| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ভবানী কহিল কান্দ কিসের লাগিয়া | কৈলাস বিদায় হব তোর বিভা দিয়া || মাথায় বসন নাই খোঁপাখানি বাঁকা | থাক লো রায়ের বেটী তোর এক রাকা || বচন বলিনু আমি পাষাণের রেখ | যুগে যুগে দেবতা দেখিল পরতেক || কল্পনা কহিল দাসী তোর বর্তমান | লাউসেন গন্ডা হানে সভা বিদ্যমান || লাউসেন উপলক্ষ কাটিলু আপনি | পরিচয় দিলু আমি ব্রহ্মার জননী || কোন্ দেশে সীতা ছিল কোন্ দেশে রাম | মাগিয়ান থাকিলে সফল সর্বকাম || কোথা ছিল জাম্ববতী কোথা বনমালী | কোথা ছিল অনিরূদ্ধ কোথা ঊষা বালি || মনে শঙ্কা নাই বেটী বস্যা থাক ঘরে | লাউসেন আনিঞা দিব তোর বরাবরে || অসময়ে পালাইল তোর বাপ মা | বিপদ সাগরে বেটী আমি তোর লা || এত শুনি কানড়া বসিল নিকেতনে | জোড়হাথে ধুমসী বিশেষ নিবেদনে || বর নয় বনি গো সে গগনের তারা | হাঁড়ি যোগ্য বিধাতা গড়িল যেন সরা || পঞ্চমীর চন্দ্র যেন বিষ্ণুপদতলে | বরমাল্য দিল রাজা লাউসেনের গলে || রাজা পাত্র গন্ডারখানি নারিল হানিতে | মহাবীর লাউসেন কাটিল আচম্বিচে|| শুভক্ষণে আরাধিলে পার্বতী–শঙ্কর | কোন ভাগ্যে পাইলে তুমি লাউসেন বর || এত শুনি হাসে সিমুল্যার গড়ে | ভূপতি লস্করে তখন গোলা পড়ে || কানড়া কুমারী থাকে গড়ের ভিতর | রাজা পাত্র লয়্যা কিছু শুনিবে উত্তর || বোলচাল নাই কিছু রাজার সভায় | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্মের কৃপায় || বরমাল্য পরিল ময়নার নৃপমণি | রাজার দরবারে শুধু এই কানাকানি || হাতে সূতা ভুপতি করিল অধিবাস | লাউসেন বরণ নিল এই বড় ত্রাস || হেঁটমুখে লাউসেন ভূপতি ভুঞা সব | দাসীর বিক্রমে কার মুখে নাহি রব || পাত্র মহামদ বলে ভূপতির কানে | যদি বিভা কানড়া করিবে এইখানে || ভাগিনা থাকিতে তব বিভা নাহি হয় | বাঁশডিহার গড় যাকু রঞ্জার তনয় || ভঙ্গ দিয়া গেল যথা হরিপাল কুঙর | লাউসেন পাঠায়্যা দেহ তাহার উপর || এই দন্ডে তোমারে কানড়া বিভা দিব | বুদ্ধি উপদেশ আমি পশ্চাত বলিব || এত শুনি লাউসেনে বলেন ভূপতি | তোমা বিনে নাই বাছা পরিণাম গতি || অবিলম্বে যাত্রা কর বাঁশ ডিহার গড় | হরিপাল কুঙর ধরি আনিবে নিয়ড় || যাত্রা কর এখনি বিলম্বে কার্য নাঞি | কর্ণের দ্বিগুণ বাপু তোমার বড়াঞি || পাঁচমোহর লাউসেনে দিল পানফুল | বিদায় হইল সেন সিমুলের কূল || জোড়া শিঙ্গাসারে কালু বলে ধর ধর | রাউত চড়িল ঘোড়া অন্ডির পাখর || আগু পাছু শিঙ্গা কাড়া চমক নিশান | বাঁশডিহার গড় রাজা লাউসেন যান || ছয় দন্ডে মহাবীর লস্কর এড়ায় | রাজপুর সমুখে সলিলপাড়া পায় || সিমুল্যা হইতে পথ এ দুই প্রহর | বাঁশডিহার গড় পাইল রঞ্জার কুঙর || তের দলুই সঙ্গে বীর করিল মোকাম | সাত গড় সিমুল্যা পড়িল পরিণাম || পাত্র বলে মহারাজ অবধান কর | হাত সূতা বান্ধা যদি হয়্যা আস্য বর || কিবা জানি কানড়া দুর্বার বেদ পড়ে | চুরমার করিব সিমুলের সাত গড়ে || উপদেশ শুনিতে ভূপতি দিল সায় | সাত গড় সিমুল্যা বেড়িতে সভে যায় || হাসিয়া হুকুম রাজা দিল তিনবার | শীঘ্রগতি সিমুল্যা করিতে চুরমার || এত শুনি পড়ে দামা তেঘাই দগড় | কানে কানে বেঢ়ে সাত সিমুলের গড় || একজন বলিতে হাজার জন ধায় | হাথি ঘোড়া পাইক নড়িল পায় পায় || নিঃসরিল ঢালী পাকি ঢালে উরি মাথা | চারি পাঁচ জন এক ঢালে আছে গাঁথা || তার পাছু আশোয়ার চঞ্চল সমীর | মন্দগতি চলে হাথি নিজ গুণে থির || দিগি দিগি দুরদুর দামামার ধ্বনি | হাথির নিনাদ শুধু ঘোড়ার হিসনি || শিঙ্গা পড়ে চৌদিগ কাড়ার লেখা নাই | বাঁশবাজি মাদল পড়িছে কত ঠাঁই || চতুর্দিকে রাজসেনা হাথির চাপান | সৈয়দ জাঙ্গড়া সেখ মগল পাঠান || গাছ কাঠে বেগারি কাননে সরদার | কেহ কেহ গড় বান্ধে বিমলার পার || বাদ্য বাজে চৌদিগ সৈন্যের কলরব | ঝোপঝাড় দেখি ঢালী বাসে যম সব || ধানুকী বসিল যোতে বাঁশে দিয়া ভরা | বিশেষ বৈশাখ মাস তায় বড় খরা || চারিদিগে সিমুলে বেড়িল দলবল | আনে বলে বসুমতী যায় রসাতল || দড়বড়ি ঘোড়ার লোকের দুরদুর | আড়ঘরে ভঙ্গ দিল দেবতা অসুর || দলে বলে দক্ষিণে হুসন দিল থানা | সঙ্গে মিঞা হাসন দোসর সিংহ রাণা || লোকের মাড়ান যেন আশদের পাতা | হিমালয় সদৃশ একেক গজ মাতা || পদ্মবনে গতি করে কুঞ্জরের ঘটা | সিন্দুরিয়া কাদম্বিনী কপালের ছটা || . ****************** . কানড়াবিভা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
