| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| পাত্র ধরি বিনয় বলিছে কোন জন | তুমি মাত্র নয়নে দেখিলে নারায়ণ || সভাই বঞ্চিত হৈল তুমি ভাগ্যবতী | নয়নে দেখিলে ধর্ম্ম অর্জ্জুন-সারথি || এত বলি চাঁপায়ে আনন্দ বড় হৈল | রঞ্জাবতী রানী ঘটে বিসর্জ্জন দিল || খসাল্য গলার পাটা ভাঙ্গিল নিয়ম | ধর্ম্মপূজা দেখিলে পালায়্যা যায় যম || তিনবার চাঁপায়ে করিল প্রণিপাত | নৌকার উপরে তুল্যা নিল দ্রব্যজাত || দন্ড ধরি নৌকায় বসিল কত নায়্যা | ঘর যান রঞ্জাবতী পুত্রবর পায়্যা || শঙ্খধ্বনি জয়ধ্বনি নৌকার উপরে | বাহিল চাঁপাই নদী এ দুই প্রহরে || ধর্ম্মদহ বাহিল তরণী প্রাণপণে | পাতাল হইতে জল উঠিছে গগনে || রাজবাটী সমুখে দক্ষিণে বৃন্দাবন | সলিলে কুম্ভীর ভাসে পর্ব্বত যেমন || নৌকার উপরে বাজে কাড়া আর শিঙ্গা | কালিনী গঙ্গার ঘাটে দেখা দিল ডিঙ্গা || দেখিতে দেখিতে পাইল ময়না নগর | বিদায় হইয়া সন্ন্যাসী ভকিতা গেল ঘর || নানা ধনে সভাকার হৈল পুরস্কার | দন্ডবৎ প্রণাম করিল বারে বার || আশীষ করিয়া সভে গেলা নিজালয় | বন্দিএ মউরভট্ট রূপরাম গায় || রাজাকে ভেটিতে রানী রঞ্জাবতী যায় | রঞ্জাবতী স্বামীর সমুখে গিয়া রয় || প্রণাম করিয়া বলে জুড়ি দুই কর | চাঁপাই ভুবনে আমি পাইল পুত্রবর || শুনিয়া বলেন রাজা এ বড় জঞ্জাল | বসিলে উঠিতে নারি অতি বৃদ্ধকাল || ডাকাডাকি বারতা বলিল কানে কানে | রঞ্জাবতী বলিল রাজার বিদ্যমানে || হাতাড়িয়া বুড়া রাজা গায়ে দিল হাত | বলিতে লাগিল রাজা রঞ্জার সাক্ষাৎ || তোমা না দেখিয়া প্রাণ কেমন কেমন করে | পঞ্চদশ দিন তুমি নাই ছিলে ঘরে || চাঁপায়ে বিলম্ব হইয়াছে দশ দিন | বংশে কেহ নাহি মোর তোমার অধীন || ধর্ম্মের কৃপায় যদি কোলে বংশ হয় | বুড়া রাজা হাথে ধরি বলে সবিনয় || প্রবাল মুকুতা হীরা আছে নানা ঠাঞী | তোমা বিনা সে ধন আমারে সাজে নাঞী || যত যত রম্ভা কলা সকলি তোমার | হস্তী বল অশ্ব বল যত কিছু আর || তুমি মোর বাড়ীতে লক্ষের ঠাকুরাণী | রঞ্জাবতী বলে আমি কিছুই না জানি || স্বামীর সঙ্গে আনন্দে বসিয়া কুতুহলে | বড় সুখে ভোজন করিল সন্ধ্যাকালে || সকালে সারিল যদি রন্ধন ভোজন | কল্যাণী মানিকী রামা ডাকেন তখন || শুন গো কল্যাণী তোরে উপদেশ কই | মানিকী আমার দাসী প্রেতরাজ বই || স্বামী সঙ্গে শয়ন করিতে সাধ যায় | সাজাইবে বাসঘর এই তোমার দায় || পতি সঙ্গে বঞ্চিলে অবশ্য পুত্র হয় | সর্ব্ব অন্ধকার-রাজি কেহ কার নয় || ধন কড়ি যত বল সব অন্ধকার | কোলে না থাকিলে বংশ দিবসে আন্ধার || দারুণ বিধাতা বস্যা ভাঙ্গে আর গড়ে | কতেক বলিব আর সব মনে পড়ে || অতেব স্বামীর সঙ্গে বঞ্চিব বাসর | এত শুনি দুই দাসী গেল বাসঘর || অতি বড় বিচক্ষণ কল্যাণীর পাটি | ধরিয়া ময়ূর-ঝেটা তায় দিল ঝাঁটি || পড়িয়া শীতলপাটি পূর্ণ পরিমাণ | তার উপর পাতিল রূপার খাটখান || দোসারি নেহালি পাড়ে নাম গঙ্গাজল | শিরীষের ফুল হৈতে দ্বিগুণ নির্ম্মল || আসে পাশে বালিশ মেখলা তায় দোলে | তরণি উজ্জ্বল যেন বিষ্ণুপদতলে || উপর মশারি ঢালে লোহিত অম্বর | কত শত নিতম্বিনী ঢুলায় চামর || অতি শুভ্র শয্যা হৈল যে দুগ্ধফেন | রানী সঙ্গে শয়ন করিব কর্ণসেন || শীতল চন্দন চূয়া রাখে বাটি বাটি | পানগুয়া পরিপূর্ণ নানা পরিপাটি || শিয়রে রাখিল চাঁপা নাগেশ্বর মালা | রসদীপক জ্বালিল দিবস হৈতে আলা || মল্লিকা রঙ্গন কেয়া রাখে নানা ফুল | শয্যার গৌরবে অলি সহজে ব্যাকুল || বাসঘর নির্ম্মাণ করিল দুই চেড়ি | শয্যার উপরে আগে যায় গড়াগড়ি || শয্যা দেখি মানিকী ধরিতে নারে মন | তার পাকে গড়াগড়ি দিল দুইজন || রাখিল শীতল জল পরিপূর্ণ ঝারি | বুড়া রাজার কাছে গিয়া বলিছে কিঙ্করী || কানে কানে বাক্য বলে ডাগর ডাগর | শয়ন করিতে রাজা যাও বাসঘর || দুই তিন ডাক দিলে এক ডাক শুনে | দু-হাতে দু-দাসী ধরিল কর্ণসেনে || . লাউসেন-জন্ম পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
