| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| সারথি সহিত আজি ফেলাইব জলে | লিখিল এ সব চিত্র বসিয়া বিরলে || কাব্যকলা বিস্তর লিখিল যুদ্ধরস | যদুবংশ লিখিল জগতে যার বশ || সারি সারি অশ্ব লিখে সারি সারি গজ | সারি সারি বিমান সুবর্ণ সিংহধ্বজ || বিশ্বকর্মা লিখে এহা ফলার উপরে | রূপরাম গীত গান অনাদ্যের বরে || এক মনে শুন সভে ধর্মের কথন | অপুত্রের পুত্র হয় নির্ধনের ধন || বাম করে প্রদীপ দক্ষিণ করে তুলি | বিশাই লিখিছে ফলা সঙরি বাশুলি || পরিপাটি সমুখে লিখেন রামায়ণ | সীতা হারাইয়া কান্দে শ্রীরাম লক্ষ্মণ || কোথা গেলে জানকী কাছাড় খায়্যা পড়ে | লক্ষ্মণ ধানুকী পাছু ধরিছে নিয়ড়ে || মনে হয়্যা ব্যাকুল বলেন বৃক্ষগণে | জনক-নন্দিনী সীতা দেখ্যাছ এ গনে || শুনরে লক্ষ্মণ ভাই কেবা নিল সীতা | বিপাক পড়িল বনে দেশে মৈল পিতা || রামের করুণা দেখি কান্দেন লক্ষ্মণ | ফলার দক্ষিণে এহা লিখিল তখন || সেতুবন্ধ রামেশ্বর লিখিল বিশাই | গাছপালা বানর বহিছে ধাত্তাধাই || বড় বড় পর্বত পাথর সব বয় | শ্রীরাম সমুদ্র বান্ধে মনে নাই ভয় || শীঘ্রগতি সিন্ধু বান্ধে নল আর নীল | পাথরের চাপানে পালায় তিমিঙ্গিল || বিশাই পন্ডিত বড় অপূর্ব লিখন | রামের সহিত যুদ্ধ লিখিল রাবণ || তবে লিখে লক্ষ্মণ ধানুকী ইন্দ্রজিত | বাণে বাণে পরিপূর্ণ বানর মোহিত || রাক্ষসের মাথায় বানর বস্যা নাচে | লম্ফ দিয়া লাফায় যেমন শালগাছে || মিশামিশি রাক্ষস বানরে যুদ্ধ লেখে | তীরতরু দুকূলে তরণী নাই দেখে || সমাপ্ত করিল রামায়ণের লিখন | ইতিহাস কাব্যকলা তায় দিল মন || নীলবর্ণ হিঙ্গুল চৌদিগ ফুলপাতা | লম্ফ দিয়া বাঘ ধরে মনুষ্যের মাথা || হস্তীর উপরে সিংহ রহলি খেলায় | ঐ রূপে বসিয়া মাথার মজ্জা খায় || মনের হরিষে লিখে পক্ষ পাখালি | সভা আগে টিয়া লিখে সারে উভা তালি || গোদা ভারুই গগনে গোবিন্দগুণ গায় | ধুলা ভারুই গুঁড়িগুঁড়ি ধুলায় লোটায় || ধুকুড়িয়া কঙ্ক পাখী মুখে যার ফণী | ধিকি ধিকি মাথার উপরে জ্বলে মণি || চড়ুই কোকিল কাক শালিকি সয়চান | খঞ্জনা খঞ্জনি ফুলে করে মধুপান || সারি সারি বলাকা গগনে উড়ি যায় | পানিকড়া মীন ধরি উভমুখে খায় || পদ্মমুখী পক্ষ লিখে মুখে যার মৌ | ঝাঁপ দেই জলের উপরে বেনে বৌ || খয়রা খুঙ্গুর লেখা আছে বুড়ি ছয় | মনে মত্ত ময়না ভারথ-কথা কয় || তবে লিখে বিশ্বকর্মা রাজা গৌড়েশ্বর | তের দলুই শাকা শুকা লিখিল সত্বর || বীর কালু লিখে লখ্যা সামন্ত ঝকড় | পাত্র মহামদ তার পায় করে গড় || দুই গালে চুনকালি অধরে মাহুর | তার মুন্ডে লগ্নী করে বাঁটুয়া কুকুর || কল্পনা লিখেন যদি দেব কারিকর | মাতুল ভাগিনা দ্বন্দ্ব দরবার ভিতর || ফলা লেখা সাঙ্গ হইল ফুরাইল কালি | ষোল চাঁদ সমুখে লিখিল হরিতালি || মার্জনা করিল ফলা সূর্যের উদয় | ঝলমল চন্দ্র কিবা শরত-সঞ্চয় || বিজুরি সঞ্চারে তথি বিমোহিত হয় | রূপরাম ফকির ধর্মের গীত গায় || শালঘরে ফলাখানি করে ঝলমল | চামর বান্ধিয়া তায় দিল গঙ্গাজল || সারা রাতি বিশাই করিল জাগরণ | প্রভাত হইল নিশি ডাকে পক্ষগণ || বিশাই বান্ধিল শীঘ্র খুঙ্গি আর পুথি | সম্বরিল তুলি মালা বর্ণক সংহতি || শালঘরে ফলাখানি রাখিল তখন | উপরে ঢাকনি দিল অপূর্ব বসন || মনে জপে গোপাল গোবিন্দ মহেশ্বর | নিরাতঙ্কে বৈসে বিশা ভল্লুক উপর || ইন্দ্রের অমরাবতী দিল দরশন | যামিনী প্রভাতে হেথা জাগে সর্বজন || নিস্বরিয়া কামিলা বাহিরে দিল পা | শালঘর দেখিতে কাপিল সর্ব গা || শালঘরে যজ্ঞের আগুন হেন জ্বলে | কামিল্যা দেখিয়া ফলা রাধাকৃষ্ণ বলে || গোপাল গোবিন্দ হরি বলে দশবার | বিশ্বকর্মার গঠন চিনিল অনিবার || তিনবার উদ্দিশে প্রণাম দিল পায় | বাশুলি রঙ্কিণী বলে হৈল বরদায় || ছ মাসের গরণ হৈল একরাতি | ঘোড়া জোড়া বক্ শিস পাইব পাটহাথি || . ফলানির্মাণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
