| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| তাহার দক্ষিণে লেখা আছে পক্ষগণ | সারস কোকিলী কাক খঞ্জনী খঞ্জন || চটকা চটকী ফিঙ্গা ডাহুকা টেঠারী | কৃষ্ণবর্ণ রাতুলবরণ সারি সারি || ধাতুকা ধাতুকী চিল রঘু কালমুখী | আড়াই বুড়ি ডিম কোলে ফুকরে ডাহুকী || সরল করল কাক মণিময় ভাষা | দল-পিপী ডাকে দলবনে তার বাসা || গোদা ভারুই গগনে গোবিন্দগুণ গায় ধাগা ভারুই উড়ি উড়ি ধুলায় লোটায় বাদুড় তপস্যা করে ঊর্দ্ধ দুই পা ময়ূর পেখম ধরে পাইয়া মেঘ-রা খয়রা খুঙ্গুর লেখা আছে বুড়ি ছয় রায়মুনি শালকি ভারত-কথা কয় || ] নানা আভরণ অঙ্গে করে ঝলমলি | কৌতুকে পরিল রঞ্জা অপূর্ব্ব কাঁচলি || অপূর্ব্ব কাঁচলিখানি হাসিয়া পরিল | কল্যানী মানিকী দেখি বিস্ময় হইল || বিদ্যাধরী নাচন নাচিতে যেন চায় | সেইরূপে বাসঘরে চলে পায় পায় || জলঝারি হাতে পাছু গোড়াইল দাসী | পানের সাঁপুড়া নিল মূর্ত্তিমান্ শশী || বড় সাধে শয়ন করিতে রামা যান | সহিতে না পারে আর মদনের বান || কুঞ্জরসমান চলে চরণে চরণে | চলিল পবন বেগে স্বামী দরশনে || পানের সাঁপুড়া রানী বাড়াইয়া রাখে | কপাট আড়াল দিয়া দুয়ারে বস্যা দেখে || জীবন অধিক জ্বলে রতনের বাতি | পতঙ্গ-উদয় যেন দুই যাম রাতি || পরম আনন্দ বড় রঞ্জাবতী মনে | এক দন্ড বসিয়া স্বামীর বিদ্যমানে || কিবা জানি মায়ানিদ্রা যায় অচেতন | শিয়রে বসিয়া রামা ভাবে মনে মন || ঈষৎ ইঙ্গিত জানে অন্য মত আর | নিরীক্ষণ সুন্দরী করিল তিনবার || মনে করে মব়্যাছে ময়নার তপোধন | সূতার সঞ্চার বয় নাসার পবন || মায়া অনুবব্ধ কৈল নূপুরের সাড়া | বার চারি নাড়ে চাড়ে পানের সাঁপুড়া || ঝনঝন কঙ্কণ ঝঙ্কারে দুই কানে | কত কলা চাতুরী চঞ্চল হল্য প্রাণে || গায়ে পদ্মহস্ত রানী ঈষৎ বুলায় | গা তোল গা তোল বলি স্বামীকে চিয়ায় || পান হাতে কব়্যা রানী মুখপানে চায় | কানে কানে ডাক্যে বলে গুয়াপান খাও || বদনে তাম্বুল দিয়্যা বলে খাও খাও | রঞ্জার মাথাটি খায়্যা চক্ষু মেলি চাও || খাইয়া লাজের মাথা হাথে ধরে তোলে | আকাশের পাথর পড়িতে যেন গলে || আপনার মনে রাজা ঐমনি ঘুমায় | গা তোল গা তোল বলি স্বামীকে চিয়ায় || গায়ে দিল কস্তুরী চন্দন কুম্ কুম | কদাচিৎ নাহি ভাঙ্গে বুড়া রাজার ঘুম || বাসঘরে রঞ্জাবতী দিল দরশন | দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন || বাসঘরে রঞ্জাবতী দিল দরশন | দূরে হৈতে স্বামী দেখে যেন নারায়ণ || খল খল হাসেন ঘরের শোভা দেখি | গৌরব পাইল বড় কল্যাণী মানিকী || ধৈরজ ধরিতে নারে স্বামীকে দেখিয়া | আগু হল্য রঞ্জাবতী ঈষৎ হাসিয়া || হরষিত হয়্যা রানী অঙ্গে দিলা হাত | নয়ান ভরিয়া রানী দেখে প্রাণনাথ || গঙ্গার জীবন দিল বদনকমলে | না দেহ উত্তর কেন ঘন ঘন বলে || ভ্রমর ঝঙ্কারে গায় সহা নাঞী যায় | দুজনে খেলিব পাশা উঠে বস রায় || নিদ্রায় অবশ হয়্যা নাঞী পরিজ্ঞান | রাণী বলে রাজা মোর জীবন পরাণ || কল্যাণী মানিকী দাসী এস্যা দিল দেখা | হরি হরি বিধাতা কপালে এই লেখা || কল্যাণী মানিকী কোথা বিষ দেও খাই | বাসঘরে স্বামীর সঙ্গে যমঘরে যাই || কোন লাজে সকালে দেখাব আর মুখ | ভাগ্যহীন জনার কোথাও নাঞী সুখ || নাসহে বিলম্বে আর বিধাতার জো | রাত্রি পোহাইলে আর নাঞী হব পো || বল গো প্রাণের দাসী কি হবে ঊপায় | পবনপয়ান নিশি পোহাইয়া যায় || আমি যদি এই বেশে বাসরে বঞ্চিত | তবে পুত্র কোলে মোর হব কদাচিত || এত বলি ঘন ঘন ঘর-বারি করে | পুনরপি বৈসে গিয়া স্বামীর শিয়রে || ক্রোধে রানী বলে রাজা [ রাতি ] পার হল্য | যতেক মনের আশা বিফল হইল || পতি বিনে গতি নাঞী রাজ্য বিনা রাজা | বিদ্যা বিনা ব্রাহ্মণের নাঞী কভু পূজা || বিদগধ সুন্দরী বহুত দুঃখ মনে | লজ্জা খায়্যা স্বামীকে চিয়ায় প্রাণপণে || নিবেদন করি রাজা তুমি শুন নাঞী | কানে কানে ডাক্যা বলে গা তোল গোসাঞী || . লাউসেন-জন্ম পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
