| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| গুণবন্ত কামিলা গুণের নাই সীমা | সদাই নির্মাণ করে সুবর্ণ প্রতিমা || সেই গড়্যা দিব ফল্যা ইথে নাঞি আন | তবে দেহ আপনি আরতি গুয়া পান || আজ্ঞা দিল শিঙ্গাদারে এই বাক্য শুনি | সত্বরে কামিল্যা ডাকি আনহ এখনি || রাজার বচন শুনি চলিল সত্বরে | শীঘ্রগতি উত্তরিল কামিল্যার ঘরে || নিরবধি কামিল্যা গঠনে বস্যা আছে | সম্ভাষ করিয়া শিঙ্গা বলে তার কাছে || চল ভাই দরবার বিলম্ব নাহি সয় | না জানি ডাকিল কেন রাজা মহাশয় || কামিল্যা গঠন রাখ্যা করিল গমন | দরবার ভিতর গিয়া দিল দরশন || আইস আইস কর্ণসেন বলেন আপনি | তুমি বড় গুণিন পরের মুখে শুনি || এবার কৃতার্থ হবে শুনরে কামিলা | সত্বরে গড়িয়া দেহ লাউসেনের ফলা || এক লক্ষ টাকা দিব এহার দক্ষিণা | দুহাথে তোড়র দিব দুই কানে সোনা || প্রথম বক্ শিস দিল পামরি বসন | পুরস্কার মাল্য পাইল অপূর্ব চন্দন || তিন বার কামিল্যা করিল অঙ্গীকার | দরবার ভিতর তারে দিল পুরস্কার || দশ দিনে ফলা দিব অঙ্গীকার করে | কামিল্যা বিদায় হয়্যা গেল তার ঘরে || স্নান পূজা সকল সারিল নিজালয় | ফলার কাষ্ঠের হেতু করিল বিজয় || বাম হাথে নিল বাস পাখুরি বাটালি | পথে যাত্যে স্মরণ করিল ভদ্রকালী || ময়নার দক্ষিণে আছে সিঞ্জিনীর বন | কর্মকার গেল তথা কাষ্ঠের কারণ || ছয় ঋতু একু ঠাঁই দেখিল কাননে | কোকিল উগারে মধু ময়মত্ত গানে || ভ্রমরা ভ্রমরী ফুলে করে মধুপান | মনোজ মাতাল হয়্যা হরিগুণ গান || বনশোভা কামিনী সাক্ষাত বৃন্দাবন | জানে সভ কামিল্যা পন্ডিত বিচক্ষণ || ফুলে ফলে পরিপূর্ণ সুনির্মাণ ডাল | সত্যসার সমুখে দেখিল পিয়াশাল || ঐমনি তাহার মূলে হানিল কুঠার | ভূত প্রেত পিশাচ এ গাছে অবতার || নতুবা এ গাছে বস্যা কেবা কথা কয় | অরণ্যে দেবতা পারা কব়্যাছে আশ্রয় || কুঠার কুড়ালি আগুলিল বাস করে | পুনরপি চোট হানে বকুল উপরে || আথালি-পাথালি বাস হানে তার মূলে | রাম কৃষ্ণ গোপাল গোবিন্দ বৃক্ষ বলে || হতমূর্খ কামিলা ---- বকুল বৃক্ষ কয় | আমি কি ফলার যোগ্য তোর মনে লয় || দিন কত সয়ালে হরির গুণ গাই | তুমি কেন হিংসা কর কর্মকার ভাই || বকুল বৃক্ষের বাণী শুনিল কামিলা | দরশন দিল তবে আশদের তলা || বাস হাথে ঐমনি হানিল চোট সাত | বৃক্ষ বলে মাথায় পড়িল বজ্রাঘাত || গোপাল গোবিন্দ রাম বলে উচ্চস্বরে | কোথাকার পাতকী আমারে হিংসা করে || শুনরে কামিলা ভাই হতমূর্খ তুমি | ফলার গঠন হেতু কাষ্ঠ নই আমি || বর্ণমধ্যে ব্রাহ্মণ এমন শ্রেষ্ঠ গুরু | চারিযুগ কাননে আশদ কল্পতরু || বৈশাখে আমার মূলে যেবা দেই জল | দেবসভা সমুখে বসিতে প্রায় স্থল || অন্য কাজে যেজন আমার ভাঙ্গে ডাল | নরকে চুবানি তায় দেই যম কাল || পত্র হিংসা করিলে পাপের নাই সীমা | মকরে অগস্ত্য মুনি লিখিল মহিমা || বনে কান্দে কামিল্যা বৃক্ষের কথা শুনি | তিনবার দন্ডবত করিল ঐমনি|| এইরূপ বনে বনে করিল ভ্রমণ | মনকথা হেতু তথা করিল শয়ন || দক্ষিণ অনল হেতু সুখে নিদ্রা যায় | হেনবেলা শিয়রে বসিলা ধর্মরায় || আপনি শিয়রে বস্যা কহিল সপন | শুনরে কামিলা বাপু আমি নিরঞ্জন || ফলার কারণ তুমি এই কান্ড লেহ | বিলম্বে নাহিক কার্য বিসর্জন দেহ || পানের সমান পত্র বর্ণ কিছু কাল | রক্তবর্ণ কুসুম কানন করে আল || এহাতে অপূর্ব ফলা হইব নির্মাণ | বনৌষধি বর্গেতে লিখিল অভিধান || এই বৃক্ষ অনেক দিবস এইখানে | বিন্যস্ত হইল পূর্বে ব্রহ্মার চরণে || এত বলি অন্তর্ধান দেব নিরঞ্জন | নিদ্রা ভাঙ্গি কামিল্যা বসিল সচেতন || বৃক্ষ বলে কামিল্যা সুনহ তুমি ভাই | তুমি হিংসা করিলে উত্তম সঙ্গ পাই || লাউসেনের সহিত থাকিব অবিরত | সভামধ্যে সদাই শুনিব ভাগবত || এত শুনি কামিল্যা বিস্ময় বড় মনে | অবিলম্বে বৃক্ষকে কাটিল সেইখানে || ডালপালা কাটিয়া করিল সমতুল | চাঁছিতে বরণ হৈল যেন চাঁপা ফুল || মনে করে ইথে যেন হবে অপূর্ব গঠন | মাথায় করিয়া কাষ্ঠ বাড়ীকে গমন || নিজালয়ে দেখা দিল ময়না উত্তরে | ঐমনি ফলার কাষ্ঠ রাখে শালঘরে || শ্রমযুক্ত কামিলা পাইল অন্তঃপুর | আজিকার পালা সায় হৈল এতদূর || . ****************** || আখড়া পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
