| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বামে রাখে চানলি সমুখে রাখে তোড়া | সিন্দুরিয়া কাদম্বিনী কিছু কালা গোরা || পরিল ইজার খাসা নাম মেঘমালা | কাবাই পরিল অঙ্গে দশদিগ আলা || কলধৌত উপরে উদয় মন্দ মন্দ | পানমণি পটুকা বান্ধিল কটিবন্ধ || আপনি কোমর বান্ধে ময়নার রায় | শতেক নফর সঙ্গে হেত্যার যোগায় || জোড়া যমধর ছুরি দেবীর আতর | ডানদিগে তরকচ তের হাজার শর || রণটাঙ্গি দুদিগে বান্ধিল পাঁচ পাঁচ | যার মুখে হীরা জ্বলে নীরে কাটে মাছ || সমুখে রাখিল ফলা করে ঝলমল | শোভা করে উপরে চামর গঙ্গাজল || বত্রিশ আতরে বীর করিল সাজন | শশী বিন্দু মুখ অরি করে সঙরণ || ঢালে দিল চামর চরণে দিল রুনি | চলিতে ঢালের ঘন্টা রনরন শুনি || নিস্বরিতে সদনে কর্পূর সঙ্গে দেখা | সরস বসন্ত যেন মদনের সখা || জোরহাথে কর্পূর করিল নিবেদন | হেত্যার বান্ধিয়া কোথা করিলে গমন || দিনে দশবার তুমি যাও দেশান্তর | জননী তোমার হেতু শালে দিল ভর || সত্যবাণী আমার সমুখে বল তাই | তবে যদি মিথ্যা বল ধর্মের দোহাই || মিথ্যাবাণী নাই বলে লাউসেন বীর | কলিযুগে অবতার যেন যুধিষ্ঠির || লাউসেন বলে শুন কর্পূর দোসর | তোমার ভরসা মনে রাখি নিরন্তর || অর্জুনের রথে যেন চতুর্ভূজ হরি | সেইরূপ কর্পূর তোমাকে মনে করি || সর্বকালে রাজার মাহিনা বস্যা খাই | রাজ আজ্ঞা পালিতে ঢেকুর আমি যাই || মেলানি মাগিল ভাই তোর সন্নিধানে | জননী এ সব কথা নাই যেন জানে || কর্পূর কহিল তব নাই কিছু জ্ঞান | এত কাল মিছে ভাই শুনিলে পুরাণ || মা বাপের চরণে বিদায় হয়্যা চল | তবে তোমার ধর্মঠাকুর হব পক্ষাবল || চারিবেদে বলিল এ সব সমাচার | মায়ের সমান গুরু কেবা আছে আর || পিতার সমান গুরু নাই ত্রিভুবনে | ষোল তীর্থফল পাই পিতার চরণে || সর্ব কার্য সিদ্ধ হয় জননী-আশিসে | রাম হেন ধানুকী জিনিল লবকুশে || আজ্ঞা মাগ জনক জননী বিদ্যমান | রণে বনে জয় দাদা জগতে কল্যাণ || এত শুনি লাউসেন করিল গমন | পিতার সমুখে গিয়া দিল দরশন || দন্ডবত প্রণাম করিল দশবার | গলায় বসন দিয়া বলে সমাচার || শুন মহাশয় রাজা আমার বচন | তুমি আজ্ঞা দিলে যাই ঢেকুর ভুবন || কর্ণসেন বলে বাপু শুন মোর বাণী | বিদায়ের কথা কিছু আমি নাঞি জানি || পিতার বচন বালা নিল জোড়হাথে | দুই ভাই দেখা দিল জননী সাক্ষাতে || দশবার প্রণাম করিল দুই ভাই | নিবেদিল অজয় ঢেকুর আমি যাই || এত বলি রহিল জননী বরাবরে | লবকুশ জানকী যেমন শোভা করে || এত শুনি রঞ্জাবতী সহজে বিকল | কাঞ্চন বেচিতে যাবে কাচের বদল || কোন জন বলে রে ঢেকুর গড় ভাল | ঢেকুরের নাম শুনি হাড় মাস কাল || শালে ভর দিতে আমি পাইলু কত দুখ | সাধ পুব়্যা দেখিব তোমার চাঁদমুখ || কদাচিত নাহি যাহ ইছাই উপর | ছভাই পড়্যাছে তোর ছয় ধনুর্ধর || অবতার কলিযুগে দ্বিতীয় রাবণ | মহাবীর ইছাইঘোষ গুয়ালা নন্দন || অজয় নদী সমুদ্রে সমান গড়খানা | কেবা আছে সংসারে ঢেকুরে দেই হানা || কার বোলে তুমি হৈলে রাজার চাকর | ধনে নিবারিতে পারি এ সাত সাগর || কাঞ্চন মুকুতা কত গড়াগড়ি যায় | ধনের গৌরবে দাসী অন্ন নাহি খায় || সুবর্ণের কই মত্স্য রহলি খেলায় | বিশ কাহন কড়ি তোর ঝাঁটালাতে যায় || না যাঅ না যাঅ বাপু ঢেকুরের গড় | এত দুঃখ দেই পাত্র গৌড়ের নাবড় || এত বলি চুম্ব দিল বদনকমলে | বাহু পসারিয়া রাণী পুত্র নিল কোলে || বাপধন আমার বালাই লয়্যা মরি | বদনে বদন দিয়া বলে হরি হরি || মায়ের বচন শুনি লাউসেন কয় | অবশ্য ঢেকুর যাব অন্য কথা নয় || ইছার উপরে আমি বান্ধিলু হেত্যার | রাখিতে উচিত নয় অনন্ত নিবার || যায় যাকু জীবন জগতে রহু যশ | যত কিছু দেখি শুনি সব দিন দশ || আজি মরি তবে কিবা এক লক্ষ্য বই | জন্মিলে মরণ আছে এড়াবার নই || কালিনী মায়ের দুগ্ধ নৃপের লবণ | কি করিল কৃপাচার্য কি করিল দ্রোণ || কর্ণ হেন দাতা মৈল লবণের গুণে | হেত্যার বান্ধিয়া ঘরে থাকিব কেমনে || প্রসন্ন বদনে দেহ আশিস বিদায় | এত বলি লাউসেন চরণে লোটায় || অজয়া অবশ্য যাব ঢেকুর গহন | রণস্থলে ভেটিব ইছাই মহাজন || জগতমন্ডলে আর কত কাল জিব | গুয়ালা কেমন বীর নয়নে দেখিব || হাসিয়া বিদায় দেহ বেণুরায়ের ঝি | অল্পলোক সহিত বিবাদে কার্য কি || দুই পায়ে ধরি বলে বিশেষ বিনতি | অরুন্ত্তদ বিদায় দিলেন রঞ্জাবতী || আশিস করিল তবে হঅ চিরজীবী | বলবন্ত হইবে সিংহের যেন রবি || . ****************** . অনুমৃতা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
