রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
আসর সহিত ধর্ম হবে বরদায় |
রূপরাম ফকির ধর্মের গীত গায় ||

বাজিপৃষ্ঠে লাউসেন চারিপানে চায় |
এক আঁঠু জল দেখে নদী বয়্যা যায় ||
পারাপার হয় যত শৃগাল কুকুর |
গতায়ত লোকজন করিছে ঢেকুর ||
মনে সাধ এখনি অজয়া পার হব |
দক্ষিণ ঢেকুর গড়ে মোকাম করিব ||
এত বলি ঘোড়ায় চাবুক দুই তিন |
দাবানল মুখে যেন চঞ্চল হরিণ ||
আড়ে হত্যে তরণী সলিলে দিল পা |
আচম্বিতে দুরদুর জলের শুনি রা ||
বান নাই বাউ নাই বরিষা বাদল |
আকাশ পাতাল নদী অকস্মাত জল ||
হুড়হুড় দুড়দুড় আল্য চারিপানে |
লাউসেন বলে পাছে ঘোড়া যায় বানে ||
পাছু হৈল ঐমনি দুর্লভ সদাগর |
বচনেক বলিল কালুর বরাবর ||
তিনদিন বই মরে জুয়ারের পানি |
সকল সম্পদ সুখ এইরূপ জানি ||
এত বলি লাউসেন করিল মোকাম |
লঙ্কার নিয়ড়ে যেন বৈসে রঘুরাম ||
সমুখে বান্ধিল ঘোড়া অন্ডির পাখর |
চরণে সেবন করে শতেক কিঙ্কর ||
তাম্বু ঘরে বসিল ময়নার অধিকারী |
দুরদুর শব্দ ডাকে অজয়ার বারি ||
বন কাটে বীর কালু গুয়া নারিকল |
চাঁপা তরু কমলে ভাসায় জায়ফল ||
সঘনে কাড়ায় কাঠি ঘন শিঙ্গা পড়ে |
সজল চমক যেন অজয়ার গড়ে ||
সুপক্ক কদলী কাটে খেজুর মন্দার |
তরঙ্গে তরণী কাঁপে খেলে অবতার ||
দব়্যা মাঝে দারুণ ভাসায়্যা দেই গাছ |
দুরদুর নড়ে খেলে অজয়ার মাছ ||
বাম হাতে তরণী দক্ষিণ হাত বুকে |
কালু বীর বলে রাজা লাউসেন সমুখে ||
দেখিল বিশাল মাছ অজয়ার জলে |
বঁড়শি পেলিব তথি নিরাতঙ্ক বলে ||
অনেক দিনের হৈল অবতার মনে |
ঈষত ইঙ্গিত পান দিল লাউসেনে ||
এত শুনি বীর কালু আনন্দ হৃদয় |
দুকুল আকুল বন্যা দেখে অতিশয় ||
কালু বলে শাখা সুখা শুন মন দিয়া |
অবিলম্বে মঞ্চ দিবে এখানে বান্ধিয়া ||
শাখা সুখা দুই বীর ডোমের ছাওাল |
টাঙ্গি দিয়া কাট্যা লেই চৌদ্দ গাছি তাল ||
আনিল সরল গুয়া তরল সুন্দর |
পাঁচ হাত উভ মঞ্চ বান্ধে পরিসর ||
দড় দড় দিল তথি বেতের বন্ধন |
মনে করে অবতার অবশ্য নিধন ||
বান্ধিল বাঁশের আগে পামরি পাছড়া |
ঢেকুর ভুবনে যেন পড়ে ঘন সাড়া ||
মচ্ছের উপর বীর মধু মঞ্চ ভাসে |
বল দেখি শাখা সুখা টোপ দিব কিসে ||
পিতার বচন সুখা নিল জোড়করে |
দুই মৎস্যে নিধন করিল এক শরে ||
ঈষত মৎস্যের টোপ করিল গাঁথন |
টোপ গাঁথ্যা পেলে কালু ডোমের নন্দন ||
বড় বড় মাছ তোলে কাতল চিতল |
হেন বেলা ঢেকুর করিছে টলবল ||
শ্যামরূপা দেবী ছিলা দেউলে বসিয়া |
ইছাইঘোষ মহাবীরে কহেন ডাকিয়া ||
শুন বাপু ইছা ঘোষ আমার বচন |
অজয় নদীর বন্যা বাড়ে কি কারণ ||
বড় অমঙ্গল মনে ইতি উতি করে |
রাবণের বিপত্ত পড়িল পারা তোরে ||
এত শুনি ইছা বীর সজল নয়ান |
মহাবীর লোহাটা ডাকিল বিদ্যমান ||
ইছাই বলেন শুন লোহাটা বজ্জর |
তোমার ভরসা মনে রাখি নিরন্তর ||
অকস্মাত আরতি অজয়া সিন্ধুতীর |
নিশ্চয় বলিতে নারি কোথাকার বীর ||
তবে যদিস্মাত লয় চরণে শরণ |
আনিবে আমার কাছে পীযুষ বচন ||
এত শুনি লোহাটা চলিল বীরদাপে |
মার মার বসিয়া টঙ্কার দেই চাপে ||
ব্যালিশ কোটাল সঙ্গে যমের সমান |
তরণী চড়িয়া দেখে অজয়ার বান ||
বাঘ মষি ভল্লুক ভাসিয়া যায় ঘর |
বাঘ বন্দী করে বীর নৌকার উপর ||
বিপর্যয় বন্যা দেখি চারিপানে চায় |
ডোমের নন্দন কালু দেখিবারে পায় ||
মঞ্চের উপরে বীর দেখে বিপরীত |
বলে মহাবীর কিবা মহী ইন্দ্রজিত ||
ডাক দিয়া লোহাটা বজ্জর কিছু কয় |
কোন বেটা মাছ ধরে মনে নাই ভয় ||
দেবতা অসুর যার ছুত্যে নারে জল |
কার বোলে মাছ মারে সত্য করি বল ||
কহিতে বলিতে বীর কুড়ায় বঁড়িশি |
দুইদিগে দোহাই পড়িল মিশামিশি ||
নাএ হৈতে লোহাটা দিলেক জয়ঢোল |
কাড়া শিঙ্গা নিশান উঠিল গন্ডগোল ||
ডাকাডাকি শবদে কাঁপিল দিগন্তর |
জিজ্ঞাসা করিছে বীর লোহাটা বজ্জর ||
এতক্ষণে জানিলু বিবাদে কার্য নাঞি |
দৈবগতি পরিণাম যে করে গোসাঞি ||
এত যদি জিজ্ঞাসিল ডোমের নন্দনে |
অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম ভণে ||

.      ******************      

.                                                 
নুমৃতা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
অনুমৃতা পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
অনুমৃতা পালা
পৃষ্ঠা -