.
.
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকা
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে ও কবিতাগুলি উপর-নীচ স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways < Left - Right >. Poems scroll ^ Up - Down v.
.            প্রতিবাদী
.        কবিতার
.    আগের
পাতায় যেতে
.    এখানে.
.
        ক্লিক
.               করুন
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
কবীর সুমন (২২)
গৌতম চট্টোপাধ্যায় (৫)
ওয়াজেদ আলি (১১)
নমিতা চৌধুরী (২)
পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল (১)
তিমিরবরণ সিংহ (২)
নয়নতারা ধারা (২)
অসীম ভট্টাচার্য (৫)
ব্রজলাল অধিকারী (২)
প্রণব কুমার ভৌমিক (১)
মহম্মদ বসীরউদ্দিন (১)
কল্যাণ সেন বরাট (১)
শুভ দাশগুপ্ত (৪)
অলোকরঞ্জন বসুচৌধুরী (২)
অলোক সেন (১)
অনুপ মুখোপাধ্যায় (৫)
ডলি মিদ্যা (২)
সাধন গুহ (২)
সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
অঞ্জন দত্ত (১২)
অমর ভট্টাচার্য (৩)
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (৭)
রতনতনু ঘাটী (১)
নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (৬)
অশোক চট্টোপাধ্যায় (১১)
স্বপ্না ঘোষ (৪)
জোহরা উম্মে হাসান (১)
শালবল্লার বেড়ায় আগুন বিরোধী নিশান ওড়া
“ল্যাজে যদি তোর লেগেছে আগুন স্বর্ণলঙ্কা পোড়া।”

ফসলের গান গেয়েছিল যারা সাম্যের ধ্বজা ধরে
তারাই এখন পোড়ায় ফসল পুঁজির দালালি করে
ভেবেছিল ওরা পার পেয়ে যাবে বাংলা আগাগোড়া
“ল্যাজে যদি তোর লেগেছে আগুন স্বর্ণলঙ্কা পোড়া।”

লাঙ্গল যাদের জমিও তাদের ওরাই বলত আগে
এখন ওদের তেষ্টা মিটতে চাষির রক্ত লাগে
জাগো বিদ্রোহ ছোটো প্রতিশোধ কামনার ক্ষ্যাপা ঘোড়া
“ল্যাজে যদি তোর লেগেছে আগুন স্বর্ণলঙ্কা পোড়া।”

কাজী নজরুল তোমার বাক্য ধার ক'রে আমি গাই
গণজাগরণ দেখে আজ আমি এই গান বেঁধে যাই
স্মৃতিতে এখনও তোমার কথাই প্রতিবাদী সুরে মোড়া
“ল্যাজে যদি তোর লেগেছে আগুন স্বর্ণলঙ্কা পোড়া।”
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাজী নজরুল ইসলামের জন্য (শালবল্লার বেড়ায় আগুন)
কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলা কালীন এই কবিতাটি ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ এর দৈনিক
স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা। গানের ভিডিওটি সৌজন্যে
Kabir Suman - Topic YouTube Channel.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার
আগের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওরা ফলান, ওরা জানেন।
কত ধানে কত চাল হয়
ওরা জানেন, ওরা জানেন।

ওরা রোদ্দুরে পুড়ে তামা।
ওরা বৃষ্টিতে ভিজে মাটি।
ওরা জ্বলতে জ্বলতে ঝামা।
খাওয়ান ফসল খাঁটি।

ওরা আসছেন দলে দলে।
ওরা একজোট হয়ে ডাকছেন।
কোন শস্য কোথায় ফলে
ওরা শস্যের দিকে থাকছেন।

তুমি বল তুমি কোন দিকে
কৃষক না সরকার।
মাটি তাকিয়ে তোমার দিকে
আজ তোমাকেও দরকার।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওরা ফলান, ওরা জানেন কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা ১.১২.২০২০। গানটি
মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায় তোলা হয় ১২.১২.২০২০ তারিখে। গানটি শুনে লেখা।
ভিডিওটি সৌজন্যে
MILANSAGARwebsite YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ঐ দেখো ঐ টাটার গাড়ি
ফলবে ক্ষেতে ধানের মত
দাও না বেচে চাষের জমি
চাষ করে আর মরবে কত।

এ-যুগ হল লগ্নি করার
তোমার টাকা টাটার টাকা
মাঝখানে এই আমরা আছি
ঘোরাই অর্থনীতির চাকা।

কিসের অত আপত্তি হে
কিসের অত কান্নাকাটি
মাটি তোমায় কি আর দিল
টাটাই সোনার পাথরবাটি।

ধান বুনে আর পাট বুনে আর
আলুর চাষে বেগার খেটে
সেই তো চাষা থেকেই গেলে
অন্ন বেকার তোমার পেটে।

পেট দেখো এই আমার কেমন
সব খেতে চাই বুঝলে বাবা
তোমার জমি বাগিয়ে নেবে
আমার উন্নয়নের থাবা।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
টাটার গাড়ি কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলা কালীন রচিত গান। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের
কবিতা।
.
তোমার ছেলের চাকরি হবে
ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বাড়ি
দারোয়ানের চাকরিটাও তো
দিচ্ছে টাটার মোটর গাড়ি।

তোমার মেয়ের পয়সা হবে
ফ্যাশনপ্যারেড ramp-এ হেঁটে
পত্রিকাতে ছাপবে ছবি
মিথ্যেমিথ্যি মরছ খেটে।

বিক্রী করো চাষের জমি
বিক্রী করো তোমার মাটি
লগ্নি করো বেচার টাকা
লগ্নি করো দুধের বাটি।

দুধের গরু পুষবে কেন
পুষতে হলে লগ্নি পোষো
দোল খেয়ে যাও আমার তালে
সঙ্গে বুড়ো আঙ্গুল চোষো।

চোষার জন্য ওটাই ভাল
লাভ কি চুষে জমির মধু
ক্যাসেট কিনে শুনবে না হয়
বস্তাপচা "গাঁয়ের বধু"।
তারও ছিল স্বপ্ন কিছু
"ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা"
দুর্ভিক্ষের খিদের চোটে
হজম হল স্বপ্ন ফাঁকা।

সে-গান ছিল প্রগতিশীল
কোন কালে তা কেই বা জানে
মওকা বুঝে উস্কানি দেয়
কবীর সুমন নতুন গানে |

এ-গান যেন কেউ না শোনে
লোকটা বড়ই বে-আক্কেলে
লগ্নি তে আজ স্বপ্ন বোনে
দেশের কত লক্ষ্মী ছেলে।

লক্ষ্মী ছেলে লক্ষ্মী মেয়ে
টাটার মোটর গাড়ির দামে
বিক্রী হবে একটু পরেই
সবই উন্নয়নের নামে।

শিল্প মানে নতুন চাকরি
বুঝতে চায় না চাষির ব্যাটা
মিছিল করে যাচ্ছে নিয়ে
হাতের মুঠোয় খ্যাংরা ঝ্যাঁটা।
গাঁয়ের বধুর খামখেয়ালে
আটকাবে কি লগ্নি শেষে
বৃথাই আমরা রাজ্য পেলাম
"শিব ঠাকুরের আপন দেশে"।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সাবাস পুলিশ সাবাস হাজারবার
দুই বছরের বাচ্চাও গ্রেপ্তার

সেও তো মারল আধলা কিংবা
  ছুড়লো একটা ঢিল
সেও তো ভীষণ জঙ্গি বোধ হয়
  কাশ্মীরি কার্গিল।
সেও তো বেজায় মাওবাদী আর
  আল কায়দার চর,
সেও বেওয়ারিশ গুণ্ডা
  ভাঙল গণতন্ত্রের ঘর।

সেও পুলিশের নবমস্বভাব
  বুঝতে চায় না কেন?
মায়ের কোলের বিচ্ছুটা দেখ
  বেয়াড়া জঙ্গি যেন।
আঁচলটাকেই আঁকড়ে ধরলো
  একা বিলকুল একা
উর্দিধারীরা ধর বন্দুক
  সিঙ্গুরে হবে দেখা।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সাবাস পুলিশ সাবাস হাজারবার কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর আন্দোলন চলা কালীন শিশু
পায়েল বাগকেও, মায়ের সাথে গ্রেফ্তার করা নিয়ে এই গানটি "নন্দীগ্রাম" নামক গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়। এই কবিতাটি ১০
ডিসেম্বর ২০০৭ এর দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aditya Azad YouTube Channel.
.
আবাদি জমিতে কারখানা হবে
 চারফসলিতে গাড়ি,
বেচে দাও খেত, বেচো নবান্ন
 বেচে দাও তাড়াতাড়ি।
অনথিভুক্ত বর্গাদারেরা
 ভিক্ষে করেই বাঁচো
খেত মজুরেরা নাচতে শেখোনি
 এসো রক শুনে নাচো
সাবাস পুলিশ সাবাস হাজারবার
দুই বছরের বাচ্চাও গ্রেপ্তার।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওরা শানাচ্ছে অস্ত্র
আরও খুন হবে আরও
বাঁচতে চাও তো শাসকদলকে ভোটেই না হয় মারো।
একজোট হও বন্ধু
একজোট থাকো সব
বিরোধী জোটের জোরেই ওদের পরাজয় সম্ভব।
ওরা শানাচ্ছে মিথ্যে
আরও মিথ্যের ঝাঁক
তারই ফাঁকে ফাঁকে শুনছি সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের ডাক।
ওরা পাকাচ্ছে দল
ওদের হাতেই টাকা
ওদের কাদায় আটকে গিয়েছে ওদের রথের চাকা।
ওরা জানে কৌশল
ওরা জানে অভিসন্ধি
তিরিশ বছর জারিজুরি আজ সবার নজরবন্দী।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওরা শানাচ্ছে অস্ত্র কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলা কালীন এই কবিতাটি
"নন্দীগ্রাম" নামক গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aditya Azad YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ঐতো তিনি আশির বেশি       
ভাবনায় নাচে দেহের পেশী
নটরাজ আজ কলম খোঁজেন    
মহাশ্বেতাই লড়াই বোঝেন।

নাচছে জীবন নাচছে প্রলয়       
নাচে প্রতিরোধ, এই তো সময়
ডাকে মুহূর্ত ব্যারিকেড আয়     
জমির লড়াই সকলকে চায়।

তোমাকে চাইছে আমাকেও চাই
জমির কসম এসো গান গাই
সিঙ্গুর ভাঙ্গর নন্দীগ্রামে           
প্রতিরোধ চলে জমির নামে।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ঐতো তিনি আশির বেশি কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলন চলা
কালীন এই কবিতাটি ১৯ জানুয়ারী ২০০৭ এর দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি "নন্দীগ্রাম" নামক
গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aditya Azad YouTube Channel.
.
এমন সময় আসবে না আর      
ডাক আসে শোনো মহাশ্বেতার
কী আর পেরেছি তাপসী মালিক
তুমি বাংলার দোয়েল শালিক।

পাখির কসম, কসম লড়াই        
ডানা ঝাপটায় ছোট্ট চড়াই
বলছে --- আসুন মেধা পাটেকার
আপনাকে চায় আমার গিটার।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নন্দীগ্রামের পর সক্কলে ভালোই তো আছি
প্রগতিশীলেরা খেলে সংস্কৃতির কানামাছি।
গণহত্যার পর অনেকেই ভালোই তো থাকে
নপুংসকের ঝাঁক ছুটে যায় দালালের ডাকে।
ধর্ষণে সই দাও সব সরকারী ক্রীতদাস
নন্দীগ্রামের মাটি মনে রেখো এই সন্ত্রাস।
শিশুহত্যার দায় নন্দনে ফোয়ারার কলে
ঘাতকরা হাত ধোয় বাম অনুদানে পাওয়া জলে।
সংবাদ বৈঠকে বেনিয়ার হয়ে ওকালতি
কয়েকশো খুন হলে দালালের নেই কোনো ক্ষতি।
সরকারী আবাসনে আরো ফ্ল্যাট জুটে যাবে দেখো
নন্দীগ্রামের পর সব মনে রেখো মনে রেখো।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নন্দীগ্রামের পর (নন্দীগ্রামের পর সক্কলে ভালোই তো আছি)
কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ১৪ই মার্চ ২০০৭ এর গণহত্যার পর রচিত গান। আন্দোলন
চলা কালীন এই গানটি "নন্দীগ্রাম" নামক গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aditya Azad YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এখনও তাহলে হারায় নি প্রতিবাদ
এখনও তাহলে বেঁচে আছে প্রতিরোধ
সংহতি দিল দূর করে অবসাদ
শুরু হল তবে এ যুগের শোধবোধ।

কাস্তে ধানের অঙ্গিকারই আজও
মাটির সুজন মানুষরা দেয় ডাক
বাজো হৃদয়ের ধুক পুক জোরে বাজো
তাপসী মালিক এই গানে বেঁচে থাক।

কেমন ছিল সে মেয়েটা পোড়ার আগে
কারা মেরেছিল তাকে মেরেছিল কেন
গিটার আমার গর গর করে রাগে
দাবানল হতে চাইছে হৃদয় যেন।

এখানে হাজার ওখানে হাজার বারো
আর কোনওখানে তেইশ হাজার নেবে
সরকার তুমি একর কাড়তে পারো
প্রতিরোধ তুলে মানুষ জবাব দেবে।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এখনও তাহলে হারায় নি প্রতিবাদ (বেঁচে থাক) কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। সিঙ্গুর ও
নন্দীগ্রামের আন্দোলন চলা কালীন এই কবিতাটি ১১ জানুয়ারী ২০০৭ এর দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
কবিতাটি "কবীর সুমন - প্রতিরোধ" নামক গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Aditya Azad YouTube Channel.
.
জবাব দিচ্ছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম
শাঁখের আওয়াজ আজানে যাচ্ছে মিশে
ব্যারিকেড তোলে বিশু আর আসলাম
শাসক তোমার লালসা মিটবে কিসে।

দ্যাখো বন্ধুরা গাঁয়ের মেয়েরা আসে
হাতে আঁশবটি বুকে শপথের ডাক
মেয়েরা কিন্তু লড়তেও ভালোবাসে
ওদের লড়াই এই গানে বেঁচে থাক॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নন্দীগ্রামে শিশুর ধড়
পড় শিল্পের নমতা পড়
কার ছেলে কার মেয়ের লাস
বামের রাজ্যে স্বর্গবাস।
তোর বাবা বুঝি ক্ষেত মজুর
কাকে বলল না "জি হুজুর"।
তুই কি বলবি এবার বল
ধান ক্ষেতে গড়ি শিল্প চল।
দুহাজার সাত ১৪ মার্চ
শাতক দলের পিশাচ নাচ
গন ধর্ষণে সিদ্ধ কাম
হায় মার্ক্স, দেখ, এরাও বাম।
নন্দীগ্রামের কোনখানে
সভ্যতা শেষ একটানে
তবু প্রতিরোধে একটি নাম
নন্দীগ্রাম নন্দীগ্রাম।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শিশুর ধড় কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। কবিতাটি " নন্দীগ্রাম" নামক গানের সি.ডি.তে প্রকাশিত হয়।
ভিডিওটি সৌজন্যে
Cozmik Harmony YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রাত কত হল
পুলিশ পাঠাবে সরকার
বেয়াদপ ছেলে মেয়ে শায়েস্তা করা দরকার॥
আলোচনা নয় কোন
নয় স্নেহ নয় পিঠে হাত
কি চাও আমায় বল, কথা বলি এসো সারারাত॥
উপায় বেরুবে ঠিক
শিক্ষক বাবা-মার মত
বড়সড় পরিবার ঝগড়া করবে আর কত !
সে পথে গেল না কেউ
এতটুকু ভালোবাসা নিয়ে
ব্যবস্থা নেয়া হল মাঝরাতে পুলিশ পাঠিয়ে॥
এ বুড়ো যাদবপুরী
ওখানে আমার যৌবন
শঙ্খ আলোক রঞ্জনের যা ছিল তপোবন॥
আমি নই প্রতিবাদী
ওসব করেছি ঢের আগে
এখন বাপের মন ভয়ে ভয়ে শুধু রাত জাগে॥
এ রাত রাজ্যজোড়া
নিকস রাতের রাজধানী
ছেলে মেয়েরাই হোক এই রাতে আলো সন্ধানী॥
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রাত কত হল কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। ২৮শে অগাস্ট ২০১৪ তারিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক
ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়। নিগৃহীতা ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে, উপাচার্য মহাশয়ের
দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও কর্তাভজা মনোভাবের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ-অবস্থানে নামেন, যা “হোক কলরব” আন্দোলন নামে
খ্যাতি লাভ করে। সেই আন্দেলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত এই কবিতাটি, সেই সময়ে মিলনসাগরের হোক কলরবের দেয়ালিকায়
তোলা হয়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sumanami UK YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমি চাই সাঁওতাল তার ভাষায় বলবে রাষ্ট্রপুঞ্জে
আমি চাই মহুল ফুটবে সৌখিনতার গোলাপ কুঞ্জে।
আমি চাই নেপালি ছেলেটা গিটার হাতে
আমি চাই তার ভাষাতেই গাইতে আসবে কলকাতাতে।
আমি চাই ঝাড়খণ্ডের তীর ধনুকে
আমি চাই ঝুমুর বাজবে ঝুমুর বাজবে তোমার বুকে।
আমি চাই কাশ্মীরে আর শুনবে না কেউ গুলির শব্দ
আমি চাই মানুষের হাতে রাজনীতি হবে ভীষণ জব্দ।
আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ
আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু,
আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ
আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু।
আমি চাই গাছ কাটা হলে শোক সভা হবে বিধান সভায়
আমি চাই প্রতিবাদ হবে রক্ত পলাশে রক্ত জবায়।
আমি চাই পুকুর বাঁচালে আকাশ ভাসবে চোখের জ্বলে
আমি চাই সব্বাই জানও দিন বদলের পদ্য বলে।
আমি চাই মন্ত্রীরা প্রেম করুন সকলে নিয়ম করে
আমি চাই বক্তৃতা নয় কবিতা বলুন কণ্ঠ ভরে।
যদি বল চাইছি নেহাত…যদি বল চাইছি নেহাত চাইছি নেহাত স্বর্গ রাজ্য
আমি চাই একদিন হবে একদিন হবে এটাই গ্রাহ্য॥
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমি চাই কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে আমরা
এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি সৌজন্যে K.N.I YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একদিন দেশ বদলা নেবেই
সব অপমান অত্যাচার
ইতিহাস তোকে ল্যাংটো করবেই
হিন্দুত্বর চৌকিদার

একদিন দেশ বদলা নেবেই
সব অপমান অত্যাচার
ইতিহাস তোকে ল্যাংটো করবেই
হিন্দুত্বর চৌকিদার

আমি মুসলিম আমি খৃষ্টান
আমি নাস্তিক তুই কে রে?
কটা হিন্দুর এজমালি তোর
আম জনতার ভাত মেরে

তুই কি ভাবলি সব হিন্দুই
রাম হনুমান জিম্মাদার (?)
হিন্দুত্বর গরু পেচ্ছাপ
না বাঙালীর না বাংলার

ক হাজার চাষী খুন হলো তোর
গরু জমানার পাঁচ সালে
বিজেপি বিরোধী কজন লেখক
খুন হলো তোর দিনকালে
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একদিন দেশ বদলা নেবেই
কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২০১৯। ভিডিওটি সৌজন্যে Art O Vision YouTube Channel.
.
তোরা কি ভাবলি বেঁচে যাবি তোরা
তোদের বাঁচাবে গোপের ছাপ
ওই দেখ দেখ চিতা সাজাচ্ছে
তোদেরই কীর্তি তোদেরই পাপ

তোরা কি ভাবলি বেঁচে যাবি তোরা
তোদের পাছাতে গোপের ছাপ
ওই দেখ দেখ চিতা সাজাচ্ছে
তোদেরই কীর্তি তোদেরই পাপ

একদিন দেশ বদলা নেবেই
সব অপমান অত্যাচার
ইতিহাস তোকে ল্যাংটো করবেই
হিন্দুত্বর চৌকিদার
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গায়ে মাখবে গোবর, মাথায় গরুর হিসি
RSS-এর মতে এটাই হিন্দু এবং দেশি॥
চাকরি ছেড়ে দাও মেয়েরা বাচ্চা মানুষ করো
হিন্দু রাষ্ট্র ঐতো এলো একটু ধৈর্য ধরো॥

Co education থাকবে না আর হিন্দুত্বর বারণ
একসাথে পাঠ দুশ্চরিত্র হবার আসল কারন॥
Co education থাকবে না আর হিন্দুত্বর বারণ
একসাথে পাঠ
Sexually নষ্ট হবার কারন॥

গায়ে মাখবে গোবর, মাথায় গরুর হিসি
RSS-এর মতে এটাই হিন্দু এবং দেশি।

ছেলেদের স্কুল এইখানে তো মেয়েদের স্কুল দূরে
হিন্দুত্বয় পৌঁছানো চাই অনেক ঘুরে ঘুরে॥

মুসলমানের ঠাই হবে না বিজেপিদের দেশে
শূদ্র ভাগ্যে উচ্ছিষ্টই জুটবে সবার শেষে।
‘জাতপাতেই তো ফেরা উচিৎ’ মনে করেন যারা,
আমরা যদি একজোট হই বিদেয় হবেন তাঁরা…
‘জাতপাতেই তো ফেরা উচিৎ’ মনে করেন যারা,
আমারা যদি একজোট হই নিকেশ হবেন তাঁরা।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আর এস এস কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২৩.১২.২০১৪। আমরা কৃতজ্ঞ
সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে এখানে
ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sumanami UK YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কোথায় গণ কোথায় তন্ত্র
বোকার স্বর্গে বাস
অন্য শিক্ষা দিচ্ছে আমায়
লালমোহনের লাশ, লালমোহনের লাশ।

আইন পাবে খুন করাতে
আইনই হয় খুনি
মন্ত্রী পাঠান বরকন্দাজ
গুলির আওয়াজ শুনি
সেই আওয়াজে কাঁদছে বাতাস
কাঁদছে বাবুই ঘাস
লালগড়ে লাল পলাশ দেখছে
লালমোহনের লাশ, লালমোহনের লাশ।

ক’টা বুলেট খরচ হল
ক’বার টানলে ঘোড়া
আদিবাসীর কান্না এখন
গুমরোয় এদেশ জোড়া
গুমরে কাঁদে স্বদেশ আমার
গোঙায় দীর্ঘশ্বাস
বিশ্বাসে আজ সামিল হচ্ছে
লালমোহনের লাশ, লালমোহনের লাশ।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লালমোহনের লাশ কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে
আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। লালগড়ের পুলিশী সন্ত্রাস বিরোধী জনগণের কমিটির
নেতা লালমোহন টুডুকে সিআরপিএফ ও পুলিশ সন্ধ্যাবেলা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পাশের জঙ্গলে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়।
মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের সন্ধ্যায় তিনি লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। সরকার জানায় গুলি বিনিময়ে মৃত্যু। পরিবার
বা গ্রামবাসীদের হাতে তাঁর মৃতদেহ দেওয়া হয়নি। ভিডিওটি সৌজন্যে
Tridibesh Barman YouTube Channel.
.
কেমন আছিস বল সমকাল
কেমন দিনে রাতে
লালগড়ে আর বান্তেয়ারায়
নেই কি পাঁচে সাতে
কোন মতবাদ আঁকরে এখন
মুখ লুকোতে চাস
তোরই মুখে দেখতে পাচ্ছি
লালমোহনের লাশ, লালমোহনের লাশ।

কোথায় গণ কোথায় তন্ত্র
বোকার স্বর্গে বাস
অন্য শিক্ষা দিচ্ছে আমায়
লালমোহনের লাশ, লালমোহনের লাশ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভারত হল আইন বোঝা দেশ
বাংলা হল তার মরূদ্যান
কে আর শোনে সময় হলে শেষ
রিজওয়ানুর রাহমানের গান।

তিরিশ হল যৌবনের দিন
চোরের মত লাল বাজারে এসো
বুঝতে হবে ধিনাক-তিনা-তিন
তাল ধরেছে আইন রক্ষী মেসো

বুঝতে হবে মরূদ্যানে আছে
জমাট বাঁধা আইন শৃঙ্খলা
বুঝতে হবে দলের কলা গাছে
জন্মাবে না মর্তমান কলা

মর্তমানে বর্তমানে আছি
কলাই বল ছলাই বল সোনা
নিয়ম মেনে খেলবো কানামাছি
মরূদ্যানে রক্ত আলপনা
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আইন বোঝা দেশ কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে
আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। কলকাতায় রিজওয়ানুর রহমানের রহস্যময়
মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে লেখা গান। তদানীন্তন সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দল এই বিষয়টিকেও ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসে।
আরও অনেক রাজনৈতিক ইস্যুর মতো এই ঘটনাটিও তিমিরাবৃতই রয়ে গেছে। ক্ষমতা বদল হবার পর, রিজওয়ানুর রহমানের
স্ত্রীর টোডী পরিবার, শাসকদলের নৈকট্য লাভ করে। এই কবি, এই ইস্যুকে সামনে রেখে ক্ষমতা দখল করা শাসকদলের সাংসদ
নির্বাচিত হন এবং তাঁদের দ্বারা বঙ্গবিভূষণে ভূষিত হন ২০১৫ সালে। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sumanami UK YouTube Channel.
.
রক্তপাত একটু হয় হোক
কালের গতি ঢাকবে সব দাগ
সব খবর ভুলেই যাবে লোক
ঢাকতে মাছ রাজনীতির শাক।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পার বাংলা এপার বাংলা
মাঝখানে কাঁটাতার
গুলি খেয়ে ঝুলে থাকলে ফেলানি
বলো তো দোষটা কার।

কেউ দোষী নয় ফেলানি খাতুন
বি এস এফ জানে ঠিক
পথ ভুল করে নিয়েছিল গুলি
হঠাৎ তোমার দিক।

বেকসুর ছুটি পেয়েছে সেপাই
খুনীরা যেমন পায়
ভেবে দেখো মেয়ে ওই খুনীটাও
বাংলায় গান গায়।

তুমিও গাইতে গুনগুন করে
হয়তো সন্ধে হলে
তোমারই মতন সেই সুরগুলো
কাঁটাতার থেকে ঝোলে।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফেলানি খাতুন কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের থেকে আমরা
এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ৭.১.২০১১ তারিখে ফেলানি খাতুন নামের পঞ্চদশীকে,
জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া পার হবার সময়ে গুলি করে হত্যা করে এক বাঙালী
ভারতীয় সৈনিক। বিচারে সে বেকসুর খালাস পায়। ভিডিওটি সৌজন্যে
Kabir SumanOnLine YouTube Channel.
.
শোনো বি এস এফ শোনো হে ভারত
কাঁটাতারে গুনগুন
একটা দোয়েল বসেছে যেখানে
ফেলানি হয়েছে খুন।

রাইফেল তাক করো হে রক্ষী
দোয়েলেরও ভিসা নেই
তোমার গুলিতে বাংলার পাখি
কাঁটাতারে ঝুলবেই।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওই তো মানুষ ধর্মের কথা বলছে
আগুনে তিনটি মানুষের দেহ জ্বলছে
কেওনঝাড়ের আদিবাসীদের গ্রামে
বজরংদল মানুষ পোড়াতে নামে

ওই তো কেমন ধর্মের ধ্বজা ওড়ে
আগুনে তিনটি মানুষের দেহ পোড়ে
বাপের সঙ্গে দুই নাবালক ছেলে
বজরংদল দিয়েছে আগুন জ্বেলে

ওই তো কেমন ধর্মের ভগ্নাংশ
গন্ধ ছড়ায় মানুষের পোড়া মাংশ
পুড়ছে ছেলেরা পুড়ছে তাদের বাপ
ধর্ম নিচ্ছে বিধর্মীদের মাপ

ওই তো কেমন ধর্মের খাঁটি দর্শন
সহজেই হয় ধর্ম-যাচিকা ধর্ষণ
কে ছিল হিন্দু কে হলো খৃষ্টান
কে হলো বৌদ্ধ কে হলো মুসলমান

ওই তো কেমন ঘৃণার ঘৃণ্য আইন
শহীজ হলেন গ্রাহাম স্ট্যুয়ার্ড স্টাইনস
থেকেছেন তিনি কুষ্ঠ রোগীর পাশে
তার ধর্মটা মানুষকে ভালোবাসে
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওই তো মানুষ ধর্মের কথা বলছে কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। ফাদার গ্রাহাম স্ট্যুয়ার্ড স্টাইনস ও
তাঁর দুই নাবালক পুত্রের হত্যার প্রতিবাদ ১৯৯৯। রচনা ১৯৯৯। ভিডিওটি সৌজন্যে
Kabir Suman - Topic YouTube Channel.
.
আমার ধর্ম তোমায় জানিয়ে যাই
গানে দিব্যি আমি প্রোতিশোধ চাই
আমার বোধের হাতিয়ারে শান দিয়ে
লড়েছি আমিও তোমার সঙ্গে নিয়ে
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কেউ দিতে চায় আছাড় কেউ দিতে চায় মাড়িয়ে
লক্ষ মাটির দুঃখ নিয়ে ছত্রধরই দাঁড়িয়ে
ছত্রধর

গাজন দিল ইজ্জত গাজন দিল প্রাণ
আর কিছু নয় বাজছে সময় ছত্রধরের গান
ছত্রধর

বন্দুক আর বুলেট সেপাই দলে দলে
অন্যদিকে বিরসা জাগেন জংগলে জংগলে
জল নেই কোত্থাও বুটের নীচে ঘাস
উন্নয়নের টাকায় চলছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

রাষ্ট্র মানে লেফ্ট রাষ্ট্র মানে রাইট
কুচকাওয়াজের তলায় আছে কালের ডায়নামাইট
বেবাক ধর-পাকড় চলুক আরও তবে
বিরসার ভুত সময়মতো বিস্ফোরণই হবে

মরবো আমি জানি কাছেই গোরোস্থান
মরার আগে গাইছি আমি ছত্রধরের গান
ছত্রধর
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ছত্রধরের গান
কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। ছত্রধর মাহাতোকে নিয়ে গান। ভিডিওটি সৌজন্যে BiscopeDemocracy YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রাষ্ট্র মানেই
কাঁটাতারে ঘেরা সীমান্ত
রাষ্ট্র মানেই
পাসপোর্ট নিয়ে উমেদারি
রাষ্ট্র মানেই
ম্যাপে বাঁধা আমার দিগন্ত
রাষ্ট্র মানেই
সবকিছু দারুণ সরকারি।

রাষ্ট্র মানেই
জন্মেই নাগরিক
তারপরে করণিক
মধ্যবিত্ত সুখদুঃখ,

রাষ্ট্র মানেই
পরীক্ষা দেওয়া
তারপরে মেওয়া
ফলার ফলশ্রুতি সূক্ষ্ণ।

রাষ্ট্র মানেই
নেতাদের মুখ
আহা বড়ো সুখ
তাঁদের প্রসাদবাণী পেয়ে,
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রাষ্ট্র কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২৩.১২.২০১৪। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে যাঁদের
থেকে আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
রাষ্ট্র মানেই
সম্পাদকীয়
বেশি করণীয়
আমাদের ধারণার চেয়ে।

রাষ্ট্র মানেই
লোকসভা নিয়ে
হামাগুড়ি দিয়ে
রাষ্ট্রীয় প্রগতির মজা,

রাষ্ট্র মানেই
প্রচার অভিযান
মুশকিল আছান
পলিটিক্সের জিভেগজা।

রাষ্ট্র মানেই
রেশনের লাইন
শৃঙ্খলা আইন
যে করেই হোক ধরে রাখা,

রাষ্ট্র মানেই
অষুধে ভেজাল
রোজ নাজেহাল
হয়েও নাভিতে তেল মাখা।
রাষ্ট্র মানেই
চাপা প্রতিবাদ
এ বাদ ও বাদ
কার বাদে কে বড়ো বিবাদী,

রাষ্ট্র মানেই
মেনে নাও সব
হে জরদগব
নাগরিক হও আশাবাদী।

রাষ্ট্র মানেই
শিল্প এলাকা
শুধু রুটি সেঁকা
শ্রমিকের যুবতী ঘরনী,

রাষ্ট্র মানেই
আধপেটে থাকা
জমি বাঁধা রাখা
কৃষকের হারানো ধরণী।

রাষ্ট্র মানেই
বড়ো বড়ো কথা
শুধু নীরবতা
জমে থাকা বুকের মাঝেতে,
রাষ্ট্র মানেই
একলা মানুষ
বেচারা মানুষ
পরবাসী নিজের ঘরেতে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাংলার ধনুকের ছিলায় ছিলায় যত টান
তীরের ফলায় তবু বিষ নয় লালনের গান
সে-গানে বিদ্ধ বুক রক্তে অশ্রু ছলোছলো
এ যদি আমার দেশ না-হয় তো কার দেশ বলো?

শ্যামলে শ্যামলে তুমি নীলিমায় নীল রবি গানে
যে-নদীর কূল নেই সে স্রোতে বৈঠা যারা টানে,
আব্বাসউদ্দিন দরিয়ায় ধরেছেন সুর
শাশ্বত বেহুলার ভালোবাসা সিঁথির সিঁদুর,
ভাষা শহীদের খুনে সে সিঁদুর আরও লাল হলো
এ যদি আমার দেশ না হয় তো কার দেশ বলো?

স্মৃতিতে এখনও শুনি বঙ্গবন্ধুর আহ্বান
পূবের আকাশ ছোঁয় শান্তিতে ভোরের আযান,
একুশের হাত ধরে চেতনায় হয় হাতে খড়ি
বাংলা দেখলে আমি এখনও বাংলাদেশ পড়ি,
মুক্তিযুদ্ধ ডাকে আগামীর দিকে হেঁটে চলো
এ যদি আমার দেশ না হয় তো কার দেশ বলো?
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কার দেশ? কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২৩.১২.২০১৪। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের
কাছে যাঁদের থেকে আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sumanami UK YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এই দেশটা জুড়ে
লালনের কসম, তোমার আমার স্বদেশ যাচ্ছে পুড়ে॥

রুখে দাও সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিভেদ আনা
কবীরের ভিটেয় পদ্ম ফুলের নিশান দিচ্ছে হানা
রুখে দাও মৌলবাদের কুমন্ত্রনা বিশ্রী সুরে
কাজী নজরুলের কসম তোমার স্বদেশ যাচ্ছে পুড়ে॥
রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এই দেশটা জুড়ে…

রুখে দাও বর্গীগুলোর জুলুমবাজি, মগের মুলুক
আমাদের ভাবনাগুলো সহিষ্ণুতার হাওয়ায় দুলুক॥
রুখে দাও বাবরি ভাঙা ত্রিশূলধারীর রথের চাকা
গুজরাট কাঁদছে আজও, অনেক বুকেই কান্না রাখা
রাখে দায় কান্না গুলো, শান্তি পাখি আসুক উরে
শান্তির কসম, তোমার আমার স্বদেশ যাচ্ছে পুড়ে॥
রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এই দেশটা জুড়ে…

রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এই দেশটা জুড়ে
লালনের কসম, তোমার আমার স্বদেশ যাচ্ছে পুড়ে॥
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রুখে দাও কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২৩.১২.২০১৪। আমরা কৃতজ্ঞ সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে
যাঁদের থেকে আমরা এই গানের কথা নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি সৌজন্যে Sumanami UK
YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একটা থালায় চারটে রুটি,
একটু আচার, একটু ডাল
একই থালায় দু'জন খাবে,
যুদ্ধ হয়তো আসছে কাল।

একটা মাঠে দু'জন সেপাই
দেশবিভাগের সীমান্তে
দু'জন আছে দুইদিকে
আর বন্ধু তারা অজান্তে।

তারা এ দেশ ভাগ করেনি,
দেয়নি কোথাও খড়ির দাগ
নেতারা সব ঝগড়া করেন,
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

ঝগড়া থাকে আড়াল করে
লাভের মাটি লাভের গুড়
সীমান্তে দুই দেশের সেপাই
দেশপ্রেমের দিনমজুর।

দুই কাঁধে দুই বন্দুক
আর বুলেট বেশি, খাবার কম
রাজধানীতে হিসেব কষে
এদের নেতা, ওদের যম।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
একটা থালায় চারটে রুটি কবি কবীর সুমন (জন্ম ১৬.৩.১৯৪৯)। রচনা এপ্রিল ২৩.১২.২০১৪। ভিডিওটি সৌজন্যে
Tofazzel Ovi YouTube Channel. আমরা কৃতজ্ঞ এঁদের কাছে কারণ আমরা এই গানের কথাও এখান থেকে নিয়েছি।
.
যমের বাড়ি কাছেই আছে,
অনেক দূরে নিজের ঘর
দেশপ্রেমের নজির হল
এই চিতা আর ওই কবর।

খিদের কিন্তু সীমান্ত নেই,
নেই চিতা, নেই কবরটাও
যুদ্ধটাকে চিতায় তোলো,
যুদ্ধটাকেই কবর দাও।

একটা থালায় চারটে রুটি,
একটু আচার, একটু ডাল
একই থালায় দু'জন খাবে,
যুদ্ধ হয়তো আসছে কাল।
একটা মাঠে দু'জন সেপাই
দেশবিভাগের সীমান্তে
দু'জন আছে দুইদিকে
আর বন্ধু তারা অজান্তে।

তারা এ দেশ ভাগ করেনি,
দেয়নি কোথাও খড়ির দাগ
নেতারা সব ঝগড়া করেন,
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

ঝগড়া থাকে আড়াল করে
লাভের মাটি লাভের গুড়
সীমান্তে দুই দেশের সেপাই
দেশপ্রেমের দিনমজুর।
দুই কাঁধে দুই বন্দুক
আর বুলেট বেশি, খাবার কম
রাজধানীতে হিসেব কষে
এদের নেতা, ওদের যম।

যমের বাড়ি কাছেই আছে,
অনেক দূরে নিজের ঘর
দেশপ্রেমের নজির হল
এই চিতা আর ওই কবর।

খিদের কিন্তু সীমান্ত নেই,
নেই চিতা, নেই কবরটাও
যুদ্ধটাকে চিতায় তোলো,
যুদ্ধটাকেই কবর দাও।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও মনো রে, ও মনো রে, ও মনো ও মনো ও মনো রে

বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

আমি যদি জার্মান হতাম বোতল বোতল বিয়ার খেতাম
আমি যদি জার্মান হতাম বোতল বোতল বিয়ার খেতাম
আবার কনসার্টে পিয়ানো শুনতাম দেখতিস আমার মান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

আমি যদি ফ্রেঞ্চ হতাম চিজ রুটি আর পাইপ খেতাম
আমি যদি ফ্রেঞ্চ হতাম চিজ রুটি আর পাইপ খেতাম
গায়ে পারফিউম মেখে করতাম সংস্কৃতির ভান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

ও মনো রে, ও মনো রে, ও মনো ও মনো ও মনো রে
কবি গৌতম
চট্টোপাধ্যায়
মোহিনের ঘোড়াগুলি
বাঙ্গালী করেছে ভগবান কথা ও সুর - কবি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (১.৬.১৯৪৯ - ২০.৬.১৯৯৯)। মোহিনের
ঘোড়াগুলি গ্রুপের “ক্ষ্যাপার গান” (১৯৯৮) অ্যালবামের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sandeep Biswas YouTube Channel.
.
আমি যদি ইটালিয়ান হতাম পিত্জা কাপুচিনো খেতাম
আমি যদি ইটালিয়ান হতাম পিত্জা কাপুচিনো খেতাম
ভূমধ্য সাগরে  আবার করতাম আমি স্নান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
আমি যদি ব্রিটশ হতাম কাউন্টি লীগের ক্রিকেট খেলতাম
আমি যদি ব্রিটশ হতাম কাউন্টি লীগের ক্রিকেট খেলতাম
ও রাণীর থেকে নাইটহুড পাইতাম করতাম হুইসকি পান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

ও মনো রে, ও মনো রে, ও মনো ও মনো ও মনো রে

আমি যদি স্প্যানিশ হতাম ফ্লেমেঙ্গো গীটার বাজাইতাম
আমি যদি স্প্যানিশ হতাম ফ্লেমেঙ্গো গীটার বাজাইতাম
বুল ফাইটিং করতাম দেখতি মাটাডোরের জান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

আমি যদি অ্যামেরিকান হতাম দাদাগিরি খুব ফলাতাম
আমি যদি অ্যামেরিকান হতাম দাদাগিরি খুব ফলাতাম
ও স্যাংশানের ভয় দেখিয়ে মলে দিতাম কান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে

ও মনো রে, ও মনো রে, ও মনো ও মনো ও মনো রে
বঙ্গদেশে জন্ম হলো বাঙালী হয়ে থাকতে হলো
বঙ্গদেশে জন্ম হলো বাঙালী হয়ে থাকতে হলো
পেটে ভীষণ ক্ষিদা তবু মুখে বাউল গান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে
বাঙ্গালী করেছে ভগবান রে . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে...
ড্রয়িংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দী
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...

ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে...
ঘুচে গেছে বেশ কাল সীমানার গন্ডি
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে.

সারি সারি মুখ আসে আর যায়
নেশাতুর চোখ টিভি পর্দায়...
পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...
কবি গৌতম
চট্টোপাধ্যায়
মোহিনের ঘোড়াগুলি
পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে কথা - কবি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (১.৬.১৯৪৯ - ২০.৬.১৯৯৯)। সুর - গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও পল্লব রায়। শিল্পী - ক্রসউইণ্ডস।
মোহিনের ঘোড়াগুলি গ্রুপের “আবার বছর কুড়ি পরে” (১৯৯৬) অ্যালবামের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
THE WORLD OF LYRICS YouTube Channel. আমরা
ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
.
পাশাপাশি বসে একসাথে দেখা
একসাথে নয় আসলে যে একা...
তোমার আমার ভাড়াটের নয়া ফন্দি
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে...
স্বপ্ন বেচার চোরাকারবার
জায়গাতো তো নেই তোমার আমার...
চোখ ধাঁধানোর এই খেলা শুধু ভঙ্গী
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...

তার চেয়ে এসো খোলা জানালায়
পথ ভুল করে কোন রাস্তায়...
হয়তো পেলেও পেতে পারি আরো সঙ্গী
আ হা হা, আ হা, আ হা হা, আ হা...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে...

ভেবে দেখেছো কী
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে...
তারো দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পড়াশোনায় জলাঞ্জলি ভেবে মূর্খ বলছো কি
তোমরা বলছো আমাদের জীবনের চার আনাই ফাঁকি!
হে ষোল আনা থেকে যদি চার আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে বারো আনায়!
কিন্তু বারো আনাতে আমরা খুশী
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশী !
মানিনা মানবোনা
তাই করছো ছি ছি ছি
তোমরা বলছো অবাধ্য জীবনের
আট আনাই ফাঁকি !
হে ষোল আনা থেকে যদি আট আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে সেই আট আনায়
কিন্তু আট আনাতে আমরা খুশী
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশী!
আমাদের পরকাল ঝরঝরে ভেবে দুঃখ করছ কি?
তোমরা বলছো এলোমেলো জীবনের
বার আনাই ফাঁকি !
হে ষোল আনা থেকে যদি বারো আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে মোটে চার আনায়,
কিন্তু চার আনাতে আমরা খুশী
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশী !
কবি গৌতম
চট্টোপাধ্যায়
মোহিনের ঘোড়াগুলি
পড়াশোনায় জলাঞ্জলি কথা - কবি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (১.৬.১৯৪৯ - ২০.৬.১৯৯৯) ও তাপস দাস। সুর - মোহিনের
ঘোড়াগুলি। শিল্পী - লক্ষ্মীছাড়া ও মহীনের ঘোড়াগুলো। লক্ষ্মীছাড়া গ্রুপে আছেন সাম্য গোস্বামী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক
আচার্য-চৌধুরী, অংশুমান সরকার আর গৌরব চট্টোপাধ্যায়। মোহিনের ঘোড়াগুলি গ্রুপের “আবার বছর কুড়ি পরে” (১৯৯৬)
অ্যালবামের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
Lyrical Music & Gaming YouTube Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ গীতিকার.ওয়ার্ডপ্রেস.
কম ওয়েবসাইটের কাছে গানের কথার জন্য।
তাঁদের পাতায় যেতে . . .
.
ভালো ভালোবাসা তোমরা জানো কি…?
ভালবাসতে না জানলে জীবনের ষোল আনাই ফাকি !
হে ষোল আনা থেকে যদি ষোল আনা যায়
হিসেবটা কষে দেখো দাড়াও কোথায় !
শুধু শূন্য শূন্য শূন্য রাশিরাশি !
তোমাদের কথা ভেবে আমরা হাসি…
হাহহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহা
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই মুহূর্তে, মৃত মানুষের ভিড়,
বাসভূমি অস্থির॥
এই মুহূর্তে, কাঁটাতার পেরিয়ে,
প্রহরা এড়িয়ে।
এই মুহূর্তে, দলে দলে হেটে যায়,
বিদেশের সীমানায়।
এই মুহূর্তে, নতুন ঠিকানা চাই,
যেখানে সবার ঠাই।
এই মুহূর্তে, কোন অলিখিত শর্তে,
গোপনে গোপনে চলে লেনদেন বিকিকিনি যত মারণাস্ত্র।
এই মুহূর্তে, কোন ভাঙ্গা দেশ জুড়তে,
কনসার্টে গান গায় কত মায়োস্ত্রো।
পারি না, পারি না কেন বুঝতে??
একি প্রপঞ্চ মায়া!!
এই বিশ্বরূপ দেখে চুপ করে থাকি যদি,
আমি নেহাতই বেহায়া।

এই মুহূর্তে, ৩য় বিশ্ব জুড়ে,
মন্বন্তর বাড়ে
এই মুহূর্তে, খরা আর বন্যা,
শিশুদের কান্না।
এই মুহূর্ত, জীবনধারণ গ্লানি ,
শুধু মিছে হয় রানী।
কবি গৌতম
চট্টোপাধ্যায়
মোহিনের ঘোড়াগুলি
এই মুহূর্তে কথা - কবি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (১.৬.১৯৪৯ - ২০.৬.১৯৯৯)। সুর - গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও পল্লব রায়। শিল্পী -
ক্রসউইণ্ডস। মোহিনের ঘোড়াগুলি গ্রুপের “মায়া” (১৯৯৭) অ্যালবামের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
THE WORLD OF LYRICS YouTube
Channel. আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ গীতিকার.ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটের কাছে গানের কথার জন্য। তাঁদের পাতায় যেতে . . .।
.
এই মুহূর্তে বুকের গভীরে ক্ষত,
ছড়িয়েই আছে তত।
এই মুহূর্তে, কারো কোন স্বার্থে,
চিরহরিতের বন ফিকে হয়,
মহীরুহ পতনের শব্দ॥
এই মুহূর্তে,অধিকার কাড়তে,
অনেক আশার কথা বলেছিল যারা,
আজ সকলে স্তব্ধ॥
পারি না, পারি না কেন বুঝতে??
একি প্রপঞ্চ মায়া!!
এই বিশ্বরূপ দেখে চুপ করে থাকি যদি,
আমি নেহাতই বেহায়া।
এই মুহূর্তে, নিশ্বাসে প্রশ্বাসে,
ঘুণ ধরে বিশ্বাসে।।
এই মুহূর্তে, খোলা বাজারের হাওয়া ,
চুপিসারে করে ধাওয়া॥
এই মুহূর্তে, হাওয়ায় অসুখ হয়,
ভিতরে ভিতরে ক্ষয়।
এই মুহূর্তে,তবুও মানুষ হাসে,
গান গায় ভালবাসে॥
এই মুহূর্তে, এই সময়কে ধরতে,
বুদ্ধিমানেরা যত বানী দেয় শত শত,
সমাজটা গড়বার॥

এই মুহূর্তে, তবু প্রতিরোধ করতে বোকারা স্বপ্ন দেখে,
আবার নতুন করে পৃথিবীটা সাজাবার॥

পারি না, পারি না কেন বুঝতে??
একি প্রপঞ্চ মায়া!!
এই বিশ্বরূপ দেখে চুপ করে থাকি যদি,
আমি নেহাতই বেহায়া॥

এই মুহূর্তে বোকারা স্বপ্ন দেখে পৃথিবীটা সাজাবার!
এই মুহূর্তে বোকারা স্বপ্ন দেখে পৃথিবীটা সাজাবার!
এই মুহূর্তে বোকারা স্বপ্ন দেখে পৃথিবীটা সাজাবার!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রাবেয়া কি রুখসানা, ঠিক তো মনে পড়ে না
অস্থির এ ভাবনা, শুধু করে আনাগোনা।
ফেলে আসা দিন তার মিছে মনে হয়
নামে কিবা আসে যায় ...
সোহাগে আদরে জানি রেখেছিল কেউ এই নাম।
আব্বা না আপা নাকি, কারো মনে পড়ে তাকি
তোমরা তা জানো নাকি, সময় দিয়োছে ফাঁকি।
অভিমানী সে মেয়েটি গেছে হারিয়ো ...
বুকে ভরসা নিয়ে ...
সীমান্ত পেরিয়ে সে এসেছিল ছেড়ে তার গ্রাম।
জানি সে কোথায়, এই শহরের কোনো বাগানে সে হয়ে আছে ফুল
প্রতি সন্ধ্যায়, পাঁপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল।
সেই মেয়েটির মতো, আরেকটি মেয়ে সে তো,
সন্ধ্যা-প্রদীপ দিত
যত্নে গান শোনাত।
হালকা পায়ে বেড়াত বেণী দুলিয়ে
কে যে নিলো ভুলিয়ে ...
খেলার সাথীরা তার খুঁজতে আসে না আর রোজ।
লক্ষ্মী নামের মেয়ে, আজ ও তার পথ চেয়ে
ফেলে আসা তার গাঁয়ে মা কাঁদে মুখ লুকিয়ে
সন্ধ্যেবেলায় শাঁখ বাজে না তো আর ...
এতে আছে কি বলার।
আজ ও কেউ জানে না তো কোথায় সে হয়েছে নিখোঁজ ....
কবি গৌতম
চট্টোপাধ্যায়
মোহিনের ঘোড়াগুলি
সেই ফুলের দল কথা ও সুর - কবি গৌতম চট্টোপাধ্যায় (১.৬.১৯৪৯ - ২০.৬.১৯৯৯)। শিল্পী - ঋতুপর্ণা দাস ও চন্দ্রিমা মিত্র।
মোহিনের ঘোড়াগুলি গ্রুপের “ঝরা সময়ের গান” (১৯৯৬) অ্যালবামের গান। ভিডিওটি সৌজন্যে
calcutta700091 YouTube Channel. আমরা
ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে গানের কথার জন্যেও।
.
জানি সে কোথায়, এই শহরের কোনো বাগানে সে হয়ে আছে ফুল
প্রতি সন্ধ্যায়, পাঁপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল।
লক্ষ্মী-রুখসানারা, আরও যত ঘরছাড়া
ত্রস্ত ও দিশেহারা, তখন-ই জাদুকরেরা
নিমেষে বানিয়ে দেয় বাগানের ফুল
ঠিক নির্ভুল।
এভাবে মেয়েরা সব একে একে ফুল হয়ে যায় ...
নতুন বাগানে এসে, নিজেকে না ভালবেসে
ফুলের দলেরা শেষে কথা বলে হেসে হেসে
পদ্ম, গোলাপ, জুঁই, চম্পা চামেলী
ওলো, টগর, শেফালী।
পোড়ার মুখীরা তোরা ফুল হয়ে রয়ে গেলি হায় ...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
হলদির জল থেকে ভেসে যাচ্ছে
আমার বোনের লাশ
গত ১৪ই মার্চ
শাসকের হার্মাদ বাহিনী
আর পুলিশের সন্ত্রাসী উত্তাপে
শরীরকে নখে দাঁতে ছিঁড়ে ধর্ষণের পর
গুলির আঘাত দিয়ে ছুঁড়ে দেয় জলে

সে শুধু মৃত্যুর আগে
দু'চোখে আগুন জ্বলে বলেছিল
আমাদের গরিব সংসার
দশকাঠা বাস্তু আর দশকাঠা জলা
এটুকু দেব না ছেড়ে তোমাদের হাতে...
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার বোনের লাশ
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার বুকের উপর দিয়ে
হেঁটে যাও পুলিশ
বুলেটে বুলেটে বিদ্ধ কর হাত
তবুও স্বপ্নের ঘরবাড়ি কৃষিক্ষেত পুকুর বাগান
দেব না দেব না নিতে
দেহে থাকতে প্রাণ

শুধু এ মনের কোণে বেঁচে থাক সোনাচূড়া
খেজুরি ও নন্দীগ্রাম
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তবুও দেবনা নিতে
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শাসকের ক্যাডার বাহিনী আর পুলিশের দল
খেজুরির বাড়ি বাড়ি তাণ্ডব চালিয়ে
সকলের মোবাই আর ল্যাণ্ডফোন কেড়ে নিয়ে
সন্ত্রাস ছড়ায়

সন্ধ্যায় আঁধারের প'রে ঘাতকের পোষাক
দুখিনী মা আর বোনেদের আগুন শরীর
     ছিঁড়ে খুঁড়ে খায়

সেই যে গরিব ছেলে শিক্ষিত বেকার
খবরের কাগজ বেচে নূনভাত খেত
তার ওই মজবুত বুকের পাঁজর
লাঠির আঘাতে ভেঙে
সবকটি নিউজ পেপার
    আগুনে পুড়িয়ে দিত

এইভাবে প্রতিদিন খবরকে চাপা দিতে গিয়ে
আগুনের ফুল্কির মতন সারা দেশে
ছড়িয়েছে শাসকের উলঙ্গ-উল্লাস আর
প্রতিবাদী মানুষের সংগ্রামী নন্দীগ্রাম
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
খবর
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওদের নেতারা আজ দাদাবুর্জোয়া
গোখরো ফণার মতো
দেশটাকে লুট ক'রে খায়
গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাসী খরায়
প্রতিবাদী মনগুলো জ্বলে-পুড়ে খাক

তবুও কলম ধ'রে হে বিপ্লবী কবি
লিখে যাও লিখে যাও মুক্তির গান
আর, আজ থেকে পশ্চিম বাংলার
সবকটি গ্রাম হোক নন্দীগ্রাম

একদিন এই পথ ধ'রে
আমাদের দেশটাও "রোমানিয়া" হবে
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
এই পথ ধরে
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মানুষকে মেরে কোনোশিল্প-ই হয়?
শিল্প হবে খেয়ে প'রে বাঁচার আশ্রয়
কৃষিজমি শস্যের বাগান উর্বরা গাঁ
সে শুধুই মাটি নয় শ্যামলি মা
তাকে মেরে কখনই শিল্প করা যায়?
মানুষই বড় শিল্প তার চেয়ে বড় কিছু নয় !
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শিল্প
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
অত মানুষকে খুন ক'রে
যারা ঠোঁটে হাঁসি ফোটায়
আমি সেই শাসকের উদ্ধত থাবায়
সঠিক ফোটাবো আজ কলমে কাঁটা
শব্ দের শানিত শর ভাষার গাণ্ডিবে
আমিও বেঁধাবো তার নির্দয় বুকে

কৃষকের রক্ত নিয়ে যত পরো শিল্পের মুখোশ
তোমাকে দেবে না ক্ষমা জনতার রোষ
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোমাকে দেবে না ক্ষমা
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নিখোঁজ হয়েছে যারা
তাদের কি খোঁজ পাওয়া যাবে ?
না-কি তারা লাশ হয়ে পাচার হয়েছে
ট্রলারের মাঝি জানে জানে ম্যাটাডোর
আর জানে ভ্যানওয়ালা
কী ভাবে ক'রেছে ওরা লাশগুলো গুম
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
গুম
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওখানে রাত্রির ক্ষুধার্ত আঁধারে
শোনা যায় কান্নার কোরাস
ওখানে শেয়াল, ভয়ে ভয়ে বের করে
মাটিচাপা লাশ
ওখানে নেশার ঘোরে বৃদ্ধ হরিরাম
শুয়ে থাকে রক্তমাখা মাটির উপর......

ওখানে ধর্ষিতা চাঁদ
হলদির জলে নেমে
কবিতা, কাজল আর ছোট বোন গঙ্গাদের
প্রতিবাদী জোসনা ফোটায়

ওখানে গোকুল নগর
হাজার তারার চোখে
রাত জেগে পাহারাই দেয়...
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ধর্ষিতা চাঁদ
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওরাও পাড়ার জ্যাঠা-কাকা পার্টির ক্যাডার
পুলিশী পোশাক প'রে তাণ্ডব চালায়
দুপুরের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে
ছোট বোন গঙ্গাকে ধর্ষণ করে...

ধর্ষণের যন্ত্রনায় ছটফট ক'রে
সে শুধু ব'লেছিল
কাকু ছেড়ে দিন...   কাকু ছেড়ে দিন...
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাকু ছেড়ে দিন
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সব শোক স্তব্ধ হয়ে আছে বুকের গভীরে
নিঃশ্ব্গ আঁধারে পাখ্র ডানায়
তবুও গোপনে ফোটে রাত্রির হাওয়ায়
হলদির কূলে কূলে নন্দীগ্রামে
আমাদের স্বজনহারা গোলাপ বাগানে
রিজিয়া বিবির কান্না আজ
প্রতিবাদ তোলে

চারিদিকে ছড়ানো শুধু রক্তের দাগ
দেয়ালে দেয়ালে ঘরে মেঝেয়
পথে পথে ধুলোর উপর আর
পুকুরের জল যেন বটের ফলের চেয়ে লাল
রাশি রাশি নারী-শিশু যুবকের খুনে
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রিজিয়া বিবির কান্না
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ
প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
ঘাতক শাসক আর তার পুলিশের দল
শিল্পের দোহাই দিয়ে রক্তের হোলিতে মেতে
১৪ই মার্চ
গ্রামে গ্রামে মা-বোনের ইজ্জত লুটে
হত্যা আর লুণ্ঠনের চালিয়েছে উলঙ্গ উল্লাস

এ খবর ইতিহাস আজ

ভঙাবেড়া, গোকুল নগর আর সোনাচূড়া, সামসাবাদ
খেজুরি ও নন্দীগ্রাম
রাধারাণী গঙ্গা আর রিজিয়া বিবির কান্না আজ
প্রতিবাদী ঝড়
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নন্দীগ্রামের সবুজ মাটি রক্তে হয়েছে লাল,
হলদি নদীর মুক্তি খেয়ায় উড়ছে নতুন পাল।

মা বোনেদের ইজ্জত গেছে, গিয়েছে অনেক প্রাণ,
জেগেছে মানুষ মিছিলে মিছিলে গাইছে মুক্তি-গান,
ভূমি রক্ষায় কৃষক ভায়েরা ধরেছে শক্ত-হাল।

ভয় পেয়ে তাই বুদ্ধ-বিমান দেখাচ্ছে আজ ভয়,
বন্দুক নয় শেষ কথা ভাই ওদের হবে না জয়।

গণতন্ত্রের মুখোশটা আজ ওদের গিয়েছে খুলে,
পায়ের তলায় সরছে মাটি হলদি নদীর কূলে,
চৈত্র হাওয়ায় বাংলা যে আজ প্রতিবাদে উত্তাল।
কবি ওয়াজেদ আলি
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নন্দীগ্রাম-কে নিয়ে একটি গান
কবি ওয়াজেদ আলি (জন্ম ৪.১২.১৯৪৯)। নন্দীগ্রামের কবি। এই
কবিতাটি বৈশাখ ১৪১৪, এপ্রিল ২০০৭ এ প্রকাশিত কবির "রক্তঝরা
নন্দীগ্রাম" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নিরাপদ আশ্রয় জেনে শিশুটি আঁকড়ে ছিল
মায়ের আঁচল, মা-ও বুঝু তাই ভেবেছিল
মুহুর্তে সবকিছু বুঝবার আগে
বাড়াতে জানো
শিশুটির গলাকা লাশ মায়ের কোলের কাছে
রেখে গেল হার্মাদ বাহিনী।

ওগো উতল হাওয়া তুমি কি জানো
ওই মায়ের আর্তনাদে কোন সান্ত্বনার ভাষা!
তুমি কি পারো ধর্ষিতা রমণী ও কিশেরীর
লজ্জা মুছে দিতে
তুমি কি বুলেটবিদ্ধ ক্ষতে বাড়াতে জানো
শুশ্রূষার হাত
খুঁজে দিতে পারো নিখোঁজ মানুষের ঘর ও বাহির

ওগো উতল হাওয়া
তুমি কি তাড়াতে জানো
সন্ত্রাসের ভয়াল আঁধার
কবি নমিতা চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওগো উতল হাওয়া
কবি নমিতা চৌধুরী (জন্ম ২০.১২.১৯৪৯)। কবিতাটি প্রকাশিত
হয়েছিল “লুব্ধক” পত্রিকার ২৫ বৈশাখ ২০০৭ এর সংখ্যায়। সিঙ্গুর-
নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আপনি যেভাবে বলেছিলেন আমি
ঠিক সেইভাবেই ঘাড় গুঁজে লিখে যেতাম
রোজনামচার খাতা নির্বাক সেই
অক্ষরের মধ্যখানে আজ উঁকি দিচ্ছে দেখি
নিষ্পাপ শিশুদের লাশ ধর্ষিতার চোখ।
এতদিন আপনার কথামতই তো কাজ করে এসেছি
এবার আমাকে মাপ করবেন হুজুর
আর পারছি না। আমার হাতের আঙুল ক্রমশ
শিথিল হয়ে পড়েছে। হাত থেকে
খসে পড়েছে কলম কালো কালির ধারায়
অনবরত মিশে যাচ্ছে --- রক্তের স্রোত
বুলেবিদ্ধ প্রতিটি মানুষের চিত্কার সাদাপাতাকে
উসকে দিচ্ছে---কিছু বলার জন্যে।

ওরাও কিছু বলতে চায় এখন, আপনি শুনুন
শুনুন যতই আপনার ক্যাডার বাহিনী এভাবে
ভয় দেখাক না কেন কিছুতেই ওরা
ওদের জমি ছিনিয়ে নিতে দেবে না
না প্রাণ থারতে কিছুতেই নয়।
কবি নমিতা চৌধুরী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
না কিছুতেই নয়
কবি নমিতা চৌধুরী (জন্ম ২০.১২.১৯৪৯)। এই কবিতাটি “একুশে
ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি”-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭ এর সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়েছিল। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
প্রবল বৃষ্টির ভিতর খোঁচাদাড়ি, লুঙ্গিপরা সেই লোকটি একবার আকাশের
দিকে তাকাইয়া পরক্ষণে নীচু হইয়া নদীতে একটা পোঁটলা ফেলিল,
প্রকাশ থাক, উহা তাহারই মৃত কন্যা, সাত কি আট বছরের নূরজাহান।

.                   কয়েক ঘাট ঘুরিবার পর পোঁটলা যে ঘাটে আসিল
সেখানে তান্ত্রিক, বৃষ্টি থামিয়াছে ; শকুন যে হারে তা দেয় তাহা তিনি
সংগ্রহ করিয়াছেন, কুমারীর শব দেখিয়া তিনি আরও উত্ফুল্ল, দ্রুত জল
হইতে দেহ তুলিয়া সাধনকক্ষে লইয়া গেলেন। ইহা সহজ সাধনা, মন্ত্রপাঠ
ও সঙ্গমক্রিয়ার পর যখনি প্রাণলক্ষর পরিস্ফুট হইবে তখন খড়্ গে  শিরচ্ছেদ
করিতে হইবে, কুমারীর ঐ মাথা গোপনে থাকিবে ও সবকিছু জানাইবে।
কথামতো সকলই হইল, মন্ত্র, সঙ্গম, চৈতন্য ও বলি---- কিন্তু কুমারীর মাথা
কেবল বলিতে থাকিল, বাপজান, ভাত খাব, বাপজান আমারে নাস্তা দাও।
ততক্ষণে, পূর্ণচন্দ্রোদয় হইয়াছিল।
কবি পার্থপ্রতিম
কাঞ্জিলাল
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বলি
কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল (জন্ম ২৩.১২.১৯৪৯)। ২০০৩ সালে প্রকাশিত, অনুপকুমার
মহাপাত্র সম্পাদিত, “সহজ পাঠের কবিতা” থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও পাগল, ও পথ তুই মাড়াসনে মাড়াসনে
ও পাগল, পাগলামী তুই ছাড়
ঘরে তোর মুমূর্ষু বোন
পাগলামী তুই ছাড়

বল তো,
শহীদ হওয়া কি আমাদের পোষায়?
কবি তিমিরবরণ
সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও পাগল
কবি তিমিরবরণ সিংহ (১৯৪৯ - ২৪.৫.১৯৭১)। কবিতাটি গৌতম সেন
সম্পাদিত, প্রাসঙ্গিক প্রকাশনী, ৯৭/২ ব্যানার্জী পাড়া রোড,
কলকাতা-৪১, থেকে প্রকাশিত, “ভেঙে দাও বন্ধ্যা প্রহর” কবিতা
সংকলন থেকে নেওয়া। কবি নকশালবাড়ী আন্দোলনে যুক্ত থাকার
জন্য ধরা পড়েন এবং বহরমপুর জেলে বন্দী থাকার সময়ে পুলিশ
তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এক একটা রাতে আমি
হু-হু বর্ষার মত কেঁদেছি।
অন্ধ কুঠরীতে আগুন ঢেলেছি
ক্ষ্যাপা সেজেছি . . .
উদাসী হেঁটেছি
ফসলকাটা মাঠে,
অন্ধকারে নেমে
কবি তিমিরবরণ
সিংহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
উদাসী হেঁটেছি
কবি তিমিরবরণ সিংহ (১৯৪৯ - ২৪.৫.১৯৭১)। কবিতাটি
প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৬-৬৭ সালে, “অরণি” নামের যাদপুর
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রিদের কবিতা সংকলনে। অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষ,
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত প্রমুখদের ছাত্র, কবি নিজেই এই পত্রিকার
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সম্পাদক ছিলেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
২রা পৌষ আমরা সেদিন অনশন মঞ্চে যাবো।
তাড়াতাড়ি করে যাচ্ছি আমরা ট্রেনটা নাহি মোরা পাব।
পিছন থেকে কে যেন আমাদের থাম থাম দিল রব।
ডাক শুনেই আমরা সকলে দাঁড়িয়ে পড়লাম সব।
ছেলেটি এসে বললো আমাদের টাটাদের খেয়েছো অনেক নুন।
দেখে এসো বাজেমেলিয়ায় একটি মেয়ে হয়ে গেছে আজি খুন।
কথাটি শুনে আমাদের সকলের মাথাটি গিয়েছে ঘুরে।
এতটা রাস্তা আমরা সকলে যাবো বা কেমন করে।
অনেক কষ্ট করে আমরা বাড়িতে তাদের গেলাম।
সেখানে গিয়ে আমরা সকলে কিছু না দেখতে পেলাম।
হে ভগবান তুমি কেন মোর রইলে না ওর সহায়।
গিয়ে দেখি ওর মা জননী কাঁদছে বসে দাওয়ায়।
মেয়েটির মুখটি ছিল ঠাকুরের মত গড়া।
তাদের মুখগুলো হয় যেন সব হনুমানের মত পোড়া।
যারা মেরেছে তাদের তুমি দিও গো এমন সাজা।
পরের জনমে তারা যেন হয় শুকর কিংবা গাধা।
কবি নয়নতারা ধারা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শহীদ তাপসী কবি নয়নতারা ধারা (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কবি নিজেই এই গান বেঁধে গাইতেন। এই কবি সিঙ্গুরের গোপালনগর গ্রামের এক নির্ভিক
কৃষক রমণী। তিনি সিঙ্গুর আন্দোলনের একটি মুখ। এই কবির কবিতা বাংলার সরল সাধারণ কৃষিজীবী মানুষের মনের অন্তর থেকে উঠে আসা দুঃখ,
ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সরাসরি প্রতিফলন। কারণ কবি তাঁদেরই একজন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা। এই কবিতাটি ৩রা অক্টোবর ২০০৭ তারিখে,
মিলনসাগরেই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। সিঙ্গুরে, আন্দোলনকারী তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। বিচারের নামে প্রহসনে, অভিযুক্ত
অপরাধীরা সব বেকসুর খালাস হয়ে যায়। তদানীন্তন সরকার পক্ষের কবি-সাহিত্যিক-ফিল্ম-মেকারগণ মিলিত হয়ে মৃতা তাপসী মালিকের চরিত্রহননের
খোলাখুলি চেষ্টা করেন লেখালেখি ক’রে, সিনেমা তৈরী করে, নাটক লিখে উপস্থাপন করে। তাঁদের মধ্যে খ্যাতনামা বিশিষ্ট নারী বুদ্ধিজীবীরাও ছিলেন!
.
এমন ছাগল হয়েছে তারা জন্মেছে মায়ের গর্ভে।
বিনা দোষে মেয়েটিকে তারা পাঠিয়ে দিলেন স্বর্গে।
আমরাও মা হয়ে তাদের দিলাম অভিষাপ।
সাত জনমেও পাবিনা তোরা নরকেতেও বাস।
ফুলের মতো মেয়েটি যে সে ফুলের মত মুখ।
হেরে গেল এ জীবনে সে পেলো না তো আর সুখ।
তাপসী তুমি আমাদের কাছ থেকে যে দিন হয়েছো হারা।
তুমি হয়ে গেছো সেদিন থেকে দুর আকাশের তারা।
তুমি বিদ্রোহিনী তুমি বিজয়িনী তোমার জন্য আমরা তো কেঁদে সারা।
উপরে যদি থাকে ভগবান বিচার একদিন হবেই।
জোর করে তোমাকে মেরেছে যারা শাস্তি তারা পাবেই।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
টাটার দল আসিয়া
জমি নিতে চায় কাড়িয়া
কেমনে তা এই বুকে ধরি।
জমি যে আমাদের ধন
জমি যে আমাদের জান
জমি যে আমাদের মান
জমি যে আমাদের জন্মভূমি।
সারা বছর খাটিয়া
মাথার ঘাম ফেলিয়া
ধান গোলাতে ভরি -
বাঁচার রসদ তুলি।
জমি গেলে যাবে ধান
সঙ্গে যাবে ধন ও মান
কেমনে বাঁচবো বলো।
তাই হাতে হাত ধরিয়া
প্রতিরোধ করবো সবাই - ভাইরে।
আছে আমাদের একতা
সহায় থাকবেন দেবতা
এসো লড়াইয়ের সাথে - ভাইরে।
কবি নয়নতারা ধারা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বর্গি এলো সিঙ্গুরে
কবি নয়নতারা ধারা (জন্মকাল অজ্ঞাত)। কবি নিজেই এই গান বেঁধে গাইতেন। এই কবি সিঙ্গুরের
গোপালনগর গ্রামের এক নির্ভিক কৃষক রমণী। সিঙ্গুর আন্দোলনের একটি মুখ, এই কবির
কবিতা বাংলার সরল সাধারণ কৃষিজীবী মানুষের মনের অন্তর থেকে উঠে আসা দুঃখ, ক্ষোভ ও
বিদ্রোহের সরাসরি প্রতিফলন। কারণ কবি তাঁদেরই একজন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা। এই কবিতাটি
'অনীক' পত্রিকায় ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জাত দিয়ে ভাষা দিয়ে ধর্ম দিয়ে বর্ণ দিয়ে
যতই তুমি সোনার শিকল গড়ো
সে শিকলে বাঁধতে আমায় পারবে না
রাষ্ট্র দিয়ে প্রদেশ দিয়ে বন্দী থাকার আদেশ দিয়ে
আকাশ ছোঁয়া প্রাচীর যতই গড়ো
তার ভিতরে রাখতে আমায় পারবে না।

আকাশটাকে ঠাঁই দিয়েছি বুকে
বাতাস আমার পথ চলবার সাথী
সাগর আমায় হাতছানিতে ডাকে
শিকল ভাঙার আনন্দে তাই মাতি
পথ বলছে আয়রে আয় ডাকছে নদী আয়
বিশ্ব মায়ের আঁচল পাতা মুক্ত দুনিয়ায়।
না না বন্ধঘরের অন্ধকারে থাকবো না।

ফুলের গন্ধে আকাশ মাতোয়ারা
ভোরের আলোয় দশ দিকই তো রাঙে
আর জাত ধর্মের সোনার বেড়ি পায়ে
মানুষ কেন মহামিলন ভাঙে
মেঘ ডাকছে আয়রে আয়, ঝর্ণা বলে আয়
সবুজ প্রাণের বাঁধন হারা প্লাবন ছুটে আয়,
না না ক্ষুদ্রতার এই নিষেধ বাধা মানব না।
কবি অসীম ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জাত দিয়ে ভাষা দিয়ে ধর্ম দিয়ে বর্ণ দিয়ে
কথা ও সুর - কবি অসীম ভট্টাচার্য (জন্ম ১.১.১৯৫০)। ১৯৯৭ সালে এবং জলার্ক
থেকে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধজয়ের গান” থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যাচ্ছো কোথায় লাল সেনানী
পায়ে পায়ে উড়িয়ে ধূলো আসমানে
যুদ্ধের খবর কিছু যাও শুনিয়ে
চলছে মুক্তিযুদ্ধ কোনখানে?
চলেছো কি শেষ লড়াইয়ের সন্ধানে?

বল বল শত্রু নিধন চলছে কেমন
আশাকরি উড়ছে ঊর্ধে লাল নিশান
বসে আছি মুক্ত পেরু দেখবো বলে
কমরেড গনজালু কে লাল সেলাম

বুকের রক্ত দিয়ে চষছে জমি
সেই গরীব চাষীর খবর কি?
তাদের শক্ত হাতে শূন্য গোলায়
এবার ধান জমতে পারবে কি?
তাদের শূন্য হৃদয় ভরবে কি?

ও ভাই লাল সেনারা যাচ্ছো কোথায়?
ছুটে ছুটে হয়তো মুক্ত অঞ্চলে
এই জেলখানাতে বন্দী আমি
আমায় খবর কিছু যাও বলে
নতুন খবর কিছু যাও বলে
কবি অসীম ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যাচ্ছো কোথায় লাল সেনানী ভাবানুবাদ - কবি অসীম ভট্টাচার্য। সুর - পেরুর “সাইনিং পাথ” দলের সাংস্কৃতিক শাখা।
শিল্পী - সমবেত কণ্ঠে গণেশ সেনাপতি, সুদেষ্ণা দাসাধিকারী, পার্থপ্রতীম সার, তাপস নস্কর, সৌমিত্রা ভট্টাচার্য এবং অসীম ভট্টাচার্য। “চলা শুধু চলা”
ক্যাসেটের গান, ১৯৯৮। ইউনিট থিয়েটারের গান। রচনাকাল মে ১৯৯৭। পেরুর “সাইনিং পাথ” দলের সাংস্কৃতিক শাখার গান। মূল সুর অক্ষুন্ন রেখে
বাংলায় ভাবানুবাদ। গানটি সাউণ্ডক্লাউডে শুনতে
এখানে ক্লিক করুন . . .  
.
হৈ হৈ ঝড় উঠেছে উথাল পাথাল
জানি জানি স্বর্গ ভেঙে পড়বে গো
ওই ভুতের কদর বজ্রবাণে          
ওই ধূতের পাঁজর বজ্র হানে
লাল/তার আলোয় ভূবন ভরবে গো

লাখো লাখো লাল সেলাম মাও সে তুং
লাখো লাখো লাল সেলাম লাল গনজালু
লাখো লাখো লাল সেলাম লাল বিশিডি
যারা এই দেশের ঘুম ভাঙ্গালো
যারা স্বপ্ন আমার রাঙালো
ছুটে ছুটে যাচ্ছো কোথায় গেরিলা দল
থর থর কাঁপছে বোঠিং জেলখানা
জেগে আছি মুক্ত পেরু দেখবো বলে
হাতে পায়ে ডাণ্ডা-বেড়ীর ঝঞ্ঝনা
তবু মুক্ত হওয়ার দিন গোণা
শুধু মুক্ত পেরুর দিন গোণা
SONGS OF UNIT THEATRE Jachchho Kothae
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যখনই তোমার প্রতিবাদী মন গর্জে উঠতে চায়
এক পা এগিয়ে সম্বিৎ পাও, শৃঙ্খল দুটি পায়
যখনই তুমি রেগে ফুঁসে উঠে আঘাত হানতে চাও
মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে দেখো, শৃঙ্খলে বাধা তাও।
যখনই শিউরে উঠেছো দেখে ভিখারী শিশুর লাস
ধর্ম তোমায় শুনিয়েছে গান, এসব ভাগ্যের পরিহাস।
বিদেশী শকুন আকাশ ঘিরেছে, স্বদেশ অন্ধকার
মাভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে দেখ, সামনে বন্ধ দ্বার।
শ্রমিক যখন মাথা ঠুকে মরে, কারখানা গেট বন্ধ
বিভ্রান্তির ধোঁয়াশা তখনই তোমাকে করেছে অন্ধ।
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে হে ঋষি
অসহায় যত বলির ছাগল চরিতেছে দিবানিশি।
গোষ্ঠে গোষ্ঠে আত্মকলহ, অজাযুদ্ধের মেলা
এদেরই রক্তে নিত্য রাঙিছে ভারত সাগর বেলা।
সিংহ যখনই ঘার ভেঙে খায়, একটারে ধরে আসি
আরটা তখন দিব্যি মোটায়ে হতেছে খোদার খাসি
ইহাদের শিশু খুন হয়ে গেলে এরা সভা করে কাঁদে
অমৃতের বাণী শুনতে এদের লজ্জায় নাহি বাঁধে।
আষ্টে পৃষ্ঠে বাঁধছে তোমায় বিদেশী ঋণের ফাঁস
খাল কেটে ডেকে আনছে কুমীর, করতে দেশের সর্বনাশ
হুল্লোড় বিষে নেশাজর্জর আসহায় যৌবন
কত গৃহকোণে আঁধার ঘনায়, নীরবে অশ্রু বিসর্জন
কবি অসীম ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যখনই তোমার প্রতিবাদী মন গর্জে উঠতে চায় কথা ও সুর -- কবি অসীম ভট্টাচার্য (জন্ম ১.১.১৯৫০)। শিল্পী - তাপস নস্কর।
১৯৯৭ সালে এবং জলার্ক থেকে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত “যুদ্ধজয়ের গান” থেকে নেওয়া। “চলা শুধু চলা” ক্যাসেটের গান, ১৯৯৮। ইউনিট
থিয়েটারের গান। রচনাকাল - মে ১৯৯৬। গানটি সাউণ্ডক্লাউডে শুনতে
এখানে ক্লিক করুন . . .  
.
SONGS OF UNIT THEATRE Jokhoni Tomar Protibadi Mon
এই তো সত্য, এই তো ঘটনা, এই তো তোমার দেশ
কিসের গর্ব, কিসের গরিমা, কিসের লজ্জা ক্লেশ,
একা সুখে তুমি বাঁচতে চেয়েছো, তবুও পাওনি সুখ
শত পরাজয়ে লজ্জিত হয়ে দুহাতে ঢেকেছো মুখ।
বন্ধু সুজন, ওগো সুধীজন, কান পেতে শোন তুমি
কাঁদছে তোমার ধর্ষিতা মাতা, দুখিনী জন্মভূমি
যে বাধা তোমায় এগোতে দেয় না পদে পদে পিছু টানে
ভাঙো সেই বাধা, ভাঙো সে শিকল নির্ভয় অভিযানে
সময় হয়েছে রক্ত আখরে লেখা হবে ইতিহাস
কান পেতে শোন চাপা গর্জনে, অন্ধ্রে বিহার দণ্ডক বনে
তোমার আমার বুকের গহনে
ঝড়ের পূর্বাভাস, ঝড়ের পূর্বাভাস।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দেরে দেরে
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে
গাধার দল দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে . . .
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে, দেরে দেরে, দেরে দেরে,
দেরে দেরে, দেরে দেরে
দেরে দেরে . . .
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .

ভোটে জিতবো মন্ত্রী হবো,
করবো আমি দেশ সেবা, হ্যাঁ!
ভোটে জিতবো মন্ত্রী হবো,
করবো আমি দেশ সেবা, হায় রে!
সব যাবে জলে, মন্ত্রী না হলে,
সব যাবে জলে, মন্ত্রী না হলে,
আমারে বা চিনিবে কেবা
গাধার দল, দেরে দেরে . . .
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .
কবি অসীম ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দেরে দেরে কথা ও সুর - কবি অসীম ভট্টাচার্য (জন্ম ১.১.১৯৫০)। শিল্পী - গণেষ সেনাপতি। “চলা শুধু চলা” ক্যাসেটের গান, ১৯৯৮।
ইউনিট থিয়েটারের গান। রচনাকাল এপ্রিল ১৯৯৮। গানটি সাউণ্ডক্লাউডে শুনতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
SONGS OF UNIT THEATRE Dere Dere
হবে বাড়ী গাড়ী, জেড ক্যাটাগরি,
ভি.আই.পি. হবো আমি
হবে বাড়ী গাড়ী, জেড ক্যাটাগরি,
ভি.আই.পি. হবো আমি
কাঁঠালী কলা হবো সর্ব ঘটেতে,
কাঁঠালী কলা হবো সর্ব ঘটেতে,
পাবো কত না সেলামী
গাধার দল, দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .
খরা ও বন্যায়, ঝড়ে ও ঝঞ্ঝায়,
যদি কোথাও কিছু ঘটে, হে ভগবান!
খরা ও বন্যায়, ঝড়ে ও ঝঞ্ঝায়,
যদি কোথাও কিছু ঘটে,
হেলিকপটারে আকাশে উড়ে উড়ে
হেলিকপটারে আকাশে উড়ে উড়ে
দেখে দু’চোখ জলে ঢাকে    
গাধার দল, দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .
কত না অধিকার, রয়েছে জনতার,
বলছি এক এক করে
শুনুন বন্ধুগণ! মন দিয়ে শুনুন ----
কত না অধিকার, রয়েছে জনতার,
বলছি এক এক করে
বাঁচার অধিকার, চাকরির অধিকার,
স্বাস্থের অধিকার, শিক্ষার অধিকার,
সবই লেখে জোখা আছে . . .
শুধু, ভোটেরই অধিকার, আসল অধিকার
ভোটেরই অধিকার, আসল অধিকার
ভোটের কথায় প্রাণ নাচে,
গাধার দল দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .

গড়বো এবার স্থায়ী সরকার,
স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দেবো
শক্তিশালী দেশ গড়তে হবে তো!---
গড়বো এবার স্থায়ী সরকার,
স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দেবো
স্থায়ি গরীবী, স্থায়ি বেকারী
স্থায়ি গরীবী, স্থায়ি বেকারী
স্থায়ি শোষণ চালাবো,
গাধার দল দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে . . .
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .

প্রণাম ভোট দেবী, তদীয় সংসদ
প্রণাম এম.পি. এম.এল.এ.
মা মাগো, এবার ভোটে জিতিয়ে দে মা---
প্রণাম ভোট দেবী, তদীয় সংসদ
প্রণাম এম.পি. এম.এল.এ.
প্রণাম জনগণে, ভোটের পূর্বে
প্রণাম জনগণে, ভোটের পূর্বে
. . . . . .
লাথি মারি ভোট চুকে গেলে
গাধার দল দেরে দেরে . . .
দেরে দেরে . . .
ভোটে জিতিয়ে দে না আমাকে
ওরে গাধার দল, দেরে দেরে . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
চলা শুধু চলা
নদীর মত চলা
কথা এঁকে বেঁকে
পিছু টান ফেলে রেখে
স্মৃতির সোহাগ মেখে
সুদূর মোহনায়

বলা শুধু বলা        
সাহস করে বলা
মিছিলে মিছিলে ছুটে
সশব্দে জ্বলে উঠে
স্লোগানে মিলিয়ে গলা
আলোড়িত গহনায়

শোনা শুধু শোনা
শোষিতের যন্ত্রণা
প্রাসাদের বুনিয়াদে
কো গো কোণে গুমরে কাঁদে
সেই কান্নাকে বুকে বেঁধে
ভাসি ভরা মোহনায়
কবি অসীম ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চলা শুধু চলা কথা ও সুর -- কবি অসীম ভট্টাচার্য (জন্ম ১.১.১৯৫০)। শিল্পী - সুদেষ্ণা দাসাধিকারী। “চলা শুধু চলা” ক্যাসেটের গান,
১৯৯৮। ইউনিট থিয়েটারের গান। রচনাকাল মার্চ ১৯৯৫। গানটি সাউণ্ডক্লাউডে শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .
.
SONGS OF UNIT THEATRE Chola Shudhu Chola
লেখা শুধু লেখা
বুকের রক্তে লেখা
কলে মাঠে রাজপথে
হৃদয়ের সৈকতে
মূক জনতার কথা
মুখরিত গহনায়

চলা শুধু চলা
নদীর মত চলা
কোথাও এঁকে বেঁকে
পিছু টান ফেলে রেখে
স্মৃতির সোহাগ মেখে
সুদূর মোহনায়
সমস্ত দেশ জুড়ে
ও ভাই সমস্ত দেশ জুড়ে
আড়োয়াল ভোজপুরে
ভালো করে আছে চেনা
কারা রণবীর সেনা
ছলে বলে কৌশলে
মৃত্যুর খেলা চলে

সব কালে সব দেশে
নানান ছদ্মবেশে
শ্বেত সন্ত্রাস নামে
লড়াই কি তবু থামে
এসো প্রতিবোধে জ্বলে উঠে
জীর্ণ কপাট টুটে
প্লাবনের বেগে ধেয়ে
জীবনের গান গেয়ে
বহু পথ ঘুরে ঘুরে
শ্রেণী চেতনার সুরে

সব নদী বয়ে যায়
মুক্তির মোহনায়
সব নদী বয়ে যায়
শান্তির মোহনায়
সব নদী বয়ে যায়
আলো ভরা দুনিয়ায়
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শ্রমিক বলে চাষী ভাই
.                চাষী বলে শ্রমিক ভাই
গগনে ঐ বাড়ছে বেলা
.                চল চল কাজে যাই॥ [ ধুয়া ]

মনকে বানাও কামারশাল
.                গড় দাও কাস্তে কোদাল
শ্রম আগুনে পোড়াও লোহা
.                তখন হবে লাল।
হাতুড়ির ঘায় ধরাও আকার
.                নীচ জনগণ যেন নেহাই॥
আমি কাস্তেটি ধরি
.                তুমি ধর হাতুড়ি
চল কল কারখানা আর
.                ক্ষেত খামারে উত্পাদন করি।
নিজেও যাই হাটে বেচি
.                নিজে বাঁচি দেশ বাঁচাই॥
কবি ব্রজলাল
অধিকারী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শ্রমিক বলে চাষী ভাই কথা ও সুর - কবি ব্রজলাল অধিকারী (১.৬.১৯৫০ - ৮.৫.১৯৮৬)।
আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন
থেকে। ১৯৭৮ সালে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে তিনি গরিব, খেটে-খাওয়া মানুষদের জন্য
গণচেতনার গান লিখতে শুরু করেন। অবহেলিত লোকশিল্পীদের সংগঠিত কারার কাজেও তিনি উদ্যোগী
হয়েছিলেন। কবি শিল্পী ব্রজলাল অধিকারী ভাড়াটে গুণ্ডাদের হাতে গোপনে নিহত হন।
.
গাওরে ঘুম-ভাঙানো গান
.                গানে জাগাও দেশের প্রাণ
গণতন্ত্র রক্ষা হবেই
.                ঠিক রাখলে ইমান।
শোষিত বঞ্চিত মোরা
.                শোষণ মুক্তির সংগ্রাম তাই॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লাল যে মায়ের সিঁথির সিঁদুর
লাল যে মায়ের সিঁথির সিঁদুর
ভোরের সূর্যোদয়
লালকে কেন ভয় ওরে ভাই
.                লালকে কেন ভয়?
লালকে কেন ভয় ওরে ভাই
.                লালকে কেন ভয়?

আঁধার যখন হয় অবসান
পাখিরা গায় ঘুমভাঙা গান
সেই গানেতে জাগে চাষী
.                শ্রমিক সমুদয়॥

সবুজ মাঠে মধুর হাসি
লাঙ্গল কাঁধে যায় রে চাষী
লাল গোলাপের সুগন্ধে ভাই
.                ভরে যে মলয়॥
কবি ব্রজলাল
অধিকারী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লালকে কেন ভয় কথা ও সুর - কবি ব্রজলাল অধিকারী (১.৬.১৯৫০ - ৮.৫.১৯৮৬)। আমরা গানটি পেয়েছি
১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ১৯৭৮ সালে ত্রিপুরার
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে তিনি গরিব, খেটে-খাওয়া মানুষদের জন্য গণচেতনার গান লিখতে শুরু করেন।
অবহেলিত লোকশিল্পীদের সংগঠিত কারার কাজেও তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন। কবি শিল্পী ব্রজলাল অধিকারী ভাড়াটে
গুণ্ডাদের হাতে গোপনে নিহত হন। গানটি- সৌজন্যে ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্র
Tripura Sanskriti Samonnoy Kendra
.
যতই আসুক ঝড় আর তুফান
রাখব ধরে এই লাল নিশান
যায় যদি যায় তুচ্ছ এই প্রাণ ---
.                ব্রজলালে কয়॥
লাল সূতায় কি গাঁথলে মালা
দেয় না গলায় চিকন কালা?
লাল জবা আর লাল পলাশে
.                মাতৃপূজা হয়॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
১৪ই মার্চ দু-হাজার সাত
মরলো কত? কেউ জানেনা,
প্রশাসনিক আদেশ নামায়
সঠিক তথ্য বলতে মানা।

শাসক শ্রেণীর উর্দ্দি পড়ে,
বন্দুকের নল করে তাক,
নন্দীগ্রামে ছুটলো গুলি
এবার তোরা ঘুমিয়ে থাক্।

নিখোজের সংখ্যা কত?
আর কি তারা ফিরবে ঘরে?
বর্গী সেনার গুপ্ত থাবায়,
তারা হারিয়ে গেল চিরতরে।

বুবিবি শেখ খেলছে খেলা,
রামানুজ ভাই দোসর তায়।
এক শিবার ঐ খেয়াল শুনে
সব শিবা যে কোরাজ গায়।

বঙ্গরাজের দুধের পোষাক,
রক্তে রাঙা হলো আজ।
ভোরের সূর্য গেল অস্ত
বিনা মেঘে পড়লো বাজ।
কবি প্রণব কুমার
ভৌমিক
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
১৪ই মার্চ দু-হাজার সাত
কবি প্রণব কুমার ভৌমিক (২৬.১.১৯৫১)। কবিতাটি, জলপাইগুড়িতে নেওয়া কবির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে পাওয়া।
.
চট্ জলদি এলো দেখি,
সি.বি.আই. এর তদন্ত দল।
ফল তো হবে অশ্ব ডিম্ব,
কেন্দ্রে বাঁধা বাংলার কল।

অশুভ সংকেত বাতাসে ঘোরে,
দেশ থেকে দেশ দেশান্তরে,
ধৃতরাষ্ট্র আজ দেশের রাজা,
অন্ধস্নেহে আড়াল করে।

হা-হুতাস আর চোখের জলে,
ঝরলো কত চাষির খুন।
কিসের সংকেত করছে বহন
আকাশে ওড়ে লাখো শকুন।

শূণ্য হলো যত মায়ের কোল,
স্ত্রী হারালো সিঁথীর সিঁদুর,
বাবা বলে আর ডাকবে কাকে,
স্বপ্ন ভেঙে হ'লো খানচুন।

মনের ব্যথা প্রাণের জ্বালা
বোঝে না তো ঐ কংসরাজ
যেদিন জ্বলবে আগ নিজের ঘরে,
বুঝবে সেদিন ঐ বঙ্গরাজ।
যে চাষির চাষে জন্ম নিল
এই গরীবের সরকার
শিল্প গড়তে ঐ চাষিই নিধন
বলি তার কি ছিল দরকার?

উচিৎ কথায় গোসাই বেজার,
চোরের মায়ের বড় গলা,
লজ্জা নেই তো বিন্দুমাত্র,
খায় যে তারা দুধ আর কলা।

ডান-বাম আজ অভিন্ন হৃদয়
তাই মন্দ কাজের হয় না বিচার
ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতা বলে
হয় না সাজা পায় পুরস্কার।

ক্লিনচিট দিল বড় মহাজন
ছোট মহাজন যে জিয়ন কাঠি
নব উদ্দমে বাঁধলো কোমর
বঙ্গে, শীল্প নাশে সব-ই মাটি।

এটাই মোদের সোনার ভারত,
তারি মাঝে এই বঙ্গদেশ।
মরুদ্যানের আজ এ কি দৃশ্য,
বাড়ছে হতাশা - দুঃখ ক্লেশ।
রাত পোহালে পক্ষ শেষ,
শহর গঞ্জে নেই তো ঘুম।
সন্ধ্যা হলেই অশুভ গ্রাসে
গা ছম্-ছম্ রাত নিঝুম।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এপার বাংলা ওপার বাংলা
মাঝখানে তার দাগ।
স্বার্থের দুনিয়া স্বার্থের লাগিয়া---
করেদিল দুই ভাগ।
পূরব পশ্চিম দু’পারেতে---
কোটি মানুষের বাস।
সবার বুকে স্বপন এক
একই মনের আশ।
এক ভাষাতে দুঃখ বিলাপ
মান অভিমান খেলা।
বাউল গানের মিঠে সুরে
ভাসাই “জীবন ভেলা”।
এই ভাষাতে বাদ-বিবাদ,
প্রেম নিবেদন, সবি।
এক ভাষাতে দুই পারেতে---
কবিতা লেখেন কবি।
খাওয়া পরা ভিন্ন নয়
সব কিছুতেই মিল।
“হিন্দু ওরা, মুসলীম ওরা”,
বিষিয়ে চলেছে দিল।
বাংলা ভাষায় মাকে ডাকি
চাই তাঁরই আশিষ।
ভাঙতে মাকে ঢেলো না আর
সাম্প্রদায়িক বিষ!
কবি মহম্মদ
বসীরউদ্দিন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সাম্প্রদায়িক বিষ কবি মহম্মদ বসীরউদ্দিন (জন্ম ১০.৪.১৯৫১)।
কবি এই কবিতাটি আমাদের ইমেলে পাঠিয়েছিলেন।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আজ হরতাল আজ সব চাকা বন্ধ
ইসস, কেটে গেল প্রগতির সব ছন্দ
ব্যাটা চাষাগুলো বড় বদ, বড় মন্দ, খুব মন্দ
পেটেতে খাবার নেই তবু চোখেতে আগুন
দধীচির হাড় জ্বলে, শীত বা ফাগুন
আরে- এত লড়াইয়ের প্রয়োজন কিছু আছে
হাত জোড় মাগ না রাজার কাছে
আহ রাজা, ভালো রাজা বেশ রাজা
সোনার চেয়ারে বসে খায় খাজা
রাজা খুব দয়ালু বিরাট হৃদয়
কিন্তু যখন তখন ঘুম ভাঙালে কি হয়?
রাজা রেগে গিয়ে কামড়ে দিলে
দোষ দিওনা তখন সকলে মিলে
চাষী ভাই-- ও চাষী ভাই
এখন মুখোশ পরে অনেকেই কাছে আসবে
আদরে চুমুতে অনেকেই ভালোবাসবে
মনের মাঝে আগুনটাকে জ্বালিয়ে রেখো
শুধু নিজের অভিজ্ঞতার আলোয় নিজে শেখো
কবি কল্যাণ সেন
বরাট
সোনার ফসল ফলায় যে জন কবি কল্যাণ সেন বরাট (জন্ম ২২.৮.১৯৫১)।
কবির
ফেসবুক পাতা . . .। কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতীপূর্ণ কবিতা।
.
সোনার ফসল ফলায় যে জন আহার তাহার জোটেনা
ফুলের চাষীর বাগানে রক্ত গোলাপ থাকেনা
রক্ত গোলাপ বাঁচিয়ে রেখো বুকের ভিতরে
কাঁটাগুলো ফেলোনা, কাজে লাগতে পারে
খবরদার-- আত্মহনন নয়--
বরং কবর খনন করে রেখো তাদের তরে
যাদের জন্যে এমন হয়
আজ হরতাল-- আজ সব চাকা বন্ধ
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যে ছেলেটা চায়ের দোকানে এঁটো কাপ ধুচ্ছে রাস্তার ধারে, তাকে ডাকুন।
তার কানে কানে বলুন সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাং,
হ্যাঁ, বেশ সুন্দর করে বলুন, যে মেয়েটা চাকরীর নাম করে
বনগা কিংবা চাকদা থেকে রোজ সকালের ট্রেনে সেজেগুজে
শহরে আসছে, শরীর বেচে চাল, ডাল, নুন কিনতে, তাকে ডাকুন
তার কানে কানে সুরেলা কণ্ঠে বলুন সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
যে ছেলেটি লটারির টিকিট নিয়ে দরজায় দরজায় ঘুরছে আর বলছে
বিশ্বাস করুন, আমি ভদ্রলোক, আজ ১০ বছর হল আমার
কারখানা বন্ধ, লকৃআউট, তাকে ডাকুন, তার কানে কানে
বলুন, বল বল বল সবে শতবীণা বেণুরবে ভারত আবার
জগত্সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।

রাতের আকাশ-কাঁপিয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলে, যে মা
আজও লণ্ঠন হাতে টালির ঘরে দরজায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন
তাঁর খোকন ফিরে আসবে বলে। যে খোকনকে এমনই
এক বর্ষার উন্মত্ত রাতে কালো গাড়ির পুলিশ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল
আর বরানগরের রাস্তায় ভোরের ঘুম-ভাঙা
কুকুর প্রথম দেখেছিল যার গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ,
সেই মাকে ডাকুন, তাঁর কানে কানে বলুন,
হাম বুলবুলি হ্যায় ইসকি ইয়ে গুলশিতাঁ হামারা, সারে যাঁহা . . . হামারা।
কবি শুভ দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সার্থক জনম কবি শুভ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৫১)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত “শুধু আবৃত্তির জন্য”
কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া। আবৃত্তি শুনুন আনিন্দিতার কণ্ঠে। ভিজিওটি সৌজন্যে
অনিন্দিতা॥ Anindita YouTube Channel.
.
সবাইকে সব কিছু বলা শেষ হলে, সুনসান শীতের রাতে
পাঁচমাথার মোড়ে ঘোড়ায় চড়ে বসা সেই মহাবিপ্লবীর
পায়ের সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান
ফাঁকা রাস্তায় রাতের বাতাসে কান পাতুন
শুনতে পাবেন সেই বিপ্লবী পুরুষের বজ্রকণ্ঠ
আমি তোমাদের কাছে রক্ত চেয়েছিলাম
তোমাদের স্বাধীনতা এনে দেব বলে, আমি পারিনি
কিন্তু আমি আমার সমস্ত জীবন উত্সর্গ করেছি।

আর তোমরা? --- তোমরা??
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
অরুণ বরুণ কিরণমালা
জীবন মানেই বড্ড জ্বালা
অরুণ বরুণ কিরণমালা
কেউ দেবে না ফুলের মালা
অরুণ বরুণ কিরণ মালা
খিদের দুপুর শূন্য থালা
অরুণ বরুণ কিরণ মালা
মায়ের দু’চোখ কান্না ঢালা
কোথায় যাবি অরুণ বরুণ
কোথায় যাবি কিরণ মালা
বাঁচা মানেই কাঁটার জ্বালা
ভাষণে কান ঝালা পালা
কোথায় যাবি কিরণ মালা
কোথায় যাবি অরুণ বরুণ
চারটে দশক শুনেই যাচ্ছি
হচ্ছে হবে, সবুর করুণ।
কবি শুভ দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অরুণ বরুণ কবি শুভ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৫১)। ২০১২ সালে প্রকাশিত, কালিদাস ভদ্র সম্পাদিত,
“আবৃত্তির সেরা ছোটদের ছড়া ও কবিতা” সংকলের কবিতা। আবৃত্তি শুনুন প্রিয়দর্শী ব্যানার্জীর কণ্ঠে।
ভিজিওটি সৌজন্যে
Srinivas Music YouTube Channel.
.
অরুণ বরুণ কিরণ মালা
তোদের পাঁজর জ্বালছে কারা ?
সেই আগুনে কাদের আলো ?
সেই আগুনে কাদের ভালো ?
ধার দে নখে ধার দে দাঁতে
ঘুমোস না এই অন্ধ রাতে
এ দেশ জুড়ে আগুন জ্বালা
এ দেশ জুড়ে আগুন জ্বালা
অরুণ বরুণ কিরণ মালা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পরম আকাঙ্ক্ষিত আগুন। বহুদিন ঘরছাড়া তুমি।
কতবার কতভাবে চেষ্টা করেছি, তোমার খোঁজ পেতে।
পাইনি, তুমি জানো কত চিঠি লিখেছি তোমার নামে
কতবার কাতর ডাক পাঠিয়েছি তোমার উদ্দেশে।
আগুন,
তুমি থেকে গেছ ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এই শ্রান্ত দেহ মনের ক্লান্ত ছায়া থেকে,
বহুদূরে প্রিয়তম আমার,
আজ তোমাকে আহ্বান করছি আমার হৃদয়ে,
আমাদের হৃদয়ে।
তোমাকে ডাক পাঠাচ্ছে আমার সময়-স্বজন-স্বদেশ।
বহুদিন কোনো খবর পাই না তোমার।
কোথায় হারালে আগুন ? কোথায় ?
মহাবিশ্বের মহাকাশের সৃষ্টির প্রথমতম মুহূর্তের ক্রান্তিলগ্নে
তোমাকে দেখেছি।
সূর্য সম্ভূত এক প্রাণময় মর্ত্যলোকে জন্মমুহূর্ত থেকে,
দেখেছি তোমাকে।
প্রবলতম উত্তাপে, ভীষণতম বিধ্বংসী উন্মত্ততায়,
নিবিড়তম সৃজনের দূর প্রভাবী ছন্দে, দেখেছি তোমাকে আগুন।
তিনভাগ চোখের জল আর একভাগ বেঁচেবর্তে থাকার আনন্দিত সবুজ নিয়ে
আমাদের এই জীবন নামের নাট্যশালায় তুমিই প্রথম আলোক সম্পাত।
কবি শুভ দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ফিরে এসো আগুন কবি শুভ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৫১)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত “শুধু আবৃত্তির জন্য”
কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া। ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে
Bratati Banerjee - Topic Youtube Channel.
.
মনে পড়ে
অদূর অতীতের সেই আর্তনাদক্লিষ্ট শ্মশানভূমি,
জ্বলছে চিতা, জ্বলছে মৃত মানুষ,
আর চারপাশের ঢাক-ঢোল-কাঁসর-ঘন্টার উন্মত্ত উল্লাসের নেপথ্যে জ্বলছে
জড়ো হওয়া একপাল মানুষের পাশব লোভ।
আর সেই উন্মাদ কালবেলায় নিদারণ চিত্কারে
আকাশ ফাটিয়ে জ্বলে উঠছে,
নিরীহ এক সদ্যবিধবার অনিচ্ছুক দেহ।
মনে পড়ে আগুন, প্রাকৃতিক আগ্নেয় বীভত্সতাকে তুচ্ছ করে
সেদিন সেই হতভাগ্য পরাধীন দেশ দেখেছে এক দুর্নিবার মানবিক আগুন
সে আগুনের নাম রামমোহন।
বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ, কুলীনপ্রথার
বর্বরোচিত দানবীয়তায় যখন ঢেকেছিল মানুষের মুখ,
তখন সারা দেশে দৃপ্ত তেজে
দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া এক আগুনকে
আমরা আজও মাথানত করে জানাই প্রণাম,
সে আগুণ---ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

তোমাকে দেখেছি ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাইএর
শোণিত পিপাসু তরবারির ঝলকে।
তোমাকে দেখেছি তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা দুর্দমনীয় দুঃসাহসে।
তোমাকে দেখেছি জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংসতায়।
কখনও তুমি বুড়িবালামের তীরে জ্বলে ওঠা বাঘাযতীন।
কখনও তুমি রাইটার্স বিল্ডিং কাঁপিয়ে দেওয়া রিভলভারের প্রচণ্ড শব্দে
বিনয়-বাদল-দীনেশ।
কখনও তুমি বহুদূর বিদেশের মাটি থেকে হাজার হাজার।
সৈন্যের নেতৃত্ব দিয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল চুরমার করতে এগিয়ে আসা
নেতাজী সুভাস।

তোমাকে দেখেছি আগুন, বারবার সুজলা সুফলা এই মায়াময় দেশের
ঘাসে ঘাসে, নদী-পাহাড়ে-অরণ্যে-শহরে-গ্রামে-গঞ্জে-হাটে।
প্রিয় আমার,
শিকাগো বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে তুমি হিরন্ময় হয়ে উঠেছিলে
স্বামী বিবেকানন্দের বিশ্বজয়ী বেশে।
. . . “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে”  . . . বলে বজ্র কণ্ঠে
দীপ্যমান তুমি বিশ্বকবি রূপে।
তোমাকে দেখেছি স্বাধীন মাটিতে,
খাদ্যের দাবীতে গ্রাম শহরের গরীব মানুষের,
লাঠি গুলি বেয়নেটের খাদ্যে পরিণত হওয়া মিছিলে।
তোমাকে দেখেছি তেভাগায়, তোমাকে দেখেছি তেলেঙ্গানায়,
তোমাকে দেখেছি আগুন বারবার অসংখ্যবার, হে আমার প্রিয়,
বহুদিন আর দেখা হয় না তোমার সাথে,
চারপাশের গাঢ় অন্ধকার ক্রমশ গাঢ়তর।
শেষবার তোমায় দেখেছিলাম,
ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলা গান গাইতে গাইতে
উত্তাল সত্তরের উন্মাদ স্বদেশে, শহরে গ্রামে কাছে দূরে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বেগে পৌঁছে গিয়েছিলে
বীরভূম, বাঁকুড়া, বিহার, অন্ধ্র, আসাম . . .। আর দেখা হয়নি,
বহুদিন আর দেখা হয়নি, চারপাশে গাঢ় অন্ধকার গাঢ়তর হয়ে উঠছে।
আমার সময়, আমার স্বজন, আমার স্বদেশ,
তোমায় খুঁজছে, ভীষণভাবে খুঁজছে।
ফিরে এসো আগুন
ফিরে এসো
ফিরে এসো।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমিই সেই মেয়ে।
বাসে ট্রেনে ট্রামে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন
যার শাড়ি, কপালের টিপ, কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি
আপনি রোজ দেখেন।
আর
আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন।
স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন।
আমিই সেই মেয়ে।
বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে দিনের আলোয় যার ছায়া মাড়ানো
আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ, আর রাতের গভীরে যাকে বস্তি থেকে
তুলে আনতে পাইক বরকন্দাজ পাঠান আপনি
আর সুসজ্জিত বিছানায় যার জন্য অপেক্ষায় অধীর হয়
আপনার রাজকীয় লাম্পট্য
আমিই সেই মেয়।
আমিই সেই মেয়ে---আসামের চাবাগানে ঝুপড়ি কামিন বস্তি থেকে
যাকে আপনি নিয়ে যেতে চান সাহেবী বাংলোয় মধ্য রাতে
ফায়ার প্লেসের ঝলসে ওঠা আলোয় মদির চোখে দেখতে চান
যার অনাবৃত শরীর
আমিই সেই মেয়ে।

রাজস্থানের শুকনো উঠোন থেকে পিপাসার জল আনতে যাকে আপনি
পাঠিয়ে দেন দশ মাইল দূরে সরকারি ইঁদারায়---আর কুড়ি মাইল
কবি শুভ দাশগুপ্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমিই সেই মেয়ে (এক) কবি শুভ দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৫১)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত “শুধু আবৃত্তির
জন্য” কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া। ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন, ভিডিওটি সৌজন্যে  
বাংলা বিনোদন - Bong Entertainment
YouTube Channel.
.
হেঁটে ক্লান্ত বিধ্বস্ত যে রমণী ঘড়া কাঁখে ঘরে ফিরলেই যাকে বসিয়ে দেন
চুলার আগুনের সামনে আপনার রুটি বানাতে
আমিই সেই মেয়ে।

আমিই সেই মেয়ে---যাকে নিয়ে আপনি মগ্ন হতে চান গঙ্গার ধারে কিংবা
ভিক্টোরিয়ার সবুজে কিংবা সিনেমা হলের নীল অন্ধকারে, যার
চোখে আপনি এঁকে দিতে চান ঝুটা স্বপ্নের কাজল আর ফুরিয়ে যাওয়া
সিগারেটের প্যাকেটের মত যাকে পথের পাশে ছুঁড়ে ফেলে আপনার ফুল সাজানো
গাড়ি শুভবিবাহ সুসম্পন্ন করতে ছুটে যায় শহরের পথে---

কনে দেখা আলোর গোধুলিতে একা দাঁড়িয়ে থাকা
আমিই সেই মেয়ে।
আমিই সেই মেয়ে---এমন কি দেবতারাও যাকে ক্ষমা করেন না। অহংকার
আর শক্তির দম্ভে যার গর্ভে রেখে যান কুমারীর অপমান
আর চোখের জলে কুন্তী হয়ে নদীর জলে
বিসর্জ্জন দিতে হয় কর্ণ কে। আত্মজকে।
আমিই সেই মেয়ে।

সংসারের অসময়ে আমিই ভরসা।
আমার ছাত্র পড়ানো টাকায় মায়ের ওষুধ কেনা হয়।
আমার সমস্ত শরীর প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে।
কালো আকাশ মাথায় নিয়ে
আমি ছাতা হয়ে থাকি
ছাতার নিচে সুখে বাঁচে সংসার।

আপনি
আপনারা
আমার জন্য অনেক করেছেন।
সাহিত্যে কাব্যে শাস্ত্রে লোকাচারে আমাকে
মা বলে পুজো করেছেন।
প্রকৃতি বলে আদিখ্যেতা করেছেন---আর
শহর গঞ্জের কানাগলিতে
ঠোঁটে রঙ মাখিয়ে কুপি হাতে দাঁড় করিয়েও দিয়েছেন।
হ্যাঁ, আমিই সেই মেয়ে।
একদিন হয়তো
হয়তো একদিন---হয়তো অন্য কোনো একদিন
আমার সমস্ত মিথ্যে পোষাক ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে
আমিই হয়ে উঠবো সেই অসামান্যা
খোলা চুল মেঘের মতো ঢাকবে আমার খোলা পিঠ।
দু চোখে জ্বলবে ভীষণ আগুন।
কপাল ঠিকরে বেরুবে ভয়ঙ্কর তেজরশ্মি।
হাতে ঝলসে উঠবে সেই খড়গ।
দুপায়ের নুপূরে বেজে উঠবে রণদুন্দুভি।
নৃশংস অট্টহাসিতে ভরে উঠবে আকাশ।
দেবতারাও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে বলতে থাকবেন
মহামেঘপ্রভাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাং
কালিকাং দক্ষিণাং মুণ্ডমালা বিভূষিতাং॥
বীভত্স দানবের মত
আমি এগোতে থাকবো! আর আমার এগিয়ে যাবার পথের দুপাশে
মুণ্ডহীন অসংখ্য দেহ ছট্ ফট্ করতে থাকবে---
সভ্যতার দেহ---
প্রগতির দেহ---
সমাজের দেহ
হয়ত আমিই সেই মেয়ে! হয়তো! হয়তো বা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
উত্তর সহজ সরল---
মানি না, মানি না তোমার ছল।

বিনা বিচারে রেখেছ যাদের আটক
চাই মুক্তি, মুক্ত, উদ্যত এই হাত।

কবেকার সেই ডাক---
'কারার ওই লৌহ কপাট...”

ভাঙবার আগে খোল
দাবী সহজ সরল অকপট।
কবি অলোক সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
হুশিয়ার
কবি অলোক সেন (জন্ম ২.১.১৯৫২)।
২০১৯ সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত
করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সবার জন্যে চাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
আর কিছু ভাববার
.                   আজ আর
.                           নেই অবকাশ তো
সবার জন্যে চাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য॥

ঠিক শিক্ষার অভাবে
লাখো প্রাণ ঝরে যায় কিভাবে
.                  যদি জানতে
অহমিকা---- বেড়াজাল ভাঙতে
অন্ধজনে দিতে আলো
মৃত্যুর বিষদাঁত যতই হোক না কেন ধারালো
.                  কিছুটা তো পিছু হটতো
তাই কিছু ভাববার
.                  আজ আর
.                         নেই অবকাশ তো
সবার জন্যে চাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য॥

তাই বলি সাথী আজ আলো জ্বাল্
সে আলোয় যাক পুড়ে
দেহের বা চেতনার স্তরে স্তরে
.                   জমা যত বীজাণুর জঞ্জাল।
কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সবার জন্যে চাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কথা ও সুর - কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় (জন্ম ২৫.৫.১৯৫২)। আমরা
গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। কলকাতার
স্টুডেন্টস হেলথ হোম আয়োজিত পদযাত্রা ৮৬’র প্রাক্কালে রচিত। ভিডিওটি সৌজন্যে
INRECO BENGALI YouTube Channel.
.
শুধু, সুস্থ দেহই পারে
নিতে ঠিক শিক্ষায় দীক্ষা।
দেশে দেশে
এই দীক্ষিত জনতাই --- অবশেষে
এনেছে অপুষ্টি নামে
.                   দানবের শেষ নিঃশ্বাস তো
আর কিছু ভাববার আজ আর
.                   নেই অবকাশ তো
সবার জন্যে চাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
স্বপ্নলোক হতে রূঢ় বাস্তবের পথে
কথা ও সুর – অনুপ মুখোপাধ্যায়
সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসংগীত সংগ্রহ” থেকে
নেওয়া   

স্বপ্নলোক হতে রূঢ় বাস্তবের পথে
এসো মিলি জীবনের মিছিলের সাথে
বিশ্বমানবতার পতাকা উড়ছে দ্যাখো ঐ
.                    লাখো জনতার হাতে॥

লক্ষ প্রাণবন্ধকারার অন্তরালে
আজো ধুঁকে মরে ডাণ্ডাবেড়ী
.                ----বিনা বিচারের আঁধারে
মুক্ত কন্ঠে তোলো এ আওয়াজ---
একটি রাতও কাটাবো না বিনা বিচারে
.                   কোনো থানা লক-আপে॥

পৃথিবীর অন্ন বস্ত্র শিক্ষা আশ্রয়
হবে দিতে হবে লক্ষকোটি ----
.                ----মাটি মাতারই সন্তানে
মুক্ত কন্ঠে তোলো এ আওয়াজ—
এ দাবির কন্ঠরোধী কালা-আইনে
জ্বালাবোই দু-হাতে॥
কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বপ্নলোক হতে রূঢ় বাস্তবের পথে কথা ও সুর - কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় (জন্ম ২৫.৫.১৯৫২)। আমরা
গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। ভিডিওটি
সৌজন্যে
INRECO BENGALI YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও মোর দেশভাই
সকল ভারতমাতার সুসন্তানে
.        ডাক দিয়ে যাই
.        শোনরে সবাই—
ওরে মানুষ কেবল মানুষ শুধু
জাতের কোনো বালাই নাই
মোদের ধমনীতে যে খুন বহে
লাল ছাড়া কোনো রঙই নাই
ও মোর দেশভাই—
বঙ্গদেশে জন্ম হলেও
অসমীয়া মোর ভাই
শোনরে সবাই
ওরে মানুষ কেবল মানুষ শুধুই
জাতের কোনো বালাই নাই
মোদের ধমনীতে যে খুন বহে
লাল ছাড়া কোনো রঙই নাই---

পাহাড় মোরে হাতছানি দেয় যখন
মাদলের তালে তালে
বিহুসুরের নেশায় দোলে এ মন
ভেদাভেদ সব ঘুচে যায়
জাতের বালাই কোথায় পালায় !
কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও মোর দেশভাই কথা ও সুর - কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় (জন্ম ২৫.৫.১৯৫২)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে
প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
প্রেমহীন জাতের বিচার
শোষণেরই হাতিয়ার
.        বোঝে মন ঠিক তখন
ওরে মানুষ কেবল মানুষ শুধুই
জাতের কোনো বালাই নাই
মোদের ধমনীতে যে খুন বহে
লাল ছাড়া কোন রঙই নাই
ও মোর দেশভাই
এক প্রদেশে জন্ম হলেও
ভিন-রাজ্যবাসীও মোর ভাই
শোনরে সবাই----
এ দেশের মাটি নদী পাহাড়
কারখানা ক্ষেত খামার
গ্রাম শহর সবই তোমার আমার
বিভেদের শক্তি যে আজ
উদ্যত ভাঙতে স্বরাজ
ধ্বংস করতে তারে
একতার অঙ্গীকারে
মিলবেই কোটী প্রাণ মন
ওরে সবার উপর মানুষ সত্যি
জাতের কোনো বালাই নাই
মোদের ধমনীতে যে খুন বহে
লাল ছাড়া কোনো রঙই নাই
ও মোর দেশভাই –
উত্তরেতে জন্ম হলেও
দক্ষিণীরাও মোর ভাই
শোনরে সবাই---
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যদিও সমুখে দুর্গম বালুচর
মুক্তির দেশ ঐ দেখা যায় ওপারে
আর নয় কান্না নবযুগ প্রভাতে
পথেরই এ বাধা সরাবোই দু হাতে।

চলিতে এ পথে বিঁধবেই কাঁটা পায়ে
এ শুধু দুদিনের থেমো না হতাশায়
ফুলেরই সুবাসে যদি চাও হাসিতে
ভেঙো না সাথী আজ কাঁটারই আঘাতে।

কালো মেঘ আকাশে বিজলী চমকায়
ঘনঘোর বরষায় চেতনা পথ হারায়
ছেড়ে সব সংশয় নীচতা বৃথা ভয়
কাটাবোই এ আঁধার একতার আলোতে।
কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যদিও সমুখে দুর্গম বালুচর কথা ও সুর - কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায় (জন্ম ২৫.৫.১৯৫২)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত
সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ও মন্ত্রীমশাই গো
জলই জীবন মানো ঠিকই গো
হায়রে হায় !
( সেই ) জল তোমার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নাই !
বৃষ্টি পড়ে নদীও যে বয়
হায়রে হায়
জল তোমার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নাই
তাই আজও মোরা জল খেতে পাই।
জল ছাড়া বাঁচে না মানুষ
( আর ) খাদ্য ছাড়াও বাঁচে না মানুষ
.                     জানো ঠিকই গো
কিন্তু বেকার হয়ে থাকলে পড়ে
খাবার বলো আসবে কি করে?
খাদ্য ছাড়া বাঁচে না মানুষ।
কবি অনুপ
মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ও মন্ত্রীমশাই গো কথা ও সুর - কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় (জন্ম ২৫.৫.১৯৫২)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০
সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন
পাবলিক সেক্টর-এ কম্পিউটার অধিগ্রহণ ও কর্মসংস্থান সংকোচন নীতির বিরূদ্ধে রচিত এ গান।
.
দেশের যত চাকরি তোমার নিয়ন্ত্রণে গো
( তবু ) বেকার করে রাখলে কেন গো?
যন্ত্রদানব আসলো বলে গো
বেকার ছিলাম বেকার রবো গো?
( হায় ) দেশের যত চাকরি তোমার নিয়ন্ত্রণে গো
তাই বেকার করে রাখলে বুঝি গো?
মা বোনেদের বস্ত্র নাই
কচি খোকার দুধ নাই
ঘরে মোদের ইজ্জত নাই গো !

ও মন্ত্রীমশাই গো
জনগণের ভোট বাগিয়ে গো
বেকার করে রাখলে মোদের গো
এর প্রতিদান পাবে ঠিকই গো---
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ভেবে দেখো, সময় তো নেই
যাবার বেলা শেষ খেলা
মৃত্যু দাঁড়িয়ে
যুদ্ধের দাদামা বাজে,
মাঠে ঘাটে জ্বলছে দাবানল,
পিছোবার পথ নেই
কথা দেওয়া আছে।
মৃত্যু আসছে পিছে পিছে
পালাবার চেষ্টা মিছে
মাঠে ঘাটে এসেছে জোয়ার
দাম্ভিক, থাকো দূরে
চৃর্ণ হোক শেষ অহংকার।
যুবতী নারী ধর্ষণে ধর্ষণে
হচ্ছে ক্ষীণ
মৌন মুক শব্দহীন
শিশুদের জরাসন্ধ করে
ভাসাও নদীর জলে
না গর্ত খুঁড়ে!
অনেক উঁচুতে উঠতে চাও।
তাকাও না পিছনে ফিরে
জ্বলছে শ্মশানে চিতা অনেক
এবার জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড
কার অপেক্ষায়!
কবি ডলি মিদ্যা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অহংকারের চিতা কবি ডলি মিদ্যা (৬.৮.১৯৫২ - ২৮.১.২০১০)।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে এই কবিতাটি দুর্গাদাস মিদ্যা সম্পাদিত
“আরাত্রিক” পত্রিকার প্রতিবাদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওরা বদলাতে চেয়েছিল রাত্রিটাকে
ভেবেছিল ছিঁড়ে আনবে নতুন সকাল।
জোটবদ্ধ সারি দিয়ে
দৃঢ়বদ্ধ সিদ্ধান্তে ব্যালটের মধ্য দিয়ে
নিশ্চিন্তে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

বদলে গেল রাজা। কিন্তু অবাক
বদল হ'ল না ওদের হাঁড়ির হাল।
আজও মাথার উপরে নিরাপত্তার স্তম্ভ নেই
মানুষের দাবিতে বেঁচে থাকার
দম্ভ নেই। যেন সূতোর খেই
হারাচ্ছে আজকাল।

এখনও অন্ধকার ঘর
রাত্রির আগমনে
এখনও রুগ্ন শিশুরা
ঘুরে দুমুঠো অন্নের সন্ধানে।

এখনও বন্ধ শিক্ষার দরজা
কতটুকু পাওয়া যায়
কতটুকু পাওয়া উচিৎ
দিনরাত শুধু তার সূত্রটুকু খোঁজা।
কবি ডলি মিদ্যা
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নির্বাচন কবি ডলি মিদ্যা (৬.৮.১৯৫২ - ২৮.১.২০১০)। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতা।
.
এখনও বেআব্রু যৌবন
উঁকি মারে জীবনের কিনারে
এখনও পথ্যহীন শিশু নিঃসাড়
পড়ে থাকে ধুম জ্বরে।

অথচ এরাও ছিল একান্ত
অনুগত গণতন্ত্রের সৈনিক
মতামত জানিয়েছে চটের আড়ালে
ঘিরে থাকা আলাদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শোন কাকদ্বীপ রে
এই চন্দনপিড়ি শ্মশানে
অহল্যা মার চিতার আগুন জ্বলেরে।
আহা কিষাণী মার প্রসব যন্ত্রণা
বাতাসে বাতাসে গুমরিয়া কান্দেরে॥
ও সেই অহল্যা মার সন্তান শোন বন্ধু জনম নিল না।
বন্ধুরে --- নতুন শিশু এই ধরণী দেখতে পেল না।

চোখের নোনা জলে সেথায়
.                   সরস হইল মাটি
তারই মাঝে সোনার ফসল
.                   ফলায় আঁটি আঁটি।
আহা সেই ফসল যায় পরের গোলায়
.                   চাষী তো ধান পেল না॥

শোন রক্তে রাঙা সেই ইতিহাস
প্রতিরোধ পণে সারা কাকদ্বীপ বলেছিল ডেকে
আমরা দেব না এমন সোনার ধান।
না না না না দেব না সোনার ধান

রক্তে বুনেছি ফসল মাটিতে রক্তে বুনেছি ধান।
ফসল মোদের মান ফসল মোদের জান
ফসল মোদের ঘরের লক্ষ্মী ফসল প্রাণের গান॥
কবি সাধন গুহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শোন কাকদ্বীপ রে কথা ও সুর - কবি সাধন গুহ (১৮.১১.১৯৫২ - ২১.৪.১৯৯৫)। আমরা গানটি পেয়েছি
১৯৯০ সালে প্রকাশিত সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
শোন তার পর---
এল ঝড় দুরন্ত দুর্বার
মৃত্যুর পদাঘাত সারা কাকদ্বীপ তোলপাড়।
এল যতেক কিষাণ তারা বাজায় বিষাণ
বলে যায় ---- যদি যাক প্রাণ তবু দেব নাকো ধান
তোলপাড় কাকদ্বীপ তোলপাড়॥

শোন যত দেশবাসী শোন সে কাহিনী
বিনা দোষে জীবন দিল অহল্যা কিষাণী।
গর্ভবতী মায়ের বুকে লাগলো সীসের গুলি
অভাগিনী স্বাধীন দেশে দিল জীবন বলি।
মাগো অহল্যা কিষাণী
তোমার খুনে রাঙাই নতুন পথের নিশানই।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জেলের সেলে অন্ধকারে নিহত সেই কিশোর শহীদ
বাপী গুহ’র মা’কে আমি এই মুহূর্তে কি-ই বা দেবো !
বলতে পারি আছে মা গো বাপীর মত লক্ষ বাপী
গ্রাম শহরে তোমায় ঘিরে।
বলতে পারি আছে মা গো বাপীর মতোই সতেজ প্রাণের অধিকারী
.                                                          অনেক ছেলে
এই বাংলার জেলে এবং
কুড্ডালোরে বসে যারা দিন গুণছে রাত্রি ভোরের।
বিমান বুলুর মা’কে এবং দীপক রবির বৌ’কে আমি
কি ভাষাতে সান্ত্বনা দিই !
আমি বলি আজ তোমাদের দু চোখ জুড়ে কান্না মুছে
আগুন জ্বলুক আগুন জ্বলুক আগুন জ্বলুক প্রতিশোধের।
সেই আগুনে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাক্ ওরা সবাই
আজকে যারা অসীমা আর গীতার মত অনেক বোনের মান কেড়েছে
সেই আগুনে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাক ওরা সবাই
আজকে যারা শিপ্রা সাহা অঞ্জলিদি বীথি এবং মালতীদের প্রাণ নিয়েছে।
ঘরে ঘরে যারাই আছ স্নেহময়ী সব মায়েদের ডাক দিয়ে যাই,
সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়া অনাথিনী যারা আছ ডাক দিয়ে যাই,
সব সন্ত্রাস জুলুমবাজীর প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াও---সময় হলো।
ছেলের ভায়ের স্বামীর খুনের বদলা নিতে রুখে দাঁড়াও---- লগ্ন এলো॥
আমরাও তো তোমাদেরই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি প্রতিরোধের
.                                                          এক সারিতে।
কবি সাধন গুহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাহাত্তরের বিবৃতি কথা ও সুর - কবি সাধন গুহ (১৮.১১.১৯৫২ - ২১.৪.১৯৯৫)। আমরা গানটি পেয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত
সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত ও সংকলিত গণসংগীত সংগ্রহ সংকলন থেকে।
.
বাপ বেটা ও মায়ে ঝিয়ে ভাই বোন ও স্বামী স্ত্রীতে এক লড়াইয়ে
এক লড়াইয়ে সামিল হয়ে সাত সমুদ্র তেরো নদীর উথাল পাথাল
.                                                         ঢেউয়ের বেগে
প্লাবন এনে প্লাবন এনে প্লাবন এনে ভাসিয়ে দেব সারাটা দেশ।
কে দাঁড়াবে সামনে এসে এই জোয়ারের গতিকে রোধ করবে বলে---
হিটলার কি মুসোলিনীর মারণমন্ত্রে দীক্ষিত সব নতুন সেনা ?
তা-ই তবে হোক মুখোমুখি অন্ধকার আর আলোর সাথে মোকাবিলা
বিভীষিকার গুরুরা তো আস্তাকুঁড়ে ঠাঁই নিয়েছে অনেক আগেই
এবং তাদের শিষ্যদেরও একই পথে এগিয়ে দেবার দায়িত্বটা আমাদেরই।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
উদ্দীপক জীবন চলেছে
আশার ডানার ভর দিয়ে,
পূর্ব দিগন্তে নীল পাহাড় পেরিয়ে
.               লাল-সূর্যের অভিষেকে॥
সমস্ত বর্ষার রাত শেষ হয়ে
হেমন্তের শিশিরে সিক্ত ধানের স্বপ্ন নামে
.               কৃষকের চোখে।
স্বপ্নের চোখ ভরে নেমে আসে
বঞ্চিত অশ্রু শোষণের তাপে---
এখানে উত্সবহীন নবান্নে
দীর্ঘতম প্রহরে কৃষকের দীপ্ত শপথ,
.                বসন্তের লড়ায়ে উজ্জ্বল
আগামী নবান্নের আশ্বাসে
মুক্তিযোদ্ধার পদক্ষেপে॥
কবি সাধন গুহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নবান্নের আশ্বাসে কবি সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫২ - ৭০এর দশক)।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, “সত্তরের শহীদ লেখক
শিল্পী”, থেকে নেওয়া।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সত্তর সালের বসন্ত এলো
যখন শীতের কুয়াশার বিষণ্ণতা
যক্ষা রুগীর মত আলো চাইছে,
বাতাসে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাইছে
চিমনির মুখ দিয়ে অনবরত কালো ধোঁয়া
.               যেন, রক্ত আর ঘামের ধূপ
.                        জ্বালিয়েছে !
সত্তর সালের ফাগুনে
কোকিল-কন্ঠে প্রেমিকের সুর
.             আমায় ভালবাসো,
.                প্রিয়তমা, ভালবাসো আমায়
.                  আর আমাদের ভাবনার সুরকে !

সুর যে বড় কঠোর।
গান যে বড় নির্মম।
ভালবাসার অধিকার
পৃথিবীর দেশে-দেশে
.        প্রিয়তমা, তোমার ভালবাসা এমনিই !

তোমার সোনা বৌদির কথা মনে আছে !
অহল্যার কথা শোননি
প্রিয়তমা, সেদিনের কথাও তো তোমার মনে আছে
যেদিন বসন্তের নির্ঘোষ উত্তরের মেঘে-মেঘে,
কবি সাধন গুহ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পথ চলার গান কবি সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫২ - ৭০এর দশক)। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, “সত্তরের
শহীদ লেখক শিল্পী”, থেকে নেওয়া।
.
.        আর তরায়ের কন্যার উলুধ্বনি?
ওটা তোমার সন্ধ্যা প্রদীপ নয়,
ওটা হলো মশালের আলো ;
তোমার শুনতে ভুল হয়েছে ---
ওটা নয় উলুধ্বনি, ওটা
.        নির্মলার হাতে
.        রাইফেলের গর্জন !
২.
আমি তো সেই তোমার প্রেমিক,
যে এক দীর্ঘ রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে,
.      চলেছে সূর্যস্নানে ;
তুমি তার সূর্যস্নাত প্রিয়া হবে না?

সবুজ মাঠ আর জঙ্গল,
সাঁওতাল পরগণা, অন্ধ্র
আরও অনেক ঘুরে একটা শব্দ
ভয়ংকর বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি তুলে চলেছে,
চলেছে সত্তরের বসন্তকে নিয়ে
তোমার-আমার ভালবাসাকে নিয়ে !

থাক, প্রিয়তম,
আমার ভালবাসা ঐ ছোট্ট নীড়ে নয় ;
একটা স্বপ্ন ----- বাঁচার সুন্দর ছন্দকে
আনতে আমি চলেছি পথ হেঁটে
আমি খুঁজে---- পাবই।
বসন্তের প্রেমিক
এখন রক্তের আলপনা আঁকছে
গ্রাম-জনপদ ঘিরে
.  দূর হতে দূর
.  দূর হতে নিকটে
.    গোল হয়ে, তারপর
.      ছোট্ট হতে হতে
.        অন্ধকারের বাদুড়ের
.          রাত শেষে
.            এক ছোট্ট নীড়ে !
প্রিয়তমা, যদি সেদিন না থাকি,
আর যদি, সেদিন বসন্ত আসে,
আমার রাইফেলের ভাষাকে তুমি সুর দিও ;
মনে রেখো, আমি পথ-চলার গান
.                     ভালবাসতাম !
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নাম আমার আলীবাবা, বয়স আমার দশ,
আজকে দিনটা বড়, আজকে যিশু দিবস।
চারটে মুরগী ছাড়ালে, একটা টাকার নোট,
ওই কালো ড্রামের ভেতর ওরা করছে যে ছট্ ফট্।
নাম আমার আলীবাবা, বড়দিনের ভীড়।
তাই রক্তে মাখা মাখি আমার সারাটা শরীর।
শীত যে আমার করছে না কো, নেই যে অবকাশ,
আটতিরিশটা পাখি মানে ন টাকা পঞ্চাশ।
রাতের বেলায় ফিরে এসে চাচার পিঠ মালিশ,
নেই যে আমার বিছানা, নেই যে বালিশ।
তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে।
স্বপ্ন দেখি, ঘুড়ি ওড়াই টানা আকাশে।
কান্না আমার যাচ্ছে কমে, বাড়ছে যে সাহস,
নাম যে আমার আলীবাবা, বয়স এখনো দশ।
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আলীবাবা কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। গানটির
ভিজিওটি সৌজন্যে
Saregama Bengali YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব
বলেছে পাড়ার দাদারা
অন্য পাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই ।
রঞ্জনা, আমি আর আসবো না।

ধর্ম আমার, আমি নিজে বেছে নিই নি,
পদবীতে ছিলনা যে হাত।
মসজীদে যেতে হয়,
তাই যাই বছরে দু এক বার।
বাংলায় সত্তর পাই আমি একজ্যামে,
ভালো লাগে খেতে মাছ ভাত।
গাঁজা সিগারেট আমি কোনটাই খাই না,
চড়তে পারি না আমি গাছ।

চশমাটা পড়ে গেলে মশকিলে পড়ি,
দাদা আমি এখনো যে ইস্কুলে পড়ি।
কবজির জোরে আমি পারবো না।
পারবো না হতে রোমিও,
তাই দুপুর বেলাতে ঘুমিও।
আসতে হবে না আর বারান্দায়।
রঞ্জনা, আমি আর আসবো না।
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রঞ্জনা কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। গানটির ভিজিওটি সৌজন্যে Saregama Bengali YouTube Channel. ১৯৯৪ সালের কবির "শুনতে কি চাও"
অ্যালবামের এই গানটি, প্রায় ৩৫-৪০ বছর পর, হিন্দুত্ববাদীদের লিঞ্চিং-রাজনীতির সৌজন্যে যেন আরও প্রাসঙ্গিক হয় উঠেছে! কবির ভীষণভাবে জনপ্রিয় গানগুলির অন্তরনিহিত
বক্তব্য যেন আজ বাঙালী ও সারা ভারতবাসীর মজ্জায় মজ্জায় আরও জোরে আঘাত করছে!   
.
বুঝবো কি করে আমি
তোমার ঐ মেজ দাদা,
সুধু যে তোমার দাদা নয়।
আরো কত দাদাগিরি, কবজির কারিগরি,
করে তার দিন কেটে যায়।
তাও যদি বলতাম হিন্দুর ছেলে
আমি নীলু বিলু কিম্বা নিতাই,
মিথ্যে কথা আমি বলতে যে পারি না,
ভ্যাবাচ্যাকা খাই।

চশমাটা পড়ে গেলে মশকিলে পড়ি,
দাদা আমি এখনো যে ইস্কুলে পড়ি।
কবজির জোরে আমি পারবো না।
পারবো না হতে রোমিও,
তাই দুপুর বেলাতে ঘুমিও।
আসতে হবে না আর বারান্দায়।
রঞ্জনা, আমি আর আসবো না।

সত্যিকরের প্রেম জানিনা তো কি
সে তা জাচ্ছে জমে হোম টাস্ক,
লাগছে না ভাল আর মেট্রো চ্যানেল টা,
কান্না পাচ্ছে সারা রাত।
হিন্দু কি জাপানী, জানি না তো তুমি কি,
জানে ঐ দাদাদের গ্যাং,
সাইকেলটা আমি ছেড়ে দিতে রাজি আছি,
পারবো না ছাড়তে এ ঠ্যাং।

চশমাটা পড়ে গেলে মশকিলে পড়ি,
দাদা আমি এখনো যে ইস্কুলে পড়ি।
কবজির জোরে আমি পারবো না।
পারবো না হতে রোমিও,
তাই দুপুর বেলাতে ঘুমিও।
আসতে হবে না আর বারান্দায়।
রঞ্জনা, আমি আর আসবো না।

পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব
বলেছে পাড়ার দাদারা
অন্য পাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই ।
রঞ্জনা, আমি আর আসবো না।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার জানলা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়
একটু বর্ষা একটু গ্রীষ্ম একটুখানি শীত
সেই একটুখানি চৌকো ছবি
আকড়ে ধরে রাখে
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী

সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ
সেই পৃথিবীতে পাশের বাড়ীর কান্না শোনা যায়
পৃথিবীটা বড়ই ছোট আমার জানালায়
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী

সেই পৃথিবীতে বাঁচবো বলেই যুদ্ধ করি রোজ
একটুখানি বাঁচার জন্য হাজার আপোষ
সেই পৃথিবীর নাম কলকাতা কি ভারত জানি না
তুমি তোমার পৃথিবীর নামটা জানো কি?
তুমি বলবে আমার
তুমি বলবে আমার বেনিয়াপুকুর তোমার বেহালা
তুমি গণ্ডি কেটে দেখিয়ে দেবে পশ্চিমবাংলা
হয়তো কেরালার আকাশ আর একটু বেশী নীল
তবু সেটাও কি নয় আমার পৃথিবীর?

আমার জানলা দিয়ে যায় না দেখা ইসলামাবাদ
শুধু দেখি আমি রোজ আমার পাশের বাড়ীর ছাদ
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আমার জানলা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায় কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। গানটি
শুনে লেখা। গানটির ভিজিওটি সৌজন্যে
Anjan Dutta - Topic YouTube Channel.
.
একটা হলদে শাড়ী শুকোচ্ছে আর মোজার রঙটা নীল
আজ পৃথিবীটা বড়ই রঙিন

কেউ জানলা খুলে অ্যালাবামায় বাংলা গানই গায়
কেউ পড়ছে কোরাণ বসে তার জাপানী জানলায়
কেউ জানলা খুলে অ্যালাবামায় বাংলা গানই গায়
কেউ পড়ছে কোরাণ বসে তার জাপানী জানলায়
তুমি হিসেব করে বলতে পারো প্যারিসের সময়
কিন্তু কার জানালায় কে কি দেখে হিসেব করা যায় কি
বলো মনের জানলা আছে

মনের জানলা দিয়ে তুমি বেরিয়ে পড়তে পারো
মেক্সিকোতে বসে বাজানো যায় গীটার
কোথায় তুমি টানবে বলো দেশের সীমা রেখা
আমার জানলা দিয়ে গোটা পৃথিবী

তাই জানলা আমার মানে না যে ধর্মের বিভেদ
জানলা জাতিয়তাবাদের পরোয়া করে না
জানলা আমার পূব না পশ্চিমের দিকে খোলা
জানলা সে তো নিজেই জানে না

জানলা আমার সকালবেলায় শোনায় ভৈরবী
আর সন্ধ্যে বেলায় শোনায় জনি কোল ট্রেন
জানলা আমার সকালবেলায় শোনায় ভৈরবী
আর সন্ধ্যে বেলায় শুধু জন কোল ট্রেন
গানের সুরে রেশারেশি দেশাদেশি নেই
আমার গানের জানলা টা পৃথিবী
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দিল্লী রোডের ধারে আমি দেখেছি তোমায়
রাতের অন্ধকারে আমি দেখেছি তোমায়
আমার বৌ-বাজারে আমি দেখেছি তোমায়
দুদিকের কাঁটা তারে আমি দেখেছি তোমায়

এখানে তুমি হাসি মল্লিক ওখানে হাসিনা
এখানে তোমার দাম পঞ্চাশ ওখানে জানি না
নিওন আলোয় ঝলসে যাওয়া দুটো শহরের রাত
বেঁচে থাকার জন্য কেনা বেচার দুটো হাট

ডলারের হার পড়লে তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি সেতো নোনতাই থেকে যায়
ডলারের হার কমলে তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি সেতো নোনতাই থেকে যায়

কারও খদ্দের টয়োটা চড়ে কারো খদ্দের জেন
কারো চোখে দিশি নেশা কারো ফরেন
চাহিদা শুধু একটাই শুধু একটুখানি সুখ
তাই একই ভাবে লাঞ্ছিত হয় দুটি দেশের মুখ

তবু সকাল আসে ওরা স্নান করে যায়
শুণি শুণি শুণি ওরা বাংলায় গান গায়
ডলারের হার কমলে তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি সেতো নোনতাই থেকে যায়
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
চোখের জল কিংবা পানি কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। গানটি শুনে লেখা। গানটির
ভিজিওটি সৌজন্যে
mh music archive - Indian, Legend YouTube Channel.
.
এখানে ঘোলাটে গঙ্গার জল ওখানে ইছামতী
নোংরা নষ্ট হাজার কষ্ট তবু বয়ে চলে ঠিকই
চেপে রাখা ক্ষত যত যত হাহাকার
বিশ্বের কাছে দেনার দায়ে লাঞ্ছিত বারবার
তবু আবার রঙ চাপিয়ে দাঁড়াতেই হয়
বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বের রাস্তায়
ডলারের হার কমলে দেশের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি সেতো নোনতাই থেকে যায়
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কত শিক্ষা কত বুদ্ধি কত কোটি কোটি টাকার বদলে
বানিয়েছে বোমা আমার দেশ আমায় রক্ষা করবে বলে
সেই একই দেশে গোটা শহর যায় ভেসে বানের জলে
কিসের জন্য মানুষ চাঁদে যেতে চায়?
যদি প্রতি বছর একই মানুষ বানের জলে ভেসে যায়
এত অঙ্ক কষা এত যন্ত্রপাতি কিসের ধার

কোন হতাশায় বলেছিল হে রাম মোহনদাস
সেই থেকে শুরু কি রাম বংশের পরিহাস?
গেল ভেসে গেল রক্তে আমার পনেরই অগাস্ট
কোন সাহসে বুকে বোমা বাঁধে একটা তামিল মেয়ে?
কিসের জন্য ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে সে?
নিভে গেল কেন তার চোখের আলো ওই কচি বয়সে?
কি লিখবো কি গাইবো আমি আজ এ অসময়ে
কিসের জন্য তোমাদের এই জলসা?
আমার কলম থেমে যায় বার বার একই লজ্জায়
সত্যি কথা বলতে কি পারছি আমি তোমায়?
আমার পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতা গেল কোথায়?
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কত শিক্ষা কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)।অসময় অ্যালবামের গান। গানটি শুনে লেখা। গানটির
ভিজিওটি সৌজন্যে
Anjan Dutta - Topic YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পারিনি শেখাতে তোকে সত্যি ভাল কথা
গাইতে একটা সত্যি ভাল গান
পারিনি বোঝাতে তোকে ঈশ্বর আল্লাহ্
একই ভালোবাসার নাম
শুধু পারি খুব সহজে তোকে বুঝিয়ে দিতে আমি
দেশপ্রেমের মানে পোখরান
পারিনি ঢোকাতে তোর ছোট্ট মনে মাথায়
বড় হয়ে ওঠার সম্বল
পারিনি শেখাতে তোরে মাধে মধ্যে দিতে
একটা ছোটো গাছেক গোড়ায় একটু জল
শুধু পারি খুব সহজে তোকে বুঝিয়ে দিতে আমি
হকার মানে জঞ্জাল
পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি
পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি
পারিনি সহজে তোকে বুঝিয়ে দিতে কাদের
দেশ ছিল আমেরিকা
পারিনি সহজ করে জানিতে কেন
ভাঙা হলো বার্লিনের দেয়ালটা
পারি খুব সহজে তোর মনে গেঁথে দিতে
বেশি টাকা মানে ভালো থাকা
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পারিনি কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। “চল বদলাই” অ্যালবামের গান। গানটি শুনে লেখা। গানটির
ভিজিওটি সৌজন্যে
workwithmanzil YouTube Channel.
.
পারিনি বোঝাতে কেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে
মনের ভেতর গান্ধীজী
পারিনি চেনাতে তোকে সে তোর বন্ধু নাকি
সে তোর বাড়ীর ঝি
তাই পারছি না কেন গলায় দড়ি দিল
চোদ্দ বছরের টুকটুকি
পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি
বোঝাতে পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
শেষ গাছটা কাটা হয়ে যাবে যখন
শেষ মাছটা যখন জালে পড়বে
শেষ মুণ্ডুটা জবাই শেষ হলে তারপর
কি দিয়ে তুমি পেট ভরবে?
শেষ জঙ্গল কাটার উদ্যোগে
শেষ ঝরনাটা হয়ে গেলে চোক
খাবার জন্য শুধু থাকবে তোমার কাছে
কড়কড়ে টাকার নোট
হায় হায় একি শুধু কড়কড়ে টাকার নোট
বল পেট ভরবে কি দিয়ে কড়কড়ে টাকার নোট
হায় হায় একি শুধু কড়কড়ে টাকার নোট
বল পেট ভরবে কি দিয়ে কড়কড়ে টাকার নোট

শেষ যুদ্ধটা জেতা হয়ে যাবে যখন শেষ পারমানবিক সংকট
হয় খেতে হবে শুধু মরুভূমি নয় কড়কড়ে টাকার নোট
কেউ খাবে এক টাকা দু টাকা খেতে পাবে শুধু পঞ্চাশ
যার আছে বেশি খাও পাঁচশো যার আছে কম খাও দশ
হায় হায় একি শুধু কড়কড়ে টাকার নোট
বল পেট ভরবে কি দিয়ে কড়কড়ে টাকার নোট
হায় হায় একি শুধু কড়কড়ে টাকার নোট
বল পেট ভরবে কি দিয়ে কড়কড়ে টাকার নোট
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
শেষ গাছটা কাটা হয়ে যাবে যখন কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। “চল বদলাই”
অ্যালবামের গান। গানটি শুনে লেখা। গানটির ভিজিওটি সৌজন্যে
Prolay Mukherjee YouTube Channel.
.
খেতে হবে টাকা শুধুই টাকা শুকনো টাকা শুধু টাকা
টাকার সাগর টাকার মাঠ টাকার পাহাড় টাকার গাছ
যদি দেখ হঠাৎ সেই টাকার মরুতে উঁকি মারছে
ছোট্ট হলদে ফুল
জেনো সেটা তোমার নিজের
বিভ্রান্তি চোখের ভুল
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তুমি দেখেছ কি হাঁটু জলে এক লয়েল স্ট্রীট
দেখেছো কি বর্ষা
তুমি চড়েছো কি আবদুল মান্নান হুসেনের
ভাঙাচোরা রিকশায়
একবার নাও শুনে নাও তুমি ফুটপাথের ধারে
আলতাফ ফকীরের বাঁশী
একা লাগবে না আর একা লাগবে না আর
তোমারি পচা কলকাতায়

কালো আকাশের গায়ে গোলাপি
ঘুড়িটা দেখছো কি
ডিজেলের ধোঁয়া অগ্রাহ্য করা
সেই ল্যাংটা ছেলের হাসি
ভুলিয়ে দেবে তোমাকে পঞ্চাশ বছরের
মিথ্যা কথার রাজনীতি
কারণ এখান থেকেই দুটো কমলা কিনে
বাড়ি ফেরে বিমলা
সারা রাত্তির খেটে সে খরচা মেটায়
তার পঙ্গু স্বামীর চিকিৎসায়
একবার দেখে যাও সেই একলা
মেমসাহেবের বাড়ী ছত্তিরিশ চৌরঙ্গী লেন
ফাঁকা লাগবে না আর একা লাগবে না আর
তোমারি পচা শহরে
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তুমি দেখেছ কি কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। “চল বদলাই” অ্যালবামের গান। গানটি শুনে
লেখা। গানটির ভিজিওটি সৌজন্যে
Deep Chatterjee YouTube Channel.
.
গড়িয়াহাটার মোড় হয়ে গেছে সাফ
তবু মনের ভেতরে জঞ্জাল
যখন তখন যায় ফসকে আমাদের
মন মাথা হৃদয়ের হাল
তবু মিথ্যে হয়ে যায় হঠাৎ করে
তোমার আমার চোখের জল
কারণ এখান থেকেই শুরু তোমার আমার
সোনার কেল্লার অভিযান
এখান থেকেই শুনবি আয় নান্দীকারের
তিন পয়সার পালা গান
এ যতই জ্বালাক এ যতই পোড়াক
ভুলিয়ে দেবে সব ব্যর্থতা
এযে অন্য কোথাও নয় অন্য কোনো দেশ
তোমার পচা কলকাতা
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
একটা ছেলে, গীটার খুলে, গুনগুনিয়ে লিখে যায়
ছাদের কোণে, আপন মনে, লিখে লিখে গান গায়
পাশের বাড়ির সুরচিতা সকাল থেকে বেপাত্তা
আজকে যে তার পাকা দেখার, বাড়ছে সবার চিন্তা
কানাঘুষোর থানা পুলিস বাড়ছে সবার মান অপমান
এসব নিয়ে ছাদের ছেলের গুনগুনিয়ে লেখা গান
সবাই জানে নন্দী বাড়ির কেন এমন হলো হাল
সুরচিতা মেয়েটা ভাল শুধু বন্ধুটি তার নকশাল

এটা তিরিশ বছর আগের কথা, তিরিশ বছর আগের কবিতা
হলদে হয়ে হারিয়ে গেছে পাড়ার কোন চিলেকোঠা

বিকেল থেকে বোস বাড়িতে কান্নাকাটির হুলোস্থুল
কলঘরেতে বন্দী হয়ে রয়েছে বসে পুতুল
ছাদের কোণে আপন মনে যায় লিখে যায় ছেলেটা
একটা খাতা, একটা কলম তার পুরনো গীটার
আবার থানায়, আবার পুলিস আবার কত হা হুতাশ
দরজা ভেঙে পুতুল তো নেই শুধুই যে তার লাশ
পাড়ার সবাই যায় চেপে যায় হিন্দু পাড়ার অপমান
পুতুলটাতো ছিল ভাল শুধু বন্ধুটি তার মুসলমান

এটা কুড়ি বছর আগের কথা, কুড়ি বছর আগের কবিতা
হলদে হয়ে হারিয়ে গেছে পাড়ার কোন চিলেকোঠা
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ছাদের গান কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ অঞ্জনদত্তলিরিকস.ওয়ার্ডপ্রেস.
কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ গানটির কথা আমরা সেখান থেকেই নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
.
ছ'দিন আগে বর্ণালি দির হঠাৎ করে টেলিফোন
যাচ্ছি ছেড়ে তোদের পাড়া ভাল থাকিস অঞ্জন
পাড়ার সবাই সাবেকী তাই জানলা দিয়ে দেখে যায়
সাঝ সকালে সেলাই দিদি টেক্সি করে চলে যায়
ফিসফিসিয়ে মিলেমিশিয়ে সবাই হাসে গুলতানি
এই কারণে পাড়াটা গেল বুড়ো বয়সে ভিমরতি
সবাই জানে বর্ণালি দির স্বামীর রাতের অত্যাচার
তবু এই বয়সে নতুন করে এই পাড়াতেই সংসার

পায় খুজে পায় গরম খবর পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকান
পায় খুজে পায় সেই ছেলেটা ছাদের কোণে নতুন একটা গান
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মেঘ জমেছে আবার আকাশে
মেঘ জমেছে ফুটপাথের ধারে
ডাকছে আবার নিওন আলো তোমাকে আমাকে
সন্ধ্যে নামছে ক্ষ্যাপার শহরে
ভুলতে চাইছে শ্যামলেন্দু হেরে যাওয়ার জ্বালা
মাত্র দেড়শো টাকা বাড়লো ইনক্রিমেন্ট
ভুলতে চাইছে মাধবী তার শুভদৃষ্টির মালা
কিন্তু চাকরি হচ্ছে না যে পারমানেন্ট
ভুলতে চাইছে সকলেই সকলের যন্ত্রণা
কত স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে বেহাল
কিছুক্ষণের জন্য তাই আসছে এ শহরে
ভুলে থাকার একটা ক্ষ্যাপা রাত
ভুলে ভরা ভুলভুলাইয়া অলিতে গলিতে
বাড়ছে ভুলে থাকার দর
ভুলে ভরা জীবনগুলো ভরে নিয়ে
ছুটছে আমার ক্ষ্যাপাটে শহর

চাইছে কিনতে মনটা মোবাইল টেলিফোন
কিন্তু পকেট বড়ই বড়ই কমজোরি
তাই কিনে ফেলতে হলো কিছু কিনতে হবে বলে
ফুটপাথের প্লাস্টিকের ঘড়ি
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ক্ষ্যাপা শহর কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। “চল বদলাই” অ্যালবামের গান। গানটি শুনে লেখা। গানটির ভিজিওটি সৌজন্যে Saregama
Bengali YouTube Channel.
.
যতই সন্ধ্যে বাড়ে এই ভুলে থাকার নেশাটাকে
দমিয়ে রাখা বড়ই মুশকিল
তাই কিনে ফেললো শশী একটা লাল রঙের শিশি
নয়নিকা নতুন হাই হিল
কিনছে সবাই কিনছে কি কিনছে জানেনা
কিনছে গোটা ধর্মতলার মোড়
এই কেনাকাটির ঠেলায় ভুলে থাকছি মনের জ্বালা
হেরে যাওয়া ক্ষ্যাপাটে শহর
একটু নেশা বেসামাল কথা জড়িয়ে যাচ্ছে বাড়ী ফেরার পাট
তাই কিনে ফেললো সোমনাথ নেশার অজুহাতে
এই ক্ষ্যাপা শহরের রাস্তা ঘাট
মেঘ জমেছে আবার আকাশে
মেঘ জমেছে ফুটপাথের ধারে
ভুলতে চাইছে ধর্মতলা একাত্তরের জ্বালা
ভুলতে চাইছে কত ভাঙা ঘর
ভুলতে পারছে না যে কত নোনা ধরা দেয়াল
সেদিনের সেই ক্ষ্যাপাটে শহর
ভুলতে চাইছে সকলেই সকলের যন্ত্রণা
কত স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে বেহাল
তাই কিছুক্ষণের জন্য নেমে আসছে এ শহরে
ভুলে থাকার একটা ক্ষ্যাপা রাত
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
নীলা তুমি ছলছল চোখে কেন কল তলাতে একা একা দাড়িয়ে
ধুম করে নোনা ধরা দরজাটা কেন তুমি বন্ধ করে দিলে
হাতে ঐ খোলা শিশিটাকে তুমি কেন রয়েছো আকড়ে ধরে
নীলা তুমি ছলছল চোখে কেন কল তলাতে

শমি তুমি কেন গায় কেরোসিন মেখে বসে এই রান্না ঘরে
শুনতে কী পারছো না দুপুরের কোকিলটা ডাকছে অনেক্ষণ ধরে
জানলার বাইরে হলদে আকাশটা তোমার অপেক্ষায় হাতছানি দিয়ে যায়
এখনো কি কেরোসিন মেখে সেই রান্না ঘরে

কালকের সকালের পত্রিকায় তোমার নামতো ছাপা হবেনা
তোমার এই চুপু চুপি প্রতিবাদে কারো কিছুই এসে যাবে না
যদি চার দেয়ালের গন্ডিটা পেরিয়ে চলে যেতে পারো
তুমি যেতে পারো বেড়িয়ে ব্লাউজে কলম, আর উদ্ধত মাথা নিয়ে,
বুক ভরা দম নিয়ে পালাবে কি, থাকবে
এখনো ছলছল চোখে সেই কল তলাতে

সাবিনা শ্বশুর বাড়ি থেকে পাড়ি দিয়ে সালোয়ার সেলাই করে খায়
পারভীন প্রথম আলোর পাতায় লিখে তার খরচা যোগায়
পণ দিয়ে ঘর কিনে বর কিনে লাঞ্ছনা সহ্য করেনি যেন অনেক রুবিনা
এখনো কি ছলছল চোখে সেই কল তলাতে
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
নীলা কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। “হ্যালো বাংলাদেশ” অ্যালবামের গান। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ অঞ্জনদত্তলিরিকস.
ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ গানটির কথা আমরা সেখান থেকেই নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি
সৌজন্যে
G Series Music YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
রাস্তার ধারে বিছানা, পেটের ভেতরে খালি পেট
আকাশ থেকে পেপসি ডাকে, নেচে চলে জেনারেসন নেক্স্ট
কাছের দোকান, কাচের শার্সি, টিভির ভেতরে চ্যানেল ভি
তুমি আবার হেসে উঠো, আমি আবার নেচে উঠি
পেটের ক্ষিধে, যাই ভুলে যাই, শুধুই তোমায়, তোমাকেই চাই
তোমার কাছে যাই চলে যাই, আমার পাসপোর্ট লাগেনা

বয়স আমার এখনো তেরো, মিশুক চালাই দিনের বেলায়
আব্বা আম্মা মনে পড়েনা, ঢাকার রাস্তাই ঠিকানা
তবু আবার রাতটা আসে, কাছের দোকান চ্যানেল ভি
তুমি আবার নেচে উঠো, আমি আবার বেঁচে উঠি
কান্না আমার, যাই ভুলে যাই, শুধু তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার গানে যাই মিশে যাই, তোমার ভাষা অজানা

পেটের ব্যথা ভুলে থাকি, সারাদিনের ঝঞ্ঝাটে
তিরিশ টাকা কামাতে হবে, যেভাবেই হোক রাস্তা ঘাটে
নেমে আসে রাত্তির আবার, নাচে রাতটা আমার সাথে
নাচতে নাচতে ঘুমিয়ে পড়ি, ভুলে গিয়ে পেটের ক্ষিধে
বাঁচার সাহস পাই খুজে পাই, শুধুই তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার সুরে যাই মিশে যাই, তোমার নামটা অজানা

বাঁচার সাহস পাই খুজে পাই, শুধুই তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার সুরে যাই মিশে যাই, তোমার নামটা জানি না
কবি অঞ্জন দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পাসপোর্ট লাগেনা কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অঞ্জন দত্ত (জন্ম ১৯.১.১৯৫৩)। আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ অঞ্জনদত্তলিরিকস.ওয়ার্ডপ্রেস.
কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ গানটির কথা আমরা সেখান থেকেই নিয়েছি। সেই ওয়েবসাইটে যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .। ভিডিওটি
সৌজন্যে
G Series Music YouTube Channel.
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আমার মাতৃভূমির রক্তের স্রোতের উপর দাঁড়িয়ে
জহ্লাদেরা যখন পৈশাচিক নৃত্যে রত
আমার ক্রোধের দৃষ্টি আর ঘৃণার তূণ
তখন ওদের দিকে নিক্ষেপ করেছি
এই আমার অপরাধ,
শুধু এই, এই মাত্র অপরাধের জন্য
জহ্লাদের নিষ্ঠুর হাতগুলো
আমার বাক্ শক্তি রুদ্ধ করতে চাইছে॥
ওদের অবৈধ গোপন অভিসারকে নিষ্কন্টক করার জন্য।
হত্যা করেছে ওরা যখন আমার প্রিয়জনকে
ভয়ের ভীরু স্পর্শকে উপেক্ষা করে আমার দৃষ্টি
তখন আরও প্রসারিত হয়েছে বাইরে থেকে ভিতরে
গভীর থেকে আরও গভীরে
হে আমার প্রিয় স্বদেশবাসী
আমার এই প্রত্যক্ষকে আমি তোমাদেরও দেখাতে চেয়েছিলাম
এই অপরাধে, শুধুমাত্র এই অপরাধে
ওরা আমার চোখ উপড়ে ফেলে
আমাকে অন্ধ করে দিতে চাইছে।
ওরা যখন ওদের পানশালায় আমার ভায়ের রক্তের সুরা
আকন্ঠ পান করে ওদের লালসার হাত বাড়িয়েছে
আমার মা বোন কিংবা প্রিয়ার দিকে।
উচ্ছিষ্টের প্রসাদে তৃপ্ত হয়ে করুণার পায়েতে
আমি তখন আমার বঞ্চনার ইতিহাসকে বিকিয়ে
কবি অমর ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
হে আমার প্রিয় স্বদেশবাসী  কবি অমর ভট্টাচার্য (১.৪.১৯৫৩ - ৫.৯.২০১৪)
.
দিতে চাইনি--- পারিনি ওদের পোষ মানানো
সশস্ত্র গোলামগুলোর মত ওদের পায়ের তলায় বসে
‘জী হুজুরর’ বলতে।
হে আমার প্রিয় স্বদেশবাসী
তোমরা শুনে রাখো
শুধু এই , এইমাত্র অপরাধে ওরা আমাকে
নিষ্পেষিত করতে চায়
নিয়ে যেতে চায় ফাঁসির কাঠগড়ায়
আমি এক স্বপ্ন দেখেছি মুক্ত জীবনের স্বপ্ন
আমি এক ভালবাসার অনুভূতি পেয়েছি
জীবনের গৌরবে যা ধন্য।
বন্দী জানোয়ারদের মত দুর্বিসহ জীবন
যেদিন মানুষের শেষ হবে
অন্ধকারের শেষে, বন্দী জীবনের দ্বার খুলে
মানুষ যেদিন রক্তিম অরুণোদয়ের স্পর্শে
ভরে নিতে পারবে তার মন
স্বপ্নের রঙের সেই প্রজাপতির
চঞ্চল নৃত্যের অপেক্ষায় তার গুটিগুলিকে আমি
হৃদয়ের উষ্ণতায় সযত্নে রক্ষিত করেছিলাম।
হে আমার প্রিয় স্বদেশবাসী
তোমরা শুনে রাখো
শুধু এই, এইমাত্র অপরাধে ওরা আমার
হৃৎপিন্ডটাকে বুলটে ছিন্ন করতে চাইছে
মৃত্যুর অন্ধকারে মুছে দিতে চাইছে স্বপ্নকে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
প্রিয় সাথী
শুভ এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই ।
রাজার বাড়ীতে উত্সবের হাজারো সোনার প্রদীপ
যখন রাজদম্ভ প্রচার করে নিভে গেছে
তখন দুখিনী মায়ের মাটির প্রদীপ
সমস্ত অমাবস্যার অন্ধকারকে
আলোর পথ দেখাবে বলে
জেগে বসে আছে।
এরাই প্রতিবাদী কলমসেনানীর দল
তাদের আমার অভিনন্দন জানাই।
রাজপথে ভাইয়ের রক্তাক্ত কলজে নিয়ে যখন
শ্বাপদেরা কামড়া-কামড়ি করছে
ধর্ষিতা বোনকে পাওয়া যাচ্ছে
ধানক্ষেতের আলেতে ;
‘ এ দেশ আমার---- আমি তাকে ভালোবাসি------‘
এ কথা উচ্চারণের জন্য
রাজকীয় ফাঁসীর দড়ি
যখন তাড়া করে ফিরছে আমাদের,
তখন যাঁরা সরবে বলেন
‘এ অন্যায় -----‘, সেই মানবাত্মার কারিগরদের
আমি আমার শ্রদ্ধা জানাই।

দুষ্টু শিশুর মত
মেঘকে ফাঁকি দিয়ে শাল সেগুনের ঘন বনের
কবি অমর ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্রিয় সাথী কবি অমর ভট্টাচার্য (১.৪.১৯৫৩ - ৫.৯.২০১৪)। ১৯৮৬ সালের ৭ই অক্টোবর ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির আশুতোষ
হলে প্রতিবাদী কবিসম্মেলনে প্রেরিত।
.
ওপর হামাগুড়ি দিয়ে যখন জ্যোত্স্না নামে
গাছের পাতায় পাতায় শিশির যখন তার
ভালোবাসার চুমু দিয়ে যায়, আলো আঁধারির
নিভৃত প্রান্তে দাঁড়িয়ে তখন আমি দেখেছি
দিনের বেলার অনেক কবি------
রাত্রে যারা মৃতদেহের বেসাতি চালায়।
দেখেছি অনেক ক্লীবকে, যারা
পুরুষ সেজে নববধূকে প্রতারণা করে।

বসন্তের যে ব্রজনিনাদ
আমাদের ঘুম ভাঙিয়েছে
তরাইয়ের যে বুলবুল তার
মেঠোসুরের গান শিখিয়েছে
যে যৌবনের প্রাণবন্যা আরও
গতিময় হয়েছে অন্যায়ের
বাঁধ ভাঙার জন্য
তাদেরই ভাষা নিয়ে এ প্রতিবাদ
আরও বলিষ্ঠ হোক
তাদেরই সুর আমাদের শেষতম মানুষটিরও
কাছে গিয়ে পৌঁছোক।

আর  যে কবিরা এখনও বর্ষার সূর্যের মতো
দ্বিধার মেঘে ঢাকা------
তাদের প্রতি ধ্বনিত হোক
আমাদের এ আহ্বান,
‘ফাল্গুনি !
অজ্ঞাতবাসের দিন
শেষ করে আজ
ছিঁড়ে ফেল বৃহন্নলার সাজ।’
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বড় ঘড়টার মধ্যে ওরা ছ’জন
আর আমি। আমি বন্দী
আর ওরা তখন আমার শরীরটার মালিক
আমার ওপরওয়ালা।
খেলাটা এ ভাবেই শুরু হয়েছিল।
ওরা আমায় ধমকালো, চাবুকে চাবুকে
জর্জরিত করলো আমার শীর্ণ শরীর।
প্রাচীন সম্রাটের মত নজরানা চাইলো
আমার আনুগত্যের। দড়ির বাঁধনে
হাত-পা বেঁধে মাথাকে ঝুলিয়ে দিলো নীচে।
ভাবলো এ ভাবেই মাথা নোয়ানো যাবে
উল্টোদিকে ঘোরানো যাবে জীবন আর
প্রগতির দর্শনকে।  তারপর এক সময়----
মার দেবার মেহনতে ওরা হল ক্লান্ত
আর আমি সংজ্ঞাহীন।

সে আমার এক নতুন উপলব্ধি
অত্যাচারের চরম মুহূর্তে
কখনো ভেবেছি ----আমার উপলব্ধি
আর বিশ্বাসকে যদি বিদ্ধস্ত করে
অত্যাচারের তৃণ। ঐতিহ্য আর
গৌরব যদি নত হয় রক্তমাংসের
মিনতির কাছে। তবে-----
কবি অমর ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বাঘবন্দী খেলা কবি অমর ভট্টাচার্য (১.৪.১৯৫৩ - ৫.৯.২০১৪)। আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে কবির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কবিতা। চারু মডুমদার পন্থী এই নকশাল নেতার গ্রেপ্তারী ও
পুলিশী নির্যাতন নিয়ে ৮৭-র পত্র-পত্রিকায় বড় খবর হয়েছিল। এর কিছুটা মিলনসাগরে কবির কবিতার পাতায় গেলে পড়তে পারবেন। কবির সঙ্গে, তাঁর আগরপাড়ার ইলিয়াস রোডের
গৃহে, ১৮.৩.২০১২ তারিখে একটি সাক্ষাৎকারের সময়, কবি আমাদের সেই সব তথ্য দিয়েছিলেন।
.
আমি প্রাণ মনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি
জুলিয়াস ফুচিক থেকে অহল্যা কিষাণী,
ভ্যানত্রয়ী থেকে বাবুলাল তখন
আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে।

এ পৃথিবীর ভালবাসার দহনের কাছে
বাগপত রাজপথের কামার্ত কুকুর গুলোর
লকলকে জিবের গরম শ্বাস
আমার কাছে তখন শিশুর ক্রোধের মতই
উপহাস যোগ্য।
আমি মানুষকে ভালবাসি
সেই ভালবাসার দহনে কেঁদেছি
শপথের অঙ্গীকারে দৃপ্ত হয়েছি
বাতাসের পরশে ফিরে পেয়েছি
আমার মেঠো পথের সোঁদা গন্ধকে।

আমি উজ্জীবিত হয়েছি,
উদ্ধত হয়েছি, করুণার ঘৃণা
ছুঁড়ে দিয়েছি ওদের দিকে।

একটু শুধু বিরতি, শরীরের সাথে
প্রাণটা জোড়া লেগে আছে কিনা
সেইটুকু জেনে নেওয়া
তারপর আবার প্রশ্নের তীর,
বুদ্ধিমত্তার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের
সে এক অভিনব প্রতিযোগিতা।

আমার পঞ্চেন্দ্রিয় তখন
আমায় বিদায় জানিয়েছে
ব্যাথা নেই ; শ্রবন নেই, দৃষ্টি নেই
বসুন্ধরার কাছে জয় করে নিচ্ছে
ক্লান্তির নিদ্রাকে।

শরশয্যায় শায়িত এক পিতামহ ভীষ্মকে
মৃত্যু তখন কাছ থেকে শুধু
দেখে যাচ্ছে, স্পর্শ করতে পারছে না।
বাজিতে দান হেরে গিয়ে
ওরা হলো ক্রুদ্ধ,
চড়তে লাগলো ওদের মেজাজ।
আর সেই সাথে ভাষা ও তার কেতাবী
পোশাক ছেড়ে একেবারে বল্গাহীন
উলঙ্গ ভাবে আমার ওপর
হুমড়ি খেয়ে পড়লো। শেষ মেশ
বাক্যবল আবার বাহুবলের
সাহায্য প্রার্থী হলো।
শুরু হলো ঘুঁষি ডান্ডার আপ্যায়ন
অনেকটা মাংস নিয়ে কামড়া কামড়ির মতন।

সূর্য তখন পশ্চিমকে আবিরে রাঙিয়ে
অস্তে চলেছে। তার শেষ রশ্মিটুকু
আমার মুখের ওপর এসে পড়লো।
দেহের সমস্ত শক্তিকে জড়ো করে
চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলাম ওদের অহংকারের মুকুট
আমার কালসিটে পরা পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে
আর বিজয়ী রাজার আসনে বসে
আমি পরাজিত শত্রুর দিকে তাকিয়ে
প্রাণ খোলা হাসি হাসছি॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যে ছেলেটা বস্তা-কাঁধে কাগজ কুড়োয় পাড়ায়-পাড়ায়
যে ছেলেটা রোজ বাজারে মুরগি কাটে, পালক ছাড়ায়,
যে ছেলেটা রেস্তোরাঁতে ধুচ্ছে থালা-গেলাস-বাটি
যে ছেলেরা সারাজীবন খায় লাথি-কিল-চড় ও চাঁটি !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো, ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ কাকে বলে, স্বাধীনতার সঠিক মানে ?

যে মেয়েটা ভোর-না-হতেই মায়ের সাথে যাচ্ছে কাজে
যে মেয়েটা পরের বাড়ি কাপড় কাচে, বাসন মাজে,
যে মেয়েটা গোবর কুড়োয়, ঘুঁটেও দেয়, কয়লা বাছে
যে মেয়েরা সারাজীবন পায়না আদর কারোই কাছে !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো, ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ দেখতে কেমন? স্বাধীনতার সঠিক মানে?

যে ছেলেরা রাস্তাঘাটে করছে পালিশ পরের জুতো
যে ছেলেরা ট্রেনের হকার, খাচ্ছে রোজই লোকের গুঁতো,
লজেন্স খাওয়ার বয়েস যাদের, করছে তারাই লজেন্স ফেরি
যাদের বুকে সূর্য ওঠার, গোলাপ ফোটার অনেক দেরি !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো, ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ জিনিসটা কি? স্বাধীনতার সঠিক মানে?
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বাধীনতার মানে কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)। ২০১১ সালে প্রকাশিত, কবির মিঠেকড়া শ্রেষ্ঠ
ছড়া কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
.
স্বাধীনতার মানে বোঝে নীল-আকাশের বন্ধু পাখি
স্বাধীনতার মানে বুঝেই চাঁদ তারাদের পরায় রাখি,
স্বাধীনতার মানে বোঝে পাহাড়-সাগর-ঝরনা-নদী
স্বাধীনতার মানে বুঝেই বইছে বাতাস নিরবধি।
স্বাধীনতার সঠিক মানে ক’জন স্বজন সত্যি জানে
স্বাধীনতার সংজ্ঞা খুঁজো শেকল ছেঁড়া পাখির গানে !
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাংলাভাষাকে করল কে ভাই সবার শিরোধার্য?
বুকের বাঁকে আগুন আঁকে কমলা ভট্টাচার্য।
বাংলাভাষার জন্য কে ত্যাগ করল-রে শেষ নিঃশ্বাস
মনের কোণে স্বপ্ন বোনে শহিদ হিতেশ বিশ্বাস।

বুঝেছিল কারা, ভাষার জন্য জীবন দেওয়া দরকার?
অমর কানাই নিয়োগী আর শহিদ সুনীল সরকার।
জীবন দিয়েও ছিঁড়ল কারা চক্রান্তের জাল?
প্রিয় সুকোমল পুরকায়স্থ এবং শচীন পাল।

জীবন দিয়েও দেখাল কারা স্বপ্ন মনোহর?
ভাষা-শহিদ সত্যেন দেব, বীরেন সূত্রধর।
মরেও অমর হয়েই কারা করল বাজিমাত?
চণ্ডীচরণ সূত্রধর আর তরণী দেবনাথ।

বঙ্গ-মায়ের অঙ্গনে কে হাসবে বারোমাস?
দুঃখে-সুখে ভাসবে বুকে শহিদ কুমুদ দাস।
জীবন-জয়ের যাত্রী এরাই স্বাধীন সূর্যসেনা
স্বপ্নশহিদ ভাইবোনেরা সবার চিরচেনা।
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রক্তে-ভাসা বাংলাভাষা কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত, নীরেন্দ্রনাথ
চক্রবর্তী ও কালিদাস ভদ্র সম্পাদিত, “আবৃত্তির শ্রেষ্ঠ কবিতা” কাব্যসংকলনের কবিতা।
.
ভঙ্গি-ভয়ের জঙ্গি-জয়ের সঙ্গী সবার প্রিয়
বুকের ব্রতে, সুখের স্রোতে, থাকবে স্মরণীয়।
রুক্ষ-মুখের দুঃখ-বুকের সূক্ষ্ম-সুখের ঘ্রাণে
রস্তে-ভাসা বাংলাভাষা আলপনা দেয় প্রাণে।

১৯শে মে, ১৯শে মে, যায় না ভোলা তাকে
ফুলকি-ফুলের দুলকি-হুলের উলকি বুকে আঁকে।
১৯শে মে শত্ত-সঙিন রক্ত-রঙিন রবি
স্বপ্লে-বোনা শহিদ-সোনা ভাইবোনেদের ছবি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
লেলিয়ে দে মা সিংহটা তোর কামড়ে ধরুক ঘাড়গুলো---
রক্তচোষা পিশাচগুলোর গুঁড়িয়ে দে মা হাড়গুলো
চুষছে যারা রক্ত সবার করছে যারা হাড্ডিসার।
গরীব দুঃখীর রক্তে রেঙেই সাজায় যারা গুলবাহার।
নীল হয়ে যায় দুনিয়া হায় যাদেরই নিশ্বাস-বিষে॥
দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে থাকবি কি তুই সঙ্ সেজেই,
শুনছি মা ত্রিলোক নাকি উঠত কেঁপে তোর তেজেই।
জোতদারে আর মজুতদারেই গিয়েছে আজ দেশ ভরে।
পাঠিয়ে দে মা যমগুলোকে সব শয়তানদের শেষ করে।
অসুরও আজ ঘরে ঘরেই বুক ফুলিয়ে ঘুরছে বেশ---
অন্যায়ে আজ জগৎ-জোড়া, দেশ থেকে দ্বেষ হয় না শেষ॥
নারায়ণের চক্রটা আজ লাগছে বলো কোন কাজে,
মহাদেবের ত্রিশূল কোথায়? তবে কি মা সব বাজে?
ঝলসে উঠুক অস্ত্র তোদের থাকবি কত কাল থেমে?
খড়্গ হাতেই স্বর্গ থেকে সংহারিণী আয় নেমে।
দুষ্টু-দমন করিস যদিই পুষ্ট কেন হয় ওরা?
আর কতদিন এমনি করেই বেঁচে ও মরে রই মোরা?
ঘুচিয়ে দে মা দুর্নীতি সব মুছিয়ে দে মা দুঃখ-দ্বেষ!
রক্তচোষা পিশাচগুলোর লম্ফ ঝম্প কর মা শেষ॥
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দুর্গতিনাশিনীর প্রতি কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম
৯.৪.১৯৫৩)। ২০০৭ সালে প্রকাশিত, মেঘ বসু সম্পাদিত, “আবৃত্তির কবিতা
কবিতার আবৃত্তি” কাব্যসংকলনের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কোথা গেল সোনামাখা খুশি-আঁকা শৈশব?
শোন্-শোন্‌ ভাই-বোন, শোন্‌ সাথী-সই সব
হলো নাতো লেখাপড়া, শেখা নাম-সই সব
আর কতো অবহেলা, অপমান সই সব।
কোথা গেল শৈশব...শৈশব...শৈশব
সোনামাখা শৈশব...খুশি-আঁকা শৈশব
শৈশব...শৈশব..শৈশব-শৈশব...

কোথা গেল বেড়ে-ওঠা কুঁড়ি-ফোটা কৈশোর?
কোথায় লাটাই-ঘুড়ি, ডাং-গুলি কই তোর?
মগ্ন পেটের দায়ে, লগ্ন যে ওই ভোর
ভগ্ন হৃদয়ে কই হই-চই, কই “শোর”?
কৈশোর..কৈশোর...কোথা গেল কৈশোর
বেড়ে-ওঠা কৈশোর...কুঁড়ি-ফোঁটা কৈশোর
কৈশোর...কৈশোর...কৈশোর...কৈশোর...

কোথা গেল সকালের আলোকিত দিনটাই?
রাশিরাশি মজা হাসি তাক-ধিন, ধিন-তাই?
পেটে ক্ষুধা, মনে শুধু বাঁচবার চিন্তাই
শৈশব-কৈশোর, সব হলো ছিনতাই!
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জারি হলো ডিক্রি, কৈশোর বিক্রি কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)। ২০০৭
সালে প্রকাশিত, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, “সেরা আবৃত্তির কবিতা সংগ্রহ” কাব্যসংকলনের কবিতা।
.
শৈশব হলো চুরি, কৈশোর বিক্রি
সীমাহীন দারিদ্র্যে জারি হলো ডিক্রি
শৈশব বিক্রি...কৈশোর বিক্রি...

কিন্তু এ খেলা আর কতদিন চলবে?
শোষণের জাঁতাকলে আর কতো ডলবে?
ব্যথার পাহাড়গুলো বলো কবে গলবে?
খেটে-খাওয়া মানুষই তো শেষ কথা বলবে!
চারিদিকে শোনো আজ, ভেসে আসে ওই “শোর”
ফিরিয়ে দিতেই হবে শৈশব ও কৈশোর
হাসিমাখা শৈশব...খুশি-আঁকা কৈশোর
শৈশব...শৈশব...কৈশোর...কৈশোর...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কেউ বলে, মা দুর্গা আসেন নৌকো-গজে-দোলাতে
মঙ্গলময়ী আসেন সবার দুঃখ-কষ্ট ভোলাতে।
কেউ বলে, মা দুর্গা আসেন পালকি-রথে-ঘোড়াতে
করুণাময়ী আসেন খুশীর ফানুস বুকে ওড়াতে।

কেউ বলে, মা দুর্গা আসেন টেম্পো-লরি-ঠেলাতে
তখন সবাই হিমসিম খায় পাঁজির হিসাব মেলাতে।
কেউ বলে , মা দুর্গা আসেন চ’ড়েই  ম্যাটাডোরেতে
ছেলে-মেয়ে-শিব-অসুর সমেত মহাষষ্ঠীর ভোরেতে।

প্রশ্ন জাগে, মা দুর্গা কী তাঁর ওই দশটি হাতেতে
গরিব-দুখীর জন্য কিছু আনেন খাবার সাথেতে?
অর্ধাহারে-অনাহারে মরছে মানুষ অসংখ্য
সত্যিকারের দত্যি-দানোর ভয়ে সদাই সশঙ্ক।

মানুষ যদি কেঁদেই মরে নিত্য খিদের জ্বালাতে
এসে কী লাভ মর্ত্যে মাগো সেজেই আলোর মালাতে?
দশ-হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে থকবি কী তুই সঙ সেজে?
শুনেছি, মা ত্রিলোক নাকি উঠত কেঁপেই তোর তেজে
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দুর্গা মাঈকী জয়
কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)।
.
নাকি তোমার অস্ত্রগুলো সব অকেজো , খুব ভোঁতা
তোমায় ছাড়া গরিব-দুঃখী মানুষগুলো যায় কোথা?
দশটি হাতের অস্ত্র তোমার কেন, কিসের তরেতে?
অসুর-নিধন কবে হবে মা, ফিরবে খুশি ঘরেতে ?

লক্ষ-লক্ষ দক্ষ-অসুর পুষ্ট বারুদ-বোমাতে
বাড়ছে রোদন, নাচন-কোঁদন, ধুঁকছে জগৎ কোমা-তে।
অসুর-বংশ হলেই ধ্বংস, কাটবে সবার মনের ভয়
তবেই সুখে চেঁচিয়ে সবাই বলবে “দুর্গা মাঈকী জয়”।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ , কথায়-কথায় হাসে না
জানেন দাদা,  আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না ।
.                         ইংলিশে ও ‘রাইমস্’  বলে
.                 ডিবেট’ করে, পড়াও চলে
আমার ছেলে খুব ‘পজিটিভ’, অলিক--স্বপ্নে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।

‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই তো ফার্স্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ
হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।
.                 কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে  ?
.                 বিমান ছেড়ে ঠেলায় চ’ড়ে ?
বেঙ্গলি ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ তাই, তেমন ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।

বাংলা আবার ভাষা নাকি, নেই কোনও ‘চার্ম’ বেঙ্গলিতে
সহজ-সরল এই কথাটা লজ্জা কিসের মেনে নিতে ?
.                 ইংলিশ ভেরি ফ্যান্টাসটিক
.                 হিন্দি সুইট- সায়েন্টিফিক
বেঙ্গলি ইজ গ্ল্যামারলেস, ওর ‘প্লেস’  এদের পাশে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বংগালীবাবু বাংলামে কাবু
কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)।
.
বাংলা যেন কেমন-কেমন, খুউব দুর্বল প্যানপ্যানে
শুনলে বেশি গা জ্ব’লে যায়, একঘেয়ে আর ঘ্যানঘ্যেনে।
.                কীসের গরব ?  কিসের আশা ?
.                    আর চলে না বাংলা ভাষা
কবে যেন হয় ‘বেঙ্গলি ডে’,  ফেব্রুয়ারী -- মাসে না  ?
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলা ঠিক আসে না।

ইংলিশ বেশ বোমবাস্টিং শব্দে ঠাসা দারুণ ভাষা
বেঙ্গলি ইজ ডিসগাস্টিং, ডিসটার্বিং , সর্বনাশা ।
.               এই ভাষাতে দিবানিশি
.               হয় শুধু ভাই ‘পি. এন. পি. সি’
এই ভাষা তাই হলেও দিশি, সবাই ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।

বাংলা ভাষা নিয়েই নাকি অ্যাংলা-প্যাংলা সবাই মুগ্ধ
বাংলা যাদের মাতৃভাষা,  বাংলা যাদের মাতৃদুগ্ধ।
.               মায়ের দুধের বড্ড অভাব
.               কৌটোর দুধ খাওয়াই স্বভাব
ওই দুধে তেজ-তাকত হয় না, বাংলাও তাই হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।
বিদেশে কী বাংলা চলে ?  কেউ বোঝে না বাংলা কথা
বাংলা নিয়ে বড়াই করার চেয়ে ভালো ঢের নীরবতা ।
.              আজ ইংলিশ বিশ্বভাষা
.              বাংলা ফিনিশ, নিঃস্ব আশা
বাংলা নিয়ে আজকাল কেউ সুখের স্বর্গে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।

শেক্সপীয়র , ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী বা কীটস , বা বায়রণ
ভাষা ওঁদের কী বলিষ্ঠ, শক্ত-সবল যেন আয়রণ।
.               কাজী নজরুল--রবীন্দ্রনাথ
.               ওঁদের কাছে তুচ্ছ নেহাত
“মাইকেল” হেরে বাংলায় ফেরে, আবেগে --- উচ্ছ্বাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
“বীরপুরুষ” আর কোথায় পাবে খুঁজে?
বীরত্ব আজ ক'জন শিশুর আছে?
শুনতে কি পাও কোথায় বলছে কেউ
“ভাগ্যে খোকা ছিল মায়ের কাছে!”

শিশুরা সব কাহিল পড়ার চাপে
পিঠে তাদের বইয়ের বোঝা ঢাউস,
ঢাল-তরোয়াল হারিয়ে গেছে কবেই
হাতে ওদের এখন ম্যাজিক-মাউস!

হারিয়ে গেছে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি
পক্ষীরাজ আর তেপান্তরের মাঠ,
সোনারকাঠি-রুপোরকাঠি কই?
কোথায় গেল তিরপূর্ণির ঘাট?

কম্পিউটার, ই-নেট বা ল্যাপ-টপ
এসব নিরেই মত্ত ওরা থাকে,
স্বপ্ন দেখার সময় কোথায় ওদের
ইঁদুর-দৌড়ে জোরসে ছোটার ফাঁকে?
কবি ভবানীপ্রসাদ
মজুমদার
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বপ্নহীন কাটছে দিন কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (জন্ম ৯.৪.১৯৫৩)। ২০০৯ সালে প্রকশিত,
উত্থানপদ বিজলী সম্পাদিত, “এপার বাংলা এপার বাংলার ২০০ কবির ২০০ ছড়া ও কবিতা” কাব্যসংকলন
থেকে নেওয়া।
.
মুখের হাসি, বুকের বাঁশি সুখের
অকালেতেই নিচ্ছে কারা কেড়ে?
কেরিয়ারের ডাকাতগুলো রোজই
করছে তাড়া হা-রে, রে-রে, রে-রে!

“বীরপুরুষ” আর চায় না হতে খোকা
খোকারা সব ব্যস্ত বইয়ের পোকা,
কেউ যদি আজ স্বপ্ন দেখতে চায়
বলবে সবাই---বোকা, ভীষণ বোকা!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এই দেশে এক রাজা আছেন, যেই করেছি শুরু
চার-পাঁচজন চেঁচিয়ে বলল, “গুরু
ভুল বলছ, রাজা তো নেই। নেতা আছেন মানি।”
আমি বললাম, “জানি
কিন্তু তোমার চলনবলন রাজার চেয়েও বাড়া।”
“তোমায় করব এ-গাঁ ছাড়া।
নেতার তুমি খুঁত ধরছ?” তখন দেখি ছাদে
চেঁচিয়ে উঠল একদল লোক নেতার জিন্দাবাদে।
আমি বললাম, “শোনো
রাজার ছিল একটা গাড়ি, নেতার ক'টা গোনো
রাজার টাকা রাজকোষে তার হিসেব থাকত রাখা
পাঁচ-সাতটা ব্যাঙ্কে নেতার লুকিয়ে থাকে টাকা
গরিব লোকের জন্যে রাজার থাকত বদান্যতা।”
“এসব বাজে কথা---
দশটা ব্যাঙ্কে টাকা রাখা নেতাকেই তো সাজে
চীন-রাশিয়া সকাল-বিকেল ছোটেন নানা কাজে
ব্যস্ততা তার কত তুমি বুঝবে কী হে মানিক?”
আমি বললাম, *চুপ করো না খানিক।
জনগণের টাকায় নেতার বউ ছোটে পার্লারে---”
অমনি সবাই চেঁচিরে উঠল, “আরে আরে
মনীষীদের ব্যক্তিজীবন ঘাঁটতে আছে বারণ
কবি রতনতনু ঘাটী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
রাজকাহিনী কবি রতনতনু ঘাটী (জন্ম ৩০.৬.১৯৫৩)। পার্থ ঘোষ ও কবি অনীশ ঘোষ সম্পাদিত
“বড়োদের আবৃত্তির কবিতা সমগ্র” কাব্য সংকলন, (২০১২) থেকে নেওয়া।
.
কারণ
জনগণের সুখ-দুঃখের হিসেব রাখেন নিজে
ভোটের আগে গ্রাম-গ্রামান্ত টিভি এবং ফ্রিজে
ভরিয়ে দেন একলা তিনি উপহারের নামে
নতুন নতুন নোটও বিলোন রঙিন রঙিন খামে।
এসব তোমার রাজ করতেন? বলো না বুক ঠুকে,
ভাল লোকের দোষ খোঁজে নিন্দুকে।
রাজার ছেলে ঘোড়ায় চড়ত নেতার ছেলে গাড়ি
দোষ কি যদি নেতার থাকে সতেরোখানা বাড়ি?

রাজারও ভাই প্রাসাদ ছিল, দীঘি এবং বাগান
ও পল্টুদা, এ-লোকটাকে মঞ্চ থেকে ভাগান।”
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
তোমরা ওলা বুক করে ঠিকঠাক যাও
লাগাতার দুর্যোগ, বিরক্তিকর ঝড়বৃষ্টি
শাড়ি জামা বাঁচিয়ে, স্বতন্ত্র পথে যাও
শোকের সময় কাজ এলোমেলো হয়
মোমবাতি ফুল ভুলে গেলে মাটি হবে

পরিষ্কার চত্বর বিদ্বজন পরিবেশ রেখো
সমব্যথী সমাগম চাই প্রসাধিত মুখশ্রী
সুসজ্জিত থাকাও শোকের সম্ভ্রম, তুমি
তোমাদের নিয়ে এগোও, আমি ষ্টেশনে
কাজ শেষে ধরে নেব নগর লোকাল

ম্যাসকারা প্রান্তে রেখো কাজল বর্ডার
অবনমিত পাপড়ির পক্ষ্মশেষে অশ্রু
ফুল ধূপ মোমবাতি শিখা যেন খাপ খায়
সঠিক রেখে দিতে পারে মোবাইল চোখ
শোকাতুর জমায়েত বেদনার হৃদিকথা

খামোখা আটকে গেছি কজনের সাথে
শিশু এক  ঘুরঘুর করে শূন্য প্লাটফর্মে
মুখে আঁচল ঢাকা তার মা বেহুঁশ ঘুমায়
পথশ্রমে বিছানা ছাড়াই স্টেশন চাতালে
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
প্লাটফর্মে মৃত মা জ্যান্ত শিশু
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)। কবির ফেসবুক . . .
.
বুনো ট্রেনের হাঙর দাঁত ছোটে দুই পাশে
মা উঠলে তবেই হবে শিশু ছেড়ে যাওয়া
এই বলে বিড়ি ফুঁকছে দু-চারজন হোঁড়
বাকি লজ্জাটুকু কলার টেনে বসিয়েছে
বৃথা দলের ভেবে ওদের গল্প, মনের কথা  
এর ফাঁকেই লোকাল ট্রেন ধরে নেব ঠিক
আমি আসছি ,তোমরা এগোও মোতাবেক
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বাজপাখি সাময়িক গুটিয়েছে নখ
সংক্রমণ শেষে থামা ভোট উৎসব
ইতিমধ্যে ঘরে ঘরে সেঁধালো মড়ক
নদীপথ বেছে নিল ছুঁড়ে দেওয়া শব

ফলাফল উগলালো ভোটের লড়াই
বিরোধী পক্ষ এক, আরেকের গদি
অনুসারে বাটা হবে সিন্ডিকেট খাঁই
আপাতত চিতা কম দায় নিক নদী

শকুনের ঠোঁটে ঠোকরায় নাগরিক
ছেঁড়ে শ্বাদন্তে শবদেহ সারমেয়
গোমূত্রে এই রোগ সেরে যাবে ঠিক
বিধায়ক বিশ্বাসী তাতে নেই সন্দেহ

এদেশের সুচেতনা রাক্ষসের হাতে
নির্বিকার ভাগ্যবাদী রইলে এতক্ষণ
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ধর্ষকের দাঁতে
তাই ফুঁসে ওঠা চাই, এক্ষুনি জাগরণ
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
সময়টা এখন
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)। কবির ফেসবুক . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
দেশের পথে হাঁটলেই কি দেশের হওয়া যায়?
দলে দলে মরে গেলেও দেশের কিসের দায়!

ট্রেনের চাকা অনেক বেশি মানুষ মাত্র কটা
মানুষ বলা যাবে কিনা সেটাও ভাবার কথা
পোকামাকড় দেখতে লাগে সেটাই ভাগ্যিস
লেখক কবি লিখবে ফের মেটামরফোসিস

দেশসেবা করে যারা তাদের অনেক গরজ
সামলানো, দেশ বিদেশ যাওয়া-আনার খরচ
কে বলেছে খাটতে যেতে গাঁয়ের সীমা ছেড়ে
চা-চপের দোকান দিলে দিব্যি যেতিস বেড়ে

তত মতের যত পথের ধাঁধায় পড়া  মজুর
বাঁচলে পেতিস দেখতে, সামলে নিচ্ছে হুজুর
শুখা রুটির জোরে যদি দম রাখতিস আরো
না মরলে অস্বস্তিটা থাকতো না রাজারও

হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে গেলে নিজের সীমানা
বেরিয়ে গেলে আবার কেন ফেরার ঠিকানা
ফড়ে জানে দেশের মানে আর শ্রমিক সংস্কৃতি
বেকুব নীলিম বাঁধলো আবার বৃথা মজুর গীতি
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ছেলে ভোলানো ছড়া
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)। কবির ফেসবুক . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ওই যে দেশের মধ্যে দেশভাগের মতো ওরা যাচ্ছে
মহান অনুশাসনের মধ্যে দাঙ্গা ফ্যাসাদের মতো যাচ্ছে
ওদের দেশপ্রেম নেই, দেশ ব্যাপারটা ওরা বোঝে না
ওই যে রাজ্যগুলির ওপর দিয়ে নৈরাজ্যের মতো
স্থির নির্ণয়ের ওপর অশান্ত জঙ্গি হানার মতো ওরা যাচ্ছে
ওদের কাছে দেশের তেমন সংজ্ঞা বা উপলব্ধি নেই
অনেকটা পালিয়ে যাবার মতো ওদের যাওয়ার তাড়া
কিন্তু এই মহামারী সময়েও দেশ তো ওদের কথা ভাবছে
তর্ক-বিতর্ক দোষারোপের বহরে দেশের সবাই চিন্তিত
কেন্দ্র রাজ্য মালিক ফড়ে মাথা ঘামাচ্ছে ওদের জন্য
পুলিশের দায়িত্বকে ওরা মিথ্যা ভয় লাঠি কারাবাস ভাবছে
নেতা মন্ত্রীদের কাজ সারা ভাবছে আর নিজেদের সবহারা
এই বিভ্রান্তিকর সময়ে বরাদ্দ রুটি-ভাত বাস-ট্রেন ব্যবস্থা
সবকিছুর জন্যেই অপেক্ষা করার ধৈর্য হারিয়েছে ওরা
ট্রেন বাসে চড়ে সিটে বসার বদলে চাকার তলায় শুয়ে
লকডাউনের গৃহে অন্তরীণ দেশবাসীর জন্য  কিমা আর
মাংসের টুকরো দিচ্ছে নিউজ চ্যানেলের কাউন্টার মারফত
লোভনীয় পিসে লাইভ-শো কবির জিভে জল আসার আগে
আটশ কিলোমিটার রাস্তার সম্বল আটখানা রুটি ছড়িয়ে
পশুপাখি রেললাইনকে বলেছে রক্তের ঝোল মাখা মাংসরুটি খা
বোঝ যায় ভাইরাস ভয়ে নির্বোধ বিভ্রান্ত এই স্বেচ্ছাচার
পরিযায়ীর মতো দেশের মস্তিষ্ক প্রসূত মিষ্টি সম্ভাষণের
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
ওই ওরা যায়
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)। কবির ফেসবুক . . .
.
মর্ম বোঝেনি,কানেই তোলেনি ওরা। বউ বাচ্চাকে তুলেছে
চাকা লাগানো সুটকেসে, কাঁধে, ঠেলায়, গো-যানে নাটকীয়
তোলার হুজুগে। সেই কবেকার মাদার ইণ্ডিয়া সিনেমার
পুনর্নির্মাণ করেছে বলদের জুড়ি হয়ে গো-যানের জোয়াল কাঁধে
হ্যাঁ করোনার ভাইরাস অনিশ্চিত হতেই পারে এদের শরীরে
শুধু নিশ্চিত খিদে আর সব হারানো যন্ত্রণার সংক্রমণ নিয়ে
ওরা যাচ্ছে, দেশের ভিতর কি দেশের সীমায়, ওরা শুধু যায়
কাগজে শ্রমিক নাম রুটি শেষে আচারের দাগ নিয়ে উড়ে যায়
ওরা যাচ্ছে ওরা শুধু যায়, যেখানে উনুনের তপ্ত তাওয়ায়
আগুন ফুলিয়ে তোলে নিশ্চিন্ত রুটি। রুটিতে মানচিত্র।
সেই মানচিত্রে আঁকা থাকে দেশ। দশ দিক থেকে আসে, যায়
সেই দেশ খোঁজে, সেই দেশে যায় তারা নিজেদের দেশের ভিতর
ওদের বিক্ষিপ্ত ভাবা নাগরিক ভুল, দেশ বোঝেনা রাখেনা খোঁজ
হঠাৎ পেয়ে ঘাঁটে ওদের জীবনের বাধ্য বর্তমান এবং পুর্বাপর
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
বন্যায় ধুয়ে মুড়িয়ে দিতে পারে খেবড়ো অসমান
ক্রুদ্ধ জলের ঢল বিদ্যুৎ ফাবড়ে ব্জ্রপাত হেঁকে

শুকনো মানুষগুলো গায়ে গা ঘষে দাবানল পারে
ঝুপড়ি বস্তি কুঁড়ে হাটবাজার অলিগলি জুড়ে জুড়ে
হঠাৎ পাগল হাতির মতো ছিঁড়ে দিতে পারে চেন

অন্ধধৃত রাষ্ট্র, দুঃশাসনে ছড়িয়ে পড়া লুব্ধ অনুচর
মত্ত ষণ্ডের মতো পিছুগামী স্বৈরতন্ত্রের ক্রমবিস্তার

বালি খোঁড়া অন্তঃসলিল নিক আসন্ন প্লাবনের ছক
লেজেতে দাঁড়াক সময়ের শাঁসে নিবেদিত দশদিক
হিসেবে দাখিল করুক প্রয়োগের সত্বর স্থির নিস্তার
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
অতি অবশ্যই
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)। কবির ফেসবুক . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যারা দেশকে ভাত-রুটি খাওয়ায়
তাদের খাওয়াবে কি ঘোল?
মতলব ফাঁস, ফুঁসছে কিষাণ
হাঁকছে হাল্লাবোল।
তোমার ফসল বেচার ছকে
কিষাণ ভীষণ দুর্বিপাকে
ফন্দি ফিকির ফেলল ধরে
ট্রাকটর লাঙ্গল।
আজ ভারতের বিস্তৃত কৃষিজমি
মহাসাগরের ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ উত্তাল উর্মি
কিষাণ জল কামানের হাতে
কিষাণ তীব্র শীতের রাতে
আটকে দেওয়া পথে ছোঁড়ে
হকদারীর রোল।
কবি নীলিম
গঙ্গোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যারা দেশকে ভাত-রুটি খাওয়ায়
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১০.৯.১৯৫৩)।
২০২০র কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা কবিতা। মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের
দেয়ালিকায় তোলা হয় ৯.৮.২০২১ তারিখে।
সেই পাতায় যেতে . . .কবির ফেসবুক . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আগুন আগুন আগুন রে
কার খেয়েছিস নুন রে

রক্ত পোড়ে স্বপ্ন জ্বলে
আচ্ছা দিনের গগন তলে
কার খেয়ে তুই নুন রে
গাস ফ্যাসিস্তের গুণ রে

কান্না পোড়ে চক্ষু জ্বলে
হাজার মানুষ দলে দলে

ঝরায় পথে খুন রে
কার খেয়েছিস নুন রে
তুই কার খেয়েছিস নুন

কান্না জ্বলে শ্লোগান তলে
প্রতিবাদের কণ্ঠ বলে

আমরা আছি পাশাপাশি
এক বৃত্তে ঠাসাঠাসি
বুকের ভেতর পুষছি আগুন
আগুন রে
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আগুন আগুন আগুন রে
কবি অশোক চট্টেপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)।
এনআরসি বিরোধী কবিতা। রচনা ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
যারা শুধু মানুষের
রক্ত নিয়ে হোলি খেলে
ধর্মের ঝান্ডা তুলে
সীমানায় গেঁথে দেয় তার
পশ্চিমের কোল ঘেঁষে
অবশেষে সূর্য গেছে হেলে
তাদের অজান্তেই।
সাগরের জল জুড়ে
নাচে অন্ধকার।
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যারা শুধু মানুষের রক্ত নিয়ে হোলি খেলে
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)।
রচনা ৫ মার্চ, ২০২০।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পথ জাগছে শীতের রাত
গান গাইছে কিসান
ঘুম-ভাঙা এক ছোট্ট শিশু
তুলে ধরছে নিশান
ছবি আঁকছে চিত্রকর
কাব্য করে কবি
গল্পে কারা সময় ধরে
আঁকছে নিপুণ ছবি
রাজনীতিকে বচন দেয়
তাত্ত্বিকে দেয় তত্ত্ব
ঘরে বসে কে যেন খায়
কাঁঠালের আমসত্ব
কারা যেন হিসেব করে
নির্বাচনের অঙ্ক
গলিঘুচির অন্ধকারে
খুঁজছে ড্রেনের পঙ্ক
রাত জাগছে শীতের পথ
শ্লোগান দিচ্ছে কিসান
রাতশেষে এক নবীন শিশু
বাজায় রুদ্র বিষাণ
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
পথ জাগছে শীতের রাত
কবি অশোক চট্টেপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। রচনা ২৫.১২.২০২০। কৃষক
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত কবিতা। মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের
দেলালিকায় ২৮.১২.২০২০ তারিখে তোলা হয়।
.
দালাল খেলে চু কিত কিত
লাখো কিসানের ভিড়ে
একফালি চাঁদ মুচকে হাসে
তুঙ্গভদ্রা তীরে
দেখতে দেখতে মাস কেটে যায়
পথেই রান্না খাওয়া
তিন আইনের বাতিল হাওয়ায়
করছে আসা যাওয়া
বরফ-জমা ঝাপসা ভোরে
আপস গড়ায় পথে
দালাল যেন মরা বাদুড়
ঝোলে মোদির রথে
এক দিন নয় দুই দিন নয়
একটা মাসের শেষে
দ্রোহের আগুন জ্বলছে দ্বিগুণ
ঝড়ের ছদ্মবেশে।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গুলির ভয়ঙ্কর শব্দে
ভয়ে কাপতে কাপতে অবশেষে
ঘুমিয়ে পড়েছিল
রাত্রি

যখন ঘুম ভাঙলো
তার আর অবশেষ
নেই

সমস্ত তল্লাট জুড়ে এখন
ছড়ানো বুলেট
আর লাশ
আলোছায়া মাখামাখি করে
শুয়ে আছে

আর ঘন
চাপচাপ রক্ত
খামচে ধরে আছে
মাটি

কিছুতেই ছাড়ছে না...
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
মাটি
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। প্রথম প্রকাশ  ২৫ জানুয়ারি ২০১২,
র‍্যাডিক্যাল প্রকাশনী থেকে কিষেনজির হত্যার প্রেক্ষিতে প্রকাশিত কবিতা
সংকলন, কাঞ্চন কুমার সম্পাদিত কাব্য সংকলন “যুদ্ধে ছিলে স্বপ্নে আছো”।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সমস্ত ঘরের মধ্যে
অসহায় হাত-পা ছুঁড়ছে
দমবদ্ধ কান্না

তারপর দেওয়াল ভেঙে
ঘর আর বাহির
একাকার

সময়ের পিঠে কারা যেন
রক্তের দাগ
লেপ্টে দিয়েছে

শায়িত আঙিনায়
স্পন্দনহীন
শহিদের লাশ
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
যুদ্ধ কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। প্রথম প্রকাশ  ২৫ জানুয়ারি
২০১২, র‍্যাডিক্যাল প্রকাশনী থেকে কিষেনজির হত্যার প্রেক্ষিতে প্রকাশিত কবিতা
সংকলন, কাঞ্চন কুমার সম্পাদিত কাব্য সংকলন “যুদ্ধে ছিলে স্বপ্নে আছো”।

The problem is not falling a captive It’s how to avoid surrender - Nazim Hikmet
.
বুকের পাথর ভাঙতে ভাঙতে
মা এসে হাত রাখে
সন্তানের গায়

অশ্রু নয়
জ্বলে ওঠে চোখের আগুন :
ওঠ বাবা
যুদ্ধে যাবি না...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কাঁদে দেশ প্রেম হাসে,
আকাশে বাতাসে

পাশা খেলে গেরুয়া সন্ত্রাস।
বোমারু বিমান
জাতীয়তা বমি করে পাড়ায় পাড়ায়।

শব্দে শব্দে মারামারি
খুনের নেশায়
চলকে ওঠে রক্তের ঘ্রাণ।

প্রতিবেশী শক্র হয়
মানচিত্রে ইতিহাস
এঁকে দেয়
রক্ত চিহ্ন কার?

পলাশের আগুন রঙে
মূর্ত হয়
ক্রন্দসী আকাশের গান।

বিস্ফোরণ স্পন্দিত দিনে
অকস্মাৎ রাত্রি নামে
শহরে ও গ্রামে
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাঁদে দেশ কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। রচনা মার্চ ১৮, ২০১৯। এপ্রিল ২০১৯ এ “সম্প্রীতি
মনন” প্রকাশনা থেকে, সব্যসাচী দেব সম্পাদিত যুদ্ধ ও ফ্যাসিবিরোধী কবিতা সংকলন "অবাধ্যতার ঢেউ" এর কবিতা।
.
অলিগলি
পথেঘাটে
ঘরের দাওয়ায়

ঘুরে ফেরে নাতসিদের
কিমাকার ভূত

পালটে যায় শব্দব্রহ্ম
বিন্যস্ত অক্ষরের চোখ
আগ্রাসী ঈগলের ছায়া
নেমে আসে বইয়ের পাতায়

বেজে ওঠে
নিঃশব্দে শেকলের
ঝনঝন
পায়ের আওয়াজ।

কাঁদে দেশ
দেশপ্রেম
মুচকি হাসে মানুষের
রক্ত ঘাম শ্রমের দাওয়ায়
রাত্রি নামে
অলিগলি
রাজপথে
অনাহারী মানুষের
ঘরের ভেতরে

যুদ্ধ হাসে গর্জায়
বোমারু বিমান

ভেঙে দেয়
ভালোবাসা
স্বপ্নের সব ইস্তেহার।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মাখুক না লেনিন কিছু পাখির পুরীষ,
রোদে-জলে থাকুক না নীরব নিথর
এমন তো কতই হয়ে থাকে। বিদেশি টুরিস্ট
তুলুক না ছবি তার অসভ্য ইতর---

এসব না ভাবাই ভালো। আমরা বরং
ইনিয়ে বিনিয়ে দেখিয়ে ভড়ং
বক্তৃতার অগ্নিবানে কাঁপিয়ে মেদিনী
সন্ধ্যার অন্ধকারে আনবাড়ি যাবো সেদিন-ই

সামনে নির্বাচন, মিত্রশক্তি বেছে নিতে হায়
কখন প্রভাতী সূর্য অবশেষে অস্তাচলে যায়
সেসবও ভাবার কোনও নেই অবসর
থাকুক না কিছুকাল রোদেজলে লেনিন নিথর

কেন্দ্রে এক গণশক্র, রাজ্যে তারও বাড়া
একসাথে দুটো যুদ্ধ? অসম্ভবের শিল্পচর্চা ছেড়ে
এরাজ্য শক্রমুক্ত করাটা জরুরি, তাছাড়া
একাজে শক্রর শত্র-র তত্ত্ব নেড়েচেড়ে

আমরা ত লেনিনেই আছি, বলুক যে যাই
দক্ষিণে সুন্দরবন ছিল, উত্তরে তরাই...
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
লেনিন, এসময়ে কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। গৈরিক ফ্যাসিস্ট
গুন্ডাবাহিনীর হাতে লেনিন মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে প্রকাশিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ -- "মূর্তি নয়,
লেনিন বহতা স্রোত", চর্যা প্রকাশনী, সম্পাদক সব্যসাচী দেব, প্রকাশকাল ২৮ জুলাই, ২০১৮।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ধানের শিসে লেগে থাকে আদরের মুঠো মুঠো সোনা
সোনার অঙ্গ জুড়ে খেলা করে শ্রমের সম্পদ
মাটির গর্ভে থাকে নব নব জন্মের বীজ
বিশেষ্য, বিশেষণ সহ সর্বনাম এবং ক্রিয়াপদ

হলের শরীর জুড়ে অর্থনীতি কলাবতী রাগে গান গায়
কী এক মায়ার টানে পঞ্চনদ যমুনাকে দ্রৌপদী বানায়

ট্রাক্টরের স্পন্দিত বুকে জেগে ওঠে ইলিচ লেনিন
উৎপাদিত শ্রমের মূল্যে জন্ম নেয় নওল কিশোর এক স্বপ্নের দিন

ত্রি-শির নাগিনীর বিষে কে করে কালীয় হ্রদ আকাশের মতো ঘন নীল
নিযুত কৃষকের হাতে উঠে আসে আসন যুদ্ধের শাণিত আয়ুধ
সময়ের আয়নায় ভাসে গোর্কি, লু শুন আর মিগজেনির মুখ
ভেসে ওঠে পিতার্সবার্গ, হুনানের হাসির মিছিল

সংসদের ঘেরাটোপে খেলা করে অন্ধ আর বধিরের ঘন অন্ধকার
বিচারের স্মিত হাসি। শীতের চাদর ছিঁড়ে বিদ্রোহের ছড়ানো আগুন
নির্বাপিত করে সাধ্য কার!
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বিদ্রোহের ছড়ানো আগুন কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)।
রচনা জানুআরি ১২, ২০২১। "সম্প্রীতি মনন" পত্রিকার বর্ষ-৩, সংখ্যা- ১, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি
২০২১ তে প্রকাশিত।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
প্রাক স্বাধীনতা দিবস ২০১৬

কে যে কখন কী করছে কী বলছে হায়
বুঝতে বুঝতে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়
তবুও কি ছাই বুঝতে পারি
নিজের সঙ্গে যুঝতে পারি
নতুন করে খুঁজতে পারি
অচেনা সেই পরশপাথর নদীর কিনারায় ...

১৪ অগাস্ট, ২০১৬

স্বাধীনতা দিবস ২০১৬

রাত্রিকে চাবকাতে চাবকাতে হেঁটে যাচ্ছে চাঁদ
দেখতে দেখতে শিউরে ওঠে হাওয়া

মাটি কিন্তু হাসছে আপন মনে
সময় শুধু একাই সঙ্গোপনে
অঙ্ক কষে ঘরে
স্বাধীনতা বেহুঁশ জ্বরে
প্রলাপ বকে শুধু

সাতটি দশক মরুভূমি, বালি ওড়ে ধু ধু
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
দুটি কবিতা কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। রাজেশ দত্ত সম্পাদিত শিল্প
সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা "আবাদভূমি"র তৃতীয় বর্ষ সপ্তম সংখ্যায় প্রকাশিত।
প্রকাশকাল এপ্রিল ২০১৭।
.

রাতের গালে চুমু খাচ্ছে চাঁদ
বেবাক হাওয়া ; একটুখানি কাঁদ
বলছে মাটি ; অঙ্ক কষে সময় একা ঘরে

স্বাধীনতার অঙ্গ পোড়ে গা ঝিম ঝিম জ্বরে ...
১৫ অগাস্ট, ২০১৬
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
পরাহ্নের রোদ্দুরে গরাদের ছায়াগুলো
দীর্ঘ আর ভয়ংকর
হয়ে ওঠে। ছায়া
গরাদ জড়িয়ে ধরে
কুয়াশার মতো ;
সন্ধ্যার লজ্জা ভেঙে
অন্ধকার নামে।
নিভে যায় উত্তাপের সব অবশেষ।

তুই সেই নরকের প্লাবিত তিমির
ছিন্ন করে স্বপ্নের কবিতা লিখিস,
মুক্তির উড়ান দিস!
কে তোকে দিয়েছে দিব্যি
মৃতের ঠিকানা নিতে
‘অসভ্য’ মানুষের
নীড়ে বসে তার কাছে সভ্যতার
পাঠ শিখে, তার বিষ যন্ত্রণার
ভাগ নিয়ে নীলকণ্ঠ হতে!

‘প্রেরণা’র অনু আর পরমানু ছিন্নভিন্ন করে
রাজপথে মানুষের দীপ্ত মিছিল
পৌষের শীতল রাতে স্বপ্নে গেয়ে ওঠে ;
‘এসো মুক্ত করো...’
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
তোর জন্যে কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৩.১১.১৯৫৩)। রচনা ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮। ২০১৯
সালে প্রকাশিত কবি সব্যসাচী দেব সম্পাদিত "এসো মুক্ত করো" কবিতা সংকলন গ্রন্থের কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
জলে ভাসছে মনুষ্যত্ব,
রাস্তায় মানবতার চিতা
জ্বলছে।
বেপাত্তা অকসিজেন,
লুকোচুরি খেলছে টিকা !
হে বন্ধু সুদামা,
এখনও ওরা তূন থেকে  
বের করছে অস্ত্র; জিঘাংসায়
লক লক করছে
ওদের জিভ
লালার বিষ দেখে
ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে
তরতাজা রক্ত
রাস্তায় জ্বলছে
মানবতার চিতা
কবি অশোক
চট্টেপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
জলে ভাসছে মনুষ্যত্ব কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়।
করোনাকালে হাজার হাজার মরদেহ নদীতে ভেসে যাওয়া নিয়ে লেখা।
.
মনুষ্যত্ব
ভাসছে জলে
শঙ্কার শেকল গলায় পরে
আমরা কি ওদের
বশ্য
পোষ্য হয়ে যাচ্ছি ?
হে বন্ধু সুদামা
হয় কথা বলো
নয়তো
জাহান্নামে যাও...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA

পাতার পর পাতা ঘেঁটে কিছুই তো পাওয়া গেল না
আধার কার্ড রেখেছে কোথাও লুকিয়ে,
চলো আমাদের কাজ হলো 'ও'কে খুঁজে বের করা
নিরপরাধী, তাতে কী, ধরতে হবে, হুকুম আছে


নদীতীরে যুবক আপনমনে ঘুরে বেড়ান
নদী হাওয়া গাছেদের সঙ্গে দিন কাটে কথায় কথায়
কখনও বা ভেজা মাটিতে-
প্রিয় যুবতীর মুখ এঁকে চলেন


---এবার বল তোর সঠিক জাত ও ধর্ম ?
মনুষ্যত্ব,


যুবকের বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকে নদীতীরে
শোকে অস্থির আকাশ, শুরু হয় তুমুল বৃষ্টিপাত
বৃষ্টি থেমে গেলে, গঙ্গাফড়িং ভাবে
মনুষ্যত্বের পুরস্কার, এ সভ‍্যতায়, কত সহজে মেলে।
কবি স্বপ্না ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কত সহজে মেলে কবি স্বপ্না ঘোষ (জন্ম ১০.২.১৯৫৪)।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৪.৭.২০১৭।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
আছি হেমন্তের হঠাৎ বর্ষণে
আছি
প্রিয় নদীর এক্ লা তীরে সময়ের স্নেহার্দ্র কোলে মাথা
নুয়ে পড়ে পরাজিতের অবসাদে আবার উঠি জেগে.
জাগতে হবে
আছি
জাগরণে, অকাল নিদ্রায়, অপমানের শতেক তীর চোখে মুখে
হৃদয়ে নিয়ে চলেছি হেঁটে। হেঁটে। হেঁটে হেঁটে জানি
যাব না কোথাও
কোথাও যাবো
যেতে হবে ঝড়ে উত্পাটিত বৃক্ষের শেকড়ের কাছে দুঃসময়ে হাঁটু
গেঁড়ে বসে আসে নত শিরে, তার চোখের জল ঝরে
মালতীলতার
গাল বেয়ে
আমার ভিখারী করতলে জমে ওঠে বৃক্ষের জেগে থাকা
সময়ের ঘুম ভাঙবে কখন সে জেগে উঠে রোষানলে ঘূর্ণাবর্তে
টেনে নেবে ছড়িয়ে
পড়া অন্তরের খরা ?
হৃদয়ের খরা যত, আরও রুক্ষ হ’লে, হেমন্তের বর্ষণে
আছি বৃষ্টির জলে বিনীত অঞ্জলিতে জমে ওঠে কত গৃহহীন
মানুষের মুখছবি।
কবি স্বপ্না ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
আছি কবি স্বপ্না ঘোষ (জন্ম ১০.২.১৯৫৪)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত কবির কাব্যগ্রন্থ “আছি” থেকে নেওয়া কবিতা।
.
এমন দিনে
আছি সালেম চুক্তির ঘুটঘুটে কুটকুটে ঘৃণ্য অন্ধকারে
আছি
প্রেমিকের দুরন্ত বিছানায় আছি অনাথ শিশুর মা হওয়ায়
আছি
নির্ভিক নখ দাঁতে চুক্তির পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে খুঁড়ে দেওয়ার
সক্ষম বাসনায়
আছি।
আজও
আমি আছি
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
খোয়া গেছে ভালোবাসার নদী
খোয়া গেছে ছেলেবেলার মাঠ
খোয়া গেছে আমার কানের মাঁকড়ি
খোয়া গেছে মান অপমান
তোমার আমার আবার মান অপমান!
নানা কাজে দিন যায়, সন্ধ্যে নামে উত্তরাকাশে জেগে ওঠে ধ্রুবতারা
রাত বাড়ে আমার তোমার ঘরে ফেরা, নেই কোনও তাড়া
ঘরে ঘর নেই
বিছানায় নেই বিছানা
কুঁজোয় জল নেই
গর্ভে সন্তান রাতের অন্ধকারে দিশেহারা
রাত কী শেষ হবে!
কে বলে দেবে ?
আকাশে জাগরূক ধ্রুবতারা
চিহ্ন রেখে গেছে ভালোবাসার নদী
চিহ্ন বিনে ফুরালো সকলি
তোমার আমার ঘরে ফেরার, ঘর হতে বাইরে উড়াল দেওয়ার
নেই কোনও তাড়া
রাতের আকেশে চেয়ে আছে ধ্রুবতারা
মুখে বলি ভালো আছি
চেয়ে দেখি আকাশের ভ্রূকুটি  ও সকল সত্ভূমি
কবি স্বপ্না ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
খোয়া গেছে কবি স্বপ্না ঘোষ (জন্ম ১০.২.১৯৫৪)। ২০০৬ সালে প্রকাশিত
কবির কাব্যগ্রন্থ “আছি” থেকে নেওয়া কবিতা।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
গা-ময় এত কাঁটা ছেড়া, কোথাও বা পোড়া দাগের ঘনঘটা
কিছু অঙ্গ গেল ছিন্ন হ’য়ে, তবু তুমি উল্লসিত হবে!
যে পতাকা হাওয়ায় দোলে তার মনোকষ্ট তুমি টের পাবে কবে
তোমার মনে হবে শিউলি কুড়ানোর বেলা শেষ, এবার শুধু
পতাকায় ঝরা পাতা জড়ো করা, শীত গেল যে
কোকিল ডাকে না
কে যাবে, বসন্তকে ডেকে এনে কে বসাবে ভাঙাচোরা দাওয়ায় এককোণে
পড়ে থাকা কাপের চা টুকু ঠাণ্ডা হ’য়ে আছে
এষ্ঠ অধর ফুলে আছে কান্নার অভিঘাতে ভাঙা মাটি কথা বলবে
কবে, ছ-মাস হ’লো সে বোবা হ’য়ে আছে
তার সব কথা ফুরিয়ে গেছে ?
যেতে হবে, কান্না ছেড়ে উঠে পড়
গুছিয়ে নাও, যে টুকু না হ’লেই নয়
উদ্বাস্তু হ’লে, বোকার মতো কেঁদো না
ছ-মাস হ’ল দেশ তোমার স্বাধীন, ঠাণ্ডা চা টুকু ফেলো না

উদ্বাস্তু শিবিরে, দেশবিহীন দেশবাসীর ললাটে কলম লিখে চলে এক
কাহিনী, শ্রুতি সুখকর নয়, তুমি কী শুনবে, কলমের ভয় হয়।
তার এ গতি ভয়শূন্য হতে ভাঙামাটির বুকে আছড়ে পড়ে
আশ্রয় চায় পিপীলিকার মতো উদ্বাস্তু যত পিপীলিকাও নয়,
ওরা ভুলে গেছে কামড়াতে, ভুলে গেছে কী নাম যেন ওদের
যে দেশটি ছিল, শেকল গায়ে তার ছিল কষ্ট বড়ো।
কবি স্বপ্না ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্বাধীনতা এলো কবি স্বপ্না ঘোষ (জন্ম ১০.২.১৯৫৪)। ২০০৬ সালে কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “আছি” থেকে নেওয়া কবিতা।
.
সে ক্ষণে যৌবন দণ্ডায়মান কৃপাণ হাতে
স্বাধীনতা এলো ভাঙা মাটির বিভেদ রেখায় রক্তঝরা কত প্রাণ
কবরের মাটির নীচে জ্বলে যায় চিতার আগুনে ঝলসে যায়
তোমার আমার মতবাদ ধুলোর চেয়েও নগন্য
মানুষেরা এপার হতে ওপারে অবাঞ্ছিত এপারে এসেছে
বস্তাবন্দী ওরাও মানুষ শত শত
স্বাধীনতা দিবসে ভেরী বাজে আবির ওড়ে
স্বাধীনতার একবছর হ’ল
স্বাধীনতা দিবসে শহর যত কাঁপে উত্সবের রেশ-এ
দেশ-এ অন্নহীন-এর ফলন ভালো
স্বাধীনতার বয়স ঊনষাট হ’ল
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
এখনও যদি নীরব থাকি, কথা বলবো কবে !
সূর্যাস্তের প্রাক্কালে পশ্চিমাকাশ লালে লাল,
যেন বা আগুন লেগেছে।
ওই আগুন ছড়ায় ফসলের মাঠ জুড়ে আজ কৃষকের
হৃদয় পোড়ে। বিদ্রোহ জেগে
ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধ,
যেমন গর্ভস্থ সন্তানের
সঙ্গে মায়ের একাত্মতা
তেমনি জমি ও কৃষক এক
প্রাণ এক আত্মা।
বিভাজনের সব চেষ্টাই
বিদ্রোহের আগুনে পুড়ে
হবে ছারখার।

এখনও যদি ভিজে বেড়াল হয়ে থাকি বাঘিনী হবো কবে?
বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে ন‍্যায়-যুদ্ধ,
বেজে ওঠো, হে পাঞ্চজন‍্য শঙ্খ।
কবি স্বপ্না ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
বেজে ওঠো, হে পাঞ্চজন‍্য শঙ্খ কবি স্বপ্না ঘোষ (জন্ম
১০.২.১৯৫৪)। মিলনসাগরের কৃষক আন্দোলনের দেয়ালিকায় তোলা হয়
৯.১২.২০২০ তারিখে।
সেই পাতায় যেতে . . .
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
কাঁটাতারের দু পারেই রদ্দুর, দু পারেই অন্ধকার
দু পারেই ছায়া, আলো দু পারেই
দু পারেই মানুষ, মানুষ দু পারেই !
মানুষ আর পাখি, পাখি আর মানুষ
কিইবা তফাৎ !পাখিদের নেই কোন ঠিকানা
কোন কোন মানুষেরও নেই কোন গেহ, নেই আবাস
তাই বুঝি তাঁরা অকালে পাখি হয়ে যায়
ডানা ভাঙ্গা পাখি, দেহ গেথে তারে তারে
হৃদয়? হৃদয়ে কেঁদে মরে অক্ষম হৃদয়ে হৃদয়ে!
কেটে দাও সেই সব হাত, নিষ্ঠুর, ক্ষমাহীন
ভেঙ্গে দাও যত বেড়া। কাঁটাতার পেরুলেই কেন তীর?
দেখ পাখিরা কত ভালবাসে পাখিদের
আর মানুষ কাকে ভালাবাসে? অন্তত
মানুষকে নয়? কাঁটাতারের বেড়া তাই তো বলে !
কবি
জোহরা উম্মে হাসান
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
কাঁটাতারের বেড়া কবি জোহরা উম্মে হাসান (জন্ম ২২.২.১৯৫৪)।
কবিতাটি কবি ২০১৬ সালে, মিলনসাগরের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
.
.
.
মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার .
. . . পরের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
প্রতিবাদী            .
কবিতার        .
পরের    .
পাতায় যেতে
এখানে    .
ক্লিক         .
করুন              .
এই পাতার পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার জেলের,
যা যে কোনো রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের উপরে চরম
নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতীক। আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
মিলনসাগরের এই প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার কবিদের সাজানো
হয়েছে পাতার পর পাতা কালানুক্রমিকভাবে বাঁ থেকে ডান দিকে।
পাঠকের সুবিধার জন্য কবিদের সূচীটি বর্ণানুক্রমিক রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকার সূচীতে যেতে >>>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার প্রতিবাদী কবিরা---
কবীর সুমন (২২)
গৌতম চট্টোপাধ্যায় (৫)
ওয়াজেদ আলি (১১)
নমিতা চৌধুরী (২)
পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল (১)
তিমিরবরণ সিংহ (২)
নয়নতারা ধারা (২)
অসীম ভট্টাচার্য (৫)
ব্রজলাল অধিকারী (২)
প্রণব কুমার ভৌমিক (১)
মহম্মদ বসীরউদ্দিন (১)
কল্যাণ সেন বরাট (১)
শুভ দাশগুপ্ত (৪)
অলোকরঞ্জন বসুচৌধুরী (২)
অলোক সেন (১)
অনুপ মুখোপাধ্যায় (৫)
ডলি মিদ্যা (২)
সাধন গুহ (২)
সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
অঞ্জন দত্ত (১২)
অমর ভট্টাচার্য (৩)
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার (৭)
রতনতনু ঘাটী (১)
নীলিম গঙ্গোপাধ্যায় (৬)
অশোক চট্টোপাধ্যায় (১১)
স্বপ্না ঘোষ (৪)
জোহরা উম্মে হাসান (১)
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
সমন্বয়ের উদার বাণীর পুণ্য পীঠস্থানে
হায় কে যে আজ বিভেদনীতির বার্তা বয়ে আনে!
বেসুরো আজ সম্প্রীতি আর সহিষ্ণুতার গান,
রাজনীতিকের কূটচালে গেরুয়া আজ ম্লান!
বশম্বদ আর চাটুকারের দিন কি হল শুরু?
আজকে তাঁরাই লঘু হলেন, যাঁরা ছিলেন 'গুরু'!
এলেন উড়ে পরদ্বেষী দেশপ্রেমের পান্ডা--
ছড়াও এবার গোবর, ওড়াও বিভেদনীতির ঝান্ডা!
ওই গোবরে ফুটবে কমল-
.      এটাই এখন ভিশন
আপাতত গোবরগন্ধে
.      ম' ম' করুক 'মিশন'!
কবি অলকরঞ্জন
বসুচৌধুরী
সমন্বয়ের উদার বাণীর পুণ্য পীঠস্থানে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী (জন্ম ১৯৫১)। শাসকের বিভেদনীতির বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ। মিলনসাগরের দেয়ালিকায় তোলা হয় ২৫.১.২০২০।
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
ধ্যানাসন-সমাসীন ধৃতগ্রন্থ প্রতীকপুরুষ
জলাশয়ধারে যেন মহাকাল-প্রহরীপ্রতিম,
বকরূপী ধর্মের মতোই দিলেন  সতর্কীকরণ –
‘জলে নামবার আগে দাও আমার প্রশ্নের উত্তর!’
কিন্তু তাতে হবে হুঁশ –
বাঙালি বিপ্লবী নয় সে-রকম ধর্মের পুত্তর!
সুতরাং সেই মহাভারতীয় ধ্রুপদী মরণ
এলো তারও, যদিও তা অন্য ঢঙে – সে মেনেছে অন্য যে শাস্তর,
জবাব সে দেয়নাকো, তূণে তার ঘৃণা যে অসীম –
সে-আয়ুধে মাথা কাটে ধ্যানমূর্তির, ভাবে নিজে নিরঙ্কুশ,
পায়না শুনতে স্বর – ভেসে আসে ঋজু, সুমহিম :---  
‘পেয়েছি উত্তর আমার, ঠিক আছে কার্য ও কারণ!’

গোলদীঘি-পারে চলে হট্টগোল তারপরে বড়ো –
অবিশ্রান্ত সভা বসে –প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, ধিক্কার ;---
বাঙলার বিবেক নাকি আক্রান্ত –এইমতো কত,
অপুর্ব সে প্রদর্শনী, সুবিচিত্র, চীৎকৃত ব্যাপার!
কবি অলকরঞ্জন
বসুচৌধুরী
গোলদীঘির মূর্তিকে নিয়ে কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী (জন্ম ১৯৫১)। বিদ্যাসাগরের
মূর্তি ভাঙা নিয়ে কবিতা।
.
শতাব্দীর প্রহরী সে-প্রতিজ্ঞাপুরুষ ধ্যানলীন
বসে বসে দেখে যান – ছিন্নমস্ত মূর্তি সে তো জড়,
মালা-মাইক- মন্ত্রীর তামাশাও চলে অবিরত –
অতঃপর করা হয় পুনরায় মুন্ড-সংস্থাপন;        
যদিও প্রহরী ছিল সতর্কিত, উঁচিয়ে সঙ্গীন!  
শোনা যায়নাকো শুধু সেদিন সে মহাডামাডোলে
সেই পুরুষের স্বর, আশ্রয় যার শিলাসন :---
“সাত-পুরু চেঁছে ফেলে এ-মাটিতে যদি কিছু ফলে!”
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
এই পাতার
পশ্চাৎপটের ছবিটি
আন্দামানের সেলুলার
জেলের, যা যে কোনো
রাষ্ট্র দ্বারা তার জনগণের
উপরে চরম নিপীড়ন ও
নির্যাতনের প্রতীক।
আবার এই দেয়াল ও
গরাদগুলিই স্বাধীনতাকামী
মানুষের জীবনপণ করা
প্রতিবাদেরও
প্রতীক!
HOME
বাংলা প্রথম পাতা। HOME BANGLA
স্কুলের ব্যাগটা বড্ড ভারী
আমরা কি আর বইতে পারি?
এও কি একটা শাস্তি নয়?
কষ্ট হয়, কষ্ট হয়!

আমার কষ্ট বুঝতে চাও
দোহাই পড়ার চাপ কমাও
কষ্ট হয়, কষ্ট হয়।।

পড়ার চাপে চেপ্টে গিয়ে,
কী করব এই শিক্ষা নিয়ে?
অমুক হও, তমুক হও,
অমুক হও, তমুক হও
কেউ বলে না মানুষ হও।

এত্ত রকম পরীক্ষায়
আমার খালি কান্না পায়,
কে করল রে এ নিয়ম?
লোকটা বোধ হয় খেলার যম!
খেলবে কেন, অঙ্ক করো,
যোগ্য হবার রাস্তা ধরো।
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .   
স্কুলের ব্যাগটা কথা ও সুর - কবীর সুমন। রচনা - ১৯৯৬। কণ্ঠশিল্পী - শিশুশিল্পীদের সাথে
কবীর সুমন। "ছোটবড় মিলে" ক্যাসেটের গান। আমরা কৃতজ্ঞ
সুমনআমি ওয়েবসাইটের কাছে গানটির
কথার জন্য। ভিডিওটি সৌজন্যে
Sumanami UK YouTube Channel.
.
কোথায় রাস্তা কোথায় যাবো?
কোথায় গেলে শুনতে পাবো
একটু পড়া, অনেক খেলা
গল্প শোনা সন্ধ্যেবেলা।
রাতের হাওয়ায় বুকের কাছে
স্বপ্ন দেখার গল্প আছে।।