| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| গগনে ঊড়িয়া দেবী হইল অষ্টভুজা | বিধি বিষ্ণু বরুণ পবন দিল পূজা || আকাশ বাণীতে দেবী ডাক দিয়া কয় | নিকট মরণ তোর কংস দুরাশয় || জন্মিল তোমার শত্রু গোকুল নগরে | রূপরাম গীত গান বাঁকুড়ার বরে || একমনে শুন সভে ধর্ম ইতিহাস | দুমন করিলে হয় ধনপুত্রনাশ || সমুখে রাখিল বিশাই ভারথ পুরাণ | লাউসেনের ফলা লিখে হয়্যা সাবধান || চিত্র লিখে চতুরে চঞ্চল নয় মতি | আশে পাশে লতা পাতা নানা বর্ণ গতি || ভাগবত সমুখে সঘনে নিরক্ষণ | পুতনা রাক্ষসী বধ লিখিছে তখন || কংসের আদেশ পাইয়া পুতনা রাক্ষসী | ব্রহ্মার মোহিনী হল্য বিচিত্র ঊর্বশী || বিষ দিল পয়োধরে পূর্ণ পরিপাটি | পায়ে সাজে পাশুলী সুবর্ণ তুলাঙ্গটি || খোঁপায় চাঁপার মালা কিবা নাগেশ্বর | কৃষ্ণকে খুঁজিয়া কুলে গোকুল নগর || ঘরে ঘরে খুঁজিল না দেখে নারায়ণ | নন্দের মন্দিরে গিয়া দিল দরশন || কৃষ্ণ কোলে যশোদা রুহিণী তার কাছে | হেনকালে পুতনা বসিল গিয়া পাছে || যশোদার কোলে কৃষ্ণ দেখিবারে পায় | দেখি দেখি বলি আগে আগু হয়্যা যায় || দেখি দেখি বলি তবে কৃষ্ণ নিল কোলে | বিষ পয়োধর দিল বদনকমলে || বিষস্তন নারায়ণ জুড়িল চুমুক | পুতনা রাক্ষসী মৈল বিদরিয়া বুক || লিখিতে লিখিতে বিশাই কান্দে প্রেমজালে | শালঘরে বস্যা একা হরিবোল বলে || কান্দিতে কান্দিতে বিশাই ভাগবত দেখে | ফলার দক্ষিণদিগে দানখন্ড লেখে || সারি সারি গোপিনী মথুরা দিকে যায় | কদম্বতলায় কৃষ্ণ ডাকিয়া রহায় || সভা আগে রাধিকে সুন্দরি দেহ দান | ভাঙ্গা নায়ে পার হবে যমুনার বান || এখানে পসরা রাখ কদম্বের তলে | পদ্মপাণি পয়োধরে পরিপূর্ণ বলে || এত বলি পসরা নাম্বায় যদুমণি | ভান্ড ভাঙ্গি দধি খায় নাঞি শুনি বাণী || দেখ দেখ বলিয়া বদনে হরি ঢালে | আগু হইয়া বড়াই বুড়ি বলে হেনকালে || দধি দুগ্ধ খাইলে আজি অপমান দিব | বাঁশি বাঁধা দিব তোর মুরলী বেচিব || দানছলে তরুতলে রাধা আর কানু | হেনকালে বড়াই বুড়ি কাড়্যা নিল বেণু || তবে লিখে বিশাই মহিমা রঙ্গলীলা | হিঙ্গুল হর্তাল জৌ যাবক মহলা || হেঁটমুখ ফলা লিখে ফিব়্যা নাঞি চায় | রাধা কানু একত্রে বসিল ভাঙ্গা নায় || তরঙ্গ গভীর বড় যমুনার জল | রাধাকানু সহিত তরণী টলবল || কানাই বলেন আমি সুজন কান্ডারী | ভাঙ্গা নৌকা ডুবিবে তোমাকে দেখি ভারি || বানে পাছে ভাস্যা যায় দধি দুগ্ধ ঘি | আগু হয়্যা বৈস রাধে গুয়ালার ঝি || বিকল হয়্যাছে বড় দেখি বিপরীত | নতুবা ভাসিব রাধা তোমার সহিত || মায়াজাল তরণী তরঙ্গ আর বান | রাধার সহিত কৃষ্ণ আনন্দে খেলান || অপরঞ্চ বিশাই লিখিছে বৃন্দাবন | লতাপাতা চিত্র লিখে নানা বৃক্ষগণ || বৃন্দাবনে বিকশিত লিখে নানা ফুল | মল্লিকা কদম্ব চাঁপা কাঞ্চন বকুল || নাগেশ্বরী আম জাম কদলা কাঁঠাল | ফলে ফুলে বিকশিত লম্বমান ডাল || কোকিল উগারে মধু অলি গীত গায় | কৃষ্ণকোলে করি গোপী নাচিয়া বেড়ায় || বীণা বাজে মৃদঙ্গ মন্দিরা করতাল | নিধুবনে নৃত্যকরে মদনগোপাল || ভাগীরথী যমুনা জন্মিল যার পায় | সে জন গোপিনী কোলে নাচিয়া বেড়ায় || বিশেষ বিনোদ লীলা বিধির বিধান | রাধা কোলে করিয়া বংশীতে গীত গান || নানা ফুলে নিকুঞ্জ মন্দির ঝলমল | পৌর্ণমাসী তিথি তায় সহজে উজ্জ্বল || তবে লিখে বিশ্বকর্মা পারিজাতহরণ | সাক্ষাত সম্বাদ তথা গজেন্দ্রমোক্ষণ || ভাগবত বান্ধিয়া ভারথ পানে চায় | ধৈরজ ধরিতে নারে গড়াগড়ি যায় || সঙ্গে নাই দোসর বিশাই একা কান্দে | লিখিতে লিখিতে বিশাই বুক নাঞি বান্ধে || মূর্তিমান ফলায় লিখিল জৌঘর | সত্যবাদী যুধিষ্ঠির পালঙ্ক উপর || সর্বগায় চন্দন গলায় চন্দ্রমালা | পঞ্চরস পরিপূর্ণ পরিপাটি থালা || জয়সেন সমুখে অর্জুন মহাবীর | হাথে আছে সদাই ধনুক আর তীর || সহদেব নকুলাদি কুন্তী ঠাকুরাণী | হেনকালে বিদুর বলেন তত্ত্ববাণী || জৌঘর এখানি অর্জুন দিবে মন | এখানে আগুন আজি দিব পুরোচন || এখনি পালায়্যা যাহ পাতালের পথে | সংসার বিজই তুমি প্রধান ভারথে || . ফলানির্মাণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
