| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| নিশ্চয় পাইলাম সেইখানে | তবে মিছে কৈলে দয়া বুঝিতে নারিনু মায়া এমন বলিয়া কেবা জানে || আচম্বিতে মৈল্য পতি পরকালে নাই গতি কহ সখী কি হবে উপায় | বলে রামা হরি হরি বিষ আন খেয়্যা মরি এত দুঃখ সহা নাঞী যায় || ই হেন সোনার বেশ এত দিনে হইল শেষ হায় হায় দৈব নিদারুণ | ফুরাইল মনের সাধ খসাল খোঁপার জাদ মনে জ্বলে জ্বলন্ত আগুন || চাঁদের উদয় হৈতে রাহু গরাসিল পথে ইহার উপায় নাঞী দেখি | স্বামী নাই কথা কয় ঐমনি শয়নে রয় সত্যভাব বল দুই সখী || চারি দন্ড রঞ্জাবতী আকুল হইয়া মতি ধর্ম্ম ধর্ম্ম করে স্মঙরণ | ধর্ম্মের আদেশ পান দ্বিজ রূপরাম গান সর্ব্বকাল সখা নিরঞ্জন || তবে রঞ্জাবতী করে ধর্ম্ম-সঙরণ | হেনকালে বৈকুন্ঠে জানিলা নিরঞ্জন || মায়ামোহে মদনে বলেন মায়াধর | এক দন্ড যাহ বাছা ময়না নগর || রঞ্জাবতীর বাসঘরে হবে অধিষ্ঠান | কর্ণসেন বুড়া রাজা সুখে ঘুম যান || ধরণীমন্ডলে পূজা নিব এক বার | তুমি মনে করিলে অবশ্য হব পার || এত শুনি মদন নিলেক মোহবাণ | রতি সঙ্গে কৌতুকে রঞ্জার ঘর যান || প্রধান বসন্ত ঋতু আগে আগে যায় | কোকিলী উগরে মধু অলি গীত গায় || বাম দিগে শরৎ শিশির যায় সাথে | মদন সভার মাঝে ফুলবাণ হাথে || সন্নিধানে রতি যায় হাথে পদ্মফুল | কুসুমসৌরভে মুগ্ধ হয় অলিকুল || ময়না নগরে গিয়া দিল দরশন | আমোহিত মোহিত ময়না সর্ব্বজন || বাসঘরে মদন দিলেন দরশন | বাসগরে দেখিল সাক্ষাৎ বৃন্দাবন || কাচ হল্য কাঞ্চন কাঞ্চন হল্য কাচ | বসন্তের বাতাসে রাতুল সব গাছ || ভ্রমর উগারে সুধা কোকিলীর রব | বসন্তের বাতাসে আকুল হল্য সব || দেখাদেখি মদন রঞ্জার ঘর যায় | পরশ করিল গিয়া বুড়া রাজার গায় || মনোজ আলসে যদি বাতাস বাজিল | ঘুম হতে বুড়া রাজা উঠিয়া বসিল || উঠিয়া বসিতে রাজা নেহালে বাসর | বয়স তরঙ্গ যেন বাইশ বত্সর || চারি পানে চায় রাজা চঞ্চল তরঙ্গ | অবতার মনে মনে মনোজ-মাতঙ্গ || কামেতে মাতল হয়্যা সকরুণে কয় | আনন্দে ভাসিল রানী হেটমুখ রয় || বুড়া রাজা কর্ণসেন করেন মিনতি | এতক্ষণ তাম্বুল না দেও রঞ্জাবতী || এতক্ষণ এসেছ না কও কেন কথা | নৌতযৌবনী তুমি কনকের লতা || রসবাণী উপলক্ষ্ আগু হয়্যা বসে | লাজ কব়্যা রঞ্জাবতী পাছু হয় এসে || বিশেষে তরঙ্গ বড় পুরুষের মন | দেখি দারা-মুখশশী উথলে মদন || কাকুতি মিনতি রাজা করে বারেবার | আলিঙ্গন দিয়া প্রাণ রাখহ আমার || হানিল মদন-বাণ নয়নের কোণে | মরমে বাজিল বাণ জীবনের সনে || তোমা দরশনে আমি হয়্যাছি অজ্ঞান | মুখে মুখে মরমে করিব মধুপান || এত বলি হাথে ধব়্যা কর টানাটানি | দেখিতে দেখিতে দেই পয়োধরে পাণি || উতারিয়া কাঞ্চনকাঁচলি কুচে ধরে | অবশ হইয়া রাজা নানা মায়া করে || আলিঙ্গন দেহ রানী কালি দিব চুড়ি | শঙ্খের উপরে দিব বাজুবন্ধ বেড়ি || এই কথা কহিতে বদনে চুম্ব দিল | পদ্মফুলে মধু পায়্যা ভ্রমরা মাতিল || রাজা রানী আবেশে আনন্দে অবশিলা | কিশোরী সহিত যেন কিশোরের খেলা || বুকে বুকে মুখে মুখে জঘনে জঘন | বিরহিণী-বিরহীরমণ অতি রণ || রাজা রানী দুজনে শয্যায় গড়াগড়ি | লজ্জা পায়্যা দুয়ারী পালায় দুই চেড়ী || আই মা বলিয়া দাসী আড়ালে লুকায় | বিভুক্ষিত হরি যেন হরিণীরে পায় || চঞ্চল কুন্তলপাশ ফেরাফেরি বাহু | শরতের চাঁদ যেন গরাসিল রাহু || কাল-ঘামে ভেসে গেল কাজল সিন্দুর | রাজার কানেতে বাজে রানীর নূপুর || নাসবেশ ভূষণ বসন উলসিত | পরিহাস রঞ্জাবতী বলে বিপরীত || পরাজয় বাক্য বলি পায়ে গড় করি | পরাক্রম দুরন্ত পরাণে পাছে মরি || কুলবতী বলে কত কল্পনাবচন | কোলে কব়্যা ঐমনি রয়্যাছে প্রাণধন || রতিসুখ দুইজনে আনন্দে করিল | অরুণ-উদয় কালে উঠিয়া বসিল || রামরাত্রি পোহাইল কোকিলের রা | শয়ন ত্যজিয়া কর্ণসেন তোলে গা || পঞ্চকন্যা স্মরণ করিল একমতি | রাত্রিবাস এড়াইয়া পরে দিব্যধুতি || ঝারি হাথে কর্ণসেন করিল পয়ান | বাহির দলজে বস্যা করিল দেয়ান || সারিল ঘরের পাটি কত শত দাসী | বাসঘরে নিদ্রা যায় পরমরূপসী || কল্যাণী মানিকী দাসী বসিয়া শিয়রে | পানের বাটা জলের ঝারি দুজনার করে || ঘনে বলে গা তোল গা তোল ঠাকুরাণী | চারি দন্ড বেলা হল্য মুখে দেহ পানি || পান খাও মলিন হয়্যাছে চাঁদমুখ | চরণে ধরিয়া দাসী বলিছে কৌতুক || এত শুনি সুন্দরী সত্বরে তোলে গা | রাম কৃষ্ণ বলিয়া দুয়ারে দিল পা || দাসীকে বলিল স্নান করিব সকাল | তৈল আমলকী চুয়া নিলেক রসাল || . লাউসেন-জন্ম পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
