| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ভাগিনা বড়াই করে ভূতুলের পারা | সঙ্গদোষে পড়্যা গেছে উত্কলের ধারা || লক্ষ টাকায় বিলাত বসিয়া খায় ঘরে | গন্ডার কাটিতে আজি হেঁটমাথা করে || আজি কেন জামাজোড়া নাহি লয় গায় | পানফুল নাহি নিল গড়গড়ি যায় || চাকর এমনি চাই এই কর্ম করে | মনে হৈলে এখনি বান্ধিব বন্দীঘরে || কুলীন বলাও বেটা কুভাজন মতি | বাজীকর খায় যেন বজ্রের সঙ্গতি || তাজনি করিয়া বলে সভা বিদ্যমানে | ভদ্রকালী পূজিব ভাগিনা বলিদানে || ভাল হৈল রঞ্জাবতী আঁটকুড়ি ছিল | লাউসেন হইতে বড় কলঙ্ক রহিল || এ ছার লোহার গন্ডার নারিল হানিতে | রাজ্য লুট্যা খায় ঘরে বচন বলিতে || এত শুনি লাউসেন দরবারে পান দিল | হানিতে লোহার গন্ডার আপনি চলিল || ধর্ম-সঙরণে নিল দেবীর আতর | আছিল ধুমসী দাসী বলে জোড়কর || জাম্ববতী মনে যেন যশোদার ধন | তোমা প্রতি সেই ভাব কানড়ার মন || রামের চরণে যেন জানকীর মতি | ঊষার অন্তরে যেন গোবিন্দের নাতি || বরমাল্য বর্তমান বসন অঙ্গুরী | তোমারে পাঠায়্যা দিল কানড়া সুন্দরী || দলবল দেখি যত রাজার বড়াঞি | একজন পন্ডিত এহার মধ্যে নাঞি || হাথে সূতা বান্ধে রাজা পাগলের বোলে | শঙ্কা নাঞি সমুদ্র লঙ্ঘিতে চায় শোলে || কিবা বর্ণ যতেক রামের গুণ ভাষে | শিবের ধনুক সে ভাঙ্গিল অনায়াসে || রাধাচক্র অর্জুন বিন্ধিল এক শরে | তার কীর্তি বর্তমান হস্তিনানগরে || জয়দূর্গা দিয়াছে লোহার গন্ডার | একে চোট বিনে যেন না হয় দোসর || এত বলি গন্ডারে খড়ির রেখ দিল | এখানে কাটিবে গন্ডার নিশ্চয় কহিল || বড় ছোট চৌদিগ দান্ডাল্য চারিপানে | সভে বলে লাউসেন লোহার গন্ডার হানে || জয়দূর্গা অস্ত্র বীর নিল ডানি করে | ভবানী বসিল সেই খড়্গের উপরে || লাউসেন উপলক্ষ কাটে সর্বজয়া | সর্বকাল মনে আছে কানড়াকে দয়া || বীরদাপে গন্ডার হানে রঞ্জার কুঙর | এক চোটে দুইখান সভার ভিতর || দুখান হইয়া ভূমে যায় গড়াগড়ি | লাউসেনের বরণ দিল কানড়ার চেড়ী || আগে দিল চন্দন পশ্চাত দিল মালা | ব্রাহ্মণের হাথে দিল বরণের ডালা || দরবারে রাউত বীর বর হৈল বলি | প্রীতিভাব দেখিতে বিপক্ষ হৈল কালি || সভামধ্যে যদিস্যাত পাইল বরণ | হেঁটমুখে রহিল সকল ভূঞাগণ || অনুকল্প মনে কার মুখে নাঞি রা | কেহবা হেদিতে ভাষে কার কাঁপে গা || কেহ কানাকানি করে ঈঙ্গিত আকার | তসরের রেণু হইল রাজার দরবার || পাছু ছিল মহাপাত্র আগুয়ান হয় | ভাগিনাকে গর্জিয়া দরবারে কিছু কয় || বরমাল্য দরবারে পরিলি কোন লাজে | কোন কর্ম করিলি আস্যাছ কোন্ কাজে || কানড়া করিতে বিভা রাজার গমন | কাহার বচনে তুঞি পরিলি বরণ || মাস্বা তোর ভূপতি কানড়া তোর মাসী | মালা পর সভামধ্যে ত্রাস নাহি বাসি || ধিক যাকু লাউসেন তোমার জীবন | আমার ভাগিনা হয়্যা করিলি এমন || এত বলি বরমাল্য গলা হৈতে নিল | মহাপাত্র আপনি রাজার গলে দিল || জোড়হাথে বলিল রাজার দরবার | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্ম সখা যার || পাত্র বলে তখন রাজার বরাবর | লাউসেনের কার্য দেখ দরবার ভিতর || কাটা গন্ডার হানিয়া পরিল বরমালা | এত অহঙ্কার ধরে লাউসেন বালা || চাকর কুক্কুর বেটা এতদূর মতি | হেন ছার চাকরে তোমার নাঞি গতি || কোন কর্ম করিব এমন ছলা করে | কুম্ভেতে ভাসিয়া গেল সমুদ্রের নীরে || রাজা পাত্র হানিয়াছি লোহার গন্ডার | বরমাল্য পরে বেটা রাজার দরবার || তবে যদি এই গন্ডার করে চারিখান | বীরপনা বুঝিব সভার বিদ্যমান || মাতুল গঞ্জিল যদি বলে লাউসেন | গন্ডার উপরে গন্ডার তুল্যা কেহ দেন || নিবেদিল এই কথা রঞ্জার কুঙর | দুহাতে ধরিল দড় গৌড়ের পাতর || গন্ডার উপরে গন্ডার তুলিবারে চায় | সুমেরু পর্বত যেন নাড়া নাঞি যায় || গোবর্ধন গিরি হৈল কিবা হিমাল | তুলিতে নারিল পাত্র মানে পরাজয় || ডোমের নন্দন কালু কিছু নাই বলে | বাঁ হাতে গন্ডার তোলে ধনুকের হুলে || গন্ডার উপরে গন্ডার রাখে মহাবীর | মনে হৈল বিন্ধিব ধনুকে জুড়ি তীর || রাম রাম বলিয়া ধনুকে জুড়ে শর | প্রজাপতি পবন কাঁপিল পুরন্দর || ধনুকে পাটন জুড়ি বলে মার মার | লোহার গন্ডারখানি হয়্যা গেল ফার || ধন্য ধন্য কালুকে বলিল সর্বজন | দ্বিগুণ গন্ডার সে হানিল তখন || চারিখান হয়্যা গন্ডা যায় গড়াগড়ি | শকট উপরে তুলে কানড়ার চেড়ী || প্রণাম করিয়া কহে লাউসেনের পায় | কানড়ার দাসী আজি মাগিল বিদায় || . ****************** . কানড়াবিভা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
