| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| এত শুনি কর্পূর চরণে ভর করে | নগরে ছাত্তাল ডাক্যা আনিল সত্বরে || পানের পসরা তবে পথে পেলে ঠেল্যা | কাড়াকাড়ি লুট করে নগরের ছেল্যা || ছেল্যায় ছেল্যায় দ্বন্দ্ব করে কিলাকিলি | থাক্যা থাক্যা লোটে পান দিয়া হাততালি || লাউসেন কর্পূর হাসে রঙ্গ দেখে চায়্যা | নিকেতনে নিল কেহ বসনে বান্ধিয়া || পান লুট্যা নগরে ছাত্তাল গেল ঘর | লাউসেন কর্পূর চলে গোউড় শহর || বত্তিশ আতরে দুই ভাইর সাজন | তপোবন নিবাসিতে শ্রীরাম লক্ষ্মণ || মহাসুখে দুই ভাই গৌড় পথে যায় | অনিল সমান গতি চলিছে ত্বরায় || হেনকালে সনকা গুরীক্ষা ভাবে মনে | লক্ষের পসরা লুট্যা যায় দুইজনে || সনকা গুরীক্ষা চলে পায় কব়্যা ভর | লাউসেন আগুলিল পথের উপর || চন্দ্রে যেন বেষ্টিত করিল আস্যা রাহু | আলিঙ্গন মাগে নটী পসারিয়া বাহু || শুনহে বৈদেশী দুই রাজার নন্দন | কড়ি নাই দিলে কেবা ছাড়্যা দিবে গন || নতুবা রাখিব দেশে পাএ দিয়া বেড়ি | নতুবা হিসাব কব়্যা দিয়া যাহ কড়ি || লক্ষ টাকা পসরা ইনাম কেবা করে | তিলেক নহিল ডর তোমার অন্তরে || সনকা গুরীক্ষা যদি হেন কথা কয় | কর্পূর পাতরে কয় রঞ্জার তনয় || শুনরে কর্পূর ভাই আমার বচন | অকাল অনর্থ গুরু বাড়িল এখন || কর্পূর বলেন আমি পূর্বেতে কহিনু | বিদেশে তোমার সঙ্গে আসিয়া মজিনু || উরাতে আঘাত হানে কর্পূর পাতর | গলাগলি দুইভাই কান্দে নিরন্তর || সঙ্গে সাথে নাই কড়ি কি হবে উপায় | ফলা খড়্গ নেহারিল ময়নার রায় || কানাকড়ি দুই কড়া ঢালে বান্ধা ছিল | কর্পূর পাতর আন্যা লাউসেনে দিল || দুই কড়া কানাকড়ি নিল তপোধন | দুই আঁখি মুদিয়া সঙরে নিরঞ্জন || লাউসেন বলে ধর্ম শুন মন দিয়া | ভক্ত পরিত্রাণ কর বৈকুন্ঠ তেজিয়া || তোমার মহিমা বড় শুন্যাছি পুরাণে | গোলোকে তেজিয়া প্রভু রাখ লাউসেনে || যখন হারিল রাজা দ্রুপদনন্দিনী | তার লজ্জা নিবারণ করিলে আপনি || চুলে ধব়্যা আনিল শকুনি দুঃশাসন | দ্রৌপদী উলঙ্গ করে দেখে সর্বজন || পাঁচ ভাই পান্ডব রহিল হেঁটমুখে | ভীম বলে রক্ত খাব পাপাত্মার বুকে || পরম সুন্দরী কন্যা লাজে হেঁটমাথা | মনে করে রাধার অধীন গেল কোথা || ওহে কৃষ্ণ কোথা গেলে যাদবজীবন | পরিত্রাণ এবার করহ নারায়ণ || কানাকড়ি মাণিক হইলে পাই পার | নতুবা বেউশ্যা হাথে নাহিক নিস্তার || ভকত-বত্সল তুমি ভক্তের অধীন | পান্ডব বিজই ঘরে শুনি রাত্রিদিন || কানাকড়ি দুই হাথে নিল তপোধন | ধর্মের কৃপায় হৈল মাণিক রতন || সুরর্ণ মাণিক হাথে হাসে লাউসেন | সনকা গুরীক্ষা তরে লাউসেন দেন || ধর নটী গলায় মাণিক লয়্যা পর | চতুর্দশ রাজার ধন দিলেন ঈশ্বর || এত বলি দুই ভাই গোউড় গমন | সনকা বিদায় হৈল সুরীক্ষাভবন || দুই দাসী সত্বর চলিল ধাত্তাধাই | অনিল সমান গতি চলিল তথাই || সুরূক্ষা সুন্দরী রহে রত্নসিংহাসনে | ছকুড়ি নাগর পাশা খেলে চারিপানে || পাঠক পুরাণ পড়ে বেউশ্যার কাছে | বৃন্দাবনে গেপীসনে কৃষ্ণচন্দ্র নাচে || ষোল কলা পূর্ণ শশী একেক গোপিনী | না ছাড়ে কৃষ্ণের কোল রাধা ঠাকুরাণী || রাসখন্ড বিলাস মধুর বৃন্দাবনে | শিঞ্জিনীর স্বরে গান করে সখিগণে || কৃষ্ণকথা সুরীক্ষা শুনিল কুতুহলে | উপনীত সনকা গুরীক্ষা হেনকালে || মাণিক লইয়া দিল সুরীক্ষার হাথে | পূনরপি কানাকড়ি ধর্মের কৃপাতে || বিদগ্ধ নাগর বলিয়া হৈল মনে | মনে হৈল যাইব নাগর সম্ভাষণে || সুবর্ণ মাণিক হাথে কানাকড়ি হৈল | স্বসাক্ষাতে দৈববল সুরীক্ষা দেখিল || অবশ্য দেখিতে যাব সে দুই নাগর | সুরীক্ষা সজ্জার হেতু গেল বাসঘর || অনাদ্যার পদরেণু ভরসা কেবল | দ্বিজ রূপরাম গান শ্রীধর্মমঙ্গল || দ্বিজ রূপরাম গান ধর্ম কর দয়া | বলরামে রাখ ধর্ম দিয়া পদছায়া || লাউসেন কর্পূরে মাগী ভুলাবার তরে | ছকুড়ি নাগর সঙ্গে সাজে মনুহরে || না করে বিলম্ব নটী করে লাসবেশ | সুবর্ণ চিরণি দিয়া আঁচড়িল কেশ || কেশগুলি আঁচড়িয়া কৈল সমতুল | বান্ধিল মোহন খোঁপা যার নাঞি মূল || পরিল মল্লিকামালা পঞ্চফুল তায়| মধুলোভে ভ্রমরা রসের গুণ গায় || পরশমণি খোঁপামণি মউরপেখম ছান্দে | রঙ্গের বেলা রাঙ্গাকড়ি মদন পড়্যা কান্দে || চারিদিগে ধায় অলি মদন সৌরভে | পরশমালার রূপ গেল রূপস মালার ভাবে || নয়নে অঞ্জন দিল কপালে সিন্দুর | মদনমোহিত বেশে রবি করে দূর || তার কোলে দিল চাঁদ চন্দনের রেখা | প্রথম উদয় যেন কুমুদের সখা || কজ্জলের বিন্দু গোটা দিল তার কোলে | নব জলধর ছটা বিষ্ণুপদতলে || সিন্দুর কাজল পরে নানা অলঙ্কার | টাড় বালা বাজুবন্দ মূল্য নাই যার || পাসুলি বউলি পলা দোসতি তেসতি | রসকাঁটি পলা পরে তাহার সংহতি || দুই হাথে পরে শঙ্খ শ্রীরামলক্ষ্মণ | আগে কড়ে রাঙ্গা কলি সুবর্ণ কঙ্কণ || শঙ্খের উপর বাজুবন্দ ছড়া ছড়া | নাপান করিতে চায় দিয়া হাত নাড়া || অষ্ট অলঙ্কার অঙ্গে করে ঝলমলি | কৌতুকে পরিল নটী অপূর্ব কাঁচলি || . ****************** . গোলাহাট পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
