| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| তুমি আমার বয়সে বিস্তর মহাগুরু | কি বলিব তোমারে সাক্ষাত কল্পতরু || সম্প্রতি দুজনে আস্য করিব পিরিত | পরিণামে হবে তুমি সংসারে পূজিত || রাজটীকা আপনি কপালে পরাইব | কাগজ বুঝিয়া ঢেকুরের কর নিব || তোমা দিব মাথার পাগড়ি সরবন্ধ | সুজনের মুখে বাণী সুধা মকরন্দ || নিরঞ্জনের মায়া কহনে নাঞি যায় | ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || এত শুনি ইছা ঘোষ বলে বিপরীত | মরণের ডরে পারা করহ পিরিত || তোমার রুধিরে আমি নিব রাজটীকা | সাক্ষাত হইয়া কালি বলিল চন্ডিকা || ত্রিভুবনে তোর পারা না দেখি বর্বর | কোন বেটা নিতে পারে ঢেকুরের কর || গৌড়েশ্বর নব লক্ষে রণে ভঙ্গ দিল | ভবানীকে পূজা দিতে মোর মনে ছিল || মহাপাত্র সমরে পালাল্য হাতে হাতে | ইন্দ্র নাঞি কথা কয় আমার সাক্ষাতে || আজ্ঞাকারী বসন্ত বাতাস বারমাস | ব্রহ্মার গলায় বেটা দিতে পারি ফাঁস || কহিতে বলিতে তবে ইছা ঘোষ কোপে | অম্বরে ধনুক পেলি তিন বার লোফে || হান হান শবদে ঝঞ্ঝনা যেন পড়ে | বিপাক অনর্থ হৈল ঢেকুরের গড়ে || দুই বীর রুষিল সাক্ষাত হুতাসন | ধনুক ধরিয়া করে টঙ্কার সঘন || মার মার শব্দে দুই বীর শর বিন্ধে | তাম্রলিত লোচনে হেরিল কালনিন্দে || শরাসন সমুখে সঘনে শর জুড়ে | টঙ্কার শবদ শুনি মুনি তপ এড়ে || তীরে তীরে অবনী আকাশ অন্ধকার | দুজনার অঙ্গে উঠে রুধিরের ধার || কবচ ভেদিয়া শর ঘন পড়ে গায় | শিঞ্জিনীর শবদ অনেক দূর যায় || ইন্দ্রের উপরে পড়ে ইছাইর তীর | তরাসে দেবতা হৈল গড়ের বাহির || লাউসেনের পাটনে পর্বত পরাজয় | গোয়ালা গণিল মনে জীবন সংশয় || উল্কাপাত পারা রণে নিকলে পাটন | ঈশানে জলদ যেন বরিষে শ্রাবণ || সমান বরিষে শর দুই ধনুর্ধর | বিষম সন্ধানে অঙ্গ হৈল জরজর || অকাল আগুনি শরে পড়ে ঝনঝনা | অবতার কবচে বিষম ঠনঠনা || শরাসন রাখিয়া ধরিল খান্ডা ঢাল | অমর অসুর কাঁপে অষ্ট দিগপাল || দুই বীরে বিস্তর বাজিল গালাগালি | নলের সমান বটে দুই বীর ঢালী || মেলাপাড়া জুড়িল সমরে শঙ্কা নাঞি | ঐমনি উতারে অসি সঙরে গোসাঞি || হানাহানি আকুলি বিষম পরিণাম | সদাই বদনে শুনি জয় জয় রাম || বিক্রম বিশাল যেন শার্দূল কেশরী | উড়া পাক ঘন দেই চাকের ভাঙুরি || তাড়াতাড়ি ঢালের উপরে চোট হানে | অসিমুখে আগুনি নিকলে চারিপানে || রণমদে মাতিল সমরে নাঞি ব্যথা | ইছাই হানিতে চায় লাউসেনের মাথা || ফলা ধরি লাউসেন সারিল ফলঙ্গ | কেশরী ঝঙ্কার যেন সমুখে মাতঙ্গ || লম্ফ দিয়া লাউসেন ইছাএ মারে চোট | পড়িল ইছাই-মুন্ড ভূমে যায় লোট || গড়াগড়ি যায় মুন্ড দৈবের বিপাকে | কাটা মুন্ড বাসুলি রঙ্কিণী বলি ডাকে || শ্যামরূপা রক্ষা কর বলে ঘনে ঘন | রণ জিন্যা বসিল ময়নার তপোধন || নিরঞ্জনের মায়া কহনে নাঞি যায় | ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || জয়দূর্গা বলি মুন্ড ডাকে উচ্চস্বরে | ঈশ্বরী শুনিল বস্যা দেউল ভিতরে || দেউল হইতে দেবী রণে দরশণ | গোয়ালার মুন্ড হাথে ধরিল তখন || কাটা মুন্ড হাথে কব়্যা কান্দেন ভবানী | নয়নযুগলে ধারা স্বর্গ মন্দাকিনী || কন্ধের উপর মুন্ড রাখিলা যতন | জীবন্যাস দিতে তথি বসিল জীবন || পুনর্বার প্রাণ যদি পাইল ইছাই | বর মাগ ইছাই বলেন মহামাই || যে বর মাগিবে ইছা সেই বর দিব | মনের বাসনা তোর সফল করিব || বর মাগ বর মাগ বলেন বাসুলি | স্তব করে ইছাই সমুখে কৃতাঞ্জলি || জয়মুনি জগতজয়া যশোদানন্দিনী | কংসের নিধন হেতু কৃষ্ণের ভগিনী || দুঃখবিনাশিনী দেবী মাগি এই বর | কাটা মুন্ড লাগে যেন কন্ধের উপর || ভবানী বলেন বাপু এই বর দিল | এত বলি শ্যামরূপা কান্দিতে লাগিল || কান্দিতে কান্দিতে দেবী বলে ধীরে ধীরে | রাবণের বিপত্ত পড়িয়া গেল তোরে || কোন ছার বর নিলে অভয় চরণে | নহে সতন্তর হৈতে সহস্রলোচনে || কান্দেন করুণামই ভক্ত করি কোলে | তথাপি করিব রক্ষা এই রণস্থলে || দশ ইন্দ্রজিত একা হইল ইছাই | দেবাসুর তরাসে পালায় ধাত্তাধাই || . ****************** . ইছাইবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
