| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| রঞ্জাবতী পরম সন্তোষ বড় হয়্যা | জয়পতি মন্ডলে তবে বলে ডাক দিয়া || তুমি মহামন্ডল তোমার নাম শুনি | ধর্ম্মের দেহারা তোল দিবস রজনী || এত শুনি মন্ডল বদন করে [ হাঁড়ি ] | ঘর হৈতে ধন মেপে দিল পাঁচ আড়ি || আজ্ঞা পেয়ে মন্ডল রাজার ধন রাখে | রাজ [ ার ] কোটাল বেরুনে জন ডাকে || পাঁচ কোনা চাল দিল কড়ি সাত পণ | জন ফুরাইএ তার দিলেক বেতন || ধর্ম্মের গাজন তবে তোলে রাত্রি দিনে | কেহ কাদা করে কেহ জল বএ আনে || শুভক্ষণে সুতা ফেলি ধরিলেক গোড়া | দিন দশে চারি পাট কাঁথ হইল খাড়া || ছুতার গুণিল আড়া রূপিআঁ আটনি | রঙ্গ রস পরিপাটি ঘরের ছিটনি || চারি চাল ছেয়্যা তোলে ময়ূরের পাকে | মঝ্যাখান জগদি সমান করি রাখে || চারি পিড়া পরিসর হইল গাজন | রঞ্জাবতী দেখে বড় হরষিত মন || ছুতার বারুই [ তবে ] একত্রে উত্তরিল | ধর্ম্মপূজা হবে কালি ঘোষণা পড়িল || সামুলা আমিনী রঞ্জা আনিল ডাকিয়া | তার পায়ে ধরি বলে বিনয় করিয়া || দুই বন্যে যাই চল সেবিতে চাঁপাই | কানা খোড়া এক পুত্র আমি সভে চাই || সামুলা বলেন বনি শোন মোর বাণী | তোমার হইব বংশ আমি ভাল জানী || ধূপধুনা একাকার জয় জয় রব | ধর্ম্মপূজা সহরে করিলা লোক সব || জাত পড়ে গাজনে পন্ডিত ধর্ম্ম গাজে | জোড়া ঢাক শঙ্খ কাঁসি তিন সন্ধ্যে রাজে || হেন বেলা রঞ্জাবতী পেয়্যা শুভক্ষণ | কিনে আনে সহরে ভকিতে বার জন || সদা কুল পন্ডিত আনিল বিদ্যমান | বলিতে লাগিল রাণী সভা সন্নিধান || সভা মাঝে রঞ্জাবতী করে নিবেদন | কোনরূপে সাজ হবে ধর্ম্মের গাজন || সামুলা বলেন বনি বলি তোর তরে | শাল-কাঁটা সজ্জা কর কামারের ঘরে || ছ কুড়ি শালের কাঁটা গড়াইতে চাই | সঙ্গে ষোল ভকিতা সাজিয়া যেন যাই || কালি বড় শুভদিন গলে দিব পাটা | রাত্রে গিয়া কামার গড়ুক শাল-কাঁটা || সামুলার বচন রঞ্জার লাগে মনে | কামারের ঘর গেল বনি দুই জনে || নন্দ নামে কামার সহরে ভাগ্যবান | তারে ডেকে রঞ্জাবতী হাথে দিল পান || চাঁপাই সেবিব আমি শালে ভর দিয়া | ছ কুড়ি শালের কাঁটা দিবে হে গড়িয়া || পরিসর সোসর করিবে চারি ধারি | তার উপরে দিবে কাঁটা দুই সারি || এক আড়ি ধন দিব [ বহুত ই ] নাম | দুই হাতে ধরি ভাই নাই হও বাম || বিনয় করিয়া রঞ্জা বলিছে বচন | নির্ম্মাণ করিবে কাঁটা করি জাগরণ || পুত্রের কারণে আমি শালে ভর দিব | নিজরূপ দেখি তবে পুত্রবর নিব || আজ্ঞা পেয়ে কামার করাতে কাটে নোয়া | তিন জাতি পরিসর উভে পাঁচ পোয়া || যাঁতা টানে মন্ডল ভাগিনা সহচার | অঙ্গারে আগুন জ্বলে দপ দপ করি || সাড়াসীতে ধরিয়া সঘনে লোহা পোড়ে | কালির করাতে কাটে শাল-কাঁটা গড়ে || গড়িতে গড়িতে রাত্রি হইল তিন পর | বিষম শালের কাঁটা দেখে লাগে ডর || মেজে ঘষে কামার শালেতে দিল শাণ | ঝকমকে আগুন পতঙ্গ পরিমাণ || শাল-কাঁটা দেখে রাণী করে দন্ডবৎ | তোমাকে সেবিতে হব সিদ্ধ মনোরথ || পুনরপি কর্ম্মকারে ইনাম করিল | শাল-কাঁটা রঞ্জাবতী গাজনে রাখিল || ধূনাধূপ দেহারা শোভিত মনোহর | সামুলা সহিত রামা গেল বাস-ঘর || হেম খাটে কর্ণসেন সুখে নিদ্রা যান | শিয়রে বসিয়া বলে খাঅ গোয়াপান || খাটে বসে বুড় রাজা মুখে দিল পানি | পায়ে ধরি বলে কিছু রঞ্জাবতী রাণী || আঁটকুড়া বলে গালি দিল বড় ভাই | তুমি আজ্ঞা দিলে যাই সেবিতে চাঁপাই || . ****************** || রঞ্জার বিবাহ পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
