প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
|
|
|
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে! This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
. আলিপুর সেপ্টাল জেল, কলিকাতা
. ৭-৭-৩১ ( প্রত্যুষে )
বৌদি,
এইমাত্র তোমার চিঠিখানা পাইলাম। আমার জীবন-কাহিনী
জানাইবার সুযোগ হইল না। কি-ই বা জানাইব বল তো? আমার
সব কথাই তো তোমাদের বুকে চিরকাল আঁকা থাকিবে। তুচ্ছ
কালির আঁচড় কি তাহাকে আরও উজ্জ্বল করিয়া তুলিতে পারিবে?
আমার যত অপরাধ ক্ষমা করিবে। এ জন্মের মত বিদায়। ভালবাসা
ও প্রণাম জানিবে।
---তোমার ঠাকুরপো
কবি বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্ত
|
ফাঁসীর পূর্বে দীনেশের শেষ পত্র
বিপ্লবী কবি দীনেশ চন্দ্র গুপ্ত (৬.১২.১৯১১ - ৭.৭.১৯৩১)। ৮ই ডিসেম্বর ১৯৩০ তারিখের কলকাতার
রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের বিনয়-বাদস-দীনেশের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তর লেখা
কোনো কবিতা পাইনি। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় জেল থেকে তাঁর শেষ পত্র যা তিনি তাঁর বৌদিকে
লিখেছিলেন, আমরা তাঁর একটি কবিতা হিসেবে এখানে তুলে ধন্য হলাম। পত্রটি আমরা পেয়েছি
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শৈলেশ দে রচিত “বিনয়-বাদল-দীনেশ” গ্রন্থ থেকে। যাঁদের আত্মত্যাগের ফলে
আমরা স্বাধীন দেশে জন্মেছি, তাঁদের কথা, বাণী, লেখা, কলমের ছোঁয়া আমাদের কাছে কবিতাই।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
. আলিপুর সেণ্ট্রাল জেল, ৫॥ ( সন্ধ্যা )
. ৬. ৭. ৩১.
মা,
তোমার সঙ্গে আর দেখা হইবে না। কিন্তু পরলোকে আমি
তোমার জন্য অপেক্ষা করিব। তোমার কিছুই কোনদিন করিতে
পারি নাই। সে না করা যে আমাকে কতখানি দুঃখ দিতেছে তাহা
কেহই বুঝিবে না, বুঝাইতে চাইও না।
আমার যত দোষ যত অপরাধ, দয়া করিয়া ক্ষমা করিও। আমার
ভালবাসা ও প্রণাম জানিবে।
তোমার নসু।
কবি বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্ত
|
মা কে লেখা দীনেশের শেষ পত্র
বিপ্লবী কবি দীনেশ চন্দ্র গুপ্ত (৬.১২.১৯১১ - ৭.৭.১৯৩১)। ৮ই ডিসেম্বর ১৯৩০ তারিখের কলকাতার
রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের বিনয়-বাদস-দীনেশের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তর লেখা
কোনো কবিতা পাইনি। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় জেল থেকে তাঁর মা কে লেখা এই পত্রটি আমরা
তাঁর একটি কবিতা হিসেবে এখানে তুলে ধন্য হলাম। যাঁদের আত্মত্যাগের ফলে আমরা স্বাধীন দেশে
জন্মেছি, তাঁদের কথা, বাণী, লেখা, কলমের ছোঁয়া আমাদের কাছে কবিতাই। পত্রটি আমরা পেয়েছি
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শৈলেশ দে রচিত “বিনয়-বাদল-দীনেশ” গ্রন্থ থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
. আলিপুর সেণ্ট্রাল জেল,
. ১৮ই জুন, ১৯৩১, কলিকাতা।
বৌদি,
তোমার দীর্ঘ পত্র পাইলাম। অসময়ে কাহারও জীবনের
পরিসমাপ্তি হইতে পারে না। যাহাব যে কাজ কবিবার আছে, তাহা
শেষ হইলেই ভগবান তাহাকে নিজেব কাছে টানিয়া লন। কাজ শেষ
হইবার পূর্বে তিনি কাহাকেও ডাক দেন না।
তোমার মনে থাকিতে পারে, তোমার চুল দিয়া আমি পুতুল
নাচাইতাম। পুতুল আসিয়া গান গাহিত---‘কেন ডাকাইছ আমার
মোহন ঢুলি?’ যে পুতুলের পার্ট শেষ হইয়া গেল, আর তাহাকে
স্টেজে আসিতে হইত না। ভগবানও আমাদের নিয়া পুতুলনাচ
নাচাইতেছেন। আমরা এক একজন পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে পার্ট করিতে
আসিয়াছি। পার্ট করা শেষ হইলে প্রয়োজন ফুরাইয়া যাইবে।
তিনি রঙ্গমঞ্চ হইতে আমাদের সরাইয়া লইয়া যাইবেন। ইহাতে
আফসোস করিবার কি আছে?
কবি বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্ত
|
বৌদিকে দীনেশের দীর্ঘ পত্র
বিপ্লবী কবি দীনেশ চন্দ্র গুপ্ত (৬.১২.১৯১১ - ৭.৭.১৯৩১)। ৮ই ডিসেম্বর ১৯৩০ তারিখের কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের বিনয়-
বাদস-দীনেশের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তর লেখা কোনো কবিতা পাইনি। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় জেল থেকে তাঁর
বৌদিকে লেখা এই পত্রটি আমরা তাঁর একটি কবিতা হিসেবে তুলে ধন্য হলাম। যাঁদের আত্মত্যাগের ফলে আমরা স্বাধীন দেশে জন্মেছি,
তাঁদের কথা, বাণী, লেখা, কলমের ছোঁয়া আমাদের কাছে কবিতাই। এই পত্রের বিষয় আজ, এই মুহূর্তে যেন আমাদের দেশের জন্য
ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে! চিঠিটি আমরা পেয়েছি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শৈলেশ দে রচিত “বিনয়-বাদল-দীনেশ” গ্রন্থ থেকে।
পৃথিবীর যে কোন ধর্মমতকে মানিতে হইলেই আত্মার অবিনশ্বরতা
বিশ্বাস করিতে হয়। অর্থাৎ---দেহের মৃত্যু হইলেই আমাদের সব
শেষ হইয়া যায় না, একথা স্বীকার করিতে হইবে। আমরা হিন্দু---
হিন্দুধর্মে এ সম্বন্ধে কি বলিয়াছে, কিছু কিছু জানি। মুসলমান
ধর্মও বলে, মানুষ যখন মরে তখন খোদার ফেরেস্তা তার রুকবজ্
করিতে আসেন। মানুষের আত্মাকে ডাকিয়া বলেন, ‘আ্যায় রুহ্
নিক্ল্ ইস্ কালিব, সে চল্ খুদাকা জান্নৎ মে!’ অর্থাং তুই দেহ
ছাড়িয়া ভগবানের কাছে চল। তাহা হইলে বোঝা গেল, মানুষ
মরিলেই তার সব শেষ হইয়া যায় না, মুসলমান ধর্মের এ বিশ্বাস
আছে।
খুষ্টান ধর্ম বলে, ‘ভেরী কুইকলি দেয়ার উইল বি অ্যান এণ্ড অফ
দী হিয়ার, কনসিডার হোয়াট উইল বি কাম অফ দী ইন দি নেক্সট
ওয়ার্ল্ড’---অর্থাৎ দিন তো তোমার ফুরিয়ে এল, পরকালের কথা
চিন্তা কর। বোঝা গেল খৃষ্টান ধর্মও বিশ্বাস করে মানুষের দেহের
মৃত্যু হইলেও আত্মা মরে না। এই তিন ধর্মের কোন একটা স্বীকার
করিতে হইলেই আমাকে মানিয়া লইতে হইবে যে, আমার মৃত্যু নাই।
আমি অমর। আমাকে মারিবার সাধ্য কাহারও নাই।
ভারতবাসী আমরা নাকি বড় ধর্মপ্রবণ। ধর্মের নামে ভক্তিতে
আমাদের পণ্ডিতদের টিকি খাড়া হইয়া ওঠে। তবে আমাদের মরণের
এত ভয় কেন? বলি ধর্ম কি আছে আমাদের দেশে? যে দেশে
দশ বছরের মেয়েকে পঞ্চাশ বৎসরের বৃদ্ধ ধর্মের নামে বিবাহ করিতে
পারে, সে দেশে ধর্ম কোথায়? সে দেশের ধর্মের মুখে আগুন।
যে দেশে মানুষকে স্পর্শ করিলে মানুষের ধর্ম নষ্ট হয়, সে দেশের ধর্ম
আজই গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়া নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত। সবার
চাইতে বড় ধর্ম মানুষের বিবেক। সেই বিবেককে উপেক্ষা করিয়া
আমরা ধর্মের নামে অধর্মের স্রোতে গা ভাসাইয়া দিয়াছি। একটা
তুচ্ছ গরুর জন্য, না হয় একটু ঢাকের বাদ্য শুনিয়া আমরা ভাই-ভাই
খুনোখুনি করিয়া মরিতেছি। এতে কি ভগবান আমাদের জন্য
বৈকুণ্ঠের দ্বার খুলিয়া রাখিবেন, না খোদা বেহস্তে আমাদিগকে স্থান
দিবেন?
যে দেশকে ইহজন্মের মত ছাড়িয়া যাইতেছি, যার ধূলিকণাটু ;
পর্যন্ত আমার কাছে পরম পবিত্র, আজ বড় কষ্টে তার সম্বন্ধে এসব
কথা বলিতে হইল।
আমরা ভাল আছি। ভালবাসা ও প্রণাম লইবে।
---ন্সেহের ছোট ঠাকুরপো।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আরে ও দেশবাসী
আরে ও গরীবচাষী
জীবনভরা হাল বাইলাম, কাল কাটাইলাম নিত্য উপবাসী ॥
( আমরা ) মেঘে ভিজি রৌদ্রে পুড়ি ফসল ফলাই সোনা
ভাগ্যবানে সেই ফসল খায় আমরা উপাস উনারে॥
শাওন ভাদ্রে ফলাই ফসল অঘ্রান পৌষে তুলি
ফাল্গুন চৈত্রে মহাজন আসি ভান্ডার করে খালিরে॥
ঝড় বাদলে ভিজি মোরা থাকি ভাঙা ঘরে
ভাগ্যবানের দালান উঠে চাষীর ভাগ্য না ফেরে রে॥
আগের চেয়ে বরং বেশী খাটছি দিবারাতি
ইলেকট্রিক বা কোথায় রইল জ্বলে না কেরোসিন বাতিরে॥
কুমরণ আর মরব কত, চল মরার মত মরি
বাঁচার লড়াই করি সবে, ঝান্ডা উঁচা করিরে॥
আরে ও দেশবাসী
কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। গানটির
সঠিক রচনাকাল জানা যায়নি। গণনাট্য, মার্চ---মে, ১৯৭৫ সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ বাউল॥ ॥ রামপ্রসাদী সুর॥
এই দেশ ছিল দেশের সেরা
( ছিল ) সকল দেশের রাণী এদেশ ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা।
ধন তো নিয়াছে চোরে
ধান নিয়াছে মজুতদারে
পুষ্প সব গিয়াছে ঝরে, মরে যাচ্ছে নূতন চারা॥
ঢেউ খেলেনা ধানের মাঠে,
কে লাগায় ধান কে বা কাটে
মাঠের রাজা যায়না মাঠে, গায়নারে গান রাখালেরা॥
আজও যারা যায়নি মরে
উঠতে নারে শয্যা ছেড়ে
ম্যালেরিয়া কালাজ্বরে হয়েছেরে জিতে মরা ॥
এই দেশের সেই জেলে তাঁতী,
কাঁদে তারা দিবা রাতি
পায়না সূতা যন্ত্রপাতি, ভাত বেগরে মরলো তারা ॥
ঘুমটা দেওয়া বঙ্গনারী
পায়না ঘুমটা দিবার শাড়ী
লেংটা হ’ল বৌ ঝিয়াড়ী, হায় আজ দেশের এই চেহারা॥
এই দেশ ছিল দেশের সেরা
কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। এই গানটি
বাস্তুহারার মরণকান্না পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ভাঙ্গরে ভাঙ্ ভাঙ্গরে ভাঙ্
ভাঙ্গরে ভাঙ্ যত চোরের বাসা
ও গরীব ভাইরে চাষী মজুর ভাইরে
নইলেতো নাই কারো ভাই বাঁচিবার আশা।
স্বদেশী বিদেশী কারখানার মালিক
মজুর মেরে রাখে মুনাফা ঠিক
সবাই মিলে করো এদের কোনঠাসা॥
গ্রামের অধিবাসী রয় যে উপবাসী
চোরগুলো যদি রাজা হয় বসি
সবাই মিলে করো এদের কোনঠাসা॥
ভাঙ্গরে ভাঙ্ ভাঙ্গরে ভাঙ্
কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ পেটস্তান আন্দোলনের গান॥ কমিক॥
পেটের কথা কেউতো বলেনা
পাকিস্তান হিন্দুস্তান পাইয়ারে পেটেতো বোঝ মানেনা হায়রে-----
পেটের কথা কেউতো বলেনা।
পেটওয়ালা আছে দুইরকম
চিকন মোটা দুই দলেতে ঝগড়া হয় হরদম
এক দলেতে তুললে দাবীরে অন্যদলে মানেনা॥
পেটের কথা সবারে জানাই------
চল পেট পাগলারা মিলে একটি সমিতি বানাই
পেটের জ্বালা বড় জ্বালারে শুধু কথায় পেট ভরবেনা॥
পেট পাগলা যত বন্ধুগণ -----
চলো সবে মিলে চালাই আমরা পেটের আন্দোলন
পেটাধম কয় আওয়াজ তুলোরে
আমরা পেটস্তান দাবী ছাড়বনা॥
পেটের কথা কেউতো বলেনা
কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ১৯৪৯-৫০ সালে কবি গানটি রচনা করেন,
পরবর্তীকালে বাস্তুহারার মরণকান্না পুস্তিকা.য় গানটি প্রকাশিত হয়। পুস্তিকাটি
মোট ৩৫০০০ হাজার কপি নিজে বিক্রি করেন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নতুন দিনের গান
॥ ভাটিয়ালী॥
মিলে মজুর চাষী মধ্যবিত্ত
আনতে হবে বাঁচার অধিকার
চল সবে মিলে এক হয়ে আজ পথ ধরিরে বাঁচিবার।
ভূতের গোষ্ঠি যায়নি ছেড়ে. আছে তোমার আমার ঘরে
. লক্ষ করে দেখরে একবার-------
দেখ ধলা ভূতের কালো চেলারে ওরে আমার দেশবাসী ভাই
পরোক্ষে থাকিয়ারে ভূতে করতেছে ভূতের কারবার॥
ভূতে ধরা ভাঙ্গাবাড়ী, চল ভাই মেরামত করি
নূতন সাজে হইবে তৈয়ার------
দাও ভাঙ্গা চালে নূতন ছাউনিরে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
নূতন গান কন্ঠে ধর, গঠন কর নূতন সংসার॥
কৃষকের ঘাড় হইতে, ভূতের বোঝা নামাইতে
আগে যেতে হইবে তোমার-----
নেংটি পরা অর্দ্ধমরারে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
এই চাষী বাঁচিলে হবে দেশের দশের উপকার॥
মিলে মজুর চাষী মধ্যবিত্ত কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। গানটি প্রথমে “বাস্তুহারার মরণকান্না” পুস্তিকায় ( ১৯৫১ ) প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে “জমিদারী
ক্রয় আইনের সারমর্ম” পুস্তিকায় ( ১৯৫৪ ) কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত রূপে পুনঃ প্রকাশিত হয় । এখানে নতুন রূপটি দেওয়া রয়েছে।
যে বোঝা আজ চাষীর ঘাড়ে
সে বোজা নামিতে পারে
পাইলে চাষী চাষের ক্ষেতখামার-----
নয়াচীনের চাষীর মতরে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
হাড্ডিসার এই চাষীরা করবে সোনার ফসল তৈয়ার ॥
আজ মধ্যবিত্ত চায় চাকুরী
মজুর চায় তার হক মজুরী
কাজ চাইছে যত সব বেকার-----
পেলে শিক্ষকেরা শিক্ষার মূল্যরে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
গ্রামে গ্রামে স্কুল কলেজে হইবে নূতন শিক্ষার প্রসার॥
কুটির শিল্পী জেলে তাঁতী
যদি তারা পায় মাল যন্ত্রপাতি
পন্থা হবে তাদের বাঁচিবার-----
কমলে ট্যাক্সের উপর ট্যাক্সের বোঝারে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
যত লক্ষ্মীছাড়া কপাল পোড়া ছোট ছোট দোকানদার॥
সবার বাঁচার দাবি নিয়া
চল সবে এক হইয়া
নূতন সাজে হইরে তৈয়ার----
খুব হুঁশিয়ারে চলতে হবে রে, ওরে আমার দেশবাসী ভাই
যেন সুযোগ বুঝে বিভেদ বুদ্ধি ঘাড় না মটকায় আর একবার॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া
সবে মিলে থাকবো সেথা বিভেদ ভুলিয়া
. বিভেদ ভুলিয়া ।
ভাবি সমাজ গড়বো মোরা দুঃখ করবো দূর
হাটে মাঠে তুলবো রে ভাই আনন্দেরি সুর
আলো করবো আঁধার রাতি
ঘরে ঘরে জ্বালবো বাতি
গাইবো নবগান, দুঃখ করবো অবসান
নূতন সমাজ গড়বে কে রে আয়রে ছুটিয়া
. আয়রে ছুটিয়া ॥
শ্রমিক কৃষক সবাই সমান সবার দুঃখ এক
এক অবস্থায় দেশবাসী পড়েছি অনেক
দুঃখ সহিয়াছি ঢের
ভয় ভাবনা কিসের
আয়রে যত কৃষক শ্রমিক উঠরে জাগিয়া
. উঠরে জাগিয়া॥
একসাথে চল গড়বো মোরা রাঙ্গা দুনিয়া কবি নিবারণ পণ্ডিত
(২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত
ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। নেত্রকণা সম্মেলনের পূর্বে এক মাস ধরে গ্রামাঞ্চলে
প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রচার ও সম্মেলনের মঞ্চে গানটি বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তীকালে গানটি সামান্য পরিবর্তিত হয়। এখানে পরিবর্তিত রূপটি দেওয়া হল ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
॥ প্রচলিত চটকা পয়ার সুরে॥
ওকি ও হো রে ইন্দিরা
ওকি ও হো রে ইন্দিরা, তুই করলু মোক্ ঘরের বাহির।
মেলা পুলিস আসিল বাড়ি, মোর ঝড়ুক পিলে ধরি--
সেদিন হতে মুই ছড়িনুরে ঘরবাড়ি
ওকি ও হো রে ইন্দিরা, তুই করলু মোক্ ঘরের বাহিরা॥
আশি টাকাত খাসী বেচানু, ভিটাখানা মোর বন্ধক থুইনু
ধার করিনু আরও টাকা দেড় কুড়ি--
দেওয়ানী ধরিনু সরকার
ঘুরিছুং কত না কোট আর কাছারী
ওকি ও হো রে ইন্দিরা, তুই করলু মোক্ ঘরের বাহিরা॥
এলায় ইন্দিরা সরকার ডুবি গেইল্ নতুন সরকার গদী পাইল
সগার এলায় ভাল্ হবে, বন্দীরা সব মুক্তি পাবে
উরাং ব্যারাং মনত মোর আসিল সান্তনা।
ওকি ও হো রে ইন্দিরা, তুই করলু মোক্ ঘরের বাহিরা॥
ওকি ও হো রে ইন্দিরা
কবি নিবারণ পণ্ডিত (২৭.২.১৯১২ - ১.১১.১৯৬৪)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাজে ক্ষুদ্র ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ
ইনক্লাব আহ্বান----
নিথর জলধিজলে জাগে উতরোল
বিষ-মন্থনে ওঠে জীবন হিল্লোল
ক্রুর বন্ধন ভেঙে ভেঙে তরঙ্গ রঙ্গে ওঠে
সমুদ্র কল্লোল, উঠিল সমুদ্র কল্লোল॥ ২
বিদ্রোহী জাহাজ জঠরে
বয়লারে বয়লারে জ্বলন্ত অঙ্গারে
আগুনের ফুল্ কিতে নাবিকের প্রাণে প্রাণে
জ্বলিল মশাল
প্রাণে প্রাণে জ্বলিল মশাল॥ ২
সেদিন ছেচল্লিশের শীতের কুয়াশা
ভেদি গোলামীর ঘোর অমানিশা
চূর্ণ করি কংসের কারাগার
সচকিত সাইরেনে নব অঙ্গীকার
আরব সাগরবাহী অতলান্তজয়ী
বোম্বাই বন্দরে বিদ্রোহী ‘খাইবার’
ভিড়িল বিদ্রোহী ‘খাইবার’॥ ৩
বাজে ক্ষুব্ধ ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। কণ্ঠ - হেমাঙ্গ বিশ্বাস, উত্পল দত্তের “কল্লোল” নাটকের প্রস্তাবনা গীত। ১৯৪৬ সালের নৌ-বিদ্রোহের গান। ভিডিওটি
সৌজন্যে Roddure ফেসবুক চ্যানেল।
নীল সমুদ্র লাল করে গেল
নাবিকের রক্তধারা।
তোমরা কি শুধিবে রক্তের ঋণ
অলক্ষ্যে শুধায় তারা॥
দরিয়ার ডাকে দিল সাড়া মহাভারতের জনতা
উত্তাল ঢেউ-এ ঢেউ-এ কল্লোলিত মহানগর কলকাতা
কল্লোলিত মহানগর কলকাতা॥
হাঁকে শার্দুল সিং গফুর
বীর শার্দূল সিং গফুর
কে আছ বাহাদুর
কামান গর্জনে
কামগার ময়দানে
রাজপথে ব্যারিকেডে সশস্ত্র মজদুর
দাঁড়ালো সশস্ত্র মজদুর॥
দরিয়ার ডাকে দিল সাড়া মহাভারতের জনতা
উত্তাল ঢেউ-এ ঢেউ-এ কল্লোলিত মহানগর কলকাতা
কল্লোলিত মহানগর কলকাতা॥ ৩
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই মাটির এই ধূলিকণায়
. কতো রক্তরেখা
এই মাটির এই ঘাসে ঘাসে
. ইতিহাস লেখা।
কতো মায়ের নিদ-হারা রাত আকুল নয়ন
কতো বধূর নিশুতি রাতের গোপন ক্রন্দন
হয়নি মিছে, রচিল সে আমারি স্বপন
. ও সে আমারি স্বপন॥
বারে বারে বন্যা এলো ঝঞ্ঝা বাদল
এই মাটিকে ছিনিয়ে নিতে বন্য পশুর দল ;
প্রতিরোধের ফাঁসিরমঞ্চে শুনি মাটির গান
নীল সাগরের ওপার হতে ডাকে আন্দামান
আমার মাটি, আমার মা--টি
. আমার অভিমান॥
এ মাটির এই ধূলিকণায়
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কারাগার বন্দী
নাহি চায় সন্ধি
পাহাড় টলানো বীরদল
ভুলি নাই, ভুলি নাই
. আঁধারের আলোকমল॥
গূঢ় প্রাচীর অন্তরালে হত্যার অভিসন্ধি
নাগিনীদের নিঃশ্বাসে বাতাস বিষগন্ধী
বুকের খুনে উষ্ণ হলো প্রস্তর শীতল
. পাহাড় টলানো বীরদল॥
দেশে দেশে পরাজিত কুটিল ষড়যন্ত্র
জনতার পদক্ষেপে শোনো মুক্তির মন্ত্র
সিংহদ্বারের লৌহকপাট বিদীর্ণ-অর্গল
. পাহাড় টলানো বীরদল॥
কারাগার বন্দী
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
৫.৭.২০২১ তারিখে কারাগারে ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু তে (হত্যা) বোঝা যায় এই
গানটি আজো কত প্রাসঙ্গিক।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুদূর সমুদ্দুর প্রশান্তের বুকে
হিরোশিমা দ্বীপের আমি শঙ্খচিল
আমার দু’ডানায় ঢেউয়ের দোলা
আমার দু’চোখে নীল শুধু নীল ;
সাগরের জলে সিনানের শেষে প্রবালের সিঁড়ি বেয়ে
মত্স্যগন্ধা মেয়ে
ঝিনুক নূপুরে রুণু ঝুনু ঝুনু
যেতো সে সাগরিকা
ঝিলিক মিলিক নাচিয়ে গলায় মুক্তার মালিকা।
পূর্বাচলের প্রাঙ্গনে
সাগরিকার অঙ্গনে
দিগবধুরা খেলেরে---
সমুদ্রহিল্লোলে তার দোলে হৃদয় দোলে
শঙ্খচিলের সঙ্গীতে তার স্বপন দুয়ার খোলে
দারুচিনি বনের পাখায় সোহাগ চামর দোলে
দোলে হৃদয় দোলে---।
হঠাৎ সেদিন শুভ্রশরৎ সকালে
মাযাবী রোদের রূপালী ঝালর ছিন্নভিন্ন করে
কোন বিষাক্ত বাসুকীর ফণা দিগন্ত দিল ঢেকে।
শঙ্খচীল (হিরোশিমার গান)
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। কণ্ঠ - হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও পূরবী মুখোপাধ্যায়। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত
গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ভিডিও সৌজন্যে pubg gaming 007YouTube Channel.
প্রলয়ংকর নিঃশ্বাসে তার ধ্বংস ছড়াল দিক্ বিদিক
আণবিক সে, দানবিক সে মৃত্যু-নৃত্য নেচে
ধ্বংস-নৃত্য নেচে।
দারুণ আগুন দহনজ্বালায় দগ্ধ ভস্মিভূতা----
প্রশান্তদুহিতা।
প্রশান্তদুহিতা, মরমিয়া মিতা কোথা সাগরিকা গো
বাতাসে ঝুরিছে বাদল ঝিরঝির আকাশে ঝুরিছে তারা
দিগবধূরা গুমরি গুমরি কাঁদিছে সঙ্গীহারা
বেলাভূমি বুকে আছড়ি ঢেউ কাঁদে, কোথা সাগরিকা গো।
আমার অঙ্গীকার, আমার এ আঙ্গীকার
আক্রান্ত প্রশান্তের অশান্তবিহঙ্গ দুরন্তদুর্নিবার।
ঝড়ের নিশানা আমার দু’ডানা চিরউড্ডীন, অক্লান্ত
প্রশান্ত হতে অতলান্ত
প্রতিরোধ, প্রতিশোধ, চিরক্ষমাহীন চিরক্ষমাহীন।
আমার শান্তিগানে বিদ্রোহবাণ আনে
আফ্রোএশিয়া আমেরিকায়
আমার ডানায় তোলে আঁধিয়া আকাশতলে
ঝনন ঝনন মরুঝঞ্ঝা সাহারায়,
নদনদী প্রান্তরে অরণ্য অন্তরে-----পাহাড় গহ্বরে
রক্তে আদায় করি রক্তের ঋণ
আমি ভিয়েতমিন আমিই ভিয়েতমিন আমি ভিয়েতমিন।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মাউন্টব্যাটেন সাহেব ও
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে
. থুইয়া গেলায় ও
তোমার সোনার পুরী আন্ধার কইরা ও ব্যাটন সাহেব
. তুমি কই চলিলায়,
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও।
সর্দার কান্দে, পন্ডিত কান্দে, কান্দে মৌলানায়
. কিরে হায়, হায়, হায়।
আর মাথাই এযে মাথা কুটে বলদায় বুক থাপড়ায়।
তোমার শ্যামা চেট্টি ভক্তবৃন্দে ও
. তারা ধুলায় গড়াগড়ি যায়।
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও।
কান্দে রাজা মহারাজা তোমার পোষ্য বাছা
. ফুঁপাইয়া ফুঁপাইয়া কান্দে ও
. কালা বাজারের প্যাট্ লা হুতুম প্যাঁচা
তোমার নয়াদিল্লী ডুবু ডুবু ও
. বুঝি ভঙ্গবঙ্গ ভেসে যায়
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও।
মাউন্টব্যাটেন মঙ্গল কাব্য
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
যেইনা তোমার পরবর্তী
আইলা গোপাল রাজ চক্রবর্তী
আইলা গান্ধীভস্ম তিলক মাথায়
. ধুতি চাদর গায়
. মরি হায় হায় রে-----
ক্লাইভ কার্জনের বংশে বাতি বামুনে জ্বালায়
. মরি হায় হায় রে-----
বামুনের খুশী মন, হাপুস নয়ন
তোমার লেডির গাউন কান্দিয়া ভিজায়।
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও।
রাম গেলা বনবাসে বেউলা হইলা রাঁড়ি
(আর) যুগল ব্যাটন বিলাত গেলা কান্দে গোপালাচারী
দিল্লী হইতে পুষ্পক থে গেলায় উড়িয়া
করজোরে ভক্তবৃন্দ আসমানে চাইয়া
. প্রভু নাই নাই রে।
কান্দিও না সর্দার পন্ডিত
. কাইন্দ না কাইন্দ না।
আমি যাহা দিয়া গেলাম নাই যে তার তুলনা---
. ( আমি যাই যাই রে )
যাইবার যদি এটলী বাপার তুমি কইও গিয়া
ডোমিনিয়ন প্রেমের ডোরে রাখে যেন বান্দিয়া।
. ( হায় নাই নাই রে )
মিছা কেনে ভাবনা কর, ভয়ের কিবা আছে
অশরীরী ছায়া আমার থাকবে কাছে কাছে
. আমি যাই যাই রে॥
তোমার দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার গতিক ভালো নয়,
জান সে মোদের খাঁচা ছাড়া কখন কি যে হয়॥
. (প্রভু নাই নাই রে )।
আমরা আছি, মার্শাল আছে, আছে আমেরিকা
এই জাহাজের হও গাধা বোট নইলে বিষম ঠেকা।
. (আমি যাই যাই রে )।
নয়া দিল্লীতে ঘোর কলিতে
. আইলা কল্কি অবতার---কি বাহার
পতিত ভারত করিতে উদ্ধার।
. বড় বড় দেশ নেতা দিলা পায়ে ধর্ণা
তপস্যায় লভিলেন বর স্বরাজ অন্নপূর্ণা
. “হবে ধনধান্যে পূর্ণা”॥
. হবে ধনধান্যে পূর্ণা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আজাদী হয়নি আজও তোর
নব-বন্ধন শৃংখল ডোর
দুঃখ রাত্রি হয়নি ভোর
আগে কদম কদম চল জোর॥
শত শহীদের আত্মদান
একি তারই প্রতিদান
দেশদ্রোহীর এ বিধান
চূর্ণ কর কর অবসান॥
সাম্রাজ্যশাহীর পাতা ফাঁদ
খুনি ধনীকের এ বনিয়াদ
ভাঙরে ভাঙ শোষণের বাঁধ
শোন তেলেঙ্গানার সংবাদ॥
ওরে ও কিষাণ মজদুর
আর মনজিল নয় নয় দূর
ওরে তবু তো পথ বন্ধুর
ডাকে উত্তাল জলসমুদ্দুর।
আজাদী হয়নি আজও তোর
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০
সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান
. কিষাণ ভাই রে,
কাস্তেটারে দিও জোরে শান॥
ফসল কাটার সময় হলে কাটবে সোনার ধান
দস্যু যদি লুটতে আসে কাটবে তাহার জান---রে॥
শান দিও, জোরসে দিও, দিও বারে বার
হুশিয়ার ভাই, কভু তাহার, যায় না ধার---রে॥|
ও কিষাণ তোর ঘরে আগুন, বাইরে যে তুফান
বিদেশী সরকার ঘরে দুয়ারে জাপান---রে॥
একতায় ভাই চীনের মানুষ হইল বলীয়ান
ছয়টি বছর জাপানীরে করলো যে হয়রান---রে॥
এক হয়ে আজ দাঁড়াও দেখি মজুর কিষাণ
এক নিমেষে আসবে স্বরাজ, ঘুচবে অপমান---রে।
কাস্তেটারে দিও জোরে শান
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০
সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না
তোমার কলিজার খুনে রাঙাইলে কে আম্বার জেলখানা।
যখন গহীন রাতে আন্ধার পথে চমকায় বিজলী
(তোমার) বুকের খুনের দাগে দাগে আমরা পথ চলি ;
সেই কালসাপেরই কুটিল গুহায় আমরা যে দেই হানা
তোমার বহুল বুকে ছোবল দিল যে নাগিনীর ফণা॥
. বলো কি করে ভুলি সে কথা
. খুন করে গোপনে তোমার জ্বালাইল চিতা
সেই চিতার আগুন জ্বলে দ্বিগুন
. জ্বলে দিকে দিকে রে বন্ধু
. জ্বলে বুকে বুকে রে বন্ধু
. জ্বলে চোখে চোখে-----
জ্বলে অগ্নিকোণে রক্তমেঘে কালবৈশাখীর ডানা॥
তুমি ছিলায় গরীব কিষাণ এই মাটির সন্তান
হাতে নিলায় তাই তো বন্ধু দুঃখীর এই লাল নিশান
. রে সাথী সবহারার নিশান
সেই লাল নিশানের মান রাখিতে দিলায় বন্ধু জান
. বন্ধু, লুটাইলায় পরাণ
তোমার রক্তে রাঙা নিশান দিল পথের নিশানা॥
আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
উদয়পথের যাত্রী
ওরে রে ছাত্রছাত্রী,
মশাল জ্বালো, মশাল জ্বালো, মশাল জ্বালো।
প্রেতপুরীর এই অন্ধকারায় আনো আলো॥
পিশাচ নিশাচর
ঘিরিছে চরাচর
বাণীর পূজারী রাঁদে নিরন্ন বেদনায় জর্জর ;
আলোক মিনারে প্রদীপ শিখারে ওরা যে নিভালো।
শিক্ষাবিহীন গৃহহারা যারা কাঁদিছে আঁধারে
হে প্রগতির সৈনিক তোরা ভুলিবি কি তাদেরে।
কঙ্কালে প্রাণ দাও
জীবনের গান গাও
ভুলি ভেদাভেদ অন্ধআবেগ, হাতে হাত মিলাও
ধনপিপাসায় মূঢ় হতাশায় আগুন জ্বালো॥
উদয়পথের যাত্রী
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাঁচবো বাঁচবোরে আমরা বাঁচবোরে বাঁচবো
ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়া
নয়া বাংলা গড়বো ॥
বিভেদ গাঙের বাঁধবো দুই কূল
বাঁধবো আবার মিলনের পুল
যত বাস্তুহারা সর্বহারা সুখের গৃহ গড়বো॥
ঘুচবে দেশের অন্ধকার
আসবেরে প্রাণের জোয়ার
( আমরা ) সবাই মিলে তালে তালে আনন্দের গান গাইবো॥
গোলায় গোলায় উঠবে ধান
গলায় গলায় উঠবে গান
যত মায়ের বুকের শিশুর মুখে হাসির ঝলক আনবো॥
দীন-দুঃখী অভাগার দল
মোছরে এবার চোখের জল
এল নিখিল বিশ্বে যত নিঃস্বের মহামুক্তির পর্ব॥
বাঁচবো বাঁচবোরে আমরা
কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস (১৪.১২.১৯১২ - ২২.১১.১৯৮৭)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বেয়নেট হোক যত ধারালো---
কাস্তেটা ধার দিয়ো, বন্ধু!
শেল আর বম হোক ভারালো
কাস্তেটা শান দিয়ো, বন্ধু।
নতুন চাঁদের বাঁকা ফালিটি
তুমি বুঝি খুব ভালোবাসতে ?
চাঁদের শতক আজ নহে তো
এ-যুগের চাঁদ হ'লো কাস্তে!
ইস্পাতে কামানেতে দুনিয়া
কাল যারা করেছিল পূর্ণ,
কামানে-কামানে ঠোকাঠুকিতে
আজ তারা চূর্ণবিচূর্ণ :
কাস্তে কাস্তে কবি দিনেশ দাস (১৬.৯.১৯১৩ - ১৩.৩.১৯৮৫)। প্রথম প্রকাশ শারদিয়া
আনন্দবাজার, ১৯৩৭। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত “আধুনিক বাংলা
কবিতা” সংকলন থেকে নেওয়া।
চূর্ণ এ-লৌহের পৃথিবী
তোমাদের রক্ত-সমুদ্রে
গ'লে পরিণত হয় মাটিতে,
মাটির---মাটির যুগ ঊর্ধ্বে!
দিগন্তে মৃত্তিকা ঘনায়ে
আসে ওই! চেয়ে দ্যাখো বন্ধু!
কাস্তেটা রেখেছো কি শানায়ে
এ-মাটির কাস্তেটা, বন্ধু!
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মানুষ এবং কুত্তাতে
আজ সকালে অন্ন চাটি একসাথে
আজকে মহাদুর্দিনে
আমরা বৃথা খাদ্য খুঁজি ডাস্টবিনে।
এই যে খুনে সভ্যতা
অনেকজনের অন্ন মেরে কয়েকজনের ভব্যতা,
এগোয় নাকো পেছোয় নাকো অচল গতি ত্রিশঙ্কুর---
হোটেলখানার পাশেই এরা বানিয়ে চলে আস্তাকুঁড়।
পুঁজির প্রভু! মহাপ্রভু! তোমার কৃপা অনন্ত---
জলের ফোঁটা ঘিয়ের কড়ায় ফুটন্ত,
পিঁপড়ে পেল মানুষ-গলা শর্করা,
তোমার কৃপা বুঝবে কি আর মূর্খরা ?
আজ যে পথে আবর্জনার স্বৈরিতা
মহাপ্রভু! সবই তোমার তৈরি তা।
দেখছি বসে দূরবীনে
তোমায় শেষে আসতে হবো তোমার গড়া ডাস্টবিনে।
ডাস্টবিন
কাস্তে কবি দিনেশ দাস (১৬.৯.১৯১৩ - ১৩.৩.১৯৮৫)।
২০১৫ সালে প্রকাশিত, ডঃ ঝুমা রায়চৌধুরী সম্পাদিত “প্রিয় কবিতা ২” সংকলনের কবিতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার দু’চোখে আজ করে ছলোছল
পদ্মার অজস্র জল
মেঘনার ডাক,
মেঘের স্রোতের মতো স্তম্ভিত অবাক।
ডাক আসে ধূসর শহরে
রুক্ষ দ্বিপ্রহরে
বাতাস ছড়ায় অবসাদ,
ছিন্নমস্তা করে শুধু রক্তের আস্বাদ।
শুকনো পাতার মতন উড়ে এল স্বাধীন সনদ,
এখানে আমার চোখে ঢেউ তোলে
বুকজোড়া পদ্মা হ’তে দূর সিন্ধু নদ,
তবুো মুক্তির স্রোত ওঠে ফুলে ফুলে
করোমণ্ডলের ধারে শ্যাম মালাবার উপকূলে
ভারত-সাগর গর্জায়,
ইতিহাসে শুরু হবে নতুন পর্যায়।
পনেরই আগস্ট : ১৯৪৭
কাস্তে কবি দিনেশ দাস (১৬.৯.১৯১৩ - ১৩.৩.১৯৮৫)
বাপ্পাদিত্য জানা সম্পাদিত, ২০১৭ সালে প্রকাশিত, “আন্দোলন ঘটনা ও কবিতা, বঙ্গভঙ্গ
থেকে সাম্প্রতিক ১৯০৫-২০১১” কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া।
এখানে তো শাঁখের করাতে
দিনগুলি কেটে যায় করাতের দাঁতে
সীমানার দাগে দাগে জমাট রক্তের দাগ---
কালনেমী করে লঙ্কাভাগ।
তবু এল স্বাধীনতা দিন
উজ্জ্বল রঙিন
প্রাণের আবেগে অস্থির---
ডাক দেয় মাতা পদ্মা, পিতা সিন্ধু-তীর।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
স্বভাব তো কখনো যাবে না
( ওহো মরি )
থাকিলে ডোবাখানা
হবে কচুরিপানা------
বাঘে হরিণে খানা -----
একসাথে খাবে না ।
জলের স্বভাব যেমন ধারা নিম্নদিকে যায়
আগুনের ওই স্বভাব যেমন সবকিছু পোড়ায়।
ছারপোকার ওই স্বভাব কেবল রক্ত চুষে খায়
কাঠেতে রাখে না বস্তু ধরলে উইপোকায়।
পাতিকাক পুষে ঘরে
যতই পড়াও না তারে,
সে শুধু কা কা করে
রাধাকৃষ্ণ কবে না।
সাপের স্বভাব কেবল মারে বিষাক্ত ছোবল
ছেলেদের ওই স্বভাব কেবল পাকায় গন্ডগোল।
বিড়ালগুলোর স্বভাব কেবল হাঁড়ির দিকে চায়
কখন শিকে পড়বে ছিঁড়ে তারই লালসায়।
বুনোওল খেলে পরে
গলাটা কিট কিট করে
( যখন ) সিঁদেল চোর ধরা পড়ে
কবুল করে না।
স্বভাব তো কখনো যাবে না কবি গুরুদাস পাল (১.১৯০১৩ - ১৩.১২.১৯৬৮)। ২০০০ সালে প্রকাশিত,
মালিনী ভট্টাচার্য ও প্রদীপ্ত বাগচী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “কবিয়াল গুরুদাস পাল” গ্রন্থের সংকলন থেকে নেওয়া।
জমিদারের স্বভাব করে চাষীর সর্বনাশ
খাতা ব্যবসায়ীদের স্বভাব খোঁজে চৈত্রমাস।
ধনীর স্বভাব গরিব মারার কলকাঠি বানায়
বিভেদ বিষের আগুন নিয়ে খেলছে এ বাংলায়।
হিন্দু আর পাঞ্জাবিতে
এই সেদিন বাগমারিতে
( ছিল ) লাগ লাগ লাগিয়ে দিতে
চিত্তেতে বাসনা।
ভন্ডযোগী জটাধারী তেলক ফোঁটা গায়
গণতন্ত্রের মন্ত্র দিয়ে ডুগডুগি বাজায়।
মুখেতে অহিংসার বুলি হাতে শিশুর খুন
গুণের গুণীর গুন গুন গুন চলতেছে রামধুন।
এ গুণের বেগুন কাঠে
জনতা তুলবে লাটে
চলছে মাঠে ঘাটে তার----
প্রস্তুতি জল্পনা ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি কত্তা ভজার দলে
বাইরেতে বোষ্টুমি আমি ( আমার ) ভেতরে দুর্নীতি চলে॥
আমি লম্বা টিকি মাথায় রাখি, জুচ্চুরির ফিকিরে থাকি
আমার কাজে নেইকো ফাঁকি, মোসাহেবরা বলে॥
বাস্তুহারার --- ক্যাম্পে গিয়ে ভাসি চোখের জলে
যদি কচেবারো করতে পারি ইলেকশন্ টায় তলে তলে॥
আমি হিংসার ওপর বড্ড চটা, মাঝে মাঝে করে ঘটা
বাক্যচ্ছটায় পটিয়ে লোককে ভেড়াই নিজের দলে॥
গরিব গুরবোর ওপর ওই যে লাঠি গুলি চলে
সেটা তোমারা বুঝলে কিনা, সেরেফ তাদের কর্মফলে॥
আমি দিব্যি করে বলতে পারি, ওই যে পুলিশ মিলিটারি
ওরা শান্তি রক্ষার ধ্বজাধারী, ন্যায্য পথে চলে॥
মাঝে মাঝে দুষ্টুলোকের কেলেংকারির ফলে
যত হাড়হাবাতের হুড় থামাতে, খামাখা গোচ্ছার গুলি চলে॥
লোকের মশাই এঁড়ে বায়না, তারা নাকি খেতে পায় না
না খেলে কি বাঁচা যায় না? বলুক তো সকলে॥
চোদ্দ বচ্ছর শুকিয়ে লক্ষ্ণণের কী করে চলে?
এ তো আমার কথা নয়রে বাপু, ( এ যে ) রামায়ণের নেকায় বলে॥
মশাই আমি একটু সাহেব ঘেঁসা, তাদের মন জোগানো আমার পেশা
ওঠা বসা মেলা মেশা রং-তামাশা চলে॥
আশা করি ছলে বলে কৌশলে
টিকি অবধি বিকিয়ে দেব, আমার শ্বেত প্রভুদের শ্রীকমলে॥
আমি নাম ভাঙানোর গুরুমশাই, চতুর্বর্গ জ্ঞানের গোঁসাই
বুদ্ধশিষ্যের অস্থি ভাসাই বারাণসীর জলে॥
আমি কত্তা ভজার দলে কবি গুরুদাস পাল (১.১৯০১৩ - ১৩.১২.১৯৬৮)। ২০০০ সালে প্রকাশিত, মালিনী ভট্টাচার্য ও
প্রদীপ্ত বাগচী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “কবিয়াল গুরুদাস পাল” গ্রন্থের সংকলন থেকে নেওয়া।
ইতরজনের সাইকোলজি বুঝতে পারার ফলে
আমার হোক না গাড়ির চাকা ভাঙা, হটরে হটরে তবু চলে ॥
আমি একজন মহানচেতা, ভয়ঙ্কর এক দেশনেতা
আমার মহাপ্রতাপে তা মালুম পায় সকলে॥
যখন ফুটপাতে লোক টেঁসে থাকে খিদের ধকলে
পথের ধুলো উড়িয়ে তখন আমার স্টুডিবেকার গাড়ি চলে॥
আমি একজন স্বদেশ ভক্ত, আমার দুটি হাতে নারীরক্ত
একটু শক্ত না হলে কি তখ্ ত রাখা চলে॥
বাংলা যে হল বিভক্ত সে মোর মন্ত্রণারি ফলে
করে ঘরে ঘরে রক্তারক্তি, লোকে পড়ল মোদের গ্যাঁড়াকলে॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হায় হায়রে-------
. আমার সুবর্ণ বাংলায়
. অগণিত নরনারী আজ জলে ভেসে যায়
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে ।
( আমরা ) থাকি দূরে সে খবর কাগজেতে পড়ি
( আর ) বেতার প্রচারে কিছু অনুমান করি-----
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. দুরন্ত করলা নদীর স্ফীত জলরাশি
( ও তার ) প্রলয় স্রোতে হাজার হাজার মানুষ গেল ভাসি
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. তিস্তার দুরন্ত বানে নিস্তার না দিল
. মহানন্দে মহানন্দা সর্বস্ব গ্রাসিল
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. ডুবল গ্রাম আর বস্তি শহর ---- গেল ভেঙেচুরে----
. জলপাইগুড়ি কুচবিহার আর পশ্চিম দিনাজপুরে----
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে ,
. মরল মানুষ মরল গরু মরল বেড়ালছানা
. নিঠুরা প্রকৃতি কারও মানল না গো মানা
. ( ওহো মরি ) হায় হায়রে।
. ( একটা )সমাজ বিধ্বস্ত হল কে কার খবর রাখে
. ( আমাদের ) রক্তচোষা কর্তারা সব নির্বিকারে থাকে
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
হায় হায়রে আমার সুবর্ণ বাংলায় কবি গুরুদাস পাল (১.১৯০১৩ - ১৩.১২.১৯৬৮)। ২০০০ সালে প্রকাশিত, মালিনী ভট্টাচার্য ও প্রদীপ্ত বাগচী দ্বারা সংকলিত
ও সম্পাদিত “কবিয়াল গুরুদাস পাল” গ্রন্থের সংকলন থেকে নেওয়া।
( এরা ) মানুষ মারার গুরুমশাই বাঁচানোর কেউ নয়
. শোষক শ্রেণীর রাষ্ট্রয়ন্ত্র ------ ওই রকমই হয়
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. বড়ো বড়ো অফিসার সব ( যারা ) দায়িত্বশীল ছিল
( যে যার ) প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে সব ‘প’ য়ে আকার দিল
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
( এরা ) মোটা মোটা টাকার কাঁড়ি মাসিক ট্যাঁকে গোঁজে
. দেশের দুর্দিন দেখে পালাবার পথ খোঁজে
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
( এখন ) ঠুঁটো জগন্নাথের মতো ----- পুলিশ মিলিটারি-----
( যারা ) আপৎকালে দেশ বাঁচানোর নিল ঠিকাদারি
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. এদের হাতে থাকলে মোদের ভবিষ্যতের ভার
( হবে ) মানব সমাজ সভ্যতা সব অচিরে ছারখার -----
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
( এরা ) সিরনি খেয়ে তলে তলে ডুবিয়ে দেবে ধরা
. এদের পাপে পরিপূর্ণ আজ মাতা বসুন্ধরা
( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. জাতির কলঙ্করেখা ধুয়ে মুছে দিতে
. বাংলার বিপ্লবী সেনা জাগো চারিভিতে
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. শোষিতের ঘরে ঘরে ক্ষুধিত পাষাণ
. বারেক হুঙ্কারি ওঠো --- তরুণ জোয়ান
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. অনাচার অবিচার দুর্নীতির মূলে
( এসো ) মরণ আঘাত হানি ভেদাভেদ ভুলে
. ( ওহো মরি ) হায় হায়।
. আগে চলো আগে চলো চলো উড়িয়ে নিশান---
. হোক না মরণজয়ী --- গণ অভিযান---
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
. ধরিত্রী অলক্ষ্যে ডাকে আয় ওরে আয়
. খেয়া পারে যাবি যদি বেলা বয়ে যায়
. ( ওহো মরি ) হায় হায় রে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শুনেছ কি কলকাতার খবর
বুদ্ধদেবের শিষ্য যারা
অহিংসাতে মাতোয়ারা
ধরল পেশা মানুষ মারা
বন্ধ করে ঘরের দোর।-----
এবার দিকে দিকে জেগে ওঠো
রক্ত নদীর পরপারে ওই মুক্তি পথে ছোটো।
দিকে দিকে অত্যাচারী কংস রাজার হানা
অন্তরের এই ঘুমন্ত নৃসিংহকে জাগা না।
লক্ষ লক্ষ হাসান হোসেন কারবালাতে মরে
হত্যাকারী এজিদ সেনা ফিরছে দম্ভ ভরে।
রক্ত দিয়ে রাঙিয়ে দে না ইতিহাসের পাতা
নতুন করে লেখ না এবার ঊনপঞ্চাশের খাতা ।
কুরুক্ষেত্রে ঘুরছে আজও দুর্যোধনের সেনা
লক্ষ লক্ষ পাঞ্চালীর আজ চুকিয়ে দে না দেনা।
গাই না আমি গানের ছন্দ বিদ্রোহের সুরে
মনের জড়তা সব যাক না ভেঙে চুরে।
শুনেছ কি কলকাতার খবর কবি গুরুদাস পাল (১.১৯০১৩ - ১৩.১২.১৯৬৮)। ২০০০ সালে প্রকাশিত, মালিনী ভট্টাচার্য
ও প্রদীপ্ত বাগচী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “কবিয়াল গুরুদাস পাল” গ্রন্থের সংকলন থেকে নেওয়া।
মজুর কিষাণ মধ্যবিত্তের সকল ব্যবধান
জাগরণের জোয়ারে সব হোক না রে খান খান।
বুকেতে হাত দিয়ে সবাই সত্য করে বলুক।
দশ বছরের শিশুর ওপর ডান্ডাবাজি চলুক।
নির্বিচারে নরনারী ছাত্র-ছাত্রী হত্যা
এই যদি হয় শিশুরাষ্ট্রের আইন নিরাপত্তা।
তবে আমি সভার মাঝে উচ্চ কন্ঠে কহি
পাঁচশো হাজার অসংখ্যবার আমি রাজদ্রোহী।
তাতে যদি যেতে হয় ওই আলিপুরের জেলে
গর্ব করে বলব আমি বাঙলা মায়ের ছেলে।
কিংবা যদি বন্দুকে হয় জীবন অবসান
মরার আগে গেয়ে যাব এই রক্ত ঝরার গান।
আমার পরে থাকবে য়ারা দেশ-বিদেশ ঘুরে
আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দেবে মর্মভেদী সুরে।
এই গানটির প্রথম পাঁচ লাইন মাটির দুর্গ পত্রিকার আশ্বিন ১৩৯৩ সংখ্যায় পাওয়া গেছে। পরের অংশ
সজল রায়চৌধূরীর "গণনাট্য কথা" থেকে সংগৃহীত। সম্পূর্ণ গানটি পাওয়া যায়নি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
রাজনীতি বুঝি না আমি,
বুঝি না তোমাদের সমাজবিপ্লবের জটিল তত্ত্ব কথা।
ঐতিহাসিক পরম লগ্নের প্রতীক্ষায় দিন-গোনার
ধৈর্য্য আমার নেই।
তোমাদের কুটিল যুক্তির সূক্ষাস্ত্র অঙ্কুশের
হাজার আঘাতেও বিচলিত হবে না আমার
বিবেকরূপিনী গজেন্দ্রানী।
আমি পুরুষ,
আমি এই আমার একমাত্র পরিচয়।
আমি দেখেছি আমার প্রেয়সীর
বিষন্ন বিদ্রোহের রক্তাক্ত পরিণতি
বস্তিতে, বন্দরে, ক্ষেতে, খামারে,
সহরের রাজপথে।
দেখেছি আমার ব্যথিত রুদ্রাণীর ললাটে
অপমান যন্ত্রণার রুষ্ট নক্ষত্রের জ্বালা।
তাই, তত্ত্বের আকাশে তর্কের শরজাল
রচনা করো তোমরা, আমাকে মুক্তি দাও।
সময় নেই আমার,----
আভিমানিনী যাজ্ঞসেনীর বেণী বাঁধতে হবে আমাকে
দুঃশাসনের রক্তমাখা হাতে।
শপথ কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)। ২০০০ সালে সরোজ দত্ত
স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত, কবি অরুণ মিত্রর
লেখা একটি ভূমিকা সম্বলিত, “সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” ৩য় সংস্করণ, (১ম
সংস্করণ ১৯৮৮) সংকলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোমার বুদ্ধির সুধা সুরা হল আঁধারে পচিয়া
সে অগ্নি-পানীয়ে নিত্য জ্বলে তব ঘৃণ্য পাকস্থলী
কৌমার্য করিতে রক্ষা আত্মরতি সম্বল তোমার,
তোমার দুর্বল কণ্ঠে স্বেচ্ছাবন্দী পাখীর কাকলি।
প্রাণশক্তি প্রাণহীন, ধরিয়াছ প্রাণঘাতী নেশা ;
চরণে কাঁদিয়ে কায়া, ছায়া ভাবি হাসো উপহাসে---
করেছ গতির রক্তে পঙ্গুতার প্রশস্তি রচনা,
বিচ্ছেদ ভুলিতে চাহ বিরহের নির্বীর্য বিলাসে।
প্রসবের ব্যর্থতায় অভিমানী সৌখীন শাখার
স্বার্থপর আত্মনাশ বনস্পতি করিবে না ক্ষমা,---
তৃষায় শ্বসিছে তবু শিকড়ের শূণ্যভাণ্ড হাতে,
সংবর এ ক্লীব কান্না, দেখনি কি মৃত্তিকা নির্মমা।
রাজদণ্ড বহি শিরে, শ্লথছন্দে রচিয়া বিলাপ
যে চাহে অলকা, তার নির্বাসন যোগ্য অভিশাপ।
বর্তমান বুদ্ধিজীবির প্রতি কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)
অগ্রণী পত্রিকার, প্রথম বর্ষ, মে ১৯৩৯, পঞ্চম সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। ২০০০ সালে সরোজ দত্ত
স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত, কবি অরুণ মিত্রর লেখা একটি ভূমিকা
সম্বলিত, “সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” ৩য় সংস্করণ, (১ম সংস্করণ ১৯৮৮) সংকলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বসেছে রাজর্ষি-চোর রিলিফের স্বর্ণ-সিংহাসনে
উদ্বাস্তু শিবিরে চলে নারীমাংসে পরমান্ন পাক,
দূর হতে দুই নাকে ভেসে আসে শবের সৌরভ---
কেকার মেখলা পরে নটীনৃত্যে নাচে দাঁড়কাক।
বসেছে রাজর্ষি চোর
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)
২০০০ সালে সরোজ দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত, কবি অরুণ
মিত্রর লেখা একটি ভূমিকা সম্বলিত, “সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” ৩য় সংস্করণ, (১ম সংস্করণ ১৯৮৮)
সংকলন থেকে নেওয়া।
প্রায় অর্ধশতক পরেও কি দেশের এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মানুষের মাংসলোভী দয়াহীন শিকারীর দল
ফাঁদ পেতে বসে থাকে রাত্রিদিন শিকার সন্ধানে
নিপীড়িত দুর্ভাগার বুকের পাঁজরে অবিরল
ছদ্মবেশী বেইমানেরা সুকৌশলে মৃত্যুবাণ হানে।
স্বার্থপর শিকারীর চক্ষে মায়া, বক্ষ বিষে ভরা
পৈশাচিক ছলনায় রক্ত শোষে নির্বিকার মনে ;
ধূর্তবুদ্ধি জল্লাদের পদতলে আর্তা বসুন্ধরা !
খুনী হাত ঢেকে রাখে কুচক্রীরা শুভ্র আবরণে।
শিকার জেগেছে তাই দিকে দিকে শিকারীর ফাঁদে
বন্ধনের গ্রন্থী ছিঁড়ে গোষ্ঠীবদ্ধ শক্তিতে অটল
যুগান্তের পুঞ্জীভূত সুপ্তি ভাঙে ক্রুদ্ধ সিংহনাদে
কেঁপে ওঠে জনারণ্য প্রতিশোধে বিক্ষুব্ধ চঞ্চল,
ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় শিকারীর কৌশলের ফাঁদ,
যুগান্ত তৃষিত বক্ষে খুঁজে ফেরে মুক্তির আস্বাদ।
ফাঁদ
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)। ২০০০ সালে সরোজ দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটি
ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত, কবি অরুণ মিত্রর লেখা একটি ভূমিকা সম্বলিত,
“সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” ৩য় সংস্করণ, (১ম সংস্করণ ১৯৮৮) সংকলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কালসাপ নিয়ে খেলায় মেতেছো ওস্তাদ,
বলিহারী ওস্তাদ, বাহাদুর তুমি !
তুমি যখন রাঁশী বাজাও
হাঁটু নাচাও
মুঠি ঘোরাও নানান ছাঁদে
আমি কখনও বোবা রাগে গর্জে উঠি,
কখনও মুগ্ধ হয়ে বাঁশী শুনি
কখনও ক্লান্ত হয়ে ফিরতে চাই
ঝাঁপির অন্ধকারে
জয় জয়কার ওঠে তোমার,
সবাই বলে, ‘বলিহারী ওস্তাদ, বাহাদুর তুমি !’
কিন্তু এ কী হলো আমার আজ,
এ কোন ব্যাথার জ্বর এসেছে আজ আমার সারা দেহে।
পুরানো খোলসের পর্দা সরিয়ে
বেরিয়ে এলাম এ কোন নতুন আমি।
মমতার মোম মাখানো ফাঁসির রশির মত মসৃণ,
বারুণীর বিজনঘাটে ভরা বসন্তে
বিধবা বিষকন্যার বেণীর মতো ভয়ংকর।
এ কোথায় এলাম আমি ?
কালসাপ নিয়ে খেলায় মেতেছ ওস্তাদ
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)। ২০০০ সালে সরোজ দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটি
ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট দ্বারা প্রকাশিত, কবি অরুণ মিত্রর লেখা একটি ভূমিকা সম্বলিত,
“সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” ৩য় সংস্করণ, (১ম সংস্করণ ১৯৮৮) সংকলন থেকে নেওয়া।
নির্বিষ প্রতিবাদের নিষ্প্রাণ প্রেতলোক হতে
এ কোন পূর্ণশশীর গরলোদ্বেল প্রাণলোকে?
মরাচাঁদের চৌদ্দ সিঁড়ি পেরিয়ে
এ কোন ভরা চাঁদের রাঙা আলোর দেশে?
যতই থাক তোমার বাঁশীর জোর,
মন্ত্রের জোর শিকড়ের জোর,
মনে রেখো ওস্তাদ,
বিষের থলি আজ পূর্ণ হয়েছে
আমার কানায় কানায়
মনে রেখো আজ পূর্ণিমা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমার কবিতা কভু কহিবে না আমার কাহিনী,
অসতর্ক কোন ছত্রে ধ্বনিবে না ক্রন্দন আমার,
আমার কবিতা নহে দুর্বলের দুঃখের বেসাতি,
নহে এ অপূর্ণকাম অক্ষমের মর্মব্যভিচার।
এ নহে সমষ্টি প্রেম স্বার্থপর স্বতন্ত্রবাদীর,
আনিনি শক্তির পায়ে অশক্তের শঙ্কিত প্রণামী,
গনগগনের পথে অগ্নিরথ জনমানবের
যাহারা টানিয়া আনে, তাহাদের সহকর্মী আমি।
আমার পাবে না দেখা আমার কাব্যের পৃষ্ঠপটে,
সেথায় আমার সীমা অসংখ্যের অসীমে বিলীন,
বিষপঙ্কে তন্দ্রাহত রুদ্ধস্রোত শৈবাল দীঘিরে,
বাহিরে বন্যাজলে করিয়াছি দিকচিহ্নহীন।
কবরে প্রেতিনী হয়ে কাঁদিবেনা আমার বেদনা,
দুঃসাহসী বিন্দু আমি, বুকে বহি সিন্ধুর চেতনা।
কোন বিপ্লবী কবির মর্মকথা
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)
অরণি পত্রিকার প্রথম বর্ষ, অষ্টম সংখ্যা, শুক্রবার, অগাস্ট ১৯৩৯ এ প্রকাশিত।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মরা গাঙ, গর্জে ওঠে বানে,
পূর্ণিমা গরলে টলমল।
গরবিনী নাগিনী আমার,
রাজপথে ফণা তুলে চল।
গরবিনী নাগিনী আমার
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)। কবি সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত
“শেকল ভাঙার কবিতা” সংকলন গ্রন্থ থেকে। শিরোনামহীন টেলপিস্ হিসেবে
মুদ্রিত ; রাজনৈতিক বন্দীমুক্তির দাবীতে এক বিরাট মিছিল দেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে
সিগারেটের কাগজে লিখেছিলেন, ১৯৪৮/৪৯-এ। মুখপত্র : আশ্বিন-কার্তিক, ১৩৫৯।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবিতা স্লোগান হয়ে উঠছে বলে
দুঃখ করছো
যদিও শ্লোগান কবিতা হয়ে উঠছে না দেখে
দুঃখ করোনি,
আমার দুঃখ এখানেই।
কবিতা স্লোগান হয়ে উঠছে বলে
কবি সরোজ দত্ত (৫.৩.১৯১৫ - ৫.৮.১৯৭১)
জানুয়ারি ১৯৮৮ তে সরোজ দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও নিউ হরাইজন বুক ট্রাস্ট
দ্বারা প্রকাশিত, “সরোজ দত্তর কবিতা সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমলা আমলা গাই গরু সামলা
বাঘ এল দেশে ডাকে ফেউ।
বদরআলি হুশিয়ার মাত্বর সদিয়ার
হুস না জানে চুরি করে কেউ॥
এই ব্যাঘ্র পুরাতন রং ঢং সনাতন
নানান ফিকিরে চোষে খুন
(আরে) দুইশ বছর ঘুইর্যা গেল
ব্যাঘ্র তবি নাহি গেল
ও ডরে ত্রাসে মখ গুলা চুন॥
এই ব্যঘ্ররাজের তিন সঙ্গী,
তিনজনই জবর জঙ্গী
হাড়েমাসে চিবায় রাত্রদিন।
একটা হইল মোটা আমলা
জমিদার আর খুদে পয়লা
আর দোসর হইছে মহাজনটা হীন॥
আমলা আমলা গাই গরু সামলা
কথা ও সুর - কবি বিজন ভট্টাচার্য (১৭.৭.১৯১৫ - ১৯.১.১৯৭৮)
১৯৯৪ সালে (১৪০১) প্রকাশিত জলি বাগচী ও দীপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “সূর্য
অভিয়ানের গান” থেকে।
এই ত্রিবিধ শোষণে পরে
দেশটা গেল ছারেখারে
না বলিতে একটা মাথা নাই।
আছে শুনি কত নেতা
মাথা থেকেও নাইকো ব্যথা
এ দুঃখের কথা কাহারে জানাই।
(এই) নেতা বলে আমি বড়
নীতির কথা আমি দড়
এখন দড়বড় না বড়দড় বল।
(আরে) ব্যাঘ্র বসি রাজাসনে
মোচটা চুমড়ায় হৃষ্ট মনে
আর চিন জুয়ারী বাজায় তালি ভাল॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মরণ শিয়রে দলাদলি ক'রে কেমনে বাঁচিবি বল
সোনার বাংলা হল শ্মশান একসাথে সব চল॥
গাঁয়ের চাষী পাঁচু রহমান
শুয়ে ওইখানে, কার্টেনা ত ধান
মাঝিরা দেয়না খেয়াদাঁড়ে টান, কি হলো তাদের বল্?
কামার কুমার তাঁতী গাড়োয়ান
শুনি নাত গাঁয়ে হাপরের টান
জেলেরা আর বায়না উজান, সবই কি মরিল বল॥
দেউলে আরতি নাহি সংকীর্তন
মসজিদে কেউ দেয়না আজান
রাখাল যায়না মাঠে গেয়ে গান, কোথা গেল সব বল॥
মরণ বাছে না হিন্দু মুসলমান
গ্রামগুলি সব হলো গোরস্থান
কোথা হিন্দুস্থান কোথা পাকিস্তান, কে কোথা রহিবে বল॥
মরণ শিয়রে দলাদলি ক'রে কেমনে বাঁচিবি বল
কথা / সুর - কবি হরিপদ কুশারী । ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (IPTA) অজ্ঞাত শিল্পী দ্বারা গীত। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত
রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত “গণসংগীত সংগ্রহ” সংকলন থেকে নেওয়া। ১৯৪৩ সালের বাংলায় ব্রিটিশের তৈরী দুর্ভিক্ষের
সময়ে রচিত গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Dipankar Sinha YouTube Channel.
মুনাফাখোর আর বিদেশী শাসন
সাথে চাউলচোর হলো গদীয়ান
আকাশে ঐ জাপানী বিমান, কে তারে রুখিবে বল॥
সময় থাকিতে হও সাবধান
দুর্ভিক্ষ আবার আসিছে ভীষণ
দুয়ারে কান্না মা, মাগো, মা একটু ফ্যান কেমনে সহিব বল॥
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম
হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান
আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম
বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে ঢংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম
কে হবে মেম্বার,
কে বা সরকার
আমরা কি তার খবরও লইতাম
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
কথা - কবি শাহ আবদুল করিম (১৫.২.১৯১৬ - ১২.৯.২০০৯)
সুর ও কণ্ঠ - কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য (দোহার)। গানটি ভিডিওতে শুনুন। ভিডিওটি সৌজন্যে বাংলা লোক গান - Bengali
Folk Songs YouTube Channel. আমরা এই চ্যানেলের কাছে আরও কৃতজ্ঞ গানের কথার জন্য।
করি যে ভাবনা
সেই দিন আর পাব নাহ
ছিল বাসনা সুখি হইতাম
দিন হইতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম….
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মালিকেরা ফের বেঁধেছে ঘাঁটি ;
বৈষ্ণবী বিনয়ে ইংরেজ বসেছে বর্মায়,
ফরাসীরা প্রত্যাগত ইন্দোচীনে,
গোলন্দাজহীন ওলন্দাজ ঘোরে যবদ্বীপে।
ভারতের স্বাধীনতা আসন্নপ্রায়।
বম্বেতে দিন রেখে গেল বারুদের গন্ধ,
রাস্তায় রক্তের ছিটে।
বন্দুকের খর শব্দ থামলে শহরে
বিপ্লবী নেতারা জমে বক্তৃতার মাঠে,
সর্দারের ধমকে পার্কের পার্কের রেলিং কাঁপে,
হয়তো কৃত পাপের লজ্জা জাগে
মর্গে জমা দুশো সত্তরটা লাসে।
ধোঁকায় জব্দ জাহাজেরা বন্দরে স্তব্ধ,
মাঝে মাঝে উদ্যত সঙিন, সাম্রাজ্যের উদ্ধত প্রতীক।
আমাদের স্বাধীনতা আসন্নপ্রায়,
মন্ত্রীসভার বিলিতী দুতেরা আগতপ্রায়,
জয় হিন্দ।
জয়হিন্দ
সমর সেন (১০.১০.১৯১৬ - ২৩.৮.১৯৮৭)
১৯৫০ সালে প্রকাশিত সব্যসাচী দেব ও সোমেশ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত
“সংকলিত সমর সেন” সঙ্কলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
নিপ্পনের রক্তসন্ধ্যা, মেঘে-মেঘে ঘোর শব্দ!
উত্তরপূর্ব-এশিয়ার রুক্ষ প্রান্তরে
পিঙ্গল উটের দল মুখ তুলে শোনে ;
মেঘে-মেঘে লাল ঝড়, বসন্তের বজ্রধ্বনি মাঞ্চুরিয়ায়,
আন্দোলিত মঙ্গোলীয় মরুভূমি ট্যাঙ্কের ঘর্ঘরে
প্রাচ্যের পীত দেহে সঞ্জীবনী রক্তের উদ্দাম জোয়ার।
. . .
সাম্রাজ্যের পতাকা উড্ডীন হিন্দুস্থানে, মেঘে-মেঘে কালো শব্দ ;
এখানে রুগ্ ণ শিশুর কান্নায়, উলঙ্গ নারীর লজ্জায়
গ্রামে-গ্রামে গুমোট কানাকানি,
ধূসর মাঠের পাশে ধুমায়িত নদীর রেখা।
এখানে পাহাড়ি কুয়াশায় বুঁদির কিল্লীর যুদ্ধ শেষে
নেতারা যে যার শিবিরে প্রত্যাগত ;
লাটের ভেল্কিতে পরম শত্রু আজ দোস্তে পরিণত,
স্বজন শক্রতে ;
এখানে রাজনীতি শুধু পরনিন্দা, পরচর্চা, বুড়োর ঝামেলা ;
ইজ্জতের গোলাম যারা
একরোখা অন্ধ রাগে আত্মঘাতী যারা
এ-দুর্দিনে তাদেরি আসর, রাজনীতি তাদেরি পেশা।
৯ই আগস্ট ১৯৪৫
সমর সেন (১০.১০.১৯১৬ - ২৩.৮.১৯৮৭)।
১৯৫০ সালে প্রকাশিত সব্যসাচী দেব ও সোমেশ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “সংকলিত সমর সেন” সঙ্কলন থেকে নেওয়া।
আর মেঘে-মেঘে কালো শব্দ বাড়ে,
নদীর গেরুয়া বেগ আনে না ফসলের অগ্নিশিখা,
জলের উদ্দাম জোয়ার ঘোলাটে প্রলাপ,
মাঝে-মাঝে শুধু মাছের ঝলক।
ইলিশের স্বাদ কিন্তু ভুলেছে জেলেরা,
উলঙ্গ তাঁতিনীর লজ্জা মহাপ্রাণ মৃত্যু ঢাকে
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ক্ষুধিতের সেবার ভার
. লও লও কাঁধে তুলে।
কোটি শিশু নরনারী
মরে অসহায় অনাহারে,
মহাশ্মশানে জাগো মহামানব
. আগুয়ান হও ভেদ ভুলে।
মানুষের মাঝে মরে ভগবান
পিশাচ দুয়ারে হাসে খল খল
দীনতা হীনতা ভীরুতারে কর দূর
. আশার আলো ধর তুলে।
ক্ষুধিতের সেবার ভার
কথা ও সুর – কবি বিনয় রায় (জন্ম-মৃত্য অজ্ঞাত)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হোই হোই হোই, জাপান ঐ
আইসে বুঝি, হামার টারীত্
বাইব়্যাও গাঁয়ের গেরিল্লা জুয়ান।
আইস রহিম আয় রহমান
আইস যোগেন আয়রে পরান
গাঁওয়ের যতেক হিন্দু মুসলমান।
দা কুড়্যাল আর ছোরা লাঠি
বর্শা কোঁচ তীর ধনুক বঁটি
শক্ত হাতে ধর হাতিয়ার।
শোনো লক্ষ্মী শোন্ ফতিমা
শোনো চাচী শোনো বউমা
শোনো গাঁওয়ের বেটী ছাওয়ার ঘর।
আইসের বুটি ধাব়্যাও খালি
তৈয়ার রাখো ধূলা বালি
বজ্জাত গুল্যা ঘরে না সোঁদায়।
হোই হোই হোই, জাপান ঐ
কথা ও সুর – কবি বিনয় রায় (জন্ম-মৃত্য অজ্ঞাত)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র
সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। এই দুর্ধর্ষ গণসংগীতটি অবশ্যই ১৯৪৫ সালে রচিত,
২য় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, জাপানের ভারত আক্রমণের সময়-কালে। কিন্তু সেটা যে নেতাজীর আজাদ হিন্দ
ফৌজের, জাপানের সাহায্যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটিশ-ভারতের উপর আক্রমণ ছিল, তা ব্রিটিশ
সরকার যে সফলভাবে ভারতীয়দের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন এই গানটি তার প্রমাণ।
চুপ্ চুপ্ চুপ্ হুশিয়ার খুব
ঝোপে ঝাড়ে আগ্যাও ধীরে
বজ্জাত গুলা য্যান্ না হদিস পায়।
কুড়্যাল ছুরি চালাও বঁটি
তীর ধনুক কোঁচ চালাও লাঠি
হোই হুশিয়ার একটাও না পালায়।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
হোলো দশ্ দুষমণ বরবাদ
হাত্তে দশটা বন্দুক কাঁয়।
আইসা ক্যানে শতেক জাপান
শোয়াবো পাট খ্যাতের নাকান
ভীত্ না খাই মুই দেখি বোম কামান।
আইসুক না কোন ব্যাপের ব্যাটা
কোরব এমনি কচু কাটা
স্বাধীন হইমু হামরা সোগ্ কিষাণ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মুমূর্ষু বা সুন্দরী এক তিলোত্তমা
হোক না শহর তোর তাতে কি॥
তোর জঠরে জীবন জুড়ে জ্বলছে
যখন খিদের আগুন ধিকি ধিকি॥
ভিটে ছেড়ে যন্ত্রনাতে কোন সে গভীর রাতে
এলি তুই নিঃস্ব হাতে বাবুদের ক’লকাতাতে
সেই থেকে আজ এই শহরে
তোর কপালে ভিক্ষে ছাড়া আর জুটলোটা কী?
ঘর তোর পথের পাশে ছাদ তার দূর আকাশে
যখনই বর্ষা আসে ভাসে ঘর সর্ব্বনাশে
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলে
হাড়গিলে তোর ছোট্টখোকা বাঁচবে না কী?
আশ্বিনে বাদ্যি বাজে এ শহর আলোয় সাজে
শুধু তুই পথের মাঝে মরমে মরিস লাজে
তখন দুগ্গা মায়ের কাপড় ছিঁড়ে
তোর সোহাগীর লজ্জাকে তুই ঢাকিস না কী?
মুমূর্ষু বা সুন্দরী এক তিলোত্তমা কথা - কবি অপরূপ রায় (জন্ম-মৃত্য অজ্ঞাত), সুর - জলি বাগচী (গণবিষাণ)।
২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষানের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া। ১৯৮৪ –র
একটি পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র ক’রে কলকাতাকে ঘিরে একটি বিতর্ক দানা বেঁধে ওঠে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে। তত্কালীন
প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কলকাতা সফরে এসে এই শহরকে ‘মুমূর্যু নগরী’ ব’লে চিহ্নিত করেন। তার প্রতিবাদে রাজ্য সরকার দেয়ালে
দেয়ালে জীবনানন্দের কবিতা উত্কীর্ণ করে বলেন, ‘কলকাতা কল্লোলিনী তিলোত্তমা’। এই সময় এই শহরের রাস্তায় বাস করতে বাধ্য
হন যে বিশাল সংখ্যক মানুষ তাদের বুকে গুমরে থাকা প্রশ্নকে হাজির করার প্রচেষ্টা ছিল এই গানটিতে।
পৌষে মাঘের শীতে এ শহর জোর খুশী তে
মাতে যে ছন্দে গীতে শুধু তুই জ্বালাস চিতে
সেই চিতার আগুন জানায় তোকে
খালি পেটে স্বাধীনতা মিথ্যে ফাঁকি॥
কিম্বা ফাগুন মাসে শিমুলে লাল পলাশে
এ শহর হাওয়ায় ভাসে শুধু তুই মরিস ত্রাসে
সেই ফাগুন হাওয়ায় খিদের জ্বালায়
তোর ছাওয়ালী হ’ল বুঝি গতরখাকী॥
এই তোর গল্প গাথা ছেঁড়া চট ছেঁড়া কাঁথা
বাবুদের মাথাব্যাথা বাঁচবে কি শহর কলকাতা
তোর কবরে শহর গড়ে ফানুশ যারা ওড়ায়
তারা মানুষ না কী?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যত নেতা দাদা পুলিশ পেয়াদা একসাথে
টিকি বাঁধা তোলে চাঁদা দুই হাতে।
পুলিশ বলে ফুটপাতে বাজার বসা মানা
তাই চাঁদা না দিলে করব বহুত জরিমানা
আর নেতা বলে ফুটপাতে দোকান পেতে হলে
চাঁদা দিয়ে নাম লেখাও আমাদেরই দলে।
পুলিশ বলে ময়দানে প্রেমিকার ঠোঁট
ছুঁতে পারিস যদি আমার হাতে দিস নোট
আর নেতা বলে ময়দানে হবে বক্তৃতা
চাঁদা দিবি তবে শুনবি মন্ত্রীর কথা।
পুলিশ বলে পেটের দায়ে রাতের অভিসার
করিস ছুঁড়ি শুধু দিস বখরা আমার
আর নেতা বলে পাড়ায় হবে যাত্রা সারারাত
চাঁদা না দিলে গালে পড়তে পারে হাত।
পুলিশ বলে ভিডিও শো ইস্কুলে নয়
ছুটির দিনে হলেও আমায় চাঁদা দিতে হয়
আর নেতা বলে ইস্কুলে হবে জোনাল সম্মেলন
চাঁদা তুলে খেতে হবে মুর্গি মটন।
যত নেতা দাদা পুলিশ পেয়াদা একসাথে
কথা ও সুর - কবি অপরূপ রায় (জন্ম-মৃত্য অজ্ঞাত)
২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষানের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া।
পুলিশ বলে হোক আঁধারে গণধর্ষণ
চাঁদা দিলে ত্রি-সীমানায় দেব না দর্শন
আর নেতা বলে ধর্ষণকারী সমাজবিরোধী
তবে কেস্ চেপে দিতে পারি চাঁদা পাই যদি।
এই সমস্ত ছোট্টখাট্টো তুচ্ছ ঘটনা
প্রতিদিনই ঘটছে সেতো সকলেরই জানা
তাই একটা কথা এইবার ভেবে দেখলে হয়
চাঁদা চাইলে চাঁদা তুলে পেটালে কি হয়?
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আওয়াজ তোলো আওয়াজ তোলো
ঘরে ঘরে তোলো আওয়াজ।
যত গ্রাম থেকে শহর থেকে
একসাথে তোলো আওয়াজ॥
আর মানবো না এই বন্ধন
আর জানবো না কোনো ক্রন্দন
যতো লাঞ্ছনা বঞ্চনা জীবনের যন্ত্রণা
ভাঙবোই, ভাঙবোই আজ॥
কতো দিন চলে যায়
কতো রাত চলে যায়
কতো যুগ যুগ ধরে
. সহি অবিচার।
চাই সাম্যের অধিকার
. মুক্তির অধিকার
. মানুষের মতো বাঁচবার অধিকার॥
জানি সংগঠনে আছে শক্তি
জানি সংগ্রামে আছে মুক্তি ;
মেহনতি জনতার সংগ্রামে গড়বেই
. নতুন মানব সমাজ॥
আওয়াজ তোলো
কথা ও সুর : কবি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম-মৃত্য অজ্ঞাত)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০
সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
সুপ্তির তিমিররাত্রে কে জ্বালিল মুক্তির মশাল
শ্মশানের প্রেতভূমে কে করিল জীবন-সাধনা,
শবের শীতল-বক্ষে সঞ্চারিল প্রাণ-উন্মাদনা
মৃত্যুমগ্ন মাতৃভূমি অকস্মাৎ উত্কন্ঠ উত্তাল।
আরণ্যক আফ্রিকার, নীলোর্মির পরপার হতে
হে সন্ন্যাসী অগ্নিমন্ত্রে বিঘোষিলে লাঞ্ছিতের জয়
দুঃখের তামস ভেদী দেখা দিলে তুমি জ্যোতির্ময়
উদীচি-প্রতীচি-প্রাচী ভেসে গেল এক মহাস্রোতে।
‘দিনগত পাপক্ষয়’--- ছায়া মূর্তি আমারা মানুষ,
দুরন্ত আশার ঢেউ জীর্ণ বুকে ব্যর্থ ভেঙে পড়ে,
সহসা শিহরি’ উঠি রক্তমেঘ-সংকেতিত ঝড়ে---
মুহূর্তে ফাটিয়া যার কল্পনার বিলাসী ফানুষ।
চম্পারণে দেখিলাম ‘অভীঃ’ মন্ত্রী তুমি পুরোহিত
ডাণ্ডীর সমুদ্র পথে অর্ধনগ্ন তুমি সত্যাগ্রহী,
আমাদের যত পাপ নীলকন্ঠ একা নিলে বহি’
আমরা দাঁড়ানু উঠি---মুগ্ধ বক্ষে জাগিল সম্বিৎ।
ঘন হয় অবিশ্বাস, ক্ষমতার দ্যুতক্রীড়া চলে,
বিষাক্ত কুটিল হিংসা শান দেয় নগ্ন ছুরিকায়
বিহার-পাঞ্জাব-বাংলা ভেসে যায় হত্যার বন্যায়
ধর্মধ্বজী স্বার্থ হাসে চক্রান্তের সুড়ঙ্গের তলে।
বাপুজী
কবি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (২৭.১.১৯১৭ - ৮.১১.১৯৭০)। ফণীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “ভারতবর্ষ”
পত্রিকার চৈত্র ১৩৫৪ (মার্চ ১৯৪৮) সংখ্যায় প্রকাশিত।
তার মাঝে একা তুমি হে মৈত্রেয় অহিংস-তাপস,
প্রেম-মন্ত্রে নিবারিলে সমুদ্যুত হিংস্রতার ফণা---
মিলনের ঋক্-ছন্দ দিকে দিকে করিলে ঘোষণা
পূর্ণ হল মুক্তিব্রত---স্বাধীনতা হল আত্মবল।
তোমারে হেনেছি তবু, করিয়াছি পিতৃরক্তপাত—
চিরন্তন ইতিহাসে কলঙ্কেরে করিয়াছি জমা—
পৃথিবী করুক ঘৃণা, তবু তুমি করে যাও ক্ষমা
তোমার মৃত্যুতে পিতা, শেষ হোক যত আত্মঘাত॥
মা মা মাগো মা মা . . .
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
দে দেখি কি মা আমার হাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
দে দেখি কি মা আমার হাতে
দস্যু-দানার উৎপীড়ন আর
সইতে নারি দিনে রাতে
দস্যু-দানার উৎপীড়ন আর
সইতে নারি দিনে রাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
দে দেখি কি মা আমার হাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
শান্তিপূর্ণ পূণ্য গৃহে
অশান্তি পাপ আনলো যারা
সুবিচার যে হয় না মাগো
শাস্তি যদি না পায় গো তারা
অধর্মের জয় যথা তথা
হচ্ছে যে তাই বড়ই ব্যথা
অধর্মের জয় যথা তথা
হচ্ছে যে তাই বড়ই ব্যথা
ধরায় এবার আনবো ধ্বংস
ধরায় এবার আনবো ধ্বংস
দনুজদলনী আয় মা ডাকে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
দে দেখি কি মা আমার হাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
তোর হাতের ওই খড়গ এবার কথা ও সুর ও কণ্ঠ - কবি গিরীন চক্রবর্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)।
প্রকাশকাল - ১৯৪৯। VDOটি সৌজন্যে সরোজ সান্যাল এর YouTube Channel.
মাগো যা কিছু ভালো এ সংসারে
কেন যে এদের অত্যাচারে
যা কিছু ভালো এ সংসারে
কেন যে এদের অত্যাচারে
মানুষ হয়ে সয় প্রাণের কাছে
মানুষ হয়ে সয় প্রাণের কাছে
পারিনে তো মা মান হারাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
দে দেখি কি মা আমার হাতে
তোর হাতের ওই খড়গ এবার
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা আছি বড় খাসা,
রেডিওতে ব্যায়াম করি, শিখি রাষ্ট্র ভাষা
ফুটপাতেতে হাজার হাজার,
চলছে গোপন কালোবাজার।
শ্মশানঘাটে বৈঠকখানা - গোয়াল ঘরে বাসা
ডাক্তার ডাক্তারী ছেড়ে করতেছে মোক্তারী,
ছাগল ভেড়ায় লাঙ্গল টানে গাধায় টানে গাড়ী!
আমরা কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা - বাক্য ছাড়ি লম্বা লম্বা
নিজের পায়ে কুড়ুল মারি এমনি সর্বনাশা,
যে দেশ ছাওয়া হাহাকারে শুধুই হাহারবে....
আমরা আছি বড় খাসা
গীতিকার ও সুরকার - গিরীন চক্রবর্ত্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)
“মাকড়সার জাল” ছায়াছবির গান। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৩ সালের ১লা মে। আমরা
কৃতজ্ঞ জনাব লিয়াকত হোসেন খোকন মহাশয়ের কাছে কারণ এই গানটির কথার
আমরা পেয়েছি তাঁর ফেসবুক পাতা থেকে। সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমরা গড়িব নূতন স্বর্গ বিশ্বের ও বিস্ময়,
হয়েছে হইবে আঁধিয়ার দূর নাহি কোন সংশয়,
রূপে রসে গন্ধে বর্ণে উজ্জ্বল,
প্রাণে প্রাণে আমরা ফোটাব কমল,
মিথ্যা যাবে না শপথ মোদের দিব সেই পরিচয়,
মন্দ বলিয়া রবে না কিছুই আমাদের অলকায়
সত্যাশ্রয়ী হব সকলে, রবে না কেউ অসহায়,
মানুষ সত্য সবার উপরে,
এই নীতি হবে বাহিরে ঘরে
সাধনা মোদের সিদ্ধ হবেই, জেনেছি নিশ্চয়॥
আমরা গড়িব নূতন স্বর্গ বিশ্বের ও বিস্ময়
গীতিকার ও সুরকার - গিরীন চক্রবর্ত্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)
“মাকড়সার জাল” ছায়াছবির গান। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৩ সালের ১লা মে। আমরা
কৃতজ্ঞ জনাব লিয়াকত হোসেন খোকন মহাশয়ের কাছে কারণ এই গানটির কথার
আমরা পেয়েছি তাঁর ফেসবুক পাতা থেকে। সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মোরা এই দেশেরই ছেলেমেয়ে -
এই দেশেরই গাহি গান
সকল দেশের সেরা এ দেশ,
স্বর্গও নয় এর সমান।
মোদের দেশের জনগণ, এরা যে অতি সাধারণ।
তবুও এদের মাঝেই অসাধারণ জাগে বীর্য্যবান।
এরা যে ঘরে ব'সেই চিত্তবলে
বিশ্বজয়ের পায়রে মান।
মোরা এ দেশেরই ছেলেমেয়ে -
এ দেশেরই গাহি গান।
মোরা কচি - কাঁচার দল যেন শ্যামল দুর্ব্বাদল।
জানি আমাদেরও মাঝে আছে বিরাট মহীরুহের ফল।
মোরা নহি অসহায়, স্বয়ং বিধাতা সহায়।
মোরা বন্ধন -হীন জন্ম -স্বাধীন সত্য -সরল -প্রাণ।
মোরা ভালবাসায় ভেদ - বিভেদের আনব
চির - অবসান।
মোরা এই দেশেরই ছেলেমেয়ে -
এই দেশেরই গাহি গান।
মোরা এই দেশেরই ছেলেমেয়ে
গীতিকার ও সুরকার - গিরীন চক্রবর্ত্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)
কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা কমল চট্টোপাধ্যায় ছায়াছবি “রক্তের টান”, মুক্তি
পেয়েছিল ১৯৫০ সনের ৯ই জুন। আমরা কৃতজ্ঞ জনাব লিয়াকত হোসেন খোকন
মহাশয়ের কাছে কারণ এই গানটির কথার আমরা পেয়েছি তাঁর ফেসবুক পাতা
থেকে। সেই পাতায় যেতে . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিয়ালদহ গোয়ালন্দ আজো আছে ভাই
কথা, সুর ও কণ্ঠ - কবি গিরীন চক্রবর্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)। গানটি শুনে লেখা। তাই ভুলত্রুটি দেখলে
জানাবেন। আমরা শুধরে দেবো। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
শিয়ালদহ গোয়ালন্দ আজো আছে ভাই
আমি যাব আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই
শিয়ালদহ গোয়ালন্দ আজো আছে ভাই
আমি যাব আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই
বাড়ী ছিল নারাণগঞ্জে ব্যবসা করতাম বাখরগঞ্জে
বাড়ী ছিল নারাণগঞ্জে ব্যবসা করতাম বাখরগঞ্জে
ছিল কিছু,
ছিল কিছু মাণিকগঞ্জে ভাবি বসে তাই
আমি যাব আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই
শিয়ালদহ গোয়ালন্দ আজো আছে ভাই
শ্বশুরবাড়ী দাসের জঙ্গল জেলা ফরিদপুর
চট্টগ্রাম আর ময়মনসিংহ সে আজ বহু দূর
শ্বশুরবাড়ী দাসের জঙ্গল জেলা ফরিদপুর
চট্টগ্রাম আর ময়মনসিংহ সে আজ বহু দূর
সে আজ বহু দূর
পদ্মা ম্যাঘনা ধলেশ্বরী যখন মনে যায় গো পড়ি
পদ্মা ম্যাঘনা ধলেশ্বরী যখন মনে যায় গো পড়ি
তখন আমি,
তখন আমি কী যে করি দিশা নাহি পাই
আমি যাব আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই
শিয়ালদহ গোয়ালন্দ আজো আছে ভাই
আমি যাব আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
কথা, সুর ও কণ্ঠ - কবি গিরীন চক্রবর্তী (৫.৫.১৯১৮ - ২২.১২.১৯৬৫)। গানটি শুনে লেখা। তাই ভুলত্রুটি দেখলে জানাবেন।
ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
মামার বাড়ি চাতলপাড়
বাপের বাড়ি বামুনবাইড়া
নিজের বাড়ি নাই আমার
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
মামার বাড়ি চাতলপাড়
বাপের বাড়ি বামুনবাইড়া
নিজের বাড়ি নাই আমার
আমি রে য্যান জলের ঢেউ
আমি রে য্যান জলের ঢেউ
আমার বলতে নাইরে কেউ
আমি রে য্যান জলের ঢেউ
আমি রে য্যান জলের ঢেউ
আমার বলতে নাইরে কেউ,
চান্দের হাট ভাইঙ্গা গেছে
চান্দের হাট
চান্দের হাট ভাইঙ্গা গেছে
একূল ওকূল অন্ধকার॥
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
মামার বাড়ি চাতলপাড়
বাপের বাড়ি বামুনবাইড়া
নিজের বাড়ি নাই আমার
নিজের বাড়ি নাই
আমার নিজের বাড়ি নাই
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
আমি কই আমার আমার
তারা কয় না
আমি কই আমার আমার
তারা কয় না
চিঠি নাই পত্র নাই
খপরও লয় না
চিঠি নাই পত্র নাই
খপরও লয় না
আমি কই আমার আমার
তারা কয় না
আমি কই আমার আমার
ঢাকার তারা আনলো টাকা
হায় হায় ঢাকার
তারা আনলো টাকা
মনে ভাবলাম ঘুরলো চাকা
ঢাকার তারা আনলো ঢাকা
ঢাকার তারা আনলো ঢাকা
মনে ভাবলাম ঘুরলো চাকা
আইসা দেখি সবই ফাঁকা
আইসা দেখি সবই ফাঁকা
পোড়া কপাল চমত্কার
আমি আইসা দেখি সবই ফাঁকা
পোড়া কপাল চমত্কার
কিশোরগঞ্জে মাসির বাড়ি
মামার বাড়ি চাতলপাড়
বাপের বাড়ি বামুনবাইড়া
নিজের বাড়ি নাই আমার
বাড়ী ছিল পদ্মা নদীর পাড়ে
কথা ও সুর - কবি গিরীন চক্রবর্তী। কণ্ঠ - চিত্ত রায় । গানটি শুনে লেখা। তাই ভুলত্রুটি দেখলে জানাবেন।
আমরা শুধরে দেবো। ভিডিওটি সৌজন্যে Siraj ShNai YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাড়ী ছিলো
বাড়ী ছিলো পদ্মা নদীর পারে
দমকা একটা ঝড় আসিয়া
ভাইঙ্গা দিল তারে
বাড়ী ছিলো পদ্মা নদীর পারে
স্বজন বন্ধু ছিলো আমার
ছিলো আমার সবই
স্বজন বন্ধু ছিলো আমার
ছিলো আমার সবই
আঙ্খিজলের আর্শিতে আইজো
ভাসে তারই ছবি
দরদী কইগো
দরদী কইগো আমার দুঃখ
কইয়া বুঝাই তারে
বাড়ী ছিলো পদ্মা নদীর পারে
বারো মাসে তেরো পার্বন
হইতো আমার দেশে
পাড়াপরশী মিলে আমরা
প্রসাদ পাইতাম শেষে
আজকে যে সব উপবাসী
ক্ষুদকুঁড়াও নাই নাই হায়রে
বাড়ী ছিলো পদ্মা নদীর পারে
বাস্তুহারা পাখীর মতন
ঘুইরা মরি হায়
বাস্তুহারা পাখীর মতন
ঘুইরা মরি হায়
হায় নিয়তি এ কী করলি
ফেললি এ কোন দায়
দিগ্বিদিক্ যে
দিগ্বিদিক্ যে আসলো ঘিরে
গহন অন্ধকারে
বাড়ী ছিলো পদ্মা নদীর পারে
বাড়ী ছিলো
কারখানা কলে কবি পরেশ ধর (৯.৮.১৯১৮ - ৬.৪.২০০২)। বেচু দত্তর কণ্ঠে রেকর্ড করা এই গানটির সব ক’টি রেকর্ড ভেঙে ফেলেছিল
গ্রামোফোন কোম্পানি, “আকাশবাণী”র আপত্তিতে। গানটি নেহেরু সরকার ব্যান করেছিল। ভিডিও সৌজন্যে Dipankar Sinha YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো,
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো
এই কারখানা কলে
ভাই খাটি দলে দলে
তাই যত মেশিন চলে
এই মোদের তাকত শুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
সেই ভোরে বাঁশি বাজে
এই আমরা আসি কাজে
আর ঘরে ফিরি সাঁঝে
ভাই পেটে খিদে পুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো,
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো
এই মেশিনের সাথে মোদের
বুকের দরদ বাঁধা
হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
ওদের গতির তালে তালে
গানের কলি সাধা
হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
গহিন প্রাণের ব্যথায় যেন
বলে ওরা হেঁকে
মুক্ত মোদের কর অনাচারের
কবল থেকে
একসাথে ওঠো গুঁজে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
এই কারখানা কলে
ভাই খাটি দলে দলে
তাই যত মেশিন চলে
এই মোদের তাকত শুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো,
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো
মুনাফা কলঙ্ক মাখা
কালো বিষের বান
হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
মেশিন আর মজুরীর মাঝে
হানল ব্যবধান
হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
এসো মোরা নয়া সুরে
গাহি দেহি তালী
স্মরণ করি নয়া যুগের
সুমধুর মিতালি
এই মেশিনে মানুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
এই কারখানা কলে
ভাই খাটি দলে দলে
তাই যত মেশিন চলে
এই মোদের তাকত শুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
সেই ভোরের বাঁশি বাজে
এই আমরা আসি কাজে
আর ঘরে ফিরি সাঁঝে
ভাই পেটে খিদে পুষে
হেঁই হেঁইয়ো হেঁইয়ো হেঁইয়ো
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো,
হেঁই হেঁইয়ো, হেঁই হেঁইয়ো
ক্ষুদিরাম, ও ক্ষুদিরাম
কবি পরেশ ধর (৯.৮.১৯১৮ - ৬.৪.২০০২)
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও
সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ক্ষুদিরাম, ও ক্ষুদিরাম
তুমি বলে গিয়েছিলে ফিরে আসবে
লাখো লাখো হয়ে তুমি আমাদের শত্রু নাশবে
তুমি আসবে তাই জাগি নিশি-ভোরে
মুক্তিমশাল রাখি বুকে ধরে
তুমি এসে ডাক যদি দেশমাতা আবার যে হাসবে
আমারা রয়েছি বন্দী এখনো
আমাদের হাহাকার শোন শোন
তুমি যদি ভাঙ যদি বেড়ী চোখে চোখে স্বপ্ন যে ভাসবে
মুরগী ক্যারক্যারায়
কবি পরেশ ধর (৯.৮.১৯১৮ - ৬.৪.২০০২)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও
সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
মুরগী ক্যারক্যারায়
মুরগী ক্যারক্যারায় ক্যারক্যারায় আন্ডা পাড়ে না
মিথ্যে বুলি কপচায় তবু ঠমক ছাড়ে না
বলেছিলে তুমি যদি দেশের গদী পাও
দুধে ভাতে খাবো দুঃখ হবে যে উধাও
( কিন্তু কি হল ? )
একবেলা খাই আরেক বেলা অন্ন জোটে না
বলেছিলে জমির মালিক চাষীরা হবে
নিজের জমি নিজের ফসল নিজেরই ঘরে
( কিন্তু হয়েছে উল্টো ! )
এই জমি থেকে চাষী উচ্ছেদ বন্ধ হচ্ছে না
মজুর হবে কলের মালিক তাও বলেছিলে
শোষণ বন্ধ হবে তুমি শাষন হাতে নিলে
( কিন্তু কি দেখছি----- )
ধনী ছাড়া কলের মালিক হতে পারে না
বলেছিলে বেকারেরা চাকরি যে পাবে
রোয়াক বাজী বন্ধ করে অফিসে যাবে
( কিন্তু ------ )
দিনে দিনে বাড়ছে বেকার চাকরি পাচ্ছে না
সমাজতন্ত্র আসবে দেশে বলেছিলে কত
এখন দেখছি মালিক তোষণ তোমার মহান ব্রত
কালোবাজার ছাড়া কোন জিনিস মেলে না
( কিন্তু এরকম বেশীদিন চলবে না------ )
এই চাষী মজুর একজোটে ভাই রুখে দাঁড়াবে
আর সিংহাসনের থেকে তোমায় টেনে নামাবে
মনে রেখো তুমি কিন্তু পার তো পাবে না
আমরাও বন্দী
কবি পরেশ ধর (৯.৮.১৯১৮ - ৬.৪.২০০২)
সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত “শেকল ভাঙার কবিতা” কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জেলখানায় আমরাও বন্দী
তোমাদের জেলখানাটা ছোট
আমাদেরটা বড়---এই যা তফাত।
আমরা মিটিং মিছিল করতে পারি
তেজী লেখা লিখতে পারি
গলা ছেড়ে গণসংগীত গাইতে পারি
দু’দিন আগেও যা পারতুম না।
কিন্তু তা বলে আমরা কি মুক্ত?
রক্তাক্ত শোষণের বন্ধন
অনাহার অর্ধাহারের বন্ধন
নিরাপত্তাহীনতার বন্ধন
তোমাদের পায়ের ডাণ্ডাবেড়ির মত
আমাদেরও কি শৃঙ্খলিত ক'রে রাখে নি?
তোমাদের মুক্ত করার শপথ নিয়ে
আজ আমরা গোটা দেশ জুড়ে
ঝোড়ো সমুদ্রের ঢেউ তুলবো।
সেই ঢেউ আছড়ে পড়বে
বন্দীশালার দ্বারে।
তারপর তোমরা যখন
ছোট জেলখানাটা থেকে
বেরিয়ে আসবে
তখন বড় জেলখানা থেকে
মুক্ত হবার জন্য
আমরা এক সঙ্গে নতুন ক'রে এক
উদ্যোগ নেব।
এটা যে নাই রাজার দেশ
কবি পরেশ ধর (৯.৮.১৯১৮ - ৬.৪.২০০২)
একটি ব্যার্থ রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এটা যে নাই রাজার দেশ
আমরা হেথায় হাওয়া খেয়ে সুখে আচি বেশ
ভাত নাই কাপড় নাই চাকরি মোদের নাই
মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই ফুটপাথে ঘুমাই
কয়লা নাই বিদ্যুৎ নাই বন্ধ হল কল
দেশটা জুড়ে এমন কি ভাই নাই খাবার জল
জনগণের দুর্দশা যে কবে হবে শেষ
ট্রামে বাসে জায়গা নাই অফিস যাওয়া দায়
হাসপাতালে সিট নাই রোগীর প্রাণ যায়
শুকনো মাঠে শস্য নাই গোলায় নাই ধান
গাছে গাছে ফুল নাই নাই পাখির গান
অভাবের এই ফিরিস্তিটা কোথায় করি শেষ
শ্রদ্ধা নাই ভক্তি নাই নাইরে হৃদয়
স্বার্থত্যাগের কথা নাই একী দুঃসময়
অফিসে আর আদালতে নাই রে সততা
নিরাপত্তা নাই জীবনে সর্বত্র ব্যর্থতা
লড়াই ছাড়া এই জীবনে ঘুচবে না তো ক্লেশ
মে দিনের কবিতা কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১২.২.১৯১৯ - ৮.৭.২০০৩)। ১৯৮৬ সালে
প্রকাশিত, কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও কবি অতীন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত, মে-দিনের কবিতা কাব্য সংকলন
থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠ ফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
চিমনির মুখে শোন সাইরেন শঙ্খ,
গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে---
তিল তিল মরনেও জীবন অসংখ্য
জীবনকে চায় ভালবাসতে।
প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতি বন্ধে
মারনের পণ নখদন্তে ;
বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে
উজ্জ্বল দিন দিক অন্তে।
শতাব্দি লাঞ্ছিত আর্তের কান্না
প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা ;
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না---
পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।
প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,
দুর্যোগে পত হয় হোক দুর্বোধ্য
চিনে নেবে যৌবন-আত্মা॥
ঘোষণা কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১২.২.১৯১৯ - ৮.৭.২০০৩)। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত কবির “চিরকুট”
কাব্যগ্রন্থের কবিতা। রচনাকাল জানুয়ারী ১৯৪৩।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এ দেশ আমার গর্ব,
এ মাটি আমার কাছে সোনা।
এখানে মুক্তির লক্ষ্যে হয় মুকলিত
আমার সহস্র সাধ, সহস্র বাসনা।
এখানে আমার পাশে
হিমাচল,
কন্যাকুমারিকা।
অলঙ্ঘ্য প্রাচীর ঐক্য
প্রতিক্ষা পরিখা।
দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ,
রক্তচক্ষু রাজার শাসন—
শকুনি বিশ্বস্ত বন্ধু,
মুঠোয় শিথিল সিংহাসন ;
সর্বাঙ্গে চিহ্নিত মৃত্যু
শবের গলিত গন্ধ ছোটে।
প্রজাপুঞ্জ ওঠে ;
আগুন লেগেছে ঘরে,
খরসূর্য মাথার উপরে।
ভাণ্ডারে উধাও খাদ্য,
শূন্য পেটে চাষবাস চুপ
কারখানায় পড়েছে কুলুপ।
দোকানে দ্বারস্থ অক্ষৌহিণী
পিছনে করুণমূর্তি পথের কাহিনী
গহন আরণ্য আরাকান ;
স্খলিত পায়ের ছন্দে
স্পন্দিত শ্মশান।
সর্বশান্ত চোখে পড়ে
বার বার হাতের শৃঙ্খল—
পলাতক প্রাণের সম্বল।
বিড়ম্বিত জীবনে আবার
কুরুক্ষেত্র করাঘাত করে
পালাবার নেই কোনো গোপন দুয়ার।
সম্মুখে প্রতীক্ষমাণ সবুজ প্রন্তরে
শায়িত বল্লম ;
পায়ে পায়ে রুদ্ধগতি বিদ্যুৎ কদম,
ঘুম ভাঙে সম্মিলিত মুঠি ;
অগ্নিবর্ণ চোখের ভ্রুকুটি
মুহূর্তে হারায় দম্ভ,
দর্প তার হয় কুটি কুটি।
গঙ্গার জোয়ারে এসে লাগে
ভল্ গার তীরের স্পর্শ
চোখে নব সূর্যোদয় জাগে
মুক্তি আজ বীরবাহু
শৃঙ্খল মেনেছে পরাভব ;
দিগন্তে দিগন্তে দেখি
বিস্ফোরিত আসন্ন বিপ্লব !
এখানে বিচিত্র স্রোত
মুক্তির একাগ্র লক্ষ্যে আসে ;
আজকের তুরঙ্গ ইতিহাসে
দেশপ্রেম বল্গা ধরে।
পদক্ষেপ কেবলি চঞ্চল।
গ্রামে গঞ্জে শহরে বাজারে
দুর্জয় সংকল্প নেয় হাজারে হাজারে।
মৃত্যুকীর্ণ পথে হই জড়ো ;
নতুন জন্মের ডঙ্কা বাজে,
বেদনায় পৃথ্বী থরো থরো।
এ দেশ আমার গর্ব
এ মাটি আমার চোখে সোনা।
আমি করি তারি জন্মবৃত্তান্ত ঘোষণা॥
জেলখানার চিঠি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় (অনুবাদ)। মূল কবিতা - কবি নাজিম হিকমত। কবিতা আবৃত্তি - উত্পল দত্ত। কবিতাটি ৩ জানুয়ারী ১৯৭০, দেশ
পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটি সৌজন্যে Rajesh Datta YouTube Channel. এই ভিডিওটিতেই উত্পল দত্তর আবৃত্তি রয়েছে পর পর ১) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর "উলঙ্গ
রাজা", ২) প্রেমেন্দ্র মিত্রের "ফেরারী ফৌজ" এবং ৩) নাজিম হিকমতের "জেলখানার কবিতা"। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ ফেসবুকের বাংলাকবিতারওয়েবসাইট এর কাছে
এই কবিতাটির কথার জন্য। সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বিংশ শতাব্দীতে,
মানুষের শোকের আয়ু
বড়জোর এক বছর।
মৃত্যু ...
দড়ির একপ্রান্তে দোদুল্যমান শবদেহ
আমার কাম্য নয়, সেই মৃত্যু।
কিন্তু প্রিয়তমা আমার, তুমি জেনো
জল্লাদের লোমশ হাত
যদি আমার গলায়
ফাঁসির দড়ি পরায়
নাজিমের নীল চোখে ওরা বৃথাই খুঁজে ফিরবে ভয়।
অন্তিম ঊষার অস্ফুট আলোয়
আমি দেখব, আমার বন্ধুদের, তোমাকে দেখব।
আমার সঙ্গে কবরে যাবে
শুধু আমার
এক অসমাপ্ত গানের বেদনা।
২.
বধূ আমার,
তুমি আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি
চোখ তোমার মধুর চেয়েও মিষ্টি।
কেন তোমাকে আমি লিখতে গেলাম
ওরা আমাকে ফাঁসি দিতে চায়
বিচার সবেমাত্র শুরু হয়েছে
আর মানুষের মুণ্ডুটা তো বোঁটার ফুল নয়
যে ইচ্ছে করলেই ছিঁড়ে নেবে।
ও নিয়ে ভেব না
ওসব বহু দূরের ভাবনা
হাতে যদি টাকা থাকে
আমার জন্যে কিনে পাঠিও গরম একটা পাজামা
পায়ে আমার বাত ধরেছে।
ভুলে যেও না
স্বামী যার জেলখানায়
তার মনে যেন সব সময় স্ফুর্তি থাকে
বাতাস আসে, বাতাস যায়
চেরীর একই ডাল একই ঝড়ে
দু’বার দোলে না।
গাছে গাছে পাখির কাকলি
পাখাগুলো উড়তে চায়।
জানলা বন্ধ:
টান মেরে খুলতে হবে।
আমি তোমাকে চাই :
তোমার মত রমণীয় হোক জীবন
আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তমার মত।...
আমি জানি, দুঃখের ডালি
আজও উজাড় হয়নি
কিন্তু একদিন হবে।
৩.
নতজানু হয়ে আমি চেয়ে আছি মাটির দিকে
উজ্জ্বল নীল শাখার মঞ্জুরিতে ফুলের দিকে আমি তাকিয়ে
তুমি যেন মৃন্ময়ী বসন্ত, আমার প্রিয়তমা
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে।
মাটিতে পিঠ রেখে আমি দেখি আকাশকে
তুমি যেন মধুমাস, তুমি আকাশ
আমি তোমাকে দেখছি, প্রিয়তমা।
রাত্রির অন্ধকারে, গ্রাম দেশে শুকনো পাতায় আমি
জ্বালিয়েছিলাম আগুন
আমি স্পর্শ করছি সেই আগুন
নক্ষত্রের নীচে জ্বালা অগ্নিকুণ্ডের মত তুমি
আমার প্রিয়তমা, আমি তোমাকে স্পর্শ করছি।
আমি আছি মানুষের মাঝখানে, ভালোবাসি আমি মানুষকে
ভালোবাসি আন্দোলন,
ভালোবাসি চিন্তা করতে,
আমার সংগ্রামকে আমি ভালোবাসি
আমার সংগ্রামের অন্তস্থলে মানুষের আসনে তুমি আসীন
প্রিয়তমা আমার, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
৪.
রাত এখন ন'টা
ঘণ্টা বেজে গেছে গুমটিতে
সেলে দরোজা তালাবন্ধ হবে এক্ষুনি।
এবার জেলখানায় একটু বেশী দিন কাটল
আটটা বছর।
বেঁচে থাকার অনেক আশা, প্রিয়তমা
তোমাকে ভালোবাসার মতই একাগ্র বেঁচে থাকা।
কী মধুর, কী আশায় রঙিন তোমার স্মৃতি।...
কিন্তু আর আমি আশায় তুষ্ট নই,
আর আমি শুনতে চাইনা গান।
আমার নিজের গান এবার আমি গাইবো।
আমাদের ছেলেটা বিছানায় শয্যাগত
বাপ তার জেলখানায়
তোমার ভারাক্রান্ত মাথাটা ক্লান্ত হাতের উপর এলানো
আমি আর আমাদের এই পৃথিবী একই সুচাগ্রে দাঁড়িয়ে।
দুঃসময় থেকে সুসময়ে
মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে
আমাদের ছেলেটা নিরাময় হয়ে উঠবে
তার বাপ খালাস পাবে জেল থেকে
তোমার সোনালী চোখে উপচে পড়বে হাসি
আমার আর আমাদের এই পৃথিবী একই সূচাগ্রে দাঁড়িয়ে !
৫.
যে সমুদ্র সব থেকে সুন্দর
তা আজও আমরা দেখি নি।
সব থেকে সুন্দর শিশু
আজও বেড়ে ওঠেনি।
মধুরতম যে কথা আমি বলতে চাই
সে কথা আজও আমি বলিনি।
৬.
কাল রাতে তোমাকে আমি স্বপ্ন দেখলাম
মাথা উঁচু করে
ধূসর চোখ মেলে তুমি আবছা আমার দিকে তাকিয়ে
তোমার আর্দ্র ওষ্ঠাধর কম্পমান
কিন্তু তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।
কৃষ্ণপক্ষ রাত্রে কোথাও আনন্দ সংবাদের মতো
ঘড়ির টিক্ টিক্ আওয়াজ
বাতাসে গুন্ গুন্ করছে মহাকাল
আমার ক্যানারীর লাল খাঁচায়
গানের একটি কলি
লাঙ্গল চষা ভূঁইতে
মাটির বুকফুঁড়ে উদগত অঙ্কুরের দুরন্ত কলরব
আর এক মহিমান্বিত জনতার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ন্যায্য
অধিকার
তোমার আর্দ্র ওষ্ঠাধর কম্পমান
কিন্তু তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।
আশাভঙ্গের অভিশাপ নিয়ে জেগে উঠলাম।
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বইতে মুখ রেখে
অতগুলো কণ্ঠস্বরের মধ্যে
তোমার স্বরও কি আমি শুনতে পাইনি ?
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
১.
প্রিয়তমা আমার,
তোমার শেষ চিঠিতে
তুমি লিখেছো:
মাথা আমার ব্যথায় টনটন করছে,
দিশেহারা আমার হৃদয়।
তুমি লিখেছো:
যদি ওরা তোমাকে ফাঁসি দেয়
তোমাকে যদি হারাই,
আমি বাঁচবো না।
তুমি বেঁচে থাকবে প্রিয়তমা বধূ আমার
আমার স্মৃতি কালো ধোঁয়ার মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে
তুমি বেঁচে থাকবে, আমার হৃদয়ের রক্তকেশী ভগিনী,
জননী যন্ত্রণা কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় (১৬.৭.১৯২০ - ২০.৪.২০০৩)। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়
ও দীপক রায় সম্পাদিত "বাংলা আধুনিক কবিতা ১" কাব্য সংকলনের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৪.২০১২।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জন্মে মুখে কান্না দিলে, দিলে ভাসান ভেলা
একূল-ওকূল কালি ঢালা কালনাগিনী দ'য়
রাত মজাল ডোবাল দিন ঢেউয়ের ছেলেখেলা
সামনে-যে জল, জল পেছনে ভরাডুবির ভয়।
জীবন চেয়ে পেলাম কেবল হাওয়ার হা-হা-হা-হা
পাহাড় থমকে পাথর, নদীর পা-টিপে পথ ভাঙা
বাপের চোখের অভিসম্পাত দূর আকাশের চাওয়া
একটি পাশে আছড়ে পড়ে মূর্ছা বোন : ডাঙা।
ঘাট চাইতে হাট পেরোলাম, গান চেয়ে কান্না,
রাতের জন্য ঘর যা পেলাম---পা তো টানে না
ছায়ার মত এক কোণে বউ, দুয়োরে তার ছা---
হাসতে জানে না বাছা কান্না জানে না।
. এক যে ছেলে, জোয়ান ছেলে, কই সে-ছেলে মা
. ঘর-যে তোমার ঘরে-ঘরে, জননী যন্ত্রণা॥
জন্মে মুখে কান্না দিলে, দিলে ভাসান ভেলা
একূল-ওকূল দু'কূল-মজা কালনাগিনীর দ'য়
জলকে দিলাম সাঁতার দিলাম ঢেইকে দিলাম হেলাফেলা
ভয়কে দিলাম ভরাডুবি---কান্না আমার নয়।
কালি ঢালা নদী, বাঁকে ও-কার নৌকা, আলো
নেই-মনিষ্যি তেপান্তরে পথ চিনে কে যায়?
সে আমি সেই আমরা--- আমরা কে মন্দ কেউ ভালো
কেউ মাঠে কেউ ঘরে কেউ-বা কলে-কারখানায়।
একটি তারা-পিদিম কখন হাজার তারা জ্বালে :
এক ছেলে হারালে--- ছেলে এলাম হাজারজনা
একটি আশা অনেক মুখের পাপড়িতে মুখ মেলে :
এক নামে যেই ডাকলে--- অনেক হলাম যে একজনা।
. ক্ষুদিরামের মা আমার কানাইলালের মা---
. জননী যন্ত্রণা আমার জননী যন্ত্রণা॥
সাপ বাঘের সঙ্গে
কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় (১৬.৭.১৯২০ - ২০.৪.২০০৩)। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও সরল দে সম্পাদিত "পাঁচশো বছরের কিশোর কবিতা" কাব্য
সংকলনের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১৯.১২.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাঘের সঙ্গে কেই বা আপোস করে?
হালুম হুলুম মানুষখেকো যে বাঘ?
চাকা চাকা দাগ গায়ে, ঝোপঝাড়ে চরে,
সবার ভাগেই বসাতে চায় যে ভাগ?
আমরা সভ্য মানুষ---তাই না? তাই
আমরা বাঘশিকারীরা শিকারে যাই।
গোখরো সাপের সঙ্গে কে ঘর করে?
ভাঙা ঘরের পোড়ো ভিটেয় গর্ত থেকে
যে-সাপ রাতবিরেতে উঠে ফণা ধরে
হিসহিসে, কিলবিল করে এঁকেবেঁকে?
আমরা সভ্য মানুষ---তাই না? তাই
বিষদাত ভাঙি আমরা সাপুড়ে ভাই।
তবু যদি, ধরো, আজ কেউ এসে বলে :
মনের দুঃখে বাঘ সে ভালমানুষ
সব ছেড়েছুড়ে হিমালয়ে যাবে চলে।
কিংবা : মনুর বিধানে গজালো হুঁশ
সাপের মগজে, তাই কাশী তাকে ডাকে!
এমন যে লোক, কী জবাব দেবো তাকে!
আমরা সভ্য মানুষ---তাই না? তাই
বলবো : গোখরো সাপের চোখ প্রবাল
বশীকরণের, ও চোখে চেয়ো না ভাই,
টলটল বিষে সর্বনাশ আড়াল,
সবুর, হাতের আড়ালে যে বাঘ-নখ।
সবুর, সবুর, আমরা মারতে পারি
সাপকে, বাঘকে---যত সে চতুর হোক ;
আমরা সাপুড়ে, আমরা বাঘশিকারী।
রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে
কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় (১৬.৭.১৯২০ - ২০.৪.২০০৩)
গোপাল হালদার ও মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “পরিচয়” পত্রিকার আষাঢ়
১৩৭১ (জুন ১৯৬৪) সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১৯.১২.২০২০।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
কবি, তুমি একবার তোমার ধ্যানের ভারতবর্ষে দ্যাখো এসে :
বাহ্মণমহিমা ক্ষত্রগরিমা না, মনুষ্যত্ব মনীষা মমতা
কিছু না---ব্যাপারী রাজা মন্ত্রী ভাঁড়ু দত্ত শুধু বৈশ্যের সভ্যতা
যোজনায় যন্ত্রখর নিয়নে নাইলনে নগ্ন উর্ধ্বশ্বাস দেশে।
কে জানত নিগূঢ় স্কাইস্ক্রেপারে স্ক্রেপারে আদি অরণ্যের গুহা?
মানুষ দ্বিপদ জন্তু আত্মপর একাকিত্বে নিজেরই পোষা কি
নিজেকে লেহন ক'রে! সংস্কৃতি যদিও সভাউজ্জ্বল, পোশাকী
ছদ্মবেশ ছিঁড়লে নখীদন্তীশৃঙ্গী লোভ দ্বেষ দর্প বা অসূয়া।
কবি, তুমি নিজ মুখ দেখো না বার্ষিক স্মৃতিতর্পণ-দর্পণে
রবীন্দ্রসঙ্গীত কানে নিয়ো নাক' ইঙ্গবঙ্গ গদ্গদ ভাষণ---
আপন প্রতিমা ভেঙে দীপ উল্টে মালা ছিঁড়ে আত্মসমর্পণে
পূর্ণ কর অভ্যুদয়, পূর্ণ কর এতকাল শূন্য যে-আসন।
সভ্যতা-সংকটে ক্ষয়ে এস কবি সংক্রান্তির চণ্ড বিস্ফোরণে,
হে বীর, সম্ভব কর ভারতবর্ষে সুন্দরের পুনর্বাসন।
ওই কণ্টকময় বন্ধুর পথ কবি তড়িৎ ঘোষ (জন্মকাল অজ্ঞাত)
সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও রত্না গুপ্ত। ১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত
“বিয়াল্লিশ” ছায়াছবির গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওই কণ্টকময় বন্ধুর পথ বজ্রের সম্ভার,
সব যাত্রীর দল বিদ্যুৎবেগে ভেদ করো বুক তার।
ওই নারী ও শিশ্তর আর্ত্তনাদ
অসহ নির্য্যাতন,
দগ্ধ গৃহের স্তব্ধ প্রাণের
বীভৎস ক্রন্দন---
আজ প্রতিজ্ঞ হও বন্ধ করিতে পাশব অত্যাচার।
ওই কঙ্কাল দল স্থির নিশ্চল চক্ষে সর্পভয়,
হিংস্র সে কোন রক্তশোষণ করিছে ওদের ক্ষয়।
ওই হত্যাপ্লাবন রুদ্ধ করিতে জাগো আজ দুর্ব্বার।
সংশয় আর নয়,
মৃত্যুর পথে আনোহে যাত্রী---
মৃত্যুর পরাজয়।
ওই রক্ত-শিরায় মহাকাল নিক্ ভয়াবহ রূপ তার।
হাতের শিকল খুলে কবি তড়িৎ ঘোষ (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। শিল্পী - হেমন্ত
মুখোপাধ্যায় ও রত্না গুপ্ত। ১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “বিয়াল্লিশ” ছায়াছবির গান। ভিডিওটি সৌজন্যে Saregama
Bengali YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হাতের শিকল খুলে হলো হায়
বুকের গভীর ফাঁস
এতটুকু হাসি শুকায়ে হয়েছে
গভীর দীর্ঘশ্বাস
ভারতী আমার গানে ভারতী আমার গানে
ছেলের মরণ ভেঙ্গে গেছে তার
অসহ কি বেদনাতে
ভারতী আমার গানে
আপন রক্তে গড়া সন্তান
আনিছে সর্বনাশ
হাতের শিকল খুলে হলো হায়
বুকের গভীর ফাঁস
এতটুকু হাসি শুকায়ে হয়েছে
গভীর দীর্ঘশ্বাস
অমানুষে যবে মানুষ হারায়
মুক্তি তখন জ্বালা
মানুষের মাঝে অধীনতা সেও
চিরবিজয়ের মালা
স্বাধীনতা আজিকার
সে যে অবিচার আর
ব্যাভিচারে মেশা উপোসীর আঁখি-ধার
হায়, ঝড় হয়ে পর আগুন জ্বালায়
জাগায় ঝড় বাতাস
হাতের শিকল খুলে হ’ল হায়
বুকের গভীর ফাঁস
এতটুকু হাসি শুকায়ে হয়েছে
গভীর দীর্ঘশ্বাস
এই চল্লিশ কোটি হৃদয়ে সাজানো
কবি প্রসূন মিত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ। শিল্পী শ্যামল মিত্র ও সমবেত কণ্ঠে গানটি শুনুন। আকাশবাণী
কলকাতার “দেশবন্দনা” অনুষ্ঠানে প্রচারিত গান। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের আবহে আকাশবাণী তে যে সব গান বারবার
বাজানো হতো তার মধ্যে এটি একটি অন্যতম গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে Surer Shuktara YouTube Channel. গানটি শুনে
লেখা। তথ্য সৌজন্যে শ্রী পূজন কুমার দারিপা। গানটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এই চল্লিশ কোটি হৃদয়ে সাজানো দীপান্বিতার অর্ঘ্য
এ ভারভূমির শত শহীদের স্বপ্নের গড়া স্বর্গ
এই চল্লিশ কোটি হৃদয়ে সাজানো দীপান্বিতার অর্ঘ্য
এ ভারভূমির শত শহীদের স্বপ্নের গড়া স্বর্গ
এলো বন্ধুর বেশে ছদ্মবেশী অন্ধকারের ফাঁকে
সীমান্তপথে চোরা পায়ে এলো লাখে লাখে ঝাঁকে ঝাঁকে
এলো বন্ধুর বেশে ছদ্মবেশী অন্ধকারের ফাঁকে
সীমান্তপথে চোরা পায়ে এলো লাখে লাখে ঝাঁকে ঝাঁকে
এসো বন্ধুরা এবার আমরা দু হাতে চালাই খড়গ
এ ভারত নয় শক্তিহীনের এ যে শহীদের স্বর্গ
এই চল্লিশ কোটি হৃদয়ে সাজানো দীপান্বিতার অর্ঘ্য
এ ভারভূমির শত শহীদের স্বপ্নের গড়া স্বর্গ
তিল তিল করে ভালোবাসা দিয়ে আমরা গড়েছি পাহাড়
পিশাচের মতো হানা দেবে সে সাধ্য কি আছে কাহার
তিল তিল করে ভালোবাসা দিয়ে আমরা গড়েছি পাহাড়
লক্ষ মশালে দাউ দাউ জ্বলে দীপ্ত প্রাণের জ্বালা
এসেছে আবার শত শহীদের রক্তদানের পালা
লক্ষ মশালে দাউ দাউ জ্বলে দীপ্ত প্রাণের জ্বালা
এসেছে আবার শত শহীদের রক্তদানের পালা
শোনো বন্ধুরা ধ্বংস হবেই আদপ দস্যুবর্গ
এ ভারত জেনো তোমার আমার রক্তের প্রিয় স্বর্গ
এই চল্লিশ কোটি হৃদয়ে সাজানো দীপান্বিতার অর্ঘ্য
এ ভারভূমির শত শহীদের স্বপ্নের গড়া স্বর্গ
আমি ঝঞ্ঝার মতো দুর্বার
কবি প্রসূন মিত্র (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ। শিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি
শুনুন। আকাশবাণী কলকাতার “দেশবন্দনা” অনুষ্ঠানে প্রচারিত গান। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে pujan kumar daripa YouTube
Channel. গানটি শুনে লেখা। তথ্য সৌজন্যে শ্রী সাত্যকি সরকার। গানটি শুনে লেখা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আমি ঝঞ্ঝার মতো দুর্বার
আমি ঊর্মির মত চঞ্চল
আমি বক্ষে ধরেছি সঙ্গীত
আমি কক্ষে বেঁধেছি অঞ্চল
দুটি মিলিত প্রাণের প্রদীপ্তরাগে
জাগে দুঃসহ উচ্ছ্বাস
চল অত্যাচারীর হত্যাকারীর
নিরুদ্ধ করি নিঃশ্বাস
আমি পাণ্ডব রথী গাণ্ডিব
আমি খাণ্ডব-গ্রাসী দাবানল
আমি তাণ্ডব মেলা নৃত্য ছন্দে
কম্পিত করি ধরাতল
বাজে প্রলয় বিষাণে মাভৈ
মোরা বায়ুতে ঈশাণে যাবোই
মোরা এশিয়ার জন গণেশের দূত
বিশ্ববাসীর বিশ্বাস
চল অত্যাচারীর হত্যাকারীর
নিরুদ্ধ করি নিঃশ্বাস
আমি সীমান্তে জাগি অতন্দ্র রাতে একা
একা একা একা
আমি সিমান্তে আজি রক্ত তিলক রেখা
আমি বন্যার মতো উদ্দাম
আমি বজ্রের মতো নির্মম
আমি বিদ্যুৎবহ্নির শিখা
অন্ধ তামসী রাতে
মোরা চলি দুরন্ত হিমগ্ন আশা
বর্তিকা নিয়ে রাতে
বাজে হৃদয় তূর্য শঙ্খ
চল নির্ভয় নিঃশঙ্ক
গাও অতীতের রণ দুর্লভ গাথা
ক্ষান্ত বীর্য ইতিহাস
চল অত্যাচারীর হত্যাকারীর
নিরুদ্ধ করি নিঃশ্বাস
আমি ঝঞ্ঝার মতো দুর্বার
আমি ঊর্মির মত চঞ্চল
আমি বক্ষে ধরেছি সঙ্গীত
আমি কক্ষে বেঁধেছি অঞ্চল
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ও তোর কোলের ছেলে যাবে বলে কাঁদিস কেন মা
ও তোর কোলের ছেলে যাবে বলে কাঁদিস কেন মা
হাসি মুখে বিদায় দে মা, ফিরে ডাকিস না
ও তোর কোলের ছেলে যাবে বলে কাঁদিস কেন মা
মায়ের মতো মা হয়েছিস, দুঃখ কিসের বল
মায়ের মতো মা হয়েছিস, দুঃখ কিসের বল
ও তোর রক্ত-ধোওয়া পায়ের তলে ফুটবে শতদল
জনম হলে মরণ হবে তুই তো জানিস মা
ও তোর কোলের ছেলে যাবে বলে কাঁদিস কেন মা
একটি ছেলে যাক না চলে, জয়ের তিলক নিতে
একটি ছেলে যাক না চলে, জয়ের তিলক নিতে
ও তোর সপ্ত কোটি রইলো ছেলে শিকল খুলে দিতে
রাতের পরে হবে যে ভোর দুঃখ করিস না
ও তোর কোলের ছেলে যাবে বলে কাঁদিস কেন মা
হাসি মুখে বিদায় দে মা, ফিরে ডাকিস না
জেলখানার দেয়াল ভাঙছে
কবি ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)
রচনা সেপ্টেম্বর-নভেম্বর'৭৩। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা
সংকলন গ্রন্থের কবিতা। গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
লেনিন, কবরেও তোমার শান্তি নেই
তোমার চার পাশে লেনিন, লেনিনের পাশে লেনিন।
তার পরে আবারও
ধান ক্ষেতে রক্ত আর কাদায় গেঁথে ফেলা
রোলিং-মিলে থ্যাংলানো
তোমারই মতো ঘৃণায় কাঁপছে
তোমার রক্তের দোসর।
শান্তি নেই কমরেডের পচা শবের পাশে
গারদের আস্তাকুঁড়ে দুমরানো শরীরটাকে
জাগিয়ে রাখা বন্দীদের
ভাঙা-কব্জির মুঠো খুললেই লাফিয়ে উঠবে ঝড়
ফাঁড়া পাঁজর জোড়া লাগলেই আবার বিদ্যুৎ
খেলবে বুকে
অস্থির সময় খাঁচার বাঘের মত রক্তের আঁচর কাটে
তিনদিনের পচা কমরেডের লাশের পাশে
বন্দীরা জেগে
জেলখানার গহ্বরে,
লেনিন, তোমারই মত ওদের শান্তি নেই।
ঘুলঘুলিতে জলের ফোঁটার মত আলো
ঠিক এই সময় ওদের দূর গাঁয়ে লাউয়ের মাচানে
সূর্য নেমে আসছে,
নিঃসঙ্গ পানার থেকে আহত জল ঝরছে দীঘিতে
দুরন্ত শিশুর মত গোলপাতার ছাউনিতে
চোর-পুলিশ খেলছে হাওয়া,
যারা ভাবছো ওদের মেয়ে-বউয়েরা ঘাটে-অন্ধকারে
বুক চেপে কাঁদছে---
তারা ভুল করছো
দ্যাখো, ওদের কঞ্চির-বেড়া তীক্ষ হয়ে রাগে
আকাশ খুঁড়ছে।
মেয়েরা তুলসী মঞ্চ থেকে প্রদীপ হিঁচড়ে এনে
মজুত গোলার নীচে উল্টে দিচ্ছে---
দাউ দাউ করে জুলছে
ভূগোলের মানচিত্র।
কবরেও লেনিনের শান্তি নেই
চারপাশে পিষ্ট হাভাতে মানুষের শব
তাঁরই মত ঘৃণায় কাঁপছে
কেঁপে উঠছে ভারতের অসহ্য মাটি
ভূমিকম্পে
জেলখানার দেয়াল ভাঙছে।
জেলের গরাদ ধরে
কবি ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায় (জন্মকাল অজ্ঞাত)। প্রথম প্রকাশ “অনুষ্টুপ” পত্রিকার জানুয়ারী ১৯৭৩ সংখ্যায়। ২০১১
সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থ থেকে আমরা পেয়েছি।
গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
জেলের গরাদ ধরে তবুও দাঁড়িয়ে
নষ্টপ্রাণ সন্তানজননী
লুপ্তরূপ মাংসপিণ্ড, রক্ত-ক্লেদ-হাড়-মাংস-মজ্জার
গভীর হতে
চিনে নেবে সন্তানের
প্রিয়তম মুখ।
চেনো তুমি, কে তোমার পেটের সন্তান?
সনাক্ত করেছো
কোন্ ছেলেটার লাশ?
কাকে তুমি গর্ভে ধরেছিলে?
কাকে ভিন্ন ক'রে বেছে নেবে
সন্তানের মা?
একই রক্ত প্রবাহিত সকল শরীরে,
নিশ্বাসের বাতাস
একই, বারুদে বিশ্বাস
যাদের, তাদের সমান প্রাণ
রক্তের সমুদ্রে শুয়ে
তারা আজও মাটির সন্তান।
জেলের গরাদ ধরে সর্বশূন্য হে জননী
ভিন্ন ক'রে
কার মুখ খুঁজে নিতে চাও?
জেরা
কবি অমিত দাস (জন্মকাল অজ্ঞাত)। প্রথম প্রকাশিত “স্পন্দন” পত্রিকার জুলাই ১৯৭২ সংখ্যায়। ২০১১ সালে
প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত "শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থ থেকে আমরা পেয়েছি।
গ্রন্থটির প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
“বল্ কি জানিস।”
উত্তরে মুখ বুজে যন্ত্রণা সওয়া।
“কমরেড!
কথা ছিল রা কাড়বো না,
মুখ খুলিনি।”
বাইরে বিকেল
জানলায় ঘরফেরতা সূর্যের আলো।
“বল্ কি জানিস।”
উত্তরে যন্ত্রণার গোঙানি।
“কমরেড!
মুখ খুললে ঘৃণায় জ্বলে উঠবে তোদের মুখ
বিনা বিচারে আটক ঘরের বাতাস কাঁপিয়ে
শয়তান অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে,
মুখ খুলি নি।”
বাইরে সন্ধ্যা
জানলায় সূর্য চোখ রাঙায়।
“বল্ কি জানিস।”
উত্তরে বোবা যন্ত্রণা
“কমরেড!
কথা ছিল মাথা নোয়াব না,
নোয়াই নি।”
“বেঁচে থাকুন বাঁচতে দিন
হিংস্রতা বর্জন করুন” চেঁচাতে চেঁচাতে
দালাল ট্রামের ছোটাছুটি।
জানলায় শহর অন্ধকার।
সকাল থেকে
যারা জেরা করছিল
তারা যে তিমিরে সেই তিমিরে।
তবু আলোকিত তোমার মুখ, কেননা-
কবি আলোক বসু (জন্মকাল অজ্ঞাত)
রচনা মার্চ ১৯৭৪। ২০১১ সালে প্রকাশিত, সব্যসাচী গোস্বামী সম্পাদিত
"শেকল ভাঙার কবিতা" কবিতা সংকলন গ্রন্থ থেকে আমরা পেয়েছি। গ্রন্থটির
প্রকাশক "বন্দীবার্তা" পত্রিকার পক্ষ থেকে শুক্লা ভৌমিক, কলকাতা।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
ওরা তোমাকে ভয় দেখালো অত্যাচারের তুমি নীরব,
ওরা তোমাকে ভয় দেখালো হত্যার তুমি নিথর।
ওরা তোমাকে ভয় দেখালো নারীত্বের তুমি নির্ভীক!
লক্আপের এক কোণে ধর্ষিতা তোমার শরীর
তবু আলোকিত তোমার মুখ।
কেননা পৃথিবীকে তুমি ভালবেসেছো নিবিড়
আর তোমার বিশ্বাস
তোমার প্রিয় সাথীদের শোক, ক্রোধ, ঘৃণার সমস্ত উদ্যম
ধ্বংসের দিব্যাস্ত্র হয়ে ছুটে যাবে
যারা তোমার ভালবাসার দরজায়
অক্ষৌহিনী সেনা সাজিয়ে বসে আছে তাদের দিকে।
যারা দাঙ্গা করে মানুষ মারে কথা ও সুর - কবি সুবল দাস (জন্ম-মৃত্যু অজ্ঞাত), শিল্পী -
শুভেন্দু মাইতি। “মঈনুদ্দীন কেমন আছ” (১৯৯৫) সি.ডি.-র গান। শুনে লেখা। সৌজন্যে Shubhendu Maity
YouTube Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
যারা দাঙ্গা করে মানুষ মারে
ভাবেনা রে পাছের গতি
সেকি কখন চিন্তা করে
এটা তো তার দেশের ক্ষতি
কেউবা কারো তালে পড়ে
পরের ঘরে দেয় আগুন
প্রাণ বাঁচাতে পরের ফাঁদে
তার বাবা হইয়াছেন খুন
মামা শিবুর(?) ভাগ্নে জামাই
দাঙ্গাতে কেউ পায়না রেহাই
কে শোনে কার বাপের দোহাই
পায় ধরিলে মারে লাথি
হোক না সে ভিন্ন জাতি
তাতে কোনো ক্ষতি নাই
ভালোবেসে আদর কোরে
পর কে আপন করা চাই
সুবল দাসের পথটা ধর
মিলে মিশে কর্ম করো
দেশের শত্রু দমন করো
কেউ কোরো না কারো ক্ষতি
যারা দাঙ্গা করে মানুষ মারে
ভাবেনা রে পাছের গতি
সে কি কখন চিন্তা করে
এটাতে তার নিজের ক্ষতি
এমন দ্যাশে জনম মোদের বলিব কি আর ভাই
কথা - কবি সুবীর মুখার্জী (জন্ম-মৃত্যু অজ্ঞাত), সুর - প্রচলিত (ভাওয়াইয়া)। ২০১২ সালে প্রকাশিত, জলি বাগচী ও দিপালী
সেনগুপ্ত সম্পাদিত “গণবিষানের গানের স্বরলিপি” থেকে নেওয়া।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
এমন দ্যাশে জনম মোদের বলিব কি আর ভাই
একবেলাতে ভাত জোটে তো অন্য বেলাই নাই
দ্রব্যমূল্য আকাশ ছোঁয়া আন্ধার ঘরে ঘরে
করলে নালিশ জুটবে গুলি প্রাণটা যাবে যে বেঘোরে।
মাতা কান্দে খুনির হাতে স্বামীরে হারাইয়া
কন্যা কান্দে সমাজপাকে কু-পথে পড়িয়া
বেকার জ্বালায় জ্বলিয়া ভাই গলায় যে দেয় দড়ি
ধন্য স্বাধীনতা তোমার দুই পায়েতে গড় করি।
প্রতি বছর বন্যা খরায় হাজার হাজার মরে
জাতের নামে হানাহানি নিত্য ঘরে ঘরে
কারখানাতে ঝুলছে তালা খ্যাতে পানি নাই
কেমন সুখে আছি বেঁচে তোমরা বল দেখি ভাই।
দ্যাশের শাসন যাদের হাতে গদির তরে মরেন
মানুষজনের দুঃখ তাঁরা থোড়াই কেয়ার করেন
সভায় সভায় মালা গলায় দ্যান কেবল বুকুনি
কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা মুখে সমাজবাদের বাণী।
মুখটি বুজে থাকলে পড়ে চলবে নাকো আর
হকের কড়ি বুঝে নিতে হবে যে সব্বার
মোদের গান শেষ হলে পর চিন্তা করি দেখো
লড়াই ছাড়া পথ কি আছে কথাটা মনেতে ভাবিও।
আয়রে আয়, যৌবনের বন্যায়
কথা ও সুর - কবি সাধন দাশগুপ্ত (জন্ম-মৃত্যু অজ্ঞাত)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ১৯৪৪ এর এই
গানটির ‘সৈনিক চল যাত্রায়, মুক্তির রণয়াত্রায়’ অংশটুকুর পরিবর্তে পরে যুক্ত হয়েছিলো
‘সৈনিক চল যাত্রায়, ক্রান্তির পথ যাত্রায়’।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আয়রে আয়, যৌবনের বন্যায়,
ঘিরে দাঁড়া পতাকারে রৌদ্র মেঘ-ছায়ায়
সৈনিক চল যাত্রায়, মুক্তির রণযাত্রায়॥
মৃত্যুর বন্ধন ছিন্ন কর,
পৃথিবীর দুর্গে জীবন গড়
আনো আলো, আনো আলো
সূর্যেরে জ্বালো জ্বালো
বজ্রেরে বাঁধিতে দুর্জয় মন শুধু চায়॥
জাগ তোরা জাগ, দূর কর কর দূর ভয়,
অমর হয়েছে মাটির মানুষ নাই আমাদের ক্ষয় ;
ঝঞ্ঝার মাঝে ঐ পতাকা নাচে,
নবীন আশা সেথা লুকায়ে আছে,
ভাঙো জীর্ণ দুয়ার, আনো প্রাণের জোয়ার
. উজ্জ্বল রশ্মির ধার,
মুক্তির যাত্রী দুর্জয় অভিযানে যায়॥
আগুন লেগেছে আগ্নি ঝড়
কথা - কবি শ্যামসুন্দর বসু (জন্মদিন অজ্ঞাত - ০৯.০২.২০২১), সুর - অজ্ঞাত।
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত
সংগ্রহ সংকলন থেকে।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
আগুন লেগেছে আগ্নি ঝড়
কখনো এখানে কখনো সেখানে
কাকদ্বীপ থেকে তেলেঙ্গানা
ছোটনাগপুর নকসালবাড়ি সাঁওতালপরগণা
এ আগুন পেটের আগুন জমির আগুন আগ্নিবানে
এ আগুন লক্ষ জনের লক্ষ চাষীর লক্ষ প্রাণের
এ আগুন তুফান আনে ঝঞ্ঝা আনে চতুর্দিকে
এ আগুন লক্ষ প্রাণে জোয়ার আনে দিগ্বিদ্গিকে
এ আগুন ছডিয়ে দাও জ্বালিয়ে দাও অযুত পানে
প্রেরণায় রাঙিয়ে দাও রাঙিয়ে দাও তোমার গানে
সামনে যাবার একটু পথ, রাইফেল তোল লও শপথ
রাইফেল তোল, রাইফেল তোল, রাইফেল তোল, লও শপথ
ছাড়বো না আর জমির ধান, না হয় মরবে হাজার প্রাণ
হাজার প্রাণই দিতে পারে অত্যাচারের মহাশ্মশান
হাজার প্রাণের ক্ষেতে গড়া হবে অত্যাচারীর মহাশ্মশান।
তোলপাড় তুলুক তোলপাড় কথা ও কণ্ঠ - কবি কর্ণ সেন (জন্মদিন অজ্ঞাত - ২৯.১০.২০১৩), সুর ও কণ্ঠ -
অনুপ মুখোপাধ্যায়। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ
সংকলন থেকে। গানটি নীচে ক্লিক করে সাউণ্ডক্লাউডে শুনুন সৌজন্যে Sankar Kusari Soundcloud Channel.
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
তোলপাড় তুলুক তোলপাড় – ( ৩ )
মানব জীবনে তোলপাড় তুলুক তোলপাড়
চিন্তায় চেতনায় ধারণায় মননে
( জীবনে ) তোলপাড় তুলুক তোলপাড়॥
. তোলপাড় তুলুক তোলপাড়॥
আমাদের বুকের ভেতরে ওঠে ঢেউ
বাসনার সাতরঙা ফেনাভাঙা ঢেউ
কতদিন যে আর বলো নতমুখে বাঁচা যায়
কতকাল যে স্বপ্নের মৃত্যু ঘটবে আর !
( চেতনে ) তোলপাড় তুলুক তোলপাড়
. তোলপাড় তুলুক তোলপাড়॥
এসো তাই—
একসাথে বন্যার বেগে ধাই
যাই—
সময়ের বাধা যাই ডিঙিয়ে
যাবে—
লজ্জার দিনগুলো ধুয়ে যাবে মুছে যাবে
ডাকবেই—
জীবনের মরাগাঙে ডাকবে জোয়ার
. তোলপাড় তুলুক তোলপাড়॥
বাংলার দুর্জয় জনতা কথা ও সুর - কবি আবিদুর রহমান (জন্মকাল অজ্ঞাত)। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি
সৌজন্যে eladey1949 YouTube Channel. বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মনে রেখে বেশ কিছু গান
বাণিজ্যিক রেকর্ডে প্রকাশিত হয় এপার বাংলা থেকে। এই গানটি সেই গানের একটি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
সাত কোটি ধমনীতে রক্ত টগবগ টগবগ ফুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার ইতিহাস রক্তের ইতিহাস
বাংলার ইতিহাস রক্তের ইতিহাস
রক্তের অক্ষরে তাইতো কি ঘরে ঘরে
জীবনের প্রতিলিপি উঠছে
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
পশ্চিমা হানাদার
বাংলার গ্রামে আর শহরেতে বসিয়েছে
হত্যার যজ্ঞ
পশ্চিমা হানাদার
বাংলার গ্রামে আর শহরেতে বসিয়েছে
হত্যার যজ্ঞ পথ ঘাট পুকুরের পাড়ে আর
কুকুরের শিয়ালের ভোজ মৃত মানুষের বক্ষ
কুকুরের শিয়ালের ভোজ মৃত মানুষের বক্ষ
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
দয়া মায়া কিছু নেই পিশাচের দলে
দয়া মায়া কিছু নেই পিশাচের দলে
বাংলার ঘরে ঘরে ঢুকে ঢুকে জোর করে
লাখ লাখ মা বোনের ইজ্জৎ লুটছে
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
সাত কোটি ধমনীতে রক্ত টগবগ টগবগ ফুটছে
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে
বাংলার দুর্জয় জনতা মুজিবের মন্ত্রের দীক্ষায়
ঝঞ্জার বেগে আজ ছুটছে ছুটছে
হরিণের মতো তার সুমধুর চোখ দুটি কথা ও সুর - কবি আবিদুর রহমান (জন্মকাল অজ্ঞাত)। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের
কণ্ঠে গানটি শুনুন ভিডিওতে। ভিডিওটি সৌজন্যে eladey1949 YouTube Channel. বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২
সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মনে রেখে বেশ কিছু গান বাণিজ্যিক রেকর্ডে প্রকাশিত হয় এপার বাংলা থেকে। এই গানটি সেই গানের একটি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
হরিণের মতো তার সুমধুর চোখ দুটিকে মেলে
হেসে খেলে নেচে গেয়ে সারা পাড়া চষে খেয়ে
বেড়াতো যে চপলা সবলা মেয়ে
কেন সে বাঁধে না আজ লো চুল
কেন সে গোঁজে না খোঁপায় ফুল
কেন সে বোবার মতো চেয়ে থাকে
বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
কেন লোকালয়ে আসে না সে আর
লজ্জায় রাঙা মুখখানি তার
লোকের আভাস পেলেই
কেন সে লুকিয়ে ফেলে
লোকের আভাস পেলেই
কেন সে লুকিয়ে ফেলে
কেউ বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
হরিণের মতো তার সুমধুর চোখ দুটি মেলে
হেসে খেলে নেচে গেয়ে সারা পাড়া চষে খেয়ে
বেড়াতো যে চপলা সবলা মেয়ে
কেন সে বাঁধে না আজ লো চুল
কেন সে গোঁজে না খোঁপায় ফুল
কেন সে বোবার মতো চেয়ে থাকে
বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
একদিন এ মেয়ের জীবনে হঠাৎ
নেমে এলো এক কালো রাত
বর্বর মিলিটারি পশু এসে হিংস্র থাবায়
লুঠ করে নিয়ে গেল
তার জীবনের সব গৌরব আর সম্পদ হায়
কত আশা ছিলো এ জীবনে তার
কাউকে সে ভালোবেসে বাঁধবে যে ঘর শেষে
কাউকে সে ভালোবেসে বাঁধবে যে ঘর শেষে
কেন স্বপ্ন সাধ তার ভেঙে হলো চূরমার
কেউ বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
কেউ বলতে পারো কি?
বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে কবি আবিদুর রহমান (জন্মকাল অজ্ঞাত)। সুর - সুধীন দাশগুপ্ত। শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি শুনুন
ভিডিওতে। গানটি ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২ তারিখে আকাশ বাণী কলকাতা থেকে প্রচারিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে উৎপল চক্রবর্ত্তী YouTube
Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ উৎপল চক্রবর্ত্তী YouTube Channel. এর কাছে যেখান থেকে আমরা গানের কথাও পেয়েছি।
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি আন্দামানের সেলুলার জেলের, যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা প্রতিবাদেরও প্রতীক!
|
|
|
বঙ্গবন্ধু,
ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন
বাংলায়, তুমি আজ
ঘরে ঘরে এত খুশী তাই
কি ভালো তোমাকে বাসি আমরা
বলো কি করে বোঝাই।
এদেশ কে বলো তুমি
বলো কেন এত ভালবাসলে
সাত কোটি মানুষের হৃদয়ের
এত কাছে কেন আসলে।
এমন আপন আজ বাংলার
তুমি ছাড়া কেউ আর নাই
বলো কি করে বোঝাই।
সারাটা জীবন তুমি
নিজে শুধু জেলে জেলে থাকলে
আর তব স্বপ্নের সুখি এক বাংলার
ছবি শুধু আঁকলে।
তোমার নিজের সুখ সম্ভার
কিছু আর দেখলে না তাই,
বলো কি করে বোঝাই।
বঙ্গবন্ধু,
ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন
বাংলায়, তুমি আজ
ঘরে ঘরে এত খুশী তাই
কি ভালো তোমাকে বাসি আমরা
বলো কি করে বোঝাই।