| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| গড়াগড়ি যায় মুন্ড হনুমান ধরে | বৈকুন্ঠের পথে বীর পায় ভর করে | বামদিগে কৈলাস সমুখে সুরধুনী || ধয়্যাছে বৈকুন্ঠপানে প্রসন্ন সরণি || দুহাতে ধব়্যাছে মুন্ড অনেক যতনে | বৈকুন্ঠে রাখিল মুন্ড কৃষ্ণের চরণে || মুক্ত হৈল ইছাই জগতে জয় জয় | সমরে গোয়ালা বীর পড়িল নিশ্চয় || রণ জিন্যা বসিল দুর্লভ সদাগর | জোড়াশিঙ্গাসারে কালু বলে ধরধর || ঢেকুর হইল জয় বলে সর্বজন | পুনরপি ঢেকুর ভবানী দরশন || কান্দেন করুণামই ভক্ত করি কোলে | পুত্র মৈলে জননী ব্যাকুল যেন বুলে || নাএক পাইয়া ধর্ম করিবে কল্যাণ | অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গান || আপনার মাথা খায়্যা নারদে তাড়িল | ইছা যেন বরপুত্র রণে হারাইল || আশি মহিষ কাটিতে শতেক ছাগল | রুধিরে অবনী যেন সাক্ষাত কমল || ইছাইর মুন্ড যদি এইবার পাই | ব্রহ্মার উপরে রাজা করিব ইছাই || কাটা কন্ধ শ্যামরূপা কোলেতে করিয়া | আপন দেউল মাঝে রাখে লুকাইয়া || কাটা মুন্ড খুঁজে ঢেকুরের সাত গড় | লোটায় কুন্তল ভার অঙ্গের কাপড় || নয়ান যুগল হৈল আষাঢ় শ্রাবণ | খুঁজিল অজয়া নদী দুকুল কানন || কাশী কাঞ্চি খুঁজিল গোকুল হরিদ্বার | লঙ্কায় খুঁজিল মুন্ড সমুদ্রের পার || সপ্ত সিন্ধু নেহারিল অবতার হৈয়া | চালিল সৈন্ধব বালি চালনি লইয়া || তথাপি না পাল্য মুন্ড গনেশজননী | হস্তিনা বিরাট বুলে পশ্চিম ধরণী || কোথা গেলে ইছা বাপু চক্ষে নাহি দেখি | আছাড় খাইয়া পড়ে তুলে পদ্মা সখী || আর কোন দেশে ইছাইর মুন্ড পাব | গয়া গঙ্গা খুঁজিলাঙ আর কোথা যাব || মোহ নাহি আমার কার্তিক গজাননে | বরপুত্র ইছাই সদাই পড়ে মনে || ধর্মের মায়া মো কহনে নাঞি যায় | রূপরাম ফকির আসরে গীত গায় || ইছাইর শোকে দেবী হইয়া ব্যাকুল | জবার সামান হৈল লোচন রাতুল || বলিতে না পারে কেহ প্রবোধ বচন | পদ্মাবতী হেনকালে করে নিবেদন || কিমর্থে তোমার মনে ইছাইর শোক | তোমার সেবক সেই পাল্য স্বর্গলোক || আপনি বুঝিতে নার আপনার মায়া | সবংশে রাবণ মৈল দূর হৈল দয়া || পদ্মার বচন শুনি পাইল ঢেকুর | বিমলিন কুন্তল বসন কর্ণপুর || ভবানী বলেন পদ্মা শুন মোর বাণী | ইছাইর অগ্নিকার্য করিব আপনি || এত বলি দরশন পূরট দেউলে | কাটা কন্ধ অভয়া আপনি নিল কোলে || অজয় নদীর কুল পাল্য মহামায়া | ভাগ্যবতী অজয়া পাইল পদছায়া || নির্মাণ করিল চিতা আগোর চন্দনে | চাঁপা নাগেশ্বর কেয়া মল্লিকা রঙ্গনে || চন্দনের গড়্যা দিল চন্দনের কাঠ | কস্তুরী কুসুমমাল আর বস্ত্রপাট || বেদপাঠে ইছাইরে করাইল স্নান | গঙ্গাজল তুলসী কিংসুক অভিধান || চিতামধ্যে ইছাইরে রাখিল আপনি | আজ্যর সহিত করে বেদমন্ত্রধ্বনি || মহাবাক্য উচ্চারিল হেমন্তের সুতা | যদুকুল-জননী আপনি বহ্নিদাতা || নাড়িয়া ঝাড়িয়া দেবী পোড়াল্য ইছাই | সাগরে পেলিতে অস্থি রাখিল তথাই || তের পিন্ড দিল তার সুসিত তর্পণ | মনে হয় গয়াতে করিব সপিন্ডন || পুনরপি স্নান করে অজয়ার জলে | কান্দিয়া দিলেন দেখা অজয়া দেউলে || ইছাই ঘোষের ঘর দেখি নারায়ণী | আছাড় খাইয়া মহী পড়িল ঐমনি || কপাট কাঞ্চন ঢাল ইছাইর ঘর | ছায়নি মউর পাখা হাঁড়িয়া চামর || ইছাই বিহনে শূন্য হৈল এই দেশ | কেন পুত্র নাঞি মৈল কার্তিক গনেশ || কান্দিতে কান্দিতে দেবী চারিপানে চান | লাউসেন সর্ব্বজয়া দেখিবারে পান || নয়নে দেখিল যদি ময়নার রাজা | লাউসেন হানিতে দেবী হৈল দশভূজা || মোর বাক্য ব্যর্থ হৈল না যায় প্রত্যয় | এবার এহার রক্ত খাইব নিশ্চয় || এত বলি লাউসেনে হানিবারে যান | পাতাল ভুবন কাঁপে সূর্য মঘবান || এত বলি বাসুলি ধরিল খান্ডা ঢাল | অবিলম্বে হানিতে ময়নার মহীপাল || হান হান হাঁকুনি ঝাঁকুনি অসিবর | আগু হৈল লাউসেন জুড়ি দুই কর || যেই খড়্গ রাজা আখড়া মন্দিরে | সেই অসি দিলেন ঈশ্বরী বরাবরে || খড়্গ দিয়া বলিল ময়নার নৃপমণি | পূর্বকালে এই অস্ত্র দিয়াছ আপনি || এই অস্ত্রে হানিয়া আমার রক্ত খাও | দেবতা সমাজে যেন মনে প্রীত পাও || এই অস্ত্র আখড়া মন্দিরে তুমি দিলে | পরিণামে হাথে হাথে কানড়া সঁপিলে || এত শুনি আনন্দে কহিলা হৈমবতী | আমার জামাতা তুমি কানড়ার পতি || ময়নার লাউসেন জানিল মরমে | মাথায় বসন দিল জামাতা ভরমে || কানড়া আমার কন্যা তোরে দিল দান | ময়না বারতা বল তাহার কল্যাণ || সত্যবতী কানড়া সাক্ষাত ঊষাবলি | সমরে সাজন্ত দিল কাঞ্চনের থালি || . ****************** . ইছাইবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
