| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কর্ণসেন কান্দে আর রাণী রঞ্জাবতী | লাউসেন বিদায় হৈল করিয়া প্রণতি || উদয় দিতে চলিল দুর্লভ সদাগর | সঙ্গে নিল সামুল্যা বাইতি হরিহর || রাজার দরবারে গিয়া দিল দরশন | জোহার করিল গিয়া রাজার চরণ || আস্য আস্য ভূপতি বলিল তিনবার | মারণে মলিন মুখ চক্ষে জলধার || লাউসেন বলে রাজা অস্তগিরি যাই | জনক জননী বন্দী আর ছেট ভাই || জাতি কুল জনক জননী ধন জন | তোমার চরণে রায় কৈলু সমর্পণ || পশ্চিমউদয় দিতে যাই বিদায় হইয়া | হেনকালে মহাপাত্র বলে ডাক দিয়া || উদয় পশ্চিমদিগে দিবে কোন দিনে | অকালে যোগের বাক্য জানিব কেমনে || লিখ্যা পড়্যা রাজার দরবারে দেহ খত | পরিণামে দেখ তবে হাকন্ডের পথ || মাতুলের বাক্য শুনি সহজে মলিন | পশ্চিমউদয় কবে লিখ্যা দিল দিন || বৈশাখের তের দিনে অমাবস্যা তিথি | অস্তগিরি পশ্চিম উদয় সেই রাতি || সাক্ষী হৈল যতেক রাজার সভাজন | লাউসেন বিদায় হয়্যা করিল গমন || ধর্মের চরণযুগে করিয়া ভকতি | দ্বিজ রূপরাম গান শুনিলে মুকতি || ময়না শহরে সেন দিল দরশন | কালুবীরে ডাক দিয়া আনিল তখন || বচন বলিতে আইল ময়মার প্রজা | মলিন বসন দেখে লাউসেন রাজা || লাউসেন বলে শুন কালুসিংহ ভাই | তোমারে সঁপিয়া দেশ উদয় দিতে যাই || জাতি কুল সম্পদ সঁপিনু তোর করে | এত বলি লাউসেন চলিয়া গেল ঘরে || ডাক দিয়া আনিল সামুলা নামে মাসী | বলিতে লাগিল কিছু ধর্মের তপস্বী || কেমনে উদয় দিব নাহি জানি বিধি | বিপত্ত সাগরে পার তুমি কর যদি || কারাগারে বন্ধনে রহিল বাপ মা | এত বলি কান্দিয়া মাসীর ধরে পা | সামুল্যা বলেন বাপু মনঃকথা নাঞি || সাত দিনে মানাইব শ্রীধর্ম গোসাঞি | আদ্যের আমিনি আমি তোমার নিয়ড়ে || সাত জনমের কথা মোর মনে পড়ে | অপূর্ব মুনির বর আমি জাতিস্মরা || প্রণাম করিতে পারি বরিষার ধারা | আট দিনে হাকন্ডে পশ্চিম উদয় দিব || পূজা উপদেশ সব সেখানে বলিব | চল চল হাকন্ড বিলম্ব অকারণ || অখনি সাজন কর ধর্মের গাজন || মাসীর বচন শুনি আনন্দ অন্তর | বারটি ভকিতা তথা আইল সত্বর || শনিবারে গাজন করিল আরম্ভন | সামুল্যা সন্ন্যাসী দ্বিজে করিল বরণ || পবিত্র হইয়া বৈসে কুল পুরোহিত | আয়োজন আনে রাজা বেদের বিহিত || গাভী মনুরথ সঙ্গে আর ইছারাণা | শঙ্খধ্বনি জয়ধ্বনি দক্ষিণ ময়না || শারী শুয়া সঙ্গে যার বচন মধুর | আপনি ধরিল পাট ময়নার ঠাকুর || রাজ্যের সহিত রাজা ধরিল নিয়ম | যাদব উদয় নহে পশ্চিম গগন || তারদ প্রভুর নামে দিব পুষ্পজল | কলিযুগে জানিব ধর্মের বলাবল || ধর্মের নিয়মে থাকে চারি পাটরাণী | অভেদ পুরুষ জায়া সব ঠাঞি জানি || কলিঙ্গা বলিল নাথ গোড়াইয়া যাব | পশ্চিম উদয় গিয়া হাকন্ড দেখিব || ধর্মরাজ মানাইঞা দিব দশদিনে | কেমনে উদয় দিবে আমার বিহনে || রাজা বলে পাটরাণী বাক্যে দিবে মন | তুমি গেলে পশ্চিমউদয় নহে কদাচন || পরম সুন্দরা তুমি সাক্ষাত উর্বশী | দরশনে দিবসে মলিন হবে শশী || রঘুনাথ দুঃখ পাইল সীতার কারণ | তোমার সাক্ষাতে কি বলিব রামায়ণ || তুমি ঘরে ঠাকুরাণী রাণীর প্রধান | প্রজার পালন কর পুত্রের সমান || দাসী জানি কানড়ারে সদা রাখ কাছে | কহিনু মনের কথা তোর যেবা আছে || প্রতি মাসে মাসে লবে মায়ের তপাস | দেশে যেন উদাসীন না পড়ে উপাস || ধন কড়ি সদনে হইও সাবধান | বার মাস হয় যেন ভারথ পুরাণ || কানড়া সুন্দরী থাক বান্ধিয়া হেত্যার | যম যেন এদেশে না করে অধিকার || মনে কিছু না করিহ রাণী চারিজন | অবশ্য উদয় দিব দেব নিরঞ্জন || বচন বলিতে রাণী হইল বিদায় | তরীবরে সাজ্যা সেন উদয় দিতে যায় || নৌকার উপরে লঞা করে দ্রব্যজাত | হাকন্ড গমন হেতু সাজিল সংজাত || কালিনী গঙ্গার ঘাটে দিল দরশন | তরীবর সাজিল নাবিক শতজন || হাকন্ড গমন হেতু নাএ দিল ভরা | আতব তন্ডুল ধূপ ধুনা হাঁড়ি সরা || চামর চন্দন নেত রজত কাঞ্চন | ধর্মপূজা হেতু রায় সাজে নানা ধন || সকল সংসার কান্দে লোটায়্যা অবনী | বীর কালু কান্দে আর লখিয়া ডুমনী || লখ্যারে ইনাম দিল পদুমপুব়্যা শাড়ি | কালুর মাথায় রাজা বান্ধিল পাগড়ি || লাউসেন বলে শুন কালুসিংহ দড় | তোমারে সঁপিনু সাত ময়নার গড় || নিশিতে কোটাল হবে দিনে হবে রাজা | পুত্রের সমান ভাই পালিবেক প্রজা || বিপত্ত সাগরে কালু তুমি হৈলে না | আজি হৈতে বীর কালু তুমি বাপ মা || . ****************** . অঘোরবাদল পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
