কবি বিজয় গুপ্ত-র মনসামঙ্গল কাব্য
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১  
মনসার জন্ম পালা

গৌরী কোন্দল পালা     

মনসা বিবাহ পালা     

অষ্ট নাগের জন্ম পালা   

অমৃত মথন পালা   

বনবাস পালা       

হাসন হুসন যুদ্ধ পালা     

গুয়াবাড়ি কাটা পালা       

ধন্বন্তরি বধ পালা     
১০
ছয় কুমার বধ পালা     
১১
ঝালুবাড়ির পূজা পালা  
১২
যমযুদ্ধ পালা      
১৩
যাত্রাপাটন পাটন পালা     
১৪
বস্তুবদল পালা     
১৫
ডিঙ্গা বুড়ান, লক্ষ্মীন্দরের জন্ম ও চান্দ লাঞ্ছনা পালা
১৬
লখিন্দরের বিবাহের জোড়ানি পালা    
১৭
লোহার বাসর ঘর নির্মাণ পালা     
১৮
লখিন্দর বিবাহ পালা       
  ১. এই রূপে রাখিয়া লোহার বাসর    
২. বিদেশে কুমার যায় কাতর হৃদয় মায়   
৩. কি বিদায় দিব বাছা মুই অভাগিনী   
৪. হরি সাধু বড় জন ধনে নাহি দীন    
৫. চান্দর সাক্ষাত যোড় করি হাত   
৬. কহিতে কহিতে দুই সাধুর হল পরিচয়   
৭. লখাই বিচিত্র বেশে আনন্দ সাহের দেশে   
৮. বিয়ার দিন জামাই ছুটিলে দোষ নাই   
৯. দেখিয়া লখাইর ঠান বিকল বুড়ির প্রাণ   
১০. চৌদিকে জয় জয় দিল হুলাহুলি   
১১. নানা বাদ্য মনোহর বিয়া করে লক্ষ্মীন্দর   
১২. লক্ষ্মীন্দর বেহুলার বিয়া দেখে দেবগণ   
১৩. শুন গো রজকের ঝি তুমি বা না জান কি   
১৪. পদ্মাবতী সুবদনী চলিল শিব নন্দিনী   
১৫. বেলা অবশেষ হইল গোধূলি সময়   
১৬. হইল গোধূলি বেলা সুসজ্জিত করে বেহুলা   
১৭. কৌতুক চাওনি করে বাল লক্ষ্মীন্দর   
১৮. সাহে সগাগর কান্দে লোটাইয়া ধরণী   
১৯. কেহ বলে আছে লখাই কেহ বলে নাই   
২০. বেহুলা বলে হরি গোপাল গোবিন্দ   
২১. বেহুলা কাতর স্বরে মনসার স্তুতি করে   
২২. খন্ড বিয়নী নেও অমৃতের জল   
২৩. কার্যে কেহ মতি না দে মিছা কার্যেতে কান্দে   
২৪. স্বামী কোলে করি বেহুলা বসিল বিরলে   
২৫. আজ্ঞা দিল দেবরাজে আকাশে দুন্দুভি বাজে   
২৬. ধান্য দূর্বায় বরিও লখাইরে   
২৭. সাহে বড় পুণ্যবান সভামধ্যে কন্যাদান   
২৮. শুভক্ষণে দুই জনে ঘরেতে চলিল   
২৯. বাপ ঘর হইতে বেহুলা স্বামীর ঘরে যায়   
১৯
লখিন্দর দংশন পালা   
২০
ভাসান পালা      
২১
স্বর্গারোহণ পালা     
অতি বড় শব্দ শুনি যেন বহে ঝড় |
নয়শত কাওয়ালি চলে তেরশত নড় ||
মহাশব্দে বাদ্য বাজে শুনি বড় রঙ্গ |
দুই হাজার ঢাক চলে হাজার মৃদঙ্গ ||
চলিল চান্দর কটক করিয়া পরিপাটী |
হাতে করিয়া আনিতে পারে উজানীর মাটি ||
চলিল চান্দর কটক কহন না যায় |
একমুখে লেখা দিতে লাগে মাস ছয় ||
কটক সাজাইয়া চান্দর আনন্দিত মন |
পুরীর মধ্যে সদাগর করিল গমন ||
উজানী চলিল লখাই কৌতুক হইল বড়ি |
সংবাদ পড়িল গাইন বলরে লাচারি ||

.                                   ****************                         
সূচি...    


মিলনসাগর
দেখিতে সুন্দর বড় গুণে অনুপম ||
বিয়ার বেশে লখাইর মাথায় ধরে ছাতি |
তাহা দেখি হরিসাধুর স্থির নহে মতি ||
নগর মন্ডল সাধু বিবাদে টনক |
শিঙ্গায় ফুঁ দিয়া সাজায় আপন কটক ||
কেহ বলে ধর ধর কেহ বলে কাট |
চৌদিগে চাপিয়া উঠে হস্তী ঘোড়ার ঠাট ||
চান্দর তরে কহে সাধু দুঃখ লাগে বড়ি |
সংবাদ পড়িল গাইন বলরে লাচারি ||
বাধা না মানিয়া লখাই উজানিতে যায় |
মনসা চরণে বৈদ্য বিজয় গুপ্ত গায় ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
মনসামঙ্গল কাব্যের সূচি
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা



চান্দর সাক্ষাত                যোড় করি হাত
ধর্ম বরে কহে কথা |
গুয়ার বাখান                   সভা বিদ্যমান
কহিব শাস্ত্রের গাথা ||
পাতাল ভবনে                   বলির আশ্রমে
বিস্তর বাড়িল পূজা |
ভামার্জুন বীর                     নকুল সুধীর
কৃষ্ণ যুধিষ্ঠির রাজা ||
হরিদ্রায় ফলে                  জামির চাহিলে
আর মর্তমান কলা |
এক দ্রব্য চায়                   তিন দ্রব্য পায়
দেবকী গুয়া আনিল ||
অর্জুন আনিল                 গোবিন্দেরে দিল
পলিছে কৃষ্ণ বচনে |
পূর্বজন্ম ফলে                   জন্ম ক্ষিতিতলে
বড় প্রীতি তিনজনে ||
প্রশ্নের উত্তর                      করিয়া সত্বর
চলে হরষিত মনে |
চান্দ হরষিতে                  চলে উজানীতে
সানন্দে বিজয় ভণে ||

.                                                          ****************                                                
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
যথায় জন্মিল গুয়া জানিত বিশেষ ||
সানন্দ হৃদয়ে মন্ডল সর্ব কথা কয় |
লাচারি বলিতে ভাই এইত সময় ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
পঞ্চ শব্দে নানা বাদ্য বাজে মনোহর |
হরি সাধু আগে হাটে পাছে লক্ষ্মীন্দর ||
হরি সাধুর উপরোধ এড়ান না যায় |
সাত গাছ কাছলা ছোঁয়াইল বাম পায় ||
আগে লক্ষ্মীন্দর হাটে হরি সাধু পাছে |
একে একে ডিঙ্গাইল কাছলা সাত গাছে ||
উলটিয়া চাহে লখাই বামে রহে হাল |
মাথার উপর দেখে পুরাণ জোয়াল ||
লক্ষ্মীন্দর কোপ করে হরি সাধু হাসে |
হাতাহাতি করে দোহে বাটিতে প্রবেশে ||
সুমিত্রার বড় ঘর নামে উদয়তারা |
সেইখানে দাঁড়াইল লক্ষ্মীন্দরের ঘোড়া ||
যেইখানে গোমাই করিয়াছে লেপন |
সেইখানে লখাইরে দিল বসিতে আসন ||
লক্ষ্মীন্দরের রূপ সুমিত্রা একদৃষ্টে চাহে |
বরণের সামগ্রী লইয়া আগে আইল সাহে ||
গঙ্গাধর যাত্রাবর সোমাই পন্ডিত |
দুইজন পুরোহিত রহিল দুই ভিত ||
গঙ্গাধর বাক্য পড়ে সোমাই ধরে তর্ক |
পান অর্ঘ আচমন দিল মধুপর্ক ||
বসন ভূষণ দিল কস্তুরী চন্দন |
জামাই অর্চিয়া দিল বহমূল্য ধন ||
বরণ করিয়া সাধু হইল একভিত |
নারীগণ লইয়া সুমিত্রা আসিল আচম্বিত ||
মঙ্গল সরা কাখে হাতে লইয়া দীপ |
একশত আইও আইল লখাইর সমীপ ||
হরষিত আইওগণ কৌতুক হইল বড়ি |
সংবাদ পড়িল ভাই বলরে লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
পাতিল জুড়িয়া যেন কুমারে গড়ে সরা ||
হেনকালে আসিল বুড়ি কয়জন |
বার্ধক্যে বিকল অঙ্গ বিগত যৌবন ||
বুড়ি বলে বিধি দিল সফল জীবন |
কোন ঝাটে বলে মোর গিয়াছে যৌবন ||
গেল গেল যৌবন মোর ছারখার হইয়া |
মোর আঁখির ঠার কেবা দেখেছ চাহিয়া ||
চক্ষু ভরি দেখ যদি এ বুড়ির গঠন |
কটাক্ষে মোহিত করি পুরুষের প্রাণ ||
আর এক বুড়ি আইল হাতে লয়ে লড়ি |
উরুতে ঝামটা দিয়া বলে তাড়াতাড়ি ||
কোন চক্ষে সুখদা মোরে বলে বুড়ি |
আমি বুড়ি হইলে আর সবে ছুড়ি ||
যে মোরে বুড়ি বলে তার মুখে দিব ছাই |
হের দেখ কাচা চুল আছে গাছ দুই ||
বুড়ি বলে মোর গা করে ঢস মস |
পাকা জামিরে যেন উপাধিক রস ||
উজানীর লোকে মোরে জানে ভাল মতে |
কাহার দর্প চূর্ণ না হইয়াছে মোর হাতে ||
স্বামীর ভাত মোরা কোন গুণে খাই |
বেহুলা ছাড়িয়া সঙ্গে যায়ত লখাই ||
বিজয় গুপ্তে স্তুতি করে মনসার পায় |
কামবাণে আইয়গণ গড়া গড়ি যায় ||
পঞ্চশ্বরে দগ্ধ যত বণিকের নারী |
এইকালে বল ভাই সরস লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা



দেখিয়া লখাইর ঠান                        বিকল বুড়ির প্রাণ
আপনা আপনি হুড়াহুড়ি |
বসনে ঢাকিয়া গায়                      আড় আঁখি বুড়ি চায়
মদনে মোহিত হইল বুড়ি ||
পাকণা মাথার চুলে                       দর্প করি বুড়ি বলে
ঘন ঘন দিয়া উগিনাগি |
বিস্তর তাম্বুল ভোগে                        দশন পড়িল বেগে
মোরে বুড়ি বলে চক্ষুশোকী ||
কি ছার পামর দেশ                 বায়ুর আগে পাকে কেশ
না জানিয়া লোকে বলে বুড়ি |
পবনে শরীর দোষে                    দিনে দিনে রক্ত শোষে
তেকারণে চর্ম হইল দড়ি ||
আপণার কার্যফলে                    লোক মোরে বুড়ি বলে
বিধি মোরে বড়ই দারুণ |
লজ্জা ছাড়ি বুড়ি কয়                      রসিক পুরুষে পায়
তবে বুঝে বুড়া কি তরুণ ||
হাড়ি পাতিলের কালি                    কিছু না রাখিল বুড়ি
সকলি নিয়া পাকা চুলে ঘষে |
কাছিয়া কাপড় পিন্ধে                      গাবুর পুরুষ নিন্দে
গাবুর পুরুষে লাগিল তরাসে ||
এইরূপে যে বুড়ি                           কামভাবে হুড়াহুড়ি
শুনিয়া হাসে সর্বজনে |
পদ্মাবতী দরশনে                          সানন্দে বিজয় ভণে
বুড়ি মৈল আইওর ডলনে ||

.                                                          ****************                                                
সূচি...    


মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                 ১০
চৌদিকে জয় জয় দিল হুলাহুলি |
বিবাহের শুভক্ষণ হইল গোধূলি ||
পঞ্চস্বর বাদ্য বাজে শুনি সুললিত |
নর্তকী নাচে গাইনে গায় গীত ||
ধন্য ধন্য লখিন্দর বাখানে দেবগণ |
তোমার বিয়া চাহিতে দেবতার আগমন ||
সকল রথে দেবগণ উজানীতে যায় |
বিজয় গুপ্ত স্তুতি করে মনসার পায় ||
রথে চড়ি দেবগণ উজানী করে ধাড়ি |
এই কালে বল গাইন সম্বেদ লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                   ১২
লক্ষ্মীন্দর বেহুলার বিয়া দেখে দেবগণ |
চিন্তায় বিকল হেথা মনসার মন ||
সাত পাঁচ পদ্মাবতী ভাবে মনে মন |
নেতা নেতা বলি ডাক দিল ততক্ষণ ||
ঝাটে রথ সাজাও নেতা উজানিতে যাই |
বিবাহ করে আজু সুন্দর লখাই ||
বেহুলা লখাইর বিয়া গোধূলির সময় |
চৌদিকে হুলাহুলি শুনি জয় জয় ||
নেতার বোলে পদ্মাবতী কৌতুক হইল বড়ি |
সংবাদ পড়িল ভাই বলরে লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

১৩

শুন গো রজকের ঝি                   তুমি বা না জান কি
বেহুলা মোর স্বরূপে হয় দাসী |
শিশুকাল হইতে পূজে             আজ তার বিয়ার কাজ
না গেলে মনে দুঃখ বাসি ||
নেতা বলে বিষহরি                     কপট চাতুরি করি
তোমার কপট দুষ্ট মায়া  ||
চান্দর পুত্রের বিয়া                     তোমার সাহস হিয়া
তেকারণে উজানিতে মন ||
তুমি উজানিতে গেলে              না জানি কি প্রমাদ ফলে
হেন কার্যে যাবে কোনজন ||
নেতার বাক্যের ভয়                      হাসিয়া মনসা কয়
না বুঝিয়া হেন বাণী বল |
আমি উজানীতে যাব                  দেব মেলে বিয়া চাব
ইহাতে কি আছে গন্ডগোল ||
শুনিয়া পদ্মার কথা                    কৌতুকে হাসেন নেতা
কত ছল কর বিষহরি |
পদ্মাবতী দরশনে                        সানন্দে বিজয় ভণে
রথ সাজাও রজক কুমারী ||

.                                                          ****************                                                
সূচি...    


মিলনসাগর
*
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

১৪

পদ্মাবতী সুবদনী                   চলিল শিব নন্দিনী
সর্ব অঙ্গে নাগ আভরণ |
রক্তবস্ত্র পরিধান                     রক্তপুষ্প বিভূষণ
রক্তজবায় শোভিছে চরণ ||
যাইতে আকাশ পথ                 বলেন সাজাও রথ
বিলম্ব না সহে মোর প্রাণে |
রথ সাজাইয়া আনে                  নাগে রথখান টানে
তাহে পদ্মা উঠে নেতার সনে ||
বায়ুতে করিয়া ভর                    রথ চলে শূন্যপর
আসিয়া মিলিল দেবমেলে  |
আসিল মনসা মায়                   দেবগণে শঙ্কা পায়
কি ঘটায় বিবাহের কালে  ||
চন্ডি বলে হরি হরি             বেহুলা না করিও রাঁড়ী
শুন পদ্মা আমার বচন  |
না করিও গন্ডগোল                  শুনহ আমার বোল
দেবগণ আছে যতক্ষণ ||
আর কি কহিব আমি               পাষাণ অধিক তুমি
ইহা আমি জানি চিরকাল  |
বিজয় গুপ্ত বলে বাণী               শুন মাতা হর রাণী
পদ্মা ভালবাসে যে জঞ্জাল ||

.                                                          ****************                                                
সূচি...    


মিলনসাগর
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
অস্তস্পট ঘুচাইয়া করে মুখোমুখী ||
( বেউলার মুখ দেখি লখাই কুতূহল |
প্রভাত সময়ে যেন ফুটিল কমল ||
উচ্চৈস্বরে নানা বাদ্য বাজে ঘন ঘন |
শুভক্ষণে দোঁহাকার হইল দরশন ||
লখাই বেহুলার বিয়া সবে বলে ভাল |
মঙ্গল লাচারী গীত বল এই কাল ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
মহাবিষ সর্প বিষ লখাই দেখিয়া নিকটে |
মোহ গেল লক্ষ্মীন্দর প্রাণ নাহি ঘটে || )
সর্পের সম্ভ্রমে বড় সোনেকার পো |
সর্প সর্প করি লখাই তখন হইল মো ||
কপাটি লাগিল দন্তে লড়বড় করে গলা |
অচেতন হইয়া পড়ে লক্ষ্মীন্দর বালা ||
ভূমিতে পড়িল লখাই মুখে উঠে ফেণা |
হাহাকার করিয়া এবে উঠিল সর্বজনা ||
লখাই বেড়িয়া কান্দে যত সব আই |
বিজয় গুপ্তের রাখ পদ্মাবতী মাই ||
লখিন্দর মোহ গেল দুঃখ লাগে বড়ি |
চান্দোর বিলাপে বল করুণা লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                   ১৮
সাহে সগাগর কান্দে লোটাইয়া ধরণী |
সোমাই পন্ডিত কান্দে মুখে নাহি বাণী ||
সাহের ছয় পুত্র কান্দে তার মুখ চাইয়া |
থাকুক অন্যের কাজ পদ্মার পোড়ে হিয়া ||
লখাইর মরণে সর্বলোকে করে শোক |
মাথায় হাত দিয়া কান্দে উজানীর লোক ||
নাকেতে নিশ্বাস নাহি ভূমে পড়ে আছে |
পুত্র পুত্র বলি চান্দ ধেয়ে গেল কাছে ||
চান্দ বলে কোথায় গেল প্রাণের লখাই |
বিজয় গুপ্তেরে রাখ বিষহরি আই ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
হেন হবে মর্ত্যলোকে না পূজিবে কেও ||
নেতার বচনে পদ্মার নেউটিল মন |
হাতসানে কহে পদ্মা বেহুলারে গিয়া আন ||
পদ্মার বচনে ধামুর মনে হইল সুখ |
ত্বরিতে চলিয়া গেল বেহলার সম্মুখ ||
ধামু বলে বেহুলা সাধিলাম তোমার কাজ |
পদ্মার আজ্ঞা হইয়াছে তুমি চল পুরীর মাঝ ||
এতেক বলিয়া ধামু কপাট করে দূর |
আথেব্যথে চলিয়া গেল মনসার পুর ||
বিজয় গুপ্ত বলে গাইন কৌতুক হইল বড়ি |
বেউলার করুণায় বল কুরণা লাচারি ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
উদ্দেশ যেন নরলোকে মাগিয়া লয় বর ||
সেবকের তরে আমার কপট না ছিল হিয়া |
দেবের মেলে গেলাম আমি দেখিবার বিয়া ||
বিনা বায় ছত্র ভাঙ্গিল বড়ই অখ্যাতি |
তেকারণে ধরিলাম আমি নাগছাতি ||
সর্পের ডরে ভয়ে সোনেকার পো |
নাগছত্র দেখিয়া ভয়ে গেল মো ||
ভয়ে মোহ গেল লখাই ছাড়িল জীবন |
বিনা অপরাধে দোষ দেও কি কারণ ||
সুস্থ হয়ে বিষহরি বলে আর ভয় নাই |
এখন জীয়াইয়া দিব তোমার লখাই ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
ব্রহ্মা বিষ্ণু লিখে আর উমা মহেশ্বর |
কুবের বরুণ লিখে চন্দ্র দিবাকর ||
বরাহী চামুন্ডা লিখে দেবী ভগবতী |
রাম লক্ষ্ণণ সীতা লিখে দেবী পদ্মাবতী ||
ইন্দ্র যম অগ্নি লিখে আর মহীধর |
লক্ষ্ণী সরস্বতী লিখে পর্বতসাগর ||
নানা পুষ্প লিখে চম্পা নাগেশ্বর |
যূথি মালিকা লিখে মালতী টগর ||
বেহুলার কাঁচলি কি কহিব কথা |
নানাবিধ প্রকারে লিখে গন্ধর্ব দেবতা ||
কোনখানে লাল বস্ত্র কোনখানে সাদা |
কাঁচলি গড়ি বিশ্বকর্মা তাহাতে দিল সদা ||
মনের হরিষে বেহুলা কাঁচলি দিল গায় |
সপটে প্রণাম করে মনসার পায় ||
ঝারি ভাবিয়া লইল অমৃত কুন্ডের জল |
একে একে নাগগণ বন্দিল সকল ||
নেতার চরণে করিয়া অনেক প্রণতি |
আঁখির নিমেষে গেল যথা প্রাণপতি ||
ছাওনির তলে ঢলিয়াছে লক্ষ্মীন্দর বালা |
চতুর্দিকে কান্দে লোকে কর্ণে লাগে তালা  ||
বেহুলা বলে বাপ ভাই কান্দ কি কারণ |
পরমায়ু শেষ হইলে অবশ্য মরণ ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
দুই প্রহর রাত্রি  ( হইল ) গগন উপর |
বিয়ার বেশে বেহুলা সাজি আসল সত্বর ||
পঞ্চশব্দে বাদ্য বাজে শুনিতে শোভন |
লখাই বেহুলা চাওনি করে দুইজন ||
চতুর্দিকে হুলাহুলি করে নৃত্য গীত |
হেনকালে বল ভাই লাচারি গীত ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
*

.                                                          ****************                                                সূচি...    


মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                 ২৬
( ধান্য দূর্বায় বরিও লখাইরে |
নেতের অঞ্চলে বরিও লখাইরে ||
বেহুলা গো গঙ্গাজলে বরিও লখাইরে |
বেহুলা পূর্ণ ঘট ছোঁয়াইও কপালে  || )
পঞ্চশব্দে নানা বাদ্য আর শঙ্খধ্বনি |
বেদমন্ত্রে পুরোহিত জ্বালিলা আগুনি ||
পূর্বমুখী হইয়া বসিল লক্ষ্ণীন্দর |
উত্তরমুখী হইয়া বসিল লক্ষ্মীন্দর ||
যোগ্যবরে কন্যা দিতে বাপের কুতূহল |
পঞ্চ হরিতকী আনে জাহ্নবীর জল ||
লখাইর হস্তের উপর থুইল বেহুলার হস্তখান |
শাস্ত্রবিধানে সাহে কন্যা করে দান ||
দুই কুলের পুরোহিত বিদ্বান প্রবীণ |
যজ্ঞ করিয়া কুন্ড করে প্রদক্ষিণ ||
চারিদিকে কোলাহল করে জয়নাদ |
দক্ষিণা করিলা কৈল শান্তি আশীর্বাদ ||
বিবাহ হইল লখাইর বড় হরষিত |
এইকালে বল ভাই লাচারির গীত ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
বিষাদ ভাবিয়া বেহুলা কান্দে দীর্ঘরায় |
যতেক বণিক নারী উজানিতে আছে ||
দাঁড়াইল আসি সবে বেহুলার কাছে |
কেহ কান্দে মা মা কেহ কান্দে ঝি |
মায় বলে বেহুলা বেহুলা মোরে হৈল কি ||
সুমিত্রা ক্রন্দন করে আকর্ষিয়া গাও |
আমারে এড়িয়া বেহুলা কোন দেশে যাও ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
তাহার উপরে দোহে করিলা শয়ন ||
পুত্রের তরে দয়া বড় চান্দ সদাগর |
শতেক প্রদীপ দিছে লোহার বাসর ||
বিজয় গুপ্ত রচে পুথি মনসার বর |
আজুকার পালা বলি এইখানে সোসর ||

.              ****************                                                                 
সূচি...    


মিলনসাগর
*
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা


এই রূপে রাখিয়া লোহার বাসর |
কটক সাজাইতে চলে চান্দ সদাগর ||
তাকিয়া ভর দিয়া বসিলা নৃপমণি |
ডাক দিয়া আনিলেক বলাধিকারিণী ||
ধর ধর বলাধিক খাও গুয়া পান |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা



বিদেশে কুমার যায়                                       কাতর হৃদয় মায়
দশনে দংশিল বাম পায় ||
তোমারে বিদেশে দিয়া                                পাষাণে বান্ধিয়া হিয়া
তিলেক মাত্র না দেখিলে মরি |
অনেক কামনা করি                                       সেবিলাম বিষহরি
সেই ফলে পাইলাম তোমারি ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                   ৩
কি বিদায় দিব বাছা মুই অভাগিনী |
ডোকর হারাইয়া যেন ভোকরে বাঘিনী ||
একেশ্বর যাও তুমি আসিও সকালে |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ৪
হরি সাধু বড় জন ধনে নাহি দীন |
দ্বারেতে পাইক আছে লাখ দুই তিন ||
হস্তীতে চড়িয়া যায় চান্দ সদাগর |
হয় হস্তী কত আছে চান্দর নগর ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ৬
কহিতে কহিতে দুই সাধুর হল পরিচয় |
হরি সাধু করিলেক অনেক বিনয় ||
তোমার মায় আমার মায় মাসতুত বোন |
লক্ষ্ণীন্দরের বিবাহে মোরে না বলিলে কেন ||
চান্দ বলে শোকে মোর তনু হইল শেষ |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা



লখাই বিচিত্র বেশে                            আনন্দ সাহের দেশে
ধন্য ধন্য চান্দর নন্দন |
মঙ্গল মৃদঙ্গ বাজে                               বরণে সুমিত্রা সাজে
কৌতুকে চলিল আইওগণ ||
মঙ্গল সরা লয়ে কাখে                           সুমিত্রা চলিল আগে
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ৮
বিয়ার দিন জামাই ছুটিলে দোষ নাই |
আপনে সুমিত্রা বরে বেহুলার জামাই ||
সুমিত্রা করিল যত অর্চন মঙ্গলবার |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

১১

নানা বাদ্য মনোহর                              বিয়া করে লক্ষ্মীন্দর
দেখিতে আসিল দেবগণ |
আপন বাহনে চড়ি                                রহিল বিমান ভরি
আনন্দে মগন সর্বজন ||
হংস পৃষ্ঠে ভর করি                              চতুর্মুখে বেদ পড়ি
আপনে আসিল প্রজাপতি |
শঙ্খ চক্র গদা হাতে                              গোবিন্দ গরুড় রথে
দুই পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী ||
বলদে শঙ্কর চলে                                  নয়নে অনল ভালে
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                   ১৫
বেলা অবশেষ হইল গোধূলি সময় |
নারীগণে হুলাহুলি দিল জয়জয় ||
বিবাহের বেশ করে যত নারীগণ |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

১৬

হইল গোধূলি বেলা                           সুসজ্জিত করে বেহুলা
নানা বাদ্য বাজে সুললিত |
হইলেক দরশন                                    আনন্দিত নারীগণ
হুলাহুলি দিল চারি ভিত ||
বেহুলার দেখি ছাঁদ                              আকাশে উঠিল চাঁদ
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                 ১৭
( কৌতুক চাওনি করে বাল লক্ষ্মীন্দর |
পঞ্চস্বরে নানা বাদ্য বাজে মনোহর ||
বিপদ নিকট হইলে বিধি পাছে লাগে |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ১৯
কেহ বলে আছে লখাই কেহ বলে নাই |
অকরুণ কান্দে চান্দ আয় রে লখাই ||
নিষেধ করিল মোরে সোনেকা সুন্দরী |
সাজাইয়া আনি লখাই কারে দিলাম ডালি ||
নাহি জানে কর্মফল কিবা করে কালে |
বিদেশে আনিয়া তোমা হারাইলাম অকালে ||
ছয় পুত্র মরি মোর গেল পরলোক |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ২০
বেহুলা বলে হরি গোপাল গোবিন্দ |
দেব কন্যা হইয়া তুমি সাঁঝে যাও নিদ্রা ||
পাত্র মিত্র নিকট নাহিক একজনা |
সন্ধ্যাকালে নিদ্রা যাইতে না করিল মানা ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

২১

বেহুলা কাতর স্বরে                             মনসার স্তুতি করে
করুণে বলয়ে কত বাণী
তুমি যে নিষ্ঠুর অতি                           শুন দেবী পদ্মাবতী
ইহা আমি আগে নাহি জানি
শিবের সেবনে রত                           ছিলাম দুইজনে যত
তাহাতে বিবাদী হৈলা তুমি
তবে করি অনুতাপ                          দিয়া তুমি অভিশাপ
আনিলা কপটে পাপভূমি
শিশুকাল হইতে আমি                      ভজি তোমা জান তুমি
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                ২২
খন্ড বিয়নী নেও অমৃতের জল |
শীঘ্রগতি যাও বেহুলা বিলম্ব না কর ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

২৩

( কার্যে কেহ মতি না দে                            মিছা কার্যেতে কান্দে
মরিলে কান্দন নি আইসে ||  )
গুরুর গৌরব ছাড়ি                                 উচ্চঃস্বরে বলে দেবী
ছোট দেবতা নহেত মনসা |
তখন কর অনুচিত                              পদ্মারে গালি দেও নিত
তেকারণে হইল হেন দশা |
শুনেছি বাপের ভূমি                                   মহাজ্ঞান জান তুমি
তাহা তুমি রাখিলা কি কারণ |
তাহা যদি সত্য হয়                                   তবে কি নাগের ভয়
প্রভুর কেন অকালে মরণ ||
চলিল প্রভুর কাছে                                    গৌরবিত যত আছে
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                  ২৪
স্বামী কোলে করি বেহুলা বসিল বিরলে |
সকল শরীর সঞ্চারে অমৃতকুন্ডের জলে ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

২৫

( আজ্ঞা দিল দেবরাজে            আকাশে দুন্দুভি বাজে
অন্তরীক্ষে পুষ্প বরিষণ |
সর্ব দেব হরষিত                      চতুর্দিকে নৃত্য গীত
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

২৭
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                 ২৮
শুভক্ষণে দুই জনে ঘরেতে চলিল |
বিচিত্র আসনে লখাই ভোজনে বসিল ||
মনের কৌতুকে লখাই খাইতে বসে ভাত |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল

লখিন্দর বিবাহ পালা

                   ২৯
বাপ ঘর হইতে বেহুলা স্বামীর ঘরে যায় |
সপটে প্রণাম করে বাপ মায়ের পায় ||
ক্রন্দরে আকুল বেহুলা চারিপাশে দেখে |
এই পাতায় কোনো ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে অথবা যদি
কোথাও ভুল বলে মনে হয়, তাহলে আমাদের এই ইমেলে
জানাবেন। আমরা শুধরে নেবার চেষ্টা করবো।
srimilansengupta@yahoo.co.in