| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| প্রভুর বচন শুনি বসুমতী হাসে | বঞ্চিল অনেক মায়া ধর্ম্ম-অভিলাষে || মাতুল-সদনে হোথা লুঞিচন্দ্র বালা | প্রভাতে পড়িতে তবে চলে পাঠশালা || ঘরে হৈতে চরণ বাড়ান লঘুতর | পাইল অমরাবতী আপনার ঘর || কতদূরে ঠাকুর চিনিল ততক্ষণ | বলির দুয়ারি জেন দেবনারায়ণ || এক ঠাঞি তিন ধর্ম্ম দেখেন দুয়ারে | মনে করে সম্ভাষ করিব আগে কারে || ধর্ম্ম হৈতে জন্মদাতা তাকে চেয়ে মা | আগু আমি সম্ভাষ করিব কার পা || কতদূরে রহিয়া এ সব-অনুমান | উত্তরিল লুইচন্দ্র ধর্ম্ম বিদ্যমান || জনক জননীর পা দুই হাথে ধরে | প্রভুর চরণে লুঞে দন্ডবৎ করে || লুঞিচন্দ্র দেখি বলে ভকতবৎসল | কে জানে রাজার মনে এত বড় খল || না জানি এমন খল মহিষী মদনা | বেটা লুকাইয়া করে এ সব কল্পনা || আপন গৌরবে আজি বেটা কেট্যা দিবি | আপুনি বেটার মাংস আপুনি রান্ধিবি || কিছু বা করিবি ভাজা কিছু ঝালে ঝোলে | স্বহস্তে কাটিআ রাজা দেহ এই কালে || এত শুনি দুই জনে কাছাড় [ খায়্যা ] পড়ে | বলিতে না পারে কিছু প্রভুর নিয়ড়ে || বিষ খেয়ে মরিব গলায় দিব কাতি | ব্রহ্মচারী নয় এই রাজ্যের ডাকাতি || লুইচন্দ্র বলে বাপা শুন মন দিয়া | মন ব্যথ্যা কর তুমি কিসের লাগিয়া || অর্জ্জুন-সারথি যে তোমার পাটশালে | না দেহ সোনার খাট বস্যা বা [ঘছা ]লে || কদাচিৎ না জান দুয়ারে নারায়ণ | অবধানে শুন কিছু জৈমিনি-পুরাণ || সংসারে বিদিত বড় রাজা তাম্রধ্বজ | যার ধনে লেখা নাই সেনা অশ্ব গজ || রাখিল যজ্ঞের ঘোড়া রণ হৈল জয় | দক্ষিণা মাগিতে [ তথা ] গেল ধনঞ্জয় || আপনি গেলেন হরি তারি বিদ্যমান | রাজাকে মাগিল ভিক্ষা অর্দ্ধ-অঙ্গ দান || মাগিল দক্ষিণা অর্দ্ধ দিল শুদ্ধমতি | করাত বসাল্য পিষ্টে তাহার যুবতি || একদিগে পুত্র টানে আর দিগে জায়া | বৈকুন্ঠের সারথি আপুনি দেখে মায়া || নাসিকা উপর মাত্র বসাল্য করাত | হেন বেলা চতুর্ভুজ হইল জগন্নাথ || সেই অবতার এই বসিয়া গোসাঞি | বলিদান [ দে ]হ মোরে আন কথা নাঞি || তুমি দিবে বলিদান মা[তা] দিবে জয় | আদ্য-পূজা দেহ বাপা আনন্দহৃদয় || বেটার বচন শুনি বিদরয়ে বুক | বসিল মায়ের কোলে ধর্ম্মের সমুখ || বসিয়া মায়ের কোলে হাসে খলখল | দ্বিজ রূপরাম গায় শ্রীধর্ম্মমঙ্গল || পুত্রের বদনে শুনি অপরূপ বাণী | কাছাড় খাইয়া পড়ে রাজা আর রানী || পুত্র বলিদান দিব মনে করে রাজা | কিঞ্চিৎ সাহসমতি আরম্ভিল পূজা || মদনা মরমে কাঁদে সন্ন্যাসীর ভয় | আকুল হইল শোকে কথা নাই কয় || পুত্র বলিদান দিব মনে করে রাজা | সাহস করিল সভে আরম্ভিল পূজা || নানা পুষ্প আনে তুল্যা নানা আয়োজন | আদ্য-পূজা আরম্ভ করিল একমন || [কাঁ]দি [কাঁ]দি চাঁপা কলা পাঁচ বর্ণ চনা | পিষ্টক পায়স খীর পীযূষ তুলনা || উত্তম মহিষ্য দধি ক্ষীর খন্ড চিনি | শর্করা সন্দেশ মধু আনিল আপনি || আতপ তন্ডুল পূর্ণ মর্ত্তমান কলা | সহস্র কমল পদ্মমণি মতি পলা || ধুপধুনা সোনার প্রদীপ সারি সারি | বারদ [শ] সমুখে জপিল হরি হরি || স্নান করাইল লুঞে তোলা গঙ্গাজলে | রক্ত বস্ত্র পরিধান রক্ত মালা গলে || পুনরপি পরালো সোনার তাড়বালা | সমুখে বসিল লুঞা ধর্ম্ম করি আলা || দুটি হানু জুড়িয়া বসিল হেট মুখে | নিদারুণ শেল বাজে মদনার বুখে || মুখ পানে চেয়ে রহে খোলা-ডাই মা | তরাসে কান্দিতে নারে মুখে নাঞি রা || অবিলম্বে আনিল কাটারি খরসান | হরিচন্দ্র বসিল প্রভুর বিদ্যমান || আপনি সিন্দুর দিল বেটার কপালে | প্রফুল্ল ওড়ের মালা দিল তার গলে || সাধিল আদ্যের পূজা আছিল বিধান | সজল তুলসীদল ধরিল নিদান || . লুইচন্দ্র পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
