| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| পাটে বসি কৌতকে খেলিব পাশা সারি | গৌড়েশ্বর রাজা ইথে কি করিতে পারি || মুখে মকরন্দ হাসি মধুর বচন | এত বলি কলিঙ্গা সুন্দরী সভাসন || লাউসেন বলে রাণী শুন মন দিয়া | তোমার সাক্ষাতে যাই বিদায় হইয়া || অনুবন্ধ মনঃকলা বিষম চাতুরী | স্বধর্মে থাকিলে দেবী সর্ব ঠাঞি তরি || রাজার নিমক খাই রাজার চাকর | রাজ আজ্ঞা হৈল যাত্যে অজয়া উপর || এত বলি বিদায় ময়নার তপোধন | হেঁটমুখে রহিল রাউতি চারিজন || দেব গুরু দ্বিজবরে মাগিল বিদায় | অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || লাউসেন করিল যাত্রা ঢেকুর ভূবন | ময়না শহরে কান্দে যত প্রজাগণ || অবনী লোটয়্যা কান্দে নাহি বান্ধে বুক | কেহ বলে আর না দেখিব চান্দমুখ || আট বর্ণ প্রজা সব আসর-নয়ান | জয়পতি মন্ডল কান্দে যেখানে দেয়ান || রাজা কর্ণসেন কান্দে নেহালিয়া পথ | শ্রীরাম পাঠায়্যা বনে যেন দশরথ || কৌশল্যা কান্দেন যেন বনে যায় রাম | রাণী রঞ্জাবতী কান্দে শূন্য দেখি ধাম || কলিঙ্গা কানড়া কান্দে পথে দান্ডাইয়া | লাউসেনের মুখ দেখে নয়ান ভরিয়া || অক্রুর লইয়া যেন যান চক্রপাণী | পথে দান্ডাইয়া যেন কান্দেন গোপিনী || ময়নার প্রজা কান্দে পথে দান্ডাইয়া | অযোধ্যার লোক যেন রাম পাঠাইয়া || লোটাইয়া কান্দে বালা কর্পূর দোসর | ভরথ রাখিয়া যেন রাম দেশান্তর || নিস্বরিল রাউত দুহাথে ঢাল খাঁড়া | সমুখে রাবণ শীঘ্র যোগাইল ঘোড়া || রামকালি জোড়াশিঙ্গা বলে ধর ধর | তেঘাই রগড় কাচে কাতার উপর || তিনবার অনাদ্য অনন্ত সঙরিল | লম্ফ দিয়া লাউসেন ঘোড়ায় চড়িল || ধন্য ধন্য মহাবীর ঘোড়ার রাউত | কার্তিক ঊরিল যেন ভবানীর সুত || এইরূপে চাবুক অশ্বের ডান পাশে | অন্ডির পাখর কোপে উড়িল আকাশে || অম্বরে ঊরিল অশ্ব দেখি বা না দেখি | বিষ্ণু লয়্যা যেমন ঊরিল গরুড়পাখি || পুনর্বার বাম হাথে সারিল চাবুক | আকাশ রাখিয়া নিল গোউড়ের মুখ || অশ্ব আগে ধায় কালুসিংহ বীরবল | পার হয়্যা গেল নদী কালিনীর জল || শাখা সুখা তের দলুই পাছু ধাওাধাই | পদুমার বিলে পড়ে টমক তেঘাই || দেখাদেখি পাছু করে গড় মান্দারণ | রাঙ্গামেট্যা রাখিয়া পাইল উচালন || মগলমারি আমিলা করিল পাছুয়ান | রাজঘাটে পার হয়্যা পাইল বর্ধমান || কর্জনা সরাইখানি দেখি দূরাদূর | কালুত্তক দিয়া পালা বাহাদুরপুর || ভৈরবী গঙ্গার জল নাএ পার হয়্যা | গউড় শহরে সেন উত্তরিল গিয়া || দলে বলে দড় গুরু রাজার দরবার | অবিলম্বে দেখা দিল লাউসেনকুমার || ঘোড়া লৈয়া শাখা সুখা রহিল দুয়ারে | লাউসেন দেখা দিল রাজার দরবারে || রাজাকে জোহার করে লোটায়্যা অবনী | মাতুল চরণ বন্দে জোড় কর পাণি || বারভূঞা সম্ভাষ করিল একে একে | একাসনে বৈসে সেন রাজার সমুখে || সভামধ্যে কয় কথা প্রফুল্ল বদনে | ভাগিনা দেখিয়া পাত্র ভাবে মনে মনে || এখনি পাঠায়্যা দিব ঢেকুরের গড় | কলিঙ্গা বিধবা হব কুমারী কানড় || ভাগিনার বড়াই দেখিতে আর নারি | এবার গরব চুর অজয়ার বারি || ইছাইর সমুখে ব্রহ্মার বাক্য নাঞি | এতদিনে হৈল ভাগিনা বড়াঞি || জীয়ন্ত থাকিতে কর্ণসেন রাজা মৈল | মনের বাসনা পূর্ণ এতদিনে হৈল || ঢেকুর পাঠায়্যা দিব দারুণ সঙ্কটে | পুত্র বলি বন্য যেন কান্দে নাছে বাটে || এত যদি অন্তরে করিল অনুমান | নিবেদন করিল রাজার বিদ্যমান || শুন রাজা মহাশয় আমার বচন | লাউসেন বিদায় কর ঢেকুর ভুবন || লক্ষ তঙ্কা বিলাত তোমার মনে নাই | পরোক্ষ শুনিতে নারি ইছার বড়াই || পাত্রের বচন শুনি রাজা সাবধান | ঢেকুর জিনিতে দিল লাউসেনে পান || পঞ্চাশ মোহর দিল পানের মিশালে | জোড়হাতে লাউসেন রাজারে কিছু বলে || তিনবার আপনি সাজিলে মহাশয় | অজয়া ঢেকুর তবু নাহি হৈল জয় || বলবন্ত ইছাই দেবীর পায়্যা বর | কেমনে সাজিব একা অজয়া উপর || বারভূঞা ভঙ্গ দিল লোহাটার রণে | দুরন্ত মহিম আমি যাইব কেমনে || এত শুনি মহাপাত্র জ্বলন্ত আগুন | ভাগিনা ভঞ্জিয়া বলে বাক্য নিদারুণ || পথে ঘাটে ভূতুলে লম্পট যেন বুলে | সেইরূপ ভাগিনা দেখিলে মন ভুলে || মাহিনা বসিয়া খাও সরস বদনে | রাজার মহিম হৈলে সাত পাঁচ মনে || লক্ষ টাকা যেজন বসিয়া খায় ঘরে | সেজন মহিম হেতু হেঁটমাথা করে || . ****************** . অনুমৃতা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
