| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| অভয়া বলেন আগে শুন জাম্বুবতী | গায়ের গরবে পারা নাঞী দেখ . ক্ষিতি || নিরবধি তপ আমি করি এই ঘাটে | দুকুল গঙ্গার ঘাট তোরে নাঞী আঁটে || পথ নাঞী দেখ নটী গায়ের গৌরবে | দোচারিণী নটীর নাপান কলরবে || এই পথ রাখি নটী অন্য পথে চল | জাম্বুবতী নটী শুনি হাসে খলখল || আপন গৌরবে পথ ছাড়ি দেহ বুড়ি | বুড়া হৈলে বলবুদ্ধি সব হয় ভেড়ি || [ চক্ষে নাই দেখ বুড়ি নাই শুন কানে | বুড়ির বড়াই বড় দেখি এই খানে || গলিতলোচন দুই মুখে নাই বাত | চলে যেতে বল নাই খোলা পারা আঁত | ] বুড়িকে দেখিয়া তবে জাম্বুবতী হাসে ঝাঁপ দিয়া জলে পড়ে পদ্মফুল ভাসে || চরণের জল লাগে অভয়ার গায় | দেবী বলে অভিশাপ এহার উপায় | অভিশাপ দিল তোরে চল বসুমতী | বুড়া দেখি হাসিলে পাইবে বুড়াপতি || মা বাপের ঘরে জন্ম পাবে বড় সুখ | সাতজন্ম মরিলে দেখিবে পুত্রমুখ || অভিশাপ দিয়া দেবী গেলা অন্তরিক্ষে | বুড়ি ছিল এই খানে আর নাঞী দেখে || ঘাটে বসি কান্দে নটী নাহি বান্ধে চুল | লাভের কারণে আইলাম হারাইলাম . মূল || হায় হায় করি রামা কান্দে উভুরায় | এই অপরাধে দিএ রামা কান্দে রাজ-গনে | প্রবোধ-বচন বলে দুই এক জনে || কেবা দিল অভিশাপ কোথা গেল . বুড়ি | নেচে গায়্যা উপায় করিব গে চল . কড়ি || [ অবিশাপ সোনার বরণ হৈল কালি | কালকূট গরাসিল সময়ের বেলি || ] নিজ ঘরে চল সভে অভরণ পরি | ঘরে বসি নাসবেশ করিছে সুন্দরী || দর্পণ উজ্জ্বল করে সিন্দুরে মাজিয়া | বত্রিশ দশন দেখে হাসিয়া হাসিয়া || [ বদন দেখিএ মনে কতখান করে | কামরিপু মদন মোহিত এক শরে || ] নটীর নাপান কথা সব কথায় হাসি | সমুখে বেশের পেড়া এনে দিল দাসী || সোনার গিলিপে ছিল অপূর্ব্ব চিরুণী | কেশের মার্জ্জনা বেশ করিল আপনি || মল্লিকার মালা দিএ বান্ধিল লোটন | বাদলে ময়ূর যেন ধরিল পেখম || ছকুড়ি চাঁপার ফুল মালতীর মালা | মেঘের উপরে যেন চাঁদ করে আলা || নায়ক পাইএ ধর্ম্ম চিন্তিবে কল্যাণ | ধর্ম্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গান || স্থাপনা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
