| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ময়না নগরে বীর ধায় হনুমান | নারিকেল ভাসাইল রঞ্জা বিদ্যমান || জোয়ারের সাথে নারিকেল ভেসে যায় | রঞ্জাবতী রানী তখন দেখিবারে পায় || মনেতে স্মঙরণ করে ধর্ম্মের বচন | ঝাঁপ দিয়া নারিকেল ধরিল তখন || বড় নারিকেল ভেঙ্গে সূর্য্যে অর্ঘ্য দিল | ছোট নারিকেল ভাঙ্গ্যা ভক্ষণ করিল || গর্ভবতী রঞ্জাবতী হইল তখন | দশ দিক আলো হইল ময়না ভুবন || কোকিলী সুতান ডাকে মঞ্জরিল ডাল | দৈবকী-জঠরে হেন জন্মিল গোপাল || মৃত তরু মুঞ্জরিল ফুটিল কাঞ্চন | কালিনী যমুনা হইল ময়না মধুবন || তবে রঞ্জাবতী গৃহে করিল গমন | উঠিতে বসিতে করে ধর্ম্ম স্মঙরণ || দাসী সঙ্গে সুন্দরী সদাই খেলে পাশা | তাম্বুল সদাই মুখে সুমধুর ভাষা || প্রথম মাসের গর্ভ হয় কিবা নয় | দু মাসের বেলা সব কানাকানি কয় || গর্ভের লক্ষণ রূপ চুয়াইয়া পড়ে | এক ঠাঞী বৈসে যদি তিন ঠাঞী নড়ে || তিন মাসে কেমন কেমন করে গা | জঞ্জাল সহিতে নারে বড় বড় রা || অঙ্গনা-সমাজে বস্যা মাথা করে হেট | হাথ বুলাইয়া দেখ্যা কেহ বলে পেট || চারি মাসে কৃশ অলঙ্কার হইল লোলা | কর্পূর তাম্বুল তেজ্যা খায় পাতখোলা || পাইলে শীতল মেঝ্যা পড়িয়া ঘুমায় | মনে হরষিত বড় কর্ণসেন রায় || সাক্ষাতে সভাই বস্যা সই সাঙ্গাতিনী | যার সঙ্গে নিরবধি দুঃখের কাহিনী || বস্ত্র অলঙ্কার পরে দিবসে দিবসে | পঞ্চামৃত রঞ্জাবতী খায় পঞ্চ মাসে || নানা উপহার ভেট নিরবধি পায় | যে সাধ রানীর মনে সেই সাধ খায় || নিরবধি কর্ণসেন বলে প্রিয়বাণী | প্রাণের সমান আমার রঞ্জাবতী রানী || ছয় মাস নিবড়িল সাতে পরবেশে | নানা সাধ খায় রানী অপূর্ব্ব সন্দেশে || আট মাসের বেলা রানী বড় দুঃখ পাই | না চলে চরণ দুটি ঘন উঠে হাই || পরিধান বসন এল্বায় নিরবধি | হুতাশ সদাই মনে কিবা করে বিধি || ন-মাসের বেলা রানী করে টলবল | বসিলে উঠিতে নারে মুখে উঠে জল || পেটে ভুখ সদাই বদনে নাঞী চলে | মরি মরি আই মা আই মা ঘন বলে || আপনি সদাই কাছে কর্ণসেন রায় | পরিধান আল্বাইলে আপনি পরায় || হুকুম আনিল ডেক্যা হীরা নামে ধাই | দশ মাস পূর্ণ হল্যে বিস্তর বালাই || মনে দুঃখ ভাবে রানী কি হল্য জঞ্জাল | পেটে পো হইলে দুয়ারে বস্যা কাল || পূর্ণ হইল দশ মাস আর দশ দিন | প্রথম চৈত্র মাসে অবসিত মীন || আচম্বিতে কষ্ট ব্যথা দিলেক জানান | হায় হায় মরি মরি আকুল পরাণ || ব্যথা করে কাঁকালি খসিয়া পড়ে গা | মেঝ্যায় পড়িয়া বলে মরি ওগো মা || মাসী গো পিসি গো মরি গো মরি | কি ব্যথা হইল পেটে দান্ডাইতে নারি || কোথা গেল সাঙ্গাতিনী কোথা গেল সই | ঘন পেট ব্যথা করে হের এস্য কই || আপনা খাইয়া কেন শালে দিলাম ভর | নাপান করিয়া কেন গেলাম বাসঘর || হেন কালে হীরা ধাই ধব়্যা করে কোলে | পেটে তেল জল দিয়া ভয় নাঞী বলে || কাতর হইয়া বলে রঞ্জাবতী রানী | রথ ভরে বস্যা বলে দেব চক্রপাণি || ধ্যান ভঙ্গ কর বাপু কশ্যপনন্দন | তোমার জননী দুঃখ পায় অকারণ || জঠর ত্যজিয়া দেখ সয়ালের মুখ | দুর্লভ জনমে পাবে সত্তালের সুখ || এত যদি বলিলা দিনের দিবাকর | ভূমিষ্ঠ হইয়া বালা ত্যজিয়া জঠর || জয়ধ্বনি শঙ্খধ্বনি ময়না ভুবন | সয়াল দেখিয়া শিশু জুড়িল রোদন || বেটা হল্য হীরা ধাই বলে ডাক দিয়া | সারিল মনের সুখ জয় জয় দিয়া || উমা সঙরণে শিশু ঙাঙা শব্দ করে | ধাই নাই সুতা দিয়া বান্ধে দড় করে || [ নাভিচ্ছেদ করিলেক সোনার ঝিনুক | স্বর্ণ ডাবরে স্নান করাইল শিশুকে || চালের খড় ফিড়্যা তখন জ্বালাল্য আঁতুড়ি | সিজ ডাল ঢেকি দ্বারে জ্বালে আদাগুঁড়ি || ] রঞ্জাবতী আপনি পুত্রের দেখে মুখ | পাসরিল সুন্দরী শালের যত দুখ || বুড়া রাজা মনে করে আমি ভাগ্যবান | পুত্রমুখ দেখি রাজা ভান্ডার বিলান || আনন্দের সীমা নাঞী ময়না নগরে | গোপাল জন্মিল যেন নন্দঘোষের ঘরে || সাজিল অনেক রাস সূতিকার ধাম | আঁতুড়ে রাখিল তার লাউসেন নাম || বালক দেখিয়া সভে হইলা হরষিত | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্ম্মের চরিত || . ****************** || লাউসেন-জন্ম পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
