| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কেহ বলে ঝাঁপ দিব সাগরের জলে | এহেন সুন্দর স্বামী পাব কোথা গেলে || দারিদ্র আমার স্বামী বিশেষ যন্ত্রণা | আর সখী বলে সই মোর স্বামী কানা || হাথ ঠারে কথা কহি নাই বুঝে পতি | কুবচনে কালি হৈল কাঞ্চন মূরতি || আর যুবতী বলে দিদি বুড়া ভাতার কাল | পাকা পনস কোলে যেন ঘুমায় শৃগাল || না জানি কপাল দোষে মোর স্বামী বুড়া | ঘটকালি কব়্যাছিল নির্বংশিয় খুড়া || এমন নাগর পাল্যে কোলে কাঁখে রাখি | সদত মনের মত রসকথায় থাকি || পদ্মমুখী সখী বলে যৌবন হৈল ঐরি | কুজ ভাতার কুএর গোড়া ঐ দুখে মরি || সর্বাঙ্গে সুন্দর স্বামী পৃষ্ঠে বড় কুঁজ | কানের কাছে মৌএর বাসা সদাই পড়ে পুঁজ || আর যুবতী বলে দিদি শুন মোর বাণী | মনের মত স্বামী বটে দুই চক্ষে ছানি || খাত্যে শুত্যে হাথে ধব়্যা সদাই হয় নিতে | মিছা গেল অর্ধেক যৌবন এই রীতে || লাস বেশ নাপান করিব আর করে | এমন দুর্লভ জন্ম আর নাঞি হবে || তরুতলে এমন নাগর যদি পাই | এখনি আঁচলে বান্ধ্যা বনে চল্যা যাই || আর সখী বলে শুন সাঙ্গাতিনী সই | বিষম আমার লাজ হইল দেশ বই || সই সাঙ্গাতিনী ঘর না যাই দিবসে | গেঁড়া ভাতার ঢেঙ্গা মাগু লোকে দেখ্যা হাসে || আর সখী বলে সই এমন স্বামী ভাল | গোদা ভাতার দেখ্যা মোর বরণ হৈল কাল || সদা মাথা ব্যথা করে গাএ আইসে জ্বর | এ রূপ যৌবন গেল কিবা আর ঘর || আর সখী বলে সই মোর পতি বুড়া | কথায় কন্দল বাজে বুড়া কুএর গোড়া || মনোজ আগুনে সখি সদাই পুড়্যা মরি | হেন স্বামী কাটিয়া বাশুলি পূজা করি || কেহ বলে জীবন যৌবন বয়্যা যায় | এখনি চিন্তিব আমি এহার উপায় || কহিতে কহিতে কেহ বিবসন হয় | নাপান করিয়া হাসে নাঞি লাজ ভয় || কেহ মনে যুক্তি করে যে করে গোসাঞি | যাইব এহার সঙ্গে ঘরে কাজ নাঞি || ভাল বরে বিভা যদি দিত বাপ মা | এতদিনে তিন ছেলে কোলে হৈত বা || কেহ বলে ঘরে যাত্যে নাই সরে মন | চারি দন্ড লাউসেনে করি নিরীক্ষণ || কেহ বলে কি করিয়া করিব সম্ভাষ | হরিণী চঞ্চল পায়্যা বসন্তের বাস || বিধি কেন রচিল কুকিল পূর্ণমাসী | সংশয় জীবন হৈল সেইরূপ বাসি || কাল হৈল জীবন যৌবন পরাধীন | এইরূপে কল্পনা বঞ্চিব কত দিন || লাউসেনে দেখ্যা সবে যৌবনে বিকল | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্মের মঙ্গল || এক মনে শুন সভে ধর্মের কথন | দুমন করিলে দুঃখ দৈবের কারণ || শিবা বারুই-র বৌ নয়নী নাম ধরে | লাউসেনের রূপ দেখ্যা চিন্তিল অন্তরে || এখনি ভুলাতে পারি এই মহাজন | বিরস বাসিব বই সাঙ্গাতিনীগণ || লাস বেশ এখনি করিব গিয়া ঘরে | তবে ভুলাইয়া লব এ দুই নাগরে || এত যদি মনে যুক্তি করিল নয়নী | প্রবন্ধে বচনে বলে শুন সাঙ্গাতিনী || পরের পুরষ সই শিমুলের ফুল | এহারে দেখিয়া সভে হয়্যাছে আকুল || আকাশে নাহিত বেলা হইল উছুর | ঘরে গেলে কি বলিবে শাশুরী শ্বশুর || জয় হেতু ঘাটে কেন এত বিলম্বন | ননদিনী এখনি বলিবে কুবচন || কথায় কথায় বেলা হয়্যাছিল কালি | ডাকাডাকি গোদা স্বামী দিয়াছিল গালি || চল সভে কলসী লইয়া ঘর যাই | পরের বদন চায়্যা মিছা দুঃখ পাই || এত বলি নিল সভে জলের কলসী | আপনার ঘর পাইল পরম রূপসী || শিবা বারুই-র বৌ হরিপালের ঝি | মনে করে নয়নী এহার যুক্তি কি || বৈদেশী কুমার বিনে না রয় পরাণ | বিলক্ষণ বেশে যাব তার বিদ্যমান || বিরলে বলিব হিত উপদেশ বাণী | ভুলাইয়া বৈদেশীরে আনিব আপনি || কটাক্ষে ভুলাতে পারি কামরিপু জন | আপনি বারুই বউ বেশে দিল মন || সুবর্ণ গিলিপে ছিল অপূর্ব চিরণি | নানা পরিবন্ধে কেশ আঁচড়ে আপনি || আঁচড়িয়া কুন্তল করিল সমতুল | বিনোদ করিয়া বান্ধে পুরটের ফুল || কাঞ্চন পাটের থোপ বান্ধিল কবরী | মদন মল্লিকা মাল মকরন্দ ঝুরি || কবরীর উপরেতে মনুহর জাদ | সারাদিন দেখিতে মনের গেল সাধ || নয়ান ভরিয়া পরে মোহন কাজল | ঢলঢল করে কাল সাপের গরল || কপালে সিন্দুর পরে পতঙ্গ উদয়| চন্দন চন্দ্রিমা তথি কাছে কথা কয় || তার কোলে কোলে শোভা করে তারাগণ | ঈষত কালির বিন্দু দিল বিচক্ষণ || একু ঠাঁই রবি শশী তারাগণ তথা | জলদ অঙ্কুর কোলে বিজলির লতা || লাউসেন দেখিয়া ধরিতে নারে মন | প্রতি অঙ্গে পরে রামা অপূর্ব ভূষণ || টাড় বালা পাসুলি বউলি শোভা করে | পরিপূর্ণ বাজুবন্ধ শঙ্খের উপরে || অঙ্গুলে অঙ্গুরী পরে নাকে নাকচনা | অকলঙ্ক শশী যেন চঞ্চল বরণা || কনকের হার গলে লুটে পয়োধরে | তার কাছে রসকাঁটি বড় শোভা করে || দোসতি তেসতি পরে শতেশ্বরী হার | পুরট পর্বতে যেন জাহ্নবীর ধার || বড় সাধে শঙ্খের উপর দিল চুড়ি | তার কোলে রাঙ্গারুলি শোভা করে বড়ি || . ****************** . জামতিপালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
