| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বিনয়বচন বলে টানাটানি করে | আমার সমুখে বৈস পালঙ্কের উপরে || ঘর বাড়ী তোমার যতেক মালমার্ত্তা | যুবতী সহিত বুড়া যোড়ে নানা কথা || শঙ্খ আছে সুন্দর উপরে কেন টেড়ি | বাজুবন্দ গড়াতে ভান্ডারে নাঞী কড়ি || পঞ্চাশ মোহর রানী হাথে হাথে নেও | পানগুয়া সাজিয়া আপনি হাথে দেও || এত বলি হাথে ধরি কাছে বসাইল | গন্ধফুল পায়্যা যেন ভ্রমর মাতিল || মুখে মুখে যুগলে যুগলে দুইজন | রতিসুখ বিলাস করিল একমন || কালঘামে ছারখার সীঁথার সিন্দুর | কানের নিকটে বাজে পায়ের নূপুর || মরমে পাইল ব্যথা রাণী রঞ্জাবতী | অনুচিত বিরলে বঞ্চেন সুখে রতি || পারি নাঞী রঞ্জাবতী বলে তিন বার | কাঁচলি হইল দূর ছিঁড়ে গেল হার || মদন বসন্ত হৈল বৈকুন্ঠে বিদায় | পতি সঙ্গে রঞ্জাবতী বাসরে ঘুমায় || বাসঘরে রাজা রানী রহিল শয়ন | বৈকুন্ঠে বসিয়া দেখে প্রভু নিরঞ্জন || রামরাত্রি পোহাইল কোকিল কাড়ে রা | শয়ন তুলিয়া কর্ণসেন তুলে গা || ঝারি হাথে কর্ণসেন করিল পয়ান | বাহির দলজে বৈসে করিয়া দেত্তান || বাসঘর রঞ্জাবতী নিদ্রায় অচেতন | শিয়রে বসিয়া দাসী চিত্তান তখন || ঘন ঘন বলে গা তোল ঠাকুরাণী | চারি দন্ড বেলা হৈল মুখে দেও পানি || এত শুনি রঞ্জাবতী অনুহিত হয়্যা | স্নান করিবারে যান ঈষৎ হাসিয়া || তৈল আমলকী নিল কল্যাণী মানিকী | কালিনী গঙ্গার ঘাটে গেল চন্দ্রমুখী || পাথরে বসিয়া করে অঙ্গের মার্জ্জনা | সমহিত সুন্দরী মাজিল রূপা সোনা || স্নান করে রঞ্জাবতী চারি পানে চায় | বৈকুন্ঠে বসিয়া ধর্ম্ম দেখিবারে পায় || ঠাকুর বলেন শুন যত দেবগণ | রঞ্জাবতীর গর্ভে জন্ম নিব কোন জন || পশ্চিম উদয় দিতে আছে কাহার শকতি | অংশ-অবতারে কেবা যাব বসুমতী || এক দন্ড এহার বিলম্ব নাহি সয় | কলিযুগে দিতে চায় পশ্চিম-উদয় || ধর্ম্ম বলি কলিযুগে না আনিল জীব | কত আর উদ্ধার করিব সদাশিব || রাম-নামে পাতকী কতেক হৈল পার | তথাপি না হৈল ধর্ম্ম-পূজার প্রচার || এত যদি বলিল আপনি ধর্ম্মরায় | আচম্বিতে চিন্তা গুরু দেবতা-সভায় || সহস্রলোচনে বলে বিধাতার কানে | এসব ধর্ম্মের খেলা এহা কেবা জানে || অবনী আসিতে সভে শঙ্কা করে মনে | অশেষ পাতক গুরু সত্তাল ভুবনে || এত শুনি শঙ্কর চিন্তিল অসম্ভব | হেটমুখে সেখানে দেবতা থাকে সব || উলুক বলেন গোসাঞী শুন মন দিয়া | কশ্যপ-নন্দন মহী দেহ পাঠাইয়া || ব্রহ্মার শকতি নাহি পশ্চিম-উদয় দিতে | লাল্বাদিত্য যাবেক অবনী জন্ম নিতে || মহামুনি রঞ্জার জঠরে জন্ম নিব | জগতে জন্মিলে সেই পশ্চিম-উদয় দিব || সে দিব পশ্চিম-উদয় হাকন্ডে ভিতর | কলিযুগে পূজা তুমি পাবে প্রতি-ঘর || এত বলি আনে কথা কশ্যপ-তনয় | তুমি দিবে কলিযুগে পশ্চিম-উদয় || এত শুনি জীবন তেজিল গঙ্গাজলে | শুভক্ষণে যাত্রা করে সয়াল মন্ডলে || ছোট নারিকলে তার রাখিল জীবন | দুই নারিকেল হাতে নিল নারায়ণ || হনুমানে তখন বলে ডাকিয়া | রঞ্জাবতী স্নান করে ঐ দেখ চায়্যা || রঞ্জাবতী বিশেষ আমার ব্রতদাসী | তুমি চল মরতে সসাক্ষ্য ( ? ) ভালবাসি || ভাসাইবে নারিকেল রঞ্জাবতীর কাছে | এতে বংশ জন্মিব ললাটে লেখা আছে || এত শুনি হনুমান করিল পয়ান | ভাসাইল নারিকেল রঞ্জা বিদ্যমান || উজান ভাসিয়া যায় দুই নারিকেল | রঞ্জাবতী রানী দেখি হাসে খল খল || আপুনি তো রানী দুই নারিকেল ধরে | ডুব দিতে উলট-কমল পাইল করে || বড় নারিকেল ভাঙ্গ্যা সূর্য্য-অর্ঘ্য দিল | ছোট নারিকেল রামা আপুনি খাইল || গর্ভবাসে জন্ম নিল কশ্যপ কুমার | মরমে মোহিত হৈল ময়না নগর || আনন্দ মজিল লোক অবতার-ভাবে | জমহিত ( ? ) কমল সঞ্চয় হৈল যবে || রানী রঞ্জাবতী গেল আপনার ঘর | দ্বিজ রূপরাম গান বাঁকুড়া রায়ের বর || তবে যদি জন্ম নিল কশ্যপনন্দন | আনন্দিত হইল যতেক দেবগণ || প্রথম মাসের গর্ভ হয় কিনা হয় | জগত যুগল মাসে কানাকানি কয় || তিন মাসে চুয়াইল নৌতন জীবন | চারি মাসে নাহি চলে দুখানি চরণ || অঙ্গনা-সমাজে রঞ্জা মাথা করে হেট | হাত বুলাইয়া দেখে কেহ বলে পেট || গর্ভ-হেতু রূপ বাড়ে দিবসে দিবসে | পঞ্চামৃত রঞ্জাবতী খাইল পঞ্চ মাসে || কর্ণসেন বলে রানী তুমি মোর প্রাণ | . লাউসেন-জন্ম পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
