| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| আশদের গাছে বেল জাম গাছে তাল | দেশের যেমন আভা আছে সর্বকাল || চাঁপা গাছে ওড় ফুল সূর্যের উদয় | সামুল্যা মাসীকে তবে লাউসেন কয় || কেমন দেশের কথা কহ আগো মাসী | কতদিনে হব গিয়া হাকন্ড নিবাসী || দেখিয়া দেশের আভা প্রাণ উড়্যা যায় | মা বাপ রহিল বন্দী না দেখি উপায় || এত শুনি সামুল্যা আমিনি কিছু বলে | স্নান পূজা কর গিয়া হাকন্ডের জলে || হাকন্ড নিকট বটে আমি ভাল জানি | সেইখানে দেখিবে ঠাকুর চক্রপাণি || তুমি মোর জীবনমরাল বাপধন | একমনে দড়াইবে ধর্ম নিরঞ্জন || সাহস করিলে হয় সর্বঠাঞি জয় | অবশ্য হইব বাছা পশ্চিম উদয় || শালে ভর দিল বনি তোমার কারণ | দুই পর নৌকা বাহ পশ্চিমের গন || ডাহিনে অকুল নদী সেতুবন্ধ জল | নৌকা ঠাট লঞা বাপু যায় রসাতল || শার্দূল কুরঙ্গ জয় খায় এক ঘাটে | ডাক শুনি বিষম তামার হাঁড়ি ফাটে || নকুল ভুজঙ্গ বস্যা একুঠাঞি আছে | লাউসেন শুধাইল সামুল্যার কাছে || সামুল্যা বলেন বাছা মনঃকথা নাঞি | সমুখে হাকন্ড বটে যে করে গোসাঞি || সমুখে গম্ভীর নাদে বহিছে ত্রিধারা | দরিয়ার মধ্যে দেখ ধর্মের দেহারা || মুনি সব তপস্যা করয়ে অতি দড় | মকর কুম্ভীর ফিরে তমু নাঞি ডর || পশ্চিম দেশের ভাষা শুনি বিপরীত | কর্মনাশা বামভাগে বহিল তুরিত || পীরের দরগা দেখে মক্কার নিশান | বামদিগে হজরত রাখে বিদ্যমান || আশে পাশে বান্ধা পথ রায়টি পাথরে | তিমির সমান সব দেখ্যা যায় দূরে || ধর্মদহ পার হৈতে বিলম্ব না সয় | হাকন্ডের তীরে তরী চলিল নিশ্চয় || তরণীর পাশে পাশে ভাসে তিমিঙ্গিল | অনেক দিবসে হৈল হাকন্ড দাখিল || অস্তগিরি হাকন্ড হইল দরশন | দেখিল নদীর জল লোহিত বরণ || ধর্মজয় বলি উঠে ভকিতা সকল | হাকন্ড ভুবন পাইল তরণী চপল || সামুল্যা বলেন বাপু শুন মন দিয়া | হাকন্ড ভুবন সভে উত্তরিল সিয়া || পূরবে হাকন্ড ছিল বৈকুন্ঠ ভুবন | এখন হয়্যাছে শুধু বাঁজি বেনাবন || লাউসেন বলে শুন ইছারাণা ভাই | বন কাট্যা দূর কর আপদ বালাই || এত শুনি ইছারাণা নিল ফুলপান | ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গান || . ****************** || অঘোরবাদল পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
