| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| দিনে দিনে চান্দের সমান যে প্রবল || নিরন্তর দুই হাথে গুলতাই বাটুল | সদাই মৃগয়া করে বল্লুকার কূল || সাধ কর্যা সদাই [ কপালে ] ফোটা পরে | চরমে মগরা-খাড়ু অতি শোভা করে || টাড়-বালা দু-হাতে মাণিক-মালা গলে | মকর-কুন্ডল কানে অন্ধকারে জ্বলে || বৈশাখ মাসের চাঁপা অঙ্গের প্রকাশ | চাঁদ বিন্দু বান শোভা হত্যে চায় দাস || কদাচিৎ সদনে কানন হল্য সার | জননীর কোলে কাঁকে নাঞী থাকে আর || দেখিতে দেখিতে নাঞী নিরন্তর দেখি | নিধন করিল যত বল্লুকার পাখী || বিশেষ বিজ্ঞতা তারা চরে বার মাস | পানিকড়া বিস্তর বধিল বালিহাঁস || গুলতাই বাঠুল হাথে বুলে তরুতলা | কাননে কাননে ফিরে লুইচন্দ্র বালা || তরুমূল শিখর পথের পানে চায় | বনে বনে বুলে যত গাছের তলায় || বট তরুবর দেখে এ তিন যোজন | উল্লুক বস্যাছে তায় ধর্ম্মের আসন || ঈষৎ বরণ মুখ দেখিল উল্লুক | অবশ্য বধিব ইহা বাড়িল কৌতুক || বাটুল করিল করে কন্যা কয় কথা | ঐমনি সারিতে হল্য দামিনীর লতা || দক্ষিণ-বদনে পক্ষ্য বস্যাছে কৌতুকে | পসারিতে পালক বাটুল বাজে বুকে || বুকে বাজে বাটুল বদনে নাঞী রা | পক্ষ বলে হরিচন্দ্র নির্ব্বংশ জা || ঘুরিতে লাগিলা পক্ষ্য উপর গগনে | গোলোকে পড়িল গিয়া ধর্ম্মের চরণে || অচেতন ঠাকুর দেখিল পক্ষ্য মুনি | বদন [ মলিন কেন কহ দেখি শুনি ] || একদন্ড বই জিউ বসিল যতনে | বলিবারে লাগিল প্রভুর বিদ্যমানে || হরিচন্দ্রের বেটা লুইচন্দ্র নাম | পরমসুন্দর বালা পুরটের দাম || বসিয়া অনেক [ দূর ] পরিসর ডালে | লুইচন্দ্র বাটুল হানিল হেনকালে || অব্যয় ভাগ্যের পুণ্যে পাইল জীবন | না জানি কেমন ভাগ্যে তোমা দরশন || এত শুনি আপুনি বলেন ভগবান | সেই লুইচন্দ্র বটে আমার মানান || বল্লুকা গাজনে যবে বর পাল্ল্য রায় | বড় বেটা বলি দিব বল্যাছে আমায় || বল্লুকার বাক্য যদি বলিল গোসাঞী | নিবেদন উল্লুক বিলম্বে কাজ নাঞী || তোমার সমান লুয়্যা সমুচিত বটে | সদাই শীকার তার বল্লুকার তটে || রূপরাম গীত গান কপালের লেখা | পলাসনের মাঠে ধর্ম্ম যারে দিল দেখা || উল্লুকের বচনে আপুনি মায়াধর | মায়ারূপে অবতার অবনী ভিতর || আদ্যের অমরাবতী শ্রীবর্দ্ধমান | ব্রহ্মচারী বেশ ধরি পাল্য ভগবা || দেখিল অমরাবতী অমরা নগরী | পুরুষ পরম শোভা পরম সুন্দরী || হরিচন্দ্র সমান সংসারে দাতা নাঞী | ছলিতে পাতিল মায়া অনাদি গোসাঞী || পরিধান রুধির-বসন দন্ডধারী | [ কটিতে ] অজিন বান্ধা চারি বেদকারী || কুশাঙ্গুরী করাঙ্গুলে মুখে বেদ-বাণী | ময়ূর পালকের ছাতা বিচিত্র ছায়নি || জপাঙ্কুর লম্বিত রুদ্রাক্ষ-মালা গলে | মাথায় কুশের বোঝা খুঙ্গী পুঁথি কোলে || অবতার অনন্ত অমরাবতী মাঝে | সাক্ষাৎ অমরাবতী নানা ধুন সাজে || ঘরে ঘরে ভাগবত ভারথ পুরাণ | কোনখানে রামায়ণ গীত করে গান || বালক সকল তথা খেলিছে ইড়িক | তা দেখিয়া মহাপ্রভু হরিষ অধিক || বাজারে বিকায় চুয়া চন্দন চামর | চৌচালা বাঙ্গালা বিশেষ যার ঘর || সারি সারি গাছ দেখে গুয়া নারিকেল | নিকটে জলরি তার সলিলে কমল || জল ছত্র [ হুলাহুলি ] জয় শঙ্খধ্বনি | জয়দেব কখন সভার মুখে শুনি || প্রতি ঘরে দেউলদেহারা দশভূজা | কত ভাগ্য সকলে ধর্ম্মের করে পূজা || দেখিতে অমরাবতী অবনীর সার | ধীরে ধীরে চলিল ঠাকুর নৈরাকার || চলিল রাজার বাড়ী মনের হরিষে | মহাপূজা বলিদান এই অভিলাষে || [ দেখে ] সারে সারে কত ধর্ম্মের দেহারা | সুধাময় বচন দেশের পাঁচ ধারা || সত্য বই মিথ্যা কেহ না জানে স্বপনে | শোভা দেখি সুন্দর গোলোক বলি মানে || অমরা দক্ষিণ দিগে দিল দরশন | ধর্ম্মপূজা করে তথা জয়-যাত্রিগণ || কপালে ধর্ম্মের টীকা কেহ যায় ঘর | কেহ বা ধর্ম্মের গায় ঢুলায় চামর || . লুইচন্দ্র পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
