| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বিশেষ বলিয়া দ্বিজ হইল বিদায় | রাজার উদ্দিশ হেতু যান ধর্ম্মরায় || শ্রীধর্ম্মের মায়া কহনে নাঞী যায় | রূপরাম ফকির ধর্ম্মের গান গায় || মায়াধারী ঠাকুর চলিলা ধীরে ধীর | সত্বর গমনে পাল্যা রাজার মন্দির || হরিচন্দ্র রাজার মহলে দরশন | [ ঊর্দ্ধ ] মুখে রাজাকে আশিষ ঘনে ঘন || বিষ্ণুপদতলে যখন পাঁচ দন্ড রাতি | আসন করিলা প্রভু বাঘছাল পাতি || নানা ধনে পরিপূর্ণ রাজার মহল | মাতঙ্গ রক্ষণ হেতু হরি পড়ি বল ( ? ) || ঠাকুর বলেন ভাই শুন দ্বারিগণ | রাজা কোথা বলিবে বিশেষ বিবরণ || সত্য কর্যা বলিবে তোমার কিবা নাম | নিবেদন করে সিঙ্গা করিয়া প্রণাম || শিশুকাল হত্যে গোসাঞী নাম সিঙ্গাদার | যামিনী দিবস রাখি রাজার দুয়ার || পিতামহ হইতে রাজার লোন খাই | আজ্ঞা কর রাজাকে বলিতে আমি যাই || ঠাকুর বলেন সিঙ্গা আমি তোরে জানি | তোর পিতামহ নিত্য দিত পুষ্প-পানি || এই কথা বল গিয়া নৃপতির কাছে | বল্লুকার সন্ন্যাসী দুয়ারে বসি আছে || অপরঞ্চ বলিবে মদনা বিদ্যমান | কদাচিৎ মনে নাহি বল্লুকার মানান || উপবাসী ছমাস না খাই অন্নজল | শুন সিঙ্গা এ কথা রাজাকে গিয়া বল || এত শুনি প্রণাম করিয়া সিঙ্গা ধায় | জোহার করিয়া বলে নৃপতির পায় || দুয়ারে বসিয়া আছে বল্লুকা-সন্ন্যাসী | সকল বচনে বলে আছি উপবাসী || ডাক দিয়া আন বলে রাজা আর রানী | উপবাসী অতিথি না খাই অন্ন পানি || এত শুনি রাজা রানী চমত্কার মনে | পূর্ব্বকথা সঙরণ হৈল এত দিনে || মদনা বলেন বড় জন্মিল বপাই ( ? ) | লুঞিচন্দ্র লয়ে আমি পলাইয়া যাই || মনিনু প্রথম ফল বল্লুকা গাজনে | শুধিতে নারিব ধার সেই ভয় মনে || রাজা বলে এ কথা আমার মনে নাই | ভেটিতে চলিলা তবে সন্ন্যাসী গোসাঞী || পীযুষ সমান নিল নানা আয়োজন | রাজা রানী সন্ন্যাসী সমুখে দরশন || একুই বারে প্রণাম করিল রাজা রানী | সবিনয় ভারথি সমুখে জোড়-পাণি || একদন্ড দম্পতী সমুখে সবিনয় | হেন বেলা সন্ন্যাসী আপুনি কিছু কয় || আশীর্ব্বাদ করিল বিস্তর দিন জীবে | আমি আজি অতিথি আপুনি সেবা নিবে || অবনিমন্ডলে তীর্থ যত চলাচল | ছয়মাস উপবাসী দেখিনু সকল || আদ্য বাড়ি গয়া গঙ্গা আর বারাণসী | পরিচয় দিনু আমি বল্বুকা-সন্ন্যাসী || ছয় মাস উপবাসী হরিচন্দ্র রায় | মাংস দিয়া ভোজন করিতে ইচ্ছা যায় || মাংস ভাজা খাইব মাংসের খাব ঝোল | প্রাণ পাইলে পশ্চাতে শুনিব তোর বোল || এত শুনি হরিচন্দ্র করে নিবেদন | জনম সফল হল তোমার দরশন || ছাগল গাড়ল আনি আর রাজহাঁস | আজ্ঞা কর এখনি রন্ধন করি মাস || ছাগল গাড়ল আমি কভু নাঞী খাই | রাজা বলে মৃগয়া করিতে আমি যাই || ঠাকুর বলেন আজি মহামাংস খাব | আশীর্ব্বাদ করিয়া বল্লুকা চলি যাব || পাসরিলে পূর্ব্ববাণী বল্লুকা মানান | আমার সমুখে লুঞে দেহ বলিদান || আপনার পুত্রে রাজা কাটিবে আপুনি | ঝালে ঝোলে রন্ধন করিবে পাটরানী || পূর্ব্ববাণী পাসরিলে মহিষী মদনা | কোথা গেল লুইচন্দ্র রচিলে কল্পনা || শুন গো মদনা আমি তোর মন জানি | বেটা কাট্যা পূজা দিবি মানিলি আপুনি || এত বলি ঠাকুর বলেন হায় হায় | এইরূপে অনেক মানান বয়্যা যায় || এত শুনি মদনা মহিষী পায় পড়ে | সন্ন্যাসীর কথা শুনি রাজা নাই নড়ে || এতেক শুনিঞা বলে হরিচন্দ্র রাজা | আপনা কাটিয়া গোসাঞী দিব তোমার পূজা || . লুইচন্দ্র পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
