| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| এক শর বিনে যদি দুই শর করি | পঞ্চ মহাপাতক সঞ্চয়রূপে ধরি || এত শুনি বীর কালু আগে দেখা দিল | নির্ভয় ডোমের বেটা বুক পাত্যা দিল || লাউসেনের দোহাই বেটার মাথা খাই | এই ঠাঁই হত্যে যদি অন্য ঠাঁই যাই || আগু হত্যে পাছু যদি নড়ি এক পা | বধূ নয় লখিয়া ডুমনী মোর মা || বুক পাত্যা দিল বীর ডোমের কোঙর | সমরে রুষিল তবে লোহাটা বজ্জর || মার মার বলিয়া ধনুকে জুড়ে শর | প্রজাপতি পবন কাঁপিল পুরন্দর || পাবক সমানশর অম্বরের পথে | লম্ফ দিয়া বীর কালু ধরে বামহাথে || জানিলু জানিলু বলে তোর যত বল | হের দেখ তোর শর গেল রসাতল || এত বলি বীর কালু চারিপানে চায় | পাখিমারা ধনুখানি-দেখিবারে পায় || মার মার শব্দ করি জুড়িল বাঁটুল | ঢেকুরের গড় কাঁপে অজয়া দুকুল || বাঁটুল ছাড়িয়া বীর ডাক্যা বলে মার | একুই বাঁটুলে তার ডিঙ্গা হৈল ফার || জল খায়্যা মরে তার ব্যালিশ কোটাল | অজয়া নদীর জলে ভাসে খাঁড়া ঢাল || লোঙাটা বজ্জর বীর পায়ে করে ভর | লাফ দিয়া উঠে বীর তটের উপর || মণিরাম শিঙ্গা বাজে কনক ঝাঁঝরি | বীর কালু লোহাটাকে দিল দুরদুরি || ধর ধর বলি বীর দিলেক দাবড় | পরাজই লোহাটা দশনে নিল খড় || প্রামরক্ষা কর কালু শুন মন দিয়া | ইছাঘোষ মহাবীরে দিব হে বান্ধিয়া || প্রতিকূল বচনে প্রত্যয় নাই মনে | লোহাটার মুন্ড বীর কাটিল তখনে || প্রথম সমরে হৈল লোহাটার ভঙ্গ | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের রঙ্গ || লোহাটা বজ্জর যদি হইল নিধন | আচম্বিতে চমত্কার ঢেকুর ভুবন || লোহাটার মুন্ড লয়্যা কালুর পয়ান | দরশন দিলেক লাউসেন বিদ্যমান || সভা আগে লোহাটার মুন্ড দিল ভেট | রাজার চরণে আসি মাথা করে হেঁট || জোড়হাথে বলিলেক যুদ্ধ সমাচার | জামাজোড়া বীর কালু পাইল পুরস্কার || বীর কালু বলে তুমি শুন মন দিয়া | গোউড় শহরে মুন্ড দেহ পাঠাইয়া || বিকশিত বিমল বাড়িল নাম যশ | মুন্ড দরশনে রাজা হইব হরষ || প্রতিকুল দেখিলে বদনে বাক্য নাই | এতদিনে লঘু বারভূঞার বড়াই || এত শুনি শিঙ্গাদারে বলিল বচন | মুন্ড লয়্যা চল তুমি গোউড় ভুবন || চাকর কুকুরে বলে একুই সমান | না বলিতে মুন্ড লয়্যা করিল পয়ান || পাঁচ দিন গোউড়ে ঢেকুরে গতায়াত | দুই দিনে পাইল গিয়া রাজার সাক্ষাত || ধাওাধাই পাইল গিয়া গোউড় দরবার | লোহাটার মুন্ড দিয়া করিল জোহার || লোহাটার মুন্ড দেখি রাজা সভাজন | অবতার লাউসেনে জানিল তখন || প্রশংসা করেন রাজা পরিতোষ মনে | জামাজোড়া বকশিস পাঠান লাউসেনে || মনে মনে মহাপাত্র সদা যুক্তি করি | কতদিনে রঞ্জাকে করিব আঁটকুড়ি || মায়ামুন্ড ময়নাকে পাঠাব এখনি | অনুমৃতা হয় যেন চারি পাটরাণী || পঞ্চমীর চান্দে পড়ে টসটস মউ | অনুমৃতা হয় যেন চারি ভাগিনবউ || তবে যদি এই কর্ম করিতে না পারি | পাত্র মহামদ নাম মিছে আমি ধরি || এ সব যুগতি পাত্র ভাবে মনে মন | জোড়হাথে রাজার চরণে নিবেদন || বিস্তর দিনের বীর লোহাটা বজ্জর | জরা হৈল জগতে জীবন অনুতর || সর্বকাল নাই থাকে পুরুষের বল | সময়ে পীযুষ হয় ভুজঙ্গ-গরল || জরা হয়্যাছিল বীর তেজিল জীবন | ভাল ভাল লাউসেন বল কি কারণ || তেমাথার গনে মুন্ড রাখিব পুতিয়া | বলিতে বলিতে মুন্ড নিল কুড়াইয়া || লোহাটার মুন্ড লয়্যা করিল গমন | কামিলার পাড়ায় দিলেক দরশন || বিষ্ণুপদতলে যবে ছয়দন্ড বেলা | ডাক দিয়া আনে পাত্র শতেক কামিলা || পাত্র বলে শুন রে কামিলা বিশ্বম্ভর | দুই কানে সোনা দিব দুহাথে তোড়র || লাউসেনের মায়ামুন্ড করিবে নির্মাণ | পাঠাইব ময়নাকে রঞ্জা বিদ্যমান || মায়ামুন্ড দেখিলে মরিব রঞ্জাবতী | অগ্নিকুন্ডে মরে যেন এ চারি রাউতি || এত শুনি কামিলা পতিল কারখানা | সকলি হিঙ্গুল জউ রূপা আর সোনা || নির্মাণ করিছে মুন্ড মুখে নাই রা | মনে ধ্যান করে দুই কালিকার পা || নৌতন বৈশাখ চাঁপা সাক্ষাত বরণ | লোহাটা বজ্জের মাথা করিছে গড়ন || খগেন্দ্র জিনিঞা নাসা অতি মনুহর | রাজদন্ড শোভা করে কপাল উপর || . ****************** . অনুমৃতা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
