| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| নূতন কমলে ফোটে প্রিয়ে পাঁচ রস | হাস-পরিহাস বৈস্যা গেল দিন দশ || মনে অনুতাপ করে বংশ উতপতি | কল্যাণী মানিকী [ তবে ] করেন যুকতি || কতদিনে লয় হব নাম আঁটকুড়ি | ভাগ্যের এমন কথা এই তাপে পুড়ি || খাত্যে শুত্যে শয়নে স্বপনে এই কথা | বংশ বিনে কিবা ধন রাজদন্ড ছাতা || দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তী-নন্দন | বদন ভরিয়া হরি বল সর্ব্বজন || নিরন্তর কান্দে রাণী চক্ষে বহে লো | আর কত দিন মোর কোলে হবে পো || অন্তর হতাশ বড় মনে দুঃখ-জ্বর | চক্ষে জলধার বহে সদা নিরন্তর || পথে ঘাটে জিজ্ঞাসা করেন অভিরথ | কেমনে হইব বংশ কহে দেখ পথ || তুষের আগুনে হিয়া পোড়ে অভিমানে | বেনা গাছ দেখিলে ছাগল মষি মানে || বার মাসে রঞ্জাবতী তের ব্রত করে | মিথুন মকর তুলা পূজে মনোহরে || সমাধান মকর মাসেতে ইথুরাল | রবিবারে নিরামিস্য আতপের চাল || আশ্বিনে অম্বিকা পূজা [ বড় ধূমধাম ] | নহাপূজা বলিদান শেষে জলপান || কার বোলে করে রঞ্জা ধর্ম্ম-একাদশী | পুত্র বলি নিয়মে থাকেন উপবাসী || ষষ্ঠীকে ছাগল মানে দাত্তান জুড়িয়া | পুত্র হৈলে ছাগ দিব দাত্তানে বান্ধিয়া || মানিকী পিঠার ভার কান্ধে বয়ে দিব | পুত্রের একুশে গেলে আনন্দে পূজিব || এমন যুকতি করে চারি পাঁচ জন | গায়ে খোঁজে [ কেহ ] বা পুত্রের নিদর্শন || সরস-বদনে কেহ করে জিজ্ঞাসন | যুবতীর মূর্ত্তি দেখি গর্ভের লক্ষণ || পয়োধর উপরে দেখিল নীল শির | পুত্রের লক্ষণ দেখি জলে ভাসে খীর || কেহ বলে কপালে পুত্রের দেখি চিনা | চলনে চিনিতে পারি পুত্রবতী জনা || রঞ্জাবতীর কোলে হব গুণের নন্দন | যশোদার কোলে যেন দেবকীনন্দন || বংশ হৈলে উজ্জ্বল হইব দুই কুল | ভাগিনা দেখিয়া বাদ করিবে মাতুল || এই সব চিনা পাই রঞ্জার চলনে | পুত্রবতী হবে রঞ্জা বলে সর্ব্বজনে || ছাগল মহিষ মেষ মানে ঠাঞী ঠাঞী | এই কথা মনে বিনে অন্য কথা নাই || রঞ্জাবতী বলে সই তুমি বড় ভাল | কাণা খোঁড়া বংশ হয় পুত্র হৈলে ভাল || এক পুত্র কানা খোঁড়া যদি থাকে কোলে | তবে নাকি লোক মোকে আঁটকুড়া বলে || কত দিনে দূর হব আঁটকুড়ি নাম | ভায়্যার এমন কথা বড় অভিমান || নিরন্তর বিষাদ লইয়া সখীগণ | খেত্যে শুতে শয়নে স্বপনে জাগরণ || কল্যাণী মানিকী দাসী বলে অনুদিন | কেন রাণী বিষাদ না মানে একদিন || অবিরত বিষাদ এমন করে কে | কালি-বরণ তনু হৈল সোনা পারা দে || অধর যুগলে কালী মুখে কাল শিরা | মনঃ-কথা কহিতে গুবাক হৈল হীরা || খীরখন্ড দূর হৈল তিন রস পাটি | গায়ে জ্বর চন্দন সুখায় বাটি বাটি || নিরঞ্জনের লীলা কহনে নাই যায় | শ্রীধর্ম্মমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || দৈবের নিবন্ধ কেবা খন্ডাইতে পারে | পুরদত্ত বারুই ধর্ম্মের পূজা করে || উত্সপুরে আরম্ভ কব়্যাছে বারমতি | নদীতীরে সেবা করে বার শয় ব্রতী || ধর্ম্মের গাজনে শুধু ঢাক ঢোল বাজে | দেহারায় চৌদিগে আলম-চান্দা সাজে || পুঁথি হাতে রামাঞী পন্ডিত অধিকারী | গাজনে দেই জয় ময়না নগরী || জোড়া ঢাক শঙ্খ বাজে রঙ্গ করতাল | বিষম ঢাকের কাটী দগড় বিশাল || [ বীর ] পাতা সুন্দর কালিকা-পাতা নাচে | পঞ্চপায়ে সেবা করে [ দেহারার ] কাছে || কেহ বা কালিকা-পাতা নাচে অবতার | আনন্দে নাচিয়া বুলে গাজন দুয়ার || পুরদত্ত বারুই আপুনি দানপতি | বোলান বুলিতে গেলা ময়না বসতি || নগর বাজারে ফিরে ধর্ম্মের গাজন | সহর ভিতরে ভিক্ষা পায় নানা ধন || . রঞ্জার বিবাহ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
