| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| মদনে মাতাল হইয়া কেহ নৃত্য করে | কুটিল কুন্তলভার চম্পক শিখরে || কেহবা ওষধ লয়্যা ফিরে দেশান্তর | প্রবন্ধ করিয়া আনে পরম সুন্দরে || ডানিদিগ হইতে গোলাহাটের সীমানা | পরবাসী ব্যাপারী এ পথে যাত্যে মানা || কর্পূর কহিল যদি এ সব কথন | দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন || রাজা বলে কর্পূর প্রাণের তুল্য ভাই | ভবিষ্যত বারতা তোমার মুখে পাই || অবশ্য গোউড় যাব গোলাঘাট দিয়া | বিবিতার নাট যাব নয়ানে দেখিয়া || বেউশ্যা দেখিলে পূণ্য গঙ্গাস্নান কয় | ততোধিক রাজারে দেখিলে পূণ্য হয় || পরশ করিলে পাপ না যায় খন্ডন | শুনরে কর্পূর তোর বুদ্ধি বিচক্ষণ || দুর্লভ জনমে দেখি সভাকার নাট | চল যাই দুভাই দেখিব গোলাহাট || কোন ভাবে নিবসে কেমনে গায় গীত | নয়নে দেখিব চল দৈবের রচিত || কত বড় সুরীক্ষা কেমন কদাচারী | কেমন বয়সে নৃত্য করে কোন নারী || গীতে মন মজিলে মাণিক দিয়া যাব | পান গুয়া সন্দেশ নগরে নাই খাব || তুমি তার ছকুড়ি নাগর দিলে লেখা | এই সব পুরুষে কেমনে ভজে একা || পূর্বকথা এহার অবশ্য আছে ভাই | হেনজন দেখিলে অনেক পূণ্য পাই || পুনর্বার বলেন পূর্বের বিবরণ | উপাসনা ভবানী কি জানি নারায়ণ || কর্পূর বলেন দাদা শুন তত্ত্ববাণী | ছকুড়ি নাগর তার নাম সব জানি || রূপে গুণে সভাই পন্ডিত মহাকবি | বলবন্ত কুলবন্ত প্রতাপেতে রবি || জয়দেব পড়ে কেহ জমুর অমর | মদনমঞ্জরী মুখ মোহন নাগর || একে একে কব সব নাগরের নাম | বনমালী বসন্ত রাঘব বলরাম || দুবরাজ শঙ্কর সহদেব সনাতন | গোপাল গোবিন্দ হরি শিব ত্রিলোচন || হরিশ অনন্ত রাম ভবানী দয়াল | অঙ্গদ মাধব জয় কিশোর গোপাল || কামদেব জানকী জগত জনার্দন | ভৃগুরাম সন্তোষ মুকুন্দ নারায়ণ || কুমুদ কল্যাণ কাশী কেশব কুশল | নরহরি গদাধর আদিত্য মঙ্গল || চন্ডী চতুর্ভূজ চৃড়ামণি চক্রপাণি | জয় জগন্নাথ যাদব যদুমণি || অনন্ত অগস্ত্য অত্রি অচ্যুত আনন্দী | সনাতন সনক সানন্দ সানন্দী || এই সব নাগর কতেক নাম দিব | পূর্ববাণী বেউশ্যার পশ্চাত কহিব || লাউসেন বলেন বিলম্বে কাজ নাই | গোলাহাট দেখ্যা যাব যে করে গোসাই || এত বলিল চলিল ময়নার তপোধন | গোলাঘাট দক্ষিণে দিলেক দরশন || নানা বাদ্য জরপ জঙ্গল রাজ্যময় | রাজ্য দেখে সহস্রলোচন যদি হয় || দান্ডাইল লাউসেন কদম্ব তরুতলে | চন্দ্রের মন্ডল যেন অবনীমন্ডলে || রূপে আর হৈল যদি রক্ষা নাঞি আর | বিচিত্র বসন আর চিন্তামণি হার || রূপ দেখ্যা মজিল যতেক রামাগাণ | কেহ দূর কব়্যা ফেলে বুকের বসন || কেহ বা ঈঙ্গিত ভাষে নয়নের কোণে | দ্বিচারিণী অবলা অবশ্য লোক চিনে || তবে রাজা লাউসেন নগরে দেখা দিল | রসাল জরপজাল জঞ্জাল বাজিল || হীরা নামে মালিনী নগরে ফুল বেচে | পরের পাইলে পুত্র লুকায় কড়তে || চম্পক মালতী কুন্দ মল্লিকার কুঁড়ি | মিশাল কব়্যাছে তায় ওষধের গুঁড়ি || পঞ্চাশ মোহর বেচে মল্লিকার মালা | সেইখানে দন্ডাইল লাউসেন বালা || মল্লিকার মালা দেখ্যা ভাবে মায়াধর | এই ফুলে সাধ যায় সেবিতে শঙ্কর || মনে হইল আনন্দে করিব ধর্মপূজা | আগু হয়্যা বলে কিছু ময়নার রাজা || দুই মাল্য দেহ মোরে মল্লিকা চম্পক | ধর্মপূজা করি আমি সূর্যের সেবক || মালিনী বলিল শুন বৈদেশী নন্দন | মিনি সুতে মালতী মল্লিকা বিচক্ষণ || একেক মাল্যের মূল্য পঞ্চাশ মোহর | পাজ্জাত সমান ফুল সুগন্ধি সুন্দর || বসন্ত খরায় পুষ্প না হয়. মলিন | গলায় পরিলে গন্ধ থাকে দশদিন || জরা লোক পরিলে যৌবন পুনু পায় | যুবক পরিলে জ্বলে জীবনর প্রায় || এ মাল্য গলায় পরে আছে যার ধন | দ্বিজ রূপরাম গান সখা নিরঞ্জন || এক মনে শুন সভে ধর্ম অবতার | উত্তম মঙ্গল এই সংসারের সার || মালিনী বলিল শুন বৈদেশী কুঙর | যুগল মালতী লেহ মাণিক সোসর || এত বলি দুই মাল্য দিল দুইজনে | ধর্মের উদ্দিশে দিল রাজা লাউসেনে || গলায় পরিল মাল্য মনোহর ফুল | অবলা দেখিয়া হৈল মরমে আকুল || লাউসেন বলে বন্য শুনগো মালিনী | তোমার মন্দিরে আজি বঞ্চিব রজনী || প্রত্যুষ বিহানে কালি যাইব গোউড় | নাই ভাসে যাদব সজাগ চন্দ্রচুড় || এত শুনি মালিনী বিনয়বাক্য কয় | আজি বাসা নিতে চল আমার আলয় || পরিবার সহিত তোমার সেবা নিব | ছকুড়ি চাঁপার ফুলে মাল্য পরাইব || দেখহ আমার বাড়ী ফুলের বাগান | গগনে দেউল চূড়া দেখ বিদ্যমান || দেবালয় দক্ষিণে বসিবে দুই ভাই | তোমার প্রসাদে আমি ফুল বেচ্যা খাই || অনেক দিবস আমি গোলাঘাটে আছি | তিন সন্ধ্যা বাজারে বাজারে ফুল বেচি || আগে চল বাড়িকে বিলম্বে কার্য কি | সবিনয় বিস্তর বলিল মালী ঝি || দুইদিগে দেবালয় দুইভাই সুখে | রমণী বাজারে যাহ মনের কৌতুকে || দুই সারি রঙ্গন দলজ তার কাছে | তিন সারি কদম্ব গুবাক তরু নাছে || অপরূপ চৌদিগ সাক্ষাত নিধুবন | নিকুঞ্জ মন্দির শোভা সুন্দর সদন || তায় খাট পালঙ্ক অনেক রূপ দেখি | একেক নাগর সঙ্গে চারি পাঁচ সখী || . ****************** . জামতিপালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
