| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| তবে যদি এই অস্ত্র তোরে দিব দান | আজি হইতে অসুর হবেক বলবান || দেবতা অসুরে বড় বাড়িব জঞ্জাল | শচী রাখ্যা ইন্দ্র যাব সপ্তম পাতাল || প্রাণ লয়্যা তরাসে পলাব প্রজাপতি | এই খড়্গ না দিব ময়নার অগ্রগতি || দেবতার বলে এই খড়্ গের নির্মাণ | অকালে দিয়াছে কাল দেবতা প্রমাণ || যবে ছিলা অনন্ত শয়নে নারায়ণ | ক্ষীরোদের কুলে জড় হৈল দেবগণ || এই অস্ত্র সেখানে আপনি অবতার | কহিল পুরাণ কথা ভারথের সার || অন্য বর মাগ্যা লহ ময়নার রাজা | সিংহে বস্যা বলেন বাশুলি দশভুজা || এত শুনি লাউসেন করে নিবেদন | এই অস্ত্র দিয়া রাখ ভক্তের জীবন || বেদমাতা ব্রহ্মার জননী আচম্বিতে | জয় দিয়া অস্ত্র দিল লাউসেনের হাথে || লাউসেনে খড়্গ দিল ব্রহ্মার জননী | শীঘ্রগতি সিংহরথে বসিলা আপনি || কৈলাস পর্বত মুখে রথের পয়ান | দন্ডমাত্র শিবের সমুখে অধিষ্ঠান || নিকেতন পাইল যদি গণেশজননী | দুর্গাকে দেখিয়া শিব উঠিলা আপনি || হের আইস কাছে বৈস গণেশের মা | আনন্দ হৃদয় দেখি মুখে নাই রা || পুজা দেখিবারে তুমি করিলে গমন | আমা হেতু পার্বতী আন্যাছ কোন্ ধন || এত বলি হাথে ধরি কাছে বসাইল | লজ্জাবতী ঈশ্বরী বদনে বস্ত্র দিল || হরগৌরী দুজনে বসিয়া কুতুহলে | কৃষ্ণগুণ গাইয়া নারদ হেনকালে || সভা আগে দন্ডবত শিবের চরণে | ঈশ্বরী চরণে দন্ডবত একমনে || ভবানী বলেন বাপা হরিভক্তি হকু | সর্বকালে বিষ্ণুর চরণে মন রকু || মনে চিন্তা করিল নারদ মুনিবর | বড় আজি প্রীত দেখি পার্বতী শঙ্কর || যার বাড়ী দিয়া রে নারদ মুনি যায় | ছমাসে তাহার ঘরে কুন্দল ভেজায় || নারদ বলেন মামা করি নিবেদন | কি বলিব মহাশয় মামীর কথন || তোমাকে সে বলিহে দেবের দেবরাজ | মামী হৈতে মামা তোমার দেশ জুড়্যা লাজ || অবনী গেলেন মামী পূজা দেখিবারে | জয়মঙ্গল অস্ত্রখানি দিয়া আইল কারে || অসুর দিলেন হানা দেবতার বাসে | বনিতা রাখিয়া কেহ পলায় তরাসে || শচীপতি পলায় রাখিয়া পাটরাণী | লক্ষ্মীদেবী রাখিয়া পলাল্য চক্রপাণি || কাকরূপে যম রাজা গেল দিগন্তর | কারে দান দিল মামী অপূর্ব আতর শঙ্কর বলেন গৌরী তুমি থাক ঘরে || তরাসে চঞ্চল প্রাণ অসুরের ডরে | অরণ্যে করিব বাস গৌরীর সন্তাপে || নতুবা এমন দুঃখ সহে কার বাপে | এত শুনি পার্বতী বলেন জোড়হাথ || আমার বচন কিছু শুন প্রাণনাথ | লাউসেনে অস্ত্র দিনু অন্য কেহ নয় || কলিযুগে বার দন্ড পশ্চিম উদয় | এত শুনি শঙ্কর বসিলা বাঘছালে || কৃষ্ণগানে নারদ গেলেন কুতুহলে | দরশন দিল গিয়া দেবতা সভায় || ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় | খড়্গ পায়্যা নাচেন দুর্লভ সদাগর || নিবেদন করে তবে কর্পূর পাতর | তুমি মনে কর আমি ধর্মের তপস্বী || তবে আনাগোনা করে কাহার রূপসী | একথা বলিব গিয়া জননীর পায় || কেমন চরিত্র তব সহা নাঞি যায় | লাউসেন বলে অস্ত্র দেখ বিদ্যমান || জয়দুর্গা বিষ্ণুর জননী দিল দান | জয়দুর্গা রূপ দেখি অস্ত্রের উপর || মনের প্রত্যয় পাইল কর্পূর পাতর | পুনর্বার কর্পুর করিল নিবদন | মন দিয়া শুন ভাই আমার বচন || এই অস্ত্র সমান সঞ্চয় কর ফলা | সংসার বিজই হবে লাউসেন বালা || দুই ভাই গৌড়ে হব রাজার চাকর | ইনাম লইব রাজ্য ময়না নগর || নিকটে গৌউড় বটে দূর নাহে পথ | যেইদিগে জাহ্নবী আনিল ভগীরথ || মা-বাপের উপায় যেজন বস্যা খায় | গাধার জাহর বল্যা নাম লেখা যায় || ফলা হৈলে ফাল্গুনে দুভাই গৌড় যাব | রাজার দরবারে গিয়া চাকরি করিব || বত্সরে বত্সরে যত দিব ইরশাল | সেই ধনে দেশে দিব দেউল জাঙ্গাল || এত শুনি লাউসেন সত্বর গমন | পিতার সমুখে গিয়া কৈল নিবেদন || মহামায়া আস্যা মোরে অস্ত্র দিল দান | তুমি ফলা দেহ বাপা এহার সমান || একদন্ড এহার বিলম্ব নাঞি সয় | এহার বিলম্বে প্রাণ কদাচিত রয় || কর্ণসেন বলে বপু কহিতে তোমারে | তিন লক্ষ ফলা আছে দক্ষিণ ভান্ডারে || আমার ভান্ডারে বাপু নাই কোন ধন | সজল নয়নে ভাস ইহার কারণ|| এত শুনি লাউসেন মনে হরষিত | জয়মুনি ভান্ডারে গিয়া হৈল উপনীত || সারি সারি নানা অস্ত্র বন্দুক কামান | দেখিল বিনোদ ফলা অপূর্ব নির্মাণ || সলম্বিত চামর উপরে রক্তবাস | অন্ধকার ঘরে যেন তরণি-প্রকাশ || একে একে ফলা সব করে নিরক্ষণ | বাছিয়া নিলেক ফলা খড়্গের কারণ || ফলা ধরি ফলঙ্গ সারিতে একবার | বাম করে ফলাখান হৈল চুরমার || পুরাতন ফলা সব গুঁড়া হয়্যা যায় | ভাঙ্গিল বিস্তর ফলা ময়নার রায় || খড়্গের সমান ফলা না পায়্যা তখন | পুনরপি পিতার সমুখে দরশন || . আখড়া পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
