| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| নিদারুণ পুত্রশোকে না দেখে নয়ানে | পুনর্ব্বার বসিল ধর্ম্মের বিদ্যমানে || সুবর্ণের থালে মহামাংস বিলক্ষণ | সন্ন্যাসীর কাছে নিঞা রাখিল রাজন || ধর্ম্ম বলে বিলম্বে অকার্য্য মনে পাই | রন্ধন করিয়া দিলে মহামাংস খাই || এত শুনি রন্ধনে বসিল [ দুইজ ] নে | ধর্ম্মমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম ভনে || দুহাতে প্রভুর [ পদ ] বন্দিল তখন | মদনা মহিষী গেলা করিতে রন্ধন || আয়োজন অনেক রন্ধন পরিপাটি | হরিচন্দ্র আপুনি বেসার দেন বাঁটি || হরিদ্রা বাটিল ঝাল পরিপূর্ণ থালে | পাটরানী পবিত্র হইল হেন কালে || জ্বালিল শুখান কাষ্টে নোতন তিউড়ি | ঘিয়ে কব়্যা সংযোগ বসায় কোরা হাঁড়ি || তিনবার বন্দন করিল ধনঞ্জয় | তৈল নিল পরিপূর্ণ আজ্য অতিশয় || সত্যবতী মদনা বেটার মাংস রান্ধে | দেবতা অসুর দেখি বুক নাহি বান্ধে || আজ্য দিয়া প্রথমে করিল খড়খড়ি | কিছু বা ভাজিল মাংস মরিচের গুড়ি || তবে ঝোল রান্ধিতে বেসার দিয়া তায় | বসিয়া বেটার মাংস আপুনি সিজায় || ঝাল দিয়া সম্বরিল আদ্রকের রসে | ঈষৎ রাখিল ঝোল রান্ধে অনায়াসে || পিঠা সব তুলিল হাড়ের তোলে বড়া | রান্ধিল লুঞার ছাল বসাইয়া কড়া || আজ্য দিয়া রান্ধিল বিচিত্র পরিপাটি | ধর্ম্মের কাছেতে নিঞা রাখে বাটি বাটি || আতপ তন্ডুল পুণ্য করিল রন্ধন | নৃপতি করিল স্থান বিচিত্র আসন || স্থান করি তখন বলেন মহারাজা | ঠাকুর ভোজনে বস মহামাংস ভাজা || পরিপূর্ণ গোসাঞি মাংসের ঝোল খাও | ফুরালো বংশের রোল বিদায় হএ যাও || এত শুনি পুনর্ব্বার বলেন গোসাঁই | সব আছে অনন্ত অম্বল কেন নাই || অম্বল বিহনে নাহি ভোজনের সুখ | এ রসে বঞ্চিত কেন হইয়াছে ভূপ || আমে রান্ধ আম্বল লুঞের দিয়া মাথা | উহা পাইলে তোমাকে বলিব বড় দাতা || নুকাইআ মুন্ড তার রেখ্যাছে মদনা | আমার সমুখে তোর এ সব কল্পনা || এতেক শুনিয়া রাজা দুঃখ ভাবে মনে | আপনি নুঞের মাথা আনিল যতনে || কুটিল যতনে মুন্ড খরসান বটি | ধর্ম্মের কাছেতে বলে জোড় করি পুটি || সমুখে কার্ত্তিক মাস আম কোথা পাব | অদিন যোগের কার্য্য আমি কোথা যাব || পৌষে বকুল ধরে চৈত্রে আম্র পাই | জলধি করিলে স্নান তবে আম্র খাই || রাজার বচন শুনি মনে চিন্তে মায়া | সব চেয়ে দেখিল তালের যেন ছায়া || যুধিষ্ঠির যখন গাজনে দিল চূড়া | কাটে বিল্ব আম্র তরু গোড়া ছিল মুড়া || উপলক্ষ বিনে নাঞী দেবতার বল | বিষ্ণুমায়া হেতু বৃক্ষ করে ঝলমল || আচম্বিতে আম্র তরু ফুল আর ফল | কাঁচা পাকা সলি আম্র ধরিল সকল || সন্ন্যাসী বলেন রাজা অই দেখ আম | এই গুণ শ্রবণ করিব পরিণাম || অতি অসম্ভব দেখি রাজা আম্র আনে | আম্বল রান্ধিতে দিল রানী বিদ্যমানে || এত শুনি রান্ধে রানী পরাণে বিকল | আমেতে বেটার মাথা করিল অম্বল || শীঘ্রগতি রন্ধন হইল পঞ্চ রস | সভে বেলা আকাশে রহিল দন্ড দশ || পূর্নব্বার ভূপতি করিয়া দিল স্থল | কাঞ্চনের ঝারিতে রাখিল গঙ্গাজল || গঙ্গাজল রাখিয়া সমুখে নিবেদন | এসো মহাপ্রভু তুমি করিতে ভোজন || গোসাঞি বলেন অন্ন বাড়ো তিন থালে | তিন জন ভোজন করিব একু কালে || আপুনি মদনা মাংস পরিপূর্ণ নেও | বড় বাটি মাংসের রাজার কোলে দেও || কিঞ্চিৎ খাইব আমি যদি কিছু রোচে | এত শুনি মদনা চক্ষের জল মোছে || . লুইচন্দ্র পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
