কবি বিজয় গুপ্ত-র মনসামঙ্গল কাব্য যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
সোনার সাঁড়াসি দিয়া মাথা চাপি ধরে || কালিকার মন্ত্রে তবে বেউলায়ে জপয়ে | লড়িতে না পারে নাগে মোড়া মোড়ি যায়ে || সাহের কুমারী বেউলা বুদ্ধি নহে ঢিল | নাগবন্দী করিয়া ঘরে দিল খিল || অষ্ট নাগ বন্দী করি সাহের কুমারী | লখিন্দরের শিয়রে বসি জাগে একেশ্বরী || হেনকালে কাল ক্ষুধা লখাই জন্মিল | রন্ধন করিয়া দিতে বেউলারে কহিল || বিজয় গুপ্তে বলে গাইন হও সাবহিত | পয়ার এড়িয়া বল লাচারির গীত ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
সোনার সিন্দুক মধ্যে শুইয়া নিদ্রা যাও ||
নাগ বন্দী করি বেহুলা মনে কুতূহল |
নেতার সঙ্গে পদ্মাবতী চিন্তিয়া বিকল ||
নানা মায়া জানে বেহুলা কার্যের জানে সন্ধি |
এইরূপে অষ্টনাগ করিল সব বন্দী ||
সাহের কুমারী বেহুলা কার্যে নাহি ঢিল |
অষ্টনাগ বন্দী করি কপাটে দিল খিল ||
অষ্টনাগ বন্দী করি হরিষ অন্তর |
লখাইর শিয়রে বসি জাগে একেশ্বর ||
নেতা নেতা বলি পদ্মা ডাকে উচ্চরায় |
মোরে বুদ্ধি বল নেতা কি হবে উপায় ||
নেতা বলে পদ্মাবতী তোর বুদ্ধি নাই |
এসব নাগের প্রাণে দংশিবে লখাই ||
অষ্টনাগ বন্দী হইল ফলিল প্রমাদ |
কালীরে আনিতে তুমি করহ সংবাদ ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৭
নানা অস্ত্র হাতে করি পাইক জাগে সারি সারি গারুড়িয়া জাগে ঘরে ঘরে | হেতালবাড়ি লয়ে করে ঘন ঘন চান্দ ফেরে আপনে বেহুলা জাগে বাসরে || পার্বতীর ঔষধ বলে অন্ধকার রাত্রে জ্বলে ময়ূর সারস শতে শতে | বিষম লোহার ঘর দেখিতে লাগে প্রাণে ডর প্রবেশ করিব কোন পথে || পদ্মা বলে শুন সাচে বায়ুকোণে ছিদ্র আছে সেই পথে যাও ছোট হইয়া | পদ্মাবতী দরশনে সানন্দে বিজয় ভণে পামর বড় মনসার হিয়া ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
বিকশিত কমলে ভ্রমরে করে আশ ||
আধ বার বত্সরে বেউলা তের নাহি পোরে |
শিশু মতি বেউলা সুরতি নাহি জানে ||
আমি সে তোমার নারী তুমি অধিকারী |
তোমার যতেক ধন আমি সে ভান্ডারী ||
আজুকা থাকহ প্রভু চিত্তে ক্ষমা দিয়া |
পরশু ভুঞ্জিয় রতি পালঙ্কে বসিয়া ||
বিজয় গুপ্তে রচে গীত মনসার বরে |
লখাই বেউলার সংবাদ গেল লোহার বাসরে ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
স্বভাবে রাখাল জাতি বড়ই নিষ্ঠুর |
পাচনের বাড়ি দিয়া মাথা করে চুর ||
আড় হইয়া বোড়া ক্ষেত্র মধ্যে পড়ে |
বোড়ার দুর্গতি দেখি ধামু ধায় লড়ে ||
তথা হইতে ধামু চলি গেল দূরে |
উপস্থিত হৈল গিয়া কালীনাগের দ্বারে ||
ধামুরে দেখিয়া দ্বারী বলিল বচন |
এখানে আসিল নাগ মরিবার কারণ ||
ধামুর স্থানে কহে কথা দুঃখ লাগে বড়ি |
এই কালে বল ভাই সরস লাচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
রাত্রি থাকিতে যাবা দেরী নাহি সয় |
প্রভাত কালে প্রাণ যাবে শ্বাস মাত্র বয় ||
এতেক শুনিয়া কালীর বিরস বদন |
যাত্রা করিয়া কালী চলিল তখন ||
বিক্রমে আগল কালী দেখিতে বিকট |
পবনের গতি চলে পদ্মার নিকট ||
নমস্কার কৈল কালী পদ্মার চরণে |
বিনয় করিয়া দিলা বসিতে আসনে ||
যাহা করিয়াছ ধামু কিছু মিথ্যা নয় |
বিনা তুমি না হইলে কার্য সিদ্ধি নয় ||
জাতিহীন চান্দ বাণিয়া গন্ধ বণিক |
রাত্রিদিন গালি পাড়ে না সহে ক্ষণিক ||
আজ রাত্রে বিয়া করে তাহার তনয় |
লোহার ঘরে লুকাইয়া রাখে মোর ভয় ||
ভাবিতে চিন্ততে রাত্রি হইল অর্ধভাগ |
লখাইরে দংশিতে পাঠাইলাম অষ্টনাগ ||
সাহের ঝি বেহুলা জানে নানা সন্ধি |
একে একে অষ্টনাগ করিয়াছে বন্দী ||
অষ্টনাগ বন্দী হইল গণিলাম প্রমাদ |
তেকারণে তোমার তরে পাঠাইলাম সংবাদ ||
বুহিন ঝী তুমি আমার প্রাণের সমান |
লখাইরে দংশিয়া রাখ আমার সম্মান ||
পদ্মার বিনয় শুনি নাগিনী লজ্জিত |
যোড় হস্তে বলে মাতা এ কোন উচিত ||
ফলিলে বুঝিবা কার্য কি বলিব আগে |
মনুষ্য দংশিব আমি কোন কার্যে লাগে ||
এতেক শুনিয়া বাক্য পদ্মার অকস্মাৎ |
বজ্রাঘাতে পড়ে যেন কালীর মাথাত ||
কোন অপরাধে সোনা করিল তোমার ঠাঁই |
কোন দোষে দংশিব আমি তাহার লখাই ||
পদ্মার অনুরোধ কালী এড়াইতে না পারি |
লখাইরে দংশিতে কালী চলে তাড়াতাড়ি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৬
মায়ার পুতলি কালী বিক্রমে আগল |
তাড়াতাড়ি গেল কালী লোহার বাসর ||
হেতালবাড়ি হাতে চান্দ ঘন পাকে লড়ে |
নাগিনীর প্রাণ কাঁপে হেতালের ডরে ||
লোহার ঘর লোহার দ্বার উপরে লোহার পাত |
দেখিয়া ফিরিয়া গেল পদ্মার সাক্ষাৎ ||
নাগিনীরে দেখিয়া চমত্কার গায় |
কি কি বলিয়া পদ্মা জিজ্ঞাসে উচ্চরায় ||
খাইতে নারিলাম চান্দর কুমার |
বিদায় পাইলে যাই আপনার ঘর ||
পদ্মার তরে কহে কালী দুঃখ লাগে বড়ি |
সংবাদ পড়িল ভাই বলরে লাচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
খাটের উপরে দোহে শুইয়া নিদ্রা যায় ||
পরম সুন্দর লখাই বেহুলা গুণবতী |
খাটেতে শুইয়া যেন রতি রতিপতি ||
লখাইরে দেখিয়া কালীর উপজিল দয়া |
পাপিষ্ট মনসা পাষাণ তার হিয়া ||
লখাইর দিকে চাহি নাগ যুড়িল ক্রন্দন |
পয়ার এড়িয়া বল লাচারি এখন ||
বিজয় গুপ্তে বলে গাইন হও সাবহিত |
পয়ার এড়িয়া বল লাচারির গীত ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১০
বিষেতে ব্যাপিল কালী পূর্ণিত বিকট |
বজ্রফণা ধরি যায় লখাইর নিকট ||
মনে মনে চিন্তে কালী কি হবে উপায় |
অশুভের চিহ্ন নাই লক্ষ্মীন্দরের গায় ||
কালীর কথা শুনি হইল দৈববাণী |
বাসরে থাকিয়া তাহা শুনিলেক নাগিনী ||
প্রদীপের তৈল মাখি ললাটেতে দেও দেখি
. তবে লক্ষ্মী ছাড়িবে উহার |
শুনিয়া আকাশ বাণী বিষাদিত নাগিনী
. দীপ তৈল দিল লখাইর গায় |
লোহার বাসর ঘরে নাগিনী শিয়রে
. সানন্দে বিজয় গুপ্ত গায় ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
পদ্মার গোচরে গিয়া কহে সকল কথা||
যোড়হস্তে কহে পদ্মার গোচর |
তোমার প্রসাদে মাতা দংশি লক্ষ্মীন্দর ||
অপমান করে মোরে সুন্দর লখাই |
কাটিয়া রাখিল লেজ শুন দেবী আই ||
চান্দর যে বংশনাশ করিলাম ভালমতে |
নাগিনী চলিয়া গেল আপন পুরীতে ||
ঘায় ব্যাকুল লখাই করে ধড়ফড় |
বেহুলার পৃষ্ঠেতে মারে বজ্র চাপড় ||
নিদ্রায় আকুল বেহুলা নাহিক চেতন |
উঠ উঠ বলি লখাই ডাকে ঘনে ঘন ||
চক্ষুতে জল দিয়া নখে মাংস বিন্ধে |
তবু নাহি জাগে বেহুলা অচেতন নিন্দে ||
উঠ উঠ প্রাণপ্রিয়া ঝাটে তোল গাও |
বিজয় গুপ্তরে রাখ বিষহরি মাও ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২০
আমার কপালে বিধি এমন লিখিলা নিধি কলমে না ছিল কালি | কার হরিলাম ধনজন লখাই মরে তেকারণ পুত্রশোকী বলে মোরে কেবা দিল গালি || বিষহরির চরণ ভাবি আমি সর্বক্ষণ পুত্রহে তোমার কেন মরণ | কালি ছিলা মোর পুত রূপে গুণে অদ্ভুত যেন কামদেবের সমান || আহা পুত্র লক্ষ্মীন্দর মোর প্রাণের দোসর আজু তোমায় কারে দিলাম ডালি | কাহার হরিনু ধন কেবা করিল এমন পুত্রশোকী বলি দিল গালি || লখাইরে কোলে লইয়া সোনেকার বিদরে হিয়া ভূমিতে পড়িয়া মোহ যায় | সোনেকার করুণা শুনি সর্বলোকে শোককুল সানন্দে বিজয় গুপ্ত গায় |
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
লোহার ঘরে ঢলিয়া পড়িল লক্ষ্মীন্দর |
প্রাণ কাড়ি লয়ে যায় যমের কিঙ্কর ||
খাট হইতে লক্ষ্মীন্দর বাহে গড়াগড়ি |
তবু নিদ্রা না ভাঙ্গিল বেহুলা সুন্দরী ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
স্বামী কোলে কান্দে বামা দুঃখ বড়ি |
এই কালে বল ভাই করুণ লাচারি ||
বিজয় গুপ্তে কহে শোন তথ্য সার |
বেউলা হতে লখিন্দর জিবে পুনর্বার ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৬
এতেক দারুণ দঃখ রহিল হৃদয় |
দেখা না লইল প্রভুর মরণ সময় ||
মোর তরে প্রাণেশ্বর কি বলিলা বাণী |
নিদ্রায় না জানিলাম মুই অভাগিনী ||
স্বামী কোলে করে কান্দে সাহের কুমারী |
কোন দোষে প্রাণনাথ গেল মোরে ছাড়ি ||
কি ক্ষণে অভাগিনীর আসিল কাল নিদ |
সময় পাইয়া নাগ বাসরে দিল সিন্ধ ||
হীন জন নহ তুমি সাধুর কুমার |
ধূলায় লোটাও তুমি কোন ব্যবহার ||
বিজয় গুপ্ত বলে বেহুলা না কান্দিও আর |
পদ্মা হইতে হবে তব স্বামীর উদ্ধার ||
স্বামী কোলে করি কান্দে দুঃখ লাগে হড়ি |
এইকালে বল ভাই করুণ লাচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
অভাগিনীর স্বামী দংশিয়া গেল নাগে ||
নাগিনী দংশিয়া গেল চম্পকের রাজা |
কোথা গিয়া পাব আমি গাব়ুড়িয়া ওঝা ||
বিজয় গুপ্ত বলে বেহুলা না কান্দিও আর |
তোমা হইতে হবে চান্দর বাদের উদ্ধার ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
বাসরে সুন্দরী বেহুলা কান্দিয়া বিকল |
রজনী প্রভাতকালে কোকিলের ধ্বনি |
শয্যা ত্যগি বাহির হইলা সোনেকা রাণী ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
উচ্চৈঃস্বরে কান্দি বলে রামা রৈলা কোথায় ||
কি শুনিলে সখীগণ শুনাও আর বার |
সত্য কি মরিছে মোর বাল লক্ষ্মীন্দর ||
আলু থালু চুলে যায় পাগলিনীর বেশে |
ত্বরিতে চলিয়া গেল বাসরের পাশে ||
বাসরের দ্বারে গিয়া দাঁড়াইয়া চায় |
কোলে আয় রে লক্ষ্মীন্দর তোর মায়ের প্রাণ যায় ||
গা তোল গা তোল সত্বরে |
বিয়ার বরণ করিতে আসিলাম তোরে ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২১
কবাট করিয়া দূর বাসরে সামায় |
দেখিল সোনার তনু ধুলায় লোটায় ||
চম্পকের রাজ্য বাপ কারে দিয়া গেলা |
কোন দুঃখে লখাইরে ধুলায় শুইলা ||
দুই হস্তে ধরি রাণী লখাই নিল কোলে |
চুম্বন করিছে রাণী বদন কমলে ||
বিধুমুখে একবার ডাক মোরে মা |
মৃত্যুকালে তোমার সঙ্গে দেখা হইল না ||
আহারে দারুণ বিধি কি বলিব তোরে |
এত দুঃখ দিয়া বিধি সৃজিলা আমারে ||
ক্ষণেক চেতন রাণী ক্ষণেক অচেতন |
কোন বিধি করিল আমার ললাটে লিখন ||
এক পুত্র ঘরে বিনে অন্য পুত্র নাই |
অন্ধের নড়ি আমার সুন্দর লখাই ||
রাত্রিতে আইলা লখাই বধূ সঙ্গে লৈয়া |
না দেখিলাম দুইজনে একত্র করিয়া ||
তোমরা সব সখীগণ হও একধার |
লখাইর বামে বসুক বধূ দেখি একবার ||
সোনা বলে বধূ তুমি পরমা সুন্দরী |
আমার বাছা খাইতে আইল কপট রাক্ষসী ||
স্বরূপে জানিলাম তুমি নিশাচর জাতি |
বিয়ার রাত্রে খাইলা স্বামী নহিল বাসিরতি ||
বড় ঝিয়ারি তুমি গুণের অন্ত নাই |
চান্দর বংশনাশ করিতে ছিলা কোন ঠাঁই ||
কোপ মনে সোনেকা বধূরে পাড়ে গালি |
এতেক শুনিয়া বেহুলা কাণে দিল তালি ||
নাগিনী দংশিল প্রভু মোরে কেন রোষ |
তোমার ছয় পুত্র মৈল সেওকি আমারই দোষ ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২২
ক্রন্দনের রোল উঠে লোহার বাসর |
হেথায় চৈতন্য পাইল চান্দ সদাগর ||
হেতালবাড়ি কান্ধে লইয়া উভালড়ে ধায় |
ত্বরিতে চলিয়া গেল বাসরে সামায় ||
কোথা লখাই কোথা লখাই বলে সদাগর |
চম্পকের রাজা আমার বাল লক্ষ্মীন্দর ||
বিধুমুখে বাপ বলিয়া আর না ডাকিলা |
চম্পক রাজ্য তুমি কারে দিয়া গেলা ||
আহারে দারুণ বিধি তুই নিদারুণ |
বাপ মা থাকিতে কেন পুত্রের মরণ ||
হেন নিদারুণ শোক কেবা দিল মোরে |
ধন প্রাণ গেল আমি রহি একেশ্বরে ||
কান্দিতে কান্দিতে সাধু হইল ব্যাকুল |
স্তব্ধপ্রায় হইল সাধু নাহি বোলচাল ||
বিজয় গুপ্ত বলে সাধু না কান্দিও আর |
বেহুলা লখাই হইতে তব বাদের উদ্ধার ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
প্রাণনাথ ঢলিয়াছে বরিব কাহারে ||
সিঁথির সিন্দুরে আমারে না পাড়িল কালি |
কাঁচা রাড়ি বলে মোরে কেবা দিল গালি ||
বেহুলা বলে শ্বশুর তুমি দেবতা সমান |
অভাগিনী বেহুলার কথা কর অবধান ||
পূর্বকালের কথা ধর কহিয়াছে বুড়াবুড়ি |
সর্পঘাতে মৈলে লোকে অগ্নিতে না পুড়ি ||
কলার মাজুষে করি ভাসাও গাঙ্গড়ি |
আমি অভাগিনী যাব প্রভুর সংহতি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
সম্মুখে বসিয়া বেহুলা করয়ে বিনয় ||
শরীরে দারুণ শেল সহিতে নাহি আর |
কলার মাজুষেতে সাগর হব পার ||
তোমার প্রসাদে যেন অবিলম্বে তরি |
বিজয় গুপ্তেরে রাখ দেবী বিষহরি ||
মালীর আগে কহে বেহুলা করযোড় করি |
এই কালে বল ভাই করুণ লাচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২৫
কারে বিধি হেন করে |
বিয়ার রাত্রে স্বামী মরে ||
মধুকর উড়ে গেল |
সাধু কমল পড়ে রইল ||
অঞ্চলে মাণিক্য ছিল |
সুখেরঘরে আগুন দিল ||
ছিলাম বড় আদরিণী |
হইলাম পথের কাঙ্গালিনী ||
বিয়া করল রাজার সুতা |
ব্যবহার দিল কলার ভুর ||
বিয়া হইল বাপের বাড়ি |
শ্বশুর বাড়ি হইলাম রাড়ি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১ লোহার বাসরে আছে বেউলা লখিন্দর | অষ্ট নাগ পদ্মাবতী আনিল সত্বর ||
|
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২
বেউলা গ সাহের কুমারী |
খিদায় আকুল প্রাণ এড়াইতে না পারি ||
বাড়া ভাত খাইতে গেলাম তোর বাপের ঘরে |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৩
বাসরের মধ্যে লখাই শুইয়া নিদ্রা যায় |
চিন্তিয়া ব্যাকুল হেথা দেবী মনসায় ||
সাত পাঁচ ভাবি পদ্মা করিল পরিপাটী |
সংবাদ পাঠাইয়া আনে নাগ কোটি কোটি ||
তক্ষকাদি অষ্ট নাগ আনিল সত্বর |
দংশিয়া দেহ মোরে বীর লক্ষ্মীন্দর ||
লোহার বাসরে যদি না মরে লক্ষ্মীন্দর |
তবে মরণ নাই তার শতেক বত্সর ||
রজনী প্রভাত হইলে লখাই যাবে মায়ের ঘরে |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৪
আজিকার রাত্রে যদি না মরে লক্ষ্মীন্দর |
তবে পূজা না হইবে মোর পৃথিবী ভিতর ||
নেতা বলে পদ্মাবতী মোর বোল ধর |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৫
তুমি সাধিয়া মরিতে আইলা হেথা |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৮
এতেক শুনিয়া পদ্মা বিরস বদন |
পদ্মার চক্ষুর জলে ভিজিল বসন ||
( মোর বুদ্ধিবলে নেতা ধোপঝি আই |
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
৯
মুই হেন অভাগিনী হেন ছার নহে জানি ছার কার্যে কেন আমি আসি | ফিরিয়া ঘরেতে যাই পদ্মারে বড় ডরাই দংশিতে পরাণে দুঃখ বাসি ||
|
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১১
মনে বিষাদ ভাবে মোর কি হইল |
আপনার অঙ্গে মাখে প্রদীপের তৈল ||
শরীরে অশুভ চিহ্ন ততক্ষণে হইল |
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১২
আজু বিয়া হইল রাতি না চিনিলে নিজ পতি নাগিনী দংশিয়া গেল মোরে | যদি জানিতাম সাঁচে এতেক নির্বন্ধ আছে বিয়ার রাত্রে সাপে খাবে মোরে || এক দিবসের লাগি তোমার বধের ভাগী এই পাপে নরকে বিভোগ ||
|
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৩
বাসরেতে লক্ষ্মীন্দর প্রাণ নহে স্থির |
কাল বিষের ঘায় পোড়ায় শরীর ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৪
কারে দিয়া যাব আমি চম্পক নগরী |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৫
চারিভিতে চাহে পদ্মা কেহ নাই কাছে |
লখাইর প্রাণ আনিবারে চারি নাগ পাঁচে ||
অগ্নিকাল মহাকাল ফণী মহাফণী |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৭
বাও নাই বাতাস নাই লোহার ঘরে বাস |
কোন নাগিনী আসি প্রভুরে কৈল নাশ ||
এ নব যৌবন মোর গেল ছারখার |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৮
কেরে জাগ কেরে জাগ গারুড়িয়া ওঝা |
বাসরে ঢলিল প্রভু চম্পকের রাজা ||
কান্দে অভাগিনী বেহুলা লখাইরে কোলে করি |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
১৯
প্রভাতে উঠিয়া রাণীর আনন্দিত মন |
আইও আইও বলে রাণী ডাকে ঘনে ঘন ||
রাণী বলে আইও তোরা গুয়া পান খাও |
লখাইরে বেড়িয়া সবে মঙ্গল গীত গাও ||
চৌদিকে চাপিয়া বাজে মঙ্গল বাজন |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২৩
কবাট ভাঙ্গিয়া সবে প্রবেশিল ঘর |
ঘর হইতে বাহির করে মরা লক্ষ্মীন্দর ||
পুত্রশোকে কান্দে রাণী স্থির নহে চিত |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২৪
সমুদ্রে ভাসাইয়া দেও যথা তথা যাই |
ভাগ্যের ফলেতে যদি ওঝার লাগ পাই ||
রক্তেতে জারিত জীব অস্থির সংহতি |
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
লখিন্দর দংশন পালা
২৬
কলার মাজুষ গড় দেখিতে সুন্দর বড় প্রভু লয়ে ভাসিব গাঙ্গরি || শুনরে মালীর পো বিধি বিড়ম্বিল মো লখাইরে লইয়া হইলাম ভিখারী | ছিলাম বড়র ঝি তুমি বা না জানি কি কর্মদোষে হইল হেন দশা ||
|
এই পাতায় কোনো ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে অথবা যদি কোথাও ভুল বলে মনে হয়, তাহলে আমাদের এই ইমেলে জানাবেন। আমরা শুধরে নেবার চেষ্টা করবো। srimilansengupta@yahoo.co.in
|
|
|