| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বিষম আরতি দিল ময়নার রায় || অনুবন্ধ বচন কেমনে রন্ধ হব | চালনি করিয়া জল কেমনে আনিব || সুরীক্ষা সুন্দরী কান্দে ধুলায় ধূসর | সনকা গুরীক্ষা আস্যা বলে জোড়কর || কেন দিদি ঠাকুরাণী করুণা বিষাদ | কি নিমিত্ত ঘুচালে খোঁপার পুষ্পজাদ || আমার বচন দিদি অবধান কর | একমনে গনেশ-জননী পূজা কর || বলি গেল পাতাল সুরথ স্বর্গবাস | তবে কেন তোর মনে লাগিল তরাস || ভগবতী পূজিলে সকল হব জয় | কেন কর করূণা কাহার লাগি ভয় || ধর্মপদ অরবিন্দ কব়্যা অভিলাষ | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের দাস || সনকা গুরীক্ষা দাসী উপদেশ দিল | ভগবতী ভজিতে আনন্দ মনে হৈল || আয়োজন নৈবেদ্য লইল চাঁপা কলা | সুরীক্ষা পূজিতে চলে সর্বমঙ্গলা || তোমাথার পথে গিয়া দিল দরশন | রবিজবা লইল সিন্দুর শত মণ || ছড়া ঝাটি গোময় পবিত্র করে স্থান | সারি সারি রাখিল পূজার নিরমাণ || মৃত্তিকায় সুরীক্ষা করিল দশভূজা | একভাবে নটিনী দেবীর করে পূজা || মদ মাংস পিঠে পূজে শক্তি অচলা | পঞ্চ দীপ পরিপাটি জ্বালিল পাঁজলা || চন্দন কুসুম কত পারিজাত মালা | সারি সারি রাখিল পূজার নিরমালা || একমনে নটিনী দেবীর করে পূজা | ঊর দেবী ভবানী বাশুলি দশভুজা || দেবীপূজা সুরীক্ষা করেন সাবধান | কাল ধল মেষ অজা দিল বলিদান || মহাবিদ্যা জপ করে উপরে জরুড় | যার গুণে কৃষ্ণভক্তি পায়্যাছে গরুড় || মন্ত্রের অধীন বটে সকল দেবতা | স্মরণ করিতে কালি হইল উপনীতা || রূপের প্রতাপে তথা পড়িছে বিজলি | স্তব করে সুরীক্ষা হইয়া কৃতাঞ্জলি || চন্ডিকা চামুন্ডা মুন্ড মথনের কালে | শিরোমালা বিভূষণ হইল রণস্থলে || দুর্গতিনাশিনী দুর্গা অন্য নাই ইথে | সর্বস্যার্তি হর নারায়ণি নমোস্তুতে || স্তব করে নটিনী সে ধূলায় ধূসর | ঈশ্বরী বলেন ঝিএ অবধান কর || কার সঙ্গে যুদ্ধে কোথা পাইলে পরাভব | ব্রহ্মার সমান শুনি মনোহর স্তব || ধর্মের আজ্ঞায় ধর্মের দাস গায় | পলাসনের বিলে যারে হৈলে বরদায় || এত শুনি সুরীক্ষা বদনে হৈল হাস | দেবীর চরণে কহে বিনয় আদাস || সর্বকালে ঈশ্বরী তোমার আছে দয়া | আজি কৃপা করি মোরে দেহ পদছায়া || ছকুড়ি নাগরে মোর দুটি নাই আটে | বিধাতা আনিঞা মোরে দিলেন নিকটে || সদাই মাগিল বর তোমার চরণে | ছকুড়ি নাগর পূর্ণ হইল এতদিনে || গোলাহাটে আজি বিধি দিলেক নাগর | কর্পূর লাউসেন নাম যুগল সোদর || রূপে জিনি মদনমোহন কামশরা | নবীন কোকিল বাণী কি স্বর ভ্রমরা || বিষম আরতি দিল বৈদেশী কুঙর | প্রতিজ্ঞায় অন্ন চায় রাত্রির ভিতর || শুনগো ঈশ্বরী তার অনুবন্ধ কলা | উড়ি ধান্যের চালি চায় পূজার দেহালা || ভেরান্ডার ঢেঁকিতে ভানিবে উড়ি ধান | পুনর্বার শুনি কথা উড়িল পরাণ || আঙহাড়ি আঙসরা করিবে রন্ধন | আর এক শুন দেবী নাগরের পণ || চালনি করিয়া আন তারাদীঘির বারি | পানির শিয়ালা জ্বাল শুনি মনে ডরি || রাত্রের ভিতর হবে করিতে রন্ধন | প্রভাত হৈলে নাঞি করিবে ভোজন || এত শুনি ঈশ্বরী হাসেন খলখল | শুন নটী রন্ধনে হইবে পক্ষাবল || স্নান করি রন্ধন করিতে চল নটী | হোর দেখ গগনে তরণী হল্য ভাটি || আমার বচন মিথ্যা নহে কোনকালে | আপনি থাকিব তোর রন্ধনের শালে || শুনগো সুরীক্ষা ঝিএ শুন মোর বাণী | তুমি উপলক্ষ মাত্র রান্ধিব আপনি || যে মনে করিবে নটী সেইমত হব | তুমি উপলক্ষ বটে আপনি রান্ধিব || এত বলি ভবানী সুরীক্ষা সাথে নিল | লাউসেনের কাছে গিয়া রন্ধনে বসিল || ভেরান্ডার ঢেঁকিতে ভাঙ্গিল উড়িধান | ভগবতী আপনি সাক্ষাত অধিষ্ঠান || চালনি করিয়া জল আনিল ভবানী | কর্পূর লাউসেন দেখ্যা মনে চিন্তা গুণি || কর্পূরের কাছে বৈসে করিতে রন্ধন | লাউসেন মনে করে দেব নিরঞ্জন || উড়ি ধানে আতব তন্ডুল সমাধিল | আঙ হাড়ি সরা লয়্যা রন্ধনে বসিল || পঞ্চাশ ব্যঞ্জন রান্ধে নাই অবহেলা | দুরদুর জ্বাল দেই জলের শিয়ালা || রসউলা ব্যঞ্জনে করেন ঝোল ভাজা | মুগডালি সান্তানিল ব্যঞ্জনের রাজা || বার্তাকু নিমেতে সিম করিল সুপাক | তৈলে টলটলি করে বাথুয়ার শাক || রান্ধিল পুতিকা শাক দিয়া ফুলবড়ি | চুঁয়া চুঁয়া ঘৃতে ভাজা করে পলা কড়ি || মানের বেসারি রান্ধে ব্যঞ্জন রসাল | ঘটে নিঙ্গাড়িয়া নিল আদ্রকের ঝাল || দশ গোটা লইয়া ভাজিল নারিকেল | ভিন্ন ভিন্ন রান্ধিল কেসুর পানিফল || রন্ধন করিয়া নটী ডাবরে রাখিল | পুরটের থালাখনি উপরে ঢাকিল || রন্ধন করিয়া নটী করিল গমন | লাউসেন কর্পূর কাছে দিল দরশন || . ****************** . গোলাহাট পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
