| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বল বাঁট্যা নিব ঘোড়া ঘুড়ির উপর | তার কথা কহিব তেমার বরাবর || আমি যদি হারিব কানড়া বিদ্যমানে | বিভা করি এখনি যাইব নিকেতনে || কানড়া হারিলে বিভা করিব রাজন | তোমার সমুখে দড় করি এই পণ || এত শুনি ভবানী ভাবেন মনে মন | হেনবেলা আইল নারদ তপোধন || মামী বলি মহামুনি তাঁরে প্রণমিল | প্রসন্ন বদনে দেবী আশিস করিল || ভবানী বলেন বাপু হরিভক্তি হগু | সর্বকাল বিষ্ণুর চরণে মতি রগু || আশীর্বাদ করি দেবী বলে ধীরে ধীরে | কানড়ার বিভা দিয়া চল্যা যাহ ঘরে || প্রাণনাথ ডাক দিয়া আনিবে তুরিত | বিভা দিবে কানড়ার তুমি পুরোহিত || বিমানে চড়িয়া মুনি করিল গমন | কৈলাসে শিবের কাছে দিল দরশন || প্রণাম করিয়া বলে শিবের নিয়ড় | শুভ কর বিভা দিতে সিমুল্যার গড় || কানড়া করিব বিভা ময়নার রায় | তুমি শুভ করিলে অরিষ্ট দূরে যায় || বিনয় বচন মামী বলিল বিস্তর | লাউসেনের বিভা হৈলে মামী আইসে ঘর || এত শুনি শঙ্কর সিমুল্যায় দরশন | পার্বতী সমুখে শিব রহিলা তখন || প্রণাম করিয়া দেবী বলে জোড়কর | লাউসেন কানড়া বিভা দিবে প্রাণেশ্বর || বলযুদ্ধে কানড়া কুমারী যেন জিনে | তবে বিভা কানড়া করিব লাউসেনে || শঙ্কর বলেন গৌরী শুন মন দিয়া | লাউসেনের তত্ত্ব বলি বিরলে বসিয়া || ত্রিভুবনে কেবা আছে লাউসেনে জিনে | তবে যদি এক দন্ড ছাড়ে নিরঞ্জনে || কদাচিত কানড়ার বিভা দিতে পারি | তোমারে সেবিল যদি কানড়া কুমারী || নারদ পাঠায়্যা দেহ ধর্মের সাক্ষাত | একদন্ড তেজিবেন ময়নার নাথ || এত শুনি ভবানী নারদ পানে চান | তুমি চল আপনি ধর্মের বিদ্যমান || মহাকাব্য আপনি করিবে উচ্চারণ | লাউসেনে কানড়া করিবে সমর্পণ || এত শুনি নারদ করিল দন্ডবত | চলিল বৈকুন্ঠ মুখে মূর্তিমান রথ || মনোগতি ধর্মের সাক্ষাতে দেখা দিল | সমুখে নারদ মুনি বলিতে লাগিল || পূর্ণপূজা আপনি পাইবে বারমতি | কলিযুগ কারণে জীবের হৈল গতি || ঈশ্বরী পাঠায়্যা দিল এহার কারণ | এক দন্ড লাউসেন ছাড়িবে নিরঞ্জন || তবে তার বিভা হয় সিমুল্যার গড়ে | পাঠাইয়া দিল শিব তোমার নিয়ড়ে || নিবেদিল বিশেষ নারদ তপোধন | এক দন্ড লাউসেনে ছাড়িল নিরঞ্জন || অকালে হরিল যেন অর্জুন শকতি | পরিণাম পরিপূর্ণ পূজার পদ্ধতি || পুনর্বার নারদ সিমুল্যা দরশন | জোড়হাতে দেবীর চরণে নিবেদন || হাসিতে হাসিতে বলে হেমন্তের ঝি | বল বাঁট লাউসেন বিলম্বে কাজ কি || ঘোড়া ঘুড়ির উপরে চড়িল দুইজন | লাউসেনে কোলে করি বৈসে ত্রিলোচন || কানড়া করিয়া কোলে বসিলা ভবানী | দুজনে বিভাগ বল করে টানাটানি || দুহাতে লাউসেন টানে প্রাণপণ করি | কানড়া করিয়া কোলে আছেন ঈশ্বরী || সুমেরু পর্বত যেন নাড়া নাহি যায় | পরাজয় পাইল গুরু ময়নার রায় || মহীলতা সদৃশ হইল মহীপতি | নাড়িতে নারিল দড় কানড়া রাউতি || হেঁটমুখে লাউসেন দক্ষিণ হস্ত দিল | কানড়া কুমারী কন্যা দুহাতে ধরিল || প্রাণপণে টানে কন্যা কানড়া কুমারী | ঘুড়ির উপর লবে ময়না অধিকারী || লাউসেন তুলিয়া পাছু দিল শূলপাণি | কানড়া বলিয়া সুখে টানেন ভবানী || আনন্দে ভাসিল রামা মকরন্দ বোলে | লাউসেন পড়িল আসি কানড়ার কোলে || জয় জয় ঘোর শব্দ হৈল আচম্বিতে | বিভা দিল ভবানী নারদ পুরোহিত || ঘুড়ির উপর বরে নাড়িল ছামনি | জয় জয় জয়দূর্গা দিলেন আপনি || শুভক্ষণে শঙ্কর করেন কন্যাদান | কুশহস্তে বেদবাণী নারদ পড়ান || শঙ্কর মাধব দিলা মনুহর নীলা | অরুন্ধতী সঙরণে বান্ধিল গাঁঠেলা || ভবানী যৌতুক দিল মাণিক অঙ্গুরী | হাথে হাথে সঁপি দিল কানড়া সুন্দরী || কানড়ার দোষ রায় মনে নাই নিবে | অলঙ্কার পরিপূর্ণ কানড়ারে দিবে || অপূর্ব বসন রায় দিবে পরিধান | বেদপাঠে আশিস করিল বিদ্যমান || বর কন্যা বৈসে গিয়া বিনোদ বাসরে | ঈশ্বরীর মায়া হৈল সিমুল্যা ভিতরে || আচম্বিতে সিমুল্যায় সুধা বরিষণ | অভিষেক করে যেন দেঘব়্যা ব্রাহ্মণ || হাথি ঘোড়া সংগ্রাম করিয়া যত মৈল | সর্বলোক সিমুলের প্রাণদান পাইল || জোড়া শিঙ্গাসারে কালু বলে ধর ধর | লাউসেন যাত্রা করে ময়না নগর || নব লক্ষ সৈন্য গেল গোউড় ভুবনে | পার্বতী শঙ্কর গেল কৈলাস সদনে || কানড়া সংহতি লাউসেন গেল ঘর | দিবানিশি পাইল গিয়া ময়না নগর || কানড়া সঁপিল পুন কলিঙ্গার ঘরে | রূপরাম গীত গান বাঁকুড়ার বরে || এইখানে থাকে গীত সভে বল হরি | রথভরে ধর্মরাজ চল স্বর্গপুরী || ব্রাহ্মণ সকলে ধর্ম করিবে কল্যাণ | আশাপূর্ণ আপনি করিবে ভগবান || কালিদাসে ধর্মরাজ রাখিবে কল্যাণে | এই বর মাগি আমি তোমা বিদ্যমানে || . ****************** || কানড়াবিভা পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
