| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| লাউসেন বলে তুমি রঞ্জাবতী মা | এত শুনি বারুই বৌএর মুখে নাই রা || মনে দুঃখ বাড়িল মরমে লাগে ব্যথা | বৈদেশী নাগর সঙ্গে না হইল কথা || নয়নী চিন্তিল মনে কি বুদ্ধি করিব | এ হেন নাগরে মিছে অপবাদ দিব || কূয়ায় ফেলিব শিশু এহার লাগিয়া | বন্দিখানা দিব আজি এ বুদ্ধি করিয়া || পাসরিব পুত্রশোক দেখিলে এহারে | কোলের বালক পথে কাছাড়িয়া মারে || ঘাড় মুচড়িয়া শিশু পেলিল কূয়ায় | পরিত্রাই ডাকে মাগী চারিপানে চায় || আস্য রে জামতির লোক পথে বল করে | কূয়ায় পেলিল শিশু বৈদেশী নাগরে || কুচ্ছিত আকার মাগী ডাকে পরিত্রাই | পথে শিশু বধিয়া পালায় দুই ভাই || জাতি কুল জীবন যৌবনে দাগা দিল | জামতির লোক শুনি চৌদিগে ধাইল || কার হাথে অস্ত্র কার হাথে ঠেঙ্গা নড়ি | মার মার শব্দ ধন হুঙ্কার দাবড়ি || বিপত্ত পড়িল বড় লাউসেন উপর | বনে লুকাইল গিয়া কর্পূর পাতর || ধাত্তাধাই কর্পূর পালায় আড়ে আড়ে | তরাসে লুকাইল গিয়া শেওড়ারঝাড়ে || বিদেশে বিপত্ত বড় লাউসেন উপরে | কুন্তলে ধরিয়া কেহ পাছু ধাকা মারে || বাজুবন্দ সোনা নিল অঙ্গুরী বসন | গলার গরুড়মণি নিল কোনজন || ঘন পড়ে ইড়িক পয়জার কিল হুড়া | রতি মাসা হইল অঙ্গের খাসা জোড়া || জামতির মান্ধাতা বারুই গদাধর | লাউসেনে বান্ধি নিল তার বরাবর || ভালমন্দ কিছু নাই করিল বিচার| বন্দী রাখ লয়্যা আজি বৈদেশী কুমার || বিচার করিব কালি প্রত্যুষ বিহানে | এত শুনি বন্দীঘরে বান্ধে সমাধানে || হাথে দিল হাতকড়া চরণে নিয়ল | বুকে তুল্যা দিলেক পাথর জগদ্দল || ডানি পাশ নাড়িতে পঞ্চম শেল ফুটে | বাম পাশ নাড়িতে করাতে মাংস কাটে || কুন্তল বান্ধিল দড় রেশমের দড়ি | বদন উপরে দিল গরল বিষবড়ি || রাখিল বৈদেশী দড় বত্রিশ বন্ধনে | হেনকালে নয়নী ভাবিল মনে মনে || নাগপাশে বন্দী যেন শ্রীরাম লক্ষ্মণে | লাউসেন বন্দী হৈল বিষম বন্ধনে || নাগর বান্ধিয়া কান্দে গালে দিয়া হাথ | বড় দুঃখ মরমে কেমনে খাব ভাত || পুত্র মৈল কূয়ায় ভাতার যাকু বনে | কেমনে নাগর বন্দী দেখিব নয়নে || মনে মনে মনকথা চিন্তিল বিস্তর | লাউসেন দেখিতে মাগী গেল বন্দিঘর || ঈষত আড়ালে বস্যা বারুই-র বউ | কল্পনা বচনে বলে মুখে মাখা মউ || একবার দেহ যদি আলিঙ্গনদান | রাজাকে বলিয়া তোমার করিব ছোড়ান || গদাধর রাজা বটে মোর আজ্ঞাকারী | এখনি বন্ধন তোমার খসাইতে পারি || লাউসেন বলে তুমি রঞ্জাবতী মা | নিবেদিনু সমুখ ছাড়িয়া ঘর যা || নিরঞ্জন চরণ মরমে করি আশ | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের দাস || বন্দীঘরে কান্দেন ময়নার মহাজন | কোথা গেলে কর্পূর মাএর প্রাণধন || কান্দে বালা লাউসেন কর্পূর মায়ামোহে | পরিধান বসন ভিজিয়া গেল লোহে || বলে মঈষ ভল্লুক শার্দূল গন্ডাচয়| কদাচিত কাননে কর্পূর রক্ষা হয় || হুতাস ভাবিয়া ভাই কোনখানে মৈল | এত দূরে এখানে এমন গতি হৈল || কান্দিতে কান্দিতে করে ধর্ম সঙরণ | এবার উদ্ধার কর দেব নিরঞ্জন || সঙ্কটে উদ্ধার কেবা করে তোমা বিনে | প্রাণ যায় মায়াধর দারুণ বন্ধনে || ধর্ম রাখ ধর্ম রাখ বলে বারে বার | হেন বেলা বৈকুন্ঠে জানিল করতার || অর্জুন সারথি হরি জানিল বিমানে | আপনি বলেন কিছু বীর হনুমানে || তুমি যাহ জামতি লাউসেন রাখিবারে | অনুচিত জীবন সংশয় কারাগারে || অবিলম্বে নাই গেলে হারাবে জীবন | তোমা হেতু রক্ষা পাইল সুমিত্রানন্দন || জনক-নন্দিনী সীতা করিলে উদ্ধার | দশানন তোমা হেতু সবংশে সংহার || যাহ তুমি জামতি বিলম্বে নাই কাজ | পাছে মরে বন্ধনে ময়নার যুবরাজ || সয়াল মন্ডলে নাহি পাব পুষ্পজল | তুমি তার আপনি হইবে পক্ষাবল || পান পাইল প্রসাদ পঞ্চাশ পারিজাত | বিদায় হইল হনু ধর্মের সাক্ষাত || মনগতি কি জানি পবনবেগে ধায় | একদন্ডে জামতি নগর গিয়া পায় || বন্দিঘরে মহাবীর দিল দরশন | চরণে কপাট চুর করিল তখন || দারুণ তসলা পায় করে চুরমার | অজ্ঞান দেখিল গিয়া লাউসেনকুমার || বত্রিশ বন্ধনে বড় হয়্যাছে কাতর | দেখিয়া কুপিত হইল পবন কুঙর || . ****************** . জামতিপালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
