| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| দিশাহার হয়্যা ধায়্যা বুলি বেনা-বনে | চঞ্চল বসন বেশ বড় ত্রাস মনে || আকাশে অনেক বেলা তৃষ্ণায় বিকল | শাঁখারিপুকুরে খাইল পরিপূর্ণ জল || সন্ধ্যাকালে আচম্বিতে ঘরে দরশন | প্রণাম করিব গিয়া মায়ের চরণ || সোনা হীরা দুটি বনি দুয়ারে বসিয়া | রূপরাম দাদা আইল খুঙ্গি পুথি লৈয়া || হেন কালে আইল ঘর ভাই রত্নেশ্বর | দাদাকে দেখিয়া বড় গায়ে আইল জ্বর || তরাসে কাঁপিল তনু তালপাত পারা | পালাবার পথ নাঞি বুদ্ধি হইল হারা || বড়িতে বসিতে ভাই বলিল কুবচন | জননী সহিত নাঞী হইল দরশন || দাদা বড় নিদারুণ বলে উচ্চস্বরে | কালি গিয়াছ পাঠ পড়িতে আজি আইলা . ঘরে || কাছাড়িল জমুর অমর অভিধান | বাহিরে সুবন্ত-টীকা গড়াগড়ি যান || পুনর্ব্বার মরমে বান্ধিল খুঙ্গি পুথি || নবদ্বীপে পড়িবারে যাব দিবারাতি | সোনা হীরা দুটি বনি আছিল দুয়ারে || জননীকে বারতা বলিতে নাঞী পারে | খুঙ্গি পুথি লৈয়া পুন করিল গমন | তিন দিন উপবাসী দৈবের কারণ || শানিঘাট গ্রামে গিয়া দরশন দিল | পথের পথিকে দেখ্যা জিজ্ঞাসা করিল || ঠাকুরদাস পাল তায় বড় ভাগ্যবান | না বলিতে ভিক্ষা দিল আড়াই সের ধান || আড়াই সের ধানেতে কিনিল চিড়া ভাজা | দামুদরের জলেতে করিল স্নান পূজা || জলপান করি তথা বড় অভিলাষে | আচম্বিতে চিড়া ভাজা উড়াইল বাতাসে || চিড়া ভাজা উড়্যা গেল শুধু খাই জল | খুঙ্গি পুথি বয়্যা যাইতে অঙ্গে নাই বল || দিগনগর গ্রামে গিয়া দরশন দিল | তাঁতিঘরে কর্ম্ম বড় পথেতে শুনিল || দৈবহেতু দুঃখ পাই সহজে কাতর | দক্ষিণা মাগিতে গেলাম তাঁতিদের ঘর || ধাওধাই তাঁতিঘরে দিল দরশন | চিড়া-দধির ঘটা দেখি আনন্দিত মন || মনে কৈল পরিপূর্ণ খাব চিড়া দই | তাঁতিঘরে ধর্ম্ম-ঠাকুর নাঞি দিল খই || |
