লামেন্ট ভবনে
পোলো খেলছেন ঈশ্বর
তখন ভাইয়ের কপালে, বুকে, পেটে তিনটি বুলেট
যেন তিনাটি সোহাগী চাঁদবদনী মেয়ে জড়ালো, আহা --
রবি উঠে দাঁড়ায়
চারটি ওয়ার্ড তছনছ করে হাঁটছে রবি
ইন্টারোগেশন চেম্বারে মায়ের মুখ
সেই কোন সকালে বেড়িয়েছে
দুটি জেলা, দশটি জেল খুঁজে খুঁজে
এখন ইন্টারোগেশন চেম্বারের সামনে মায়ের মুখ --
হায়, এত বড় বুকে ঐটুকু নিজের ছেলেকেও
আদর করে জড়াতে দেবে না, লুকোতে দেবে না ঈশ্বর !
চোখের জল সামলাতে গিয়ে বুকে আছাড় খেলো পাগল ঘোড়া
মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
রক্ত গড়িয়ে পড়ছে মায়ের
পলাশ শিমুলের দেশে মা তুই লজ্জা দিলি
এত রক্ত লাল!
ইন্টারোগেশন চেম্বার থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন মা
বুকের রক্ত মুখে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন রবির মা -
"একবার কোল খালি হলে মায়ের
বুক আর ভরে না লো ভরে না""
আমি মানি না, আমি মানি না,
আমি মানবো না এই গ্রাম্য প্রবাদ মাগো।
মা তুমি ঘুমাও
আমি তো লক্ষ্মী ছেলের মত তোমার পাশেই বসে আছি।
চাঁদের লাবণ্যকে পাইনি খুঁজে
তাই শুধু হাতে তোমার মুখে হাত বোলাই -
মা তুমি ঘুমাও, ঘুমাও
ঊষার আলোয় ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমাকে ছুটি দিও।
আমার চোখের সামনে এখন রবির মা
ইন্টারোগেশন চেম্বার থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন রবির মা
বুকের রক্ত মুখে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন রবির মা।
আমি মে দিবসের কবিতা লিখতে পারিনি বীরেনদা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ছোট্ট একটুকরো চাতাল
সারাদিন, সারারাত্রি মাথার ওপরে
চল্লিশ-পাওয়ার বাল্ব-এ
ঝুল-কালি গলায় ঝুলিয়ে
ফাঁস দিয়ে ম'রে আছে সূর্য আর চাঁদ---
পায়খানার দুর্গন্ধে
নাক থেকে নাভিমূলে অপারেশনের বেদনা---
আরবের বেদুইন আসামীর বেশে আছি কোলকাতা শহরে।
গঙ্গার জল বা টালার ট্যাঙ্ক সতীন গো, সতীন।
কোনক্রমে তেষ্টা মেটে
যদি কোকিলের সুরে ডাকতে পারি---“সেপাই”!
জোড়াসাঁকোর লক-আপে
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
সমীর রায়ের জেলখানার কবিতার অন্তর্গত। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী
সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক
"বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বন্ধুরা হতাশ অনেকে
কালীঘাটের পটুয়ারা সরার গায়ে ছবি এঁকে বলে থাকে
ক্রেতা এসে দর-দাম করে
পেট ভরে না
তবু দুটো পয়সা পায় :
কিন্তু বন্ধুরা আমার ভারতবর্ষের মতো বিরাট একটা দেশের গায়ে
ছবি আকতে গিয়ে
রং, তুলি হারিয়ে এখন---
এখন কোথায় পা রাখবে ভেবে
নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে
মাথাটা আপনা আপনি নিচু হয়ে আসে।
আমার ভারতবর্ষ।
তুমি আমার হতাশ বন্ধুদের করুণা ক'রো না
এদের সারা দেহে অনেক চাবুকের দাগ আছে
তোমার করুণায় এদের মুখ আরো কালো হয়ে যাবে ;
চোখ কোটরে ঢুকবে।
কিছু রং, কিছু তুলি
আবার আমার বন্ধুদের হাতে এনে দাও।
রক্ত আছে, রক্ত আছে এখনও---
এখনও সোলার হাত নিজের হাত চিনে নিতে পারে।
সোলার হাত নিজের হাত কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)। সমীর রায়ের জেলখানার
কবিতার অন্তর্গত। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের
কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সম্পাদক মহাশয় সমীপেষু,
কবিতায় নিবেদন এই যে
যেহেতু মিসায় বন্দী আমি
কেই অগ্নিসাক্ষী ক’রে বলে দিলেও আমার এই চিঠি
বা লেখা পৌঁছুবে কিনা জানিনা।
একটা জলজ্যান্ত মানুষ যখন বিনা বিচারে বন্দী হতে পারে
তখন ছোট্ট একটা চিঠি বা কবিতা তো মানুষটার গলা জড়িয়ে
বসবাস করবে, এটাই নিয়ম।
তবু বেনিয়ম কিছু কিছু ঘটছে
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সূর্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে গিয়ে
অনেকের আঙ্গুল ভেঙ্গেছে
মারুতি কারখানার একশো টাকার মালিক
একশো কোটি টাকা তুলে মদ না পেট্রোল গিলবে ভাবতে পারছে না---
এশিয়ার মুক্তিসূর্য গ্রহতারা নক্ষত্র
কাকের ডানার পাশে লুকোতে ব্যস্ত
তাই আমার চিঠি বা কবিতায় নিবেদন আপনার কাছে
আমার মাতৃভূমির মানুষের কাছে
যারা আমাদের কথা ভাবছেন, আমাদের কথা লিখছেন
আমাদের উপস্থিতি অমর ;
ফিসফিস করে
কোন “অশ্বথামা হত ইতি গজ”র চালাকি এখানে চলবে না।
কবিতায় নিবেদন এই যে কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)। সমীর রায়ের জেলখানার কবিতার অন্তর্গত
। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক
"বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা। আভ্যন্তরীন জরুরী অবস্থা জারী হওয়ার কিছুদিন আগেই কবিকে
গ্রেপ্তার করা হয়। জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন, তার মধ্যে এই কবিতাটি অন্যতম।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিশুরা সুন্দর মাতৃক্রোড়ে
সেপাইরা সুন্দর জেলে।
কিন্তু হায়, ঈশ্বর যখন ঘন ঘন লাশ চেয়ে পাঠান---
লাশ চেয়ে পাঠান গোপনে
মারণ আসে ঘুঙ্গুর পায়ে “কনে”---
হাওয়াপাগল, মরণপাগল ঝড়ে
পাঁচ হাতিয়া ডাণ্ডাগুলো বনবনিয়ে ঘোরে
জেলখানাটা আস্তে আস্তে ঢুকে যাচ্ছে ঢুকে যাচ্ছে
মানুষ কাটা ঘরে
শিশুরা সুন্দর মাতৃক্রোড়ে
সেপাইরা সুন্দর জেলে।
সেপাইরা সুন্দর জেলে
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, রঞ্জিত গুপ্ত সম্পাদিত " সমীর রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা"
সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজার ঘরের বৌমাগো আমি
অন্ধকারের হায়না
পঞ্চাশ কোটি মাথা বাজি রেখে
যা খুশী ধরেছি বায়না।
হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী
আমার শাড়ী
ছিঁড়ব, ফাড়ব, যা খুশী করব
মহড়া দিচ্ছি তারই।
ইন্দিরাই ভারত ভারতই ইন্দিরা
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, রঞ্জিত গুপ্ত সম্পাদিত " সমীর রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা"
সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পাগলকে আমি হাট পোড়াতে দেখেছি
বাজার পোড়াতে দেখেছি
হাট পুড়িয়ে ছাই গিলতে দেখেছি !
পাগলকে আমি পথ পোড়াতে দেখেছি
ঘাট পোড়াতে দেখেছি
পথ পুড়িয়ে ছাই গিলতে দেখেছি
কক্ষনো ফুলগাছ পোড়াতে দেখিনি
ধর্ম ফুল পোড়াচ্ছে ফুল !
ধর্ম ফুল পোড়াচ্ছে
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তে অনুষ্টুপ, কলকাতা-৯ থেকে প্রকাশিত, রঞ্জিত গুপ্ত সম্পাদিত,
“সমীর রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” থেকে নেওয়া। ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবির আছে সহজ হৃদয়
নরমঝাঁপে নিচ্ছে তুলে
হাতের কাছে যা কিছু পায়!
পাহাড় ঘেরা সবুজবীথি শীতের রাতে রাত
পোহায়!
পদ্য লিখে বাজার খরচ
এবং এবং নজরবন্দী।
হাত দিয়ে নয়, মাথা দিয়ে
রাষ্ট্রকে দেন খাজনা!
রাতের গায়ে রাত লেগেছে
দেখতে শুধু পাননা---
একা এবং অবিশ্রান্ত নিজের মায়ের কান্না!
দেখতে শুধু পান না
কবি সমীর রায় (১.৫.১৯৩৮ - ১০.৩.১৯৯৪)
ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তে অনুষ্টুপ, কলকাতা-৯ থেকে প্রকাশিত, রঞ্জিত গুপ্ত সম্পাদিত, “সমীর
রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” থেকে নেওয়া। মগজ বিকিয়ে দেওয়া কবিদের উদ্দেশে কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি তো রাইফেলের গুলি নই যে সটান্ ছুটে যাবো---
ঢোঁড়া সাপ, আমাকে এঁকে বেঁকে চলতে হয়।
যতই এ-গলি ও-গলি করি না কেন
আমার লক্ষ্য কিন্তু বাদশাহী সড়ক,
অবশ্য আমরা যখন পৌঁছব তখন সেটা আর বাদশাহী থাকবেন,
বাদশাহরা তার আগেই ইতিহাসের পচা ডোবায় পেটফোলা
কোলাব্যঙের মতো
চিৎপটাং হয়ে পড়ে থাকবে
ফলে, পদ্ধতিটা বুঝে নেবার জন্য দেওয়ালগুলোর উপর
নজর রাখতে হয়,
কারা কখন কীভাবে কেন লিখছে এবং কী লিখছে
কারা মুছে দিচ্ছে এবং কারা তাবৎ মোছামুছি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে
আবার লিখছে,---- সবই আমাকে মুখস্ত করতে হয়।
যখন দেখি, ‘সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’ তখন বুঝতে পারি
বিষয়টা সহজে হবার নয় | কিংবা যখন দেখি অমুকচন্দ্র তমুককে
ছারপোকা-মার্কা বাক্সে ভোট দিন, তখন বুঝতে পারি বাক্সের আড়ালে
মস্ত কলা এবং কৌশল আছে | অথবা যখন অধ্যয়ন করি ----
‘এশিয়ার মুক্তিসূর্য জিন্দাবাদ’ তখন রাস্তার মোড়ে একটা ভিখিরির
বাড়ানো হাত ঠেলে সরিয়ে দিয়ে আমি এই দু’নম্বর মুক্তিসূর্যের দিকে
ভুরু কুচকে তাকাই---- ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে চোখ পুড়ে যায়, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়,
কিন্তু ঝলসানো তামার থালার মতো আকাশ আমাকে
মুক্তির কথা কিছুই বলে না।
যখন পড়ি, ‘কমরেড কানু সান্যালকে জেল ভেঙে ছিনিয়ে আনুন’----
একটি শ্লোগানের জন্ম
কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্য্য (৩.৫.১৯৩৮ - ১৩.১.২০১৪)
তখন ভাবি এঁরা অন্যের উপর দায়িত্ব দিয়ে
চলে গেলেন কেন? কিংবা আলকাতরা ও ব্রাশের নৈশসংঘর্ষে
যখন দেওয়ালে ফুটে ওঠে, বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’ তখন
ক্ষমতার আগে ‘রাজনৈতিক’ শব্দটা নেই ব’লে আমি আঁতকে উঠি এবং
খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং চিন্তা করতে করতে বার তিনেক
হোঁচট খেয়ে, একটা গুঁতায়মান ষাঁড়কে ধাপ্ পা মেরে,
সেই সারি সারি ভাঙা টালির ঘরগুলোর সামনে এসে দাঁড়াই। এবং
সমস্ত নিস্তব্ধ উনুন, নর্দমার গড়ানো নোংরা জল, পচা গোবর,
বিচুলির বোঁটকা গন্ধ, আর কানে আঙুল-দেয়া খিস্তির বান
এড়িয়ে এ-গলি ও-গলি ক’রে শেষ পর্যন্ত পল্টুদের দরজায় এসে
কড়া নাড়ি ; কিন্তু খুব সূক্ষ্ম দরকার থাকা সত্ত্বেও পল্টুকে পাই না----
তা’র নাকি দুটো-দশটা ডিউটি।
পল্টুকে পেলাম না বলে আমি অতিশয় মুষড়ে পড়ি এবং
হতাশ হ’তে হ’তে পৃথিবীর সমস্ত শ্লেগানের অর্থ এবং
অন্তঃসারশূন্যতা বিষয়ে যখন মনে মনে তর্ক ক’রে একমত হই এবং
আলবেয়ার কাম্যু কিংবা বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাসের নায়কের মতো
আমার ফোক্ লা অস্তিত্বের বিলকুল গহন প্রদেশে যখন
মহান শূন্যতার রুচিকর ঘনঘটা দেখা দিতে আরম্ভ করে এবং
আমি ক্রমশ রাতের হাওড়া ব্রিজের মতো বড্ড একা কিংবা অভিমানী
শুশুকের মতো
ডোবা-ভাসা হয়ে যাই--- ঠিক সেই সময়ে
একটা খোলার ঘরের বারান্দায়
ঠান্ডা উনুনের পাশে
দু’হাত কোমরে রেখে
খাটিয়ার উপর ডান পা তুলে দিয়ে
গন্ গনে রাগ এবং কান্নায় ফুঁসে-ওঠা একটা আট-দশ বছরের
উলঙ্গ ছেলে
গুলমার্গ থেকে বিবেকানন্দশিলা পর্যন্ত থর থর করে কাঁপিয়ে দিয়ে
ভারতবর্ষের সমস্ত দক্ষিণবাহিনী নদীকে
বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে
সমস্ত অস্ত্র-কারখানা বিমানবন্দর, সমস্ত বেনামী জমির দলিল
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার খসড়া, যৌন সাহিত্যে আগুন লাগিয়ে দিয়ে
বিশাল পর্বতমালা জলস্রোত মাঠ-ময়দানের সমস্ত
খসশান জমায়েতকে তিনটি শব্দের মধ্যে স্তব্ধ ভয়ঙ্কর তোলপাড় ক’রে
খাটিয়ার উপর লাথি মারতে মারতে তার
সুকেশিনী ধূর্ত সৎমাকে চীত্কার করে বললো----
‘ভাত দে হারামজাদী’।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
গোকুলকে সবাই জানে, চিনে রাখলো ডি.আই. বি’র লোক
স্টেট্ স্ ম্যান পড়ার ফাঁকে আড়চোখে, গোকুলের মা
অন্ধকার ঘন হ’লে বলেছিলো, ‘আর নয়, এবার ফিরে যা’----
ফেরার আগেই খাকি রঙের বিদ্যুৎ দরজায়,
রিভালবার গর্জে ওঠে, গর্জায় গোকুল,
রাস্ট্রীয় ডালকুত্তা ঝুঁকে ছিঁড়ে নিলো এক খাব্ লা চুল
রাতকানা মায়ের চোখে কুরুক্ষেত্রে বেল্টের পিতল, বুট,
. জলস্রোতে নামে অন্ধকার,
শবচক্র মহাবেলা প্রশস্ত প্রাঙ্গণ,
পাথরে পাথরে গর্জে কলোনির সুভদ্রার শোক।
অধ্যাপক বলেছিলো, ‘দ্যাট্ স্ র-ঙ্ , আইন কেন তুলে নেবে হাতে?’
মাষ্টারের কাশি ওঠে, ‘কোথায় বিপ্লব, শুধু মরে গেল অসংখ্য হাভাতে !’
উকিল সতর্ক হয়, ‘বিস্কুট নিইনি, শুধু চায়ের দামটা রাখো লিখে।’
চটকলের ছকুমিয়া, ‘এবার প্যাঁদাবো শালা হারামি ও. সি-কে।’
উনুন জ্বলেনি আর, বেড়ার ধারেই সেই ডানপিটের তেজী রক্তধারা,
গোধূলিগগনে মেঘে ঢেকেছিলো তারা।
গান্ধীনগরে এক রাত্রি
কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্য্য (৩.৫.১৯৩৮ - ১৩.১.২০১৪)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“পিঞ্জরে বিহঙ্গ বাঁধা, সঙ্গীত না মানিল বন্ধন।”
---বক্সা দুর্গস্থ রাজবন্দীদের প্রতি : রবীন্দ্রনাথ
কাল যাঁরা জেলে জরুরী গরাদের ফাঁকে চিবুক রেখে
রাত-জাগা চোখে ভোরের আকাশে টুকরো টুকরো ;
চলন্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে তাকিয়েছিলেন,
আজ তাঁরাই সমস্ত জেলখানার মালিক।
আজ যাঁরা প্রস্রাব করতে গেলেও, কোমরের শেকলের একপ্রান্ত
দরজার বাইরে গোঁফের তা-দেওয়া হাতে ধরা থাকে---
আজ যাঁদের ঘষা এনামেলের থালার উপর এক খাবলা ভাত
ভাতের উপর দু'হাতা জলের মত ডাল,
ডালের উপর ভেসে বেড়াচ্ছে আধখানা শুকনো পোড়া লঙ্কা, আর
উত্তর পূর্বদিগন্তে ভেসে বেড়াচ্ছে কালবৈশাখী বজ্রগর্ভ মেঘমালায়
ভারতীয় আগুনের শিরা উপশিরা---
যাঁদের শরীরের প্রতিটি অংশকে দিনের পর দিন খুবলে নেওয়া হয়েছে
যাঁরা রোজ উঁচু পাঁচিলের উপর এক টুকরো এশীয় রুটি নিয়ে ঝানু দাঁড়কাক
. আর চতুর
পাতিকাকের লড়াই দেখেন এবং
ডান হাতে বন্দুক আর বাঁ হাতে দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে
কান-খোঁচানো সেপাই ছাড়া বছরের পর বছর
মা-বাবা ভাই-বোন বন্ধু-বান্ধব স্ত্রী ছেলে মেয়ের মুখ কিংবা
মানুষের অধিকার কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্য (৩.৫.১৯৩৮ - ১৩.১.২০১৪)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা
সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
CENSORED AND PASSED ছাপমারা পোস্টকার্ডও দেখতে পান না,
অথচ যাঁদের বুকে নেচে ওঠা আগুনে স্বাধীন মাতৃভূমির
বিশাল স্বপ্ন এবং মধুরতম বন্দনাগান---
মশার হুল এবং গোয়েন্দার চোখ যাঁদের শরীর ফুঁড়ে ফুঁড়ে
গণতান্ত্রিক কাঁথা সেলাই করছে---
তাঁরাই একদিন ঐতিহাসিক নিয়মে নতুন সরকার গঠন করতে পারেন,
এবং সমস্ত জেলখানার দড়জা খুলে দেবেন।
যারা রোজ কলে কারখানায় ক্ষেতে খনিতে খামারে দপ্তরে
কোটি কোটি মানুষের গায়ের ঘাম এবং কলজের রক্ত
চমৎকার ভাবে চুষে নিয়ে ফ্যাকাশে হাতগুলো গ্রামে গ্রামান্তরে
নগরে বন্দরে বস্তিতে ফুটপাতে ছুঁড়ে দেয়---
তাদের একহাত যখন ট্রাম বাসের গায়ে লেখে
“হিংসা বর্জন করুন নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচতে দিন”
অন্য হাতে তখন লকআপে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য
গুহ্যদ্বার দিয়ে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয়, এবং
বেলেঘাটা বারাসাত বা বরানগরের রাস্তাঘাটে
এ ফোঁড় ও ফোঁড় যুবকের লাশ উলটে রাখে, আর
জেলের ভিতরে যখন তখন পাগলাঘন্টিতে
বিসর্জনের বাজনা বেজে ওঠে---তখন
এদের মুখে “ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি” শুনলে
“হরেকৃষ্ণ” ছাপমারা নামাবলী গায়ে জড়ানো একটা ঘেয়ো আর
দুর্বল বাঘের লাফ-দেওয়া, তিনটে বড় বড় কষ দাঁতের
ফাঁকে ফাঁকে মাংসের আঁশ-লেগে থাকা ছবি
চোখের উপর ভেসে ওঠে।
সুতরাং উপদেশ নয়, নীতিবাক্য নয়,
আবেদন নয়, প্রার্থনা নয়,
লক্ষ লক্ষ বুকের খোলা উনুনে টগবগ টগবগ করে ফুটছে
দাবি।
দাবি---
এই নিরন্ন স্তব্ধ মধ্যরাত্রির উদারতায় নীল নক্ষত্রের
কোটি কোটি মশাল জ্বালানো মুক্ত আকশের নীচে
ভারতবর্ষ নামক এই বিশাল নিখুঁত ভাবে নির্যাতিত
মনুষ্যত্বগ্রাসী জেলখানা থেকে
সমস্ত রাজনৈতিক বন্দী সহ
সমস্ত গরীব মানুষের শর্তহীন
মুক্তি চাই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি তোমাদের অতি চেনা বন্ধু
আমি নিপিড়িত মানুষের শিল্পী
আমি জনতার মাঝে গিয়ে গাই গান
আমি লড়াইয়ের সুরেতে মেলাই প্রাণ
দেখি যে সেই নীল জীবনটা আজকে
আজ বদলাতে হবে সমাজকে,
আমি নতুন সমাজের নতুন স্বপ্ন
সুরে প্রাণে প্রাণে গান ছড়াতে চাই।
আমি মানি না প্রভুত্বের শোষণ
আমি মানব না দাসত্ব বন্ধন,
আমি চাই তাই সংঘাত করতে দুনিয়ায়
মানুষে মানুষে ভালবাসাই
আমি করি না অন্যায় সন্ধি
আমি অত্যাচারের প্রতিবন্ধি,
আমি জনতার কন্ঠে প্রতিবাদ কল্লোল
আমার ছন্দ সুরে মেলাতে চাই।
আমি তোমাদের অতি চেনা বন্ধু কথা - কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)।
কণ্ঠ - সুরেশ বিশ্বাস, সমবেত কণ্ঠ - পিউ দত্ত, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, অনুশ্রী চক্রবর্তী, তপন সিংহ, রুপম
চক্রবর্তি, অসীম গিরি, অসীম রায় এবং অমিত রায়। সুরেশ বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন
আছে ক্রোধে মিশে” এর গান। গানটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শত শহীদের রক্তে রাঙা পতাকা
আজ আমরা বয়ে নিয়ে চলেছি
মৃত্যুভয় জয় করে ঝঞ্ঝা ঝড় ভেদ করে
বিপদ বাধা দূর করে এগিয়ে চলেছি কমরেড
আমরা সর্বহারা আমরা শোষিত
তাই তো তুলেছি হাতে মুক্তি পতাকা কমরেড
বিশ্বটা করবো জয় আমরা একদিন
সমতা একতা গড়বো একদিন---একদিন
জনতার সমাজ গড়ার
শপথে একসাথে
দুনিয়ার নিপীড়িত জনতা একসাথে
হাতে নিয়ে হাতিয়ার এগিয়ে চলেছি কমরেড
পৃথিবীর বুকেতে শান্তি হাসি গান
ছড়াবো দুহাতে আনবো নতুন প্রাণ---নতুন প্রাণ
থাকবে না শোষণ শাসন
দাসত্বের কঠিন বাঁধন
শোষণহীন সমাজ গড়ার
স্বপ্ন দেখি বার বার
তাই তো মোরা মুক্তির গান গেয়ে চলেছি কমরেড।
শত শহীদের রক্তে রাঙা পতাকা কথা - কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)। কণ্ঠ - সুরেশবিশ্বাস, সমবেত
কণ্ঠ - পিউ দত্ত, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, অনুশ্রী চক্রবর্তী, তপন সিংহ, রুপম চক্রবর্তি, অসীম গিরি, অসীম রায় এবং অমিত রায়। সুরেশ
বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” এর গান। গানটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অহল্যা গো মা জননী
বুক ভেজা তোর চোখের পানি
দরিয়াতে তুফান তোলো রে---
পাহাড় গলা অশ্রু জলে রে
ওগো মা আমার মা জননী।
কান পেতে শোন অহল্যা মা
পাহাড় তলে রে---
কাঁদে তরাইয়েরও সপ্ত কন্যা,
অহল্যা গো ডাক এসেছে
তোর খুনে ওদের খুন মিশেছে রে
ও পাই ঝড়ের আভাস রে।
চোখ মেলে দেখ অহল্যা মা
তরাই ধানের শিষে
সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে
কিষাণের ঐ লাঙল ফলায় রে
কেউ জানে না কখন কোথায় রে
আগুন পোড়ায় সবই রে।
অহল্যা গো মা জননী কথা - কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)। কণ্ঠ - সুরেশবিশ্বাস, সমবেত
কণ্ঠ - পিউ দত্ত, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, অনুশ্রী চক্রবর্তী, তপন সিংহ, রুপম চক্রবর্তি, অসীম গিরি, অসীম রায় এবং
অমিত রায়। সুরেশ বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” এর গান। গানটি সৌজন্যে
Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নদীর তরঙ্গে ঐ খেলে মরণ খেলা রে
তবুও মরণ খেলায় মাতিরে,
শোন শোন শোন মাঝি, শোনরে ভাই
সারাদিন ভাবি আর নেইয়া বাই,
তরি আর ঘর আজ একাকার
ভাঙ্গা চালের বাঁধন ভার
বর্ষা কাটে প্রহর গুইনা রে
কে জানে কার পৌষ মাস
মোদের যে হয় সর্বনাশ।
বছর ভইরা আঁন্ধার নামে রে।
নদীর তরঙ্গে ঐ খেলে মরণ খেলা রে
তবুও মরণ খেলায় মাতিরে,
“হেই মারি ভাঙ্গা বৈঠা যায়
হায় হায় কি উপায়
হেই যদি ছেঁড়া পাল বইয়া যায়
হায় হায় কি উপায়, বল মাঝি ভাই”
নদীর তরঙ্গে ঐ খেলে মরণ খেলা রে কথা - কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)।
কণ্ঠ - সুরেশবিশ্বাস, সমবেত কণ্ঠ - পিউ দত্ত, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, অনুশ্রী চক্রবর্তী, তপন সিংহ, রুপম চক্রবর্তি, অসীম
গিরি, অসীম রায় এবং অমিত রায়। সুরেশ বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” এর
গান। গানটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
বারো মাসে তের পার্বন
শুইনা আছি সারা জীবন
শূন্য হাঁড়ি চাইয়া হাসে রে
এমনি করে আর কতকাল
ফুটা নৌকায় হাসে চাঁদুরে।
তাই ভাবি আজ মনে মনে
পাই কেন ভয় অকারণে
হারাইবার আর কিছুই যখন নাই
আয় তবে আয় সবাই মিলা
বৈঠা দাঁড়াই তুলি তুফান রে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও বাউল , ও বাউল, একতারা
তোর টুং টুং টুং টুং বাজে।
বাউলরে তোর একতারাটা
টুং টুং বাজে।
জানিস কি তোর মনের মানুষ
কুনখানে যে আছে।
রে টুং টুং
একতারাটা বাজে।
মনের আগল খুলে বাউল
চোখ মেলে তুই চা,
কোন দরদী মানুষ যেথা
সেখানে তুই যা, আছে
হাটে মাঠে ক্ষেতে কলে
ফিরে পাবি তারে গেলে
আছে এই ভুবনের মাঝে।
বাউলরে তোর একতারাটা
টুং টুং বাজে।
ও বাউল ও বাউল একতারা কথা - কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)।
কণ্ঠ - সুরেশবিশ্বাস, সমবেত কণ্ঠ - পিউ দত্ত, কেয়া চট্টোপাধ্যায়, অনুশ্রী চক্রবর্তী, তপন সিংহ, রুপম চক্রবর্তি, অসীম
গিরি, অসীম রায় এবং অমিত রায়। সুরেশ বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” এর
গান। সুরেশ বিশ্বাসের একমাত্র গানের ক্যাসেট “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” এর গান। গানটি সৌজন্যে Rajesh
Datta YouTube Channel.
একতারের ঐ সুরে সুরে
গানা বাউল গান,
মরা নদীর বালুচরে
আবার ডাকুক বান।
আছে হাতের কাছে মিতের চাবি
মনের মানুষ খুঁজলে পাবি
আছে এই মানুষেরই মাঝে
রে টুং টুং একতারাটা বাজে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার ময়না মাসী লো
আমি খাই পান্তা ভাতে ঘি
আমার পেটের ছেলে রাজা হল
গরবে মরি
চাষী মজুর ভোট দিয়ে ঐ বানালো নেতা
আমার শোবার ঘরে নতুন হল যতেক চেঁড়া ক্যাঁতা
এখন আমার ছেলের টেকো মাথায়
কুসুম তেলের গন্ধ কি
নিত্যনিত্য খায় যে খোকা
ঘি দুধ মাখন মোয়া
সে যে হিল্লী-দিল্লী ঘুরে বেড়ায়
যায় না টিকি ছোঁওয়া
আমার মাটির দেয়াল পাকা হল
এখন আমার ভাবনা কি
আগে যেতাম পায়ে হেঁটে
কালীঘাটে বাজারে
এখন আমি বাজার করি
রিক্সাগাড়ি চড়ে
আমি বুড়ী নাকে নোক পরে
নাচি তা ধিন ধিনতা ধিন
আমার ময়না মাসী লো কবি সুরেশ বিশ্বাস (১৯৩৮ - ৩১.১.২০০৩)।
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
ভোট দিয়ে ঐ করলো বড়
যারা মোর ছেলেরে
তারা বুনো ওলের ঘন্ট খেয়ে
গাল কিটিয়ে মরে
এখন আমার ছেলে নিজে যে খায়
মাছের মুড়ো গাওয়া ঘি
আমার বাড়ি চাষী মজুর
আসে শত শত
তারা মোর ছেলেরে মান্যিগণ্যি
করে দেখি কত
আমি রাণী সেজে টিভি দেখি
আমার বাড়ি খাটে দশটা ঝি
আমার ছেলে মন্ত্রী হল গরীব লোকে বলে
কত আমলা পুলিস সেলাম করে
কপালে হাত তুলে
কত ধনী এসে প্রশ্ন করে, বড়দা ভাল আছ কি
কত ধনী এসে হ্যাণ্ডশেক করে
ঘুষ দিয়ে যায় কত কি...
আমার ময়না মাসী লো
আমি খাই পান্তা ভাতে ঘি...
मिलेरे मिले मिले मिलेरे मिले मिले कथा - कवि सुरेश बिस्वास, फनकार - सुरेश बिस्वास, पिउ दत्ता, केया
चट्टोपाध्य़ाय, अनुश्री चक्रबर्ती, तपन सिंह, रूपम चक्रबर्ती, असीम गिरि, असीम राय और अमित राय। यह कवि सुरेश बिश्वास
का एकमात्र गणसंगीत का कैसेट “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” अर्थात “सुप्त या निद्रित अग्नि मिला हुआ है क्रोध में”
का गीत। इस गीत के विडिओ के लिए हम आभारी है - Rajesh Datta YouTube Channel.
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
मिलेरे मिले मिले मिलेरे मिले मिले
मिले एक संग, गर हम मिले एक संग।
फिर न सही धरती रोशन पा सकती है
ग़ुलामी की जंजीरें टूट सकती है
उजड़ा संसार बसाया जा सकता है।
गर हम मिले एक संग, मिले एक संग।
मुर्झाई जीवन तले खिल सकती है
समता की पुकारनें फिर से ढूँढ सकती है
खुशियों कि रंग से मन को रंग सकती है
अपनी बाजुओं में शक्ति ला सकती है
गर हम मिले एक संग, मिले एक संग।
जब नीली गगन में बिजलियाँ चमकती है
चारों ओर काली घटा शोर मचाती है
हम क्यों न एक मन हो घटा बन जाए
दुनिया में एक बड़ा तुफान मचा दे
गर हम मिले एक संग, मिले एक संग।
आओ हम जलाएं अपनी जीवन दिया
अंधेरे से उजाला हो घर नया नया
आओ हम जलाए आज क्रान्ति की मशाल
तोड़ना है ये टेड़ा हुआ शोषण के जाल
गर हम मिले एक संग, मिले एक संग।
वीर शहीदों मेरे दोस्तों
कथा - कवि सुरेश बिस्वास, फनकार - सुरेश बिस्वास, पिउ दत्ता, केया चट्टोपाध्य़ाय, अनुश्री चक्रबर्ती, तपन सिंह, रूपम
चक्रबर्ती, असीम गिरि, असीम राय और अमित राय। यह कवि सुरेश बिश्वास का एकमात्र गणसंगीत का कैसेट “সুপ্ত আগুন
আছে ক্রোধে মিশে” अर्थात “सुप्त या निद्रित अग्नि मिला हुआ है क्रोध में” का गीत। नीचे प्लेयर में गाना सुनिए . . .।
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
वीर शहीदों मेरे दोस्तों
सब को मेरा सलाम
अमर हो तुम अमर प्रेमी
. जनका की प्यारे साथी
. सबको मेरा सलाम।
कसम है ये धरती-माता
आखरी दम लड़ जाएंगे
. जनता की सेवा में अपनी
. जान दे देंगे
जो तुम्हारा खून गिरा है
वह खून को मेरा सलाम।
ये गुलस्ताँ है हमारा
हम न भूखे रहेंगे
ज़ूल्म शाही के राज हुकुमत
. हम बदलके रहेंगे
तुमने जो हमें राह दिखाया
वह पे चलते रहेंगे॥
बदल डालो ये दुनिया कथा - कवि सुरेश बिस्वास, फनकार - सुरेश बिस्वास, पिउ दत्ता, केया चट्टोपाध्य़ाय,
अनुश्री चक्रबर्ती, तपन सिंह, रूपम चक्रबर्ती, असीम गिरि, असीम राय और अमित राय। यह कवि सुरेश बिश्वास का
एकमात्र गणसंगीत का कैसेट “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” अर्थात “सुप्त या निद्रित अग्नि मिला हुआ है क्रोध
में” का गीत। इस गीत के विडिओ के लिए हम आभारी है - Rajesh Datta YouTube Channel.
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
बदल डालो ये दुनिया को
अब ना रोना मरना है
देश हमारा भूखा प्यासा
ये आज़ादी कैसे है...॥
जाग उठो मजदूर किसानों
कमरबांध तैयार हो
अपनी दुशमन से है लड़ना
आम जनता एक हो
ये जीने का सवाल है
ये रोटी का सवाल है
अब अपना हक छीन लेना है॥
वक्त पुकारे मिलके आओ
कसम खाओ एक साथ
शोषण से मुक्ति के लिये
हम लड़ेंगे एक साथ
हम पीछे हट न आयेंगे
आगे बड़ते जैएंगे
हम सब की राह आज एक है॥
आज एक ऐसा राज लाना है कथा - कवि सुरेश बिस्वास, फनकार - सुरेश बिस्वास, पिउ दत्ता, केया
चट्टोपाध्य़ाय, अनुश्री चक्रबर्ती, तपन सिंह, रूपम चक्रबर्ती, असीम गिरि, असीम राय और अमित राय।। यह कवि सुरेश
बिश्वास का एकमात्र गणसंगीत का कैसेट “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” अर्थात “सुप्त या निद्रित अग्नि मिला
हुआ है क्रोध में” का गीत। इस गीत के विडिओ के लिए हम आभारी है - Rajesh Datta YouTube Channel.
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
आज एक ऐसा राज लाना है
शान्ति से हरा भरा रहेगा ये चमन, ये चमन
वक्त कल अपनी अदालत से फैसला देगा,
आज हो या कल धरती अपनी ही होगी।
इनक्वलाब ज़िन्दाबाद, ज़िन्दाबाद।
सुख दिन लाने के लिए जागा इनसान
दुख न पाएगा ऐसा उठा है तूफान,
मिलके आज उठा कदम
सुखी दिन लाएंगे हम, नारा ये उठा साथ
इनक्वलाब ज़िन्दाबाद, ज़िन्दाबाद।
आओ मिलजुलके ऐसा काम करें
दुनिया में अपना नाम रोशन करें
आज जो गिरा हुआ जुल्म से दबा हुआ
ये सभी आवाज़ क्रान्ति लाएगी,
इनक्वलाब ज़िन्दाबाद, ज़िन्दाबाद।
मजदूरों चाहे तो अपना कथा - कवि सुरेश बिस्वास, फनकार - अनुश्री और बिपुल चक्रबर्ती। यह कवि सुरेश
बिश्वास का एकमात्र गणसंगीत का कैसेट “সুপ্ত আগুন আছে ক্রোধে মিশে” अर्थात “सुप्त या निद्रित अग्नि मिला
हुआ है क्रोध में” का गीत। इस गीत के विडिओ के लिए हम आभारी है - Rajesh Datta YouTube Channel.
इस पन्ना का बैकग्राउंड छवि अंडमान सेलुलर जेल का एक भीतरी बरामदा का है, जो किसी भी राष्ट्र द्वारा अपने नागरिकों पर चरम अत्याचार का प्रतीक है। यही दीवारें और सलाखों स्वतंत्रता- प्रेमी लोगों की जान को दाँव पर लगाकर विरोध का प्रतीक भी है!
|
|
|
इनक्वलाब ज़िन्दाबाद
मजदूरों चाहे तो अपना
मजदूरों चाहे तो अपना भाग बदल सकते हैं
मजदूरों चाहे तो फिर ये दुनिया बदल सकते हैं
इतनी हिम्मत है मजदूरों कि उठाओ नारा
इनक्वलाबी ज़िन्दाबाद---
एकसाथ जीना है तो एकसाथ रहना है
एक साथ रहना है तो एकसाथ लड़ना है
एकसाथ लड़के इस समाजको बदलना है
जागो मजदूर किसान एक हो---
एकसाथ उठा कदम आओ एकसाथ आगे बढ़े
एकसाथ दुषमनों से आ मुक़ाबला करें
हाथ में लो हथियार
साथीयों सब हो तैयार
चल आगे बढ़ा कदम
दुशमन हो जा होशियार---
वर्ग संघर्ष मे होगा आखरी ए फैसला
हम धूल में मिलायेंगे दुषमन का हौसला
वर्ग संघर्ष द्वारा प्रतिष्ठित होगी एक दिन
दुनिया मे साम्यवाद---साम्यवाद एक हो॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঐখানে আলোয় ধূসর অন্ধকারে
মা সিংহবাহিনীর গেরুয়া মন্দিরে
হোমযজ্ঞের লেলিহান অগ্নি...
পুণ্যাতুর লোভী হাতে, ধান্যশস্য ছিটিয়ে
অসহায়-মূক আদিবাসীদের নিয়ে
শুদ্ধিকরণ চলে---চলতেই থাকে
পেটভরে, মাড়ভাত দেওয়ার কেউ নেই হে
এ পৃথিবীতে
আছেন তালে সবাই ধর্মান্তরকরণে।
নিরাশ্রয় কতিপয় মানুষের অন্তর্ধানে,
দিনে দিনে
সে কোন স্বর্গের সিঁড়ি?
যতোদিন এ পৃথিবীতে রয়েছে জীবন---
ভুখা-শরীরী---
হয়ে রক্তচক্ষু ধর্ম, কেবলি তড়পায়।
---এ কোন ধর্ম? রয়েছে যেথায়
মানুষ ব্যথিত, নিঃসহায়
এমন সর্বনেশে শান্তি আর কোথায়!
ধর্মান্তর পর্ব কবি দেবী রায় (জন্ম ১৯৩৮)। ২০০৯ সালে
প্রকাশিত কবির একটুকরো মেঘ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
অন্য কিছু নয়, শুধুমাত্র পানীয় জলের দাবিতে
সরোষে বিক্ষোভ দেখায়
দলবদ্ধ ঐ বানভাসিরা!
মেঘ ও রৌদ্রের লুকোচুরি
---কোন পথে?
ত্রাণের চিঁড়েমুড়ি
যাওয়াবা আসে ছিটে ফোঁটা!
“মরতে যখন হবে মরব সেই গাঁয়ে”
জলের পরে মাচা বেঁধে সংসার, অন্তত বাঁচার চেষ্টা
অথচ, কাজিয়া এমন পর্যায়ে
সেই দলবাজি, সর্ষের ভিতরে ভূত, একচক্ষু নীতি
প্রশাসনের
ক্ষুধার্ত মানুষজন থালা হাতে---ত্রাণের
আশায়! চারদিকে জল আর বিধ্বংসী জল
পরপর গ্রামের
কোনও ঘরের চাল পর্যন্ত দেখা যায় না আর।
বন্যা ১৪০৭ কবি দেবী রায় (জন্ম ১৯৩৮)। ২০০৯ সালে প্রকাশিত কবির একটুকরো মেঘ
কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
স্রেফ জেগে আছে কয়েকটি গাছের মাথা
বিধ্বংসী এই জলের ভিতরে উঁকি দিচ্ছে পানকৌড়ির
মত এক একটি বাড়ির কংকাল! সর্বনাশের
দশদশা! অবশিষ্ট বলতে কিছুই নেই আর
না ত্রাণ, না ওষুধ, না ডাক্তার ...
আর এরই মধ্যে কে বা কারা আগামী নির্বাচনের
ঘুঁটি সাজিয়ে যায়!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“ক্লৈবাং মাস্ম গমঃ পার্থ”
রিমোট কন্ট্রোল, পাশবশক্তির ওই ভাবপ্রচারের
অর্থ কী?
বিস্ফোরণের পিছনে রয়ে যায়
অগণিত মানুষের হাহাকার ; বিধবার অশ্রুপাত,
অনাথের ক্রন্দন...
ওই হিংস্রতা
কী হেতু?
বাতাস কোন দিকে বহমান লক্ষ্য করো
জীবনের মূল স্রোত কোন পথে, এ সাদা
গভীর সত্য একজন সাধারণেও জানে!
বিপ্লবী তুমি,
যাও---মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে
“মরিতেই হইবে, ইহা অপেক্ষা
ধ্রুব সত্য কিছুই নাই ; তবে...... কোনো মহৎ
সৎ উদ্দেশ্যের জন্য দেহপাত করো না কেন?”
প্রমাণ করো, “এ জীবন বলিপ্রদত্ত!"
রিমোট কন্ট্রোল কবি দেবী রায় (জন্ম ১৯৩৮)। ২০০৯
সালে প্রকাশিত কবির একটুকরো মেঘ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ওরা যে নব হাজার মনের
ওরা যে নব হাজার মনের
বিপ্লবী চেতনাতে
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ওরা গিয়েছিল রাতের আঁধারে
সূর্য আনার জন্য
ওরা গিয়েছিল রাতের আঁধারে
সূর্য আনার জন্য
সারা দেশ জুড়ে রক্ত পদ্ম
সারা দেশ জুড়ে রক্ত পদ্ম
ফোটালো যে অনন্য
দেখিছে সে ফুল হাজার মানুয
বাংলার পথে পথে
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ভেবো নাগো মা কবি মুস্তাফিজুর রহমান (১.১.১৯৩৯ - ১২.১২.১৯৯৮)। সুর ও কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ঠিক পরবর্তী সময়েরই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি সংকলন হল একটি এলপি রেকর্ড যার নাম
ছিল “বাংলাদেশের হৃদয় হতে”, প্রকাশিত হয়েছিল গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে। সেই সংকলনের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Md.
Mansur Ali Biswas YouTube Channel.
চেয়ে দেখ রাঙা প্রাতে
দুঃখ কোরো না মাগো আমার
চেয়ে দেখ রাঙা প্রাতে
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ভেবো নাগো মা
তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ওরা এঁকে গেছে সবুজ মাটিতে
সজীব প্রাণের স্বপ্ন
ওরা এঁকে গেছে সবুজ মাটিতে
সজীব প্রাণের স্বপ্ন
দলে দলে ফুটি সে ফুল এবার
দলে দলে ফুটি সে ফুল এবার
বিলায়ে মধুর গন্ধ
দুঃখ কোরো না মাগো আমার
দুঃখ কোরো না মাগো আমার
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ঝান্ডা মোদের লাল সাথী ভয় মানি না
ঝান্ডা মোদের লাল সাথী ভয় মানি না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
আসুক ঝড় বজ্রাঘাত বাধা মানবো না
আসুক ঝড় বজ্রাঘাত বাধা মানবো না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
ভাঙবো তালা খুলবো দ্বার আমরা হটবো না
ভাঙবো তালা খুলবো দ্বার আমরা হটবো না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
ভুখা পেট শুকনো মুখ স্ত্রী শিশুদের
ভুখা পেট শুকনো মুখ স্ত্রী শিশুদের
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
ঝান্ডা মোদের লাল সাথী ভয় মানি না কথা - কবি জলি বাগচী (জন্ম ১৮.১.১৯৩৯)। সুর - আমেরিকার
লোকগান We shall not ---We shal not be moved অবলম্বনে। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত
“গণবিষাণের গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০০১” থেকে নেওয়া। রচনাকাল ১৯৯০।
মাথার উপর ছাদ আকাশ আমরা টলবো না
মাথার উপর ছাদ আকাশ আমরা টলবো না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
জানি এ পথ কাঁটা ছড়ানো বাধা মানবো না
জানি এ পথ কাঁটা ছড়ানো বাধা মানবো না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
ঝান্ডা মোদের লাল সাথী ভয় মানি না
ঝান্ডা মোদের লাল সাথী ভয় মানি না
আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো আমরা দৃপ্ত পায়ে চলবো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
পোড়া দেশে আইলো যে আকাল রে
ঘরে ঘরে দ্যাখ রে কি হাল।
ওরে আষাঢ় গ্যালো শাওন গ্যালো
মেঘ কোথা যে মুখ লুকালো
মাঠের বুক ফুটা ফাটা রে।
হাট বাজারে হাহাকার
অন্ধ বোবা সরকার
দুঃখীজনের দুঃখ সে তো বোঝে না।
জোতদার আজ পুলিশ পোষে
মোরা লড়বো বাঁচার আশে
ঠিক করে ফ্যাল এবার পথের নিশান রে।
মোদের শত্তুর জোতদার সরকার
জোঠ বেঁধে চল লড়বি এবার
কাস্তেটারে জোরসে শানারে
জোট বেঁধে চল লড়বি এবার রে।
পোড়া দেশে আইলো যে আকাল রে
কথা ও সুর - কবি জলি বাগচী (জন্ম ১৮.১.১৯৩৯)। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি
বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে
২০০১” থেকে নেওয়া। রচনাকাল ১৯৭৮।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
(আমরা) চাইনা মশাই তোমার লাখো লাখো টাকা
(আমরা) চাইনা তোমার ঐ হিরের আংটি
আমরা চাই শুধু বেঁচে থাকার অধিকার
ফিরিয়ে দাও মোদের চাকরি আবার।
শোষণের মুক্তি চাই সবার॥
(আমরা) চাইনা মশাই তোমার রোল্ স রয়েস গাড়ি
আমরা চাইনা তোমার মতো প্রাসাদ বাড়ি
আমরা চাই মুখো হাসি দিতে শিশুদের
শোষণের মুক্তি চাই সবার॥
ফিকে লাল খদ্দর দোস্তি পাতায় ভাই
ফারাক দেখিনা দু-য়ে মিলে এক ঠাঁই
সাচ্চা শ্রমিকের পার্টি গড়ে আজ
শোষণের মুক্তি আনবো সবাই॥
(আমরা) চাইনা মশাই তোমার লাখো লাখো টাকা
কথা - কবি জলি বাগচী (জন্ম ১৮.১.১৯৩৯)। “I don’t want your million mister” গানের কথা ও
সুর অবলম্বনে রচিত। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত
“গণবিষাণের গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০০১” থেকে নেওয়া। অনুবাদকাল ১৯৯০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুন শুন শুন সবে শুন দিয়া মন
শহীদ এক বীরের কথা করিব বর্ণন।
কে সেই বীর, কি নাম তাঁর, কেমন সে মরে
শান্তি যখন দেশ জুড়ে ভাই এমন সাতাত্তরে।
কংগ্রেস গেল, জনতা এল, তবু এ ঘটনা
ঘটিল কেমনে তাহাই করিব বর্ণনা।
বিহার প্রদেশের ভাই পূর্ব চম্পারণে
গম্ভীরা শা ছিল নেতা গরীব চাষীগণের।
কেমনে সে চাষীর প্রিয় নেতা হল ভাই
এবারে সে কথাটিরে বলিবারে চাই।
গম্ভীরা শা পড়তে ছিল কলেজেতে গিয়া
গরীব চাষীর তরে এল কলেজ ছাড়িয়া।
দেখিল রে রক্ত-খেকো জমিদার সকলে
গরীব চাষী পিষে মারে শোষণ-জাঁতাকলে।
এই শোষণের হাত থেকে ভাই মুক্তি পাবার তরে
গম্ভীরা শা ডাক দিল জোট বাঁধিবারে।
‘খেতিহর কিসান মজদুর সংঘ’ যাহার নাম
গম্ভীরা শা গড়ে তোলে পুরতে মনস্কাম।
গরীব-রাজ কায়েম করাই ছিল সংঘের মতি
এই সংঘ ছড়িয়ে পড়ে অতি দ্রুত গতি।
শুন শুন শুন সবে শুন দিয়া মন কথা ও সুর - কবি জলি বাগচী (জন্ম ১৮.১.১৯৩৯)। “গণবিষাণের গান ১৯৭৭ থেকে ২০০১” থেকে নেওয়া।
রচনাকাল ১৯৭৮-৭৯।
জমিদারের পোষ্য ছিল বন্দুধারী সেপাই
মিলট্রি-পুলিস থাকতো সহায় সদা-সর্বদাই।
গরীব চাষীর ছিল শুধু একটি হাতিয়ার
নিজেদের ঐক্য তারা করে জোরদার।
একদিন দাপড়া গ্রামের জমিদার মশাই
দুশো মজুর জমি থেকে করলো যে ছাঁটাই।
ফুঁসে ওঠে সব মজদুরেরা গম্ভীরার ডাকে
করলো দাবী ফিরিয়ে নিতে হবে সকলকে।
জমিদাররা মতলব করে চাইল দিতে সাজা
বলল, ভুখা রাখলে দেখবো মজুর কেমন থাকিস তাজা।
দিকে দিকে আওয়াজ ছড়িয়ে পড়লো গম্ভীরার ডাকে
জড়ো হল সব, লক্ষ্য সবার এক
যেভাবেই হোক বাঁচাতেই হবে দাপড়া গ্রামের মানুষকে।
দেব না মরতে দেব না
ভুখা আর থাকবো না, মরতে যে দেবো না।
মোরা গড়ে যাবো প্রতিরোধের দূর্গ।
এসব দেখে জমিরাররা ভয় পেল, ভাই
বুঝলো তারা দিকে দিকে উঠছে লড়াই
তাই বাঁচতে হ’লে, সবার আগে গম্ভীরা শা কে
দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া চাই।
একদিন গম্ভীরা শা ঘুমিয়ে ছিল সাথীদের সাথে
জমিদারের পোষা পুলিস গ্রেপ্তার ক’রে আনলো
থানাতে।
ঝাঁপিয়ে পড়লো গম্ভীরার ’পরে নেকড়ের জাত
রক্ত-খেকো জমিদার ও পুলিস
হানলো আঘাত (৩)।
হত্যা করলো গম্ভীরাকে গোপন অন্ধকারে
গম্ভীরা শা শহীদ হ’ল গরীব চাষীর তরে।
গম্ভীরা শা মরেনি ভাই মরতে পারে না
মিছিলে তার প্রমাণ দিল হাজার হাজার জনা।
এমন মিছিল চম্পারণে হয় নি কোনদিনই
চলে হাজার কিষান, চলে কিষান রমণী।
জ্বলে তাদের হাজার চোখে ঘৃণার আগুন জ্বলে
পায়ের চাপে পাহাড় কাঁপে পাপের পাহাড় টলে।
শিক্ষা দিল গম্ভীরা শা শিক্ষা দিল ভাই
শক্ত হাতের মুঠোয় ওড়ে রক্ত-নিশান তাই।
মজুর-চাষীর রক্ত নিশান মজুর-চাষীর হাতে
মশাল যেন জ্বলে রে ভাই গহীন আঁধার রাতে।
গরীব-রাজের তরে লড়াই গরীব-রাজের তরে
গম্ভীরা শা রইল হাজার গরীব চাষীর ঘরে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজ মুখোমুখী দাঁড়িয়েছে দুটো দল
আর মাঝামাঝি নেই তো কিছুই
হয় পা-চাটা দালাল আর নয়তো
এক লড়াকু মজুর হবি তুই
আজ মুখোমুখী দাঁড়িয়েছে দুটো দল
আর মাঝামাঝি নেই তো কিছুই
হয় পা-চাটা দালাল আর নয়তো
এক লড়াকু মজুর হবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
সবার পেছনে কে রে দাঁড়িয়ে
আজ তোকেই তো ডাকছি সবাই
তোর লড়াকু সাথীরা দ্যাখ তৈরী
তবু তোকে ছাড়া হবে না লড়াই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
কোন দিক সাথী Which Side Are You On? কবি সুনীত সেন (জন্মকাল অজ্ঞাত)। গণবিষাণের গান। রচনা ৮০ দশকে। মূল কথা - ফ্লোরেন্স
রীস (Florence Reece) । ভাষান্তর - সুনীত সেন। সুর - প্রচলিত আমেরিকান লোকগীতি। কণ্ঠ - মলয় মুখোপাধ্যায়, জলি বাগচী, দীপালী সেনগুপ্ত, পার্বতী, রত্না
হালদার, সন্দ্বীপ রাহা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, শ্যামল ভট্টাচার্য, রঞ্জন রায়। মূল গানটির কথা রয়েছে মিলনসাগরের “কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায়” . . .। ভিডিও ভাবনা ও
সম্পাদনা - পিন্টু পোহান ও অজয় পাল। ভিডিওটি সৌজন্যে Pintu Pohan YouTube Channel.
মুখ বুজে সইবি কি সবই তুই
কি করে বা সইবি ও ভাই
বেইমান নস্ তুই ইনসান
আজ ভেবে দেখ সেই কথাটাই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
আজ আর ভাঁওতায় ভুলছি না
ওই হুমকিকে পরোয়া থোড়াই
শুধু এক সাথে হবে সাথী মিলতে
ভুখা মজুরের রাস্তায় তাই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
আমার বাবাও ছিল এক মজদুর
আর আমিও তো হাতুড়িতে তাই
লাখো সাথীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
তাই আমিও মজুর রাজ চাই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
বল কোন দিক সাথী কোন দিক বল
কোন দিক বেছে নিবি তুই
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি টুকরি ভরে যায়
সবুজ পাতা তুলছি বাবু সবুজ বাগিচায়।
হাড় কাঁপানো ভোরে আমার চামড়া ফেটে যায়॥
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সুবজ বাগিচাতে
সারা জীবন তুলছি সাথী এই দু'খানি হাতে
বুকের নিচে দুধের খোকা পাতার বোঝা পিঠে
দুব্ লা শরীর চলছে না লো জ্বলছে আগুন পেটে॥
জলদি হাতে তোলরে পাতা সর্দার চেয়ে আছে
বাগানবাবু আসছে বুঝি সামলে থাকিস মেয়ে।
একটুখানি দম নিতে তুই থামিস না লো সাথী
বাগানবাবু থাপ্পড় দেবে সর্দার দেবে লাথি॥
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি টুকরি ভরে যায় কবি সুনীত সেন (জন্মকাল অজ্ঞাত)> সুর -
জলি বাগচী। গণবিষাণের গান। রচনা ১৯৮৩-৮৪। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত
সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০১১” সংকলন থেকে নেওয়া। চা-বাগানের
নারী শ্রমিকদের বাস্তব অবস্থা প্রতিফলিত হয়েছে এই গানটিতে।
এমনি করে শুকনো মুখে চলছি পাতা তুলে
তার বদলে খুদ কুঁড়ো মোর হপ্তা যদি মেলে
নুন আনতে পানতা ফুরোয় সারা জীবন ধরে
নাঙ্গা ভুখা দিনগুলি মোর কাটে ঝুপড়ি ঘরে॥
আমার তোলা সবুজ পাতা যাবে অনেক দূরে
বাবুরা সব সেই চা কিনে খাবে আরাম করে
ওদের ঘরে কতই টাকা থাকছে ওরা সুখে
ঝুপড়ি ঘরে নাঙ্গা ভূখা আমরা মরি ধুঁকে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সাতসকালে বিছনা ছেড়ে
উঠোন ঝেড়ে গোয়াল কেড়ে
বাটনা বেটে মশলা করে
সারাটা দিন ভোর
খাট্ বি গতর বাবুর ক্ষেতে
নিড়েন দিবি জল কাদাতে
তুই কিষানি সারা জীবন
এমনি কাটে তোর॥
রাত্তিরে ফের হেঁসেল ঠেলে
অন্ধকারে দু'চোখ মেলে
মেয়ের বিয়ের ভাবনা ভাবিস
ঘুম আসে না তোর॥
এমনি করেই পশুর মতন
জীবনটা তোর কাটবে কি বোন
ঢের সয়েছিস্ আর না সাথী
ডাকছি তোকে তাই
একসাথে আয় জোট বাঁধি আয়
জোট বাঁধি সব্বাই॥
সাতসকালে বিছনা ছেড়ে কবি সুনীত সেন (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - জলি বাগচী। গণবিষাণের
গান। রচনা ১৯৮৪-৮৫। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের
স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০১১” সংকলন থেকে নেওয়া। নারী শ্রমিক সম্পকিত কথিকার অন্তর্ভূক্ত গান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিশটা বছর কারখানাতে ঝরিয়ে এলি ঘাম
দুব্ লা রোগা কে তুই মেয়ে
গঙ্গা বুঝি নাম।
কলের চাকায় বিশটা বছর
ছিবড়ে হলো জীবনটা তোর
পাক্লো তো চুল ভাঙলো শরীর
ধরলো দেহে ঘুন
আর ঐ মালিকের টাকার থলি
ভরলো শতগুন॥
তবুও তুই ভয়েই থাকিস বেকার হবার ভয়
হায় কোনদিন বিশ বছরের চাকরীটা বুঝি যায়॥
বেকার হাজার বোনেরা তোর
সব্জি বেচে পথের ওপর
বলছে তারা কাজ দে মোদের
কাজ দে রে কাজ চাই
এক সাথে আয় জোট বাঁধি আজ
জোট বাঁধি সব্বাই॥
বিশটা বছর কারখানাতে ঝরিয়ে এলি ঘাম কবি সুনীত সেন (জন্মকাল অজ্ঞাত)।
সুর - জলি বাগচী। গণবিষাণের গান। রচনা ১৯৮৪-৮৫। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত
সম্পাদিত “গণবিষাণের গানের স্বরলিপি ১৯৭৭ থেকে ২০১১” সংকলন থেকে নেওয়া। নারী শ্রমিক সম্পর্কিত
কথিকার অন্তর্ভুক্ত গান। গানের ভডিওটি সৌজন্যে Gana bishan YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একই সমাজে দুই জাতি --- পুরুষ প্রকৃতি
একে ছাড়া অন্যটির নেই কোন স্থিতি
তবু কেন নারী ভোগ্য, নারীর লাঞ্ছনা
নারীর শ্লিলতাহানী যৌন ব্যাভিচার
তবু কেন অদমিত পিশাচ পৌরুষ
নারী হবে যত্রতত্র ঘৃণ্য বলাত্কার
সমাজের বুকে কেন আজও চলে এই অনাচার।
কদিনের শিশুকন্যা – তাও হয় যৌন নির্য্যাতিতা
ব্যাভিচারে বয়সের গণ্ডী নেই কোন
ভেদাভেদ নেই কোন যৌন উপভোগে
বাধা নেই লক্ষ্ণণ রেখার মত দণ্ডীটানা দাগে
ছোট থেকে বড় হবে শিশুকন্যা
চন্দ্রকলার মত পূর্ণ হবে দিনে দিনে
কস্তুরিমৃগের মত ছড়াবে সুরভি
এইতো প্রকৃতিকাম্য প্রকৃতিরই দান
পৌরুষের বলবীর্য্য শক্তিমদে মত্ত হয়ে
তাকেই করেছে অপমান ;
এ যেন পুরুষতন্ত্রে ন্যায্য অধিকার
নারী হবে পণ্যমাত্র নির্য্যাতিতা—ধর্ষিতা—বলাত্কার
রাজশক্তি নাগপাশে মগজের সবকিছু বাঁধা
বিচারের বাণী সব স্থবির-নীরব-নির্বিকার
অপরাধী দাপিয়ে বেড়ায় চারিদিক
ধর্ম্ম হয় পরাজিত মর্মাহত বিধ্বস্ত সৈনিক।
বিপন্ন নারী কবি শশাঙ্ক শেখর রায় (জন্ম ২.৬.১৯৩৯)। মহালয়া ২০১৩ তে প্রকাশিত, কবির “মেঘ ভাঙা
রোদ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
প্রতিবাদী হলে কেউ যন্ত্রনার শেষ নেই তার
বর্ত্তমান-ভবিষ্যৎ অসহায়, নিশ্চিত অন্ধকার
এই বন্য জঘন্য অন্ধকারে নিস্তব্ধ চেতনা
ভয়ে কাঁপে অসহায় সমস্ত শরীর
বাজপাখীর তাড়া খাওয়া কপোতের মত।
কি করে বাঁচাবে মাগো কিশোরী কন্যাকে
চেতনায় সাড়া নেই বিদ্রোহেরও শিখা নেই
দৃপ্ত কোন প্রতিবাদ নেই কারো মুখে ;
জ্বালিয়ে মোমের আলো তাড়ানো যাবে না অন্ধকার
বারুদে স্ফুলিঙ্গ জ্বেলে করে দিতে হবে ছারখার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দু-হাজার বিশ, উনিশের ধান্দাবাজ উত্তরাধিকারী,
গোপনে এনেছো তুমি সর্বনাশা বিষের ভাণ্ডার
ভাণ্ডারে এনেছো ভরে করোনা ভাইরাস -- কোভিড--১৯
অঙ্গে বিষ, সঙ্গে বিষ, বিষবাষ্প তোমার নিঃশ্বাসে
আবর্ত গড়েছো এক বিষময় মৃত্যু পরিবেশে
ভাইরাস ছড়িয়ে দিলে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে প্রতি ঘরে ঘরে
এনেছো নিশ্চিত মৃত্যু ভয়ানক অতিমারী যাকে স্পর্শ করে
দাঁত -নখ -চোখ-মুখ হিংসা আর জিঘাংসায় মাখা
নিয়ে এলে ঘরে ঘরে নিদারুণ মৃত্যুর যন্ত্রণা
হায়নার দুষ্টু খিদে নিয়ে সারাক্ষণ থেতে চাও মানুষের লাশ
রক্তের আঁচড়ে আঁকো মৃত্যুর আল্পনা, একি সর্বনাশ
এতেও মেটেনি সাধ, আবার এনেছো তুমি দুরন্ত “আমপান”
লণ্ডভণ্ড সমাজ সংসার, গৃহহারা-অন্নহারা বিপন্ন জীবন
প্রেমপ্রীতি ভালবাসা শেষ হয়ে গেছে, হারিয়েছে ছন্দ লয় গান
পৃথিবীটা প্রেতপুরী যেন, পেতনীরা অট্টহাসে বিকট চিত্কারে
পৃথিবী আতঙ্কে থরথর চারিদিকে মৃত্যুভয় ভীতি
এরই মাঝে দাপিয়ে চলেছে দেখি ঘৃণ্য রাজনীতি ;
বিষময় দু-হাজার বিশ কবি শশাঙ্ক শেখর রায় (জন্ম ২.৬.১৯৩৯)। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ
দিনে রচিত কবিতা। কবিতাটির প্রথম প্রকাশ - মিলনসাগরের “করোনা ভাইরাস ও পরিযায়ী শ্রমিকের
দেয়ালিকা”-য় ১৭.১.২০২১ তারিখে।
এসে গেছে দু-হাজার একুশ, এনেছে খবর
বিজ্ঞানিরা পেয়ে গেছে কোভিড খোঁজার অস্ত্রাগার
সন্ধান পেয়েছে তার দু-হাজার বিশের সেই “কালা--যাদুঘর”
বহুখুঁজে পেয়ে গেছে বিষের নিদান অস্ত্র করোনা -ভ্যাকসিন
আমি জেগে আছি অন্ধকারে, সুদিনের আশায় আশায়
আমার প্রত্যয় -- অশুভ বিদায় হবে, আসবে সে দিন
শুভশক্তি পারে বিশ্বে আকাঙ্খিত জয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি তো বলতে গেলে দাঁতনখের চাষ ছেড়ে সাজলুম প্লাইকাঠের নেতা
ছদ্মবেশ ধরলে দেখি আসল চেহারাখানা বেরিয়ে পড়ে রে
স্ববিরোধিতা ছাড়া কি আর অন্য কোনো মৌলিক কাজ আছে ? বল!
আমি তো বলতে গেলে জরাজীর্ণ আকাশজুড়ে ঢিল্ লা-চিল বুড়ো
ভান করার ভান করি আর তা জীবন নামে চালাই
সাঁতারু-খেলানো জলে নৌকার ছইয়ে জীবন পেতেছি
আমি তো বলতে গেলে পাষাণ-রিদয় পাথর ভেঙে দেখি
বালি-ঝুরঝুর চাইনি মেলে কাছিম খেকো বেতোরুগির দল
জলে-ডোবা পাঙাশ মেয়ের ঠোঁটে ডানাউড়া হাসি খুঁজছে
আমি তো বলতে গেলে ঘৃতাহুতির ভ্যাজাল ধোঁয়ায় কেঁদে
সত্য বানাই মৃত্যু বানাই হুর্ধ-অধ গোলচক্কর বানাই
সাপটা ছিল নিজের গর্তে হাত ঢুকিয়ে তাকেও তো ভুল বোঝাই
গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা
কবি মলয় রায়চৌধুরী (জন্ম ২৯.১০.১৯৩৯)। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাংরি আন্দোলনের
সূচনাকার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি ভাবলুম বুঝি উপায় নেই বলে প্রেমে পড়তে হল
ফলে ঝড় উঠলে কে সামলাবে মগডাল না শেকড় বল দিকি
আমি ভাবলুম মেঘের কি আর দশবিশ কিলো ওজন নেই
যে কেষ্টুবিষ্টুর মড়া না পচলে শবযাত্রায় শোক হবে না
আমি ভাবলুম বুঝি দুপুর থেকে বাজবিদ্যুৎ ঝুলে আছে আকাশময়
তাই স্বপ্নের যৌনতায় মুখহীন যুবতীদের ডলফিন-দেহ ভীড়
আমি ভাবলুম বুঝি নরক অনেকটা মধ্য কলকাতার মতন
নারী-রহিত পুরুষ আর পুরুষ-রহিত নারী বিছানায় সংলাপ বেচে
আমি ভাবুলম বুঝি মাথার মাথার মধ্যে যখন কাঠের সিড়ি-চড়ার শব্দ
চাষিরা বুটজুতো পায়ে উট-হাঁকিয়ে লাঙল দিচ্ছে মরিচিকায়
আমি ভাবলুম বুঝি রাস্তার মালিক তো অবরোধের পাইকার
তলপেটের মহড়াটা ঢেঁকুরের না ডুকরে-কাঁদা খিদের কী এল-গেল
আমি ভাবলুম বুঝি রাঁঢ়বাজারে শততম প্রেমিকের আবির্ভাব হল
অথচ ফুলের টবে মাটি নেই শেকড়ে-শেকড়ে ছয়লাপ সংসার
ক্যডারমঙ্গল
কবি মলয় রায়চৌধুরী (জন্ম ২৯.১০.১৯৩৯)।
প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাংরি আন্দোলনের সূচনাকার।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উৎসর্গ : বীরেন চট্টোপাধ্যায়।
হাঁটছে, হেঁটেই চলেছে, দিন-রাত, রাত-দিন, কোথায় ছিল এতোদিন
এইসব লোকগুলো, শিশুকোলে কাঁধে-খোকা বা খুকু, মানুষ-মানুষীরা
কোশের পর কোশ হাঁটছে বাড়ির দিকে ভারতবর্ষের গাঁ-শহর চষে
এদের জন্য কই কখনও গেটসভা মোড়সভা মিটিঙ-মিছিল-রেলি
হতে তো দেখিনি মাঠ-ময়দানে গর্জে ওঠা লাউডস্পিকার-সমাবেশে
এদের নেতা হয় না দলবাজি করেনা ছোকরা বা বুড়ো ঝাণ্ডাধারিরা
তাই এরা হাঁটছে তো হাঁটছেই খালি পেটে হয়তো বা হাজার মাইল
মাস্ক পরা দরকার মনে হয়নি ; কীই বা হবে পরে যদি না জীবন্ত ফেরে
হেঁটে-হেঁটে নিজেদের বাড়ি ? পরিযায়ী বলতে কে জানে কী বোঝায় !
খালিপেটে নিষ্কপর্দক হয়ে গেলে সপরিবারে এমন বেপরোয়া হওয়া যায় ?
করোনাভাইরাস এসে দেখালো কীরকম মানুষজন্ম কাটাতে হচ্ছে ও হয়।
রাজনৈতিক ভাইরাস
কবি মলয় রায়চৌধুরী (জন্ম ২৯.১০.১৯৩৯)। করোনা মহামারীর কালে পরিযায়ী
স্রমিকদের দুর্দশার প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তুমি, সহস্রাব্দের অসি, ঝংকার তোলো কলমের মসীধারে,
হাজার বছর অত্যাচারীর অত্যাচারে বিঘ্নিত হয়েছে সুন্দর এ ধরাভূমি,
দূর্নীতি আর অপশাসনে দহন-দাহনে নিপীড়নে মর্তভূমি হয়েছে বধ্যভূমি।
দিকে দিকে শুধু হাহাকার, জল্লাদের আক্রমণে করুণ আর্তনাদ
গৃহহারা যারা, জ্বলেছে পুড়েছে, কত লাশ আজ অতলে তলিয়ে গেছে,
মানুষের মূল্যবোধ শূন্যস্থানে, ছিনিয়ে নিয়েছে বাঁচবার অধিকার।
শ্ধু তারাই বুঝেছে কেন এই পরমাদ ?
স্বার্থান্বেষী মুনাফা লুটছে অশান্তিকে জাগিয়ে রাখার।
অস্ত্রই পারে অস্ত্রকে হারাতে, "রক্তের বদলে রক্ত নেব" হবে যাবে এ মহামন্ত্র,
সফল জীবন ফিরে পাব সেদিন, তাই অসিই মোদের যুদ্ধ যন্ত্র,
বিশ্বাসঘাতী আফজল খাঁ কে অস্ত্রসরূপ "বাঘনখে", শিবাজী করেছিল সংহার,
কত ঝঞ্ঝা, তুফান বয়েছে সেদিন, রক্ষা করেছিল সেই অসিরই ঝংকার।
সহস্রাব্দের অসি কবি বর্ণা মজুমদার (জন্ম ৩০.১১.১৯৩৯)। ২০০০ সালে এই কবিতাটি শুভঙ্কর সম্পাদিত "সীমানা" পত্রিকায় প্রকাশিত
হয়। পরে এই কবিতাটির জন্য কবিকে ঐ ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে, প্রধাণ অতিথি শ্রী রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে কলকাতায় একটি
সভায় পুরস্কৃত করা হয়।
হে অসি কোষমুক্ত হয়ে দাঁড়াও সমুখে,
আজ এসেছে সেদিন, হে মানব তুমি হও সচেতন,
খুঁজে পেতে হবে পথের সমাধান।
সংগঠনের পরিকল্পনায়, সু-বুদ্ধি সাথে গাইবে ঐক্যতান,
বর্বরের বর্বরতাকে করে দাও খান খান।
অশান্তকে শান্ত করে শান্তিরে কর আহ্বান।
সহস্রাব্দ তুমি কঠোর হয়ে তীব্র প্রতিবাদে জাগরণ আনো -
বলিষ্ঠ হাতে তুলে নাও অসিখানি,
বন্ধ কর এ করুণ অশ্রুপাত।
রণহুঙ্কারে, অসির ঝঙ্কারে, দুর্বৃত্তেরে চিরতরে করো হে ধুলিস্বাত্।
হে "সহস্রাব্দের অসি" তোমার জয় হোক, জয় হোক।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাবার হাত ধরে সীমান্ত পেরুতে পেরুতে ভেতরে ভেতরে
বড়ই ছলছল করে উঠছিল মারবেলের লুকানো বাক্স, আর
লাটাইয়ের সুতো জড়িয়ে ধরছিল দুপুরের ছাদ,
তোমাদের সেই বেদনার কথা বা চেখের জল কিছুই বলি নি,
আনসার-উল, বা ভবতোষ কে কোথায় রইল, সামনে
পশ্চিমের আকাশ দিনের শেষ সূর্যটা একেবারে ঝুলে পড়েছে।
অরুণ স্কুলের মাস্টার মশাই একদিন বলেছিলেন, তুমি আসছ
সেই থেকে অশ্বারোহী এক বীরের ছবি হয়ে আছ
বুকের মধ্যে, তুমি আসছ, অশ্বের হ্রেষা
আর সমানতালের পদশব্দ হৃৎপিন্ডের তালে তালে
বেজে চলেছে কতদিন, সাত চল্লিশের সেই সীমান্ত
বাবার হাত আর বিকেলের ঝুলে পড়া সূর্য তোমার
অশ্বারোহী বীরের ছবি বুক থেকে কখনো মুছতে পারে নি।
আমার মা বলতেন, বিপদে তাঁকে স্মরণ করো, আমার শৈশবের
বিপদে যেদিন বাবার হাত ধরে সীমান্ত পেরিয়েছি,
তোমাকে অনেক ডেকেছি, আমাদের ফেলে আসা
ঘরের দেওয়ালে ঝোলানো তোমার ছবি থেকে
একবারও তুমি টগবগিয়ে ছুটে এলে না
অরুণ স্কুলের মাস্টার মশাই কিন্তু বলেছিলেন, তুমি আসবে
তুমি আসবে কবি উত্তম দাশ (১১.১২.১৯৩৯ - ১১.৬.২০১৪)। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মশতবর্ষে রচিত কবিতা। আমরা পেয়েছি
২০১৩ সালে প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ ২০০৯), মেঘ বসু সংকলিত ও সম্পাদিত “আবৃত্তির কবিতা কবিতার আবৃত্তি” সংকলন থেকে।
আমরা এখন খুব কষ্টে আছি, সমস্ত দেশটা , ভাঙছে ভেতর থেকে
এই দ্রোহকালের মধ্যে রক্তলোভী হয়ে উঠছি আমরা
আমাদের দেশি দেশপ্রেমিকরা বেশ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে
ইহকাল, এমন বিপদে তোমাকে আর একবার ডাকলাম,
ছবির সেই অশ্বারোহী এবারও আসবে না তুমি?
আমরা খুব কষ্টে আছি, জানো, একটা জাতির
মৃত্যুদন্ড ঘোষণা হয়ে গেছে, বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে
আবার তোমাকে ডাকলাম : তুমি আসবে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
১
একজন মানুষ টালা থেকে পা মিলিয়ে মিছিলে হেঁটে আসছে
হাত ঝাঁকিয়ে দাবি ও প্রতিবাদের ভাষা আকাশ পর্যন্ত
ছুঁড়ে দেবার আবেগে বারবার বলছে---- বন্ধুগণ,
তখন তার মেয়েটির কথা মনে হয়েছিল খুব
আজ ইস্কুলে প্রাইজ নিতে যাবে, যদিও রিক্সা বলা আছে
কিন্তু এইসব ওয়ালাদের ঠিক বিশ্বাস----- কথাটা এপর্যন্ত ভেবে
নিজেকে প্রতিবিপ্লবী মনে হলো, আসলে জনগণই তো মূল হাতিয়ার
সে সংগ্রাম বা সংঘবদ্ধতা যাই ভাবা হোক না কেন।
এই যে সংগ্রামকে ধ্বনিতে ধ্বনিতে আছড়ে ফেলছে
শহরের ফুটপাতে এবং সরকারি অফিসের অলিন্দে
সাদা ধোসা শনপাপড়ি আজো বেশ বিক্রি হলো,
মন্ত্রীরা এখন দুপুরের আহার শেষ করে ফোনে
সংগঠনের খবর নিচ্ছে, জমায়েতটা আরো ভারি
হতে পারতো, গত সপ্তাহেই তো ওরা দু’লাখ এনেছিল,
অবশ্যই তার অনেকটা সংবাদিকের কৌশলী ক্যামেরায় তোলা,
এই সব ছায়াবাজি গ্রাহ্য না করলেও চলত
কিন্তু চারঘন্টা শহর জ্যাম করে দেওয়া লোকগুলো কারা
তদন্তে এসব কথা মনে রাখা দরকার, শোধনবাদ থেকেই
প্রতিশোধনবাদের জন্ম হয়।
এই লোকটা এখনও প্রতিবাদ ছুঁড়ছে
কিন্তু প্রতিবারই মেয়েটা রিক্সায় উঠতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে --
একজন মানুষ
কবি উত্তম দাশ (১১.১২.১৯৩৯ - ১১.৬.২০১৪)
২
একজন মানুষ মিছিল থেকে ফিরেই ভাত চাইছে
কিন্তু লড়াইটা ছিল এ ভাতের জন্যই
সারাদিন মাত্র চারখানা রুটি বরাদ্দ ছিল
ঝোলাগুড় ও কলের জল রোজের মধ্যেই পড়ে
চিড়িয়াখানাটা অবশ্য ফাউ দিয়েছিল, টাটকা বাঘের গন্ধ
জিরাফের লগির মতো গলা বাড়িয়ে মগডালে খুবলে ধরা
কিন্তু বাগানের মালিগুলো ঠিক বিপ্লবের সপক্ষে ছিল না
ছড়ানো রুটির ঠোঙাগুলো নিয়ে যাচ্ছেতাই ঝগড়া করে গেল।
একজন মানুষ যখন হাঁটছে, শোষণহীন সমাজের ছবিটা
বুকে ঝুলছে, মাই-- ঝুলে যাওয়া বউটার কথা মনে হলো
বাচ্চাটা শুষে ছিবড়ে করে দিয়েছে সব।
শোষণের এই দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটার কথা তিনি বলেন নি,
কথাটা মনে হতে একজন মানুষের মুঠোভর্তি হাতটা
মাথার ওপরে থমকে গেল, দুজন মুনিশ লাগানো আছে মাঠে
কাল কি হালটা নতুন করে দিতে হবে আবার ?
৩
একজন মানুষ সংগ্রামের জন্য সংগ্রাম করে না
বিপ্লব বিপ্লব খেলাটা তার জন্য নয়,
বেঁচে থাকার কথা তারও মনে আছে
এবং খুব গাছ ভালোবাসে সে।
অনেক বছর থেকে ময়দানে লোক নিয়ে যায়
খুব জোরে চেঁচিয়ে বলে সংগ্রামের কথা
আসলে সে বাঁচার লড়াই চেয়েছে,
মন্ত্রিত্বের দিকে তাদের নিয়ে যেতে
সে বনগাঁ থেকে এই মিছিল নিয়ে আসেনি।
সংগ্রামের জন্য সংগ্রাম করে না সে,
বাঁচার কথাটাই তার কাছে জরুরি,
তার নিজস্ব কোন নক্ শিকাঁথার মাঠ নেই
রেললাইনের ধারে যে ঝুপড়িটায় থাকে
সেটাই হয়তো স্বাধীনতার প্রতীক,
নিশানটা উড়িয়ে দিয়ে সে ভাবে
স্বাধীনতার রঙ আসলে কোনটা ?
৪
একজন মানুয আসলে শুধু একজন মানুষ।
তার নিজস্ব একটা বাগান আছে,
ঘন সবুজ সাঁতার দেবার মতো গভীরতা নিয়ে
তৈরি হয়ে আছে সামনে, পায়ে পায়ে মিছিল
চলে যাচ্ছে, আর লোকটি সংগ্রাম শব্দ
উচ্চারণ করতে গিয়ে আসলে বলে ফেলল বিশ্রাম।
জীবন থেকে তুলে আনা হয়েছে মানুষটাকে
আর মিছিলে পা মিলিয়ে শুধু জীবনের কথাই
ভাবে সে, এই পথ তাকে নিয়ে যাচ্ছে
বৃত্তের বাইরে, আর বৃত্তটাই তাকে ঘিরছে
ক্রমাগত, সে এখনো সংগ্রামের কথা
ভাবে----- তার সংগ্রাম আসলে
নিজেকে ভেঙে বেরিয়ে আসা।
সে মানুষ আসলে শুধু একজন মানুষ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একদিকে ওই বায়নাক্কা আরেকদিকে গোয়ার্তুমি ---
চলছে খেলা ছেলেমানুষীর নিমজ্জিত এই ভূমি ---
মুশকিল হচ্ছে আমাদের, কোনটাকেই বিশ্বাস হয় না ---
জমির মালিক হলেও নাকি আমরা জমির মালিক না |
পুলিশ এসে ভাঙছে উনোন, ভাতের হাঁড়ি, ঘরের টালি,
কাঁদছে সবাই উঠোনে বসে হা-হুতাশের মধ্যে খালি |
বাংলা মায়ের কষ্ট দেখে বুক ফাটে না শাসকের,
মিষ্টিমুখের মধুর বাণী জানা আছে জল্লাদের!
রাজারহাটের পরে এল সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম ---
হাঙরগুলো আসছে তেড়ে এবার নজর নন্দীগ্রাম ---
বোকার মতন তাকিয়ে আছি --- ভূতের মুখে রামনাম!
জমিহাঙর কবি বিপ্রদাস ঘোষাল (জন্ম ১৬.১.১৯৪০)। ২০০৬ সালে, সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত কবির “অপাবৃণু” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নতুন করে সমস্যা তৈরী কর
তারপর তার সমাধান কর ---
দেখবে লোকে আমাদের তারিফ করবে,
বলবে, দেখছো কেমন জনহিতকর এরা!
এই নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি ...
কোনদিন ভোটের বাক্স খালি হয় নি,
উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে জনসমর্থন ---
তাজ্জব বনে গেছে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী!
এছাড়া কি এতদিন ধরে শাসন চলে?
শ্মশানের শান্তি এনেছি ফ্যাকটরি কলেজ স্কুলে,
সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছি আমাদের লোক, ---
কেউ কিছু বললে পরে শাসিয়ে দেবে চোখ!
অটো বাস ট্যাক্সি রিকশা সব আমাদের দখলে
কোমন করে হটায় দেখি কোন্ ম্যাজিকের ফলে।
হালিম আবদুল মুখার্জী বঙ্কিম যতই লজ্জা পাক্
আমাদের ঘাড় গর্দান মোটা, কিছুতেই নেই লাজ্!
আসল চেহারা কবি বিপ্রদাস ঘোষাল (জন্ম ১৬.১.১৯৪০)। ২০০৬ সালে, সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত কবির “অপাবৃণু” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ইদানিং পথে ঘাটে
নিজেকে সামলে সুমলে চলতে হয়
ঐ বুঝি বাস এল ধাক্কা মেরে ফেলে দিল
এসব তো, প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সমস্যা।
প্রাণের ভয় সব মানুষের
যে ক-দিন টিকে থাকি, এভাবেই বাঁচতে হবে।
রাস্তায় ভয়ংকর আগ্নেয়াস্ত্র
যদি পেছন থেকে ফেলে দেয়
তাহলে শহিদ হব,
পথে বেরোলে মানুষ আর বাড়ি ফেরে না
আপনজনেরা অপেক্ষায় মাথা ভাঙে।
অনেক রাত জেগে থাকি,
দেয়াল ঘড়িটার কাঁটার সাথে
এই মুহূর্তে বুঝি কার মৃত্যু হলো জনপথে।
আর কত দিন
হাসনে আরা সিরাজ (২০.২.১৯৪০ - ২.৬.২০১৩)
পাথরের মতো বুকটা ভারী হয়ে যায়
গতকাল যে শিশুটির অকারণে মৃত্যু হল
কত কিছু হতে পারত সেই ছোট্ট শিশু
কোনো অপরাধ না করেই চলে গেছে পৃথিবী থেকে।
পাশ ফিরে মনে করতে বুক ফেটে যায়
হাঁসফাঁস করি দম নিতে।
একটু শুদ্ধ নিঃশ্বাস নিতে রাত কেটে যায় আমার।
এখন নিষ্ঠুর পৃথিবী কথা বলে, মানুষের ভাষায়
লাল আগুনের উত্তাপ, পৃথিবী জ্বলছে
দু-চোখ অন্ধ হয়ে যায়
আমরা প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর কাছে নত হয়ে থাকি
প্রতি মুহূর্তে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নীরেনদা আপনাকে কখনো দেখিনি
লোকমুখে শুনেছি আপনিই আমার
নীরেনদা শঠ্ জোচ্চোর গুণ্ডা বদমাশদের
পৃথিবীতে আপনিই তো আমার যীশু
যীশু অমানুষিক যন্ত্রণাবিদ্ধ অত্যাচারিত
বিষ দিয়ে মেরেছিল সক্রেটিসকে
তবু অবিরাম তাঁরাই চলেছেন
নীরেনদা সেদিনও আকাশে এমনি ঘনঘটা
সীমাপুরির চোরাগলির মুখে পানলাল
পাপড়িঠোঁট মনতুয়া বেগম মুহুর্তে উলঙ্গ শিকার
রামকৃষ্ণর আর্তনাদ চিত্কার
নীরেনদা আপনি তো পড়েছেন মানুষের বর্বর ইতিহাস
এবং আপনারই গল্পে গর্জে ওঠে চরিত্র
মখসুদ আহমেদ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে
পথের পাঁচালীর অপুরাও
প্রতিবাদে প্রতিরোধে কৃষ্ণচূড়ায় আগুন
কৃষ্ণচূড়ায় আগুন
কবি নবেন্দু সেন (জন্ম ১৫.৭.১৯৪০)
নীরেনদা তাহলে এবার বলুন তো কোন আগুনে
মানুষ কখন বদলায় রাতে, না দিনে
ধর্মে না বিধর্মে কর্মে না বিকর্মে
বুদ্ধমূর্তি ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার চূর্ণিত কোন্ বর্ণে
নীরেনদা বলুন তালিবান কোথায়
কাশ্মীরে না আমেরিকায়
দিল্লীতে না আফগানিস্তানে
ঘরে না বাইরে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যতদিন যায় যত রাত বাড়ে
যত ধূলো ওড়ে যত বাস ছাড়ে
যত শিশু জন্মায় ও মরে
নতুন রাজ্যে খুন খারাপি’র সঙ্গে
বৃদ্ধের লাঠি ঠক্ ঠক্ ঠক্
ঠক্ ঠক্ ঠক্ ঠক্ ঠক্ ঠক্ করে।
লাঠি ঠক্ ঠক্ করে
বাস ট্রেন লরি মোটর মানুষ, ছাগল
গরু ও মাছিরা হাঁটে ও চলে
কুকুরে ও মানুষে বমি করে
নাড়ি উল্টে-আসা গন্ধে ম----ম----
দিন-রাত আদিম, নারী পুরুষ
হামলে খায় পরস্পর
হাওয়ায় হাওয়ায় ওষুধ ও ফুলের গন্ধ
আকাশ জুড়ে ঘুড়ির মেঘ
এই হাসি তো এই কান্না
ভোঁ-কাট্টা। ছেলেদের ইস্কুলে
ঘন্টা বাজে ---- বই পিঠে দুর্দান্ত---
আবার ঘন্টা পড়ে, পাঠশালার ছুটি----
আকবর বাদশা’র সোনার কেল্লায়
হরিপদদারা দাপাদাপি করে, আর ঠিক তখুনি
মোড়ের মাথায় আর একটা মানুষ খুন
মাথার উপর তখন কেবল উচ্ছৃঙ্খল কৃষ্ণচূড়ার আগুন॥
মাথার উপর কেবল উচ্ছৃঙ্খল কৃষ্ণচূড়ার আগুন
কবি ডঃ নবেন্দু সেন (জন্ম ১৫.৭.১৯৪০)
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তেতাল্লিশের মন্বন্তরে গ্রাম শহরে দেখেছি তাকে
ছেচল্লিশের ভ্রাতৃঘাতী হানাহানিতে
বিপন্নদের পাশে দাঁড়িয়ে চিনেছি তাকে
গণনাট্য নবান্নের দিনগুলিতে
পথ হেঁটেছি একসাথে
ছেচল্লিশ নম্বর ধর্মতলায় দেখা হয়েছে অনেকবার
সাতচল্লিশে দেশভাগ বিদ্ধ করেও পারেনি ভাঙতে
তেভাগার মাঠে প্রান্তরে দেখেছি তাকে আবার
তিপ্পান্ন – ঊনষাট – ছেষট্টির
ট্রাম –খাদ্য – আন্দোলনে সে-ই তো ছিল
প্রথম সারে
আর
সত্তরের সন্ত্রাসের কালো সময়ে
দেখেছি তার চোখে
অন্ধকার ছিঁড়ে সূর্যের প্রতীক্ষা
আজও তাকে দেখি
মেদিনীপুর বাঁকুড়া পুরুলিয়ার ঘরে ঘরে
বাতি জ্বালানোর দুর্জয় শপথে বলীয়ান
সে-ই তো জানিয়ে দিয়ে গেলো
মানুষের উপর বিশ্বাস হারিওনা
তাকে সংগে নিয়ে এগিয়ে চলো, কেননা
শেষ কথা মানুষই বলে॥
সে কবি দীপক দে (জন্ম ২.১০.১৯৪০)
কবিতাটি “গণশক্তি” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার সামনে হলদি নদী
ভোরের ঠান্ডা মিষ্টি বাতাসের
হাল্কা চাদর জড়িয়ে নিজের মত বয়ে চলেছে
চরাচরে এই মুহূর্তে এক অনাবিল প্রশান্তি।
কাল মধুমাস গত এখন
শিমুল – পলাশের আগুনের হল্কা নেই আর
তবে আগুন-ঝরা বান নিয়ে কৃষ্ণচূড়া হাজির
শিমুল–পলাশের লালের বদলে কৃষ্ণচূড়ার লাল
যেন লাল অগ্নিশিখা মাথায় নিয়ে
গাছগুলো দাঁড়িয়ে আগুনের আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে
তার ওপর পূর্বকোণে অপূর্ব লাল অগ্নিবলয়
তার ছিটে লেগেছে হলদির জলে
যেন কোন বিজয়-বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলেছে
সাগর থেকে সুদূর মহাসাগরে।
. লালের কাল শেষ হ’য়েছে কি করে বলি !
. প্রকৃতি এখন আবার নতুন ক’রে লালে লাল
. সেই অনন্ত লালিমা জলে স্থলে অন্তরীক্ষে অরণ্যে
. মানুষের মনে।
ও পারে নন্দীগ্রাম --- সন্ত্রাস, রক্ত, লাশ
স্বজনহারা, গৃহহারা মানুষের হাহাকার ও সংগ্রাম
আমরা কবে মানুষকে মানুষ বলে ভাবতে শিখব !
হলদি নদী কবি দীপক দে (জন্ম ২.১০.১৯৪০)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন এবং
হলদি নদীর পরিপ্রেক্ষিতে লেখা কবিতা।
এ সবেরই সাক্ষী এই নদি
ভাবলেশহীন বয়ে চলেছে আপন মর্জিতে
হয়তো তার অন্তর উথালপাথাল করে প্রতিক্রিয়ায়
. আমরা জানতে পারি না।
বিস্তীর্ণ দু’পাড়ের অগনণ মানুষের ভালবাসা,
. সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা
. কতখানি তাকে ছুঁয়ে যায়
. নদীই জানে।
নদী-মাতৃক দেশে নদী-মানুষের সম্পর্ক বড় নিবিড়
. নদীকে মানুষ যেমন বোঝে
. নদীও তেমনি বোঝে মানুষকে
নদী-মানুষের বোঝাবুঝির
. এই সম্পর্ক বুঝি চিরন্তন।
নদী মানেই দু’পাড়ের অজস্র ব্যস্ততা
. নৌকো লঞ্চে যাত্রী পারাপার
ব্যপারীর মালপত্র ওঠানো নামানো
. সবজীর বস্তা, আষ্টে পৃষ্ঠে বাঁধা বড় ঝুঁড়ি
. ভ্যানে তোলার হুড়োহুড়ি
বাসে, বড় গাড়িতে অন্য শহরের বাজারে
. পৌঁছানো চাই তাড়াতাড়ি
এ’সবকিছুই আসে ওপার থেকে।
. একটু পরেই নদীর মাছ এসে পড়বে
. তখন শুরু হবে আর এক ব্যস্ততা
. রাশি রাশি ছোট বড় নানা মাছ
. নিলাম হবে যে
নগদ কড়িতে নিলামী মাছ কিনে
. ব্যাপারী ব’সে পড়ে পলিথিন বিছিয়ে
কিছু সময় বেচাকেনার পর বাকি মাছ নিয়ে
. ব্যাপারী হাঁটা দেয় শহরের বাজারে।
. হাঁকা হাঁকি ডাকা ডাকি
. বাংলাভাষাতেই কতরকম কথা
. সকালবেলার এই চলমান চনমনে ব্যস্ততার
. দু’চোখ ভরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়যোগ্য।
নদীর একটা মস্ত বড় দুঃখ আছে
মানুষ জানে সেই দুঃখের কথা
কিন্তু কোন প্রতিকার নেই
এটাই নদী-মানুষের সম্পর্কের বড় ট্যাজেডি!
. নদীর বুকে পলি জমে জমে
. নদীর নাভিশ্বাস উঠেছে
. দম নিতে বড় কষ্ট
ড্রেজিং না কি হয় নামমাত্র
. ‘লোকদেখানো’ ‘লোকঠকানো’
কার যেন অদৃশ্য ইশারায় ড্রেজার চলে যায়
. অন্য কোন বন্দরে
আজকাল ভেড়ে না এখানে কোন বড় জাহাজ
. ঠিকানা সবার এখন পারাদীপ
হলদি বন্দর ধীরে ধীরে তাই
. শেষের দিন গুনছে ----
নদীর বুকচাঁপা ‘দীর্ঘশ্বাস’ বাড়ে
. হলদি বন্দরের কাল বুঝি হলো শে’ষ।
নদীর বড় কষ্ট ! বলে ----
. আমাকে নিয়ে কারা যেন
. বড় একটা চক্রান্তের জাল বুনছে
যাদের হাতে আমার জীবন
তারাই এখন মৃত্যুর পরোয়ানা দেখাচ্ছে আমাকে।
আমার বুকে ‘সুনামি’ নামে না কেন?
একটা প্রবল ভয়ংকর ঝড় উঠুক
প্রলয়ংকর জলোচ্ছাসে চক্রান্তকারীর জাল
ছিন্ন ভিন্ন ক’রে কুচক্রী দুশমনকে ভাসিয়ে নিয়ে যাই –
প্রকৃতির প্রতিশোধ সমাসন্ন দেখি
বড় নিষ্ঠুর বড় নির্দয় সে প্রতিশোধ
রেয়াত করে না কাউকে |
অথচ দেখো, নদীর পাড় সাজানো হচ্ছে
সন্ধ্যায় ত্রিফলার আলো মনে করিয়ে দেয়
. কেলেঙ্কারির কথা।
নদীর কথা কেউ ভাবে না
বুক ভ’রে নিঃশ্বাস নিতে পারি না
আমিই যদি না থাকি
. কী হবে আলো দিয়ে?
আমার বিশ্বাস অনেক মানুষই আজ
আগের মত বুক ভ’রে নিশ্বাস নিতে পারছেনা।
মানুষ কবে বুঝবে---
নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে !
মানুষ বাঁচলে নদী বাঁচবে কি না
এ প্রশ্নের জবাব কে দেবে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমাকে আমাদের আজ বড় প্রয়োজন
পন্ডিত নিবারণ।
নতুন করে তোমার প্রিয় কিসান ভাই
উত্খাত নিজের জমি থেকে
তার রক্তে রোয়া ফসল
ছিনিয়ে নিচ্ছে গায়ের জোরে নয়া বর্গীর দল
তার এত বছরের অর্জিত অধিকার থেকে
বঞ্চিত করা হচ্ছে তাকে----
তুমি একবার ফিরে এসো
তোমার প্রতিবাদী সরল গ্রাম্যভাষার
কবিতা ছড়া নিয়ে
হে গণকবি পন্ডিত নিবারণ
তোমাকে আজ বড় প্রয়োজন।
সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের কাছে
তুমি প্রজ্জ্বলিত ধ্রুবতারা
শ্রমজীবী মানুষ তোমায় দেখে ঠিক করে তার নিশানা
নিশ্চিন্ত করে তার গন্তব্যের নির্ভুল ঠিকানা।
বিদ্রোহ বিপ্লব সংগ্রাম লড়াই আন্দোলন
শিখিয়েছ তুমি নিজের জীবন দিয়ে
নিজে পুড়ে খাক হয়ে সারাজীবন
সংগ্রামী চেতনার আলোক জ্বালিয়েছ
নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত সর্বহারা দেশবাসীর অন্তরে।
নিবারণ পণ্ডিত
কবি দীপক দে (জন্ম ২.১০.১৯৪০)।
সরল গ্রাম্যভাষায় লেখা
তোমার কবিতা গান ছড়া দিয়ে জাগিয়েছ মানুষকে
তাদের মুখে দিয়েছ প্রতিবাদের নতুন ভাষা
শিখিয়েছ লড়াই করে আপন অধিকার
ছিনিয়ে নেবার মন্ত্র----
. অধিকার কেউ কাউকে দেয়না
. অধিকার কেড়ে নিতে হয়।
দেশকে বেচে দিতে তৈরী সরকার বাহাদুর
দেশের সমস্ত সম্পদ নিয়ে তাই সে আজ
নতজানু মার্কিন প্রভুর |
আর তোমার সাধের বাংলা !
গণতন্ত্রহীন নির্লজ্জ দলতন্ত্রের শিকার
ফ্যাসিবদী সন্ত্রাসের হিংস্র বর্বর আক্রমণে
আজ জর্জরিত, রক্তাক্ত, লুন্ঠিত
সব অর্থেই তোমার প্রিয় বাংলা আজ জ্বলছে।
এখানে তেইশের তাজা রক্তে ভিজছে মাটি
এ’তো রক্ত নয় এ যে বিপ্লব খাঁটি
সেই খাঁটি বিপ্লবের ধ্বজা উড়াও হে নিবারণ
---
. সময় হয়েছে নিকট
. আজ ছিঁড়তে হবে বাঁধন
. তাই আর একবার এসো ফিরে
. এই শোষিত দগ্ধ সবহারাদের
ভিরে
. কন্ঠে নিয়ে দিনবদলের স্লোগান
. আর চেতনায় বিপ্লবের অগ্নিবাণ
তোমাকে আজ সত্যিই বড় প্রয়োজন
হে পণ্ডিত নিবারণ॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এবার আমি যাবই যাব মাগো
পেরিয়ে সাত সাগর তেপান্তর
আমার উপর যতই তুমি রাগো
এমন দিনে থাকব না আর ঘর।
আকাশ নীলে আমার পক্ষীরাজ
ছুটবে বেগে ঝড়ের পাশে পাশে
সামনে পিছে ঘন মেঘের বাজ
জয়ধ্বনি দেবে মা উল্লাসেয
পেছন হতে যে যাই করুক মানা
দেখাক না ভয় সত্যি-দানোর বেশে
আজকে আমি শুনব নাকো মানা
যাবই যাব ঘুমপরিদের দেশে।
সেথায় গিয়ে গাইব আমি মাগো
তুফান সুরে ঘুমভাঙানি গান
বলবো হেঁকে দস্যু দামাল জাগো
বুলবুলিরা নিচ্ছে লুটে ধান।
যাবই যাব মাগো কবি এখ্লাসউদ্দিন আহমদ (১৫.১২.১৯৪০ - ২৪.১২.২০১৪)।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও সরল দে সম্পাদিত “পাঁচশো বছরের কিশোর
কবিতা” সংকলন থেকে নেওয়া।
নতুন সুরে উঠবে সবাই কাঁপি
ঘুমপরিরা ভুলবে রাতের ঘুম
ছিনিয়ে নিয়ে ঘুমঢুলুনির ঝাঁপি
বলব হেঁকে আর নেবো না চুম।
শুনব না আর ঘুমপাড়ানি ছড়া
গাইব এবার ঘুমভাঙানি গান
বুলবুলিদের বাঁধব কষে দড়া
আর দেব না সোনার আমন ধান।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জীবনের সবুজ কঙ্কন এনে দাও
পৃথিবীর গভীর প্রেমিকের কাছ থেকে
ততক্ষণ আমি চোখ মেলে থাকব
আমি আমার বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকব।
বাড়ি আমার পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তরে
সমস্ত কারখানায়---
যেখানে মেসিনের ঘড় ঘড় শব্দ
উদাত্ত হাওয়ায় ছুটে বেড়ায়।
‘এ-সবুজ কঙ্কন খুলে নিতে আসবে
তোমার বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলবে
ক্ষুধা তৃষ্ণা হাহাকার
তখন তুমি বন্দুক তুলো।’
আরো বলেছিলে :
‘তুমি মানুষ
সেই হবে তোমার সুন্দরতম বিস্ফোরণ’
নদী কবি অমিয় চট্টোপাধ্যায় (১৯৪০/৪১ - ২৬.১১.১৯৭১)। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন
দাসাধিকারী সম্পাদিত ‘সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী’, গ্রন্থ থেকে নেওয়া। কবিকে আলিপুর
জেলের ভিতরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
হৃদয় আমার হাহাকার পথের
এই সময়ের নিষ্ঠুর হাওয়ায়
আবার একদিন আমি গলে গলে
নদী হয়ে যাব
সমস্ত মানুষের যন্ত্রণা
আমি নদী
হে ফলন্ত শস্য
আমি তোমার বুক বেয়ে বয়ে যাই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সমস্ত ফুলগুলো ফুটে উঠল
সমস্ত আগুনগুলো জ্বলে উঠল
মানুষ মুখর হল অন্ধকারের গ্রন্থি খুলে---
ফুল আর আগুন জ্বললো উত্তরে
বেদনা আর ভালবাসা
ক্রোধআর ঘৃণা নিয়ে
সূর্য তার সাক্ষী হয়ে আকাশে মুক্তি জানিয়েছিল
জোর করে তুষ দিয়ে ঢেকে রেখে
অনেকগুলো বসন্ত দাবিয়ে রাখা যায়
কিন্তু সূর্য অন্ধকারের অবসান করবেই
ফুল ফুটবেই----
আগুন জ্বলবেই ----
সমস্ত অন্ধকার মৃত্যুর দিকে
সমস্ত ফুল
সমস্ত আগুন
এই সব প্রেম
কেননা তারা পৃথিবীর সমস্ত রূপসীকে নিয়ে
অসংখ্য আকাঙ্ক্ষাকে হত্যা করছিল।
উত্তরের আগুনকে
কবি অমিয় চট্টোপাধ্যায় (১৯৪০/৪১ - ২৬.১১.১৯৭১)
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত ‘সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী’, গ্রন্থ
থেকে নেওয়া। কবিকে আলিপুর জেলের ভিতরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বৃষ্টি! বৃষ্টি! সারাদিন বৃষ্টি পড়ে
ভারতবর্ষের উত্তরের উত্তপ্ত পাহাড়ের
গহন গভীর জঙ্গলে মানবিক মনে।
ঢেউ তোলে চিত্কার করে
জলন্ত অগ্নি।
বন্দী পশুর হিংস্রতা
রক্তের উল্লাসে টগবগ মনকে
রাশটানে পিছনের ভয়ার্ত হুঁশিয়ার।
হুজুর !
যতই শক্তি হানো সূর্যাংশের শিখাকে
হাজারো তেজে ব্যর্থ কর বিদ্রোহী স্বপ্নকে।
তোমার অন্বেষণে যারা ব্যস্ত
সেই সব সৈনিক
কালের গহ্বরে অভিজ্ঞতা কুড়োয়
অস্ত্র ধরে হিংস্র শত্রুকে চরম ব্যর্থতার
ক্ষয়ে ক্ষয়ে একে একে শেষ করে করবে।
উলঙ্গ মনে অগ্নি শিখা জ্বলে
হাজারো শক্তি উত্তাল তরঙ্গে আছড়ায় শত্রু শিবিরে
পাহাড়ীয়া মনে ধ্বস নামে স্বপ্নের স্বর্গের।
জমির ক্ষুধা বন্দুকের মুখে
কবি অমিয় চট্টোপাধ্যায় (১৯৪০/৪১ - ২৬.১১.১৯৭১)
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত ‘সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী’, গ্রন্থ থেকে নেওয়া। কবিকে
আলিপুর জেলের ভিতরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
জমির ক্ষুধা গর্জে ওঠে বন্দুকের মুখে
হে মানব মানবী তোমরা দেখ
যারা জন্মালো শ্রমিকের চাষীর বাচ্চা হয়ে
তারা স্ফুলিঙ্গের আগে সঙ্গীনের খোঁচায়
নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি তোমাকে নিরাশ করতে পারি
যখন আমি সত্যের ছবি আঁকি
যদি আমি স্বাধীনতার আশ্রয় নিই
আমার ক্ষমা চাইবার প্রয়োজন নেই-----
পৃথিবী আমার জানালার সামনে প্রসারিত
যখন আমি খড়খড়ি বন্ধ করি অথবা করি না।
এবং যদি অনবরত আমার সম্মুখে দেখা দেয়
আমার কি সে রকম কোন পছন্দ আছে ?
আমি গান করি না সময় অতিক্রান্তের
পৃথিবী আমার জানালার সামনে প্রসারিত
যেহেতু ঝঞ্ঝা এখন থেমে গেছে
যেহেতু গর্ভজাত শিশু উত্তাপ দেয়
এবং বসন্তকালে পুষ্পগুলি বরফাসিক্ত হয়
আর বিজয়োল্লাসের গানে ত্রাসের সঞ্চার করে
অর্থলোভীরা অস্ত্র নিয়ে চাঞ্চল্যের
প্রচণ্ডতা হানে
আমি গান করি না সময় অতিক্রান্তের
কবি অমিয় চট্টোপাধ্যায় (১৯৪০/৪১ - ২৬.১১.১৯৭১)
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত ‘সত্তরের শহীদ লেখক শিল্পী’, গ্রন্থ থেকে নেওয়া।
কবিকে আলিপুর জেলের ভিতরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
ঈশ্বর আমার ঈশ্বর সকলের লজ্জা
রুটির জন্য এবং ফুলের জন্যে লড়াই
অবশেষে বাহুর দৃঢ়তা
অসুস্থ প্রেমের সাক্ষীর জন্যে
যে-চীত্কার বক্ষদেশ পরিচ্ছন্ন করে
লরকা থেকে মায়াকবস্কি
যে কবিকে গোপনে হত্যা
অথবা যার জন্য যাদের জন্য নিজেরা
নিজেকে
হত্যা করেছে
আমি গান করি না---- সময় অতিক্রান্তের।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমাকে দেখাও সেই বন্দীকক্ষ
আমাকে দেখাও সেই বন্দীকে
আমাকে দেখাও সেই লোহারগরাদ
আমি তোমাকে দেখাব এক যুবককে
তার কারণ অনেক আছে।
আমাকে দেখাও সেই মরু প্রান্তর
আমাকে দেখাও সেই অহল্যা জমি
আমাকে দেখাও রক্তাপ্লুত স্থান
আমি তোমাকে দেখাব একটি নদী
তার কারণ অনেক আছে।
আমাকে দেখাও সেই দুঃখের নীল নদী
আমাকে দেখাও সেই ভীত হরিণটি
আমাকে দেখাও সেই গভীর অরণ্য
আমি তোমাকে দেখাব সূর্য ওঠার সময়
তার কারণ অনেক আছে।
আমাকে দেখাও
কবি অমিয় চট্টোপাধ্যায় (১৯৪০/৪১ - ২৬.১১.১৯৭১)
২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন
গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভীষণ ক্ষুধার্ত আছি : উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে----- প্রতিপলে---- সর্বগ্রাসী ক্ষুধা !
অনাবৃষ্টি --- যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেত্রে --- জ্বেলে দেয়
প্রভূত দাহন----- তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ !
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য-কোনো দাবি,
অনেকে অনেক-কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায় :
বাড়ি, গাড়ি, টাকাকড়ি---- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে ;
আমার সামান্য দাবি : পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর----
ভাত চাই---- এই চাওয়া সরাসরি ---- ঠাণ্ডা বা গরম,
সরু বা মোটা রেশনের লাল চালে হলে
কোন ক্ষতি নেই ---- মাটির শানকি-ভর্তি ভাত চাই ;
দু’বেলা দু’মুঠো হলে ছেড়ে দেবো অন্য সব দাবি।
অযৌক্তিক লোভ নেই, এমনকি, নেই যৌন ক্ষুধা---
চাইনি তো : নাভিনিম্নে –পরা শাড়ি, শাড়ির মালিক ;
যে চায় সে নিয়ে যাক---- যাকে ইচ্ছে তাকে দিয়ে দাও----
জেনে রাখো : আমার ও-সবে কোনো প্রয়োজন নেই।
যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি,
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘ’টে যাবে ;
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইস্টানিস্ট, আইন-কানুন----
সম্মুখে যা-কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমে :
থাকবে না কিছু বাকি---- চলে যাবে হা-ভাতের গ্রাসে।
যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে, ধরো, পেয়ে যাই----
ভাত দে হারামজাদা কবি রফিক আজাদ (১৪.২.১৯৪১ - ১২.৩.২০১৬)। ফয়সাল আজিজ-এর আবৃত্তি শুনুন এই
ভিডিওটিতে, সৌজন্যে VoiceArt YouTube Channel.
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপাচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হলে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ ক’রে।
দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবো : গাছপালা নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাথ, নর্দমার জলের প্রপাত,
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী---
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি---
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেল্ না নয় আজ।
ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমার হাতে অস্ত্র আছে
আইনি অস্ত্র।
কিন্তু সরকার, তোমার হাতে দেশি বিদেশি
অস্ত্র যোগাচ্ছে কে !
তোমার পক্ষে আইন আছে। আছে
প্রচার মাধ্যম। জ্ঞানীগুনী শিল্পী সাংবাদিক আছেন তোমার।
কিন্তু সরকার, তোমার হয়ে
প্রচার চালাচ্ছে কে !
তুমি তোমার অস্ত্রধারীরা
মানুষকে খুন করো, গ্রাম কে গ্রাম
লুঠ করে ঘর জ্বালিয়ে ----- দিনের পর দিন দিনের পর দিন-----
তবু ভোটে তোমার বাক্সই আগে ভরে।
কিন্তু সরকার, কারা
দু’হাতে ভরে দেয় তোমার ভোটবাক্স !
আইন তোমার পক্ষে।
প্রচার মাধ্যম তোমার পক্ষে। কেননা
তুমিই গণতন্ত্র।
আমরা জেনে গেছি কবি সাগর চক্রবর্তী (জন্ম ৩০.১১.১৯৪১)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত কবি “আমার প্রতিবাদের
ভাষা” কাব্যগ্রন্থ থেকে। রচনা ২০.০৭.২০০৭।
মুখ বন্ধ করাবার কায়দা তুমি জানো ।
কে তোমাকে মদৎ জোগায়। ভয় আর লোভের
দানাপানি ছড়িয়ে মানুষের মুখ তুমি বন্ধ করতে পারো।
কিন্তু সরকার, তোমার প্রশিক্ষিত কোনো ডাক্তার বদ্যিও
ক্ষতস্থানের মুখ লুন্ঠিতার ঘৃণা আর
রক্তের নীরব কথা বলা
বন্ধ করতে পারে না॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মানছিরে বাপ
মানছি।
এমনতরো চাপ
না মেনে বা উপায় কি ? বল্ ।
এই দ্যাখনা পাপের কথায় চোখে আসছে জল।
হ্যাঁরে বাবা, চক্ষু বুজেই কানছি।
বাঘ সিংহ হাতি হরিণ হাঙর কাছিম কুমীর তিমিমাছ
কুকুর বেড়াল পাখপাখালি সাপ
শিকার করা হত্যা করা আইনি মহাপাপ ।
অর্থদন্ড হাজতবাস
হতে পারে সর্বনাশ।
তীরধনুক বা বন্দুক হাতে ফের যদি তুই যা’স
আমার মাথা খা’স ।
তার চেয়ে যা চুরি করে কাটগে’ জারুল শাল বা সেগুন গাছ
কিম্বা বনের ঘাস।
মানছিরে বাপ
এমনতরো ভারসাম্য রক্ষা করার চাপ
না মেনে বা উপায় কি আর ? বল !
মানছিরে বাপ
কবি সাগর চক্রবর্তী (জন্ম ৩০.১১.১৯৪১)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত কবি “আমার প্রতিবাদের ভাষা” কাব্যগ্রন্থ থেকে। রচনা
২৯.০৭.২০০৭।
পুকুর দিঘি ডোবা ভরাট হর্ম বহুতল
বৃক্ষটৃক্ষ লোপাট
দরজা জানালার কপাট
ছাড়বি কোথায় হাঁপ !
কিন্তু দ্যাখো চক্ষু খুলে
গ্রাম শহরে মানুষ মেরে ঘুচিয়ে দিয়ে পাড়া
সোনার শহর গুঁড়িয়ে দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে
দিব্যি আছেন খোশমেজাজে রাজার হালে যাঁরা।
তাঁদের কেন জয়ধ্বনি , সমস্ত দোষ মাফ !
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাজে কাঁই না না কাঁই না না না ---
উন্নয়নের ভাঙ্গা কাঁসরখান॥
সাতচল্লিশে জহর কইলো, দেশটা সবে স্বাধীন হইল,
ধৈর্য ধরি থাকো চুপ মারিয়া ---
শিশু রাষ্ট্র যদি বাঁচে, গড়বো সমাজবাদের ধাঁচে,
( এখন ) পেট পেচাইয়া বাঁধো গামছাখানা॥ রে কাঁই না না ---॥
তার বেটি সরেস এককাঠি, বুট বেয়নেট বন্দুক লাঠি,
দিয়া করলো ভারতভূমি চাষ---
অঢেল টাকা ধার করিল, মুখে গরিবী হটাইলো,
তামাম দেশটা হইল রে শ্মশান॥ রে কাঁই না না ----॥
ধন্যি মায়ের ধন্যি পোলায়, একলাফে বিশ বছর লাফায়,
দেশ বেচিলো বিদেশীদের পায়ে---
ধারে মাথায় চুল বিকাইলো, শিখের রক্তে হাত রাঙাইলো,
( আবার ) বন্যা খরায় অকালে যায় জান॥ রে কাঁই না না ---॥
হেসে বলে শ্রীমনমোহন, ঘোমটার নীচে খেমটার নাচন
নাচবো না আর, নাচবো খোলাখুলি----
খুল্লমখুল্লা দাদা এসো, নাফার বেওসা খুলে বসো,
যায় যদি যাক ভারতভূমির মান॥ রে কাঁই না না ----॥
ভ্যালারে উন্নয়ন কথা ও সুর - কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক (জন্ম ৩.২.১৯৪২), শিল্পী - বিদ্যুৎ ভৌমিক ও নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠী।
কবি বলেছেন --- “উন্নয়নের গাওনা তো নেতা-মন্ত্রীরা গেয়েই চলেছ চিরকাল। আমরা পেলামটা কী ? শুধু বলি আর এঁটো কাটা। তাই এ
গানটি শোনানো শুরু। গানটি স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, “এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস” এপ্রিল---সেপ্টেম্বর ২০১০ সংখ্যা থেকে
নেওয়া। নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠী প্রকাশিত সি.ডি. থেকে গানটি, মিলনসাগরে থেকে শুনুন প্লেয়ারে ক্লিক করে . . . ।
আগমার্কা হিন্দুত্বের পোলা রাম নাম নিয়ে মারণ খেলা
মন্দির-মসজিদ-দাঙ্গায় পটু ভারী---
আমরা যতো হাড় হাভাতে ছুরি ধরায় তাদের হাতে
আওয়াজ তোলে হিন্দু-হিন্দুস্তান॥ রে কাঁই না না ----- ॥
মন মোহিনী আজব দাওয়াই, জ্যোতিবাবুর দোকানে পাই,
লাল বুলি আর লাল কাগজে মোড়া ---
( ওদের ) বাইরে যতো গালাগালি, তলায় তলায় ঢলাঢলি,
একই আত্মা একই মনপ্রাণ॥ রে কাঁই না না ----- ॥
গরীব গুর্বো আমরা যারা, একেই আছি জ্যান্ত মরা,
বেল্ট কষণের জায়গা নাই কোমরে ---
( ওরা ) হাড় খাইয়াছে মাস খাইয়াছে, চামড়া কেবল বাকী আছে,
( এবার ) তাতেই হবে ডুগডুগি বাজান্॥ রে কাঁই না না ----॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
‘দিচ্ছি দেবো’র ঝুলি ফেঁসে বেরলো বেড়াল।
‘হচ্ছে হবে’র ইচ্ছে ফানুস টলছে টালমাটাল।
তোমরা বলছো দিইছি অনেক, দিচ্ছি আরো দিব।
আমরা মোদ্দা পেলামটা কি সেই কথা কহিব॥
গণতন্ত্র চমত্কার ----
লাল ঝুঁটি তেরঙ্গা মোরগ দেখতে কি বাহার।
আগেও যেমন আজও তেমন খোশামোদে খুশি।
উল্টে কইলে ভোট না দিলে ক্যাডার বাগায় ঘুসি।
বুকের ব্যথায় হেঁচকি তুলে আর কতো সহিব॥
গণ্ডা গণ্ডা ষণ্ডামার্কা নেতার নেই আকাল।
দণ্ডমুণ্ডের মালিক তারা আমরা ভেড়ার পাল।
তারা খাবেন মণ্ডা মিঠাই আমরা ঠোঁট চাটিব॥
ঝুলি ফেঁসে গেছে হে কথা ও সুর - কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক (জন্ম ৩.২.১৯৪২), শিল্পী - বিদ্যুৎ ভৌমিক ও নিশান্তিকা
গণসঙ্গীত গোষ্ঠী। কবি বলেছেন --- “যে বছর ঢাক ঢোল পিটিয়ে বামফ্রন্টের ২০ বছর পূর্তি উত্সব হোল, সে বছরই এ গান লেখার
ও গাইবার প্রয়োজন বোধ করেছিলাম”। গানটি স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, “এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস” এপ্রিল---
সেপ্টেম্বর ২০১০ সংখ্যা থেকে নেওয়া। নিশান্তিকা গণসঙ্গীত গোষ্ঠী প্রকাশিত সি.ডি. র গানটি, মিলনসাগর থেকে শুনুন
প্লেয়ারে ক্লিক করে . . . ।
পুলিশ পেল সার্টিফিকেট, আমরা পেলাম কি !
বাগুইহাটি ফুলবাগানে প্রমাণ পেয়েছি।
বোনের ইজ্জত ভাইয়ের লাশ আজ কোন বুকে বহিব।
বোনের ইজ্জত ভাইয়ের লাশ আজ কোথায় কবর দিব॥
গালি গুলি মিথ্যে বুলি পুলিশ আর ক্যাডার
লাল হাতে, তেরঙ্গা হাতে একই হাতিয়ার
তোমার ডাণ্ডায় আমার ঝাণ্ডা আর কেন বহিব
সবুর কর সুদে মূলে উশুল করি নিব॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যারা গাজোয়ারি আর হামলা রুখতে
লাঠি ধরেছিল ;
যারা গণতন্ত্রের খোয়ারি কাটিয়ে
পথে নেমেছিল ;
স্লোগানে তুফান, সিনা টানটান, মেয়ে মরদের দল
নাড়িয়ে দিয়েছে নবাবীর ভিত সাধের রং-মহল।
গরাদের পিছে আমাদের সাথী বন্দী,
সরকারী চালো টানাপোড়েনের ফন্দী,
ওরা আমাদের ওদের সবার মুক্তি চাই।
মুক্তি-মুক্তি, মাঝে আর কোনো শর্ত নাই॥
যারা হকের লড়াইয়ে সামনে দাঁড়ায়ে
দিশা দিয়েছিলো ;
যারা সরকারী সন্ত্রাস রুখে দিতে
গড় গড়েছিল ;
নিশানে নিশান মুক্তি ঠিকানা দেশপ্রেমিকের দল
নাড়িয়ে দিয়েছে শোষণের ভিত পুঁজির লুঠমহল।
গরাদের পিছে আমাদের নেতা বন্দী,
সরকারী চালে টানাপোড়েনের ফন্দী,
ওরা আমাদের ওদের সবার মুক্তি চাই।
মুক্তি-মুক্তি, মাঝে আর কোনো শর্ত নাই॥
যারা গাজোয়ারি আর হামলা রুখতে লাঠি ধরেছিল (পরিবর্তনের পরে বদীমুক্তি নিয়ে)
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক (জন্ম ৩.২.১৯৪২)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা"
কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
যারা মা-মাটি-মানুষ বলতে দরদে
গলে গিয়েছিলো ;
যারা পরিবর্তনে বন্দীমুক্তি
কথা দিয়েছিলো ;
কমিটি বানালো, শর্ত চাপালো, সরকারী দেয়ালায়
যা হবার হোলো কুরশী বাগালো, পরে সব ভুলে যায়।
ওদের তো ভোট, আমাদের ভাই বন্দী,
ওদের তো ভোট আমার মা-বোন বন্দী,
টেনে ছিঁড়ে দাও ভোটবাজী-দাল-ফন্দী,
যারা আমাদের আমরা তাদের মুক্তি চাই।
মুক্তি-যুক্তি, মাঝে আর কোনো শর্ত নাই॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও দাদা জমছে না ভোটের বাজার,
ভোটের নেতায় বুকনি বেচেন চটকদার॥
সবাই ভাবেন দিল্লী যাবেন পাবেন গদি দিলবাহার॥
মিছিল সাজিয়ে মাইক বাজিয়ে,
ফাঁপা গলায় ফাঁকা বুলি মিটিংয়ে দিয়ে,
মন্ত্রী হবেন উর্দি পাবেন লুট-মহালের তহ্ শীলদার॥
কংগ্রেসী দেয় বাত দিনেক বানায় রাত,
শান্তি ঐক্য সংহতি সব আনবে কাটা হাত।
কুঁজোয় শোবে সটান হয়ে পঙ্গু ডিঙোবে পাহাড়॥
কি যে কয় পাগল, ( শুনে ) হাসে রামছাগল,
দর কমাবে চাকরি দেবে খুলবে বন্ধ কল।
বাঘে নেবে গো-রাখালি চোর হতে চায় চৌকিদার॥
ঐক্য সংহতি দেশের অগ্রগতি
খাটিয়ে মাথা বের করেছে দারুণ পদ্ধতি।
বসাবে গরুর গাড়ীতে হেড্ লাইট, ঠেলবে ঠেলা কম্পুটার॥
শরীর ঝাঁকিয়ে মুষ্টি পাকিয়ে
বামফ্রন্টী নেতারা বলেন ঘাড়টি বাঁকিয়ে।
আবার মোর্চা পাচ্ছি, দিল্লী যাচ্ছি দেখিয়ে দেবো চমত্কার॥
ভোটের গান – ১ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক (জন্ম ৩.২.১৯৪২)। রচনা - ১৯৮২। বহু বহু মিটিং মিছিলে গাওয়া এ গান আজও প্রাসঙ্গিক।
বেকার হটাবো, চাঁদ ধরে দেবো,
রুশ-মার্কিনী পুঁজি এনে ব্যাওসা বাড়াবো।
সাম্রাজ্যবাদ লুটুক নাফা, চাকরী হোক মামার শালার॥
ঐক্য সংহতি দেশের অগ্রগতি
রাষ্ট্র মোর্চা খিচুড়িতে দুরন্ত গতি।
বন্ধু রাজা হলে দেখিয়ে দেবো ন্যায়বিচার॥
আমরা শান্তিবাদী ভাই রাজ্যে শান্তি চাই,
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে খুন করি মাধাই।
নিরামিষ ছিল আমিষ হলো জ্যোতি-বচন বেদের বার॥
ভাঙতে আন্দোলন আছে সরস আয়োজন,
লাঠি পেটাই গুলি চালাই, নয় কথা গোপন।
কেন্দ্রের দৈন্য, পাঠায় সৈন্য আমরা নামাচ্ছি ক্যাডার॥
আমরা যত বিরোধী, ছিলাম প্রতিবাদী
গদি পেয়ে হয়ে গেছে ঠ্যাঙাড়েবাদী।
এখন গদিই মোক্ষ গদিই লক্ষ্য জনগণের কপ্ নি সার॥
ঐ যে পৈতে টিকির দল আদবানি-অটল
( বলে ) চল্ ঘুরিয়ে চল পেছিয়ে, রামরাজত্বে চল
বাবরি ভাঙবো দাঙ্গা করবো লাগিয়ে দেবো ধুন্ধুমার॥
ওরা রামের ভক্ত নয় দেশের ভক্ত নয়
ভুজোর লোভে পূজোর বাড়ির পুরুত মহাশয়
হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থানের জুড়েছে জবর চীত্কার॥
যত লুটের কারবারী মুনাফার ব্যাপারি
আইন-আদালত মন্ত্রী পুলিশ সবই তাদেরই।
( ওরা ) মোদের অর্থে ওদের স্বার্থে ভোটে গড়ে এ সরকার॥
ভাই রে, নিজের ঘর সামলে হয়ো না বেহাল
ভালো করে বুঝে নাও এই ধাপ্পাবাজির চাল।
ভোটের ঘোটে সময় নষ্ট জোট বেঁধে লড়া দরকার॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা নেবোনা বৃক্ষ পৃথিবীতে রোপনের ভার
মাঠে মাঠে বুনবোনা কোনদিন একটিও বীজ,
অথচ বৃক্ষ যদি ফল দেয়, ফলে যদি সোনার ফসল---
আমরা সবাই হবো সে সময় তার ভাগীদার।
চাইনা সে ধন তবে, চাইনা সে মানিক রতন,
যে ধন লুটবে জানি আমাদের চেনাশুনা রাজা |
কেননা রাজত্ব তাঁর, রাজধানী শয়তানে ভরা
মুখে কোন ভাষা নেই, তবু শুনি আমরা স্বাধীন |
এখন সময় বড় গ্লানিময়, চারিদিকে হাহাকার ওঠে---
"অন্ন চাই, বস্ত্র চাই"---বুকে বেঁধে পুলিশী বুলেট!
খাদ্য আন্দোলন : ১৯৬৬
কবি বরুণ মজুমদার (৯.৯.১৯৪২ - ১৪.১০.২০১৯)
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত কবির “নতুন ফুলের স্বপ্নে” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। কবিকণ্ঠে মিলনসাগর
থেকে আবৃত্তি শুনুন নীচে প্লেয়ারে ক্লিক করে . . .। কবির সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিলো যে তিনি
আকাশবাণীর সংবাদপাঠক ছিলেন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
‘দোল’ কেন ‘হোলি’ হল জানা নেই ভাই,
কেন ‘দেওয়ালি’তে পরিণত কালি পুজোটাই।
দুর্গাপুজোটা কবে হবে ‘দশহরা’,
সেই কথা ভেবে ভেবে আমি দিশাহারা।
ত্রয়োদশী তিথিটাতো ছিল চিরকাল,
‘ধনতোরাস’ নামে সে যে চলে আজকাল।
হুজুগের বাংলায় বাঙালি যে মাতে,
‘মেহেন্দি’ পরে সাজে তাই দুই হাতে।
বাঙালির প্রিয় ছিল ‘পৌষ-পার্বন’,
সে প্রথা বিলোপ ভাই হয়েছে এখন।
পিঠে পুলি পায়েসেতে নতুন পাটালি,
সে সব স্বপ্ন-সম বৃথা আজ খালি।
বাঙালির সংস্কৃতি বসেছি যে হারাতে,
নিয়েছি বদল করে অবাঙালি ধারাতে।
ভাষাতেও ধীরে ধীরে করছে প্রবেশ,
হিন্দী বলয়ের কিছু কিছু রেশ।
‘কিঁউ কী’-র বাঙলায় বলি ‘কেন কী’,
‘কারণ’ শব্দটাকে ভুলে মেরে দিই।
প্রেমের দিবস হল ‘ভ্যালেন্টাইন’,
‘রাসলীলা’ উত্সব হারালো যেদিন।
বড়দিন নয় শুধু পার্কস্ট্রীট-টাতে,
হিন্দু বাড়িও সাজে ‘খ্রীস্টমাস-ট্রী’তে।
জগা খিচুড়ি
কবি ডলি দাশগুপ্ত (জন্ম ১১.১২.১৯৪২)
আর কত বলি ভাই আজব এ দেশে,
বিয়েতে ব্রাত্য কনে বেনারসী বেশে।
সনাতন বর-বেশ ত্যাগ করে বর বেস---
পরে ‘শেরোয়ানি’ আর ‘চোগা চাপকান’।
ইংরাজ গেছে চলে, তাদের পোষাক ফেলে---
কোট-প্যান্ট, জিনস-টপ, গাউন ও শর্টস।
আমরা নিয়েছি তুলি সেসব পোষাকগুলি
ত্যাগ করে আমাদের বেশ সনাতন।
আজ আর একবার ভুলেছে বাঙালি তার
নিজের সাবেকি বেশ ধুতি আর শাড়ি পাছাপাড়।
সালোয়ার-কামিজের অবাঙালি বেশটাই,
আজ তার মনোমত, সাথে সাহেবী পোষাকটাই।
বিশ্বায়নের সাথে আমরা উঠেছি মেতে
আগাগোড়া করে নিতে পরিবর্তন।
বসন-ভূষণ আর অশনে এখনো
যেটুকু বাঙালিয়ানা আছে অবশেষ---
ইঙ্গ-বঙ্গ আর হিন্দী মিলিয়ে
এসো তাকে করে দিই একেবারে শেষ।