রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
আপনার ছোট শালী তোরে বিভা দিল |
বিধাতার মনের যত সফল করিল ||
পলাইয়া চল ভাই দক্ষিণ ময়না |
তোর বিভা দিনু আমি করিয়া মন্ত্রণা ||
পাত্র আইলে অনেক পাইবে অপমান |
পলাইয়া চল ভাই লইয়া পরাণ ||
দক্ষিণ ময়না মোর আছয়ে বসতি |
কর দিয়া সর্ব্বকাল করহ রাজতি ||
রাজা বলে কর্ণসেন তুমি বড় ভাই |
নিরবধি সাধ করি তোর মুখ চাই ||
লুকাইয়া বিভা দিনু পাত্র নাই জানে |
একথা শুনিলে তোর বধিবে পরাণে ||
বিধাতার ঘটন খন্ডিতে নাই পারি |
বচন বলিতে খসে নয়নের বারি ||
এত শুনি কর্ণসেন বলে জোড় কর |
চিরদিন মনে জানি তোমার নফর ||
বড় সাধ আছিল থাকিব রাঙ্গা পায় |
বিধির নিবন্ধ তাহা খন্ডন না যায় ||
নফর বলিএ রেখ আপনার মনে |
কান্দে কর্ণসেন রায় অঝোরনয়নে ||
দুই জনে কোলাকুলি মধুর বচন |
কর্ণসেন বলে ভাই ছয় মাসের গন ||
রাজা বলে যাহার যাহাকে থাকে মনে |
নয়নের আড়ে দেখে ছয় মাসের গনে ||
সূর্য্যের কিরণ লক্ষ যোজন অন্তর |
উদয় হইতে পদ্ম ফুটে মনোহর ||
দুপক্ষ যোজন চন্দ্র সর্ব্ব লোকে কয় |
জলে বসে কুমুদ হাসিএ কথা কয় ||
কেমনে কুমুদ ফুটে যদি দেখা হয় |
বিদায় হইলা সেন রাজার সভায় ||
বিদায় হইলা রায় শ্বশুর চরণে |
নিজ পরিবার নিল অনেক যতনে ||
কল্যাণী মাণিকী সাঙ্গ ধায় নরপতি |
পালাইয়া যায় রায় ময়না বসতি ||
বলদ-শকটে ধন নিলেক তুলিয়া |
রাজার বচনে যায় রায় পালাইয়া ||
পাছুআন করে রায় গৌড় সহর |
বড় গঙ্গা পার হৈল রমতি নগর ||
শীতলপুর বালীঘাট পশ্চাৎ করিয়া |
তারাদিঘী গোলাঘাট দক্ষিণ রাখিয়া ||
ময়না নগরে গিয়া দিল দরশন |
জয়পতি মন্ডল আর যত প্রজাগণ ||
রায় কর্ণসেনে আসি করিল সম্ভাষ |
পান ফুল দিয়া রাজা করিল আশ্বাস ||
প্রমাণ অর্দ্ধেক ক্রোশ রাজার বসত |
পরিসর বাজার আঠার গন্ডা পথ ||
তিন-সন্ধ্যা বাজারে বিকায় নানাধন |
সের সের বেচে গুয়া চামর চন্দন ||
সুখে ঘর করে লোক লয়্যা পরিবার |
নানা ধনে বিভূষিত রাজার বাজার ||
নগরে পড়িল সাড়া আল্য মহারাজ |
বাড়ী ঘর মন্দির সকল করে সাজ ||
কৌতুকে রহিল রায় লয়্যা পরিজন |
লেখে পড়ে জয়পতি মন্ডল বিচক্ষণ ||
রায় কর্ণসেন রহে ময়নার গড় |
কাঙুর মহিমে তথা গৌড়ের নাবড় ||
মোকাম অনেক দিন গন্ডকীর ধারে |
আট মাসে তার জল পার হৈতে নারে ||
দিবসে দিবসে জল বাড়ে আট তাল |
পাত্র বলে বিদেশে বঞ্চিব কতকাল ||
মহিম না হল ফতে কাঙুরের হানা |
নুকায়্যা দিলাম আমি গন্ডকীতে থানা ||
তম্বু-ঘর নষ্ট করে ভাঙ্গিয়া কানাত |
সিফাই খনক যত নিল দ্রব্য জাত ||
নস্কর ফিরিল পুন গৌড় সহর |
পরাজয় মনে করে গৌড়ের পাতর ||
নিরঞ্জনের মায়া কহনে নাঞি যায়  |
অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় ||

গৌড় সহরে পাত্র দিল দরশন |
সন্ধ্যাকালে ভূপতি করিল সম্ভাষণ ||
পাত্র বলে শুন রায় বচন আমার |
গন্ডকী নদীর জল কেবা হয় পার ||
পার হৈতে নারিনু মাগিনু পরাজয় |
এত বলি বিদায় হৈলা নিজালয়  ||
আপনার ঘরে গিয়া দিল দরশন |
শোভা করে পাটশালে কম্বল আসন ||
পাটশালে বসিতে অনেক পাল্য ভেট |
নামজাদা সিফাই চরণে মাথা হেট ||
দন্ড কত বিলম্ব করিল পাটশালে |
জননীর কাছে গেল ভিতর মহলে ||

.   


                                           
রঞ্জার বিবাহ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                 
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
||  রঞ্জার বিবাহ পালা  ||
পৃষ্ঠা                 
রঞ্জার বিবাহ পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকুর পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা